নীড় সন্ধানী এর ব্লগ

গোডাইফার

নীড় সন্ধানী এর ছবি
লিখেছেন নীড় সন্ধানী (তারিখ: শনি, ২৬/১০/২০১৩ - ৫:৫৮অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

১.
সকাল থেকে মেজাজ খারাপ। বসের সাথে মুখ কালাকালি চলছে। ব্যাটা হাড় কেপ্পন টাকার কুমীর গতকাল এসেই হিসেব নেয়া শুরু করছে অফিসে মাথাপিছু কয় বোতল খাবার পানি লাগে। আন্তর্জাতিক গড় নাকি দৈনিক দেড় লিটার। গরীব হয়েও আমরা চার লিটার কেমনে খাই সেই হিসাব চাইল এডমিনের কাছে। এডমিন যথারীতি মিনমিন করে সুর মিলিয়ে বলেছেন তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন পানি খাওয়া কমাতে, কারণ তিনি জানেন পানি বেশী খেলে ঘনঘন বাথরুম পায় আর ঘনঘন বাথরুমে গেলে ফ্ল্যাশ টিপে প্রচুর পানি খরচ হয়। এর মধ্যে আর এক কামেল হিসেব করে বের করে ফেলেছে আধ লিটার জলত্যাগ করে এক গ্যালন পানি ফ্ল্যাশ করার ফলে কোম্পানীর মাথাপিছু ক্ষতির পরিমান সোয়া এক গ্যালন। এই বিষয়ে পানি সম্পদ বিষয়ক এক কমিটি বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে দৈনিক দেড় লিটারের বেশী পানি খেলে সেই বাড়তি পানির নিষ্ক্রমণ ব্যয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বহন করতে হবে।


ই-বুক রিডার

নীড় সন্ধানী এর ছবি
লিখেছেন নীড় সন্ধানী (তারিখ: রবি, ০৬/১০/২০১৩ - ১২:৫১অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ফাঁকিবাজি জিনিসটা যে একটা আর্ট সেটা প্রথম দেখি মোস্তাফিজের কাছে। মোস্তাফিজ ক্লাস নাইনে আমাদের ফার্স্টবয় ছিল। ফার্স্টবয়দের কাছ থেকে আমি সবসময় দূরত্ব বজায় রাখলেও মোস্তাফিজ ছিল ব্যতিক্রম। কারণ মোস্তাফিজই প্রথম দেখা ফার্স্ট বয় যে ফার্স্ট বেঞ্চে বসে পাটিগনিতের নীচে 'মাসুদ রানা' রেখে নির্বিকার চেহারায় ফজলু স্যারের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারতো। আমাদের ফাঁকিবাজির প্রতিভা থাকলেও মুস্তাফিজের মতো দুর্লভ সাহস ছিল না বলে বসার জন্য পছন্দ ছিল দ্বিতীয় বা তৃতীয় বেঞ্চ। বুঝতেই পারছেন কর্মজীবনেও মোস্তাফিজ আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। এখনো কি সে প্রথম শ্রেণীর ফাঁকিবাজি চালাচ্ছে? জানি না।


তৈল গর্জন

নীড় সন্ধানী এর ছবি
লিখেছেন নীড় সন্ধানী (তারিখ: রবি, ২৯/০৯/২০১৩ - ২:১৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

সকালে অফিসে আসার আগে চা খেতে খেতে দশ মিনিট টিভির নিউজলাইনে চোখ বুলাই। ২৪ ঘন্টার মধ্যে টিভি জিনিসটার সাথে এটাই আমার একমাত্র যোগাযোগ।

আজ সকালে চ্যানেল ঘুরাতে গিয়ে এটিএন বাংলায় আটকে গেলাম অচিন এক ভদ্রলোকের গর্জিত ভাষণে। নিউইয়র্কের হিলটন হোটেল থেকে লাইভ সম্প্রচার চলছে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান। যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাযুক্ত টাই পরে সেই ভদ্রলোকের বক্তৃতা গর্জন। সামনে মাইক থাকলেও রাজনৈতিক ভাষণগুলো কেন যেন গলা, কান ও গগন বিদারী হয়। এই ভদ্রলোকের চেহারা দেখে আমাদের পাড়ার খুইল্লা মিয়ার কথা মনে পড়লো। ইলেকশানের আগে তার গলায়ও অসুরের শক্তি ভর করতো।


অনাগত অন্ধকার

নীড় সন্ধানী এর ছবি
লিখেছেন নীড় সন্ধানী (তারিখ: বিষ্যুদ, ১২/০৯/২০১৩ - ৩:৫৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

১.
অফিসের কাজগুলো গুছিয়ে দুপুরে ইন্টারনেটে ক্লিক করতেই বিরক্ত লাগলো। হোমপেজ এরর। আবারো গেছে নাকি? দুদিন পরপর এ এক হ্যাপা। কখনো ফাইবার কেটে যায়, কখনো আইএসপির ইউপিএস জ্বলে গেছে, কখনো সার্ভার ডাউন। আইটিতে ফোন করলাম। আইটির ছেলেটা এসে দেখে বললো, আপনার হোমপেজ সমস্যা। হোমপেজে ফেসবুক ছিল। ফেসবুক নাকি কোথাও খুলছে না। ওটা বদলে হোমপেজ গুগল করে দিল। এবার খুলছে। আমি তেমন রেগুলার ফেসবুকার নই। তাই পাত্তা দিলাম না ব্যাপারটাকে।


সেই রোববারে

নীড় সন্ধানী এর ছবি
লিখেছেন নীড় সন্ধানী (তারিখ: বুধ, ০৪/০৯/২০১৩ - ২:১৯অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

শেখ মুজিব রোড ধরে গত ত্রিশ বছর আসা যাওয়া করছি কিন্তু এই দোকানটা কখনো চোখে পড়েনি।

যমুনা ভবনের পাশে একটা খালি জায়গা, তার পাশেই দোকানঘরটা। হ্যাঁ, দোকানঘরই। ঘর এবং দোকান দুটো মিলে টু-ইন-ওয়ান। শহরে এরকম দোকান দেখা যায় না। দোকানের পেছনে আবাসিক ব্যবস্থা। দোকানীর কাঁধের উপর দিয়ে উঁকি দিয়েও দেখা যায় পেছনের ঘরটিতে রয়েছে একটা চৌকি, তাতে বিছানা পাতা, চৌকির নীচে খানকতক ডেকচি, একটা স্টোভ, নানান সাইজের কিছু বৈয়াম ইত্যাদি সাংসারিক উপাদান। বোঝাই যাচ্ছে রাতের বেলা এখানে কেউ থাকে।


চড়

নীড় সন্ধানী এর ছবি
লিখেছেন নীড় সন্ধানী (তারিখ: শনি, ১৭/০৮/২০১৩ - ৪:০৮অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আমাদের সবাইকে তাজ্জব করে প্রফুল্ল আমার কানের উপর বিশাল একটা থাবড়া মেরে বসলো। আমি কখনো ভাবিনি এই জায়গায় আমাকে কখনো থাবড়া খেতে হবে। কুংফু কারাতের সকল প্রতিরক্ষা ব্যর্থ হয়ে আমি গড়িয়ে পড়লাম ৯ নম্বর মাঠের কোনায়।

হারামীটাকে আমি একটু আগেই আইসক্রিম কিনে খাওয়ালাম। আইসক্রিমের ঝোল এখনো তার ঠোঁটের কোনায় লেগে আছে। তবু সে এভাবে মারতে পারলো?


তুই পাকিস্তানের বেজন্মা

নীড় সন্ধানী এর ছবি
লিখেছেন নীড় সন্ধানী (তারিখ: সোম, ১৫/০৭/২০১৩ - ৩:৩৪অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

অবশেষে তুই জিতে গেলি, আর-
হেরে গেল আমার রক্ত ধোয়া বাংলাদেশ?
বেশ্যা রাজনীতির নষ্ট পাশার দানে বিক্রি হলো মানবতা?
ছমাস পরেই উল্টে যাবে পাশার দান?
বাকী জীবন ধরে খেয়ে যাবি মোরগে মোসল্লাম?

জেনে রাখ হে গোলামের বাচ্চা গোলাম,
বাংলাদেশের মাটি তোকে ক্ষমা করে নাই!!!
কখনো করবে না!!!!
তুই বাংলাদেশের ঘেন্নার ঘেন্না!!!
তুই পাকিস্তানের বেজন্মা!!!
বাংলাদেশে গোলাম আজম নামে


আসল কথা : নকল কথা : 'কমিনিষ্ট'

নীড় সন্ধানী এর ছবি
লিখেছেন নীড় সন্ধানী (তারিখ: মঙ্গল, ০২/০৭/২০১৩ - ৪:২৩অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

মানুষ কেন লেখে? এই ভাবনার যে উত্তরটা আমি নিজের কাছ থেকে পাই তা হলো - মানুষের চুলকায় বলে লেখে। কথা কি অশ্লীল হলো? চুলকানি কি অশ্লীল হতে পারে? যেমন চুদুরবুদুর? চুদুরবুদুর অশ্লীল নয় বলে ঘোষণা এসেছে। আমার পড়াশোনা কম, ডিকশেনারি উল্টাই না বহুদিন। তাছাড়া দিনরাত যেসব শব্দ নিয়ে কারবার তা কেউ ডিকশেনারীতে খোঁজে না। তবে বুঝি চুলকানি শব্দটা কখনো কখনো সেমি অশ্লীল। ধরেন কারো কথা শুনে আমার ইচ্ছে হলো তার পাছায় একটা গদাম লাথি দিতে, অথচ ভদ্রতার খাতিরে দিতে পারছি না, সেক্ষেত্রে বলি- "কি রে ভাই, চুলকায় নাকি?"


তিনশো আটাত্তর

নীড় সন্ধানী এর ছবি
লিখেছেন নীড় সন্ধানী (তারিখ: রবি, ২৮/০৪/২০১৩ - ১১:২৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

টিভির পর্দা থেকে চোখ সরিয়ে রাখতে চেয়েছিলাম কদিন। দৃশ্যগুলো সহ্য হবার নয়। কংক্রিটের পিলারের মাঝে কোমর পর্যন্ত আটকে থাকা এক আলতাফের আকুতিভরা বাক্য 'ভাই আমারে বাঁচান' আমাকে ঘুমোতে দেয়নি দুদিন। এত শত মানুষ মরেছে নির্মমভাবে, কিন্তু আলতাফের আটকে থাকার দৃশ্যটাই আমার চোখে আটকে গেছে। কারণ পরদিন সকালে উঠে জেনেছি আলতাফ চলে গেছে।


দুর্গন্ধপ্রিয় সত্য সৈনিক

নীড় সন্ধানী এর ছবি
লিখেছেন নীড় সন্ধানী (তারিখ: শুক্র, ১২/০৪/২০১৩ - ৪:৩১অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

সুশীল হবার অন্যতম একটা সমস্যা হলো মনের ভাবটা সঠিক সময়ে সঠিকভাবে প্রকাশ করতে না পারা। ভদ্র সমাজে অকপটে সব কথা বলা যায় না। ধরেন কাউকে দেখে আপনার বলতে ইচ্ছে হলো, "ওই শুয়োরের বাচ্চা, খা-পো, মা-চো, পাকিচাটা দালাল ছিল"। কিন্তু সেটা চেপে আপনাকে মসৃন স্বরে বলতে হচ্ছে, "লোকটা আদতে খুব বাজে ছিল, পত্রিকায় কুৎসা রটনা করতো, পাকিস্তানের সমর্থক ছিল...." ইত্যাদি। এত মোলায়েম কথায় পোষায় বলেন?