ছাগলের তৃতীয় শাবক

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি
লিখেছেন অনিন্দ্য রহমান (তারিখ: শনি, ০৩/১২/২০১১ - ১১:১৩পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

যেকোনো ম্যাৎকার বিরক্তিকর। কিন্তু ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চার ম্যাৎকার তুলনাহীন।

ক. নেপোবাবুর প্রত্যাবর্তন

সরকারের দায়িত্বসম্পাদনায় নাগরিক অসন্তুষ্ট। সরকারকে গালি দেয়ার তার অধিকারটি মৌলিক। নাগরিক গালি দিচ্ছে। গালিতে কাজ যে খুব কাজ হচ্ছে তা না। কিন্তু তারও চেয়ে বেশি আপত্তিকর, সরকার তার কাজকর্মের কোনো ব্যাখ্যা দেয়ার প্রয়োজন বোধ করছে না। এগুলো জানা সমস্যা। বিরাট এইসব সমস্যার পাশে, একটা আপাতদৃষ্টিতে ছোট মুশকিল দেখতে পাই। কিছুদিন হল, এই দুর্যোগের সুযোগে, দৈনিক প্রথম আলো, বাংলাদেশের নেপোসমাজের মুখপত্র, তার আস্তিনের নিচের ছুরিকাটি আবার বের করতে শুরু করেছে। সামরিক শাসন কায়েমের মাধ্যমে নেপোতন্ত্র বাস্তাবায়নের স্বপ্ন ভেস্তে যাওয়ায় ছুরিকাটি আস্তিনের নিচে চালান করে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিত অনুকূল হতে শুরু করেছে।

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের এতই দুরবস্থা যে, সত্যিকারের কথাগুলো যথেষ্ট পেশাদারিত্ব নিয়ে বলার মতো টিভি বা পত্রিকা খুঁজে পেতে গরু খোঁজা খুঁজতে হবে। এর মধ্যে প্রথম আলো এমন এক গরু যেটা এক ডজন লাথির সাথে আধা পোয়া হলেও দুধ দেয়। এক ডজন দুরভিসন্ধিজাত অপসংবাদের সাথে তাই আধা পোয়া সংবাদ মিশিয়ে ভালই করে খাচ্ছে এই দৈনিক। সুতরাং, সরকারের বিরুদ্ধে যায় এমন সত্যিকারের কিছু সংবাদের সাথে দৈনিকটি গেলাচ্ছে তার নিজস্ব অভিলাষের বিষ। সরকারের কাজকর্মে ত্যক্তবিরক্ত নাগরিকেরা সংবাদের সাথে বিষও খেয়ে নিচ্ছে অহরহ। মুশকিলটা এখানেই।

একটু একটু করে বিষয়ের পরিমাণ বাড়িয়ে বাড়িয়ে প্রথম আলো দেখছে, বাহ! ভালই তো খাওয়ান যায়। অতএব,নেপোদের মুখপত্র প্রথম আলোর গৃহপালিত লেখকদের খাটুনিও গেছে বেড়ে। কিছুদিন আগে,নতুন ‘অভিযান’ শুরু করেছে, 'বদলে যাও বদলে দাও' নামক ওয়েবসাইট। এই ওয়েবসাইটের ধারণাগত সমস্যাটি আগে তুলে ধরি। সংবাদ মাধ্যম সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সত্য জানাবে। সত্য মানুষকে করণীয় বাৎলে দেবে। মানুষ তার করণীয়টা করবে। সংবাদপত্রের মাধ্যমে সমাজপরিবর্তনের এই সহজ ধারণার বাইরে, একটি সংবাদপত্রকে আর যা কিছুই করতে দেখি না কেন, সেটাকে সন্দেহের চোখে দেখা যায়। প্রথমত সন্দেহ জাগে, সংবাদপত্রটি সংবাদের ক্ষমতার ওপর ভরসা করছে না আর। দ্বিতীয়ত, সংবাদ পরিবেশন পত্রিকাটির মৌলিক উদ্দেশ্য নয়, সংবাদ স্বার্থোদ্ধারের কেবল একটি অজুহাত মাত্র।

খ. ভাবসম্প্রসারণ

ওয়েবসাইটে ঝুলছে পত্রিকাটির সম্পাদকের একটি আহ্বানপত্র। পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রের ভাবসম্প্রসারণের গড় মানও এই গদ্যের চেয়ে ভাল। তবু রচনাটি যদি কষ্ট স্বীকার করে পাঠ করা যায়, তাহলে একটি জায়গায় চোখ আটকাবে।

'বদলে দেওয়ার মিছিলে আসুন যোগ দিই সবাই। মাথা তুলি, আওয়াজ ওঠাই। অনলাইনে, কাজের ক্ষেত্রে, ঘরে ঘরে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, পাড়ায়-মহল্লায় সর্বত্র’।

মাত্র ৭ অনুচ্ছেদের রচনাটিতে ‘সমস্যা’ শব্দটি আছে পনের বার। অথচ একবারও জানা যায়নি, সমস্যাটা আসলে কী। এমনকি মোটাদাগেও না। রাষ্ট্রের নিশ্চয়ই মোটাদাগের এক বা একাধিক বৃহৎ সমস্যা রয়েছে: শ্রেণীবৈষম্য,সম্পদের অসমবণ্টন,সাম্রাজ্যবাদী শোষণ, মৌলবাদ,সাম্প্রদায়িকতা। সেসবের উল্লেখ পাওয়া যায় না বাগধারার স্থূল ব্যবহারে জর্জরিত গদ্যখণ্ডটিতে। কেবল দেখা পাওয়া যায় অনির্দিষ্ট অজ্ঞেয় ‘সমস্যা’র। আর এই অস্পষ্ট সমস্যার মোকাবেলায় 'পাড়ায়-মহল্লায় সর্বত্র' সক্রিয় হওয়ার উস্কানির।

আগে জমায়েত, পরে উদ্দেশ্যমতো সেই জমায়েতকে ব্যবহার করার অভিসন্ধি। নেপোসমাজের চাই এমন এক জমায়েত, যার মাথায় রাজনীতি নেই। নেপোসমাজের চাই এমন এক অরাজনৈতিক তরুণশ্রেণী যারা স্রেফ সমরাস্ত্রের মতো ব্যবহৃত হবে।

তরুণ সমাজের বিরাজনীতিকরণের আরো প্রমাণ পাওয়া যায় যখন লেখা হয়:

'এমন একটা জায়গা তৈরি করতে চাইছি, যেখানে দেশ ও সমাজের কল্যাণের জন্য কথা হবে, সমস্যা নিয়ে আলোচনা হবে, কিন্তু কথা আর আলোচনাতেই সবকিছু ফুরিয়ে যাবে না, চেষ্টা থাকবে সমস্যার সমাধানে পৌঁছানোর'।

গণতান্ত্রিক সমাজে সে জায়গাটি প্রধানত সংসদ। কিন্তু প্রথম আলো তরুণদের প্রথমেই সংসদে যেতে বলে না। তাদের যেতে হবে প্রথম আলোর মস্তিষ্ক প্রক্ষালন কেন্দ্রে। তারপর সারি বেঁধে বেরিয়ে আসবে সম্মোহিত রোবটের মতো।

গ. সারাংশ

প্রথম আলোর আরেক শীর্ষ কর্মচারি আনিসুল হক একই ওয়েবসাইটে লিখেছে ইভটিজিংবিরোধী গদ্য। আমাদের দেশে মুক্তিযোদ্ধারা লাঞ্ছিত হলে এক ধরণের লোক তৃপ্তি পায়। তারা একসময় চুপিচুপি বলত, দেখেছ মুক্তিযুদ্ধ করে কী লাভ হল। এখন তারা পত্রিকায় স্তম্ভ প্রসব করে জানায়, পাকিস্তানের চেয়ে এখন কী আর এমন ভালো আছি। গর্দভগুলো জানে না,স্বাধীনতা জীবনের শর্ত, জীবনবীমার শর্ত নয়।

আনিসুল সত্যিকারের দুঃখজনক এক ঘটনার সাথে মিশিয়ে দিয়েছে চোরাই পাকিস্তানপ্রেম। ইভটিজিং বিষয়ক রচনা শুরুর অনুচ্ছেদটির বিষয় তাই হয়ে দাঁড়ায়: স্বাধীনতার ৪০ বছর পূর্তিতে 'কী পেলাম'। লাঞ্ছিত মুক্তিযোদ্ধার কথা লিখতে গিয়ে সে লিখেছে:

'পাকিস্তানি সেনারা একাত্তর সালে তাঁকে হাতের কাছে পেলে নিশ্চয়ই হত্যা করত, তারা সেদিন তা করতে পারেনি, ৪০ বছর পরে আজ তা করতে পারল কতিপয় বখাটে’!

মুক্তিযুদ্ধের ঝানু বিক্রেতা আনিসুল জানে না আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সার্বভৌম জাতিরাষ্ট্র গঠনের সুদীর্ঘ সংগ্রামের চূড়ান্ত অধ্যায় ছিল, দৈনিক পত্রিকার কথিত ইভটিজিং বিরোধী বিজ্ঞাপনী প্রচারাভিযান নয়। আনিসুল জানে না কিছুই, তাই সে কতিপয় বখাটের সাথে গুলিয়ে ফেলতে চায় পাকিস্তানি সেনাকে। ইভটিজিং বড় সমস্যা, সন্দেহ নেই। কিন্তু স্বাধীনতাকে অর্থহীন করে তোলার অজুহাতও নয়। (আসলে,এই ইভটিজিংও প্রথম আলোর কাছে গুরুতর কিছু কি? উচ্চ আদালত বলেছে ইভটিজিং শব্দদ্বয় ব্যবহার না করে সরাসরি 'যৌন হয়রানী' বলতে কিন্তু সুশীল সাংবাদিকের 'যৌন' শব্দে আপত্তি। তার যৌন হয়রানীর নৃশংসতাকে কোমল করে দেয়, থিতিয়ে দেয়, নিয়ে যায় স্বর্গোদ্যানে, যেখানে ইভকে নিছক খেপিয়ে মজা পায় নিষ্পাপ আদম।)

ঘ. এলাহী ভরসা

আরেক কলমধর মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর লিখেছে:

'বিএনপি-জামায়াত জোট ছাড়া আওয়ামী লীগের মতো বিশাল দল বা মহাজোটকে ভোটে পরাস্ত করার জন্য বিকল্প কোনো শক্তি এ দেশে এখনো তৈরি হয়নি। কাজেই বিএনপিই ভরসা'।

বাহ! বাংলাদেশের নেপোসমাজ বদলায়, কিন্তু তাদের থলের বেড়ালটি একই স্বরে ম্যাঁও করে। বিএনপিই ভরসা বলে জাহাঙ্গীর অনুচ্ছেদ শেষ করে দেয়। অর্থাৎ এটি একধরণের দৃঢ় আশাবাদ। বাক্যটি আবারও পড়ি। লক্ষ্য করি, শেষে বিএনপিই ভরসা বললেও, জাহাঙ্গীরের আস্থা 'বিএনপি-জামায়াত জোটে'। জামায়াতকে সঙ্গে না নিলে, বিএনপির পক্ষে জেতা সম্ভব না, জাহাঙ্গীরের পূর্বানুমান।

কিন্তু নতুন অনুচ্ছেদে বিএনপির দুর্বলতা নিয়ে দু’চার কথা না বললেই নয়। বিএনপির প্রথম দুর্বলতা জামায়ত নয়। সেটি হচ্ছে 'তাদের সর্বশেষ শাসনামলের রেকর্ড'। বিএনপির দ্বিতীয় দুর্বলতা হিসেবে জাহাঙ্গীর লিখেছে:

'তাঁদের জামায়াতপ্রীতি ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরোধিতা অনেককে, বিশেষ করে তরুণসমাজকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে'।

লক্ষ্য করি, দেখতে নিরীহ বাক্যটিতে সুকৌশলে জাহাঙ্গীর জামায়তপ্রীতি ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দু’টিকে বিযুক্ত করে দেখছেন। এই বিযুক্তির নমুনা আরো ভাল ভাবে পাওয়া যায় পরের কথাগুলোয়। একটু দীর্ঘ হলেও উদ্ধৃত করা যাক।

'ভবিষ্যতে যদি বিএনপি সরকার গঠন করে, তাহলে দেশের প্রধান সমস্যাগুলোর কী সমাধান দেবে,সে ব্যাপারে বিএনপি কোনো লিখিত কর্মকৌশলের কথা দেশবাসীকে জানায়নি। বর্তমান সরকারের নানা ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বিএনপি যদি নিজেদের বদলাতে পারে, তাহলে হয়তো তাদের পক্ষে কিছুটা সুশাসন ও দক্ষতার পরিচয় দেওয়া সম্ভব হতে পারে। বিএনপি-জামায়াত জোট নিজেদের কতটা বদলাতে পারবে, তা তারা সরকার গঠন করার পরই শুধু বোঝা যাবে'

পরিস্কার হয় যে, জামাত-বিএনপির ভবিষ্যত সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে কী করবে, সে বিষয়ে বিশেষ কোনো উদ্বেগ নেই জাহাঙ্গীরের। জাহাঙ্গীর 'দেশের প্রধান সমস্যা নিয়ে' 'লিখিত কর্মকৌশল পেলে'ই খুশি। লিখিত জিনিস নেপোদের বড় প্রিয়। এই অনুচ্ছেদের শেষে দেখি, জাহাঙ্গীর নিশ্চিন্ত মনে ধরে নিয়েছে বিএনপি-জামাত পরের সরকার গঠন করছে।

সুতরাং জাহাঙ্গীরকে দুরদর্শী হতে হয়। আনিসুলের থেকে তার কৌশলে ভিন্নতা রয়েছে। সে 'যুব শক্তি' নামক দল গঠনের খোয়াবনামা দেয়। দলের বর্ণনা পড়ে যেটা মনে হবে তা হল, জাহাঙ্গীর একধরণের মেধাতন্ত্র কায়েম করতে চায়। সে বলে, 'মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের (চার ফার্স্ট ক্লাস) বিভিন্ন কমিটিতে রাখার ব্যাপারে গঠনতন্ত্রে বিশেষ ধারা রাখতে হবে'। অবৈধ সেনাশাসক জিয়াও এইভাবে মেধাতন্ত্রের কথা বলে, রিভলবার বিলি করেছিল। উপরন্তু, একথা বহুভাবে প্রমাণ করা যাবে, কথিত মেধাতন্ত্র বস্তুত একধরণের কতিপয়তন্ত্র (পত্রিকায় শব্দটি প্রচলন করেছেন বিচারক হাবিবুর রহমান, প্রথম আলোর স্তম্ভকার বাংলা ভালো জানা এই ভদ্রলোক ২৫শে মার্চের গণহত্যাকে 'পিটুনি অভিযান' লিখেছিলেন)।

ঙ. মমিনের কথা

প্রথম আলোর এই নেপো-রেনেসাঁ প্রকল্পে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি যেমন আছেন, মিকেলঅ্যাঞ্জেলও আছেন। নানা মুনি নানা মত দিচ্ছেন। কিন্তু নানা মতে একটা বিশেষ মিল: তারা ইতিহাসটা নিজের মতো বানিয়ে নেন। আবুল মোমেনের লেখা পড়ি:

'সরাসরি আওয়ামী লীগ করে না এমন বিপুল ভোটারের সমর্থনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পেয়েছিল। এ অনেকটা ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি যেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে যেমন মুষ্টিমেয় পাকিস্তানপন্থী ধর্মান্ধ দল ব্যতীত দলমত-নির্বিশেষে জনগণ আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব মেনে নিয়েছিল, এও যেন তেমন ঘটনাই।


সত্তর ও একাত্তরের এই বিপুল জনসমর্থনকে আওয়ামী লীগ অবশ্য ধরে রাখতে পারেনি। স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে ক্ষমতা এককভাবে ভোগ করতে গিয়ে মানুষের প্রত্যাশা ও মানসিক প্রস্তুতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি সরকার। একাত্তরের ঐক্য ও উদ্দীপনা নষ্ট করে ক্রমে সরকার কঠোর ও কর্তৃত্ববাদী হয়েছিল। বিশেষ ক্ষমতা আইনের মতো কালো আইনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে এবং সবচেয়ে বড় কথা, সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। আমরা আশা করেছিলাম প্রায় ৪০ বছর পরে আবার যে ঐক্য আগেরবারের মতো ব্যাপক ও সার্বিক না হলেও, কিছুটা সীমিত হলেও গড়ে উঠেছে তার গুরুত্ব ও মূল্য শেখ হাসিনার সরকার অনুধাবন করে তাকে রক্ষা করার ও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে যত্ন নেবে।কিন্তু তেমনটা ঘটল না’।

সত্যমিথ্যা ঘোঁট পাকিয়ে থাকা অনুচ্ছেদদ্বয়ে খুব বড় ধরণের একটা সমস্যা চোখ এড়িয়ে যেতে পারে। প্রথমত এই লেখক ধরে নিয়েছে 'সরাসরি আওয়ামী লীগ করে না এমন বিপুল ভোটারের সমর্থনে' সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ জেতে। এই ধরে নেয়ার সত্যতা যাচাইয়ের সুযোগ আপাতত নেই। কিন্তু এর চেয়ে বড় যে বিষয়, সেটি হচ্ছে, একাত্তর থেকে আওয়ামীলীগের প্রথম শাসনামলের সমস্যাবলী থেকে সাট করে ৪০ বছরে এগিয়ে যাওয়া। একাত্তর পরবর্তী সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল এ দাবি সত্যি ধরে নিলেও, ৭৫-এ বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দীনসহ জাতীয় নেতাদের হত্যাকাণ্ড ও তার পরপরই সেনাবাহিনীতের মু্ক্তিযোদ্ধা সেনাহত্যার প্রসঙ্গগুলো এড়িয়ে ৪০ বছরের উল্লম্ফন অনুমোদনযোগ্য নয়। কেবল ইতিহাসের খাতিরেই যে ৭৫ এর ঘনটাবলী এড়িয়ে যাওয়া যাবে না, তা নয়। যে আওয়ামীলীগের ‘আদর্শিক পতন’ মোমেনের বিষয়, সে পতনের সাথে অপরিহার্যভাবে জড়িযে ৭৫ পরবর্তী সামরিক শাসনের ইতিহাস। কিন্তু মোমেন, নেপোসমাজের অন্যান্য সভ্যের মতোই, ভাসুরের নাম নেবে না।

চ. যার ধন তার ধন নয়, নেপোয় মারে দই

বিরাজনীতিকরণের ধারাবাহিক উস্কানি, প্রচ্ছন্ন পাকিপ্রেম, জামায়তসহনশীলতা এবং পুনরাবৃত্ত সামরিকশাসনপ্রীতি – সরকারের সমালোচনার নামে প্রথম আলো এইসব বিষ গেলাতে চাইছে তার পাঠককে। অবশ্যই সরকারের কঠিন সমালোচনা করতে হবে। নাগরিক কেন ছাড় দেবে? কিন্তু তাই বলে কি নেপোকে দই মারতে দেয়া যায়?


মন্তব্য

হাসনাত মিলন এর ছবি

সুন্দর লেখা। পড়ে ভালো লাগলো।

ফারুক হাসান এর ছবি

আপনি লুকটা খুব খ্রাপ। এর চেয়ে বলদে যান, বলদে দিন। চোখ টিপি

সাফি এর ছবি

আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে বরাদ্দ চলছে -

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

দুনিয়ার বলদ এক হও


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

ইফতি এর ছবি

দেশে এত্ত বাংলা নাম থাকতে, একটা দলের নাম ইংরেজি হতে হবে কেন? এটা কি আমাদের প্রজন্মকে আরও একটু confused আর বাংলা এবং পাশ্চাত্যের fusion বানানোর অপচেশ্তা নয়ত?

নিটোল এর ছবি

আসুন আমরা বদলে যাই। শীতকাল এসেছে, লেপমুড়ি দিয়ে ঘুমাই!

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

আরেকটু খুলে বলেন। নাকি?


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

ঞঁলিবারেল দুনিয়ায় কর্তৃত্বটা কর্পোরেটদের হাতে থাকতে হয়। তাই দেশ শাসনের ভার তাদের হাতেই থাকতে হবে যারা ঞঁলিবারেলদের অ্যাপয়েন্টেড। এই অ্যাপয়েন্টমেন্ট পায় সিভিল-মিলিটারি আমলাতন্ত্র, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, মিডিয়ার কর্ণধার আর হোমরা-চোমরা ব্যক্তিত্ব, গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, ধর্মীয় নেতাদের থেকে কর্পোরেটদের পেয়ারের লোকেরা। উপরের তালিকাটা ক থেকে ঙ পর্যন্ত গিয়ে থেমে না গেলে এই গ্রুপগুলোর সবগুলো থেকেই প্রতিনিধি পাওয়া যেতো।

এককালে সামরিকবাহিনী ক্ষমতার ভাগ চাইতো, আর এখন মিডিয়া ক্ষমতার ভাগ চাইছে। কারণ, তার শক্তি সামরিকবাহিনীর চেয়ে কম নয়। তারা আসলেই তৃতীয় শাবক কিনা একটু ভাবা দরকার। প্রতিপক্ষকে কোন অবস্থাতেই আন্ডারএস্টিমেট করতে নেই।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

প্রধান ছাগল, বড়ো ছাগল, মেজো ছাগল, কণিষ্ঠ ছাগল সকলকেই চিনতে হবে। একমত।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

চলুক

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই
রিন ফেসবুক

হিমু এর ছবি

এ প্রসঙ্গে দ্য মমিনসের একটি গজল পেশ করছি।

মাথা উঁচু করে দাঁড়া by royesoye

কুলদা রায় এর ছবি

এ সময়ের সবচেয়ে মেধাবী লোক বোধ হয় হিমু। তার প্রতিভা সেকালে পাওয়া যেত। আমার মনে হয় কালীপ্রসন্ন সিংহের মধ্যে এই বহুমুখী প্রতিভার কাঠামোটি ছিল। গদ্যে, পদ্যে,কেরিকেচারে, গানে তার তুল্য আশেপাশে কাউকেই দেখি না। এত রসবোধের অধিকারী সহজে হওয়া যায় না।

...............................................................................................
'এই পথ হ্রস্ব মনে হয় যদিও সুদূর'

আরিফুল হোসেন এর ছবি

এইসবের দিকে তাকিয়ে মাঝে মাঝে মনে হয় বাম ডান এবং কর্পোরেট মধ্যম বাদ দিয়ে কোন পথ আছে? পথ খুজতে গিয়েই হয়ত আমরা পকেটে ঢুকে পড়ছি কোন নতুন ইউটোপিয়ার দখলে।

-দণ্ডিত

দ্রোহী এর ছবি

দুর্ধর্ষ বিশ্লেষণী ক্ষমতায় মুগ্ধ হলাম! হাততালি

নৈষাদ এর ছবি

অনিন্দ্যর আরেকটা চমৎকার বিশ্লেষণ।

দাড়িওয়ালা এর ছবি

পুরাই গুল্লি...!!
অনেক অনেক ভাল্লাগল লেখাটা।

কুলদা রায় এর ছবি

আর অনিন্দ্যর চোখটি হল পাখির চোখ। বহুদূর থেকেও নিঁখুতভাবে সব কিছু দেখতে পায়। অন্যরকমভাবে ব্যবচ্ছেদ করে দেখাতে পারে যে কোনো গভীর বিষয়কেই সহজ করে।
আমাদের এ সময়ে দরকার অনেক অনেক হিমু, অনিন্দ্য, শুভাশীষ দাশ, ইমতিয়ার শামীম, মুহিত হাসান দিগন্ত, সবুজ বাঘদের।

...............................................................................................
'এই পথ হ্রস্ব মনে হয় যদিও সুদূর'

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

ধন্যবাদ দাদা হাসি
(পাখির নীড়ের মত না হইলেই হইল)


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

আশালতা এর ছবি

বিশ্লেষণ ভালো লাগলো।

----------------
স্বপ্ন হোক শক্তি

রায়হান আবীর এর ছবি

চলুক

মুজতবা হাকিম প্লেটো এর ছবি

চমৎকার।

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

আগে জমায়েত, পরে উদ্দেশ্যমতো সেই জমায়েতকে ব্যবহার করার অভিসন্ধি।

ঠিক এই বিষয়টা নিয়েই ভাবছিলাম। আর ভাবছিলাম বদলে দাও নিয়ে একটা কিছু লিখব। কিন্তু আপনি প্রায় পুরোটাই আমি যত ভালো লিখতে পারতাম তার চেয়েও ভালো করে লিখে ফেলেছেন।

আপনার কাছ থেকে নিয়মিত লেখা আশা করি।

রানা মেহের এর ছবি

অসাধারণ হয়েছে ভাইয়া।
শুধু প্রথম অন্ধকারের পাকি প্রেম আরেকটু বিশ্লেষন করা গেলে ভালো হতো।

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

১) মিথ্যা বলার সবচেয়ে স্মার্ট উপায় হলো গুরুত্বহীন বা কম গুরুত্বপূর্ণ অনেকগুলো সত্যের সাথে গুরুত্বপূর্ণ মিথ্যাটি মিশিয়ে দেয়া। সত্যগুলোর অ্যালিবাই মিথ্যাটিকে হালা করে ফেলে। আলুর বিষ খাওয়ানোর কেসও একইরকম। আলুর অনলাইন ভার্সনে মডারেশন পার হওয়া পাঠক মন্তব্যও ব্যবহৃত হয় একাজে। আমি খবরের চেয়ে পাঠকের মন্তব্যগুলো বেশি গুরত্ব দিয়ে পড়ি। ফিলটার পার হওয়া এই মন্তব্যগুলোর ৭০% ই ছাগুমন্তব্য।

২)

স্বাধীনতার ৪০ বছর পূর্তিতে 'কী পেলাম'।

এই ধোঁয়াশা সৃষ্টিও ওই বিষেরই অংশ। ভাবখানা এমন যে, এখন যতো সমস্যা বাংলাদেশে, তার মূলেই ওই দেশ স্বাধীন হওয়া!

৩) সামরিক শাসনের প্রসঙ্গ মিডিয়ায় খুব কমই আসে। রাজনীতিবিদদের চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করা হয়। কিন্তু সবচেয়ে বড়ো কালপ্রিটগুলো ধরাছোঁয়ার বাইরেই থাকে।

উদ্ধৃতি ও ঘটনাগুলোর সাথে লিংক দেয়া থাকলে ভালো হতো।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

উত্তম জাঝা!

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

তারেক অণু এর ছবি

চলুক উত্তম জাঝা!
আরো ভেজাল আছে, আস্তে আস্তে সব জানা যাবে আশা রাখি।

তারাপ কোয়াস এর ছবি

চমৎকার বিশ্লেষণ।


আমার বিলুপ্ত হৃদয়, আমার মৃত চোখ, আমার বিলীন স্বপ্ন আকাঙ্ক্ষা

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

চলুক

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই
রিন ফেসবুক

নবীন পান্থ এর ছবি

চমৎকার বিশ্লেষন দাদা।
চলুক

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

পুনশ্চঃ ঙ-ক্যাটেগরির মমিনদের বিষয়ে আরেকটু খোলাসা করে বিশ্লেষণ করা দরকার। 'অবসরপ্রাপ্ত' আর 'সাবেক' স্যারদের উপরও বিশ্লেষণ দরকার। স্যারেরা আবার উনাদের খুব পেয়ারের লোক। স্যারদের লেখা ছাড়া আবার উপসম্পাদকীয় পাতা বা বিশেষ সংখ্যা/ক্রোড়পত্র বের করা যায় না কিনা।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

আলুতে 'নিয়মিত' কলাম লেখে ৪ ধরণের লোক
১. আলুর গৃহপালিত, বেতনভূক (সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি)
২. মৌসুমী ভাড়াখাটা (সংখ্যায় দ্বিতীয়)
৩. পুরাতন 'এলিট' বুদ্ধিজীবী (আউট অফ কারেন্সি, এককালে দাম ছিল, এখন আর নাই, ৩-৪ জন পাওয়া যাবে)
৪. আলুর মূল প্রকল্প সম্পর্কে অবগত না এমন বিভ্রান্ত সুশীল, অত খারাপ লোক না (২ বা ৩ জন হতে পারে)

অব আর সাবেক, ক্যাটাগরি ২ তে পড়ে


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

অর্জুন মান্না এর ছবি

মুজা'র 'যুব শক্তি' আর মাহী'র 'ব্লু ব্যান্ড কল' দুটোর মধ্যে কোথায় যেন একটা যোগাযোগ টের পাওয়া যায়!

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

আলবত। গোড়া তো একখানেই।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

ঞলিবারেল য়্যুবাশক্তির মিয়া আপ্নে কি বুঝবেন? খাইছে

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

য়্যুবা বলাতে মনে হইল। ইন্ডিয়াতে মাঝখানে একগাদা সিনামা হইছে, এই ইউটোপিয়া নিয়া।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

ইফতি এর ছবি

লেখা ভালো হয়েছে, বাজপাখির চোখে দেখেছেন অনেক কিছুই। প্রথম আলকে ইদানিং মনে হয় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অবসর না নেয়া কোন এক উপদেষ্টা, ওই সরকারের বর্ধিত অংশ।

কল্যাণF এর ছবি

গুরু গুরু

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA