মুসলিম হিসাবে আমার আরব প্রীতি

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: রবি, ০২/০৪/২০১৭ - ১১:১৩অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

এয়ারপোর্টে ঢোকার মুখে কিছু বুঝে উঠার আগেই হ্যান্ড ব্যাগ আর লাগেজ স্ক্যানার এর ভিতর দিয়ে দিতে হলো। পাসপোর্টটা হাতে ছিল। ব্যাগ কালেক্ট করার আগেই বেশ রুক্ষ স্বরে বলা হলো বডি স্ক্যানার এর ভিতর দিয়ে যেতে। স্ক্যানিং গেইট টা পার হতে না হতেই বোর্ডিং পাস দেখাতে বলল। বললাম বোর্ডিং পাস মোবাইলে আর সেটা ব্যাগের ভিতর। বাকী সব যাত্রীদেরও(সাদা) একই অবস্হা। গার্ডটা আমার হাতের পাসপোর্ট নিয়ে নিল। অবাক হয়ে দেখলাম আমার পাশেই আমেরিকান সাদা যাত্রীর পাসপোর্ট কেড়ে নেয়া হয়নি যদিও সেও বোর্ডিং পাস দেখাতে পারেনি!
সব চেকআপ শেষে প্লেনে বোর্ডিং এর জাস্ট আগ দিয়ে আবার তৃতীয়বারের মতো পাসপোর্ট চেক এবং বডি স্ক্যানিং করা হলো। হ্যান্ড ব্যাগ আর পাসপোর্ট কালেক্ট করে জাস্ট পা বাড়িয়েছি হঠাৎ করে থামিয়ে পাসপোর্ট টা তৃতীয়বারের মতো নিয়ে নিল। লোকটা যে পাসপোর্টটা কোথায় নিয়ে গেলো, বা কি করতে হবে কোনো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। খানিক্ষনপর পাসপোর্ট হাতে পেলাম। প্লেনে বোর্ডিং এর জন্য বলা হলো। কিন্তু আমি জায়গা থেকে নড়লাম না। গার্ডটাকে থামালাম-
: আমার পাসপোর্ট কেন নিলা ?
এতো অবাক হলো গার্ডটা! এশিয়ান মহিলার কাছ থেকে এমনটা বোধহয় আরবদের কাছে অপ্রত্যাশিত!
: তুমি যেতে পার, তোমার পাসপোর্ট তো ফেরত দিয়েছি।
: আর কারোরটা নিলা না, আমার টা কেন নিলা?
ততোক্ষনে সিকিউরিটির লোকজন জড়ো হয়ে গেছে।
আমার হাজবেন্ড খুব শান্ত ভাবে জিজ্ঞেষ করল-
: তোমরা কি আমাদের স্কিন কালারের জন্য এমন টা করছ?
গার্ডটা উত্তর না দিয়ে খুব কড়া স্বরে বলল-
: এখান থেকে নড়বা না, অপেক্ষা কর।
আমি তখন মোটামুটি নিশ্চিত যে আমাকে বোধহয় ডিটেইন করা হচ্ছে!
সিকিউরিটির লোক আসলো-
:হাউ ক্যান আই হেল্প ইউ ম্যাম? বেশ ভদ্রভাবেই জিজ্ঞেস করল।
: আমি জানতে চাচ্ছিলাম কেন আমার পাসপোর্ট বারবার নিয়ে যাচ্ছ?
: এটা রেন্ডম চেক ম্যাম।
:আমার আগে পরে মিনিমাম ১০/১২ জন সাদা স্কিন কালারের প্যাসেন্জার এই গেইট দিয়ে পাস করল। তোমরা শুধু আমার পাসপোর্ট নিয়ে নিস।
:ম্যাম তুমি ব্রিটিশ সিটিজেন। তোমার কান্ট্রিতো সিকিউরিটির ব্যাপারে বেশী সচেতন।
আমি হেসে বললাম-
: স্যরি আইম নট কনভিন্সড। তোমরা কিন্তু রেনডম চেক টা সাদাদের বেলায় করছ না। আর সন্দেহ হলে আমাকে চেক কর। আমার পাসপোর্ট বারবার নিচ্ছ কেন। নাকি বাদামী চামড়া আর পশ্চিমা পাসপোর্ট একসাথে যায় না?
:ম্যাম ইজিপ্ট কিন্তু রেইসিস্ট কান্ট্রি না। হোপ ইউ এন্জয়েড স্টেইং ইন আওয়ার কান্ট্রি।
মনে মনে বললাম তা আর বলতে! হোটেলেও দেখেছি লাইনে পেছনে দাঁড়ানো সাদা চামড়ার বোর্ডারকে আমাদের আগে সার্ভ করতে!!!

*** আমার অল্প বিস্তর বিভিন্ন দেশে ঘুরাঘুরি করার অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছি যদিও আমরা অনেকেই একই ধর্মের জন্য আরবদের বেশ কাছের মনে করি, আমাদের গায়ের বাদামী রঙের কারণে আমরা কিন্তু তাদের কাছে ঠিক ততটাই দূরের !!!!!

প্রীতিলতা


মন্তব্য

মেঘলা মানুষ এর ছবি

এগুলো, ব‌হু আগেই ডালভাত হয়ে গিয়েছে। চামরার রং কিংবা দাড়ির ভিত্তিতে প্রোফাইলিং করা খুব সাধারণ ঘটনা। আপনি ব্রিটিশ সিটিজেন না হয়ে একজন সাধারণ বাংলাদেশি যুবক হয়ে এই প্রশ্ন‌গুলো করলে সেটার পরিণতি ব‌হু খারাপ হত।

দুর্ভাগ্য হল এটা থেকে আমরাও মুক্ত না। ধরি, গুলশানের কোন দোকানে সাদা চামরার একজন এবং আফ্রিককান কালো চামরার একজন গিয়েছেন। দোকানের মনোযোগ (এবং সেরা সেবা) ঐ সাদা লোকের দিকেই ধাবিত হবে।

শুভেচ্ছা হাসি

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

যে ধরনের আশংকা থেকে আজকাল এরকম কড়া নজরদারি/তল্লাশি ইত্যাদি হচ্ছে, তাতে সাদা চামড়ার ইউরোপীয়দের চেয়ে বাদামি/তামাটে গাত্রবর্ণের এসিয়ান/আফ্রিকানরা বেশী মাত্রায় সন্দেহের তালিকায় থাকবেন, এটাই স্বাভাবিক।

অতিথি লেখক এর ছবি

পোস্ট ভালো লেগেছে, তবে পোস্টের শিরোনামের সাথে পোস্টের কনটেন্টের বিশেষ মিল খুঁজে পেলাম না।

ধর্মীয় মিলের কারণে মুসলিম হিসেবে অন্য দেশের মানুষকে আপন মনে করা বাংলাদেশীর সংখ্যা প্রচুর। অথচ শুধু আরব নয়, অল্প ব্যতিক্রম ছাড়া কাছের দেশ ভারত, পাকিস্তানের মুসলিমরাও শুধুমাত্র ধর্মীয় কারণে বাংলাদেশী মুসলিমদেরকে বিশেষ আপন মনে করে না। বাংলাদেশীরা এই পয়েন্টে দেশের বাইরে প্রচুর মার (মারা) খায়, তবু তাদের এই ভিত্তিহীন গদগদভাব যায় না।

আমি কোন দিন কোন আরব দেশে যাইনি। আমি যা আরব দেখেছি বা মিশেছি তা হয় বাংলাদেশে অথবা তৃতীয় কোন দেশে। দুর্ভাগ্যবশত বাংলাদেশীদেরকে মানুষ হিসেবে গণ্য করে এমন কোন মহান আরব ব্যক্তির সাক্ষাত লাভের সুযোগ আজ পর্যন্ত আমার হয়নি।

অনেকের ধারণা আরব দেশগুলোতে যেহেতু আমাদের কয়েক মিলিয়ন লোক কাজ করে তাই আমাদের উচিত তাদেরকে 'হুজুর, হুজুর' করে চলা। পাশের দেশ ভারতের দিকে তাকালে বোঝা যাবে তাদের দেশ থেকে কোটি হিসেবে লোক আরব দেশগুলোতে কাজ করলেও তারা আরবদেরকে 'হুজুর, হুজুর' করে না। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বা 'ধর্মনিরপেক্ষ ইসলামী' দেশ না হয়েও ভারত আরব দেশগুলোর কাছ থেকে বাংলাদেশের চেয়ে ঢেড় বেশি সুবিধা পায়।

মেরুদণ্ড কী দিয়ে বানানো সেটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।

প্রীতিলতা এর ছবি

ইংরেজীতে 'সার্কাজম' বলে একটা শব্দ আছে। লেখার শিরোনামটিও তাই। আপনার লেখাটি বেশ বিশ্লষণ ধর্মী এবং প্রাসঙ্গিক।
ধন্যবাদ।

অতিথি লেখক এর ছবি

সহমত, ২০১৪ তে বাংলাদেশ পৃথিবীর সব দেশ মিলিয়ে মোট রেমিট্যান্স পেয়েছিল ১.৫ বিলিয়ন ইউ.এস. ডলার, আর ভারত শুধুমাত্র আরব আমিরাত থেকেই সমপরিমাণ রেমিট্যান্স অর্জন করে।

মন মাঝি এর ছবি

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বা 'ধর্মনিরপেক্ষ ইসলামী' দেশ না হয়েও ভারত আরব দেশগুলোর কাছ থেকে বাংলাদেশের চেয়ে ঢেড় বেশি সুবিধা পায়।

তার অন্যতম প্রধান কারন মনে হয় ভারত আমাদের থেকে অনেক বেশি সংখ্যায় এপ্রোপ্রিয়েটলি কোয়ালিফাইড, কম্পিটেন্ট প্রোফেশনাল জেনারেট করে। বিজনেস জেনারেট করে। আমরা তার ত্রিসীমানাতেও নাই। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ / কোম্পানিগুলি কি তাহলে শুধু আমাদের খুশি করার জন্য যোগ্যদের ফেলে অযোগ্যদের / কম যোগ্যদের হায়ার করবে? এই পর্যায়ে ও স্কেলে বিশ্বব্রম্মাণ্ডের কেউ কি তা করে, নাকি করাটা স্বাভাবিক? নাকি এমনটা ভাবা বা আশা করাটাই অস্বাভাবিক? আপনি কি আপনার কোম্পানিতে একটা অতি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল পদে আপনার অশিক্ষিত বা অযোগ্য আপন ভাইকেও হায়ার করবেন একজন কম্পিটেন্ট প্রোফেশনালকে ফেলে? ওয়েল, এটা আপনার চয়েস, কিন্তু বাস্তব দুনিয়াতে কেউ আপনার নিজের পায়ে নিজেই কুড়োল মারার উদাহরণ অনুসরন না করে বুদ্ধিমত্তা আর বাস্তববাদিতার পরিচয় দিলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করাটা সম্পূর্ণরূপে আপনারই ভ্রান্তি - কোনোভাবেই তার দোষ নয়। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের উন্নয়ন, স্বার্থের হিসাব-নিকাশ বা ব্যবসা-বানিজ্যের ক্ষেত্র হলে তো কথাই নাই! এটাই স্বাভাবিক ও সঠিক, অন্যকিছু ভাবা আত্নপ্রবঞ্চনা ছাড়া আর কিছুই না - যার দায়দায়িত্ব এমনটা যে বা যারা ভাবে কেবলমাত্র তার বা তাদেরই, দুনিয়াতে অন্য কারোরই না।

সহমত, ২০১৪ তে বাংলাদেশ পৃথিবীর সব দেশ মিলিয়ে মোট রেমিট্যান্স পেয়েছিল ১.৫ বিলিয়ন ইউ.এস. ডলার, আর ভারত শুধুমাত্র আরব আমিরাত থেকেই সমপরিমাণ রেমিট্যান্স অর্জন করে।

গুড ফর ভারত। তারা সেটা নিজেদের যোগ্যতাতেই পেয়েছে। আপনার সরকার ও স্বদেশীরা নানাদিক থেকে ওরকম যোগ্যতা অর্জন করুক, তাহলে আজ বা কাল তারাও কামাবে। তার আগে পর্যন্ত আঙুর ফলকে টক বলে গালি দিলে, আঙুরের কিছুই হবে না বা আপনার মুখেও আসবে না - উলটে নিজের শুন্য মুখটাই টক হবে শুধু! হাসি

ধলা-কালা / উঁচু-নীচু জাতবিভেদ, ইত্যাদি রেইসিজম কমবেশী দুনিয়ার সর্বত্রই আছে। চীনা-ভারতীয়-ইস্ট এশিয়ানরা এ সমস্ত কিছু মোকাবেলা করেই কিন্তু পৃথিবীর সর্বত্রই অন্য কমিউনিটি বা ন্যাশনালিটিগুলির চেয়ে বেশি সফল, শুধু মধ্যপ্রাচ্যে না। আমরাই (?) মনে হয় নিজেদের দিকে তাকাতে ভুলে গিয়ে এবং সেই অনুযায়ী নিজেদের বদলানোর চেষ্টা না করে, নিজেদের ব্যর্থতার জন্য সারাক্ষণ অন্যদের দোষারোপ করি, আক্ষেপ করি, আঙুর ফল-গাছ-আর খাদক - এই তিন পার্টিরই টকত্ব নিয়ে গবেষনা করি নিরন্তর!

****************************************

অতিথি লেখক এর ছবি

দক্ষ লোকবলের ব্যপারটাতো আছেই, তাছাড়া ভারতের পররাষ্ট্রনীতির দিকে খেয়াল করে দেখুন, তারা কিন্তু খুবই চৌকস, ভারতের সাথে মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশের খুবই ভাল সম্পর্ক, এমনকি ইরানের সাথও তাদের সম্পর্ক ভাল, আবার আমেরিকার সাথেও ভাল, অন্যদিকে ইসরায়েলের সাথেও। আর ভারতীয়রা প্রবাসে গিয়ে অপরাধে জড়ায় না, কারো সাতে পাচে থাকে না, অপরদিকে বাংলাদেশী এবং পাকিস্তানীদের রেকর্ড খুব সুবিধার না, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে। সৌদিরা বাংলাদেশী বা পাকিস্তানীদের সারাক্ষণ "মিসকিন" বলে গালি গালাজ করলেও ভারতীয়দের বেশ সমীহ করেই চলে, যদিও আরবীয়রা গায়ের রং বা চেহারা দেখে বাংলাদেশী এবং ভারতীয়দের মধ্যে চট করে তফাত করতে পারে না। জনশক্তি রপ্তানীর ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য এসবেরও দরকার আছে।

অতিথি লেখক এর ছবি

প্রিয় মন মাঝি, কোয়ালিফিকেশন, কম্পিটেন্স, প্রফেশনালিজম সম্পর্কে আপনি যা বলেছেন সেটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। ঐসব প্রশ্নে একজন ভারতীয় যদি একজন বাংলাদেশীর চেয়ে বেশি সুবিধা পায় তাহলে আপত্তি করাটা অনুচিত। কষ্টের ব্যাপারটা হচ্ছে, সমযোগ্যতাসম্পন্ন একজন ভারতীয় আরব দেশে কাজ করতে গিয়ে একজন বাংলাদেশীর চেয়ে বেশি সুবিধা পায় — সেটা বেতনের অঙ্কে বলুন, ইক্বামা’র প্রশ্নে/শর্তে বলুন, দেয় সুবিধাদিতে বলুন। এর জন্য আমি আরবদের দোষারোপ করি না, দোষটা পুরোপুরি আমাদের নতজানু নীতির। মেরুদণ্ডের কথাটা এ’কারণে বলেছিলাম। কিন্তু দেশের ভেতরেও কেউ যদি মেরুদণ্ড শক্ত করার কথা বলে তাহলে “ওরা ইসলামী দেশ, আমরা ইসলামী দেশ না এই জন্য ওরা আমাদেরকে ভালো বেতন/সুবিধা দেয় না” – জাতীয় কথা শোনানো হয়। ভারতের প্রসঙ্গটা সে কারণে তুলেছিলাম।

হয়তো প্রাসঙ্গিক নয় তবু একটা কথা মনে পড়লো। মুক্তিযুদ্ধের সময় আরব দেশগুলো পাকিস্তানের পক্ষ অবলম্বন করেছিল। পাকিস্তানীদের দ্বারা সংগঠিত গণহত্যা, ধর্ষণ ইত্যাদি জঘন্য অপরাধের কথা সারা দুনিয়ার মানুষ যখন জেনেছে আরবরা তখনো পাকিস্তানীদের পক্ষেই ছিল এবং বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি। ছয় কোটি মুসলিমের দেশ বাংলাদেশের মুসলিমদেরকে হজ্ব করার জন্য ভারতীয় হিসেবে অনুমতির জন্য আবেদন করতে হতো। সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে হত্যার পর কেবল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছিল। আমরা ইতিহাসবিস্মৃত মানুষ, তাই এসব ভুলে গিয়ে আরবদের দেখলে ভক্তিতে গদগদ হয়ে যাই।

নীড় সন্ধানী এর ছবি

লেখার বিষয়বস্তু এই সময়ের অপ্রিয় বাস্তবতার চিত্র। চামড়ার রং, পাসপোর্টের রং, ইত্যাদি নিয়ে আমাদের আন্তর্জাতিক বিড়ম্বনা এখন গা সওয়া হয়ে গেছে। মোটামুটি এটাই আমাদের পাওনা এখন।

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

অতিথি লেখক এর ছবি

মধ্যপ্রাচ্যের বেশ অনেক কয়টা দেশেই যাওয়া হয়েছে, তার মধ্যে মিশর, জর্ডান, লেবানন এবং প্যালেস্টাইনের মানুষদেরকে সবচেয়ে উদারমনা, আধুনিক, শিক্ষিত এবং মিশুক বলে মনে হয়েছে। মিশরে শিক্ষিত মানুষের হার সম্ভবত মধ্যপ্রাচ্যের ভিতরে সবচেয়ে বেশী। আর আশ্চর্য হলেও সত্য প্যালেস্টাইনের নতুন প্রজন্মের অধিকাংশই কট্টর নাস্তিক এবং ধর্মবিদ্বেষী (মানে পরিচিত ফিলিস্তিনিদের কাছে পাওয়া মতামত অনুযায়ী)। আর সবচেয়ে জঘন্য হলো সৌদিরা, আমি যতজন কে দেখেছি এখন পর্যন্ত কোন স্বভাবিক সৌদিকে পাই নাই যার সাথে ১৫-২০ মিনিটের বেশী কথাবার্তা চালানো যায়। সাদাদের মধ্যে সন্ত্রাসী কার্য-কলাপে জড়িয়ে থাকার সম্ভাবনা কম, তাই এয়ারপোর্টের মত যায়গায় তাদের পেছনে বেশী সময় নষ্ট করা হয় না, যা বাদামীদের পেছনে ব্যায় করা হয়, আমার মতে রেসিজমের সাথে এর খুব সম্পর্ক নেই, আপনি খেয়াল করলে দেখবেন এয়ারপোর্টে কৃষ্ণাঙ্গরাও কিন্তু বাদামীদের তুলনায় কম ভোগান্তির স্বীকার হয়।

মন মাঝি এর ছবি

চলুক

****************************************

মন মাঝি এর ছবি

এই লেখা এবং কিছু মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিষয়ে আমার কয়েকটা অব্জার্ভেশন আছেঃ

১। পোস্টলেখক মনে হয় ওভারজেনারালাইজ করে ফেলেছেন। হাতে গোনা দুয়েকটা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বা ঘটনার উপর (তাও আবার সম্ভাব্য ভুল ইন্টারপ্রিটেশনের উপর) ভিত্তি করে করে ২৩-২৪টা দেশের কোটি কোটি মানুষের একটা বিশাল ও ডাইভার্স এথনোলিঙ্গুইস্টিক গোষ্ঠী সম্পর্কে এমন ব্ল্যাঙ্কেট স্টেটমেন্ট দেয়াটাই বরং আমার কাছে একধরণের অলস রেইসিজম মনে হয়। কিম্বা সেইসাথে হয়তো ভিক্টিম-কমপ্লেক্স বা তজ্জনিত প্যারানোইয়া?

২। পৃথিবীতে কোটি-কোটি আরবিভাষী মানুষ আছেন, আরব দেশও আছে মনে হয় অন্তত ২৩-২৪টা। একেকটা দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, ইতিহাস ইত্যাদি একেকরকম। অন্য ক্ষেত্রগুলিতেও সবাই যে পুরো একরকম হবেন না, এটা কমনসেন্সই বলে! অথচ বিভিন্ন দিক থেকে নানারকম পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও (কিম্বা না থাকলেও) পৃথিবীর বড় একটা অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে থাকা এইরকম একটা বিশাল এথনোলিঙ্গুইস্টিক জাতি সম্পর্কে কোনো সিরিয়াস ব্ল্যাঙ্কেট বক্তব্য বা ইঙ্গিত দিতে হলে নিদেনপক্ষে তাদের উপর একটা সামগ্রিকভাবে জরিপ ও সমীক্ষা চালিয়ে উপযুক্ত তথ্য-উপাত্ত-প্রমাণের ভিত্তিতেই দেয়া উচিত বলে মনে করি। কিম্বা তারপরেও হয়তো নয় (আমার রুচিতে অন্তত তারপরেও যে কারো সম্পর্কেই এটা বাঁধবে)। শোনা কথা বা ১ / ২টা নিতান্ত ব্যক্তিগত অসুখকর এনকাউন্টারের ভিত্তিতে তো নয়ই (যার আবার ভিন্নতর নানারকম ইন্টারপ্রিটেশন ও কঙ্কলুশন হতে পারে)। এমন করাটা শুধু অব্জেক্টিভলি আনটেনেবল হিসেবেই নয় - একধরণের দায়িত্বহীণ রেইসিজম হিসেবেও প্রতিভাত হওয়ার সমূহ সম্ভাবণা আছে। অসুখকর বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে গোষ্ঠীগত প্রসঙ্গে কোন অব্জার্ভেশন নিতান্তই দিতে হলে তাই 'কিছু', 'কোন কোন', 'কেউ কেউ' - এই জাতীয় শব্দাবলী বা ভিন্ন শব্দচয়ন ও ভাষাভঙ্গি দিয়ে নিজের বক্তব্য / ইঙ্গিতকে কোয়ালিফাই ও সীমিত করে নেয়াটাই আধুনিক সমাজ ও সভ্যতায় শিক্ষিত, রুচিসম্মত, যুক্তিশীল ও অ-রিগ্রেসিভ মানবিক নর্ম বলে মনে করা হয় বলে যদ্দুর জানি। অন্তত আমি এমনটাই বিশ্বাস করি। এবং সেটিও কিন্তু 'জাতিগত' (রেশিয়াল / এথনিক) পরিচয়ের ভিত্তিতে নয় একেবারেই। 'আরব' কিন্তু সেরকমই একটা পরিচয়।

৩। আপনার ক্ষেত্রে যা হয়েছে তা সাদা-কালো-বাদামী-হলুদ পৃথিবীর যে কারও সাথেই যে কোনো জায়গায় বা দেশেই কম বা বেশি হতেই পারে, হয়েছেও। ভাবু্ন তো, সেইসব বিভিন্ন জাতির লোকেদের মধ্যে একজন করে হলেও আপনার মত ব্ল্যাঙ্কেট বক্তব্য দেয় জাতিগত নাম উল্লেখ করে, তাহলে মানবজাতির মধ্যে রেইসিস্ট না এমন কোন জাতিটা বাকি থাকে? সেক্ষেত্রে আপনার এই লেখাটার অর্থ কি থাকলো?

৪। আপনি সাদাদের না করে আপনার পাসপোর্ট একাধিকবার চেক ও বডি স্ক্যান করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দুয়েকজন ইজিপশিয়ান এয়ারপোর্ট স্টাফদের, এবং সেই সূত্রে শুধু সমগ্র মিশরীয়ই না বরং সমগ্র আরব জাতিকেই রেইসিস্ট হিসেবে উপস্থাপন করলেন এই লেখায় – ঐ একটিমাত্র ঘটনাটার পিছনে অন্যকোন খুবই সম্ভাব্য ও বাস্তব কারন বিবেচনায় না এনেই। এমন একটি কারন উপরে আব্দুল্লাহ এ.এম ভাই উল্লেখ করেছেন, যা আমার কাছে অনেক বেশি প্লজিবল মনে হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসী কীর্তিকলাপে সাদারা নয়, বাদামী / তামাটে / কালো আর মুসলিম দেশ-উদ্ভুত লোকেরাই অনেক বেশি জড়িত। এমনকি তারা বর্তমানে কোন ইউরোপীয় দেশের নাগরিক হলেও। আর এসব ক্ষেত্রে এখন আর বয়স বা লিঙ্গ ভেদাভেদও অবশিষ্ট নেই। নারী-শিশু-বৃদ্ধ সবাইই এসবে জড়িত হয়ে পড়ছে। ফলে তারাই যে সন্দেহ বা রিস্ক পার্সেপশনের তালিকায় সর্বাগ্রে থাকবেন, সেটাই তো স্বাভাবিক! ইউরোপ-আমেরিকা্র এয়ারপোর্টে একই কারনে কি এর চেয়েও বহুগুণ বেশি অমূলক অথচ অবমাননাকর চেকিং হয় না কখনো? আর দোকান বা রেস্তোরাঁয় সাদাদের বেশি খাতির করা?? হা হা হা! নিজের দেশেই এটা অহরহ দেখছি এবং স্বদেশীদের হাতেই নিজেই বিত্ত, বর্ণ, পোশাক, ক্ষমতা, নৈতিক মানদণ্ডসহ নানা ভিত্তিতে হরেক পদের বৈষম্যের শিকার হচ্ছি প্রতি-মুহূর্তে! অন্যের দোষ দিব কোন মুখে? এইসব বৈষম্য এশিয়া/আফ্রিকার প্রায় সবদেশেই বোধহয় কমবেশি আছে।

৫। সবশেষে মিশর প্রসঙ্গে আমার নিজের প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতার কথাই বলি। আপনি শুধু এয়ারপোর্টের ছোট্ট একট্টি ঘটনা আর হোটেলে সাদাদের আগে সার্ভ করার একটি দৃশ্যের কথা বলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার পুরো আরবজাতি সম্পর্কে নেতিবাচক জেনারালাইজেশন করে ব্ল্যাঙ্কেট সিদ্ধান্ত টানলেন – তাদের মধ্যে দেশে-দেশে বিস্তর ফারাক সত্ত্বেও। এই পার্থক্য প্রসঙ্গে উপরে আরেকজন অতিথি-লেখক সঠিকভাবেই আলোকপাত করেছেন (৪:৫৭ পূর্বাহ্ন-তে)। আমি তাই সেটা রিপিট না করে মিশরেই সীমাবদ্ধ থাকি – এবং আমি ইতি বা নেতি-বাচক কোন কঙ্কলুশনই ড্র করবো না এর থেকে। তিনমাস ছিলাম ইজিপ্টে। এই তিন মাস দেশটার এমাথা থেকে ওমাথা চরকি মেরে ঘুরে বেড়িয়েছি। উত্তরে ভূমধ্যসাগর থেকে দক্ষিনে প্রায় সুদান বর্ডার, পূবে সিনাই ও রেড-সী থেকে পশ্চিমে সাহারা মরুভূমির গহীণে। বড় শহরগুলির বেশির ভাগেই বোধহয় গিয়েছি। এসব জায়াগায় আলাপ হয়েছে বহুধরণের লোকের সাথে - আমীর থেকে ফকির, তরুন থেকে বৃদ্ধ, ছাত্র-ব্যবসায়ী-সরকারী কর্মচারী, রাস্তার কফি-শীষা-বিড়ি-হালুয়া-আখের রস-ফুল তামাইয়া-সরমা-কাবাব-কোশারি-টাগ্‌নওয়ালা বা হোটেলমোটেলওয়ালা বা টুরিস্ট সাইটের গাইড ও পাহারাদার বা উটের পিঠে রাইড দেয়া বা সাহারাতে ডেজার্ট সাফারিতে নিয়ে যাওয়া আসল ও ফেইক বেদুঈন বা গাড়ি-বাসের ড্রাইভার থেকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা / ব্যবসায়ী, দরিদ্র গ্রাম্য হাটুরে মানুষ, চাষী, নীলনদের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রান্তিক মাঝি বা কালো আফ্রিকানদের মত দক্ষিন মিশরের কৃষ্ণকায় নুবিয়ান মুসলিম থেকে শুরু করে বড় শহরের শিক্ষিত আরবানাইট – কমবেশী অনেক ধরণের লোকের সাথেই আলাপ হয়েছে। আর দেশটায় এন্ট্রি ও এক্সিট, বলাই বাহুল্য, এয়ারপোর্ট দিয়েই। এত কিছুর পরেও, একটিবারের জন্যেও – আবারও বলছি – একটিমাত্র বারের জন্যেও অনারব বাদামী বাংলাদেশী বা বাংলাদেশী মুসলিম বলে কোত্থাও কোনো রেইসিস্ট আচরণ / ডিস্ক্রিমিনেশন, দুর্ব্যবহার, অবজ্ঞা বা উপেক্ষা পাইনি। উলটে বরং ঠিক সেকারনেই সমাদর পেয়েছি অনেক জায়গায়! দক্ষিনের লুক্সোর শহরের যে হোটেলে ছিলাম তার হোটেল-মালিক বাংলাদেশ নামক একটা অজ্ঞাত দেশের অনারব মুসলিম শুনে চলে যাওয়ার আগের দিন তার সাদা ক্লায়েন্টদের বাদ্দিয়ে আনন্দ-বিগলিতচিত্তে আমাদের রুফটপ ডিনারে আপ্যায়িত করেছেন। আধা ঘন্টা ধরে তার সবচেয়ে প্রিয় ফ্লেভারের মশলা দিয়ে নিজের হাতে সাজিয়ে আমাকে মিশরীয় “শীষা” খাওয়া শেখানোর সাধ্যসাধনা করে গেছেন। কিম্বা লুক্সোর থেকে আরেকটু দক্ষিণে নীলনদের প্রত্যন্ত ব্যানানা আইল্যান্ডের গ্রামবাসীদের কথা মনে পড়ছে, যারা পুরো “দ্বীপ” বা চরটা সোল্লাসে ঘুরিয়ে দেখিয়েছিল এই অভিনব অনারব দক্ষিণ-এশীয় বাদামী ‘মুসলিম’গুলিকে। তারাও আনন্দ পেয়েছে, সেইসাথে তাদের আনন্দে আমিও। কিম্বা মনে পড়ছে সেই সত্তরের কাছাকাছি বয়সী ফ্যান্টাস্টিক-ফোর সিনেমার ‘থিং’ চরিত্রটির মত দেহধারী কিন্তু বরফের মতো শান্তশিষ্ট মিশরীয় ড্রাইভারটির কথা, যে আমাকে প্রত্যন্ত মরুভূমির মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় টেররিস্ট / ডাকাতদের হামলা সম্পর্কে ঠাট্টা করেই একটু আশঙ্কা প্রকাশ করায় বরফের মতই স্থির-ঠাণ্ডা কিন্তু হিমালয়ের মতই থমথমে ডেড-সিরিয়াস ভঙ্গিতে বলেছিল – আমার বুক ফুটো না করে ওদের গুলি তোমার কাছে কস্মিনকালেও পৌঁছুতে পারবে না! ওর বলার ভঙ্গিতে আমি বিশ্বাস করেছিলাম। মনে পড়ছে কায়রোর মধ্যিখানে নীলনদের উপর পিচ্চি লঞ্চে করে শহরের বাইরে নিকপিক করতে যাওয়ার সময় ডেকের উপর খোলা বাতাসে চাদর পেতে বসা মাটির মতো ঠান্ডা, হাসিখুশি, আনন্দমুখর মায়াবী মধ্য-নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলির কথা, কিম্বা সেই দেশহারা ফিলিস্তিনিটির কথা – যাদের সাথে গল্প করতে করতে ঘুরে বেড়িয়েছি। কিম্বা মনে পড়ছে সেই শিপিং টাইকুনের দাওয়াতে আপ্যায়িত হওয়ার কথা। কই, কোথাওই তো বিন্দুমাত্র কোন রেইসিজম, বৈষম্য, দুর্ব্যবহার, সন্দেহ, অবজ্ঞা বা উপেক্ষা পাইনি! (সাক্কারা পিরামিড আর আবু সিম্বেলে দুই ধান্ধাবাজের “ছিল” দেয়ার চেষ্টার পিছলে যাওয়া শিকার হওয়া ছাড়া  )।

যাইহোক, এসব থেকে আমি কোনো জেনারাইলেজেশন, ব্ল্যাঙ্কেট স্টেটমেন্ট বা ইতি-নেতি কোনরকম গোষ্ঠী/জাতিগত বা অন্য কোনরকম কংক্লুশনই ড্র করবো না, কারন এগুলি পুরোপুরিই আমার ব্যক্তিক অভিজ্ঞতা। অন্য কারো ক্ষেত্রে এমনটি বা এতটা না-ই ঘটতে পারে। আমি শুধু বলবো আমার জন্য মিশরে আমার অভিজ্ঞতা কেবলই অবিস্মরণীয় সুখস্মৃতি। অন্তত এই ১০ বছরেও ভুলিনি।

****************************************

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

সেটাই। আমার এক আত্মীয়া জীবনে প্রথমবারের মত দিনকয়েকের জন্য মিশর গিয়েছিলেন, ফিরে এসে বললেন- মিশরের লোকেরা হল চোর। ওদের মত মিথ্যাবাদী পৃথিবীতে আর কেউ নেই। কায়রোর বাজারগুলোর মত নোংরা ও ঘিঞ্জি বাজারও পৃথিবীর আর কোথাও নেই। আরও বিস্তারিত কথাবার্তায় জানলাম সেখানে তার কোন কিছু চুরি বা খোয়া যায় নি। লোকেরা সব মিথ্যাবাদী, এমন সিদ্ধান্ত দেয়ার মত যোগ্যতাও যে তার আছে সে কথা বলা যাবে না, কারন তিনি অতি সামান্য কোরানিক আরবি ছাড়া আর কিছুই জানান না। তবে যার কাছে(তিনি মিশরীয় নন) যে কারনে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তার বিশেষ স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল।

আয়নামতি এর ছবি

আম্রিকার ডোমেস্টিক ফ্লাইটগুলোতে সে পরিমাণ রেন্ডম চেক হয় ভক্তভোগী সুনীল পাঠক মনে মনে এসে দেখে যাও নিখিলেশ, আমার কেমন হ্যাপায় পড়া, আওড়াবেন। বলাই বাহুল্য, লাইনে অন্য বাদামী চর্মের কেউ না থাকায় লক্ষ্যবস্তুটি আমাকে হতে হয়েছে কয়েকবার। আরব দেশের অভিজ্ঞতা বলে তারা আম্রিকান পাসপোর্টধারী হওয়াটাকেও দোষের ভাবে।

মন মাঝি এর ছবি

আম্রিকানরা বিদেশ থেকে আগত হলে মন্ত্রী/মিনিস্টার/এমপি/সাংসদ, কনসুলেট অফিসার, ফিল্মস্টার / সেলিব্রিটি - কাউকেই ছাড়ে না শুনেছি, কোনো হাদুমপাদুমই পাত্তা দেয় না! এই নিয়ে বেশ কয়েকজন ভারতীয় রাজনীতিবিদ, কূটনীতিবিদ, সেলিব্রেটি ইত্যাদি সাম্প্রতিককালে ভারতীয় মিডিয়াতেই নিউজ হয়েছেন। কাউকে কাউকে প্রায় ন্যাংটো করে ছেড়েছে ব্যাটারা। শাহরুখ খানকে পর্যন্ত বেইজ্জতি করেছে তার "ইন্টারন্যাশনাল" ইমেজ বা সেলিব্রেটিত্বর থোড়াই তোয়াক্কা না করে । ভারতীয় এক মহিলা কূটনীতিবিদকে নাকি বিবস্ত্র করে নারী অফিসারদের দিয়ে চেক করিয়েছে। কয়েকজন এমপি বা মন্ত্রীকেও বোধহয় ন্যাংটো ধরেছিল। এসব নিয়ে দুদেশের মধ্যেই জল বেশ অনেকখানি ঘোলা হয়েছিল। যদ্দুর মনে পড়ে এসবের প্রতিক্রিয়াতে ভারতীয় সরকার দিল্লীতে মার্কিন দূতাবাসকে দেয়া তাঁদের এক্সট্রা সিকিউরিটি ব্যাবস্থাটা সাময়িক ভাবে প্রত্যাহার করেছিল। সেইসাথে স্থানীয় আইনের কথা বলে দূতাবাস কর্মীদের গে পার্টনারদের দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ নিয়েও কি যেন শুনেছিলাম। কিন্তু এসবে মনে হয় খুব একটা কাজ হয়নি। তো, একটা বৃহৎ দেশের সরকার ও সরকারি লোক এবং আন্তর্জাতিক তারকারাই যেখানে এত হেনস্থার পরেও নাস্তানাবুদ হয়ে যায়, তখন আমাদের মতো ম্যাংগো পিপলদের পাসপোর্ট সামান্য একবারের জায়গায় দু'বার চেক করা তো আমার মনে হয় রীতমতো আশীর্বাদের সমান - ভাগ্যিস এর চেয়ে বেশি কিছু করেনি ভেবে!!! দেঁতো হাসি

****************************************

মন মাঝি এর ছবি

আর জার্মানিতে চেকিং-এর নমুনা দেখেন এইখানেঃ http://www.bbc.com/news/world-asia-38767588 !!!!!!!

****************************************

আয়নামতি এর ছবি

কঠিন অবস্হা দেখি বাপ! দিন দিন এটা আরো বাড়বে মনে হচ্ছে মন খারাপ

ভারতীয় ঐসব লুকদের কিছু সমস্যা আছে মনে হয়। তারা এটা ভেবে বসে থাকেন, তারা সেলেব বা সেরকম পদে আসীন যেকারণে তাদের জ্বী হুজুর টাইপ ট্রিট পাওনা। দুনিয়ার সবাই তো আর শাহরুখ কিংবা শচীনকে চিনে বসে থাকে না। সমস্যাটা ওখানেই, কেন চিনবে না। চিনতে হবেই! আম্রা তো দিন আনি দিন খাই পাবলিক, সেরকম দাবী দাওয়ার বাইরেই থাকি তারপরও হ্যাপায় নাকাল হইলে, 'মনে বড় জ্বালা' ধরে ভাইটি।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA