গল্প লেখার গল্প

ঈপ্সিত আর চম্পাকলি এর ছবি
লিখেছেন ঈপ্সিত আর চম্পাকলি [অতিথি] (তারিখ: শনি, ২৪/১১/২০১২ - ৮:১০পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

গল্প লেখার গল্প আজকাল বেশ জনপ্রিয় বিষয়। ফলের থেকে এখন গাছের দাম বেশি। বিহাইন্ড দ্য স্ক্রিন এর বিষয়েই সবাই জানতে বেশি আগ্রহী । তাই আশা করছি এ লেখার কাটতি ভালই হবে।
গল্প লেখার গল্পটা অবশ্য অনেকেই শুনতে চেয়েছেন যখন বলেছি আমরা দুজনে মিলে ছোটগল্প লিখি। সকলেই বেশ আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করেছেন ‘তা কি করে সম্ভব? এতো বেশ শক্ত কাজ!’ আমরাও ততোধিক আশ্চর্য হয়ে বলেছি ‘না শক্ত আর কিসে, শুধু শিশি বোতলের জায়গাটাই যা শক্ত।‘

তবে সকলের মূল প্রশ্ন হল , গল্প লেখাটা তো সৃজনশীল কাজ। সৃজনশীলতা কি ভাবে দুটো মস্তিস্কে ভাগ হয়ে যায়? সৃষ্টির ভাবনাটা তো একেবারেই নিজস্ব। হ্যাঁ অন্যের সৃজনশীল ভাবনার সাহায্য নেওয়া যায় তাই বলে গল্পটা তো তার হয়ে যায় না। শেক্সপীয়ারও নাকি হ্যামলেট লেখার সময় অন্যের ভাবনার সাহায্য নিয়েছিলেন। কিন্তু ফেলুদার ভাষায় “তাকে কোনোদিন আমাদের হ্যামলেট বলতে শোনা যায়নি।“ এসব ক্ষেত্রে নিন্দুকে বলে আর কারো গল্প টুকে দিয়েছে। লেখক বলেন ট্রিবিউট।

তাহলে সফটওয়্যার দম্পতির গল্প গুলো আমাদের গল্প হল কি করে? গল্প ত আর ফিজিক্সের তত্ত্ব নয় যে বোস-আইনস্টাইন থীয়োরি নাম দিয়ে পত্রিকায় প্রকাশ করবেন। ভাবতে পারেন রবীন্দ্র-গোবিন্দদাসের ভানুসিঙ্ঘের পদাবলী ! কাজেই সকলেই ধোঁকা লাগে। কি করে লেখেন? এক কথায় এর জবাব কাউকে দিতে পারিনি। কারণ আমাদের কাছে একসাথে লেখাটা রোজকার কাজের মতই স্বাভাবিক। একসাথে অফিস যাই , বাজার যাই , সিনেমা দেখি , গল্প লিখি। এখন রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং করে লেখাটা দাঁড় করালাম।
কালি কলম মন লেখে তিনজন। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে লেখাটা হয় ল্যাপটপ , অভ্র আর সফটওয়ারের ওয়াটারফল মডেল দিয়ে। প্রথমে প্রজেক্ট কিক অফ হয় বিষয় নির্বাচন দিয়ে। বাংলা সাহিত্যে থোড় বড়ি খাঁড়া (প্রেম, বিচ্ছেদ, মিলন) বিষয়ক গল্পই বেশী। কর্তা গিন্নীর ইচ্ছা এই তিনটি বাদ দিয়ে অন্যান্য বিষয়ে গল্পের হাত পাকানোর থুড়ি কি বোর্ড পাকানোর। গল্পের বিষয় তালিকায় তাই ভীড় করে গান , আর্ট, রান্না, ইতিহাস ... কর্তা হয়ত বললেন আর্ট ফ্রড নিয়ে কিছু লেখা যাক। গিন্নী বললেন একটু ক্লিশে হয়ে যাবে না? তারপর একদিন মিউজিয়ামে বাচ্চাদের গন্ডারের দাদু , টিরেক্সের নাতি চেনাতে চেনাতে হঠাৎ গিন্নির মাথায় ফিউসনের আইডিয়া জেগে উঠল। ফ্রডটা থাক, আর্টের বদলে ডায়নোসর করে দেওয়া যাক।

পরের পর্ব রিকোয়ারমেন্ট অ্যানালিনিস , উপকরণ সংগ্রহ। এক্ষেত্রে নিরানব্বই শতাংশ মানুষ যা করে থাকেন কর্তা গিন্নি সেই পথের পথিক। ডায়নোসর থেকে আলপিন, তথ্য সংগ্রহের জন্য ভরসা গুগল এবং উইকি। (আচ্ছা বাকি এক শতাংশের তথ্য সংগ্রহের মাধ্যম টা কি? গঞ্জিকা?) কর্তা গিন্নী দুজনেরই গবেষনাধর্মী লেখা পছন্দ তাই তথ্য সংগ্রহ পর্যায়ে রীতিমত সময় ব্যয় হয়। ভাববেন না কাজটা সহজ। গুগল সাসর্চ করা টা বিজ্ঞানের একটা শাখা। শীঘ্রই দেখবেন হাইস্কুলের সিলেবাসে যুক্ত হবে। কর্তা গিন্নী দুজনে দুধরণের সার্চে পারদর্শী। গিন্নী অনায়াসে খুঁজে বের করেন দুধলাউ এর রেসিপি, বাজার চলতি গসিপ। কর্তার পারদর্শীতা সিরিয়াস বিষয়। ডায়নোসরের ডিম , রাগসজ্ঞীত, হীরের খনির রহস্য সংগ্রহের ভার কর্তার।

তৃতীয় এবং সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হল ডিজাইন মানে গল্প বুনন। এইখানে গল্পটা তৈরী হয়। প্লট দানা বাঁধে , চরিত্ররা প্রাণ পায়, ক্লাইম্যাক্স তৈরী হয়। এই পর্বে কর্তা গিন্নীর ঘন্টার পর ঘন্টা আলোচনা চলে। নাহ কফি-শপে মুখোমুখি বসে গল্পের জাল বোনা হয় না। সারাদিনের কাজের ফাঁকে, অফিস যাবার পথে , ডিনার টেবিলে , ওয়ালমার্টের কাউন্টারের লম্বা কিউতে দাঁড়িয়ে গল্পটা তৈরী হয়। অফিসের কাজের ফাঁকে কর্তা জি-টকে মেসেজ ছাড়েন ‘ইনকাম-ট্যাক্স অফিসারের চরিত্রটা ছেলে থেকে মেয়ে করলে জমবে ভাল’।
বাচ্চা ঘুম পাড়াতে পাড়াতে গিন্নী বলেন ‘সোহিনীকে আরেকটু বোল্ড না করলে গল্পটা ঝুলে যাবে’।
এই করতে করতে গল্পটা প্রাণ পায়। হাই লেভেল ডিজাইন অর্থাৎ গল্প বুনন সমাপ্ত।
এইখানে কর্তা গিন্নী দুজনার পথ একটু দুদিকে বেঁকে যায়। না ভয় পাবেন না চির বিচ্ছেদ নয়। কর্তা হাই লেভেল ডিজাইন শেষ করেই মাঠে থুড়ি মাইক্রোসফট অফিসে নেমে পড়েন। লো লেভেল ডিজাইন এবং ইমপ্লিমেন্টেশন মানে গল্প লেখার কাজ একসাথে চলতে থাকে। গিন্নি লো লেভেল ডিজাইন মানে গল্পের খুঁটিনাটি মাথায় জমিয়ে নেন রান্না বান্না বাসন ধোয়ার ফাঁকে ফাঁকে। খোকা খুকু ঘুমোলেই কলম থুড়ি কি বোর্ড চলে ঝড়ের বেগে।

ইমপ্লিমেন্টেশন পর্বে খুব জরুরী হচ্ছে ভার্সান কন্ট্রোল। কর্তা গিন্নি কখনো পুরো গল্পটা মডুলে থুড়ি চ্যপ্টারে ভেঙ্গে ভেঙ্গে এক এক চ্যাপ্টার এক এক জন লেখেন। আবার কখনো একি চ্যাপ্টারে দুজনে হাত লাগান। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে ভার্সান কন্ট্রোল করতে হয়। চ্যাপ্টারের নামে ভার্সান যোগ করে। যেমন ওস্তাদের মার শেষ পাতে পর্ব দুই ভার্সান তিন। ইচ্ছা আছে গল্পের ভার্সান কন্ট্রোল করার একটি নতুন সফটওয়ার আবিস্কার করার। ভার্সান কন্ট্রোলের সাহায্যে গল্প লেখায় প্যারালাল প্রসেসিং আনা গেছে। একি চ্যাপ্টারে হয়ত কর্তা লিখে চলেছেন নাটকীয় ঘটনা প্রবাহ আর গিন্নী অন্য ভার্সানে ফুটিয়ে তুলছেন চরিত্রদের খুঁটিনাটি। মডিউলে ভেঙ্গে গল্প লেখার জন্য গল্পটা ক্রমানুসারে এগোয় না। গিন্নী হয়ত চটপট ক্লাইম্যাক্সটা লিখে ফেললেন , কিন্তু অফিসের কাজের চাপে কর্তা পিছিয়ে পড়ার দরুন গল্পের শুরুটা লেখা হয়নি তখন। এই পদ্ধতিতে সচলের সহব্লগাররা উপকৃত হন সব থেকে বেশী। কেন জানেন? গাছে তুলে মই কেড়ে নেবার পরিস্থিতি হয় না কখোনো। মানে গল্পের শুরুটা লিখে সচলে পোষ্ট করে বাকি টা আর লিখলাম না এই চান্সটা নেই।

এরপর আসে ইন্ট্রিগ্রেশন। চ্যাপ্টর গুলো একসাথে করা। এই পর্ব মাথার কাজ কম হাতের কাজ বেশী। দুজনে মিলে গল্প লেখার কুফলটাও এই পর্বে টের পাওয়া যায়। একটি ক্যারাক্টার কে কর্তা নাম দিয়েছেন রিনি , গিন্নি ডাকছেন তিষ্যা। কম্পুটারের যুগে কে আর খাটে। গিন্নি রিপ্লেস অল টিপে সমস্ত রিনি কে তিষ্যা করে দিলেন। কলার তুলে বললেন “দেখো প্রগতির কত সুবিধা।“ খানিক বাদে কর্তা হাঁকলেন “কতিষ্যা মানে কি? কোন অভিধানে পেলে?” গিন্নি জিভ কেটে বললেন “ওই যাঃ রিপ্লেস অল করতে গিয়ে ‘করিনি’ গুলো ‘কতিষ্যা’ হয়ে গেছে।“ অতএব পুনর্মুষিকভব। আদি অকৃত্রিম করনীকের কাজ। লাইন বাই লাইন পড়ে ভুল ঠিক করা হল। ভবিষ্যতে কি হবে জানি না। তবে এখোনো পর্যন্ত গল্পের আগার দিকটা কর্তার আর গোড়ার দিকটা গিন্নির। মানে গল্পের শুরু অর্থাৎ নামটা কর্তা ঠিক করেন, গল্পের শেষের পাঞ্চলাইনটা গিন্নি যোগ করেন।

এবারে তো গল্প রেডি সচলের পাঠকরা ভাবছেন আর ত্যানা না পেঁচিয়ে পোষ্টটা দিলেই হয়। ধীরে বন্ধু ধীরে। ওয়াটারফল মডেলের কথা ভুলে গেলেন। আরেক পর্ব বাকি আছে যে। ইউসার অ্যাক্সেপ্টেন্স টেস্টিং। অতএব গল্পের প্রিন্টআউট নিয়ে বাড়ির দুই টেস্টার আমাদের সব গল্পের প্রথম পাঠক বাবা এবং মা কে ধরানো হয়। পরদিন দুরুদুরু বুকে অফিস থেকে বাড়ি ফিরি। গল্প কেমন উতরালো প্রথম পাঠক দ্বয়ের কাছে। প্রতিবারই জোটে প্রশংসা এবং নিন্দা দুই-ই। প্রশংসা পাই গল্পের বিষয় নির্বাচন , ঘটনা প্রবাহ , চরিত্র চিত্রন , ক্লাইম্যাক্সের জন্য। আর নিন্দা জোটে বানান ভুল , ব্যাকরণ ভুল বা গল্পে স্থান কাল পাত্রের অসংগতি নজরে পড়লে। (এ লেখা যখন লিখছি তখন টেস্টাররা সাত সমুদ্র তেরো নদী পারে, দেশে ফিরে গেছেন। তাই ভুলত্রুটি গুলো সচলের পাঠকরা নিজগুনে ক্ষমা করবেন।) অতএব আরেক দফা কিবোর্ড চালনা করার পর গল্পটি আন্ডারস্কোর ফাইনাল নাম দিয়ে সেভ হয়।

এরপর শুক্রবারে গো লাইভ। কর্তা , গিন্নি কপাল ঠুকে সচলে পোষ্ট আপলোড করে মডারেশনের ঘাট পেরোবার অপেক্ষায় বার বার নীড়পাতা রিফ্রেস করে শেষে বিফল মনোরথ হয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। শনিবার সকালের পোস্ট প্রডাকশান সাপোর্ট অর্থাৎ সহব্লগারদের মন্তব্যের জবাব দেওয়ার কাজ কর্তা একাই সামলান। গিন্নি প্র্তিবারই কর্তা কে ভালো ব্রেকফাস্টের লোভে ভুলিয়ে পোস্ট প্রডাকশান সাপোর্ট এর কাজ থেকে অব্যাহতি নেন।

তারপর আর কি আমার কথাটি ফুরোলো কিন্তু নটে গাছটি মুরোল না। আবার ছুটির দুপুরে শুরুর থেকে শুরু করা। কর্তা গিন্নি আলোচনা করেন নতুন গল্পের। তবে একটাই বড় অসুবিধা, সময়। সিঙ্ঘভাগ সময় তো সফটওয়ার কোম্পানির উদরে। খোকা ,খুকু না ঘুমোলে তো বর্গীদের অত্যাচারে গল্প লেখার দফা নিকেশ। ভাবছি রাউলিং সাহেবার কাছে দরবার করি। হারমায়োনির টাইম টার্নারটা যদি একবার পাওয়া যায়। তাহলে শুধু হাচল থেকে সচল হবার অপেক্ষা। গল্পের বন্যায় নীড়পাতা ভাসিয়ে দেব এই অঙ্গীকার রেখে আজকের মত আপনাদের রেহাই দিলাম।


মন্তব্য

নিলয় নন্দী এর ছবি

এত কাহিনি পড়ে মনে হলো, একা লেখাই তো ভাল !
তবে অভ্যস্ত হয়ে গেলে আর অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।

কর্তা-গিন্নীর জন্য শুভকামনা রইল।
চলুক

ঈপ্সিত আর চম্পাকলি এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

ঈপ্সিত আর চম্পাকলি
---------------------------------
বোলতা কহিল, এ যে ক্ষুদ্র মউচাক,
এরি তরে মধুকর এত করে জাঁক!
মধুকর কহে তারে, তুমি এসো ভাই,
আরো ক্ষুদ্র মউচাক রচো দেখে যাই।
--------------------------------------------

রু এর ছবি

আপনাদের গল্পগুলোর মতই উপভোগ্য। আশাকরি কিছুদিনের মধ্যেই খোকা খুকুকে নিয়ে লিখতে বসবেন। লিখতে থাকুন।

ঈপ্সিত আর চম্পাকলি এর ছবি

খোকা খুকুর উৎপাতে রাত এগারোটার আগে লেখায় হাতই দেওয়া যায়না।
লেখা ভালো লেগেছে বলে আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

ঈপ্সিত আর চম্পাকলি
---------------------------------
বোলতা কহিল, এ যে ক্ষুদ্র মউচাক,
এরি তরে মধুকর এত করে জাঁক!
মধুকর কহে তারে, তুমি এসো ভাই,
আরো ক্ষুদ্র মউচাক রচো দেখে যাই।
--------------------------------------------

নীড় সন্ধানী এর ছবি

সাহিত্যচর্চাকে দেখি আপনারা প্রজেক্ট বানিয়ে ফেলেছেন রীতিমত। হো হো হো
এত কায়দা করে সাহিত্য চর্চা করার আর কোন উদাহরন আছে কিনা জানি না। জেনে চরম বিস্মিত হলাম।

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

ঈপ্সিত আর চম্পাকলি এর ছবি

হ্যাঁ, দুজনে যখন ইঞ্জিনীয়ারিং কলেজে পড়তাম তখন একসাথে প্রজেক্ট করতাম। সেই ট্র্যাডিশান সমানে চলছে। হাসি

ঈপ্সিত আর চম্পাকলি
---------------------------------
বোলতা কহিল, এ যে ক্ষুদ্র মউচাক,
এরি তরে মধুকর এত করে জাঁক!
মধুকর কহে তারে, তুমি এসো ভাই,
আরো ক্ষুদ্র মউচাক রচো দেখে যাই।
--------------------------------------------

দময়ন্তী এর ছবি

বাপস! প্পুরো ব্যোমকে গেলাম। হো হো হো
বেশ বেশ চালিয়ে যান

-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

বাওয়ানী এর ছবি

কর্তা আর গিন্নীর লেখা প্রজেক্ট ভাল পেলাম।

আর তার সাথে হাচলাভিন্দন চলুক

অট: নতুন মন্তব্য লিখতে গেলে ক্যাপচা দিতে বলে কিন্তু কোন ক্যাপচা দেখায় না:( গুগোল ক্রোম

ঈপ্সিত আর চম্পাকলি এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

ঈপ্সিত আর চম্পাকলি
---------------------------------
বোলতা কহিল, এ যে ক্ষুদ্র মউচাক,
এরি তরে মধুকর এত করে জাঁক!
মধুকর কহে তারে, তুমি এসো ভাই,
আরো ক্ষুদ্র মউচাক রচো দেখে যাই।
--------------------------------------------

ঈপ্সিত আর চম্পাকলি এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ দময়ন্তী।

ঈপ্সিত আর চম্পাকলি
---------------------------------
বোলতা কহিল, এ যে ক্ষুদ্র মউচাক,
এরি তরে মধুকর এত করে জাঁক!
মধুকর কহে তারে, তুমি এসো ভাই,
আরো ক্ষুদ্র মউচাক রচো দেখে যাই।
--------------------------------------------

সৌরভ  এর ছবি

রীতিমত গল্প উৎপাদন খামার (নাকি কারখানা??)!!!!

ঈপ্সিত আর চম্পাকলি এর ছবি

চোখ টিপি

ঈপ্সিত আর চম্পাকলি
---------------------------------
বোলতা কহিল, এ যে ক্ষুদ্র মউচাক,
এরি তরে মধুকর এত করে জাঁক!
মধুকর কহে তারে, তুমি এসো ভাই,
আরো ক্ষুদ্র মউচাক রচো দেখে যাই।
--------------------------------------------

কাজি মামুন এর ছবি

প্রথমেই অভিনন্দন জানাচ্ছি হাচল হওয়ার জন্য।
আপনারা সৌভাগ্যবান, কারণ 'বিষয় নির্বাচন, রিকোয়্যারমেন্ট এনালিসিস, ডিজাইন, ইমপ্লিমেন্টেশন, ইন্টেগ্রেশন, ইউজার অ্যাকসেপ্টেন্স টেস্টিং' - যৌথভাবে এতগুলো ধাপে পেরিয়ে যেতে পারেন এমন কোন মতদ্বৈততা ছাড়াই, যা কিনা গল্পটির প্রসবের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। আর আমার মত হতভাগাদের একাই ধাপগুলো পেরুতে হয়।
যে নিষ্ঠা ও একাগ্রতা আপনারা অনুসরণ করেন একেকটি গল্প সৃষ্টিতে, তা অনেকের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে। আপনাদের যৌথ গল্প সৃষ্টি চলুক অব্যাহত গতিতে।

ঈপ্সিত আর চম্পাকলি এর ছবি

মতদ্বৈততা থাকে তো। বিষয় নির্বাচন নিয়ে বেশীর ভাগ সময়ই মতদ্বৈততা থাকে। দুজনের যৌথ অ্যাপ্রুভাল না পেলে প্রজেক্ট কিকফ করে না। ডিজাইনেও তাই। তবে ধাপগুলো বেশ ভালোই এগোয়। বর-বউ-এর বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে মতদ্বৈততা থাকবে না, সেটাই স্বাভাবিক, নয়কি? হাসি

ঈপ্সিত আর চম্পাকলি
---------------------------------
বোলতা কহিল, এ যে ক্ষুদ্র মউচাক,
এরি তরে মধুকর এত করে জাঁক!
মধুকর কহে তারে, তুমি এসো ভাই,
আরো ক্ষুদ্র মউচাক রচো দেখে যাই।
--------------------------------------------

কালো কাক এর ছবি

বাব্বাহ ! এক্কেবারে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টের বইখাতা মেনে সাহিত্য চর্চা করেন আপনারা ! যত্নের ছাপটা লেখায় পাওয়া যায়। চলুক
ভালো লাগলো গল্প লেখার গল্প পড়ে।

ঈপ্সিত আর চম্পাকলি এর ছবি

হ্যাঁ, পি-এম্‌--পি সার্টিফিকেশানটা অফিসে না লাগুক লেখায় তো অ্যাট লিস্ট লাগুক। হাসি

ঈপ্সিত আর চম্পাকলি
---------------------------------
বোলতা কহিল, এ যে ক্ষুদ্র মউচাক,
এরি তরে মধুকর এত করে জাঁক!
মধুকর কহে তারে, তুমি এসো ভাই,
আরো ক্ষুদ্র মউচাক রচো দেখে যাই।
--------------------------------------------

নুসরাত  এর ছবি

এ লেখাটা শেয়ার করি? স্বামী স্ত্রী তে মিলিয়ে প্রোজেক্ট দাঁড় করানো দেখলে আমার দারুণ লাগে।

ঈপ্সিত আর চম্পাকলি এর ছবি

শেয়ার কথায় করার বললেন নুসরাত ভাই? অবশ্যই করুন।
ভালো লেগেছে বললেন বলে অনেক ধন্যবাদ।

ঈপ্সিত আর চম্পাকলি
---------------------------------
বোলতা কহিল, এ যে ক্ষুদ্র মউচাক,
এরি তরে মধুকর এত করে জাঁক!
মধুকর কহে তারে, তুমি এসো ভাই,
আরো ক্ষুদ্র মউচাক রচো দেখে যাই।
--------------------------------------------

নুসরাত  এর ছবি

ফেসবুকে। আমরা জামাই বউ আপনাদের নিয়ে গল্প করি প্রায়ই। দেঁতো হাসি

অগ্নির এর ছবি

হাততালি হাততালি হাততালি
নিঃসন্দেহে আপনারা দুইজন খাঁটি সৌলমেট ! খুব রোমান্টিক একটা ছবি ফুটে উঠলো লইজ্জা লাগে
এইভাবেই লিখতে থাকুন সবসময় ! অনেক শুভেচ্ছা !

ঈপ্সিত আর চম্পাকলি এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ।
ভালো ব্রেকফাস্ট খাইয়ে আবার কর্তাকেই মন্তব্যের জবাব দেওয়ার অ্যাসাইন্‌মেন্ট দেওয়া হয়েছে।

ঈপ্সিত আর চম্পাকলি
---------------------------------
বোলতা কহিল, এ যে ক্ষুদ্র মউচাক,
এরি তরে মধুকর এত করে জাঁক!
মধুকর কহে তারে, তুমি এসো ভাই,
আরো ক্ষুদ্র মউচাক রচো দেখে যাই।
--------------------------------------------

সত্যপীর এর ছবি

কাম সারসে!

..................................................................
#Banshibir.

ঈপ্সিত আর চম্পাকলি এর ছবি

কেন?
ভালো কথা পীরদাদা, আপনার কথামত নিজেদের ডিস্প্লে আইডি ইংরেজি থেকে বাংলা করে নিতে পেরেছি সচলায়তনে ইমেল করে।

ঈপ্সিত আর চম্পাকলি
---------------------------------
বোলতা কহিল, এ যে ক্ষুদ্র মউচাক,
এরি তরে মধুকর এত করে জাঁক!
মধুকর কহে তারে, তুমি এসো ভাই,
আরো ক্ষুদ্র মউচাক রচো দেখে যাই।
--------------------------------------------

অতিথি লেখক এর ছবি

ধন্যি মশায় অধ্যবসায়!! এতো দেখি চরম উদাস ভাইয়ের কবিতা লেখার সফটওয়ার টাইপের ব্যাপার।

ফারাসাত

ঈপ্সিত আর চম্পাকলি এর ছবি

এক্ষেত্রে প্রসেসটা 'প্রুভেন'।
হাসি

ঈপ্সিত আর চম্পাকলি
---------------------------------
বোলতা কহিল, এ যে ক্ষুদ্র মউচাক,
এরি তরে মধুকর এত করে জাঁক!
মধুকর কহে তারে, তুমি এসো ভাই,
আরো ক্ষুদ্র মউচাক রচো দেখে যাই।
--------------------------------------------

অমি_বন্যা এর ছবি

আপনাদের দুজনার সমান অংশগ্রহণে এরকম এক একটি লেখা সত্যি অবাক লাগে। চালিয়ে যান।
হাচল হবার জন্য অভিনন্দন। সচলায়তনের একটা ধাপ পেরিয়ে গেলেন। এগিয়ে যান।
শুভকামনা আপনাদের জন্য।

ঈপ্সিত আর চম্পাকলি এর ছবি

অনেক আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- অমি_বন্যা!

ঈপ্সিত আর চম্পাকলি
---------------------------------
বোলতা কহিল, এ যে ক্ষুদ্র মউচাক,
এরি তরে মধুকর এত করে জাঁক!
মধুকর কহে তারে, তুমি এসো ভাই,
আরো ক্ষুদ্র মউচাক রচো দেখে যাই।
--------------------------------------------

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

চমেৎকার! চলুক আপনাদের প্রজেক্ট কর্তা-গিন্নী।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

ঈপ্সিত আর চম্পাকলি এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ কবি!

ঈপ্সিত আর চম্পাকলি
---------------------------------
বোলতা কহিল, এ যে ক্ষুদ্র মউচাক,
এরি তরে মধুকর এত করে জাঁক!
মধুকর কহে তারে, তুমি এসো ভাই,
আরো ক্ষুদ্র মউচাক রচো দেখে যাই।
--------------------------------------------

কৌস্তুভ এর ছবি

আমি একা মানুষ, গল্পও তেমন একটা লিখিনা, কিন্তু আপনাদের কাহিনী পড়ে সাধ জাগে খাইছে লইজ্জা লাগে

ঈপ্সিত আর চম্পাকলি এর ছবি

কাহিনী পড়ে ভালো লাগার জন্য ধন্যবাদ।
গল্প লেখাটা একটা ভালো ক্রিয়েটিভ হবি। আমরা কর্তা গিন্নি বিয়ের তিন-বছর পর সেটা উপলব্ধি করেছি। হাসি

ঈপ্সিত আর চম্পাকলি
---------------------------------
বোলতা কহিল, এ যে ক্ষুদ্র মউচাক,
এরি তরে মধুকর এত করে জাঁক!
মধুকর কহে তারে, তুমি এসো ভাই,
আরো ক্ষুদ্র মউচাক রচো দেখে যাই।
--------------------------------------------

চরম উদাস এর ছবি

ওরে বাবা , এ যে দেখি পুরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাকশন। হাততালি

ঈপ্সিত আর চম্পাকলি এর ছবি

হাসি

ঈপ্সিত আর চম্পাকলি
---------------------------------
বোলতা কহিল, এ যে ক্ষুদ্র মউচাক,
এরি তরে মধুকর এত করে জাঁক!
মধুকর কহে তারে, তুমি এসো ভাই,
আরো ক্ষুদ্র মউচাক রচো দেখে যাই।
--------------------------------------------

ব্রুনো এর ছবি

কীসের সাধ জাগে? গল্প লেখার নাকি দোকলা হবার? চিন্তিত

ঈপ্সিত আর চম্পাকলি এর ছবি

ঠিক ঠিক, আমাদের মনেও একই প্রশ্ন।

ঈপ্সিত আর চম্পাকলি
---------------------------------
বোলতা কহিল, এ যে ক্ষুদ্র মউচাক,
এরি তরে মধুকর এত করে জাঁক!
মধুকর কহে তারে, তুমি এসো ভাই,
আরো ক্ষুদ্র মউচাক রচো দেখে যাই।
--------------------------------------------

মৃত্যুময় ঈষৎ এর ছবি

প্রথমত হাচলাভিনন্দন। লেখা ছেড়ে দিতে পারেন এই সন্দেহে মনে হয় হাচল করতে দেরি করছে দেঁতো হাসি । আর সচল হৈলে তো কেউ লেখেই না।

আপনারা সচলের আরেকজন চমৎকার গল্পকার। কীবোর্ড তুফানবেগে চলুক।


_____________________
Give Her Freedom!

ঈপ্সিত আর চম্পাকলি এর ছবি

[/b] দেখছি যে ফর্ম্যাটিং [/b] [=red] করতে পারছি কিনা।

ঈপ্সিত আর চম্পাকলি
---------------------------------
বোলতা কহিল, এ যে ক্ষুদ্র মউচাক,
এরি তরে মধুকর এত করে জাঁক!
মধুকর কহে তারে, তুমি এসো ভাই,
আরো ক্ষুদ্র মউচাক রচো দেখে যাই।
--------------------------------------------

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।