অনিন্দ্য রহমান এর ব্লগ

ভারতীয় পণ্য বর্জন কী ও কেন

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি
লিখেছেন অনিন্দ্য রহমান (তারিখ: রবি, ২৯/০১/২০১২ - ১১:৩৬অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

... একটা বিশেষ ধরণের বিরক্তি এই লেখা তৈরিতে উৎসাহী করেছে। এতে চলমান ভারতীয় পণ্য বর্জনের/ বয়কটের আহবানে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও এই ধরণের উদ্যোগের সামর্থ্য সম্পর্কে একধরণের মতামত দেয়া হয়েছে। বিচিত্র বিষয়ের অন্তর্ভুক্তি লেখাটাকে কিছুটা দীর্ঘ করে তুলবে।

১. দুশ্চিন্তা/উদ্বেগ/বিরক্তির প্রেক্ষাপট

ইন্ডিয়ার সমালোচনা হলেই পাকিস্তানপ্রেমীরা খুশিতে গদগদ হয়ে পড়েন। বলে, 'দেখালা? হুদাই খালি পাকিস্তানরে গালি দেও'। ভারতে উৎপাদিত পণ্য বয়কটের প্রসঙ্গ ওঠার পরেই দেখা যায় তারা আরো উত্তেজিত। ফেইসবুকে দেখলাম কেউ কেউ বলছে পাকিস্তানি রাজাকার যেমন আছে তেমন আছে ভারতীয় রাজাকার।


‘আনন্দবাজারিপনা’ ও ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদের তিন দিক: পর্ব ১

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি
লিখেছেন অনিন্দ্য রহমান (তারিখ: রবি, ২২/০১/২০১২ - ১০:২৪পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

[১]

আনন্দবাজারিপনা বি. ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদের বুদ্ধিবৃত্তিক সাফাই। বিণ. উক্ত সাফাইয়ের লক্ষণ নির্দেশক।

ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের হাতে বাংলাদেশের একজন 'গ্রাম্য' ও 'দরিদ্র' তরুণের নৃশংসভাবে নিগৃহিত হওয়ার দুর্বহ অশান্তিকর চিত্র বাতাসের আগে ছড়িয়েছে অন্তর্জালে পাঁচ দিন হল। এনডিটিভি নামক ভারতের যে জাতীয় প্রচারমাধ্যমে এর 'প্রথম প্রকাশ' ঘটে সেখানে, সন্দেহ নাই, ঐ ঘটনার বর্ণনা প্রধানত নিন্দাজ্ঞাপক ছিল। কিন্তু ভারতের বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার এই খবরটা প্রথম ছেপেছিল এই শিরোনামায়: 'বিএসএফের অত্যাচার নিয়ে মুর্শিদাবাদে আলোড়ন'। কীয়ৎকাল গেলে তারা অনুধাবন করে এই ঘটনা মুর্শিদাবাদ মাপের না। ত্বরিৎ নিন্দাজ্ঞাপনে সামিল হয়ে তারা ছেপে ফেলে সম্পাদকীয় ধিক্কার; এতে অস্বাভাবিকতা নাই। আবার এটাও অস্বাভাবিক না, ঠিক তিন দিনের মাথায় এই পত্রিকা নিন্দাজ্ঞাপনের সাময়িক ভণিতা ঝেড়ে ফেলে তাদের বর্ণাশ্রমিক এবং সাম্প্রাদায়িক চরিত্রানুগ মন্তব্য প্রতিবেদন ছাপবে। 'মারের ছবি প্রচারে পাক-হাতই দেখছে নয়াদিল্লি' শিরোনামার ঐ জল্পনায় নয়া দিল্লির গোয়েন্দা রিপোর্টের বরাত দিয়ে যে উদ্বেগের প্রকাশ ঘটেছে সেটা 'মার' নিয়ে না, স্পষ্টতই 'মারের ছবি প্রচার' নিয়ে। একটা নিম্ন-মাঝারি মানের প্রাদেশিক পত্রিকার প্রায়-অসমর্থিত প্রতিবেদন নিয়ে আমাদের না ভাবলেও চলত যদি না সেটা সাম্রাজ্যবাদী ভারতের সাম্প্রতিক লক্ষণগুলিকে ফুটিয়ে না তুলত।


অনৈতিহাসিক

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি
লিখেছেন অনিন্দ্য রহমান (তারিখ: সোম, ১৬/০১/২০১২ - ৭:৫২পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

সেলিমকে ঐতিহাসিকতা দিতে হলে ইতিহাস তো দূরে থাক ঐতিহাসিকতার সংজ্ঞাকে যতদূর বদলাতে হবে তারচেয়ে একটা অনৈতিহাসিক গল্প ফেঁদে বসা সহজ। কিন্তু দাবি করি, এই গল্প ইতিহাসভিত্তিক। কারণ, ক. এই গল্প বহু বছর আগের; খ. এই গল্পে কতিপয় ঐতিহাসিক চরিত্রের আনাগোনা দেখা যায়।

বহুকাল আগের কথা।


পাকির বাচ্চা

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি
লিখেছেন অনিন্দ্য রহমান (তারিখ: বিষ্যুদ, ১৫/১২/২০১১ - ৯:১১অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

খানকির পোলা শব্দটা তিনবার লিখে ব্যাকস্পেস দিলাম। তারপরে ভাবলাম এই শব্দটা রেখে দেয়া দরকার। আমি জানি এইখানে, এই লেখার মাথায়, ভলতেয়ার বা রুশোর বাণী কপচালে কিছুটা সম্ভ্রম আদায় করা যেত। আপনারা আরেকটু গুরুত্ব দিতেন। কিন্তু সত্যি কথাটা হল সম্ভ্রম বস্তুটার যোগ্য আমি না। কারণ গত সন্ধ্যা থেকে আমাকে ঘিরে আছে ধর্ষকমুগ্ধ কিছু প্রাণী। তারা আমাকে যেনতেনভাবে ধর্ষণ করেছে। আমার পক্ষে রুশো বা ভলতেয়ার কপচানো সম্ভব না


ছাগলের তৃতীয় শাবক

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি
লিখেছেন অনিন্দ্য রহমান (তারিখ: শনি, ০৩/১২/২০১১ - ১১:১৩পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

যেকোনো ম্যাৎকার বিরক্তিকর। কিন্তু ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চার ম্যাৎকার তুলনাহীন।

ক. নেপোবাবুর প্রত্যাবর্তন

সরকারের দায়িত্বসম্পাদনায় নাগরিক অসন্তুষ্ট। সরকারকে গালি দেয়ার তার অধিকারটি মৌলিক। নাগরিক গালি দিচ্ছে। গালিতে কাজ যে খুব কাজ হচ্ছে তা না। কিন্তু তারও চেয়ে বেশি আপত্তিকর, সরকার তার কাজকর্মের কোনো ব্যাখ্যা দেয়ার প্রয়োজন বোধ করছে না। এগুলো জানা সমস্যা। বিরাট এইসব সমস্যার পাশে, একটা আপাতদৃষ্টিতে ছোট মুশকিল দেখতে পাই। কিছুদিন হল, এই দুর্যোগের সুযোগে, দৈনিক প্রথম আলো, বাংলাদেশের নেপোসমাজের মুখপত্র, তার আস্তিনের নিচের ছুরিকাটি আবার বের করতে শুরু করেছে। সামরিক শাসন কায়েমের মাধ্যমে নেপোতন্ত্র বাস্তাবায়নের স্বপ্ন ভেস্তে যাওয়ায় ছুরিকাটি আস্তিনের নিচে চালান করে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিত অনুকূল হতে শুরু করেছে।


ব্লগরব্লগর

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি
লিখেছেন অনিন্দ্য রহমান (তারিখ: বুধ, ৩০/১১/২০১১ - ৯:৪১অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

[justify]

একদা ব্লগরব্লগর ছিল শৈশবের কালে। সে-সবই 'পয়েন্টলেস' ছিল। ইঁচড়ে পাকামি আমার আশৈশব পেশা। এবং এখন আর, আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে বাজে বকার অবসর নাই। অতএব যখন বন্ধুরা তাগাদা দেয়, শুভাশীষ, আনন্দী, 'লেখো না', আমি মূলত কিছুই লিখতে পারি না। আমার কখনো কখনো কিছুই বলার থাকে না যা অন্যের সামান্য হলেও জানা প্রয়োজন।


রিভিউ: রকস্টার

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি
লিখেছেন অনিন্দ্য রহমান (তারিখ: মঙ্গল, ১৫/১১/২০১১ - ৮:১৪পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

‘যা কিছুই বলতে চাই
আমারই শব্দে বিনাশ
আমারই শব্দে’ (ইরশাদ কামিল)

শব্দ আর অভিপ্রায়ের মধ্যে আদি দ্বন্দ্বের নিষ্পত্তি হলে, সেটা হতেই হয় কোনো একদিন, দুর্বহ বোঝার মতো চেপে থাকে কোনো কোনো উচ্চারণ। কোনো কোনো শব্দ ফেরানো যায় না আর। কোন শব্দই বা যায়!


‘লেস-দ্যান-অনেস্ট'

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি
লিখেছেন অনিন্দ্য রহমান (তারিখ: শনি, ০৩/০৯/২০১১ - ৪:১৩অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

[justify]পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে নেমেছে কানাডার পুলিশ। পদ্মা সেতুর কাজ পেতে কানাডার এসএনসি-লাভালিন গ্রুপ ইনকর্পরেশন দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে থাকতে পারে এমন সন্দেহ প্রকল্পে বৃহত্তম ঋণদাতা বিশ্বব্যাংকের। তাদের পরামর্শেই শুক্রবার এই তদন্তের শুরু হয়। বিশ্বাব্যংক নিজেরাও এই বিষয়টি আলাদাভাবে তদন্ত করছে।


আন্না, গ্লুকোজ খেতে চান না

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি
লিখেছেন অনিন্দ্য রহমান (তারিখ: বিষ্যুদ, ২৫/০৮/২০১১ - ৯:২৩অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

১.
আন্না হাজারে একজন অর্ধশিক্ষিত, স্থূল এবং সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি, ঠিক সেই রাজনীতিবিদদের মতনই যাদের প্রতিপক্ষ হিসাবে তাকে খাড়া করিয়েছে ভারতের কর্পরেট মিডিয়া এবং টিভিসৌখিন মধ্যবিত্ত। জ্বী, আমিও টিভিসৌখিন। কিন্তু, ন্যাটোর সাথে গাদ্দাফির ইঁদুরবিড়াল খেলা বাদ দিয়ে আন্না হাজারে ও তার স্যাঙাৎদের কাজকাম দেখছি। সুতরাং এই লিখা।


অসন্তুষ্ট না হওয়ার অধিকার?

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি
লিখেছেন অনিন্দ্য রহমান (তারিখ: শুক্র, ১৯/০৮/২০১১ - ৬:২১অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

শেখ হাসিনার থাকা না থাকায় কার কী আসে যায় জানা নাই, কিন্তু বাংলাদেশের আসে যায়; যারা একমত না, তাদের সাথে তর্কে প্রবৃত্ত হব না। কেবল বিনীতভাবে এই মত দিতে চাই, বৃহৎ বঙ্গের বাঘ এ কে ফজলুল হক থেকে প্রয়াত আহসানুল্লাহ মাস্টারের নবীন পুত্র পর্যন্ত যারাই বাংলাদেশে রাজনীতিবৃত্তি করেছেন শেখ হাসিনা তাদের মধ্যে গণতন্ত্রায়ণের পক্ষে উজ্জ্বলতম নক্ষত্র - তার সভাসৎ যতই তাতে অন্ধকার ঢেলে দিক না। শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা কতবার কারা কারা করেছে সেবিষয়েও পাঠকের জ্ঞানকে খাটো করতে চাই না। ইংরেজি দৈনিকের সম্পাদক থেকে শুরু করে নিখিল-পাকি-পেয়ারা জেনারেল, বাড়িওয়ালা থেকে ফেরিওয়ালা, শেখ হাসিনার মৃত্যুতে কেউ কেউ খুশি হবেন এই আশঙ্কাও করি। তবু আমি শেখ হাসিনাকে অভিশাপ দেয়ার ‘স্বাধীনতা’কে সমর্থন করি। যদিও আমি নিজে এই অভিশাপ দিব না। এমনকি যারা দিবে তাদের বিষয়েও আমার বিশেষ আগ্রহ নাই। শেখ হাসিনার থাকা না থাকায় যোগাযোগমন্ত্রীর কিছু যায় আসবে না, তিনি সকল গণ/অগণতান্ত্রিক সরকারের আমলেই সদানন্দ, স্বৈরাচার কিংবা তার স্ত্রী(গণে)র আদুরে, পীরবাবার আশির্বাদধন্য; শেখ হাসিনার না থাকায়, ছাত্রলীগের তালিকাবাসীদের সাময়িক দুশ্চিন্তার অতিরিক্ত কিছুও হয়ত হবে না; কিন্তু আমি, ব্যক্তি, নাগরিক, দীর্ঘমেয়াদী অন্ধকারের আশঙ্কা করব। এই রচনার বিষয় শেখ হাসিনা নন। এর বিষয় ভিন্ন।