সুবোধ অবোধ এর ব্লগ

আরেকটি জাল পড়া বাসন্তী নাটক এবং প্রথম আলো

সুবোধ অবোধ এর ছবি
লিখেছেন সুবোধ অবোধ (তারিখ: শনি, ২৭/১২/২০১৪ - ৬:২২অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় জাল পড়া বাসন্তী যে একটা সাজানো নাটকের মঞ্চায়ন ছিল, সেটা আমরা এখন প্রায় সবাই জানি। বিশেষ করে সেই ছবির আলোকচিত্রি আফতাব আহমেদ খুন হওয়ার পর ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন ভাই এর এই লেখা থেকে আমরা সেই ব্যাপারে অনেক স্পষ্ট ভাবে জানতে পারি। লেখাটির ছোট্ট একটু অংশ এখানে দিচ্ছি পাঠকের সুবিধার্থে-


ফালতু গল্প ২ঃ পিতা, পুত্র ও পত্রিকা

সুবোধ অবোধ এর ছবি
লিখেছেন সুবোধ অবোধ (তারিখ: বিষ্যুদ, ২৫/০৯/২০১৪ - ৮:১১অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ছুটির দিনে বাসার ড্রয়িং রুমে বসে চায়ে বেশ আরাম করে চুমুক দিতে দিতে পত্রিকা পড়ছিল আবুল। মনে মনে ভবছিল- নাহ্‌, বউ এর অন্যান্য রান্না বেশ কষ্ট করে গিলতে হলেও চা টা বেশ আরামসেই গেলা যায়। চায়ে তৃপ্তির চুমুক দিতে দিতে সে পাশের টেবিলে রাখা ‘দৈনিক শেষ অন্ধকার’ পত্রিকাটা তুলে নিল। চা খেতে খেতে পত্রিকা পড়ার মজাই আলাদা। চায়ে বাড়তি স্বাদ আনে। পত্রিকা পড়ার সময় তার প্রথম পছন্দ বিনোদন পাতা। আর ‘শেষ অন্ধকার’ পত্রিকার বিনোদন পাতা তো তুলনাহীন! আড় চোখে আশেপাশে দেখে নিয়ে সে বিনোদন পাতায় উঁকি মারে। বাসায় ছয় বছর বয়সী ছেলে আছে। উঁকি না মেরে সরাসরি পাতা খুলে বসলে হঠাৎ ছেলে এসে হাজির হয়ে দেখে ফেললে লজ্জায় পড়তে হবে। সে যাই হোক, উঁকি মেরেই আবুলের হার্ট একটা বীট মিস্‌ করে। সানিইই!! চোখ চকচক করে ওঠে তার। সানির একটা বেশ ইয়ে টাইপের ছবি। আবুলের ভেতরে তখন যেন গনগনে গ্যাসের চুলায় ডাল টগবগ ফুটন্ত অবস্থা!


অনুবাদ প্রচেষ্টা-২

সুবোধ অবোধ এর ছবি
লিখেছেন সুবোধ অবোধ (তারিখ: শনি, ২০/০৯/২০১৪ - ১১:০৮অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

নবট্রি জঙ্গলের নতুন শেরিফ একটা সাক্ষাৎ দানব। জঙ্গলের বামনরা কেউ তাকে পছন্দ করত না। একদমই না। তাই ভোটাভুটি শেষে যখন ফলাফল ঘোষণা হল, সাথেসাথেই বামনরা নির্বাচনে স্থুল কারচুপির অভিযোগ এনে আবার ভোট গণনার দাবী জানাল। কিন্তু দানবরা সেই অভিযোগ একদমই আমলে নিল না। তারা বিজয় উল্লাস শুরু করে দিল শরাবে চুর হয়ে। আর পরীরা এসবের মধ্যে কোনরকম মাথা না ঘামিয়ে এদিক সেদিক ঘুরে বেড়াতে লাগল। অবশ্য তারা সবসময়ই তাই করে।


অনুবাদ প্রচেষ্টা-১

সুবোধ অবোধ এর ছবি
লিখেছেন সুবোধ অবোধ (তারিখ: সোম, ০৮/০৯/২০১৪ - ৮:৪০অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

খামারবাড়ির দেয়ালের উপর শরৎকালে সার বেঁধে কিছু পরিযায়ী পাখি বসে থাকত। যদিও তারা নিজেদের মধ্যে কিচিরমিচির করে নানারকম গল্পগুজব করত, কিন্তু সবসময় গ্রীষ্ম, দক্ষিণের দেশ, চলমান শরৎকাল আর উত্তুরে হাওয়া কবে শুরু হবে সেটাই ছিল তাদের মূল ভাবনার বিষয়। একদিন ঠিক ঠিক তারা উধাও হয়ে গেল এবং খামারের সব হাঁস-মুরগীরা এই সব পরিযায়ী পাখিদের নিয়ে আলোচনায় মেতে উঠল।

এসব দেখে একদিন খামারের একটি মুরগী ঘোষণা করল -“আগামী শীতে আমিও দক্ষিণের দেশে যাব।”


পীরজাদা

সুবোধ অবোধ এর ছবি
লিখেছেন সুবোধ অবোধ (তারিখ: রবি, ১১/০৫/২০১৪ - ৩:৫৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

১.

পীরজাদা হাত একটু উঁচু করে বললেন -"বাবা কবুল করেছেন!" আবেশে অথবা অভিনয়ে তার দুই চোখ আধবোঁজা। একই বাক্য বারবার উচ্চারণে ঠোঁটের দুই কোণে সাদা ফেনা জমে উঠছে একটু পরপরই এবং তিনি জিভ দিয়ে তা পরিষ্কার করে পেটে চালান করে দিচ্ছেন। আমার ডান পাশের বছর চল্লিশের এক লোক এসেছেন বাচ্চা হওয়ার তদবির নিয়ে আর বাম পাশের জনের ব্যাবসা ভাল যাচ্ছে না। তবে আমার কোন সমস্যা নেই, আর আমি কোন তদবিরও করি নি। তারপরও পীরজাদা তার পীর বাবার কাছ থেকে আমার জন্য কী কবুল করিয়ে আনলেন ঠিক বুঝতে পারছিলাম না!


চলতি পথে পাওয়া- ১১,১২

সুবোধ অবোধ এর ছবি
লিখেছেন সুবোধ অবোধ (তারিখ: বিষ্যুদ, ২৪/০৪/২০১৪ - ২:৩৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

চলতি পথে পাওয়া - ৪,৫,৬,৭ এর ভূমিকা তে লিখেছিলাম “ ‘চলতি পথে পাওয়া’ সিরিজ টা নিয়ে একটু বলি আগে। নাম শুনে মনে হতেই পারে যে এটা হয়ত পথ চলতে গিয়ে দেখা বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা। হুম, হতে পারে। তবে তার চেয়েও বেশি হচ্ছে চলার পথে বসে থাকার সময় কতক বিচ্ছিন্ন ঘটনা দেখে বা এমনিতেই মনের ভেতর বিভিন্ন এলোমেলো চিন্তা ঘুরপাক খায়, তাদের বর্ণনা। লেখার ধরণ সাইকোডেলিক, অ্যাবস্ট্রাকটিভ, ম্যাজিক রিয়ালিস্টিক, স্যুরিয়ালিস্টিক আবার খুব সাধারণ বর্ণনাও হতে পারে।”

আজকের এই পর্বগুলোতে থাকবে ঘটনার বর্ণনা এবং অবশ্যই ঘটনাগুলো চলতি পথেই পাওয়া। দুটি ঘটনাই দুঃখজনক হলেও বেশ চমকপ্রদ! বিশেষ করে যারা ঢাকা শহরে নিয়মিত বাসে বা লোকাল বাসে যাতায়াত করেন তাদের সচেতনতার জন্য জানা প্রয়োজন মনে হয়েছে আমার কাছে। তবে চলুন, এখন পথে নামি...


আফ্রিকার লোককাহিনী

সুবোধ অবোধ এর ছবি
লিখেছেন সুবোধ অবোধ (তারিখ: রবি, ২০/০৪/২০১৪ - ৬:০৯অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

সে বহুকাল আগের কথা। আফ্রিকার ঘন জঙ্গলের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে খাল। খালের পাশেই জঙ্গলের ভেতরে ছিল এক বড় গাছ। সেই গাছে বাস করত এক ছোট্ট পাখি। একদিন সকালে যখন সে বসে বসে ডিমে তাঁ দিচ্ছিল, গাছের পাশ দিয়ে একটা হাতি যাবার সময় তার গায়ের সাথে ধাক্কা লেগে নড়েচড়ে উঠলো গাছ। রাগের চোটে তেড়েফুড়ে ছুটে আসলো ছোট্ট পাখি - "বেকুব হাতি, গাছ নাড়াচ্ছো কেন? এভাবে তুমি গাছ নাড়ালে আমার ডিম গুলো ভেঙে যাবে না?


ফালতু গল্প ১ : ঘোষণা

সুবোধ অবোধ এর ছবি
লিখেছেন সুবোধ অবোধ (তারিখ: রবি, ৩০/০৩/২০১৪ - ২:৪৯পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

মোখলেসুরের চায়ের দোকানে বসে বসে রাজা উজির মারতে মারতে বিস্বাদ চায়ে চুমুক দিচ্ছিলাম আমি, কামরুল আর মনি। এই ব্যাটা মোখলেসুর মোটামুটি সবসময়ই এমন ফালতু স্বাদের চা বানালেও আড্ডা দেয়ার জন্য তার দোকান খুব ভাল জায়গা বলে মাঝেমধ্যে এখানে এসে বসি দীর্ঘ সময় ধরে আড্ডাবাজি করার সুবিধার্থে। কারণ এদিকটায় পাড়ার মুরুব্বিরা খুব একটা আসে না, তাই একটু পর পর উঠে "চাচা স্লামালিকুম; আঙ্কেল ভাল আছেন; জ্বি, আমাদের বাসার সব


ভণ্ডামির ঢাল

সুবোধ অবোধ এর ছবি
লিখেছেন সুবোধ অবোধ (তারিখ: বিষ্যুদ, ২০/০৩/২০১৪ - ১২:১৮পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

গল্পঃ

গেরস্ত হাজী সাহেব হাটে গিয়েছেন পাট বিক্রি করতে। বড় বড় আঁটি করে ওজন মেপে রাখা পাট। গ্রামের-ই আরেক ক্রেতা এসেছেন পাট কিনতে। হাজীর কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন -"হাজী সাব, পাটের দাম কত?"
হাজী সাহেব হাসি মুখে বলেন -"৭০০ ট্যাকা মণ বাবাজী। ওজন করাই আছে।"
ক্রেতা আবার জিজ্ঞেস করেন -"ওজনে ঠিক আছে তো?"
হাজী সাহেব সরল মুখে বলেন -"রসুল জানে বাবাজী।"


স্বপ্ন বেচো না, স্বপ্নরাই বাঁচায়

সুবোধ অবোধ এর ছবি
লিখেছেন সুবোধ অবোধ (তারিখ: বিষ্যুদ, ০৬/০৩/২০১৪ - ৭:০৯অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ভ্যাপসা বিচ্ছিরি একটা গরম। জ্যৈষ্ঠ মাসের এই সময়টায় বৃষ্টি হলে একটা আরামদায়ক আবহাওয়া বিরাজ করলেও বৃষ্টি না হলে অসহ্য গরমে টেকা দায় হয়ে যায়। কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি তো নেই-ই সাথে কাঁঠ ফাঁটা রোদ। খড়খড়ে মাটির উপর দিয়ে একটু বাতাস গেলেও ধুলো ওড়ে। বড় গাছগুলো মাটি থেকে সাধ্যমত রস শুষে নিয়ে প্রাণপণে নিজেদের সতেজ রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে যেন। আশেপাশের ছোট গুল্ম আর ঘাসেদের ভাগে জুটছে না কিছুই তেমন। পানির অভাবে লত