বুয়েটের বিস্মৃতপ্রায় এক হত্যাকাণ্ড

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: মঙ্গল, ২৫/০৬/২০১৯ - ২:০২অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের ’৯৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমরান হাবিব রুমনের “সনি: সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের এক অনির্বাণ আলোকবর্তিকা” শিরোনামে নামে লেখা একটি নিবন্ধ গত ৮ই জুন ২০১৯-এ দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত হয়েছে। রুমন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ও বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চের কেন্দ্রীয় সভাপতিও বটে। লেখাটির শুরুতেই তিনি বলেছেন,

আজ ৮ জুন। সাবেকুন নাহার সনির ১৭তম মৃত্যুদিবস। ২০০২ সালের ৮ জুন বুয়েটের কেমিকৌশল বিভাগের (৯৯ ব্যাচ) লেভেল ২, টার্ম ২–এর মেধাবী ছাত্রী সাবেকুন নাহার সনি টেন্ডারবাজিকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের গোলাগুলির মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। শোকে, বেদনায় স্তব্ধ হয়ে যায় সমগ্র বাংলাদেশ। এ দেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে এমন কলঙ্কজনক ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি”।

কথা সত্য। টেন্ডারবাজিকে কেন্দ্র করে বুয়েটে দুই গ্রুপ রাজনৈতিক সন্ত্রাসীর বন্দুক যুদ্ধ এর আগে ঘটেনি এবং একইসাথে ঐ বন্দুক যুদ্ধে বুয়েটের কোন শিক্ষার্থী নিহত হবার ঘটনাও ঘটেনি। তবে টেন্ডারবাজিকে কেন্দ্র করে বুয়েটে সন্ত্রাসী ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। ১৯৯১ সালের ১৯শে অক্টোবর টেন্ডারবাজিকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে আগত সন্ত্রাসীরা বুয়েট আক্রমণ করে। গুলি সেদিনও হয়েছিল, তবে সৌভাগ্যবশত কেউ নিহত হননি। সন্ত্রাসীরা ইএমই ভবনের সামনে রাখা শিক্ষকদের ব্যক্তিগত গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। পুলিশ আসা, ফায়ার ব্রিগেডের আগুন নেভানো ইত্যাদিতে ঘটতে ঘটতে শিক্ষকদের বেশ কয়েকটি গাড়ি ভস্মীভূত হয়ে যায়। এই ঘটনায় চলমান পার্ট-এ পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়ে বুয়েট অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ৫৪ দিন পর বুয়েট খোলে। সন্ত্রাসীদের আক্রমণ ঠেকাতে বুয়েট কর্তৃপক্ষ শিক্ষকদের দুই আবাসিক এলাকায় পুলিশ পাহারার ব্যবস্থা করে এবং বুয়েটের ১নং গেট দেয়াল তুলে চিরতরে বন্ধ করে দেয়া হয়। প্রাচীর তুলে চীনারা বহিঃশত্রুর আক্রমণ যেমন ঠেকাতে পারেনি দেয়াল তুলে গেট বন্ধ করে দিয়ে বুয়েটও সন্ত্রাসীদের আক্রমণ ঠেকাতে পারেনি। এর পরবর্তী কালে কুখ্যাত সন্ত্রাসী গোলাম ফারুক অভি সদলবলে বুয়েটে অবস্থান করা শুরু করে। তাদের ছত্রছায়ায় বুয়েটে নিয়মিত ছোট ছোট সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটতে থাকে। এর মধ্যে সোহরাওয়ার্দী হল ছাত্র সংসদের নির্বাচিত ভিপিকে এক বৎসর হলে ঢুকতে না দেয়া; একই হলের প্রভোস্ট মহোদয়কে লাঞ্ছিত করা ও হল অফিস ভাংচুর অন্যতম।

সনি হত্যাকাণ্ডের আগেও বুয়েট ক্যাম্পাসে খুনের ঘটনা ঘটেছে। এই লেখায় বুয়েট ক্যাম্পাসে সংঘটিত প্রায় বিস্মৃত একটি খুনের ঘটনা সম্পর্কে বলা হবে।

৩রা জুন ১৯৯৫। সনি খুন হবার ঠিক সাত বছর পাঁচ দিন আগে জুন মাসের প্রথম শনিবার (সনি খুন হয়েছিলেন জুনের দ্বিতীয় শনিবার)। তখন বুয়েটে সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছিল শুক্রবার আর শনিবার। আহসানউল্লাহ্‌ হল (উত্তর)-এর ৩২৯ নং কক্ষের বোর্ডার, পুরকৌশল বিভাগের ’৮৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী আহমেদ উল্লাহ্‌ তখন স্নাতক শেষ বর্ষে। সকালে তাঁর ব্যাচের কয়েকজন বন্ধুসহ হলের ক্যান্টিনে নাশ্‌তা করতে যান। নাশ্‌তা সেরে তাঁরা হলে ফিরে ‘হল র‍্যাগে’র জন্য করা ব্যানারের কাজের অগ্রগতি দেখতে যান। সেখান থেকে যে যার যার কক্ষে ফিরে যান। এই সময়ে কয়েকজন ব্যক্তি হলে প্রবেশ করে দর্শনার্থীদের খাতায় নাম-ঠিকানা লিপিবদ্ধ করে আহমেদের কক্ষে গিয়ে তাঁকে ডেকে নিয়ে আসে। এই ব্যক্তিরা আহমেদকে নিয়ে হল থেকে বাইরে যাবার সময় তাদের একজন জোরপূর্বক দর্শনার্থীদের খাতার পৃষ্ঠা ছিঁড়ে নিয়ে যায় — যেন তাদেরকে পরে আর সনাক্ত করা না যায়। এর কয়েক মিনিটের মধ্যে তারা বুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে আহমেদকে গুলি করে শিক্ষকদের আবাসনসংলগ্ন দক্ষিণ দিকের গেট দিয়ে বখশীবাজারের দিকে চলে যায়। যে স্থানে সনিকে গুলি করা হয়েছিল আহমেদকে গুলি করার স্থানটি তার কয়েক শত ফুট দক্ষিণে।

গুলির শব্দ শুনে হল ও আশপাশ থেকে শিক্ষার্থী ও অন্যান্যরা ছুটে আসেন। আহমেদকে রিক্‌শা করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসকগণ আহমেদকে পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। ময়না তদন্ত শেষে শিক্ষার্থীরা বুয়েট মাঠে জানাজা পড়ার উদ্দেশ্যে আহমেদের লাশ নিয়ে বুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে চাইলে কর্তৃপক্ষ দ্রুততার সাথে ক্যাম্পাসে প্রবেশের সব গেট বন্ধ করে দেয়। উল্লেখ্য, বুয়েটের পশ্চিম পলাশীর ক্যাম্পাস তখনো নির্মিত হয়নি। এনিয়ে ছাত্ররা ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করা শুরু করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘ সময় পরে গেট খুলে দেয়া হলে লাশ নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকা এবং মাঠে জানাজা পড়ানো সম্ভব হয়। গোটা ঘটনায় বুয়েট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, অনুপস্থিতি ও অসহযোগিতা শিক্ষার্থীদের বিক্ষুদ্ধ করে তোলে। সন্ধ্যার পর বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা মিছিল করে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেন। মিছিলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করলে শিক্ষার্থীরা আরও ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন। তাদের কেউ কেউ ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা ও ভাঙচুর শুরু করেন। পুলিশ পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা ফিরে যান। পরদিন, ৪ঠা জুন ১৯৯৫, মাত্র দুই ঘন্টার নোটিশে বুয়েট অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়।

এই ঘটনায় বুয়েট কর্তৃপক্ষের মনোভাব স্পষ্ট হয় ৮ই জুন ১৯৯৫ সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বুয়েটের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য মহোদয় অধ্যাপক দীপক কান্তি দাশের বক্তব্যে। উল্লেখ্য, আহমেদ হত্যাকাণ্ডের একদিনের মধ্যে বুয়েট বন্ধ করে দেবার পর উপাচার্য মহোদয় অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহজাহান বিদেশে চলে যান এবং যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক দীপক কান্তি দাশ ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসাবে চলতি দায়িত্ব পালন করেন। সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক দাশ বলেন, “হত্যাকাণ্ড ঘটিয়াছে বুয়েটের সাধারণ ছুটির দিনে এবং ক্যাম্পাসের বাহিরে রাজপথে” (দৈনিক ইত্তেফাক, “পরিস্থিতি শান্ত না হইলে বুয়েট খোলা সম্ভব নয় — ভারপ্রাপ্ত ভিসি”, ১ম পৃষ্ঠা, ৪র্থ কলাম; ৯ই জুন ১৯৯৫)। বস্তুতঃ অধ্যাপক দাশের প্রদত্ত বক্তব্য সত্যের চরম অপলাপ মাত্র। আহমেদকে বুয়েটের আবাসিক হল থেকে ডেকে নিয়ে ক্যাম্পাসের ভেতরে কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে হত্যা করা হয়। ঐ স্থানটি যদি ক্যাম্পাসের বাইরে হয়ে থাকে তাহলে বুয়েট কর্তৃপক্ষ রাস্তাটির দক্ষিণপ্রান্ত গেট তুলে বন্ধ করে দেয় কীভাবে! তাছাড়া সাধারণ ছুটির দিনেও আবাসিক হলসমূহ ও আবাসিক শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে বুয়েট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব রহিত হয়ে যায় না।

দীর্ঘদিন পরে বুয়েট খুললে শিক্ষার্থীরা আহমেদের স্মরণে একটি শোক সভা আয়োজন করেন। উক্ত সভায় উপাচার্য মহোদয় অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহজাহান, আহমেদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা ও বিষোদগার শুরু করেন যা উপস্থিত সবাইকে হতবাক করে। শোক সভায় উপস্থিত যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ওয়াহাজ উদ্দিন উপাচার্য মহোদয়ের এহেন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানালে তিনি নিবৃত্ত হন। একটি শোক সভায় মৃতের ব্যাপারে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন ও স্মৃতিচারণ করা শিষ্টাচারের অন্তর্ভূক্ত, কিন্তু উপাচার্য মহোদয় সেটি পালন করতে আগ্রহী ছিলেন না। এখান থেকেও গোটা ঘটনার ব্যাপারে তাঁর মনোভাব অনুধাবন করা যায়।

স্বল্পভাষী, বন্ধুবৎসল আহমেদ উল্লাহ্‌ ছিলেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বুয়েট শাখার সাধারণ সম্পাদক। মঞ্জুরা আহমেদ নীলা তখন সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। ১৯৯৩ সালে অনুষ্ঠিত ইউকসু নির্বাচনে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের দেয়া নীলা-আহমেদ-মজিদ প্যানেলে আহমেদ উল্লাহ ইউকসু’র সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন। ছাত্র রাজনীতিতে তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ ও নিবেদিতপ্রাণ।

আহমেদ হত্যায় তাঁর খালাতো ভাই শাহজাহান কবীর বাদী হয়ে লালবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। কিন্তু নিজ শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে নিহত হবার পরেও বুয়েট কর্তৃপক্ষ কোন হত্যা মামলা দায়ের করেনি।

আহমেদের খুনের রহস্য উদঘাটিত হয়নি। এই ব্যাপারে নানা জন নানা মত দিয়েছেন, নানা পত্রিকা নানা কাহিনী প্রকাশ করেছে। শোক সভায় আহমেদের ভাই সকলের কাছে এই ব্যাপারে তথ্য দেবার জন্য সনির্বন্ধ অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত গোটা ব্যাপারটি যে তিমিরে সেই তিমিরেই রয়ে গেছে।

এদেশের শিক্ষাঙ্গনে গত চার যুগে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে খুব অল্প কিছু হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার সম্পন্ন হয়েছে। অধিকাংশ হত্যাকাণ্ড বিস্মৃতির আড়ালে চলে গেছে। কোন কোন ক্ষেত্রে ঠিকমতো মামলাও হয়নি। যেগুলোতে মামলা হয়েছে সেগুলোর বেশিরভাগের পরিণতি আহমেদ উল্লাহ হত্যাকাণ্ডের মামলাটির মতো হয়েছে। এগুলো নিয়ে কেউ বিশেষ মাথা ঘামান না। নিহত শিক্ষার্থীর সমসাময়িক যেসব শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে থাকেন তারাও দ্রুত বিষয়টি ভুলে যান। নিহত অল্প কয়েকজনের ক্ষেত্রে বার্ষিকী পালিত হয়। নিহত শিক্ষার্থী জীবিতাবস্থায় কোন রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত থাকলে, এমনকি তাদের কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে গিয়ে মারা গেলেও, সেই দলটি তাঁকে খুব অল্পদিনই মনে রাখে। হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য কোন দল আইনী লড়াই চালিয়ে গেছে এমনটাও আমরা শুনতে পাই না।

বস্তুত প্রয়াত ব্যক্তির খুব নিকটজনদের কয়েকজন ছাড়া কেউই তাঁকে স্মরণে রাখেন না। সেটার বোধকরি প্রয়োজনও নেই। কিন্তু একজন মানুষকে হত্যা করা হলে সেটির বিচার হওয়া আবশ্যক। নিজেদেরকে সভ্য, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, ন্যায়নিষ্ঠ বলে দাবি করলে বিচারের দাবিটিও সক্রিয় রাখা প্রয়োজন। আহমেদ উল্লাহ খুন হবার পর দুই যুগ পার হয়েছে সত্য, কিন্তু বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হবার লক্ষ্যে দুই যুগ পরেও আহমেদ উল্লাহ হত্যার বিচার দাবি করা উচিত।

আহমেদ উল্লাহ হত্যার বিস্তারিত তদন্ত ও বিচার করে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

— ইফতেখার কবীর


মন্তব্য

আসগর এর ছবি

বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রের জানমালের ব্যাপারে শুধু উদাসীনই না, বরং কেমন যেন মারমুখী। ভিকটিমের প্রতি তাদের মনভাব অনেকটা "তর এত্ত বড় সাহস তুই আমার আমলে গুলি খেয়ে মরস"! যে মরেছে সে তো মরলই, তার সংগী সাথীদের সবার আগে কানে ধরে হল থেকে বের করা হয়।অনেকটা "তোদের এত্ত বড় সাহস তোদের সংগের ছেলে/মেয়ে আমার আমলে গুলি খেয়ে মরে"!

অতিথি লেখক এর ছবি

একটি প্যাটার্ন লক্ষ করুনঃ

একটি প্রতিষ্ঠানে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে এর ফলে আম জনতা বা সাংবাদিককূল কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখায় চাইলে কর্তৃপক্ষ প্রথমে এই ব্যাপারে তাদের কোন দায়-দায়িত্ব আছে কিনা সেটা সরাসরি অস্বীকার করে বসে। যদি কেউ তাদের দায়-দায়িত্বের সীমা দেখিয়ে দেয় তাহলে কর্তৃপক্ষ বলে, "এই ব্যাপারে কেউ আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত অভিযোগ জানায়নি। আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত করে তার ফলাফলের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেবো"। নাছোড়বান্দা কেউ যদি এটা দেখিয়ে দেয় যে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত অভিযোগের জন্য অপেক্ষা না করে স্বপ্রণোদিত হয়ে তড়িৎ ব্যবস্থা নেয়াটাই তাদের দায়িত্ব, তখন তারা মিনমিন করে তাদের জনবলের অভাব, বাজেট ঘাটতি, রিসোর্সের ঘাটতি, কাজের অতিরিক্ত চাপ, কম বেতন পাওয়া ইত্যাদি অজুহাত দেয়া শুরু করে।

দায়িত্ব নিয়ে কাজ করার জন্য মেরুদণ্ড লাগে। সেটা 'উদো'দের কখনো থাকে না বলে তারা সর্বদা আপ্রাণ চেষ্টা করে সেটা 'বুধো'র ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে।

- ইফতেখার কবীর

সৌখিন  এর ছবি

কিছু হলেই তা সমাধাননা করে অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। অদ্ভু!

অতিথি লেখক এর ছবি

সমস্যার মুখোমুখি হয়ে সমাধান বের করার ব্যাপারে এক কালে বুয়েট কর্তৃপক্ষের প্রবল অনীহা ছিল। এখন কী অবস্থা জানি না। অনির্দিষ্টকালের জন্য বুয়েট বন্ধ করে দিয়ে, হল খালি করে দিয়ে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দিয়ে সমস্যার সমাধানের প্রচেষ্টাটি 'এরশাদীয় কায়দা'। পতিত সামরিক স্বৈরাচার এরশাদের আমলে ছাত্র আন্দোলন তীব্র হতে নিলেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ এভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হতো। মননে স্বৈরাচার থাকলে কর্মে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে।

- ইফতেখার কবীর

অতিথি লেখক এর ছবি

"সমস্যার মুখোমুখি হয়ে সমাধান বের করার ব্যাপারে এক কালে বুয়েট কর্তৃপক্ষের প্রবল অনীহা ছিল। এখন কী অবস্থা জানি না।" - অবস্থার তেমন উন্নয়ন হয়নি; জরুরী সময়ে ভিসি দেশের বাইরে থাকে। বুয়ে্ট প্রশাসনের মত অথর্ব প্রশাসন দেশে আর একটাও আছে কিনা জানি না। এদের কাজের লজিক হচ্ছে মাথা ব্যথা করতেছে; তো মাথা কাইট্যা ফেল। অন্য কোনভাবে সমাধান করার সদিচ্ছা পর্যন্ত নাই।

-সিফাত

অতিথি লেখক এর ছবি

সমস্যার সমাধান না করে সময়ক্ষেপণের পদ্ধতিটি প্রাগৈতিহাসিক আমলতন্ত্র থেকে প্রাপ্ত। মননে ঔপনিবেশিকতা থাকলে কর্মে জনবিচ্ছিন্নতা থাকবে। মানবিক বিষয়াদিতে জ্ঞানের ঘাটতি থাকলে মানবিক সমস্যার যান্ত্রিক সমাধানের চেষ্টা চলবে।

তাসনীম এর ছবি

আমার মনে আছে কিছুটা। আমরা ১৯৯৫ সালের মে' মাসেই পাশ করেছিলাম। আমরা বের হওয়ার ঠিক পরেই ঘটেছিল।

ক্যাম্পাসে হত্যাকান্ডের বিচার তখন বিরল ছিল। লিখতে গিয়ে মনে হল বাংলাদেশের ইতিহাসে আসলে কয়টা হত্যাকান্ডের সুবিচার হয়েছে?

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

অতিথি লেখক এর ছবি

বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডসমূহের মধ্যে খুব অল্প কয়েকটার বিচার হয়েছে। বাকিগুলো কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে।

উপরের বাক্যের 'বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে'-কে 'বাংলাদেশে' দিয়ে প্রতিস্থাপন করলেও সত্যের বিশেষ হেরফের হবে না।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।