স্বপ্নদ্বীপ পারহানতিয়ান

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: শুক্র, ২৩/১১/২০১৮ - ১:২১অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকেই মানুষ নৌ পথ ব্যাবহার করেছে যোগাযোগ আর বানিজ্যের উদ্দেশ্যে। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস কেটেছে সমুদ্রে। এসব সুদীর্ঘ নৌ পথে বিপদের আশংকাও কম ছিলনা।কখনও ঝড় আর জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে গেছে জাহাজ, কখনও জলদস্যুর হাতে গেছে প্রান, কখনও বা স্কার্ভির মত অনাবিষ্কৃত ব্যাধিতে ধুঁকে ধুঁকে মরেছে বনিক আর মাঝিমাল্লার দল। বিশ্রাম,জ্বালানি আর খাবার সংগ্রহের জন্য পথিমধ্যে অনেক পূর্বপরিচিত কিংবা সম্পূর্ণ নতুন দ্বীপে নাবিকেরা নোঙর করেছে যেগুলোর বেশিরভাগই আজ ভ্রমনপিপাসু মানুষের তীর্থস্থান। মালয়সিয়ার উত্তর পূর্ব কোনের কুয়ালা বেসুত শহর থেকে দক্ষিণ চীন সমুদ্রে স্পীড বোটে প্রায় ১ ঘন্টা গেলে এমনি একটি দ্বীপ পাওয়া যায়, যার নাম পারহান্তিয়ান দ্বীপ। স্থানীয় দের ভাষায় পুলাও পারহান্তিয়ান। ‘পুলাও’ শব্দের অর্থ দ্বীপ, আর ‘পারহান্তিয়ান’ অর্থ ‘থামার স্থান’ কিংবা ‘বিশ্রাম স্থান’। প্রাচীনকালে ব্যাংকক থেকে মালয়দেশে যারা নৌপথে বানিজ্য করতেন তাদের অন্যতম বিশ্রামস্থল ছিল পারহান্তিয়ান দীপ। এখানে মুলত দুইটি দ্বীপ আছে। পারহান্তিয়ান কেচিল অথবা ছোট দ্বীপ আর পারহান্তিয়ান বেসার অথবা বড় দ্বীপ। দুই দ্বীপেই মানববসতি আছে, আছে নয়নাভিরাম পাহাড়, আছে সুনীল সমুদ্র, আছে কাচের মত স্বচ্ছ জল আর আছে জলের নিচে রঙবেরঙের মাছ আর কোরালের বিচিত্র অচেনা জগত!

পারহান্তিয়ান আমি প্রথম যাই ২০১৩ এর মাঝামাঝি, সাথে ছিল আমার দুই বন্ধু।কুয়ালা বেসুত থেকে স্পিড বোটে রওনা হওয়ার পর প্রথম ত্রিশ মিনিট কোন স্থলভাগই চোখে পড়লনা।আর পাঁচটা সমুদ্রের মত দক্ষিণ চীন সাগরের বিস্তীর্ণ জলরাশির দিগন্তে বিলীন হয়ে যাওয়া মনের মাঝে অদ্ভুত এক শুন্যতার আলোড়ন তুলল।মাঝে মাঝে স্পিড বোটের হালকা ঝাকুনিতে, বাতাসে উড়ে আসা নোনাজল শরীর ছুয়ে গেল। কিছুক্ষণ পরেই বোট থেকে দ্বীপের প্রথম যে ছবিটা দেখলাম তা দম আটকে যাওয়ার মত সুন্দর। সবুজ পাহাড়ের গা ঘেঁসে কাঠের লাল রঙা একচালা-দোচালা বাংলো, ফাঁকে ফাঁকে নারকেল গাছের সারি আর তাদের পায়ে নৈবেদ্য সাজাচ্ছে কাঁচের মত স্বচ্ছজল আর শ্বেতশুভ্র সৈকত।এ যেন মানুষ কল্পনায় স্বর্গের যে ছবি আঁকে তারই এক বাস্তব রূপায়ন। প্রথম দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর যতটা কাছে মনে হয়, ততটা কাছে দ্বীপটা নয়, তাই আরও খানিকক্ষন এই দৃশ্য উপভোগের সুযোগ মিলল।কিছুক্ষনের মাঝেই বোট ভিড়ল কাঠের পাটাতনে যেটা লম্বা কাঠের সেতুর সাথে যুক্ত হয়ে চলে গেছে স্থলে। হোটেলে গিয়ে চেক ইন করতেই বেয়ারা থাকার স্থান দেখিয়ে দিল।এখানে সব হোটেলেই কক্ষ বলতে আলাদা আলাদা সুদৃশ্য কাঠের চ্যালেট যার বাইরে এবং ভিতরে সর্বত্রই মালয়শিয়ার ঐতিহ্য আর নকশার ছাপ পাওয়া যায়।হোটেলগুলোতে বিদ্যুৎ আছে বটে, কিন্তু পুরো পারহান্তিয়ান দ্বীপেই মোবাইল নেটওয়ার্ক খুব দুর্বল। পৃথিবীর কোলাহল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার এই তো সুযোগ!এখানে শুধু কোলাহল করে সমুদ্র, বৃষ্টি, ঝিরিঝিরি বাতাস আর নাম না জানা পাখিরা।


চিত্র ১ঃ দূরে দেখা যাচ্ছে পারহান্তিয়ান, স্পিডবোট থেকে তোলা ।

চিত্র ২ঃ কাঠের চ্যালেট।

চিত্র ৩ঃ পরিপাটি করে সাজানো কাঠের চ্যালেটের ভিতরের ছবি।

হোটেল থেকে বের হয়ে প্রথম যে জিনিসটা চোখে পড়ল তা হল বেশীরভাগ পর্যটক অস্ট্রেলিয়ান কিংবা ইউরোপিয়ান। আমার মত এশিয়ান পর্যটক হাতে গোনা।এশিয়া থেকে আগত পর্যটকদের অধিকাংশই টুইন টাওয়ার আর কুয়ালালাম্পুর দেখে ফিরে যান, বড়জোড় পেনাং কিংবা লাংকায়ি। পারহান্তিয়ান দেখতে হলে একটু বেপরোয়া হতে হবে বৈ কি! স্থানীয় মালয়রা ছাড়া মালয় শিয়ান পর্যটকও তেমন নেই। মক্কার মানুষ বোধহয় হজ্ব পায়না।কিচ্ছুক্ষনের মাঝেই অস্ট্রেলিয়ান কিংবা ইউরোপিয়ান পর্যটকের আধিক্যের কারন মিলল।এই দ্বীপে অবিশ্বাস্য কম দামে স্নোর কেলিং আর স্কুবা ডাইভিঙ্গের সুযোগ মেলে। স্নোর কেলিং এর জন্য কোন ট্রেনিং প্রয়োজন হয়না আর ৫-৬ ঘন্টা স্পীড বোটে ঘুরে ঘুরে স্নোরকেলিং করতে খরচ হয় জনপ্রতি ২৫ রিঙ্গিত (৬০০ টাকা) যা কিনা মাত্র ৫ ইউরো। অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডএ এই একই সময় ধরে স্নোরকেলিং করতে লাগবে প্রায় ১৬০ ইউরো।আমরা সকালের নাস্তা করেই স্নোর কেলিং এ বেরিয়ে পড়লাম। যারা স্নোর কেলিং সম্পর্কে জানেন না তাদের জন্য বেপারটা একটু খোলাসা করা প্রয়োজন।এই কার্যকলাপে আপনাকে সমুদ্রের বিভিন্ন নিরাপদ উপকুলে নিয়ে যাওয়া হবে, এবং লাইফজ্যাকেট পরিয়ে নামিয়ে দেয়া হবে। সাঁতার না জানলে সমস্যা নেই, লাইফ জ্যাকেট আপনাকে ভাসিয়ে রাখবে। সাথে দেয়া হবে সাতারের চশমা আর পানির নিচে নিঃশ্বাস নেয়ার জন্য পাইপ যার মাথাটা থাকে পানির উপরে।আপনি মুখ ডুবিয়ে পানির নিচের সব দেখতে পারবেন।সে এক বিস্ময়কর বর্ণিল জগত!ন্যাশনাল জিওগ্রাফিতে পানির নিচের জগত দেখা আর নিজের চোখে দেখা যে কতটা আলাদা তা বোঝানো খুব মুশকিল। যে বোটের মাঝি, সে ই গাইড। সে জানে যে কোন উপকুলে রঙ্গিন মাছ আছে, কোথায় আছে রঙ বেরঙ এর কোরাল, কোথায় গেলে দেখা মিলবে বিরাট সামুদ্রিক কচ্ছপের। আমাদের প্রথমে নিয়ে যাওয়া হল সার্ক পয়েন্টে। কি আঁতকে উঠলেন? এরা হিংস্র হাঙ্গর নয়। পানির নিচে মাথা ডুবিয়ে দেখতে পেলাম আধা ফুট-এক ফুট লম্বা সব বাদামি রঙা হাঙ্গর। এরা এর চেয়ে লম্বা হয়না বলে এদের বেবী সার্কও বলে। নিশাচর প্রাণী বলে বেশিরভাগই চুপটি করে পাথরের ফাঁকে বিশ্রামরত।রাতে বের হবে খাবারের সন্ধানে। প্রায় আধাঘন্টা হাঙ্গর দর্শনের পর আমাদের নিয়ে যাওয়া হল টারটল পয়েন্টে। বেশ কিছুক্ষণ খোঁজাখুজির পরেও কচ্ছপের দেখা মিলল না। এরা বেশ লাজুক প্রাণী, মানুষ দেখলে ওপথ আর মাড়ায় না।প্রায় ২০ মিনিট খোঁজাখুঁজির পর হঠাৎ দেখতে পেলাম ফিরোজা রঙের টলটলে পানিতে শতবর্ষী এক বিশালাকার সবুজ কচ্ছপ। পানিতে মুখ ডুবিয়ে খানিকক্ষণ তার পিছু পিছু ছুটলাম। কেউ কেউ আবার কচ্ছপের সাথে সাঁতার কাটতে কাটতে ছবি তোলার চেষ্টা করছে। ওয়াটার প্রুফ ক্যামেরা দ্বীপেই ভাড়া পাওয়া যায়। আমাদের পরবর্তী গন্তব্য ছিল কোরাল পয়েন্ট। একটা পয়েন্ট থেকে আরেকটা পয়েন্টের দূরত্ব খুব বেশি না, কয়েক কিমি এর মধ্যে।আর প্রতিটা পয়েন্টে যতক্ষণ খুশি স্নোরকেলিং করা যায়। সবাই নৌকায় ফিরলেই কেবল মাঝি পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে নৌকা ছাড়ে। স্পীডবোটে ঘুরতে ঘুরতে সবুজ পাহাড়ের বাঁক আর ফিরোজা স্বচ্ছ জল দেখতে দেখতে চোখ জুড়িয়ে গেল। পয়েন্টে পানির নিচে দেখলাম আরেক বর্ণীল জগত। নানা রঙ বেরঙের মাছ আর কোরালে ঠাঁসা। পানির নিচে সব শব্দই কেমন যেন স্লো মোশানে ভেসে আসে, কোরালের গা থেকে মাছের শ্যাওলা খাওয়ার ছপ ছপ শব্দ, মাছের মুখ থেকে বুদবুদ ছাড়ার শব্দ, ঢেউয়ের তালে তালে কোরালের গা দোলানোর শব্দ, সব যেন আলাদা আলাদাভাবে শোনা যায়।সাঁতার কাটতে কাটতে হাত পা অবশ হয়ে এল, কিন্তু মন ক্লান্ত হয়না। পানিতে এত মাছ যে পানিতে না নেমে শুধু নৌকায় বসে পাউরুটি ছেটালেও রঙ বেরঙের মাছ ছুটে আসে, এ যেন অতিকায় প্রাকৃতিক অ্যাকুয়ারিয়াম। কোরাল স্নোরকেলিং শেষে যখন ফিরে আসলাম তখন বেলা আর নেই। রক্ত রাঙ্গা সূর্য ঢলে পড়ছে সমুদ্রে। সাগরের অবিরাম গর্জন আর নারকেল শাখায় শনশন করে বইছে বাতাস, যেন অনাদিকালের কোন অব্যাক্ত সুর গুনগুন করছে সারাক্ষন।হয়ত বলে চলেছে কোন নাবিকের গল্প, যে দিক হারিয়ে এই দ্বীপ খুঁজে পায়নি কোনদিন, হারিয়ে গেছে সমুদ্রের গভীর থেকে আরও গভীরে। যেই তিন দিন এই স্বপ্নদ্বীপে ছিলাম, মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে ছিলাম। দ্বিতীয় বার পারহান্তিয়ান ঘুরতে গিয়েছি ২০১৫ সালে। এবার আর বন্ধুদের সাথে নয়, প্রিয় মানবীর হাত ধরে। সেবারও এই দ্বীপ আমাকে রোমাঞ্চিত করেছে একই তীব্রতায়।মুগ্ধতায় এতটুকু ঘাটতি হয়নি।


চিত্র ৪ঃ স্নোরকেলিঙ্গের জন্য কোরাল পয়েন্টে নৌকা ভিড়েছে।

চিত্র ৫ঃ সবাই স্নোরকেলিঙ্গ এ ব্যাস্ত।

চিত্র ৬ঃ পানির নিচে কচ্ছপ।

চিত্র ৭ঃ খাবার ছিটালেই ছুটে আসে রঙ্গিন মাছ।

চিত্র ৮ঃ সৈকতে ছড়িয়ে থাকা মৃত কোরাল।

চিত্র ৯ঃ সবজায়গাতেই পানি এমন স্বচ্ছ।

চিত্র ১০ঃ কোন পর্যটকের বানানো কোরালের উইন্ড চাইম।

চিত্র ১১ঃ সূর্যের আলো পড়ে নীলের অসংখ্য শেড তৈরি হয়েছে।

পারহান্তিয়ান যেতে হলে ঃ বিমানযোগে কুয়ালালামপুর নেমে কানেকটিং ফ্লাইটে চলে যাওয়া যাবে, কুয়ালা তেরেঙ্গানু। সেখান থেকে ট্যাক্সি করে কুয়ালা বেসুত। ট্যাক্সি সরাসরি বোটস্ট্যাশানে নামাবে। সেখান থেকে স্পীড বোটে পারহান্তিয়ান।থাকার জন্য চ্যালেট আগে থেকে বুকিং দিয়ে রাখতে পারলে ভাল।বুকিং ডট কম থেকে সহজেই তা করা সম্ভব। দিনপ্রতি ভাড়া সাধ্যের মধ্যেই (৩০০০-৩৫০০ টাকা)। আরও সস্তায় থাকতে চাইলে শেয়ারড থাকার জায়গা ব্যাকপ্যাকারস/বাঙ্ক বেডের ব্যাবস্থাও আছে। স্থানীয় মানুষজন খুব মিশুকে এবং সাহায্য করতে সদা প্রস্তুত। ওদের এ বোধ আছে যে, পর্যটকরা না আসলে দ্বীপের অর্থনীতি মাঠে মারা যাবে।নিরাপত্তা নিয়েও কোন ভাবনা নেই, আপনি সারারাত ঘুরলেও মনে হয়না কোন অপ্রীতিকর কিছু ঘটবে।সব মিলিয়ে যারা একটু নিভৃতচারী আর একটু অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়, তাদের জন্য আমার পরামর্শ হচ্ছে গতানুগতিক মানুষ মালায়শিয়ার যেই জায়গাগুলোতে যায়, তার চেয়ে উত্তর পূর্ব কোনের এই দ্বীপগুলো কিনবা পশ্চিম মালায়সিয়ার দ্বীপগুলো আপনাকে অনেক বেশি তৃপ্ত করবে বলে আমার বিশ্বাস।

লেখকের নাম: সৌখিন।


মন্তব্য

অবনীল এর ছবি

ওয়াও। লেখা এবং ছবি দুটোই অপূর্ব সুন্দর। অসাধারণ এক জায়গার সন্ধান দিয়েছেন । স্বচ্ছ পানির যে ছবিগুলো তুলেছেন তার জবাব নেই। স্নরকেলিং -এর বর্ননা পড়ে ঈর্ষাণ্বিত হলাম। এই গত মাসেই স্কুবা-ডাইভিং এর লেসন নেবার প্ল্যান করেছিলাম। ট্যাঁকে টান পড়াইয় পিছিয়ে দিতে হলো । যাহোক, আসলেই স্বপ্নদ্বীপ । যাব একদিন যদি কপালে থাকে। অন্ত্বত আপনার বর্ণনায় কিছুটা অর্ধ-ভ্রমন হয়ে গেল । সেজন্য অশেষ ধন্যবাদ।

___________________________________
ঈশ্বরের মত, ভবঘুরে স্বপ্নগুলো।

অতিথি লেখক এর ছবি

শুনে খুশি হলাম যে আমার বর্ণনা আপনার ভালো লেগেছে। স্কুবা ডাইভিংও মালয়শিয়াতে বেশ সস্তা। সম্ভবত ৩-৪ দিন ট্রেনিং নিলেই সাধারণ স্কুবা ডাইভিং করা সম্ভব। গুহার ভিতরে কিংবা পাহাড়ের খাদে স্কুবা করতে যতদূর জানি অনেকদিনের ট্রেনিং আর অভিজ্ঞতা লাগে।

এক লহমা এর ছবি

লেখা এবং ছবি দুই-ই ভালো লেগেছে।

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

অতিথি লেখক এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ। অনুপ্রানিত হলাম।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

১। লেখা প্যারা প্যারা ভেঙে দিলে পাঠকের পড়তে সুবিধা হয়। দুয়েকটা ছবির আকৃতি একটু হেরফের হয়ে গেছে।

২। শেষ পর্যায়ে আগ্রহী পর্যটকদের জন্য দেয়া সাজেশনে প্রতিটি পর্যায়ের সম্ভাব্য মূল্য ও সময় দিলে তাদের পক্ষে পরিকল্পনা করতে সুবিধা হতো। যেমন, কুয়ালা লামপুর থেকে কুয়ালা তেরেঙ্গানু কতক্ষণের ফ্লাইট, ভাড়া কত; কুয়ালা তেরেঙ্গানু থেকে কুয়ালা বেসুত গাড়িতে কতক্ষণ, ভাড়া কত, বাস/ট্রেনে যাওয়া যায় কিনা; কুয়ালা বেসুত থেকে পারহান্তিয়ানের স্পীডবোট ভাড়া কত, বড় কোন জাহাজে যাবার ব্যবস্থা আছে কিনা ইত্যাদি।

৩। অতিথি পর্যায়ে লেখা পোস্ট করার পর সম্পাদনা করার সুযোগ নেই বলে এই পর্যায়ে লেখা পোস্ট করার আগে খুব সাবধানে বানান পরীক্ষা করে নেয়া ভালো। নয়তো টাইপোগুলো থেকে যাবে। (chalet = শ্যালে)

৪। লেখা ভালো লেগেছে কারণ, এর বর্ণনা সাবলীল আর ছবিগুলো চমৎকার। পারহান্তিয়ানের স্থানীয় অধিবাসী, তাদের সংস্কৃতি (ঐটুকু সময়ে যা বোঝা যায়), আচার, খাবারদাবার নিয়ে কিছু কথা থাকলে বেশ হতো। বাইরের পর্যটকদের পক্ষে পারহান্তিয়ানের কোন বিশেষ জিনিসটা মিস্‌ না করলেই নয় সেটা থাকাও দরকার ছিল।

৫। এমন ভ্রমণকাহিনী আরও আসুক। গতানুগতিকতার ভেতরের বা বাইরের।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

অতিথি লেখক এর ছবি

আগ্রহ করে পড়ার জন্য এবং ভুলগুলো ধরিয়ে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ। যেহেতু এখন আর লেখা পরিবর্তন করার সুযোগ নেই, আমার জানা প্রশ্নের উত্তর গুলো এখানেই দিয়ে দিচ্ছি যদি কেউ পড়ে উপকৃত হন।

কুয়ালালাম্পুর থেকে কুয়ালা বেসুত প্লেনে ১ ঘন্টা। এয়ার এশিয়া তে টিকেট কাটলে যাওয়া আসা মাত্র ৩৬-৬০ ডলার।

কুয়ালা বেসুত থেকে বোট স্টেশান ৩-৪ জন হলে ট্যাক্সিতে যাওয়া ই ভাল। ত্রিশ মিনিট লাগতে পারে এবং ভাড়া ৫০ রিঙ্গিত এর বেশি হওয়ার কথা না। বাস আছে অবশ্যই, কিন্তু খুব বাজে সময়ে পৌঁছালে পাব্লিক ট্রান্সপোর্ট পেতে অপেক্ষা করতে হতে পারে। স্পীড বোট পারাপার যাওয়া আসা জন প্রতি ৭০ রিঙ্গিত। যেকোনো দিন যাওয়া এবং যেকোনো দিন আসা যায়। টিকেট এর নির্দিষ্ট মেয়াদ নাই। অনেকটা স্যান্টমারটিন যাওয়া আসার মত। শুধু আসার আগের দিন হোটেল রিসেপ্সানে বলে রাখলে হবে যে আমি কালকে সকালে ফিরব।স্পিড বোট যাতে আমাকে তুলে নেয় সেটা ফোনে জানিয়ে দিন। পারাপারের জন্য কোন জাহাজ নেই। কিন্তু স্পিডবোট বেশ বড়। ২০ জন করে মানুষ ধরে। তাই আসা করি উলটে যাওয়ার ভয় নেই।

পুরো মালায়সিয়া জুড়েই খাবার দাবার সস্তা। পারহান্তিয়ানও ব্যাতিক্রম না। তবে দ্বীপে স্পেশাল আইটেম হচ্ছে মাছের বারবিকিউ। সব হোটেলের সামনেই বিকালে মাছের বারবিকিউ করা হয়। মেনু দেখে পছন্দের খাবারের পাশাপাশি সমুদ্রের তাজা মাছের বারবিকিউ গ্র্যান্ড একটা ডিনার হওয়ার কথা। জনপ্রতি দিনার কিংবা লাঞ্চে ১০-১৫ রিঙ্গিত খরচ হওয়া উচিত।

দ্বীপের মানুষজন খুব হাস্যমুখি, বিশ্বাসী, সরলমনা, একদমি মুডী প্রকৃতির নয় এবং দরিদ্র। খুব সহজেই সবার সাথে মেশে। আপনি ভাল ব্যাবহার করলে বিনিময়ে ভাল ব্যাবহারই পাবেন। বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন নেই।

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

বাহ! চমৎকার!! উপরে ষষ্ঠ পাণ্ডবের পরামর্শগুলো আমারও পরামর্শ।

সৌখিন  এর ছবি

পরামর্শ গুলো আবারও সানন্দে গৃহীত হল। আমার ওয়ার্ড ফাইলে প্যারা প্যারা স্পেস ছিল। সেটা কপি পেস্ট করার পর একসাথে মিশে গেছে। খেয়াল করিনি। বোধ করি এখন আর এডিট করা যাবেনা। পরবর্তীতে লিখলে ভুল শোধরানোর চেষ্টা থাকবে। কষ্ট করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA