আটলান্টিকের পাড়ে গড়ে ওঠা দাসত্ব ও Slave House গুলোর গল্প: পরের অংশ

রংতুলি এর ছবি
লিখেছেন রংতুলি [অতিথি] (তারিখ: মঙ্গল, ০১/০৫/২০১২ - ১০:১২অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

(লেখাটির আগের অংশে আটলান্টিকের পাড়ে গড়ে উঠা Slave House গুলোতে দাসত্বের ইতিহাস ও ভয়াবহতা কিছুটা বর্ননা করেছি, লেখার এ অংশটাতে আমি এ অঞ্চলে দাসত্বের বাণিজ্যিক এবং সামাজিক দিকটি তুলে ধরার চেষ্টা করবো।)

দাসবাণিজ্যে নিজেদের আধিপত্য নিয়ে পশ্চিমাদের মধ্যে হানহানির ইতিহাস আগেই বলেছি। Trade center গুলোতে আক্রমন, দখল, যুদ্ধ, মৃত্যু এগুলো যেন ছিলো তখনকার নিত্যদিনের ঘটনা। যেকারনে প্রতিটি Slave House গড়ে তোলা হয় দূর্গের ভেতরে অথবা এগুলোকে কেন্দ্র করে আশেপাশে গড়ে তোলা হয় দূর্গ। শত্রু পক্ষের অবাঞ্চিত দখল ঠেকাতে বসানো হয় বিশাল বিশাল কামান, প্রস্তুত রাখা হয় অগণিত গোলা।


[Goree Island, Senegal]


[Cape Coast Castle, Ghana]


[Cape Coast Castle, Ghana]


[Bunker at Goree Island, Senegal]

উপরের ছবি গুলো দেখে খুব সহজে অনুমান করা যায় যে, একসময় এই স্থান গুলোতে কি পরিমান আধিপত্যের লড়াই চলতো এবং কতটা লাভজনক হলে তবেই এক একটা অঞ্চল নিয়ে দিনের পর দিন এতটা হানাহানি চলতে পারে! দাসবাণিজ্য নিঃসন্দেহে একটি লাভজনক বাণিজ্য ছিলো। এ বাণিজ্যের প্রতেক্ষ সুবিধা ভোগ করে একদিকে যেমন সমৃদ্ধ হয়েছে দাস আমদানিকারক দেশগুলো, যার প্রথম সারিতেই আসে USA - তাদের শিল্প-কারখানা, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, বাঁধ, রেল যোগাযোগ মাধ্যম, বিভিন্ন খনি, সেচ ও কৃষি খাতে এই সকল দাসদের ‘রক্ত, অশ্রু এবং ঘাম’ ঝরিয়ে, অন্যদিকে তেমনি কাঁচা টাকার পাহাড় গড়েছে ইউরোপীয় শক্তিধর দেশগুলোর দাস পরিবহনকারী সংস্থা বা দাস ব্যবসায়ীরা, এসব প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদে ভরা অঞ্চলগুলোর, সম্পদ অবাধে লুঠ ও নিজ দেশে নিয়ে প্রক্রিয়াজাতকরণেও এখানকারই অসহায় মানুষগুলোকে চরমভাবে ব্যবহার করে। অর্থাৎ বলা যায় এসব অঞ্চলের সম্পদ ও মানুষ দুই নিয়ে গড়ে উঠে ছিলো পরাশক্তিধর দেশগুলোর এই রমরমা বাণিজ্য, যাকে ইউরোপ, আফ্রিকা এবং আমেরিকার মধ্যে ‘Triangular Trade’ বা ত্রিভূজিয় বাণিজ্য বলা হয়! শুধু এই বাণিজ্য কোনো লাভজনক পরিবর্তন আনতে পারেনি আফ্রিকার আটলান্টিকের ধারে টিকে থাকা এই দেশগুলোর নিজেদের ভাগ্যে। বরং শত শত বছর ধরে চলতে থাকা শোষণ ও বঞ্ছনায় দেশগুলো অর্থনৈতিক এবং সামাজিকভাবে পঙ্গু হয়ে যায় চিরতরে।

উপরন্তু আধিপত্য দীর্ঘস্থায়ী করতে, এইসব এলাকার সম্পদের শোষণসহ দাসের যোগান নিশ্চিত রাখতে বৃটিশরা কৌশলে ছড়ায় আঞ্চলিক বিভিন্ন গোত্র গুলোর মধ্যে জাতিগত দ্বন্দ্ব, যা পরবর্তিতে ভয়ংকর রূপ নেয়। উল্লেখ্য আফ্রিকানদের দাসত্বের করুণ পরিনতির জন্য এসব অঞ্চলের তথাকথিত রাজা বা গোত্রপ্রধানরাও সমানভাবে দায়ী ছিলো, যারা সামান্য অর্থ ও সুযোগসুবিধার লোভে অথবা পশ্চিমা প্রভুদের খুশী রাখতে নিজ গোত্রের মানুষ তাদের হাতে তুলে দিত। মূলত সেই সকল গোত্র প্রধানদের হাতে রাখতেই বৃটিশরা তাদের এই ঘৃনিত কৌশল প্রয়োগ করে, যেমনটা তারা করেছিলো ভারতীয় উপমহাদেশে হিন্দু, মুসলিমদের ক্ষেত্রে। এখনো আফ্রিকার যেসব দেশ গুলোতে প্রচুর পরিমানে অর্থনৈতিক রিসোর্স আছে, বিশেষ করে খনিজ সম্পদে ভরা অঞ্চলগুলোতে জাতিগত দাঙ্গা চিরস্থায়ী, উদাহরন – অ্যাঙ্গোলা, মোজাম্বিক ইত্যাদি। অতএব বলা যায় অবাধ সম্ভবনা থাকা সত্ত্বেও এ অঞ্চলের দেশগুলো যে কাতারে ছিলো আজও সে কাতারেই রয়ে যায় বুকে নিয়ে জ্বলন্ত ক্ষত!

পশ্চিম আফ্রিকার দাসবাণিজ্যের পরিসংখ্যানের যে চিত্রটি পাওয়া যায় Juffureh Meseum এ, তাতে দেখানো হয়েছে ১৬৫০ থেকে ১৮৬০ সালের মধ্যে আনুমানিক ১৫ মিলিয়নের বেশী ‘জীবিত’ কৃতদাস পৌছায় South America, North America, Central America, West Indies এবং Europe এ । জীবিত বলার কারন হলো পরিসংখ্যানটিতে বলা হয় যাত্রাকালীন মৃতদের সংখ্যা অজানা, অথবা মৃতদের পরিসংখ্যান কোথাও রাখা হয় নাই। এছাড়াও সেখানে আরো বলা হয় এই রপ্তানিকৃত শ্রমিকদের মধ্যেও বেশির ভাগই পরে মারা যায় Carribbean, Central এবং South America য় কাজের কঠোরতা ও নিষ্ঠুর জীবনযাত্রা অবস্থার কারনে।

দাসের পিঠে গরম লোহার শিক দিয়ে চিহ্নিত করার ছবিটি যেমন অনেক কিছু বলে দেয়, তেমনি এটাও সত্য যে ছিলেন Harriet Beecher Stowe এর মতো লেখিকা, যিনি Uncle Tom's Cabin এ তাঁর মর্মস্পর্শী লেখনীর মাধ্যমে এই প্রথার বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে বিশেষ অবদান রেখেছিলেন। ছিলেন Thomas Clarkson, Henry Brougham মত মানুষ, যাদের প্রচেষ্টায় গড়ে উঠে Anti Slave Society, ১৮২৩ সালে। ১৮৩৩ সালে Parliament of United Kingdom কতৃক Slavery Abolition Act আইনটি পাশের মাধ্যমে, দাসত্ব বন্ধের পাশাপাশি British Empire এর সকল দাসমুক্ত করা হয়। যদিও আইনটি মাঠপর্যায়ে সফলভাবে কার্যকর হতে লেগে যায় আরও অনেক বছর। আসে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কনের নাম যিনি ১৮৬২ সালে Emancipation Proclamation নামে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে তৎকালীন আমেরিকার সকল দাস মুক্তির ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে জীবিতদের কেউ কেউ ফিরে আসতে থাকে তাদের শেকড়ের সন্ধানে।


[Cape Coast Castle, Ghana]

Ghana সরকার পহেলা আগস্ট কে ‘বন্ধন মুক্তি’ Emancipation Day ঘোষণা করে। এবং পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা ঘানার কালো মানুষদের মুক্তির অনুভূতির সাথে ফিরে আসতে বলা হয়। তাদের ফিরে আসাকে উৎসাহিত করতে দূর্গের কুখ্যাত সে দরজা যার নাম ‘The Door of No Return’ তার বিপরীত দিকে লিখে দেয়া হয় ‘Door of Return’. এই Concept-টা যদিও ভালো তবে এটা সেসময় এই দরজা দিয়ে বের হয়ে যাওয়া প্রতিটি কালো মানুষের জন্য কতটা প্রযোজ্য প্রশ্ন থেকে যায়!


[Goree Island, Senegal]

Goree Island থেকে মৃত অথবা পাচারকৃত দাসদের প্রতি সন্মানে এই মিনারটি তৈরী করে পরবর্তীতে তাদেরই ফিরে আসা বা বেঁচে থাকা বংশধরেরা।


[Slavery Freedom Monument, Goree Island, Senegal]

যদিও পশ্চিমাদের পক্ষ থেকে প্রায় বলার চেষ্টা করা হয়, দাসপ্রথাকে অতিরঞ্জিত করা হয়েছে। তারপরেও তাদেরই বড় বড় সব মহারথীদের, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের লক্ষ্যে এসব Slave House গুলোতে প্রায় আসতে দেখা যায়। Goree Island এ প্রেসিডেন্ট Bill Clinton আসেন ১৯৯৮ সালে, George W. Bush আসেন ২০০৩ সালে, যা তাদের আমেরিকার বিশাল কালো জনগোষ্ঠির সন্তুষ্টি ও সমর্থন পেতে সাহায্য করে।


[Goree Island, Senegal. Guns of Navarone মুভির একটি অংশ এখানে শুটিং করা হয় যেখানে Gregory Peck তাঁর সাথীদের নিয়ে পাহাড়ে উঠছে। মুভিটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত অতএব মূল আলোচনার সাথে অপ্রাসঙ্গিক।]


[Cape Coast Castle, Ghana. মৃতদের আত্মার শান্তিতে, ফিরে আসাদের শেকড়ের সন্ধানের কামনায় এবং এখানে ঘটে যাওয়া নির্মমতা তুলে ধরার প্রতিজ্ঞায় এই Plaque টি স্থাপন করা হয় দূর্গটির দেয়ালে।]


[Cape coast Castle, Ghana. President Barack Obama, slave house টি পরিদর্শনে এসে উপরের ফলকটি উন্মোচিত করেন ২০০৯ সালে।]


[Juffureh Museum, The Gambia – Sengbeh Pieh]
Sengbeh Pieh - একজন সফল বিদ্রোহী হিসাবে যাকে স্মরণ করা হয়। তাকে Sierra Leone থেকে পর্তুগীজরা আটক করে Cuba-য় Spanish দের কাছে বিক্রি করে ১৮৩৯ সালে। কিন্তু সে ও তার সঙ্গীরা সেখানে বিদ্রোহ করে দুজন crew কে জিম্মি করে Amistad নামের Spanish Slave Ship টি নিজেদের দখলে নিতে সক্ষম হন। এবং জিম্মিকৃত crew দের জাহাজটি Sierra Leone এর দিকে নিতে বাধ্য করে। এদিকে crew রা চালাকি করে তা Sierra Leone এর পরিবর্তে USA-র দিকে নিতে থাকে, সেখানে পুনরায় তাদের বন্দি করা হয়। কিন্ত ততদিনে আমেরিকাতে দাসত্ব বন্ধের আইন কার্যকর হওয়ায়, US আদালত জাহাজটিকে Sengbeh Pieh ও তার সঙ্গীদের সহ Sierra Leone ফিরিয়ে নিয়ে মুক্ত করতে নির্দেশ দেয়। Sengbeh Pieh পরিনত হয় Sierra Leone এর একজন কিংবদন্তি হিসাবে। তার বীরত্বকে সন্মানিত করতে Sierra Leone এর ৫০০০ টাকার নোটে তার ছবি ছাপানো হয়।


এখনো অজানা কজন খুঁজে পেয়েছে তার শেকড়ের ঠিকানা!

কেবল মানবতার দোহাই এই ঐতিহাসিক প্রথা বাতিলের একমাত্র কারন ছিলোনা, মূলত ব্যাপক হারে যন্ত্রের আবিষ্কার ছিলো এই প্রথা বন্ধের অন্যতম প্রকৃত কারন। অতএব বলা যায় সাদা চামড়ার আড়ালে সুবিধাবাদী আসল কালো মানুষ গুলো যখন দেখলো যন্ত্রের আবিষ্কার তাদের কাজকে সহজ করেছে কয়েকগুণ, এতদিন মানুষ দিয়ে যে কাজটি করানো হতো, এখন মেশিন সে কাজটি করছে অপেক্ষাকৃত কম সময়ে ও সহজে, তখন দাস বাণিজ্যর মতো কষ্টকর এবং ব্যয়বহুল বিষয়টি অর্থহীন হয়ে পড়ে বটে।

এরিস্টটলের মত মণীষী যদি দাসপ্রথার বাস্তব এরূপ দেখতেন, তবে ‘প্রকৃতিগত ভাবেই মানুষ জন্মে প্রভূ হয়ে, নয়তবা দাস হয়ে’ এ নির্মম তত্ত্ব দিতে পারতেন কিনা! মানুষেরই কল্যাণে যে ধর্ম, সেগুলোতেও এপ্রথাকে কেন কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ করা হলো না, এসব প্রশ্ন আমার মনকে ক্ষত-বিক্ষত করেছে বার বার! বর্ণবাদ নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নাই, চাইনা নতুন করে বর্ণবাদ উস্কে দিতে। শুধু এটুকুই মেনে নিতে কষ্ট হয় যখন ইউরোপ, আমেরিকাসহ পৃথিবীর বড় বড় সব দেশ গুলোতে শীল্প, অর্থনীতি ও অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছিলো; এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো পৃথিবীর সভ্যতাকে কয়েক ধাপ উপরে, তখন সে সভ্যতারই বলি হচ্ছিলো এসব অসংখ্য অজানা নিরিহ প্রাণ, যাদের করুণ আর্তনাদ এখনও রয়ে গিয়েছে এই Slave House গুলোর শক্ত চার দেয়াল এর মধ্যে!

লেখাটা এখানেই শেষ করবো, আটলান্টিক এর পাড়ে গড়ে উঠা দাসত্বের গল্প কতটুকু বলতে পারলাম জানি না। যদিও আমার মনে হয় পৃথিবী সব স্থানের দাসত্বের কাহিনী বোধহয় অনেকটা একই, তবে এ স্থানগুলো বেশী গুরুত্ব পেয়েছিলো ক্যারিবীয় রুট থেকে যাতায়াতের সুবিধার কারণে। সবশেষে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক একটি ঘটনা যোগ করবো। Goree Island থেকে যখন ফিরছিলাম খানিকটা ভারাক্রান্ত মন নিয়ে, তখন Dakar পোর্টের কাছে এই ‘বাংলার কাকলি’ আমাদের (এক সাথে পরিদর্শনে আসা আর এক বাঙালী পরিবার) সবার মুখে হাসি ফুটিয়েছিলো একসাথে, মুহূর্তের মধ্যে যেন আমরা ভুলে যাই কতটা বিস্ময়কর স্তব্ধতা নিয়ে ফিরছিলাম island টি থেকে! সৃষ্টিকর্তা বোধহয় সবাইকেই তার উপলদ্ধি যাচাইয়ের সুযোগ করে দেয়, যেমনটি আচমকা এই জাহাজটি দেখে আমাদের পুনরায় উপলদ্ধি হয় যে মানুষের কাছে কতটা প্রিয় হতে পারে তার নিজের মাতৃভূমি! সমবেদনা যেন আরও বাড়ল তাঁদের প্রতি যাদের হাতে পায়ে সেকল বেঁধে চিরদিনের জন্য বিছিন্ন করা হয়েছিল নিজের মাতৃভূমি থেকে!


[আচমকাই Dakar Port দেখতে পাওয়া বাংলাদেশী জাহাজ।]

কৃতজ্ঞতাস্বীকার: Vondool for images.

http://news.bbc.co.uk/2/hi/africa/3054442.stm
http://www.theviproom.com/visions/slave.htm

-----------------
রংতুলি


মন্তব্য

ধুসর জলছবি এর ছবি

চমৎকার পোস্ট। মনটা একটু খারাপ হল যদিও এসব পড়ে । আমার কাছে তো মনে হয় দাসপ্রথা এখনও আছে, ধরন বদলেছে এই যা। আরও লিখুন। চলুক

রংতুলি এর ছবি

দাসত্ব এখনো আছে, সহমত। যে বিষয়গুলো আমাকে নাড়া দেয় সেগুলো, তুলে ধরার চেষ্টা করবো।

ধন্যবাদ আপনাকে লেখাটা পড়ার জন্য। হাসি

কীর্তিনাশা এর ছবি

এ পর্বটা পড়ে একই রকম বেদনাক্রান্ত হলাম সেইসব হতভাগ্য মানুষগুলোর কথা ভেবে।

ধন্যবাদ আপনাকে লেখা ও ছবির জন্য!

-------------------------------
আকালের স্রোতে ভেসে চলি নিশাচর।

রংতুলি এর ছবি

তাদের প্রতি অনেকদিনের জমানো সমবেদনা এই লেখাটাতে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

ধন্যবাদ আপনাকে লেখাটা পড়ার জন্য। হাসি

নরাধম এর ছবি

আপনি দাসত্বের ইতিহাস সুনিপুনভাবে তুলে ধরেছেন। আপনার কাছ থেকে এই সম্পর্কিত আরও লেখা আশা করছি। চলুক

রংতুলি এর ছবি

লেখাটা শেষ করতে পেরে আমার নিজেরও অনেক ভাল লাগছে!

ধন্যবাদ আপনাকে লেখাটা পড়ার জন্য। হাসি

এবিএম এর ছবি

লেখাটা ভালো লাগল । অনেক কষ্ট করে লিখেছেন বোঝা যায়। যন্ত্রের আবিষ্কার দাসপ্রথা বিলুপ্তির প্রধান কারন, এই ব্যাপারটার সাথে আমি ও পুরোপুরি একমত।
সামনে কি নিয়ে লিখবেন ? হাসি
ভালো থাকবেন।

রংতুলি এর ছবি

ধন্যবাদ আপনাকে কষ্ট কিছুটা সফল হলো। যে বিষয় গুলো আমাকে নাড়া দেয়, সেগুলো নিয়ে লেখার চেষ্টা করব। ভালথাকবেন আপনিও। হাসি

কল্যাণ এর ছবি

চলুক

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

রংতুলি এর ছবি

ধন্যবাদ! হাসি

মজলুম  এর ছবি

দাস ব্যবস্হা আসলে শেষ হয় নাই। এখনো অনেক ধরনের দাস আছে এই একবিংশ শতাব্দীতে। যৌন দাসী, খামারের দাস, বন্ডেজ দাস, কারাগারের দাস। এই সব দাস দের নিয়ে ডকুমেন্টরি দেখুন এখানে, http://www.aljazeera.com/programmes/slaverya21stcenturyevil/

রংতুলি এর ছবি

দীর্ঘশ্বাস! মন খারাপ

বন্দনা এর ছবি

ছোটবেলায় রুটস নামে একটা সিরিয়াল হতো বিটিভিতে ওটার থিম ও ছিল এই দাসপ্রথা নিয়ে। সিরিয়ালটা দেখে এত কান্না পেতো। আপনার লেখা পড়ে অনেক ইনফরমেশন জানা গেল, এই মানুষগুলার জন্য মনটা বেশ খারাপ হয়ে গেলো।

রংতুলি এর ছবি

ধন্যবাদ আপনাকে। রুটস ছিলো মুলত এই অঞ্চল থেকে বন্দিকৃত এক দাস এর জীবন অবলম্বনে, তাঁর নাম ছিলো Kunta Kinte এবং বইটা লিখেছিলেন তারই ৭ম বংশধর Alex Haley. Roots এর series টা পাবেন Amazon এ, সংগ্রহে রাখতে পারেন।

রাগিব এর ছবি

দাস প্রথার জন্য কেবল শ্বেতাঙ্গদের দায়ি করলে তা অর্ধেক সত্য হবে। এহেন প্রথায় প্রাচ্যের লোকজনও কম ছিলো না। বিশেষ করে আরবদের মধ্যে এই প্রথার ব্যাপক প্রচলন ছিলো। ১৯৬০ সালেও সৌদি আরবে ৩ লাখ দাস ছিলো। আর সৌদি আরব ও আরব বিশ্বে মান্ত্র ১৯৬২ এর পরে দাসপ্রথা নিষিদ্ধ হয়। ভারতের নানা জায়গায় এখনো প্রচুর মানুষ কার্যত দাস হয়ে আছে।

----------------
গণক মিস্তিরি
জাদুনগর, আম্রিকা
ওয়েবসাইট | শিক্ষক.কম | যন্ত্রগণক.কম

চুপচাপ এর ছবি

চলুক

রংতুলি এর ছবি

ধন্যবাদ রাগিব ভাই আপনার মন্তব্যের জন্যে। এটা সত্য যে দাসত্ব শুরুই হয় আরবদের দ্বারা, তবে সাদারা যেমন এটাকে ব্যাপক বাণিজ্যিক আকারে, বিশেষত তাদের শিল্পায়ন ও নগরায়নে তারা যে পরিমান আফ্রিকান দাস ও এখানকার সম্পদ ব্যবহৃত করেছিলো, এমনটা আর কোথাও হয়েছিলো কিনা আমার জানা নাই। মূলত ওয়েস্ট আফ্রিকার দাস বাণিজ্যের পেছনে পশ্চিমারা কেন দায়ি ছিলো তা map দেখে পরিষ্কার ধারনা পাওয়া যায়, প্রথমতঃ ক্যারিবীয় রুট থেকে এইসব অঞ্চল কাছে হওয়ায় যাতায়াত বা শিপিং এর সুবিধার্তে । দ্বিতীয়তঃ এসব অঞ্চলে প্রচুর পরিমানে প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ যেমন- স্বর্ণ, আইভরি, কাঠ ও অন্যান্য কাঁচামাল এর কারনে। এসব সম্পদ এর খোজে পর্তুগিজরা অনেক আগে থেকেই এইসব অঞ্চল আবিস্কার ও নামকরন করে, যেমন- ঘানা কে গোল্ড কোস্ট, আইভরি কোস্ট ইত্যাদি প্রায় ১৪৪৪ থেকে ১৪৭১ বা তারও আগে। আর এসব সম্পদ উত্তোলন ও প্রকৃয়াজাতকরনে প্রয়োজন পরে শ্রমশক্তি যার পরিনতি দাসত্ব।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

প্রথমে ধন্যবাদ পোস্টটা শেষ করার জন্য। তবে পাঠক হিসেবে আমার অতৃপ্তির কথা জানিয়ে যাচ্ছি। প্রসঙ্গ ও প্রাসঙ্গিক ঐতিহাসিক ঘটনাবলী আরো বিস্তারিত বর্ণনা এবং ইন্টারপ্রেটেশন দাবি করে। আমার অনুরোধ, আপনি একটু সময় নিয়ে এটাকে বিস্তারিত করুন। ব্লগে লেখার দৈর্ঘ্যে একটা সীমাবদ্ধতা কাজ করে। সেই চিন্তাটা দূরে রেখে লেখাটা লিখুন। আগে বলেছি, আবারো বলছি। বাংলা ভাষায় এই বিষয়ে খুব কম লেখা আছে। সুতরাং আপনার একটা দায়িত্ব কিন্তু তৈরি হয়ে গেছে।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

রংতুলি এর ছবি

ধন্যবাদ দাদা আপনার মন্তব্যের অপেক্ষা করছিলাম। বিস্তারিত কেটে ছোট করেছি, আপনি আবার এটাকে বাড়াতে বলছেন! গাইড এর মুখ থেকে সোনা অনেক গল্পের সত্যতা পাইনাই নেট ঘেঁটে, তাই অনেক কিছুই বাদ পরেছে। বাংলা টাইপিং এও সমস্যা হচ্ছে তাই অনেক জায়গায় বাংলায় লিখতে না পেরে ইংলিশ ওয়ার্ড টাই দিয়ে দিয়েছি, যা দেখতে একটু খারাপ লাগছে। যাইহোক তারপরও চেষ্টা করবো আরও লিখার বিশেষ করে শুধু ছবি গুলো দিয়ে একটা পোষ্ট দেয়ার ইচ্ছা আছে। অনেক ধন্যবাদ, ভাল থাকবেন!

ব্যাঙের ছাতা এর ছবি

আপনি তো জানার তৃষ্ণা আরো বাড়িয়ে দিলেন। আরো লিখুন এই বিষয়ে।
চলুক চলুক চলুক

রংতুলি এর ছবি

ধন্যবাদ আপনাকে! তৃষ্ণা থেকেই তো সব প্রাপ্তি, এটাকে জিইয়ে রাখুন। এ বিষয়ে সুধু ছবি দিয়ে একটা পোষ্ট দিবো এক সময়। হাসি

নীড় সন্ধানী এর ছবি

সাম্প্রতিককালে প্রায় না ওল্টানো একটা বিষয় নিয়ে লিখেছেন। শতশত বছরের রক্তে লেখা ইতিহাস আছে দাসেদের। তার কিছুটা ছাপচিত্র উঠে এসেছে ছবিগুলোতে। দাস ব্যবসার আদি উৎপত্তি মনে হয় আরব দেশে। আরবদের কাছ থেকে ব্যবসাটা দখল করে ইউরোপীয়ান দখলদারেরা। আফ্রিকার কালো মানুষদের নিয়ে ব্যবসাটা আরবরাই শুরু করে খ্রিষ্টপূর্ব সময়কাল থেকে।

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

রংতুলি এর ছবি

ধন্যবাদ আপনাকে! এটা সত্যি যে, দাসত্ব শুরু হয় আরবদের দ্বারা, তবে ইউরোপিয়ানরা যেমন এটাকে ব্যাপক বাণিজ্যিক আকারে, বিশেষত তাদের শিল্পায়ন ও নগরায়নে তারা যে পরিমান আফ্রিকান দাস ও এখানকার সম্পদ ব্যবহৃত করেছিলো, এমনটা আর কোথাও হয়েছিলো কিনা জানি না। শুধু সমবেদনা সেসব মানুষদের জন্য যাদের শত শত বছর ধরে ব্যবহার করা হয়েছিলো নির্মম ভাবে!

জাবেদুল আকবর এর ছবি

চলুক

রংতুলি এর ছবি

ধন্যবাদ হাসি

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

অনেক অজানা তথ্য জানলাম। ছবিগুলোর সংজোযন বিষয়টির ভয়াবহতা উপলব্ধিতে সহায়ক হয়েছে।

রংতুলি এর ছবি

আপনার মন্তব্য পেয়ে খুব ভাল লাগছে! অনেক ধন্যবাদ আপনাকে!

তারেক অণু এর ছবি

চলুক
প্রথম বার রুটস পড়ে আবেগে ভেসে গিয়েছিলাম।

সিয়েরা লিওনে নতুন দাসপ্রথা নিয়ে একটা লেখা শুরু করার ইচ্ছে আছে, দেখা যাক। আরও লিখুন, খুব ভাল হবে।

রংতুলি এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ!

লেখাটা শুরু করে দেন, আমিও অপেক্ষা শুরু করে দিলাম! চেষ্টা করবো, বলছেন?!

দিগন্ত এর ছবি

মানুষ যখন থেকে নগর-সভ্যতা গড়ে তুলেছে প্রায় একই সাথে দাস-ব্যবস্থা সমাজে ঢুকে পড়েছে। এইখানের লেখায় যে চিত্র আছে তার পুরোনো আমলে আরব, ইউরোপীয় ও আফ্রিকানদের মধ্যে ভালরকম দাস-ব্যবস্থা ছিল। মিশরের পিরামিডগুলয় দাস-নির্মিত। রোমের দাসদের আবার মনোরঞ্জনার্থে লড়াইতেও নামতে হত। স্পার্টাকাস রোমে যেমন দাসবিদ্রোহে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, সেরকম আরব আমলে জাঞ্জ বিদ্রোহ ছিল ইরাকে পূর্ব আফ্রিকান দাসেদের। আরবদের দাস-ব্যবসায় ইউরোপীয় আর আফ্রিকানদের ব্যবহার করা হত। একইরকম ভাবে ভারত-চিন-জাপানের ভালই দাসব্যবস্থা জারী ছিল।
এখনও আফ্রিকার অনেক দেশে, এশিয়ার বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে একেকভাবে বন্ডেড লেবার ব্যাপারটা চালু আছে।
তবে দাসব্যবস্থা যন্ত্রের আবিষ্কারের সাথে সাথে কমে গেছে, এরকম বক্তব্যে খুব একটা বিশ্বাসী নই। সেক্ষেত্রে মৌরিতানিয়া এই দশকে দাস-ব্যবস্থা বিলোপ করছে যেখানে আমেরিকা-রাশিয়া আগের শতাব্দীতেই তা বিলোপ করেছে - এতটা অসামঞ্জস্যপূর্ণ কিছু পেতাম না। যন্ত্রের প্রসারের সাথে বিজ্ঞান ও মানবতার প্রসারও দাস্প্রথার বিলোপে সাহায্য করেছে।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

রংতুলি এর ছবি

ধন্যবাদ আপনাকে তথ্যবহুল মন্তব্যের জন্যে। আমার লেখাটা শুরু থেকে পড়লে হয়তো জেনে থাকবেন এটা একটা specific অঞ্চলে মূলত অয়েস্ট আফ্রিকার কিছু Slave House এর উপর documentary type লেখা। এখানে আমি দাসত্বের সেই চিত্রই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি যা এই অঞ্চলের Slave House গুলোর আলোকে আমি পেয়েছি, তারপরও আমার মনে হয় পৃথিবীর সব স্থানের সব কালের দাসত্বের রূপ বোধহয় অনেকটা একই (যেখানেই মানুষ, মানুষকে নিজের প্রয়োজনে নির্মম ভাবে ব্যবহার করেছে)!
যদিও কিছু মহান মানুষের নাম নিয়ে আমি মানবতার কথা আগেই বলছি, তারপরও আমরা একটু কল্পনা করে দেখতে পারি, ধরুন বিজ্ঞান অথবা যন্ত্রের প্রসার হলোনা তখন কেবলমাত্র মানবতার দোহাই কতটুকু ইউরোপ আমেরিকার মতো শিল্পনির্ভর দেশগুলোতে এই 'Triangle Trade' বন্ধে অবদান রাখতে পারত?!

দিগন্ত এর ছবি

আপনি ভেবে দেখুন, রাশিয়া দাসপ্রথা বন্ধ করেছে ১৮৬২ সাল নাগাদ, কিন্তু তখনও রাশিয়া মূলত কৃষিপ্রধান দেশ। শুধু রাশিয়া কেন, আমেরিকা দাসপ্রথা বন্ধ করায় আমেরিকার অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। দাসদের ব্যবহার কিন্তু শিল্পে নয়, মূলত কৃষিতেই ছিল। আমেরিকার গৃহযুদ্ধে দক্ষিণে দাসপ্রথা-সমর্থকদের অর্থনীতির ভিত্তি ছিল তুলোর চাষ। কৃষিতে যন্ত্রের ব্যবহার এসেছে অনেক পরে, প্রথম ট্রাক্টরের পেটেন্ট আসে ১৮৯২ সালে। বরং ঘটনাক্রম অনুসারে আমার ধারণা যে দাসের অভাবে কৃষি-ভিত্তিক অর্থনীতির যে ক্ষতি হয়েছিল, তার পরিপূরক হিসাবেই যন্ত্র-ভিত্তিক কৃষি জনপ্রিয় হয়েছিল।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

তানভীর এর ছবি

চলুক

Amistad নিয়ে দারুণ একটা মুভি আছে, নাম ও Amistad- এন্থনি হপকিন্স, Djimon Hounsou এঁদের অন্যতম সেরা ছবি।

এই আটলান্টিকের পাড়েই ওয়েস্ট আফ্রিকা থেকে আমেরিকায় ধরে নিয়ে আসা দাসদের উত্তরসূরীদের ছোট একটা অংশ আজও তাদের আফ্রিকান ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এদের নিয়ে লিখেছিলাম- 'সাপেলো দ্বীপের কালো মানুষেরা'

রংতুলি এর ছবি

অনেক অনেক ধন্যবাদ!! মুভিটা এই weekendএই দেখবো আশা করি! হাসি

নাশতারান এর ছবি

মুগ্ধতা নিয়ে পড়ে গেলাম। তবে বানানে বেশ ঝামেলা আছে যে!

প্রতেক্ষ > প্রত্যক্ষ
ত্রিভূজিয় > ত্রিভুজীয়
বঞ্ছনা > বঞ্চনা
পরিনতি > পরিণতি
ঘৃনিত > ঘৃণ্য
পরিমানে > পরিমাণে
উদাহরন > উদাহরণ
সম্ভবনা > সম্ভাবনা
কারন > কারণ
মণীষী > মনীষী
শীল্প > শিল্প
নিরিহ > নিরীহ

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

রংতুলি এর ছবি

আপনি এতদিন কই ছিলেন!! এইটা প্রথম লেখা ছিলো, কিবোর্ডে কেবল বাংলা চাপড়াচ্ছিলাম! তবে বানানে সমস্যা আছে অস্বীকার করব না, বিশেষ করে 'ন' 'ণ' আর 'ি' 'ী' তে বেশ এদিক ওদিক হয়ে যায়।

অনেক ধন্যবাদ!

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।