নীড় সন্ধানী এর ব্লগ

ভেঙ্গে পড়া বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের নীচে থেতলানো লাশ: মৃত্যুও কি আমাদের টনক নড়াতে পারবে?

নীড় সন্ধানী এর ছবি
লিখেছেন নীড় সন্ধানী (তারিখ: রবি, ২৫/১১/২০১২ - ৮:৫২পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

"মানুষটা তখনো বেঁচে ছিল। বুক আর মাথা বাদে বাকী অংশ ফ্লাইওভারের ভেঙ্গে পড়া ১০০ টনের গার্ডারের নীচে থেতলে গেছে। মানুষটার উর্ধাঙ্গ তীব্র চিৎকার করছে বাঁচার আকুতিতে। শত শত মানুষ অসহায় তাকিয়ে আছে চোখে জল নিয়ে। টান দিয়ে বের করার ব্যর্থ চেষ্টা করছে। কিন্তু এত বড় গার্ডার সরাবার মতো শক্তিমান যন্ত্র এখানে নেই। কেটে বের করার মতো দুঃসাহস কারো নেই। অনেক চোখের সামনেই নিথর হয়ে গিয়েছিল হয়তো দেহটা। আরো অনেক মানুষে


টার্গেট পুলিশ না বাংলাদেশ?

নীড় সন্ধানী এর ছবি
লিখেছেন নীড় সন্ধানী (তারিখ: সোম, ১৯/১১/২০১২ - ১০:৫১পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আপাততঃ জামাত শিবিরের প্রধান প্রতিপক্ষ পুলিশ। বাংলাদেশে পুলিশ বাহিনী বরাবরই একটু বিশৃংখল আর ঢিলেঢালা। এদেশে পুলিশের অন্যতম একটা ধর্ম হলো এরা দুর্বলের প্রতি হিংস্র সবলের কাছে নতজানু। এরা দুর্নীতিতে প্রথম শ্রেণীর, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত হয় পণ্যের মতো। সরকারের মেয়াদ এখন শেষদিকে এবং জনপ্রিয়তায় ব্যাপক ধ্বস। জনতার কাছে পুলিশ হলো সরকারের অংশ বিশেষ। তাই পুলিশ পেটালে, পুলিশের গাড়ি পোড়ালে জনতার একাংশ


স্যাম্পল

নীড় সন্ধানী এর ছবি
লিখেছেন নীড় সন্ধানী (তারিখ: বুধ, ১৪/১১/২০১২ - ১:৩৩অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

জুবিলী রোডের এটিএম বুথ থেকে বের হবার পর থেকেই লোকটা পিছু নিয়েছে।

ফুটপাতে আরো লোক চলাচল করছে। আলাদা করে কাউকে সন্দেহ করা মুশকিল। কিন্তু এই লোকটাকে সন্দেহ করতে হলো। আমি সিগারেট কিনতে থেমেছিলাম এক খানে। সেই লোকটা আমাকে পেরিয়ে গিয়েও দাঁড়িয়ে পড়লো। আমি সিগারেট ধরিয়ে হাঁটতে শুরু করে লোকটাকে পাশ কাটালাম। খানিক পর লোকটা আবারো পিছু পিছু। আমি রাস্তা পেরিয়ে ওপারে গেলাম। লোকটাও রাস্তা পেরিয়ে ওপারে। কৈশোরে মাসুদ রানা পড়ে আসা আমি বুঝে গেলাম লোকটা আমাকেই টার্গেট করেছে।


আলস্যের জয়গান

নীড় সন্ধানী এর ছবি
লিখেছেন নীড় সন্ধানী (তারিখ: শনি, ১০/১১/২০১২ - ১০:৪৯পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

শিরোনাম ধারন নেয়া হয়েছে বাট্রাণ্ড রাসেলের কাছ থেকে। আর এই বিষয়ে লেখার উৎসাহ পেয়েছি জেরোমের 'থ্রী ম্যান ইন আ বোট' থেকে। যেখানে আমার মতো তিনজন কর্মক্ষম অলসের বর্ননা আছে। ওই বইটা পড়ার পর থেকে আলস্য নিয়ে আমার আর কোন বিব্রতবোধ নেই।

১.
আলস্যের মতো আনন্দ আর কি আছে?


১৯৭৫ আগষ্ট টু নভেম্বর নিয়ে আরেক দফা ত্যানা প্যাচানি

নীড় সন্ধানী এর ছবি
লিখেছেন নীড় সন্ধানী (তারিখ: শনি, ০৩/১১/২০১২ - ২:৫২অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

প্রিয় ক্ষ্যাপা,

উত্তর লিখতে অনেক দেরী হয়ে গেল। ভেবে রেখেছিলাম জেলহত্যার বিশেষ দিনটায় তোমার জবাব দেবো। শুরুতেই বলছি, ধারণার মতো ভয়ংকর কিছু নেই যদি তা একমাত্র ধারণা হয়। এটা আমার কথা না, বিখ্যাত কেউ বলেছিলেন। আশা করছি এই চিঠি আমার সম্পর্কে তোমার সেই ভ্রান্ত ধারনার পায়ে কুড়োল মারবে।


প্রায় দমবন্ধ কয়েকটা দিন

নীড় সন্ধানী এর ছবি
লিখেছেন নীড় সন্ধানী (তারিখ: শনি, ২৯/০৯/২০১২ - ৩:৪৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

কথা বলা দূরে থাক, পানি খেতে, এমনকি ঢোক গিলতেও সাহস পাইনি কদিন। প্রায় দশ পনের দিন দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলাম। মানুষের গলায় যে এরকম কোন গজব নামতে পারে আগে জানতাম না। কথাবার্তা সব ইশারায় চলেছে। মোবাইল ফোন তো হারামই হয়ে গিয়েছিল। পরিবারের সব মানুষ আর সহযোগী অর্ধাঙ্গিনী না থাকলে কি ভয়ংকর অবস্থা হতো ভাবা যায় না। নাক-গান-গলা বিশেষজ্ঞ পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষ করে ঘোষণা দিলেন- গলার ভেতর ব্যাকটেরিয়ার কাফ


আমাদের সেই প্রীতিলতা

নীড় সন্ধানী এর ছবি
লিখেছেন নীড় সন্ধানী (তারিখ: সোম, ২৪/০৯/২০১২ - ১২:৪৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

১৯২৩ সালের ডিসেম্বরের এক পড়ন্ত বিকেল। রেনুদের বাড়ি থেকে আসকারদীঘির পাড়ের নিজেদের বাসায় ফিরছিল রানী। বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হলো কদিন আগে। রেনু আজ ওদের বাসায় থাকবে। হঠাৎ রাস্তায় হৈ চৈ দেখে ওরা থমকে দাঁড়ালো। রানী শক্ত করে ধরলো রেনুর হাতটা।


লাইফ উইথ লিমিটেড ইন্টারনেট

নীড় সন্ধানী এর ছবি
লিখেছেন নীড় সন্ধানী (তারিখ: রবি, ০২/০৯/২০১২ - ২:৩১অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

একটা সময় ছিল যতক্ষণ অফিসে থাকতাম ততক্ষণ ইন্টারনেটে যুক্ত থাকতাম। মানে আমার পিসিটা সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সংযোগ প্রাপ্ত ছিল। এক যুগেরও বেশী সময় এই সুবিধা নিয়ে কাজ করেছি। অফিসের কাজের ফাঁকে ফাঁকে ইন্টারনেট ঘুরে বেড়াতাম। অগুনতি ওয়বের মধ্যে গুগল, ফোরাম, ফেসবুক, ব্লগ ইত্যাদির ভেতরই সেঁদিয়ে যেতে থাকি ক্রমশঃ। বছরের পর বছর কেটে গেল, একটা সময় এসে দেখা গেল কাজের ফাঁকে ফাঁকে আর ইন্টারনেটে ঘুরছি না। ইন্টারনেটে


সার্কিট হাউস রোড

নীড় সন্ধানী এর ছবি
লিখেছেন নীড় সন্ধানী (তারিখ: রবি, ২৬/০৮/২০১২ - ২:২৪অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

"হারামীর বাচ্চা হারামী!!"

মেজাজটা বিলা হয়ে গেছে। সেই কখন ভাত খাইছি এখনো বিকালের নাস্তা করি নাই। বিকালের নাস্তাটা কি হবে তা অবশ্য ঠিক করা হয়নি। বিকালের নাস্তাটা সবসময়ই অনিশ্চিত থাকে। কখনো কলামুড়ি, কখনো বনরুটি- চা,কখনো কাবাব পরোটাও টুপ করে জুটে যায়।

এই রাস্তায় কেবল আমার রাজত্ব। এখানে আর কেউ আসবে না। বলা আছে, অন্য কেউ আসলে ঠ্যাং ভেঙ্গে হাতে ঝুলিয়ে দেয়া হবে। সেই কাজটা আমাকে করতে হবে না। করার লোক আছে। আমাকে শুধু আওয়াজ দিতে হবে গলা উঁচিয়ে। সাথে সাথে ব্যবস্থা হয়ে যাবে। লাইসেন্স ছাড়া কেউ এখানে আসতে পারবে না।


বই প্যাচাল

নীড় সন্ধানী এর ছবি
লিখেছেন নীড় সন্ধানী (তারিখ: সোম, ১৩/০৮/২০১২ - ১:৩৩অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

সাধ সাধ্যের বর্ডার লাইনে যাদের বসবাস তাদের জন্য কোন শখই সহজপাচ্য থাকে না। বইকেনা ব্যাপারটাও আমার জন্য সহজ ছিল না।

সাধারণতঃ হাইস্কুল/ইন্টার বয়স থেকে বইপত্রের রোমাঞ্চকর জগত ব্যাকুল হয়ে ডাকতে থাকে স্থায়ী আসন গাড়ার জন্য। স্থায়ী আসন মানে বই কিনে একের পর এক ভাঁজ করে বুক শেলফে সাজিয়ে রাখা। হাইস্কুল থেকে বই পড়ার নেশা চাপলেও সংগ্রহে রাখার মতো বই সাজিয়ে রাখার শখটা আমাকে তীব্রভাবে ডাক দিতে শুরু করেছিল ভার্সিটির শুরুতে যখন পরিবারের সাধ আর সাধ্যের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধটা সবেমাত্র শুরু হয়েছিল। ফলে বাবা-মার হোটেলে অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান-শিক্ষা-চিকিৎসা সহ সব মৌলিক অধিকারের বন্দোবস্ত থাকলেও 'আউট বই' কেনার কোন বাজেট ছিল না। বই কেনার জন্য বিকল্প ব্যবস্থার উপর নির্ভর করতে হতো। যেভাবে দিন মজুরেরা এক দিনের আয় দিয়ে আজকের খাবারটুকু ম্যানেজ করে সেভাবে বই কেনার ব্যবস্থা হতো কয়েকদিনের রিকশা ভাড়া কিংবা বাজার খরচ থেকে বাঁচিয়ে।