মিডিয়াহাউসের মিডিয়াহাউশ

হিমু এর ছবি
লিখেছেন হিমু (তারিখ: বুধ, ২১/১২/২০১১ - ৩:০৭পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বেশ কিছুদিন ধরেই কখনো জোরেসোরে, কখনো ফিসফিস করে একটা কথা বেশ চলছে, ব্লগ নিয়ন্ত্রণে আইন করা জরুরি। প্রস্তাবটি কৌতূহলোদ্দীপক, এবং প্রস্তাবকদের নামগুলোকে এক সারিতে রেখে দেখলে, আমোদপ্রদও বটে।

প্রস্তাবটি যাদের মুখ থেকে জোরেসোরে বেরোচ্ছে, তারা মূলত কোনো না কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার অথবা বেতনভূক কর্মী। তারা সভা-সেমিনারে ব্লগ নিয়ন্ত্রণের জন্য আইন প্রণয়নের আহ্বান জানাচ্ছেন রাজনীতিকদের উদ্দেশে। তাদের সাথে থেকে কিছুটা নিচু গলায় সমর্থন জানাচ্ছেন কতিপয় বুদ্ধিজীবী নামযশোপ্রার্থী, যারা নিজেদের ব্লগ-বিশেষজ্ঞ বা সামাজিক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে আত্মপ্রসাদ পান। আর নীরব সমর্থনের কাজটি করে যাচ্ছে এই ইস্যুতে নাম জড়াতে অনাগ্রহী কয়েকটি মিডিয়াদানব। আর আবদারগুলো ভেসে উঠছে ব্লগারদের নামে। একটি মিডিয়ারচিত চিত্রনাট্যে নাম ভূমিকায় কিছু ব্লগার অভিনয় করে যাচ্ছেন, যাদের কথাবার্তা শুনলে মনে হয় তারা দুনিয়ার তাবৎ বাংলা ব্লগারের মুখপাত্র।

ব্লগিং এমনই এক মাধ্যম, যেখানে আসলে মুখপাত্রের প্রয়োজন নেই। ব্লগারদের দাবিদাওয়াগুলো তাদের লেখাতেই ফুটে ওঠে সাধারণত। ব্লগাররা নানা ইস্যুতে নানা দাবি আর আবদার তুলে ধরলেও বাংলা ব্লগে "ব্লগ নিয়ন্ত্রণে আইন"-এর দাবি নিয়ে আমব্লগাররা সোচ্চার, এমন দৃশ্য দুর্লভ। গুটিকয়েক ব্লগার, যারা এই কিছু প্রতিষ্ঠানের স্নেহধন্য বা কৃপাধন্য বা মজুরিধন্য, তারাই মালিকের বেসুরো গলার সাথে সারিন্দা বাজাচ্ছেন। মালিক নিজের মিডিয়ায় এদের পরিচিত করিয়ে দিচ্ছেন বিভিন্ন বাংলা ব্লগের মুখপাত্র হিসেবে। যেন যে কয়েক হাজার লোক ব্লগিং করেন, তাদের চাপেই এরা এই দাবি তুলে ধরছেন, এমন একটা ভাব।

কিন্তু ব্লগ-ফেসবুক-টুইটার তথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ে মিডিয়াহাউসগুলো কেন তাদের পোষ্য ব্লগারদের মাঠে নামিয়ে নিয়ন্ত্রণমূলক আইনের জন্যে সারিন্দাবাদনে লিপ্ত?

বাংলাভাষী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তারা নানা দুর্বলতার পরও মানুষকে এক অভূতপূর্ব ক্ষমতা দিয়েছে। এই ক্ষমতা মত প্রকাশের ক্ষমতা। এর অপপ্রয়োগের ছড়াছড়ি যেমন আছে, তেমনই আছে এর সঠিক প্রয়োগও। সংবাদপত্র আর ইলেকট্রনিক মাধ্যম এতদিন মানুষের এই মতের বাজারটি নিয়ন্ত্রণ করতো, এবং তাদের সম্পাদনার কাঁচির সাইজে মানুষের মতজলবায়ু মানুষের সামনে তুলে ধরতো। এই মতজলবায়ুতে মতের বর্ণালী করুণভাবে সংকীর্ণ, যেখানে সাধারণ মানুষ যে কোনো ইস্যুকেই নানাদিক থেকে দেখতে ও ব্যবচ্ছেদ করতে আগ্রহী। ব্লগ বা ফেসবুক বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষ তার নিজের মতটি তুলে ধরতে আর সেটি নিয়ে তর্ক করতে পারে এখন। এটি শুধু তার সক্ষমতাই নয়, অধিকারও বটে।

ভৌত গঠনবৈভিন্ন্যের কারণেই সংবাদপত্র আর ইলেকট্রনিক মিডিয়া মানুষের বহু মত ধারণে অসমর্থ। এই অসামর্থ্যের সাথে যোগ হয় তাদের রাজনৈতিক অভিলাষতাড়িত নিয়ন্ত্রণাকাঙ্খা, ব্যবসায়ী মনোভঙ্গিতাড়িত কাঁচিকৌশল আর কর্মীদের মেধার দীনতা। ফলে যে কোনো ইস্যুতে মানুষ সংবাদপত্র আর ইলেকট্রনিক মিডিয়া থেকে কাঁচা সংবাদ সংগ্রহ করলেও, পাশাপাশি নিজের মতটিও তুলে ধরে। সেই মতটি ক্ষমতাবানের জন্যে মাঝেমধ্যেই অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে।

কিন্তু সাধারণ মানুষ ক্ষমতাবানের মন যুগিয়ে মত প্রকাশ করে না। সে তা-ই বলে, যা সে বলতে চায়। তার এই বলতে চাওয়ার পটপত্তন হিসেবে ব্লগ নিঃসন্দেহে একটি শক্তিশালী মাধ্যম। তার বক্তব্যে ত্রুটি থাকলে তার লেখার নিচে তর্কের মাঠে অন্যেরা সেই ত্রুটি ধরিয়ে দেয়, তর্ক হয়, কলহ হয়, কিন্তু লড়াইটি হয় যুক্তির, তথ্যসূত্রসহ।

উপরন্তু ব্লগ এখন মিডিয়ার ত্রুটিনির্দেশের কাজেও পক্ক হয়ে উঠেছে। মিডিয়ার রাজনৈতিক আর ব্যবসায়িক ক্ষমতা শুধু প্রকাশে নয়, অপ্রকাশেও। মিডিয়া যখন ভুল কথা বলে, ব্লগে তার প্রতিবাদে আমরা সত্য উঠে আসতে দেখি। মিডিয়া যখন ঠিক কথা চেপে যায়, সেটিও ব্লগে উঠে আসে। তাই ক্ষমতাবানের সাথে মতপ্রকাশ ও মতগোপনের বাজারে মিডিয়াহাউসের দরকষাকষির সুযোগ সীমিত আকারে হলেও কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়। সময়ের সাথে ব্লগ আরো শক্তিশালী হবে, তখন এই দরকষাকষির সুযোগ আরো বাধাগ্রস্ত হবে। তাই সময় থাকতেই মিডিয়াহাউসগুলো "ব্লগ নিয়ন্ত্রণে আইন" প্রণয়নে চাপ দিয়ে মাঠে নেমে পড়েছে।

আমরা কৌতূহল নিয়ে দেখি, প্রচলিত মিডিয়া (সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মাধ্যম) নতুন মিডিয়ার (ব্লগ-ফেসবুক-টুইটার) পৃথক সত্ত্বাটিকে স্বীকার করে, কিন্তু পৃথক চরিত্রকে নয়। তারা নতুন মিডিয়াকে দেখতে চায় প্রচলিত মিডিয়ার নিয়ন্ত্রণে, অথবা নখদন্তহীন হিসেবে। ব্লগ নিয়ন্ত্রণে তারা আইন চায়, তাহলে সংবাদ নিয়ন্ত্রণে আইন চায় না কেন? আমি প্রশ্ন করতে পারি, ব্লগকে কেন সংবাদপত্রের মতো হতে হবে?

আইন ক্ষমতাবানকে রাষ্ট্রের ছায়ায় দাঁড়িয়ে নিজের স্বার্থানুগ ক্ষমতাচর্চার সুযোগ করে দেয় বহু ক্ষেত্রে। আমাদের দেশে আইন প্রয়োগ ও আইন তর্কের মঞ্চে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার ভীতিপ্রদভাবে সীমিত। তাই সাধারণ মানুষের মতপ্রকাশের একটি মাধ্যমকে বিকশিত হয়ে ওঠার পর আমরা দেখতে পাচ্ছি, একযোগে রাজনৈতিক শক্তি ও মিডিয়াশক্তি সেটিকে লাগাম পরাতে অস্থির হয়ে উঠেছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি, সাধারণ মানুষের মতনিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে এরা এক অক্ষে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। আমরা বুঝতে পারছি, রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভও তার বাকি তিনটি স্তম্ভের মতো সাধারণ মানুষের স্বার্থ থেকে দূরে দাঁড়িয়ে নিজস্ব স্বার্থসিদ্ধিতে আগ্রহী। ক্ষমতাসীন রাজনীতিক তার রাজনৈতিক স্বার্থ নিয়ে মিডিয়াহাউসের সাথে দর কষাকষি করতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রের নাগরিকের সঙ্গে নয়। কার সঙ্গে আপোষ বা চুক্তি করবেন আপনি, যখন প্রতিটি কণ্ঠই আলাদা মানুষের? তাদের কোনো একক নেতা নেই, মুখপাত্র নেই, যাকে পিটিয়ে বা বশে এনে বাকি মুখগুলো বন্ধ করা যাবে। যখন বহু কণ্ঠ উচ্চকিত, তখন ক্ষমতাবান আর ক্ষমতাবানের সাথে দরকষাকষিতে আগ্রহী মুৎসুদ্দি মিডিয়া এই বহু কণ্ঠের মুখে নিজের কথা গুঁজে দিতে চায়।

ব্লগের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক শক্তি আর মিডিয়াশক্তির নড়াচড়া মূলত সাধারণ মানুষের স্বার্থের বিপক্ষে সমরেখ অবস্থানে আসার নামান্তর। ব্লগ নিয়ন্ত্রণে আইন প্রণীত হলে মতপ্রকাশের বাজারটিও তার দখলেই যায়, যার আইনের হাতের সাথে করমর্দন করার কিংবা সেই হাতের সাথে পাঞ্জা লড়ার আর্থিক সঙ্গতি আছে। সাধারণ মানুষের দুর্বলতাও ওখানেই, তার মত আছে, কিন্তু সেই মতকে সমুন্নত রাখতে রাষ্ট্রের সাথে লড়ার হিম্মত নেই। এ কথা রাজনীতিকরা জানে, জানে মিডিয়াহাউসও। তাই সাধারণ মানুষের সাথে লড়তে গিয়ে তারা শুরুতেই আঘাতটা করতে চায় সেই দুর্বল গোড়ালির ওপর। মানুষ রাজনীতিকদের বিরুদ্ধাচরণ করতে পারে ও চায়, মিডিয়াহাউসেরও তোয়াক্কা করে না, কিন্তু রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সে অসহায়। তাই রাজনীতিক ও মিডিয়াহাউসের অভিন্ন স্বার্থকে রাষ্ট্রের স্বার্থ হিসেবে হাজির করতে পারলে তাদের স্বার্থ রক্ষার কাজটি রাষ্ট্রের কাঁধে চাপিয়ে দেয়া যায়। ব্লগ নিয়ন্ত্রণে আইন তাই মূলত সাধারণ মানুষকে রাষ্ট্রের প্রবল চেহারাটির মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা।

[এই লেখাটিতে আরো কিছু অংশ যোগ হবে, তথ্যসূত্রসহ। আপাতত আলোচনা চলুক।]


মন্তব্য

পুতুল এর ছবি

বাংলাদেশের মিডিয়া মোগলরা ব্যাপারটা ঠিক আন্দাজ করার আগেই ঘটে গেছে বিপ্লব। ট্রেন মিস করা যাত্রীর মতো পিছনে দাড়িয়ে আসলে আফসোস করা ছাড়া আর কিছু করার নেই তাদের।
কতো ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপন দেখতাম বিচিত্রার পাতায়। বেশীর ভাগ পড়ে মজাই পেতাম। আমার মনে হয় সেটাই এখন ব্লগিং। কিন্তু আরো অনেক ব্যপক অর্থে। এখানে চাইলেই কোন ছাপা মিডিয়া কিছু নিয়ন্ত্রন করতে পারছে না। ব্লগের লেখার মান অনেক উন্নত। মাঝে মাঝে দৈনিক কাগজ গুলোতে ক্লিক করলে পঠকদের জন্য মায়া হয়। এই ছাইবস্স পয়সা দিয়ে কিনে পড়ছে মানুষ!অবাক হই। অথচ তাদের কোন চয়েজ নেই। সব দৈনিকের প্রায় একই অবস্থা। ব্যতিক্রম অবশ্য আছে। কিন্তু সেই ব্যতিক্রমি কাগজেও দেখা যায় তথ্য পরিবেশনের ক্ষেত্রে কত সাবধানতা! ঠিক স্বাধীন এবং মুক্ত মাথা থেকে তা বের হচ্ছে না সেটা বোঝা যায়। ব্লগাররা কতো স্বাধীন। লিখতে এবং পড়তেও। যার লেখা ভাল লাগে তারটাই পড়ব। যে ব্লগের লেখা ভাল সে ব্লগের লেখাই পড়ব। লেখকের বেলায় তাই।
চিনের মতো একটা রাজনৈতিক রক্ষণশীল দেশের ছাপা সাহিত্যের ৯০ ভাগের যোগানদার হচ্ছে ব্লগ।
আমাদের ভাষার ছাপা মিডিয়ার ফসিল গুলো এতই ছাগল যে বুঝতেও পারছে না যে, তারা আসলে পতিত। এখনো ভাবছে হম্বিতম্বি করে ব্লগের গলায় লাগাম পরাতে পারবে! এদের কে করুনা করাও কঠিন।

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

ডিজিটাল সেনাশাসনের স্বপ্নদোষে আটকা পড়া নপুংসকগুলোকে বলে রাখি, ব্লগ নিয়ন্ত্রণে যদি আইন করার চেষ্টাও হয়, তাহলে ব্লগের উপর ছড়ি ঘোরানোর নোংরা সেই অভিলাশ প্রসাব করে ভাসিয়ে দেয়ার মতো ক্ষমতা ব্লগের এখনই রয়েছে!

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

কল্যাণF এর ছবি

গুরু গুরু
(বাঘুইয়েস)

অন্যকেউ এর ছবি

ব্লগ নিয়ে রাজনীতিবিদের বক্তব্য রাখা, ব্লগার গ্রেফতার হওয়া, ব্লগ নিয়ন্ত্রণ আইনের জন্য নড়াচড়া শুরু হওয়া, এই সব কিছুই নির্দেশ করে ব্লগকে রাজনৈতিক পর্যায়ে একটা উল্লেখযোগ্য প্রভাবক হিসাবে বিবেচনা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু একটা চিন্তা হানা দেয়, এই প্রভাব আসলে কতখানি জায়গায় বিস্তৃত? দেশের মূল ভোটদানকারী জনসংখ্যার সাথে প্রচলিত প্রচারমাধ্যমের যে সামগ্রিক যোগাযোগ, তার তুলনায় ব্লগের যোগাযোগ নিশ্চয়ই উপেক্ষনীয় পর্যায়ে চলে যায়। তবে, পুরো বাংলাদেশের মধ্যে, নগরবাসী মানুষের মতামতের দিকমুখিনতা এক ধরণের প্রভাব রাখে। নাগরিক জনের মধ্যে ব্লগের প্রভাব সামগ্রিক(জাতীয় পর্যায়ের কথা বলছি) জনমতের চেয়ে কিছুটা বেশি এবং ক্রমবর্ধমান, একারণেই কি প্রচলিত প্রচারমাধ্যম এখানে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়?

_____________________________________________________________________

বরং দ্বিমত হও, আস্থা রাখো দ্বিতীয় বিদ্যায়।

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

ব্লগারদের মুখে ঠুলি পরিয়ে দেবার মত জঘণ্য কাজটার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। যে ভাষায় কথা বলবার অধীকারের জন্য স্বাধীনতা এসেছে এখন পায়তারা চলছে সেটা বন্ধ করার!

এই নিয়ম হলে একই নিয়ম প্রযোজ্য করতে হবে পত্রিকা, টিভি, রেডিও মিডিয়ার জন্য।

তৌফিক খালিদী লিখেছেন:
যে কেউ একটি সংবাদ মাধ্যমের (টেলিভিশন চ্যানেল, সংবাদপত্র ইত্যাদি) মালিক হয়ে যাবে, এটা হতে পারে না। সেই সঙ্গে মোবাইল ফোনে যে কেউ সংবাদ সেবা দেবে, এটাও হতে পারে না।

ক্যানো হতে পারে না? এর পিছনে যুক্তি কি?

তৌফিক খালিদী লিখেছেন:
মত প্রকাশের নামে যা ইচ্ছা তাই প্রকাশের আমি বিরোধিতা করি

এই বিরোধীতার কারন কি? এই মত প্রকাশ তৌফিক খালিদীর কোনো ক্ষতি করেছে?

তৌফিক খালিদী লিখেছেন:
এটা এক ধরনের অপরাধ, আর এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সরকারকে অবশ্যই নতুন আইন করতে হবে।

এটা কোন ধরনের অপরাধ? বরং এর বিরুদ্ধে করা আইন হবে বাক স্বাধীনতা বিরোধী!

তার মতে, কোনো ব্যক্তির নামে কল্পকাহিনী, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো কথা ব্লগ কিংবা ফেইসবুক ও টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ অনুচিত।

উপরন্তু ইন্টারনেট/ব্লগ মডারেশন পুরো বাঙ্গালী জাতি পশ্চাদপসর এবং খোঁড়া করে দেবে।

আমার তো মনে হচ্ছে এরা ব্লগের বাবা মা হয়ে মনোপলি তৈরীর উদ্দেশ্যে এইসব করছেন। খুব কুৎসিত এবং বাজে উদ্দেশ্য!

এবিষয়ে সংবাদ:
‘দায়িত্বহীন মুক্তমত নয়’
যুক্তিহীন সমালোচনা, অশালীন ব্লগ নয়: আশরাফ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাইবার আইন

পুতুল এর ছবি

আপনি তৌফিক খালিদীর শেষ উদৃতিটি ভাল করে পড়ুন
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা যাবে না।
তার মানে জামাতীদের দাবীমতো ব্লাসফেমী আইন করতে হবে।

প্রতিক্রিয়াশীল সুবিধাবাদীদের বক্তব্য এমনই হয়।

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

হিমু এর ছবি

এই নিয়ম হলে একই নিয়ম প্রযোজ্য করতে হবে পত্রিকা, টিভি, রেডিও মিডিয়ার জন্য।

এখানেও একটা ফাঁকি আছে মুর্শেদ। পত্রিকা-টিভি-রেডিওর জন্যে ঠুলি পরানোর নিয়ম প্রণীত হলেও তাদের কোনো ক্ষতি নেই, কারণ অনেক ইস্যুতেই এগুলো নীরব থাকে। ব্লগ সে কারণেই সাড়া পেয়েছে, জনপ্রিয় হয়েছে। সাধারণ মানুষের তো পত্রিকা-টিভি-রেডিওতে অ্যাকসেস নেই।

"আজ থেকে পার্কের বেঞ্চে ধনী-গরীব নির্বিশেষে সবার ঘুমানো নিষেধ", এই আইন করা হলে ধনীর কোনো ক্ষতি নেই, কারণ সে পার্কে ঘুমায় না, পার্কের বেঞ্চে ঘুমায় গরীব। তাই আইনে সাদা চোখে ধনী-গরীবের মধ্যে পার্থক্য করা না হলেও, আইনের কুফলটা ভোগ করবে গরীব। তাই পত্রিকা-টিভি-রেডিও আর ব্লগের জন্য একই মুখেমোজাগোঁজা আইন প্রণয়ন করা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হবে শুধু ব্লগের বিকাশ, কারণ বাকি তিনটা মুখে নিজেরাই মোজা গুঁজে বসে থাকে।

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

চলুক

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

ওসিরিস এর ছবি

চলুক

অঅসাধারন এর ছবি

চলুক চলুক চলুক

গোলাম মোস্তফা এর ছবি

২০১০ এর একুশের বই মেলাতে একজনকে বলতে শুনলাম তিনি এখন ব্লগে লিখেন, উনার ব্লগ নিক শুনে চিন্তা করলাম, হেতের লেখাতো চোখে পড়ে নাই কোনদিন অ্যাঁ এরাই এখন ব্লগের মুখপাত্র, আমি একটা ব্লগে রেজিস্টার করার পরে হাতে গোনা কয়েকটা কমেন্ট করার পড়েই ব্যান খাইলাম, কিন্তু প্রতিবছরই ব্লগ ডে উপলক্ষে মেইল পাইলাম, অর্গানাইজাররে রিপ্লাই করলাম...আপনারে ড্যাস মারি।

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

এরা লেখার চেয়ে মুখপাত্র হবার জন্য বেশী উদগ্রীব।

হিমু এর ছবি

কিছু ব্লগার ব্লগিঙের চেয়ে বিভিন্ন সভা-সেমিনারে অনলাইন বুদ্ধিজীবী হিসেবে হাজিরা দিতেই বেশি আগ্রহী। এই হিটখোরিতাকে ব্লগের পরিভাষায় বলে রাগুম্যানিয়া (কেউ কেউ বিকল্প বানানে রাগিমনিয়াও লিখে ফেলেন, এ নিয়ে মতানৈক্য রয়েছে)। প্রচলিমিডিয়ার রোদ পোহানোর আসক্তি থেকে নিয়মিত ব্লগাররা দূরে থেকে ব্লগিঙের কাজটা অধিক মনোযোগ আর আগ্রহ নিয়ে চালিয়ে যাবেন, এই কামনা করি।

তানভীর এর ছবি

দেঁতো হাসি

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

নীতিমালার নাম করে বার্তা উৎপাদনের ক্ষেত্রে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ কায়েম করার যেকোনো হীন প্রচেষ্টাকে রুখে দাঁড়াতে হবে।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

তারেক অণু এর ছবি

চলুক
হটাও ব্লগ, বাঁচাও দেশ ( মানে পিছনে নেও, জাতির মুখ চেপে রাখ), চুপ থাক, চুপ রাখ !

হিমু এর ছবি

বদলে যাউ, বদলে দাউ

শ্যামল এর ছবি

বদলে লাউ, কুমড়া নাউ

তৌফিক জোয়ার্দার এর ছবি

এই তৌফিক ইমরোজ খালিদি টা কে? কি তার পরিচয় (বিডিনিউজ২৪ এর হর্তাকর্তা- এই পরিচয়ের বাইরে)? এদের পরিচয়, চরিত্র ও উদ্দেশ্য উন্মোচিত হওয়া প্রয়োজন।

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

বিডিনিউজের এথিকস দেখে আমি অবাক!

সচলায়তনের জন্য ডেভলপ করা বিএনওয়েবটুলস অমি পিয়াল ভাইয়ের মাধ্যমে বিনামূল্যে ব্যবহারের জন্য নেয়। কমার্শিয়াল কারনে ব্যবহার করা হলেও অমি পিয়াল ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বিনামূল্যে এটা ব্যবহার করতে দেই আমি। বিনিময়ে বিএনওয়েবটুলস এর কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে হবে। তারা সেটা করেওছিলো।

পরে পিয়াল ভাই খুব সম্ভব সেখানে থাকেননি। একসময় দেখি বিএনওয়েবটুলস এর কৃতজ্ঞতা স্বীকার এর সেকশনটুকু সেখানে নেই। হয়তো তারা এটি আর ব্যবহার করেন না। হয়ত করেন। কে জানে?

সচলায়তনের লেখকদের লেখা ইদানীং নিয়মিত সেখানে ছাপানো হয়। অথচ সেই উৎসের মুখেই এখন লাত্থি দিতে চায় বিডিনিউজ।

মুস্তাফিজ এর ছবি

খুব খারাপ

...........................
Every Picture Tells a Story

সচল জাহিদ এর ছবি

ব্লগ আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ন্ত্রনের কথা বলে মানুষের মুক্ত অভিমত প্রকাশের শেষ সম্বলটুকুতে সীমাবদ্ধতার বেড়াজাল আনয়নের জন্য যারা বিবৃতি দিচ্ছে তাদের ধিক্কার জানাই। শেষ বেলায় ব্লগে সঠিক আর বস্তুনিষ্ঠ মতামত বা লেখাই টিকে থাকে, দূর্বল চিত্তের মতামত বা স্বার্থান্বেষী লেখা পড়ে থাকে আস্তাকুঁড়ে। তাই ব্লগের পাঠক শুধু পাঠকই নন তারা একাধারে সমালোচক, উৎসাহদাতা আর সম্পাদক।

লেখালেখির ক্ষেত্রে আমার প্রথম পরিচয় আমি একজন ব্লগার এবং সেই পরিচয় নিয়েই টিকে থাকতে চাই।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

MIU পাঠক এর ছবি

ব্লগ কি এখন নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না? আসলে ব্যাপার অন্যখানে, এই নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে সে নিয়ন্ত্রণ যেখানে প্রভু গোত্রীয় কারো বিরুদ্ধে কিছু বলা যাবে না! "বাক স্বাধীনতা প্রসঙ্গ:" দিয়ে যাদের নীতিমালা শুরু তাদের বিরুদ্ধে কিছু গেলেই তাদের ক্ষমতাবলে সেই কথা ঘ্যাচাং হয়ে যায়, আর তাদেরই উদ্যোগে যখন তারা আইন নিয়ে লাফ দিবে তখন বুঝতে হবে- শুধু ঘ্যাচাং নয়, প্রয়োজনে ফুলিশ-ফালিশ দিয়ে একটু আধটু পলিশ দেয়ার ব্যবস্থা করতে পারলে ব্যপারটা আরেকটু ঘন হয় তথা রাজার নির্দেশে গনতন্র কায়েম হয়!

দ্রোহী এর ছবি

হবুচন্দ্র রাজার দেশের কাজকারবার এমনই হয়!

এ দেশে সেরা বাংলা ব্লগার নির্বাচনের দায়িত্ব পায় জানা নামের অজানা এক ব্লগার, ব্লগ নিয়ন্ত্রণের কথা বলে তৌফিক ইমরোজ খালিদী যার নাম বাংলা ব্লগজগতে কেউ কোনদিন শুনেনি, তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা হয় মোস্তফা জব্বার।

বাংলাদেশে কোন বিষয়ে যে যত কম জানে সে ততো বড় পণ্ডিত।

নীড় সন্ধানী এর ছবি

বাংলাদেশে কোন বিষয়ে যে যত কম জানে সে ততো বড় পণ্ডিত।

লাখ কথার এক কথা দেঁতো হাসি

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

ফারুক হাসান এর ছবি

ব্লগের মত প্রকাশের ক্ষমতাকে যাদের ভয় তারাই এখন উঠে পড়ে লেগেছে ব্লগের বিরুদ্ধে, সাথে যোগ হয়েছে স্বার্থান্বেসী মহল যারা ব্লগকে একচেটিয়া নিজের সম্পত্তি বানাতে চায়। এহেন কর্মকান্ডের প্রতি তীব্র ধিক্কার জানাই

মতিউর রহমান এর ছবি

ব্লগ নিয়ন্ত্রণে কোনও আইন করার চেষ্টা হলে, সে আইনের বিরুদ্ধে সব ব্লগারদের একটাই স্লোগান হওয়া দরকার "এ আইন মানিনা, মানবো না"। আর সেজন্য প্রয়োজন হলে বায়ান্নর ভাষা-আন্দোলনের মত আরেকটি আন্দোলনের জন্ম দিতে হবে। ভাষা-আন্দোলন ছিল মাতৃভাষাকে রক্ষার জন্য, আর এবারের আন্দোলন হবে মাতৃভাষায় মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষার জন্য।

দ্রোহী এর ছবি

বর্তমানে বাংলা কমিউনিটি ব্লগগুলোর মধ্যে "আমার ব্লগ" ছাড়া বাকি সবগুলো ব্লগেই কম-বেশি কঠোর মডারেশন প্যানেল রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ব্লগ নিয়ন্ত্রণ আইন হলে কারা ব্লগ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পাবে? ব্লগ নিয়ন্ত্রণের মাপকাঠি কী হবে? নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব কে পাবে? নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব নির্ধারণ করবে কে? কীসের ভিত্তিতে ব্লগ নিয়ন্ত্রণ করা হবে? ভাষার ভিত্তিতে নাকি দেশের ভিত্তিতে?

ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় কোন সীমারেখা নির্ধারণ করা সম্ভব কি?

ব্লগ নিয়ন্ত্রণ আইনে যে বিষয়টি নিষিদ্ধ ঘোষিত হবে সে বিষয় নিয়ে লেখা কোন ব্লগ যদি ইংরেজি ভাষায় লিখে বিদেশি কোন ব্লগে [উদাহরণ হিসাবে ধরা যাক হাফিংটন পোস্ট ] প্রকাশ করা হয় তাহলে ব্লগ নিয়ন্ত্রণ করা কীভাবে সম্ভবপর হবে? সেক্ষেত্রে বাংলাদেশি আইন কি বিদেশি ব্লগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে?

যদি ভাষার ভিত্তিতে হয় তাহলে পশ্চিম বঙ্গের ব্লগের ক্ষেত্রে কী হবে? কিংবা বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ইংরেজি ব্লগগুলোর ক্ষেত্রে কী হবে? যদি দেশের ভিত্তিতে হয় তাহলে যে ব্লগগুলোর রেজিস্ট্রেশনে দেশের বাইরের কোন ঠিকানা ব্যবহৃত হয়েছে সেগুলোর ক্ষেত্রে নীতিমালা কী হবে?

আবার প্রশ্ন করা যেতে পারে আমেরিকা/ইউরোপ/আফ্রিকা থেকে কোন বাংলা ব্লগ পরিচালনা করা হলে তার জন্য কি বাংলাদেশি ব্লগ নিয়ন্ত্রণ আইন প্রযোজ্য হবে?

ফারুক হাসান এর ছবি

সাইবার আইন চাই বলে বলে যারা মুখে ফেনা তুলছে তারা এতকিছু ভাবলে তো হইতই। এরা বোধহয় চায় ১৪৪ধারার মত কিছু, যাতে নিজের স্বার্থের বিরুদ্ধে গেলেই টুঁটি চেপে ধরা যায়। এরা আসলে চায় একচেটিয়া ব্যবসা।

সুমন চৌধুরী এর ছবি

এইখানে সেইব্লগের সার্ভার কোথাকার সেইটা দিয়া একরকম ত‌্যানা প্যাচানো যাইতে পারে। কিন্তু তাতে খুব সুবিধা আসলে হবে না।

ফারুক হাসান এর ছবি

মুক্ত মত প্রকাশের প্রসঙ্গ ধরে ব্লগিংয়ের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি সবিনয়ে বলতে চাই, মত প্রকাশের নামে যা ইচ্ছা তাই প্রকাশের আমি বিরোধিতা করি। মত প্রকাশ করতে হবে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে। আর তা প্রকাশের ক্ষেত্র তৈরি করে দেওয়া জরুরি।”

মত প্রকাশের এই বিরোধিতা কিসের জন্য? মত প্রকাশের দায়িত্বশীলতার পরিধি কে নির্ধারণ করবে?

হিমু এর ছবি

তৌফিক ইমরোজ খালিদী কোন মানদণ্ডে নিজেকে দায়িত্বশীল আর অন্যকে দায়িত্বশীলতাবর্জিত ভাবছে, সেটাও বোঝা গেলো না। সংবাদ প্রকাশের নামে তার যা ইচ্ছা সে তা-ই প্রকাশ করছে। এই কাজ তৃতীয় ব্যক্তি করলে সে দায়িত্বশীলতার গজফিতা নিয়ে মাপামাপিতে নেমে পড়ছে। সে কি মঙ্গলগ্রহ থেকে এসেছে নাকি? দুই দিনের যোগী ভাতরে কয় অন্ন।

ফারুক হাসান এর ছবি

মানের দণ্ডটা সে নিজের হাতে রাখতে চায় আরকি হাসি

রানা মেহের এর ছবি

রাজনীতিবিদ দের প্রতি জনাব খালিদীর মমতা রীতিমতো চোখে পড়ার মতো

বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবনে রাজনীতিবিদদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম প্রধান সম্পাদক বলেন, “সংবাদ মাধ্যম যদি এ রকম লাগামহীন হয়, তবে তার জন্য রাজনীতিবিদদেরই যে বেশি ভুগতে হয়, তা আপনারা (রাজনীতিক) অভিজ্ঞতা দিয়েই বুঝতে পারবেন।”

সংবাদ 'লাগামছাড়া' হয়েও রাজনীতিবিদ দের যন্ত্রনায় টিকতে পারছেনা মানুষ। লাগাম পরানো হলে যে কী ঘটবে।

জনাব খালিদীর কথা খুবই অসংলগ্ন। খুব সম্ভবত তার ধারনা এই কথাগুলো বললে কিছু হাততালি পাওয়া যায়।

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

হিমু এর ছবি

মেহেরজান, খেয়াল করে দেখেন এই উদ্ধৃতি। তৌফিক ইমরোজ খালিদীর কাছে আইন মানে যে রাজনীতিকদের স্বার্থসিদ্ধির একটা অস্ত্র, সেটা পরিষ্কার বোঝা যায়।

মানুষ আইনপ্রণেতাদের নির্বাচিত করে গোটা দেশের মানুষের স্বার্থে কল্যাণমুখী আইন প্রণয়ন করতে, রাজনীতিকদের নিজের পশ্চাদ্দেশের চামড়া বাঁচানোর জন্যে না। এই মৌলিক জিনিসটা না জেনেই এই লোক সংবাদের মুদিগিরিতে নেমে পড়েছে।

ব্লগ নিয়ন্ত্রণের জন্য আইন করলে সংবাদ নিয়ন্ত্রণের জন্য আইন করা হবে না কেন?

রানা মেহের এর ছবি

হিমু, ব্লগ তো ব্লগ উনি জ্যুকারবার্গকেও আইন শেখাতে চলেছেন। এই লাইনগুলো পড়ুন

তার মতে, কোনো ব্যক্তির নামে কল্পকাহিনী, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো কথা ব্লগ কিংবা ফেইসবুক ও টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ অনুচিত।

শুধু তাই নয়। কেন এতোদিন আইন প্রনয়ন করা হয়নি, সেটার জন্য তিনি রাজনীতিকদের প্রতি রীতিমতো ক্ষুব্ধ তিনি

এটা এক ধরনের অপরাধ, আর এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সরকারকে অবশ্যই নতুন আইন করতে হবে। স¤প্রতি শীর্ষ পর্যায়ের এক রাজনীতিকও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। তার সঙ্গে আমি একমত, আর এত দিন ধরে তা না করার দায় রাজনীতিক হিসেবে তারও স্বীকার করতে হবে

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

হিমু এর ছবি

ধর্মীয় অনুভূতির আইনী সংজ্ঞা নিয়ে কেউ কোনো কথা বলে না।

আমি যদি আজকে নতুন একটা ধর্ম প্রচার শুরু করি, যে ধর্মে "তৌফিক ইমরোজ খালিদী" উচ্চারিত হলে সেই ধর্মের অনুসারীদের মারাত্মক পাপ হয়, তাহলে কি কাল থেকে আমার প্রচারিত এই ধর্মের অনুসারীদের ধর্মানুভূতি রক্ষার স্বার্থে তৌফিক ইমরোজ খালিদী নিজের নাম উচ্চারণ করা বন্ধ করে দিবে? যদি দেয়, তাহলে বুঝবো সে মানুষের ধর্মানুভূতি নিয়ে সিরিকাস।

হিমু এর ছবি

আমোদের সাথে লক্ষ্য করলাম, "আর এত দিন ধরে তা না করার দায় রাজনীতিক হিসেবে তারও স্বীকার করতে হবে" অংশটি বিডিনিউজের ঐ খবরটি থেকে অপসারিত হয়েছে।

অর্থাৎ, বিডিনিউজ তার খবর পাল্টে ফেলে।

প্রকাশিত সংবাদ কোনো ধরনের নোটিশ ছাড়া পাল্টে ফেলা কি রীতিসিদ্ধ? এটি কি পাঠকের সঙ্গে প্রবঞ্চনা নয়? ঝানু সাংবাদিকেরা এ ব্যাপারে কী বলেন? তৌফিক ইমরোজ খালিদী তো দায়িত্বশীলতা নিয়ে অনেক কিছু বললো, এটাই কি দায়িত্বশীলতার উদাহরণ?

আমরা কি তবে ধরে নেবো, এটিই প্রথম উদাহরণ নয়, অতীতেও এমন হয়েছে, আর ভবিষ্যতেও এমন হতে পারে? একটা খবর প্রকাশ করে পরবর্তীতে কোনো নোটিশ ছাড়াই তার মধ্যে বক্তব্যের বিশেষ কোনো অংশ সরিয়ে দেয়া হতে পারে বা যোগ করা হতে পারে?

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

বিডি নিউজ তাদের প্রকাশিত খবরের বক্তব্য বদলে দিয়েছে। ব্যাপারটি খুবই আনএথিকাল এবং এটাই প্রমান করে যে তাদের সৎসাহসের অভাব আছে।

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

গুগল সব জমা করে রাখে। দেখেন এখানে

bdnews24_screengrab_cache

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

বর্তমান পরিবর্তীত অবস্থা:

মোঃ লুৎফর রহমান এর ছবি

স্বাধীনতা মানে স্বেচ্ছাচারিতা নয়- এই কথাটা প্রথমে মানতে হবে।

মত প্রকাশের স্বাধীনতা বলতে যদি কেউ বুঝে থাকে, আমার যা মনে আসে তা ই বলব। যেমনে খুশি তেমনে প্রতিবাদ জানাব- একটা সভ্য সমাজ তা মেনে নিতে পারে না। যে হারে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে, ব্যক্তিগত বিষয় নিলে গালাগালি- পাল্টাপাল্টি চলে তা হয়তো একজন ব্লগার উপভোগ করে কিন্তু তার সাথে যদি তার স্ত্রী থাকে, সন্তান থাকে তাহলে সেই পাতাটি তার দেখার যোগ্য নয়। তাহলে বিষয়টা কি দাড়াল?

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের বিজ্ঞাপনে একটা ট্যাগলাইন থাকতঃ পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেখার মতো ছবি-----। এই কথাগুলো কিন্তু এখনকার ছবিগুলোতে থাকে না।
কমিউনিটি ব্লগগুলোকেও কি এরকম পর্যায়ে আমরা দেখতে চাই?

কমিউনিটি ব্লগগুলো শুধু নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা বয়সীদের জন্য বরাদ্দকৃত নয়। এটাকে সব বয়সী, সব পেশার এবং সামাজিকভাবেই পরিবারের সব সদস্যদের নিয়ে আলোচনার যায়গায় রূপান্তরিত করতে হবে। তাহলেই ব্লগ লেখার বা প্রকাশের উদ্দেশ্য সফল হবে। আর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এর কোনটাই হবে না।

নীতিমালার বাইরে থেকে কখনো কোন জাতির সফলতার ইতিহাস পাওয়া যায় না। ব্লগে কিভাবে সম্ভব??

হিমু এর ছবি

যেখানে গালাগালি চলে, সেখানে গালাগালি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বটা ব্লগ কর্তৃপক্ষ নিতে পারে। ব্লগাররাও ব্যবস্থা নিতে পারে। আপনি সব জায়গায় ফুটানগিরি করবেন আপনার ব্লগে লাখ লাখ সদস্য, আর লাখ লাখ সদস্য নিজেদের মধ্যে গালাগালি করলে রাষ্ট্রকে আইন বানায় সেই নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নিতে বলবেন, এইটা কেমন কথা?

আর আপনারে কে বলছে ব্লগগুলিকে সব বয়সী মানুষের আলোচনার জায়গায় রূপান্তরিত করতে হবে? আপনি আপনার সব কিছু কি আপনার বাচ্চা আর বাপমার সামনে করেন নাকি? কমিউনিটি ব্লগ কমিউনিটি ব্লগ, কমিউনিটি সেন্টার না। সেখানে কেবল প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য আলোচ্য বা প্রযোজ্য বহু বিষয় থাকে। দুনিয়ার সব কিছু আপনার বাচ্চার মাপে বানানো হবে না।

আপনি পরিবারের সবাইকে নিয়ে ব্লগ পড়তে চাইলে নিজে একটা সেইরকম ব্লগ খুলে সমমনাদের ডাক দিন। কেউ আটকাচ্ছে না আপনাকে।

ব্লগের সফলতা বলতে আপনি কী বোঝেন? পরিবারের সবাই মিলে পড়ার উপযোগী হওয়াই ব্লগের সফলতা? তাহলে কিছু ব্লগকে বিফল হতেও দিন।

দ্রোহী এর ছবি

গত ৫ বছর ধরে দেখতেছি কিছু লোক ব্লগ পড়তে গেলেও বাবা-মা, বাচ্চাকাচ্চা সাথে নিয়ে বসে। দেঁতো হাসি

হিমু এর ছবি

এরাই দেখবেন বাচ্চাকাচ্চাবাপমা নিয়ে হাঁ করে টিভিতে মুন্নি বদনাম হুয়ি আর শিলা কি জাওয়ানি দেখে। বিয়েশাদি-গায়েহলুদে ছোটো বাচ্চাদের দিয়ে কাচ্চা কাচ্চা ছোটা ছোটা নিম্বুরা লায়ি দো নাচতে উৎসাহ দেয়। আর ব্লগে এসে কাঁদে পরিবারের সবাইরে নিয়ে পড়তে পারে না ক্যান সেই দুঃখে।

মরুদ্যান এর ছবি

চলুক

মোঃ লুৎফর রহমান এর ছবি

কমিউনিটি ব্লগে সবার অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত করে আপনি কি ফল আশা করেন? বাচ্চার জন্য জামা কাপড় তৈরী করা আর বাচ্চার জন্য সচেতনতা তৈরী করাকে আপনি এক পাল্লায় মাপতে পারেন না।

তাহলে সব কমিউনিটি ব্লগকে রেটিং দিতে হবে।

আপনি একটা ডোমেইন কিনে ব্লগিং করলেও কিন্তু যা ইচ্ছা তা ই লিখতে পারবেন না। এটা যেকোন দেশেই হোক। ডোমেইন নিয়ন্ত্রণ করার সিস্টেমও বহু দেশে আছে।

ব্লগ নিয়ন্ত্রণ আইন, যদি নীতিনির্ধারকরা যথাযথভাবে প্রয়োজন মনে করে, অবশ্যই আমাদের স্বাগত জানানো উচিত।

হিমু এর ছবি

বিশ্ববিদ্যালয়ের হাই-ভোল্টেজ ল্যাবে শিশু ও বৃদ্ধদের ঢুকতে দেয়া হয় না। কিন্তু হাই-ভোল্টেজ ল্যাব যাদের নিয়ে চলার কথা, তাদের নিয়ে ঠিকই চলে। আপনি যদি হাই-ভোল্টেজ ল্যাবে গিয়ে ল্যাব ম্যানেজারকে জিজ্ঞেস করেন, এখানে সবার অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত করে আপনি কী ফল আশা করেন, আপনাকে বিনা তর্কে দরজা দেখিয়ে দেয়া হবে।

ব্লগ বাচ্চার জন্য সচেতনতা তৈরির জায়গা না। ব্লগ চিন্তা প্রকাশের জায়গা। সেই চিন্তায় সবসময় বাচ্চারা অংশগ্রহণ করতে পারবে না।

আপনি মনে হয় খেয়াল করেননি, সচলায়তনে অন্তত প্রতিটি পোস্টের শিরোনামের নিচে রেটিঙের ব্যবস্থা থাকে। অন্য ব্লগগুলিও এই রীতি অনুসরণ করতে পারে।

সমস্যা তো এটাই, কী লিখতে পারবো, কী লিখতে পারবো না, সেটা কোনো রাজনীতিক বা সংবাদমুদি, যাদের ব্লগ সম্পর্কে সঠিক ধারণা নেই, কিংবা যারা নিজেরা ঠিকমতো একটা ব্লগ দাঁড় করাতে পারেনি, তারা ঠিক করে দিতে আসে। ডোমেইন নিয়ন্ত্রণ করার পাইকারি সিস্টেম যেসব দেশে আছে (ইরান, চীন, সৌদি আরব), সেসব দেশে মানবাধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার পরিস্থিতিও খুব খারাপ। দুনিয়ার বহু দেশের উদাহরণ দেখিয়ে যদি বলি, দুনিয়ার বহু দেশে লুৎফর রহমান নাই, কাজেই আপনিও আপনার নাম লুৎফর রহমান পাল্টে ফেলেন, আপনার কি ভালো লাগবে?

ব্লগ নিয়ন্ত্রণ আইনকে আপনি স্বাগত জানাতে পারেন। আমার তাতে কোনো আপত্তি নাই। পাশাপাশি আমি লুৎফর রহমান নিয়ন্ত্রণ আইনও চাই, যে আইনের বলে সকল লুৎফর রহমানের নাম পাল্টে দিতে হবে।

পদ্মজা এর ছবি

সমমনা লোকেরা একে অপরকে খুঁজে নেয়। জোট বাঁধে। সমাজ, রাজনৈতিক দল - এগুলোর মোটা দাগের উদ্দেশ্য তাই। এই একই ধাঁচের লোকগুলোর পারষ্পরিক ভাব আদান প্রদানের মধ্যেই দেশ জাতির জন্য মঙ্গলজনক কিছু ঘটনা ঘটে যায়। নাকি সিরিয়া, লিবিয়া দেখে আমাদের এঁরা ভয় পেয়েছেন।

সমাজ সময় এগিয়ে যাবেই। আমি আপনি চাই আর না চাই। সেটাই ধর্ম। ব্লগ ফেসবুক টুইটার সেন্সর করে সেই গতি রোধ করা যাবেনা।

সাবমেরিন কেবল দিয়ে সাবমেরিন আসবেই। তথ্যের সাবমেরিন। জাগরণের সাবমেরিন। খাইছে

চরম উদাস এর ছবি

চলুক
খুবই প্রয়োজনীয় লেখা। অনেক কিছু বলার ছিল, প্রচণ্ড ব্যস্ততার কারণে সময় পাচ্ছি না। পরে আলোচনায় কোমর বেঁধে নামবো।

রানা মেহের এর ছবি

মেজাজ খারাপ আরো বেশি হচ্ছে বিডিনিঊজের প্রচ্ছদ আর তার বক্ত্বতার শিরোনাম দেখে।
'দায়িত্বহীন মুক্তমত নয়'।
কতবড় একটা দায়িত্বের কাজ যে করেছেন উনি এইসব রাজনীতিবিদ তোষন করে

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

হিমু এর ছবি

লেখাটা পড়লে মনে হতে পারে, মুক্তমতের দায়িত্ব হচ্ছে রাজনীতিকরা যাতে না ভোগে সেদিকে কড়া খেয়াল রাখা।

রানা মেহের এর ছবি

আরে যত পড়ি তত দেখি মজার কজার জিনিস বের হয়। তিনি একবার বলছেন

“যে কেউ একটি সংবাদ মাধ্যমের (টেলিভিশন চ্যানেল, সংবাদপত্র ইত্যাদি) মালিক হয়ে যাবে, এটা হতে পারে না। সেই সঙ্গে মোবাইল ফোনে যে কেউ সংবাদ সেবা দেবে, এটাও হতে পারে না। কোনো নিয়ামকের ভিত্তিতে এটা করতে হবে। এ জন্য একটি নীতিমালা প্রয়োজন।”

আবার বলছেন

মোবাইল ফোনে সংবাদ দেওয়ার বিষয়টি প্রথম চালুর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের বৃহত্তম মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের গ্রাহকরা প্রতি মুহূর্তেই পাচ্ছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এর সংবাদ।

নিশ্চয়ই কোন দুষ্টু সার্ভিসপ্রোভাইডার তাদের এই ব্যবসায় বাগড়া দিতে বসেছেন।
না। আইন একটা করতেই হবে দেখছি চোখ টিপি

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

হিমু এর ছবি

তৌফিক ইমরোজ খালিদী কোন নিয়ামকে সংবাদ মাধ্যমের মালিক হয়েছিলো? কিংবা মোবাইলে খবর বেচা শুরু করেছিলো?

দ্রোহী এর ছবি

আবার্জিগস!

রাজনীতিবিদেরা হচ্ছেন জনপ্রতিনিধি। তাদের ভোগান্তি মানে জনগণের ভোগান্তি। তাই প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য নিজে না খেয়ে হলেও রাজনীতিবিদদের দুইবেলা খাবারের বন্দোবস্ত করা।

পদ্মজা এর ছবি

সোজা বাংলায় কইলেই হয়, আমরা ব্লাশফেমি চাই।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে গেলাম
এসব কর্পোরেট খবর ব্যবসায়ীদের কবল থেকে মুক্তি চাই

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

নীড় সন্ধানী এর ছবি

১) ব্লগ সম্পর্কে সরকারের জ্ঞানের দৌড় কতটুকু সেটা আমরা কিছু কিছু হর্তাকর্তার ভাষন বিবৃতিতে দেখেছি। আগে কমিউনিটি ব্লগের সংজ্ঞাটা শেখানো দরকার, তারপর আসবে বাকী প্রশ্ন। যে জিনিস সম্পর্কে স্পষ্ট কোন ধারণাই নেই সেটা নিয়ন্ত্রন করবে কোন মূর্খ।

২) ইন্টারনেটে ব্লগ ছাড়াও প্রচুর বলদ আছে বলিয়াদির জমিদার তনয়ের মতো। ব্লগ নিয়ন্ত্রন না করে ওই মনোবিকারগ্রস্থ বলদগুলোকে আগে খোঁয়াড়ে ঢোকানো দরকার। (সচলে কুতর্কে লিপ্ত সেই বলদটার নাম ভুলে গেছি যার ওয়েবসাইটে বিকৃতমনস্ক চিত্রাবলী শোভা পায় বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের নিয়ে)

৩) সচলায়তনের মতো কমিউনিটি ব্লগগুলো নিজেরা যথেষ্ঠ নিয়ন্ত্রিত। বাড়তি নিয়ন্ত্রনের কোন দরকার নেই।

৪) রাজাকার আলবদরের ছানাপোনাদের প্রপাগান্ডামূলক ব্লগগুলো নিয়ন্ত্রন করা দরকার হলেও সাধারণ ব্লগারদের গদামে ওরা ব্যস্ত থাকে বলে সেটাও অপ্রয়োজনীয়।

৫) তৌফিক ইমরোজ খালিদী সম্ভবতঃ আবুল হোসেনের পদতলে ব্লগ উপমন্ত্রী নামে নতুন কোন পদের সন্ধানে আছে। অচিরেই ব্লগ মন্ত্রী জাতীয় কোন আবুলীয় ঘোষনা আসলে অবাক হবো না।

৬) কোন কথিত গণতান্ত্রিক সরকার ব্লগ নিয়ন্ত্রনের মতো গাধামি করবে না। ক্ষমতার বাইরে থাকাকালে ডিজিটাল কান্নাকাটির জন্য ব্লগের চেয়ে ভালো জায়গা আর হয় না।

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

হিমু এর ছবি

তৌফিক যতদিন ধরে বিডিনিউজ চালায়, আমি তারচেয়ে বেশিদিন ধরে ব্লগিং করি। ওরে ব্লগউপমন্ত্রী বানাইলে আমারে পুরা মন্ত্রী বানাতে হবে।

অরিত্র অরিত্র এর ছবি

চলুক

পান্থ রহমান রেজা এর ছবি

এই পোস্টটা জনাব খালিদীর গোচরে আনা দরকার। তাহলে দেখতে পেতেন এখানে কত মত ও আইডিয়া এসেছে। উনি নিয়ন্ত্রণবিধির নামে মানুষের এই আইডিয়াগুলো হত্যা করতে চাচ্ছেন। একই সঙ্গে মানুষের মত ও আইডিয়া প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করার অপচেষ্টা করছেন। জনাব খালিদী, রাজনীতিবিদদের জন্য দরদী হয়ে নিয়ন্ত্রণবিধি চাচ্ছেন, তার কোপ একসময় আপনার ঘাড়েও পড়বে। আপনার এই মায়াদরদি চেহারা তখন কোনো কাজে আসবে না!

হিমু এর ছবি

এক-এগারোর সময়ে এই খালিদীর অবস্থা কেমন ছিলো? তার নামে নানা কথা শুনি!

রু (অতিথি) এর ছবি

বাধা আসলে ফেলুদা বা কিশোর পাশাকে খুশি হয়ে যেতে দেখতাম। রাজনীতিবিদরা বা বিডিডটকম ব্লগিং নিয়ে কতটা চিন্তিত জানিনা, কিন্তু ব্লগ সত্যি যদি তাদের বিরক্তির কারণ হয় তাহলে ধরে নিব ব্লগ ঠিক পথেই এগুচ্ছে। আইন করে ব্লগকে আটকানো যাবে বলে বিশ্বাস করি না।

একটু অফ টপিক একটা প্রসঙ্গ, আমি সচলায়তন পড়ি প্রায় দেড়বছর। বিভিন্ন মন্তব্যে মনে হয়েছে কোন একসময়ে সচল ইন্যাক্টিভ করে দেওয়া হয়েছিল। ব্যাপারটা কী হয়েছিল বলা যাবে?

উজানগাঁ এর ছবি

তৌফিক ইমরোজ খালিদীর কথাবার্তা অসংলগ্ন অনেক ক্ষেত্রে অপ্রাসঙ্গিকও।

সংবাদ মাধ্যম যদি এ রকম লাগামহীন হয়, তবে তার জন্য রাজনীতিবিদদেরই যে বেশি ভুগতে হয়, তা আপনারা (রাজনীতিক) অভিজ্ঞতা দিয়েই বুঝতে পারবেন।

এই অংশটুকুই যথেষ্ট তার চরিত্র চেনাতে। এই ব্লগগুলো সারা-পৃথিবী-জুড়ে প্রতিমিডিয়ার দায়িত্ব পালন করছে আজ। মিডিয়ার জন্যে যেকোনো মুক্তব্লগই আজ হুমকিস্বরূপ সেটা খালিদীরা বুঝতে পেরেছে। তাই ঘন্টা-পরানোর জন্যে উঠে পড়ে লেগেছে নাইলে যে ওদেরই ক্ষতি সবচে' বেশি।

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

বিডিনিউজ হঠাৎ এত পাকনামি শুরু করছে কারণ কী? এর পেছনের কারণ অনুসন্ধান করা দরকার।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

ব্লগের নিয়ন্ত্রণ রুখতে হবে

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

সাফি এর ছবি

ব্লগের মানে কী? যারা ব্লগ নিয়ন্ত্রণ আঈন প্রণয়ন করতে চায়, তারা কি আসলে বোঝে ব্লগ জিনিসটা কী?

হাফিজ  এর ছবি

সাইবার আইন নিয়ে বেশি লাফালাফি করা জনৈক স্টেডিয়াম-ধারী ব্লগার কিন্তু তার নিজের ব্লগে রেসিডেন্ট ভাঁড় হিসেবে পরিচিত. উনার রেসিডেন্ট ভাঁড় থেকে গায়ে মানে না আপনি মোড়ল টাইপ বুদ্ধিজীবীতে পরিণীত হওয়ার প্রচেষ্টায় বাধা দেওয়াকে তীব্র ধিক্কার জানাই. উনি আবার ব্লগ দিবসের আজীবন উপস্থাপক. আমার মনে হয় তৌফিক মিয়ার সাথে সাথে এইসব চেলা প্যালা নিয়ে কিছু তথ্য দেওয়ার ও দরকার আছে . আর মালিকানার বিষয়ে আমার একটাই জবাব, শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি করা লোকের প্রতিষ্ঠানের লোকের মুখে এইসব মানায় না. তৌফিক মিয়া তো দেখি নাইমুল ইসলাম খানের নব্য সংস্করণ.

দুর্দান্ত এর ছবি

কি প্রচার করা যাবে, সেটাকে, আমি দেখছি, দুইভাবে আইনি নিয়ন্ত্রনে আনা যেতে পারে। 'প্রি-পেইড' আইন মানে যেগুলো প্রচারের আগেই প্রযোজ্য়্ হবে। নতুন আইন করে ব্লগারদের একটি ফরদ ধরিয়ে দিয়ে বলা হবে, এর বাইরে গেলে খবর আছে। যে মহলটি এরকম চাচ্ছে, তারা কি নিজেদের পশ্চাতদেশের বেদনায় এতটাই আহলাদিত, যে সেটাকে জনে জনে শেয়ার করতে চাইছে? তারা নিজেরাই তো তাদের ওপর আরোপিত প্রচলিত আইনকে আরো শিথিল করাতে আন্দোলন করে যাচ্ছে (অথবা সেরকম প্রচার করছে)।

আন্তরজাতিক 'ফ্রিডম অফ প্রেস' ইন্ডেক্সে বানংলাদেশের অবস্থান জিম্বাবুয়ে, তাজিকিস্তান, কনংগো, এর মত শ্বৈরাচার দেশের চাইতেও পিছিয়ে আছে। মাত্র সেদিন ব্রিটিশ আমলের ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোড পরিবরতন করে সরকার বা অন্য় কারো মানহানিকর পরচারনার অভিযোগে সরাসরি ওয়ারেন্ট জারির আইন বাতিল করা হল

'ফ্রিডম অফ প্রেস' জাতীয় সেমিনারে কিন্তু আইন সনংকোচনের কথা বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলার লোকের অভাব নেই।

****

আইনকে যথেচ্ছ নিয়ন্ত্রণের অস্ত্র হিসাবে না দেখে দূরবলকে সবলের অত্য়াচার থেকে নিরাপত্তাদানের হাতিয়া হিসাবে দেখতে হবে। যেসব 'পোস্ট-পেইড' আইনি অসুবিধাগুলো ব্লগারের আছে, আমি চাই নতুন 'ব্লগরক্ষা' আইন করে সেইসব অশুভ শক্তিকে প্রতিহত করা হোক।

এই দিক থেকে আমি ব্লগকে আইনের আওতায় আনার পক্ষে।

নজমুল আলবাব এর ছবি

খবরের দোকানদার সে, সেই খবর বেচাকেনা বন্ধ হয়ে যাবে আর কদিন পরে। যে লোক ইন্টারনেটে ঢুকতে পারবে, সে কেনো শুধুমাত্র বিডিনিউজ আকড়ে পড়ে থাকবে? সেতো এখানে সেখানে ঘুরবে। আর যদি ঘুরতেই শুরু করে তবেতো এখান থেকে সেখান থেকে খবরও পেয়ে যাবে। তখন? হিসাব খুবই সহজ এবং সরল... যে কেউ যদি মোবাইলে খবর বেচা শুরু করে তাইলে কেমনে কি???

রণদীপম বসু এর ছবি

খালিদীর বক্তব্যের 'ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত' কথাটার মানে কী ? সেই বুঝ হবার কাল থেকে কথাটা এতো বেশি শুনা হয়েছে যে, এখন শুনলেই কেমন যেন পাকি পাকি গন্ধ পাই !!

আবারো পুরনো একটা উৎবচন উদ্ধৃত করার ইচ্ছে হচ্ছে- ' ছাগলামী করার বিশাল সুবিধা হলো, এ জন্যে আগে থেকে কোন প্রমাণপত্র পেশ করতে হয় না।'

আশে পাশে ছাগলের এতো আধিক্য হয়েছে যে, এখন নিজের শরীরেই ছাগলের বোটকা গন্ধে বমি আসে।

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

আমি একজাক্টলি এই কথাটাই ভাবতেছিলাম।

তাপস শর্মা এর ছবি

যে শালারা ব্লগের উপর এই নিয়ন্ত্রন চায় ওদের কলমের মধ্যে এবং চিন্তার মধ্যে আগে নিয়ন্ত্রন চাই। আচ্ছা ওরা কি ছাগুদের দলে পরেনা?
আমার তো মনে হয় ওরাও একপ্রকার বিশেষ ছাগু। কিংবা বুদ্ধিজীবি - বুদ্ধি বিক্রি করার নামে বালছাল এবং উৎকট সব আইডিয়া হায়ার করে...

ওরাই তো এখন শত্রু ? তাই না । একটা সমাজ যখন মুক্ত চিন্তার দিকে ধাবিত হচ্ছে, তখন তার কন্ঠ রুদ্ধ করার চিন্তা মারাত্মক ...

প্রতিবাদ শুধু নয় তরবারি রেখে গেলাম।

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

গুগল সার্চ করে কয়েকটা তথ্য পেয়ে তৌফিক খালিদি বিষয়ে কয়েকটা তথ্য পেয়ে খুব অবাক হলাম। তিনি অক্টোবর ২০, ২০১০ এ বেক্সিমকো পরিচালিত ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের এডিটর ইন চিফ হিসেবে নিয়োগ পান। মাত্র দু'মাসের মধ্যে জানুয়ারী ০৪, ২০১১ তে তিনি বেক্সিমকো ছেড়ে চলে আসেন। কারন? বেক্সিমকো সম্ভবতঃ খবর বিভাগের উপর হস্তক্ষেপ করছিলো (সুত্র)।

খালিদী নিজেই ডিসেম্বর ০৬, ২০১১ তে টুইট করেছেন:

খালিদী লিখেছেন:
Web is a two-edged sword. Use or manipulate it to your advantage. But if you ABUSE it or TRY to STRANGLE it, you risk losing more.

আয়রনিক্যালি, কয়েকদিন পরেই এইসব কথা বলেছেন। একেকসময়ে একেক পক্ষ অবলম্বন করা লোকদেরকে লোকে কি যেনো বলে? সুবিধাবাদী?

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

হুমম...

ফাহিম হাসান এর ছবি
এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

খালিদীর টুইট:

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

বাংলা নিউজ:

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

বেক্সিমকো নিউজ:

কল্পনা আক্তার এর ছবি

ব্লগ আমার কাছে এই কংক্রিটের শহরের শেষে খোলা সবুজ পান্তর। যেখানে ইচ্ছে করলে ছোটা যায়, বুক ভরা নির্মল বাতাসে নিজের ফুসফুস'টা ভরে নেয়া যায়, খুশিতে নাচা যায়-গলা ছেড়ে গাওয়া যায় এবং কষ্টে কাঁদা যায়। এই ব্লগ গুলোকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা আমার চোখে সেই খোলা পান্তর'টাকে দখল করে আবার কংক্রিট দিয়ে ঢেসে দেওয়া যা সহজ চোখে ভূমিদস্যুতা। এই দস্যুতা ঠেকাতে সর্বদা তৈরী আছি এবং থাকবো।


........................................................................................................
সব মানুষ নিজের জন্য বাঁচেনা

হিমু এর ছবি

এটাকে বলা যায় মনোভূমিদস্যুতা। মানুষের মনের ওপর, মতের ওপর পাট্টা গাড়ার চেষ্টা।

আজহার এর ছবি

আইন করে মানুষকে সচেতন করা যায় না, অন্য প্রাণীর বেলায় চেষ্টা করা যেতে পারে!

দু'চারটি বাদে অধিকাংশ ব্লগে শুরশুরি দেয়া টাইপ লেখা ছাড়া কিছু পাইনা। আবার লাখের ওপর ব্লগার!
অন্যদিকে, কিছু ব্লগ অত্যন্ত প্রতিভাধর, জ্ঞাণী-গুণি আর পন্ডিতের পদচাড়ানায় মুখরিত!
ম্যাংগো পিপলের অংশগ্রহণ প্রায় নাই বললেই চলে।

দু'ধারাই চলছে...চলবে...চলতে দিন। দিন শেষে দেখা যাবে। নিয়ন্ত্রণের কোন প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না।

মানুষের ভালো লাগলে, পরবে, লিখবে...আর না হলে এক দু'দিন পরে থু থু দিয়ে ফেলে দিবে।

হিমু ভাই, আলোচনা চালিয়ে যান।

রণদীপম বসু এর ছবি

১১ ফেব্রুয়ারি ২০১১ তে একুশে গ্রন্থমেলার লিটল ম্যাগ চত্বরে সিটিজেন জার্নালিজমের শ্লোগানে বিডিনিউজব্লগ উদ্বোধন করছেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী। কাকতালীয়ভাবে দুয়েকটা শট নিয়ে রেখেছিলাম। পুরনো ভাড়ার খুঁজে পেলাম।

.

.

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

"দেশে প্রথমবারের মতো চালু হোলো সিটিজেন জার্নালিজম"? তাহলে সামহোয়ারইন ব্লগ কি দোষ করলো?

ফাহিম হাসান এর ছবি

সিটিজেন জার্নালিজমটা কী বস্তু?

উচ্ছলা এর ছবি

নদী, বন, পাহাড়, জঙ্গল, সংসদ, বাস টার্মিনাল, বাজার-হাট, বিশ্ববিদ্যালয়, সচিবালয়, দুতাবাস...সব তো দখল। সব খেয়ে ফেলেছে ওরা। এখন ব্লগও খেতে হবে?

এই খাই-খাই করনেওলারা নিপাত যাক! একযোগে!! ছানা-পোনা সহ!!!

ফাহিম হাসান এর ছবি

গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট।

কয়েকটা পয়েন্টে আলোচনা আরো বিস্তৃত হবে আশা করি - বিশেষ করে ধর্মানুভূতি ও ব্যঙ্গচিত্র আঁকা প্রসঙ্গে।

সেই সাথে কিছু প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরী -

ব্লগ নিয়ন্ত্রণের পরিধি কতটুকু হবে? কমিউনিটি ব্লগ আর ব্যক্তি ব্লগের মধ্যে পার্থক্যের সীমারেখা টানা হবে কি?
কারা নিয়ন্ত্রণ করবে? ব্লগ সম্পর্কে এদের প্রাথমিক কোন ধারণা আছে কি?
ফেইসবুক, টুইটার, ইউটিউব কি আদৌ এই নিয়ন্ত্রণের আওতায় পড়বে?

হিমু এর ছবি

ডয়চে ভেলেকে দেয়া তৌফিক খালিদীর সাক্ষাৎকার

মন মাঝি এর ছবি

সাক্ষাৎকারটা শুনলাম। শুনে বেশ কিছু প্রশ্ন জাগল। নীচে ডয়েচেভেলের সাক্ষাৎকারটার নির্বাচিত অংশ আমার মত করে সাজালাম।

প্রথমেই প্রশ্নঃ
অপরাধ কি?

তৌফিকের উত্তরঃ
প্রকাশ্যে (অর্থাৎ পাব্লিক প্লেসে জনসমক্ষে) কারো বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করা, ডিফেমেশন করা, মানহানি করা, অসত্য বলা - এইগুলি হচ্ছে 'অপরাধ' ('crime'?)। (সোশাল নেটওয়ার্ক পাব্লিক প্লেস)

দ্বিতীয় প্রশ্নঃ তো এই অপরাধের প্রতিকার কি?

তৌফিকের উত্তরঃ
১. উপোরক্ত অপরাধগুলি করলে আইনভঙ্গ হয়, ফলে তা আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে

২. এইসব অপরাধ নিয়ন্ত্রন করা দরকার। তবে নিয়ন্ত্রন মানে 'রেগুলেশন', 'কন্ট্রোল' নয় ("আমি রেগুলেশন শব্দটা ব্যবহার করেছি, কন্ট্রোল ব্যবহার করিনি")

৩. নিয়ন্ত্রনের জন্য দানবীয় রাষ্ট্রীয় সংস্থা চাই না.. চাই প্রতিষ্ঠান, যেমন ৩ বা ৫ জনের একটা কমিশন... কিন্তু এসব কাজে বাংলাদেশে লোক খুঁজে পাওয়া যায় না...

তৃতীয় প্রশ্নঃ এধরনের প্রতিষ্ঠান কি বিশ্বের অন্য কোন দেশে আছে?

তৌফিকের উত্তরঃ
আমরা অনুন্নত। বিভিন্ন দিক থেকে অনুন্নত। আমরা বুঝতে পারিনা আমাদের বলার সীমারেখা কতটুকু হওয়া উচিত বা আমাদের যাবার সীমারেখা কতটুকু হওয়া উচিত...

৪র্থ প্রশ্নঃ
আপনি আসলে ব্যক্তিগত ব্লগ নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক যেসব ব্লগের ব্যবস্থা আছে সেগুলির ক্ষেত্রে নীতিমালার কথা বলতে চাইছেন, তাই না?

তৌফিকের উত্তরঃ
৫০ কপি পত্রিকা ছাপিয়ে তাতে কারো সম্পর্কে বাজে কথা লিখে (অর্থাৎ তৌফিকের মতে 'অপরাধ' করলে) ব্যক্তিগত বন্ধুদের মধ্যে বিতরন করলে সমস্যা নেই, তাতে কেউ হয়তো মামলাও করতে যাবেন না...

... কিন্তু যে পত্রিকা ৫ লক্ষ কপি বিক্রি হয় বা যে ইন্টারনেট নিউজ পেপার ৩০-৪০-৫০ লক্ষ লোক পড়ে - সেইখানে যদি আমরা কারো বিরুদ্ধে মানহানিকর কিছু লিখি তাহলে পরের দিনই আমি জানি লোকজন আদালতে যাবে...তো সেইখানে তো একটা রেগুলেশন থাকতে হবে, আমরা তো কেউই আইনের উর্ধে নই।
........................................................................

তৌফিকের এইসব উত্তরের প্রেক্ষিতে আমার কিছু প্রশ্ন আর অব্জার্ভেশন আছে। তবে এখন ঘুম পেয়ে গেছে। কালকে দেখি পারি কিনা।

আপনার কি মনে হয়?

****************************************

হিমু এর ছবি

আপনি ঘুম থেকে উঠে একটা মেঘনাদবধ পোস্ট করেন।

মন মাঝি এর ছবি

ছিঃ ছিঃ কি যে বলেন! খাইছে তেজসৃপবধী সর্পঘ্ন মহাবীরদের পদভারে প্রকম্পিত ব্লগধামে আমার মত চুনোপুটি সাইডকিকরা গ্যালারিতে বসে পপকর্নবধ করেই মহাখুশি! দেঁতো হাসি

যাহোক, আমি যা বলতে চেয়েছিলাম তা দেখছি নীচে ধ্রুব বর্ণন তার কমেন্টের ৩য় প্যারায় ইতিমধ্যে সুন্দর করে বলে দিয়েছেন। তৌফিক আইন-আইন করে এত যে চেচাচ্ছেন, আইন ও আইনি প্রতিকার তো আছেই। কেউ সংক্ষুদ্ধ্ব হলে আইনি প্রতিকার চাওয়ার পথ তার সামনে তো খোলা রয়েইছে। অর্থাৎ আইনের উর্ধ্বে কেউ নন এই নীতি ইতিমধ্যেই বলবৎ আছে। এগুলিই যথেষ্ট। তাছাড়া সবক্ষেত্রে প্রিভেন্টিভ আইন যে সম্ভব বা প্রযোজ্য নয়, এবং করলে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বরং অনেক বেশি - এসব কথা প্রতিষ্ঠিত ব্যাপার। তা সত্ব্বেও আবার নতুন করে অপ্রযোজ্য ও অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত প্রিভেন্টিভ আইন চাপিয়ে দেয়ার জন্য আমড়াগাছি বা ধানাই-পানাই করা নিঃসন্দেহে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মত করে গোপন ফ্যাসীবাদী-প্রবণতা প্রণোদিত।

যদি করতেই হয়, তবে আমার মতে এরকম ক্ষেত্রে একমাত্র যে প্রিভেন্টিভ আইন বা নীতিমালা হতে পারে, তা হল -- এসব ক্ষেত্রে কেউ প্রিভেন্টিভ আইন প্রস্তাবই করতে পারবে না। এটাই বরং হবে অপরাধ! বাক, চিন্তা, মত, বিবেকের স্বাধীনতার (সংবাদপত্রে, মিডিয়াতে, ব্লগে প্রকাশের স্বাধীনতাসহ) বিরুদ্ধে যেকোন প্রিভেন্টিভ আইনের প্রস্তাবকে জনগনের সংবিধান-স্বীকৃত মৌলিক অধিকার লুণ্ঠনকারী একটি কঠোর শাস্তিযোগ্য জঘন্য ফ্যাসীবাদী অপরাধ ও আগ্রাসন হিসেবে গন্য করা হউক। এবং এই আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ভবিষ্যতের তৌফিক ইম্রোজ ম্যাকার্থিদের জনস্বার্থবিরোধী কুচক্রী ট্রোজান ষড়যন্ত্রকে প্রতিরোধ করা হউক।

৩য় প্রশ্নে এধরনের প্রতিষ্ঠান বিশ্বের অন্য কোন দেশে আছে কিনা এই প্রশ্নের উত্তরটা দেখুন কি কৌশলে এড়িয়ে কি উত্তরটা দিলেন তৌফিক -- বাংলাদেশের জনগন নাকি অনুন্নত। তারা এতই 'অনুন্নত' যে তারা কিছু বুঝেনা-পারেনা-জানেনা, তারা সীমাজ্ঞানহীণ, এবং তাদের ঔচিত্যবোধ বলে কিছু নাই! এই অসভ্যতা, আস্পদ্দা এবং ধৃষ্টতায় আমি স্তম্ভিত। এই বক্তব্যে একটু কান পাতলেই আমার মনে হয় এর পেছনে কোথায় যেন গাদ্দাফি, সাদ্দাম হুসেন, মুবারক সহ দুনিয়ার সমস্ত স্বৈরশাসকদের কণ্ঠস্বরের অনুরণন শুনতে পাওয়া যায়। এরা সবসময় নিজেদের স্বৈরশাসনকে জাস্টিফাই করার জন্য নিজ জনগনকে শিশু, সন্তান, অবোধ - এই জাতীয় চরম কন্ডিসেন্ডিং ও অপমানজনক টার্মসে অভিহিত বা সম্বোধন করে থাকে। ইদানিংকালে মুবারক ও গাদ্দাফির কুখ্যাত ভাষনগুলি স্মর্তব্য। তৌফিকের ভাষাতেও সেই একই সুরের অনুরণন শোনা যায় - এবং একই ধরণের প্রয়োজনেই।

****************************************

হিমু এর ছবি

বাংলাদেশের মানুষ যে অনুন্নত, তাদের যে ঔচিত্যবোধ নাই, সেইটা তৌফিকরে দেখেই বোঝা যায়।

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি

চলুক

মত প্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার নিয়েও আলোচনা শুরু হওয়া দরকার। বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক অধিকার অংশে বাহাত্তর সাল থেকেই মত, চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা দেয়া আছে। এট মৌলিক অধিকার। অনেকটা মার্কিন সংবিধানের ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট স্টাইলে। অর্থাৎ এটা অনন্যসমর্পনীয়। কখনই সমর্পনীয় নয়। এটায় হাত দেয়ার অধিকার তাই সরকারেরও ছিলো না। পরে অবশ্য এটাতে হাত দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। সংসদকে এটা ওভাররাইড করার অধিকার দেয়া হয়েছে। সম্ভবত মার্কিন-ঘরানার-স্বাধীনতার বিরোধী রাষ্ট্রবাদী যারা তাদের পরামর্শে। অতি সম্প্রতি পাকিস্তানি সংবিধান স্টাইলে সংবিধানের বিরোধী বক্তব্য দিলে রাষ্ট্রদ্রোহফ্রোহ ঢুকানো হয়েছে। সম্ভবত নয়াসাম্রাজ্যবাদ ঠেকানোর পাকিস্টাইল একেই বলে। নয়াসাম্রাজ্যবাদ ঠেকানোর নাম করে রাষ্ট্রবাদীদের এইসব পাকিপনা দেখার মতো একটা বিষয়।

যা হোক। এর বাইরে মত প্রকাশের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকারে সরকার বা অন্য কেউ এখনো হাত দিতে পারে না। মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে সরকারের হস্তক্ষেপের প্রশ্ন আসে কেবল যখন রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা গণের শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হবার উপক্রম হয়। সেটাও তেমন বিঘ্ন ঘটার প্রত্যক্ষ প্রমাণ সাপেক্ষে। অর্থাৎ এই হস্তক্ষেপ কখনোই প্রিভেন্টিভ নয়, বরং কেবল যখন বিপদ এভিডেন্টলি ইমিনেন্ট।

এর বাইরে ব্লগার কী বলছে তাতে সরকারের কী আসে যায়? ব্লগে কেউ কারো মানহানি করলে বা কারো নরম অনুভূতিতে আঘাত দিলে ভুক্তভোগীর এখনই সুযোগ আছে কোর্টে গিয়ে বিচার চাইবার। এর বাইরে আবার অতিরিক্ত প্রিভেন্টিভ আইনের প্রয়োজন কেনো? এগুলো সরকারের স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ঠেকাবার বিষয় না। এমন অনেক আইনি বিষয় আছে, যেগুলো ভুক্তভোগীর অভিযোগ ছাড়া সরকার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ব্যবস্থা নিতে যেতে পারে না। এসব অনন্যসমর্পনীয় বিষয়ে বামহাত দেয়ার ব্যাপারে মিডিয়াগুলো এখন যে সরকারকে উদ্যোগী করে তুলছে, এদেরকে এখন কেউ ফ্যাসিবাদী বলে না কেনো?

কাজী মাহবুব হাসান এর ছবি

চলুক

আমার বিশ্লেষন করার ক্ষমতা কম, তাই
আপনার লেখাটা ফেসবুকে শেয়ার করলাম।

হিমু এর ছবি

ধন্যবাদ, কাজী মাহবুব হাসান।

আরিফুর রহমান এর ছবি

কোথাকার কোন এলাহী তার পঞ্চমবর্ষীয়া নিউজ সাইটের জন্মদিনে উচ্ছসিত গেলাস ধরে কি না কি বলেছেন, তাকে ক্ষেমা দিয়ে দেন। কম্পিটিশনের ব্যাপার তো, এরকম দু'চারখানা হা হুতাশ নির্গত হতেই পারে।

আমরা বড়জোড়.. 'বদ-বু', তফাৎ যাও বলে টোকা দিয়ে ঝেড়ে ফেলে দেবো।

সাজ্জাদ সাজিদ এর ছবি

চমৎকার, সময়োপযোগী প্রতিবাদ। সহমত।

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি

মাহফুজুরের হাউশে কোর্টের চপেটাঘাত

হিমু এর ছবি
ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

শেষ পর্যন্ত কাজটা কিন্তু কর্তারা ঠিকই করে ফেলেছে। চিন্তাভাবনাবিবেচনা করে লেখার সাথে এখন সভয়েও লিখতে হয়। এক আইন গেছে তার বদলে যে আইন এসেছে তার পরতে পরতে পিতৃপুরুষের অস্থিমজ্জাপেশীস্নায়ু রয়ে গেছে।

অতি নগণ্য ব্যতিক্রম ছাড়া একটা দেশের তাবৎ বুদ্ধিজীবিকূল যখন হালুয়ারুটির লোভে মগ্ন হয়ে কর্তাভজা হয়, যাবতীয় অনাচারকে বুদ্ধিবৃত্তিক সমর্থন দেয় তখন তারাই উদ্যোগী হয়ে এমন বিধান বানানোর দাবী তোলে।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।