অনিন্দ্য রহমান এর ব্লগ

অন্ধলোকের কড়া নাড়া

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি
লিখেছেন অনিন্দ্য রহমান (তারিখ: মঙ্গল, ০৮/০৬/২০১০ - ৯:২৮অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

“One could spend years on this sentence” (from ‘Demeure: Fiction and Testimony’ by Jacques Derrida)

১.
এই পোস্টটি দীর্ঘ। বিরক্তিকর। এবং ক্লান্তিকর। তাই পাঠকের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আরো আগাম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি মূলত পাঠকের কাছে যার একটি পোস্ট আমাকে এই পোস্টটি লিখতে ঠেলা দিয়েছে। সেই ঠেলায় যদি ব্যক্তি মূলত পাঠক আক্রান্ত বোধ করেন, তাহলে বলব এটি কখনোই আমার উদ্দেশ্য নয়।

আমার উদ্দেশ্য সম্পর্কেও একটি পরিস্কার ধারণ...


সান্ধ্য আইন

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি
লিখেছেন অনিন্দ্য রহমান (তারিখ: শুক্র, ২৮/০৫/২০১০ - ৭:২৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

হাইওয়ে উত্তরদক্ষিণে যায়। জমি যায় পূর্বপশ্চিমে। ছোটাছুটি করে শান্ত হয়। রাস্তা যায়। ঐ নতুন রাস্তা। সাইদ তখন ছোট ছিল। তার বাপ দেখাতে তাকে। আজ তারা কেউ নাই। জমিনের নিচে (প্রায়) শান্তিতে। কেবল একটা দূরাগত বাইপাস বেঁকে আসছে তাদের দিকে। তারা হাত নাড়ে, পাও নাড়ে। কিন্তু যাবে কই?

গ্রাম্য গোরস্তানে সাইদের সঙ্গে আলাপ। মাগরিবের ঠিক আগে আগে। আমি বসে ছিলাম একটা বিরাট গাছের নিচে। খানিকটা ছা...


শেয়ার

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি
লিখেছেন অনিন্দ্য রহমান (তারিখ: শুক্র, ২১/০৫/২০১০ - ১:০৮অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ক.
"Those who can make you believe absurdities, can make you commit atrocities." (Voltaire)

খ.
"A minute of silence takes forever" (Bande à part by Jean-Luc Godard)

১.
জুলাইয়ের প্রায়ান্ধ বিকালে এইসব প্রশ্ন ফিরোজের মাথায় এমনি এমনি জমা হয় নাই। বৃষ্টি হবে হবে। মোকা কফি থেকে ধোঁয়া উঠছে। এখন সামনের মেয়েটাকে ইমপ্রেস করতে হবে। নাম রোজি। সে অবশ্য এই গল্পে একটা মাইনর ক্যারেকটার।

ফিরোজ বলে যায়, এই যে টাকা, এতো একটা রসিদই কেবল। ফিরোজের ভাষা প্রমিত। কণ্ঠ পেলব। বলে যায়। এই যে তুমি, আমি...


স্টকার

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি
লিখেছেন অনিন্দ্য রহমান (তারিখ: রবি, ১৬/০৫/২০১০ - ৫:৩৪অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আমি বাজাই। ওই উঁচুতে। কাঁচের লিফটে পিয়ানো আঁটে না। সিঁড়ি ভাঙতে লোকের অভাব নাই যদিও। আমার পকেটে আছে। অভাব। আর এতে স্বভাবও, নষ্ট না হলেও বদলে তো গেছে। আমি গান গাই, যা লোকে শুনতে চায়। দিলসা কোঈ কমিনা ন্যহি। আমার ভাইটা কথা বলতে পারে না। মা নাই। বাবাও। আমি তাই পিয়ানোটা নিয়ে তিন তলা করে ভাঙি। তারপর এট্টু জিরাই। তিন পাঁচা পনেরো, তারপর ব্লু মানডে ক্যাফে। আমার জন্য বিষ্যুদবার বিকাল। ফকির...


ভালোবাসার শহীদেরা (সন্ত ভ্যালেন্টাইন ও আরো ১৩ জন)

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি
লিখেছেন অনিন্দ্য রহমান (তারিখ: রবি, ১৪/০২/২০১০ - ২:০৪পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

প্রস্তাবনা

সত্যিকার অর্থে ইতিহাসের কোনও মূল্যায়ন হয় না। ইতিহাস স্বকালের মূল্যায়ন। করতে পারলে ইতিহাস, নয়তো যেমন যাচ্ছে যাক। তাই, আমি খুব একটা মে ৬৮’র ফল কিংবা অফল কোনোটা নিয়েই ভাবি না। মে ৬৮ সফল না বিফল। ক্ষণস্থায়ী না দীর্ঘস্থায়ী। কিচ্ছু না। কোথায় কোন ফরাসি দেশে ছাত্রজনতার পাগলামি, বুনো কীর্তিকলাপ। বুনো বেড়ালপনাও বলতে পারেন, ওয়াইল্ড-ক্যাট প্রটেস্টের তর্জমায়।

১৯৬৮ সনের ছাত...


এয়ারপোর্টে বিক্ষিপ্ত চিন্তা

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি
লিখেছেন অনিন্দ্য রহমান (তারিখ: বিষ্যুদ, ২৮/০১/২০১০ - ১:১৩পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

নিবেদন :

পূর্ণ সচল হওয়ার পর, এটি আমার প্রথম পোস্ট। তাই সচলায়তনের লেখক-পাঠক-সংগঠক সকলের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা। সচলত্বপ্রাপ্তির কারণে আজ আমার জন্য বিশেষ একটি দিন। (এবং অবশ্যই জাতীয় ইতিহাসের নিরিখে, বঙ্গবন্ধু হত্যার রায় কার্যকর হবার দিন হিসেবে)

স্বাভাবিক নিয়মেই হয়ত, কারো কারো (লেখক হোক বা অ-লেখক) কোনো কোনো সময় ধরে লেখার সাবলীল ক্ষমতা মুলতবি থাকে। এমনই একটি অনুৎপাদনশীল সময়ে পূর্ণ ...


সঞ্চয়

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি
লিখেছেন অনিন্দ্য রহমান (তারিখ: শনি, ২৬/০৯/২০০৯ - ১০:২৩পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

মজুরের সংজ্ঞা কী? দিন-মজুরের ?

একটা বিবর্ণ খাতা ছাড়া আমার তো আর কোনো সঞ্চয় নেই।

দিন আনি। কী আনি ? কী জানি । তবু দিন খাইনা। আর যখন খিদের চোটে গা-গুলিয়ে দেয়া হলুদ আলোটা বন্ধ করে শুয়ে পড়ি - তখন কানের গহীনে বিদ্যাসাগর বলেন - কবিকে খেতে দিও ...

... আমি তখন তলিয়ে যেতে থাকি, আরো, আরো, আরো অচেনায় ... তখন কারা আমায় খেতে দেয়? কাদের খাওয়া থেকে? আমি তো মজুর নই । উদ্বৃত্তখোর কবিমাত্র। মজুরের ছলকে পড়া ঘাম। ...


এই ছবি, ওই ছবি

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি
লিখেছেন অনিন্দ্য রহমান (তারিখ: মঙ্গল, ১৫/০৯/২০০৯ - ১১:২৫পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ছবি (ফটোগ্রাফ) বুঝি না। যেভাবে বোদ্ধারা বোঝেন। তবু ছবি নিয়ে লিখতে বসা, কারণ ছবি আমাকে ভাবাচ্ছে।

একটা ছবিতে একটা মুহুর্ত স্থির হয়ে থাকে। আর এটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা ঐকিক নিয়মে প্রমাণ করা যায়। প্রমাণটা অবশ্য যারা ঐকিক নিয়মে সন্তুষ্ট তারা যেমন করবেন, যারা কোয়ান্টাম মেকানিক্স পর্যন্ত যেতে পারেন, তারাও করবেন। আমি ঐকিক নিয়মে আসি।

ধরুণ এক সেকেন্ডের দৃশ্যের গুরুত্ব ‘ক’। মানে চব...


হলোকাস্ট হিরোশিমা এবং

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি
লিখেছেন অনিন্দ্য রহমান (তারিখ: রবি, ১৩/০৯/২০০৯ - ৯:৫৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

এই পোস্টারটি বলছে, "৬০ হাজার রিশমার্ক হচ্ছে সে-পরিমাণ অর্থ যে-পরিমাণ অর্থ জন্মগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ এই লোকটির জীবনকালে সমাজ তার জন্য ব্যয় করেছে। জর্মনবাসী, এই অর্থ কিন্তু আপনারও।" হলোকাস্ট নিয়ে উইকিপিডায় পড়াশুনো করতে করতে এই পোস্টারটি দেখলাম। পড়াশুনোর একটি উদ্দেশ্য ছিল। সৈয়দ মুজতবা আলি, যিনি আজকের তারিখে, (১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সিলেটের করিমগঞ্জে) জন্মগ্রহণ করেন, তাঁর দ্বিতী...


দ্বিদ্রিম

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি
লিখেছেন অনিন্দ্য রহমান (তারিখ: শুক্র, ১১/০৯/২০০৯ - ১১:০১অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

স্বপ্নের উপর রং চড়িয়ে লিখছি। একথা আগেই বলে নিই। পরে বললেও, ক্ষতিবৃদ্ধি হত না।

এখানে দুটো স্বপ্ন একসাথে করা। প্রথমটা প্রথমে, দ্বিতীয়টা আরেকদিন দেখি। প্রথমটা শেষরাতে। দ্বিতীয়টা দিবাস্বপ্ন। এখন যখন লিখছি - খুব একটা রাত নয়, ১০ টা ২৩।

প্রথম সত্য অতীত। কারণ আমাদের যাবতীয় দুর্যোগের কারণ খুঁজি আমরা, প্রথমে। কারণ, যা কেবল অতীতেই ঘটে থাকে। আমরা আমাদের দশাগুলোকে যেমুহুর্তমাত্র দুর্য...