অভ্র, বিজয়, পেটেন্ট বিষয়ে

জ্বিনের বাদশা এর ছবি
লিখেছেন জ্বিনের বাদশা (তারিখ: শনি, ২৪/০৪/২০১০ - ৬:৫৮অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

অভ্রবিষয়ে জনাব মোস্তফা জব্বার তাঁর অভিযোগটা ঠিক কোন জায়গায় সেটাকে একদম সরাসরি প্রকাশ করেছেন, যেজন্য তাঁকে ধন্যবাদ। এটা এখন নিশ্চিত যে অভ্র বিষয়ে তাঁর সমস্যা একটিই, সেটা হলো অভ্রতে অপশন হিসেবে ইউনিবিজয় নামে একটি লেআউটের সংযোজন হয়েছে। কেন সমস্যা বোধ করছেন সেটাও তিনি জানিয়েছেন, তিনি বলছেন, অভ্রতে ব্যবহৃত ঐ ইউনিবিজয় লেআউটটি আসলে তাঁর বাজারজাত করা এবং বছর দুয়েকের খানিক বেশী আগে পেটেন্ট করা বিজয় লেআউট। গতকাল প্রথম আলোতে ছাপা তাঁর পক্ষের বক্তব্যে এটা দাবী করা হয়েছে যে ইউনিবিজয় হলো বিজয়ের "হুবহু" বা "অবিকল" নকল!

এই "হুবহু" কথাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ইউনিবিজয় যদি বিজয়ের হুবহু অনুরূপ হতো তাহলে নৈতিকতা যেটাই হোক, দাবী করা যেত যে অভ্র থেকে যেন লে-আউটটি সরিয়ে ফেলা হয়।

কিন্তু অভ্রের প্রণেতা মেহদী হাসান খানের "ভাষা উন্মুক্ত হবেই" শীর্ষক পোস্টে (সচলায়তনের নীড়পাতায় স্টিকি করা আছে) জানা গেলো যে, ইউনিবিজয় লে আউটটি বিজয়ের হুবহু অনুরূপ লেআউট না, বরং মোট আটটি বাটনের ক্ষেত্রে বিজয় আর ইউনিবিজয়ের পার্থক্য আছে। মেহদী ঐ পৃথক বাটনগুলোকে চিহ্নিত করা একটি ছবিও ঐ পোস্টটিতে তুলে দিয়েছেন। মেহদীর তুলে ধরা পয়েন্টের প্রেক্ষিতেই এই পোস্টের অবতারণা। দেখার চেষ্টা করা যে পেটেন্টের ঝামেলায় ইউনিবিজয়কে মোস্তফা জব্বার ফেলতে পারেন কিনা।

পেটেন্ট আইন সম্পর্কে আমার ধারনা খুব বেশী না। আমি বরং এই পোস্টে ইউনিবিজয়কে যাতে বিজয় পেটেন্টের ভয় দেখিয়ে ঘাঁটাতে না পারে, সে বিষয়ে আইনের হাত ধরে কিভাবে বের হওয়া যায় সেসব নিয়ে আলোচনা করবো। সরাসরিই বলি, আইন কখনই চুড়ান্ত কিছুনা। আইন হলো দূর্বল কিছু নীতিমালার সমষ্টি, যেগুলো মানুষের সমাজে নীতিবোধকে টিকিয়ে রাখার জন্য, সঠিক পথে চলা মানুষকে অসতের খড়গের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য ব্যবহার করা যায়। কাজেই নীতিবোধ আগে না আইন আগে সে প্রশ্নে আমার অবস্থান পরিস্কার, নীতিবোধ। সেজন্যই অভ্র টীম তাদের কাজ করে আইন মানছে কি মানছেনা এই প্রশ্নের চেয়েও যেটা বেশী গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো বিনামূল্যে এবং স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে কম্পিউটারে বাংলা লেখার সুযোগ করে দেয়ার অভ্রের চমৎকার প্রচেষ্টাটিকে কিভাবে দৃশ্যমান খড়গ আর প্রভাবের হাত থেকে বাঁচানো যায়, সেটার সম্ভাবনা যাচাই করা। কয়েকটা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবো।

১। অবিকল না আলাদা লেআউট?

মূল প্রশ্ন:দুটো কী বোর্ড লেআউট যদি হুবহু অবিকল না হয়, তাহলে কি পরে ডিজাইন করা লেআউটটি আগের ডিজাইন করা লেআউটের পেটেন্ট অধিকার নষ্ট করে কিনা।
মানে, কয়টি বোতাম আলাদা হলে ভিন্ন লেআউট বলা যাবে? এর কোন উত্তর নেই, এটা নির্ভর করবে লেআউটের পেছনে টেকনিকাল অরিজিনালিটিটা কতটুকু শক্তিশালী তার ওপর।

এজন্য আসুন আমরা একটু ইতিহাসের দিকে তাকাই। ১৮৫৯ সালের নভেম্বরে জর্জ মে ফেল্পস এবং ডেভিড এডওয়ার্ড হিউজ উদ্ভাবন করেন একটি টেলিগ্রাফ প্রিন্টারের, যাতে ইংরেজী বর্ণগুলো ABC... টাইপের বর্নমালার ক্রমেই দুটো সারিতে সাজানো ছিলো, কিন্তু উপরের সারিতে বর্ণমালার প্রথম অর্ধেক (A থেকে N) সাজানো ছিলো বাঁদিক থেকে ডানের ক্রমে, আর নিচের সারিতে শেষ অর্ধেক (O থেকে Z) সাজানো ছিলো ডান থেকে বাঁয়ের ক্রমে। এই যন্ত্রের যে পেটেন্ট "ইউএস পেটেন্ট ২৬০০৩", সেই ডকুমেন্টের ফিগার ১ এ লেআউটটি দেয়া আছে। সম্ভবতঃ বোতাম চাপার পর যে যন্ত্রের ভেতর কাজ করা ম্যাগনেটিক জ্যাম এড়াতে এই লেআউট করা হয়।

এর ৮ বছর পরে ১৮৬৭ সালের জুলাই মাসে কোয়ের্টি কী বোর্ডের জনক ক্রিস্টোফার লাথাম শোলজ তাঁর উদ্ভাবিত প্রথম টাইপরাইটারের পেটেন্ট করেন, (ইউ এস পেটেন্ট ৭৯৮৬৮)। এটিরও ফিগার ১ এ আপনি উদ্ভাবিত টাইপরাইটারটির লেআউট দেখতে পাবেন। ভালো মতো খেয়াল করলে দেখবেন, এতে নিচের সারিতে (A থেকে N) সাজানো ছিলো বাঁদিক থেকে ডানের ক্রমে, আর উপরের সারিতে (O থেকে Z) সাজানো ছিলো ডান থেকে বাঁয়ের ক্রমে। ফেল্পস/হিউজের লেআউটের সাথে শোলজের লেআউটের ব্যবধান একটিই, তা হলো বর্ণের সারিদুটোকে উপর-নীচ করে দেয়া। শোলজও এই লেআউটটি বেছে নিয়েছিলেন জ্যাম বন্ধ করতেই, তবে পরে তিনি টাইপিং, ইংরেজী ভাষায় বর্ণের বিন্যাস এরকম আরো কিছু প্যারামিটার যোগ করে তাঁর লেআউটটিকে আরো বদল করেন, যার মোটামুটি পরিপূর্ণ রূপ আমাদের আজকের ব্যবহার করা কোয়ের্টি কী-বোর্ড। প্রশ্ন আসতে পারে, শোলজ কেন ফেল্পসের লেআউটটি হুবহু ব্যবহার না করে উপর-নিচ করে বদলে দিলেন। কারণটা তিনি কোথাও উল্লেখ না করলেও, উদ্ভাবকদের দুনিয়ায় এটা অনুধাবন করতে কোন কষ্ট হয়না যে পেটেন্টের ঝামেলা এড়াতে তিনি এই সামান্য পরিবর্তন করেছেন।

এখন এই কেইসটির আলোকে আমরা বিজয়-ইউনিবিজয় নিয়ে একটু ঘেঁটে দেখি।
ফেল্পসের পেটেন্টে বর্ণের বিন্যাসের সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করার ফলেও, তিনি এই বিন্যাসের সারি দুটোকে উলট পালট করে নিলেও যে একই সুবিধা পাওয়া যাবে সেরকম কোন দাবী বা ক্লেইম পেটেন্টে করেননি। এই ক্লেইম না থাকায় তাঁর বিন্যাসের সেরকম ব্যবহারকে তাঁর পেটেন্টটি প্রতিহত করতে পারেনি। আর এদিকে মোস্তফা জব্বারের বিজয়ের ক্লেইমগুলো দেখলে দেখা যায়,

"1. A new Keyboard layout to write Bongolipi characters with a QWERTY based Keyboard in a computer or any other microprocessor based device has been invented and 55 Bangla characters are placed in a unique way so that all Bangla characters (Bongolipi) can be written without any hardware modification and to make it effective pairs of Bangla charactaers e.g অ+া (f), ি+ ী (d) , ু + ূ (s), ৃ +র্ (a), +ে ৈ(c), ও + ৗ (x), ক+খ (j), গ+ঘ (o), ং + ঙ (q), চ + ছ চলুক, জ + ঝ (u), ঞ + হ(i), ট + ঠ (t), ড + ঢ (e) , ন + ণ (b), ত+থ (k), দ + ধ (l), প+ফ (r), ব + ভ (h), ম + শ (m), য + য় (w), র + ল (v), স + ষ অফ যা, ্র+্য(z), ৎ + ঃ (),৭+ ঁ (7), ্‌্‌ + । (g),
has been created whereas Roman character (g) or Bangla character && (hasanta) has been defined as the link key to create vowels except A & I and almost all conjuncts.

2. A few special encoding has been done to implement the claim described in Claim 1."

কোন যুক্তিতে বা কোন কোন প্যারামিটারের ভিত্তিতে তিনি এই বিন্যাস করেছেন তার কোন ব্যাখ্যা বা ক্লেইম নেই। যার ফলে তাঁর এই বিন্যাসের পেছনে যদি কোন "অরিজিনাল" যুক্তি বা প্যারামিটার তিনি ব্যবহার করেও থাকেন, এবং সেটা কোনভাবে জেনে গিয়ে ব্যবহার করে অন্য কেউ যদি কাছাকাছি ধরনের কোন লেআউট ডিজাইন করে, তাহলে তাঁর এই পেটেন্টের ক্লেইম ঐ যুক্তি/প্যারামিটারের ব্যবহারকে রদ করতে পারবেনা।

এমনকি তাঁর এই ক্লেইমে হসন্তের জন্য g বোতামটিকে ব্যবহারের যে ট্রিভিয়াল উল্লেখ আছে, সেটাও আলাদা কোন ক্লেইম হতে পারেনা। অর্থাৎ, আর কোন লে-আউটে হসন্তের জন্য বা দুটো অক্ষরকে যুক্ত করার জন্য g কে ব্যবহার করা যাবেনা এই দাবী তিনি করতে পারবেননা। কারণ এটা তাঁর "ইউনিক" লেআউটের একটা বর্ণনা, এটাকে আলাদা ক্লেইম হিসেবে দাবী করলে যৌক্তিকতার অভাবে এটি বাদ হয়ে যেত।

বাকী কী ম্যাপিংয়ের বেলায়ও একই কথা খাটে, যেমন, "ক+খ" এর জন্য আর কোন লে-আউটে (j) ব্যবহার করা যাবেনা, এরকম কোন ক্লেইম এই পেটেন্টে নেই; কারণ পরিস্কার, এ ধরনের ক্লেইমের কোন ভিত্তি নেই। আপনি একটা গাড়ী ডিজাইন করে এর জানালায় "কটকটে টিয়া" রং লাগালেন, তারপর সেটার ক্লেইম গাড়ীর পেটেন্ট ডকুমেন্টে ঢুকিয়ে দিলেন, তখন কি হবে? যাস্ট ঐ ক্লেইমটি অপসারিত হবে।

বরং বিজয়ের পেটেন্টের ক্লেইমে "ইউনিক" লে-আউট শব্দটির ব্যবহার একে খুব দূর্বল একটা ক্লেইমে পরিণত করেছে। তাঁর ডকুমেন্টের দ্বিতীয় ক্লেইমটি প্রায় মূল্যহীন, "স্পেশাল কোডিং" এত বেশী সারফেস লেভেলের ক্লেইম যে এটা কোন কিছুকেই কাভার করেনা।

ফেল্পসের ডকুমেন্টের ক্লেইমের তুলনায় তাঁরটির ক্লেইম যে অনেক অনেক দূর্বল সেটা আমরা দেখলাম। এখন, এত শক্ত কারণসমৃদ্ধ লেআউটের বেলায়ও বর্ণের সারি ওপর-নীচ করে যদি পেটেন্টের ঝামেলা এড়ানো যায়, তখন বিজয়ের এত দূর্বল ক্লেইমের বেলায় আটটি বোতামে ব্যবধান থাকার পরও বিজয়ের "ইউনিক" লেআউট কেন দাবী করবে যে ইউনিবিজয় আমার হুবহু নকল!

একটা ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে এখানে। ফেল্পস-শোলজ কেইস থেকে মনে হতে পারে, নকল করা কি এতই সোজা! একটু উল্টে-পাল্টে দিলেই হলো! আসলে তা না। বাস্তব কথা হলো কীবোর্ড লেআউটের মতো সহজ জিনিস যেটা যে কেউ নকল করতে পারে সেটার ব্যাপারে অত শক্ত ক্লেইম করা যায়না। ফেল্পসের টেলিগ্রাফপ্রিন্টার আর শোলজের টাইপরাইটারের যান্ত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো (যেগুলোর মাধ্যমে শক্ত ক্লেইম করা যায়) ছিলো আলাদা, সেখানেও যদি শোলজ একটু উল্টেপাল্টে দেয়ার প্রয়াস নিতেন তাহলে ফেল্পস ছেড়ে কথা বলতেননা।

আসলে এত কথার দরকার নেই। কী বোর্ড লে আউট কতটা অর্থহীন পেটেন্ট তার একটা চিত্র এখানে আছে, ইয়াসুওকা'স ডায়রী নামক একটি জাপানী ভাষার ব্লগ, লেখক এনটিটি পাবলিশার্স থেকে কোয়ের্টির ইতিহাস নিয়ে একটি বই বের করে বিখ্যাত হয়েছেন, খুব ডিটেইলড বই। সেসময়ে পেটেন্ট করানো কয়েকটি লেআউটের সাদৃশ্য থেকে আসুন এটা বোঝার চেষ্টা করি।

১৮৭৩ এর নভেম্বরে ক্লাফ-ম্যাকেন্ড্রির পেটেন্ট করা লেআউট
2 3 4 5 6 7 8 9 - , _
  Q W E R T U I O P Y :
  ┇ A S D F G H J K L M
  & Z C X V B N ? ; . '

১৮৭৪ এর এপ্রিলে শোলজের পেটেন্ট করা লেআউট
2 3 4 5 6 7 8 9 - , _
  Q W E R T Y U I O P :
  ┇ A S D F G H J K L M
  & Z C X V B N ? ; . '

১৮৭৮ এর জানুয়ারীতে শোলজের আরেকটি কী-বোর্ড
2 3 4 5 6 7 8 9 -
  q w e r t y u i o p
  a s d f g h j k l m
  z c x v b n , ; !

১৮৮২ তে যখন রেমিংটনের কর্ণধার হয়ে দাঁড়ান ওয়াইকফ, সীম্যানস আর বেনেডিক্ট, তখন শোলজের পেটেন্টের ঝামেলা এড়ানোর জন্য তারা ব্যবহার করেন নীচের লেআউট
   2 3 4 5 6 7 8 9 -
  q w e r t y u i o p
  a s d f g h j k l ;
  z x c v b n m , !

ওয়াইকফদের লেআউটে শোলজের লেআউটের সাথে পার্থক্য শুধু m x c ; এর অবস্থানে। এটার মূল কারণ লেআউট পেটেন্টের ঝামেলা এড়ানো।

ইতিহাস থেকে আশা করি বোঝা সম্ভব হবে যে কী-বোর্ডের লেআউটের পেটেন্ট কতটা দূর্বল হতে পারে। আমার ধারনা, পেটেন্টের আইনের বিষয়ে যারা জানেন, তাঁরা এ বিষয়টা আরো অনেক শক্তভাবে আদালতে তুলে ধরতে পারবেন।

২। এবার দ্বিতীয় প্রশ্ন, টেকনিকাল অরিজিনালিটি কতটুকু?

এখানে আমি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই সচলায়তনে কয়েকদিন আগে দেয়া একটি পোস্ট, যেখানে সিউল রায়হান তাঁর রোকেয়া কী-বোর্ডটির বর্ণনা দিয়েছেন। এই আলোচনায় ঐ পোস্টটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেন?

সিউল তাঁর কাজে যা করেছেন, তার একটি অংশ হলো, কী-বোর্ড ডিজাইনের জন্য স্বীকৃত যে প্যারামিটারগুলো, সেগুলো ব্যবহার করে বাংলা টাইপিংয়ের জন্য অপটিমাইজড একটি কী-বোর্ড লেআউট বের করা।

এই লেআউটে যদি সিউল তাঁর নিজের চিন্তা করা কোন প্যারামিটার ব্যবহার না করে শুধু লিটারেচারে বিদ্যমান স্ট্যান্ডার্ড প্যারামিটার ব্যবহার করেন, তাহলে সেই লেআউট পেটেন্ট করা যাবেনা, কারণ টেকনিকাল অরিজিনালিটি নেই। এখন মজার ব্যাপার হলো, সিউল একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন ওখানে, যেটা হলো, স্ট্যান্ডার্ড প্যারামিটার ব্যবহার করে যে লেআউটটি বাংলার বেলায় পাওয়া যায় সেটি বিজয়ের লেআউটের সাথে ভীষন সাদৃশ্যপূর্ণ।

বিজয়ের ব্যাপারে তাঁর এই আপাতঃ প্রশংসাটি বিজয়ের পেটেন্টের শক্তিকে আরো নাজুক করে ফেলছে। যেমন এখন যদি সিউল নিজের হিসেব করে প্রাপ্ত সেই "বিজয়ের লেআউটের সাথে ভীষন সাদৃশ্যপূর্ণ" লেআউটটি তাঁর সফটে ব্যবহার করেন এবং তাতে যদি মোস্তফা জব্বার অভিযোগ করেন, তখন কিন্তু সিউলের প্রমাণ করার সুযোগ থাকে যে তিনি ডেভেলপমেন্টের সময় বিজয় সফটওয়ারটির দিকে তাকিয়েও দেখেননি। তিনি স্ট্যান্ডার্ড প্রসিডিওর অনুসরণ করে এই লেআউটটি নির্ণয় করেছেন।

ব্যাপারটাকে আমরা যদি উল্টো করে দেখি, তাহলে বলা যায় যে বিজয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ যে কোন লেআউটের বেলায়ই দাবী করা যায় যে স্ট্যান্ডার্ড প্রসিডিওর অনুসরণ করে এটি বানানো হয়েছে, মানে বিজয় নিজেও ওভাবেই নির্ণীত হয়েছে। কাজেই "নট ওনলি" চোখ টিপি ইউনিবিজয় যে সেভাবে তৈরী হয়নি আদালতে এটা দাবী করার যৌক্তিকতা জব্বার সাহেরবের জন্য থাকেনা, "বাট অলসো" চোখ টিপি আদালতই তাঁকে প্রশ্ন করতে পারে যে লিটারেচারে থাকা স্ট্যান্ডার্ড প্রসিডিওর অনুসরণ করে বানানো তাঁর এই লেআউটের অরিজিনালিটি কি?কেন এর পেটেন্টশীপকে বাতিল করা হবেনা?

৩। পেটেন্ট সাবমিশনের সময়কাল
মোস্তফা জব্বার তাঁর এই লেখাটিতে বলছেন,

"২০০৪ সালের ২৯ জুলাই এই ব্যতিক্রমী প্যাটেন্টটির অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়। প্রকৃত সত্য হচ্ছে, ১৯৯২ সালে প্রথম এই প্যাটেন্টটির জন্য আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়ে প্যাটেন্ট অধিদপ্তর এই আবেদনটি গ্রহণ করেনি। এর অন্যতম কারণ ছিল, এটি সফটওয়্যার হিসেবে কিভাবে প্যাটেন্ট অনুমোদন পাবে সেটি তখন নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। এমনকি এই প্যাটেন্টটি পরীক্ষা করার মতো জ্ঞানী কোন কর্মকর্তাও তখন ছিল না।
কিন্তু ২০০৪ সালের আবেদনটি বিবেচনা করা হয়। সুদীর্ঘ সময় পরে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত ১০ মে ২০০৭ তারিখে এই প্যাটেন্টটির গেজেট নোটিফিকেশন প্রকাশ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের ১২০ দিনের মধ্যে এর ব্যাপারে কোন আপত্তি না ওঠায় এর প্রত্যয়ণপত্র প্রদান করা হয়। আপাতদৃষ্টে এটি একটি সাধারণ ও নিয়মিত ঘটনা মনে হলেও বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য এটি একটি গুরুত্ব্বপূর্ণ ঘটনা।"

বাংলাদেশের পেটেন্ট অধিদপ্তরের "পরীক্ষা করার মতো জ্ঞানী কোন কর্মকর্তা" থাকুন বা না থাকুন, তাঁর লেআউটের পেটেন্টটির আইনের চোখে সাবমিশন হয়েছে ২০০৪ সালের জুলাইয়ের শেষে। এর আগ পর্যন্ত তাঁর বিজয় সফটওয়ার কপিরাইটকৃত ছিলো, লেআউটের পেটেন্ট ছিলোনা।

এদিকে মেহদী বলছেন যে ২০০৩ সালেই তাঁরা ইউনিবিজয় তৈরী করেছেন। তাহলে পেটেন্ট বিষয়ক আইন অনুযায়ী জব্বার সাহেব কোনভাবেই ইউনিবিজয়ের তৈরীতে বাঁধা দিতে পারেননা। সত্যি বলতে, ইউনিবিজয় আর বিজয় যদি অবিকল হতো, তখন বরং অভ্র কর্তৃপক্ষের এই আইনগত অধিকার চলে আসতো যে আমাদের প্রোডাক্টেরও লেআউট যেটি, সেটি শুধু উনি পেটেন্ট করছেন কেন?

এখানে সময়কালের ব্যাপারে মোস্তফা জব্বার দাবী করতে পারেন যে ১৯৮৭ সাল থেকে তাঁর কপিরাইট ছিলো। তবে কপিরাইটের দাবী দিয়ে তিনি অভ্র টিমকে একটা মামুলি লে আউট ব্যবহারে বাঁধা দিতে পারেননা। তিনি নিজেও অবশ্য সেটা স্বীকার করেছেন, এবং আমার ধারনা অভ্র টিমের ২০০৩ সালে পাঠানো প্রস্তাবের পর তিনি ভয় পান যে তাঁর একচেটিয়া বাজার নষ্ট হতে পারে, যেজন্য ১৯৯২ তে রিজেক্টেড হওয়া পেটেন্টের ব্যাপারটি নিয়ে আবারও তিনি ব্যস্ত হয়ে ওঠেন, এবং ২০০৪ এ সেটা জমা দেন। কপিরাইট বিষয়ে তিনিই বলছেন,

"আমাদের সাধারণ ধারণা যে, কপিরাইটই হলো সফটওয়্যারেরও প্রধান মেধাস্বত্ত্ব সুরক্ষা। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, কপিরাইট সফটওয়্যারের কপি বিতরণ করা বন্ধ করে। কিন্তু সফটওয়্যারের সঙ্গে যে নির্মাণ কৌশল ও কর্মপ্রক্রিয়া জড়িত সেটি কপিরাইটে রক্ষা করা হয়না।"

ঠিক বলেছেন তিনি। কপিরাইট তাঁর পণ্যটির নকল বিক্রী বন্ধ করতে পারবে, যেটাকে আসলে "পাইরেসী" বলা হয়। অর্থাৎ, অন্য কেউ যদি অবিকল বিজয়ের মতো সফট/হার্ড বানায় এবং বিজয় নামে বিক্রী করে, তখন কপিরাইট আইন তাঁকে বাঁচাবে।

৪।টাইমিংয়ের ব্যাপারে আরেকটা প্রশ্ন

২০ বছর ধরে একটা প্রডাক্টের কপিরাইট ধরে রেখে, সেটার বাজারজাত করে, লোকজনকে সেটাতে অভ্যস্ত করে অতঃপর যখন দেখা গেলো যে সেরকম প্রোডাক্ট বানানোর মতো আরো অনেক টেকনিকাল হ্যান্ড দেশে আছে, তখন সেটার পেটেন্টশীপ আবেদন করা -- এটা বাংলাদেশের আইনে যৌক্তিক কিনা সেটাও খতিয়ে দেখার দরকার আছে।

কারণ এটি বিজয় বা এর কাছাকাছি লেআউট ব্যবহারে অভ্যস্ত কাস্টমারদেরকে বিজয় কিনতে বাধ্য করার মতো একটি অপরাধ।

৫।রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং ইস্যু

সফটওয়ারের পেটেন্টশীপের কাভারেজ এরিয়া কতটুকু হবে এই নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। এজন্য এখনও আমরা যখন একটা সফট লেভেলের পেটেন্ট সাবমিট করি, সাথে এটির ইমপ্লিমেন্ট করা একটি হার্ডের বা যন্ত্রেরও পেটেন্ট করে রাখি -- কারণ তা নাহলে আসলে কিছুই প্রোটেক্ট করা হয়না। যেমন চিন্তা করুন, এম এস ওয়ার্ডে বোল্ডের মতো আরেকটা অপশন রাখা হলো, যাতে একটা লেটারকে ডাবল লেয়ারড দেখাবে। এখন একই অপশন যদি অন্য কেউ তার এডিটরে যোগ করে, মাইক্রোসফট বাঁধা দিতে পারবেনা। যদি মাইক্রোসফট দেখাতে পারে যে তাদের কোড চুরি করে ওটা করা হয়েছে, তখনই কেবল ওটাকে থামানো সম্ভব। এজন্যই আমরা সব ধরনের সফটওয়ার এ্যাপ্লিকেশনের ফ্রিওয়ার ভার্সন আজকাল দেখতে পাই। যেজন্য সফটওয়ার ভেন্ডরদের দিনরাত নতুন নতুন ফিচার যোগ করে ফ্রিওয়ারওয়ালাদের চেয়ে দৌড়ে এগিয়ে থাকতে হয়। মাইক্রোসফট, এডোবি, ম্যাটল্যাব -- কারো ছাড়ান নাই।

এখন মোস্তফা জব্বার আপনিই বলুন, একটা টাইপরাইটার সফটওয়ারের রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বেলায় একই রকম লেআউট ছাড়া আর কি নিয়ে কি করা যাবে?
মনে রাখবেন, কী-বোর্ড লেআউটের পেটেন্ট এতটাই দূর্বল।

৬।স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন এবং শেষকথা

জনাব মোস্তফা জব্বারের প্রতিষ্ঠানের পণ্য বিজয়ের অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই। এমন একটি পণ্যের তৈরীর উদ্যোগ ও বাজারজাতকরণের দক্ষতার কারণে এ ব্যাপারে তাঁর অবদানও অনস্বীকার্য। নিঃসন্দেহে বাংলা ভাষায় কম্পিউটিংয়ে তাঁর এই অবদান অনেক বড় একটা জায়গা দখল করে থাকবে।

তবে কেন তাঁর বিরুদ্ধে এট জনরোষ? কারণটা সবাই জানি, তাঁর সবকিছু কুক্ষিগত করে রাখার প্রবণতা, এবং সেই প্রবণতাজনিত মিথ্যাচার (অভ্রবিষয়ে, আবারও বলছি ইউনিবিজয় "অবিকল" বিজয় না)।

কিন্তু এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে লেআউট-বেইসড কম্পিউটার টাইপরাইটিংয়ে বিজয়ের লেআউটটিতেই মনে হয় ৯০ ভাগ বা তারও বেশী ব্যবহারকারী অভ্যস্ত। আবার সোনায় সোহাগার মতো বাংলাদেশের আইটি বিষয়ক নানান কমিটির নানান বড় পদেও তিনি আসীন।

এজন্যই মোস্তফা জব্বার যা করতে পারেন, তা হলো তাঁর এই বিজয় লেআউটটিকে পেটেন্টমুক্ত করে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে পারেন। যেহেতু এত লোক এতে অভ্যস্ত, তাই এটিই হতে পারে লেআউট-বেইসড বাংলা কীবোর্ডের স্ট্যান্ডার্ড। খানিকটা আর্থিক ত্যাগ স্বীকারই তাঁর "বিজয়"কে বাংলা কম্পিউটিংয়ের জগতে চিরস্থায়ী করে ফেলতে পারে।
তিনি অভ্র টিমকে এই অনুরোধও করতে পারেন যে ইউনিবিজয় যেহেতু বিজয়ের খুব কাছাকাছি, কাজেই এটিকে একটু বদলে বা এর পাশাপাশি পুরোপুরি অবিকল বিজয়ের লেআউট একটা করে ফেলা হোক, যাতে বিনামূল্যে যারা "অবিকল" বিজয় লেআউটে লিখতে চায়, তারা সেই সুবিধাটুকু পায়।

এমনকি আর্থিক ত্যাগ স্বীকার না করেও তিনি এভাবে বিজয়কে মুক্ত ও চিরস্থায়ী করে ফেলতে পারেন। তবে সেটা কিভাবে হতে পারে সেই মডেলের কথা বিনামূল্যে বিতরনের ইচ্ছে আপাততঃ আমার নেই। চোখ টিপি

(পোস্টটিতে বানান, ব্যকরণ, বাংলিশজনিত অনেক সমস্যা আছে, আগেই সার্বিক দুঃখ প্রকাশ করে রাখছি।)


মন্তব্য

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

ধন্যবাদ
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

দ্রোহী এর ছবি

চমৎকার লেখা।

চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।

আপনার সাহস আছে বলতে হয়! জব্বার কাগুর মতো ব্যবসায়ীকে বুদ্ধি দিচ্ছেন আর্থিক ত্যাগ স্বীকার করে নিজের নামকে বাংলা কম্পিউটিং এর জগতে চিরস্থায়ী করে ফেলতে! কাগু কোনরূপ আর্থিক ক্ষতি স্বীকার না করেই তা করে ফেলার ব্যবস্থা করেছেন। খালি ভাবমূর্তিতে একটু গণ্ডগোল হয়ে গেছে এই আর কী!

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

ভাবমূর্তিতে একটু গণ্ডগোল হয়ে গেছে

তা যা বলেছেন! চোখ টিপি
আমার কিন্তু লোকটার জন্য আসলেই মায়া হচ্ছিলো, এত ভালো একটা সুযোগ সে গায়ের জোরে নষ্ট করতেছে
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

কিংকর্তব্যবিমূঢ় এর ছবি

থীসিসের কাজ বাদ দিয়ে আজকে কয়েক ঘন্টা কীবোর্ড নিয়ে গবেষণা করলাম; আপনি পোস্টে কীবোর্ডের ইতিহাস ঘেঁটে যে জিনিসগুলি তুলে আনলেন এমনই কিছু একটা বের করার চেষ্টা করছিলাম, তবে বোধহয় কোথায় খুঁজতে হবে ঠিক ঠিক ধারণা না থাকায় ঠিক সুবিধা করতে পারি নাই ... আপনাকে অনেক ধন্যবাদ চলুক

তবে উইকি ঘাটাঘাটি করে কিছু অতি সাধারণ জ্ঞান লাভ করলাম ... যেমন, মেহদীর যুক্তি "একটা কী-এর পার্থক্য একটা নতুন কীবোর্ডের জন্ম দেয়" এইটা পুরাপুরি সত্য ... সিম্পল উদাহরণঃ qwertz কীবোর্ড, qwerty এর সাথে এর একমাত্র পার্থক্য হচ্ছে Y আর Z এর অবস্থানে বদলা-বদলি করা হয়েছে, কিন্তু তাতেই এর একটা আলাদা নাম আছে এবং সম্পূর্ণ আলাদা লেআউট হিসেবে বিবেচনা করা হয় ... এই পেজে এমন কোয়ের্টি কীবোর্ডের এমন অনেক ভ্যারিয়েশন দেখা যাবে, যার প্রত্যেকটাই আলাদা আলাদা নামে পরিচিত ... [অবশ্য কাগু বলবে কোয়ের্টির প্যাটেন্ট এক্সপায়ার হয়ে গেছে, নাহলে কোয়ের্টির মালিক লাঠি নিয়ে ছুটে আসতো; তবে সেটা নিয়ে মাথা না ঘামায়ে আমরা আপাতত জেনে রাখি নতুন লেআউট হওয়ার জন্য একটার বেশি নতুন কী থাকার দরকার নাই ... ]

আর প্যাটেন্ট ভায়োলেশন নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে গিয়ে ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি ল সার্ভারের এই ফোরাম পেইজটা চোখে পড়লো ... কেউ একজন [জ্বীনের বাদশাই নাকি?] এরই মধ্যে সেখানে অভ্র আর বিজয় ইস্যুটা নিয়ে আলোচনা করেছেন ... সেখানে দেখলাম ৯৯% মিলের চেয়ে সবাই প্রশ্ন তুলছেন এখনকার যুগে কীবোর্ড লেআউটের প্যাটেন্ট কিভাবে হয় ... আজ থেকে একশো বছর আগে কোয়ের্টির প্যাটেন্ট করা সম্ভব ছিল কারণ কোয়ের্টি টাইপ-রাইটারের কী-জ্যাম হয়ে যাওয়ার সমস্যা সলভ করছিল; কিন্তু এইরকম সুনির্দিষ্ট কোন ক্লেইম ছাড়া কোন নির্দিষ্ট লেআউট পেটেন্ট করাই নাকি সম্ভব না ...

................................................................................................
খাদে নামতে আজ ভয় করে, নেই যে কেউ আর হাতটাকে ধরা ...

দ্রোহী এর ছবি

জবাবে কাগু হয়তো দাবি করবেন বিজয় লে-আউটই সর্বপ্রথম কম্পিউটারে বাংলা লেখার সময় আঙুলের জ্যাম লাগার সমস্যা সলভ করছিলো।

কিংকর্তব্যবিমূঢ় এর ছবি

যথেষ্ট জটিলভাবে লিখতে পারলে আমার মনে হয় এই যুক্তি দিয়াও প্যাটেন্ট ম্যানেজ করা যাবে, কিন্তু কাগুর প্যটেন্ট ক্লেইমে এমন কিছু নাই দেঁতো হাসি
................................................................................................
খাদে নামতে আজ ভয় করে, নেই যে কেউ আর হাতটাকে ধরা ...

দ্রোহী এর ছবি

আমি আর এস. এম. মাহবুব মোর্শেদ "কলম/পেন্সিল দিয়ে কাগজে বাংলা লেখার পদ্ধতি" প্যাটেন্ট করতেছি আগামী মাসে।

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

সাবিহ ওমর এর ছবি

তীবরো প্রতিবাদ!!! পেন্সিলেরটা আমার ছিল! আপ্নেরা যদি আমাকে বাদ দিয়ে পেটেন্ট করেই ফেলেন, তাহলে আমি একটা ইস্টার এগ বানায় আপনাদের মুখোশ খুলে দেব শয়তান!
পুনশ্চ, ইরেজারের ব্যাপারটা কিন্তু আমার পেটেন্ট...

দ্রোহী এর ছবি

ইরেজারের কথাটা সময়মতো মাথায় আসে নাই। ঠিক আছে করেন প্যাটেন্ট। কিন্তু ইরেজারের ঘষার পদ্ধতিটা আমি প্যাটেন্ট কইরা ফালামু। তখন ইরেজার দিয়ে ঘষলেও আমারে পয়সা দিতে হবে।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- একটু যোগ করি কিংকু, QWERTY আর QWERTZ(U)— এর মধ্যে কেবল একটা আক্ষরিক বোতাম ছাড়াও অনেক বোতামের পার্থক্য আছে। এই বোতামগুলো আবার যুক্ত হয়েছে ভাষা অনুযায়ী। যেমন জার্মান কী-বোর্ডে যোগ হয়েছে Ü, Ö, Ä- এই অক্ষরগুলো। সাথে #, *, + প্রভৃতি চিহ্নগুলোও QWERTY'এর সাথে অমিল রেখে বসানো হয়েছে। তবে এগুলো যতোটা না করা হয়েছে প্যাটেন্ট এড়ানোর লক্ষ্যে তার চেয়ে বেশি করা হয়েছে লেখার সুবিধার ক্ষেত্রে।

প্রসঙ্গতঃ আমি নিজে যে কী-বোর্ড ব্যবহার করি সেটা QWERTZ হলেও এটা আসলে সুইজারল্যান্ডের কী-বোর্ড।

তবে, শেষ কথা ঐটাই, যেকোনো একটা কী আলাদা হলেই আরেকটা স্বতন্ত্র কী-বোর্ড লে-আউটের জন্ম হয়।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

আপনার এই মন্তব্যটা খুব জরূরী। এই পোস্টে তো থাকছেই।
না, ঐ ফোরামে যাইনি, তবে পড়ে দেখলাম। আসলেই, শুধু কীবোর্ড লেআউটের মতো ব্যাপার নিয়া পেটেন্ট করাটাই হাস্যকর। অপটিমাইজেশনে যদি আসলেই কোন অরিজিনাল প্যারামিটার ব্যবহার করতো তখনই এটার মূল্য থাকতো, এবং সেই প্যারামিটারটাই হতে পারতো পেটেন্টের মূল ক্লেইম।

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

মামুন হক এর ছবি

দুর্দান্ত লেখা!

আমাদের সংঘবদ্ধভাবে জব্বারের মতো দূরাত্মাদের প্রতিহত করা উচিত। জব্বার কাগুর সাথে আমি রবার্ট মুগাবের চেহারা ও কাজের দারুণ মিল পাই।
আশায় আছি কেউ হয়তো একদিন মুগাব্বারদের নিয়ে আরেকটি কালজয়ী স্যাটায়ার লিখে ফেলবে।

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

ভালো নাম দিছেন চোখ টিপি
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

কিংকর্তব্যবিমূঢ় এর ছবি

এইখানে কাগুর নতুন তিনটা লেখা আছে, তিনটা আলাদা পেপারে ছাপা হচ্ছে [বা হয়ে গেছে অলরেডি] ... সেইরকম আবেগে জর্জরিত লেখা, পড়ে নির্যাতিত-নিপীড়িত কাগুর দুঃখে কান্না পেয়ে যাচ্ছে ...

ও, কাগু বলেছেন ফনেটিকে বাংলা লেখা আর পাকিস্তানীদের উর্দু দিয়া বাংলা লেখানো নাকি একই কথা ...
................................................................................................
খাদে নামতে আজ ভয় করে, নেই যে কেউ আর হাতটাকে ধরা ...

শামীম এর ছবি

হা হা ... কাগুর লেখা পড়লাম। একটু ডিফেন্সিভ পজিশনে গেছে মনে হল।

অভ্র ৮টা কী পরিবর্তন করেছে ... বাকী কমার্শিয়াল কীবোর্ড/সফটওয়্যারগুলো হুবহু বিজয় নকল করেছে ... কিন্তু কাগুর ঐ কীবোর্ডগুলো নিয়ে তেমন উচ্চবাচ্য দেখলাম না, যত মাথাব্যাথা অভ্রকে নিয়ে!

৮টা কী পাল্টালে ৯৯% হয় কেমনে। ১-৯-০ এই সংখ্যাগুলোর কী তো হিসাব থেকে বাদ যাবে - কারণ এটা ইংরেজি কীবোর্ডে একই আছে, বিজয় থেকে নকল করার প্রয়োজনই নাই। এছাড়া যে x চেপে ও-কার দেয়া যায় এটাও দেখতে হবে। বিজয়ে কি রেফ দেয়ার জন্য র+বর্ণ এমন কোনো অপশন আছে?

বাংলায় বর্ণ হইলো ৪৯টা। সাথে আছে বিভিন্ন কার (া,ি,ু ইত্যাদি), র-ফলা, য-ফলা, হসন্ত, যুক্তবর্ণ ইত্যাদি। সংখ্যাগুলো বাদ দিলে সব মিলিয়ে ৭৯টা হয় বলে দেখলাম উইকিপিডিয়াতে (এই যে লিংক)।

আবার কাগুর হিসাবে NJ টা কোনো পার্থক্যই না।
________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

হা হা হা ... তার মানে তো ১০% আলাদা!!
কই যাই!
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- বহুল প্রচলিত আর বিখ্যাত QWERTY কী-বোর্ডরে বদলায়ে সেন্ট্রাল আর পূর্ব-ইউরোপিয়ানরা সেটাকে QWERTZ(U) কী-বোর্ড করে ফেললো বর্ণচিত্রে কেবল মাত্র Y আর Z এর আন্তঃস্থান পরিবর্তন করে। এরজন্য QWERTZ লে-আউটকে কোনো "কাগু"র হাদুমপাদুমের সামনে পড়তে হয়েছিলো কিনা, বলতে পারছি না! সম্ভবতঃ পড়তে হয় নাই, কারণ জার্মানীতে কোনো কাগুর হুমকি ছাড়াই এই লে-আউট ব্যবহৃত হচ্ছে সেই বাবা আদমের আমল থেকে।

আপনার পোস্টকে "সেরকম" আখ্যা দিয়ে গেলাম প্রেসিডেন্ট অফ জ্বিনস।
সিল মারো ভাই, সিল মারো...

___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

কিংকর্তব্যবিমূঢ় এর ছবি

কোয়ার্টজের কথা আমি উপরে তিন নাম্বারে বলসি ... আপনি একই কথা আবার বইলা কপিরাইট ভঙ্গ করসেন, এখন পয়সা দেন দেঁতো হাসি
................................................................................................
খাদে নামতে আজ ভয় করে, নেই যে কেউ আর হাতটাকে ধরা ...

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- আমি তো ঐটা দেখি নাই। মন খারাপ

স্ট্যান্ডার্ড প্রসেডিউর ফলো করে বইলা ফেলসি। সুতরাং, এইখানে প্যাটেন্ট ভাঙ্গি নাই। দেঁতো হাসি
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

দ্রোহী এর ছবি

"স্ট্যান্ডার্ড প্রসেডিউর" শব্দটা পড়ে একটা ঘটনা মনে পড়ে গ্যালো।

আম্রিকায় প্রত্যেক বিদেশী ছাত্রকে এক/দুই সেমেস্টার বাধ্যতামূলকভাবে আমেরিকান ল্যাঙ্গুয়েজ শিখতে হয়।

একদিন আংরেজি ক্লাসে আমারে দিলো একটা জিনিস পইড়া শুনাইতে। আমি পড়তে পড়তে এক জায়গায় গিয়া "Signing Bonus" রে পড়লাম "Singing Bonus"।

আর যায় কোথায়! ক্লাসের পোলাপাইনের হাসি থামতে বছরখানেক লাগছিলো। মাস্টারটা ছিলো বেজায় হারামজাদা। সে আবার সেইটা ব্যখ্যা করে দিলো সবাইরে। "গান গাওয়ার জন্য যে বোনাস দেয়া হয়" সেটাই "Singing Bonus"। ইংরেজি ক্লাসে আমার অলিখিত নামই ছিলো "Singing Bonus"।

আরেকদিন পড়তে দিলো। Procedure এ এসে আমি কইলাম "প্রসিডিউর"। মাস্টার নিউ মার্কেট মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাফিক পুলিশের মতো ডান হাত তুলে আমাকে থামতে বললো। আমি ভদ্রলোক, তাই থামলাম।

মাস্টার বললো, "আবার বলো।"

ভাবলাম প্রথমবার যখন ভুল হয়েছে তখন একটু বিদেশী ইশটাইলে বলি। বললাম, "প্রোসিডিওর"।

মাস্টার বললো হয় নাই। দেশে কী কইতা জানি না। কিন্তু এই দেশে যখন আইছো তখন এইটারে "প্রা'সি‍‍‍-জার" কইতে হবে।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- আমি চিন্তা কর্তেছি, আপনার জায়গায় কাগু হৈলে তিনি কী বলতেন! চিন্তিত
আংরেজীর যে বাহার (এবং ব্যবহার) দেখলাম উনার খোমাপাতায়, আমার এবিসিডি জ্ঞানও ভ্রান্ত হইবার উপক্রম।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

থ্যাংক্যু, থ্যাংক্যু

বস্, এই সীলমোহর কি আপনার কমেন্টের পেটেন্টশীপ রক্ষা করার কাজে লাগাচ্ছেন? চোখ টিপি

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

অনিন্দ্য এর ছবি

"মোস্তফা জব্বার যা করতে পারেন, তা হলো তাঁর এই বিজয় লেআউটটিকে পেটেন্টমুক্ত করে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে পারেন।" - আপনার এই পরামর্শ সে শুনবে বলে মনে হয় না। এত ভালো মানুষ হলে তো সে নির্বাচন কমিশনকে বলতেই পারতো যে দেশের স্বার্থে সে কোন টাকা নেবে না।এমন তো না জে,সে ব্যাপক অর্থকষ্টে ছিলো।

অসাধারণ যুক্তিপূর্ণ এই লেখার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

ধন্যবাদ
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

গৌরীশ রায় [অতিথি] এর ছবি

এই বিশ্লেষাত্মক লিখার খুবই প্রয়োজন ছিল ।

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

ধন্যবাদ
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

মেহদী হাসান খান এর ছবি

আরেকটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। লক্ষ করুন:

(hasanta) has been defined as the link key to create vowels except A & I and almost all conjuncts.

হসন্ত দিয়ে যুক্তাক্ষর বানানোকে এখানে প্যাটেন্টের আওতায় আনা হয়েছে। অথচ এটাই ইউনিকোড স্ট্যান্ডার্ডে বর্ণিত যুক্তাক্ষর লেখার নিয়ম। বাংলাদেশের প্যাটেন্ট অফিস মোস্তাফা জব্বারকে না জেনে এই প্যাটেন্ট দিয়ে দিতে পারে, কিন্তু সেটার বৈধতা থাকে না। আপনি চাইলেই সুদূর উগান্ডায় গিয়ে ইউনিকোডকে নিজের মেধাস্বত্ব হিসেবে দাবী করতে পারেন না, উগান্ডার লোকজন সেটা জানুক আর নাই জানুক।

লেখাটার জন্য স্যালুট!

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

আরেকটা ভালো পয়েন্ট
মনে হয় এটা মাথায় রেখেই হসন্তের ব্যাপারটা কেমন মৃদু ভাষায় লেখা, ওটা ক্লেইম না ইন্সট্যান্স, পড়ে ঠিক বোঝা যায়না

আমার মনে আছে ছোটবেলায় বাংলা ব্যাকরণ বইয়ে যখন যুক্তাক্ষর শিখেছিলাম, তখন যুক্তাক্ষরের প্রথমটির সাথে হসন্ত লাগিয়ে যোগ চিহ্ন দিয়ে তারপর পরেরটি লিখে প্রকাশ করা হতো
ইন ফ্যাক্ট বাংলা বর্ণমালায় হসন্তের মূল কাজ তো যুক্তাক্ষর বানানোই, আরেকটা হলো কোন শব্দের শেষে থামতে হলে, যদিও সেটার ব্যাবহার এখন "সজোরে থামা" (যেমন ধপ্ , ধূম্) টাইপের শব্দ ছাড়া অন্য কোথাও দেখা যায়না

যে কাজের জন্য হসন্তের সৃষ্টি সে কাজে হসন্তকে লাগিয়ে তার পেটেন্ট করার চিন্তা করাটা সাহসের ব্যাপার বটে
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

(পেইজটা http://www.bijoyekushe.net/html/news042404.html , ইউনিকোডে পরিবর্তিত করে রেফারেন্স রাখলাম।)


লীন এর ছবি

জনাব মোস্তাফা জব্বারের সাম্প্রতিক পাঁচটি লেখা এখানেও পাবেন, ইউনিকোডে কনভার্ট করা। মুর্শেদ ভাই জিন্দাবাদ। দেঁতো হাসি
http://saveavro.wordpress.com/mj/
______________________________________
ভাষা উন্মুক্ত হবেই | লিনলিপি

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

পড়ে দেখতে হবে
উনার পেটেন;ট বিষয়ক লেখায় একটা মজার কথা দেখলাম, পোস্টে অপ্রাসঙ্গিক দেখে লেখার লোভ সামলাইছি
নিচে কমেন্টে দিবো

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

নজরুল ইসলাম এর ছবি

লেখায় জাঝা। কাগু এখন সুর পাল্টে মায়া কান্না শুরু করছে। আশাকরি কয়দিন পরে মাফ চেয়ে ছেড়ে দে মা কেঁদে বাচিঁ বলবে।

কাগু লিখতে থাকুক, আমরাও লড়াই চালিয়ে যাবো।

জব্বার কাগুর ফাতরামির প্রতিক্রিয়ায় ব্লগ ফেসবুক ফোরাম সবখানে যে গণজাগরণ হইছে, যা যা লেখা তৈরি হয়েছে, সেগুলো একটা প্লাটফরমে সংকলন করার প্রয়োজন বোধ করেছিলাম আমি আর লীন। আমি পরামর্শ দিয়েই খালাস, তারপর কাজটা পুরোটাই করেছে লীন। লীনকে অনেক ধন্যবাদ।

http://saveavro.wordpress.com/

এটা মূলত করা হয়েছে এই গণজাগরণ কাউকে দেখাতে চাইলে যেন হাজারটা সাইট খুঁজতে না হয়... একখানে সব জড়ো করার চেষ্টা। এই লেখাটাও সেখানে যোগ করা হলো।
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

ভালো কাজ হইছে
পড়ার সময় নিয়া কি করি! মন খারাপ
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

নীড় সন্ধানী এর ছবি

পত্রিকাগুলোতে কাগুর কান্নাকাটির বন্যা বয়ে গেছে দেখি! কারে দিয়ে টাইপ করিয়েছে কে জানে। আমি গতকাল কাগুর ওয়ালে জিজ্ঞেস করেছি, "আপনি নিজে বাংলা টাইপ করতে পারেন না বলে অভিযোগ শোনা যায়। কথাটা মিথ্যা প্রমান করুন এখানে এক লাইন বাংলা লিখে।"
কাগু জবাবে ডিলিট ক্লিক দিছে........

এই পোষ্টটাও পত্রিকায় ছাপাতে দিলে ভালো হতো। পত্রিকাগুলো সব কাগুর কব্জার ভেতর। একটারও মেরুদণ্ড নাই!!!

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-
সেই সুদুরের সীমানাটা যদি উল্টে দেখা যেত!

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

চলুক
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

কষ্ট কমিয়ে দিলেন। সকালে কাগুর লেখাটা পড়ে ভাবছিলাম কি-বোর্ড প্যাটেন্ট নিয়ে লেখার কথা।

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

আমাদের উদ্দেশ্য সবার এক
কাজেই সম্পুরক তথ্য থাকলে আপনিও সময় করে লিখে ফেলুন
যেমন উপরে ফাহিমের দেয়া লিংকগুলোও খুব কাজের
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

লীন এর ছবি

অসাধারণ লেখা। স্যালুট।

______________________________________
ভাষা উন্মুক্ত হবেই | লিনলিপি

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

ধন্যবাদ
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

অতিথি লেখক এর ছবি

দুটো ইন্টারেস্টিং লিঙ্কঃ

সামুতে একটু আগে পেলাম। বেশ কিছু ইন্টারেস্টিং আর্গুমেন্ট আছে বলতে হবে

আর দ্বিতীয়টি মাইক্রোসফটের বাংলা/ভারতীয় ভাষাগুলো নিয়ে কার্যক্রম

http://specials.msn.co.in/ilit/Bengali.aspx

বাংলা টাইপিং এর এই ন্যাচরাল লেআউটটি উইন্ডোজের পরবর্তী ভার্সনে বিল্টইন ফীচার হিসেবে যুক্ত করে দিলে মনে হয় অভ্র বা বিজয় এর কোনটির ওপরেই নির্ভরতা কমে যাবে।

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

একটিমাত্র লিংক দেখতে পাচ্ছি যে!
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

অতিথি লেখক এর ছবি

লেখাটা পড়ে অনেককিছু জানলাম। ভাগ্যিস কম্পিউটার বিভাগে ভর্তি হইনাই। এত মারপ্যাঁচ।

আইন হলো দূর্বল কিছু নীতিমালার সমষ্টি, যেগুলো মানুষের সমাজে নীতিবোধকে টিকিয়ে রাখার জন্য, সঠিক পথে চলা মানুষকে অসতের খড়গের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য ব্যবহার করা যায়। কাজেই নীতিবোধ আগে না আইন আগে সে প্রশ্নে আমার অবস্থান পরিস্কার, নীতিবোধ। সেজন্যই অভ্র টীম তাদের কাজ করে আইন মানছে কি মানছেনা এই প্রশ্নের চেয়েও যেটা বেশী গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো বিনামূল্যে এবং স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে কম্পিউটারে বাংলা লেখার সুযোগ করে দেয়ার অভ্রের চমৎকার প্রচেষ্টাটিকে কিভাবে দৃশ্যমান খড়গ আর প্রভাবের হাত থেকে বাঁচানো যায়, সেটার সম্ভাবনা যাচাই করা।
[b][i]
অংশটুকু খুবই পছন্দ হয়েছে।
পলাশ রঞ্জন সান্যাল

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

ধন্যবাদ,
কিন্তু ভাই, এটা তো কম্পিউটার বিভাগের মারপ্যাঁচ না, এটা আইনের।
যন্ত্র বানানো নিয়ে আরো অনেক বেশী মারপ্যাঁচ সম্ভব।
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

অতিথি লেখক এর ছবি

বিশ্লেষণমূলক লেখাটা চমৎকার হয়েছে। কাগুর হাবিজাবি দাবী যুক্তি দিয়ে ধুয়ে দেওয়াই দরকার। কিন্তু প্রশ্নটা হল, কাগুর বিরুদ্ধে একটা মামলা করা দরকার নয় কি? আর কতদিন লোককে ভুল বুঝিয়ে দিন চালাবে?

কৌস্তুভ

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

যে ক্লেইম নিয়ে পেটেন্ট হয়েছে তাতে ওনার প্রভাব টের পাওয়া যায়।
আইনের ঐ সমস্যা!
আদালতে অবশ্যই যাওয়া উচিত, তবে যথাযথ প্রস্তুতি থাকতে হবে।
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

চমৎকার পোস্ট! আমার নৈতিক অবস্থান আপনার মতই।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

ধন্যবাদ
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

রণদীপম বসু এর ছবি

আপনারে আসলেই জ্বিনে ভর করছিলো, নইলে এইরকম দুর্দান্ত একটা লেখা লিখলেন কেমনে !
স্যলুট জানাই।
ইতিহাসকে কালের অক্ষরে বাঁধাই করে রাখতে একটা পোস্ট লিখেছি নিজস্ব ব্লগ হরপ্পায়। ওখানে আপনার এই পোস্টের লিংকসহ আলোকপাত করার প্রয়াস নিয়েছি। আসলেই অসামান্য পোস্ট। অনেক কিছু জানলাম।

http://horoppa.wordpress.com/2010/04/24/bijoy-vs-avra-layout-softwire/
(বিজয় বনাম অভ্র বিতর্ক, ভাষা উন্মুক্তির লক্ষ্যটাই নির্ধারণ করে দিলো...)

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

ধন্যবাদ রণদা, খুব ভালো সামারি করেছেন, সবচেয়ে ভালো হলো পোস্টগুলোর বক্তব্যও একই পেজে তুলে উদ্ধৃত করেছেন, পড়ে আরাম পাবেন পাঠক
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

শরতশিশির এর ছবি

গ্রেট! এটার খুব, খুব দরকার ছিল! অনেক ধন্যবাদ আপনাকে এত ডিটেইল-এ লেখার জন্যে। চলুক

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
আমি দেখতে চাই না বন্ধু তুমি
কতখানি হিন্দু আর কতখানি মুসলমান
আমি দেখতে চাই তুমি কতখানি মানুষ।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
আমি দেখতে চাই না বন্ধু তুমি
কতখানি হিন্দু আর কতখানি মুসলমান
আমি দেখতে চাই তুমি কতখানি মানুষ।

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

ধন্যবাদ
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

রাহিন হায়দার এর ছবি

দারুণ পোস্ট! চলুক
________________________________
তবু ধুলোর সাথে মিশে যাওয়া মানা

________________________________
মা তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো...

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

ধন্যবাদ
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

কচি এর ছবি

পুরা পাঙ্খা পোস্ট।
ইউনিবিজয়ের পেটেন্ট করা হোক তাইলে জব্বার কাগুর লাফালাফি বন্ধ হইব।

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

যেভাবেই হোক, উনার লাফালাফি বন্ধ হওয়া জরূরী
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

অতিথি লেখক এর ছবি

অসাধারণ! অসাধারণ!!

কোটি কোটি জাঝা!!!

কাগুর খবর হবেই, ভাষা উন্মুক্ত হবেই!

-----
অচল পয়সা

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

ঠিক, ভাষা উন্মুক্ত হবেই
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

লেনিন [অতিথি] এর ছবি

জ্বীনের বাদশা, আপনার বিশ্লেষণে কাগু আর বিজয় লেআউটকে হেয় করার প্রবণতা লক্ষণীয়। অবশ্যই আমি কাগুর মনোভাব বা বিজয় প্যাটেন্টকে সমর্থন করছিনা। যাহোক মূল কথায় আসি।

গত বিশ বছরে বেশ ক'বার কিন্তু ফ্রিকোয়েন্সী নিয়ে গবেষণা হয়েছে। সার্বজনীন প্রমিত একটি কীবোর্ডের চেষ্টা বেশ ক'বারই হয়েছে। কিন্তু জাতীয়, ইউনিজয়, ইউনিবিজয় ছাড়াও অন্যান্য গবেষিত লেআউটগুলো সবই শেষ পর্যন্ত বিজয়ের কাছাকাছি হয়ে গেছে। হয় তারা গবেষণা না করেই জব্বার সাহেবের লে-আউট স্তুতিতে মজে ছিলেন। এবং এসাইনমেন্ট জমা দেবার শেষ মুহূর্তে কপি-পেস্ট দিয়ে খানিকটা রদবদল করেছেন। অন্যথায় কাগুর এই বিজয় আসলেই ধন্বন্তরী এক লেআউট। তা সে কাগুই উদ্ভাবন করে থাকুন অথবা টীম দিয়ে করিয়ে থাকুন অথবা কোথাও থেকে মেরে দিয়ে থাকুন। সেই ঊন্নিশশো সাতাশি সাল থেকে আজ পর্যন্ত যখন কেউ কাগুর এই বিজয় কীবোর্ডের মালিকানা ছিনিয়ে নিতে পারেন নি। তাহলে কাগুকে এর উদ্ভাবক হিসেবে কিন্তু মর্যাদা দিতেই হয়। চিন্তা করে দেখুন সেই ১৯৮৭ সালে কিন্তু ইউনিকোড ছিলো না। তখন হসন্ত দিয়ে যুক্ত হবার ব্যাপারটি কাগু(যদি তিনি হয়ে থাকেন) উদ্ভাবন করে থাকলে তিনি কতোটা জিনিয়াস! তার লেখা আর্টিকেলে (যা মুর্শেদ ভাই ইউনিকোডে রূপান্তর করে রেখেছেন বলেছেন একটু উপরেই) কাগু কিন্তু এই বিজয় লেআউটকে সম্পূর্ণই নিজের উদ্ভাবন এবং তার নিজের মস্তিস্ক প্রসূত বলেই দাবী করেছেন।

আবার এই সঙ্গে আমার একটি আশঙ্কা হলো কোয়ার্টি(QWERTY) লেআউট যেমন ডিভোরাক(Dvorak) বা অন্য কোনো কীবোর্ড লেআউটকে বাজারে আসতেই দেয়নি বা জনপ্রিয় হতে বাধা দিয়েছে। সেই একই কারণে বিজয় কীবোর্ডও ভবিষ্যতে এখনো অনাবিষ্কৃত মোস্ট অপটিমাইজড ফ্রিকোয়েন্সি নির্ভর দ্রুততম টাইপিং সহায়ক লেআউটকে প্রচার বা প্রসারে বাধা দেবে। ফলত তা আর প্রচলিত হবেই না। বরং কাগুর এই কীবোর্ডই চলবে। সুতরাং এই কীবোর্ডই যদি হয়ে থাকে মোক্ষম কীবোর্ড তাহলে আমরা কাগুর ওপর এতোটা রাগ না করলেও চলে। তাকে এই আবিষ্কারের জন্য দেশবাসী ধন্যবাদ দিতে পারে এবং একটি সম্মানজনক অর্থমূল্যে এটির মালিকানা বাংলা একাডেমি নিয়ে নিতে পারে। কেননা চাকা পুনরাবিষ্কার কোনো কাজের কথা নয়।

হিমু এর ছবি

মুশকিল হচ্ছে, কাগুর কীবোর্ড চলবে অতএব কাগুরে মাথায় তুলে নিয়ে নাচতে হবে, এটাতেই তো অনেকে একমত নন। একটা সময় ছিলো যখন দেশে টাইপে অভ্যস্ত সবাই মুনীর অপটিমায় টাইপ করতো। পঁচিশ বছর পর এখন আপনি এসে বলছেন, বিজয়ই মোক্ষম কীবোর্ড। আর পাঁচ বছর পর হয়তো সকলে বলবেন, ফোনেটিকই সবচেয়ে মোক্ষম। তাই না?

এজন্যে যা প্রয়োজন, তা হচ্ছে একটি বিনামূল্যের জাতীয় বাংলা কীবোর্ড লেআউট প্রণয়ন করা। এটি প্রণয়নের পেছনে গবেষণার জন্যে যদি অর্থব্যয় করতেই হয়, সেই অর্থ যাওয়া উচিত কোনো ইউনিভার্সিটির গবেষণা প্রকল্পে, কাগুর পকেটে নয়।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

ধুসর গোধূলি এর ছবি

গত বিশ বছরে বেশ ক'বার কিন্তু ফ্রিকোয়েন্সী নিয়ে গবেষণা হয়েছে। সার্বজনীন প্রমিত একটি কীবোর্ডের চেষ্টা বেশ ক'বারই হয়েছে। কিন্তু জাতীয়, ইউনিজয়, ইউনিবিজয় ছাড়াও অন্যান্য গবেষিত লেআউটগুলো সবই শেষ পর্যন্ত বিজয়ের কাছাকাছি হয়ে গেছে।
এটা হতে বাধ্য। আপনি এই পোস্টটা মন দিয়ে পড়ে থাকলে দেখবেন এখানে এর উল্লেখ আছে এভাবে—
জ্বিনের বাদশা লিখেছেন:
সিউল একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন ওখানে, যেটা হলো, স্ট্যান্ডার্ড প্যারামিটার ব্যবহার করে যে লেআউটটি বাংলার বেলায় পাওয়া যায় সেটি বিজয়ের লেআউটের সাথে ভীষন সাদৃশ্যপূর্ণ
জ্বী ভাই, এখন আপনি একটা নতুন লে-আউট 'লেনিনজয়' বানাতে যান অন্য কোনো কী-বোর্ডের দিকে না তাকিয়েও তাহলেও সেটা বিজয়ের আশেপাশে গিয়েই দাঁড়াবে। কেনো?

কারণ, কোনো জিনিস খাবলা দিয়ে তুলতে গেলে বুড়ো আঙুল দিয়ে চেপে ধরতে হবেই। এখন এটা সর্বপ্রথম বাবা আদম উপলব্ধি করেছে বলে আমি, আপনি উপলব্ধি করতে পারবো না, তা তো না। বাবা আদম যদি বলে দিতেন 'এই বুড়ো আঙুল দিয়ে আঁকড়ে কোনো জিনিস তোলার পদ্ধতি আমার মগজপ্রসূত, এইটার প্যাটেন্ট করে রাখলাম। কোনো লেনিন বা ধুগো এইটা করলে স্রেফ পাইরেসি হবে'— আপনি কি মেনে নিতেন? আপনি কি বাবা আদমের নামে ধন্যি ধন্যি করতেন!
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

যথাসম্ভব চেষ্টা করেছি কাগুর ওপর রাগ না ঝেড়ে লেখার জন্য
তাঁকে বা তাঁর লেআউটের চেয়েও যেটাকে হেয় করেছি তা হলো এরকম শুধু একটা লেআউটকে পেটেন্ট করে ব্যবসা চালানোর প্রয়াসকে, কারণ এরকম পেটেন্টশীপ আসলেই অর্থহীন

১৯৮৭ সাল বাংলায় কম্পিউটিংয়ের জন্য খুব প্রাথমিক সময় হলেও, কী-বোর্ড লেআউট ডিজাইনের দৃষ্টিকোণ থেকে অত প্রাথমিক সময় না ... কি বোর্ড প্রণয়নের স্ট্যান্ডার্ড প্যারামিটারগুলো তখন লিটারেচারে থাকার কথা। সম্ভবতঃ সেসব ব্যবহার করেই তিনি বিজয় লে-আউট তৈরী করেছেন, এ ক্রেডিটটা তাঁকে সবাই দিচ্ছেও।

আমার মনে হয় লেআউট বেইসড কী-বোর্ড টিকবেনা। ইংরেজীর আধিপত্যই এর কারণ। ফোনেটিকই গ্রহন করবে লোকে।
জাপানে স্ট্যান্ডার্ড লেআউট এবং ফোনেটিক বেইসড কী-বোর্ড আছে; বুড়া-বুড়ি যারা কোনদিন ইংরেজী হরফ ব্যবহার করেনি, ভালো চেনেওনা, তারাই শুধু লেআউট ব্যবহার করে। বাকী সবাই ফোনেটিক।
এদেশের মানুষ কিন্তু ইংরেজীতে এমনিতেই দূর্বল। আর অন্যদিকে আমরা মোবাইলের এসএমএসে ট্রান্সলিটারেশনকে কিরকম উদারভাবে গ্রহন করেছি! আমাদের দেশে ফোনেটিকই টিকবে বলে মনে করি।
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

রাগিব এর ছবি

সম্ভবতঃ সেসব ব্যবহার করেই তিনি বিজয় লে-আউট তৈরী করেছেন, এ ক্রেডিটটা তাঁকে সবাই দিচ্ছেও।

এটা নিয়েও একটা গুজব চালু আছে ... লেআউটের গবেষণা অন্যত্র হয়েছিলো এবং লেআউটের "আবিষ্কার" সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর নয়, এই কথা ইন্টারনেটে বিভিন্ন জনের কাছে শোনা যায়। আমি বিস্তারিত জানি না, তবে বিস্তারিত জানতে আগ্রহী।

----------------
গণক মিস্তিরি
মায়ানগর, আম্রিকা
ওয়েবসাইট | টুইটার

----------------
গণক মিস্তিরি
জাদুনগর, আম্রিকা
ওয়েবসাইট | শিক্ষক.কম | যন্ত্রগণক.কম

রিং এর ছবি

প্রিয় লেনিন আপনার বোধহয় জ্ঞানের ঘাটতি আছে। কারন বিজয় কোনভাবেই মোস্তফা জব্বারের আবিষ্কার বা তৈরী করা কোন সফট নয়। এর মূল ডেভেলপার বা প্রোগ্রামার কে উনি ঠিকমতো পয়সা পর্যন্ত দেননি। উনি যদি নিজেই এর ডেভেলপার হতেন তবে তার পেটেন্ট দাবী বা লেআউট নকল করা হয়েছে এমন অভিযোগ ই তো তিনি করতেন না। বাচ্চারা আগুনে হাত দেয় বা দিতে চায়, ততদিন যতদিনে না প্রথমবার হাতে ছেঁকা লাগে বা পোড় খায়।

স্বাধীন এর ছবি

যে প্রশ্নটি বারংবার ঘুরেফিরে আমার মাথায় আসে সেটি হল জব্বার সাহেব বুদ্ধিমান লোক নয় সেটি মনে হয়নি। তাহলে উনার যেখানে পেটেন্ট আছে, নিজের মেধাসত্ব আছে, নিজের আত্মবিশ্বাস আছে, অর্থ আছে, ক্ষমতা আছে, সবই আছে, তাহলে সবচেয়ে সহজ কাজ হত আইনের আশ্রয় নিয়ে অভ্র বা অন্য যেসবের বিরুদ্ধে উনার অভিযোগ আছে সেগুলোকে বাজেয়াপ্ত করা, নিষিদ্ধ করা। সেটা না করে যখন তিনি মিডিয়ার সাহায্য নিয়ে নিজের যুক্তি উপস্থাপন করে তখন বেশ সন্দিহান হতে হয় উনার আত্মবিশ্বাস নিয়ে। আমার ধারণা উনি খুব ভালবেই জানেন যে আইনের কাছে নিজের যুক্তি গ্রহনযোগ্যতা পাবে না। তাই উনি ভেবেছিলেন মিডিয়ার সাহায্য নিয়ে খুব সহজেই, সুকৌশলে অভ্রকে পাইরেসীর অভিযোগে অভিযুক্ত করে মানুষকে বোকা বানানো যাবে। উনি কখনই কল্পনাই করতে পারেন নি যে উনার এই কাজ উনার জন্য এভাবে বুমেরাং হয়ে যাবে। মানুষ যে এভাবে ক্ষেপে যাবে সেটা উনার কল্পনার অতীতে ছিল। যদি ক্ষুণাক্ষরেও উনি এটা বুঝতে পারতেন তবে তিনি প্রথম ধাপটিই বেছে নিতেন। তখন আইনের কাছে হারলেও সেটা হত চুপেচুপে। তাতে উনার নিজের সম্মানটুকু হয়তো থাকতো। এখন বেচারার আম-ছালা সবই গিয়েছে। ওনেকটা জামাতের মত। কেউ যখন গোমু কে রাজাকার বলে গালাগাল করে তখন তারা মানহানি মামলা করে না, আইনের আশ্রয় নেয় না। শুধু মাত্র তাঁদের পত্রিকায় গলাবাজি করে।

হিমু এর ছবি

কাগুর মূল ক্ষোভটা ধরতে হবে। কাগুর রাগ কিন্তু একা অভ্রর ওপর নয়, নির্বাচন কমিশন আর ইউএনডিপির ওপরেও। তাদের অপরাধ, তারা কাগুর প্রোডাক্ট ৫ কোটি টাকা দিয়ে না কিনে ০ টাকা দিয়ে অভ্র ব্যবহারের অনুমতি কিনে নিয়েছে। ভবিষ্যতে হয়তো অন্য প্রকল্পেও অভ্র ব্যবহার করা হবে নির্বাচন কমিশনের উদাহরণ দেখিয়ে। কাগু দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েই প্রোপাগাণ্ডার আশ্রয় নিয়েছে।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

স্বাধীন এর ছবি

তবে তারপরেও আমাদের একটু আগে থেকেই চিন্তা করে রাখতে হবে। আমার ধারণা এখন উনি উনার শেষ চেষ্টা হিসেবে আইনের কাছেই যাবেন। উনার সর্বশক্তি, ক্ষমতা, কানেকশন দিয়ে চেষ্টা করবেন রায়কে প্রভাবিত করতে। এই ক্ষেত্রে কিভাবে সেটিকে মোকাবিলা করা যায় সে সম্পর্কে খোঁজ এবং অন্যান্য কাজ এগিয়ে নিয়ে রাখা উচিত। প্রথমেই যেটা লাগতে পারে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় লোকবল ও অর্থ। একটি প্রাথমিক ফান্ড রেডি রাখা উচিত এবং পরিচিত আইনবিদের সাথে যোগাযোগ রাখা উচিত। আমার ধারণা এটা অনেক দূরেই গড়াবে।

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

আসলেই! বুমেরাং হয়ে গেছে! চোখ টিপি
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

এই পোস্টের সাথে খানিকটা অপ্রাঙ্গিক। বাংলা ভাষার প্রথম কিবোর্ড প্রনেতা সাইফুদ্দাহার শহীদের একটি ডিটেইলড সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে আজকে। কিছুক্ষণের মধ্যে সেটা পোস্ট করা হবে।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

লেনিন [অতিথি] এর ছবি

@হিমু: পঁচিশ বছর পর আমি বলছি না। জ্বীনের বাদশার পোস্টও বলছে। সিউল রায়হানের প্রসেডিরাল পদ্ধতিও মিলে যায় বিজয়ের সাথে। সুতরাং দেখেও না দেখা তো উচিৎ নয়। আমাও ঔৎসুক্য আছে জানার বিজয়ের চেয়েও দ্রুততম এবং আরো অপটিমাইজড লেআউট সম্ভব কিনা। কিন্তু আমাদের অতীত গবেষকগণ বিনামূল্যের যে ন্যাশনাল উপহার দিয়েছেন তাও বিজয়ের সাথে নাকি মাত্র তিনটি কী এর তফাৎ। কাগুরও সেগুলো নিয়ে কোনোই মাথাব্যথা নেই। শাইলকের মতো চাই one pound of flesh অর্থাৎ
অভ্রকে পাইরেটেড,
ওপেন সোর্সকে পাইরেসীর ইন্ধনকারী,
নির্বাচন কমিশন ও ইউএনডিপিকে পাইরেসীর পৃষ্ঠপোষক,
অভ্র টীমকে হ্যাকার,
ইউনিবিজয় বিজয়ের প্যাটেন্ট, ট্রেডমার্ক, কপিরাইট লঙ্ঘন
ইত্যাদি অভিযোগে অভিযুক্ত করছেন। এখন শাইলকের যেমন মানবতা আছৃৃৃে যা শেক্সপীয়র দেখিয়েছেন দু'একটি ডায়ালগে। তেমনি কাগু যতই মুখরা হননা কেনো। তার কাজটি যদি অনবদ্য উদ্ভাবন হয়েই থাকে তাকে এতোটা গালমন্দ করতে পারিনা। এখনো তো আমরা তার লেআউটকে ছাড়িয়ে যাবার মতো কিছু আবিষ্কার করিনি এবং কবে করা হবে (আদৌ হবে কিনা) তাই নিয়ে দ্বিধান্বিত। কোয়ার্টির মতো ডিঅপটিমাইজড কীবোর্ডে যদি আমরা গোটা বিশ্ব চালাতে পারি তাহলে বিজয়ের বদলে ইউনিজয়েও চালাতে পারবো অগত্যা হিসেবে। তাই নয় কি?

আমি অবশ্যই এখানে উদ্ভাবনকে নিরুৎসাহিত করছিনা। তবে একটি গুরুতর সম্ভাবনার দিকে অঙ্গলিনিক্ষেপ করাচ্ছি মাত্র।

হিমু এর ছবি

গতি ব্যাপারটাকে আমরা মুখের কথায় কিন্তু লেআউটের প্যাঁচে ফেলতে পারবো না। একজন প্রফেশন্যাল টাইপিস্ট মুনীর অপটিমাতে আপনার আমার সাথে পাল্লা দিয়ে জিতে যাবেন। আর সবচেয়ে বড় ব্যাপারটা কি জানেন? গতির কথা ভেবে কেউ বাংলা লেখার লেআউট বেছে নেয় না। যারা আজ বিজয়ে বা ইউনিবিজয়ে লিখছে, তারা যখন শুরু করে বাংলা টাইপিং, এটা ভেবে শুরু করেনি, যে একদিন আমাকে এই ইঁদুর দৌড়ে ফার্স্ট হতে হবে দেখে আমি এই লেআউট বেছে নিলাম। তারা শুরু করেছে কারণ বিজয় ব্যবহার করতে তারা একরকম বাধ্য ছিলো। আপনি প্রমাণ চাইলে মুনীর অপটিমা লেআউট ছাপিয়ে কীবোর্ড বিক্রি করুন বাজারে, আর মেহদীকে বলি মুনীর অপটিমা লেআউট অভ্রে সংযোজন করে দিতে [যতদূর জানি মুনীর অপটিমার কপিরাইট এখন পাবলিক ডোমেইনে, কাগুও তার শুরুর দিকের বিজয়ে টাইপিস্টদের আকৃষ্ট করতে মুনীর লেআউট সংযোজন করেছিলো], তারপর দেখবেন কী ঘটে, কয়টা লোক বিজয় লেআউট ব্যবহার করে।

আপনি এটাও স্বীকার করবেন, সিউল রায়হানের পদ্ধতিটা অনেক পদ্ধতির একটি। তারই কোনো ছোটো ভাই নতুন আরেকটা লেআউট সিমুলেট করতে পারে, যেটা হয়তো বিজয় থেকে অন্যরকম হবে দেখতে। তাই না?

আপনার কথায় একটা ত্রুটি আছে। কাগুকে তার উদ্ভাবনের জন্যে আজ পর্যন্ত কেউ গালমন্দ করে কোথাও একটি বর্ণ লেখেনি। এই বিতর্ক কাগু শুরু করেছে অভ্র সম্পর্কে একটা কুৎসিত প্রোপাগাণ্ডা ছড়িয়ে। এর ফল হিসেবেই অভ্রর ব্যবহারকারীরা হয়তো কিছু অন্যায্য কথা বলে থাকবে তাকে। কিন্তু এই পোস্টে এসে "কাগুকে গালমন্দ করতে পারি না" বলার কোনো অর্থ হয় কি? আর "কাগুর লেআউটকে ছাড়িয়ে যাওয়া কোনো কিছু আমরা উদ্ভাবন করতে পারিনি" কথাটা ভুল। কারণ ফোনেটিক চলে আসার পর একটা বড় কমিউনিটি ফোনেটিক অনুসরণ করা শুরু করেছে। আপনি বিশ্বাস না করলে একটা জরিপ চালিয়ে দেখুন, বিজয় লেআউট কয়জন ব্যবহার করে।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

ধুসর গোধূলি এর ছবি

আমাও ঔৎসুক্য আছে জানার বিজয়ের চেয়েও দ্রুততম এবং আরো অপটিমাইজড লেআউট সম্ভব কিনা।
আমি ফোনেটিকে টাইপ করি। এবং বেশ দ্রুতই টাইপ করি। যিনি এখন বিজয়ে টাইপ করেন তাঁর দ্রুততা কেমন সেটা না জানলেও বলতে পারি আমার নিজেরটা নেহায়েৎ মন্দ না!

আর হ্যাঁ, আমি ফোনেটিকে টাইপ করি মোটে ৪ হছর হয় সাকূল্যে। পক্ষান্তরে যিনি এখন বিজয়ে টাইপ করতে অভ্যস্ত, ধরে নিচ্ছি তিনি কম করে হলেও ৮ বছর ধরে টাইপ করছেন। আমি যখন ফোনেটিকে ৮ বছর টানা টাইপ করার অভ্যাস অর্জন করবো তখন কোনো বিজয় ব্যবহারকারী নিজের পেছনে সাত ঘোড়া মোটর লাগিয়েও আমার সাথে দ্রুততায় পেরে উঠবেন না, এইটা হলো ফ্যাক্ট।

আরও একটা ব্যাপার হলো, যে বিশাল নতুন ব্যবহারকারী তৈরী হচ্ছে বাংলা কম্প্যুটিং-এ, সেখানে ঠিক ক'জন বিজয় লে-আউটে নিজের লেখার অভ্যাস গড়ে তুলবে, এটা নিয়ে আমি প্রবল সন্দিহান। ফলে এখন থেকে পাঁচ বছর পরে বিজয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা কম আর বেশি এখনকার মতোই থাকবে, পক্ষান্তরে ফোনেটিক ব্যবহারকারীর সংখ্যা হবে অনেক অনেক গুণ বেশি।

কাগুর ভেতরে মানবিক দিক খোঁজার চেষ্টা করা বৃথা। আগেও উল্লেখ করেছি, আবারও করছি তিনি আপাদমস্তক একজন ব্যবসায়ী। তিনি বিজয়'এর অনবদ্য উদ্ভাবন ঘটিয়েছেন, এর চেয়ে সত্য যেটা হলো ঐ সময়ে কদুরাম একটা বাংলা কী-বোর্ড বানাতে উদ্যোগ নিলেও উক্ত লে-আউটও বিজয়'এর মতোই হতো। অর্থাৎ, বিজয় লে-আউট কাগুর "খোয়াবে পাওয়া লে-আউট" না। সিম্পলী, দুই আর দুই যোগ করে চার বানানোর ফর্মূলা তিনি ব্যবহার করেছেন।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

তাসনীম এর ছবি

আমার কোম্পানিতে আমি দেখেছি, পেটেন্ট ফাইল করতে হয় প্রোডাক্ট রিলিজ হওয়ার এক বছরের মধ্যে, পেটেন্ট কার্যকর থাকে বিশ বছর। এই কার্যকারিতা ব্যবসা করার জন্য অবশ্যই। ১৯৮৭ সালে লে-আউট উদ্ভাবন করে ২৩ বছর পর সেটার কপিরাইট/পেটেন্ট এগুলো দিয়ে মাথায় বাড়ি দেওয়ার কারণটা ভেবে দেখার বিষয়।

কপিরাইট, পেটেন্ট এই গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত জিনিস উনি সামনে আনছেন ঠিকই কিন্ত আসল কারণটা মানুষ বুঝতে পারছে। সেটা হচ্ছে এই জিনিস নিয়ে কেউ কাজ করে ভালো কোন টুল তৈরি করে ফ্রি বিতরণ করলে তার "খবর" আছে। এর প্রভাব খুবই সদূরপ্রসারী। আজকে মেহেদীর মত ছেলের জন্যই আমি (এবং অনেকে) বাংলা লিখছি, কিন্তু যে "ফিয়ার মংগারিং" জব্বার সাহেব করছেন তাতে আগামীতে কি-বোর্ড আর বাংলা লেখার টুল নিয়ে কয়জন কাজ করবে সেটা ভাববার বিষয়।

বিজয়ের অনেক পাইরেটেড কপি আছে কিন্তু সেগুলো জব্বার সাহেবের পাঁচ কোটি টাকার ব্যবসা খেয়ে নিচ্ছে না, তাই ওদের ব্যাপারে উনি তেমন সোচ্চার নন। অভ্রের উপর জব্বর সাহেবের রাগটা পুরোটাই ব্যবসা প্রসূত। এই মেহদীর জন্য উনি পাঁচ কোটি টাকার বাণিজ্য করতে পারেন নি, উপরন্তু তখন রাজনৈতিক সরকার ছিল না, টাকা বাঁচানোর কাজটা বেশ ভালো ভাবেই হয়েছে।

আমি আশা করব আমাদের দেশে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে এখনও হয়ত কিছু নীতিবান মানুষ আছেন যাঁরা এই অন্যায়টার বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন। মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার নীরবতা অসহনীয়। আমরা আর কতদিন চোখ বুজে থাকব আর ভাবব যে সমস্যা সব আপনা আপনি সমাধান হয়ে যাবে?

+++++++++++++++++++++++++++++++++++++
মাঝে মাঝে তব দেখা পাই, চিরদিন কেন পাই না?

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

১৯৮৭ সালে লে-আউট উদ্ভাবন করে ২৩ বছর পর সেটার কপিরাইট/পেটেন্ট এগুলো দিয়ে মাথায় বাড়ি দেওয়ার কারণটা ভেবে দেখার বিষয়।

আমাদেরকে প্রোডাক্ট রিলিজের আগে রিলেটেড সব আইপি'র পেটেন;ট সাবমিট করা আছে এটা দেখাতে হয়। সেজন্য আপনার তোলা প্রশ্নটা দিয়ে উনার পেটেন্টশীপই বাতিল করা যাবে হয়তো।

বিজয়ের অনেক পাইরেটেড কপি আছে কিন্তু সেগুলো জব্বার সাহেবের পাঁচ কোটি টাকার ব্যবসা খেয়ে নিচ্ছে না, তাই ওদের ব্যাপারে উনি তেমন সোচ্চার নন।

ভালো পয়েন্ট!
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

লেনিন [অতিথি] এর ছবি

@হিমু: আপনার বক্তব্য আমার কাছে আগেই পরিস্কার হয়তোবা কাগুর কীবোর্ডের পক্ষপাতমূলক হওয়াতে আমার বক্তব্য অনেকের কাছে পরিস্কার নাও হতে পারে।

মুনীর অপটিমা একটা সময় টাইপিস্টরা বেশ ব্যবহার করতো। কিন্তু টাইপরাইটার বিলুপ্তপ্রায় আর সেই সাথে এই লেআউটও অতোটা জনপ্রিয় নেই। আপনি হয়তো জানেন বিজয় সফটওয়্যারেই মুনীর লেআউট প্রায় শুরু থেকেই ছিলো। এটি আর্গোনোমিক্যালি টাইপরাইটারের জন্য অপটিমাইজড তো এর চেয়ে যদি কম্পিউটারের জন্য অর্থাৎ বাংলার জন্য আরো অপটিমাইজড লেআউট হয় তা কি আরো ভালো পার্ফরম করতে সহায়ক হবেনা? কোয়ার্টি লেআউটেই অনেক টাচটাইপিস্ট ১০০টি শব্দ প্রতি মিনিটে টাইপ করেন শুনেছি। ফ্রিকোয়েন্সি সাজিয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য আনে এমন কীগুলো যদি হোম-রো এবং কাছাকাছি আনা হয়। তারপর বাম হাত(ডান হাতিদের জন্য) এর দিকে স্বর-বর্ণগুলো দিলে তা ব্যবহারে দ্রুততা আসে কেননা। স্বরবর্ণ অপরিহার্য প্রতিটি শব্দে।

যদিও কাগু তার ইউনিজয় এর খুঁত ধরা আর্টিকেলে লিখেছেন ো-কার এবং ে ৌ-কার নাকি প্রায় অব্যবহৃত!

আমার মূল বক্তব্য হচ্ছে প্রতিদিন একটা করে নতুন নতুন কীলেআউট করে কী লাভ হবে? অনলাইনের ব্লগাররা এবং নতুন প্রজন্ম যারা মূলত বাংলা শিখতে চায়না তারা তো ফোনেটিকেই থাকবে। ফিক্সড শিখবে না। আর প্রফেশনালরা? কেউ বিশ বছর বা তারো বেশি সময় ধরে- মুনীর, বিজয় ইত্যাদিতে অভ্যস্ত আছেন। তাদেরকে আপনি অভ্যাস বদলাতে বললে কিন্তু তাদের পেটে লাথি মারার সামিল হবে। কারণ তাদের অভ্যাস একদিনে গড়ে উঠেনি। আমি এই প্রফেশনালদের খুব কাছে থেকে দেখেছি।

হিমু এর ছবি

লেনিন, একটা ব্যাপার স্পষ্ট করি, আপনি বিজয় লেআউটের পক্ষে বললেও কোনো ক্ষতি নেই। কারণ এখানে বিজয়ের শত্রুমিত্র বেছে আলাপ চলছে না।

মুনীর কেন মনোযোগের আড়ালে চলে গেছে জানেন? কারণ একটা জেনারেশনকে বিজয় শিখতে একরকম বাধ্য করা হয়েছে। আপনাকে বুঝতে হবে, বিজয় লেআউটটা ছাপানো হয়েছে কীবোর্ডের ওপরে, সেই কীবোর্ড একটা ভ্যালু-অ্যাডেড দামে বিক্রি করা হয়েছে। আপনাকে বলছি, আপনি একই কাজ করুন মুনীর অপটিমা লেআউটে। বাংলা হরফগুলো মুনীর অপটিমায় সাজিয়ে ছাপান একটা কীবোর্ডের ওপর। তারপর ওটা বিক্রি করুন বিজয় কীবোর্ডের চেয়ে অনেক কম দামে। আর এদিকে অভ্রে মনে করুন মুনীর অপটিমা লেআউটটা যোগ করে দেয়া হলো। তারপর দেখা যাক, বিজয় লেআউট বাজারে কয়দিন থাকে। কী বলেন? বোঝাতে পারছি, কীভাবে বিজয় মুনীরকে টপকে উঠেছে আর টিকে আছে?

এখন ফোনেটিক লেআউটের ব্যাপারে আসি। প্রজন্মের একটা বড় অংশ ইংরেজিতে মোটামুটি স্পিডে টাইপ করে অভ্যস্ত। তারা নতুন আরেকটা লেআউট শিখতে আগ্রহী নয় বলেই ফোনেটিকে বাংলা লেখা শিখে ফেলছে দ্রুত। এবং তাদের গতি ঈর্ষণীয়। আপনি বলছেন প্রফেশন্যালদের কথা, কিন্তু প্রফেশন্যালরাই একসময় মুনীরে লিখতেন, প্রফেশন্যালরা এখন বিজয়ে লিখছেন, এবং আপনি জানেন না পাঁচ বছর পর প্রফেশন্যালরা ফোনেটিকে লিখবেন নাকি লিখবেন না।

বিজয় কীবোর্ড প্রচলিত হয়েছিলো শয়ে শয়ে হাজারে হাজারে মুনীর অপটিমায় অভ্যস্ত প্রফেশন্যাল টাইপিস্টের পেটে লাথি মেরেই। জানেন তাদের কথা?

"প্রতিদিন একটা করে লেআউট" তো আমরা চাইছি না। আমরা লেআউটের জন্যে কারো রক্তচক্ষু দেখার রুচি নিয়ে বাংলা লিখতে চাই না। বিজয় লেআউটের প্রতি আমার কোনো বিরাগ নেই, কিন্তু বিজয় লেআউট আমাকে কেউ গায়ের জোরে ব্যবহারে বাধ্য করতে পারবে না। আমার দাবি পরিষ্কার, একটা বিনামূল্য জাতীয় কিবোর্ড লেআউট প্রণয়ন করতে হবে বাংলা একাডেমীকে, এবং সেটার জন্যে দরিদ্র দেশের টাকা খুব বুঝেশুনে ব্যয় করতে হবে। যেহেতু বিজয় কপিরাইট প্রটেক্টেড এবং পেটেন্টেড, একাডেমীর উচিত এ সংক্রান্ত গবেষণা আহ্বান করে স্বল্প খরচে ইউনিকোড স্ট্যান্ডার্ডের জন্য একটি ভিন্ন বিনামূল্য লেআউটকে জাতীয় লেআউট ঘোষণা করা। সম্ভাব্য ক্যান্ডিডেট মনে করি ইউনিবিজয়কে।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

লেনিন [অতিথি] এর ছবি

আপনার শেষ বাক্যটি দিয়েই শুরু করি। বলেছেন বেস্ট ক্যান্ডিডেট ইউনিজয়ের কথা। হ্যাঁ, আমার কথাটিও অনেকটাই তাই। বিজয় যেহেতু প্রফেশনালরা অনেকেই অভ্যস্ত। আর সেটি ইউনিকোড লেখার জন্য উপযুক্ত নয়। সুতরাং অযথা গরীব দেশের টাকা বিছিছি'র কমিটিকে গবেষণায় বারবার না দিয়ে ইউনিজয়কে সার্বজনীন স্ট্যান্ডার্ড করে নিলেই হয়। গত ২০বছরে বিভিন্ন কমিটির পর্বতের মূষিক প্রসবের কথা আগেই বলেছি। আর আপনিও কিন্ত মানছেন যে যে লেআউটই হোক না কেনো একবার অভ্যস্ত হয়ে গেলে কোনটি অপেক্ষাকৃত দ্রুততর তা নিরুপন করা খুব আপেক্ষিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।
আর ফোনেটিক থাকুক অ্যামেচারদের জন্য। কিন্তু বাঙালি হিসেবে আমি বাংলার জন্য প্রতিটি স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জন, কার ইত্যাদির জন্য আলাদা স্থানীয় কী বিশিষ্ট লেআউট চাইবো যেমন- ইউনিজয়। বাংলাই যদি লিখবো কেনো ইংরেজিতে বানান করে?

এরপর থাকে প্রিপ্রেস প্রিন্টিংয়ে লো-এন্ড অপারেটিং সিস্টেম এবং ডিটিপির সফটওয়্যারগুলোতে ইউনিকোড সম্পূর্ণ সাপোর্টের ব্যাপার। সেগুলো নিয়েও ভাববেন সবাই আশাকরি। আমার সর্বশেষ পোস্টে কিছু কিছু দিক আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে উল্লেখ করেছি আগ্রহীরা পড়ে আসতে পারেন।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

ইউনিজয়কে বাংলার জন্য স্ট্যান্ডার্ড কী-বোর্ড করাতে আমার কোনো বিরাগ নেই। আমিও এর জন্য সাপোর্ট দিবো। কিন্তু এর জন্য দুইটা জায়গায় আমার দ্বিমত আছে।

এক. এর জন্য কাগুকে একটা "সম্মানজনক অর্থ" দিয়ে 'ব্যাপারটা ফায়সালা' করে নেয়ার তীব্র প্রতিপাদে অবস্থান আমার। ইউনিজয় তার স্বীকৃতি পাক তার নিজের গুণেই। কাগুকে এর সাথে জড়ানোর কোনো মানে হয় না, অন্তত তিনি খুব রিসেন্টলি যা করেছেন তারপরে!

তিনি নিজে তার ইমেজ ধ্বসংস করেছেন অভ্রের বিরুদ্ধে টাইম-টু-টাইম তার দাবীর গতিপথ পরিবর্তন করে। এখন তিনি মেহদীকে যতোই "পূজনীয়" বলে আগরবাতি নিয়ে এগিয়ে আসুন না কেনো, তার আস্তিনের নিচের সর্পরাজের কথা ভুলার নয়। এই মেহদীর পাশে আজ এতোগুলো মানুষ প্রতিবাদী হয়ে না দাঁড়ালে তিনি অভ্র'র নাম নিশানা মিটিয়ে ফেলতেন ইতিহাস থেকে।

দুই. ফোনেটিকের ব্যাপারে আপনার অভিমত।

আর ফোনেটিক থাকুক অ্যামেচারদের জন্য। কিন্তু বাঙালি হিসেবে আমি বাংলার জন্য প্রতিটি স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জন, কার ইত্যাদির জন্য আলাদা স্থানীয় কী বিশিষ্ট লেআউট চাইবো যেমন- ইউনিজয়। বাংলাই যদি লিখবো কেনো ইংরেজিতে বানান করে?
ফোনেটিকের উপর আপনি খুবই নাখোশ, দেখতে পাচ্ছি। সমস্যা নাই। ফোনেটিক, ইউনিজয়— এগুলো "অবৈজ্ঞানিক" এমন কথা আগেই শুনছি। এখন শুনলাম ফোনেটিক "এ্যামেচার"দের জন্যই থাকুক! তবে আপনার এই এ্যামেচার আখ্যার জবাব পেতে হলে কয়েকটা বছর অপেক্ষা করতে এই যা!

আলাদা স্থানীয় কী-বোর্ড কি QWERTY বা QWERTZ(U) সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে নাকি একেবারেই আলাদা হবে? কারণ আপনি বাংলার প্রতি যে ভালোবাসা দেখালেন, তাতে বোধকরি আপনি যে কী-বোর্ডের প্রচলন করতে চাচ্ছেন, তাতে আংরেজী কোনো অক্ষরই থাকতে পারবে না। তো যদি একেবারেই স্বতন্ত্র একটা বাংলা কী-বোর্ড যুক্ত করে নেই আমরা পিসির সাথে, আবার যখন আংরেজী টাইপ করার দরকার পড়বে তখন কি সেটা খুলে আবার আংরেজী কী-বোর্ড যুক্ত করে নিতে হবে, এমন কিছু!

আচ্ছা ধরুন, আজকে ডাব গাছ থেকে ডাব আপনার মাথায় পড়ার ফলে বাংলা সিনেমার নায়কের মতো আপনি আপনার শুধু বাংলা লেখার ইয়ার্দাশটুকু হারিয়ে ফেললেন বাংলা ভাষার প্রতি ভালোবাসা ধ্রুব রেখেই। কালকে যদি আপনাকে ধরে বাংলা লিখতে বসিয়ে দেয়া হয় সামনে ইউনিজয় আর ফোনেটিক কী-বোর্ড রেখে, আপনি কোনটা বেছে নিবেন? বাংলা স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জণবর্ণ আর আ-কার, ও-কারের প্রতি ভালোবাসা থেকে ইউনিজয় নাকি সোজাসাপ্টা ফোনেটিক?

বৈজ্ঞানিক উপায় আসলে কোনটা? যে উপায়ে আপনাকে অধিকতর শ্রম দিতে হয় সেটা নাকি যে উপায়ে আপনার শ্রম খানিকটা হলেও সাশ্রয় হয়, সেটা— আমি জানতে আগ্রহী!
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

লেনিন [অতিথি] এর ছবি

আমি ইচ্ছা করেই পুরো উত্তর দিচ্ছি না। আমি যে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির কথা বলছি তা আর সবার সাথে কোনো পার্থক্যকারি কোনো কিছু নয়। গেস্ট রাইটার/কমেন্টার বলে ডাব গাছের তলায় আঘাত পেতে হবে বা আলাদা কীবোর্ড যুক্ত করার মতো হাস্যকর ধারণা নিয়ে ঘুরে বেড়াই এমন ভাবছেন কেন? প্রফেশনাল রাইটিংয়ে ফোনেটিক না ফিক্সড লেআউট বেশি উপযোগী আগে একটি গবেষণা হোক। আমি ফিক্সড লেআউটে প্রফেশনালদের সাথে থেকে আয়ত্ত্ব করা দক্ষতাই অনেক বছর ধরে আমার প্রাকটিস বজায় রেখেছি।

এ ব্যাপারে আলোচনা আর দীর্ঘায়িত করার কোনো মানে হয়না। বরং আমার সর্বশেষ পোস্টে শাব্দিকের সাথে অভ্রের চুরি করা আইডিয়ার একটি উত্তর দেখতে পারেন সবাই অভ্রের বিরুদ্ধে শাব্দিক টিমের অভিযোগ এবং জব্বার কাগুর ইউনিবিজযে়র মিল প্রসঙ্গে

পুনশ্চ: সচলে নিয়মিত লিখতে হলে কী করতে হবে?

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- আপনি গেস্ট রাইটার বা কমেন্টার বলেই আপনাকে ডাবের বাড়ি খেতে হবে এমনটা কথা না। প্রথমে ডাবের বাড়িটা আমিই খেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দেখলাম এর পরিণাম আশাব্যঞ্জক না। আমি এমনিতেও ফোনেটিকে লিখি, ইয়ার্দাশ হারিয়ে ফেললেও ফোনেটিকেই লিখবো। তবে তর্কের খাতিরে বাড়িটা যদু, মধু, কদুকেও খাওয়ানো যেতো। কিন্তু যেহেতু আমি জানি না যদু, মধু, কদু ঠিক কোন কী-বোর্ড ব্যবহার করেন, তাই সে পথে না গিয়ে আপনাকেই উদাহরণে টেনেছি। ভুল বুঝবেন না আশাকরি।

আলাদা কী-বোর্ড যুক্ত করার ব্যাপারটা হাস্যকর কেনো লাগছে আপনার কাছে বুঝলাম না। বাংলাকে বাংলা বানানেই লিখতে চাওয়ার আপনার ইচ্ছেটা কিন্তু আমার কাছে হাস্যকর লাগে নি মোটেও। তাই জানতে চাইছিলাম সেটা আসলে কী করে হবে? আলাদা কী-বোর্ডে নাকি আংরেজীর সাথে একই কী-বোর্ডে!

গবেষণা হবে বস। কয়েকটা বছর অপেক্ষা করেন, তারপর দেখেন প্রফেশনাল, এ্যামেচার— সব মিলিয়ে কতোজন কোন লে-আউটে লিখে।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

এখানে উল্লিখিত মোস্তফা জব্বারের লেখা থেকে ক্লেইমগুলো তুলেছি।

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

যূথচারী এর ছবি

কোনো কোনো বৃক্ষকাষ্ঠে সম্ভাবিত দাবানল থাকে,
তরুণ অশ্বত্থ ভাঙে মন্দিরের প্রাচীন প্রথাকে!


চোখের সামনে পুড়ছে যখন মনসুন্দর গ্রাম...
আমি যাই নাইরে, আমি যেতে পারি না, আমি যাই না...


চোখের সামনে পুড়ছে যখন মনসুন্দর গ্রাম...
আমি যাই নাইরে, আমি যেতে পারি না, আমি যাই না...

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

চলুক
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

কাগুর সাইট থেকে সবচেয়ে দামি যে জ্ঞানলাভ হলো, তা হচ্ছে, বিজয় লে-আউট একটা কম্পিউটার প্রোগ্রাম। কোনো কম্পিউটার প্রোগ্রামের আংশিক অংশ পুনরুৎপাদন বা ব্যবহার করলেই ধরা। সুতরাং অন্য কোনো কী বোর্ড লেআউটের সাথে যদি কাগুর লেআউট (যা একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম) -এর একটা কীও মিলে যায়, তাইলে কাগু উকিল নোটিশ পাঠাবেন বা জনকন্ঠে কণ্ঠবাজি করবেন।

পোস্টের জন্য লক্ষ তারা। জ্বীনের বাদশা ইজ ব্যাক ইন ফুল ফর্ম।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

ধন্যবাদ বস্

ভালো বলছেন, উনি কখনও লেআউটকে, কখনও সাহিত্য হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করছেন চোখ টিপি
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

অভ্রনীল এর ছবি

আচ্ছা! জব্বারের বিরুদ্ধে মামলা করা যায়না? মামলার যোগাড়যন্ত্র করা কি খুব কঠিন হবে? শুধু অভ্র নয় বরং যেকোন বাংলা কিলেযাউটের মুক্তির জন্যই এই মামলাটা করা দরকার। জব্বারের ভাষায়:

অন্যদিকে অভ্র ছাড়া আর যেসব সফটওয়্যার যেমন লেখনী, প্রশিকা, প্রবর্তন, ফাল্গুন ইত্যাদি কোন পরিবর্তন ছাড়াই বিজয় কীবোর্ড সরাসরি ব্যবহার করেছে। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল মাত্র তিনটি বোতাম বদল করে একটি জাতীয় কীবোর্ড তৈরী করেছে। এর সবগুলো একেবারে কপিরাইটের লঙ্ঘন।

স্পষ্টতই তিনি বাংলায় সব লেয়াউটকেই অবৈধ বলে যাচ্ছেন। অর্থাৎ বাংলা তার নিজস্ব সম্পত্তি। এটাতো পুরোপুরি বন্ধ করা দরকার। বন্ধ করার সবচেয়ে ভালো সমাধান হল আইনীভাবে মোকাবেলা করা। মামলা হলে কি আন্তর্জাতিক আইন আর বাংলাদেশের আইনের মধ্যে ঝামেলা হবে?
_______________

::: উবুন্টু ও মিন্টকে ছড়িয়ে দিন সবার মাঝে! :::

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- আরে, এই ভদ্রলোক নিজেকে তথ্যপ্রযুক্তিবিদ আখ্যা দিয়েও কী-বোর্ড লে-আউট আর রবীন্দ্রনাথের কবিতাকে এক করে ফেলেছেন। ইনার বিরুদ্ধে কী মামলা করবেন?

আমি একশ ভাগ নিশ্চিত কাগু তথ্যপ্রযুক্তিবিদ কথাটার মানেই জানেন না।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

অভ্রনীল এর ছবি

জব্বারের লেখা থেকে মনে হচ্ছে সে ইদানিং সচলায়তনেও বেশ উঁকিঝুঁকি মারছে (হাই জব্বার! শইলডা ভালা??)। তার কাছে আরেকটা ব্যাপার জানতে খুব ইচ্ছা করে! যে লোক এন্টি-পাইরেসি, কপিরাইট, মেধাসত্ত্ব- এ সব ব্যাপার নিয়ে এত সচেতন, সে নিশ্চয়ই পাইরেটেড কোন সফটওয়্যার ব্যবহার করবেননা। কারণ নিজের মেধাসত্ত্ব (!) নিয়ে কেউ তখনই চেঁচামেচি করে যখন সে অন্যের মেধাসত্ত্বের দাম দেয়। এখন কথা হল যে এই লোকের বাসা ও অফিসের সব সফটওয়্যারই কি জেনুইন? কেউ কি ব্যাপারটার সত্যতা যাচাই করতে পারবেন?
_______________

::: উবুন্টু ও মিন্টকে ছড়িয়ে দিন সবার মাঝে! :::

শামীম এর ছবি

বাসা-অফিসের সাথে ওনার ট্রেনিং সেন্টারেরগুলোর কথা ভুইলেন না ... ...

একজনতো পুরা হিসাব করেই প্রশ্ন করে বসলো প্রজন্ম ফোরামে
________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

হিমু এর ছবি

কাগু তো শুঞ্ছি নিজের নামে মাল্টিমিডিয়া স্কুলও খুলে বসছে। ঐখানে কেউ গিয়ে একটু দেখে আসেন কাগুর কম্পিউটারের উইন্ডোজ আর মাইক্রোসফট অফিস জেনুইন কি না।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

অভ্রনীল এর ছবি

আপ্রতেও এই বিষয়ে পোস্ট দেখলাম...

আচ্ছা! তার ট্রেনিং সেন্টার আর মাল্টিমিডিয়া স্কুল কি একই নাকি? যাদের এসব জায়গায় যাতায়াত আছে তারা কি কেউ একটু জানাবেন যে ব্যাপারটা আসলে কি? তার সফটওয়্যারগুলো জেনুইন নাকি পাইরেটেড?
_______________
::: উবুন্টু ও মিন্টকে ছড়িয়ে দিন সবার মাঝে! :::

মুকুট [অতিথি] এর ছবি

চমতকার বিশ্লেষন। ভাষা উন্মুক্ত হোক। অভ্র-র পাশে আছি

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

আজ ২৬ এপ্রিল আবার বিশ্ব মেধাসম্পদ দিবস। জব্বার সাহেব মনে হয় আজকে কিছু টিভিতে বাণীপ্রদান করবেন।
এখানে একটা লেখা দিছেন আজ
http://ukbdnews.com/index.php?option=com_content&view=article&id=11257:2010-04-25-15-03-28&catid=86:opencomments&Itemid=93

বুঝা যাচ্ছে টোন ডাউন হয়েছে, তাঁর হুমকি-ধামকি এখন ফরিয়াদে পরিণত হয়েছে।
আর এখন তিনি গায়ের জোরে দাবী করছেন যে তাঁর লেআউটের নকল হয়েছে

তাঁকে আমি আবার দেখতে আহবান জানাই ফেল্পস-শোলজের লেআউটের পার্থক্য বা ১৯৭৮ এ শোলজ আর ১৯৮২ এর রেমিংটন ২ (ওয়াইকফদের) এর লেআউটের পার্থক্য দেখে মন্তব্য করতে।
আইন যেমন তাঁর অবিকল লেআউটটি যতই নন-অবভিয়াস বা অরিজিনালিটিবিহীন হোক, সেটার অধিকার রক্ষা করবে, তেমনি তাঁর লে আউটের সাথে আটটি কী'র পার্থক্যওয়ালা ইউনিবিজয়েরও অধিকার রক্ষা করবে, তা সে আটটি কী বাংলা লেখায় কাজে লাগুক বা না লাগুক।

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

শামীম এর ছবি

ইউরোপিয়ান কীবোর্ড সম্পর্কিত কিছু সম্পুরক তথ্য পাবেন অমিক্রন ল্যাবের এই থ্রেডে
________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

ধন্যবাদ ...
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

অবাঞ্ছিত এর ছবি

এখানে কারো কি বিজয় আছে? আমি শুনলাম কন্ট্রল+শিফট+পি চাপ দিলে একটা মজার ঘটনা ঘটে, বিজয় আসলে কার বানানো সেই বৃত্তান্ত চলে আসে....

ঘটনা কতটা সৈত্য? কেউ জানাতে পারবেন?

__________________________
ঈশ্বর সরে দাঁড়াও।
উপাসনার অতিক্রান্ত লগ্নে
তোমার লাল স্বর্গের মেঘেরা
আজ শুকনো নীল...

__________________________
ঈশ্বর সরে দাঁড়াও।
উপাসনার অতিক্রান্ত লগ্নে
তোমার লাল স্বর্গের মেঘেরা
আজ শুকনো নীল...

পল্লব এর ছবি

এই লেখাগুলো ব্লগে থেকে খুব বেশি লাভ হচ্ছে না, ভাইয়েরা। এগুলো পত্রিকায় নেয়ার ব্যবস্থা কি কোনভাবেই করা যায় না? অনেকেই ইন্টারনেটে ঘুরলেও ব্লগে ঘোরে না। আমার এক বন্ধু মোজবের "মাত্র ৮টি কি-এর তফাত"এ কনভিন্সড হয়ে আমার সাথে কথা বলতে আসলো কিছুক্ষণ আগে, তাকে এই লেখাগুলোর লিংক ধরিয়ে দিয়ে বোঝালাম আসল ব্যাপারটা।

আমি যত জায়গায় পারছি, লিংক শেয়ার করছি, লেখাগুলো ছড়ানোর চেষ্টা করছি মানুষের মাঝে, কারো অনুমতি না নিয়েই লেখার অংশ, মন্তব্যের অংশ কোট করছি (মনে হয়েছে অনুমতি নেওয়াটা এখানে lesser issue, ভুল করে থাকলে দুঃখিত)। এখন কথা হল, কয়জন এগুলোর খোঁজ পাবে বা কয়জন আমার মত লোকজনের কাছে এগুলা নিয়ে আলোচনা করতে আসবে।

যেভাবে হোক, লেখাগুলো অতি অবশ্যই পত্রিকা এবং/অথবা এরকম বড় সার্কুলেশনের মিডিয়ায় যাওয়া দরকার।

==========================
আবার তোরা মানুষ হ!

==========================
আবার তোরা মানুষ হ!

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

কোন অসুবিধা তো নেইই, বরং খুশীই হবো যদি লিংকটি ছড়িয়ে দেন।
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

অতিথি লেখক এর ছবি

পল্লব ভাই, দারুন আইডিয়া।

তবে পত্রিকারা মনে হয় না এতবড় একজন আইটি ব্যক্তিত্তের বিরুদ্ধে কিছু বলার সাহস পাবে।

আমার মনে হয় আমরা Facebook এ চেষ্টা করে দেখতে পারি। কালকেই এক এমজে ভক্তের সাথে যুদ্ধ করলাম। উনি বলছিলেন, আদালদত ফায়সালা না হওয়া পর্যন্ত এমজে কে নাকি কিছু বলা ঠিক না। যখন বললাম এমজের বেলায়ও এই নিয়ম প্রযোজ্য তখন উনি বুঝলেন:)

পল্লব এর ছবি

ফেসবুকে তো চেষ্টা করছিই। আমার ওই বন্ধুর সাথে ফেসবুকেই কথা হয়েছে আমি একটা লিংক শেয়ার দেয়ার পরে।

আরেকটা অনুরোধ রাখবেন ভাই, এমজে বইলেন না। আমি আবার মাইকেল জ্যাকসন একটুআধটু পছন্দ করি কিনা, তাই হাসি

==========================
আবার তোরা মানুষ হ!

==========================
আবার তোরা মানুষ হ!

রবিন [অতিথি] এর ছবি

কাগুরে মেইলে আমারে জানাইছে যে তার উইন্ডোজ অরিজিনিয়াল আর সে ওপেন অফিস ব্যবহার করে। তার মানে দাড়াইলো বাদবাকি সব সফট পাইরেটেড।

দিগন্ত এর ছবি

আজকের দিনে কি কিবোর্ড লে-আউটের পেটেন্ট হয়? কিবোর্ড লে-আউট কি মৌলিক আবিষ্কার? শেষ কবে কোনো স্ট্যান্ডার্ড ভাষায় কিবোর্ড লে-আউট পেটেন্ট হয়েছিল?


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

টুম্পা এর ছবি

মূল লিঙ্ক

http://www.facebook.com/note.php?note_id=120756021273163

"পেটেন্ট এর মূল উদ্দেশ্য উদ্ভাবক কে সুবিধা দেয়া । এখন লাইফযয় যদি লাইফবয় এর বাজার ধবংস করার জন্য নামে তখনই তা অবৈধ - কারণ লাইফবয় এর সাথে লাইফযয় এর মিলকে পুঁজি করে সে মূল প্রোডাক্টকে বঞ্চিত করতে চাচেছ । এর মানে এই নয় যে লাইফযয় নামে আর কিছুই হতে পারে না। যদি তারা লাইফযয় নামে সাবান না বানিয়ে আইসক্রিম বানায় তাহলে এটা হয়ত পেটেন্ট ভায়োলেশন হবে না । এগুলো সবই আইন এবং তার প্রয়োগের ব্যাপার । মূল উদ্দেশ্য একটিই - মূল উদ্ভাবক কে তার আবিষ্কারের মূল্য দেয়া ।

যেহেতু ইউনিবিজয় বিজয় কে তার পেটেন্ট উদ্ভাবন থেকে বঞ্চিত করার জন্য সামান্য কিছু পরিবর্তন করে করা তাই এটা আসলে পেটেন্ট infringement. এখন মেহেদি হয়ত qwerty এবং qwertz লে আউট থেকে ধারনা করেছেন যে একটি কি আলাদা হলেই লে আউট আলাদা হয়ে যায় - এটা ঠিক না । সম্ভবত qwertz এসেছে qwerty এর অনেক পরে (আমি নেট এ qwertz এর সঠিক সময়কাল পাইনি - তবে qwerty এর সমসাময়িক লিস্ট এ এটি নেই ) যখন qwerty এর পেটেন্ট প্রটেকশন পিরিয়ড পার হয়ে গেছে । এখন qwerty কে বেজ করে একটি দুটি কি চেঞ্জ করে আপনিও একটি নতুন লে আউট তৈরি করতে পারেন - কারণ এতে মূল উদ্ভাবককে বঞ্চিত করার কোনও স্বভাবনা নাই । অন্যথায় এটি কখনই গ্রহণযোগ্য হত না । অভ্র সমর্থন করে অনেক বোদ্ধাই নিজেদের বক্তব্য দিয়েছেন - তারা মেহেদিকে এটুকু বুঝিয়ে বললে ব্যাপারটি সুখকর হত ।"

কিংকর্তব্যবিমূঢ় এর ছবি

Shabdik Frequently Asked Questions

Q5. I am a conventional keyboard user. Can I use it in the usual way with support of hints?

Yes. From version 3.5 Shabdik comes with three keyboard layout options. 1. Default is IxPad. 2. Jatiyo Keyboard ( Defined by Bangladesh Computer Council for free use among the government and non-government institutions as well as public usage). 3. Unijoy Keyboard ( Defined by Ekushey Bangla computing project http://www.ekushey.org) a similar keyboard to bijoy but not supporting the visual typing rather following unicode encoding scheme of phonetic typing.
With all these keyboards you can work completely usual way (without hint) or dictionary supported hint system.

সম্পূরক তথ্যঃ শাব্দিকের ডেভেলপারদের একজন হচ্ছেন জিয়াউর রহমান ...

এর বেশি কিছু বলার দরকার আছে বলে মনে করি না ...

................................................................................................
খাদে নামতে আজ ভয় করে, নেই যে কেউ আর হাতটাকে ধরা ...

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

হেহ হেহ... স্ক্রিনপ্রিন্ট রাখসো তো?

এই তর্কে বেশ অনেকটা সময় নষ্ট করেছি কয়দিন আগেই, তাই আর এগুলোর মধ্যে ঢুকি নাই। শাব্দিক নিশ্চয়ই খুব ভালো সফটওয়্যার। স্রেফ নাম শুনেই এটা ব্যবহার করে দেখতে আগ্রহী হয়েছিলাম। কিন্তু অভ্রকে চামে-চিকনে লাত্থি মেরে শাব্দিকের প্রশংসা করার প্রয়াস দেখে নিরুৎসাহিত হয়ে গেছি।

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

বাংলা হরফ লেখা নিয়ে নিশ্চয়ই অনেক প্রযুক্তিবিদ অনেক প্রচেষ্টা করেছেন, অনেকের প্রচেষ্টা প্রযুক্তিগত দিক থেকে উৎকৃষ্ট, অনেকের ব্যবহারিক দিক থেকে। হয়তো বাংলায় কম্পিউটিংয়ের ইতিহাস লেখা হলে সেখানে এঁরা সবাই নিজনিজ অবস্থান দাবী করতে পারবেন

কিন্তু এই লিংকের লেখক ভদ্রলোক যে জিনিসটা বুঝছেননা তা হলো, হালে অভ্র ভার্সাস মোস্তফা জব্বার ঘটনা নিয়ে নেটবলয়ে/কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের মধ্যে যে আন্দোলন, তার সাথে ঐ ইতিহাসে কার নাম আগে কার নাম পরে যাবে সেটার কোন সম্পর্ক নেই!
এ আন্দোলনের সূচনা মোস্তফা জব্বারের অভ্র বিষয়ক মিথ্যাচার থেকে।

লেখককে মনে রাখার আহবান জানাই যে মোস্তফা জব্বার তাঁদের বা আরো অন্যান্য ঐতিহাসিক সফটের বিরুদ্ধে কোন কটুমন্তব্য করেননি (যদিও বিজয় ও ইউনিবিজয়ের কাছাকাছি ইউনিজয় নামে আরেকটি লেআউট ওগুলোতে ব্যবহার করা হয়)।

কেন অভিযোগ করেননি? কেন শুধু অভ্র? এই প্রশ্ন করলেই লেখক সব উত্তর পাবেন।

না পেলে আরেকটু হিন্টস দিই,
সার্চ ইঞ্জিনের ইতিহাস ঘাটলে অনেক রথী-মহারথীর অবদান উঠে আসবে। ৯০ এর দশকের শেষভাগে ইয়াহুর পাশাপাশি এক্সাইট, আলতা-ভিসতা, নেটস্কেপ (নাকি ইঞ্জিনের নাম একটু ভিন্ন ?), আরো অনেক -- মনে পড়ছেনা এমন সার্চ ইঞ্জিন ছিলো। কিন্তু সার্চ ইঞ্জিন বললে মানুষ বোঝে "গুগল"।
কোথায় যে কোনটা ক্লিক করবে কে বলবে বলুন?

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

সাদিকুর রহমান এর ছবি

+++++++++++++
+ফাটাফাটি পোস্ট +
+++++++++++++

মনন এর ছবি

যাঁরা বলছেন যে 'প্রফেশনাল টাইপিং' এর ফিক্সড লেআউট ছাড়া অসুবিধা হবে তাঁরা ঠিকই বলছেন। কিন্তু তাই বলে বিজয় লেআউটই যে নতুন প্রো'দের শিখতে হবে এমন তো কোনো কথা নেই।

আরো অনেক কি বোর্ড লেআউট আছে যা ফোনেটিকের খুবই কাছে। যেমন অক্ষর, খোদ অভ্রতেই এমন একটা আছে। এটা নতুনদের ফিক্সড কিবোর্ড হিসেবে চমৎকার। বড় করে দেখুন।

auto

আর এসব 'বৈজ্ঞানিক তত্বের' অনেক দুর্বলতা আছে। কোয়ের্টি কিবোর্ড বা এর কাছকাছি ইউরোপিয়ান কি বোর্ডগুলোতে তো প্রফেশনাল টাইপিস্টরা একইরকম স্পিড তুলতে পারেন শুনেছি। নিশ্চয়ই জার্মান, ফরাসী, ইতালিয়ান, সুইডিশ এসব ভাষার শব্দবিন্যাস তথা বিশেষ হরফের বেশি ব্যবহারে ব্যাপক তারতম্য আছে?

টাইপরাইটারে বাংলালেখা আর কম্পিউটরে লেখায় বিস্তর ফারাক। ইংরেজি টাচ টাইপিং প্রথমে শিখেই আজকালকার ছেলেমেয়েরা বাংলা শিখতে চায়।

হিমাগ্নি এর ছবি

অনেক সময় নিয়ে প্রত্যেকটা মন্তব্য পড়লাম......
আমি আমার ইচ্ছামত ( যেটা দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি (এবং সেটি অভ্র) ) সফটওয়্যার দিয়ে বাংলা লিখব......

" আমি মানি না কো কোনো আইন,
আমি ভরা-তরী করি ভরা-ডুবি , আমি টর্পেডো , আমি ভীম, ভাসমান মাইন ! "

অতিথি লেখক এর ছবি

আমার ফেইসবুক-এ আপনার পোস্টটা শেয়ার করলাম। অনেক ধন্যবাদ আপনার তথ্যবহুল লেখাটির জন্য।
-- শফকত মোর্শেদ

লেনিন [অতিথি] এর ছবি

ধুসর গোধূলি লিখেছেন:
আলাদা কী-বোর্ড যুক্ত করার ব্যাপারটা হাস্যকর কেনো লাগছে আপনার কাছে বুঝলাম না। বাংলাকে বাংলা বানানেই লিখতে চাওয়ার আপনার ইচ্ছেটা কিন্তু আমার কাছে হাস্যকর লাগে নি মোটেও। তাই জানতে চাইছিলাম সেটা আসলে কী করে হবে? আলাদা কী-বোর্ডে নাকি আংরেজীর সাথে একই কী-বোর্ডে!

Dvorak কীবোর্ডে কি করা হয়েছে? ডান বা বাম হাতিদের জন‍্যও আলাদা লেআউট। কোয়ার্টিতে typewriter কথাটি অতিদ্রুত লেখা যাবে তাই এটি প্রণয়ন করা হয় বলা হয়। আবার এও বলা হয় টাইপফেস হ‍্যামারগুলো অতিদ্রুত টাইপিংয়ে একটা জ‍্যাম লেগে যেতো তাই তা যাতে না হতে পারে সেই জন‍্য অপটিমাইজ করা হয়। ফলে কী দাঁড়ালো? ডি-অপটিমাইজেশন ফর স্পিড তাইনা? আর অপটিমাইজেশন হলো স্মুদ রানিংয়ের। আরো ব‍্যাখ‍্যার প্রয়োজন নেই বোধহয়।

যারা ফোনেটিকের পক্ষে তাদের কী বিশেষ কারণে অ‍্যামেচার বলেছি এবার শুনুন। কোয়ার্টি লেআউটে
RTYU
FGHJ
CVBN
এই কটি অক্ষর ইংরেজীতে সবচেয়ে বেশি ফ্রিকোয়েন্সির কিনা তা জানতে পারেন। যদি না হয়ে থাকে তাহলে এগুলো যতোটা দ্রুততায় টাইপিং সম্ভব আর্গোনমিক পজিশনিং এর কারণে তা রহিত হচ্ছে তাইনা? এখন এই অক্ষরগুলো যখন ফোনেটিকে আসবে তখন এগুলো যে বাংলা অক্ষরগুলোকে রিপ্রেজেন্ট করবে তারা কি সবচেয়ে বেশি ফ্রিকোয়েন্সির?

বাংলার আর ইংরেজীর ফ্রিকোয়ন্সি কি একই হতে পারে?

কাগুর কথা অনুসারে বাম হাতের হোম-রো তে স্বরবর্ণগুলো পজিশনিং করা হয়েছে। ডিভোরাক সাহেবের গবেষণায় দেখবেন বামহাতের হোমরো'টিই সবচেয়ে বেশি। অন‍্যসব বর্ণ কাগুর মতে ফ্রিকোয়েন্সী টেবিল মিলিয়ে বসানো হয়েছে। শিফট কী-তে বসানো হয়ছে বর্ণগুলোর মহাপ্রাণ ধ্বনির বর্ণ। আমার একটি লেখা আছে সহজে ইউনিজয়/ইউনিবিজয় শেখার জন‍্য
এখন কাগুর দাবীমতো যদি ফ্রিকোয়েন্সি টেবিল মেনে করা হয় তাহলে ইংরেজী কোয়ার্টি লেআউটকে ভিত্তি ধরে বা কেবলমাত্র কী পজিশনগুলোকে বেজ করেই এই লেআউটটি পুরোমাত্রার বাংলা লেআউট। আমি বলছিনা এটিই সবচেয়ে ভালো, তবে তা হবার সম্ভাবনা ফেলেও দেয়া যায়না।

ফ্রিকোয়েন্সি নির্ভর কীবোর্ড না হলে মনে করুন
র, ড়, ঢ়, ট, ত, ঠ, দ, য়, উ
ফ, গ, জ, হ, য,
ভ, ব, ন, ম
এই অক্ষরগুলো ফোনেটিকে লেখা স্বাচ্ছন্দ‍্য হবে। এটি উপরে দেয়া ইংরেজী ইন্ডেক্স ফিংগারে টাইপ হওয়া অক্ষরের সাথে যেগুলো আসার কথা সেগুলো দেখালাম। কথা হচ্ছে এগুলো কি সবচেয়ে বেশি ফ্রিকোয়েন্সির? যদি হয় তাহলে তা হবে মিরাকল! কারণ কোয়ার্টির ডিঅপটিমাইজড কীবোর্ডে স্বভাবতই যে ফোনেটিক রিপ্রেজেন্টেশন তা যদি অপটিমাইজড হয় তাহলে গবেষণা করে সময় নষ্ট করার প্রয়োজন থাকবেনা।

তাহলে বাংলা আলাদা লেআউটের জন‍্য কি আলাদা কীবোর্ড লাগাতে হচ্ছে? এখানে বিজয় লেআউটকে দেখানোর কারণ হচ্ছে আমাদের গবেষকদের কমপক্ষে ২০বছরের ব‍্যর্থতা একটি প্রমিত লেআউট দেবার ক্ষেত্রে।

প্রফেশনালরা যারা পত্র-পত্রিকায় টাইপ করেন তারা ঘন্টায় ৪০ বা ৫০ শব্দ টাইপ করেন বাংলায়। অক্ষরের সংখ‍্যা ২৫০০ থেকে ৪০০০ বা আরো বেশি। তারা যদি ফ্রিকোয়েন্সি অপটিমাইজড কীলেআউট ব‍্যবহার করেন তাহলে ধরুন অপেক্ষাকৃত অল্প ব‍্যবহৃত কী লোকেশন এমন অবস্থানে থাকবে যাতে আঙুল পৌঁছাতে বেগ পেতে হয়। বা শিফট কী চাপতে না হয়। আর সবচেয়ে সচল অক্ষরগুলো থাকবে হোম-রো তে বিশেষ করে ইনডেক্স ফিঙ্গারের কাছাকাছি।

কেউ কেউ যুক্তি দিচ্ছেন কোয়ার্টিতেই অনেক তাড়াতাড়ি টাইপ করা যাচ্ছে তাই এতে অভ‍্যস্তরা বাংলায় অনেক দ্রুত ফোনেটিকেও টাইপ করবেন। কিন্তু প্রফেশনাল টাইপিংয়ে প্রকৃত গবেষিত লেআউট হলে আরো অনেক অনেক দ্রুত প্রফেশনালগন টাইপ করতে পারবেন মানেন তো?

আপনাদের জানা আছে নিশ্চয়ই প্রথম আলোর মতো পত্রিকা নিজেদের ব‍্যবহারের জন‍্য আলাদা বানান-রীতি/ব‍্যাকরণ উদ্ভাবন করে নেয়। কর্পোরেট অপটিমাইজেশনের জন‍্য এটি অনেক অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজন। এধরণের প্রতিষ্ঠান যেমন নিজেদের জন‍্য অনেক অনেক ফন্ট তৈরি করিয়ে নেন তেমনি কর্মদক্ষতা বাড়ানোর জন‍্য নিজস্ব কীবোর্ডও উদ্ভাবন করতে পারেন। কেনো? কারণ হলো, একটি পত্রিকায় যে ধরণের শব্দ বা ধ্বনি সবচেয়ে বেশি আসে প্রতিনিয়ত তা নিশ্চয়ই একটি বিজ্ঞান-বিষয়ক বইয়ের প্রকাশকের ক্ষেত্রে একই না? অর্থনীতির ইকোনমিজ অফ স্কেলিং তখনই আসে যখন একই ধরণের পুনরাবৃত্তির ব‍্যাপারগুলোকে যথাযথ অপটিমাইজ করে স্বাচ্ছন্দ‍্য বাড়ানো যায়। সুতরাং একেক কাজের জন‍্যও একেক লেআউট প্রয়োজন হতে পারে। একারণে একজন প্রোগ্রামারের জন‍্যও আলাদা কীবোর্ড তার কর্মদক্ষতা অনেক অনেক বাড়াতে পারে।

ডিভোরাক কীবোর্ডেরও তাই ডান আর বাম হাতিদের জন‍্য আলাদা লেআউট বিদ‍্যমান।

কিন্তু ডিভোরাক আমরা ব‍্যবহার করিনা বাজার ছেয়ে আছে সেই প্রথমদিকে সবার কাছে পরিচিত হয়ে যাওয়া কোয়ার্টির জন‍্য। তবে, অনেক গীক(geek) বা নার্ড(nerd) তার কর্মদক্ষতা বাড়ানোর জন‍্য ডিভোরাক ব‍্যবহার করেন ব‍্যক্তিগতভাবে। আমারও একবার শখ হয়েছিলো তাই কীবোর্ডের সবগুলো কী খুলে ডিভোরাকের আদলে সাজিয়ে নিয়েছিলাম। কিন্তু বাধ সাধলো তখন আমার বাংলাতে বিজয়/ইউনিজয় ভুলে যাবার আশংকা(ডিভোরাকে ভিন্ন আচরণ করছিলো!)। এই ক্ষেত্রে আমি মনে করি লেআউট কোয়ার্ট বা বিশেষ কোনো ইংরেজী লেআউটের উপর যাতে নির্ভরশীল না হয় তার প্রতিও খেয়াল রাখতে হবে।

মন্তব‍্য অনেক বড়ো হয়ে গেলো তবে আশা করি কেবলই কথার কথা বা অর্থহীন কিছু বলিনি।

আরেকটি লিখেছিলাম বিজয় ব‍্যবহারকারিদের ইউনিজয়ে উদ্বুদ্ধ করতে
______________________________________________
বিকল্প শক্তি ঃ সাইকেল দিয়ে বিদ্যুতের ফ্যাক্টরি ঃ ১৫ মিনিটে দশ ওয়াট সাইকেল চালিয়ে!
-----
অভ্র না বিজয়? বিজয় না ইউনিজয়/ইউনিবিজয়/ন‍্যাশনাল/প্রভাত/রোকেয়া/ফোনেটিক?
-----
অভ্রের বিরুদ্ধে শাব্দিক টিমের অভিযোগ এবং জব্বার কাগুর ইউনিবিজয়ের মিল প্রসঙ্গে
----
বিজয় ওয়াজ ওয়ান অফ দ্য বিগিনার্স এ্যান্ড অভ্র ইজ নট দ্য এন্ড

পুনশ্চ: মডারেটরদের কাউকে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি যোগাযোগের কোনো উপায় জানাতে। আমি বিভিন্ন উপায়ে যোগাযোগে ব‍্যর্থ হয়েছি।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA