প্রাইভেট টিউশনি কি আদৌ বন্ধ হবে?

গৌতম এর ছবি
লিখেছেন গৌতম (তারিখ: সোম, ২৯/০৩/২০১০ - ১১:০৩পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

কথাটায় একটু ঝুঁকি আছে; তারপরও সেই ঝুঁকিটুকু নিয়ে বলা যায়- ব্রিটিশদের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা শুরুর আগে ভারতীয় উপমহাদেশে যে ধরনের শিক্ষাপদ্ধতি চালু ছিলো, তা ছিলো পুরোপুরি ব্যক্তিকেন্দ্রিক- যার সাথে আজকের প্রাইভেট টিউশনির এক ধরনের সাযুজ্যতা রয়েছে।

ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীন শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রধানত দু’ভাগে ভাগ করা যায়- একভাগে পিতা বা পিতামহের কাছ থেকে বংশানুক্রমিকভাবে শিখে আসা পেশাগত জ্ঞান এবং আরেকভাগে গুরুর কাছ থেকে গ্রহণ করা নৈতিক শিক্ষা। প্রথম ধরনের শিক্ষা ছিলো অনানুষ্ঠানিক- কাজ করতে করতে পূর্বপুরুষদের পেশায় প্রবেশ ও সেটাকে কেন্দ্র করে জীবিকানির্বাহ। দ্বিতীয় ধরনের শিক্ষা তখনকার পরিপ্রেক্ষিতে আনুষ্ঠানিক- গুরুগৃহে নৈতিক শিক্ষা অধ্যয়ন করা, যেখানে দর্শন, ধর্ম, জীবনচর্চা ইত্যাদি ছিলো মুখ্য এবং এই শিক্ষা পেশাগত জীবনে বা বৈষয়িক সমৃদ্ধিতে খুব একটা কাজে আসতো না।

দ্বিতীয় ধরনের শিক্ষাপদ্ধতি থেকে আমরা মূলত যে বিষয়টা জানতে পারি সেটি হচ্ছে, এই শিক্ষাব্যবস্থায় গুরু সর্বেসর্বা। তিনি শিক্ষার্থীদের যা অধ্যয়ন করাতেন, শিক্ষার্থীরা মূলত সে বিষয়েই পারদর্শী হতো। অবশ্য অনেকক্ষেত্রে গুরু শিক্ষার্থীর আগ্রহ ও সক্ষমতা বিচার করেও শিক্ষাপ্রদান করতেন। এ ধরনের শিক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিকতার বালাই ছিলো না, কিন্তু শিক্ষাকার্যক্রম সমাপ্ত হওয়ার পর অনেকক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকতা করা হতো- যার একটি পর্যায়ে সমাবর্তন পদ্ধতির সূচনা ঘটে।

ভারতীয় উপমহাদেশে আলাদাভাবে বিদ্যালয়ের মতো করে কিংবা আলাদা একটি কক্ষে বা গৃহে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিদ্যাশিক্ষার কার্যক্রমের ধারণা শুরু হয় মূলত ব্রিটিশদের হাতে। এর আগে বিভিন্ন জায়গায় নানা ধরনের বিদ্যালয় বা বিশ্ববিদ্যালয় (যেমন- নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়) গড়ে ওঠেছে, কিন্তু সেগুলো আসলে মূল স্রোতের বাইরে। সাধারণভাবে উপমহাদেশের প্রচলিত শিক্ষাপদ্ধতি ছিলো ব্যক্তিনির্ভর, যাকে গৃহশিক্ষকতা পদ্ধতির সবচেয়ে মার্জিত ও কার্যকর পদ্ধতি বলে অভিহিত করা যেতে পারে।

২.
বর্তমান সময়ের প্রাইভেট টিউশনির সাথে শত শত বছর আগের ভারতীয় উপমহাদেশের শিক্ষাপদ্ধতির মিল খোঁজা কেন? কারণ হলো, দুটো পদ্ধতিরই মূল এক- একজন শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষার্থীকে কোনো কিছুর বিনিময়ে শিক্ষাদান করছেন। তবে সবসময়ই যে এই ‘বিনিময়’-এর একটি দৃশ্যমান রূপ থাকতেই হবে তা কিন্তু নয়; এমনকি এই বিনিময় আর্থিক নাও হতে পারে। পুরনো শিক্ষাপদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাকার্যক্রম সম্পন্ন করার পর গুরুদক্ষিণা দিতে হতো- এই গুরুদক্ষিণা অনেক ক্ষেত্রে ছিলো জাগতিক, অনেকক্ষেত্রে অজাগতিক। তাছাড়া জাগতিকতার বাইরে নানা ধরনের অঙ্গীকারও এই গুরুদক্ষিণার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিলো। ফলে শিক্ষা সবসময়ই বিনিময়জাত হলেও এই বিনিময় কখনোই ব্যবসা হয়ে উঠে নি। পুরাকালের ব্যক্তিপর্যায়ের শিক্ষাপ্রদান পদ্ধতির সাথে বতর্মান সময়ের প্রাইভেট টিউশনির মূল পার্থক্যটা গড়ে উঠেছে এখানেই। শিক্ষাপ্রদান বা শিক্ষা ছড়িয়ে দেয়া এখন আর ব্রত নয়, নিজের বিশ্বাস বা দর্শন অন্যের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া নয়- এটা এখন ব্যবসা। কিংবা জীবিকার মূল উপকরণ। কিংবা আর দশটি বস্তুগত সামগ্রীর মতোই- কিছুটা হয়তো অবস্তুগত পণ্য, যেখানে মূল্যমান নির্ধারণের চেয়েও দাম-ই প্রাধান্য পায় বেশি।

৩.
প্রাইভেট টিউশনির ব্যাপারে আজকাল নানা মহল থেকে বেশ ওজর-আপত্তি আসছে। কিন্তু একটু তলিয়ে দেখা গেলে বুঝা যাবে- প্রাইভেট টিউশনি আদতে খারাপ কিছু নয়। প্রাইভেট টিউশনির নামে যে ব্যবসা-প্রক্রিয়া চলছে সেটা খারাপ। যে কোনো কাজেরই একটি পর্যায় থাকে- সেই পর্যায়টি অতিক্রম করে গেলে সেটি যতো ভালো কাজই হোক না কেন, তা খারাপে রূপ নিতে পারে কিংবা মানুষের কাছে খারাপ হিসেবে প্রতিভাত হতে পারে। প্রাইভেট টিউশনির ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। আমরা যদি বাংলাদেশে আশির দশকের শিক্ষার কথা চিন্তা করি, তাহলে দেখা যাবে তখনও প্রাইভেট টিউশনি বেশ জোরালোভাবেই সমাজে বিদ্যমান ছিলো। সে সময়কালে লজিং মাস্টার নামে একটি প্রথা চালু ছিলো, চালু ছিলো প্রতিবেশি কিংবা পাড়ার শিক্ষক কর্তৃক ‘পড়া দেখিয়ে দেয়ার’ একটি স্বল্প-আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। এ সমস্ত কার্যক্রমে বিনিময়ের একটা পদ্ধতি ছিলো ঠিকই, কিন্তু সেটি মুখ্য হয়ে উঠে নি। আজকে প্রাইভেট টিউশনি বন্ধ করা বা এর সমালোচনামূলক যে সমস্ত কথাবার্তা হচ্ছে, তার প্রধান কারণ হচ্ছে দিনে দিনে পড়ালেখার বদলে এই বিনিময়টিই মুখ্য হয়ে উঠছে।

৪.
যারা প্রাইভেট টিউশনি বন্ধের পক্ষে অবস্থান নেন, তাদের একটি সাধারণ যুক্তি হচ্ছে- প্রাইভেট টিউশনি ক্ষতিকর। কোন অর্থে ক্ষতিকর? ক্ষতিকর এই অর্থে প্রাইভেট টিউশনিতে প্রচুর অর্থ খরচ হয়, অতিরিক্ত সময় নষ্ট হয়, প্রাইভেট পড়ার ফলে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের পড়ালেখার প্রতি আগ্রহী হয় না ইত্যাদি ইত্যাদি। যারা প্রাইভেট টিউশনি বন্ধের বিপক্ষে অবস্থান নেন, তাদের যুক্তি হচ্ছে, বিদ্যালয়ে যথাযথভাবে পড়ালেখা হয় না বলেই শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়তে হয়। তাদের মতে, কোনো অভিভাবক যদি শিক্ষার্থীকে আলাদাভাবে পড়াতে চান, তাহলে অন্যেরা এ ব্যাপারে নাক গলানোর কে? যার সামর্থ্য আছে, তিনি তো চেষ্টা করবেনই অন্যদের চেয়ে বেশি ভোগ করার। শিক্ষা যেহেতু মোটামুটি পণ্যের কাতারে দাঁড়িয়ে গেছে এবং শিক্ষার পেছনের খরচকে এ সময়ে বিনিয়োগ, অনেকক্ষেত্রে সমাজের শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ, হিসেবে ধরা হয়- সেখানে যার টাকা আছে তিনি যদি সেই টাকা শিক্ষার পেছনে খরচ করতে চান, তাহলে সমস্যা কোথায়? আপনি যদি ‘ফ্রিডম অব চয়েজ’-এ বিশ্বাস করেন, তাহলে একজন অভিভাবকের অধিকার আছে বিদ্যালয়ের পড়ালেখার বাইরেও শিক্ষার্থীকে আরেকটু ‘বেটার ট্রিটমেন্ট’ দেয়ার। প্রশ্ন ওঠে- তাহলে যাদের টাকা নেই তাদের কী হবে?

সমস্যাটা সেখানেই এবং উত্তরটাও সেখানেই নিহিত। মূল সমস্যা চিহ্নিত না করে প্রাইভেট টিউশনি বন্ধ করার কোনো যৌক্তিকতা নেই, বরং তা আরো নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করবে।

৫.
শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট পড়ে কেন? মোটাদাগে দুটো কারণ এখানে চিহ্নিত করা যায়। প্রথম কারণ হলো- বিদ্যালয়ে বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যতোটুকু পড়ালেখা যেভাবে হওয়ার কথা সেভাবে হয় না, কিন্তু পরীক্ষা পাসের সিস্টেমটা অত্যধিক গুরুত্ব পাওয়ার ফলে শিক্ষার্থীরা বা তাদের অভিভাবকেরা প্রাইভেট পড়ার ওপর জোর দিয়ে থাকে। দ্বিতীয় কারণ হলো- যে সমস্ত অভিভাবক স্বচ্ছল, তারা চান তাদের ছেলেমেয়েরা অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকুক। ফলে এর জন্য প্রয়োজনীয় টাকা খরচ করতে তারা দ্বিধা করেন না। আমার মতে, প্রথম কারণটিই মুখ্য, দ্বিতীয় কারণটি গৌণ। দ্বিতীয় কারণটিকে গৌণ বলার পেছনে যুক্তি হলো, বর্তমান সমাজ বা রাষ্ট্রব্যবস্থাকে পুঁজিবাদী, মুক্তবাজার অর্থনীতি ইত্যাদি যে নামেই চিহ্নিত করা হোক না কেন; এ ধরনের রাষ্ট্র বা সমাজের বিরাজমান বৈষম্য মূল সিস্টেমের পাশাপাশি নানা উপজাতের জন্ম দেয়। প্রাইভেট পড়াটাই যেমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের লেখাপড়ার পাশাপাশি একটি উপজাত-পদ্ধতি হিসেবেই বেড়ে উঠেছে! এটা বন্ধ করতে হলে পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থাকেই বদলে ফেলতে হবে, যা আসলে অন্যদের বা অন্যত্র আলোচনার বিষয়।

সেক্ষেত্রে প্রথম কারণটি নিয়েই আলোচনা করা যাক। আমাদের দেশের যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আছে সেগুলোর জন্য নানা ধরনের কাজ নির্ধারণ করা রয়েছে কেন্দ্রীয়ভাবে রচিত কারিকুলাম বা শিক্ষাক্রম দ্বারা। এই শিক্ষাক্রম অনুসারে, বিদ্যালয়ের একটি বড় কাজ হচ্ছে নির্ধারিত কারিকুলাম বা শিক্ষাক্রমের অন্তর্ভুক্ত পাঠ্যক্রমের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা। এর জন্য নানা ধরনের শিক্ষোপকরণ রয়েছে, রয়েছে অবকাঠামোগত ব্যবস্থা, শিক্ষক, নানা ধরনের শিক্ষাপদ্ধতি ইত্যাদি। এসব কিছু আয়োজনের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে এই নির্দিষ্টকৃত শিক্ষাক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেন সব শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রবাহিত করা যায়। যে বিদ্যালয় অন্যান্য অনেক কাজ বাদ দিয়ে শুধু এটুকু করতে সক্ষম, বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সেটিকেই ভালো বিদ্যালয় হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে এবং সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থী বা অভিভাবককে এই শিক্ষাক্রম সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে অন্য কোনো উপায় নিয়ে ভাবতে হয় না। গোল বাধে তখনই যখন শিক্ষার্থী কিংবা অভিভাবক লক্ষ্য করেন যে, বিদ্যালয় তার দায়িত্ব সুসম্পন্ন করছে না কিন্তু শিক্ষার্থীকে ঠিকই প্রচলিত পদ্ধতিতে কঠোরভাবে মূল্যায়ন করে যাচ্ছে, যে মূল্যায়নের সাথে আবার শিক্ষার্থীর ‘ক্যারিয়ার’ও সম্পৃক্ত। সেক্ষেত্রে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবেই ভীত হন এবং বিদ্যালয়ের বাইরের সাহায্য পাওয়ার আশায় ব্যাকুল হয়ে যান। ফলে প্রাইভেটের প্রতি তাদের দ্রুত নির্ভরশীলতা গড়ে ওঠে। যদি কোনো বিদ্যালয় তার শিক্ষার্থীদের যথাযথভাবে শিক্ষাক্রমের আওতাভুক্ত সমস্ত কাজকর্ম বিদ্যালয়েই সম্পন্ন করে দেয়, তাহলে সেই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বা তার অভিভাবক কি প্রাইভেটের প্রতি আগ্রহী হবেন? উত্তর হলো, না। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেটের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত নেশার মূল কারণ খুঁজতে গেলে প্রথমেই বিদ্যালয়ের দিকে তাকাতে হবে। যদি বিদ্যালয়কে তার দায়িত্ব ঠিকভাবে পালনে বাধ্য করা হয়, তাহলে বাড়তি কোনোরূপ প্রচেষ্টা ছাড়াই প্রাইভেট টিউশনি পদ্ধতি বন্ধ হয়ে যাবে- এতে কোনো সন্দেহ নেই।

৬.
পড়ালেখার মতো কোনো বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত উপাদান বা কার্যপ্রক্রিয়াকে জোর করে বা আইন করে বন্ধ করা যায় না, করা উচিত নয়। সম্প্রতি নানা মহল থেকে প্রাইভেট টিউশনি বন্ধ করার একটি প্রচেষ্টা চালানোর কথা শোনা যায়। হয়তো এ সম্পর্কিত আইনও তৈরি হবে যাতে শিক্ষকরা প্রাইভেট টিউশনি না করতে পারেন। এভাবে কি আদৌ প্রাইভেট টিউশনি বন্ধ করা যাবে? প্রাইভেট টিউশনির মূল কারণগুলো খুঁজে বের না করে এর উপরিকাঠামোর কারণগুলোকে নিয়ে যতোই কার্যক্রম গ্রহণ করা হোক না কেন, নানা ফর্মে প্রাইভেট টিউশনি ঠিকই বহাল থাকবে। শিক্ষকদের যদি প্রাইভেট টিউশনি করতে না দেয়া হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠবে একজন ডাক্তার বা আইনজীবি কিসের ভিত্তিতে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করবেন? যে আইন শিক্ষকদের জন্য তৈরি করা হলো, সেই আইন তো একইভাবে কার্যকর হতে পারে অন্যদের জন্যও। সেটি না করে শুধু শিক্ষকদের একতরফাভাবে তাদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস থেকে সরিয়ে রাখলে তা থেকে আদৌ কি কোনো ভালো ফল পাওয়া যাবে? বোধহয় এ বিষয়ে ভাবার দরকার আছে। পেশাজীবিদের একটি ভাগের জন্য এক নিয়ম, আরেকটি ভাগের জন্য আরেক নিয়ম চালু হলে তা নতুন কিছু অসন্তোষের জন্ম দিতে পারে।

৭.
উপরের অংশগুলো পড়ে মনে হতে পারে, আমি বোধহয় প্রাইভেট টিউশনির পক্ষে। মোটেও না। কিন্তু আইন করে বা জোরজবরদস্তি করে প্রাইভেট টিউশনি পদ্ধতি বন্ধ করারও পক্ষে না। প্রাইভেট টিউশনি পদ্ধতি কেন সমাজে এখনো বিদ্যমান, সেই কারণটুকু বের না করে এবং সে অনুযায়ী কার্যক্রম গ্রহণ না করে অন্য যতো ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হোক না কেন, তা থেকে বিশৃঙ্খলা ছাড়া আর কিছু পাওয়া যাবে না। লেখাপড়ার আনুষ্ঠানিক মাধ্যম হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আর এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেই বাদ দিয়ে পুরো সিস্টেম ব্যস্ত টাকা কামানো ও ব্যবসার ধান্ধায়। যতোদিন পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি দূর না করা হবে, ততোদিন হাজার চেষ্টায়ও প্রাইভেট টিউশনি বন্ধ করা যাবে না।


মন্তব্য

অতিথি লেখক এর ছবি

চমৎকার তথ্যবহুল আলোচনা। ধন্যবাদ।
আইন করে প্রাইভেট টিউশনি বন্ধ করা যাবে না। আসলে সবকিছুর মূলে সিস্টেম। যেমন উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট টিউশনি পড়তে হয়না, আমি নিজে অন্তত কাউকে পড়তে দেখিনি।

সদস্যনামঃ রেজওয়ান২২
ইমেইলঃ

গৌতম এর ছবি

আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

সবজান্তা এর ছবি

কইষ্যা মাইনাস।

ছাত্রদের পেটে লাত্থি মারার ফন্দি। এইসব ফেসিবাদি কথা বলবেন না, সাবধান করে দিচ্ছি দেঁতো হাসি

অফটপিক- এই বিষয়ে কিছু বলার আছে। সন্ধ্যার দিকে একটা মন্তব্য করবো।


অলমিতি বিস্তারেণ

গৌতম এর ছবি

ডরাইসি দেঁতো হাসি

অফটপিক: অপেক্ষায় নাজির। হাসি আপনার সন্ধ্যের মন্তব্যের প্রতি-উত্তর পাবেন আগামীকাল সকালে। হাসি

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

পথেপথিক এর ছবি

বর্ত্তমানে আপনার,আমার,আশেপাশের আধুনিক মানুষের অথবা সারা দেশের মধ্যবিত্ত পরিবারের স্নেহের সন্তানের সংখ্যা কি খুব বেশী? তাহলে মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে প্রাইভেট বাবদ কয়েক হাজার টাকার অভাবে প্রিয় সন্তানটি ভালো নম্বর থেকে বঞ্চিত হোক এটা কি কেউ চাইবে ?
একটা সমস্যা একবার বুঝলে ২য় বার সাধারণত: বিশেষ করে ছোটরা আর আগ্রহী হয়না এটা হয়তো খেয়াল করেছেন । যেমন দেখা নাটক বা সিনেমায় মনোযোগী ছেলেদের পাওয়া যায়না ।
প্রশ্ন হলো কেন প্রতিটা ছেলে ক্লাসে বোঝেনা ? কারণ: ক্লাসে অমনোযোগীতা বা অসুস্থ থাকা, পরে বুঝে নিব মানিসকতা, একই টপিকস্ এর মাঝে অনুপস্থিত থাকা, না বোঝা পড়াটা পরে কনসাল্ট করে (উচ্চতর শ্রেণীর মত) আয়ত্ব না করা, তাছাড়াও প্রাইভেট বাজেট আছে তা জানা ইত্যাদি ।

গৌতম এর ছবি

শেষ প্যারার প্রতিটা কম্পোনেন্ট ধরে আলাদা আলাদা গবেষণা হতে পারে। বাংলাদেশে শিক্ষার জগতে প্রাইভেট টিউশনি নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রটা এখনও উপেক্ষিতই থেকে গেছে!

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

অনুপ্রাস এর ছবি

প্রাইভেট টিউশনি পদ্ধতি কেন সমাজে এখনো বিদ্যমান, সেই কারণটুকু বের না করে এবং সে অনুযায়ী কার্যক্রম গ্রহণ না করে অন্য যতো ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হোক না কেন, তা থেকে বিশৃঙ্খলা ছাড়া আর কিছু পাওয়া যাবে না।
সহমত।
প্রাচীন ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থার সাথে বর্তমান সময়ের প্রাইভেট টিউশনি বা গৃহশিক্ষার মধ্যে যে গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক পার্থক্য আমার কাছে মনে হয়, তা হলো সে সময়ে ছাত্র কে যেতে হত শিক্ষক বা গুরুর কাছে শিক্ষা অর্জনের জন্যে, আর এখন শিক্ষককে আসতে হয় ছাত্রের নিকট শিক্ষা প্রদানের জন্যে।
লেখা ভাল লেগেছে। শিক্ষা নিয়ে আরো লেখার অনুরোধ থাকল।

গৌতম এর ছবি

এখন যে শিক্ষককেই সবসময় শিক্ষার্থীর কাছে আসতে হয়, তা কিন্তু নয়। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীই শিক্ষকের কাছে যায়। তাছাড়া প্রাচীন ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষকও শিক্ষার্থীর কাছে আসতেন- যদিও সেটা সংখ্যায় কম। তাই এটা বোধহয় মৌলিক পার্থক্য হতে পারে না। মৌলিক পার্থক্যটা ঘটেছে আসলে বিনিময় মাধ্যমের ক্ষেত্রে। দুটো সময়ে শিক্ষার বিপরীতে বিনিময় মাধ্যম একেবারই দুইরকমের।

শিক্ষা নিয়ে আরো লেখার চেষ্টা করবো। ধন্যবাদ।

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

প্রাইভেট টিউশন কিন্তু ব্রিটিশদের দেশে আইন করেই বৈধ। পার্থক্য এতটুকু যে এই বিষয়টা এখানে একটা ফ্রেমওয়ার্ক-এর মথ্যে অপারেট করে। ব্যাক্তিগত ভাবে আমার বেশ কিছু টিউটর এ্যাজেন্সির সাথে যোগাযোগ হয়েছিল। তারা বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক খুঁজে একেবারে ঘরে পাঠিয়ে দেয়! (গুগল সার্চ)

গৌতম এর ছবি

ফ্রেমওয়ার্ক থাকলে একটা জবাবদিহিতা থাকে, থাকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার পন্থাও। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াতেও এরকম ফ্রেমওয়ার্ক রয়েছে যেখানে প্রাইভেট টিউটোরিয়াং 'শ্যাডো এডুকেশন সিস্টেম'-এ পরিণত হয় নি।

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

স্পর্শ এর ছবি

সহমত। মূল কারণে হাত না দিয়ে ধুম ধাম আইন করে ভোগান্তিই বাড়বে।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

গৌতম এর ছবি

ধন্যবাদ। মূল কারণ দূর করতে অবশ্য অনেক সময়ের দরকার। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে সাপোর্টিভ কিছু পদক্ষেপ নেয়া দরকার যাতে আস্তে আস্তে প্রাইভেট টিউশনির প্রবণতা কমতে থাকে। শুধু আইন করে এটা বন্ধ করা যাবে না।

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

তিথীডোর এর ছবি

নিজের দেখা ঘটনা বলি,

#উচ্চ মাধ্যমিকে "সাচিবিক বিদ্যা ও অফিস ব্যবস্থাপনা" চতুর্থ বিষয় হিসেবে ছিলো, (এখন এ বিষয়টা আছে কিনা কে জানে, আমি ০৫ সালের কথা বলছি)
ব্যবহারিক অংশের জন্যে প্রাইভেট পড়তে হয়েছে কলেজেরই শিক্ষকের কাছে...
নয়তো টেস্টপরীক্ষায় পুরো মার্কস পাওয়া যেতোনা!

#ছোটবোনটি শহরের নামী সরকারি স্কুলে পড়ছে, রেজাল্টে সেরা তবে টিফিনের পরের পিরিয়ডগুলোতে সপ্তায় দুদিনও ক্লাস হয় কিনা সন্দেহ!
নাম ডাকার পর দায়সারা গোছের ক্লাস নেন ম্যাডাম আর সেই একই বিষয় দারুণ যত্ন করে বুঝিয়ে দেন ট্যুশন ক্লাসে..

#জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী অনেক পরিচিতাকেই দেখি প্রাইভেট পড়ছে স্নাতক পর্যায়েও, কারণ ওই...
স্যার ক্লাসে নেহায়েত লেকচার দিয়ে যান, বোঝানোর চেষ্টা করেন না!
অতএব ছোটো স্যারের বাড়ি...

--------------------------------------------------
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

সোহাগ [অতিথি] এর ছবি

আপনার প্রথম মন্তব্যে সহমত। অনেক স্থানেই এ সংস্কৃতি বিদ্যমান।
টিফিনের পরে ক্লাস হয় না - এ দায়ভার শুধু শিক্ষকের একার নয়। যে আমরা স্কুলে সারা দিন ক্লাসে থাকি উচ্চ মাধ্যমিকে উঠলে আমাদের অনেকেরই ক্লাসের সাথে সম্পর্কহীনতা ঘটে। ছাত্রদের গৃহশিক্ষকমুখী প্রবণতা তাকে শ্রেণীকক্ষে পাঠ নিতে নিরুৎসাহিত করে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্রকে গৃহশিক্ষকের কাছে যেতে হয় সেটা স্নাতক পর্যায়েও। অত্যন্ত সত্যি কথা। তবে আপনাকে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক-ছাত্র অনুপাতের দিকে মনযোগ দিতে অনুরোধ করি।
সবশেষে আপনাকে ধন্যবাদ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে নিয়ে আসার জন্য।

গৌতম এর ছবি

ছাত্রদের গৃহশিক্ষকমুখী প্রবণতা তাকে শ্রেণীকক্ষে পাঠ নিতে নিরুৎসাহিত করে।
আমার অবস্থান ঠিক তার বিপরীত, যে কারণেই এই লেখাটা তৈরি করা।

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

গৌতম এর ছবি

...তার মানে দাড়াচ্ছে একটাই-- বিদ্যালয়-ব্যবস্থাকে ঠিক করা ছাড়া উপায় নেই!

ধন্যবাদ তিথীডোর, অভিজ্ঞতাগুলো শেয়ার করার জন্য।

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

পোস্টের মূল বক্তব্যর সাথে প্রায় একমত। তবে প্রাইভেট টিউশনী ব্যাপারটা না থাকলে আমার জীবনটা যে কী হত তা ভাবতেও পারিনা। মুদ্রার এই পিঠটা নিয়ে প্রায় কেউই কথা বলেননা। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে নিজের শিক্ষকদের থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত নানা জনের কাছ থেকে এই ব্যাপারটার ক্ষতিকর দিক, কেন বন্ধ হওয়া উচিত তা শুনে আসছি। কোন দুঃখে পড়ে যে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া একজন শিক্ষার্থী এই "Intellectual Prostitution"-এর পথ বেছে নেয় তা কত জন ভাবেন, কত জন কিছু করার চেষ্টা করেন? আমার ঐ জীবনের কথা মনে হলে আজকে আমার নিজের জন্যই নিজের কষ্ট হয়। কত বঞ্চনা, কত অপমান, কত নীচতা যে সহ্য করতে হয়েছে। প্রাইভেট টিউশনী বন্ধ হোক, তবে needy শিক্ষার্থীদের বাঁচার একটা সম্মানজনক পথও যেন খোলা থাকে। একইভাবে কলেজের যে সব শিক্ষকেরা এর সাথে জড়িত কলেজ তাঁদেরকে সম্মানজনকভাবে বাঁচার নিশ্চয়তাটি দিতে পারছে কিনা তাও দেখা জরুরী।



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

মামুন হক এর ছবি

প্রাইভেট টিউশনির সাথে সম্পৃক্ত গা ছমছমে কিছু গল্প আমারও বলার আছে পাণ্ডবদা। আপনি আগে শুরু করেন। আপনার বক্তব্যের সাতেও আছি পাঁচেও আছি

গৌতম এর ছবি

মামু ভাই, আপনিও শুরু করতে পারেন। আমরা আপনার লেখায় সাতও দিতে পারি; পাঁচও দিতে পারি। হাসি

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

গৌতম এর ছবি

পাণ্ডবদা, আপনার পয়েন্টটা বুঝতে পারছি এবং এই একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আমাকেও যেতে হয়েছে। শুধু আমি নই, আমার চেনাজানা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকেই কখনও না কখনও টিউশনি করাতে হয়েছে। এটা না হলে অনেকের হয়তো পড়ালেখার পথই বন্ধ হয়ে যেত।

সেটা ঠিক যে, আজকে হুট করে টিউশনি বন্ধ করে দিলে এই শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়বে। কিন্তু যে উপজাত আসলে পড়ালেখার মূল চর্চাটাকেই ব্যাহত করছে, সেখানে
অন্যান্য ও সম্ভাব্য প্রভাবগুলোর কথা মাথায় রেখেই সেই উপজাতটিকে বন্ধ করার একটা ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। পাশাপাশি যে জনগোষ্ঠী এটার ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্যও বিকল্প বের করা উচিত। আইন প্রয়োগ করে সেটা সম্ভব নয় বলেই আমি এক্ষেত্রে আইনের বিপক্ষে।

টিউশনি নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা এবং মতামত আরও শুনতে মঞ্চায়।
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

স্বাধীন এর ছবি

লেখাটি ভাল লেগেছে এবং লেখকের মূল বক্তব্যের সাথে সহমত। মূল কারণটিতে না যেয়ে শুধু আইন করে প্রাইভেট টিউশনি বন্ধ করে দেওয়া অমানবিক হবে। সে ক্ষেত্রে অন্যান্য পেশার ক্ষেত্রেও একই আইন প্রযোজ্য হতে হবে। তবে আমাদের দেশের সমস্যা হল সব কিছু বাঁধাহীন ভাবে চলে। পাশ্চাত্যে প্রাইভেট প্র্যাক্টিস আছে কিন্তু সব কিছুই নিয়ন্ত্রিত। একজন ডাক্তার দৈনিক কতগুলো রোগী দেখতে পারবেন তা ঠিক করা আছে। একজন রোগীকে কমপক্ষে পনের মিনিট সময় নিয়ে দেখতে হবে এখানে। আর আমার মনে আছে ডাঃ প্রাণ গোপাল মনে হয় মিনিটে একজন রোগী দেখে থাকেন।

শিক্ষকদের সুযোগ সুবিধে বাড়াতে হবে। একজন শিক্ষক কেন সারাদিনের পরিশ্রমের পরেও প্রাইভেট টিউশনি করেন? অর্থের লোভে করেন না, করেন নিতান্ত প্রয়োজনেই (কিছু ব্যতিক্রম থাকবেই)। এই প্রয়োজনকে মিটানো হলে অধিকাংশ শিক্ষকই প্রাইভেট টিউশনি থেকে সরে আসবেন স্বাভাবিক ভাবেই।

ধন্যবাদ লেখাটির জন্য।

গৌতম এর ছবি

অর্থের লোভেও কিছু শিক্ষক গৃহশিক্ষকতা করেন, কিন্তু তাদের সংখ্যা খুবই কম। আমার এক পরিচিত নাম-খ্যাতি পাওয়া যাবে কিন্তু অর্থ কম এমন চাকরি ছেড়ে শিক্ষকতায় যোগ দিয়েছে কেবল অর্থের কারণে। তবে আপনার সাথে এটা একমত যে, প্রয়োজন মেটান হলো অধিকাংশ শিক্ষকই প্রাইভেট টিউশনি ছেড়ে চলে আসবেন।

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

নাশতারান এর ছবি

ছাত্ররা যারা প্রাইভেট পড়ান সেটা রীতিমতো বাধ্য হয়েই। শিক্ষাব্যবস্থার ফাঁক পূরণ করে তারা যদি নিজের খরচ বহন করতে পারেন তাতে আমি কোন দোষ দেখি না। পকেটমানি কামানোর বিকল্প পথগুলো আরেকটু প্রসারিত হলেই টিউশনিতে ছাত্রদের ভীড় কমে আসবে বলে আমার ধারণা।

তারপরেও স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের আধিপত্য রয়ে যাবে। শিক্ষকদের বেতনের অপর্যাপ্ততা এর একটা কারণ। প্রাইভেটের নামে শিক্ষকেরা ঘুরপথে উপার্জন করেন।

যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ এবং উপযুক্ত বেতন দেয়া হলে প্রাইভেট টিউশনি আইন করে বন্ধ করার প্রয়োজন হবে না আর।

▀ ▄

b

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

গৌতম এর ছবি

যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ এবং উপযুক্ত বেতন দেয়া হলে প্রাইভেট টিউশনি আইন করে বন্ধ করার প্রয়োজন হবে না আর।
ঢাকার অনেক বিদ্যালয়ে যোগ্য শিক্ষক রয়েছেন যারা যথেষ্ট বেতন পান, বলা যায় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি। তারপরও তাঁরা প্রাইভেট পড়ান কেন বলতে পারেন?

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

নাশতারান এর ছবি

না, বলতে পারি না। এমনটি দেখার সুযোগ হয়নি এখনো।

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

গৌতম এর ছবি

সেই কারণেই বলি সমস্যাটা অন্যজায়গায়!

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

সুলতানা পারভীন শিমুল এর ছবি

আমি এই বিষয়ে কিসুই কমু না। দেঁতো হাসি

...........................

একটি নিমেষ ধরতে চেয়ে আমার এমন কাঙালপনা

...........................

একটি নিমেষ ধরতে চেয়ে আমার এমন কাঙালপনা

স্পর্শ এর ছবি

নিশ্চই টিচারের সাথে প্রেম করেছেন। চিন্তিত


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

সুলতানা পারভীন শিমুল এর ছবি

হা হা হা
মজা পাইলাম। দেঁতো হাসি
কিন্তু সেই সুযোগ কেনু পাই নাই ভেবে এখন আফসুস লাগতেসে, স্পর্শ। মন খারাপ

...........................

একটি নিমেষ ধরতে চেয়ে আমার এমন কাঙালপনা

...........................

একটি নিমেষ ধরতে চেয়ে আমার এমন কাঙালপনা

গৌতম এর ছবি

সুযোগ পান নাই নাকি আমাদের আর কিছু জানাবেন না? চোখ টিপি

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

স্বপ্নাহত এর ছবি

টিউশনি বন্ধ হইলে বেকার যুব সমাজ চলবে কিবায়? দেঁতো হাসি

---------------------------------

বাঁইচ্যা আছি

---------------------------------

বাঁইচ্যা আছি

গৌতম এর ছবি

ভাবতেসি। চিন্তিত

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শেখ নজরুল এর ছবি

টিউশানী এখন ব্যবসা। ব্যবসা কখনও বন্ধ হয় না। হাত পালটায়
শেখ নজরুল

শেখ নজরুল

গৌতম এর ছবি

চাইলে ব্যবসাও বন্ধ করা যায়।

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

চড়ুই এর ছবি

আমাদের সময় (!) প্রাইভেট টিউশনি তেমন একটা ছিলোনা, যা ছিলো সেটাকে আমরা বলতাম "পড়া দেখিয়ে দেওয়া"। যাদের বাসায় বড় ভাই বোন ছিলো তাদের অবশ্য সেটাও দরকার হতোনা, সমস্যা গুলো তাঁরাই সমাধান করে দিতেন। আস্তে আস্তে দিনকাল চোখের সামনে কেমন করে বদলে গেলো। আমার সবেমাত্র স্কুলে যাওয়া আসা করা ছেলেটার জন্যও এখন প্রাইভেট শিক্ষকের দারস্থ হতে হচ্ছে নিজে সময় পাইনা বলে। তবে আমার মতে নিজেদের কাছে সমাধান থাকলে বাচ্চাদের প্রাইভেট শিক্ষকের কাছে না পাঠানোই ভালো।
আর প্রাইভেট শিক্ষকতা করা খারাপ কিছু না। কিন্তু প্রাইভেট শিক্ষকতা করতে যেয়ে বা করানোর জন্য নৈতিকতা বিসর্জন দেয়া কিছু মানুষের জন্যই আজকাল এই ধারা বন্ধ করার কথা আসছে।

গৌতম এর ছবি

আপনার বক্তব্যটা বেশ ভালো লাগল। পিতামাতা সময় দিতে পারলে অন্তত নিচের ক্লাশগুলোতে শিক্ষার্থীদেরকে শিক্ষকের কাছে পাঠাতে হয় না। আর এই 'পড়া দেখিয়ে দেওয়ার' সংস্কৃতিটা বহু পুরনো। প্রাইভেট টিউশনি সংস্কৃতিটাকে বদলে 'পড়া দেখিয়ে দেওয়ার' পর্যায়ের নিয়ে আসতে পারলে পড়ালেখাটা সার্বিকভাবে অনেক এগিয়ে যাবে। প্রাইভেট টিউশনিটা খারাপ কিছু না হলেও পড়ালেখার চেয়ে বিনিময় মাধ্যম যখন মুখ্য হয়ে উঠে এবং বিদ্যালয়-ব্যবস্থাকে ছাপিয়ে যায়, তখন সেটা ব্যবহারিক দিক দিয়ে খারাপ হতে বাধ্য।

মন্তব্যের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। হাসি
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

সচল জাহিদ এর ছবি

গৌতম চমৎকার বিশ্লেষণধর্মী পোষ্ট, ধন্যবাদ রইল তার জন্য। আমার মতে টিউশনি হতে পারে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সহায়ক, বিকল্প নয়। বর্তমানে এটি আসলে বিদ্যালয়ের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আদতে স্কুলে দূর্বল ছাত্রদের সহায়ক হিসেবে প্রাইভেট টিউটর ধারণাটি এসেছিল বলে আমার ধারণা, কারন একটি বিদ্যালয়ের পক্ষে সব মেধার ছাত্রকে পরিপূর্ন ভাবে শিক্ষাদান করা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু আস্তে আস্তে প্রাইভেট টিউশনি পরিনত হলো পণ্যে, শিক্ষকরাও ভেবে দেখল ব্যাপারটি লাভজনক। আমার স্পষ্ট মনে আছে স্কুলে পড়ার সময় স্কুলের শিক্ষকদের কাছে না পড়লে নাম্বার কম পেতাম এমনকি, একটি অঙ্ক আমি ঐ শিক্ষক যে ভাবে করেছেন ঠিক সেভাবে না করলে নাম্বার কম দিতেন। একসময় বাধ্য হয়ে স্কুলের মাঝারী মানের শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট পড়তে হতো।

আমি নিজে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় প্রাইভেট টিউশনি করতাম। আমার মূল কাজটি ছিল আমার ছাত্র ছাত্রী দেরকে একটি নিয়মিত রুটিনের মধ্যে নিয়ে আসা যাতে সে নিয়মিত পড়াশুনা করতে পারে। সেই সাথে তাদের পাঠের বিষয়ের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তাদেরকে সহযোগীতা করা। আমার কাছে মনে হত তা কখনই বিদ্যালয়ের বিকল্প নয় বরং সহায়ক।

ঢাকাতে একসময় এরকম ছিল কলেজের বিজ্ঞান পড়ার জন্য বিশেষ কিছু শিক্ষকের কাছে এসএসসি পরীক্ষার পর পরই প্রাইভেট পড়ার জন্য লাইন দিয়ে রাখতে হত। একজন ছাত্র কলেজে ভর্তি না হয়েই জেনে গেল তার পদার্থবিদ্যায় সমস্যা হবে সুতরাং তাকে প্রাইভেট শিক্ষকের দ্বারগ্রস্থ হতে হবে, কি হাস্যকর অবস্থা।

একটি উদাহরন দিয়ে শেষ করি, এখানে ইউনিভার্সিটি অফ আলবার্টাতে স্টুডেন্ট ইউনিয়নে টিউটর রেজিস্ট্র নামে একটি জিনিস আছে। এখানে একজন ছাত্র ( প্রধানত স্নাতকোত্তর শ্রেনীর ছাত্ররা) ইচ্ছে করলে টিউটর রেজিষ্ট্রিতে তার নাম লেখাতে পারেন এবং তিনি একটি সেমিষ্টারে কি কি কোর্সে টিউটরিং করতে চান তা উল্লেখ করতে পারেন এমনকি ঘন্টা প্রতি কত ডলার তাও উল্লেখ করতে পারে। কোন ছাত্র যদি মনে করে যে তার একটি বিষয়ে ক্লাসের বাইয়েও সহায়ক কাউকে দরকার সে ঐ রেজিষ্ট্র ঘেটে বেছে নিতে পারেন। সুতরাং এখানে স্নাতক শ্রেণীতেও প্রাইভেট টিউরিং এর সুযোগ আছে। আমি নিজেই একটি ছেলেকে সপ্তাহে দু'ঘন্টা ফ্লুইড মেকেনিক্স পড়াই।

সুতরাং এই বিষয়ে আমি পুরোপুরি গৌতমের সাথে একমত, হুট করে আইন না করে বরং অবাধ টিউটরিং এর পেছনের কারন গুলো বের করে তার সমাধান করা উচিৎ এবং বিষয়টি ছাত্রদের উপর ছেড়ে দেয়া উচিৎ, অর্থাৎ যার প্রয়োজন সে গ্রহন করবে যার নেই সে বর্জন করবে।

----------------------------------------------------------------------------
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

গৌতম এর ছবি

ধন্যবাদ জাহিদ ভাই।

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

নাশতারান এর ছবি

৭ নং মন্তব্য পর্যন্ত পোস্টটা একটানা জোড়া লাগানো কেন?

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

গৌতম এর ছবি

বুঝতে পারছি না। তাছাড়া পুরো পোস্টটাই কেমন যেন ধূসর দেখাচ্ছে, ডানপাশের লিংকগুলোও নিচে নেমে গেছে। মডারেটরা কি দেখবেন কেন এমন হচ্ছে?

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

অর্ঘ্য এর ছবি

চমৎকার লেখা ৷ আপনার সবকথার সাথেই একমত ৷ অনেক মতামত, সমালোচনাও হল ৷ আমি একটু আমার অনুভুতির কথা বলি ৷

যখন দেখি ক্লাস টু-থ্রি তে পড়া একটা বাচ্চা তার শরীরের চেয়ে বড় একটা ব্যাগ টেনে নিয়ে বেড়ায়; তার স্কুল, টিউশনি, হোমওয়ার্ক নিয়ে সারাক্ষণ তার মা তার পেছনে ছুটে বেড়ায়, তার খাওয়া, ঘুমানো, টিভি দেখা, খেলা সবকিছু সময়ের শেকলে বন্দী ... তখন আমার বাচ্চাটার জন্য খুব মায়া হয় ৷ যদি জীবনের শুরুটা হয় এরকম, তাহলে আমরা তার কাছ থেকে আর কি আশা করতে পারি ?! আমি কিছুতেই বুঝতে পারিনা একজন মা কিভাবে তার ক্লাস ফোর এ পড়া একটা বাচ্চার জন্য বুয়েট এর ছাত্র খোঁজে !

শিক্ষা একটা দেশের সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় অংশ ৷ চাইলেই হুট করে একটা সংস্কৃতি বদলে ফেলা যায় না ৷ সময় লাগে ৷ আয়োজন লাগে ৷ সে আয়োজন যদি করা না হয় তবে সেদিন আর বেশি দুরে না যেদিন এদেশে স্কুল হবে শুধু সিলেবাস দেয়া আর পরীক্ষা নেয়ার একটা জায়গা ৷ পড়াশুনা ব্যাপারটা হয়ে যাবে ব্যক্তিগত ৷

যদি আমরা যোগ্য শিক্ষক পাই, যদি শিক্ষকেরা পর্যাপ্ত বেতন পান, যদি একজন শিক্ষক কে ৬০ জন - ১০০ জন ছাত্র পড়াতে না হয়, যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা পড়াশুনার পাশাপাশা যথেষ্ট কাজ পায় ...

আর কতদিন এই 'যদি'র হিসেব কষবো ... ?

---------------------------------------------------
পুষে রাখে যেমন ঝিনুক ... খোলসের আবরণে মুক্তোর সুখ

------------------------------------------------------
পুষে রাখে যেমন ঝিনুক ... খোলসের আবরণে মুক্তোর সুখ ...

গৌতম এর ছবি

...হয়তো আরও অনেকদিন!

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

আসলে সমস্যার সমাধান খুব সহজ; কিন্তু তার বাস্তবায়ন খুব কঠিন।

সমাধান: শিক্ষকের যৌক্তিক বেতন ঠিক করা, তার দায়িত্ব পালন নিশ্চিতকরন (ডিউটি আওয়ার, টীচার ইভ্যালুয়েশন) এবং সর্বোচ্চ কতোঘন্টা কাজ করতে পারবেন, সে বিষয়টা ক্লিয়ার করা।

বাস্তবায়নের সমস্যা: আমাদের দেশে বিভিন্ন পেশাজীবীদের মাঝে শ্রম অনুপাতে ইনকামে ব্যাপক ফারাক। যৌক্তিক বেতন নির্ধারণের কাজটি যথেষ্ট কঠিন। তবে হার্ডলাইনে গেলে 'এই বেতনে পোষাইলে কাজ করো, না পোষাইলে না' নীতি প্রয়োগ করা যেতে পারে।

দায়িত্বপালনের কাজটা চর্চার বিষয়। ইন জেনারেল, আমাদের মধ্যে এই চর্চাটা কম। শিক্ষক নিয়োগের মধ্যেই রয়েছে দুর্ণীতি, প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক হতে গেলেও লাখ দুয়েক টাকা ঘুষ দিতে হয়। এক্ষেত্রে, অপেক্ষাকৃত দুর্ণীতিপ্রবণেরাই শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম রয়েছে। অনিয়মের মাঝেই যার নিয়োগপ্রাপ্তি, তার কাছ থেকে দায়িত্বপালনের চর্চা আশা করা যায় না।

সর্বোচ্চ কত ঘন্টা কাজ করতে পারবে, তা নিশ্চিত করার জন্য স্ট্রং ট্যাক্স সিস্টেম দরকার।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

গৌতম এর ছবি

যারা শিক্ষকতায় আসেন, তারা সবকিছু জেনেশুনেই আসেন। জেনেশুনে আসার পর বেতন কমের দোহাই দিয়ে বিদ্যালয়ের কাজ বাদ দিয়ে অন্য কাজ করা আমার কাছে দুর্নীতির মতোই মনে হয়।

আর যে সমস্যাগুলোর কথা বললেন, সেগুলো দূর করা বা ঠিক সিস্টেম বাস্তবায়ন করাটা খুব কঠিন কিন্তু নয়। বেসরকারি অনেক সংস্থাই কীভাবে এই কাজগুলো করা যায় তা হাতেকলমে করে দেখাচ্ছে। সদিচ্ছাটাই বড় ব্যাপার!

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

নীড় সন্ধানী এর ছবি

‍‌জাতিগঠনের প্রধানতম উপাদান শিক্ষা। শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো কমবেশী আমরা সবাই জানি, সরকারও জানে। কিন্তু ওই দুর্বলতাগুলো দুর করতে কোথাও অসহায়ভাবে ব্যর্থ আমরা সবাই। প্রাইভেট টিউশানি টিকে আছে ওই দুর্বলতাগুলোর কারনে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যথাযথ শিক্ষা প্রদানে ব্যর্থ হচ্ছে বলেই কোচিং সেন্টার প্রাইভেট টিউশানির প্রয়োজন হচ্ছে। এই প্রয়োজনটা কেউ তৈরী করে দিয়েছে। একসময় পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার জন্য কোচিং করতে দেখা যেত। তারো আগে ছিল ঘরে প্রাইভেট মাষ্টার রেখে ভালো রেজাল্ট করার প্রবনতা।

কিন্তু এই সময়ে এসে দেখি দেশের তাবৎ জিনিস আস্তে আস্তে কোচিং সেন্টারের আওতায় চলে এসেছে। প্লেগ্রুপে ভর্তি হবার জন্যও যেমন কোচিং লাগে, তেমনি বিসিএস প্রিলিমিনারী টেষ্ট পাশ করার জন্যও কোচিং দরকার হয়ে পড়েছে। সেদিন দেখলাম ব্যাংকের ইন্টারভিউ পার করানোর জন্যও কোচিং সেন্টার খোলা হয়েছে। প্রচুর ব্যয়বহুল ওই কোচিং সেন্টারগুলোতে শিক্ষার্থীর অভাব নেই এই দরিদ্র দেশেও। আমরা চোখ বুঝে মেনে নিচ্ছি। চোখ সয়ে গেছে অস্বাভাবিক ওই ব্যবস্থাগুলো।

বিশ্বের প্রায় সব দেশেই স্কুলে পড়াশোনা সব করিয়ে দেয়া হয়। কেবল এদেশেই ভিন্ন সংস্কৃতি চালু হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যদি শিক্ষার্থীকে শিক্ষালাভের যথেষ্ট মালমশলা সরবরাহ করতে না পারে, ঐ অসম্পূর্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুষে লাভ কি?

"স্কুলে ভালো পড়াশোনা হয়না তাই প্রাইভটে পড়তে হবে' অপসংস্কৃতিটা স্থায়ীরূপ লাভ করেছে বাংলাদেশে। এই চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শেষমেষ কেবল পরীক্ষা নেয়া আর সার্টিফিকেট বিক্রয়ের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।

আপনি চমৎকার একটা বিষয় তুলে এনেছেন বলে ধন্যবাদ প্রাপ্য হলেন।

-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-
সেই সুদুরের সীমানাটা যদি উল্টে দেখা যেত!

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

গৌতম এর ছবি

আপনার চমৎকার কমেন্টটার জন্যও আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। প্রাইভেট শিক্ষা দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় কীভাবে সদম্ভে ভাগ বসিয়েছে, তা আপনার লেখা থেকে আরও পরিষ্কার হলো।

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।