দেশ-

কনফুসিয়াস এর ছবি
লিখেছেন কনফুসিয়াস (তারিখ: রবি, ০৭/০১/২০১৮ - ৪:৩৩অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

রেফারেন্স বডি বলে একটা মজার ব্যাপার প্রথম পড়ি পদার্থবিজ্ঞান বইয়ে। তার সঙ্গত হিসেবে আমাদের মধ্যে একটা কথা খুব চালু হয়ে গেছিলো, ‘আপেক্ষিক ব্যাপার’। সে কতকাল আগে, সময় এখন আর ঠিক মনে নেই। কিন্তু পড়বার পর থেকে খুব ভক্ত হয়ে যাই এটার। বইয়ে দেয়া উদাহরণটা খুব সাধারণ কিছু ছিল হয়ত, চাঁদ ভাবছে সে একটা স্থির পৃথিবীর চারপাশে ঘুরছে কেবল, পৃথিবীটা সূর্যকে নিয়ে একই কথা ভাবছে, অথচ এরা সবাই একটা বিরাট মহাবিশ্বের অংশ হয়ে প্রতিনিয়ত ছুটেই যাচ্ছে। রেফান্সের বডি-র অদল বদল ঘটিয়ে দিলে সবাইই স্থির, আবার সবাইই গতিশীল।

এই জ্ঞান হবার পর থেকেই জেনে গিয়েছিলাম, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সত্যি কথা হয়তো এটাই যে, পৃথিবীর সব কিছুই আপেক্ষিক, শুধু খেয়াল রাখতে হবে তোমার রেফারেন্স বডি কোনটা।

এক এক করে এই পুরনো পৃথিবীতে অনেকগুলো বছর কাটিয়ে দিলাম। মহাকালের তুলনায় কিছুই না, কিন্তু আমার নিজের জীবনের অর্ধেক বা তার বেশি সময়তো বটেই। বড় কিংবা বুড়ো হতে হতে আমি অবাক আলস্যে দেখেছি, জীবনের নানা সময়ে রেফান্সের বডির বিবিধ পরিবর্তন, আর আপেক্ষিকতায় মোড়ানো সব কিছু। যেমন ধরা যাক আপন জনের ধারনা। এক সময় পরিবারই ছিল সবচেয়ে আপনার, বাই ডিফল্ট। তারপরে কোন একটা অদ্ভুত বয়সে এসে দেখি বন্ধুরাই আসলে সব। আরও কয়েক বছর পরে সেই আমরাই সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা মানুষের হাতে নিজের সব কিছু ছেড়ে দিয়ে সবচেয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে বসে থাকি। কখনো রক্তের টান, কখনও ভালবাসা, কখনও বা স্থান, কাজ, পরিচয়, চেনাশোনা, আনাগোনা, কত কত রেফারেন্স বডির ছড়াছড়ি আমাদের জীবনময়। মন ভুলে কখনও কত পরকে আপন ভেবে নিয়েছি, আবার কত আপন পর হয়ে গেছে দিনে দিনে।

ছোটবেলায়, এমনকি দুয়েকটা ছোট খাটো নির্দোষ মিথ্যা বলতে গিয়েও কেমন গা শিউরে উঠত, জিভ জড়িয়ে যেতো। কিন্তু বড় হতে হতে এত সব বড় বড় সব পাপ করে ফেলেছি যে, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পাপেরা মনের ভেতর আর কোন আবেগের সৃষ্টি করে না, আলোড়ন তৈরি করে না। নৈমিত্তিক অভ্যেসের মতন আলগোছে প্রতিনিয়তই পাপের সংখ্যা বাড়িয়ে চলি।

নিজের শহর কুমিল্লা ছেড়ে যে বছরে ঢাকায় গেলাম পড়তে, একটা শেকড় ছেঁড়া ব্যথা নিয়ে দিন কাটাতাম শুরুতে। ঢাকাকে মনে হত যান্ত্রিক আর জটিল, প্রতিবার কুমিল্লায় ফেরার সময় অভিশাপ দিতে দিতে ফিরতাম। অথচ কি আশ্চর্য, মেলবোর্নে ঘাঁটি গাড়বার পরে যখন অনেকগুলো দিন পার হয়ে গেল, ঢাকার জন্যে মন কেমন করতো কেবল। ঢাকার শাহবাগ, ঢাকার নীলক্ষেত, ঢাকার বইমেলা, আমার কার্জন হল থেকে একুশে হলের মাঝের পায়ে হাঁটা নোংরা রাস্তাটুকু এ সবই বড় আপন মনে হতো। বুঝে গেছিলাম রেফারেন্স বডি বদলে গেছে আবার, আপেক্ষিকতার বদল ঘটে গেছে জীবনে।

দেশে যাওয়া নিয়েও কত কিছু। বাড়ির সবার চাওয়া ঈদের সময়ে দেশে যাই। অথচ মনের মধ্যে সব সময়েই ইচ্ছা করে, ঈদ না, বইমেলার সময়ে যাবো। কাছের মানুষদের অসন্তুষ্ট মুখের জবাবে আবারো আশ্রয় নিই সেই রেফারেন্স বডির। ‘আরে আমরা দেশে যাওয়া মানে তো প্রতিদিনই ঈদ!’ পরিমাণের হিসেবে আনন্দের তো কমতি হয়না তখনো, বদলে বইমেলায় যাওয়াটা অনেকটা বাড়তি পাওনা।

মাঝে কবার এরকম হলো, হয়তো এখানেই বেড়াতে গেছি অন্য শহরে, সিডনি, বা ব্রিসবেন, দুদিন পরেই অস্থির লাগা শুরু করলো, আমার মেলবোর্নের ফেলে আসা ঘরের জন্যে মন কেমন করা শুরু করলো। আমি মনে মনে ভাবলাম, আমার নিজের শহরের সংজ্ঞাও কি বদলে বদলে যাচ্ছে তবে?

তবে হ্যাঁ, শুধু একটা রেফারেন্স বডি কখনও বদলায়নি, আমার মা।

মায়ের কাছে ফিরে ফিরে যাবো বলে, সেই একই আগ্রহ, সেই একই টান, একই ভালবাসা বা একই অপেক্ষার বেদনা নিয়ে বারে বারে ফিরে ফিরে গেছি। ইশকুলের চার দেয়ালের সীমানা থেকে প্রতি ছুটিতে বাসায় যেতাম যখন। অথবা সায়েদাবাদ থেকে বাসে উঠে যখন চোখ বুজে আম্মার কথা ভাবতাম। তারপরে প্রবাস থেকে প্রতিবার যখন দেশের টিকিট কেটে একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে আম্মাকে জানাতাম, আমি আসছি। দুই যুগের বেশি সময় ধরে এই এত রকমের ফিরে যাবার মধ্যে কোন পার্থক্য পাইনি আমি।

গতবার দেশ থেকে চলে আসবার সময় আম্মাকে হাসপাতালের বিছানায় রেখে এসেছিলাম। বিদায় বলা হয়নি, চোখ বুজে শুয়েছিল আম্মা। মুখে হাসি অনেকদিন ধরেই ছিল না তাঁর, একটা যন্ত্রণার আভা ছড়িয়ে থাকতো, এমনকি ঘুমের ভেতরেও। আম্মার গালে একটা আঙ্গুল ছুঁয়ে দিয়ে ঠিক ওইভাবেই তাকে রেখে চলে এসেছিলাম আমি। ঢাকার আকাশে বিমানের পেটের ভেতরে বসে জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি, কোথাও কোন মাটি নেই, দেশ নেই নিচে, আম্মার মুখটাই কেমন ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সবখানে।

বছর ঘুরে গিয়ে আবারো দেশে যাবার টিকেট কাটা হলো আমাদের। আলগোছে তারিখ মিলিয়ে দেখলাম, মাঝে বইমেলার কিছু দিনও পাওয়া যাবে। কিন্তু এবারে আর মনের ভেতরে কোন আগ্রহ খুঁজে পাচ্ছি না। একেবারেই না, একদমই মন চাইছে না দেশে যেতে।

এ এক অদ্ভুত বেদনা। এক সুতীব্র কষ্ট। দিকশূন্যহীন, কূল কিনারাহীন এক দিগন্ত বিস্তৃত শূন্যতা। হলপ করে বলতে পারি, এই উথাল পাথাল কষ্ট কেবল যাদের আছে তাঁরাই জানে শুধু, যাদের নেই তাঁরা জানে না, জানা সম্ভব নয়। এই শূন্যতার কোন পরিমাপ নেই, কেবল আছে ভোঁতা অনুভব।

এক বছর তিন মাস হলো, আম্মা নেই। কোন বাড়ি নেই তার এখন আর, কোন শহর বা দেশ নেই। আকাশের তারার মিথ্যা রূপকথা আমি বিশ্বাস করি না, মাটির নিচের জগতকে আমি মানতে পারি না। আমি শুধু জানি, কোথাও আমার মা নেই আর, আজ তাই আমার কোন দেশ নেই কোথাও।


মন্তব্য

সুমন চৌধুরী এর ছবি

মন্তব্য করার কিছু পাচ্ছিনা। ভালো থাকো। ভালো থাকার চেষ্টা করো।

ভালো থাকা বরাবরই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।

কনফুসিয়াস এর ছবি

ঠিক আছে।

-----------------------------------
বই,আর্ট, নানা কিছু।

এক লহমা এর ছবি

"তবে হ্যাঁ, শুধু একটা রেফারেন্স বডি কখনও বদলায়নি, আমার মা।" - ঠিক।

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

কনফুসিয়াস এর ছবি

ধন্যবাদ।

-----------------------------------
বই,আর্ট, নানা কিছু।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

সকালবেলা লেখাটা মন খারাপ হয়ে গেলো। তবু অনেকদিন পর লিখলেন, ভালো লাগলো।

আমাদের দেশে স্বাগতম চোখ টিপি

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

কনফুসিয়াস এর ছবি

দেখা হবে।

-----------------------------------
বই,আর্ট, নানা কিছু।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

লেখাটার শুরু থেকে একেবারেই বুঝতে পারিনি ধাক্কাটা কোন দিক দিয়ে আসবে। ধাক্কাটা যখন আসলো তখন তা ভাসিয়ে নিলো। আপনি ঠিকই বলেছেন,

এই উথাল পাথাল কষ্ট কেবল যাদের আছে তাঁরাই জানে শুধু, যাদের নেই তাঁরা জানে না, জানা সম্ভব নয়

- যারা এই অবধারিত নরকের নিপতিত হননি তারা এই কষ্টের কিছুই বুঝবেন না। আসলেই -

এই শূন্যতার কোন পরিমাপ নেই, কেবল আছে ভোঁতা অনুভব

পৃথিবীর আলো দেখতে যখন আপনার আরও সময় বাকি ছিল তখন গর্ভফুল দিয়ে যে রেফারেন্স বডির সাথে যুক্ত ছিলেন পৃথিবীর আলো দেখানোর জন্য ধাত্রী আপনাকে সেখান থেকে বাহ্যিকভাবে বিযুক্ত করেছিলেন মাত্র, বাস্তবে আপনি সেই রেফারেন্স বডির অচ্ছেদ্য অংশ হয়েছিলেন, এখনো আছেন। আপনার নশ্বর দেহ পঞ্চভুতে মিলিয়ে যাওয়া পর্যন্ত আপনি এমনটাই থাকবেন। কারো সাধ্য নেই আপনাদেরকে আর বিযুক্ত করার।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

কনফুসিয়াস এর ছবি

কী লিখবো জানি না, সময় নাকি কষ্ট ভুলিয়ে দেয়, কথাটা মনে হলেই এখন ভয় পাই। এই কষ্টটা ভুলে যেতেও চাই না।

-----------------------------------
বই,আর্ট, নানা কিছু।

কর্ণজয় এর ছবি

এই সময়ে এই লেখাটির মতো এতবার কোনো লেখা পড়িনি।
এজন্য নয়, লেখাটি খুব সুন্দর,হৃদয়কে কান্নায় মুড়িয়ে দেয়- যার জন্য আমরা বারবার দুঃখের কাছে চলে যাই,
এ জন্য নয় যে লেখার বেদনা আমাকে ছুয়ে যাচ্ছে
আর আমি সেই কষ্ট ছুঁয়ে
আমার হারানো মায়ের গন্ধ খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছি
আমি এটা এতবার পড়েছি কারণ
এ জন্য যে আমি হারিয়ে যাচ্ছি-
এর মধ্যে
সকল মা ভাল থাকুক
সকল সন্তানেরাও।।।
এবং আপনিও

কনফুসিয়াস এর ছবি

আপনার আমার মতন সব হতাভাগ্যর দল সবাই ভাল থাকুক।

-----------------------------------
বই,আর্ট, নানা কিছু।

অতিথি লেখক এর ছবি

কোথায় যেন শুনেছিলাম...
"সাগরের নীলে প্রশান্তির ছোঁয়া
এলোমেলো ঢেউয়ে দামাল হাওয়া
গাঙচিলের ঘরে ফেরার ডাকে
সূর্য ডোবে সাগরের বুকে
এই সবই তো সুন্দর
এ জীবনের আনন্দ
তার থেকেও সুন্দর
আমার মা"
-বৃদ্ধ কিশোর

কনফুসিয়াস এর ছবি

চলুক

-----------------------------------
বই,আর্ট, নানা কিছু।

নীড় সন্ধানী এর ছবি

আপেক্ষিক তত্ত্বে রেফারেন্স বডির ব্যাপারটা খুবই সত্যি। আমাদের দৈনন্দিন জীবনেই আছে প্রচুর উদাহরণ। যাকে আমরা 'বাড়ি' বলি, সেই বাড়ি ফেরাতে যে আনন্দ সেই আনন্দটাও যে রেফারেন্স বডির সাথে বদলে যায়। যার জন্য আমাদের বাড়ির প্রতি নাড়ির টান অনুভব করি সে-ই যদি অনুপস্থিত থাকে তখন বাড়ি ফেরার ব্যাপারটা আর দশটি জায়গায় বেড়াতে যাবার মতো হয়ে যায়। আনন্দ আছে, কিন্তু টান আর নেই। আমি আপনার চেয়ে ভাগ্যবান, আমার মা আছে, কিন্তু একটা অনাগত ধাক্কা খেলাম লেখাটা পড়ে। কোন একদিন এমন হয় যদি, বাড়ি ফিরতে ইচ্ছে করবে না।

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

কনফুসিয়াস এর ছবি

ধন্যবাদ নীড় সন্ধানী।

-----------------------------------
বই,আর্ট, নানা কিছু।

সত্যপীর এর ছবি

আব্বা নাই। মা আছেন এখনো।

ইস্কুলের এক বন্ধু চলে গেল সপ্তাখানেক আগে।

..................................................................
#Banshibir.

কনফুসিয়াস এর ছবি

একেকজনের রেফারেন্স বডি হয়তো আলাদা। আমার জন্যে মা ছিল সূর্যের মত, যাকে ঘিরে আমি আবর্তিত হতাম।

-----------------------------------
বই,আর্ট, নানা কিছু।

তাসনীম এর ছবি

আম্মা আর আব্বা দুজনই চলে গেছেন। ৩ বছরের ব্যবধানে। তবু আমি দেশ খুঁজে বেড়াই।

দেশ নিয়ে লিখেছিলাম - পড়ে দেখতে পারেন।

http://www.sachalayatan.com/tmhossain/52108

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

কনফুসিয়াস এর ছবি

খুব ভালো লাগলো আপনার লেখাটা। পড়ে এলাম এই মাত্র।

-----------------------------------
বই,আর্ট, নানা কিছু।

তিথীডোর এর ছবি

আমার মনে হয় জীবনের সবচেয়ে বড় সত্য হলো লাইফ ইজ অল এবাউট অপরচুনিটি কস্ট। কিছু পেতে হলে আলটিমেলি কিছু ছাড়তে হয়, রেফারেন্স বডি স্থির থাকুক বা নয়।

দেশে আসেন, এবার হয়তো বইমেলায় দেখা হবে। হাসি

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

কনফুসিয়াস এর ছবি

আমার কাছে জীবন মানেই আসলে মেকিং ইয়োর চয়েসেস এন্ড লিভিং দেয়ার কনসিকয়েন্সেস।
দেখা হবে।

-----------------------------------
বই,আর্ট, নানা কিছু।

ঈয়াসীন এর ছবি

২০০৫ এ মা যখন মারা যায় আমি তখন ফিনল্যান্ডেই। সাথে সাথেই দেশে গেলাম। ১০-১২ দিন থাকলাম। মায়ের শেষকৃত্য আর অন্য কিছু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সারতে ব্যস্ততার মধ্যেই ছিলাম। শোকের চেয়ে ব্যস্ততাই ছিল বেশি ঐ ১০/১২ দিন। শুধু যেদিন চলে আসছিলাম, দেখলাম আজ বাসায় কেউ আমাকে বিদায় দেয়ার সময় কাঁদছে না। আমাকে নিয়ে কারণে অকারণে কান্নার মানুষটি আর নেই! কেমন যেন শূন্যতায় ভরে উঠলো চারদিক। সে শূন্যস্থান আর পূরণ হয়নি।

------------------------------------------------------------------
মাভৈ, রাতের আঁধার গভীর যত ভোর ততই সন্নিকটে জেনো।

কনফুসিয়াস এর ছবি

খুব স্যরি। আমি সত্যিই জানি আপনার কেমন লাগে।

-----------------------------------
বই,আর্ট, নানা কিছু।

সোহেল ইমাম এর ছবি

লেখার মধ্যের এই বেদনা সত্ত্বেও বলতে হচ্ছে, অসাধারণ লাগলো লেখাটা।

---------------------------------------------------
মিথ্যা ধুয়ে যাক মুখে, গান হোক বৃষ্টি হোক খুব।

কনফুসিয়াস এর ছবি

ধন্যবাদ সোহেল ইমাম।

-----------------------------------
বই,আর্ট, নানা কিছু।

বোকা মেঘ এর ছবি

জীবনের এপারে হোক কি অন্যপারে... মা যেন ভাল থাকে...
আর কিছুই চাই না, কিচ্ছু না।
...বাকি সব সত্যিই আপেক্ষিক।

umme hasina এর ছবি

বেকার জীবনে চাকরী খুজঁতে খুজতেঁ যখন পেলাম একটা, পোস্টিং ঢাকায়। দূর পাল্লার বাসের জানালা দিয়ে আম্মুকে দেখা যাচ্ছিল, জানতাম তখন; আর ফেরা হবে না। তবুও দুই মাসে একবার বাড়ি ফিরতে পারতাম। বিয়ের পরে বছরে দুইবার। সন্তান জন্মের পরে বছরে একবারে এসে ঠেকেছে। সামনে কী হবে জানি না। লেখাটি খুব ভয় ধরিয়ে দিল মনে, সামনের কথা ভেবে।

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

অনেকদিন পর আপনার লেখা পড়লাম একটা। কেমন পুরোনো দিনের কথা মনে হচ্ছিল। স্মৃতি খুব অদ্ভুতাবে কাজ করে। কোনোভাবেই হয়ত সম্পর্কিত না, তারপরও কেন যেন "সমান্তরাল"-এর কথা মনে পড়ল। প্রথমবার পড়ার সময়ক্ষণ, ঠিক সে-সময়ের অনুভূতি... সব ঠিকঠিক মনে পড়ে গেল। এবং মন খারাপ হলো।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

বিডিআর, 'সমান্তরাল' গল্পটার খোঁজ দেবার জন্য এক ঝুড়ি ধন্যবাদ। পরবর্তী দেখায় তোমার একটা আইসক্রীম বা এক কাপ কফি পাওনা থাকলো।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

এক লহমা এর ছবি

আপনার মন্তব্য থেকে সূত্র ধরে গল্পটা পড়ে এলাম। সূত্র দেয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

কনফুসিয়াস এর ছবি

পান্ডবদা এবং প্রহরী, কী বলব জানা নেই। অনেক ধন্যবাদ।

-----------------------------------
বই,আর্ট, নানা কিছু।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA