অর্ধেক পাথর তুমি আজ বালক কবির করতলে

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি
লিখেছেন অনিন্দ্য রহমান (তারিখ: বুধ, ১৩/০৬/২০১২ - ৯:৪৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

[১]

'মেলাবেন তিনি ঝোড়ো হাওয়া আর/ পোড়োবাড়িটার/ ঐ ভাঙা দরজাটা/ মেলাবেন'। প্রথম আলোর বাজেট প্রতিবেদনে অমিয় চক্রবর্তীর দেখা মিলল। অমিয় ছাড়াও সেখানে উদ্ধৃত বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন আর ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট। বিশেষ প্রয়োজনে মার্কিন সরকারকে ডেকে আনা প্রথম আলোর স্বভাববিরুদ্ধ না। কিন্তু বাজেট বিশ্লষণে অস্তিত্ববাদীর মৌল সংকট-বিষয়ক কবিতার প্রাসঙ্গিকতা খুঁজতে গেলে, আগে জানতে হবে তাদের দফতর আলো করে আছেন নিদেনপক্ষে আড়াইজন কবি। তারা কারণে-অকারণে সাহিত্য ডেকে আনেন।

তাই বাজেটের পরের দিন ছাপা হওয়া 'হুমায়ূন আহমেদের দেয়াল: সাহিত্যের সীমনা ও আদালতের দায়' খটকার জন্ম দেয়। লেখক সাজ্জাদ শরিফের আপত্তি '[হুমায়ূনের 'দেয়াল'] সাহিত্যের ['মধুর'] সীমা উপচে সমাজ-রাষ্ট্রের খোলা ময়দানে প্রবেশ করেছে'। কতগুলি পূর্বানুমান লক্ষ্য করি: সাহিত্যের সীমানা মধুর, সাহিত্য বদ্ধকাঠামো (যেহেতু সমাজ-রাষ্ট্রের 'খোলাত্ব' তাকে সাহিত্যের বিপরীতে দাঁড় করায়) এবং সমাজ-রাষ্ট্রের ময়দান খোলা, অর্থাৎ বদ্ধোকাঠামোয় সমাজ-রাষ্ট্র নাই।

এই পূর্বানুমানগুলির ভিতরে প্রথম আলোর সাহিত্য, সমাজ ও রাষ্ট্রনীতি(!) সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। প্রথম আলো চায় এমন এক সমাজ যেখানে মানুষ সাহিত্যের মধুর বালিতে (যেটা আবার ঘরের ভিতরেই পাওয়া যাবে) মুখ গুঁজে থাকবে। আর দূরে থাকবে 'ঐ-যে-বাইরের-গ্যাঞ্জাম','গণ্ডগোল' এইসব খারাপ জিনিস থেকে। রাজনীতির 'ময়দান' (ময়দান বলতে আক্ষরিক ময়দান বুঝলে সমস্যা, ধরি এর মানে 'ক্ষেত্র'), যেখানে রাষ্ট্র ক্ষমতা ও নাগরিকের অধিকারে প্রশ্নগুলির ফয়সালা হয় সেখান থেকে মানুষকে যতদূর সম্ভব দূরে রাখতে চায় তারা। সুতরাং এতে বিস্ময়ের কিছু নাই হুমায়ূন আহমেদ - যিনি তার দীর্ঘ জীবনভর প্রধানত মধুর সাহিত্য রচনা করেছেন - প্রথম আলোর সাহিত্য, সমাজ ও রাষ্ট্রনীতির(!) রোশনাই করবেন।

[২]

হুমায়ূনের 'দেয়ালে' ইতিহাসবিকৃতির যে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ হাঁটুপানির জলদস্যু তার একটা তালিকা করেছেন:

১. তিনি মেজর ফারুককে একজন সংবেদনশীল অথচ দৃঢ়চিত্ত, দেশপ্রেমিক ও কর্মঠ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। সেইসঙ্গে শেখ মুজিবের হত্যাকাণ্ড নিয়ে ফারুকের পরিকল্পনাকে তিনি একান্ত ফারুকের পরিকল্পনা হিসেবে সাজিয়ে এর সাথে একটি আধ্যাত্মিক সংযোগরেখা টেনেছেন। সরলচিত্ত ও ইতিহাসমূর্খ পাঠক এ অংশটুকু পাঠ করে যে সিদ্ধান্তে আসতে পারে, তা হচ্ছে, ফারুক একজন পীরবংশীয় ব্যক্তি, তিনি আধ্যাত্মিক আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে শেখ মুজিবকে হত্যার পরিকল্পনার একটি অলৌকিক অনুমোদন গ্রহণ করেন, এবং শেখ মুজিবকে হত্যার পেছনে তার উদ্দেশ্য ছিলো দেশকে একনায়কতন্ত্র থেকে মুক্ত করা। ইতিহাসের নিবিড় পাঠ আমাদের জানায়, এ প্রতিটি তথ্যই অসত্য।

২. খোন্দকার মুশতাক আহমদকে হুমায়ূন আহমদ ঘটনার পেছনে একজন প্রত্যক্ষ ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে না দেখিয়ে পরোক্ষ চরিত্র হিসেবে এঁকেছেন। খোন্দকার মুশতাকের মাথার জিন্নাহ টুপিকে হুমায়ূন কৌশলে নেহরু টুপি লিখে মুশতাকের পাকিস্তানপন্থাকে আড়ালের চেষ্টা করেছেন।

[৩.] অ্যাটর্নি জেনারেল আপত্তি তুলেছেন শেখ রাসেলের হত্যাকাণ্ডের [অযথার্থ] বর্ণনা নিয়ে।

অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যের কিছুটা সাজ্জাদও পুনরুল্লেখ করেছেন:

'আমরা চাই (উপন্যাসটিতে) তথ্যগত ভুল যাতে না থাকে। কারণ, তাঁর পাঠক লাখ লাখ, এর মধ্যে নবীন ও যুবকই বেশি। প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরা না হলে তারা সঠিক ইতিহাস জানবে না। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস জানবে না, এটা হতে পারে না। তথ্যগতভাবে যাতে সঠিক হয়, এ জন্য আমরা বিষয়টি আদালতের নজরে দিয়েছি।'

সাজ্জাদ একবার বলছেন, 'প্রথমেই মেনে নেওয়া ভালো, হুমায়ূন আহমেদের লেখায় অনেক তথ্যের ভুল আছে'। আরেকবার দাবী করছেন হুমায়ূনের উপন্যাস বিষয়ে আদালতের রুল 'নাগরিকদের আত্মপ্রকাশের অধিকার ও চর্চার প্রশ্নটি'কে সামনে নিয়ে আসে। এখান থেকে আমরা ধারণা করি, ভুল তথ্য দিয়ে হাজার হাজার পাঠককে বিভ্রান্ত করা হুমায়ূনের 'আত্মপ্রকাশের অধিকারে'র মধ্যে পড়ে। সাজ্জাদের মতে:

['দেয়াল' বিষয়ক রুলের পরে] রাষ্ট্র স্বয়ং আদালতের হাত ধরে একজন লেখকের সৃষ্টিশীলতা চর্চার, কিংবা বলা ভালো, একজন নাগরিকের বাক্চর্চার স্বাধীনতার মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে।

আদালত ও আইন বিষয়ে সাজ্জাদের অপরিচ্ছন্ন এবং মতলবি বক্তব্য নিয়ে আপাতত কিছু বলার নাই, এইটুকু ছাড়া যে যে বিচারকদ্বয়ের বেঞ্চ এই রুল দেয়, তাদের একজন জাতীয় সংসদের একাংশের সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত দ্বন্দ্বে জড়িয়ে না পড়লে, সাজ্জাদের এই (বিশেষ) আদালত-বিদ্বেষ সম্ভবত আলোর মুখ দেখত না। যদিও, আদালতের দায়, এই ক্ষেত্রে যদি কিছু থেকে থাকে, তাহলে সেটা হল, নাগরিককে তথ্যসন্ত্রাস থেকে সুরক্ষা দেয়া। অবশ্য সেটা আদালতের বিশাল কার্যসূচিতে কতটা অগ্রাধিকার পাওয়া উচিৎ সেটা আলোচনার বিষয়। সাজ্জাদ সেই আলাপে বসেন নাই। বরং হুমায়ূনের মুরীদানকে সুক্ষ্মভাবে উসকে দিয়েছেন আদালতের বিরুদ্ধে। খেয়াল করি, সাজ্জাদ এখানে একটা উদ্দেশ্যমূলক গোঁজামিল দিচ্ছেন। অ্যাটর্নি জেনারেলের আবেদনের প্রেক্ষিত আদালতের নির্দেশ আর আদালতের স্বতঃপ্রণোদিত তৎপরতা (সাজ্জাদ লিখেছেন, 'বাংলাদেশের আদালত সম্প্রতি বেশ তৎপর হয়ে উঠেছেন। অনেক ক্ষেত্রে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বেশ কিছু ইতিবাচক ভূমিকাও তাঁরা রাখছেন') এই দুইকে এক করে দেখাচ্ছেন তিনি। আদালতের তৎপরতা নিয়ে দুশ্চিন্তাকাতর সাজ্জাদ এর মাধ্যমে প্রথমত বোঝাতে চাচ্ছেন আদালত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে স্বউদ্যোগে হুমায়ূনের অধিকার খর্ব করছেন (যেটা সঠিক নয়)।

দ্বিতীয়ত, ব্যক্তি হুমায়ূনের অধিকার নিয়ে গলাফাটানো সাজ্জাদ গোপন করছেন যে আদালতের কাছে যিনি আবেদন করছেন তিনিও ব্যক্তি। রাষ্ট্র তো ননই। সরকারের আইনী পরামর্শক, প্রধান আইন কর্মকর্তা, সরকারের প্রতিনিধি সন্দেহ নাই। কিন্তু সরকারও আদালতের চোখে যেকোনো ব্যক্তির মতোই একটা পক্ষ মাত্র, বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত বা অগ্রাধিকারযুক্ত পক্ষ না। আর অ্যাটর্নি জেনারেল ছাড়াও হুমায়ূনের বিকৃত রচনার বিরুদ্ধে আদালতের যাবার অধিকার যেকোনো ব্যক্তির রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা মাহবুবে আলম ব্যক্তি হিসাবে আদালতে গেলেন না অ্যাটর্নি জেনারলের পোশাক গায়ে গেলেন, তাতে তার বক্তব্যের মানে পাল্টায় না। শেখ রাসেলের হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা নিয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে আঘাত পেয়েছেন এটা অস্পষ্ট না। তার এই আঘাত পাওয়ার অধিকার তার আছে। বাংলানিউজ২৪.কমে একটা সাক্ষাৎকার দিয়েছেন মাহবুবে আলম:

'আবেগাপ্লুত অ্যাটর্নি জেনারেল বাংলানিউজকে জানান, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার সঙ্গে ১৯৯৮ সাল থেকে তার সম্পৃক্ততা। দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা মামলার প্রক্রিয়ায় জেলা জজ পর্যায়ে ৬১ দিন, হাইকোর্টে ৬৩ দিন, তৃতীয় বিচারকের বেঞ্চে ২৩ দিন ও আওয়ামী লীগ নতুনভাবে সরকার গঠনের পর আরও ২৫ দিন শুনানি করা হয়েছে। এই সব শুনানিতে বাদী ও সাক্ষীদের বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত চিত্র উঠে এসেছে।

মাহবুবে আলম বলেন, এর মধ্যে সবচেয়ে হৃদয় বিদারক ছিলো শিশু রাসেল হত্যার ঘটনাটি। সে কাহিনী শুনে মামলার শুনানির এক পর্যায়ে আমি নিজেও বাকরুদ্ধ হয়ে যাই।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বাদী মুহিতুল ইসলামের বক্তব্যে জানা যায় রাসেলকে যখন নিচে নামিয়ে এনে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় তখন সে বার বার মায়ের কাছে যেতে চেয়েছিলো। এক পর্যায়ে তাকে ভিতরে পাঠানো হলো। এর পরক্ষণেই শোনা গেলো একটি গুলির শব্দ। পরে ভেতরে গিয়ে দেখা যায় রাসেলের মরদেহ। একটি চোখ বের হয়ে এসেছে। মস্তিষ্ক ছিন্নভিন্ন।'

অবশ্যই রাসেলে মৃত্যুর ঘটনা আমাদের সকলের মানসপটে একই মাত্রার ও মানের অভিঘাত আনবে না। এবং অতি-অবশ্যই হুমায়ূনকে কোনো আই্ন দিয়ে বাধ্য করা যাবে না - আর সেটা সম্ভবও না - যে তিনি তার লেখায় এই ঘটনা একজন ব্যক্তি যেভাবে কল্পনা করছেন ঠিক সেভাবে, সেই ব্যক্তির মন মতো, উপস্থাপন করতে। সাহিত্যের কোনো সুনির্দিষ্ট পরিমাপক নাই। কিন্তু এই মাহবুবে আলমের রাসেলের হত্যাদৃশ্যের উপস্থাপন বিষয়ক অভিযোগকে অপর ['দেয়ালে' ইতিহাস বিকৃতির পয়েন্ট ১ ও ২] অভিযোগগুলি থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখার সুযোগ নাই।

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডকে ৭৫ পরবর্তী ফৌজি ও জঙ্গী সরকারসমূহ এমনভাবে উপস্থাপন করে এসেছে যাতে ঐ হত্যাকাণ্ড একজন 'একনায়কে'র অপসারণে অনিবার্য বৈপ্লবিক কাজ হিসাবে প্রতিষ্ঠা পায়। আর সেভাবে প্রতিষ্ঠা পেলে ঐ হত্যাকাণ্ডের আসল লক্ষ্য যে ৭১ এর পরাজিত শক্তির পুনরুত্থান এবং ফৌজিতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা সেটা ঢাকা পড়ে যায়। কিন্তু সমস্যা হয়ে পড়ে তখনই যখন রাসেলসহ বেশ কয়েকজন নারী ও শিশুর মৃত্যু জানান দেয়, ঐ হত্যাকাণ্ড জাতীয় প্রয়োজনে, সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনে ঘটানো কোনো ঘটনা না, বরং একটা দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ফল (যেকারণে 'সপরিবার হত্যা') এবং আরো স্বাক্ষ্য দেয় হত্যাকারীরা বৈপ্লবিক আদর্শে বলীয়ান না, বরং কতিপয় প্রতিহিংসাপরায়ণ দুর্বৃত্ত (যেকারণে 'নারী ও শিশু হত্যা')। অন্যদিকে আওয়ামীলীগ ও দলটার নেতারাও বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের এই দিকগুলিকে পরিস্কারভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন। এতে কোনো সন্দেহ নাই বঙ্গবন্ধুর পরিবারের বেঁচে যাওয়া সদস্যদের জন্য এই মৃত্যুগুলি ভয়াবহ ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক বিপর্যয়। কিন্তু তারা প্রায়শই ভুলে যান এর জাতীয় তাৎপর্যের কথা। ইতিহাস সম্পর্কে এই মৃত্যুগুলি কী তথ্য দেয় সেটা জানাতেও তারা সহায়ক হন না। সাহিত্যিকের দায় যদি কিছু থেকে থাকে তাহলে কি তা এই না যে তিনি চার দশকের ফৌজি কংক্রিটের নিচে চাপা পরা বা পারিবারিক অশ্রুতে দ্রবীভূত হয়ে যাওয়া এই মৃত্যুগুলিকে পাঠকের সামনে নিয়ে আসবেন?

সাজ্জাদ, বলাই বাহুল্য, হুমায়ূনের মতো মানী লোককে এইসব বিষয়ে প্রশ্ন করে বিব্রত করেন না। হুমায়ূন সাহিত্যের মধুর জগতে টলটল করতে থাকেন।

[৩]

প্রথম আলোর বেশিরভাগ সম্পাদকীয় প্রবন্ধ এবং মতামত নিবন্ধের একটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সেগুলি মাল্টিটাস্কিং করে। এক ঢিলে কয়েক পাখি মারতে না পারলে সেটা প্রথম আলোর স্ট্যান্ডার্ডই না। সুতরাং পুলিশবিষয়ক প্রবন্ধ ঢুকে যায় প্রবন্ধকারে নিজের লেখা উপন্যাসের নির্লজ্জ স্তুতি, ম্যাচ রিপোর্টে ঢুকে যায় দলে না থাকা ব্যর্থ খেলেয়াড়ের জন্য হাহাকার, কিংবা কূটনীতিক রিপোর্টে মানী লোকের অপ্রাসঙ্গিক প্রশংসা। সাজ্জাদের লেখাতেও হুমায়ূনের কাঁঠাল আদালতের মাথায় ভাঙা হয়েছে। কিন্তু লেখাটায় আরেকটা উদ্দেশ্য আছে: ইতিহাসবিকৃতির অভিযোগ থেকে হুমায়ূনের পিঠ বাঁচানো।

হুমায়ূনের পিঠ বাঁচাতে গিয়ে সাজ্জাদ যে মাত্রায় লেজেগোবরে মাখামাখি করে ফেলেছেন, সেটা জাতীয় দৈনিকের এই পর্যায়ের কর্তাব্যক্তির কাছে প্রত্যাশিত নয়। সাজ্জাদ জানাচ্ছেন:

হুমায়ূন আহমেদের লেখায় অনেক তথ্যের ভুল আছে। তবে ব্যাপারটি কেবল তথ্যেরই নয়। উপন্যাসের প্রকাশিত অংশটুকুতে হুমায়ূন অ্যান্টনি ম্যাসকারেনহাসের লিগেসি অব ব্লাড-এর ওপর একটু বেশি মাত্রায় নির্ভর করেছেন। বইটি বিতর্কিত ও গোলমেলে। জেনারেল এরশাদের সামরিক শাসনামলে বইটি বেরোয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের চরিত্রহননের একটি সূক্ষ্ম প্রকল্প বইটির মধ্যে অনেকে লক্ষ করেছিলেন। এমন একটি জল্পনা চালু ছিল যে, এ বইয়ের প্রকাশ এরশাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ।

একদিকে (কয়েক লাইন পরেই) সাজ্জাদ দাবী করছেন হুমায়ূন 'ইতিহাসকে নতুনভাবে পুনর্লিখন' (পুরাতনভাবে পুনর্লিখন কী বস্তু?) করতেই পারেন, অন্যদিকে তিনি বলছেন বাজে বই থেকে নকলের কারণে এত কাণ্ড হল। সাজ্জাদ, আগে ঠিক করুন হুমায়ূন নতুনভাবে পুনর্লিখন করেছেন নাকি দুষ্ট বই থেকে চোথা মেরেছেন।

হুমায়ূন যদি সাহিত্যই লিখবেন, তাহলে উপন্যাসে ফুটনোট দিয়েছেন কেন? সাহিত্যের 'সত্যতা' দাবী করে ইতিহাস নিয়ে বদমায়েশী করার অধিকার কী লেখকে স্বাধীনতার মধ্যে পড়ে? সম্ভবত পড়ে না। নইলে 'সত্য ঘটনার উপর নির্মিত' হিসাবে বিজ্ঞাপিত সিনেমাতেও 'সব চরিত্র কাল্পনিক' ডিসক্লেইমার দিতে দেখতাম না। হুমায়ূন 'বানোয়াট ঘটনার উপর' নির্মিত উপন্যাসের বিজ্ঞাপন করেছেন 'সব ঘটনা সত্য' হিসাবে।

[৪]

যেখান থেকে শুরু করেছিলাম। প্রথম আলোর প্রবন্ধ-নিবন্ধকারেরা ইদানীং বিশ্বকোষ নিয়ে বসেন। যা কিছুই তারা প্রমাণ করতে চান তার পক্ষে প্রয়োজনে ইমরান খান, প্রয়োজনে আর্কিমিডিসকে দাওয়াত দিয়ে আনবেন। বলাই বাহুল্য কুযুক্তি প্রমাণে দেয়া তাদের বেশিরভাগ রেফারেন্সই অষ্টম স্কুলের ত্রিমাত্রিক বির্তকের মতন অতিসরলীকৃত। সেগুলি প্রায়শই ভুল, প্রায়শই ইচ্ছাকৃত বিকৃতির শিকার। পাঠকের সীমাবদ্ধতা (অনেক পাঠকেরই সময় এবং আগ্রহ নাই রেফারেন্স খতিয়ে দেখার) এবং অজ্ঞানতা (একজন পাঠক সর্ববিষয়ে জ্ঞানী না, বরং জ্ঞানের জন্য তাকে অনেক ক্ষেত্রেই নির্ভর করতে হয় পত্রিকার উপর) - এই দুইকে ব্যবহার করে প্রথম আলো পাঠকের উপর চাপিয়ে দেয় তাদের ভয়ঙ্করী অল্পবিদ্যা। সাজ্জাদের প্রবন্ধও অনুরূপ রেফারেন্সসমৃদ্ধ।

সাজ্জাদ হুমায়ূনের ইতিহাস বিকৃতিকে জায়েজ করতে এক গাদা রেফারেন্স গুঁজে দিয়েছেন। কয়েকটা দেখা যাক।

[৪.ক] মার্কিন কবি আমিরি বারাকা বিষয়ে সাজ্জাদ লিখেছেন:

সাম্প্রতিক সময়ে ৯/১১-এর টুইন টাওয়ার হামলা[র] ... ঘটনার পরপর যুক্তরাষ্ট্র যখন শোকে মুহ্যমান, সে সময় নিউ জার্সি স্টেটের পোয়েট লরিয়েট ইমামু আমিরি বারাকা 'সামবডি ব্লিউ আপ আমেরিকা' শিরোনামের একটি কবিতায় লেখেন, 'কে জানত বোমা ফাটবে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে/ টুইন টাওয়ারের ৪০০০ ইসরায়েলি কর্মীকে কে বলল সে দিন/ ঘরে থেকে যেতে/ শ্যারন রইল কেন দূরে?' জল্পনা হিসেবে এ রকম কিছু কথা তখন উঠেছিল সত্যি। ডাহা মিথ্যা বলে একে উড়িয়ে দিয়েছিলেন সবাই। সে কথা এখন বলছেন একজন রাজকবি? ... বারাকা প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। নিউ জার্সির অ্যান্টি-ডিফেমেশন লিগের আঞ্চলিক পরিচালক, জাতিতে ইহুদি, সাই গোল্ডস্টাইন বলেছিলেন, 'এটাই আমাদের দুঃখ যে "ডাহা মিথ্যা"টা আবার উচ্চারণ করেছেন কিনা এই স্টেটেরই একজন প্রতিনিধি। কিন্তু তাঁর বাকস্বাধীনতা রক্ষার কথা তাঁরা বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন। বারাকাকে তাঁর রাষ্ট্রীয় পদ থেকে বাদ দেওয়ার কথা কেউ ভাবেননি। যদিও পরে তিনি নিজেই পদটি ছেড়ে দেন।

একটু উইকি করে দেখলাম - প্রথমত, বারাকা ৯/১১ এর 'পরপর' এটা লিখেন নাই, লিখেছেন ১০ মাস পরে। কবিতাটা ইহুদী-বিরোধীও না (তর্কসাপেক্ষ)। দ্বিতীয়ত ডাঁহা মিথ্যটা বলেছেন সাজ্জাদ স্বয়ং। 'বারাকাকে তাঁর রাষ্ট্রীয় পদ থেকে বাদ দেওয়ার কথা কেউ ভাবেননি' - এটা অত্যন্ত স্থূল মিথ্যা কথা। উইকিতে পাই:

After this poem's publication, Governor Jim McGreevey tried to remove Baraka from the post, only to discover that there was no legal way to do so. In 2002, McGreevey abolished the NJ Poet Laureate title in order to remove Baraka from the post. In response to legal action filed by Baraka, the United States Court of Appeals for the Third Circuit ruled that state officials were immune from such suits, and in November 2007 the Supreme Court of the United States refused to hear an appeal of the case.

সাজ্জাদের এই মিথ্যাচারকে তার ব্যক্তিগত অসততা হিসাবেই পাঠ করা যাবে না। বরং প্রথম আলো প্রত্রিকাটি তথ্যবিকৃতির মাধ্যমে যে রাজনৈতিক প্রচার চালাচ্ছে তার সাথে সাযুজ্যপূর্ণ বলেই ভাবতে হবে। যদি লক্ষ্য করেন, এক ঢিলে কয়েক পাখি মারার রচনাশৈলী মাথায় রাখলে, এবং গরীবের টাকা নয় ছয় করার অভিযোগ মাথায় নিয়েও স্রেফ বয়সসীমা অতিক্রমের কারণে অপসারিত ইউনূসের তরফদারী করার সম্পাদকীয় নীতি মাথায় রাখলে, 'পদ থেকে বাদ দেওয়ার কথা কেউ ভাবেননি' অভিব্যক্তিটা কেমন শোনা শোনা লাগে।

[৪.খ] বারাকার পরে সাজ্জাদ উদাহরণ টেনেছেন অ্যালেন গিন্সবার্গের হাওল কবিতার। বারাকার কবিতার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল জাতিঘৃণার। গিন্সবার্গের কবিতার বিরুদ্ধে অভিযোগ অশ্লীলতার। সাজ্জাদ চেপে যান, কোনোটাই ইতিহাসবিকৃতির উদাহরণ না, যেমনাট হুমায়ূনের 'দেয়াল'।

[৪.গ] এরপর সাজ্জাদ তুলনা এনেছেন কোয়েন্টিন টারান্টিনোর সিনেমার (এই প্রসঙ্গে একটু পরে আসি)। তার আগে একটা কৌতুককর রেফারেন্স নিয়ে দুয়েকটা কথা বলতে চাই। সাজ্জাদ লিখেছেন:

[লেখক] দেখতে চাইতে পারেন, একটি ঘটনা এভাবে না ঘটে ওভাবে ঘটলে কেমন হতে পারত। শিল্প-সাহিত্যের ইতিহাস সাক্ষ্য দিচ্ছে, সে স্বাধীনতাও লেখকের আছে। .... ডিভাইন কমেডিতে তাই দান্তের সঙ্গে দেখা হয়ে যায় মোজেসের ও ইসলামের মহানবীর।

হাহাহা ... আগে কিছুক্ষণ হেসে নেয়া যাক। সাজ্জাদ আসলে কী দাবী করলেন? প্রথমত ডিভাইন কমেডি ইতিহাসের গ্রন্থ না। পুরাটাই বানানো এবং রূপকধর্মী। যে ঘটনা কখনো ঘটেই নাই সেটায় দান্তে তার লেখকের স্বাধীনতা কীভাবে ফলাবেন। দ্বিতীয়ত, নরকে 'ইসলামের মহানবীর' সাথে কল্পিত সাংক্ষাৎকারের কাব্য প্রথম আলোতে কেউ আগে লিখুক। তারপর সাজ্জাদ শরীফকে বলা যেতে পারে লেখকের স্বাধীনতার পক্ষে কলম ধরতে।

[৪.ঘ] রইল ইনগ্লোরিয়াস বাস্টার্ডস। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বিকৃত রেপ্রিজেন্টেশন মেহেরজান ছবি নিয়ে বিতর্কের পর থেকেই্ এই ছবির উদাহরণটা দেখতে পাই। পাকিস্তানের বেচারা কবি ফয়েজ আহমেদ ফয়েজের মতন, পরিচালক টারান্টিনোও নব্যসুশীল-পাকমনপেয়ারুদের বারেবারে দেখানো একই কুমীরে পরিণত হবেন সেটা একটা মজাদার বিষয় বটে। সাজ্জাদ লিখেছেন:

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরে ১৯৪৫ সালের ৩০ এপ্রিল হিটলার আত্মহত্যা করেন। কিন্তু তিন বছর আগে মুক্তি পাওয়া ইনগ্লোরিয়াস ব্যাস্টার্ডস ছবিতে হিটলারের মৃত্যুদৃশ্য নিজের মতো করে সাজিয়ে নিয়েছিলেন পরিচালক কোয়েন্টিন ট্যারান্টিনো। তাঁর ছবিতে একদল দুর্ধর্ষ যোদ্ধা একটি প্রেক্ষাগৃহে ঢুকে হিটলারকে নৃশংসভাবে হত্যা করে।

টারান্টিনোর ছবিটা প্রথমত ইতিহাসশ্রয়ী না, এবং ছবিটার সংলাপ বা দৃশ্যায়ন কোনোটাই এমন দাবী করে না যে এটা 'ইতিহাসের দায়' বহন করে। ইনগ্লোরিয়াস বাস্টার্ডস এমন এক ধারার ছবি যে ধারা পশ্চিমের পপুলার কালচারে বহু দশক ধরেই স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্বতন্ত্র। পশ্চিমের মানুষ জানে, এবং এই ধারার গল্প-উপন্যাস-সিনেমাও নিজেরাই প্রচার করে যে তারা 'অল্টারনেট হিস্ট্রি'র অন্তর্গত। অল্টারনেট হিস্ট্রি বা অ্যালৌহিস্ট্রি কখনোই ইতিহাস প্রচারের দায় নেয় না। পঞ্চাশের দশক থেকেই মার্কিন সমাজে নানা রকম 'এভাবে না ঘটে ওভাবে ঘটলে কেমন হতে পারত' গোছের উপন্যাস প্রকাশিত হচ্ছে। নাৎসী বাহিনীর ২য় বিশ্বযুদ্ধ জয়, দক্ষিণের আমেরিকার গৃহযুদ্ধে বিজয় বা ঐ যুদ্ধটাই কখনো না হলে কী হত সেটা ভেবে দেখেছেন লেখকেরা। উদ্দেশ্য: বর্তমানকে যাচাই করা। অতীতে একটা ঘটনা ঘটেছে বলেই বর্তমানটা এমন। অন্যভাবে ঘটলে অন্য রকম হত - ফ্যান্টাসীর সীমানাটা এটুকই। আবার অতীতের অনেক কাজের মূল্যায়নের জন্যও এই ধরণের সাহিত্য রচনা হয়। যেমন, নাৎসী বাহিনী জিতে যাওয়ায় পৃথিবীজুড়ে নরক নেমে এসেছে - সাহিত্যে এইরকম কল্পনার মাধ্যমে লেখকেরা আসলে বলতে চেয়েছেন ২য় বিশ্বযুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জড়িয়ে যাওয়াটা আসলে যথার্থ ছিল, তা না হলে পৃথিবীতে নরক নেমে আসত। সুতরাং অল্টারনেট হিস্ট্রির প্রকল্পটা সরলরৈখিক না। এবং ইতিহাস বিকৃতি তো না-ই। কারণ বিকৃত হতে হলে আগে তাকে নিজেকে ইতিহাস হিসাবে দাবী করতে হবে। এই ধরণের সাহিত্য 'বিকল্প ইতিহাস' রচনা করে না, বরং 'ইতিহাসের বিকল্প' হিসাবে নিখাঁদ ফিকশন রচনা করে। এই দুইকে গুলিয়ে ফেলে হুমায়ূনকে সমালোচনার হাত থেকে বাঁচানো যাবে না। টারান্টিনোর ছবিতে ফিরি। এই ছবিতে কি হিটলারের কর্মকাণ্ডকে জায়েজ করা হয়েছে? এই ছবিতে কি হলোকাস্টকে অস্বীকার করা হয়েছে? কয়েকজন ইহুদী সেনার হাতে হিটলারের মৃত্যু কেবলই একটা মনগড়া ফ্যান্টাসি। মনের এই নির্মাণ ইতিহাসের বড় কোনো সত্যের খেলাপ না। বরং ইহুদী নিধনের হোতা হিটলারের ইহুদী সেনাদের হাতেই মৃত্যু একটা কাল্পনিক প্রতিশোধ মাত্র। হুমায়ূনের উপন্যাসের সাথে ইনগ্লোরিয়াস বাস্টার্ডসের যথার্থ তুলনা করতে তাই আরো প্রচুর ঘাম ঝড়াতে হবে সাজ্জাদের। কবিকে দিও না দুঃখ।

[৫]

কবি আশির দশকের দীর্ঘ সামরিক অন্ধকারে 'কার্মাত বনে'র কবিতা লিখে গেছেন। অধুনা পরিণত হয়েছেন আঁধখেচড়া রেফারেন্স দেয়া বাচাল 'নায়েকে'। বলছেন সাহিত্যকে জনতার আদালতে পাঠানো হোক। আর সেই আদালতের ওঠার আগেই তড়িঘড়ি নেমছেন ইতিহাস বিকৃতিকারীর ওকালতি করতে।

কবি আর সাংবাদিক যদি ইতিহাসের সত্যবঞ্চিত মানুষের পাশে না দাঁড়ান, ওকালতি না করেন তাদের পক্ষে, বুটের নিচে, দলীয় পোস্টারের নিচে, পাঠ্যপুস্তকে লেপে দেয়া কালির নিচে, ধসে পড়া দেয়ালের নিচে চাপা থাকা ইতিহাসের মৃতপ্রায় ঘাসফুলের পক্ষে যদি কলম না ধরেন ... সন্দেহ নাই, এক্তিয়ার আর ঔচিত্যের হিসাব না মিলিয়ে হয়ত আদালত আর অ্যাটর্নি জেনারেলকেই ওকালতি করতে হবে ইতিহাসের। ইতিহাসের কথা জানি না, কিন্তু সাহিত্যের তাতে ভাল হবে না।


মন্তব্য

নৈষাদ এর ছবি

চলুক চলুক

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

ধন্যবাদ নৈষাদদা ।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

মোটামুটি সবগুলো অ্যাঙ্গেল কাভার করা হয়েছে। আপনার জন্য পরকালে রইল উত্তম জাঝা!

তবে ডঃ হুমায়ূনের 'দেয়ালে' ইতিহাসবিকৃতির তালিকা আর আপনার লেখার সেকশনগুলোর তালিকা আলাদ করে ধরতে গেলে একটু কনফিউজিং হতে পারে। ইতিহাসবিকৃতির তালিকাটি ক., খ., গ. এরকম আলাদা সংখ্যায় দেয়া যেতে পারে।

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

টিজার আর নাম্বারিং ঠিক করা হইল।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

হিমু এর ছবি

ওপরের ছবিটা "জনতার আদালতে" আলুসম্পাদক মতিউর রহমান ভাইয়ার। প্রথম আলোতে প্রকাশিত এক তুচ্ছ কার্টুনের জের ধরে আরিফুর রহমান নামে এক তরুণ কার্টুনিস্টকে চরম হেনস্থার মুখে ফেলে মোল্লারা। তার জের ধরে আরিফকে কারাবরণ করতে হয়। মতিউর রহমান উবায়দুল হকের হাতেপায়ে ধরে মাফ চেয়ে তার সাথে নামাজ পড়ে আর ইফতারি খেয়ে নিজের ও প্রথম আলোর পাছার চামড়া বাঁচিয়ে আসে। আরিফের নামটা কিংবা এই প্রসঙ্গটা এর পর থেকে আলুতে ট্যাবু হয়ে যায়। সাজ্জাদ শরীসৃপ তখন কার্টুনিস্টের স্বাধীনতা নিয়ে টুঁ-শব্দ করেনি। করবে কীভাবে? তার ওস্তাদই তখন তওবা জপতে ব্যস্ত। মোল্লাদের আস্ফালনের বিরুদ্ধ সাজ্জাদ শরীসৃপের মতো ধান্দাবাজ গুটিবাজগুলি কলম তুলে একটা নোকতা লেখার সাহস পায় না, আর সে নেমে পড়েছে হুমায়ূন আহমেদের ইতিহাসের ট্র্যাভেস্টির সাফাই গাইতে। আবার মেহেরজানের সাফাই গাওয়ার জন্য এই সাজ্জাদ শরীসৃপই ফয়েজ আহমদ ফয়েজের মেহেরজান-গোষ্ঠী কর্তৃক বহুল ব্যবহৃত বালছাল কোবতে উর্দু থেকে বাংলায় অনুবাদ করেছে পাঠকের অশ্রুমোক্ষণের আশায়।

যদি আদালতে না গিয়ে জনতার আদালতেই যেতে হয় মানুষকে, তাহলে সাজ্জাদ শরীসৃপ কি পাঠককে বুঝিয়ে বলবে, কেন তার ওস্তাদ মতি মিয়া কালের কণ্ঠে নিজের নামে জেএমবি বা হরকাতুল জেহাদের সাথে সম্পৃক্ততার খবর দেখে প্রেস কাউন্সিলে বিচার দিয়েছিলো? সে তখন জনতার আদালতে না গিয়ে আইনের আদালতে কেন গেলো? কেন ঐসব খবর টারান্টিনোর বিকল্প ইতিহাসের শ্রেণীভুক্ত হলো না?

শরীসৃপ ভাইয়া আরেকটা চিকন বদমায়েশি করেছেন। খোদ হুমায়ূনই যেখানে দোষ চাপিয়েছেন জনৈক হালিমদাদ খানের লেখা "ভুল তথ্যে ভরা" বইয়ের ওপর [সূত্র], শরীসৃপ সেখানে দোষটা চাপাচ্ছেন লিগ্যাসি অব ব্লাডের ওপর। কারণ, মাসকারেনহাসের নামের একটা ওজন আছে। ভুলভালের দায় তার ওপর চাপালে এ নিয়ে ভবিষ্যতেও তর্ক জিইয়ে রাখা সম্ভব, হালিমদাদ খানের তো সেই ওজন নাই। হুমায়ূন কেন এতো বই ফেলে হালিমদাদ সাহেবের দোকানে হালিম খেতে গেলেন, সেটা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। বেড়াল যেমন নিজের বিষ্ঠা বালুচাপা দিয়ে ফেলে, হুমায়ূনের আবর্জনাগুলি বালুচাপা দেয়ার সাবকনট্রাক্ট নিয়েছে শরীসৃপ ভাইয়া। "তুমি য়্যাতো খারাপ?"

সাজ্জাদ শরীসৃপ তার বিষ্ঠার্টিকেলটি প্রকাশের আগে আরো একটি খবর এসেছে আদালত বনাম সাহিত্য প্রসঙ্গে। সালাম আজাদ নামে এক লেখকের বিরুদ্ধে ধর্মানুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ আনায় তার নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে [সূত্র]। লেখকের স্বাধীনতা নিয়ে আমাদের সবারই দুশ্চিন্তা থাকা স্বাভাবিক। সাজ্জাদ শরীসৃপের দুশ্চিন্তা যদি স্বাভাবিক হতো, আর ধান্দাবাজিপ্রসূত না হতো, তাহলে হুমায়ূনের পাশাপাশি এই সালাম আজাদের পক্ষেও তিনি অন্তত এক লাইন লিখতে পারতেন না কি?

বিচারক শামসুদ্দিন চৌধুরীকে নিয়ে সংসদে উষ্মাপ্রকাশের ঘটনা না ঘটলে শরীসৃপ মিয়া ঐ আর্টিকেল লেখার সাহস পেতেন কি না, সন্দেহ আছে। কারণ হুমায়ূন আহমেদকে প্রকৃত ঘটনার বিবরণ সরবরাহ করার যে আদেশ আদালত দিয়েছিলেন, তা বেশ কয়েক সপ্তাহ আগের ঘটনা। তাঁর অভিশংসনের মুখে পড়ার সম্ভাবনা দেখেই সাজ্জাদ শরীসৃপের মতো চামচিকারা ছুটে এসে দুই লাইন লিখে বসেছে।

সাজ্জাদ শরীসৃপ যদি সাহিত্যের স্বাধীনতা নিয়ে সত্যিই মাথা ঘামায়, কার্টুনিস্ট আরিফ আর সালাম আজাদকে নিয়ে প্রথম আলোতে কিছু লিখে দেখাক। বারাকা-টারান্টিনো-আর্কিমিডিস সবই শুনতে রাজি আছি।

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

বিচারক শামসুদ্দিন চৌধুরীকে নিয়ে সংসদে উষ্মাপ্রকাশের ঘটনা না ঘটলে শরীসৃপ মিয়া ঐ আর্টিকেল লেখার সাহস পেতেন কি না, সন্দেহ আছে। কারণ হুমায়ূন আহমেদকে প্রকৃত ঘটনার বিবরণ সরবরাহ করার যে আদেশ আদালত দিয়েছিলেন, তা বেশ কয়েক সপ্তাহ আগের ঘটনা। তাঁর অভিশংসনের মুখে পড়ার সম্ভাবনা দেখেই সাজ্জাদ শরীসৃপের মতো চামচিকারা ছুটে এসে দুই লাইন লিখে বসেছে।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

মন মাঝি এর ছবি

'বাংলার চোখ'-এর এই ছবিতে মতি আসলে খতিবের হাতে ধরছে না পায়ে ধরছে ? হাসি

****************************************

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

কে কার কৈ ধরছে এইটা নিয়া আগ্রহ কী ভালু ?? হাসি


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

মন মাঝি এর ছবি

আমি সিরেফ একটা ভিসুয়াল ধাঁধা সমাধানের চেষ্টা করতেছি। ধাঁধা নিয়ে মাথা ঘামাতে ভালু পাই। হাসি

ছবিতে মতি ছাড়া আর কারও হাত (কব্জির পরবর্তী অংশ) দেখা যাচ্ছে না। মতির হাতের ভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে সে কিছু পাকড়ায়ে ধরছে, কিন্তু সেটা কি বুঝা যাচ্ছে না। আর পাকড়ানোর ভঙ্গিটাও হ্যাণ্ডশেকের মত না। ছবিতে খতিবকে মনে হচ্ছে একটা উঁচু জায়গায় বা ডায়াসে পা তুলে বসা, আর বাকিরা তার সামনে দাঁড়ানো অবস্থায়। অর্থাৎ খতিবের হাত তো বটেই, কিন্তু পদযুগলও অন্যদের হাতের নাগালের মধ্যেই - সামনে না ঝুঁকেই। খতিবের কেবল ডান বাহুর উপরাংশ দেখা যাচ্ছে, কিন্তু সেটার এঙ্গেল দেখে মনে হচ্ছে না তার হাতের অগ্রভাগ মতির হাতের দিকে গেছে। খতিবের বাম কাঁধের এঙ্গেল দেখে মনে হচ্ছে সে বাম হাতের উপর ভর করে বসা, অর্থাৎ ঐ হাতও মতির হাতের সাথে সংযুক্ত নয় এবং একটু পিছন দিকেই। ছবির বাকি দুইজনের অবস্থান থেকে এটা স্পষ্ট মতি ঐ দুজনের কিছু পাকড়ায় নাই। পাকড়াইলে খতিবেরই কিছু পাকড়াইছে। এখন সেটা যদি হাত না হয়, তাহলে কি? সঠিক উত্তরদাতার জন্য সচলের ইমো-কালেকশন থেকে পছন্দমত তিনটা ইমো পুরষ্কার রইল! হাসি

****************************************

হিমু এর ছবি

খতিবের অভিব্যক্তি দেখা যাচ্ছে না, আন্দাজ করা মুশকিল। আবার ঐ অঞ্চলে পাকড়াবার খুব বেশি কিছু নাই বলে আন্দাজ করা তেমন মুশকিলও নয়।

মন মাঝি এর ছবি

হুম! এটা মনে হয় জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আলুর প্রথম পাতায় জানিয়ে দেয়া উচিৎ যে এরপর থেকে মতি বা আলুর সিনিয়র কর্তাদের সাথে দেখা হলে কারও হ্যান্ডশেক করাটা নিরাপদ কিনা, নাকি নিদেনপক্ষে পকেটে গ্লাভ্‌সের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

****************************************

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

হাহাহা ।.... স্মৃতি তুমি বেদনা। আমি জানি বিষয়টা। কিন্তু মনে পড়তেছিল না। এখন মনে পড়ছে। ব্যক্তিগত যোগাযোগে জানাই। কারণ এইটা ফান পার্ট।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

মন মাঝি এর ছবি

ফান পার্ট থেকে বঞ্চিত কইরেন না। পিলিজ! খাইছে

****************************************

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

পাঠাইলাম। না পাইলে আমারে ইমেইল অ্যাডরেস দিয়েন aninda.rahman অ্যাট জি মেল ডট কম


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

মন মাঝি এর ছবি

মিসটাইমিং বা এন্টিক্লাইমেক্সের অপূর্ব নমুনা! গড়াগড়ি দিয়া হাসি

তবে একটা এল-ক্লাসিকো ছবির সম্মান রক্ষার্থে এটা আপনার আবার ভুলে যাওয়া উচিৎ। দেঁতো হাসি

****************************************

হিমু এর ছবি
অনিন্দ্য রহমান এর ছবি


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

স্যাম এর ছবি

চলুক চলুক

অরফিয়াস এর ছবি

যখন সাহিত্যবেশ্যার পক্ষে কলম ধরে অপ-সাংবাদিক তখন এর থেকে কম কি আশা করা যায় ?

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

আমরা ভুলে যাই একদিন আমাদের প্রতিভা ছিল, সম্ভাবনাও ছিল। একদিন আমরা লেখক ছিলাম, কবি ছিলাম, গান গাইতাম, উৎপাদনে ছিলাম, প্রতিবাদেও ছিলাম। এখন আমরা কেবল মানীর মান রাখা ভাড়াখাটা বরকন্দাজ ...
আগের একটা লিখা মনে পড়ল।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

অরফিয়াস এর ছবি

হুমায়ূনের মতন আরো অনেক স্বনামবিক্রেতাকে আমরাই প্রতিদিন লাল গালিচা পেতে দেই। সাতাত্তর বছর সাত মাস সাত দিনের বেশি এদেরকে সহ্য করে আমরাই একেকজন হুমায়ূন হয়ে উঠি। আমরা ভুলে যাই একদিন আমাদের প্রতিভা ছিল, সম্ভাবনাও ছিল। একদিন আমরা লেখক ছিলাম, কবি ছিলাম, গান গাইতাম, উৎপাদনে ছিলাম, প্রতিবাদেও ছিলাম। এখন আমরা কেবল মানীর মান রাখা ভাড়াখাটা বরকন্দাজ ...

চলুক

লেখা ভালো লাগলো।

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

হাসিব এর ছবি

'ইতিহাসকে নতুনভাবে পুনর্লিখন'

ইন্টারেস্টিংলি মেহেরজান ইস্যুতে এই প্রথম আলোরই এক সম্পাদনা পরিষদের সদস্য মেহেরজানের সাফাই গাইতে এই একই জাতীয় শব্দচয়ন করেছিলেন। কোথাকার নেপো কোথায় দই মারার তালে আছে একটু খোঁজ নেয়া দরকার। বাকস্বাধীনতা, ইতিহাস রচনা ইত্যাদির উদাহরণ দিতে উনারা লাফ দিয়ে আমেরিকা চলে যান কিন্তু যাবার পথে ইউরোপ ভুখন্ডে কী হয় সেটা বেমালুম চেপে যান। ইউরোপের ঘটনাগুলো নিজেদের আর্গুমেন্ট নামক জোলাপে মিশ খাবে না বলেই কি এই এড়িয়ে যাওয়া?

হিমু এর ছবি

আচ্ছা, মতিউর রহমান বা সাজ্জাদ শরীসৃপের ইতিহাসকে কি তাহলে পুনর্লিখন করা জায়েজ হবে? কেউ যদি দান্তের মতো করে একটা উপন্যাস লিখে নরকে মতিউর রহমানকে দিয়ে শয়তানের মুখমেহন করায়, কিংবা সাজ্জাদ শরীসৃপকে শয়তানের বিষ্ঠা খাওয়ায়, সেটা কি ইতিহাসের পুনর্লিখনের দর্শনে জায়েজ হবে? নাকি উনারা জনতার আদালত ফেলে আইনের আদালতে গিয়ে মানী লুকের মানহানি হয়েছে বলে কান্নাকাটি করবেন?

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

আপনের পুরান পোস্টের লিঙ্ক মাইরা গেলাম। আরেকটা আপডেইটেড পোস্ট দিয়েন।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

চলুক

_________________________________
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই
_________________________________
।। রিসার্চ ইন্টারফেস ।।

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

ধন্যবাদ।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

ধুসর জলছবি এর ছবি

চলুক

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

পাঠ ও স্মাইলিপ্রদানের জন্য ধন্যবাদ।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

সাফি এর ছবি

কড়া হইছে লেখাটা হাততালি

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

ধন্যবাদ সাফি হাসি


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

ফাহিম হাসান এর ছবি

খুব সিরিয়াস মুখে লেখাটা পড়ছিলাম। ডিভাইন কমেডির জায়াগায় এসে গড়াগড়ি দিয়া হাসি গড়াগড়ি দিয়া হাসি

নাহ, আপনি মানী লোকের মান আর রাখলেন না।

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

হাসি


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

নীড় সন্ধানী এর ছবি

দুঃখজনকভাবে সুশীল ভেকের পশ্চাদদেশ মেরে দিয়েছে এই লেখাটি গুল্লি

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

বেশি দুঃখ পাইয়েন্না হাসি


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

বিলাস এর ছবি

যথোপযুক্ত পোস্ট। চলুক

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

রানা মেহের এর ছবি

হুমায়ুন আহমেদ খুব সচেতন ভাবেই মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধুকে 'নতুনভাবে পূণর্লিখন' করেন।
তার উপন্যাসে্র ভূমিকায় ৭ই মার্চের ভাষন শেষ হয় পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলে।
উনার রাজাকারেরা সবাই ভুল বুঝে রাজাকার হয়ে শেষে হানাদার বাহিনীর হাতে শহীদ হন।

আর প্রথম আলো? তার পালিত ইতিহাসবিদ গোলাম মুরশিদ মুক্তিযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ৩০ লাখ, এটা বিশ্বাস করতে চান না।
মেহেরজানের জন্য এই পত্রিকা এমন কিছু বাদ রাখেনি য করা সম্ভব ছিল।

সাজ্জাদ শরীফ পারলে একদিন কার্টুনিস্ট আরিফের পক্ষে কলম ধরে দেখাক উনি স্বাধীনতা আর সাহিত্য কত বোঝেন।

ভালো লেখা হয়েছে অনিন্দ্য সাহেব

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

সাহেব রেগে টং


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

পুতুল এর ছবি

হুমায়ূন আহমেদের শ্যামল ছায়া ছবিটা নিয়ে কেউ লিখেন। এত মানবিক রাজাকার আর পাকিস্তানপন্থী সাচ্চা মু্ছলামন এই দুনিয়ায় আর পাবেন না।

http://www.youtube.com/watch?v=KQ36_xxhUJE

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

হুমায়ূনের এইটা বহুত পুরানা অভ্যাস ...


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

অনেক দেরীতে মন্তব্য করছি-- আগেই পড়েছি যদিও।

প্রথম আলোর ঐ লেখা পড়ে হতবাক হয়েছিলাম। এই লেখাটার অনেক দরকার ছিলো। গুড জব।

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

ধন্যবাদ।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।