গিরগিটি

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: বুধ, ২৫/০৭/২০১২ - ৬:৩৩অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

- কি হল দু টাকা ফেরত দিলেন না?
- নতুন নাকি এই লাইনে? ভাড়া জানেনে না? পেপার-টেপার পড়েন? তেলের দাম কত জানেন? দু-টাকা ফেরত? অ্যা! মামাবাড়ীর আবদার পাইচেন,তাই না?
- এই ভদ্র ভাবে কথা বল। কালকেই তো গেলাম আট টাকায়, ভোলানাথে। একদিনেই দু-টাকা বাড়ীয়ে দিলি?
- ভদ্রতা শিখাবেন না, বুঝলেন? কোন বাসে কত ভাড়া নিতেছে, এইখানটায় ওগুলা আলাপ মারবেন না, বুঝচেন? না পোষাইলে নামেন গিয়া যান।
- এই, দাড়া, দেখি তো, তোর কত বড় দম, নামাতো। একটা ফোন করবো, তোকে বাস থেকে নামায় থ্যাতথ্যারা বানাবো।
- অ্যাই, ফোনের ভয় দেখায় লাভ নাই। করেন দেখি ফোন, করেন, দেখি কত বড় দম।

প্রায় হাতাহাতি লেগে যেতো। জনাকয়েক সহযাত্রীদের উদ্যোগে বাকীরা মার, পাল্টা মার, রক্তপাত, গলাবাজি, দু অক্ষর-চার অক্ষর, শাষানি, দেখে নেব - এসব নানাবিধ যাত্রাভিনয় থেকে বঞ্চিত হল। ভদ্রলোক নির্দিষ্ট স্টপেজে নেমে গেলেন। দুটাকা ফেরত নিলেন কি না দেখা হল না।

- আপনার চাঁদাটা? বলেছিলেন কালকে দেবেন।
- কীসের চাঁদা য্যানো? ও রিলিফ ফান্ড? কে কাকে রিলিফ করে ভায়া, হ্যা? লোনের ইনস্টলমেন্টেই তো অধ্যেক যায়। বাকীটুকু দিয়ে এই মাগ্গিগন্ডার বাজারে... আমাকে রিলিফ দাও।

একটা ক্যালানে মার্কা হাসি দেয়ে হাতদুটো সামনের দিকে বাড়িয়ে ধরলেন ভদ্রলোক। ইউনিয়ানের নেতা গোছের লোকটা উত্তরে কি বলবে বুঝতে না পেরে একটা অক্ষম ক্যাবলাটে হাসি হেসে চলে গেলেন।

- শালার বন্যাত্রান। নেতারা সব খায়া ঢোল হয়ে গ্যাছে, যে যেদিকে পারে লুটতেছে, আর আমরা দিব বন্যাত্রান! মাথা খারাপ!

চুটকি বাজিয়ে হাই তুলে ক্যান্টিনের দিকে গেলেন ভদ্রলোক। কিছু বলতে হল না। এগিয়ে এলো এক কাপ লাল চা আর দু-খানা মেরী বিস্কুট। মানিব্যাগ চিরুনী তল্লাসী চালিয়ে যা বেরুলো তাতে দু-টাকার ঘাটতি। থাক। পরে। 'ভুলে যাবো? পাগল? তোর দু টাকা মেরে আমি বড়লোক হব?' আবার একটা দাঁত ক্যালানো হাসি। এবার গুটি গুটি পায়ে বড়বাবুর ঘর। নেই। বেরিয়ে গেছেন। মিটিং আছে। আজ নাকি আর আসবেন না। কেল্লাফতে। মনে মনে একটু নেচে নিলেন ভদ্রলোক।

কাউন্টার ফুঁকফুঁক করে টেনে মোবাইল বের করলেন ভদ্রলোক। দু-দিন ফেসবুকটা খোলা হ্য় না। বাব্বা, সব বন্যার ছবি আপললোড করেছে। দেই মেরে ক'খানা লাইক। ভাবলেন ভদ্রলোক। নিজে কি দেবে? ছবিটবি তো নেই। অনেক ভেবে লিখলেন, মানুষ মানুষের জন্য। মনে হচ্ছে কিছু লাইক-কমেন্ট জুটবে। আরেকটা কাজ বাকী আছে।

-এই, তোমার ব্লু-টুথ টা খোলা আছে?
-ক্যান? কিছু নিবেন? আছে কিন্তু অনেক কিছু। দিব নাকি?
- ঐ, তোমার বউদি দেখলে না! বাদ দাও। আরে ঐদিন গাড়ীটার সামনে ছবি তুললাম না? মনে আছে? আরে ঐ ইসের বৈভাতে গেছিলাম। বুঝচো তো? নাও পাঠাও।
- এই যে নেন। কি করবেন? প্রোফাইল পিকচার?

আবার সেই অমাইক হাসি। ছাইরঙা স্করপিওর সামনে জিন্স টি-শার্ট পরা ছবিটার নিচে উনি চোখবুঝে দেখলেন অগুন্তি পিঠচাপরানো কমেন্ট।

চারটে চল্লিশ। ব্যাগ গুছিয়ে টেবিলে রাখা বোতলের তলানিটা নিংড়ে খেয়ে ভদ্রলোক বাসস্টপের দিকে ধাবমান হলেন।
**********************************

# দীপালোক


মন্তব্য

সত্যপীর এর ছবি

চমত্কার গল্প!

..................................................................
#Banshibir.

দীপালোক এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

পথিক পরাণ এর ছবি

বেশ কয়েকটি চমৎকার দৃশ্যকল্প। তবে একটি থেকে আরেকটি ঘটনার দুরত্ব বা নৈকট্য অথবা পারম্পর্য আরেকটু টেনে বলে দিলে আমার পক্ষে বুঝতে সুবিধে হত।

লিখুন আরও---

দীপালোক এর ছবি

উৎসাহ দেবার জন্য ধন্যবাদ।
হ্যা,লেখার পর আমারো মনে হয়েছে, একটু ছেড়া ছেড়া ভাব। আসলে অনুগলপ লেখার সময় একটা ভয় কাজ করে - এই বোধ হয় আকার বড় হয়ে গ্যালো।

কৌস্তুভ এর ছবি

ভালো ছবি।

দীপালোক এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

অতিথি লেখক এর ছবি

সুন্দর গল্প

দীপালোক এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

বন্দনা এর ছবি

চমৎকার লেগেছে অণুগল্প।

দীপালোক এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

কাক্কেশ্বর কুচকুচে এর ছবি

চমৎকার হাততালি

দীপালোক এর ছবি

হাসি

শাব্দিক এর ছবি

চলুক

দীপালোক এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

দীপালোক এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

মেঘা এর ছবি

গল্প ভালো লাগলো হাসি

--------------------------------------------------------
আমি আকাশ থেকে টুপটাপ ঝরে পরা
আলোর আধুলি কুড়াচ্ছি,
নুড়ি-পাথরের স্বপ্নে বিভোর নদীতে
পা-ডোবানো কিশোরের বিকেলকে সাক্ষী রেখে
একগুচ্ছ লাল কলাবতী ফুল নিয়ে দৌড়ে যাচ্ছি

দীপালোক এর ছবি

হাসি

অতিথি লেখক এর ছবি

ভাল লিখেছেন। শুভকামনা রইলো।
- Wafiq Faruq

দীপালোক এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

দীপালোক এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

তারেক অণু এর ছবি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।