কি হবে আমার সন্তানদের? তারা কি বেঁচে ফিরবে?

কেমিকেল আলী এর ছবি
লিখেছেন কেমিকেল আলী (তারিখ: বিষ্যুদ, ০৩/০১/২০০৮ - ৯:১১পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

এই লেখাটি ডঃ আফরোজ আকমামের লেখা, তিনি কাগজে লিখে স্ক্যান করে আমাকে ইমেইলে পাঠিয়েছেন। তাঁর অনুমতি স্বাপেক্ষ সচলায়তনে প্রকাশিত।

কি হবে আমার সন্তানদের? তারা কি বেঁচে ফিরবে?
-------------------------------------------------------
autoবাংলাদেশের বিভিন্ন জাদুঘর থেকে ফ্রান্সের গিমে মিউজিয়ামে প্রদর্শনীর জন্য ১৮৯ টি অনন্য সাধারন প্রত্ননিদর্শন (প্রায় সবগুলোই) (Master Piece) পাঠানো হচ্ছে। সংবাদপত্রে পক্ষে বিপক্ষে নানা রকম সংবাদ আসছে আমরা পড়ছি। আমারও কিছু লেখা উচিৎ ভাবছি। আমার বন্ধু বান্ধব যারা আমার পরিচয় জানে তারাও আমাকে বলছে তুমি কিছু লিখ- যাতে সত্য উদঘাটিত হয়। কিন্তু ২৭ ডিসেম্বর, ২০০৭ কেন যে আয়ুব কাদরীর পদত্যাগ আমার পদত্যাগের সাথে কাকতালীয়ভাবে মিলে গেল।

autoআমার ঘটনাটা ঘটল ফ্রান্সে প্রত্মনিদর্শন পাঠানোর চুক্তির শুরুতে- আর জনাব আয়ুব কাদরীর টা ঘটল শেষ মূহুর্তে। উনি ও আমি পদত্যাগের কারন ব্যক্তিগত বলেছি কিন্তু আসল কারন ফ্রান্সে প্রত্ননিদর্শন পাঠানো।
কথাটা শুনে পাঠকের হাসি পাচ্ছে? তাই না? কোথায় সংস্কৃতি উপদেষ্টা আর কোথায় জাতীয় যাদুঘরের একজন উপ-কীপার। হ্যাঁ, শুনুন তাহলে কাহিনী বলি।

ইত্তেফাক ২৭ ডিসেম্বর, ২০০৭, "নিরাপত্তা শিথিল ছিল কেন- ওরা কোথায় ছিল ১১ ঘন্টা" শিরোনামের খবরে বিভিন্ন জায়গায় বলা হয়েছে পুরাকৃর্তি ভর্তি ১৩ বাক্সে নিরাপত্তার অভাব ছিল, দায়িত্ব পালনে অবহেলা ইত্যাদি।
৪৭ টি পুরাকৃর্তির প্রথম চালানটিতে ছিল কঠোর নিরাপত্তা, নিছিদ্র নিরাপত্তা দিয়ে প্রথম চালানটি এয়ার ফ্রান্সের কার্গো বিমানে উঠানো হয়।
কিন্তু ঈদের দিন মাত্র ১৩ জন পুলিশ দিয়ে নিরিবিলি পরিবেশে ১৪৫ টি পুরাকৃর্তির ২য় চালানটি জাতীয় যাদুঘর থেকে কার্গো কমপ্লেক্সে আনা হয় এবং রাত ২ টায় তাদের বিদায়ও দেওয়া হয়। র‌্যাবের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেছেন ২য় পুরাকৃর্তির বৃহৎ চালানটির নিরাপত্তার জন্য তাদের বলা হয়নি। শনিবার বেলা ১ টায় পুরাকৃর্তি চুরির ঘটনা ধরা পরলে জাতীয় জাদুঘর প্রথমে বিষয়টা গুরুত্ব দেয়নি। চুরির ঘটনা ফাঁস হবার ১২ ঘন্টা পর শনিবার গভীর রাতে জাতীয় জাদুঘর জিডি করেন।

ঐ খবরে আরও পাওয়া যাচ্ছে দেশের জনগণকে সত্য নির্ভর খবর দেওয়ার যখন সাংবাদিকরা জাতীয় জাদুঘরে ছুটে আসেন জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক সমর পালের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে। তখন তিনি নিজ কক্ষে শান্তিতে বসে থেকে বিভিন্ন কথা বলে সাংবাদিকদের বিভ্রান্ত করেন , কখনও মিটিং এ আছেন, কখনও গ্যালারীতে আছেন বলে। কক্ষে বসে ঝিমানো-ই তাঁর স্বভাব। এদিকে মহাপরিচালক কে চালনাকারী উর্দ্ধতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর যিনি স্ব-শক্তিতে মহাপরিচালকের মাথায় হাত বুলিয়ে কীপারের দায়িত্বে নিয়ে বসে আছেন। তাকে পেয়ে সাংবাদিকরা ছুটে যান। " এবিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকদর দেখিয়ে নিরাপত্তা কর্মিদের বলে এদেরকে আটকান, ভিতরে ঢুকতে দিবেন না"।

মজার কথা ২৭ ডিসেম্বর মহাপরিচালক বলেই ফেলেন ইত্তেফাক কে " আমি একটা যন্ত্রের মত, খুব কষ্টে আছি। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ আমাকে নির্দেশ দিয়েছে, আমি তা পালন করছি মাত্র"। উনি শুধু পালনই করেন, উনি মহাপরিচালিত। প্রথম আলোতে এবিএম মূসা লিখেছেন " এক লট গেল কাক ডাকা ভোরে- আর এক লট গেল ঈদের দিন গোপনে মাত্র কয়েকজন নিরাপত্তা প্রহরী দিয়ে।

এখন বলি এই প্রদর্শনী নিয়ে জাতীয় যাদুঘরে প্রথম থেকেই একটা লুকোচুরি ভাব লক্ষ্য করা যায়। দুই তিনজনের মধ্যেই তারা বিষয়টা রাখতে চায় এইজন্য তারা অন্যের বড় ক্ষতি করতেও পিছপা হয়নি। কারন কিছুই না, কারন ব্যক্তিগত। জাতিতত্ত্ব অলংকরন শিল্পকলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও কীপার ডঃ জিনাত মাহরুখ আমাকে কয়েক দফা বলেছেন তাদের বিভাগেরও বেশ কিছু নিদর্শন যাচ্ছে। কিন্তু তাকে কোন সভায় বা কোন আলোচনায় ডাকা হচ্ছে না। কারন যত বেশী লোক যুক্ত হবে বিদেশ যাবার চান্স তত বেশী কমে যেতে পারে। দিন ভিত্তিতে তাদের কাছে ইউরো পাওয়াটাই মুখ্য হয়েছে - এধরনের ইঙ্গিত মূসা সাহেব ডিসেম্বরের ১ম সপ্তাহে প্রথম আলোতে একটি লেখাতেও দিয়েছিলেন।

এখন আমার কথাটা শেষ করে ফেলি। জাদুঘরে মূর্তি নিয়ে আমিই কাজ করতাম। ফ্রান্সের প্রদর্শনীতে নির্বাচিত বেশ কিছু নিদর্শন নিয়ে আমার পুস্তক "মহাস্থান" ২০০৬ সালে জাদুঘর থেকেই প্রকাশিত হয়। কাজেই ফ্রান্সের প্রদর্শনীতে আমার যাওয়াটাই বেশি যুক্তিযুক্ত ছিল। বিদেশে চিকিৎসা শেষ করে জাদুঘরে ফিরলে মূর্তি বিষয়ক কাজ বা প্রদর্শনীর কোন কাজ করতে দেওয়া হয়নি আমাকে। প্রযত্ন বোর্ডে পদোন্নতি আমাকে দেওয়া হয়নি, বরঞ্চ নানা অজুহাতে আমার উপর তদন্ত চাপিয়ে দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে।

কাজেই বুঝলাম, ফরাসী মুলো যতদিন ঝুলবে জাহাঙ্গীর, করিম সাহেবরা আমাকে এভাবেই হয়রানি করবে। কাজেই পদোন্নতির আশা ছেরে দিয়ে ২৭ বছরের কীপারের পদ থেকে সংস্কৃতি উপদেষ্টার মত ব্যক্তিগত কারন দেখিয়ে পদত্যাগ করেছি বলে চলে আসলাম। কিন্তু তাও যদি সব ভাল হত দুঃখ থাকত না। আমি ডঃ করিম কে এক পর্যায়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম " এত কম বীমা মূল্য ধরেছেন কেন? বীমামূল্য প্রদর্শনের জন্য ডঃ করিম নিজ বিবেচনাই ধরেছন। এজন্য তিনি কোন Standard Catalogue অনুসরণ করেনি। উত্তরে তিনি আমাকে জানান ফরাসী প্রতিনিধি আমাকে অনুরোধ করে বলেছে " নিদর্শন তো আমরা Carefully handle করব, হারাবার তো কোন ভয় নেই, একটু বীমা কম ধরেন আমরা যাতে নিদর্শনগুলো নিতে পারি। বীমামূল্য যত বেশী হবে প্রিমিয়াম হিসাবে ইনস্যুরেন্স কোম্পানীকে তত বেশি টাকা দিতে হবে"। প্রদর্শনী হতেই হবে কাজেই বীমা মূল্য কমিয়ে দিলেন করিম সাহেব। যাই হোক তাঁর আশা পূরণ হয়েছে। প্রদর্শনী হোক বা না হোক মোনালিসার দেশে তিনি তো পা রাখতে পেরেছেন।

ডঃ করিমের মূর্তি বিষয়ে কোন জ্ঞান নেই, তিনি ইসলামের ইতিহাস চর্চা করেন। তিনি বোঝেন মুদ্রা, অথচ প্রদর্শনীতে কোন মুদ্রা যাওয়ার কথা না।
কিন্তু তাকেই পাঠানো হল প্রদর্শনীর প্রতিনিধি হিসাবে। অথচ এসব কিছু পাঠানোর সমন্বয়কারী হিসাবে তাকে ঢাকা থাকাই জরুরী ছিল।

প্রসঙ্গত আরও কিছু প্রশ্ন এসে যাচ্ছে। তাঁর একক হেফাজতেই রয়েছে ১ লক্ষ স্বর্ণ ও রৌপ্যসহ অন্যান্য মুদ্রা। তিনি কাউকে বুঝিয়ে দিয়ে যাননি এইসব মুদ্রাগুলো। প্রকাশ্যে গেল মূর্তিগুলো আর মুদ্রাগুলো কি নেপথ্যে পারি জমাল প্রাশ্চাত্যে? কে তার হিসাব নেবে?

এখন আসল কথায় আসি, আমার বুক কাঁপছে। এই দুটি মূর্তি আমার সন্তান। একটিকে (বিষ্ণু, পোড়ামাটি, ৬৯,১২৩, কীচক, ৬ষ্ঠ-৭ম শতাব্দী, মহাস্থান-২০০৬, পৃষ্ঠা ১৮৪-৮৫) ১৯৮৩ সালের নভেম্বর মাসে পুরাতন জাদুঘর থেকে একপ্রকার কোলে করে এনে জাতীয় জাদুঘরের ১৬ নং গ্যালারীতে স্থাপন করি। এবং ২০ বছরের অধিক সময় ধরে লালন পালন করেছি। অপরটি (বিষ্ণু দন্ডায়মান, পোড়ামাটি, ৮৪, ২৩৮৫, ৬ষ্ঠ-৭ম শতাব্দী, মহাস্থান-২০০৬, পৃষ্ঠ ১৮৬-৮৭) মহাস্থানের রজাকপুর নামক এক নিভৃত গ্রাম থেকে ১৯৯৪ সালে ৪-৫ খন্ড খন্ডিত অবস্থায় নিয়ে আসি তা অত্যন্ত যত্নে তুলে দেই রসায়ানগারের সহকর্মীদের হাতে। তাদের নিপুন কারকার্যে এটি পরিনত হয় একটি অনন্য সুন্দর বিষ্ণু মূর্তিতে। এটি স্থাপন করি জাদুঘরের ১৬ নং গ্যালারীতে । এখানেই ছিল ১৩ বছর।

তবে কি সত্যি-ই ১৩ অশুভ? জাদুঘর কর্তৃপক্ষ ১৩ টি বাক্সে ১৩ জন পুলিশ প্রহরা দিয়ে নিশ্চিত সর্বনাশে মধ্যে ঠেলে দিল। মূসা সাহেব ২৭ ডিসেম্বর একটু আশ্বস্থ হয়ে লিখে ছিলেন যাই হোক মূর্তিগুলোকে আর বিদেশে পাচার হতে হল না। আমি বলি গিমে গেলে ফরাসী উড়োজাহাজে চড়ে শীতাতাপ নিয়ন্ত্রীত কক্ষে থাকতে পারত।

কিন্তু হায় ! প্রত্নচোরেরা পাথররূপি চেহারায় বিভ্রান্ত হয়ে তাদের বেদম প্রহার করল। এমনি প্রথম জনের বক্ষে ও কপালে ছিল অসংখ্য কোদালের কোপ, কাজেই জায়গাগুলো বড় নাজুক ছিল। আর ২য়টি ৫ খন্ডে আঠা দিয়ে জোড়া লাগানো হয়েছিল। সে তো একপ্রকার পঙ্গু - তাও তাকে ফ্রান্সে যেতে হচ্ছিল সরকারী আদেশে। কিন্তু শেষে তাকে আসতে হল বর্জ্যের ট্রাকে চেপে সাভারের ডাম্পিং ষ্টেশনে (২৯ ডিসেম্বর ইত্তেফাক, দুটি মূর্তির ২৭ খন্ড উদ্ধার)।

এরা তো দৃষ্টির আড়ালে চলেই গিয়েছিল, ছিল মাটির তলায়, এক প্রকার কবরে। আমরাই তাদের তুলে আনলাম জাতিকে দেখানোর জন্য, দেখ আমাদের ঐতিহ্য, দেখ আমাদের সভ্যতা। কিন্তু কি করলাম আমরা? দুই সহস্র বছরেরও আগের এক শিল্পীর সুনিপুন কাজকে ভেঙ্গে তছনছ করলাম। এ শিল্পী লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি থেকেও পুরাতন, এইকাজ তো বিশ্বখ্যাত মোনালিসার থেকেও পুরাতন।

মূর্তি দুটি চুরি গেছে শুনেই এই সাত সমুদ্র তের নদী দূরে কানাডাতে বসেই বুক কাঁপছিল। ওরা আমার সন্তান, ওরা বাঁচবে তো? আমি কিভাবে ওদের মঙ্গল কামনা করব? আমি কি অভিভাবক হয়ে তাদের মুক্তি দাবি?

না তার আর দরকার হল না। গোটা দেশবাসি হৈ চৈ করেও তাদের রক্ষা করতে পারল না।

এখন সাত্বনা কি? করিম সাহেবের ফ্রান্স ভ্রমন! জাহাঙ্গীর হোসেনের কর্তৃত্ব! না সমর পাল বাবুর শান্তি হনন!

ডঃ আফরোজ আকমাম
উপ-কীপার (অবসরে)
ইতিহাস ও ধ্রুপদি শিল্পকলা বিভাগ
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর।
ই-মেইলঃ


মন্তব্য

কেমিকেল আলী এর ছবি

এই লেখাটি ডঃ আফরোজ আকমামের লেখা, তিনি কাগজে লিখে স্ক্যান করে আমাকে ইমেইলে পাঠিয়েছেন। তাঁর অনুমতি স্বাপেক্ষ সচলায়তনে প্রকাশিত।

মুহম্মদ জুবায়ের এর ছবি

কেমিকেল আলী, আপনার মন্তব্য হিসেবে যা লিখেছেন তা লেখার শুরুতে দিলে মনে হয় ভালো হয়। না হলে লেখাটি বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে, বিভ্রান্তির সুযোগ থাকছে। আমি নিজেই হোঁচট খেলাম বারকয়েক, পড়তে পড়তে একসময় মনে হচ্ছিলো আপনি নিজেই জাদুঘরের কর্মী হিসেবে লিখছেন!

লেখাটি ভালো, আরো অনেকের পড়ে উচিত।

-----------------------------------------------
ছি ছি এত্তা জঞ্জাল!

কেমিকেল আলী এর ছবি

আপডেট করা হল, জুবায়ের ভাই।
ধন্যবাদ পরামর্শের জন্য।

আরিফ জেবতিক এর ছবি

নো কমেন্ট ।

গৌতম এর ছবি

এ ব্যাপারে জনমানুষের অনুভূতি তো সরকার ছাড়া আর সবাই জানে। নতুন করে আর কী বলবো!

..................................................
ছিদ্র খুঁজে বেড়াই, বন্ধ করার আশায়

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

বড় সেনসিটিভ তথ্য তুলে ধরেছেন। ব্লগ না হয়ে পত্রিকা হলে হইচই পড়ে যেত।

মুর্তিগুলো পাঠানোর পিছনে কারো কারো ব্যক্তিগত স্বার্থ যে ছিল সেটা তো বোঝাই যাচ্ছে। শেষমেশ মুর্তিগুলোও উদ্ধার হল না ঠিকমতো। আপনার কষ্টটা বুঝতে পারছি।

লেখাটা দেবার জন্য আপনাদের দুজনকেই ধন্যবাদ।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

হিমু এর ছবি

ইন্টারেস্টিং।

বিদেশ যাওয়ার জন্য এভাবে এসব অমূল্য সম্পদ নিয়ে মানুষ নয়ছয় করবে?

তানিয়া আমীরের টিভি সাক্ষাৎকারে শুনলাম, যে দু'জন কর্তা গিয়েছিলেন নিদর্শনের সাথে, তাদের খেদিয়ে দিয়েছে গিমে কর্তৃপক্ষ, আর তাদের গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাসে। এদের কী অবস্থা এখন, জানেন কেউ?


হাঁটুপানির জলদস্যু

লুৎফুল আরেফীন এর ছবি

মনে হয় বিষয়টা এমন যে, আমরা সম্পদগুলোর প্রকৃত মূল্য বুঝতে অপারগ। আমাদের মতোন অসভ্যদের জন্য এই জিনিস না। আমি বিশ্বাস করি যে, ঐ মূর্তিগুলোর চে, অনেকের কাছেই ঢাকা-ফ্রান্স কিংবা, ঢাকা-স্পেন এয়ার টিকেট অনেক বেশী প্রিয়।

অভাগা আমরা! "সাত কোটি .... রেখেছো বাঙালী করে, মানুষ করো নি!"

রেজওয়ান এর ছবি

ফ্রান্স সরকার বাংলাদেশ সরকারকে বিভিন্ন প্রকার কুটনৈতিক চাপ দিয়ে এসেছেন এই পুরো সময়ে। আজ ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদুত তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মিটিং থেকে ফেরার সময় ব্রেন হেমারেজের শিকার হন এবং মারা যান। এই চৌকশ কুটনীতিকের বয়স হয়েছিল মাত্র ৪৭ বছর। তিনি গত কয়েকদিন বেশ চাপের মধ্যে থেকেই কাজ করছিলেন।

ফ্রান্সের তো গিয়েছে কয়েক লাখ ইউরো যার জন্যে তাদের শোক ও হম্বিতম্বির কমতি নেই। দায়ত্ব এখন পুরোপুরি তারা বাংলাদেশকেই দিতে চাচ্ছে।

আমাদের যে অমুল্য জিনিষগুলো একে একে হারিয়ে যাচ্ছে তার খবর কে রাখে?

পৃথিবী কথা বলছে আপনি কি শুনছেন?

তীরন্দাজ এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ আলী।

**********************************
যাহা বলিব সত্য বলিব

**********************************
যাহা বলিব, সত্য বলিব

সংসারে এক সন্ন্যাসী এর ছবি

"ডালমে কুছ কালা হ্যায়" না। মনে হচ্ছে, পুরো ডালেই ভেজাল।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
টাকা দিয়ে যা কেনা যায় না, তার পেছনেই সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয় কেনু, কেনু, কেনু? চিন্তিত

থার্ড আই এর ছবি

শুনেছি ফ্রান্স রেপ্লিকা তৈরীতে খুব ওস্তাদ , গিমে মিউজিয়ামের জন্যই আজ আমাদের অমূল্য প্রত্ন শিল্পের এই দশা ! তাদের কাছে উদ্ধারকৃত ভগ্নাংশ পাঠানো হোক। তারা ছবি দেখে এই মূর্তি দুটোর রেপ্লিকা বানিয়ে দেবে। আর সেই রেপ্লিকার ইতিহাস আর কূকীর্তি লিখা থাকবে মূর্তির পাদদেশে। যেন ভবিষ্যতে এধরনের সিদ্ধান্ত নিতে গেলে অতীতের কথা মনে পড়ে।
---------------------------
স্বপ্নকে ছুঁতে চাই সৃষ্টির উল্লাসে

-------------------------------
স্বপ্নকে ছুঁতে চাই সৃষ্টির উল্লাসে

অতিথি লেখক এর ছবি

সবচেয়ে খারাপ তখন লাগে যখন সবাই সভ্য বলতে ওদের দিকে আংগুল তোলে। চোরের মা বাপ ভাই বোন শালারা সব চোর।

মন খারাপ হয়ে গেল ভাই। আর কতদিন আমরা বৃহত্তর স্বার্থের চেয়ে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থকে সামনে নিয়ে দেশকে পংগু করে দিতে থাকবো?

---- মনজুর এলাহী ----

শুভ [অতিথি] এর ছবি

অনেক দিন পরে আবারো পরলাম। পুরো ঘটনাটা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের একটি তদন্ত হয়েছে। কোন পত্রিকার সাংবাদিক এই তদন্ত প্রতিবেদন দেখতে চায়নি। আপনারাও কেউ চাননি। সংসদীয় কমিটিও চায়নি। কারন একটি বিশেষ এজেন্সী ওই মুর্তিগুলো চুরি করেছে। ভেঙ্গেছে। ডঃ আফরোজ আকমামও ওই প্রতিবেদন দেখতে চাননি বোধকরি।

এতো কিছু হলো তার মুল কারন কি? কেউ জানে না। আপনারা কায়েকটি টাকার কথাই বলছেন কেবল। বলছেন, তানিয়া আমীরের টিভি সাক্ষাৎকারের কথা। কিন্তু এটা কি জানেন, তানিয়া আমীর যখন আন্দোলন করতে ফ্রান্সে গেলেন, তখন সেখানে থাকা বাংলাদেশীরা তাকে দেশে ফিরে যেতে অনুরোধ করেছিলেন (আমি যতটা সহজ করে বললাম, ততটা সহজে তারা বলেনি, একটু রুঢ় ভাষা তারা ব্যবহার করেছিলেন।)

যাই হোন, বুকে বল নিয়ে একটা বার ওই তদন্ত প্রতিবেদনটির জন্য আন্দোলন শুরু করেন। দেখেন আসলে কি হয়েছিলো।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA