কেন আন্দোলনে এলাম: ইলিরা দেওয়ান

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: সোম, ২৮/০৯/২০০৯ - ১০:০৯পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বিদ্যুৎহীন গাঁয়ে সন্ধ্যার পর পরই মনে হয় যেন গভীর রাত। সেই নিশুতি রাতে একটা গ্রামের শ দুয়েক লোক নিঃশব্দে এগিয়ে চলছে গহিন অরণ্যের দিকে- নিরাপত্তার খোঁজে। কিন্তু তার আগে পেরিয়ে যেতে হয় গাঁ ঘেষে চলে যাওয়া একটি পথ, যে পথই কিনা যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। যেকোনো মুহূর্তে সেনাবাহিনীর লরি এসে হেডলাইটের আলোতে পুরো পথ আলোকিত করতে পারে। তাই সর্বদা আতঙ্ক থাকত, এই বুঝি সেনাসদস্যরা এসে পড়ল! কেউ পেছনে থাকতে চাইত না। পিঠে একটা সুড়সুড়ি অনুভব করত। খুব ছোটবেলায় এই ঘটনা ছিল প্রায় নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। 'আর্মি আসছে'- এই দুটো শব্দে মুহূর্তে প্রত্যেকটি মানুষের মুখের ভৌগোলিক রেখা পরিবর্তিত হয়ে যেত এবং যত দ্রুত সম্ভব বহনযোগ্য তল্পিতল্পা গুটিয়ে অনিশ্চিত যাত্রা শুরু হতো। এভাবেই একটা অবোধ শিশুর জীবনসংগ্রামের পথচলা শুরু। সেই অভাগা শিশুটি আর কেউ নয়, স্বয়ং আমি।

বর্তমানে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছি। হয়তো ভাগ্য আমাকে বিমুখ করতে পারেনি বলে আজ এই ঢাকা শহরে অন্য দশটি স্বাধীন ছাত্রছাত্রীর সঙ্গে পড়তে পারছি। আজ যারা আমার সহপাঠী তারা নিশ্চয় আমার মতো আতঙ্কের মধ্যে বড় হয়নি। তাদের শৈশব ছিল পিতামাতার আদর-ভালোবাসার ছায়ায় নিরাপদ একটি সুন্দর জীবন। আর সেই সময়ে আমি ছিলাম সেনাবাহিনীর তাড়া খাওয়া আতঙ্কিত এক অবোধ শিশু। এই পরিবেশে বড় হওয়া যেকোনো শিশুর পক্ষে মানসিক বিকারগ্রস্ত হওয়া অসম্ভব কিছু নয়। কিন্তু যে শিশুর বোধ-জ্ঞান এভাবে আতঙ্কের মাঝে শুরু হয়েছে, তার পরও সেই শিশু আজ পর্যন্ত সুস্থ মস্তিষ্কে লেখাপড়ার পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে জড়িয়ে রেখে শৈশব পেরিয়ে কৈশোর, তারুণ্যে পা রেখে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে- এ যেন অলৌকিকতা। এভাবেই আমার শৈশব শুরু।

সেনাবাহিনী নিরাপত্তার নামে যখন পার্বত্য অঞ্চলের বনজ সম্পদ ধ্বংসের খেলায় মেতে ওঠে তখন পাহাড়িদের লুকিয়ে থাকার আর কোনো জায়গা নেই। চারদিক থেকে ন্যাড়া পাহাড়গুলো যেন তাদের দুরবস্থা দেখে বিদ্রƒপ করত। এই পরিস্থিতিতে প্রতিরোধই একমাত্র হাতিয়ার হয়ে দাঁড়াল। তাই তো দেখেছি, আমাদের গ্রামে যখন পার্শ্ববর্তী এলাকার অনুপ্রবেশকারী (সেটেলার) বাঙালিরা হামলা করতে আসত তখন সবাই যার যার বাড়িতে যেসব আত্মরার হাতিয়ার- দা, কুড়াল, বঁটি, বিয়ং (তাঁতের সরঞ্জাম) ইত্যাদি নিয়ে রুখে দাঁড়াত। তবে এসব হামলার ক্ষেত্রে বরাবরই সেনাবাহিনী প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করত। তাই প্রতিটি হামলায় পাহাড়িরা হয় প্রাণ দিত, নতুবা মারাত্মকভাবে জখম হতো। এভাবে ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছি, পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তার নামে নিয়োজিত সেনাবাহিনী কীভাবে পাহাড়ি নিধন খেলায় মেতে উঠত।

মনে পড়ে, অনেক ছোটবেলায় একবার খুব ভোরে আমাদের পুরো গ্রাম সেনাবাহিনী ঘিরে ফেলল। সকাল হতে না হতেই গ্রামের ছোট-বড় সবাইকে স্কুলের মাঠে জড়ো করে, প্রথমে গ্রামকে দুই ভাগ করে ঘিরে রাখে। গ্রামের উত্তর পাশে আমার বাবার জ্ঞাতিগোষ্ঠীরা বেশি থাকত এবং দক্ষিণ পাশেও ছিল। যাহোক, ভোর হতেই সেনাসদস্যরা বাড়ির উঠোনে জড়ো করে একজন একজন করে ডাকছে আর পিটিয়ে পিটিয়ে তাদের স্কুলের মাঠে পাঠিয়ে দিচ্ছে। যখন সবাইকে একে একে আসতে বলা হচ্ছে তখন কেউ আগে আসতে চাইছিল না। কিন্তু সবাইকে তো আসতেই হবে।

মনে আছে, বাবাই প্রথম এসেছিলেন। আসার সঙ্গে সঙ্গেই বাবাকে বাঁশের গোড়ার অংশ দিয়ে পেটাতে শুরু করল। বাবার মুখ থেকে তখন কেবল একটিই শব্দ বের হচ্ছিল- যম! যম!! উফ্! মনে করতে চাই না আর সেই স্মৃতি। এরপর পিটিয়ে পিটিয়ে নারী, শিশু এবং পুরুষদের আলাদা করে রাখা হলো। বাচ্চাদের একদিকে জড়ো করে সবাইকে দুপুর পর্যন্ত মাথা নিচু করে থাকতে হয়েছে। কেউ মাথা তুললে তাকে চিকন বাঁশের কঞ্চি দিয়ে মাথায় পেটাত। আর পুরুষ ও নারীদের একজন একজন করে ডেকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও জিজ্ঞাসাবাদ করত আর নির্বিচারে পেটাত। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে তাকেই আমগাছে ঝুলিয়ে নাকে মুখে কলসি থেকে পানি ঢেলে দিত। এ ঘটনা এখনো চোখ বুঝলে স্পষ্ট দেখতে পাই। খুবই ছোটবেলার ঘটনা বলে এখনো মনের গভীরে ত হয়ে আছে।

১৯৮৩ সালের একটি ঘটনা। ছোট ছিলাম বলে মাসটা আর মনে নেই। শীতকাল ছিল- এইটুকু মনে আছে। ভোরে ঘুম থেকে জেগে উঠেছি বাড়ির বড়দের চাপা কথাবার্তা শুনে। কিছুক্ষণ পর্যন্ত কোনো কিছু ঠাহর করতে পারিনি। পরে বুঝেছিলাম, গ্রামে সেনাবাহিনী ঢুকেছে এবং বেশ কয়েকটা বাড়ি তল্লাশি করার পর আমার এক কাকাকে ধরেছে এবং সকাল থেকে সেই শীতের মধ্যে খালি গায়ে রেখে তাঁকে পেটাচ্ছে। কারণ কাকা ছিলেন শান্তিবাহিনীর সদস্য। পরে শুনেছি, এক ইনফরমারের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর লোকেরা নির্দিষ্ট টার্গেট নিয়ে এসেছিল এবং কাকাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল। সেদিনই কাকাকে খাগড়াছড়ি সদর থেকে হেলিকপ্টারে করে চিটাগং নিয়ে যায়। দাদু ছিলেন গ্রামের কার্বারী। কিন্তু দাদুকে গ্রামের মুরুব্বি হিসেবে সেদিন সেনাবাহিনী কোনো কথাই বলতে দেয়নি। এদিকে দাদিমা, পিসি ও কাকিমারা বিলাপ করতে করতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। কারণ কাকা ছিলেন খুবই হালকা-পাতলা। যেভাবে পেটাচ্ছিল, পরে আবার প্রাণটাও না হারায়!

মনে পড়ে, খুব ছোটবেলায় আতঙ্ক-ভরা দৃষ্টি নিয়ে সরকারি রাস্তার দিকে চেয়ে থাকতাম। তখন ঝাঁকে ঝাঁকে বাঙালি সেটেলাররা পিলপিল করে পাহাড়ে ঢুকছিল। খুব ছোট ছিলাম বলে মাঝে মাঝে কৌতূহল ভরে 'ওই বাঙালিরা' বলে চিৎকার করতাম। আর দাদু চাপা গলায় ধমক দিয়ে সেখান থেকে সরে যেতে বলতেন। তখন তো বুঝিনি কী সর্বনাশটা তখন হচ্ছিল।

১৯৮৬ সাল। তখন কাস সিক্সে পড়ি। আমরা ছোট ছোট তিন ভাইবোন খাগড়াছড়িতে থাকতাম। বাবা আর মা গ্রামের বাড়িতে থাকতেন তাঁদের কর্মস্থলের কারণে। সেদিন (১ মে ১৯৮৬) স্কুলে গেছি। টিফিন পিরিয়ডের সময় হঠাৎ হইচই শুরু হয়ে গেল। মুহূর্তে জানা গেল, সেটেলার বাঙালিরা মহাজনপাড়ায় বাড়িঘর পুড়িয়ে দিচ্ছে। আমরা কেবল স্কুলের বারান্দা থেকে কুণ্ডলী পাকিয়ে ওঠা ধোঁয়া দেখতে পাচ্ছি। অবশেষে টিচারদের সহায়তায় সন্ধ্যার আগে বাসায় পৌঁছলাম। সেখানে দেখলাম, রাস্তার পশ্চিম পাশের বাড়িঘরগুলো বহাল তবিয়তে থাকলেও রাস্তার পূর্ব পাশের প্রায় সব বাড়িঘর পুড়ে ছাই হয়েছে। যেহেতু এসব বাড়িঘর ছিল পাহাড়িদের। সৌভাগ্য, না দুর্ভাগ্য বলবÑ আমাদের বাসা ছিল রাস্তার পশ্চিমাংশে। তাই তো সেদিন বাসায় ঢুকতে পেরে কিছুটা স্বস্তি পেলেও শান্তি পাইনি। সর্বদা আতঙ্ক ছিল, এই বুঝি আমাদের বাসায়ও হামলা করতে আসছে।

১৯৮৬ সালের পর থেকে কেবল ভয়ে ভয়ে থাকতাম। আর প্রায় প্রতিদিনই খবর আসত, আজ অমুক জায়গায় ঘটনা হয়েছে তো কাল আরেক জায়গায়। ঘটনাগুলো নানা মুখ ঘুরে বিভিন্নভাবে বিশ্লেষিত হয়ে আসত আরেকভাবে। তখন ভয়টা আরও চেপে বসত।

১৯৮৮ সালের ঘটনা। আমার এক মাসির সঙ্গে দীঘিনালায় বেড়াতে গিয়েছিলাম। তাঁদের বাড়ি ছিল দীঘিনালা থেকে বেশ দূরে 'উদলবাগান' নামক গ্রামে। সেদিন গাড়ি পাইনি। তাই কেবল দুজনে হেঁটে যাচ্ছিলাম। তখনো জানতাম না, সেসব জায়গায় বাড়িঘর থাকলেও সেগুলো ছিল জনশূন্য। পরে নানা কথা বলতে বলতে মাসি হঠাৎ বললেন, 'জানো, এই যে বাড়িঘর দেখছ, এগুলোতে কিন্তু লোকজন নেই। সবাই ভারতে শরণার্থী হয়ে গেছে।' 'কেউ নেই'- কথাটা শুনে এমন শিউরে উঠলাম, তখন আর আমার পা চলছিল না। একটা ভয় চারপাশে কেমন যেন ঘিরে ধরেছিল। চারপাশে জনমানব নেই। ওই ভরদুপুরে রাস্তার ওপর আমরা কেবল দুটি মানুষ হাঁটছি। এও কি সম্ভব? রাস্তায় মানুষ ছিল না, কিন্তু প্রাণী ছিল। নির্দিষ্ট দূরত্ব অন্তর সেনাবাহিনীর চেকপোস্ট ছিল। সেদিনের অভিজ্ঞতা আজও আমাকে কুঁকড়ে রাখে।

১৯৮৯ সালে জেলা পরিষদ নির্বাচন এল। শান্তিবাহিনীর নির্দেশ, 'নির্বাচন বয়কট করো।' আর সেনাবাহিনীর নির্দেশ, 'তোমরা ভোটকেন্দ্রে আসো।' উভয় সংকটে পড়ল সারা পার্বত্য জনগণ। বাবা খাগড়াছড়িতে এসে বলে গেলেন, 'ভোটের দিন তোমরা কেউ বাড়ির বাইরে যেয়ো না। কারণ শান্তিবাহিনী নাকি খাগড়াছড়ি টাউনের দিকে রকেট ছুড়ে মারবে। সুতরাং সাবধান থেকো।' এদিকে বাবার ভোটের ডিউটি পড়েছে 'নুনছড়ি' নামক একটা জায়গায়। ভোটের দিন বাবা ডিউটি শেষ করে আর বাড়ি ফিরতে পারেননি যথাসময়ে। তবে ওই কেন্দ্র থেকে এসে অন্য জায়গায় ছিলেন। রাত আনুমানিক ১১টার সময় গোলাগুলি শুরু হলো। আমরা সবাই ঘুম থেকে উঠলাম। তখন সবাই ধারণা করছিল, নুনছড়িতেই বোধ হয় ওই যুদ্ধটা হচ্ছিল। আর বাবার কথা চিন্তা করে আমি কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছি। দাদা (বড় ভাই) যত চুপ করতে বলে তত আমার কান্নার বেগ বাড়ে। হয়তো আমার কান্না দেখে তারও সে সময় খারাপ লাগছিল। তাই আমাকে চুপ থাকতে বলছিল।

এরপর ১৯৯২ সালের এপ্রিল মাস। বিজু উৎসবের আয়োজন প্রায়ই শেষ। কেবল দিনটির অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু তার আগে সর্বনাশ ঘটল। ১০ এপ্রিল লোগাংয়ে সেটেলার বাঙালি আর সেনাবাহিনীর সদস্যরা মিলে গ্রাম পুড়িয়ে দিল আর শতাধিক লোককে গুলি ও জবাই করে মেরে ফেলল। সারা বছরের কাক্ষিত উৎসবটাই শোকে পরিণত হলো। এর প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে হাজার হাজার লোকের শোকমিছিল বের হলো। এ মিছিল দেখে প্রশাসনও ভয় পেয়েছিল।

১৯৯১ সালে সংসদীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নাকি গণতন্ত্র ফিরে এসেছে দেশে। সেই গণতান্ত্রিক সরকারের উপহার হিসেবে আমরা পেয়েছি '৯২ সালের লোগাং গণহত্যা,'৯৩ সালের ১৭ নভেম্বর নানিয়াচরের গণহত্যা, '৯৬ সালে সহযোদ্ধা ও বন্ধু কল্পনা চাকমাকে হারালাম সেনাবাহিনীর কারণে। '৯৭ সালে আবার বিজু উৎসবকে বানচাল করে দেওয়ার জন্য মাইচছড়িতে সামান্য পকেটমারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেটেলার ও সেনাবাহিনী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধিয়েছিল। কল্পনা চাকমার অপহরণের প্রতিবাদ করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে রূপন, মনতোষকে যেমন হারিয়েছি তেমনি অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে নিতীশ চাকমা, ক্যজাই মারমা, অমর বিকাশ চাকমাসহ ভরদাস মুণির মতো ৭০ বছরের বৃদ্ধকেও প্রাণ দিতে হয়েছে। বহু মা-বোনকে লাঞ্ছিত হতে হয়েছে সেটেলার বাঙালি ও সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য নিরাপত্তাবাহিনীর হাতে।

এর পরও কি একজন সচেতন ছাত্রী হিসেবে জুম্ম জনগণের মুক্তিসংগ্রামে সম্পৃক্ত হওয়া যুক্তিযুক্ত নয়? এসব অন্যায়-অবিচারের প্রতিবাদ করতে তাই আজ রাজপথে নেমেছি। অশ্র“ভেজা মায়ের মুখে একটুখানি হাসি ফোটাবার জন্য এই লড়াই। মায়ের মুখে আমরা হাসি ফোটাবই ফোটাব।
(১০ বছর আগের এই লেখা খুঁজে পেলাম। পড়ে দেখছি এ লেখার উপযোগিতা এখনো অনেকাংশে বিদ্যমান। পাঠকরাই বলুন, কতটা বদলেছে পাহাড়ের চিত্র? )

- ইলিরা দেওয়ান: হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
iliradewanএ্যাট ইয়াহু ডট কম


মন্তব্য

পথিক [অতিথি] এর ছবি

বাংলাদেশে কিছুই বদলায় না। সেনাবাহিনীর আতঙ্ক একই রকম আছে।
তবে ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তির থেকে কিছুটা স্বাভািবকভাবে চলাফেরা করা যায়। কিন্তু এ চুক্তির পর পাহাড়িদের মধ্যে দুটি ভাগ থেরি হয়েছে, সেটি আরেক সমস্যা।

ফিরোজ জামান চৌধুরী এর ছবি

খুবই মর্মস্পর্শী বর্ণনা।

ইলিরা দেওয়ান, সচলায়তনে স্বাগতম।

আমি মাঝেমধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যুতে লিখে থাকি। তবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, পাহাড়িদের সমস্যা তাঁরা নিজেরা লিখলে তা আরও সঠিকভাবে উঠে আসবে।

আপনার কাছ থেকে আরও লেখা প্রত্যাশা করছি।

ঝিনুক নীরবে সহো, নীরবে সয়ে যাও
ঝিনুক নীরবে সহো, মুখ বুঁজে মুক্তো ফলাও।

ইলিরা দেওয়ান  [অতিথি] এর ছবি

ধন্যবাদ, ফিরোজ জামান চৌধুরীকে। পার্বত্য ইস্যু নিয়ে সবাইকে কনসার্ন করা উচিত। যারা বিষয়টি সর্ম্পকে অবগত নয় তাদের জন্য আপনাদেরকে লিখতে হবে। কেননা আমার লেখায় অনেকে অতিরঞ্জন খুঁজবে, কিন্তু আপনি বা মাহবুবুল হক যখন লিখবেন তখন এর বাস্তবতা অন্যেরা দ্রুত উপলব্দি করতে পারবেন। আমারও লিখে যাবার প্রচেষ্টা থাকবে নিরন্তর।
ইলিরা দেওয়ান

মাহবুবুল হক এর ছবি

ছিয়াশি সালে আমি কলেজের ছাত্র। শিক্ষা সফরে রাঙামাটি গিয়েছিলাম। একরাতের অবস্থানে রাঙামাটিতে আতঙ্কের ছাপ দেখেছি, দেখেছি শান্তি বাহিনী-ভীতি। ২০০৯ সালে বান্দরবানে গিয়ে সেই পরিবেশ পাই নি। তবে সামরিক বাহিনীর অনাবশ্যক নিয়ন্ত্রণ ও বাড়াবাড়িতে বিরক্ত হয়েছি। থানছি পর্যন্ত কোথাও আমার অস্বাভাবিক পরিস্থিতি মনে হয়নি। বেনাপোল থেকে ঢাকা আসতে তিনবার বিডিআর/ সেনাবাহিনীর তল্লাসীতে পড়তে হয়। আর সেটাতো দুর্গম পাহাড়ি এলাকা- শুধু ব্যক্তি নয় ভৌগলিক ভাবেও নিরাপত্তার প্রশ্নটি সেখানে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। তবে সেটেলার বাঙালিদের দীর্ঘদিনের অত্যাচার এবং সঙ্গে সেনাবাহিনীর আতঙ্ক পাহাড়িদের মনে যে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে তা টের পেয়েছি। এখন পাহাড়ি আর বাঙালিরা অনেক ক্ষেত্রেই মিলেমিশে কাজ করছে, সামাজকি নানা উৎসব ও পার্বনে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় একাত্ম হয়ে গেছে এটা যেমন ঠিক আবার কোথায় যেন একটা সূক্ষ্ম দূরত্ব বা চিড় রয়ে গেছে সেটাও ঠিক। পাহাড়ের দুএকজন বন্ধুকে বিষয়টা জিজ্ঞাসা করতেই তাদের মধ্যে কেমন যেন অস্বস্তি টের পেলাম। কিছু কিছু তারা বললো বটে কিন্তু সেটা যে সামান্যই তা বুঝতে বাকি রইলো না। আমি নিজেই শিকার হলাম দুএকটা ঘটানার। সেগুলো বলে তিক্ততার মাত্রা বাড়াতে চাই না। শুধু বলতে চাই সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরী করতে হবে আমাদেরই । যেমন পাহাড়ে বাবুল-প্রবীর'দার মত বাঙালিকে কী গভীর মমতার সাথে পাহাড়ের মানুষের সাথে কাজ করতে দেখেছি, পাহাড়ের উন্নয়নের কথা ভাবতে দেখেছি, পাড়াগুলোতে নানা সমস্যা নিয়ে কাজ করতে দেখেছি। পাহাড়ে একাত্ম হয়ে মিশে থাকা হাফিজ ভাইএর কথা শুনে শ্রদ্ধাবনত মনে তার কবিতার আস্বাদ নিয়েছি আবার আড়ষ্টতার মধ্যেও মারমা পাড়ার আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়েছি। সব ভালোগুলোকেই যদি আমরা বড় করি তাহলে একদিন শুধু ভালোটাই দেখা যাবে কালোটা হারিয়ে যাবে ভালোর মধ্যে।

সমতলের আদিবাসী বা পাহাড়ের আদিবাসী মাত্রই বিশেষ পরিবেশ ও প্রকৃতির সন্তান তাদের সেই পরিবেশ-সংস্কৃতি-জীবনযাপন প্রণালীকে শ্রদ্ধা জানানো ও রক্ষা করতে অধিকাংশ বাঙালি সহমত পোষণ করে বলেই আমার বিশ্বাস কারণ এটা বুঝতে বাঙালির চেয়ে এত বেশি মূল্য কেউ দেয় নি। রাষ্ট্রের দুবৃত্তপনা থেকে আমরা কেউ মুক্ত নই । সেনাবাহিনী আমাদেরই । তবে তারা যা করে বা করছে তাকে রাস্ট্রের একটা অংশের মনোভঙ্গি বলা যেতে পারে - তাও আবার সঠিক নয় বা সামগ্রিক নয়। তাই সেনাবাহিনীকে দোষ চাপিয়ে কোন লাভ নেই। এই যেমন এখন সেনা ক্যাম্পগুলো গুটিয়ে নেয়া হচেছ সরকারের সিদ্ধান্তে। আসল কথা পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রটাকেই বদলে দিতে পারলেই তবে মুক্তি, সকলের মুক্তি।
বান্দরবান সফরের পর থেকে বিষয়টি ভাবছিলাম আপনার লেখার সূত্রে বেরিয়ে এল। আসুন জাতি-ভাষা-সংস্কৃতি-ধর্মের স্বকীয়তাকে পার্থক্য না ভেবে বৈচিত্র্যের সম্ভার ও সম্পদ মনে করি, বাংলাদেশকে সবার উপরে তুলে ধরি।
এ বিষয়ে যত মিথষ্ক্রিয়া হবে ততই আমাদের মঙ্গল।

..............................................................
দেয়ালে দেয়ালে মনের খেয়ালে লিখি কথা
আমি তো বেকার পেয়েছি লেখার স্বাধীনতা

--------------------------------------------------------
দেয়ালে দেয়ালে মনের খেয়ালে/ লিখি কথা ।
আমি যে বেকার, পেয়েছি লেখার/ স্বাধীনতা ।।

ইলিরা দেওয়ান [অতিথি] এর ছবি

ধন্যবাদ, মাহবুবুল হক।
ইলিরা

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

ইলিরা, (যা বলছি তা একান্তই আমার ব্যক্তিগত মতামত)

আমার বাড়ির পাশে আপনি ঘর বাধলে যেমন আমার বলার কিছু নেই, তেমনি আপনার পাহাড়ে বাঙালিরা ঘর বাধতে পারবেনা এটিও আমি মানতে নারাজ। আপনি পাহাড় থেকে এসে আমার বাড়িতে আগুন দিতে পারেন। আমিও পারি আপনার বাড়িতে আগুন দিতে। সবক্ষেত্রেই আমাদের উচিত আইনের আশ্রয় নেয়া। এখন যদি আপনি বিচার না পান আর আমি পাই, সেটা নিশ্চয়ই অবিচার। সেই অবিচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামে আমি আপনার পক্ষে লড়তেও রাজি।

পাহাড়িরা যেন ভুলে না যায় যে তারা সবার আগে বাংলাদেশের নাগরিক। তারপর তারা অন্য যে কোন জাতিধর্মের।

সেনাবাহিনির ব্যপারটা নিয়ে আসলে কি বলব বুঝে উঠতে পারিনা। তারা ছাড়া পেলে সমতলেও মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরন করে। পাহাড়ে নিরাপত্তার জন্য অতি-প্রয়োজনীয়গুলো ছাড়া সব সেনাক্যাম্প প্রত্যাহার করা উচিত। বিচার হওয়া উচিত সব হত্যাকান্ডের। (অবশ্য সত্যি কথা হচ্ছে আমাদের সেনাবাহিনির কাছে সরকারও অনেকসময় অসহায়)।
পাহাড়ের অধিবাসিদের উপর যে কোন নির্যাতন বন্ধ করা হোক। এই দাবি আমারও। কিন্তু আমি সত্যিই চাইনা আমার বাংলাদেশের কোন অংশ হারাতে।

পাহাড়ী বাঙালিদের ঔদ্ধত্বের (বানান পারতেছিনা! মন খারাপ ) কারনগুলো ঠিক আমার বোধগম্য নয়।

আসলে যে কারণেই হোক, আমি যেমন পাকিস্তানকে ঘৃণা করি, ৭১ কে ভেবে আমি শিহরিত হই, আমি চাইনা বাংলাদেশকে ভেবেও কারো একই অনুভুতি হোক। নির্যাতনের কষ্ট কিন্তু বাঙালির রক্তে গেঁথে আছে ৭১ থেকে। পাকিস্তানি হানাদারদের যে জারজগুলা বাঙালির সম্মান ক্ষুন্ন করছে তাদের বিরুদ্ধে আমিও আপনার সঙ্গে লড়ব। লড়ব আমরা সবাই।

ভালো থাকবেন
____________________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ !

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

ফিরোজ জামান চৌধুরী এর ছবি

অনার্য্য লিখেছেন, 'আমার বাড়ির পাশে আপনি ঘর বাধলে যেমন আমার বলার কিছু নেই, তেমনি আপনার পাহাড়ে বাঙালিরা ঘর বাধতে পারবেনা এটিও আমি মানতে নারাজ।'

পার্বত্য চট্টগ্রামে জমি কেনা যাবে না বলে যে প্রপাগান্ডা প্রচলিত আছে, অনার্য্য সঙ্গীতের কথাতে তারই প্রতিধ্বনি পাওয়া গেল। সত্য হচ্ছে, জেলা প্রশাসকের পর্যবেণ/সম্মতি সাপেকক্ষে যে কেউ পার্বত্য অঞ্চলে জমি কেনা যায়। ১৯০০ সাল থেকে পার্বত্য অঞ্চলে এই বিধান চালু রয়েছে। এটি ১৯৯৭ এর পার্বত্য চুক্তি বা তার পরে প্রণীত কোনো আইন বা বিধি নয়। ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি (Chittagong Hill Tracts Regulation 1900) অনুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রামে বহিরাগত কোনো ব্যক্তির পার্বত্য অঞ্চলে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপনের ওপর সীমিত নিষেধাজ্ঞা ছিল। যেহেতু অতীতে পার্বত্য অঞ্চলে জমি কেনাবেচার নামে অসংখ্য জমি দখলের ঘটনা ঘটেছে, তাই এ বিধান চালু রাখা ছাড়া পথ নেই। ভারত, অস্ট্রেলিয়া, পপুয়া নিউ গিনি সহ অনেক দেশেই জমি ক্রয় বিক্রয়ে বিধি নিষেধ আছে। তাতে সে সব দেশের কোনো তি হয়নি। অখণ্ডতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি। আমাদের দেশেও তাই সে প্রশ্ন তোলা বাতুলতা।

প্রিয় অনার্য্য সঙ্গীত, পাহাড়ে আপনার মতো যারা জমি কিনে বাড়ি করতে চান, তাদের উদ্দেশ্যে বলি, আপনি কি কোনোদিন সিলেটের পাহাড় কিংবা চট্টগ্রামের রাউজান, সীতাকুণ্ড এলাকার পাহাড়ি জমি কিনতে আগ্রহী হয়েছেন? উত্তর হবে, চাননি। সবাই পার্বত্য চট্টগ্রামের জমি কেনার কথা বলে। আসলে কেউই কিনতে চায় না। সবাই দখল করতে চায়! ফাও খেতে চায়!! আপনার ইচ্ছা কি জানি না। তবে আপনার মতো অনেক শিক্ষিত বাঙালিরা পাহাড়ি হাজার হাজার একর জমি ছলে বলে কৌশলে দখল করেছে।

এক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, সরকার ইজারা চুক্তি ভঙ্গকারী ৬৫০টি প্লটের ইজারা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার পরিমাণ ১৬ হাজার ২৫০ একর। ইতিমধ্যেই বাতিল করা হয়েছে সাংসদ অলি আহমদ, সাবেক উপদেষ্টা এম এ মতিনসহ বিভিন্ন প্রভাবশালীর ১২৫টি প্লটের ইজারা (সূত্র: প্রথম আলো, ১৬ আগস্ট ২০০৯)। পাহাড়ে যে কত হাজার একর জমি এভাবে ছলে-বলে-কৌশলে দখল করা হয়েছে তার সঠিক কোনো হিসাব নেই। এ সব অপতৎপরতার উদাহরণ তাঁর ভগ্নাংশ মাত্র।

অভিভাসন একটি চলমান প্রক্রিয়া। পার্বত্য অঞ্চলে চট্টগ্রাম থেকে প্রচুর বাঙালি ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা গেছেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে কয়েক প্রজন্ম ধরে বসবাস করে আসছেন, তাদের নিয়ে পার্বত্য আদিবাসীদের কোনো আপত্তি নেই। যেমনটি: খুলনা থেকে ময়মনসিংহে জমি কিনে বাস করলে আপত্তির কিছু নেই। যুগে যুগে পুরে বাংলাদেশ জুড়ে তাই হয়ে এসেছে। কিন্তু এমন কোনো দুটি জেলা কি কেউ দেখাতে পারবেন, যেখানে রংপুর থেকে কুষ্টিয়ায় গিয়ে সবাইকে তাড়িয়ে নিজেরাই সংখ্যাগরিষ্ট হয়ে গেছে, তাও আবার মাত্র তিন-চার বছরের মধ্যেই। বৃটিশ ও পাকিস্তান আমলে তাকালে দেখা যায়, স্বাভাবিকভাবে জমি ক্রয়-বিক্রয়ে পাহাড়িরা কোনোদিনই আপত্তি তোলেনি। আপত্তির প্রশ্নটি তখনই এসেছে যখন ১৯৭৯ সাল থেকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোশকতায় বলপূর্বক জমি অধিগ্রহণ করে ছিন্নমূল বাঙালিদের ওখানে পুনর্বাসন করা হয়েছে।

একটি পরিসংখানে চোখ বুলানো যাক। ১৯৫১ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালি জনসংখার পরিমাণ ছিল মাত্র ১৮ হাজার ৭০ জন (মোট জনসংখ্যার ৬%)। আর ১৯৯১ সালে এ সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪ লাখ ৭৩ হাজার ৩০১ জন (মোট জনসংখ্যার ৪৯%)। জ্যামিতিক হারে বাঙালি জনসংখ্যা বৃদ্ধি হয়েছে মূলত আশির দশক থেকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বিভিন্ন জেলার ছিন্নমূল বাঙালিদের অভিবাসন বা পুনর্বাসনের ফলে। গত ২৫ বছরে তিন পার্বত্য জেলায় অভিবাসী বাঙালির সংখ্যা ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে।

বিশ্বে এ রকম অন্যায় অভিভাসনের একটিমাত্র উদাহরণ দেখতে পাওয়া যায়: ফিলিস্তিনে ইসরাইলের বলপূর্বক জমি দখল ও আবাসনের ঘটনার।

প্রিয় অনার্য্য সঙ্গীত, আপনিও কি দখলকারী বাঙালি কিংবা ইসরাইলিদের একজন হতে চান? আপনার কাছে সে প্রশ্ন রইল।

আনার্য্যর আগ্রাসী মনোভাব দেখে হতাশ হলেও অবাক হইনি। শুধু অনার্য্য সঙ্গীত নন, বাংলাদেশের দেশপ্রমিক ও প্রগতিশীল চিন্তাধারায় বিশ্বাসী হাজারো তরুণের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে অস্পষ্ট ধারণা আছে। এ লেখা কি তাদের ভুল বিন্দুমাত্র ভাঙ্গাবে?

ঝিনুক নীরবে সহো, নীরবে সয়ে যাও
ঝিনুক নীরবে সহো, মুখ বুঁজে মুক্তো ফলাও।

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

পার্বত্য চট্টগ্রামে জমি কেনা যাবে না বলে যে প্রপাগান্ডা প্রচলিত আছে, অনার্য্য সঙ্গীতের কথাতে তারই প্রতিধ্বনি পাওয়া গেল।

পার্বত্য চট্টগ্রামে জমি কেনা না কেনা বিষয়ক কোন প্রপাগান্ডার কথা আমি সত্যিই জানিনা। আমি রাজনীতি, ভুগোল, সমাজ, আইন এজাতীয় অনেক বিষয়ে পুরোপুরি মূর্খ মন খারাপ ! আমি পাহাড়িরা কি চায় সেটি জেনেছি আমার দুটি আদিবাসী বন্ধুর কাছ থেকে। তাদের মতে পাহাড়ীরা চায় না যে পাহাড়ে কোন বাঙালি বসতি গড়ুক। এই ব্যপারটি আমি সত্যিই মানতে নারাজ। আমি বাংলাদেশি। আমি বাংলাদেশের প্রতি ইঞ্চিতে আমার অধিকারে বিশ্বাস করি। চট্টগ্রামে জমি কেনায় যে আইন-ই থাকুক সেই আইন যেন সব বাংলাদেশির জন্য একই হয়। আমার চাওয়া কেবল এই।

ভারত, অস্ট্রেলিয়া, পপুয়া নিউ গিনি সহ অনেক দেশেই জমি ক্রয় বিক্রয়ে বিধি নিষেধ আছে। তাতে সে সব দেশের কোনো তি হয়নি। অখণ্ডতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি। আমাদের দেশেও তাই সে প্রশ্ন তোলা বাতুলতা।

মাফ করবেন। আমি কি সেই প্রশ্ন তুলেছি ! অ্যাঁ

প্রিয় অনার্য্য সঙ্গীত, পাহাড়ে আপনার মতো যারা জমি কিনে বাড়ি করতে চান...

আবারো মাফ করবেন। আমি পাহাড়ে জমি কিনে বাড়ি করার কোন অভিপ্রায় কি ব্যক্ত করেছি ! অ্যাঁ

...আপনি কি কোনোদিন সিলেটের পাহাড় কিংবা চট্টগ্রামের রাউজান, সীতাকুণ্ড এলাকার পাহাড়ি জমি কিনতে আগ্রহী হয়েছেন? উত্তর হবে, চাননি।

ভাই, তীব্র আক্রমনে অবাক হলাম এবং কষ্ট পেলাম। অ্যাঁ মন খারাপ

প্রিয় অনার্য্য সঙ্গীত, আপনিও কি দখলকারী বাঙালি কিংবা ইসরাইলিদের একজন হতে চান?

অবশ্যই না। আমি স্পষ্টভাবে তাদের বিচার চাই। হাসি

আনার্য্যর আগ্রাসী মনোভাব দেখে হতাশ হলেও অবাক হইনি

আমি সত্যিই অবাক হয়েছি। আপনার মন্তব্যের পর আমি প্রথমে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। ভেবেছি, হয়তো অমনস্কভাবে ভুল কিছু লিখেছি। নিজের মন্তব্যটি অনেকবার পড়লাম। নিজেকে আগ্রাসী মনে হয়নি। আপনি আরেকটু ব্যাখ্যা করলে হয়তো নিজের ভুলটুকু বুঝে নিয়ে আরেকটু ভাল মানুষ হতে পারতাম। দয়া করে আমাকে সাহায্য করবেন।

শুধু অনার্য্য সঙ্গীত নন, বাংলাদেশের দেশপ্রমিক ও প্রগতিশীল চিন্তাধারায় বিশ্বাসী হাজারো তরুণের...

বিনীতভাবে আপত্তি করছি। আমার দেশপ্রেমে খাদ আছে (অন্য অনেকের সঙ্গে মেলেনা মন খারাপ )। আর আমি একবারেই প্রগতিশীল নই। জন্ম এযুগে হলেও আমার বিশ্বাস সনাতনী।

আসলে আমি বলতে চাই, পাহাড়িদের উপর যে নির্যাতন হয়েছে তার সঠিক বিচার হোক এবং নির্যাতনের পুনরাবৃত্তিও না হোক। কিন্তু এই দাবী পুরণে আমি বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামার পক্ষপাতি নই। বরং আমি বিশ্বাস করি, যে কোন অন্যায়ের বিপক্ষেই আমরা সকল বাংলাদেশি একসঙ্গে লড়ব। আর সেই লড়াকু বাংলাদেশিদের নিয়েই সত্যিকারের বাংলাদেশ গঠিত।
____________________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ !

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

মাহবুবুল হক এর ছবি

এখন যদি আপনি বিচার না পান আর আমি পাই, সেটা নিশ্চয়ই অবিচার। সেই অবিচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামে আমি আপনার পক্ষে লড়তেও রাজি।

হক কথা।

পাহাড়ে নিরাপত্তার জন্য অতি-প্রয়োজনীয়গুলো ছাড়া সব সেনাক্যাম্প প্রত্যাহার করা উচিত। বিচার হওয়া উচিত সব হত্যাকান্ডের। (অবশ্য সত্যি কথা হচ্ছে আমাদের সেনাবাহিনির কাছে সরকারও অনেকসময় অসহায়)।

এ কথাটা পুরোপুরি মানতে পারছি না। সেনা ক্যাম্প বসানো বা প্রত্যাহার করা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার অংশ। এটা কমানো বা বাড়ানো সরকারের ব্যপার। প্রয়োজন সেনাবাহিনীর আচরণ পরিবর্তন আর সেটা নির্ভর করে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গীর ওপর। আপনার বন্ধনীর মন্তব্যটি এ কারণে সত্য যে আমাদের দেশ দীর্ঘকাল সেনাশাসন এর যাতাকলে পিষ্ট হয়েছে।

.....................................................................
[/i]দেয়ালে দেয়ালে মনের খেয়ালে লিখি কথা
আমি তো বেকার পেয়েছি লেখার স্বাধীনতা
[i]

--------------------------------------------------------
দেয়ালে দেয়ালে মনের খেয়ালে/ লিখি কথা ।
আমি যে বেকার, পেয়েছি লেখার/ স্বাধীনতা ।।

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

আমি আসলে বলতে চেয়েছি যে, সেনাক্যাম্প রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য যেগুলো প্রয়োজন সেগুলো থাকুক। পাহাড়িদের দমনের জন্য যেন না থাকে। ঠিক যেমন জরুরি অবস্থায় সারা দেশে ছিল।
____________________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ !

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

কী বলবো কিছু খুঁজে পাচ্ছি না...
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

সম্প্রীতি শব্দটা বড়ো হাস্যকর লাগে। আজকাল।
আজকাল অনেক কিছুতেই কিছু হয়টয় না।
কেবল। কেবল এই একটা শব্দ।
একটাদুটো শব্দ, যেমন "কেউ নেই" ... অদৃশ্য হাহাকারের জন্ম দিয়ে যায়।
কেউ নেই।
: ::: ::: ::: ::: ::: ::: ::: ::: ::: ::: ::: ::: ::: ::: ::: :
'Cinema is over' - Master Godard


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

অতিথি লেখক এর ছবি

আপনার কথায় ধারালো যুক্তি কোন সন্দেহ নেই। আপনার কষ্ট আমরা জানি তাই আমি পার্বত্য শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানাই। আমি জানি সবকিছু এখন ই ঠিক হয়ে যাবে না। আপনাদের প্রতি যা করা হয়েছে সেটা অন্যায় এবং একই দেশের মানুষের প্রতি শুধু এলাকা বা অন্য কোন কারনে বৈষম্যের ঘোর বিরোধী আমি। আঞ্চলিক বৈষম্য অন্যতম কারন আমাদের দেশ বিভাজনের জন্য। আমরা আপনার সাথে আছি , আপনাদের যেকোন সমস্যায় আমরা সুর মেলাবো। আপনারা এগিয়ে জান, নিজের অধিকার কেউ না দিলে সেটা ছিনিয়েই নিতে হয়। বৈষম্য নিপাত যাক সমধিকার মুক্তি পাক।

গরীব
সাউথ কোরীয়া

ইলিরা দেওয়ান [অতিথি] এর ছবি

ধন্যবাদ। আপনাদের মানসিক সহযোগিতা আমাকে আরো বেশি লেখার অনুপেরণা ও সাহস যোগাবে।
ইলিরা দেওয়ান

বিপ্লব রহমান এর ছবি

প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে লোগাং গণহত্যার প্রতিবাদ জানাচ্ছেন পাহাড়ি জনতা, ১৩ মে ১৯৯২, খাগড়াছড়ি

প্রিয় ইলিরা, এইসব যুদ্ধ দিনের কথা কী সত্যিই ভোলা যায়?
---
সচলে স্বাগতম। চলুক


একটা ঘাড় ভাঙা ঘোড়া, উঠে দাঁড়ালো
একটা পাখ ভাঙা পাখি, উড়াল দিলো...


একটা ঘাড় ভাঙা ঘোড়া, উঠে দাঁড়ালো
একটা পাখ ভাঙা পাখি, উড়াল দিলো...

ইলিরা দেওয়ান [অতিথি] এর ছবি

ধন্যবাদ, বিপ্লব রহমান, লেখার চিত্র টি ‌'ছবি' দিয়ে আরো বাস্তবভাবে ফুটে তুলতে সাহার্য্য করার জন্য।
ইলিরা দেওয়ান

বর্ষা এর ছবি

'এর পরও কি একজন সচেতন ছাত্রী হিসেবে জুম্ম জনগণের মুক্তিসংগ্রামে সম্পৃক্ত হওয়া যুক্তিযুক্ত নয়? এসব অন্যায়-অবিচারের প্রতিবাদ করতে তাই আজ রাজপথে নেমেছি। '------------বাংলাদেশে এই ইস্যুটি প্রত্যেক সরকারই অবহেলার চোখে দেখেছে।

আপনার লেখাটি মনটা অনেক স্যাতস্যাতে করে দিলো। আরো লেখা প্রত্যাশা করছি।

'আসলে যে কারণেই হোক, আমি যেমন পাকিস্তানকে ঘৃণা করি, ৭১ কে ভেবে আমি শিহরিত হই, আমি চাইনা বাংলাদেশকে ভেবেও কারো একই অনুভুতি হোক। নির্যাতনের কষ্ট কিন্তু বাঙালির রক্তে গেঁথে আছে ৭১ থেকে। পাকিস্তানি হানাদারদের যে জারজগুলা বাঙালির সম্মান ক্ষুন্ন করছে তাদের বিরুদ্ধে আমিও আপনার সঙ্গে লড়ব। লড়ব আমরা সবাই।'----সহমত।

********************************************************
আমার লেখায় বানান এবং বিরাম চিহ্নের সন্নিবেশনের ভুল থাকলে দয়া করে ধরিয়ে দিন।

********************************************************
আমার লেখায় বানান এবং বিরাম চিহ্নের সন্নিবেশনের ভুল থাকলে দয়া করে ধরিয়ে দিন।

ইলিরা দেওয়ান [অতিথি] এর ছবি

ধন্যবাদ, বর্ষা, আশা করছি ভবিষ্যতে লেখার মাধ্যমে আমাদের জানার ক্ষেত্রটি আরো বিস্তৃতি হবে।
ইলিরা দেওয়ান

রেনেসাঁ [অতিথি] এর ছবি

আমরা আছি আপনার সাথে । সেনাবাহিনীর অনেক রকম নির্যাতনের কথা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জনের কাছে শুনেছি। আপনার লেখায় সেই সমস্ত ঘটনার বিশদ বর্ণনা দেখতে চাই।

ইলিরা দেওয়ান [অতিথি] এর ছবি

ধন্যবাদ, রেনেসাঁ।

সচল জাহিদ এর ছবি

চমৎকার লেখা আর সেই সাথে তথ্যপূর্ণ। এই বিষয়ে আরো লিখবেন আশা রাখি। সচলে স্বাগতম।

----------------------------------------------------------------------------

জাহিদুল ইসলাম
zahidripon এট gmail ডট কম


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

ইলিরা দেওয়ান [অতিথি] এর ছবি

ধন্যবাদ, সচল জাহিদ। আশা করছি সচলের মাধ্যমে পাহাড়ের অজানা তথ্যকে আমরা উন্মোচন করে অন্য সবার সাথে শেয়ার করতে পারবো।
ইলিরা দেওয়ান

শাহেনশাহ সিমন এর ছবি

এমন আরো পোস্ট আপনার থেকে আশা করি। আরো ডিটেইলে।

একটাই দেশ আমাদের, এটাকে নিয়ে প্রচুর ভাঙাচোরার চেষ্টা হয়েছে। একসাথেই এর প্রতিরোধ করতে হবে।

_________________
ঝাউবনে লুকোনো যায় না

বর্ষা এর ছবি

ফিরোজ জামান চৌধুরী, ধন্যবাদ তথ্যবহুল একটি পোষ্ট দেবার জন্য। তবে আমার মনে হয় আপনি 'অনার্য্য সঙ্গীত' এর কথার মূলসুর ধরতে একটু ভুল করেছেন।

'আসলে কেউই কিনতে চায় না। সবাই দখল করতে চায়! ফাও খেতে চায়!! আপনার ইচ্ছা কি জানি না। তবে আপনার মতো অনেক শিক্ষিত বাঙালিরা পাহাড়ি হাজার হাজার একর জমি ছলে বলে কৌশলে দখল করেছে। '----'অনার্য্য সঙ্গীত' একবারও বলেননি কাজটি ঠিক হচ্ছে। উনি বলেছেন আইনের পথে যেতে। আইনের পথে গেলে ছলে বলে কৌশলে জমি দখলের ব্যাপারটি অবশ্যই রোখা যেতো। যেহেতু সরকারের পক্ষ হতেই পার্বত্য চট্টগ্রামকে দুয়োরানীর চোখে দেখা হয়, তাই সমতলের বাঙ্গালীরা পাহাড়ে অনাচারের সাহস পায়।

পাহাড়িদের বাঙালি না বলাটাই কিন্তু একধরনের বিভাজন। আমরা সিলেটি, বরিশালি,খুলনার, রাজশাহীর বা পার্বত্য চট্টগ্রামের হতে পারি----কিন্তু আমরা সবাইতো বাঙ্গালী। যেহেতু পাহাড়িদের ভাষা, সংস্কৃতি আলাদা, তাই ওদের চাকরী বা অন্য ক্ষেত্রে কোটার সুযোগ আছে--- কিন্তু সেই পর্যন্ত পৌছানোর জন্য ওদের মূল চাহিদা এবং বেঁচে থাকার অধিকার সরকার নিশ্চিত করতে পারেনি,পারছেনা এবং করার কোনো আগ্রহ ও নেই। সেইজন্যই শান্তিবাহিনীর উদ্ভব, সেনাবাহিনীর নাক গলানো।

'বাংলাদেশের দেশপ্রমিক ও প্রগতিশীল চিন্তাধারায় বিশ্বাসী হাজারো তরুণের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে অস্পষ্ট ধারণা আছে। '---এটির সাথে আমি সহমত। আমার তাই মাঝে মাঝে মনে হয় পাকিস্তানের সাধারণ জনগনের যে ৭১ সম্পর্কে অস্পষ্ট ধারণা আছে, তার জন্য কি তাদের ঢালাও ভাবে দায়ী করা যায়? আমরা কি সেই একই অপরাধের অপরাধী নই?

********************************************************
আমার লেখায় বানান এবং বিরাম চিহ্নের সন্নিবেশনের ভুল থাকলে দয়া করে ধরিয়ে দিন।

********************************************************
আমার লেখায় বানান এবং বিরাম চিহ্নের সন্নিবেশনের ভুল থাকলে দয়া করে ধরিয়ে দিন।

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

আপু ইজ্জত বাঁচাইলা। কবে কোথায় কি খাবা বলো... হাসি
____________________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ !

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

ফিরোজ জামান চৌধুরী এর ছবি

প্রিয় বর্ষা,
প্রতিক্রিয়ার জন্য ধন্যবাদ। আপনি আন্তরিকতার সঙ্গেই বিষয়টির ব্যাখ্যা দিতে চেয়েছেন।

আপনি লিখেছেন, 'পাহাড়িদের বাঙালি না বলাটাই কিন্তু একধরনের বিভাজন।' কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হচ্ছে, এটি বাঙালি জাতীয়তাবাদের একটি বড় ধরনের ভ্রান্তি এবং আধিপত্যবাদি মনোভাবের প্রকাশ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবও এই বিশ্বাস ধারন করতেন। (মাহবুবুল হক বিষয়টির উল্লেখ করেছেন)। ১৯৭৩ সালে রাঙামাটির এক জনসভায় বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, 'আজ থেকে তোমরা বাঙালি হয়ে যাও।'
তাঁর এই বক্তব্য পাহাড়িদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছিল। পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত সাংসদ এম এন লারমা জাতীয় সংসদে বলেছিলেন, 'আমি বাঙালি নই, আপনিও যেমন চাকমা নন। আপনি আমি দুজনেই বাংলাদেশের নাগরিক। কিন্তু আমাদের প্রত্যেকর আলাদা আলাদা জাতীয়তা ও পরিচয় আছে।'
তৎকালীন সরকার বিষয়টির মোটেও গুরুত্ব না দেওয়ায় পাবর্ত্য চট্টগ্রাম নিয়ে রাজনৈতিক বিবাদের সূত্রপাত হয়।

মূল সমস্যা তৈরি করে জেনারেল জিয়া সরকারের সময় ইসরাইলি কায়দায় অবৈধভাবে বাঙালি বসতি স্থাপনের মাধ্যমে। জেনারেল এরশাদ সরকার দমন-পীড়নের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। প্রায় দুই দশক (১৯৭৭-১৯৯৭) ধরে চলে সশস্ত্র যুদ্ধ। এর পর ১৯৯৭ সালে শান্তির লক্ষে সাক্ষরিত হয় পাবর্ত্য চুক্তি।

কিন্তু এ চুক্তি নিয়ে ১২ বছর ধরে সরকারের ছলাকলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দেয়নি। মুখে শান্তির কথা না বলে আসুন আমরা পারস্পরিক আস্থার জায়গাটি তৈরি করি। এখানেই প্রয়োজন পাহাড়ি বাঙালি সবার ঐক্যমত্য।

ঝিনুক নীরবে সহো, নীরবে সয়ে যাও
ঝিনুক নীরবে সহো, মুখ বুঁজে মুক্তো ফলাও।

মাহবুবুল হক এর ছবি

বর্ষা--

পাহাড়িদের বাঙালি না বলাটাই কিন্তু একধরনের বিভাজন। আমরা সিলেটি, বরিশালি,খুলনার, রাজশাহীর বা পার্বত্য চট্টগ্রামের হতে পারি----কিন্তু আমরা সবাইতো বাঙ্গালী।
--- ভুল । মারাত্মক ভুল। একই ভুল শেখ মুজিবও করেছিলেন। জাতিসত্তা, বা জাতীয়তা আর আঞ্চলিকতা এক বিষয় নয়। আমি বাঙালি, ওরা গারো বা সাঁওতাল, সে চাকমা, তারা মারমা কিংবা ম্রো, খাসিয়া বা ওরাওঁ জাতিসত্তার এই বিভিন্নতা নৃতাত্তিক। এর ভিত্তি ভৌগলিক পরিবেশ ও আবহাওয়ার সাথে মানুষের জীবন-যাপন প্রণালীর হাজারহাজার বছরের বোঝাপড়া। যদি হাজার বৎসর ধরে ক্রমাগত জৈবিক সংকরায়ণ না চলে তাহলে আমি বাঙালি থেকে কখনো বেদুঈন যেমন হবো না তেমনি একজন চাকমা কখনো বাঙালি হবে না। এই ভিন্নতাই তো আমাদের ঐশ্বর্য। আমাদের বৈচিত্র্যই আমাদের সমৃদ্ধি।

যেহেতু সরকারের পক্ষ হতেই পার্বত্য চট্টগ্রামকে দুয়োরানীর চোখে দেখা হয়, তাই সমতলের বাঙ্গালীরা পাহাড়ে অনাচারের সাহস পায়।
---- আপনার এ কথাটা মেনে নিতে পারছি না। পার্বত্য চট্টগ্রামকে সরকার দুয়োরাণীর চোখে দেখবে কেন ? ওই এলাকা বাংলাদেশের সবচেয়ে ভালনারেবল ( ঝুঁকিপূর্ণ ) এলাকা। আন্তঃদেশীয় চোরাচালান, অস্ত্র ব্যবসা, মাদক থেকে শুরু করে জাতিগত সন্ত্রাস সবকিছু পাহাড়ে যতটা নিশ্চিন্তে চালানো সম্ভব ততটা বাংলাদেশের আর কোথাও নয়। তাই সেদিকে সরকারের নজর বেশি। সেটা সব সরকারেরই। তবে সেটলার/পাহাড়ী দ্বন্দ্ব বা সেনাবাহিনীর অত্যাচার এগুলো কোনো কোনো রাজনৈতিক দর্শনের সৃষ্টি যা আমি আগেও লিখেছি আর ফিরোজ জামান চৌধুরী তার লেখায় তথ্যসহ উল্লেখ করেছেন।

বিপ্লব রহমান, শাহেনশাহ, রেনেসাঁ যুদ্ধ দিনের কথা স্মরণ করিয়ে দেন, সেনাবাহিনীর অত্যাচারের কথা দথল দারিত্বের কথা ডিটেইল জানতে চান
-- আমি এর মধ্যে কোন সমাধান বা প্রশমন পাই না, পাঠক ভেদে রোমাঞ্চ বা কষ্ট বা হতাশা পাওয়া যেতে পারে। আমি নিজেই কয়েকটি ঘটনার স্বাক্ষী। তন্মধ্যে একটি উল্লেখ করছি--
থানছি থেকে বান্দরবান ফিরছি। একমাত্র বাস সার্ভিস। আপ-ডাউন একবারই করে। মিস করলে কপাল চাপড়ানো ছাড়া কিছু করার নেই। সবাই থানছি থেকে টিকিট নিয়ে বাসে উঠেছে।তন্মধ্যে কয়েকটা সিট খালি । প্রায় কৃড়ি মাইল যাওয়ার পর একটা চেকপোস্টে এসে বাস থামলো এবং সেখান থেকে সেনাবাহিনীর কিছু বাক্সপেটরা তোলা হল বাসের আসনগুলোর মাঝখানে। সঙ্গীদের কাছ থেকে জানলাম সেনাবাহিনীর মালামাল পরিবহন যেকোন পরিবহন সার্ভিসকে যেকোন সময় করতে হয়। তাদের জন্য দুতিনটা সিট নাকি সবসময় খালিও রাখতে হয়। বুঝতে পারলাম কেন যাত্রি থাকার পরও থানছি থেকে বাসটি কয়েকটা সিট খালি নিয়ে এলো। সেগুলোতে যথারীতি সেনাবাহিনীর কযেকজন সদস্য (সিভিল পোষাকে) বসলো।তারপরও বাস ছাড়ছে না। দেরী কেন তার কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখলাম। তাদের আরো দুটি সিট চাই কিন্তু দেয়া সম্ভব নয় বিধায় বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা সেনা সদস্যরা খুব হম্বিতম্বি করছে। কিন্তু ড্রাইভার অসহায়- প্রত্যেকেই টিকিটধারী যাত্রী । পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। সেনাসদস্যরা অকথ্য গালাগাল শুরু করেছে যার কিছু আমার কানেও এলো ( ভাষা শুনলে কান পঁচে যাবে) । কিন্তু ড্রাইভার অনড় ( কারণ সে বাঙালি, পাহাড়ি হলে খবর ছিল)। অবশেষে দেখলাম সিট থেকে দুজন পাহাড়িকে ( মাঝ বয়সী হবে) নামিয়ে দয়া হল আর সেগুলো দথল করে চললো সেনাবাহিনীর লোক। ক্ষোভে-দুঃখে আমার নিজেরই সিট ছেড়ে দিতে ইচ্ছে হচ্ছিল। কিন্তু এখানে কোন সিন ক্রিয়েট করা যাবে না বলে সতর্ক করে দিল আমার সঙ্গী-সাথিবা। ২০/২৫ মাইল দূরে পাহাড়ি পথে যাদের নামিয়ে দেয়া হল তারা কিভাবে গন্তব্যে পৌঁছবে? কোথায় যাবে? হাঁটা ছাড়া তাদের কোন পথ নেই, কিন্তু হেঁটে তারা যাবেই বা কিভাবে? হায়, এটা কেমন রাজা কেমন নীতি ? এ তো মগের মু্ল্লুক ! বিষয়টি আমি পরে আমার এক বন্ধুর সাথে আলোচনা করেছিলাম। আমাকে অবাক করে দিয়ে সে বললো, এমন একটা সময় ছিলো যখন বাসে একজন পাহাড়ি থাকলেও তাকে নামিয়ে দেয়া হত অন্য সবার (বাঙালি) নিরাপত্তার স্বার্থে । এখন তো আর সেরকম হচ্ছে না। পরিবেশ সে তুলনায় অনেক ভালো। আমি হা হয়ে থাকি, উত্তর খুঁজে পাইনা। এভাবে সারাক্ষণ নিরাপত্তাহীনতার ধুয়া তুলে যারা সেখানে বাস করছে তারা কি আসলে মানুষের জীবন যাপন করছে। কিছু সেনাক্যাম্প আর সেনাআইনকে বহাল রাখার জন্য বছরের পর বছর সেখানে এমন অত্যাচার চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আর আমরা দেথেও না দেখার ভাণ করছি। জেনেও না জানার ভাব দেখাচ্ছি।

দখলদারিত্বের যে নমুনা দেথে এসেছি সে গল্প না হয় থাক। এ বিষয়ে আলোচনা উত্থাপনের জন্য ইলোরাকে ধন্যবাদ।

................................................................
দেয়ালে দেয়ালে মনের খেয়ালে লিখি কথা
আমি তো বেকার পেয়েছি লেখার স্বাধীনতা

--------------------------------------------------------
দেয়ালে দেয়ালে মনের খেয়ালে/ লিখি কথা ।
আমি যে বেকার, পেয়েছি লেখার/ স্বাধীনতা ।।

গৌতম এর ছবি

ইলিরা দেওয়ান ও মাহবুবুল হকের লেখা পড়ে থমকে গেলাম।

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

::: http://www.bdeduarticle.com
::: http://www.facebook.com/profile.php?id=614262553/

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

ইলিরা দেওয়ান [অতিথি] এর ছবি

জনাব মাহবুবুল হকের মত অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে আপনাকে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্বাগতম জানাতে চাই।

গৌতম এর ছবি

কাজের সূত্রে আমাকে মাঝেমাঝেই পার্বত্য চট্টগ্রামে যাতায়াত করতে হয়। যেহেতু আপনার ইমেইল অ্যাড্রেস এখানে দেওয়া আছে, তাই আগামীবার যাওয়ার আগে আপনার সাথে যোগাযোগ করবো। ধন্যবাদ।

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

::: http://www.bdeduarticle.com
::: http://www.facebook.com/profile.php?id=614262553/

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

ফিরোজ জামান চৌধুরী এর ছবি

আমার এক পাহাড়ি বন্ধু সেদিন বলছিলেন, জমি ক্রয়-বিক্রয়ে বিধিনিষেধ থাকার পরও পাহাড়িদের প্রায় অর্ধেক জায়গা দখল করে নিয়েছে বাঙালিরা। আর বিধিনিষেধ না থাকলে তো পুরোটাই দখল হয়ে যেত। এখন আমরা ঘরবাড়ি হারিয়ে অর্ধেক পাহাড়ি উবাস্তু হয়েছি, তখন সবাইকে পথে পথে ঘুরতে হতো।

আমাকে সে পাল্টা প্রশ্ন করল, আপনাকে আপনার বাড়ি থেকে উচ্ছদ করে যদি আপনাকে সমঅধিকারের কথা বলা হতো তাহলে আপনার কি ভালো লাগতো? আমি তাকে কোনো জবাব দিতে পারিনি। শুধু ক্ষমা চেয়েছি। একজন বাঙালি হয়ে আমার বাঙালি স্বজাতি ভাইদের অবৈধ দখলের ঘটনায় আমার নিজেকে খুবই অপরাধী মনে হয়েছে।

ঝিনুক নীরবে সহো, নীরবে সয়ে যাও
ঝিনুক নীরবে সহো, মুখ বুঁজে মুক্তো ফলাও।

বর্ষা [অতিথি] এর ছবি

প্রথমেই বলে রাখছি, আমার এই বিষয়ে পড়াশুনা একদম নেই। আমার ২ বন্ধু আছে তাদের সাথে কথা তাদের হতাশা শুনেছি খালি। ইলিরা দেওয়ানদের লেখা আরো বেশি করে আসা উচিত কারণ এই বিষয়টি বহুওবছর ধরে উপেক্ষিত।
'আমি বাঙালি, ওরা গারো বা সাঁওতাল, সে চাকমা, তারা মারমা কিংবা ম্রো, খাসিয়া বা ওরাওঁ জাতিসত্তার এই বিভিন্নতা নৃতাত্তিক। '---সহমত। কিন্তু একই রাষ্ট্রকাঠামোতে ভেতর থাকায় আমাদের কি একটি কমন পরিচয় থাকা উচিত নয়? যদি সেই টার্মটা 'বাংলাদেশী' হোউক সমস্যা নাই। আমাদের দেশের কাউকে আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ফেলে দেয়ার অধিকার কি আমাদের আছে?

'ওই এলাকা বাংলাদেশের সবচেয়ে ভালনারেবল ( ঝুঁকিপূর্ণ ) এলাকা। আন্তঃদেশীয় চোরাচালান, অস্ত্র ব্যবসা, মাদক থেকে শুরু করে জাতিগত সন্ত্রাস সবকিছু পাহাড়ে যতটা নিশ্চিন্তে চালানো সম্ভব ততটা বাংলাদেশের আর কোথাও নয়। তাই সেদিকে সরকারের নজর বেশি। সেটা সব সরকারেরই। '----তাইকি? ওদের বেসিক নিডগুলোর দিকে কি কোনো সরকার নজর দিয়েছে? ওই অঞ্চলের মানুষগুলোর জন্য সরকার কি করেছে?

আর সেনাবিহিনী তো বাংলাদেশের না কি!! এদের কন্ট্রোল করা কি সরকারের আয়ত্বের বাইরে হওয়া উচিত?
দখলদারিত্বের ব্যাপারটি আমার যতটুকু মনে পড়ে কোনো এক সরকারই প্রথম শুরু করেছিলো। সমতলবাসীরা সাহসটা পাচ্ছে কি করে? এরাতো একজেলা থেকে আরেক জেলায় হামলা করছে না। করছে পাহাড়ে গিয়ে কারণ জানে এইখানে আইনের ফাঁক বিদ্যমান কেউ কিছু বলার নাই।

ইলিরা দেওয়ান  [অতিথি] এর ছবি

বর্ষা, ধন্যবাদ আপনার অকপট স্বীকারোক্তির জন্য। আসলে আইডেন্টিটি সংকটটা তৈরী করেছে রাষ্ট্র। ৭২ সালে সংবিধান রচনাকালে এ সব জাতিসত্ত্বাদের অস্তিত্ব স্বীকার করে নিলে আজ দেশ অন্য রকম বাংলাদেশ হতে পারত! কিন্তু রাষ্ট্র এবং বৃহত্তর জাতিগোষ্ঠীর একটা অংশ এটা মানতে নারাজ বলে এ সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করেছে। আমি মনে করি, এখনো শোধরানোর সময় আছে। পাহাড়িরা আলাদা কোন রাষ্ট্র দাবী করছে না, তারা তাদের স্বতন্ত্রতা নিয়ে সাংবিধানিক স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকতে চায় মাত্র।
আর পার্বত্য চট্টগ্রামকে 'ভারনারেবল 'এলাকা হিসেবে মানতে আমি নারাজ। কেননা সেখানে যদি মাদক, চোরাচালান, অস্ত্র ব্যবসা চলেও থাকে তাহলে সেটি ঘটে সম্পূর্ন নিরাপত্তা বাহিনীর গোচরে এবং মদদে। কাজেই আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে এই শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে! আসুন, সকলে মিলে এ কাজে হাত দিই।

মাহবুবুল হক এর ছবি

আসলে আইডেন্টিটি সংকটটা তৈরী করেছে রাষ্ট্র। ৭২ সালে সংবিধান রচনাকালে এ সব জাতিসত্ত্বাদের অস্তিত্ব স্বীকার করে নিলে আজ দেশ অন্য রকম বাংলাদেশ হতে পারত!

বাংলাদেশের সংবিধানে বাঙালি জাতীয়তাবাদের কথা ছিল, বাঙালির কথা আছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনকে সফল করতে এর কোন বিকল্প ছিল না, জাতীয়তাবাদ ছাড়া স্বাধীকার আন্দোলন ব্যর্থ হতে বাধ্য। কিন্তু সংবিধানের কোথাও অন্য জাতিসত্ত্বাগুলোকে খর্ব বা অস্বীকার করা হয় নি। বরং সব জাতিগোষ্ঠী মিলে সম্প্রীতির কথা স্পষ্ট ও জোরালোভাবে বলা আছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে কি অভিবাসী আমেরিকানদের জাতিগত পরিচয় উদ্ধৃত করা আছে ? তারপরও আমি মনে করি সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশে সকল জাতিগোষ্ঠীর স্থান থাকা উচিত।

পার্বত্য চট্টগ্রামকে 'ভারনারেবল 'এলাকা হিসেবে মানতে আমি নারাজ।

এটা মানা না মানার প্রশ্ন নয় । ভৌগলিক কারণেই এলাকাটি ভালনারেবল। প্রশাসনযন্ত্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য নজরদারী ও নিরাপত্তাবিধান কষ্টকর, অনেক ক্ষেত্রে দুঃসাধ্য।
বাংলাদেশে এমন এলাকা আর নেই তা নয়। তবে এত বড় এলাকা আর নেই।

--------------------------------------------------------
দেয়ালে দেয়ালে মনের খেয়ালে লিখি কথা
আমি তো বেকার পেয়েছি লেখার স্বাধীনতা

--------------------------------------------------------
দেয়ালে দেয়ালে মনের খেয়ালে/ লিখি কথা ।
আমি যে বেকার, পেয়েছি লেখার/ স্বাধীনতা ।।

মাহবুবুল হক এর ছবি

কিন্তু একই রাষ্ট্রকাঠামোতে ভেতর থাকায় আমাদের কি একটি কমন পরিচয় থাকা উচিত নয়? যদি সেই টার্মটা 'বাংলাদেশী' হোউক সমস্যা নাই। আমাদের দেশের কাউকে আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ফেলে দেয়ার অধিকার কি আমাদের আছে?

'বাংলাদেশি ' টার্মে কোন সমস্যা নেই, সমস্যা প্রয়োগে। আইডেনটিটি ক্রাইসিসে কেউ নিজে নিজে পড়লে আপনি ঠেকাবেন কি করে ? আমি জন্মগতভাবে বাঙালি এবং বাংলাদেশি দুটোই। আমি তো কোনটাকে বাদ দিতে পারি না। 'ন্যাশনালিটি' এবং 'রেস' এই দুটোকে গুলিকে ফেললে তো আইডেনটিটি ক্রাইসিসি থেকে কোনকালে বের হওয়া যাবে না। একজন গারো আদিবাসী পাসপোর্টে লিখবে বাংলাদেশি কিন্তু তার মানে কি সে গারো নয় ?

ওদের বেসিক নিডগুলোর দিকে কি কোনো সরকার নজর দিয়েছে? ওই অঞ্চলের মানুষগুলোর জন্য সরকার কি করেছে?

সারা দেশের মানুষই মৌলিক চাহিদাগুলোর সংকটে বা টানাটানিতে আছে। আর ওই অঞ্চলে সেনাবাহিনী বা নিরাপত্তা যে কারণেই হোক না কেন রাস্তাঘাট-স্কুল-কলেজ- হাসপাতাল -এর বেশ উন্নতি চোখে পড়েছে। থানচির দুর্গম এলাকায় ( তাও অবশ্য সদর এলাকা) যে বিশাল সরকারি হাসপাতাল দেথেছি ( চিকিৎসক মাসে কদিন সেখানে থাকেন এ প্রশ্ন করবেন না) তাতে মনে মনে সরকারকে (তা যে সরকারই হোক না কেন) ধন্যবাদ দিয়েছি অনেকবার , আর ভেবেছি, এমন এলাকায় রাস্তাঘাট-অডিটরিয়াম- হাসপাতাল বানাতে কি ঝক্কিটাই না গেছে। অন্তত ঢাকার যে এলাকায় আমি থাকি তার চেয়ে শতগুনে ভালো রাস্তাঘাট-- কেবল উঁচুনিচু এই যা।

--------------------------------------------------------
দেয়ালে দেয়ালে মনের খেয়ালে লিখি কথা
আমি তো বেকার পেয়েছি লেখার স্বাধীনতা

--------------------------------------------------------
দেয়ালে দেয়ালে মনের খেয়ালে/ লিখি কথা ।
আমি যে বেকার, পেয়েছি লেখার/ স্বাধীনতা ।।

ফিরোজ জামান চৌধুরী এর ছবি

ইলিরা দেওয়ানের কাছ থেকে এ বিষয়ে আরও লেখা প্রত্যাশা করছি।

ইসু বহির্ভূত:
প্রিয় মডারেটরবৃন্দ, ইলিরা দেওয়ানকে নিজ নামে লেখার সুযোগ করে দেওয়া যায় কি?

ঝিনুক নীরবে সহো, নীরবে সয়ে যাও
ঝিনুক নীরবে সহো, মুখ বুঁজে মুক্তো ফলাও।

ইলিরা দেওয়ান এর ছবি

আমাকে নিজস্ব অ্যাকাউন্ট দেওয়া হয়েছে। সচলায়তন কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ।

মুক্ত করো ভয়, আপনা মাঝে শক্তি ধরো, নিজের করো জয়।

বর্ষা এর ছবি

ফিরোজ জামান চৌধুরী,
আজ ঢুকে দেখছি, আপনার আর আমার মন্তব্য প্রায় একি সুর ধারণ করেছে ( আপ্নারটা অনেক তথ্যবহুল)। আসলে আপনি যখন পোষ্টটা আলাদা ভাবে দিয়েছিলেন, আমি তখুনি পড়েছিলাম ( আপনার ব্লগটি)। আমার কাছে অনার্য্য সঙ্গীত ও আপনি দু'জনেই অপরিচিত কিন্তু আমার মনে হয়েছিলো অনার্য্য সঙ্গীতের সাথে আপনার মনোভাবের অমিল নেই। তাই ধরিয়ে দেবার চেষ্টা করেছি মাত্র।
আপনার পোষ্টের পরের মন্তব্য গুলো বরং অনেক তথ্যবহুল। যেমন আমি মুজিবের এই ভাষনটা সম্পর্কে জানতাম না।

আপনি, ইলিরা দেওয়ান, মাহবুবুল হক মিলে যদি সিরিজ করে লেখাগুলো লিখতেন আমরা সবাই পড়ে উপকৃত হতাম।

********************************************************
আমার লেখায় বানান এবং বিরাম চিহ্নের সন্নিবেশনের ভুল থাকলে দয়া করে ধরিয়ে দিন।

********************************************************
আমার লেখায় বানান এবং বিরাম চিহ্নের সন্নিবেশনের ভুল থাকলে দয়া করে ধরিয়ে দিন।

ফিরোজ জামান চৌধুরী এর ছবি

ধন্যবাদ বর্ষা। আপনার চিন্তা আমাকে মুগ্ধ করল।

আপনি লিখেছেন, ‌'আপনি, ইলিরা দেওয়ান, মাহবুবুল হক মিলে যদি সিরিজ করে লেখাগুলো লিখতেন আমরা সবাই পড়ে উপকৃত হতাম। '

এর জবাবে বলছি, আমি মাহবুবুল হককে চিনি না, তাঁকে লেখালেখির সূত্রে চিনি মাত্র, যেমনটা আপনাকে চিনি, তাঁর সঙ্গে কোনো দিন দেখা হয়নি।
আর ইলিরা দেওয়ান তো বিখ্যাত ব্যক্তি, তাঁকে সবাই চেনে। কিন্তু আমাদের তিনজনের পরস্পর পরিচয় নেই। তাই তিনজন একসঙ্গে মিলে লেখা কি সম্ভব? তাছাড়া তিনজনের চিন্তারও নিশ্চয় অমিল থাকবে। তবে আপনার প্রস্তাবের জন্য ধন্যবাদ।

আমি বরং মাহবুবুল হক ও ইলিরা দেওয়ানকে অনুরোধ করব, আপনারা এই ইস্যুতে আরও লিখুন। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধারনা স্পষ্ট হওয়া দরকার।

ঝিনুক নীরবে সহো, নীরবে সয়ে যাও
ঝিনুক নীরবে সহো, মুখ বুঁজে মুক্তো ফলাও।

মাহবুবুল হক এর ছবি

আপনিও লিখুন, সবাই মিলেই লিখি।
--------------------------------------------------------
দেয়ালে দেয়ালে মনের খেয়ালে লিখি কথা
আমি তো বেকার পেয়েছি লেখার স্বাধীনতা

--------------------------------------------------------
দেয়ালে দেয়ালে মনের খেয়ালে/ লিখি কথা ।
আমি যে বেকার, পেয়েছি লেখার/ স্বাধীনতা ।।

বর্ষা এর ছবি

ইলিরা দেওয়ান,
আমি নিজে অনিশ্চিত শৈশবের মাঝে বড় হয়েছি। সত্যি বলতে কি, আপনার লেখাটা পড়ে আমি হু হু করে কেঁদেছি। উমম, আসলে কি এই সব সমস্যার সমাধান কিন্তু সরকারের হাতে, আমরা ঠিক কতোটুকু পরিবর্তন আনতে পারবো আমি ঠিক জানিনা। আমরা খালি যে কাজটি করতে পারি তা হলো মিডিয়ায় অনেক চেচামেচি করে সরকারের কান অবধি বিষয়টি তোলার নিরন্তন চেষ্টা।

********************************************************
আমার লেখায় বানান এবং বিরাম চিহ্নের সন্নিবেশনের ভুল থাকলে দয়া করে ধরিয়ে দিন।

********************************************************
আমার লেখায় বানান এবং বিরাম চিহ্নের সন্নিবেশনের ভুল থাকলে দয়া করে ধরিয়ে দিন।

ইলিরা দেওয়ান এর ছবি

উদ্ধৃতি: 'আমি নিজে অনিশ্চিত শৈশবের মাঝে বড় হয়েছি। সত্যি বলতে কি, আপনার লেখাটা পড়ে আমি হু হু করে কেঁদেছি।'

প্রিয় বর্ষা, আপনার এই কথা পড়ে চোখে পানি এসে গেল।
সরকারের নীতিনির্ধারকেরা যদি আপনার মতো হতো!
ভালো থাকুন।

মুক্ত করো ভয়, আপনা মাঝে শক্তি ধরো, নিজের করো জয়।

ইলিরা দেওয়ান এর ছবি

এ আলোচনার ইতি টানা দরকার। আমার লেখার ভিত্তিতে আপনারা যে প্রতিক্রয়া দেখিয়েছেন, তাতে আমি অভীভূত।

পথিক, ফিরোজ জামান চৌধুরী, মাহবুবুল হক, বিপ্লব রহমান, অনার্য্য সঙ্গীত, নজরুল, গৌতম, অনিন্দ্য রহমান, গবীর, সচল জাহিদ, বর্ষা - এই লেখায় আপনারা যারা প্রতিক্রয়া ও মন্তব্য করেছেন তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ।

আপনাদের অনুপ্ররণায় আমি উৎসাহ বোধ করছি। ভবিষ্যতে আরও লেখার ইচ্ছা রইল। সব সময় আপনাদের সাথে পাবো বলে আশা করছি।

আপনারা পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যুতে আমার কাছে প্রশ্ন করতে পারেন, আমি উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো।

সবাই ভালো থাকুন।
সবার সুসাস্থ্য কামনায়

ইলিরা দেওয়ান
iliradewanএ্যাট ইয়াহু ডট কম

মুক্ত করো ভয়, আপনা মাঝে শক্তি ধরো, নিজের করো জয়।

জুম্ম [অতিথি] এর ছবি

ইলিরাদি, আমার মনে হয়, বিষয়টি আলোচনা দরকার।আমি ও একজন ভীকটিম। আপনার লেখা পড়ে আমার শরনার্থী জীবনের কথা মনে করিয়ে দেয়। সময় পেলে একদিন শেয়ার করব এখানে (যদি মডুরা দয়া করেন আর কি..)। ধামাই...

ইলিরা দেওয়ান এর ছবি

ধন্যবাদ জুম্ম।
তুমি কে দাদা, তোমাকো ছদ্মনামে তো চিনলাম না।
আমার ইমেইলে যোগাযোগ করতে পারো।

মুক্ত করো ভয়, আপনা মাঝে শক্তি ধরো, নিজের করো জয়।

ইলিরা দেওয়ান এর ছবি

ধন্যবাদ জুম্ম।
তুমি কে দাদা, তোমাকো ছদ্মনামে তো চিনলাম না।
আমার ইমেইলে যোগাযোগ করতে পারো।

তোমার লেখার প্রত্যাশায় রইলাম।

মুক্ত করো ভয়, আপনা মাঝে শক্তি ধরো, নিজের করো জয়।

মাহবুবুল হক এর ছবি

জুম্মর সাথে সহমত। বিষয়টি নিয়ে অনেক মিথষ্ক্রিয়া প্রয়োজন। কারণ অনেকগুলো ভুল ধারণা আমাদের সবাইকে পরষ্পর থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। এ দূরত্ব ঘুচানো প্রয়োজন। রাষ্ট্র এক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা হতে পারে না। আসলে রাষ্ট্র তো আমরাই গড়ি তাই না ? পার্বত্য অঞ্চলে আমার বিচরণ মাত্র দুই কি তিন বারের। কিন্তু সমতলের আদিবাসীদের কয়েকটি এলাকায় আমি স্রেফ ঘুরতে গিয়েছিলাম বিভিন্ন সময়। একই সঙ্কট সেখানেও । ২০০০ সালে বিশ্ব আদিবাসী দিবসে গণউন্নয়ন গ্রন্থাগার আয়োজিত এক সেমিনারের জন্য মূল প্রবন্ধ লিখতে গিয়ে প্রথম এই বেদনদায়ক ইতিহাসের পরিচয় পাই। তারপর থেকে এমন একটি মুক্ত আলোচনার ক্ষেত্র খুঁজছিলাম। বিভিন্ন সেমিনারে নীতিনির্ধারকদের তাত্ত্বিক বকবকানি অর্থহীন, ফালতু ।প্রয়োজন আমাদের নিজেদের মধ্যে ব্যপক আলোচনা। ইলিরা দেওয়ানকে এ আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করছি।
ব্লগটিকে প্রিয় পোস্টের তালিকায় রাখলাম

--------------------------------------------------------
দেয়ালে দেয়ালে মনের খেয়ালে লিখি কথা
আমি তো বেকার পেয়েছি লেখার স্বাধীনতা

--------------------------------------------------------
দেয়ালে দেয়ালে মনের খেয়ালে/ লিখি কথা ।
আমি যে বেকার, পেয়েছি লেখার/ স্বাধীনতা ।।

ইলিরা দেওয়ান এর ছবি

ধন্যবাদ মাহবুবুল হক।
আশা করছি আমাদের সবার নতুন নতুন লেখার মাধ্যেম বিষয়টি নিয়ে মিথসক্রিয়া হবে।

মুক্ত করো ভয়, আপনা মাঝে শক্তি ধরো, নিজের করো জয়।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।