পায়ের ড্রেসিং করা হয়েছে। ডাক্তার এখন পা সম্পূর্ণ রাখতে পারার ব্যাপারে আশাবাদী।
আজকে পিঠের সাপোর্ট ছাড়া খাটে পা ঝুলিয়ে বসতে পেরেছে।
সিমন ভাই, দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন।
আমার বিশ বছর বয়সী ভাইপো পরশু সন্ধ্যারাতে সিলিং থেকে ফাঁসীতে ঝুলে হন্তারক হয়েছে নিজের। বছর খানেক আগে কলেজ থেকে ঘরে ফিরেছিল সে ছোট একটা মেয়েকে লাল শাড়ি, কপালে টকটকে লাল সিঁদুর আর হাতে সফেদ শাঁখা পরিয়ে। সেদিন এতটুকু ছেলের সাহস দেখে হতবাক হয়ে গেলেও আমি মনে মনে তার বেশ প্রশংসা করেছিলাম। আমি কোনদিন ওরকম সাহস করতে পারি নি। আমার ভাইপোটির বাবা মানে আমার ভাইটি তার পুত্রবধূর মুখ দেখার মাস দুয়েক পর একরাতে ছট
কলঘর থেকে শুনতে পাচ্ছি
কোথায় যেন বেজে চলেছে টেলিফোন
সন্ধ্যার নীরবতার ভেতর
শুধু জলের শব্দ তার সাথে পাল্লা দিয়ে যায়
কে আছে কার প্রতীক্ষায়
যখন ফোন বেজে যায় নিস্তব্দ ঘরে?
জলপতনের দিকে চেয়ে থেকে ভাবি
কে আছে কত দূরে এ প্রতীক্ষা্য,
কতদূর থেকে
চলে আসে জল এই নির্জন স্নানঘরে?
ক্রন্দন থেমে গেলে ফোনের
পোস্টম্যানটিকে কেউ চিঠি লিখে নি কখনও,
কত কত মানুষের হাতে দিয়ে গেছে সে পরম আকাঙ্খিত হলুদ খাম, পোস্টকার্ড;
দূর মরুভূমির রোদের গল্প কিংবা সফেদ বরফের ছবি
অভিমান, স্নেহ, বিরহ, ভালবাসা - ভুল বানানে লেখা অল্প কথার চিঠি।
পোস্টম্যানের বাড়ির কোন ঠিকানা যেন নেই।
ফুল নিয়ে ছুটে আসে যে কাল মেয়েটি রাস্তায় গাড়ি দাঁড়িয়ে পড়লে
কতদিন লাল গোলাপ আর কদম কিনে নিয়ে গেছে প্রেমিকের দল
আমার এখন নিজেকে বর্ষার পর পিচ উঠে গিয়ে গর্তে ভরে যাওয়া সড়কের মত মনে হয়। হৃদয় বল, মন বল- আমার সমগ্র অস্তিত্বে এখন শুধু ক্ষত আর ক্ষত। একটা বিশাল ক্লান্তি। ঝড়ে বিধ্বস্থ ফসলের মাঠের মত এলোমেলো হয়ে গেছি। ক্ষতগুলো সারতে ক'দিন লাগবে জানিনা, আদৌ সারে কিনা কে জানে।অনেকে বলে, সময় সমস্ত শোকের অসুখ সারিয়ে তোলে। আমি নিজেও বলেছি একথা কয়েকজনকে, এখন মনে পড়ছে। কিন্তু আমার উপর আঘাতগুলো এসেছে একটার পর আরে
যন্ত্রপাখিটার পেটের ভেতরে একবার ঢুকেছ কি আর কারও কথা শুনতে পাবে না। সারাক্ষণ এমনই একঘেঁয়ে চিৎকার করে যাবে যে সে মাথা ধরে যাবে তোমার। কানে আমি তাই হেডফোন গুঁজে রাখি। আন্ধি ফিল্মটার গান শুনি। মাঝে মাঝে নীচে তাকাই। নজরে আসে আদিগন্ত বিস্তৃত বন। ঘন অরণ্যের মাথাটা সূর্য্যস্নান সেরে নিচ্ছে এবেলা। তারাও জানে ওবেলা নেমে আসবে বাদল। কয়েকটা গাছ জ্বালিয়ে দেবে ক্রুর বাজগুলো। এই বৃষ্টি-অরণ্যের নীচটা কেমন এত উঁচু
মৌসুমী ভৌমিকের গানের একটা কলিই বারবার ফিরে আসে মনে, '' কোথায় শান্তি পাব, কোথায় গেলে, বল কোথায় গেলে? "
' টার্মিনাল ' ছবির নায়ককে যখন বলা হয় যে তার দেশে এখন দূর্বিষহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে, জীবনের কোন নিরাপত্তা নেই, সেখানে সে ফিরে যেতে চায় কিনা; উত্তরে নায়ক যা বলেছিল তা ঘুরেফিরে ছোটবেলা থেকে শুনে আসা ইংরেজী বাক্যটিরই প্রতিধ্বনি মাত্র- There is nothing sweeter than HOME.
পাথরের কাছে যাই, বলে সে,
বহুকাল স্থানু পড়ে আছি এইখানে,
একটু ঠেলে দাও, আমি গড়িয়ে গড়িয়ে চলে যাব ঐ নদীটির কাছে
শরীর জুড়ে পেতে চাই একটু গতির আনন্দ।
বরফের চাঁইয়ের কাছে যাই, সে বলে,
তীব্র শীতে জমে গেছে হৃদয়, চারিদিক ধাঁধাঁময় শুভ্র বহুবছর,
আমাকে কেউ বসন্তের দিন দেখাতে নিয়ে যাও
গলে যাব জানি তবু হৃদয়ের উপরে যেন ফোটে বর্ণিল একটি গোলাপ।
আগুনের কাছে যাই, দাউদাউ করে বলে সে,