নিজ দেশে পরবাসী এক মুক্তিযোদ্ধা আদিবাসী

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: শুক্র, ১৫/০১/২০১০ - ৩:২৮অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ডিসেম্বর মাস।আনন্দ আর কান্নার বিজয়ের মাস।চারদিকে চলছে বিজয় উদ্যাপনের নানা আয়োজন।দিনাজপুর শহর থেকে রওনা হয়েছি একজন মুক্তিযোদ্ধার খোঁজে।শহর পেরিয়ে চরপড়া কষ্টের পুর্ণভবা নদী।ব্যস্ত ব্রীজ থেকে এখন আর কেউ আগ্রহ নিয়ে নদী পানে তাকায় না।ব্রীজ পেরিয়ে সোজা বিরলের পথ।ধানকাটার পর দু’দিকের বিস্তীর্ণ মাঠে পড়ে আছে অজস্র ধান গাছের মোথা। দূরে কোন গ্রাম্যবাজার থেকে ভেসে আসছে মুক্তিযুদ্ধের সময়কালীন গানের ভাঙ্গা ভাঙ্গা সুর, ‘তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেব রে’।গানের তালেই চলছি আমরা। মাঝে মধ্যেই সাইড দিতে হচ্ছে ছোট ভটভটি আর বাবরি চুল সাদৃশ্য ধান বোঝাই বড় ট্রলিকে। ভটভটি আর ট্রলিগুলোতে পত্ পত্ করে উড়ছে লাল সবুজের পতাকা । ডিসেম্বর তাই সকলের পতাকা ওড়ানোর স্বাধীনতার মাস।

আট কিলো পথ পেরিয়ে পৌছে গেলাম বিরল উপজেলা সদরে।দিনটি ১৪ ডিসেম্বর।মুক্তিযুদ্ধের নানা স্লোগান লেখা বড় বড় ব্যানার ঝুলছে সবখানে।বিজয় মেলা, মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা আর শিশু-কিশোরদের কুচকাওয়াজসহ নানা আয়োজনের টানটান প্র¯ত্ততি চলছে।এবারই প্রথম ঘটা করে উদযাপন করা হচ্ছে ‘বিরল মুক্ত দিবস’। সাংসদদের পদচারণা,৭১এ মুক্তিযোদ্ধাদের নানা স্মৃতিচারণ আর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে সরকারের নানা উদ্যোগের কথা জানবে বিরলবাসী।কিšত্ত এ সব অনুষ্ঠানে সম্মানিত হওয়া কোন মুক্তিযোদ্ধার কাছে আমরা যাচ্ছি না।

দিনাজপুরের এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবার রবাট আর এন দাসদের।বড় ভাই জর্জ জে এম দাস (জর্জ ভাই),জেমস এম দাশ (লুইস) ও এন্টনী এন এন দাসসহ পরিবারের ৫জনই ১৯৭১এ যুদ্ধ করেছেন ৭ নং সেক্টরে।বর্তমানে রবাট মুজিব নগর কর্মচারী কল্যাণ সংসদের যুগ্ম মহাসচিব।তাঁর কাছ থেকে জেনেই আমরা খুঁজতে বের হয়েছি সেই মুক্তিযোদ্ধা আদিবাসীকে। যে মুক্তিযোদ্ধার সম্প্রদায়টিও নিঃশব্দে হারিয়ে যাচ্ছে এদেশ থেকে। কোন রকমে টিকে আছে মাত্র ১৯টি পরিবার।সম্প্রদায়টির নাম আদিবাসী ‘কড়া’ সম্প্রদায়। ১৯৭১ সালে এই সম্প্রদায়ের এক যুবক বঙ্গবন্ধুর ডাকে উজ্জীবিত হয়ে অন্যান্য বাঙালিদের সাথে ঝাপিয়ে পড়েছিল মুক্তিযুদ্ধে।কিšত্ত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এখন আর তিনি নিজেকে পরিচয় দেন না।নিজেকে লুকিয়ে রাখা এই মুক্তিযোদ্ধার নাম শতীশ কড়া। সবাই ডাকে সাতান কড়া নামে।

বিরল সদর থেকে ভারাডাংগী মুখো পথটি শেষ হয়েছে সোজা ভারতের কাটা তারের বেড়ার কাছাকাছি গিয়ে। সীমান্তের ওপারে ভারতের কুসমন্ডি থানা।আর এ পাশে বাংলাদেশের বৈরাগীপাড়া। বিকেলের দিকে আমরা পৌছে গেলাম বৈরাগীপাড়ায়। হাতেগোনা দশ থেকে পনেরটি বাড়ী এখানে। কিšত্ত সেখানে মুক্তিযোদ্ধা সাতান কড়ার বাড়ী খুঁজে পাওয়া গেল না। লোকমুখে শুনে বহুকষ্টে একটি ছোট দোকানের সামনে পাওয়া গেল এই অভিমানী মুক্তিযোদ্ধাকে।১৯৮৭ সালে কুষ্টরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি পঙ্গু হয়ে গিয়েছেন। চলছেন খুড়িয়ে খুড়িয়ে। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করতে আগ্রহী নন তিনি। নিজের বাড়ী কোন দিকে জানতে চাইলে, কোন উত্তর মিলে না। জানা যায় একসময় সীমান্তবর্তী চক ফসল গ্রামে তার ভিটাবাড়ীসহ ৩৬একর জমি ছিল।স্থানীয় ভুমিদস্যুরা জোর করে সেই জমি দখল নিয়ে নিলে সাতান চলে আসে এই গ্রামে।এখানের প্রতিটি বাড়ীই এখন মুক্তিযোদ্ধা সাতান কড়ার বাড়ী। গ্রামের লোকদের দয়ায় এবাড়ি ওবাড়ি রাত কাটিয়ে দিন কাটছে ৬৫ বছর বয়ষ্ক এই মুক্তিযোদ্ধার।

রেডিওতে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনে সাতান প্রবল ভাবে আবেগ তারিত হয়ে ওঠে।গ্রামের যুবকদের সংঘবদ্ধ করে ‘কড়া’ ভাষায় বলতে থাকে,‘ চালা দেশ স্বাধীন কারোওয়ে, সবইন মিলকে দেশ স্বাধীন করোওয়ে’। যুদ্ধ শুরু হলে দেশকে মুক্ত করতে স্থানীয় ইদ্রিস আলী, মজিবর, নুরুল,দেবেন,বকুল, কাশেম বিসতী ও জাসেফসহ পরিচিত প্রায় ১১জন গোপনে সিদ্ধান্ত নেন যুদ্ধে যাওয়ার।বাবা, মা আর স্ত্রীকে না জানিয়েই গোপনে চলে যান মুক্তিযুদ্ধে। প্রথমে শিব বাড়ী ইয়ুথ ক্যাম্পে এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে শিলিগুড়ির পানিঘাটা থানায় ট্রেনিং নেন।ট্রেনিং শেষে চলে আসেন বড়গ্রাম ক্যাম্পে। ৭নং সেক্টরের অধীনে কমান্ডার ইদ্রিস আলীর নেতৃত্বে যুদ্ধ করেন হিলির নিকটবর্তী গ্রামগুলোতে।কার জন্য দেশ স্বাধীন করেছেন, জানতে চাইলে নিজ সম্প্রদায়ের ভাষায় বলেন- ‘ দেশ থেতুর হাম স্বাধীন করোইয়ে, হামার নিজের থেতুল স্বাধীন নাহি কারোইয়ে’(নিজের জন্য নয়, দেশের জন্য স্বাধীনতা এনেছি)। আমাদের অনুরোধের চাপে মলিন মুখে বলতে থাকেন মুক্তিযুদ্ধের নানা কাহিনী।

যুদ্ধের সময় অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের মত সাতানও না খেয়ে কাটিয়েছেন বহুদিন, কত রাত কাটিয়েছেন ডোবার পানির মধ্যে,ঘুমিয়েছেন গোরস্থানে।যুদ্ধের সময়ে সহযোদ্ধাদের মৃত্যু যন্ত্রণা দেখেছেন কাছ থেকে।যুদ্ধকালীন সময়ে হানাদার আর রাজাকার বাহিনীর অত্যাচারের কথা শুনে নিজের পরিবারের কথা মনে করে সাতানের মন কেঁদে উঠত।সে সময় এদেশের প্রতিটি পরিবারই ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার।সহযোদ্ধা খলিল,কবির,রফিক,নয়ন,নুরু মিলে একটি গ্রামকে শত্র“মুক্ত করার কথা বলতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সাতান আবেগ তারিত হয়ে পরেন।সে সময় তাঁর মাথায় বিধে যায় গ্রেনেডের ¯িপ্রন্টার।যুদ্ধের শেষের দিকে মুক্ত এলাকা ছাড়ার আগে হানাদাররা টিউবওয়েলগুলোতে বিষ ঢেলে রাখতো।সে টিউবওয়েলের পানি খেয়ে মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতর বহু সহযোদ্ধার করুণ মুখগুলো দেখেছেন এই মুক্তিযোদ্ধা। সে সব স্মৃতির কথা বলতে বলতে মাঝে মধ্যেই তার চোখ ভিজে যাচ্ছিল। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর এ অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধারা একত্রিত হয় দিনাজপুর স্টেডিয়ামে।তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন ক্যাপ্টেন শাহরিয়ার রশিদ। অস্ত্র জমা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সাতান কড়া ফিরে আসেন নিজ সম্প্রদায়ের কৃষিকাজে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় আদিবাসী-বাঙালি একসাথে যুদ্ধ করলেও স্বাধীনের পর সব কিছু বদলে যেতে থাকে।সাতান আক্ষেপ করে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন হলো আর আমরা হয়ে গেলাম সংখ্যালঘু আদিবাসী সম্প্রদায়’।স্বাধীনের পর মুক্তিযোদ্ধা সনদ নেয়ার বিষয়টি জানলেও এর প্রক্রিয়া সম্পর্কে তেমন কিছুই জানতেন না সাতান।কাগুজে সনদ দেখিয়ে সুবিধা লাভের বিষয়টিতেও আগ্রহী নন তিনি।ফলে অযতেœ পড়ে থাকে ক্যাম্প থেকে পাওয়া কাগজগুলো।পরবর্তীতে বন্যার পানিতে ভেসে যায় সেগুলো। কেন সনদপত্র করালেন না, জানতে চাইলে সাতান অকপটে বলেন,‘কি হবে ঐ কাগুজে সনদ দিয়ে।যুদ্ধ করেছি বঙ্গবন্ধুর ডাকে, দেশ স্বাধীন করেছি - মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এর থেকে আর বড় কি পাওয়ার আছে’।

স্থানীয় ভূমিদস্যুদের হুমকির ভয়ে ২০ বছর আগে ভারতে চলে যায় সাতানের ছেলে মেয়েরা।সে সময় পরিবারের সদস্যরা জোর করেও ভারতে নিতে পারেনি এই মুক্তিযোদ্ধাকে।যুদ্ধকরে স্বাধীন করা এই প্রিয় দেশটিতেই মাটি কামড়িয়ে পড়ে থাকেন সাতান।যুদ্ধের সময় বাঙালিদের কাধে কাধ রেখে যুদ্ধ করে এ দেশকে স্বাধীন করেছেন যে আদিবাসী যুবকটি, নিজের জমি থাকতেও সে আজ নিজ দেশে পরবাসী।অন্যের জমিতে নিড়ানোর মতো হালকা কাজ করে যা উপার্জন করেন তা দিয়েই কোন রকমে চলে যাচ্ছে তাঁর জীবন।

মুক্তিযোদ্ধের ৩৮ বছর পর সাতানের আফসোস হয় যখন দেখেন অমুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকারেরা কাগুজে সনদ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা হয়ে গিয়েছে। স্বাধীনের পরে পাওয়া এ দেশকে নিয়ে কোন আক্ষেপ বা কষ্ট আছে কিনা, জানতে চাইলে এই মুক্তিযোদ্ধা ফুপিয়ে কাঁদতে থাকে। ভেজা চোখে বলেন,‘ যার ডাকে যুদ্ধ করলাম তাকে তো স্বাধীন দেশেই বাঁচিয়ে রাখতে পারলাম না, তার পরিবারের সকলকেই হত্যা করা হলো, এখনও কোনই বিচার হলো না,একইভাবে বিচার হলো না রাজাকারদের, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এটাই বড় দুঃখ’।

মুক্তিযোদ্ধা এই আদিবাসীর সাথে যতই কথা বলছিলাম ততই তার প্রতি শ্রদ্ধায় আমাদের মাথা নত হচ্ছিল। কাগুঁজে সনদ না থাকায় কোন ডিসেম্বরেই সাতানের মতো মুক্তিযোদ্ধারা সম্মানিত হন না। দেশের জন্য যে যুদ্ধ করল, দেশে থাকার কারণে যাকে ফেলে পরিবারের প্রিয় মানুষগুলো চলে গেল, সেই মুক্তিযোদ্ধার নিজের জমি আজ অন্যের দখলে।

এদেশে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরী হয়নি অদ্যাবধি।যার উদ্যোগ নেয়ার প্রয়োজন ছিল যুদ্ধের পর পরই। অথচ অবাক আর লজ্জিত হতে হয় যখন দেখা যায় অমুক্তিযোদ্ধা আর রাজাকারেরাও মুক্তিযোদ্ধা ভাতা নিচ্ছেন, পাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধার সম্মান। সরকার পরিবর্তনের পর পরই পরিবর্তীত হয় মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা। সে সুযোগে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সনদপত্র পায় অমুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকারেরাও। ফলে স্বাধীনতার পর থেকে নানা দলে বিভক্ত হয়ে পড়ছে জাতির সূর্য সন্তানেরা।মুক্তিযুদ্ধের ৩৮ বছর পরেও এদেশে সাতান কড়ার মতো নিভৃত, বঞ্চিত,ত্যাগী ও অভিমানী মুক্তিযোদ্ধাদের খুঁজে পাওয়া যায়।যাদের কোন কাগুজে সনদ নেই।আছে দেশের জন্য বুকভরা ভালবাসা।যারা যুদ্ধ করেছিল শুধুই দেশের স্বার্থে।

মুক্তিযোদ্ধা সাতান কড়া যখন মারা যাবে কাগুজে সনদপত্র না থাকায় তখনও মিলবে না কোন রাষ্ট্রীয় সম্মান। কিšত্ত তাতে সব হারা এই মুক্তিযোদ্ধার কি এসে যাবে। বরং লজ্জিত হতে হবে এ দেশকে, এ জাতিকে।

-সালেক খোকন

সধংধষবশ.শযড়শড়হ@মসধরষ.পড়স


মন্তব্য

রাহিন হায়দার এর ছবি

চোখ ভিজে উঠেছে...

আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্মের, বোধহয় ঠিকমত অনুধাবনই করতে পারি না আমাদের বর্তমান জীবনে সাতান কড়াদের অবদান। এ ধরণের লেখাগুলো পড়লে কিছুটা আন্দাজ করা যায়। এঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো কোন মনুষ্যসৃষ্ট ভাষায় সম্ভব না।

লেখককে ধন্যবাদ।
________________________________
তবু ধুলোর সাথে মিশে যাওয়া মানা

________________________________
মা তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো...

শেখ নজরুল এর ছবি

বিজয়ের ৩৯ বছর পরও এই সব জেনে লজ্জিত হই। যদিও রাষ্ট্রযন্ত্রের লজ্জা অনেক গভীরে।

শেখ নজরুল

শেখ নজরুল

নিবিড় এর ছবি

লজ্জা, শুধুই লজ্জা


মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় ।

পুতুল এর ছবি

আপনার লেখাটার পাঠক প্রিয়তা দেখে আমাদের জাতীয় চরিত্রটা টের পাওয়া যায়। জগৎ-এর আনন্দ বা বিরহ স্রোতের যাত্রীরা সাতান কড়ার জন্য থামেনা। তাদের সামনে এগিয়ে চলার পথে বাঁধার মতো আপনার একটা লেখা আসে, সাতান কড়াকে পাশ কাটিয়ে সবাই এগিয়ে চলে।
বোকা লোকেরা সাহসী হয়, যেমন সাতান কড়া। তাদের কথাওতো কেউ না কেউ লিখতে হবে। আপনি লিখুন। আমার মত দু'একজন অন্তত সাতান কড়াকে নমস্কার করুক।
সচলায়তনে স্বাগতম।
পোস্ট করার আগে লেখাটা আরেকবার দেখলে ফন্টের ভুলগুলো থাকতো না।
**********************
ছায়া বাজে পুতুল রুপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কি দোষ!
!কাঁশ বনের বাঘ!

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

অতিথি লেখক এর ছবি

বুকভরা কান্না ছাড়া তাকে আর কিছুই দেয়ার নেই আমার। সাথে একটা দীর্ঘশ্বাস।
এদেশে মনে হয় না আর কোন বীর জন্ম নেবে, বীরেরা এদেশে জন্মাতেও ঘৃণা করবে............।

এমন এক যোদ্ধাকে আমার সালাম। সশ্রদ্ধ সালাম.....................

আমিই তানভী |

আলমগীর এর ছবি

চলুক

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

চলুক
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

অতিথি লেখক এর ছবি

এরকম অহরহ ঘটনা অনাচে কানাচে অহরহ লুকিয়ে আছে

জুলিয়ান সিদ্দিকী এর ছবি

মুক্তিযোদ্ধের ৩৮ বছর পর সাতানের আফসোস হয় যখন দেখেন অমুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকারেরা কাগুজে সনদ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা হয়ে গিয়েছে।

আর সেই অসৎদের দাপটে অনেক মুক্তিযোদ্ধা হারিয়ে গেছেন।
কিন্তু তাঁরা যে সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেছেন বা যেখানে ট্রেনিং নিয়েছেন সেখানে নামের তালিকা থাকার কথা। এখনও আছে কি না কে বলতে পারে!

____________________________________
ব্যাকুল প্রত্যাশা উর্ধমুখী; হয়তো বা কেটে যাবে মেঘ।
দূর হবে শকুনের ছাঁয়া। কাটাবে আঁধার আমাদের ঘোলা চোখ
আলোকের উদ্ভাসনে; হবে পুন: পল্লবীত বিশুষ্ক বৃক্ষের ডাল।

___________________________
লাইগ্যা থাকিস, ছাড়িস না!

মাহবুব লীলেন এর ছবি

...

রেজওয়ান করিম [অতিথি] এর ছবি

সত্যই হৃদয় বিদারক

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

লেখাটা আমার সচলে আসার অনেক আগের। হঠাৎ করেই কিভাবে যেনো চোখে পড়ে গেলো। আমি সাতান কড়াকে হাজারবার কদমবুসি করলেও সে অচল শরীরটাকে গাড়িয়ে গড়িয়ে পরের ক্ষেতের জংলা নিড়াতে যাবে। এটাই বাস্তবতা।

সাতানের এলাকার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডাররা বা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতারা কি 'ভাতা' ব্যবসায়ে এতোটাই মগ্ন যে এই বেচারাকে মাসে ৫০০ টাকার একটা ভাতার ব্যবস্থা করে দেওয়ার 'ফালতু' সময় তাদের নেই! যে মানুষগুলোর অবদানে আজ তাদের জমজমাট 'মুক্তিযোদ্ধা ভাতা' ব্যবসা, তাদের জন্যে কি একটুও মমতা দেখানো যায়না!

বলে আর কি হবে। আমিওতো তাদের জন্যে কিছুই করছিনা। ধিক্‌ আমাকেও। আয়্যাম নাথিং বাট আ ব্লাডি এ্যাসহোল! শুধু বড় বড় কথা বলি।

======================================
অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো, সেইতো তোমার আলো।
সকল দ্বন্ধ বিরোধ মাঝে জাগ্রত যে ভালো, সেইতো তোমার ভালো।।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।