ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ব্লগ

সৃজনশীলেরা

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি
লিখেছেন ষষ্ঠ পাণ্ডব (তারিখ: রবি, ০৮/০৪/২০১২ - ৫:২৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

যে আমলে আমি আর দিশা দিনমান বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের যত্রতত্র বসে বাদাম আর ঘাস চিবোতাম সে আমলে আমাদের বসার একটা প্রিয় জায়গা ছিল পাবলিক লাইব্রেরীর অডিটোরিয়ামে ঢোকার সিঁড়িটা। জায়গাটাতে একটু সকাল সকাল যেতে হতো নয়তো আমাদের মতো ঘাসচিবোনো অন্য কোন যুগল জায়গাটা দখল করে ফেলতো। ওখানে আরাম করে বসা যেতো, তাছাড়া দিনমান ছায়াও থাকতো। ওই জায়গাটার পাশেই অডিটোরিয়ামে ঢোকার মুখের চত্বরটাতে কয়েকজন মানুষ বসবাস করতো। তাদের একজন কবি, একজন গায়ক, একজন বাদক, একজন চিত্রকর।


গল্প প্রচেষ্টা-১৮

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি
লিখেছেন ষষ্ঠ পাণ্ডব (তারিখ: সোম, ০৫/০৩/২০১২ - ৪:১৮অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আগন্তুক

হামিদ কবে, কোথা থেকে এই গ্রামে এসেছিল সেটা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারবে না। বৈশাখ মাসের শুরুতে বোরো ধান কাটার সময় হয়ে এলে দক্ষিণের চরাঞ্চল থেকে ধানকাটা শ্রমিকের দল বা কামলারা এসে যখন সম্ভাব্য নিয়োগকর্তার আশায় পাইন্যার হাটে ঢোকার মুখের খোলা জায়গাটাতে এসে জড়ো হয়েছিল, তখন হামিদকেও তাদের দলে দেখা গিয়েছিল। ছোট ছোট দলে আসা কামলাদের সবাই হামিদকে তাদের নিজের দলের বাইরে অন্য কোন দলের লোক ভেবেছিল। কিন্তু পরে দেখা গেলো সে কোন দলেরই না, এমনকি সে বোধহয় চরাঞ্চল থেকে আসা মানুষও না।


খাবনামা

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি
লিখেছেন ষষ্ঠ পাণ্ডব (তারিখ: রবি, ২৬/০২/২০১২ - ৫:৫২অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

পুরনো বই-খাতা, খবরের কাগজ আর ম্যাগাজিনের বিনিময়ে আপা কড়কড়ে দশ টাকার নোটের সাথে বাড়তি যেটুকু কটকটি পেয়েছিলো আমাদের বাকি তিন ভাই-বোনের চোখ ছিল সেদিকে। কিন্তু আপার চোখ ছিল কটকটিওয়ালার টুকরির পুরনো অন্য বইগুলোর দিকে। সেখানে হাত বাড়িয়ে আপা একটা মলাট ছেঁড়া বই তুলে নিল, নাম - মোহাম্মদী খাবনামা। বইটা কিসের তাই বুঝতে পারলাম না। আপা বইটা নিতে আগ্রহী কিন্তু তার জন্য টাকা দিতে আগ্রহী না। কটকটিওয়ালা টাকা না দিলে কটকটি দেবে না, তাতে আমাদের তিন জনের আপত্তি আছে। আপার জেদের কাছে আমাদের আপত্তি পাত্তা পায় না। অতএব লোভনীয় কটকটির বদলে আমরা মোহাম্মদী খাবনামার মালিক হলাম। বইটা খুলে দেখা গেলো সেখানে ফালনামা আর হরকতে বদন নামের দুটো বড় অধ্যায় আছে। এগুলো কোনটারই মাথামুন্ডু বুঝলাম না। যে জিনিস বুঝিই না তার জন্য কটকটি হাতছাড়া করার কী মানে! আপা বুঝিয়ে দিলো স্বপ্নে আমরা যা দেখি তার অর্থ জানা যায় খাবনামা থেকে। হরকতে বদন মানে হচ্ছে গায়ের কোথায় তিল থাকলে কী হয়, শরীরের কোন অংশ আপনা থেকে কেঁপে উঠলে কী হয়, কারো আকৃতি আর চেহারা দেখে বুঝতে পারা সে কেমন লোক ইত্যাদি। ফালনামার অর্থ আপাও ঠিক বুঝতে পারেনি।


ইতিহাস পুনর্পাঠ (১৩)

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি
লিখেছেন ষষ্ঠ পাণ্ডব (তারিখ: শনি, ২৪/১২/২০১১ - ৫:২৪অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

১৩.

ভারতের ইতিহাসে মুঘল আমলকে সাধারণত নিরবচ্ছিন্নভাবে ১৫২৬ খ্রীষ্টাব্দ থেকে ১৭৬৪ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত দেখানো হলেও বাস্তবে সেটা নিরবচ্ছিন্ন ছিল না। ১৫৪০ খ্রীষ্টাব্দে শের শাহ্‌ সূরীর কাছে হুমায়ুনের পরাজয়ের পর থেকে ভারতের উত্তর আর পূর্বে আফগানদের শাসন বিস্তৃত ও সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। শের শাহ সূরীর প্রতিষ্ঠিত সূরী রাজবংশ স্পষ্টতই ১৫৪৫ খ্রীষ্টাব্দ থেকে ১৫৫৪ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা শাসন করেছে। ১৫৫৫ খ্রীষ্টাব্দে হুমায়ুন সূরীদের কাছ থেকে সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধার করলেও ১৫৫৬ খ্রীষ্টাব্দে দ্বিতীয় পানিপথের যুদ্ধে আকবর ও বৈরাম খাঁর কাছে আদিল শাহ্‌ সূরী ও সম্রাট হেমচন্দ্র বিক্রমাদিত্যের পরাজয়ের আগ পর্যন্ত দিল্লী মুঘলদের কব্জার বাইরে ছিল। এমনকি আকবরের শাসনামলের শুরুর দিকেও পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা মুঘলদের কব্জার বাইরে ছিল। পূর্ব ভারতের অনেক শাসক মুঘলদের কাছ থেকে নামে মাত্র দেওয়ানী নিয়ে বস্তুত স্বাধীনভাবে রাজ্য শাসন করেছেন। তাদের কেউ কেউ এমনকি মুঘল আধিপত্যের বিরুদ্ধে রুখেও দাঁড়িয়েছেন; এবং গোটা দক্ষিণ ভারতের খুব কম অংশ কখনো মুঘলদের সরাসরি আওতাধীন ছিল।


গল্প প্রচেষ্টা-১৭

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি
লিখেছেন ষষ্ঠ পাণ্ডব (তারিখ: শুক্র, ০৯/১২/২০১১ - ৫:০৮অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

প্রতিরোধ সরণি

মাঝে মাঝে এমন একটা দিন আসে যেদিন কোন কিছুই ঠিকভাবে যায় না। নবী হোসেন সকালেই সন্দেহ করেছিল যে দিনটা সুবিধার যাবে না। মাথার কাছে রাখা মোবাইলে ঠিক সময়ে অ্যালার্ম বাজা সত্ত্বেও ঘুমকে তাড়ানো যায়নি, তাই দেরি করে ওঠার মাশুল হিসেবে দিনটা শুরু হয় দৌড়াদৌড়ি দিয়ে। জোরে অ্যালার্ম বাজে এমন একটা দেয়ালঘড়ি কিনেছিল একবার। কিন্তু এখনকার দেয়ালঘড়িগুলো তো আর আগের আমলের গ্রান্ডফাদার ক্লকের মতো কিছু না যে কয়েক পুরুষ ধরে চলবে। এগুলো দু’দিন চলতে না চলতে ব্যাটারী পাল্টাতে হয়, সাত দিনের মাথায় স্লো বা ফার্স্ট হয়ে চলতে থাকে, এক মাসের মাথায় মিনিট আর ঘন্টার কাঁটা একসাথে চলতে থাকে - তখন ফেলে দেয়া ছাড়া উপায় থাকেনা।


গল্প প্রচেষ্টা-১৬

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি
লিখেছেন ষষ্ঠ পাণ্ডব (তারিখ: শনি, ১২/১১/২০১১ - ৪:০১অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

গাওয়াল

ঢাকা’র উত্তর দিক থেকে দক্ষিণে আগত বাসগুলো গুলিস্তানের যে জায়গাটাতে আসলে হেলপার “অই গুলিস্তান, হলের সামনে” বলে হাঁক দেয় সেখানে ঠিক পাতাল সড়কে ঢোকার মুখটাতে বশির টুকরী নিয়ে বসে। সে কুলী বা মিন্‌তি নয়, তাই তার টুকরী খালি থাকে না - ফলে ভরা থাকে, মূলত দেশী ফল। তাই বলে সে কলা, ডাব, পেঁপের মত বারোমাস্যা ফল বেচে না। বশির একটু আলাদা রকমের ফল বেচে।


ইতিহাস পুনর্পাঠ (১১ - ১২)

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি
লিখেছেন ষষ্ঠ পাণ্ডব (তারিখ: শুক্র, ০৪/১১/২০১১ - ১১:০৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

[justify]১১.
আমাদের ইতিহাসের বই বলে, পাল রাজ বংশ ৭৫০ খ্রীষ্টাব্দ (গোপাল) থেকে ১১৬১ খ্রীষ্টাব্দ (মদনপাল) পর্যন্ত চারশ’ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলা শাসন করেছে। আবার একই বই বলছে, সেন রাজ বংশ ১০৭০ খ্রীষ্টাব্দ (হেমন্তসেন) থেকে ১২৩০ খ্রীষ্টাব্দ (কেশবসেন) পর্যন্ত বাংলা শাসন করেছে। তার মানে, পাল রাজত্বের শেষ ৯২ বছরে তাদের সাথে সেন রাজাদের রাজত্বও বাংলায় ছিলো। একটু গোলমাল হয়ে গেলো না? আসুন, আরেকটু গোলমাল বাঁধানো যাক।


ইতিহাস পুনর্পাঠ (৯ - ১০)

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি
লিখেছেন ষষ্ঠ পাণ্ডব (তারিখ: বিষ্যুদ, ২৭/১০/২০১১ - ৫:৩৯অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

[justify]৯.


গল্প প্রচেষ্টা-১৫

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি
লিখেছেন ষষ্ঠ পাণ্ডব (তারিখ: সোম, ০৩/১০/২০১১ - ৫:৩৩অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ভেসে যায় আদরের নৌকো


গল্প প্রচেষ্টা-১৪

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি
লিখেছেন ষষ্ঠ পাণ্ডব (তারিখ: রবি, ২৫/০৯/২০১১ - ৪:২৯অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

মুরুগাপ্পা স্ট্রিট

(ক)