বিজয়, ইউনিজয় ও জব্বার - আমার কিছু ভাবনা

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: বিষ্যুদ, ০৫/০৩/২০১৫ - ৭:০৮অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বিজয় কি বোর্ড নিয়ে সম্প্রতি ইন্টারনেট এ ঝড় উঠেছে। বিজয় কিবোর্ড এর মালিক মোস্তাফ জব্বার এর পক্ষ থেকে খুব সম্ভবত Google এর কাছে অভিযোগ করা হয়েছে Copyright Infringement এর। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গুগল জনপ্রিয় Ridmik কিবোর্ড কে গুগল প্লেষ্টোর থেকে সরিয়ে ফেলেছে। এই লেখাটি অনেক দিন ধরে লিখবার ইচ্ছে ছিল, আজ লিখেই ফেললাম।

প্রশ্ন হচ্ছে, কি-বোর্ড লেআউট কি পেটেন্ট করা যায় কিনা? যুক্তরাষ্ট্রে ১৮৭৮ সালে আমাদের বর্তমান কালের অত্যন্ত জনপ্রিয় QWERTY কিবোর্ড লে আউট পেটেন্ট করা হয়েছে। (http://www.google.com/patents/US207559). এই কি বোর্ড লেআউট এর কাজ ছিল তদানীন্তন কালে টাইপ রাইটারে যাতে জ্যাম তৈরি না হয়, সেটার ব্যবস্থা করা। তাই কি বোর্ড লেআউট পেটেন্ট করা যায়। যারা স্মার্টফোন ব্যবহার করেন, যেনে রাখুন, Swipe করে যে স্ক্রিন আনলক করার বহুল প্রচলিত পন্থা, সেটা Apple এর পেটেন্ট করা টেকনোলজি। সেটা বিনা অনুমতিতে ব্যবহারের অপরাধে স্যামসাং কে বিরাট অঙ্কের জরিমানা চেয়ে অ্যাপল মামলা করেছে যাতে প্রাথমিক বিচারে স্যামসাং কে দোষীসাব্যস্ত করে মোটা অঙ্কের জরিমানা করেছে মার্কিন আদালত। আমাদের বহুল ব্যবহৃত কপি পেস্ট , টেক্সট সিলেকশন - ইত্যাদি অনেক প্রযুক্তিই পেটেন্ট করা। ছোটখাটো ডেভেলপারদের হয়তো আইবিএম বা অ্যাপল এর মত কোম্পানি কিছু বলে না, কিন্তু বড় কোম্পানির হালুয়া রুটিতে টান পরলে (অর্থাৎ প্রতিদ্বন্দ্বী সফটওয়ার তাদের হুমকির কারণ হয়ে গেলে) ঠিক ই মামলা করে টাকা আদায় করে।

সফটওয়ার পেটেন্ট বা লেআউট পেটেন্ট সঠিক কি বেঠিক সেটা বিতর্কের বিষয়। এর পক্ষে যারা আছেন, তারা বলতে চান যে পেটেন্ট করা যায় দেখে যে বাড়তি রয়ালটি পাওয়া যায়, সেটা ব্যবহার করে গবেষণা করে নতুন উদ্ভাবন করা হয়। বিরোধী পক্ষ মনে করেন এই পেটেন্ট করার মাধ্যমে উদ্ভাবন কে বাধা দেওয়া হয়। নীতিগত ভাবে কোন পক্ষ সঠিক সেটা বিতর্ক সাপেক্ষ। তবে কোম্পানিগুলি কে দেখেছি, যার পেটেন্ট পোর্টফলিও ভালো, সে পক্ষে কথা বলে, এবং যার পেটেন্ট পোর্টফলিও খারাপ সে সফটওয়্যার পেটেন্ট এর কুফল নিয়ে কথা বলে।

আমরা জাতিগত ভাবে মেধাস্বত্ত্ব এর সাথে খুব একটা পরিচিত নই। আমরা দেশ হিসেবে গরিব ও বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে পছন্দ করি না। বাইরের রেফারেন্স টেক্সট বই বা সফটওয়্যার অনেক ব্যয় বহুল। তাই দেদারসে আমাদের দেশে নীলক্ষেতের মত জায়গায় ইচ্ছামতন কপিরাইট লঙ্ঘন করে বই ফটোকপি করে বিক্রি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইন ও World Trade Organization এর সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক কপিরাইট আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবার কথা। তাই যদি কখনও আন্তর্জাতিক চাপে পড়ে বাংলাদেশ নীলক্ষেতের নকল সব বই এর কপি জব্দ করে ধ্বংস করতে বাধ্য হয়, তাহলে আইনগত ভাবে কিছু করার থাকবে না। এখানে অনেকএ বলতে পারেন যে আমাদের মত গরিব দেশে রেফারেন্স বই কিনে পরার সামর্থ্য কথা থেকে আসবে মানুষের। বিষয়টি হোল, বই কিনতে আপনার শিক্ষক তার কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি কে বলতে পারেন, এবং লাইব্রেরির কপি থেকে প্রয়োজনীয় পাতা বৈধ ভাবে ফটোকপি করে পড়ার বিধান রয়েছে।

জোর করে পেটেন্ট ব্যবহার ও পাইরেসি এর একটা উদাহরণ দেই। মনে করেন আপনার নিজের একটি জমি আছে। আপনি কিনেছেন সেটা। জমি তে ফসল চাষ করে যে ফসল পাবেন, সেটার মালিকানা আপনার। পাশের বাড়ির লোক যদি বলে যে সে গরিব, তাই সে আপনার ফসল চুরি করে খাবে, তাহলে সে বাংলাদেশের আইন অনুসারে (ও বেশির ভাগ সভ্য সমাজের দৃষ্টিতে) অন্যায় করবে। বাংলাদেশের মাটিতে জন্মানো সব ফসলের অধিকার আম জনতার হয়ে যায় না। সেটার জন্য আইন আছে। আপনার জম্বির ফসল আপনি জন কল্যাণে দান করে দিতেই পারেন, সেটা আপনার নিজস্ব ব্যপার। সফটওয়্যার এর ক্ষেত্রে ব্যাপারটা এমন। মোস্তাফা জব্বার তার বিজয় সফটওয়্যার ও কি বোর্ড এর স্বত্বাধিকারী। তিনি সেটা বিনা মূল্যে দিবেন, কি স্বত্ব ত্যাগ করে দিবেন সেটা একান্ত তাঁর নিজস্ব ব্যাপার। যদি তিনি তাঁর লে আউট সংরক্ষণ করে রাখতে চান, সেটাতে আমাদের বলার অধিকার থাকে না। ঠিক যেমন কোন কৃষককে আমরা সমালোচনা করতে পারি না, কৃষক যদি তাঁর জমির ফসল বিনা মূল্যে দিতে অস্বীকার করে।

মোস্তাফা জব্বার নিজে তাঁর কিবোর্ড ব্যবহার জনপ্রিয় করতে অনেক কাজ করেছেন। মার্কেটিং করেছেন, সরকারে লবিং করেছেন। যেকোনো কোম্পানি এর মালিকের কাজ ই তাই। তিনি জনপ্রিয় করেছেন দেখেই আজ বিজয়ের খুব কাছাকাছি ইউনিজয় কি বোর্ড লেআউট এর চাহিদা এত। এতে তাকে ঘৃণা করার কিছু নাই। বাংলা কি বোর্ড এর অনেক লে আউট আগে ছিল, যেগুলি আজ বিলুপ্তপ্রায়।

ফেসবুক কমেন্ট এ একটা বিষয় দেখা যায়, যে বিজয় কিবোর্ড এর প্রথমদিককার সংস্করণে পাপ্পানা ভাই এর একটা স্ক্রিনশট দেখা যায়। বলা হয়, যে মোস্তাফা জব্বার নিজে বিজয়ের উদ্ভাবক নন। বস্তুত কোন কোম্পানিতে টাকার বিনিময়ে কোন কাজ (Work for hire) করলে মেধাস্বত্ত্ব বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই Work-for-Hire দের কোন স্বীকৃতি থাকে না। যে কারণে উইন্ডোজ এ হাজার হাজার প্রোগ্রামার কাজ করলেও উইন্ডোজ তাদের ব্যক্তিগত সম্পদ হয়ে যায় না। সফটওয়ার কোম্পানিতে চাকুরী করা অন্য সিনিয়াররা বলতে পারবেন। যেকোনো সফটওয়ার তৈরি ও বাজারজাত করা, ও তা maintain করা খরচ সাপেক্ষ ব্যাপার। ১৯৯৮ সালের বিজয় এখনকার উইন্ডোজ ৮ কম্পিউটারে চলবে না। তা update করতে হবে। সেটা করতে লোকবল লাগবে। শ্রম ও মেধা লাগবে। কেউ যদি নিজ শ্রম ও মেধা বিনা মূল্যে দিয়ে সেটা করে দিতে চায়, অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ। তাই বলে সবাইকে সফটওয়ারের মুনাফা ছেড়ে দিতে হবে সেটার কোন কারণ নাই।

আরেকটা বিষয়ে খুব হাস্যকর ভাবে অনেকে মোস্তাফা জব্বারকে অপমান করেন, সেটা হোল ভাষা নিয়ে তাকে ব্যবসা করার জন্য খাটো করে দেখা। ব্যবসা জিনিসটার প্রতি আমাদের একটা বিচিত্র বিতৃষ্ণা রয়েছে। ভাষা নিয়ে ব্যবসা করা কি অপরাধ? তাহলে বাংলা একাডেমীর জাতীয় বই মেলা কেন আয়োজন করা হয়? অনেক লেখক আজকাল তাদের লেখা ব্লগে দিয়ে দেন। তাই বলে মুহম্মদ জাফর ইকবাল, বা অন্য যারা লেখক, তাদের ও কি কোন দায় বদ্ধতা আছে, যে বই না ছাপিয়ে সব বই নীলক্ষেতে ফটোকপি করতে দেওয়া, বা অনলাইনে ছেড়ে দেওয়ার? যে বই এর লেখক তাঁর অবশ্যই অধিকার আছে তাঁর বই থেকে বিক্রিত অর্থএর লভ্যাংশ তাঁর পাবার। এ জন্যই কপিরাইট আইন। যদি লেখকের মেধাস্বত্ত্ব সংরক্ষণ না করা হতো, তাহলে হয়তো অনেকে পেশাগত ভাবে লেখালেখিই করতেন না। তেমনি ভাবে, বাংলা ভাষা নিয়ে লেখা কোনও ব্যক্তিগত সফটওয়ার নিয়ে যদি কেউ ব্যবসা করতে চায়, সেটায় তাঁর অধিকার আছে। সেটা থেকে বিক্রিত লভ্যাংশের সে হকদার।

যারা বিজয় কি বোর্ড এর উপরে বিরক্ত, মনে রাখুন, যে বিজয় কোন জাতীয় সম্পদ নয়। বরং একজন ব্যক্তি সম্পদ। যদি এটাকে পছন্দ না করেন, ইউনিজয় এর ব্যবহার প্রতিহিত করেন। ফোনেটিক বা জাতীয় লেআউট ব্যবহার করেন। আপনার অফিসে টাইপিস্ট কে জাতীয় বা ফোনেটিক লে আউট ব্যবহার করতে বলেন। সফটওয়্যার কে পাইরেসি করলে তাঁর জনপ্রিয়তাই বৃদ্ধি করা হয়। যে কারণে উইন্ডোজ দীর্ঘদিন ধরে তাঁর শীর্ষ অবস্থান বজীয়ে রাখতে পেরেছে।

আমি নিজেও সমর্থন করি না যে কারো ব্যক্তিগত সম্পদ কিবোর্ড লে আউট বাংলাদেশের স্ট্যান্ডার্ড হবে। তাই বিজয় কিবোর্ড এক কালে বহু কষ্টে রপ্ত করলেও বিজয় দিয়ে লিখি না প্রায় ৪ বছর। অভ্র এর ফোরামে এক কালে অ্যাক্টিভ ছিলাম তাদের সহায়তা করার জন্য। এবং shift free ফোনেটিক টাইপিং এর জন্যও দাবি করেছিলাম। অভ্র চমৎকার একটি কাজ করেছে ইউনিজয়কে বাদ দিয়ে।

স্যামসাং এর বিরুদ্ধে অ্যাপল Swipe to Unlock, Over-Scroll Bounce সহ বিভিন্ন যে পেটেন্ট infringement এর অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটাতে অনেক সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু পাশাপাশি, স্যামসাং কে উদ্ভাবন করতে উজ্জীবিত করেছে। বর্তমানে Android এ অ্যাপল এর পন্থার পরিবর্তে Over-Scroll এ নীল আভার একটা effect দেওয়া হয়েছে, যেটা আমার মতে অ্যাপল এর প্রযুক্তির থেকে ভালো কাজ করে। বিজয় কি বোর্ডকে মুস্তাফা জব্বার যদি পেটেন্ট এ বন্ধ করে রাখেন, তাহলে ফোনেটিক কি বোর্ড আরও জনপ্রিয় হবে। বিজয় লে আউট এর বদলে অন্য লে আউট বাংলাদেশের স্ট্যান্ডার্ড হলে সেটা আমাদের ই মঙ্গল হবে। এটাকে Open Patent করে রক্ষা করলে ভালো হবে। পাশাপাশি এটাকে ব্যবহার করে আরও নতুন প্রযুক্তি আসবে।

পুনশ্চঃ
আমার লেখাটি শেষ করার আগে একটা আইনি বিষয় আপনাদের জানিয়ে দেই।

বিজয় কি বোর্ড রিলিজ হয়েছে ১৯৮৭ সালে। ২০০৭ সালে এই কিবোর্ড লে আউট পেটেন্ট করা হয়েছে। বাংলাদেশের Patents and Design Act 1911 এর ধারা 26.1(m) অনুসারে, কোন পেটেন্ট revoke করা সম্ভব যদি আদালতে প্রমাণ করা যায় যে উদ্ভাবক তাঁর উদ্ভাবনকে পেটেন্ট ফাইল করার আগেই বাণিজ্যিকরন করেছেন। ধারাটি নিম্নরূপঃ
26. (1) Revocation of a patent in whole or in part may be obtained on petition to or on a counter claim in a suit for infringement before the High Court Division on all or any of the following grounds, namely:-
(m) that prior to the date of the patent, the patentee or other persons (not being authorities administering any department of Government, or the agents or contractors of, or any other persons authorised in that behalf by the Government secretly worked the invention on a commercial scale (and not merely by way of reasonable trial or experiment) in Bangladesh, and thereby made direct or indirect profits in excess of such amount as the Court may in consideration of all the circumstances of the case deem reasonable;

এখানে উল্লেখ্য যে মোস্তাফা জব্বার নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি ১৯৯৩ সাল থেকে বিজয় কিবোর্ড বানিজ্যিক ভাবে বিক্রয় করছেন। আমার স্পষ্ট মনে আছে আমার বাবার অফিসের জন্য প্রশিকা শব্দ নামে একটি সফটওয়্যার কেনা হয়েছিল ২০০১ সালের দিকে, যেটায় বিজয় লে আউট ছিল।যখন পেটেন্ট এর আগেই বাণিজ্যিক ভাবে এর ব্যবহার ছিল, সে ক্ষেত্রে এই পেটেন্ট আদৌ একটা পিটিশন সহ্য করতে পারবে কিনা, সেটা দেখবার বিষয়। একই ভাবে এই ধরনের মামলা করা বা হাই কোর্টে পরিচালনা করার জন্য অর্থ দরকার।

অভ্র বা রিদ্মিক এর বিশাল ব্যবহারকারি গোষ্ঠী এর কেউ নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে হাই কোর্টে এই চ্যালেঞ্জটি করবেন, সেটাই দেখতে চাই। আর যদি না করে, ফ্রি সফটওয়্যার মডেল যে আমাদের দেশের জন্য প্রযোজ্য নয়, সেটাই প্রমাণ হবে।

(disclaimer: আমার সাথে মোস্তাফা জব্বার বা আনন্দ কম্পিউটার বা বিজয় এর কোন সংশ্লেষ নাই। কেবল নিজ মতামত প্রকাশ করছি এখানে)

-সাজিদ চৌধুরী (sajidmc)


মন্তব্য

অতিথি লেখক এর ছবি

মূল সমস্যাটা আসলে মোস্তফা জব্বার সাহেবের মানসিকতা নিয়ে। তিনি তার বিজয় নিয়ে ব্যবসা করলে কারও কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু বাংলাদেশে যেসব কিবোর্ড ফ্রি (এবং উন্মুক্ত) তাদের অধিকাংশের চেয়ে অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক প্রভাব জব্বার সাহেবের অনেক বেশি। একারণেই উনি "বুলিইং" করে বাকি সবাইকে বাজার ছাড়া করার চেষ্টা করছেন। উনি কপিরাইট লঙ্ঘন বিষয়ে কোনও যৌক্তিক প্রমান এখন পর্যন্ত দিয়েছেন বলে আমার জানা নেই। বিজয় এবং ইউনিজয় দুইটা ভিন্ন লেআউট। এই বিষয়ে বিস্তারিত লেখালেখি আগেই এখানে এবং এখানে হয়েছে। রিদমিক কিবোর্ডের ব্যাপারে উনি গুগলের কাছে যে অভিযোগ করেছেন সেটার ব্যাপারে রিদমিক কি ব্যবস্থা নিয়েছে এখনো জানা নেই। তবে উনার এই দাবি টিকবে না বলেই মনে হয়। ইউনিজয়ের সুবাদে বিজয়ের "কাছাকাছি" একটা লেআউট হয়তো আরও কিছুদিন টিকে থাকতো কিন্তু উনার এই গোয়ার্তুমির কারণে অদূর ভবিষ্যতে এই লেআউট হারিয়ে যাবে বলেই মনে হচ্ছে।

যখন পেটেন্ট এর আগেই বাণিজ্যিক ভাবে এর ব্যবহার ছিল, সে ক্ষেত্রে এই পেটেন্ট আদৌ একটা পিটিশন সহ্য করতে পারবে কিনা, সেটা দেখবার বিষয়।

এই ব্যাপারটার আসলেই আদালতের মাধ্যমে একটা মিমাংসা হওয়া দরকার। নাহলে কয়েকদিন পরেই আবার নতুন কোনও ছুতা নিয়ে উনি হাজির হবেন বলে আমার মনে হয়।

অতিথি লেখক এর ছবি

যখন পেটেন্ট এর আগেই বাণিজ্যিক ভাবে এর ব্যবহার ছিল, সে ক্ষেত্রে এই পেটেন্ট আদৌ একটা পিটিশন সহ্য করতে পারবে কিনা, সেটা দেখবার বিষয়।

আমি ও এক মত। আমি আইনজীবী হলে জনস্বার্থে একটা পিটিশন করতাম।

ইউনিজয় সম্পর্কে আমি বিস্তারিত অবগত। Infact যখন প্রথম কিছুদিন সেটা ব্যবহার করার চেষ্টা করেছিলাম, বিজয়ের সাথে ওইটার পার্থক্য গুলিই সবচেয়ে বিরক্ত লাগত। মুশকিল হচ্ছে, ইউনিজয়ের কোন আইনি বা পেটেন্ট ভিত্তি নাই। যেই দুর্বলতাটি উনি ব্যবহার করেন অনার স্বার্থে। -sajidmc

অতিথি লেখক এর ছবি

আমি কমপ্লেন এর একটা কপি পেলাম দুর্যোধন এর ফেসবুক এ। আদৌ পেটেন্ট এর দাবি করা হয় নি এখানে, করা হয়েছে copyright লঙ্ঘনের, Digital Millenium Copyright Act (DMCA) এর অনুসারে। DMCA তে Derivative কাজ করা কে প্রতিহত করা হয়েছে (http://en.wikipedia.org/wiki/Derivative_work) এখানেও একটা সমস্যা। এটা আমরা বলছি (ও জানি) যে এটা derivative নয়। কিন্তু জব্বার বলছে যে এটা derivative. DMCA অনুসারে Cease and Desist এর দুইটি সম্ভাবনা - হয় সফটওয়্যার সরিয়ে ফেলতে হবে, অথবা প্রমাণ দিতে হবে যে এখানে Copyright লঙ্ঘন হয় নি। সম্ভবত com.rough.unibijoybanglatyping নামের জন্যই google আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে।

পেটেন্ট এর ব্যাপারটা গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। ইউনিবিজয় কে পেটেন্ট করা দরকার বা পেটেন্ট চ্যালেঞ্জ করা দরকার। আমার ধারনা এই চ্যালেঞ্জটা করা মাত্র উনি মেহেদি হাসান কে ফোন করে প্রস্তাব দিবেন অভ্রতে বিজয় ব্যবহার করার বদলে পিটিশন প্রত্যাহার করতে। দেঁতো হাসি
-sajidmc

স্পর্শ এর ছবি

জনপ্রিয় মতের একটু বাইরের মত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন। ইউনিজয় এর সাথে বিজয়ের মিল-অমিল নিয়ে এক সময় আলোচনা হয়েছিল। ইউনিজয় লেআউটটা কার করা লেখক বা পাঠকরা কেউ জানেন?

হার্ডওয়ার কীবোর্ডের জন্য বিজয় লেআউট প্যাটেন্ট করেছেন মুস্তফা জব্বার, সেটা কি ফোন বা ট্যাবলেটের টাচ স্ক্রীনেও প্রযোজ্য হবে?

রিদমিকের ইউনিজয় লেয়াউট কি খুব জনপ্রিয়? আমি তো স্রেফ ফনেটিক আর ইংরেজী ব্যবহার করতাম।

বিজয় এর সাথে জাতীয় কীবোর্ড লেয়াউট এর তফাত কত খানি?


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

অতিথি লেখক এর ছবি

ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্যের জন্য।

ইউনিজয় সর্বপ্রথম দেখি ekushey.org তে। উইন্ডোজে ইউনিকোড ব্যবহারের জন্য ekushey.org এর উদ্যোগ সম্ভবত অভ্র এর কিছুদিন আগ থেকেই। সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত মত যে লে আউট টি বিজয় কি বোর্ড থেকে ভিন্ন। কিন্তু আসলেই ভিন্ন কিনা, সেটা আদালত বিচার করতে পারেন।

আমি আসলে পেটেন্টটি নিয়ে লিখতে চাচ্ছিলাম, কিন্তু পেটেন্ট এর কোন অনলাইন আর্কাইভ পাই নি। হার্ডওয়্যার বা সফটওয়ার যেভাবেই হোক পেটেন্ট খুব ভালো ভাবে না লিখলে ফাঁক ফোকর বের করা যায়। তবে এই সবটাই আমি বললে হবে না। বিচার প্রক্রিয়ায় প্রমাণ করা লাগবে যে সেটা ভিন্ন।

এটা খুব ভালো একটা প্রশ্ন, যে ইউনিজয় ও বিজয়ের তফাত সত্ত্বেও ইউনিজয় কি ভাবে বিজয়ের পেটেন্ট লঙ্ঘন করে। এবং জাতীয় কিবোর্ড প্রায় বিজয় কিবোর্ড এর অবিকল হওয়া স্বত্বেও কেন সেখানে মুস্তাফা জব্বার কোন আপত্তি তুলেন নাই। আমি আশা করেছিলাম যে অভ্র এবং আনন্দ কম্পিউটার এর যখন সমস্যা হয়েছিলো, ব্যাপারটা আদালতে নিষ্পত্তি হবার সময়ে এই ব্যাপার গুলি উঠে আসবে। এমনকি তখন পেটেন্টটি এর বৈধতাও চ্যালেঞ্জ করা যেত (লেখার পুনশ্চে একটি শক্তিশালী পয়েন্ট দেওয়া আছে)।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক যে ব্যাপারটা out-of-court settlement হয়, এবং আপাত দৃষ্টিতে অভ্র ইউনিজয় লেআউট ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। ফলে এখন মুস্তাফা জব্বার ইচ্ছা করলে এটাকে precedence হিসেবে দেখাতে পারবেন ইউনিজয়ের বিরুদ্ধে।

আমি লেখাতেই বলেছি, যে ফোনেটিক ব্যবহার করি আমি। ইউনিজয়ের পরিবর্তে এখন জাতীয় লেআউট ব্যবহার করি যদি খুব complicated কোন শব্দ লিখতে হয়। আমরা নিজেরা যদি সবাই জাতীয় কি বোর্ডে চলে আসি, তখন মুস্তাফা জব্বার কি করবেন দেখার বিষয় হবে। তিনি বিসিসি এর বিরুদ্ধে লড়তে যাবেন কিনা সেটা দেখবার বিষয়।

-sajidmc

এক লহমা এর ছবি

সুন্দর উপস্থাপনা। স্পর্শর সাথে সহমত। নীচে ফেবু থেকে "নেগেটিভ টাইম"-এর মন্তব্যের যুক্তিগুলোও ভাববার।

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

সাজিদ, আপনিই কি সাজেদ নামে সচলায়তনে লিখতেন?

অতিথি লেখক এর ছবি

নাহ, আমি নই definitely. আমার সদস্য নিবন্ধন করেছিলাম sajidmc নামে। সচল হই নাই যতদূর মনে পরে। -sajidmc

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

অনলাইনে/ফেইসবুকে লোকজনের স্বভাবসুলভ গালাগালি দেখে মনে হচ্ছিল এরকম একটা লেখার খুব দরকার। সুন্দর করে আপনি উপস্থাপন করেছেন।

অতিথি লেখক এর ছবি

একটা সুসংবাদ ইউনিবিজয়ের এর জন্যঃ http://boi.gov.bd/.../59.%20The%20Copyright%20Act,%202000...

বাংলাদেশ কপিরাইট আইন ২০০০ ধারা ১৬(১)ঃ

পেটেন্টস অ্যান্ড ডিজাইন এক্ট ১৯১১ এর অধীনে নিবন্ধিত কোন ডিজাইনে এই আইনের অধীনে কপিরাইট থাকবে না।

বিজয় একটি পেটেন্ট করা টেকনোলজি। অর্থাৎ, বাংলাদেশের আইন অনুসারেই বিজয় কিবোর্ড এ কোন কপিরাইট নাই। যদি কপিরাইট নাই থাকে, DMCA (Digital Millenium Copyright Act) অনুসারে এইখানে কপিরাইট লঙ্ঘন হয় নি। এই বক্তব্য সরাসরি গুগল কে জানান দরকার। -sajidmc

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

মোস্তফা জব্বার যখন বিজয় কিবোর্ড এর লে আউট ডিজাইন করেন, তখন তিনি আসলে QWERTY কি বোর্ডেই নতুন করে অক্ষর বিন্যাস করেন এবং নাম দেন বিজয় কিবোর্ড। বিজয়ের জন্য QWERTY কিবোর্ড ব্যবহার করাটা তাঁর কাছে অনৈতিক কিংবা বেআইনি মনে হয় নি। এই তথাকথিত বিজয় কিবোর্ড এর মাধ্যমে তিনি প্রভূত ব্যবসা করেছেন। অবশ্য তাঁর সেই ব্যবসা কার্যক্রম নিন্দনীয় তো নয়ই, বরং বাংলাদেশে কম্পিউটারে বাংলার প্রচলন, এমনকি কম্পিউটারেরও বহুল প্রচলনের ক্ষেত্রেও তাঁর সেই ব্যবসায়িক সাফল্য বিশেষ ইতিবাচক ভুমিকা রেখেছে বিধায় কোন সংশয় ব্যতিরেকেই তিনি ধন্যবাদার্হ। কিন্তু অন্যের আবিষ্কৃত কিবোর্ডে তিনি নিজের মত করে বাংলা অক্ষর সাজিয়ে ইন্টারফেস তৈরি করে সেই অক্ষরবিন্যাসের কপিরাইট করেছেন, এটাই কতটা যুক্তিসংগত? যে QWERTY কি বোর্ডের "Q" কি টিতে তিনি "ঙ" এবং " ং" সেট করেছেন, সেটাতে আমিও তাই সেট করলে তাঁর সমস্যা কি? QWERTY কি বোর্ডটা তো আর তাঁর একার ব্যবহারযোগ্য সম্পত্তি নয়।

অতিথি লেখক এর ছবি

ভালো প্রশ্ন। সমস্যা হোল যে ওনাকে আইনগত ভাবে মোকাবেলা করার মতন ফ্রি সফটওয়ার দেভেলাপার দের কোন প্ল্যাটফরম নাই। এমন কি বাংলাদেশ সরকারের সাথে ওনার করা জাতীয় কি বোর্ড লে আউট সংক্রান্ত আইনি লড়াই এর কোন সমাধান হয় নি। আদালাতে গেলে ওনার প্রথমত কপিরাইট ও দ্বিতীয়ত পেটেন্ট - দুইটাই হারানোর প্রবল সম্ভাবনা। সমস্যা হোল, বিড়ালের গলায় ঘণ্টা কে বাঁধবে?

Tanzirul Azim  এর ছবি

QWERTY লে আউট এর পেটেন্ট এখন আর নেই, ১৯১০ এর দিকেই এর পেটেন্ট এর মেয়াদ শেষ। এটার উপর কিছু করলে তাই আর সমস্যা হবার কথা না।

মেঘলা মানুষ এর ছবি

জব্বার সাহেবের উপর ক্ষেপে যাবার কিছু কারণ আছে:

১। জব্বার সাহেব ব্যবসায়ী পরিচয়ের বাইরে, 'তথ্যপ্রযুক্তিববিদ' হিসেবে আবির্ভূত হবার চেষ্টা।
আমি ক্লিনিকের মালিক হলেই, আমি স্বাস্থ্য বা চিকিৎসা বিষয়ে জ্ঞাংর্ভ কথা বলা শুরু করতে পারি না।

২। ব্যবসায়ী মাত্রই ব্যবসা করবেন সমস্যা নেই। কিন্তু, যখন তখন উনার জিনিস চুরি হয়ে গেল বলে শোরগোল তোলাটা।
আমি অন্য লেআউট আর বিজয়ের মাঝে মিল অমিল জানি না। নামের মিল থেকে যদি উনি বিষয়টা হয় সেটা অদ্ভুত।
ইউনিক্স ওয়ালারা লিনাক্স ডিস্ট্রোর উপরে এভাবে হামলে পড়ে নি।

৩। ভোটার আইডি/জাতীয় পরিচয় পত্র প্রজেক্টের সময়ও কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছিল বিজয় নিয়ে (শোনা কথা, ঠিক মনে নেই)।

অভ্র/ ফোনেটিক চালু হোক, এই 'বিজয়' নামের কি মুখস্থ করার যন্ত্রণা থেকে মানুষ মুক্ত হোক।

শুভেচ্ছা হাসি

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

যতদূর মনে পড়ছে, ভোটার আইডির কাজের জন্য বিজয় ব্যবহার করতে চাইলে মোস্তফা জব্বার ৫ কোটি টাকা দাবী করেছিলেন। সেখানে মেহদী বিনামূল্যে অভ্র দিয়েছিল সরকারকে। ওই ব্যবসা না করতে পেরে জব্বার সাহেব ক্ষেপেছিলেন!

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

Tanzirul Azim  এর ছবি

ইউনিক্স এর বেসিক ভার্সন টা তো ওপেন সোর্স ছিল। লিনাক্স করলে ঝামেলা হবে কেন?
১,২,৩ পয়েন্ট গুলো এথিক্যালী হয়ত ঠিক আছে কিন্তু লিগ্যালী তো ভিত্তি নেই।

অতিথি লেখক এর ছবি

অনার্য সঙ্গীত আপনার একটি পয়েন্ট এর জবাব দিয়েছেন।

ইউনিক্স ওয়ালারা লিনাক্স ডিস্ট্রোর উপরে এভাবে হামলে পড়ে নি।

পয়েন্ট ২ এর কমেন্ট আমি করতে চাই। আপনি সাধারণ ব্যবহারকারি হিসেবে লিনাক্স ব্যবহার করলে আপনাকে কিছু বলবে না কেউ। কিন্তু কারো লাভ লোকসানের ব্যপার হয়ে গেলে সেখানে মামলা মোকদ্দমা হয়। খোদ লিনাক্স এর পেটেন্ট কপি করার জন্য গুগল কে জরিমানা করেছে মার্কিন আদালত। জাভা এবং আন্ড্রয়েড দুইটাই বিনা মূল্যের হলেও অরাকল গুগল কে মামলা করতে ছাড়ে নি। . আপনি একটু পড়াশুনা করলেই জানতে পারতেন যে লিনাক্স এর উদ্ভব হয় ইউনিক্স এর প্রায় ২০ বছর পর, তাই বেল ল্যাব এর কোন পেটেন্ট থাকলেও সেটার কার্যকর থাকার সম্ভাবনা লিনাক্স এর জন্মলগ্নে ছিল না।

আমি ক্লিনিকের মালিক হলেই, আমি স্বাস্থ্য বা চিকিৎসা বিষয়ে জ্ঞাংর্ভ কথা বলা শুরু করতে পারি না।

আপনাকে বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ নম্বর অনুচ্ছেদ দেখবার পরামর্শ দিচ্ছি।
মোস্তফা জব্বার কোন ভুল কথা বললে সেটা শুধরে দেন। আইনজীবী বা কপিরাইট বিশেষজ্ঞ না হয়েও তো আমরা এই বিষয়ে আলোচনা করছি। -sajidmc

মেঘলা মানুষ এর ছবি

লিনাক্সের জন্মের খুঁটিনাটি জানা ছিল না। জানানোর জন্য ধন্যবাদ।

৩৯ নম্বর অনুচ্ছেদ দেখে আসলাম।
"করতে পারি না।" এর মানে এই না যে কথা বলা আইনত অপরাধ; বাকস্বাধীনতা আছে থাকবে।
ধরুন, গায়ক আইয়ুব বাচ্চুকে টিভির কোন একটা অনুষ্ঠানে আনা হল। তিনি যদি বলেন, "আমার কাছে প্রশিক্ষণ না পাওয়া আর কেউ গানই পারে না। সবাই ভন্ড গায়ক।" সেটা কেমন হবে? এটা ৩৯ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ঠিক আছে। কিন্তু, বিষয়টা নিন্দনীয়।

তখন আইয়ুব বাচ্চুর পেজও মানুষের আক্রমণের শিকার হওয়া স্বাভাবিক ( তবে কাঙ্ক্ষিত নয়)।

ডিসক্লেইমার:
১। আমি জব্বার সাহবের কাছে কোন বার্তা পাঠাই নি, বা গুগলের প্লে স্টোরের কোন জায়গায় রেটিং, কমেন্ট করি নি।
২। আইয়ুব বাচ্চুর প্রসঙ্গটা উদাহরণ হিসেবে এসেছে।

"আইনজীবী বা কপিরাইট বিশেষজ্ঞ না হয়েও তো আমরা এই বিষয়ে আলোচনা করছি। "
-আলোচনা করছি। তবে, সেটারও একটা সীমা আছে। আমি আর আমার পাড়ার ফার্মেসির কম্পাউন্ডার দু'জনেই জানি জ্বর হলে প্যারাসিটামল খেতে হয়, তবে আমাদের হাতে কি আরেকজনের চিকিৎসার দায়িত্ব থাকা উচিত?
আমরা কিছুটা জানি, সেটাকে নিয়ে যদি আমরা টিভিতে পথ্য দেয়া শুরু করি, প্রতিটা অনুষ্ঠানেই বলতে থাকি জ্বর হলে নারকেল খাবেন (কারণ আমাদের নারকেলের ব্যবসা আছে) সেটা কি ঠিক হবে? (সম্ভবত, আপনি ডাক্তার, mc দেখে মনে হল)

জব্বার সাহেবের মতে, বাংলা প্রসারের একমাত্র উপায় 'বিজয়'। আর, উনি ফেয়ার-আনফেয়ার সবরকম পথই বেছে নিচ্ছেন, সমানে মিথ্যা বলছেন -এটাই তাকে ভিলেন বানাচ্ছে।
[উদাহরণ উৎস‌স‌হ অন্য একটা মন্তব্যে দিয়েছি।]

ভালো থাকুন, শুভেচ্ছা হাসি

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

লেখাটা দারুণ হয়েছে।

ইউনিজয় এবং বিজয় প্রসঙ্গে মেহদীর একটা লেখা ছিল। মোস্তফা জব্বারের কপিরাইট সম্পর্কিত বক্তব্য খণ্ডন করে লেখা। সেই লেখাটা পেলে লিঙ্ক দিয়ে যাবো। ওইখানে চমৎকার জবাব ছিল বিজয়ের ভ্রান্ত দাবীর।

আপনি বিজয়ের সঙ্গে জড়িত হলেও সমস্যা ছিল না। সচলায়তনে কেবল ছাগুমতের প্রতি ফ্যাসিবাদী আচরণ করা হয়! বাকি সকল মত স্বাগতম।

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

অতিথি লেখক এর ছবি

ধন্যবাদ মতামতের জন্য।

সচলায়তনে কেবল ছাগুমতের প্রতি ফ্যাসিবাদী আচরণ করা হয়! বাকি সকল মত স্বাগতম।

ঠিক সেকারণেই সচলে লিখলাম। এখানে মোটামুটি ভিন্ন মতের প্রতি মানুষ respectful.

ইউনিজয় এবং বিজয় প্রসঙ্গে মেহদীর একটা লেখা ছিল।

মেহদী হাসান এর লেখাটা পরেছিলাম। পরে উনি কম্প্রোমাইজ করতে বাধ্য হন। (সেটার ইতিবৃত্ত এখানে ছিল। )

ইউনিজয়কে defend করবার জন্য নয়, পুরা বিচারিক প্রক্রিয়াতে এম্নিতেই কপিরাইট এবং পেটেন্ট দুটিই কিভাবে হুমকিতে পড়তে পারে সেটা আমি লেখা ও মন্তব্যে বলেছি।

আমার মতে মস্তফা জব্বার আরও উদার হতে পারতেন, এমন কি ব্যক্তিগত বিনা মূল্যের সংস্করণে ওনার ছবি দেখানোর শর্তে অভ্রকে বিজয় লে আউট ব্যবহার করতে দিতে পারতেন। উনি সেটা দেন নাই। এবং বিজয় কি বোর্ড বাংলা ভাষার একমাত্র কিবোর্ড নয় এমন কি, প্রথম কিবোর্ড ও নয়। বিজয় সফটওয়্যার কে উনি জনপ্রিয় করেছেন দেখেই কিবোর্ড মানুষ মুনির কিবোর্ডের বদলে ব্যবহার করা শুরু করেছে। অর্থাৎ বিজয় কে জনপ্রিয় করেছে ব্যবহারকারি রা। এখন অভ্র ইউনিবিজয় কে বাদ দিয়েছে প্রায় ৪ বছর চলল, অভ্র এর জনপ্রিয়তা একটুও কি কমেছে? বরং আমার ধারনা ব্লগসাইট এবং অন্যান্য জায়গায় বিজয় কিবোর্ড বন্ধ করে দিলে এম্নিতেই অনলাইনে এর জনপ্রিয়তা কমে যাবে। আর যদি না কমে, তাহলে বুঝতে হবে ওনার ব্যবসায়িক যোগ্যতার জোরেই টিকে আছে।

অনলাইনে ওনার প্রতি গালিগালাজ বা ব্যঙ্গ কর্ম খারাপ লেগেছে। উনি DMCA কমপ্লেন করে হয়তো harsh হয়েছেন। তবে উনি সেটা করেছেন ওনার ব্যবসায়িক দৃষ্টিতে। বাবা-মা চৌদ্দ গোষ্ঠী ধরে গালিগালাজ উনি deserve করেন না (আমার মতে)

Mustafa Jabbar
বাবা-মা চৌদ্দ গোষ্ঠী ধরে গালিগালাজ করছে কেউ কেউ। এটি নতুন না। আমার একটাই অপরাধ, আমি কা্উকে আমার বিজয় কীবোর্ড বিণা অনুমতিতে ব‌্যবহার করতে দিলাম না কেন? ২৮ বছর আগে যখন এদের কারও কারও জন্মও হয়নি তখন বাংলা লেখার একটি কীবোর্ড প্রণয়ন করে এতো বছর পর সুন্দর সুন্দর বাক‌্য শুনবো ভাবতে্ই পারিনি। স্রষ্টা এদেরকে ভাল রাখুন। এই জীবনে আর একটি সৃজনশীল কাজ করার কোন ইচ্ছাই হচ্ছেনা।

অতিথি লেখক এর ছবি

জব্বার লোকটারে লোভী মনে হয়। পোস্টের এক জায়গায় যেখানে জমির উদাহরণটা দিয়েছেন সেখানে, জমি জম্বি হয়ে গেছে। তারপরই জব্বার সাহেবের নাম আসছে। মজা পাইছি।

এই বিষয়টা নিয়ে এতো কিছু জানতাম না। চমৎকার পোস্ট ও মন্তব্য থেকে অনেক কিছু জানছি। লেখককে ধন্যবাদ। এমন একটা বিষয় নিয়ে নির্মেোহভাবে লেখার জন্য।

স্বয়ম

নাশতারান এর ছবি

ভালো পোস্ট। মোস্তফা জব্বারের অ্যাটিচুড একটা বড় সমস্যা। তিনি যুক্তিতে না পারলে আবেগ দিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করেন। গোটা অভ্রকে পাইরেটেড সফটওয়্যার বলতেও ছাড়েননি তিনি। বিজয় টিমের মানুষজন বাংলা ভাষার সাথে বিজয়কে মাখিয়ে নিয়ে যে যুক্তি তৈরি করেন এবং ফোনেটিক কীবোর্ড সম্পর্ক যে ছ্যা ছ্যা ভাব দেখান, সেটা নিজেদের ব্যবসা বাঁচানোর স্বার্থেই। নতুনকে স্বাগত জানানো বড়ত্বের লক্ষণ। এটা দেখাতে না পেরে মোস্তফা জব্বার নিজেই নিজেকে ছোট করেছেন।

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

মেঘলা মানুষ এর ছবি

ব্যবসায়ী ব্যক্তিকে সম্মান করা যায়, তবে স্বার্থপর, মিথ্যাবাদী ব্যবসায়ীর জন্য মুখে একদলা থুতু ছাড়া আর কিছু আসে না।

তারা হয়ত বুঝতেই পারে না যে, বাংলা ভাষার লাখো শব্দকে এভাবে লিখতে হলে কীবোর্ড দিয়ে বাংলা লেখার চাইতে অনেক বেশি শিখতে হবে। বস্তুত রোমান হরফ দিয়ে বাংলা লেখার জন্য একটি অভিধানই তৈরি করতে হবে। আমার ধারণা, বিজয় বা অন্য কোন কীবোর্ড দিয়ে বাংলা লেখার অভ্যাস করার চাইতে এই অভিধান আত্মস্থ করা হাজার গুণ কঠিন হবে।

- লেখক : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান, বিজয় কীবোর্ড ও সফটওয়্যারের জনক ॥
উৎস: জনকন্ঠ: http://dailyjanakantha.com/?p=details&csl=112602

ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন‌্য এরকম প্রলাপ বকার কোন কারণ আছে কি?
" সেটা হোল ভাষা নিয়ে তাকে ব্যবসা করার জন্য খাটো করে দেখা।"
-ভাষা নিয়ে মিথ্যাচারের জন্য কেবল তাকে শুধু খাটো না, তাকে লোভী পশু বলে মনে হচ্ছে।

স্বপ্নহারা এর ছবি

খুব ভাল একটা লেখা হয়েছে। খুব সুন্দর করে বিষয়টি তুলে এনেছেন।

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA