হোমেজ টু ক্যাটালোনিয়াঃ ক্যাটালোনিয়ায় স্বাধীনতা

হাসিব এর ছবি
লিখেছেন হাসিব (তারিখ: সোম, ০২/১০/২০১৭ - ৬:৫৬পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

গতকাল স্পেনের ক্যাটালোনিয়া স্বাধীনতা প্রশ্নে গণভোটে অংশ নিলো। ব্যাপক সহিংসতার মধ্য দিয়ে গণভোট ক্যাটালোনিয়ার স্বাধীনতার পক্ষে রায় দিয়েছে। সারাদিনের সহিংসতায় ৮ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। ক্যাটালোনিয়া স্বাধীনতা প্রশ্নে একদিনে এরকম অবস্থায় আসেনি। বহু বছরের অসন্তুষ্টি এর পেছনে রয়েছে। পুরো প্রেক্ষাপটটা বুঝতে আমাদের একটু পেছন দিকে যেতে হবে।

আজকে আমরা যে স্পেনকে চিনি সে স্পেনের সীমানা নির্ধারিত হয় অষ্টাদশ শতকের শুরুতে। ইউরোপিয়ান রাজবংশগুলোর বিবিধ বিবাদের এক পর্যায়ে কাটালোনিয়া স্পেনের সীমানার মধ্যে থিতু হয়। ইতিহাসে এটা বার্সেলোনা অবরোধ নামে পরিচিত।(১)

১৭১৪ সালে ক্যাটালোনিয়া স্পেনের সীমানায় আসার পর এর ওপর রাজধানী মাদ্রিদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। কাটালানরা সংস্কৃতি, আচার, ইতিহাস - সবকিছুতে মূল স্প্যানিশদের থেকে আলাদা ছিল এবং এখনও আছে। কাটালান ভাষার ওপর বিভিন্ন সময়ে আক্রমণ এসেছে। ক্যাটালোনিয়া স্পেনের সাথে একীভূত হবার পরপরই স্পেনের রাজা ৫ম ফিলিপ কাটালান সমাজে স্প্যানিশের আগ্রাসনের কাজটা শুরু করেন। ক্যাটালোনিয়ার পতাকা-ব্যানার সব পুড়িয়ে কাটালান সমাজে স্প্যানিশ চালু করার নির্দেশ দেন। ৫ম ফিলিপের ভাষায় ""The mayor must take the utmost care in introducing the Spanish language, using the most discreet and temperate measures, so that only the effects are felt, and not the measures." (২)

আধুনিক সময়ে কাটালান ভাষা ১৯৩৯এ স্পেনের গৃহযুদ্ধ শেষ হবার পর ফ্রাঙ্কোর শাসনামলে স্কুলে নিষিদ্ধ করা হয়। “Hable el idioma del imperio” (Language of the empire বা সাম্রাজ্যের ভাষা) স্প্যানিশকে একমাত্র অফিশিয়াল ভাষা ঘোষণা করে কাটালানের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়।(৩) ফ্রাঙ্কোর সময়টাতে (১৯৩৬ - ১৯৭৫) সালে স্পেনের অন্য অঞ্চল থেকে স্প্যানিশরা কাটালানে পেশাগত, ভাগ্য অন্বেষণ ইত্যাদি কারণে ক্যাটালোনিয়াতে বসতি করে। এই নতুন বসতি করা লোকেরা স্প্যানিশ ভাষায় পারদর্শী ছিল এবং যেহেতু সব জায়গার অফিসিয়াল ভাষা স্প্যানিশ সেহেতু তারা এক ধরণের সুবিধাজনক অবস্থায় দ্রুতই উঠে আসে। এভাবে ভাষাগত নিপীড়নের একটা অর্থনৈতিক চেহারা দেখা দিল ক্যাটালোনিয়াতে।

স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত এলাকাগুলোর মানচিত্র

স্বৈরশাসক ফ্রাঙ্কোর শাসনামল ছিল টোটালিটারিয়ান। রাজনীতি, ভাষা, সংস্কররটি সব একবিন্দুতে একীভূত করার ধারণা এটা। নানা নিপীড়নে ৪ লাখের বেশি লোক মৃত্যুবরণ করে এই সময়ে। (৪) সংখ্যালঘু হিসাবে কাটালানরা এর ভুক্তভোগী ছিল বলাইবাহুল্য। ১৯৭৫এ ফ্রাঙ্কোর মৃত্যুর পর ১৯৭৮এ ক্যাটালোনিয়ার ভাগ্যে স্বায়ত্তশাসনের রাস্তা খোলে। বেশ উচ্চপর্যায়ের স্বায়ত্তশাসনের প্রস্তাব আনা হয়। অনেক কাঠ খড় পুড়িয়ে এই স্বায়ত্তশাসন ১৮ই জুন ২০০৬ সালে গণভোটে পাশ হয়। এর ৪ বছর পরে ২০১০এ স্পেনের সাংবিধানিক আদালত এই আইনের ১৪টি ধারা পুনর্লিখন করে এবং ২৭টি ধারার ব্যাখ্যা আরোপ করে। আদালত ক্যাটালোনিয়ার সাথে অন্যান্য অঞ্চলের বৈষম্য কমানোর ধারাগুলোও বাদ দেয়। উচ্চ আদালতের এই রায় ব্যাপক গণ অসন্তোষ সৃষ্টি করে।(৫) এখানে উল্লেখ্য, ক্যাটালোনিয়া স্পেনের ১৯% জিডিপির যোগানদাতা। এরা স্প্যানিশ রাজস্বে যা যোগান দেয় এবং যা বরাদ্দ পায় তার পার্থক্য প্রায় ১০ বিলিয়ন ইউরো। এ থেকে ধারণা করা যায় সাংস্কৃতিক গাজোয়ারির সাথে অর্থনৈতিক বৈষম্যেরও শিকার কাটালানরা।

গণ অসন্তোষের এক পর্যায়ে ২০১৪তে ক্যাটালোনিয়াতে এক প্রতীকী গণভোটের আয়োজন করে। ভোটে ৮০% স্বাধীনতার পক্ষে রায় দেয়। এরপর ক্যাটালোনিয়ার স্বাধীনতার পক্ষের দলটি ক্ষমতায় আসে ২০১৫ সালে। এরা গত ৬ই সেপ্টেম্বার, ২০১৭তে এক আইন পাস করে। এই আইনে একটা গণভোটের প্রস্তাব তোলা হয় যেখানে প্রশ্ন রাখা হয়,

"Do you want Catalonia to become an independent state in the form of a republic?"

এর উত্তর হিসাবে হ্যাঁ অথবা না ভোটের সুযোগ রাখা হয়। আইনে বলা হয় গণভোটের রায় মেনে দুইদিনের মধ্যে ক্যাটালোনিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণা করতে হবে। (৬) এই গণভোট বিল মাদ্রিদের কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাখ্যান করে। সাংবিধানিক আদালত এই গণভোট বিলকে বাতিল ঘোষণা করে। ক্যাটালোনিয়ার গণভোট আয়োজনকারই নির্বাচনি কর্মকর্তাদের গ্রেফতার করা হয়। ব্যালট পেপার জব্দ করা হয়ে। পুলিশ বাহিনীকে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রেসিডেন্ট ক্যাটালোনিয়ার সরকারকে de facto suspended the self-government of Catalonia and has applied a de facto state of emergency ঘোষণা করে। (৭)

এই বিশৃঙ্খল অবস্থার মধ্যে গতকাল গণভোট অনুষ্ঠিত হলো। কেন্দ্রীয় সরকার পিটিয়ে ৮৪৪ জনকে (৮) আহত করেও গণভোট থামাতে পারেনি। হ্যাঁ ভোট পড়েছে ৯০ শতাংশ। অর্থাৎ, গণভোট বিল অনুযায়ী আগামীকালের মধ্যে ক্যাটালোনিয়া স্বাধীনতা ঘোষণা করার কথা।

ক্যাটালোনিয়ার সামনে স্বাধীনতার ঘোষণা ছাড়াও আরও চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। ক্যাটালোনিয়া স্বাধীন হওয়া মানে ইউরোপীয় ইউনিউনের বাইরে চলে যাওয়া। ক্যাটালোনিয়ার নেতারা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে যোগ দেবার ইচ্ছা করলেও ইইউ প্রেসিডেন্ট জা ক্লদ জাঁকার বলেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নে ঢুকতে হলে গণভোট আইনসম্মত অর্থাৎ স্পেনের সাংবিধানিক আদালতের সম্মতিতে হতে হবে। বলাবাহুল্য এটা হবার কোন সম্ভাবনা আপাতত নেই। দেশের আইনকে অমান্য করে আলাদা দেশ হিসাবে স্বীকৃতির অন্যান্য কিছু অসুবিধাও আছে। এটা মেনে নিলে ইউরোপের অনেক ছোট ছোট প্রদেশ যেমন বাভারিয়া, স্কানিয়া, ফ্লান্ডারস - এরা স্বাধীনতা ঘোষণা করতে পারে। এটা এক বিরাট অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অতি সতর্কতার এটা একটা কারণ ধরে নেয়া যায়।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের রাস্তায়ই আন্তর্জাতিক মহল হাঁটবে এটা ধরে নেয়া যায়। ইউরোপিয়ান অখণ্ডতা নষ্ট হয় এরকম কোন কাজে অনেক দেশই আগ বাড়িয়ে উৎসাহ দেবে না। আবার সাথে একথাও সত্য, একটা গণভোট হয়েছে। সে গণভোটের রায়ে স্বাধীনতা চেয়েছে একটা জনগোষ্ঠী। এই চাওয়াকে দমাতে স্প্যানিশ সরকার যেরকম দমন নিপীড়ন চালিয়েছে সেটা গণরায়কে আরও শক্তিশালী নৈতিক ভিত্তির উপরে দাঁড় করিয়েছে। আগামী দিনগুলোতে নতুন একটা দেশে উদ্ভব হবার সম্ভাবনা তাই জোরালোই থাকছে।

সূত্র

(১) বার্সেলোনা অবরোধ (উইকিএন্ট্রি)
(২) The Catalan language is still in danger, despite its resurgence
(৩) The rebirth of Catalan: how a once-banned language is thriving
(৪) ফ্রান্সিস্কো ফ্রাঙ্কো উইকিএন্ট্রি
(৫) Statute of Autonomy of Catalonia উইকিএন্ট্রি
(৬) গণভোট বিল (পিডিএফ)
(৭) Catalonia referendum: Does the region want to leave Spain?
(৮) আহতদের সংখ্যা
(৯) ছবিসূত্রঃ ১
(১০) ছবিসূত্রঃ ২

সম্পর্কিত সুতো

(১) রেডিট লাইভ ফিড
(২) টুইটার ফিড
(৩) টুইটার ছবি ফিড
(৪) টুইটার ভিডিও ফিড


মন্তব্য

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

স্পেন আসলে একটা জাতির দেশ না। অবশ্য দুনিয়ায় খুব কম দেশই আছে যাকে একটা জাতির দেশ বলা যাবে। তবে স্পেনের জাতিগুলোর মধ্যে জাতীয়তাবোধ প্রবল। বাস্ক কাউন্টি বা ভ্যালেন্সিয়ার লোককে নিজেকে স্পেনীয় না বলে বাস্ক বা ভ্যালেন্সীয় দাবী করতে দেখেছি। কাতালুনীয়দেরকে কাস্তিযানদের ব্যাপারে প্রবল বিরাগ প্রকাশ করতে দেখেছি। স্পেনে এই জাতিতে জাতিতে ঠোকাঠুকির ইতিহাসও পুরনো, তাই কাতালুনীয়দের এই সিদ্ধান্ত স্বাভাবিক। এই সিদ্ধান্তটাকে বাস্তবায়ন করা যাবে কিনা সে প্রশ্নটা বড় আকারে থাকলেও একটা সন্দেহ হয় যে ইউরোপ আবার অতি ছোট ছোট দেশের মহাদেশ হবার পথে চলে যাবে কিনা। জার্মানরা যে ঢেউ ঠেকাতে পারবে শ্লাভরা সে ঢেউ ঠেকাতে পারবে না। আজকে কাতালুনিয়া একটা কেস বলে বাকি দুনিয়া ইইউ'র ভয়ে আগ বাড়াবে না। কিন্তু এমন চার/পাঁচটা কেস দাঁড়ালে আলু পোড়া খাবার লোকের অভাব হবে না।

সম্প্রতি ইরাকী কুর্দীরাও স্বাধীনতার প্রশ্নে আয়োজিত গণভোটে স্বাধীনতার পক্ষে রায় দিয়েছে। তবে তার পরিণতি কী হবে সেটা জানা। চারটা দেশে ভাগ হওয়া কুর্দীস্তানের স্বাধীনতা অধরাই থেকে যাবে।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

মন মাঝি এর ছবি

ইরাকী কুর্দীদের ধারণা, নিজেদের জন্য স্বাধীণতা আদায় করে নেয়ার জন্য এটাই সেরা সময়। এমন সুযোগ ওরা আর পাবে কিনা সন্দেহ। এজন্যেই আর সবার (এমনকি মার্কিনিদেরও) আপত্তি সত্ত্বেও ওরা গণভোটটা করেছে। ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে ওরা অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে মনে হয় "তুলনামূলকভাবে" ভাল ও শক্তিশালী অবস্থানে আছে। এই সময়ে ইরান আর তুরষ্ক ছাড়া ওদের বিরোধিতা করার মতো আর কোন বর্ডারিং শক্তি নাই। ইরাকী কেন্দ্র সরকার বা সিরিয়ানরা এই মুহূর্তে ওদের বিরুদ্ধে বড় কিছু করতে পারবে বলে মনে হয় না। পারলে গণভোটটা করতে পারত না - ক্যাটালোনিয়ার মতোই হতো। ওরা এখন কৌশলগত কারনে মার্কিন ও পশ্চিমা ছত্রছায়া পাচ্ছে, যা অদূর ভবিষ্যতেও থাকবে বলে মনে হয় বিভিন্ন স্বার্থ ও কৌশলগত কারনেই। আইসিস, শিয়া প্রভাবিত বর্তমান ইরাক, ইরান, সুন্নী প্রভাবিত অন্যান্য অঞ্চল, সিরিয়া যুদ্ধ এবং সামগ্রিক ভাবে চতুর্দিকের ইসলামি মৌলবা্দ, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, যুদ্ধ ও বিশ্বের ভয়ঙ্করতম অরাজকতা ও সঙ্ঘাতের বর্তমান ও সম্ভাব্য ভবিষ্যতেরও বৃহত্তম কারখানার ঠিক মধ্যখানে একটা বেশ কৌশলগত, আইডিওলজিকালি সুইটেবল, ইফেক্টিভ ৩য় পাক্ষিক বাফার বলেই তো মনে হচ্ছে কুর্দীদের। অন্তত ভালোভাবেই সে রকম হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে হয়তো। এটা হয়তো অনেক বাইরের শক্তি হারাতে চাইবে না। অন্তত এখনো না। এই সুযোগে কুর্দীরা নিজেদের শক্তিবৃদ্ধি করে নিতে চাচ্ছে এবং নিচ্ছেও। বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে প্রিএম্পটিভলি ফ্যাক্টস অ্যাান্ড আর্গুমেন্টস অন দা গ্রাউন্ড তৈরি করে নিতে চাচ্ছে। গণভোটটা সেইপথে একটামাত্র পদক্ষেপ, এরপরে আরও আসবে। তবে এবারে সাদ্দাম হোসেন নাই। অন্যরা কে কি করতে পারবে নিশ্চিত না। ইরাকী শিয়ারা পারবে বলে মনে হয় না। পশ্চিমা শক্তির উপস্থিতিতে ইরান বা তুরষ্ক কে কতটুকু নাক গলাবে নিশ্চিত না। তাই ইরাকী কুর্দীস্তানের স্বাধীনতা অধরাই থেকে যাবে - একথা এত নিশ্চিত করে এই মুহূর্তে হয়তো বলা যাবে না। অধরা হয়তো নাও থাকতে পারে। আর বৃহত্তর অখণ্ড কুর্দীস্তান? এটা লং-টার্ম গেম, এই মুহূর্তে বা এই জেনারেশনে সেরকম কিছু অর্জন করার হঠকারী ইচ্ছা ইরাকী কুর্দীরা করবে বা করে বলে মনে হয় না। আরেকটা অদুর বা সুদুর ভবিষ্যত ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণের অকথিত আশায় থাকবে তারা। আপাতত ইরাকের অংশটাই সই। দেঁতো হাসি

****************************************

হাসিব এর ছবি

স্লাভরা ইতিমধ্যেই এরকম ভাগাভাগি কোরে ফেলেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ১ বার, সোভেয়েত ভাঙ্গার পর আরেকবার - এই দুই ঘটনা মিলে ওখানে সীমান্তে একটা স্থিতি আছে মনে হয়। এই জিনিসটা স্পেনে অমীমাংসিত এখনো পর্যন্ত। গত তিনশত বছর ধরে কাটালানরা একধরণের নিপীড়নের মধ্য দিয়েই আছে। কাটালানরা আলাদা হতে চায় এবং আলাদা হয়ে একলা চলার সক্ষমতা তাদের আছে। আর এই রেফারেন্ডাম, আলাদা হওয়ার আলাপ তাদের মধ্যে অনেক বছর ধরে চলছে। এই আলাপ স্পেনের আচরণে আরও বাড়বে বলেই মনে হয়।

ইউরোপ আরও ছোট ছোট হবার সম্ভাবনা আছে বলে আমি ভাবি না। মূল সমস্যা হলো এরকম একটা নজির প্রতিষ্ঠা হওয়া যেকোন রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রতি হুমকি। এখন হয়তো সমস্যা নেই। কিন্তু এরকম সমস্যা ভবিষ্যতে আসবে। হয়তো কেউ তখন শরনার্থী বা ইইউ প্রশ্নে আলাদা হতে চাইলো। মতামতের অঞ্চলভিত্তিক পার্থক্য জার্মানির জাতীয় নির্বাচনেও দেখা গেছে।

কুর্দিরা আলাদা হয়ে যাবে মনে হয়। ওদের আটকে রাখার মতো শক্তিশালী রাষ্ট্র ব্যবস্থা তাদের নেই। তবে এতে এদের অনেকগুলো সমস্যার একটা কমবে হয়তো। বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা কুর্দিদের একত্র করার প্রশ্ন আছে। একটা অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রশ্ন আছে। যারা কুর্দিদের এতদিন খুন করে আসছে তাদের সাথে বোঝাপড়ার প্রশ্নটাও আছে।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

১। শ্লাভরা দফায় দফায় ভেঙেছে, তাদের আরও ভাঙার স্কোপ আছে। Hercegovina, Srpska, Slavonija, Dalmacija, Vojvodina, Sandžak, Preševo এমন সব নামের দাবীর ইয়ত্ত্বা নেই। Balkanization শব্দটা কি আর সাধে তৈরী হয়েছে!

২। শুধু কাতালুনীয়রা কেন, বাস্ক বা আন্দালুসীয়রা কি অমন নিপীড়নের মধ্যে নেই? কাস্তিযানদের সাথে একটু খাতির জমিয়ে কথা বলে দেখুন। দেখবেন তারা তাদের ভাইদেরকে কী চোখে দেখে!

৩। ইউরোপের দেশগুলোতে কমপক্ষে ৮০টা বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন আছে। স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানী, ইউকে, রাশিয়া'র মতো দেশগুলোতে এগুলো সংখ্যায় অনেক। এই ৮০টার মধ্যে ৮টাও সফল হলে ইউরোপের ভৌগলিক ও রাজনৈতিক চেহারাতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। ইইউ আজকে আছে, কালকে নাও থাকতে পারে, অথবা কালকে এমন শক্তিশালী না থাকতে পারে। বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন বিদ্যমান রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য হুমকি তো বটেই। তবে ধর্মছাগু, বর্ণছাগু, অর্থছাগু, ভাষাছাগু ইত্যাদি নানা রকমের ছাগুদের দিন ক্রমেই উজ্জ্বল হচ্ছে। তাই ভাঙাভাঙির খেলা মনে হয় বাড়তে থাকবে।

৪। কুর্দীদের ব্যাপারে আমি বিশেষ আশাবাদী না। ইরাকের সুন্নী কুর্দীরা আলাদা হলে শিয়া ইরান বা আলাওয়াইত শাসিত সিরিয়া তাতে যথেষ্ট গোস্বা হবে। এতে তাদের দেশের কুর্দীরা আরও উৎসাহিত হবে ভেবে সুন্নী তুরস্ক আরও বেশি গোস্বা হবে। ইরাকের এখন মেরুদণ্ডের জোর নেই বটে, তবে কুর্দীদের ঠাণ্ডা করতে বাইরে থেকে মেহমান ডেকে আনার লোকের অভাব নেই। তাছাড়া কুর্দীদের মধ্যে হাজারোটা দল-উপদল-সশস্ত্র গ্রুপ। এটা আরেক আফগানিস্থান। এই অবসরে নিরাপত্তার অজুহাতে ইরাকের কুর্দীস্তান তুরস্ক দখল করে নেয়াও বিচিত্র কিছু হবে না।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

হাসিব এর ছবি

একটা ইন্টারেস্টিং কম্পাইলেশন পেলাম রেডিটে। ড্যাটা সোর্স নিয়ে প্রশ্ন আছে। কমেন্ট ঘাঁটলে পাওয়া যাবে সেই বিষয়ে আলোচনাগুলো। তুলে রাখি এখানে,

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

ম্যাপটা দেখা মাত্র যে প্রশ্নটা মনে আসলো দেখলাম ওখানকার আলোচনার শুরুতেও সে প্রশ্নটা তোলা হয়েছে - ভেনেশিয়ান রিপাবলিক নিয়ে। এরা কি এখনো বেঁচে আছে!!

এভাবে শতকরা হিসেব করার খুব জোরালো ভিত্তি থাকতে পারে না। তাছাড়া ম্যাপগুলোতেও গোলমাল আছে। যেমন, বাস্করা আলাদা হলে ফ্রান্সের বাস্ক ভূমিসহই আলাদা হবে, সেক্ষেত্রে তাদের ম্যাপটা বাস্ক কাউন্টির বাইরে দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের কিছুটা জুড়ে হবে। Srpska'র ম্যাপটাও ঠিক না।

বৃহত্তর শ্লাভদের ব্যাপারে একটা মজার অবজারভেশন হচ্ছে, হস্তিনাপুরে থাকা নিশ্চিন্তপুরীরা আলাদা হতে চায়, আবার নিশ্চিন্তপুরে থাকা হস্তিনাপুরীরা আলাদা হতে চায়। আরে বাবা! যদি মিলে মিশে থাকতে না পারিস তাহলে তোদের নিজেদের নিজেদের ভূমিতে চলে যা! খামাখা এই ছোট ছোট দেশগুলোকে গুড়ো গুড়ো করার দরকার কি!

গতকাল উপরের কমেন্টটা করার পর এই বিষয়ে একটু ঘাঁটাঘাঁটি করলাম, এবং একটা নতুন তথ্য জানলাম। খোদ লন্ডনবাসীরা নাকি ইউকে থেকে আলাদা হয়ে আলাদা দেশ করতে চায়!!!


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

হযবরল এর ছবি

ভোটে দিতে কত পার্সেন্ট গিয়েছে সেটা একটা প্রশ্ন। এক জায়গায় দেখলাম ৪২%। এতো কম কেন ?

হাসিব এর ছবি

পুলিশ ভায়োলেনস একটা কারণ হতে পারে। উপস্থিতি কম কেন এই প্রশ্ন আসলে কেউ করছে না। স্পেন পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে তাদের নিজেদের পক্ষে কথা বলার সুযোগটাও হারিয়ে ফেলেছে।

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

কাতালুনিয়ান একজন বলল সবাই স্বাধীনতা চায়নাই। সেইটাও একটা কারণ হইতে পারে। যারা স্বাধীনতা চায়নায় তারা হয়ত ভোট দিতে যায়নাই।

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

কাতালানরা যদি স্বাধীনতা ঘোষনা এবং তা অর্জন করতে পারে, তাহলে স্পেনের আদি বাসিন্দা হিসেবে বাস্কদের সে অধিকার কি আরও বেশী নয়? অনেকদিন ধরে আন্দোলন সংগ্রাম করে করে হয়ত এখন ওরা কিছুটা ক্লান্ত, কিন্তু স্পেনের এই বাস্ক সমস্যাটা যে ধামাচাপা পড়ে গেছে সে কথা নিশ্চই বলা যাবে না। এমন আরও বেশ কিছু সম্ভাবনা বুকে নিয়ে ইউরোপ কি এখন এক ধরনের রুদ্ধশ্বাস আতঙ্কে কালাতিপাত করছে?

কিংবা ভারতীয় ইউনিয়ন? ভারত প্রজাতন্ত্রকে ঠিক কোন মন্ত্রশক্তি এখনও বেঁধে রেখেছে এক শক্ত বাঁধনে? পুর্ব ভারতের রাজ্যগুলো, পাঞ্জাব ও কাশ্মীরের মত অন্যদেরও কি কখনো ইচ্ছে হতে পারে একলা চলার? কেন ও কবে সে ইচ্ছা হতে পারে? সেরকম ইচ্ছা বাস্তবায়িত হলে তার ফলাফলই বা কী হতে পারে?

হাসিব এর ছবি

অধিকারের র‍্যাঙ্কিং বিপদজনক। এটা হতে পারে পক্ষ ১ এবং পক্ষ ২ উভয়ের অধিকার আছে। বাস্করা আলাদা হতে চাইলে আলাদা হোক।
ইন্ডিয়া এক আছে মূলত অর্থনৈতিক সূত্রে।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

আমার মনে হয় ভারত একত্রে আছে ধর্মের সূত্রে। উত্তর-পূর্ব ভারতের তিনটা রাজ্যে খ্রীষ্টানরা মেজরিটি (নাগাল্যান্ড ৯০%, মিজোরাম ৮৮%, মেঘালয় ৮৪%)। আরও দুইটা রাজ্যে অচিরেই খ্রীষ্টানরা মেজরিটি পাবে (মণিপুরে এখন ৪২%, অরুণাচলে এখন ৩২%)। আগামী ৫০ বছরে আসামে মুসলিমরা মেজরিটি হয়ে যেতে পারে (এখন ৩৫%)। এমনিতেই ভৌগলিক অবস্থান, কেন্দ্রের অবহেলা ইত্যাদি আরও দশটা কারণে উত্তর-পূর্ব ভারতে বহুকাল ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন আছে সেখানে খ্রীষ্টানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলে সাইপ্রাস-টাইপ অবস্থা তৈরী হতে পারে। বাকি ভারত (কাশ্মীর আর লাক্ষাদ্বীপ ছাড়া) হিন্দু মেজরিটি বলে, এবং দুনিয়ার আর কোথাও হিন্দুরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক না হওয়ায় (নেপাল আর বাংলাদেশ ছাড়া) সেখানে কোন বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন হালে পানি পাবে না। বড় জোর নতুন একটা রাজ্যের মর্যাদা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হবে। অর্থনৈতিক কারণ প্রবল হলে মহারাষ্ট্র, গুজরাত, হরিয়ানা, কর্ণাটকের মতো রাজ্যগুলো অনেক আগেই উত্তর প্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ডের মতো রাজ্যগুলো থেকে আলাদা হয়ে যেতো। ভাষা-সংস্কৃতি'র কারণ প্রবল হলে দ্রাবিড় রাজ্যগুলো (তামিলনাড়ু, অন্ধ্র, তেলেঙ্গানা, কেরালা, কর্ণাটক) ১৯৫৬ সালের আগেই (যখন তাদের আলাদা হবার সাংবিধানিক অধিকার ছিল) আলাদা হয়ে যেতো। পাঞ্জাব আলাদা হতে চেয়েছিল ধর্মীয় কারণে। পাঞ্জাব আলাদা হতে পারেনি কারণ সেখানকার ৩৫%-৪০% মানুষ যারা হিন্দু এবং আরও ৫% মানুষ যারা মুসলিম-খ্রীষ্টান-জৈন-বৌদ্ধ তারা শিখ রাষ্ট্রে থাকতে আগ্রহী ছিল না বলে।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

হাসিব এর ছবি

আমি জিনিসটা এভাবে ভাবি।
ধরা যাক, সেভেন সিস্টার্সের লোকেরা নানা অসুবিধায় আছে। এদের আলাদা হয়ে যাবার আন্দোলন করবে কে? উপমহাদেশের চরিত্র অনুসারে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী। এই মধ্যবিত্ত শ্রেণীর একজন যুবকের কাছে বাংলাদেশের পশ্চিমে যে ইন্ডিয়ায় অংশ আছে সেটা বর্ণবাদ, আঞ্চলিকতার অনেক সমস্যা মেনে নিয়েও অনেক সম্ভাবনার জায়গা। একজন উচ্চাভিলাষী যুবক বড় শহরে গিয়ে পড়ালেখা করতে পারে, আন্তর্জাতিক বাজারে ঢুকতে পারে। আলাদা হয়ে যাওয়া মানে এগুলো হারানো। কোন বুদ্ধিমান এইজন্য আলাদা হবার কথা ভাববে না।
ইন্ডিয়া ভাঙবে এটা ৯০এর আগের গল্প। অর্থনৈতিকভাবে পরাশক্তি হবার পরে আর কেউ ওগুলো ভাবে না।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

আমার সন্দেহ/আশঙ্কা/ধারণাগুলোর কথা জানিয়ে রাখি।

অর্থনৈতিকভাবে ভারত যত বড় পরাশক্তি হোক, ভারতের সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিন্যাসের দরুণ এখানে বৈষম্য ও অভ্যন্তরীণ শোষণের পরিমাণ অনেক (ছিল-আছে-থাকবে)। ফলে কিছু কিছু রাজ্য উন্নয়নের হিসাবে সব সময় পিছিয়ে থাকবে। এই পিছিয়ে পড়ার তালিকায় উত্তর-পূর্ব ভারত সব সময় ছিল-আছে-থাকবে। কিন্তু গত ৭০ বছরে উত্তর-পূর্ব ভারত অনেক বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন থাকা সত্ত্বেও আলাদা হয়নি বা হতে পারেনি। এটার কারণটা আপনি সঠিক চিহ্নিত করেছেন। রেনেগেড মধ্যবিত্ত শ্রেণী পশ্চিমে তার ব্যক্তিগত উন্নতির সম্ভাবনা দেখতে পায় বলে তারা এই সম্ভাবনাহীন বিচ্ছিন্নতাবাদের পেছনে জীবনক্ষয় করতে আগ্রহী না।

আমার পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, এই ইহজাগতিক চিন্তাটা মার খেয়ে যাবে যখন পরজাগতিক প্রশ্ন সামনে এনে দাঁড় করানো হবে। তখন বিত্ত নির্বিশেষে উত্তর-পূর্ব ভারতীয়রা যীশুর নিজের ভূমি প্রতিষ্ঠায় লেগে যেতে পারে।

লোকালদের ঘাড়ে চেপে বিজেপি সেখানকার রাজ্যগুলোতে সরকার গঠন করা শুরু করলেও বিজেপির অনেক ইস্যুতে তারা নিজেদের ভিন্ন অবস্থানের কথা তারা জানিয়ে দিচ্ছে, ফলে বিজেপিকেও ওখানে সুর নরম করতে হচ্ছে। এই মন কষাকষির কারণটা ধর্মীয়।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, দুনিয়ার বহু জায়গায় যথা সময়ে আলখাল্লাধারীরা উপাসনালয় থেকে বেরিয়ে রাজনীতির মাঠে প্রবলভাবে আবির্ভূত হয়, ক্ষমতায়ও যায়। উত্তর-পূর্ব ভারত যদি কখনো আলাদা হয় তাহলে সেটা ধর্মের কারণে হবে। এই জায়গাটাতে গ্যাঞ্জাম লাগানো ও সেখান থেকে ফায়দা তোলার জন্য সব বড় ভাইই মুখিয়ে আছে।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

একজন উচ্চাভিলাষী যুবক বড় শহরে গিয়ে.....আন্তর্জাতিক বাজারে ঢুকতে পারে

এরকম দু-একজন মানুষ তো পুরো কম্যুনিটির মনোভাব নিয়ন্ত্রন করতে পারে না, কিংবা পারবে না। একটা ব্যাপার মনে হচ্ছে, কাতালানদের বিচ্ছিন্ন হতে চাওয়ার পিছনে ভাষা ও সাংস্কৃতিক কারন ছাড়াও অর্থনৈতিক কারনটাও বেশ বড় ভূমিকা রেখেছে। কাতালানরা ইনকাম করে বেশী, খরচ করতে পারে কম। কিছুটা পাকিস্তানে পূর্ব-পাকিস্তানের মত অবস্থা। পুর্ব-পাকিস্তানের মানুষ অনুধাবন করতে পেরেছিল পাকিস্তান কাঠামো থেকে বেরিয়ে গেলে অর্থনৈতিকভাবে ভাল করা সম্ভব, কাতালানরাও তাই ভাবছে।

পূর্ব-পাঞ্জাবও তাই ভেবেছিল, কিন্তু সেই ভাবনার সাথে যে জাতীয়তাবাদী,ধর্মীয় এবং ভূ-রাজনৈতিক চিন্তা ভাবনা ও বাস্তবতা মিশ্রিত ছিল, তা তাদের চাওয়া পাওয়ার সামঞ্জস্য বিধান করতে পারে নি।

আবার সিঙ্গাপুরের মত অবস্থা কি হতে পারে কোন রাজ্যের। কোন রকম অর্থনৈতিক উপযোগীতা নেই, তাই তাকে ইউনিয়ন থেকে বিদায় করে দেয়া হল? এতে অবশ্য কিছুটা বিপদের আশংকা থেকে যায়, ঘাড়ের কাছে একটা বাফার ষ্টেটের জন্ম হওয়ার আশঙ্কা।

সিরাজুল আলম খান বোধ হয় একটা প্রেডিকশন করেছিলেন এরকম- ভবিষ্যতে ভারতীয় উপমহাদেশের চার প্রান্তে চারটি ফেডারেল কাঠামোর রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটবে, সকল রাজ্যই এই চারটি রাষ্ট্রের কোন একটিতে ঢুকে পড়বে। বাংলাদেশ, পশ্চিমবাংলা, আসাম এবং অন্যান্য পুর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলি নিয়ে গঠিত হবে পুর্বাঞ্চলীয় রাষ্ট্রটি।

হাসিব এর ছবি

একজন দুজন নয়, গোটা জেনারেশনই এভাবে ভাবে। ওয়েবে ইন্ডিয়ান ঠেকগুলো স্টাডি করলে দেখবেন সব প্রদেশেই ইয়াং জেনারেশনের মধ্যে এই ক্যারিয়ারকেন্দ্রিক প্যান ইন্ডিয়ান উচ্চাশা রয়েছে। তারা আলাদা হতে চেয়ে এই উচ্চাশা ও সম্ভাবনায় পানি ঢালবে না।

আর সিরাজুল আলম খান বহু আগে থেকে অগুরুত্তপূর্ণ লোক। উনার বিশ্লেষণকে পাত্তা দেবার কিছু নাই।

Safwath Abedin এর ছবি

এটা মেনে নিলে ফ্লান্ডার্স, বাভারিয়া, স্ক্যানিয়ার মত ছোট ছোট প্রদেশগুলো স্বাধীনতা ঘোষনা করতে পারে- এটি কোন যুক্তি বা তথ্যের ভিক্তিতে বললেন? নাকি আপনার নিজস্ব মতামত?

হাসিব এর ছবি

এটা একটা সম্ভাবনার উল্লেখ। সম্ভাবনার ব্যাপ্তি ০ থেকে ১। এমনও হতে পারে আমি যাদের নাম উল্লেখ করলাম তারা কেউই বিচ্ছিন্ন হতে চাইবে না ভবিষ্যতে। গণভোটের উপর দেশভাগ পুরোটা ছেড়ে দিলে যারা নিজেদেরকে একটা দেশের ভেতরে আলাদা ভাবে তারা আলাদা হতে চাইতে পারে - এইটা হলো বক্তব্য। জায়গা/অঞ্চলগুলোর উল্লেখ নিজেদের আলাদা মনে করে এরকম কয়েকটি জনগোষ্ঠীর উদাহরণ হিসাবে। তারা নিপীড়নের ভিতর আছে, বা তারা আলাদা হবার জন্য আন্দোলন করছে এরকমটা দাবি নেই আমার।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

Skåne-এর দাবীর কথা জানি না, তবে বাভারিয়া বা ফ্লান্ডার্সের দাবী কিন্তু একেবারে হালকা গলার না।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

Safwath Abedin এর ছবি

কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার দাবীটা যতটা না অর্থনৈতিক, তার চেয়েও বেশি মনস্তাত্বিক। তবে এই দাবীর যৌক্তিক আছে নিঃসন্দেহে।
অন্যদিকে জার্মানী, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস এর মত দেশগুলো তীব্র জাতীয়তাবাদী ধ্যান-ধারনা থেকে বেরিয়ে এসেছে অনেক আগেই। ফ্ল্যান্ডার্স অথবা বাভারিয়ান মানুষ তারা স্বতন্ত্র পরিচয় রেখেই বৃহত্তর ইউরোপিয় ধারনাতে একীভূত হয়েছে। যেমন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের রাজধানী ব্রাসেলস কিন্তু ফ্লেমিশ রিজওন এর অন্তর্গত। বাভারিয়ান অথবা ফ্ল্যান্ডার্স অঞ্চলের মানুষ তাদের ভিন্ন ডয়েচ অথবা ডাচ উচ্চারন নিয়ে মৃদ্যু 'কাজিয়া' করলেও স্বাধীনতার প্রশ্ন তোলার মত কোন উপাদান এইসব অঞ্চলে নেই, ভবিষ্যতেও এর সম্ভাবনা একেবারেই কম। এটা অনেকটা আমাদের দেশের চট্টগ্রাম, নোয়াখালি আঞ্চলিকতার সাথে তুলনা করতে পারেন!
তবে কাতালোনিয়ার স্বাধীনতা স্কটল্যান্ডকে উৎসাহিত করবে, একথা বলা যায়!

মেঘলা মানুষ এর ছবি

আমার ইতিহাসে জ্ঞান আসলে পাঁতিহাঁস লেভেলের। তবে, কেন জানি কাতালানদের মনে হচ্ছে আমাদের মতই, ১৯৭১ এ যেমন আমরা স্বাধীনতা চাইছিলাম, ওরাও চাইছে সেটা।

ভালো থাকুক সবাই।

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

কাতালুনিয়ান একজনকে জিজ্ঞেস করছিলাম এই বিষয়ে। সে বলল তাদের কিছু দাবিদাওয়া ছিলো যেগুলা সবাই চাইত মেনে নেয়া হোক। কিন্তু সবাই স্বাধীনতা চাইত না। গড়ে হয়ত ৫০ ভাগ মানুষ স্বাধীনতা চাইত। বাকিরা চাইত আলোচনা করে সমস্যা মেটানো হোক। মাঝখান দিয়ে স্পেন সরকার মারধর করে মানুষের মন বদলায় দিছে। মারধরের পর সরকার পুলিশের পক্ষে কথা বলে করছে আরো বিপদ। সব মিলায়ে এখন আর পিছে ফেরার উপায় নেই।

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

হাসিব এর ছবি

একজন র‍্যান্ডম লোকের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অ্যানেকটোড হবার সম্ভাবনা বেশি। সে স্পেনের পাবলিক অপিনিওনের বিশেষজ্ঞ না হলে তার কথায় আস্থা রাখা মুশকিল। এই রেফারেন্ডামের আগে পানি কতোটা গরম বুঝতে আরও রেফারেন্ডাম, ইন্ডিপেন্ডেন্ট সার্ভে হয়েছে। স্বাধীনতার পক্ষে বেশিরভাগ (ইফ নট অল) মত দেখলাম।
লিঙ্ক ১লিঙ্ক ২লিঙ্ক ৩

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

হ।
আমি খালি বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি-মতামত যেটা শুনছি সেটা যোগ করে দিলাম।

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA