কতলের হুকুম ও সমঝোতার ইশারা

হাসিব এর ছবি
লিখেছেন হাসিব (তারিখ: শনি, ১৯/০৪/২০১৪ - ১:৪৮অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ধর্মীয় মৌলবাদি সংগঠন হেফাজতে ইসলাম প্রায় এক বছর পরে আবারো তাদের কর্মকান্ড জোরেশোরে শুরু করেছে। বিগত দুই সপ্তাহান্তে তারা বিভিন্ন সমাবেশে উস্কানীমূলক বক্তব্য প্রচার করছে। গতকাল তারা এমনকি নাস্তিকদের কতলের ফতোয়া দিয়েছে। হঠাৎ করে হেফাজতের এরকম গর্ত থেকে বের হয়ে আসার কারণ কী? এখানে সরকারের পক্ষ থেকে কোন নিশ্চয়তা বা সমঝোতার প্রসঙ্গ আছে কি? বা কিছুদিন আগে দুই কিশোর ব্লগারকে জেলে পোরার সাথেই বা এসবের কোন সংযোগ আছে?

বেশ কিছুদিন চুপচাপ থাকার পর ধর্মীয় মৌলবাদি সন্ত্রাসী সংগঠন হেফাজতে ইসলাম নতুন উদ্যোমে আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এরা সারাদেশব্যাপি শানে রেসালাত সম্মেলন শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে গত ১১ই এপ্রিল ২০১৪ তারিখে এরা চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে এক সমাবেশ করে। এখানে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী নাস্তিকদের মৃত্যুদন্ডের বিধান রেখে সংসদে বিল পাশের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। (১)

সেখানে বাবুনগরী বলেছেন,

আল্লাহ ও তার রাসূলের (স.) সাথে বেয়াদবি করলে কারো শরীরের সাথে মাথা থাকতে পারে না। কিন্তু আমরা আইন হাতে তুলে নেব না। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই এর ফয়সালা সরকারের উপর ছেড়ে দিয়েছি।

সাদাচোখে এসব বক্তব্য সস্ত্রাস ধরণের হলেও ফয়সালা যেহেতু সরকারের ওপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে বা সংসদে বিল পাশ করানোর বিষয়ে বলা হচ্ছে সেহেতু লিবারেল ঘরাণার বুদ্ধিজীবিরা এসব বক্তব্যকে বেনিফিট অফ ডাউট, নিয়মতান্ত্রিকভাবে যেকোন আহবান জানানোর জন্য বাকস্বাধীনতা ইত্যাদি আর্গুমেন্ট তুলতে পারেন। তবে হেফাজতে ইসলামের জঙ্গি মনোভাব শুধু সংসদের উপর আহবানের ওপর নির্ভর করে আছে সেটা অনুমান করলে ভুল হবে।

একই সমাবেশে হেফাজতের আমির আহমেদ শফী বলেছেন, (১)

আল্লাহর নেয়ামত খেয়ে এদেশে থাকতে হলে আল্লাহর আইন মানতে হবে। যারা আল্লাহর বিভিন্ন ধরনের নেয়ামত ভোগ করার পরও আল্লাহকে মানে না, তারা এদেশে থাকতে পারবে না।

নাস্তিকদের প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন,

এই নাস্তিকেরা তোমরা বুঝো! তোমরা মুসলমান হয়ে যাও, আল্লাহকে মানো, না হয় এদেশে থাকতে পারবে না।

বিধর্মীরাও আল্লাহকে মানে না। শফি হুজুর কি তাদেরও দেশ ত্যাগ করতে বলছেন?
হেফাজতের ঘোষিত ১৩ দফা সম্পর্কে তিনি বলেন,

আমাদের ঘোষিত ১৩ দফা ইমানি দাবি বানস্তবায়িত হলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা শূন্যে নেমে আসবে, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে, নারী তার মর্যাদা ও প্রাপ্য অধিকার ফিরে পাবে। ঘরে-বাইরে-কর্মস্থলে সর্বত্র পূর্ণ নিরাপত্তা ও সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারবে। আপন-পর কারো দ্বারা নিগৃহীত হবে না।

হেফাজতের ১৩ দফা সম্পর্কে বিস্মৃত হয়েছেন যেসব পাঠক তারা এখান থেকে ১৩ দফার উপরে আবারো চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন। (৩)

এধরনের বক্তব্য হেফাজতের নেতাদের পক্ষ থেকে অব্যাহত রয়েছে। গতকাল ১৮ই এপ্রিল ২০১৪ তারিখে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র আলহাজ কবির আহমদ চৌধুরী বাজারের হকার-ব্যবসায়ী আয়োজিত ইসলামি মহাসম্মেলনে আল্লামা শফী প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, (৪)

‘আমরা তোমাদের প্রধানমন্ত্রীকে গালি দিই নাই, শুধু শুধু আমাদের দিকে চোখ বড় করে তাকাও কেন? নাস্তিকরা তোমরা মুরতাদ হয়ে গেছ, তোমাদের কতল (হত্যা) করা আমাদের ওপর ওয়াজিব হয়ে গেছে।’

গত সপ্তাহের বক্তব্য থেকে এই বক্তব্যটা একটু বেশি সুনির্দিষ্ট। এখানে বক্তব্যটা একটা ধর্মীয় ফতোয়ার মতো করে বলা হয়েছে। এখানে প্রশ্ন হলো এই ওয়াজিব পালন করতে কেউ (তাদের ভাষায়) নাস্তিকদের কতল করলে সেখানে শফীকে হুকুমের আসামী হিসেবে অভিযুক্ত করা যাবে কিনা।

হেফাজত সন্ত্রাসী ধর্মীয় মৌলবাদি সংগঠন। এদের কাছ থেকে এরকম কথা আসাটা অনেকটা প্রত্যাশিতই বলা চলে। তবে বেশ কিছুদিন চুপ থাকার পর এরা আবার নড়েচড়ে কেন বসছে সেটা একটু ভেবে দেখার অবকাশ রয়েছে। খবরে দেখা যায় হেফাজত সরকারের প্রতি একটু নরমকোমল ভাব দেখাচ্ছে। গত সপ্তাহে লালদিঘীর সমাবেশে শফি বলেছেন,

হাসিনা, আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ আমাদের শত্রু নয়। এদেরকে শত্রু ভাবা যাবে না। তবে আল্লাহর নেয়ামত খেতে হলে আল্লাহকে মানতে হবে। সরকারকে তওবা করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আপন ভালো হলে জগত ভালো। আসুন আমরা তওবা করি চুরি, টেন্ডারবাজি, জেনা-ব্যভিচার, হানাহানি, রক্তপাত, খুন, পরের সম্পদ লুণ্ঠন করবো না। আমরা ভালো হলে দেশটা ভালো হবে, সত্যিকারের সোনার বাংলা হবে এই দেশ।

আমি যখন এই বক্তব্যটা পড়ি তখন এটাকে শফির কোন স্যাটায়ারিক বক্তব্যের খন্ডিত অংশ মনে করেছিলাম। আমার ভুল ভেঙ্গেছে গতকালের সমাবেশে একই ধরণের বক্তব্য দেখে। সেখানে শফি বলেছেন, (৪)

হেফাজতে ইসলাম কাউকে গদিতে বসাতে-নামাতে আন্দোলনে নামে নাই। আমরা আন্দোলন করছি ১৩ দফা মানার জন্য। সরকার, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নাই। তারা মুসলমান হলে আমাদের ১৩ দফা মেনে নেবে। ১৩ দফা মানলে ভালো, না মানলে নাই।’

প্রশ্ন হলো হেফাজত ও আওয়ামী লীগের এই নতুন প্রেমের কারণ কী? বা কেউ এ ধরণের প্রশ্নও করতে পারেন যে এই প্রেম একমুখি নাকি দু'মুখি?

খবরে প্রকাশ (৫) হেফাজতের মূল ঘাটি হাঁটহাজারি মাদ্রাসাকে সরকার রেলওয়ের ১৬০ কাঠা জমি উপহার হিসেবে দিচ্ছে। মানবজমিন জানাচ্ছে, এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাবার্তা চূড়ান্ত হয়েছে। সর্বশেষ রেলওয়ের জায়গাটি নিজেদের জন্য বরাদ্দ চেয়ে কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছেন আল্লামা শফী।

মানবজমিন খবরের সূত্র হিসেবে কারো নাম প্রকাশ না করে আগে প্রত্যাখ্যান করা হলেও এখন সরকারের এ বিষয়ে চাপ আছে ও হেফাজতের সাথে এ বিষয়ে সমঝোতার চেষ্টা চলছে বলা হয়েছে। পূর্বাঞ্চল রেলের কর্মকর্তা কামরুল আমিনের বরাতে মানবজমিন আরো জানাচ্ছে,

শফী হুজুর বছর দুই এক আগে জায়গা পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। তবে তাকে লিজ দেয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে কথা হচ্ছে। কোন ধরনের সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত না হওয়ায় পুকুর-জমি সবই অবৈধভাবে দখল করে আছে হাটহাজারী মাদরাসার লোকজন।

ট্যাবলয়েড মানবজমিন বা কিছুএকটাটুয়েন্টিফোর ডট কম অনলাইন নিউজ সাইটের খবরের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আস্থা রাখা কঠিন। এই মুহুর্তে এসব পত্রিকার খবর অনুযায়ী সেখানে মাদ্রাসার সাইনবোর্ড টাঙিয়ে জমি ঘিরে দেয়া হয়েছে। সাইনবোর্ডে লেখা হয়েছে,

‘মাননীয় যোগাযোগমন্ত্রীর অনুমতিক্রমে এ পুকুর ও স্টেশন এলাকার উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিম পাশের ২.৬৪ একর (১৬০ কাঠা) কৃষি জমি ও পুকুর দখলদার মালিক দারুল উলূম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসা’।

এই উপহারের খবর সত্য হলে হেফাজতের আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ সম্পর্কে নরম সুরের ব্যাকগ্রাউন্ডটা পরিস্কার হয়। আরোও পরিস্কার হয় কেন ৫৭ ইত্যাদি ধারার ব্যবহার করে কিশোর বয়েসী ব্লগারদের ধরে ধরে জেলে পোরা হচ্ছে। ৯০ বছরের বুড়োর কতলের হুকুম তার কেশাগ্র স্পর্শ করতে পারে না, কিন্তু কিশোর বয়সী ব্লগাররা ব্লগ, ফেইসবুকে লেখার জন্য তাদের জেলের ঘানি টানতে হয়। কতল হুজুরকে শান্ত করতে আর কী কী আমাদের করতে হবে প্রিয় আওয়ামী লীগ সরকার?

সূত্র
১. নাস্তিকদের মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে সংসদে বিল আনুন: হেফাজত (লিংক)

২. এই নাস্তিকেরা তোমরা মুসলমান হয়ে যাও, আল্লাহকে মানো, না হয় এদেশে থাকতে পারবে না - হেফাজতের আমির (লিংক)

৩. হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবি

৪. বললেন শাহ আহমদ শফী / নাস্তিকদের কতল করা ওয়াজিব হয়ে গেছে (লিংক)

৫. শফীকে ৩২ কোটি টাকার জমি উপহার দিচ্ছে রেলওয়ে! (লিংক)


মন্তব্য

মৃত্যুময় ঈষৎ এর ছবি

এই অরিয়েন্টেশনে সাময়িক সময়ে গণজাগরণমঞ্চের প্রতি ছাত্রলীগ-আম্লীগের দমন-নিপীড়নকেও যুক্ত করা যায়! সবি একি সূতায় গাঁথা। মোদ্দা কথা, বাংলাদেশে ব্লগিং নিষিদ্ধ করলেই ইসলাম নিরাপদ থাকবে এই বুঝে বোধী হয়ে সরকার ভাণধরে হেফাজতের মনজয়ে বিভোর আছে মনে হয়!


_____________________
Give Her Freedom!

হাসিব এর ছবি

ভ্যালিড প্রশ্ন।

অতিথি লেখক এর ছবি

এইসব দেখে-শুনে ম্লান হয়ে যেতে হয়। সবাইকে খুশি রাখতে গেলে যা হয় তাই হচ্ছে। আর এদিকে আমাদের ভরসার জায়গাগুলোও কমে এতটুকু হয়ে আসছে। এখন দেখছি সবাই-ই ডানে ঝুঁকতে চায় যেনবা ডানে ঝুঁকলেই রক্ষিত হবে ভারসাম্য।

গোঁসাইবাবু

হাসিব এর ছবি

আওয়ামী লীগ যাদের খুশি রাখতে চায় তাদের ভোট তারা এমনিতেও পাবে না ওমনিতেও পাবে না।

আনোয়ার সাদাত শিমুল এর ছবি

একেবারে টু দ্য পয়েন্ট।
উত্তর পাওয়ার আশাটা রাখছি না।

হাসিব এর ছবি

উল্টো প্রশ্নগুলো ধামাচাপা দেবার চেষ্টা হয় কিনা দেখেন।

নীড় সন্ধানী এর ছবি

জাতীয়ভাবে কি হয়েছে জানি না, কিন্তু ব্যক্তিগত সুত্রে জেনেছি হেফাজতের সাথে চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের একটা ভালো সমঝোতা হয়েছে। যার ফলে এবার লালদীঘি সমাবেশে কোনরকম ঝামেলা হয়নি অন্যন্যবারের মতো। সরকার এবং হেফাজত পরস্পরের সাথে যদি হ্যাণ্ডশেকে না যায়, এমন হবার কথা না। রাজনীতিতে শেষ বলে কোন কথা নেই, এই বাক্যটা বারবার প্রমাণিত হচ্ছে এখানে।

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

হাসিব এর ছবি

মুলধারার মিডিয়াগুলো এই বিষয়ে চুপ। তারাও বোধহয় একটা ব্যালান্সিং গেইমের মধ্যে আছে।

স্যাম এর ছবি

আওয়ামী লীগ যাদের খুশি রাখতে চায় তাদের ভোট তারা এমনিতেও পাবে না ওমনিতেও পাবে না।

অতিথি লেখক এর ছবি

আওয়ামী লীগ যাদের খুশি রাখতে চায় তাদের ভোট তারা এমনিতেও পাবে না ওমনিতেও পাবে না।

চলুক
এই ব্যাপারটা আওয়ামী লীগ এর নীতি নির্ধারকেরা কি ইচ্ছা করেই বুঝতে চায় না?? নাকি কোন সমান্তরাল সংগঠন আওয়ামী লীগের মধ্যে আছে যারা এই আপোষের রাজনীতি করে যাচ্ছে??
এই প্রশ্নগুলো বার বার দেয়ালে মাথা ঠুকে মরছে।

মেঘলা মানুষ এর ছবি

ফেসবুকে মানুষের শেয়ার করা নিউজ দেখে প্রথমে ভেবেছিলাম এটা মতিকন্ঠের খবর, এবং সেটা হলেই খুশি হতাম মন খারাপ

কৌস্তুভ এর ছবি

ভোটের আগে আওয়ামী লীগ এই কট্টরপন্থী অংশটাকে তুষ্ট রাখার চেষ্টা করে, তখন ব্যাপারটা সহজবোধ্য হয়। ভোট মিটে গিয়ে সরকার ক্ষমতায় চলে আসার পরে এখন এই তোষণ স্ট্র্যাটেজির কারণ কী?

সুমন চৌধুরী এর ছবি

কারণ হচ্ছে বিএনপি জামাত ধ্বংস হলে সেই জায়গাতে যদি বামের উত্থান হয় তাহলে আওয়ামী লীগ জনমের মতো মরবে, বাংলা কংগ্রেসের মতন। সেই হিসাবে আগে থেকেই ব‌্যাক আপে কিছু ছাগু রেখে দিলে লাভ ছাড়া ক্ষতি নাই।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

বাংলাদেশের কনটেক্সটে বিএনপি বিনাশ বা বামোত্থান কোনোটারই সম্ভাবনা নাই। বিএনপি বড়জোর শক্তির নিত্যতা সূত্রে জিয়া হইতে ইনুচে রূপান্তরিত হবে।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

সুবোধ অবোধ এর ছবি

বিএনপি বড়জোর শক্তির
নিত্যতা সূত্রে জিয়া হইতে ইনুচে রূপান্তরিত হবে।

হো হো হো

সুমন চৌধুরী এর ছবি

বিএনপি বড়জোর শক্তির নিত্যতা সূত্রে জিয়া হইতে ইনুচে রূপান্তরিত হবে।

তাতে তো আর হেফাজতের কোন দরকার নাই।

হাসিব এর ছবি

হেফাজত রাজনীতিতে পরে এসেছে এটা ঠিক। কিন্তু হেফাজতের নেটওয়ার্ক অনেকদুর বিস্তৃত। দেশের প্রতিটা এলাকায় এদের মসজিদ। মাদ্রাসা, মক্তব আছে। এদের একটা ঘুমন্ত হাতি বলা যেতে পারে। এরা যদি সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক প্রচারণা চালায় তাহলে সেটা দেশের যেকোন দলের জন্য একটা হুমকি। সম্ভবত এই কারণে আওয়ামী লীগ এদের তুষ্ট রাখার চেষ্টা করে।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

সম্ভব।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

সুবোধ অবোধ এর ছবি

আমারও তাই ধারণা।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

হেফাযতে ইবলিশকে প্যাসিভ এন্টিটি বিবেচনা করে ২টা সিনারিও চিন্তা করলাম:

সিনারিও ১:

আগের বারের মতো এবারও জামায়াত বিএনপি আবারো হেফাযতকে মাঠে নামাচ্ছে। সামনে সাঈদির আপিলের রায়। গত কিছুদিন যাবত খালেদা ও তারেক ইচ্ছাকৃত স্পষ্ট মিথ্যা দিয়ে মিডিয়ার কল্যাণে সরকারকে ব্যস্ত রাখার কৌশল নিয়েছে। জামায়াতের আগের বারের মনির পুঁড়ানো কৌশল ব্যর্থ হয়েছে। হেফাযতকেও সরকার ৩০ মিনিটে দৌঁড়ানি দিয়েছে। এবং পরে আবার সমাবেশের অনুমতি দেয় নাই। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগ সম্পর্কে হেফাযত আপাত মিষ্টি কথা বলে প্রগতিশীল মানুষ থেকে আওয়ামী লীগকে বিচ্ছিন্ন করছে। আওয়ামী লীগ - হেফাযতের সমঝোতার বিষয়টি প্রোপাগান্ডা স্টাইলে আলুটাইপ পত্রিকাগুলো নিয়মমাফিক প্রচার করা লক্ষ্য করেছি।

এর ফলে আওয়ামী লীগ মিত্রশূন্য হয়ে আগে থেকেই নানামুখী চাপে থাকবে। ফলে হেফাযত ও জামায়াত-বিএনপির পক্ষে সরকারকে কোণঠাসা করে ফেলা অপেক্ষাকৃত সহজ হবে। স্বাভাবিক অবস্থায় তারা এটা করতে পারবে না। কারণ, সরকার এখন নির্বাচনের চাপে নাই। গণ্ডগোল করলে সোজা লালদালান বা গুলি।

সিনারিও ২:

সাঈদির রায়কে সামনে রেখে সরকার সাময়িকভাবে হেফাযতকে নাঁচাতে চাইছে বিষে বিষক্ষয় সিস্টেমে। এটা দুর্ভাগ্যজনক ফ্যাক্ট যে, যুদ্ধাপরাধী সাঈদি বাংলাদেশে ব্যাপক পপুলার। কাদের মোল্লার কেসটা জামায়াতের কেস। সাঈদির কেসকে বাংলাদেশের 'আপামর মুসলমান'-এর কেস হিসেবে প্রচার করলে সেটা সফল হওয়া প্রায় নিশ্চিত। এমনিতেই আওয়ামী লীগ মানে হিন্দু, আওয়ামী লীগ মানে ইন্ডিয়া, আওয়ামী লীগ মানে নাস্তিক, এটা খাওয়ার লোক অনেক। সুতরাং সরকার একটা 'মুসলমান' পরিচয়ের এন্টিটির মাধ্যমে এটাকে কাউন্টার করতে চাইছে। প্রচণ্ডভাবে জামায়াত হেইট করে এরকম দীর্ঘদিনের 'ব্লগার'কেও দেখেছি হেফাযতের সমর্থন করতে, হেফাযতের প্রতি সফট কর্নার দেখাতে। যদি এই সিনারিও সত্য হয়, তবে এটা সরকারের ভুল অ্যাপ্রোচ। এটা হলে হয়তো বড়জোর স্বল্প মেয়াদে কাজে দিবে।

উপরের ২ সিনারিওর যেটাই ঘটুক, আওয়ামী লীগের প্রতি বীতশ্রদ্ধ না হয়ে তাদেরকে সমর্থন অব্যাহত রাখা উচিত বলে মনে করি। পরিস্থিতির ওপর লক্ষ্য রাখতে হবে অবশ্যই। তবে সেটা আমলিকের/সরকারের সাথে 'আমি নাই' হয়ে গেলে সরকার আরো বিপাকে পড়বে, যুদ্ধাপরাধীরা শক্তিশালী হবে।

-------------------
আমার কিছু জেনারেল ওপিনিয়ন:

ক) গণজাগরণ মঞ্চের প্রতি আওয়ামী লীগের দমন-নিপীড়ন একটা প্রোপাগান্ডামাত্র। মঞ্চের সমস্যা নেতৃত্ব আর টাকা-পয়সার ভাগাভাগি নিয়া। সরকার শাহবাগ থিকা মঞ্চ উঠায়া দিছে অনেক আগেই। আওয়ামী লীগ করা লোকজন নিজ দায়িত্বে এখনো কেউ ইমরানের সাথে আছে, কেউ তার বিপরীতে আছে।

খ) হেফাযতকে সরকারের পক্ষ থেকে বাঁশের ওপর রাখতে হবে। মানুষকে সচেতন করার কাজটা কঠিন; কিন্তু সেই কঠিন কাজটাই সরকারের করা উচিত। এই ইবলিশগুলারে মাথায় উঠালে সমস্যা।

গ) হেফাযতের কাউন্টার পার্ট হচ্ছে উগ্রনাস্তিক-বামাতি-খাসিগোষ্ঠী। ইনারা একে অপরের সম্পূরক।

ঘ) ট্রাইবুনালের বিচারের রায় হাসিনা দেয় না, রায় দেয় বিচারকরা। হাসিনার সরকারের কাজ রায়কে বাস্তবায়ন করা। সুতরাং সাঈদির ফাঁসি বহাল না থাকলে সেটা বিচারকদের দায়, ফাঁসি বহাল থাকার পরেও আম্রিকা-ইংল্যান্ড-সৌদির ডরে বা টেকাটুকা খেয়ে রায় কার্যকর না করলে সেটা হাসিনার সরকারের দায়। এই পার্থক্যটা মাথায় রাখলে সামনের দিনগুলোতে করণীয় বুঝতে অনেক সুবিধা হবে।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

অতিথি লেখক এর ছবি

উগ্র নাস্তিক কে নম্র নাস্তিক, কে এসাইলাম প্রত্যাশী খাসি আর কে খাঁটি নাস্তিক তা যাচাই বাছাই করার উপায়টা কি? সবাই তো আর আসিফ মহিউদ্দীন না যে লেখা দেখেই বোঝা যাবে খাসি। আস্তিক ধর্মের পক্ষে লিখলে সেটাই স্বাভাবিক বলে সবাই মনে করে, তাহলে একজন নাস্তিক ধর্মের বিপক্ষে লিখতে পারে সেটাও স্বাভাবিক। লিখতেই হবে আমি বলছিনা, কিন্তু লিখতেই পারে। তখন কি তাকে উগ্র নাস্তিক বা খাসি ট্যাগ করা হবে? তাহলে কি ধর্মবিরোধীতা করে কিছু লেখাই যাবেনা?

আমি ঐ বিয়ে, যৌনতা এসমস্ত চর্বিত চর্বনের কথা বলছি না। ধর্মের প্রাতিষ্ঠানিকতা বা অসারতা বা কুপমন্ডুকতা অথবা এজাতীয় কিছু নিয়ে লিখলেও কি আপনারা বলবেন নাস্তিকের উগ্রতা? তাহলে তো ভাই আইন করে দিলেই হয় নাস্তিকের কোন বাক স্বাধীনতা থাকবে না।

----ইমরান ওয়াহিদ

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

আমি ঐ বিয়ে, যৌনতা এসমস্ত চর্বিত চর্বনের কথা বলছি না।

আপনার চিন্তাধারা ঠিকাছে বলে মনে হয়। যে কারণে আস্তিক মানেই উগ্র আস্তিক না, সে কারণেই নাস্তিক মানেই উগ্র নাস্তিক না।

আমার পরিমাপে, যে কারণে নরমাল নাস্তিক এবং নরমাল আস্তিক আক্রান্ত বোধ করে, সেই কারণগুলার চর্চাসর্বস্ব নিজেকে আস্তিক/নাস্তিক পরিচয় দেয়ারাই উগ্রআস্তিক/উগ্রনাস্তিক।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

হাসিব এর ছবি

মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে খাসি ননখাসি পার্থক্য তৈরি করে সেইটা ইমপ্লিমেন্ট করার প্রায়োগিক সম্ভাবনা প্রায় শূণ্য। কারণ আপনি কে খাসি কে খাসি না এইটার কোন স্ট্যান্ডার্ড তৈরি করতে পারবেন না। এখন এই সমস্যার একটা সমাধান হলো খাসিদের চরতে দেয়া। বাকস্বাধীনতা সরাসরি সন্ত্রাসি কাজে উস্কানি, পরিকল্পনা, সংগঠন, মিথ্যা ইতিহাস, কথা বার্তা তৈরি, চুরিচামারি ইত্যাদি বাদে বাকিটা ছেড়ে দেয়া যায় মনে হয়।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

বাকস্বাধীনতা সরাসরি সন্ত্রাসি কাজে উস্কানি, পরিকল্পনা, সংগঠন, মিথ্যা ইতিহাস, কথা বার্তা তৈরি, চুরিচামারি ইত্যাদি বাদে বাকিটা ছেড়ে দেয়া যায় মনে হয়।

একমত।

কে খাসি কে খাসি না এইটার কোন স্ট্যান্ডার্ড তৈরি করতে পারবেন না।

এটা সংজ্ঞায়িত করা কঠিন। তবে সেটা করা দরকার। তা না হলে মানুষ বুঝবে না কোনটা সঠিক, কোনটা বেঠিক। এতে ক্ষমতাবানের ইচ্ছামতো ব্যবহারিক প্রয়োগ পালটে যায়। উপরের উদ্ধৃতিটাই একটা সংজ্ঞা হতে পারে।

এই সমস্যার একটা সমাধান হলো খাসিদের চরতে দেয়া।

এতে সমাধান হবে না। এটা যেই ক্যাচাল, সেই ক্যাচালই থেকে যাবে। স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করে তারপর সেটা প্রয়োগ করা দরকার। ৫৭ ধারার প্রবলেমও এটাই।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

অতিথি লেখক এর ছবি

যুগে যযুগে ধর্ম স্র্ষটি হয়েছে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে, রাজনীতিতে ধর্মকে তো বারবার টেনে আনাই হবে। সেটাই স্বাভাবিক। দেশের অধিকাংশ মানুষ যেখানে ধর্মভীরু, সেখানে ধর্মীয় মারপ্যাঁচের চ্যালেঞ্জ তো সরকারকে ফেস করতেই হবে। কটা নাস্তিক ভোট আছে দেশে? দশ হাজার? বিশ? এর বেশি তো আর নয়। সেক্ষেত্রে এদের ব্যাপারে সরকার কেনই বা মাথা ঘামাবে? সরকারের মাথা বরং মোল্লা শ্রেণীর দাবি দাওয়া নিয়েই ঘামানোর কথা। যদিও এই শ্রেণীর ভোট আওয়ামী লীগ কখনোই পাবে না, তবুও বেল গাছেও তো কাক বসে, নাকি?

আজ শফী এন্ড কোম্পানী যে কাউকে নাস্তিক ট্যাগ দেয়ার অধিকার পেয়েছে কারণ সে অধিকার তাদেরকে দিয়েছে দেশের সাধারণ মানুষ এবং তাদের ধর্মভীরুতা। সরকার কিভাবে সাধারণ মানুষের এই মতকে দূরে ঠেলবে, রাজনীতি বলে কথা। দুই চার দশজন নাস্তিক মারা গেলে কি হবে আর? অনলাইনে ই চারজন কদিন চিতকার করবে, এইতো। প্রগতিশীল অনলাইন সেলিব্রেটি বা এলিট ব্লগার শ্রেণীর অধিকাংশও কিন্তু শেষপর্যন্ত নাস্তিকের বিপক্ষেই কথা বলবেন। তাঁ্রা বলবেন এরা কেউ খাঁটি নির্মোহ নাস্তিক ছিলো না। ছিলো এসাইলাম প্রার্থী উগ্র নকল নাস্তিক।

সুতরাং জয়তু নাস্তিক বিরোধীতা। আল্লামা শফী জিন্দাবাদ। জয় বাংলা, জয় আওয়ামী রাজনীতি।

----ইমরান ওয়াহিদ

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

প্রগতিশীল অনলাইন সেলিব্রেটি বা এলিট ব্লগার শ্রেণীর অধিকাংশও কিন্তু শেষপর্যন্ত নাস্তিকের বিপক্ষেই কথা বলবেন। তাঁ্রা বলবেন এরা কেউ খাঁটি নির্মোহ নাস্তিক ছিলো না। ছিলো এসাইলাম প্রার্থী উগ্র নকল নাস্তিক।

খাসিরা নাস্তিকতাকে মিজইউজ করে, যেরকম ছাগুরা ধর্মকে মিসইউজ করে। সুতরাং এমন কোনো পালে হাওয়া না দেয়াই ভালো, যেটা এই দুই গ্রুপকে প্রত্যক্ষে বা পরোক্ষে এইড করে। উদাহরণ, আসিফ মহিউদ্দিনকে ডলা দিলে সে 'নাস্তিক', তাই ভালু - এই সমীকরণ থিকা তার জন্য কান্নাকাটি করলে আখেরে প্রবলেম।

আপনার সংখ্যা রাজনীতির হিসাবটা ঠিকাছে। বিষয়টা খারাপ হলেও বাস্তব। সাইড নিতে হলে যে কোনো দলই বাংলাদেশে উগ্রআস্তিক সাইড নিবে। এটা অপেক্ষাকৃত সহজ। বিএনপি সরাসরি সাইড নেয়ার ঘোষণা দিয়া এদেরকে ইউজ করে রাজনীতি করে, আওয়ামী লীগ চেষ্টা করে এদেরকে না খেপাইয়া রাজনীতি করতে। এক্ষেত্রে 'প্রগতিশীল'দের অবস্থান হওয়া উচিত সরকারকে সমর্থন দেয়া যে, এদেরকে কোনো ছাড় দেয়া না হোক, আমরা সাথে আছি। সরকার তারপরেও 'প্রগতিশীল'দের কথা না শুনতে পারে। নির্ভর করে সংখ্যার ওপর। তবে সরকারকে গালি দিয়া 'সাথে নাই' বললে কোনো লাভ নাই। ঠ্যাকা আমাদের।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

অতিথি লেখক এর ছবি

ধর্মের আফিম না খাওয়াতে পারলে কি এখানে রাজনীতি করা যাবে? এটাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে, তাই আপোষ তত্ত্বে নেমেছে সরকার। আবার অন্যদিকে রাজনীতির মাঠে সরকারের এখন সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষের নামও বোধহয় হেফাজত। হেফাজতের মতো এত জনগন একত্রিত করার ক্ষমতা এখন বিম্পি-জামাতের নেই। দেশে বিশঙ্খলা করার মত শক্তি ওদের আছে বলে ভাবছে সরকার, তাই তাদের শান্ত রাখা জরুরি। ওদের কে শান্ত রাখতে পারলেই আগামি পাঁচ বছর তেমন কোন চিন্তা নেই, অনন্ত আগামী দু-তিন বছর রাজনীতির মাঠে কোন প্রতিপক্ষ নেই। ওদিকে সাঈদীর রায় কার্যকর করা হবে, এই মহুর্তে তাই তাদের শান্ত রাখার কোন বিকল্প নেই। এমন ভাবনা থেকেই হেফাজতের সাথে আপোষে যাচ্ছে সরকার। আওয়ামিলীগ চাইছে যে কোন উপায়ে হোক কোন প্রকার ঝামেলায় না গিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে হবে আগামী দুই-তিন বছর। নিজের অস্তিত্ব সবার আগে, তারপর জনগন। জনগনকে (আওয়ামিলীগ সাপোর্টারদের) যারা কিছুটা হতাশ হবে দলের উপর তাদের কাছে টানার টনিকের অভাব নেই আওয়ামিলীগের কাছে, সেগুলো সময় মতো ছেড়ে দিলেই আবার পতাকা তলে ফিরে আসবে। সুতরাং দুই একজন ব্লগার গ্রেফতার এগুলো কারো মনে থাকবে না। এমন মহৎ আদর্শের রাজনীতির বলি হওয়া ছাড়া বাঙালির আর কিছু করার নেই।

মাসুদ সজীব

হাসিব এর ছবি

ওদিকে সাঈদীর রায় কার্যকর করা হবে, এই মহুর্তে তাই তাদের শান্ত রাখার কোন বিকল্প নেই। এমন ভাবনা থেকেই হেফাজতের সাথে আপোষে যাচ্ছে সরকার।

সাঈদীর রায়ের সাথে হেফাজতের সম্পর্ক কম। সাঈদী ঘরাণার ধর্মীয় চর্চার সাথে কওমীরা কখনো যায় নাই। এই কারণে সাঈদী কওমীদের সাথে ততোটা গুরুত্বপূর্ণ না যতোটা এই লোক আলিয়া মাদ্রাসা গ্রুপের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সাঈদীর ফাঁসি হলে মারমারকাট করবে এই শিবির নিয়ন্ত্রিত আলিয়া গ্রুপ।

হেফাজতকে ঠান্ডা রাখার আরেকটা কারণ হতে পারে ধর্মভিরু চট্টাগ্রামের কোটিপতিদের হাতে রাখা। ধর্মের কল দিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব। ফান্ড ছাড়া কোন দল চলে না।

অতিথি লেখক এর ছবি

সাঈদীর রায়ের সাথে সম্পর্ক একেবারেই কম এমনটা আমার মনে হয় না। হেফাজতের মূল উত্থান কিংবা আন্দোলনটা শুরু হয়েছে রাজাকারদের বিচারের দাবিতে গনজাগরণের বিপরীতে। তার আগে এরা নিশ্চুপ ছিলো মোটামুটি। তাদেরকে যারা নামিয়েছে পথে তারা নিশ্চয় জামাত আর তার দোসর। সুতরাং জামাতের সাথে আদর্শের মিল না থাকলেও আত্নার (মুসলমান-মুসলমান/হুজুর-হুজুর) একটা টান তাদের রয়েছে। পথ কিছুটা ভিন্ন হলেও বিপদের সময় মুসলমানিতত্ব নিয়ে একজন আরেকজনের জন্যে দাঁড়িয়ে যায়। নিম্ন আদালতে সাঈদীর ফাঁসির রায়ে আমার নিজের দেখা দুটো কাওমী মাদ্রাসার ছেলেরা রাস্তায় বিশঙ্খলা করেছে। সুতরাং সরকারের মাথায় এ চিন্তা আসা একেবারে অস্বাভাবিক নয়।

হুম আপনার দ্বিতীয় কথার সাথে একমত। ধর্মভীরু চট্রগ্রামের কোটিপতিদের হাতে রাখাও এ ক্ষেত্রে কাজ করেছে। ধন্যবাদ।

মাসুদ সজীব

অতিথি লেখক এর ছবি

একটা সময় পর্যন্ত এদেশে আলিয়া বনাম কওমী বা তাবলীগ বনাম জামাত এরকম সেনারিও ছিলো বটে। কিন্তু সম্প্রতি সবাই আমে দুধে মিশে একাকার। এবং তা হয়েছে যুদ্ধাপরাধীর বিচারকে কেন্দ্র করেই। বিম্পি জামাতের ছত্রছায়াতেই হেফাজতের রাজনৈতিক উত্থান, ভুলে গেলেন নাকি হাসিব্বাই? নাকি কওমী মাদ্রাসাওয়ালাদের ৭১'এর ভুমিকার কথা ভুলে গেলেন? এমনকি পাকিস্তানপ্রেম এবং উর্দুপ্রেমেও তো কওমী মাদ্রাসাওয়ালারা অনেক এগিয়ে আছে।

রাজীবের হত্যাকান্ড ছিলো পলিটিক্যাল মার্ডার, নাস্তিক কতল নয়। এটা ছিলো গনজাগরণকে নাস্তিকদের আন্দোলন তকমা দিয়ে হেফাজতের রাজনৈতিক এন্ট্রির ভুমিকা। তাদের রাজনৈতিক স্লোগান কি এটা ছিলো না, যে প্রক্ষ্যাত আলেমদের মুক্তি চাই শাহবাগী নাস্তিকদের ফাঁসী চাই? এবারও তারা স্লোগান দেবে আল্লামা সাইদীর মুক্তি চাই, ইসলাম বিরোধী আওয়ামী লীগ সরকারের পতন চাই। সরকার হয়তো এটা ঠেকাতেই সাপের মুখে চুমু খাচ্ছেন। কিন্তু তাতে ছোবল খাওয়া ঠেকাতে পারবেন বলে আমার বিশ্বাস হয়না। বরং তারা এটা সরকারের দুর্বলতা ভেবে আরো বেশি সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করবে বলেই আমার বিশ্বাস।

----ইমরান ওয়াহিদ

প্রোফেসর হিজিবিজবিজ এর ছবি

ভোটের রাজনীতিতে নীতির কোন বালাই নেই। যে সাপ ও ব্যাঙ উভয়ের গালে চুমু দিয়ে নিজের আখের গুছিয়ে নিতে পারে, তারই জয়জয়কার চারিদিকে।

____________________________

অতিথি লেখক এর ছবি

ঠ্যাকা আমােদর

সেটাই বলাই'দা, সে কারণেই শত আশাভঙ্গের পরেও সমর্থন দিয়েই যাই। দুরাশা হলেও আশায় থাকি, হাজারো রাজনৈতিক সমীকরণের পরেও যদি কখনো সরকার একটু ভেবে দেখতো।

----ইমরান ওয়াহিদ

এক লহমা এর ছবি

চলুক
কতলের হুকুম ও সমঝোতার ইশারা আরো বাড়বে বলেই মনে হয়।

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।