পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরীঃ আমার টুকরো অভিজ্ঞতা, নাপিত এবং হাগু প্রসঙ্গ

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি
লিখেছেন রাতঃস্মরণীয় [অতিথি] (তারিখ: রবি, ০১/০৮/২০১০ - ৭:২৯অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

৯০এর দশকের শেষভাগে একটা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে আগুন লেগে কিছু মানুষ মারা গিয়েছিলেন। সারাদেশে ওই ঘটনাটা বেশ আলোচিত হয়েছিলো এবং ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছিলো যে কর্মীদের সেফটি-সিকিউরিটির জন্যে মালিকপক্ষ কি ভূমিকা রাখেন। আমার বিয়ের পরে জানতে পারলাম যে ওই অগ্নিকান্ডে নিহতদের একজন বেঁচে থাকলে আমার সম্মন্ধি হতেন, আমার স্ত্রীর আপন চাচাতো ভাই। বলে রাখি, আমার শ্বশুরকূলের ২/১ জন বাদ দিলে ব ...৯০এর দশকের শেষভাগে একটা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে আগুন লেগে কিছু মানুষ মারা গিয়েছিলেন। সারাদেশে ওই ঘটনাটা বেশ আলোচিত হয়েছিলো এবং ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছিলো যে কর্মীদের সেফটি-সিকিউরিটির জন্যে মালিকপক্ষ কি ভূমিকা রাখেন। আমার বিয়ের পরে জানতে পারলাম যে ওই অগ্নিকান্ডে নিহতদের একজন বেঁচে থাকলে আমার সম্মন্ধি হতেন, আমার স্ত্রীর আপন চাচাতো ভাই। বলে রাখি, আমার শ্বশুরকূলের ২/১ জন বাদ দিলে বাকী সবাই গার্মেন্টস শিল্পের সাথে জড়িত। সুপারভাইজার থেকে শুরু করে জিএম/ইডি, এমনকি মালিক পর্যন্ত। ওদের মালিকানাধীন একটা কোম্পানীর নাম বললে প্রায় সবাই চিনে ফেলবেন তাই নাম আর বলছি না।

আমি নিজে ১৯৯৯-২০০০ সময়কালে কোনও এক ভাবে গার্মেন্টস শিল্পের সাথে জড়িত ছিলাম, তবে পরোক্ষভাবে। আমি ওই সময়ে একটা দালালি প্রতিষ্ঠানে চাকরী করতাম, ভালো কথায় বলা যায় ‘ফ্যাব্রিক্স মার্কেটিং ফার্ম’। পুঁজি বিনিয়োগ না করে শুধু নেটওয়ার্কিং এর মাধ্যমে ব্যবসা। আমাকে প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ টা গার্মেন্টস ভিজিট করতে হতো। প্রোডাক্টের স্যাম্পল নিয়ে গার্মেন্টস আর বায়িং হাউসগুলোতে ঘুরতাম এবং এন্ড অব দ্য ডে প্রায়শইঃ খালি হাতে ফিরতাম। মালিক এতেই খুশি থাকতেন। তবে পরে আসল কাহিনী বুঝে ফেললাম। চাকরীটা কয়েকমাস পুরানো হতেই মালিক আমাকেও ‘মেকানিজম’এ ঢুকিয়ে ফেললেন। প্রথমে ভাবতাম আমরা মার্কেটিং কোঅর্ডিনেটররা সারাটা দিন মার্কেট চষে ফেলে অর্ডার পাই না অথচ ফার্ম কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করে, আমাদের ‘বখশিশ’ দেয়। যেসব গার্মেন্টসে আমরা যাই না তারাই কোটি কোটি টাকার অর্ডার দেয়। পরে সবই বুঝে গেলাম ‘কোথা হইতে কি হয়’, ‘ল্যাংড়া আমে আঁশ আসে কোথা হইতে’। বিস্তারিত না বলে ছোট্ট একটা উদাহরণ দেই, আমার চেনা একজন ‘পাকা’ মার্চেন্ডাইজার ওই সময়ে মাসে বেতন পেতেন ২৫,০০০ টাকা। কিন্তু তার মাসিক আয় ছিলো কমপক্ষে ১০০,০০০ টাকা। বাকী টাকাটার সংস্থান আমরা বা আমাদের মতো দালালরাই করে দিতাম। আমার মালিক হয়তো বেলজিয়ামে যাবেন, তিনি সবাইকে বলতেন যে তিনি বরিশাল যাচ্ছেন এবং তার গ্রামে মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই। তাই সবাই যেন অফিসে ফোন করেন অথবা কোনও প্রয়োজন থাকলে এবং নির্দিষ্ট ১ জন ষ্টাফের মোবাইলে ফোন করেন। তখন গোটা ষ্টাফদের মধ্যে একমাত্র আমারই মোবাইল ছিলো। আমি সারা দিনের বিভিন্ন খবর মালিককে ইমেইল করে জানিয়ে দিতাম। মালিক মহা আনন্দে বরিশাল, ওহ্‌ সরি ব্রাসেলসে মিটিং, শপিং, করে বেড়াতেন। কখনও কখনও আবার তিনি বরিশাল যাবার আগে খবর ছড়িয়ে দিতেন যে বেলজিয়াম যাচ্ছেন। তখন তিনি তার মোবাইল আমাকে দিয়ে দিতেন। আবার বিশেষ বিশেষ সময়ে তিনি আমার মোবাইলটা ধার নিতেন ১-২ দিনের জন্যে আর তখন তার মোবাইলটা আমাকে দিতেন। এতে আমার দ্বিমূখী বানিজ্য হতো। তার মোবাইল ব্যবহার করে আনলিমিটেড কল করা যেতো আর আমার মোবাইল ফেরত দেওয়ার সময়ে মুডবিশেষ ৫০০ থেকে ২,০০০ টাকা দিতেন কার্ড কিনে নেওয়ার জন্যে। দেখা যেতো তিনি আমার মোবাইল থেকে হয়তো সবোর্চ্চ ১০০ টাকা খরচ করেছেন।

আমার চাকরীর সবথেকে কষ্টকর দিক ছিলো ৮-১০ তলা গার্মেন্টসগুলোতে সিঁড়ি ভেঙে ওঠা। প্রতিদিন কমপক্ষে ৫টা। সব গার্মেন্টসেই লিফট থাকে তবে সেই লিফট গার্মেন্টস কর্মী বা আমাদের মতো ক্ষুদে দালালদের জন্যে নয়। পরে আস্তে আস্তে অভ্যেস হয়ে গিয়েছিলো। হাজার হোক চাকরীটা তো বাঁচাতে হবে।

সাধারণ গার্মেন্টসগুলোর অফিসে যেতে হয় প্রোডাকশন ইউনিটের ভিতর দিয়ে। মনে পড়েনা এমন কোনও দিন গেছে কি না যেদিন দেখিনি যে সুপিরিয়ররা অধীনস্থদের কিল-চড় দিচ্ছেনা বা গালি দিচ্ছে না। অন্যভাবে নেবেন না কেউ, নারী সুপারভাইজারেরা দেখেছি বেশি কড়া এবং রুড। একদিন একজন নারী সুপারভাইজার একটা তরুন ছেলেকে মেশিন চেঞ্জ করতে বললে ছেলেটি আপত্তি করায় মহিলা ছেলেটাকে বলেছিলেন, ‘এই মিশিনডা ছাড়তে চাস না ক্যা, মিশিনের লগে চোদাস নি?’। আমি ভালো করেই জানি যে ওই মহিলা তার বসের কাছ থেকে এর থেকেও খারাপ কথা শুনে আসছেন।

অন্যএকদিনের ঘটনা বলি। পেশাগত উন্নতি সাধন করার জন্যে আমি বিভিন্নজনের কাছ থেকে বিভিন্ন কন্টাক্ট সংগ্রহ করছিলাম। পরিচিত একজন বললেন কচুক্ষেত এলাকায় একটা গার্মেন্টসের কমকর্তা কাশেম ভাইয়ের সাথে দেখা করতে। তো গেলাম সেই গার্মেন্টসে। গেটে কার্ড দিয়ে কাশেম ভাইয়ের কথা বলতেই সিকিউরিটি আমাকে ভিতরে নিয়ে গেলেন। অফিসের মধ্যে ঢুকতেই কয়েকজন প্রায় আমার উপরে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। তারা আমাকে সত্যি করে বলতে বললেন যে আমি কেনো এসেছি। কাশেম আমাকে কি খবর সংগ্রহ করতে পাঠিয়েছে। আমি হতবাক হয়ে গেলাম। আমি তাদেরকে যতোই বুঝানোর চেষ্টা করি তারা ততোই আমার উপর চড়াও হন। শেষে একজন বললেন যে আমাকে ষ্টোরের মধ্যে আটকে রেখে এমডি সাহেবকে খবর দিতে। আমি তাদেরকে বললাম যে আমারে আটকান ক্ষতি নাই কিন্তু রেডি থাকেন যে পুলিশ এসে আপনাগো মালিক শুদ্ধ মাজায় দড়ি দিয়ে পাছার উপর বাড়ি দিতে দিতে নিয়া যাবে। আপনারা জানেন না যে আমি কার কর্মচারী। আমার কথা শুনে তারা একটু থমকে গেলো। এই ফাঁকে আমি একটা সিগারেটও ধরিয়ে ফেলে সোফায় বসে পড়লাম, এতক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে প্যাচাল শুনছিলাম। এরপর আমি তাদের একটু তাড়া দিলাম, কই ভাই আমারে ষ্টোরে ঢুকান। আপনাগো ষ্টোরে এসি আছে তো? এরপর তাদের একজন বুঝলাম মালিককে ফোন দিলেন, কথার আগে-মাঝে-শেষে স্যার করছিলেন, তাতেই বুঝলাম। আমার কার্ড দেখে তারা আমার ফার্মের নাম বললেন। আমার মালিকের নাম জিজ্ঞেস করতেই আমি তা বললাম। সাথে একটু যোগ করলাম যে আমার মালিক এ্যাডিশনাল আইজিপি সাহেবের খালাতো ভাই। আমার মালিক আবার এই সেক্টরে তার সান্ধ্য অধিবেশনে সক্রিয়তার জন্যে বেশ পরিচিত ছিলেন। যাই হোক, কি কথা ওদিক থেকে বলা হলো, কি বলা হলো আমি জানি না। আমাকে যত্ন করে বসিয়ে কোক আনা হলো, সিংগাড়া আনা হলো। আর গাড়িতে ড্রপ দেওয়ার ব্যবস্থা হলো। আমি এসব রিফিউজ করে এক কাপ চা দিতে বললাম। চা’ও এলো। তারপর শুনলাম কাশেম নাকি কি বিশাল ঘাপলা করে ভেগে গেছে। এখন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। চা শেষ করে চলে আসলাম। একজন কর্মকর্তা আমাকে নিচে পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে গেলেন। আমার কৌতুহল হচ্ছিলো। সিগারেট কেনার ভাব ধরে পাশের দোকানে দাঁড়িয়ে থাকলাম। এরপর ভিতর থেকে বেরিয়ে আসা একজন কে জিজ্ঞেস করলাম কাশেমের ব্যাপারে। তিনি বললেন যে কাশেম স্যার খুবই ভালোমানুষ ছিলেন। উচিত কথা বলায় মালিক তাকে বের করে দিয়েছেন, ইত্যাদি, ইত্যাদি।

আরেকদিনের ঘটনা। মালিক ৩ লাখ টাকা দিয়ে বললেন সদরঘাটে গিয়ে এক ট্রাক ইন্ডিগো ডেনিম (ব্লু জিনস্‌ নামে আমরা এটাকে চিনি) কিনতে। তিনি বললেন কোনও এক গার্মেন্টসের মার্চেন্ডাইজার খুব ট্রাবলে আছে। আমাদের এখন তাকে বাঁচাতে হবে। ম্যানেজার সাহেব আমাদের টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন যেমন কন্সট্রাকশন, জিএসএম, ইত্যাদি বুঝিয়ে দিলেন। আমি আর সহকর্মী আরিফ সালাহউদ্দিন চলে গেলাম। আরিফ আগে দু-একবার এই কাজ করেছেন। আমাদের ম্যানেজার সাহেব আমাদের আগে চলে যেতে বললেন, তিনি পরে আসবেন। আমরা বাজারে ঘুরে কাপড় দেখতে দেখতে ঘন্টাদুই পার করলাম এর মধ্যে ম্যানেজার সাহেবও চলে আসলেন। আমরা কাপড় কিনলাম এবং তিনটি ইনভয়েস নিলাম। একটা ইনভয়েস হবে আসল দাম থেকে অর্ধেকেরও কম দামের, একটা হবে আসল দাম থেকে অনেক বাড়িয়ে আর বাকীটা হবে প্রকৃত কেনা দামে। ম্যানেজার সাহেব আমাকে বুঝালেন যে যদি পথে পুলিশ ধরে তখন কম দামের ইনভয়েসটা দেখাবেন। মাল গার্মেন্টসে ডেলিবারী দেবার সময় বেশি দামের ইনভয়েসটা তাদের মালের সাথে দেবেন। আর সঠিক দামের ইনভয়েসটা আমাদের অফিসের জন্যে। আর তিনটা ইনভয়েস আলাদা আলাদা রাখবেন। একটা রাখবেন শার্টের পকেটে, একটা প্যান্টের পকেটে আর একটা ব্যাগের ভিতরে। আরও ভালো হয় একটা নিজের কাছে রাখেন, এটা ট্রাকের ড্রাইভারের কাছে বাকীটা ট্রাকের হেলপারের কাছে রাখেন। ট্রেনিং শেষে আমরা রওয়ানা হলাম। একটু পরেই আলুবাজারের মোড়ে সার্জেন্ট ধরলেন। সার্জেন্ট তো নাছোড়বান্দা, থানায় নিয়ে যাবেন। আমরা ৫০০ দিয়ে শুরু করলাম আর সার্জেন্ট ১ লাখ হাঁকিয়ে বসে থাকলেন। মালিকের কাছে ফোন দিলাম। সন্ধ্যার পরে মালিকের কাছে ফোন দেওয়া কঠোরভাবে নিষেধ থাকলেও ফোন দিতে হলো। মালিক বললেন ১০,০০০ পর্যন্ত যাও। কিন্তু কাজ হলো না। ১ লাখ তো ১ লাখ। মালিককে জানালাম। তিনি আমাদের অপেক্ষা করতে বললেন, তিনি আসছেন। সার্জেন্ট সাহেবকে জানালাম এবং ১ ঘন্টা সময় চাইলাম। প্রায় ঘন্টাখানেক পর মালিকে এবং তার এক বন্ধু আসলেন। দুজনেই চুড়ান্ত বেসামাল। তারা সার্জেন্ট সাহেবকে পরিচয় দিলেন। মালিকের বন্ধু সার্জেন্ট সাহেবকে বুঝানো শুরু করলেন যে তার এই কাপড় আটকে রাখাটা বাংলাদেশের অর্থনীতির কতোবড়ো ক্ষতি করছে, ইত্যাদি। মালিকের সাথে সার্জেন্টের নিচু গলায় দু-একটা কথা হলো যা আমি শুনতে পাইনি। সার্জেন্ট সাহেব বললেন যে আপনারা নিজেরাই যখন এসেছেন, আমার আর কোনও সন্দেহ নেই। আপনারা কাপড় নিয়ে যান। একটা টাকাও লাগলো না। যাবার সময় দেখি মালিক আর সার্জেন্ট পাশাপাশি কথা বলতে বলতে হেঁটে যাচ্ছেন। কান খাড়া করলাম। সার্জেন্ট মালিককে বলছেন যে স্যার আপনি একটু দায়া করে দেখলে পোষ্টিংটা হয়ে যায়। মালিক মৃদুস্বরে সাজের্ন্টকে বললেন যে তুমি আমার অফিসে আসো তারপর ডিটেইল শুনি। মালিক অপেক্ষমান দুজন হাবিলদারকে ৫০০ করে দিয়ে দিতে বললেন। সেই কাপড় নিয়ে উত্তরা পৌঁছলাম রাত ৩ টায়। মালিক সাথে সাথেই ছিলেন। যখন্ উত্তরায় গার্মেন্টসে পৌছলাম, দেখলাম যে মার্চেন্ডাইজার সাহেব এবং আরো অনেক কর্মী উদ্বিগ্নভাবে অপেক্ষমান। মালিক হেসে বলছিলেন যে ভাই আজ আপনাকে বাঁচাতে গিয়ে আমার দুটো ছেলেকে এ্যারেষ্ট হতে হয়েছিলো আর আমার ১ লাখ গচ্চা দিতে হয়েছে পুলিশের জন্যে। বাট ষ্টিল আই য়্যুড বি এ্যাট য়্যুর সার্ভিস এট এনি টাইম। জাষ্ট লেম্মে নো হোয়েন ইউ নিড মি। ভাই হয়ে যদি ভাইয়ের জন্যে কিছু না করলাম, তাহলে তো লাইফ ইজ ওয়ার্থলেইস। পরে আমাদের ম্যানেজার সাহেবকে এই ব্যাপারটা একটু ক্লিয়ার করার জন্যে বললে তিনি খুলে বললেন। উত্তরার ওই গার্মেন্টসের ফ্যাব্রিক শিপমেন্ট ফেইল করায় যথাসময়ে বাংলাদেশে পৌঁছতে পারছে না। এদিকে প্রোডাকশন যদি এখনই শুরু না করা যায় তবে এই গার্মেন্টস তার্ এক্সপোর্ট শিপমেন্ট ফেইল করবে। আমার পরবর্তী প্রশ্ন ছিলো এই গার্মেন্টসের কাপড় তো দেরীতে হলেও এসে যাবে, তখন কি হবে? কাপড় যে আনইউজড থেকে যাবে! ম্যানেজার সাহেব হেসে বললেন সদরঘাটের যে মার্কেট থেকে আমরা কাপড় কিনে এনে দিলাম, এই শুল্কমুক্ত কাপড়ও সেই মার্কেটে চলে যাবে। আমরাই বিক্রি করার ব্যবস্থা করবো এবং আরেক রাউন্ড মাল কামাবো।

সবথেকে মর্মস্পর্শী ঘটনাটা বলি। এক বিকেলে মহাখালী চেয়ারম্যান বাড়ির এক গার্মেন্টসে গেছি। সিড়ি দিয়ে উঠতেই দেখি গার্মেন্টসের গেটের সামনে এবং সিঁড়িতে কম করে হলেও ১০০ জন নারী শুয়ে বসে আছেন। না খাওয়া শুকনো মুখ। আরও অনেক পুরুষ মানুষ বসে বা দাঁড়িয়ে। তাদের কেউ কেউ চিৎকার করে কাঁদছেন আর গালি দিচ্ছেন। একজনকে জিজ্ঞেস করে জানলাম যে মালিক এই কর্মীদের ছাটাই করেছে কিন্তু অনেক দিনের পুরানো পাওনা মিটিয়ে দিচ্ছেনা। আজ একজন মালিক ফ্যাক্টরীতে এসেছেন খবর পেয়ে এরা দুপুর থেকে অবরোধ করে রেখেছেন। একজন নারীশ্রমিক চিৎকার করে বলছেন, ‘আইজ ট্যাহা না নিয়া যামু না। মালিক ট্যাহা না দিয়া কেমনে যায় তা’ই দেহুম। যাইতে অইলে আমাগো লাছের উপর দিয়া যাওন লাগবো’। আমি আর উপরে যেতে পারলাম না। ফিরে আসলাম। আমি জানি কিছুই হবে না। কিছুক্ষণ পর পুলিশ এসে ওদের লাঠিচার্জ করে হঠিয়ে দিয়ে মালিককে প্রোটেক্ট করে বের করে নিয়ে যাবে।

আজ খবরে দেখলাম নতুন মজুরী ধার্য হয়েছে ৩,০০০ টাকা। একটা পরিবারের বাসা ভাড়া, খাবার, চিকিৎসা, এবং অন্যান্য খরচ হিসেব করলে ৩,০০০ টাকায় কি হয়! গার্মেন্টস খাত হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অন্যতম প্রধান খাত। বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেকাংশে এই খাতের উপর নির্ভরশীল। তাহলে আমরা কি ধরে নেবো যে সরকার এবং কোনও মহলবিশেষ এই খাতের স্থিতিশীলতা চায় না। বাংলাদেশে ইতোপূর্বে পাট খাত ধ্বংস হয়েছে। গার্মেন্টস সেক্টর ধ্বংস হলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না। আমি ব্যাক্তিগতভাবে খুলনা শহরের মানুষ। পাট সেক্টর ধ্বংসের ফলে খুলনার আর্থসামাজিক অবস্থা যেভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তা নিজের চোখে দেখেছি। দেখেছি শ্রমিক নামধারী একশ্রেণীর প্রভাবশালী রাজনীতিবিদের বিলাসী জীবন, যারা মূলতঃ সেক্টরের ধ্বংস তরান্বিত করেছেন। এক্ইভাবে দেখেছি মোংলা বন্দর ধ্বংসের ফলাফল। গার্মেন্টস শিল্প ধ্বংস হলে ভূক্তভোগি শ্রমিক ছাড়া আর কারও তেমন কোনও ক্ষতি হবে বলে মনে হয় না। মালিকরা অন্য ব্যবসায়ে চলে যাবেন। যাওয়ার আগে যতটুকু সম্ভব শ্রমিকের ঘাম শুষে নিয়ে যাবেন। আর শ্রমিকরা কেউ রিকসা চালাবেন, দিনমজুর হবেন, ছিনতাই করবেন, আর যাদের সে যোগ্যতাটুকাও নেই, তারা আত্মহত্যা করবেন (খুলনার অভিজ্ঞতা থেকে বললাম)।

বাংলাদেশে প্রাইভেট সেক্টরের মজুরী তুলনামূলকভাবে পাবলিক ও থার্ড সেক্টর থেকে অনেক কম। সরকারী চাকরীতে মূল বেতনের পাশাপাশি অনেকরকম সূযোগ সুবিধা থাকে। থার্ড সেক্টরের বেতন ভাতা অনেক ভালো। এই সেক্টরের একটা দেশীয় প্রতিষ্ঠানেও ৫,০০০-৬,০০০ টাকার কম কোনও বেতন নেই, পিএফ-গ্রাচুইটি আছে, ফেষ্টিভাল বোনাসও আছে। তাহলে ব্যাক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে এতো বৈষম্য কেনো? প্রশ্ন দেখা দেয়, গার্মেন্টস কর্মীরা কি তাহলে মানুষের মধ্যে নিম্নস্তরের কোন গোষ্ঠী? এদের তো একই ভাড়ার বাসায় থাকতে হয়, একই দামে চাল-ডাল কিনতে হয়, একই দামে কাপড় কিনতে হয়। তাহলে কেনো এই বৈষম্যমূলক ক্যালকুলেশন। মালিকদের কাছে প্রশ্নঃ বাজারে গিয়ে নিজে দেখে আসুন যে কোন জিনিসের দাম কতো, ঘরভাড়া কতো। শুধু একবার কল্পনা করুন যে যদি কোনও কারণে আপনার ভাগ্যবিপর্যয় হয় এবং আপনাকে একজন গার্মেন্টসকর্মীর অবস্থানে চলে আসতে হয়, আপনি কি পারবেন ৩,০০০ টাকায় চলতে? অর্থ কিন্তু ক্ষনস্থায়ী মনে রাখবেন। মানবতা নিয়ে হেলাফেলা করবেন না।

আর সরকারের কথা কিইবা বলবো। গার্মেন্টস মালিকদের অখুশী করলে যদি পলিটিক্যাল ফানডিং, পারসোনাল ডিলিংস, ইত্যাদি বন্ধ হয়ে যায়!

২০০৫ সালে ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রা প্রদেশের গভর্ণর লে.জে. রিজাল নুরদীন (অব.) বিমান দুর্ঘটনায় মারা যাবার পর সরকার একজন স্বল্পশিক্ষিত রাজনীতিবিদ রুডলফ পারদেদে কে গভর্ণর নিয়োগ দেন। (তার সম্পর্কে জানতে চাইলে Rudolf Pardede দিয়ে গুগল সার্চ দিন, অনেক তথ্য এবং ছবি পাবেন। যদিও অধিকাংশ তথ্য বাহাসা ইন্দোনেশিয়া ভাষায় লেখা)। বিশাল ধনী এবং সমাজসেবক পরিবারের সন্তান রুডলফের কিন্তু শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিক পাশ। তার বাবার দু’টি পরিচয় ছিলো। প্রথমতঃ তিনি বড় মাপের সমাজসেবক ছিলেন। প্রয়াত স্ত্রী ‘হেরনা’র নামে বিশাল ও অত্যধুনিক হাসপাতাল করেছেন যার বড় একটা অংশ দাতব্য। হাসপাতালের সামনের উঠোনে স্ত্রীর মরদেহ মমি করে রেখেছেন। অন্যাদিকে তিনি যৌনসেবাকর্মকে আধুনিক রুপদানের পুরোধা পুরুষ। তার হোটেলে এমনও ব্যবস্থা আছে যে ক্লায়েন্ট টিনটেড গ্লাসের গাড়ি নিয়ে সরাসরি রুমের ভিতরে ঢুকে যাবেন এবং সেখান থেকে বেরিয়ে আসবেন। কেউ দেখতে পরবে না। এমন একটা হোটেলের ঠিক পিছনের কম্পাউন্ডে আমার বাসা ছিলো। যাইহোক রুডলফ ক্ষমতাগ্রহনের পরদিনই রেডিও ও টিভিতে বক্তব্য দিলেন যে আগামী মাসের ১ তারিখ থেকে উত্তর সুমাত্রার সকল স্থানে নূন্যতম বেতন হবে ১০০ ডলারের সমমানের রুপিয়া সেক্টর নির্বিশেষে। সহজ কথায়, উত্তর সুমাত্রার কোনও কর্মীজীবি মানুষ ১০০ ডলারের কম মাসিক বেতন পাবেন না। প্রাদেশিক হিসাব নীরিক্ষা ও গোয়েন্দা সংস্থা এর বাস্তবায়ন তদন্ত করবে এবং অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের একমাত্র শাস্তি হচ্ছে ব্যবসার সমাপ্তি অর্থাৎ ব্যবসার লাইসেন্স বাতিল। কেউ কোনও আপত্তিমূলক বিতর্ক করতে চাইলেও চড়া অংকের জরিমানা ও লাইসেন্স বাতিল। সেই ঘোষনার রাতে নাইট ক্লাবে গিয়ে এ্যাটেন্ডেন্ট ছেলেমেয়েগুলোর যে আনন্দ দেখেছিলাম তা ভাষায় প্রকাশ করা মতো না। গরীবের ধর্মইতো সামান্য কিছু পেলেও আনন্দ করা সে যে দেশের গরীবই হোক না কেনো। গরীবের তো আর দেশ-জাতিভেদ নেই, সব জায়গায়ই একই অবস্থা। আমাদের সরকারের কি রুডলফ পারদেদের মতো সেই সাহস নেই?

আরেকটা কথা (দোষত্রুটি মার্জনীয়), আমাদের দেশের বড়লোকদের অধিকাংশই ফার্ষ্ট জেনারেশন বড়লোক (যদিও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এবং পরিস্থিতির বিশেষ আনুকূল্যে), টাকার গরম তাদের সহ্য হতে চায় না, তাই শুধু খাই খাই। কোনও কিছুতেই যেনো তাদের খিদে মেটে না। একটা গল্প বলার লোভ সামলাতে পারছি না-

এক রাজার ব্যাক্তিগত ক্ষৌরকার বা নাপিত রোজ সকালে তার ড্রেসিংরুমে এসে রাজামশাইকে শেইভ করে দিয়ে যেতো। একবার রাজামশাই কিছুটা অসুস্থ বোধ করছিলেন তাই ড্রেসিংরুমে না গিয়ে রাজা নাপিতকে তার বেডরুমে ডাকলেন শেইভ করার জন্যে। নাপিত শেইভ করে দিয়ে চলে গেলো কিন্তু রাজামশাই খেয়াল করলেন নাপিতের আচরণ একটু অস্বাভাবিক, ছটফটে, অন্যান্য দিনের মতো না। রাজারও বিশ্রাম কাল চলছে তাই বেডরুমেই ক্ষৌরকর্ম চলছে আর নাপিতও ক্রমশঃ বেশি অস্থির বোধ করে। তারপর একদিন, শেইভ করতে করতে যেই ক্ষুরটা রাজার কণ্ঠনালিক কাছে আসলো, নাপিত ক্ষুরটা ঠিক রাজার কন্ঠনালির উপরে ধরে বললো-

নাপিতঃ জাঁহাপনা, গুস্তাকী মাফ হোক, আমি রাজকুমারীর পানি গ্রহন করতে চাই। এই বলে নাপিত ক্ষুরের চাপ বাড়াতে লাগলো।

রাজাঃ ওরে তুই থাম, কি পাগোলের মতো বকছিস।

নাপিতঃ আমাকে আর কেউ থামাতে পারবে না জাঁহাপনা। রাজকুমারীর জন্ম হয়েছে শুধুই আমার জন্যে।

রাজাঃ আচ্ছা আমি তা দেখবো, তুই আগে আমার গলা থেকে তোর ক্ষুর সরা।

রাজা জ্ঞ্যানী ও বিচক্ষণ ছিলেন তাই তাৎক্ষনিক কোনও সিদ্ধান্ত নিলেন না। গভীর ভাবনায় মগ্ন হলেন। এই নাপিত তো অনেক বছর ধরে তার ক্ষৌরকর্ম করছে, আগে তো এমন করেনি। পরদিনও রাজা বিশ্রামে এবং সকালে শেইভ করার সময়ে একই ঘটনা ঘটলো। এভাবে পর পর ৪-৫ দিন গত হবার পর রাজা গোপনে রাজজ্যোতিষকে ডেকে গোটা ঘটনা খুলে বললেন এবং গোপনীয়তা বজায় রেখে বিশ্লেষণ করতে বললেন। কয়েকদিন ধরে রাজজ্যোতিষ ও তার পরিষদ অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে বিশ্লেষণ করে সিদ্ধানে উপনীত হলেন। রাজজ্যোতিষ রাজামশাইকে বললেন যে আপনার বেডরুমের যে জায়গায় দাড়িয়ে নাপিত আপনাকে শেইভ করে ঠিক ওই যায়গাটার ৪০ হাত নিচে আপনার পুর্বপুরুষ অনেক ধনরত্ন পুঁতে রেখে গেছেন। ওই ধনরত্নের উত্তাপ নাপিত সহ্য করতে পারে না বলেই এমন আবোল তাবোল আচরন করে। যেহেতু আপনি রাজা তাই এর উত্তাপ আপনার সওয়া, তাই আপনি উল্টাপাল্টা করেন না। এবার তাহলে প্রমান হোক। পরদিন রাজামশাই ড্রেসিংরুমে গেলেন শেইভ করতে এবং নাপিত স্বাভাবিকভাবে শেইভ করতে লাগলো কোনও রকম আবোল তাবোল বলা বা আচরন করা ছাড়াই। উপরন্তু সে ক্ষমা চাইলো গত কয়েকদিনের অসংলগ্ন আচরনের জন্যে। ইতোমধ্যে গোপনীয়তা বজায় রেখে খনন কার্য শেষে দেখা গেলো জ্যোতিষের কথাই ঠিক। অবশেষে যা হবার তাই, যে নাপিতের জন্যে এতে ধনরত্ন আসলো, সেই নাপিতকে শুলে চড়ানো হলো। খেল খতম!

আমি সাধারন একজন চাকরিজীবি এবং ব্যাক্তিগতভাবে ধুমপানে অভ্যস্ত। এটাই আমার একমাত্র বিলাস। আমার আনুমানিক মাসিক ধুমপান ব্যায় ১০২ ডলার। আর গার্মেন্টসের মালিকরা আমার থেকেও অনেক বিলাসী জীবনযাপনে অভ্যস্ত। তাদের বিলাসের হিসেব করার মতো যোগ্যতা আমার মতো কেরানীর নেই। আমি শুধু আমার অবস্থানে থেকে একটা তুলনা করছি যে একজন গার্মেন্টসকর্মীর মাসিক পরিবার ভরনপোষন বাজেট আমার ১২.৬০ দিনের ধুমপানের ব্যায়ের সমান। আমিও একজন মানুষ তিনিও একজন মানুষ, দুজনেরই বিশেষায়িত যোগ্যতা আছে; শুধু আমার যোগ্যতা আন্তর্জাতিকভাবে তার খেকে কিছুটা বেশি বিক্রয়যোগ্য।

আমরা খুবই সমালোচনামূখর হয়ে যাই যখন দেখি দাতাগোষ্ঠী আমাদের দেশিয় বিষয়গুলোতে নাক গলায়। কিন্তু আমার জোর দাবী গার্মেন্টসশ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন বিষয়ে আমাদের প্রধান দাতাগণ বিশেষ করে European Commission, USAID, DFID, Danida, Japan Government, China Government, AusAid, World Bank, ADB, UN, এরা জোরালোভাবে এগিয়ে এসে এই মানুষগুলোকে বাঁচাবেন। প্রধান ক্রেতাদেশগুলো যদি চাপ দেয় (চাপ দিলেই হবে, ঠাপ দিতে হবে না), তাহলে মালিকেরা বাপ-বাপ বলে বাস্তবমূখী বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করবেন শ্রমিকদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে। তবে সাবধান থাকতে হবে। সুবিধাবাদী ট্রেড ইউনিয়নের নেতারা এই আলোচনায় ঢুকলেই কম্ম সাবাড়। মালিকরা ভালো করেই জানেন যে কিভাবে ২ লাখ খাইয়ে দিয়ে ২০০ কোটি টাকা বাঁচানো যায়।

অনেকের কাছে শুনেছি অধিকাংশ বড়লোকের কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে। তাদের সহজে হাগু হতে চায়না, ওষুধ খেয়ে তারপর হাগু করতে হয়। বিদেশ থেকে হাগু ইজি হওয়ার ওষুধ ইমপোর্ট করতে হয়। ক্যালকুলেশন করলে হয়তো এমন দেখা যাবে যে একজন গার্মেন্টস শ্রমিকের মাসিক পরিবারনির্বাহ ব্যায় তার মালিকের ১ দিনের হাগুর খরচের সমান। এই না হলে আমরা মানুষ জাতি!!!


মন্তব্য

হিমু এর ছবি

লেখাটা অগোছালো মনে হলো। আপনার টুকরো অভিজ্ঞতাগুলো গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরির সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয় বলেই হয়তো।

সচলায়তনে "বোহেমিয়ান" নিকটি একজন ব্যবহার করেন। কাজেই আপনি যদি ভিন্ন একটি নিক বেছে নিয়ে লিখতেন, তাহলে অ্যাম্বিগিউয়িটি এড়ানো যেতো।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

কোরাপ্ট বোহেমিয়ান [অতিথি] এর ছবি

আপনার মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ হিমু ভাই। আমি আপনার লেখা ব্লগের একজন ভক্ত। আমি ব্লগে নতুন, লেখক হিসেবেও দক্ষ নই। তবে একমত যে লেখাটা অগোছালো। অনেকগুলো চ্যাপ্টারের একটা জগাখিচুড়ি হয়ে গেছে। টাইটেল থেকে মজুরি শব্দটা বাদ দিলে মনে হয় কিছুটা প্রাসঙ্গিক হতো। যাহোক আগামি লেখুগুলোতে সচেতন হবো। আপনি কিন্তু কমেন্ট করতে ভূলবেন না।

আমি যেহেতু খুবই নতুন এবং এখনও মেম্বার হইনি, তাই খুব বেশি লেখককে চেনা হয়নি। তবে আইডিয়াতে নতুন আরেকটা নাম আছে। কিন্তু সমস্য হলো যে কোরাপ্ট বোগেমিয়ান যে আমার রেজিষ্টার্ড পরিচয় হয়ে গেছে! এটা কি বদলানো সম্ভব?

যাইহোক সময় নিয়ে আমার লেখাটা পড়ার জন্যে আরেকবার ধন্যবাদ। আর মুসা ভাই কিন্তু এখনও নিরব .................

বোহেমিয়ান এর ছবি

হ্যা ভাই! আপনি এ মেইল করুন।

আমারে এইভাবে কোরাপ্ট বানায়া দিলেন?!!! খাইছে

সচলে স্বাগতম
_________________________________________

_________________________________________
ওরে! কত কথা বলে রে!

অতিথি লেখক এর ছবি

বোহেমিয়ান ভাই, আপনারে কোরাপ্ট বানাই নাই, কোরাপ্ট হইলাম আমি নিজে। বোহেমিয়ান হইতে চাইছিলাম, কিন্তু পারি নাই; তাই মাঝে মাঝে বোহেমিয়ানের ভাব ধরি।

হিমু ভাই আমারে বিষয়টা জানানোর পর আমি নতুন একটা এ্যাকাউন্ট খুলেছি কিন্তু এখনও মেম্বারশীপ পাই নাই। পেলে নতুন ইউজারনেম জানাবো ভাই। কিছু মনে নিলেন না তো ভাই? ভালো থাকেন।

কোরাপ্ট বোহেমিয়ান

নৈষাদ এর ছবি

পড়লাম। 'ফ্যাব্রিক্স মার্কেটিং ফার্মের' ‘মেকানিজম’টা ভালভাবে বুঝতে পারলাম না। আপনি এই সেক্টরে একজন 'ইনসাইডার', বিশ্লেষণের প্রত্যাশাটা একটু বেশিই ছিল মনে হয় আপনার কাছে...। কিছুটা হতাশ হলাম।

অতিথি লেখক এর ছবি

নৈষাদ ভাই, কোনও সময়ে অবশ্যই লিখবো। আশাকরছি খুব তাড়াতাড়িই লিখবো। হতাশ হবেন না প্লিজ।

মুস্তাফিজ এর ছবি

আমিও কিছুদিন গার্মেন্টস্‌ এ কাজ করেছি। কিছুদিন ঠিক না প্রায় ১০বছরের মতন। আপনার লেখা থেকে মেকানিজমটা আমিও বুঝিনাই।

...........................
Every Picture Tells a Story

অতিথি লেখক এর ছবি

নৈষাদ ভাই ও রবি ভাই, মেকানিজমটা সংক্ষেপে এইখানে ব্যাখ্যা করি। রবি ভাই বিষয়টা ধরতে পারবেন যেহেতু আপনি এই সেক্টরের মানুষ।

ফ্যাব্রিক্স মার্কেটিং ফার্মগুলো শ্রেফ বিনা পুঁজিতে ব্যবসা করে। ওদের একটা অফিস থাকে আর কমিউনিকেশনের কিছু ব্যবস্থা থাকে, যেমন ফ্যাক্স, ইমেইল, ইত্যাদি। আর থাকে কিছু মার্কেটিং কর্মী, যেমন আমি একজন ছিলাম। এই ফার্মগুলোর মূল কাজটা হচ্ছে ক্রেতা ও বিক্রেতার মাঝে 'ডিল' করিয়ে দিয়ে কিছু কমিশন কামানো। আর সুযোগপ্রাপ্তি সাপেক্ষে কিছু এক্সট্রাঅর্ডিনারি ডিল বাগানো যেমন একটা লেখায় উল্লেখ করেছি। এই ব্যবসা এমন এক ব্যবসা যাতে কোনও লস নেই। তবে অফিস ভাড়া ও ষ্টাবলিশমেন্ট, ষ্টাফ স্যালারী, এই খরচগুলোও কিন্তু কম না।

এখন আসেন মেকানিজম এর কথায়। এই ব্যবসার মূল মেকানিজম হচ্ছে পারসোনাল নেটওয়ার্কিং। ধরেন, ইন্দোনেশিয়ার পিটি আপাক কোমন্পানীর ডেনিম বাংলাদেশে ডিল করে ৫ টা মার্কেটিং ফার্ম। তাহলে ক্রেতা অন্য ৪টা ফার্ম থেকে না কিনে আপনার কাছ থেকে কিনবেন কেন? এখানে আপনার মেকানিজম হচ্ছে প্রিন্সিপ্যাল আপনাকে যে পরিমান কমিশন দেবে তার একটা অংশ আপনাকে নেটওয়ার্কিং এর জন্যে ছেড়ে দিতে হবে। তবে এটা মনে করার কোনও কারন নেই যে আপনি কমিশন ছেড়ে দেওয়ার মাধ্যমে ক্রেতাকে ডিসকাউন্ট দিচ্ছেন। না হে ভায়া না! ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের যে মার্চেন্ডাইজার এই এ্যাসাউন্টমেন্ট ডিল করছেন, তাকেই আপনাকে 'ভাও' করা লাগবে এই 'ছেড়ে দেওয়া' জিনিস দিয়ে। শুনছি ওই টাকাও নাকি ভাগাভাগি হয়। আমি দেখেছি আমাদের মালিক ভালো প্রসপেক্টওয়ালা ক্রেতা ধরতে গিয়ে পুরো কমিশনও ছেড়ে দিয়েছেন প্রথমবার। আর এই মেকানিজমের সুফল হচ্ছে যদি আপনি একটা ভালো ক্রেতার সাথে সম্পর্ক ডেভলপ করতে পারেন তবে ওই ক্রেতাও অন্য ফার্মের সাথে তেমন জড়াতে চাইবেন না। তারাও কিন্তু বাজারের খবর ভালোই রাখেন। তাই আমাদের মালিকরাও খুবই হিসেব করে এগোতেন।

আর একটা মেকানিজম হচ্ছে, ক্রেতাদের অনুরোধে আমাদের মতো ফার্মগুলো ক্রেতাকে ইনফ্লেটেড কোটেশন দিতাম এবং ডিল ফাইনাল হলে ওভারইনভয়েসিং এনশিউর করতাম। যেহেতু গার্মেন্টস সেক্টরের ফ্যাব্রিক ট্যাক্স ফ্রি তাই ইমপোর্ট ট্যাক্সের কোনও ঝামেলা ছিলোনা।

আরও একটা মেকানিজম, কোনও ফ্যাব্রিক্সের কনসাইনমেন্ট থেকে ফ্যাব্রিক উদ্বৃত্ত থেকে গেলে আমাদের মতো ফার্মগুলো ওটা বেঁচার ব্যবস্থা করতো। আমি দেখেছি, এক গার্মেন্টস সাধারনতঃ সরাসরি অন্য গার্মেন্টসের সাথে এই ডিলগুলো করতো না। আমরাই খুঁজে দেখতাম কার এই প্রোডাক্টের প্রয়োজন। কোন ক্রেতা না পাওয়া গেলেও ক্ষতি নেই, সদরঘাট তো আছেই। তবে এই কাজটা আমাদের জন্যে বেশ ঝামেলার ছিলো কারন 'জুট মাফিয়া' চক্র সবসময় সক্রিয় থাকতো যাতে মাল বাইরের কারো হাতে সরাসরি না চলে যায়। তবে সদরঘাট পার্টি জানতো কিভাবে কি ম্যানেজ করতে হয়। মান যে'ই নিক না কেনো, জুট চক্রকে ট্যাক্স না দিয়ে মাল নেওয়া অসম্ভব বিষয়।

সবথেকে জঘন্যতম মেকানিজমঃ মাত্র ২-১টা কেস দেখেছি। আমাদের ক্রেতা ফ্যাব্রিক এনে সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃতভাবে ষ্টক লট করে সামান্য কিছু প্রোডাক্ট আর বাকী সমস্ত ফ্যাব্রিক খোলাবাজারে ছেড়ে দিয়েছে। আমি চাকরীরত অবস্খায় আমাদের এক ক্রেতাকে জেলে যেতেও দেখেছি এই অপকর্ম করে।

বাড়ি থেকে পাঠিয়েছিলো চাকরি শিখতে। শিখতে শিখতে বুঝলাম যে এই সেক্টরে পেশাগত উৎকর্ষ সাধন করতে গেলে সততা জিনিষটাকে কবর দিয়ে রেখে আসতে হবে। মানাতে পারছিলাম না, তাই চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। তবে চাকরি ছাড়ার আগেই একটা আন্তর্জাতিক সংস্থায় চাকরি হয়ে গেলো।

১০ বছর হয়ে গেলো এই সেক্টর ছেড়েছি। জানি না এখন কি অবস্থা। তবে আমার মালিক এই ব্যবসা করতে করতে বিদেশেও নেটওয়ার্ক বিস্তার করে ফেলেছিলেন এবং ব্যবসা শুরু করেছিলেন। ২০০৪ সালের দিকে তিনি এই ব্যবসা গুটিয়ে পারমানেন্টলি বিদেশে চলে যান। সেদিন এক পুরোনো কলিগের সাতে দেখা হলো। তিনি শুনেছেন মালিক ইটালিতে খুব ভালো করছেন।

কোরাপ্ট বোহেমিয়ান

অতিথি লেখক এর ছবি

নৈষাদ ভাই ও মুস্তাফিজ ভাই, মেকানিজমটা সংক্ষেপে এইখানে ব্যাখ্যা করি। মুস্তাফিজ ভাই বিষয়টা ধরতে পারবেন যেহেতু আপনি এই সেক্টরের মানুষ।

ফ্যাব্রিক্স মার্কেটিং ফার্মগুলো শ্রেফ বিনা পুঁজিতে ব্যবসা করে। ওদের একটা অফিস থাকে আর কমিউনিকেশনের কিছু ব্যবস্থা থাকে, যেমন ফ্যাক্স, ইমেইল, ইত্যাদি। আর থাকে কিছু মার্কেটিং কর্মী, যেমন আমি একজন ছিলাম। এই ফার্মগুলোর মূল কাজটা হচ্ছে ক্রেতা ও বিক্রেতার মাঝে 'ডিল' করিয়ে দিয়ে কিছু কমিশন কামানো। আর সুযোগপ্রাপ্তি সাপেক্ষে কিছু এক্সট্রাঅর্ডিনারি ডিল বাগানো যেমন একটা লেখায় উল্লেখ করেছি। এই ব্যবসা এমন এক ব্যবসা যাতে কোনও লস নেই। তবে অফিস ভাড়া ও ষ্টাবলিশমেন্ট, ষ্টাফ স্যালারী, এই খরচগুলোও কিন্তু কম না।

এখন আসেন মেকানিজম এর কথায়। এই ব্যবসার মূল মেকানিজম হচ্ছে পারসোনাল নেটওয়ার্কিং। ধরেন, ইন্দোনেশিয়ার পিটি আপাক কোমন্পানীর ডেনিম বাংলাদেশে ডিল করে ৫ টা মার্কেটিং ফার্ম। তাহলে ক্রেতা অন্য ৪টা ফার্ম থেকে না কিনে আপনার কাছ থেকে কিনবেন কেন? এখানে আপনার মেকানিজম হচ্ছে প্রিন্সিপ্যাল আপনাকে যে পরিমান কমিশন দেবে তার একটা অংশ আপনাকে নেটওয়ার্কিং এর জন্যে ছেড়ে দিতে হবে। তবে এটা মনে করার কোনও কারন নেই যে আপনি কমিশন ছেড়ে দেওয়ার মাধ্যমে ক্রেতাকে ডিসকাউন্ট দিচ্ছেন। না হে ভায়া না! ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের যে মার্চেন্ডাইজার এই এ্যাসাউন্টমেন্ট ডিল করছেন, তাকেই আপনাকে 'ভাও' করা লাগবে এই 'ছেড়ে দেওয়া' জিনিস দিয়ে। শুনছি ওই টাকাও নাকি ভাগাভাগি হয়। আমি দেখেছি আমাদের মালিক ভালো প্রসপেক্টওয়ালা ক্রেতা ধরতে গিয়ে পুরো কমিশনও ছেড়ে দিয়েছেন প্রথমবার। আর এই মেকানিজমের সুফল হচ্ছে যদি আপনি একটা ভালো ক্রেতার সাথে সম্পর্ক ডেভলপ করতে পারেন তবে ওই ক্রেতাও অন্য ফার্মের সাথে তেমন জড়াতে চাইবেন না। তারাও কিন্তু বাজারের খবর ভালোই রাখেন। তাই আমাদের মালিকরাও খুবই হিসেব করে এগোতেন।

আর একটা মেকানিজম হচ্ছে, ক্রেতাদের অনুরোধে আমাদের মতো ফার্মগুলো ক্রেতাকে ইনফ্লেটেড কোটেশন দিতাম এবং ডিল ফাইনাল হলে ওভারইনভয়েসিং এনশিউর করতাম। যেহেতু গার্মেন্টস সেক্টরের ফ্যাব্রিক ট্যাক্স ফ্রি তাই ইমপোর্ট ট্যাক্সের কোনও ঝামেলা ছিলোনা।

আরও একটা মেকানিজম, কোনও ফ্যাব্রিক্সের কনসাইনমেন্ট থেকে ফ্যাব্রিক উদ্বৃত্ত থেকে গেলে আমাদের মতো ফার্মগুলো ওটা বেঁচার ব্যবস্থা করতো। আমি দেখেছি, এক গার্মেন্টস সাধারনতঃ সরাসরি অন্য গার্মেন্টসের সাথে এই ডিলগুলো করতো না। আমরাই খুঁজে দেখতাম কার এই প্রোডাক্টের প্রয়োজন। কোন ক্রেতা না পাওয়া গেলেও ক্ষতি নেই, সদরঘাট তো আছেই। তবে এই কাজটা আমাদের জন্যে বেশ ঝামেলার ছিলো কারন 'জুট মাফিয়া' চক্র সবসময় সক্রিয় থাকতো যাতে মাল বাইরের কারো হাতে সরাসরি না চলে যায়। তবে সদরঘাট পার্টি জানতো কিভাবে কি ম্যানেজ করতে হয়। মান যে'ই নিক না কেনো, জুট চক্রকে ট্যাক্স না দিয়ে মাল নেওয়া অসম্ভব বিষয়।

সবথেকে জঘন্যতম মেকানিজমঃ মাত্র ২-১টা কেস দেখেছি। আমাদের ক্রেতা ফ্যাব্রিক এনে সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃতভাবে ষ্টক লট করে সামান্য কিছু প্রোডাক্ট আর বাকী সমস্ত ফ্যাব্রিক খোলাবাজারে ছেড়ে দিয়েছে। আমি চাকরীরত অবস্খায় আমাদের এক ক্রেতাকে জেলে যেতেও দেখেছি এই অপকর্ম করে।

বাড়ি থেকে পাঠিয়েছিলো চাকরি শিখতে। শিখতে শিখতে বুঝলাম যে এই সেক্টরে পেশাগত উৎকর্ষ সাধন করতে গেলে সততা জিনিষটাকে কবর দিয়ে রেখে আসতে হবে। মানাতে পারছিলাম না, তাই চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। তবে চাকরি ছাড়ার আগেই একটা আন্তর্জাতিক সংস্থায় চাকরি হয়ে গেলো।

১০ বছর হয়ে গেলো এই সেক্টর ছেড়েছি। জানি না এখন কি অবস্থা। তবে আমার মালিক এই ব্যবসা করতে করতে বিদেশেও নেটওয়ার্ক বিস্তার করে ফেলেছিলেন এবং ব্যবসা শুরু করেছিলেন। ২০০৪ সালের দিকে তিনি এই ব্যবসা গুটিয়ে পারমানেন্টলি বিদেশে চলে যান। সেদিন এক পুরোনো কলিগের সাতে দেখা হলো। তিনি শুনেছেন মালিক ইটালিতে খুব ভালো করছেন।

কোরাপ্ট বোহেমিয়ান

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাই তো লিখবেন। কিন্তু আরেকটু গুছায়া লিখতেন। যদিও আপনার স্বাধীনাতা। কিন্তু নাপিতের গল্পটা সামন্তবাদী লাগল। আর মেকানিজম নিয়া আবার লিখেন। জানতে আগ্রহী।
___________________________
Any day now, any day now,
I shall be released.


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

প্রায় ৭৫% পড়লাম। বুঝলাম যে গার্মেন্টস সেক্টরের কোরাপশন হাইলাইট করতে চেয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘ এবং আগোছালো লেখার কারনে সেটা বুঝতে শক্ত লেগেছে। আরো চমৎকার ওয়েল আর্গিউড লেখা আশা করি।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

অতিথি লেখক এর ছবি

অনিন্দ্য ভাই ও মাহবুব ভাই, অনেক ধন্যবাদ আপনাদের মন্তব্যের জন্যে। এগুলো আমি আগামী লেখাগুলোতে লক্ষ্য রাখবো। এই ধরনের লেখায় আমি নতুন। তাছাড়া অনেক বছর লেখার অভ্যেস নেই। সাপ্তাহিক যায়যায়দিন থাকতে মোটামুটি নিয়মিত লিখতাম। সম্প্রতি কিছু লিখেছি বিভিন্ন স্থান ভ্রমনের উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলো নিয়ে। ফেসবুকে পাবলিশ করেছি। আশা আছে এখানের সদস্যপদ পেলে ওগুলো এখানে পোষ্ট করবো। ভালো থাকবেন আপনারা।

কোরাপ্ট বোহেমিয়ান

আরিফ জেবতিক এর ছবি

অগোছালো লেখা।ভবিষ্যতে বক্তব্য ঠিক করে লিখবেন, এমনটাই আশা করি।

রায়হান আবীর এর ছবি

অনেক অর্ডার পাওয়ার মেকানিজমটা বোঝার জন্য অনেকদূর নাইমাইও কিছু না পেয়ে বুঝলাম- কিছুই বুঝলাম না।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

আমি আপনার লেখার শুরুটুকু পড়েছি, তারপর আর পড়তে পারি নাই। প্রথমত এত বড় লেখা পড়ার ধৈর্য্য এ মুহূর্তে নাই। দ্বিতীয়ত লেখাটা খুব জুতসই মনে হয় নাই।

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

লেখাটা পুরোপুরি গোছালো না হলেও বক্তব্য বুঝতে অসুবিধা হয় না। ওভারঅল দরকারী লেখা।

শ্রমিককে কম মজুরি দিয়ে বেশি কাজ করানোটা নোতুন কিছু না। কিন্তু এবিষয়ে শ্রমিকের সচেতনতা সবচেয়ে বেশি দরকার, বিশেষ করে, আমাদের দেশে সরকারের লোকজন যেখানে মালিকপক্ষের স্বার্থই আগে দেখে। উন্নত দেশে গবেষণার কাজ করে ঘন্টায় যে টাকা পাওয়া যায়, নরসুন্দরের কাজে তারচেয়ে কম পাওয়া যায় না। আমাদের দেশে শ্রমের মূল্যবৈষম্য অনেক বেশি। অর্থনীতিতে এর প্রভাব কেমন হয়, আমার ধারণা নেই, তবে সমাজজীবনে এর প্রভাব ভালো হওয়ার কথা না। সমাজের শিরা-উপশিরায় দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, হাইজ্যাকের একটা বড়ো কারণ বেতনবৈষম্য। শর্টকাটে টুপাইস কামানোর উদাহরণ যেখানে প্রকট, সেখানে সুস্থ সমাজব্যবস্থা সোনার পাথর বাটি। নিরূপায় না হলে কেউ শ্রম দিবে না।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।