দার্জিলিং এর গপ্পো # ১ম পর্ব # পশ্চিমবঙ্গে স্বাগতম

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: বুধ, ০৬/০৭/২০১৬ - ১২:২৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

জীবনে প্রথম যে কোন কিছুর আবেদন একদমই অন্যরকম। ঠিক যাকে বলে “ভোলা যায় না কিছুতেই” ধরণের। প্রথম প্রেম (দুনিয়ার সবথেকে আত্মভোলা লোকটিও এই জিনিস ভুলবেন না), প্রথম বিরহ (বউ কিংবা বর্তমান প্রেয়সীর চাপে পড়ে প্রথম প্রেম না হয় ভুললেন কিন্তু প্রথম বিরহ?), প্রথম স্কুল পালানো (বাবু টাইপ ছাত্ররা লাইনের বাইরে দাঁড়ান), প্রথম চাকরি (বেকার ভাইবোনেরা সিলেবাসের বাইরে), প্রথম বিবাহ (কবে যে করব?) ইত্যাদি ইত্যাদি। সে হিসাবে প্রথম বিদেশ ভ্রমণ বুকের ভিতর অনুভূতির যেই প্রকোষ্ঠগুলো বিদ্যমান সেখানে বিশেষ স্থান অধিকারের দাবী রাখে। এই দাবী অস্বীকারের ধৃষ্টতা কিংবা ইচ্ছে কোনটাই আমার নেই। তাই জীবনের প্রথম বিদেশ ভ্রমণের কাহিনী ধাপে ধাপে আপনাদের সাথে শেয়ার করব।

কিশোরগঞ্জ সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে আমাদের ভূগোলের শিক্ষক ছিলেন অনীল চন্দ্র পণ্ডিত স্যার। স্যার অসাধারণ মানচিত্র আঁকতে জানতেন। কাল ব্ল্যাকবোর্ডে সাদা চক দিয়ে মুহূর্তের মাঝেই বাংলাদেশ কিংবা পৃথিবীর মানচিত্র এঁকে ফেলতেন আর আমরা অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে ভাবতাম কিভাবে এত দ্রুত মানচিত্র আঁকা সম্ভব। সেই ভূগোল ক্লাসেই প্রথম জানতে পারি বাংলাদেশের তিনদিক দিয়েই ভারত আর একদিক দিয়ে বঙ্গোপসাগর। অল্প একটু সীমান্ত আছে মায়ানমারের সাথে। ভারতকে ইংরজিতে ইন্ডিয়া বলে কেন সেটা অবশ্য জানা নেই। স্যার বলতেন, যদি পৃথিবী ঘোরা সম্ভব না হয় অন্তত ভারত ঘুরে দেখিস। মরুভূমি, পাহাড়, অরণ্য, সমুদ্র, তুষার কি নেই সেখানে? একটা সম্পূর্ণ প্যাকেজ বলতে যা বুঝায়, ভারত ঠিক তাই। তখন থেকেই মনের ভিতর স্বপ্নের আনাগোনা কবে ভারত ঘুরতে যাব। হায় তখন কি আর জানতাম, এই অপেক্ষার পালা ফুরাতে আমার ৩০ টা বসন্ত কেটে যাবে?

রুমমেট অনিন্দ্য ভ্রমণপিয়াসী ছেলে। আমরা দুজনেই ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিতে চাকুরি করছি। দুজনের কেউই এখন পর্যন্ত দেশের বাইরে যাই নি। দুজনেরই বিদেশ ভ্রমণের তীব্র আকাঙ্খা। দুধের সাধ ঘোলে মিটানোর জন্য ইন্টারনেটে ঘুরে বেড়াই আর বিভিন্ন ব্লগের (বিশেষত সচলায়তনের সুনির্দিষ্ট করে বললে তারেক অণু ভাইয়ের) ভ্রমণ কাহিনীগুলো পড়ি আর স্বপ্নের জাল বুনি। দুজনেরই যেহেতু পাসপোর্ট করা আছে তাই একদিনের তাৎক্ষণিক বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েই নিলাম, দুনিয়া উল্টে যাক কিংবা না যাক, চাকুরি থাকুক কিংবা না থাকুক, ছুটি পাই কিংবা না পাই; দেশের বাইরে ঘুরতে এবার যাবই যাব। যেই ভাবা সেই কাজ। কাগজ, কলম আর মানচিত্র নিয়ে বসলাম। এটা ২০১৫ সালের রমজান মাসের ঘটনা। দুজনেরই ইচ্ছে ছিল আমাদের প্রথম বিদেশ ভ্রমণ হবে দার্জিলিং-এ। শুরু হল পরিকল্পনার কাজ। কোন ট্র্যাভেল এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল না কারণ তাহলে নিজের ইচ্ছেমত ঘোরা যায় না। তাই পরবর্তী ১ মাস কেবল পরিকল্পনাই চলল। কবে যাব, কিভাবে যাব, কোথায় থাকব, কোন কোন জায়গা ঘুরে দেখব, কোন জায়গাগুলো বাদ দিব, কোথায় কত খরচ করব, কোন জায়গায় কতটুকু সময় দিব সব একদম ঘড়ি ধরে ঠিক করে নিলাম। ইন্টারনেট ঘেঁটে যত বেশি পরিমাণে সম্ভব তথ্য যোগাড় করে প্ল্যানিং সম্পন্ন করলাম। যদিও জানি যে সবসময় সময় মেনে চলা সম্ভব না কিন্তু প্ল্যানিং করে যাওয়াতে যে আমরা কতটুকু লাভবান হয়েছিলাম সেটা পরবর্তীতে আমরা বুঝতে পেরেছি। প্ল্যানিং এর ক্ষেত্রে অনিন্দ্যের অবদানই ছিল বেশি। অবশেষে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম নভেম্বরে শুরুতেই আমাদের দার্জিলিং ভ্রমণ করতে হবে। কারণ এরপর শীতের তীব্রতা বেড়ে যাবে এবং দিনের দৈর্ঘ্যও আরও ছোট হয়ে যাবে। আরও একটা কারণ হচ্ছে এই সময়টায় দার্জিলিং-এ লোকজনের ভিড় থাকবে কম। তাই কম খরচে ভাল হোটেল পাওয়া খুব একটা সমস্যা হয়ত হবে না।

পরিকল্পনা শেষ হওয়ার পর শুরু হল বাস্তবায়নের ধাপ। অনলাইনে ভারতীয় ভিসার আবেদন করার যথেষ্ট চেষ্টা করা সত্ত্বেও তারিখ পাচ্ছিলাম না। ইচ্ছে ছিল না যে বাইরের কারও মাধ্যমে ভিসার আবেদনের তারিখ (ই-টোকেন) করাই। কিন্তু টানা এক সপ্তাহ চেষ্টা করেও যখন ই-টোকেন করতে পারলাম না তখন বাধ্য হয়েই একজন এজেন্টের মাধ্যমে ২১০০ টাকার বিনিময়ে ই-টোকেন যোগাড় করতে হল। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সবকিছু জমা দেওয়ার পরও কিছুটা চিন্তিত ছিলাম যে ভিসা পাব কি না। কারণ যতদূর শুনেছি ভিসা দেওয়াতে অনেক সমস্যা করে। তার উপর এর আগে একবার আমার ভারতে যাওয়ার ভিসা হওয়া সত্ত্বেও যাই নি। নির্দিষ্ট দিনে পাসপোর্ট আনতে গিয়ে অবশ্য দেখলাম যে এত দুশ্চিন্তার কোন কারণ ছিল না। ছয় মাসের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা পেয়েছি।

সবথেকে কঠিন কাজ ছিল ছুটির বন্দোবস্ত করা। আমরা জানতাম বেশিদিনের জন্য ছুটি চাইলে দিবে না। তাই সাকুল্যে তিন দিন ছুটি চেয়েছিলাম। বিদেশ ভ্রমণের জন্য এত কম দিন ছুটি চেয়েছি বলেই হয়ত স্যার রাজী হতে আপত্তি করেন নি। বহুদিন পর ছুটি পাওয়ার জন্য তীব্র আনন্দ অনুভব করেছিলাম সেদিন। অফিস শেষ করেই চলে গেলাম কল্যাণপুরে শ্যামলীর কাউন্টারে। প্রতিদিন রাতে এখান থেকে শিলিগুড়ির উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যায়। ১২ নভেম্বর রাতের টিকেট কেটে বাসায় ফিরলাম।

আমার চাকরিটা এমন যে প্রতি মাসেই অফিসের কাজে দেশের বিভিন্ন জেলায় যেতে হয়। এই করেই বাংলাদেশের প্রায় সবগুলো জেলাতেই পা পড়েছে। ভ্রমণ তাই আমার কাছে জটিল কোন কাজ নয়। বিশদ প্রস্তুতির ব্যাপারটা তাই ছিল না। একটা ব্যাকপেক আর হ্যান্ডব্যাগ নিয়েই ১২ নভেম্বর রাতের বেলা বেরিয়ে পড়লাম বাসস্ট্যান্ডের উদ্দেশ্যে। শুনেছিলাম নভেম্বরেই দার্জিলিং-এ শীত পড়ে যায়। তাই সতর্কতার জন্য শীতের পোশাক নিয়েছিলাম কয়েকটা। এবং এগুলো ভীষণ কাজে দিয়েছিল।

বাস ছাড়ার কথা রাত ৮ টায়, আমরা এসে পৌঁছলাম সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় এবং এসেই শুনতে পেলাম ৯ টার আগে বাস ছাড়ছে না। কি আর করা, বিরস বদনে অপেক্ষা করতে করতে কিছুক্ষণ ফটোসেশন করলাম দুজন মিলে। প্রথম বিদেশ ভ্রমণ বলে কথা; স্মৃতি রাখতে হবে না?

বাস ছাড়ল রাত সাড়ে ন’টায়। সুপারভাইজারের কাছ থেকে কম্বলটা চেয়ে নিয়ে অনিন্দ্য একটা ঘুমের ওষুধ খেয়ে দিল ঘুম। জার্নিতে তাঁর নাকি ঘুম আসে না। আমি অবশ্য জেগে ছিলাম অনেকক্ষণ। তারপর কখন যে ঘুমিয়ে গেছি নিজেও বলতে পারব না।

বাসের জানাল গলে সূর্যের আলো চোখে পড়ায় ঘুমটা ভাঙল। ওরেব্বাহ, এ তো দেখি সকাল সাড়ে ছয়টা বাজে। প্রচুর ভ্রমণ করি বলেই হয়ত ভ্রমণের সময় আমার বেশ ভাল ঘুম হয়। এছাড়া আগের পুরোটা দিন অফিস করেছি বলে ক্লান্তও ছিলাম খুব। অনিন্দ্য তখনও ঘুমাচ্ছিল। ওষুধ বেশ ভালোই কাজ করেছে বোঝা যাচ্ছে। আমি জানালা দিয়ে বাইরে তাকালাম। ঢাকার বাইরে গেলেই মনটা ভাল হয়ে যায়। এত অবারিত সবুজ আর খোলা প্রান্তর কি আর ঢাকায় দেখা যায়? একটা দোকানের বিলবোর্ড দেখে বুঝলাম কুড়িগ্রাম জেলায় আছি। যাচ্ছি পাটগ্রাম থানায় অবস্থিত বুড়িমারী স্থলবন্দরের দিকে। চারপাশে দেখতে দেখতে একটা ব্যাপার খেয়াল করলাম, এত প্রান্তিক একটা থানা হওয়া সত্ত্বেও বেশিরভাগ বাড়িঘরই আধাপাকা। মানে অজ পাড়া গাঁ বলতে আমরা যা বোঝাই এটি মোটেও তা নয়। ঘরবাড়ি, বিদ্যুতের সংযোগ এবং বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত ইঙ্গিত দিচ্ছিল এখানকার লোকজনের সচ্ছলতার যা কি না ভারতে প্রবেশের পরপরই বুঝতে পেরেছিলাম। ওখানকার সীমান্ত এলাকার বাড়িঘরগুলো ছিল খুবই দীনহীন গোছের। পার্থক্যটা তাই পরবর্তীতে চোখে লেগেছিল।

সকাল সাড়ে সাতটায় আমরা বুড়িমারীতে পৌঁছুলাম। বাস দেরীতে ছাড়ছিল দেখে শুধু শুধুই রাতের বেলা চিন্তা করছিলাম। সকাল ৯ টার আগে সীমান্ত খুলবে না। এই সময়টুকুতেই ফ্রেশ হতে হবে। বাংলাদেশ থেকে ভারতে যেতে হলে ৫০০ টাকার একটা ট্র্যাভেল ট্যাক্স দিতে হয় বাংলাদেশ সরকারকে। এর জন্য নির্দিষ্ট ফর্ম আছে, আবার সোনালি ব্যাংকের যে কোন শাখায়ও দেওয়া যায়। শ্যামলী বাসের সার্ভিস ভাল। বাসে থাকাকালীনই সুপারভাইজার আমাদের কাছ থেকে পাসপোর্ট এবং টাকা নিয়ে নিয়েছিলেন ট্র্যাভেল ট্যাক্স পরিশোধের জন্য। এই চিন্তা যেহেতু নেই তাই চারপাশটা ঘুরে দেখতে বের হলাম। নাস্তা করব কোথায় ভাবছিলাম তখনই বুড়ির হোটেল চোখে পড়ল। বুড়িমারীতে এই একটা হোটেলের পরিবেশই বেশ ভাল। খাবারের মানও খারাপ নয়। বিশাল আকারের পরোটা, ডাল-ভাজি আর ডিম মামলেট দিয়ে খেলে আপনার পেট ভরবে গ্যারান্টি দিতে পারি। খাওয়ার পর জিরো পয়েন্টে হাঁটাহাঁটি করতে খুব একটা খারাপ লাগবে না।

স্থলবন্দরের কার্যক্রম শুরু হল সকাল ৯ টায়। এ তো দেখি অনেক আনুষ্ঠানিকতা। তবে শ্যামলীর যাত্রী হওয়াতে আমাদের খুব একটা ঝামেলা পোহাতে হয় নি। সুপারভাইজার আগেই পাসপোর্ট জমা দিয়েছিলেন। আমাদেরকে নাম ধরে ডাকল, গেলাম, ছবি তুললাম, বের হয়ে আসলাম। এরপর গেলাম কাস্টমসে ব্যাগ চেক করাতে। শুনেছিলাম এখান থেকে ব্যাগ ছাড়াতে নাকি কিছু পয়সাপাতি খরচ করতে হয়। কথা সত্য। যার কাছ থেকে যত পারে নেয়, আমাদেরকে ১০০ টাকাতেই ছেড়ে দিল। লাগেজ আর পাসপোর্ট হাতে নিয়ে কাস্টমস থেকে বের হয়েই দেখি আমার সামনে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত। হেঁটেই সীমান্ত পার হলাম। অস্বীকার করব না শরীরটা কিছুটা শিরশির করে উঠেছিল উত্তেজনায়। ঐ যে শুরুতে বললাম, প্রথমবার বলে কথা। সীমান্ত পার হওয়ার সময় ভাবছিলাম একই ভাষা, একই সংস্কৃতি, একই রকম মানুষ। তারপরেও ধর্মের ভিত্তিতে কি না একটা দেশ দুই ভাগ হয়ে গেল। কিভাবে সম্ভব?

সীমান্তের বাংলাদেশ অংশের নাম যেমন বুড়িমারী, তেমনি ভারতীয় অংশের নাম চ্যাংড়াবান্ধা। বুড়িমারী স্থলবন্দরের অবকাঠামো যতটা উন্নত, চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দরের অবকাঠামো ঠিক ততটাই অনুন্নত। বুড়িমারীতে কাস্টমস এবং ইমিগ্রেশনের জন্য রয়েছে পাকা দালান, তেমনি চ্যাংড়াবান্ধাতে আছে টিন এবং ছনের ঘর। ভেবেছিলাম ব্যাগগুলো খুলে ভালোভাবে পরীক্ষা করবে। কিসের কি, “দাদা, বাংলা ১০০ টাকা দিয়ে ব্যাগ নিয়ে ভিতরে চলে যান” বলে ছেড়ে দিল। আরও একবার অনুধাবন করলাম, টাকার চাইতে বড় ক্ষমতাবান এই পৃথিবীতে কেউ নেই। এমন সময় দেখি মহাত্মা গান্ধী আমার দিকে তাকিয়ে হাসছেন। মনে মনেই বললাম, “আপনি ভারতকে হয়ত রাজনৈতিক মুক্তি দিতে পারেন, কিন্তু দুর্নীতি থেকে মুক্তি দিতে পারেন নি।“ অবশ্য গান্ধীজীকে এসব বলেই কি বা হবে। আমার নিজের দেশই দুর্নীতিতে কম কিসে? কাস্টমস ভবনে বঙ্গবন্ধুর একটা ছবি খুব সুন্দর করে ফ্রেমে বাঁধানো আছে। তার নিচে বসেই কর্মীরা ঘুষ নিচ্ছেন। এখানে গান্ধীজীর ছবিটার কোন যত্ন নেই। রাখতে হয় বলেই মনে হয় রাখা।

ইমিগ্রেশনের ঝামেলা শেষ করতে করতে অনেক সময় লেগে গেল। বাংলাদেশ অংশে এতটা সময় লাগে নি। এরপর ডলার ভাঙিয়ে রুপি নেওয়া। মাত্র ১৫০ ডলার নিয়ে রওনা দিয়েছি। আমাদের প্ল্যানিং অনুযায়ী এতেই ভ্রমণ সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার কথা। ওদিক থেকে বাসের সুপারভাইজার তাড়া দিচ্ছিলেন। এই মাঝ নভেম্বরেও ৩৫ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় যেভাবে ধরণী ফুটছে তাতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের আরামদায়ক আসন ভীষণভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছিল। এখানে একটা বিষয় জানিয়ে রাখি। ঢাকা-শিলিগুড়ি পথে যেই বাস চলে সেটি কিন্তু একক বাস নয়। বাংলাদেশের শ্যামলী পরিবহণ ভারতের কোন একটা পরিবহণ কোম্পানির সাথে মিলিতভাবে বাস পরিচালনা করে। ঢাকা থেকে শ্যামলীর বাস এসে বুড়িমারীতে থামে। সীমান্ত পার হওয়ার পর ভারতীয় কোম্পানির বাস শিলিগুড়ি পর্যন্ত নিয়ে যায়। বাসে উঠার আগে একটু হেঁটে আসলাম সামনে থেকে। কাঁটাতারের বেড়ার যেই অংশ দিয়ে গাড়ি ভারতের ভিতরে ঢুঁকে সেখানে বিশাল এক তোড়ন দাঁড়িয়ে আছে (লেখার শুরুতে ছবিটা দেওয়া আছে)। তোড়নে বড় করে লেখা, “Department of Tourism, Government of West Bengal Welcomes You to West Bengal, The sweetest part of India.” মমতা ব্যানার্জীর সরকার নাকি পর্যটনে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তারই অংশ হিসাবে পশ্চিমবঙ্গের সবগুলো প্রবেশপথেই এরকম একটা করে তোড়ন নাকি স্থাপন করা হয়েছে। অবশ্য নিন্দুকেরা বলে এগুলো সস্তা রাজনৈতিক প্রচারণা ছাড়া আর কিছুই নই। তোড়নটা দেখে মনে হল বাংলাদেশ অংশেও এমন একটা তোড়ন কিন্তু করাই যায় যেখানে লেখা থাকবে, “Welcome to Beautiful Bangladesh, The Land of Happiness.” পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তিগণ ব্যাপারটা কোনদিন হয়ত ভেবে দেখবেন এই আশা নিয়েই শিলিগুড়ির বাসে উঠলাম।

গন্তব্যঃ শিলিগুড়ি হয়ে দার্জিলিং।
সময়ঃ দুপুর ১ টা।
তারিখঃ ১৩ নভেম্বর ২০১৬, শুক্রবার।

ফাহমিদুল হান্নান রূপক


মন্তব্য

অতিথি লেখক এর ছবি

বছরের শেষ দিকে যাবার ইচ্ছা আছে। কাজেই পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম।


☼ মানুষিক সৈনিক ☼

অতিথি লেখক এর ছবি

প্রথম পাতা থেকে এই লেখা চলে গেলেই দ্বিতীয় পর্ব দিব। হাসি

ফাহমিদুল হান্নান রূপক

সোহেল ইমাম এর ছবি

পরের পর্ব গুলোর জন্য অপেক্ষা করছি রূপকভাই দেরী করবেননা। হাসি পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম

---------------------------------------------------
মিথ্যা ধুয়ে যাক মুখে, গান হোক বৃষ্টি হোক খুব।

অতিথি লেখক এর ছবি

দ্বিতীয় পর্ব লিখে রেখেছি। এই পোস্ট দ্বিতীয় পাতায় গেলেই দিয়ে দিব।

ফাহমিদুল হান্নান রূপক

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

ইটা রাইখ্যা গেলাম...

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

অতিথি লেখক এর ছবি

যাক, আপনার পপকর্ণের ডিব্বা তাইলে খালি হইসে।

ফাহমিদুল হান্নান রূপক

দিগন্ত এর ছবি

তোড়ন - তোরণ মনে হয়। লেখা ভাল হচ্ছে। চালিয়ে যান।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

অতিথি লেখক এর ছবি

ধন্যবাদ। আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- হাসি

ফাহমিদুল হান্নান রূপক

অতিথি লেখক এর ছবি

যাওয়ার ইচ্ছাটা বেড়ে গেল। সুন্দর বর্ণনা দিয়েছেন।

### মেহেদী এইচ. রবিন

অতিথি লেখক এর ছবি

ঘুরে আসুন। গ্যারান্টি দিচ্ছি, আফসোস হবে না।

ফাহমিদুল হান্নান রূপক

জীবনযুদ্ধ এর ছবি

পড়া শুরু করলাম

অতিথি লেখক এর ছবি

হাসি

ফাহমিদুল হান্নান রূপক

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।