অসহিষ্ণুতা, নিষ্ঠুরতা এবং শিশুমন

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: বিষ্যুদ, ১৩/০৮/২০১৫ - ২:২৪পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

সময়টাই অসহিষ্ণুতা, নিষ্ঠুরতা আর সহিংসতার। অবশ্য আমার জানাশোনা ততটা বেশি নয় যতটা বেশি হলে নির্দ্বিধায় বলা যেতে পারত এ সময়টাই ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি অসহিষ্ণু কি না। তুলনার বিচারে তাই যাচ্ছি না আর এই লেখাটা অসহিষ্ণুতা আর সহিংসতার বিশদ বিবরণও নয় বরং মানুষের নিত্যদিনের আচরণ, অসহিষ্ণুতা, নিষ্ঠুরতার প্রকাশের সাথে শিশুমনের সম্পর্ক নিয়ে। শিশুমন বা শিশুর বেড়ে ওঠা নিয়ে আমার পড়ালেখা নেই, এ লেখাটি বস্তুত লিখছি নিজের আর পরিচিত বলয়ে শিশুদের বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা থেকে।

মানুষ হিসেবে আমাদের মধ্যে ভালোমানুষি, স্নেহ, ভালবাসার পাশাপাশি প্রকট বা প্রচ্ছন্নভাবে রয়ে যায় রাগ, ক্ষোভ, অসিহষ্ণুতাও। এই অনুভূতিগুলোর প্রকাশ ব্যক্তিত্বভেদে একেক রকম হয়। বড়দের আচরণ ও অভিব্যক্তির যে কোনো প্রকাশ খুব দ্রুতই প্রভাবিত করে শিশুর মনকে। শিশুরা বড়দের দেখে দেখে অনেকটাই শিখে যায় পরিবার, বন্ধু বা অন্যান্য মানুষদের সাথে কীভাবে কথা বলা যায়, কোন আচরণের কী অর্থ। যে শিশু ছোটবেলা থেকেই গুজগুজ, ফুসফুস শুনে অভ্যস্ত, তার কাছে পরচর্চা অনেকটাই স্বাভাবিক একটি বিষয়ে পরিণত হয়। ‘অনেকটাই’ এ কারণে যে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতেও পারে। একই কথা বলা চলে অন্য সব বিষয়েও যেমন কাউকে ধমক দেয়া, চিৎকার-চেঁচামেচি, মারামারি, খুনোখুনি সব বিষয়ে। এই বিষয়গুলো দেখে দেখে যে শিশুরা বেড়ে ওঠে সেই শিশুদের মনে এই বিষয়গুলো একেকভাবে ছাপ ফেলে।

সামাজিক বিজ্ঞানের বেশকিছু বিভাগে সংস্কৃতির সাথে ব্যক্তিত্বের সম্পর্ক বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখা করানো হয়। এমনকী বাংলাদেশেও কেবল শিশুর বেড়ে ওঠার উপরেই উচ্চতর পড়ালেখার সুযোগ আছে। আবার প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখা না করেও এ দু’য়ের সম্পর্ক বুঝতে তেমন একটা বেগ পেতে হয় না। এটা প্রতিষ্ঠিত যে একটি শিশুর বেড়ে ওঠার সময়ে যে যা কিছু দেখে, যা কিছুর মধ্য দিয়ে যায় সেই বিষয়গুলো তার ব্যক্তিত্ব গঠনে জোরদার ভূমিকা রাখে। তবে এই ভূমিকা ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে। ঝগড়া-মারামারির মাঝে বেড়ে ওঠা দু’টি শিশুর একজন নিজে বড় হয়ে যেমন নিজেই অতিষ্ঠ করে তুলতে পারে অন্যদের জীবন, অপরজন তেমনই আবার এই বিষয়গুলো সম্পর্কে বীতশ্রদ্ধ হয়ে ঠিক উল্টোটাও করতে পারে। তবে প্রতিক্রিয়া যাই হোক না কেন-ছোটবেলার সেইসব কদর্য স্মৃতি থেকে মুক্তি কারুর মেলে না সহজে। যে শৈশব-কৈশোর এইসবের ময়লায় জড়িয়ে গিয়েছিল কোনোভাবে, সেই শৈশব-কৈশোর তেমনই রয়ে যায় আর পরবর্তী যৌবন-বার্ধক্যজুড়ে সারাজীবন বারেবারে ফিরে আসতে থাকে। এই ফিরে আসাটা বেশিরভাগ সময়েই সুখকর কিছু হয় না।

বাচ্চাদের মারা বা বড় ধরনের শাস্তি দেয়া তাদের সাথে সরাসরি নেতিবাচক আচরণ। এগুলো বাচ্চাদের মন ও অনেক সময় শরীরেও স্থায়ী, বড় ধরনের ছাপ রেখে যায়। যারা নিজেরা এ ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়, তারা এই বিষয়গুলোকে কী ভীতি আর ঘৃণার চোখে দেখে তা বলার অবকাশ রাখে না। পাশাপাশি বাচ্চাদের সাথে সরাসরি সহিংসতামূলক আচরণ না করেও তাদের নেতিবাচক পরিমণ্ডলের অংশ বানিয়ে ফেলা যায়। কারণ শিশুরা কেবল নিজেদের সাথে অন্যদের আচরণের মাধ্যমেই শেখে না-বাড়ির পোষা কুকুরটার সাথে বাবা-মা কী আচরণ করছে, তাও মনযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করে।

যে বাড়িতে বাবার হাতে মা বিনা কারণে কিংবা ‘যথেষ্ট’ কারণেও মার খায় দু’দিন বা দু’মাস অন্তর, সে বাড়ির বাচ্চাটার কাছে মায়ের আর্তনাদ আর বাবার মুখের বিভৎসতা দুইই চরম সত্যি। দুইই তার মনে প্রায় সারা জীবনব্যাপী দাগ রেখে দেয় যার প্রকাশটা হতে পারে একেকজনের ক্ষেত্রে একেকরকম। কেউ বাবাকে পরাক্রমশালী বীর মনে করে সারাজীবন মাকে তাচ্ছিল্য করতে পারে এবং তেমন বুঝলে নিজেও একসময় মায়ের গায়ে হাত তুলতে দ্বিধা নাও করতে পারে। অন্য কেউ হয়ত মার অসহায় কান্নায় নিজেকে নীরবে সামিল করতে করতে একসময় বাপের বিরুদ্ধেই তুলে নেয় চ্যালাকাঠ! আমি ব্যক্তিগতভাবে এমন বেশকিছু মানুষকে চিনি যারা কেবল মায়ের অকারণ মার খাওয়ার প্রতিবাদ করতেই বাপকে মারতে গিয়েছিল অন্তত একবার। অথচ বাপের জন্য এমনিতে এই মানুষগুলোর শ্রদ্ধা বা ভালবাসার কমতি নেই। আবার এমনও দু’ এক জনকে চিনি যারা নিজেদের জীবনের কোনো না কোনো সময় মাকে নিজ হাতে মেরেছে বা বাপকে কিংবা বউকে সাহায্য করেছে মারতে। কোত্থেকে শেখে মানুষ এমন আচরণ?

গণমাধ্যমই বলি আর যুগেরই দোষ দিই না কেন, নিজের চেনা গণ্ডিতে না দেখলে এমন আচরণে মানুষের সাহস পাওয়ার কথা নয়। কেবল মায়ের মার খাওয়া নয়-বাবা-মা’র ঝগড়া দেখতে দেখতে বড় হওয়া অনেকেই দাম্পত্য সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা নিয়ে বড় হয়, বিয়ের পর নিজের সঙ্গীর সাথে একই আচরণ করে চেতন বা অবচেতনে। বাবার অভিযোগ শুনতে শুনতে নিজের অজান্তেই পর করে দেয় মায়ের দিকের আত্মীয়দের কিংবা মা’র মুখে সারাদিন শুনতে শুনতে মনে মনে শত্রু বানিয়ে ফেলে অন্যপক্ষের মানুষগুলোকে। সবচেয়ে বড় কথা যে মানুষগুলো তাদের জীবনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠার কথা শৈশবে তো বটেই, সারা জীবনের জন্য, সেই মানুষগুলোর মধ্যে স্পষ্ট দুটো পক্ষ বানিয়ে নেয় তারা।

কেবল নিজের পরিবারেই নয়, একটি শিশু প্রতিনিয়তই শিখছে তার খেলার মাঠে/ঘরে, ডে কেয়ার সেন্টারে, স্কুলে, পারিবারিক অনুষ্ঠানে, আত্মীয়-বন্ধু-শিক্ষক-পরিচিত-অপরিচিত সব মানুষের কাছে। এই সবগুলো মানুষ তার জীবনের বড় একটা অংশ। নিজের প্রতিদিনকার চেনা মানুষগুলোর আচরণ সে প্রত্যক্ষ করে, মূল্যায়ন করে আবার তা থেকে নিজে শেখে। তাই চেনা গণ্ডির মধ্যে আমরা নিজেদের নেতিবাচক আচরণগুলো সংযত করলে সেই গণ্ডির প্রতিটা বাচ্চার বড় উপকার করা হয়। স্কুলে ছেলেটা পড়া শিখে আসেনি বলে ওকে মেরে রক্তাক্ত করে না দিই, সারাজীবনের জন্য ওর গায়ের কালসিটে দাগগুলোর মতো ওর চোখে নিজেকেও কালসিটে অমানুষ করে না তুলি। ভবিষ্যতে অন্য কাউকে সর্বশক্তি দিয়ে মেরে তার মসৃণ ত্বক নিজের মতো কালিসিটে করে দেবার প্রতিশোধস্পৃহা তৈরি না করি চিকিৎসা নিতে থাকা ব্যথাজর্জর বাচ্চাটার মধ্যে। নিজের বাচ্চার সাথে বনিবনা হয়নি বলে ওর খেলার সাথীকে গালি বা চড়টা না দিই। কাজে ফাঁকি দিয়েছে বলে বাড়ির কাজে সাহায্যকারী মেয়েটার গায়ে-হাতে-পায়ে ছ্যাঁকা না দিয়ে বুঝিয়ে বলি অথবা তার এক আধদিনের ফাঁকিটুকু হাসিমুখে মেনে নিই। অন্তত বাচ্চাদের সামনে নিজেদের ঝগড়া বিবাদগুলোর নোংরা কাদা না ঘাটি।

ছোটবেলায় চারপাশে যা দেখেছি সেগুলোর কোনো কোনো ঘটনা এত জ্বলজ্বল করে যে ভুলতেই পারা যায় না। আমরা প্রত্যেকেই জানি সেই দুঃসহ কথাগুলো ভুলতে পারলে বেশ হতো। একটু সচেতন হলেই হয়ত আমরা নিজেদের উত্তরসুরীদের কিছুটা হলেও মুক্তি দিতে পারি মনের ভিতর বা কাজেও জীবনভর দুঃসহ কিছু বয়ে বেড়ানোর কষ্ট থেকে। একটু দায়িত্ব নিলেই হয়ত আমরা অন্তত নিজেদের আর কাছের আদরের শিশুদের সহিষ্ণু, ধৈর্যশীল, ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারি যাদের থাকবে নির্মল শৈশব আর স্বপ্নময় কৈশোর। যাদের নিজেদের খারাপ অভিজ্ঞতাগুলোর বিরুদ্ধে প্রাণপণে লড়ে ভালো মানুষ হবার অমানুষিক চেষ্টাটুকু করতে হবে না। একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব তৈরিতে আরও অনেক কিছুর কার্যকরী ভূমিকা আছে এটা ঠিক, কেবল আমরা তাদের যে পরিবেশ দিচ্ছি তার উপর সবটা নির্ভর করে না তবু নিজেদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টাটুকু তো আমরা নিশ্চয়ই করতে পারি।

দেবদ্যুতি


মন্তব্য

সুলতানা সাদিয়া এর ছবি

খুব সুন্দর গোছানো লেখা। পাঁচতারা।

-----------------------------------
অন্ধ, আমি বৃষ্টি এলাম আলোয়
পথ হারালাম দূর্বাদলের পথে
পেরিয়ে এলাম স্মরণ-অতীত সেতু

আমি এখন রৌদ্র-ভবিষ্যতে

অতিথি লেখক এর ছবি

ধন্যবাদ, সাদিয়া’পু হাসি

দেবদ্যুতি

অতিথি লেখক এর ছবি

সময়ের আবহ আর আমাদের অভিভাবক, বন্ধু, আত্মীয় ও অনাত্মীয় দের পরিমণ্ডল ই আমাদের মনন গড়ে দেয় শিশু মন থেকে। আমরা সত্যি চেষ্টা করতে পারি এই পরিমণ্ডলকে আর ও সংহতি যুগিয়ে শিশু মনকে ঋদ্ধ করতে। প্রবন্ধটির শুরু থেকে শেষ অবধি চিন্তাশীল বক্তব্যের সাথে সহমত পোষণ করি। ভালো লাগলো।

--------------------------------------
ইচ্ছে মত লিখি
http://icchemotolikhi.blogspot.in/

অতিথি লেখক এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ আপনাকে হাসি

দেবদ্যুতি

অতিথি লেখক এর ছবি

প্রিয় দেবদ্যুতি, লেখাতি পড়ে যেমন ভালো লাগলো তেমনই একটি দিক সম্পূর্ণ ভাবে অনুচ্চারিত থেকে গেল বলে মন্তব্য না করেও পারলাম না। শিশুমন পারিপার্শ্বিক থেকে শেখে; সত্যি কথা। কিন্তু পারিপার্শ্বিকে কেন ক্রূরতা বিদ্যমান সে প্রশ্নটি কিন্তু অনুত্তরিত থেকে গেল। একটি ছোট্ট সূত্র দিয়ে রাখি - প্রতিদিন যে মানুষরূপী জন্তুটিকে হায়ারার্কির জাতাকলে ফেলে পেষা হচ্ছে সমাজরূপী গোলকধাঁধার অলিতেগলিতে, সেই আপাতঃসর্বংসহা জন্তুটি কিন্তু নিজের পীড়িত মনের আনাচে কানাচে খুঁজে বেড়াচ্ছে সেই ক্লিন্ন দীন মানসিক অবস্থা থেকে মুক্তি। আর পচনশীল এই সমাজ যখন তাকে দেখায় না এ থেকে মুক্তির কোনও পথ তখন সে নিজেই হয়ে উঠতে চায় এই সমাজের আরও একজন অত্যাচারী যন্ত্রণাদাতা। তাই কর্মক্ষেত্রে লাঞ্ছিত ব্যাক্তিটি লাঞ্ছনার বস্তুটিকে খুঁজে পায় নিজগৃহে প্রতিরোধহীনা স্ত্রীর মধ্যে, লাঞ্ছিতা স্ত্রী খুঁজে পায় দুর্বল শিশুতে, আর বেড়ে ওঠার পথে শিশুটি খুঁজে পায় আশ্রয়হীন সারমেয় শাবকে। শুধু খুঁজে নিন এই হায়ারার্কির অন্তের পথ আর দেখবেন পারস্পরিক ক্রূরতা, বিশেষ করে দুর্বলের ওপর সবলের ক্রূরতা হ্রাস পেয়েছে বহুলাংশেই।

- অতিথি লেখক, অনল হক।

অতিথি লেখক এর ছবি

অসংখ্য ধন্যবাদ সযত্ন পড়া আর বিশদ মন্তব্যের জন্য। লেখার শুরুর দিকেই আমি বলে নিয়েছিলাম যে এই লেখার পরিসর ছোট, আমাদের প্রতিদিনের অসহিষ্ণু আচরণ শিশুদের উপর কেমন ছাপ রাখে, ততটুকুই। তাই আমাদের আচরণ কী কী কারণে ক্রুর হয়ে ওঠে, সেসব এড়িয়ে গেছি ইচ্ছে করেই। আমাদের ক্রুর আচরণের তো অনেকগুলোই কারণ হয়। কেবল সামাজিক পার্থক্য কিংবা যেই হায়ারার্কির কথা বলেছেন, তাই একমাত্র বা সবচে বড় কারণ বলে আমি মনে করি না। সেটিই যদি হবে তাহলে অতি আদরে বড় হওয়া বড়লোক বাপের সম্মানিত সন্তানেরা কীভাবে বাপকে অভুক্ত রেখে নিজেরা একই বাড়িতে পোলাও মাংস খায়? কীভাবে কথায় অ-কথায় মা’র গায়ে হাত তোলে? কিংবা যে মানুষটা ছেলেমেয়েকে ভালবাসছে প্রাণ দিয়ে, সেই আবার ঐ ছেলেমেয়ের মাকে মেরে ফেলে কীভাবে?... আমার আলোচনায় আমি কেবল আমাদের অসহিষ্ণু আচরণের বহিঃপ্রকাশ আর শিশুদের কোমল মনে তার প্রভাবকেই তুলে আনতে চেয়েছি বরং।

দেবদ্যুতি

রানা মেহের এর ছবি

ঠিক মারামারি না হলেও অনেকরকম অসহিষ্ণু আচ্রন করি আমরা। রাগের মাথায় বেশি বকা দিয়ে ফেলা, অফিসে বাজে দিন কাটিয়ে এসে অল্পতেই বাচ্চার ওপর রেগে যাওয়া এরকম। এই জিনিসগুলো আসলে এড়িয়ে যাওয়া যায়না চাইলেও। তবে উচিত হচ্ছে কোনভাবে হয়ে গেলে বাচ্চা, সে যত ছোটই হোকনা কেন তাকে পুরো ব্যাপারটা খুলে বলে ক্ষমা চাওয়া। বাচ্চাটা যেন বুঝতে পারে এটা তার দোষ নয় আর ভুল করলে বাবা মারাও ক্ষমা চাইতে পারে।

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

অতিথি লেখক এর ছবি

অনেক দরকারি কথা বলেছেন, রানা’পু। বাচ্চারা বড়দের অসহিষ্ণু আচরণগুলোর কথা মনে রাখে বহুবছর। তাই ওদের কাছে ভুলগুলো খুলে বলা অনেক কার্যকরী হবে।

দেবদ্যুতি

এক লহমা এর ছবি

দরকারি লেখা। ভালো লেখা। চলুক

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

অতিথি লেখক এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- লহমা’দা

দেবদ্যুতি

সো এর ছবি

জীবনে যত মার খেয়েছি/দিয়েছি, তার ৯০ ভাগই ছিল কারো না কারো মেজাজ খারাপ ছিলো দেখে। আমাদের সমাজে কোন দুঃখে যে মারামারির ব্যাপারটা রয়ে গ্যাছে বুঝি না। এমন কোনো একটিভিটি মনে পড়ছে না যে মার খেয়ে থামিয়েছি, বা মার দিয়ে পুরোপুরি থামানো গ্যাছে। সমস্যার আপাত: উপশম হয়, কিন্তু গোড়ার ভুলটা রয়েই যায় সবসময়।

এক লহমা এর ছবি

চলুক

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

অতিথি লেখক এর ছবি

সহমত। আরেকটি কথা মনে হয়; ধরুন, কেউ ছোটবেলা থেকে চিল্লানো, ধমক দিয়ে কথা বলাতে অভ্যস্ত হয়ে গেল, অসহিষ্ণু এই আচরণ কিন্তু তার মধ্যে রয়েই যাবে এবং খুব বেশি সচেতন না হলে এই অভ্যাসটা কাটাতে পারবে না। আর এই এক স্বভাবের কারণে সে সারাজীবনে কত বন্ধুকে যে হারাবে কে জানে! এই বিষয়গুলোও খুব চিন্তার মনে হয় আমার কাছে।

দেবদ্যুতি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA