গর্ভপাতের স্বাধীনতা: নারীর অধিকার নাকি ভ্রূণ হত্যার নামান্তর?

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি
লিখেছেন এস এম মাহবুব মুর্শেদ (তারিখ: শনি, ০১/০১/২০১১ - ৯:২৫পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

গর্ভপাত বিষয়টি বাংলাদেশে খুব বেশী আলোচিত বিষয় নয়। ধর্মীয়ভাবে এটি একটি সংবেদনশীল বিষয় হওয়া সত্ত্বেও আমাদের সমাজে অবহেলিত নারীর সম্মানের কথা বলে অনাকাঙ্খিত ভ্রূণ পরিত্যাগ করা হয়। গর্ভপাত ব্যবহৃত হয় রক্ষণশীল পরিবারের সম্মান বাঁচানোর একটি হাতিয়ার হিসেবে, নারীর অধীকার হিসেবে নয়।

গর্ভপাত মানে কি ভ্রূণ হত্যা? নাকি অনাকাঙ্খিত সন্তানের দায় নেয়ার অক্ষমতা থেকে নেয়া কোন সিদ্ধান্ত? এটা কি অবাধ যৌনাচারের ফল? নাকি দুঃস্বপ্নের মত ধর্ষনের কবল থেকে বাঁচার অধীকার?

বিষয়টিকে আরো জটিল করতে যুক্ত হয়ে যায় ধর্ম। ধর্ম বলে উপরওয়ালা যা তোমাকে দান করেছেন সেটা বর্জন মানে হচ্ছে উপরওয়ালাকে অবহেলা করা। তার উপর গর্ভপাত হচ্ছে ভ্রূণ হত্যা।

গর্ভপাত নিয়ে আলোচনা আরেকটু বাড়ার আগে তাই বিভিন্ন পক্ষকে সনাক্ত করা দরকার। প্রথমতঃ আছে রক্ষণশীল পক্ষ বা ধর্মভীরু পক্ষ। এদের বিপক্ষে আছে উদার বা ধর্ম নিয়ে সন্দিহান পক্ষ। রক্ষণশীলদের মধ্যে আছে গর্ভপাতের পক্ষে এবং বিপক্ষে দুটি ভাগ। একই রকম বিভাজন দেখা যায় উদারদের মধ্যে।

তবে মূলতঃ রক্ষণশীলদের মধ্যে গর্ভপাতের সমর্থকরা সবচেয়ে বেশী উচ্চকিত। কেননা এদেরকে ধর্মের মধ্যে থেকে ধর্মের একটি বিরুদ্ধচারন করতে হচ্ছে। আমেরিকাতে এদের প্রো-চয়েজার বলা হয়।

মানব ভ্রূণের ডেভলপমেন্ট
আলোচনা শুরুর আগে মানব ভ্রূণের ডেভলপমেন্ট নিয়ে একটা ধারণা থাকা প্রয়োজন। মানব ভ্রূণের চল্লিশ সপ্তাহের ডেভলপমেন্ট সময়কার বিস্তারিত বর্ণনা পাবেন এই ওয়েবসাইটে []। তবে আলোচনার সুবির্ধাথে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডেভলপমেন্ট এখানে তুলে ধরা হল। সুত্রঃ [, ]

নিষিক্ত হবার প্রায় ১২ দিন পর ভ্রূণটি (ব্ল্যাস্টোসিস্ট) একধরণের হরমোন তৈরী করা শুরু করে। মায়ের প্রসাবে এর উপস্থিতি ধরা পড়ে। ঠিক এই সময়টাকেই বেশীরভাগে চিকিৎসক প্রেগন্যান্সীর শুরু বলে অভিহিত করেন।

auto

তৃতীয় সপ্তাহে, ১৮ থেকে ২১ তম দিনের মাথায় ভ্রূণের হৃৎপিন্ড স্পন্দিত হতে শুরু করে। চর্তুথ সপ্তাহে মাথা, পঞ্চম সপ্তাহে হাত-পা এবং ছয় সপ্তাহে চেহারা 'শনাক্ত' করার মত হয়। ষষ্ঠ সপ্তাহে ভ্রূণের আকার আধা ইঞ্চির মত থাকে।

দশম সপ্তাহে চেহারাটা অনেকখানি পরিষ্কার থাকে। আল্ট্রাসাউন্ড করে জেন্ডার দেখা সম্ভব হতে পারে। তেরোতম সপ্তাহে ভ্রূণের আকার তিন ইঞ্চি এবং ওজন এক আউন্সের মত থাকে। ১৭ তম সপ্তাহে ভ্রূণের আকার আট ইঞ্চি এবং ওজন আধা পাউন্ডের মত থাকে। এসময় ভ্রূণের নড়াচড়া অনুভুত হতে পারে।

২২ তম সপ্তাহে ওজন বেড়ে এক পাউন্ডের মত হয়। এসময় ভ্রূণের শ্বাসযন্ত্র এত অপরিনত থাকে যে এসময় গর্ভপাত হলে ভ্রূণের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এই সময়ের পরে সাধারণতঃ যে কোন চিকিৎসক অতি-বিশেষ কারণ না থাকলে গর্ভপাত সমর্থন করেন না।

২৬ তম সপ্তাহে ভ্রূণের আকার চৌদ্দ ইঞ্চির মত এবং ওজন দুই পাউন্ডের মত হয়। এসময় শিশুর ব্রেইনের ডেভলপমেন্ট এতটা পূর্ণতা পায় যে প্রথমবারের মত কষ্ট অনুভব করতে সক্ষম হয়।

২৮ সপ্তাহে অনেকখানি পূর্ণাঙ্গ মানুষের মত ব্রেন ডেভলপমেন্ট হয়ে যায় ভ্রূণের। এরপর থেকে ভ্রূণ ক্রমাগত পূর্ণাঙ্গ শিশুতে পরিনত হতে থাকে। সর্বোচ্চ ৪০ সপ্তাহ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবার পর জন্ম নেয় মানব শিশু।

যুক্তির আলোকে গর্ভপাত []
ধর্মের আলোকে, মানুষের ভ্রূণ হল মানুষের একটা আকার। তাই ধর্মীয় বিবেচনায় গর্ভপাত হোলো চরম ভুল, সরাসরি খুন। ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে তাই গর্ভপাত বিরাট অপরাধ বিবেচিত হতে পারে, এমনকি যদি এই গর্ভপাতজাত ভ্রূণ মানুষেরই রোগ সারানোর জন্য স্টেম সেল গবেষণায় ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশের ধর্মীয় সংগঠন এক্ষেত্রে খানিকটা ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করে। সে প্রসঙ্গে আসছি পরের অংশেই।

সাধারণতঃ কনসিকোয়েনসিয়ালিস্ট অর্থাৎ যুক্তিবাদীর, এপ্রোচ হচ্ছে ভ্রূণের কষ্টের পরিমান বিচার করা। কিন্তু ভ্রূণ কি কষ্ট পায়? যদি নার্ভাস সিস্টেম ডেভলপ করার আগেই গর্ভপাত করা হয় তাহলে অবশ্যই ভ্রূণের কষ্ট পাবার প্রশ্ন আসে না। এমনকি নার্ভাস সিস্টেম ডেভলপ করার পরও ভ্রূণের কষ্ট পাবার পরিমান একটা পূর্ণাঙ্গ প্রাণী হত্যার চেয়ে অনেক অনেক কমই থাকে। যে হবু মা গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি কি কষ্ট পান? ধারণা করা যায় যে, গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত যে কারণে নিয়েছেন সে কারণে গর্ভপাত না করা হলেই বরং তার কষ্ট বেশী হবে। এক্ষেত্রে যে ভ্রূণের নার্ভাস সিস্টেম গড়েই উঠেনি তার চেয়ে মায়ের পরিপূর্ণ নার্ভাস সিস্টেমের কাছেই সিদ্ধান্তটা ছেড়ে দেয়া যুক্তিযুক্ত নয় কি?

গর্ভপাতের বিপক্ষে "পতনের চুড়ান্ত" হতে পারে এরকম একটা আর্গুমেন্ট দেয়া হয়। বলা হয় যে গর্ভপাতকে যদি মায়ের সিদ্ধান্ত হিসেবে ছেড়ে দেয়া হয় তাহলে সেটা বাড়তে বাড়তে গিয়ে শিশু হত্যায় রূপ নেবে। একই যুক্তি ইউথেনেসিয়া বা স্বেচ্ছামৃত্যু সর্ম্পকে প্রযোজ্য। একই ভাবে বলা যায়, যদি স্বেচ্ছামৃত্যুর অধিকার দেয়া হয় তাহলে সবাই দাদীমার কষ্ট হচ্ছে এই যুক্তি দিয়ে তাদের হত্যা করে তাদের সম্পত্তি দখল করে নিবে। অনুরূপভাবে বলা যায় যে, ধর্ম যদি না বলতো, "thou salt not kill" তাহলে সবাই সবাইকে হত্যা করে ফেলতো। যুক্তি হিসেবে অকাট্য মনে হলেও এটা আসলে ঘটেনা। তাই এর গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের সম্মুখীন।

অবশ্য গর্ভপাতের বিরোধী ধর্মীয় গোঁড়া পক্ষ এত জটিল কথাবার্তার ভিতর দিয়ে যায় না। তারা দাবী করে ভ্রূণ মানেই একজন শিশু এবং গর্ভপাত মানেই শিশু হত্যা। কাহিনী খতম।

এই চরম পন্থী অবস্থান থেকে স্টেম সেল রিসার্চের প্রতি ঘৃণার উৎপত্তি হয়। স্টেম সেল হচ্ছে ভ্রূণের প্রাথমিক কোষ যেটাতে এখনও কোন কার্য নির্ধারণ করা হয়নি। এই কোষগুলো কোন অঙ্গের উপর স্থাপন করে নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে বাড়তে দেয়া হলে সেটা ঐ অঙ্গের কোষে পরিনত হবে। এ বিষয়ে এখনও প্রচুর গবেষণা চলছে। রোগ সারানোর অসাধারণ পোটেনশিয়াল থাকা এ বিষয়ে প্রতিবাদ শুরু হয় কারণ এতে ভ্রূণের কোষ ব্যবহৃত হয়।

অথচ ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশনের (IVF) বিরুদ্ধে চরমপন্থীদের তেমন কোন আপত্তি নেই। এক্ষেত্রে একজন নারীর শরীর থেকে প্রচুর ডিম্বানু সংগ্রহ করা হয় এবং প্রায় এক ডজনের মত নিষিক্ত জাইগোট প্রস্তুত করা হয়। এই এক ডজন জাইগোট থেকে দুটা কিংবা তিনটা জাইগোটকে মায়ের ইউটেরাসে প্রতিস্থাপন করা হয়। এরমধ্যে থেকেও একটা কিংবা খুব বড়জোড় দুটা জাইগোট বাচ্চা হয়ে জন্মগ্রহন করে। এই যে এক ডজন জাইগোটের বাকীগুলোকে নষ্ট করে ফেলা হয় সেটাতে চরমপন্থীদের মাথা ব্যাথা নেই। অথচ গত ২৫ বছর ধরে এটা ঘটে আসছে।

অনেকক্ষেত্রে নিষিক্ত ভ্রূণ নিষিক্ত হবার অল্প কিছু দিনের মধ্যে নিজে থেকে গর্ভপাত হয়ে যেতে পারে। এটা অনেকটা প্রাকৃতিক কোয়ালিটি কন্ট্রোলের মত। এক গবেষণায় দেখা গেছে ৬২% গর্ভপাত প্রথম বারো সপ্তাহের আগেই ঘটেছে এবং ৯২% ক্ষেত্রে নারী জানতেও পারেনি যে সে গর্ভবতী ছিল। []

সুতরাং দেখা যাচ্ছে যুক্তিবাদী কনসিকোয়েন্সিয়ালিস্ট এবং ধর্মীয় গোঁড়ামী থেকে গর্ভপাত বিরোধীরা মূলতঃ ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করেন। একদল ভ্রূণের কষ্টের ব্যাপারে চিন্তিত আর আরেক পক্ষ ভ্রূণ পূর্ণাঙ্গ মানুষ কিনা সেটা নিয়ে চিন্তিত। ধর্মীয় চিন্তাবিদরা গর্ভপাতের বিরুদ্ধে বলতে গিয়ে প্রশ্ন করেন, "কখন একটা ভ্রূণ মানুষে পরিনত হয়?" - অবশ্য এই প্রশ্নের একাধিক উত্তর হতে পারে। অন্য দিকে যুক্তি বাদী প্রশ্ন করেন, "আমাদের প্রশ্ন এটা নয় যে ভ্রূণ মানুষ কিনা, বরং আসল প্রশ্ন হচ্ছে তারা কষ্ট পায় কিনা?"

গর্ভপাতের বিপরীতে পরবর্তী আক্রমন আসে অন্য দিক থেকে। বলা হয় ভ্রূণ এখন কষ্ট পাচ্ছে কি পাচ্ছে না সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং এই ভ্রূণ কি হতে পারতো সেটাই মুখ্য। গর্ভপাতের মাধ্যমে এই ভ্রূণের ভবিষ্যতকে হত্যা করা হচ্ছে। এই ক্ষেত্রে সঙ্গীত শিল্পী বিটোভেনের উদাহরণ খুব ব্যবহার করা হয়। বিটোভেনের এই উদাহরণ বিভিন্ন আকারে প্রচলিত। গল্পটা বলা হয় দুটো ডাক্তারের মধ্যেকার কথোপকথনের মতো করে:

'এই গর্ভপাতের ব্যাপারে তোমার মতামত চাইছি। বাবার সিফিলিস রোগ আছে এবং মায়ের টিউবারকিউলোসিস আছে। ইতিমধ্যে যে চারটা বাচ্চা এদের হয়েছে তাদের প্রথমটা অন্ধ, দ্বিতীয়টা মৃত, তৃতীয়টা শুনতে পায় না এবং বুদ্ধিভ্রষ্ট, আর চতুর্থটারও টিউবারকিউলোসিস আছে। তুমি হলে কি করতে?'

'আমি হলে গর্ভপাতটা করতে দিতাম'

'তাহলে তুমি বিটোভেন কে হত্যা করে বসতে'

ইন্টারনেটে শতাধিক ওয়েবসাইটে এই গল্পের নানা রূপ বিদ্যমান। আরেকটি ভার্সন হোলো: 'এক সিফিলিস থাকা মায়ের আট সন্তানের মধ্যে তিনজন বধির, দুজন অন্ধ, একজন মানসিক রোগী। তুমি কি তার নবম প্রেগন্যান্সীর গর্ভপাত ঘটানো সমর্থন করতে? তাহলে তুমি বিটোভেন কে হত্যা করতে।'

কিন্তু আসল ঘটনা হচ্ছে এটা সম্পূর্ণরূপে ভুল। সত্য কথা হচ্ছে বিটোভেন নাতো পঞ্চম সন্তান, না নবম সন্তান। বিটোভেন হচ্ছেন তাদের পরিবারের প্রথম সন্তান।[] আরো সঠিকভাবে বলতে গেলে পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান - প্রথম সন্তান শিশু বয়সে মারা যাবার পর। যদিও প্রথম শিশু অন্ধ বা বধির কিছুই ছিলো না। বিটোভেনের বাবা বা মায়ের সিফিলিস থাকার কোনো প্রমানই নেই। অবশ্য এটা সত্য যে তার মা টিউবারকিউলোসিসে মারা গিয়েছিলেন। এটা সে সময়ে খুব সাধারণ ঘটনা ছিল। তাই এই ঘটনা সম্পূর্ণরূপে ভিত্তহীন।

কিন্তু ঘটনাটা যাই হোক, ঘটনা মিথ্যা হলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে আর্গুমেন্টটা ব্যবহার করা হয় সেটা সম্পূর্ণ ভুল যুক্তি। সিফিলিক বাবা এবং টিউবারকিউলোসিস থাকা মায়ের মিউজিক্যাল জিনিয়াস জন্ম দেয়াটা একেবারেই সর্ম্পকহীণ। উপরন্তু গল্প অনুযায়ী চতুর্থ বা অষ্টম সন্তানের পর আর সন্তান জন্ম না দেবার সিদ্ধান্তও একইভাবে পৃথিবীকে বিটোভেনহীন করতে পারত।

মজার ব্যাপার হচ্ছে উল্টোভাবে বলা যায়, ১৮৮৮ সালে গর্ভপাত করা হয়নি বলেই হিটলারের জন্ম হয়েছিল। প্রতিবার যখন মানুষ সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স থেকে বিরত হয়, ততবারই পৃথিবী একটি নতুন জীবন থেকে বঞ্চিত হয়। এমনকি ধর্ষনে বাঁধা দিলেও পৃথিবী একটা সম্ভাব্য নতুন জীবন থেকে বঞ্চিত হয়। তাহলে কি এ কারনে ধর্ষন ঘটতে দেয়া যুক্তি যুক্ত?

তাই ভ্রূণ একটি ভবিষ্যত সফল মানুষ হতে পারে এই যুক্তিটি একেবারেই খেলো।

এভোলিউশনারী দৃষ্টিকোন থেকে দেখলে বিষয়টি খুবই সহজ। একটা নিষিক্ত ভ্রূণকে প্রকৃতির বাকী জীব থেকে আলাদা নীতিগত সুবিধা দেয়াটার কোন যুক্তি নেই। কেননা, মানুষ এসেছে শিম্পাঞ্জি থেকে এবং তারও আগে অন্যান্য প্রানী থেকে।

ধরুন মানুষ এবং শিম্পাঞ্জির মধ্যবর্তী প্রাণী অস্ট্রেলোপিথেকাস অ্যাফারেনেসিস কে আফ্রিকার গহীন অঞ্চল থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হল। এখন একে মানুষ হিসেবে গণ্য করা হবে কি? যুক্তিবাদীদের উত্তরটা সহজ - তারা আনন্দিত এবং উত্তেজিত হবে আরো একটি 'লুসি'র আবিষ্কারে। কিন্তু একজন গোঁড়া মৌলবাদী পড়ে যাবেন দ্বিধায় - একে কি মানুষ হিসেবে নীতিগত মর্যাদা দেয়া যাবে? যদি এই প্রানীটি কোন ধর্মীয় উপাসনালয়ে আসে তাহলে হয়ত তাদের একটা কোর্ট বসাতে হবে একে ঢুকতে দেয়া যাবে কিনা সে সিদ্ধান্তের জন্য।

এই প্রাণীর ক্ষেত্রে হয়ত পরিষ্কার উত্তর দেয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে। কিন্তু এভোলিশন হচ্ছে একটা নিরবিচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া। তাই মানুষ এবং শিম্পাঞ্জীর মাঝে এমন প্রাণী পাওয়া যাবেই যেটা নীতিগত বর্ডারলাইনে একেবারে প্রান্তবর্তী। সেক্ষেত্রে গোঁড়া মৌলবাদীর প্রতিক্রিয়া কেমন হবে সেটা সহজেই অনুমেয়।

এই দাবী করা হতে পারে যে, মানুষের জ্ঞান বুদ্ধির কারণে অন্যান্য প্রাণী থেকে বেশী কষ্ট অনুভব করতে সক্ষম। এটা অনেকখানি সত্যিও, এবং এ কারণে মানুষকে বিশেষ মর্যাদা দেয়া যেতে পারে। কিন্তু ইভোলিউশনের নিরবিচ্ছিন্নতা অনুযায়ী মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে কোন অ্যাবসলিউট পার্থক্য নেই। তাই মানুষের ভ্রূণকে অন্য প্রাণীর ভ্রূণের চেয়ে বেশী সুবিধা দিতে হবে এই অবস্থানটি যুক্তিযুক্ত নয়।

(লেখার এই অংশটি মূলতঃ রিচার্ড ডকিন্সের গড ডিলিউশন থেকে নেয়া হলেও এই বিপরীত যুক্তি গুলো আমি খুঁজতে চেষ্টা করেছি। এখানে এবং এখানে [, ] কিছু যুক্তি দেবার চেষ্টা করলেও আলোচনা করার জন্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়নি।)

এ বিষয়ে রিচার্ড ডকিন্সের নীচের ভিডিওটি দেখতে পারেন:

বাংলাদেশে গর্ভপাত
খুব অস্বাভাবিক মনে হলেও বাংলাদেশে গর্ভপাতের বিপরীতে ধর্মীয় বাঁধাটা খুব বেশী কার্যকরী নয়। বরং বিবাহ পূর্ব, বিধবা অবস্থায় কিংবা ধর্ষন প্রসূত প্রেগন্যন্সী ধর্মীয় এবং সামাজিক দৃষ্টিকোন থেকে গ্রহনযোগ্য নয় বলে এই সব ক্ষেত্রে গর্ভপাত অনেকখানিই গ্রহণযোগ্য। অনেক ক্ষেত্রে পুত্র সন্তানের আশায় সন্তান ধারণ করে পরে নারী ভ্রূণকে গর্ভপাতের মাধ্যমে পরিত্যাগ করা হয়।

বাংলাদেশের গর্ভপাত আইন ১৮৬০ এর ব্রিটিশ পেনাল কোডে অনুযায়ী তৈরী, যেখানে নারীর জীবন বাঁচানো ছাড়া অন্য কোনো কারনে গর্ভপাত নিষিদ্ধ। এমনকি ধর্ষন, শারিরীক, মানসিক, অর্থনৈতিক বা সামাজিক কারন, ভ্রূণের বিকলাঙ্গতা এসব কারনেও গর্ভপাত আইনতঃ সিদ্ধ নয়।[, ১০] অবশ্য গর্ভপাতের আইনের উইকি তথ্য অনুযায়ী ১২ সপ্তাহের (প্রথম ট্রাইমিস্টার) মধ্যে করলে এ সমস্ত ক্ষেত্রেও গর্ভপাত গ্রহনযোগ্য। [১১] এই লেখার ক্ষেত্রে উইকির চেয়ে ইউনাইটেড নেশনসের তথ্য বেশী গ্রহণযোগ্য বিবেচনা পূর্বক আলোচনা করা হবে।

উপরন্তু ইউনাইটেড নেশনসের তথ্য অনুযায়ী, দুজন ডাক্তারের এপ্রুভাল সহ একটি যোগ্য হাসপাতালে গর্ভপাত করাতে হবে। অবশ্য নিষিক্ত হবার ৮ সপ্তাহের (মিনস্ট্রুয়াল রেগ্যুলেশন) মধ্যে করলে ডাক্তারের এপ্রুভাল প্রয়োজন নেই। পরিবার পরিকল্পনার খাতিরে এটা গ্রহণযোগ্য। []

কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় অসংখ্য ধর্ষিতা নারীকে অসম্মানের হাত থেকে বাঁচাতে এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রনের কার্যকরী পদক্ষেপ হিসেবে গর্ভপাতকে অনেকখানি সরকারীভাবে শিথীল করা হয়েছে এবং বারো সপ্তাহের আগ পর্যন্ত সরকারী এবং বেসরকারী উভয় প্রতিষ্ঠানেই গর্ভপাত করানো হয়। যদিও বাংলাদেশের গর্ভপাত আইন ঠিক আগের মতই রয়েছে। যেহেতু আইনে নেই, গর্ভপাতের সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান প্রতিটি প্রতিষ্ঠান মূলতঃ আইন ভঙ্গ করেই কাজটি করছেন। [১২]

সবচেয়ে অবাক কান্ড হচ্ছে গর্ভপাতের যেসমস্ত কারন আইনত সিদ্ধ নয় সেসমস্ত ক্ষেত্রে ডাক্তারের এপ্রুভাল রেইট দেখে। বিয়ের আগেই প্রেগন্যান্টের ক্ষেত্রে ৭৯%, মেয়ের সন্তান থাকা স্বত্ত্বেও দাদী প্রেগন্যান্ট হলে ৬১%, স্বামীর মৃত্যুর পর বিধবার নারীর প্রেগন্যান্সী ৩১% ডাক্তার গর্ভপাত এপ্রুভ করেন। আরো অবাক হতে হয় স্বামীর অনুমতি না পেলে গ্রহণযোগ্য কারন থাকলেও মাত্র ৮% ডাক্তার সেটা এপ্রুভ করতে রাজি হন।[১২] তবে এই গবেষণায় মেয়ে ভ্রূণ ধারণ করবার কারনে গর্ভপাতটিকে আওতায় আনা হয়নি।

এই গবেষণা পত্র থেকেই জানা যায় যে, কোরান ১৬ সপ্তাহ পর্যন্ত গর্ভপাত সমর্থন করে। তাই কোনো কোনো ইসলামিক দেশ যেমন তিউনেশিয়া ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত গর্ভপাত এবং কোনো কোনো দেশ, যেমন ইন্দোনেশিয়া গর্ভপাত একেবারেই সমর্থন করে না। [১২, ১৩] সবকিছুর বিচারে বাংলাদেশের গর্ভপাত প্র্যাকটিস তাই অনেখানি শিথিল।

কিন্তু আসল সমস্যাটি একটু ভিন্ন। এক্ষেত্রে নারীর মতামতের চাইতে আসলে পরিবার, সমাজ এবং স্বামীর মতামতই মুখ্য হয়ে ওঠে। এমনকি স্বামীর অনুমতি ছাড়া ডাক্তাররাও গর্ভপাতে সমর্থন দেন না। অর্থাৎ গর্ভপাতে ঔদার্য্য আসলে বাংলাদেশীদের কাছে ভ্রূণের মূল্য যে কত কম সেটাই প্রতিফলিত করে। বাংলাদেশের নারীরা এই বিষয়ে একটি টিপিক্যাল ধর্ম কেন্দ্রিক, উন্নয়নশীল দেশের মতই পরাধীন।

এই অবজার্ভেশনের সাথে সাযুজ্য মেলে মিনস্ট্রুয়াল রেগ্যুলেশনের উপর করা একটি গবেষণা পত্রে। [১৪] গবেষনায় জানা যায় নারীরা গর্ভপাতকে একটি অপরাধ এবং খুন করার সমতুল্য মনে করেন - নারীর অধীকার নয়। সামাজিক অপমানের হাত থেকে রেহাই পেতে কিংবা শারিরীক সমস্যার ক্ষেত্রে গর্ভপাত গ্রহণযোগ্য বিবেচনা করা হয়। আর এই গর্ভপাতটি অসম্মানজনক মনে করা হয় বিধায় সমাজ এবং পরিবারের বাকিদের কাছ থেকে সাধারণতঃ লুকিয়ে রাখা হয়। মজার ব্যাপার হচ্ছে আগের গবেষণায় ডাক্তাররা বিবাহপূর্ব প্রেগন্যান্সীর গর্ভপাতে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে সায় দিলেও (৭৯%) নারীরা এক্ষেত্রে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

বাংলাদেশে গর্ভপাতে স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ চালু থাকলেও এ বিষয়ে নারীর অধীকার বিষয়ে কোনো সচেতনতা মূলক প্রশিক্ষণ চালু আছে বলে জানা যায়নি। উপরন্তু অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান থেকেও কোনো সচেতনতা মূলক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছি কিনা জানা যায় নি।

সারসংক্ষেপ এবং উপসংহার
ভ্রূণের ডেভলপমেন্ট অনুযায়ী ২৬ সপ্তাহের আগে ভ্রূণের কষ্ট পাবার প্রশ্ন থাকে না। তাই এই সময়ের পূর্বে গর্ভপাত করা উচিৎ হবে কি হবে না সেটা মায়ের সিদ্ধান্তের উপর ছেড়ে দেয়া উচিৎ। অবশ্যই এক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ এবং মায়ের স্বাস্থ্য খুব গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করত হবে।

গর্ভপাতের বিরুদ্ধে ভ্রূণকে পূর্ণাঙ্গ মানুষ রূপে প্রটেকশন দেবার কথা কিংবা গর্ভপাত করতে দিলে পতনের চুড়ান্ত হবে এবং দিকে দিকে নারীরা গর্ভপাত শুরু করবে এরকম যুক্তি সম্পূর্ণ ভুয়া। উপরন্তু ভ্রূণ পরিনত মানুষ হলে একজন সফল ব্যক্তিত্ব হবার সম্ভাবনা থাকে সেই যুক্তিও ভুল। কেননা তাহলে প্রতিবার সঙ্গমের সম্ভাবনা ব্যার্থ হলে কিংবা ধর্ষনের প্রতিরোধ করলেও একটি সম্ভাব্য ভ্রূণের জন্ম ব্যর্থ হয়। এভোলিউশনারী দৃষ্টিকোন থেকেও শুধুমাত্র মানব ভ্রূণকে এই ধরণের নৈতিক প্রটেকশন দেবার কোনো যুক্তি নেই।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কঠোর বৃটিশ আইন বিপরীতে মুক্তিযুদ্ধে অগণিত ধর্ষিতা মা, জনসংখ্যা বিস্ফোরণ এবং সামাজিক অপমানের (ধর্ষন, প্রাক-বিবাহ, বিধবা প্রেগন্যান্সী, নারী ভ্রূণ) হাত থেকে রক্ষার প্রতিকার পাওয়ার উপায় হিসেবে গর্ভপাতের সামাজিক এবং সরকারী স্বীকৃতি গর্ভপাত আইনটিকে অনেকটাই শিথিল করেছে। এই শৈথিল্যের কারণে ভ্রূণের মূল্যই কমেছে শুধু, নারীর অধিকারটি বাড়েনি। বরং অস্বাস্থ্যকর গর্ভপাতের কারণে নারীর অসুস্থতা কিংবা মৃত্যু বাড়ছে বৈ কমছে না।

এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের উচিৎ শিথিল গর্ভপাত অনুশীলনটিকে আইনের আওতাভুক্ত করা। কিন্তু প্রতিটি স্বাস্থ্য কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেয়া উচিৎ যেন তারা খুব ভালভাবে নারীর অধীকারটিকে প্রাধান্য দেন। নারীদের নিজেদেরও এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য সরকারের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করা উচিৎ।

(সর্তকতা: মাস কয়েকের ব্যবধানে প্রায় ২৪ ঘন্টা ব্যায় করে লেখাটি প্রস্তুত করেছি। আমেরিকার সর্বনিম্ন মজুরী ঘন্টা প্রতি ৮ ডলার করে প্রায় ২০০ ডলার সম্মানী দিতে প্রস্তুত থাকলে লেখাটি পত্রিকায় প্রকাশের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন।)

রেফারেন্স
[১] http://www.visembryo.com/baby/
[২] http://virtualhumanembryo.lsuhsc.edu/HEIRLOOM/Stage/HEP.htm
[৩] http://www.religioustolerance.org/abo_fetu.htm
[৪] http://en.wikipedia.org/wiki/The_God_Delusion পৃষ্ঠা ২৯১-৩০১
[৫] http://en.wikipedia.org/wiki/Abortion
[৬] http://en.wikipedia.org/wiki/Johann_van_Beethoven
[৭] http://www.disillusionedwords.com/?page_id=24
[৮] http://www.newoxfordreview.org/reviews.jsp?did=0307-gardiner
[৯] ইউনাইটেড নেশনসে রক্ষিত বাংলাদেশের অ্যাবরশন আইনের উপর ডকুমেন্ট
[১০] http://books.google.com/books?id=PexIy7c5mG0C&pg=PA4&lpg=PA4&dq=abortion+law+bangladesh&source=bl&ots=av8ijpek1x&sig=z8affsbw7pJfZSGvS96GvGABvPg&hl=en&ei=jejyTKKxGcH6lwe9ueiFDQ&sa=X&oi=book_result&ct=result&resnum=5&ved=0CCgQ6AEwBA#v=onepage&q=abortion%20law%20bangladesh&f=false
[১১] http://en.wikipedia.org/wiki/Abortion_law
[১২] http://www.jstor.org/pss/1965667 (ধ্রুব বর্ণনকে পেপারটি সংগ্রহ করে দেবার জন্য ধন্যবাদ)
[১৩] http://www.islamawareness.net/FamilyPlanning/Abortion/abortion3.html
[১৪] http://www.bioline.org.br/pdf?hn07052


মন্তব্য

স্পর্শ এর ছবি

আপনি বেশ স্ট্রং উপসংহার টেনেছেন, কিন্তু

ধর্মীয়ভাবে এটি একটি সংবেদনশীল বিষয় হওয়া সত্ত্বেও আমাদের সমাজে অবহেলিত নারীর সম্মান বাঁচানোর নাম করে অনাকাঙ্খিত ভ্রুন দেদারসে হত্যা করা হয়।

এবং এরকম আরো দুয়েকটা বাক্য মনেহয় চোখে পড়েছে যেখানে আপনার বাক্যের টোন ('নাম করে... দেদারসে হত্যা...') পরিবর্তন করতে পারেন।

একই যুক্তি ইউথেনেসিয়া বা সেচ্ছামৃত্যু সর্ম্পকে প্রযোজ্য। একই ভাবে বলা যায়, যদি সেচ্ছামৃত্যুর অধিকার দেয়া হয় তাহলে সবাই দাদীমার কষ্ট হচ্ছে এই যুক্তি দিয়ে তাদের হত্যা করে তাদের সম্পত্তি দখল করে নিবে।

স্বেচ্ছামৃত্য আর অপরের কষ্টলাঘবের জন্য হত্যা একই কথায় নয়। তাই এখানে একটু প্রশ্ন জাগছে।

আর উপসংহার সেকশনে আপনি বেশ কিছু উপসংহার টেনেছেন, যার অনেকাংশই আপনার আগের আলোচনা থেকে ডিরাইভ করা সম্ভব। কিন্তু স্কলারি আর্টিকেল হিসাবে উপসংহারের ঠিক কোন অংশটা আলোচনার ঠিক কোন অংশ থেকে আসছে সেটা আরেকটু স্পষ্ট করে প্রকাশ করার সুযোগ রয়েছে।

পরিশেষে পরিশ্রমী লেখার জন্য ধন্যবাদ।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

এটা অনেক দিন আগে শুরু করা একটা লেখা। কিছু কিছু জায়গা মূল উপসংহার থেকে খাপছাড়া ঠেকতে পারে। আমি সংশোধন করার চেষ্টা করছি। ধন্যবাদ।

স্বেচ্ছামৃত্যু এই ক্ষেত্রে এভাবে ব্যবহৃত হতে পারে, "দাদী যে পরিমান কষ্ট হচ্ছে এ অবস্থায় দাদী নিজেই বেঁচে থাকতে চাইতেন না, বরং স্বেচ্ছামৃত্যুই তার কাম্য হত"।

পুরো লেখাটিই ক্রমাগত উপসংহারের দিকে গেছে। উপসংহার সেকশনটা আসলে সারসংক্ষেপ বলাই বেশী যুক্তিযুক্ত হবে। এটিও বদলে নিচ্ছি। অসংখ্য ধন্যবাদ।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

মাহফুজ খান [অতিথি] এর ছবি

চমৎকার লেখাটির জন্য প্রথমে অভিনন্দন জানাই। আমার একটি প্রশ্ন আছে, ১৮ বছরের নিচে সবাইকে বাংলাদেশে শিশু হিসেবে গন্য করা হয়, এই বয়সেও অনেক কুমারীর মা হয়ে যাওয়ার ঘটনা বিরল নয়, সেক্ষেত্রে গর্ভপাতের সিদ্ধান্তটি কি ঐ অপ্রাপ্তবয়স্ক কুমারীর উপর ছেড়ে দেওয়া উচিৎ নাকি তার বাবা মায়ের/ অভিভাবকের নেওয়া উচিৎ?
আমার মনে হয় এই বিষয়টি পৃথিবীর সকল দেশ ও সমাজের সব চাইতে জটিল সমস্যাগুলোর একটি, এর কোনও সহজ সরলরৈখিক সমাধান মনে হয় সম্ভব নয়। এর পক্ষে বিপক্ষে যতযুক্তি আছে তার প্রত্যেকটি যুক্তিই সত্য তবে নিজ নিজ ক্ষেত্র বিশেষে। তবে শুধু মাত্র কন্যা সন্তান বলে ভ্রুন হত্যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হওয়া উচিৎ।

উপরন্তু ভ্রুন পরিনত মানুষ হলে একজন সফল ব্যক্তিত্ব হবার সম্ভাবনা থাকে সেই যুক্তিও ভুল। কেননা তাহলে প্রতিবার সঙ্গমের সম্ভাবনা ব্যার্থ হলে কিংবা ধর্ষনের প্রতিরোধ করলেও একটি সম্ভাব্য ভ্রুনের জন্ম ব্যর্থ হয়।

আরেকটি বিষয় এখানে যুক্ত হতে পারত, "নিরোধ ব্যাবহার করে মিলন"।

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

১৮ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে হবু মা এবং তার মা মিলে একটা আনবায়াসড সিদ্ধান্ত নিতে পারলে ঠিক হবে মনে হয়।

নিরোধ ব্যবহারের বিষয়টি অর্ন্তভুক্ত করা যেতো। ধন্যবাদ!

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি

অসাধারণ হলো! আপনার আর্কাইভটা লিবারেল দৃষ্টিকোণের লেখায় ভরপুর হয়ে উঠছে। খুবই ভালো লাগছে বিষয়গুলো।

বাংলাদেশে এই সংক্রান্ত আইন পরিবর্তনের সময় হয়ে এসেছে। কিন্তু এগুলো নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে চায় না কেউ হয়তো মোল্লাদের ভয়ে।

ঠিক এই বিষয় নিয়ে অনেকদিন ধরে মুক্তমনায় দীর্ঘ একটা বিতর্ক হয়েছিল। আলোচনা প্রাণের সংজ্ঞাতেও গড়িয়েছিল (সে জন্যে এই অভাজন দায়ী)। অনেকে আবার এটাও মনে করে, ভ্রুণের যে বয়সে তাকে মায়ের পেটের বাইরে মেডিকালি বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব, সে বয়সে গর্ভপাত করা যাবে না। এসব মার্জিনাল বিষয়ে সঠিকটা নির্ধারণ খুবই কঠিন। আমি এ বিষয়ে নারী অধিকারের ব্যাপারে মনোযোগী হবারই পক্ষে।

~~সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা মানুষের মুক্তির জন্যে সংগ্রামের সময় অপরাধীর অধিকারের কথাটাও ভুলে যায় না

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

ধন্যবাদ! মুক্তমনার লিংকটার জন্যও ধন্যবাদ। সময় করে পড়তে হবে।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

নীল রোদ্দুর এর ছবি

পূর্ণাঙ্গ ব্রেইন ডেভেলপ করার আগে ভ্রুণ কষ্ট পাবে না তা কতখানি সঠিক! ২৬ সপ্তাহ তো একদিনে আসে না। গর্ভধারণের ১২ সপ্তাহ সময় কাল থেকেই শুরু হয় নার্ভ সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট প্রক্রিয়া এবং তা আপাত পূর্ণতা পায় ২৬ সপ্তাহের দিকে। আপাত বলছি এই জন্য, ব্রেইন ডেভেলপমেন্ট পূর্ণতা পায় জন্মেরও প্রায় দুই বছর পরে। সদ্যজাত শিশুর দৃষ্টিই তো পূর্ণাঙ্গ মানুষের মত না।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে যার পূর্ণাঙ্গ নার্ভ সিস্টেম নেই সেই কি মানব নয়? একটি মানব ভ্রূণকে মানব হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয় সেই সময়েই যখন তাতে নার্ভ সিস্টেম ডেভেলপমেন্টের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। সেই হিসেবে ১২ সপ্তাহের পরই মানব ভ্রূণ মানব হিসেবে বিবেচ্য। সে মানব স্বত্তা হিসেবে বিকশিত হতে যাচ্ছে।

২৬ তম সপ্তাহে ভ্রুনের আকার চৌদ্দ ইঞ্চির মত এবং ওজন দুই পাউন্ডের মত হয়। এসময় শিশুর ব্রেইনের ডেভলপমেন্ট এতটা পূর্ণতা পায় যে প্রথমবারের মত কষ্ট অনুভব করতে সক্ষম হয়।

এই কথাটার মানে যদি এই হয়, ২৬ সপ্তাহ পর্যন্ত গর্ভপাত ঠিক আছে, তাহলে আমি আপত্তি জানাই। ব্রেইন ডেভেলপমেন্ট একদিনে হয় না, এটা একটা প্রক্রিয়া, যার শুরু ১২ সপ্তাহের সময়কাল থেকেই। যদি ভ্রুণ কষ্ট পায় কিনা, সে মানব বলে গণ্য কিনা, সেই প্রশ্নই আসে তবে নার্ভ ডেভেলপমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু হবার পর থেকেই গর্ভপাত অনুমোদনযোগ্য না।

ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল এথিক্স অনুসারে, ১২ সপ্তাহের পরই গর্ভপাতকে অনৈতিক ধরা হয়। আমাদের দেশে চিকিৎসাওক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠিত কোন এথিক্যাল কোড অফ কন্ডাক্ট নেই, যে কারণে গর্ভপাত নৈতিক কি অনৈতিক, সেই মানদন্ডও এখানে নেই। কথা বলে তাই রক্ষনশীল বা চরমপন্থী ধার্মিকেরাই।

কোন অবস্থায় গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত আসছে?
১. অনাকাঙ্খিত সন্তান।
সন্তান অনাকাঙ্খিতই যদি হবে, তাহলে গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নেবার জন্য ৬/৭ মাস অপেক্ষা করা যৌক্তিক নয়। যে গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত ৬/৭/৮ মাসে আসবে, সে ক্ষেত্রে বলতে হয়, ভুল এবং অসময়োচিত সিদ্ধান্তের কারণে শিশুর হত্যা। গর্ভধারনের ৩৪ সপ্তাহে শিশুকে মায়ের দেহের সাহায্য ছাড়াই বেঁচে থাকতে সক্ষম বলে বিবেচনা করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই অপরিণত শিশুর জন্ম হচ্ছে গর্ভজনিত সমস্যার কারণে এবং তাকে কৃত্রিম সাহায্যের মাধ্যমে বাঁচিয়েও রাখা হচ্ছে। সুতরাং প্রায় পরিণতি প্রাপ্ত শিশুর ক্ষেত্রে গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত শিশু হত্যারই নামান্তর, সেই সিদ্ধান্ত যেই অনুমোদন করুক না কেন আর যে কারণেই করুক না কেন।

যে ভ্রূণ পরিণত অবস্থা থেকে বহুদূরে বা যার নার্ভ সিস্টেম ডেভেলপমেন্টের প্রক্রিয়ায় শুরু হয়নি, সেই গর্ভপাতকে কি শিশুহত্যা বলা যায়? সময়ে সে মানব হবে, কিন্তু কেবল ভবিষ্যত নয়, সেই মুহূর্তে বর্তমানই সত্য। সে তখনও মানব স্বত্তা হয়ে উঠেনি।

২। গর্ভের সন্তান ছেলে কি মেয়ে এর উপর নির্ভর করে গর্ভপাতের ঘটনা বহুল। গর্ভস্থ সন্তান কন্যা, এটা সনাক্ত হওয়ার সাথে সাথেই যে গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত হয়, তাকে কি কোনভাবে নৈতিক বলা যায়?

এই দুটো পয়েন্ট দেখলে মনে হতে পারে, আমি গর্ভপাতের বিরুদ্ধে, যদিও অযৌক্তিক ভাবে নয়। আসলে তা নয়।

যে সন্তানকে লালন পালন করার সামর্থ্য বাবা মায়ের নেই (সামর্থ্য যে নেই বা এই শিশু অনাকাংখিত, তা বুঝতে ৫/৬/৭ মাস সময় লাগে না), বা রিপোর্ট বলছে, অনাগত শিশু জন্মাবেই মারাত্মক শারিরীক প্রতবন্ধকতা নিয়ে (যা নির্ণীত হতে ৬ মাস পর্যন্ত সময় লাগতেও পারে) যা তাকে কষ্টকর জীবনের পথে নিয়ে যাবে, সে ক্ষেত্রে গর্ভপাতই কি শ্রেয় নয়?

আর গর্ভপাত না করার বিপক্ষ যুক্তি হিসেবে যারা দেখান, একজন বিটোভেনকে হত্যা করছি কিনা, তাহলে বলতে হয়, ১০টা সন্তানও যেমন বিটোভেন হতে পারে, একটিও নাও হতে পারে। একজন বিটোভেনকে বিনষ্ট করছি কিনা, সেটা প্রশ্ন হওয়া উচিত না, হওয়া উচিত একজন মানুষকে তার বাঁচার অধিকার থেকে অনৈতিক ভাবে বঞ্চিত করছি কিনা?

ব্যাপারটা এতো বেশী বিতর্কিত যে অনেক অনেক কথা আসে, কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা যা আসে তা হল, মানবাধিকার! সে অধিকার যেমন মায়ের, তেমনি শিশুরও। অধিকার টা বাবারও। কিন্তু অনৈতিক কে নৈতিক বলে চাপানোর, ভুল ভাবে ব্যাখ্যা দেয়ার অধিকার বাবা-মা, সমাজ, রাষ্ট্র কারোর নেই।

মুর্শেদ ভাই, এইবার লেখা সম্পর্কে মন্তব্য, লেখার টোনটা আরেকটু সহজ, নিরপেক্ষ এবং যৌক্তিক হলে ভালো হত। যে বিষয়গুলো এখনো অমিমাংসীত, তা নিয়ে নিরপেক্ষ টোনে কথা না বলতে পারলে আমরা যে সমাধানের অপেক্ষায় আছি, তা যথার্থ হবে তো?

গর্ভপাতের অনুমোদন বা দমন আমাদের লক্ষ্য নয়, তবে এমন একটা সমাধান আমাদের কাম্য যা মানবাধিকার সমুন্নত রাখে।

--------------------------------------------------------
দেখা হবে সত্য, সুন্দর আর মুক্তচিন্তার আলোকে;
যদি লক্ষ্য থাকে অটুট, দেখা হবে বিজয়ে।

-----------------------------------------------------------------------------
বুকের ভেতর কিছু পাথর থাকা ভালো- ধ্বনি দিলে প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

নার্ভ ডেভলপমেন্ট যে একদিনে ঘটে না সেটা জেনেই বলছি যে, যে নার্ভের পরিপূর্ণতা পেতে জন্মের দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগে সেই নার্ভকে ১২ সপ্তাহের পর থেকেই সম্পূর্ণ মানব হিসেবে প্রটেকশন দেয়ার যৌক্তিকতা কতটুকু? এই ক্ষেত্রে মায়ের স্বর্য়সম্পূর্ণ নার্ভাস সিস্টেমকেই সেই দায়িত্ব দেয়াটা যৌক্তিক না? এই মা সন্তানের ভ্রূণকে ধারণ করছেন, তিনিই তাকে লালন পালন করবেন - সমাজও না, ধর্মীয় নেতারাও ন। এই সিদ্ধান্ত মায়ের জন্যও নিশ্চয়ই সহজ। তারপরও একজন মা যখন এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তখন তাকে কেন নৈতিক/ধার্মিক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে!?

মুর্শেদ ভাই, এইবার লেখা সম্পর্কে মন্তব্য, লেখার টোনটা আরেকটু সহজ, নিরপেক্ষ এবং যৌক্তিক হলে ভালো হত। যে বিষয়গুলো এখনো অমিমাংসীত, তা নিয়ে নিরপেক্ষ টোনে কথা না বলতে পারলে আমরা যে সমাধানের অপেক্ষায় আছি, তা যথার্থ হবে তো?

আরো সহজ করে না বলতে পারাটা আমার ব্যর্থতা। নিরপেক্ষতা বলতে যদি আপনি আমাকে যৌক্তিক অবস্থান থেকে সরে দাঁড়াতে বলেন তাহলে আমি নিরুত্তর। তবে যৌক্তিক হয়নি এটা কিভাবে বললেন ঠিক বুঝলাম না। কোন অংশটি অযৌক্তিক সেটা তুলে ধরলে আলোচনা করতে পারতাম।

বিষয়টি আপনার কাছে অমিমাংসীত হতে পারে। কিন্তু যৌক্তিক পর্যবেক্ষণ শেষে আমার মনে হয়না এ বিষয়টির মিমাংসা বাকি আছে।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

নীল রোদ্দুর এর ছবি

যে নার্ভের পরিপূর্ণতা পেতে জন্মের দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগে সেই নার্ভকে ১২ সপ্তাহের পর থেকেই সম্পূর্ণ মানব হিসেবে প্রটেকশন দেয়ার যৌক্তিকতা কতটুকু? এই ক্ষেত্রে মায়ের স্বর্য়সম্পূর্ণ নার্ভাস সিস্টেমকেই সেই দায়িত্ব দেয়াটা যৌক্তিক না?

তাহলে কি ২৬ সপ্তাহেও তাকে মানব বলে প্রটেকশন দেয়া যায়? যে শিশু মানসিক প্রতিবন্ধী, যে কখনই পূর্ণাঙ্গ মানুষের মত সিদ্ধান্ত নেয়ার যোগ্যতা অর্জন করবে না, তার জীবন মৃত্যুর অধিকার কতখানি? একজন মা পূর্ণাঙ্গ মানুষের মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারছে বলে গর্ভের সন্তান পৃথিবীতে আসার বা না আসার প্রশ্নের মীমাংসা করবে সেই। যাকে ১২ সপ্তাহে প্রটেকশন দেয়া যায় না, তাকে কবে মানব হিসেবে প্রটেকশন দেয়া যায়? এবং কিসের ভিত্তিতে?

আমি আপনাকে C. M Francis এর লেখা Medical Ethics বইটির Beginning of Life. চ্যাপ্টারটা পড়ার জন্য অনুরোধ করছি। কোন সামাজিক বা ধর্মীয় প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে গর্ভপাতের সিদ্ধান্তের পুনঃ বিবেচনা চাইনি, চেয়েছি নৈতিক প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে।

বিষয়টি আপনার কাছে অমিমাংসীত হতে পারে। কিন্তু যৌক্তিক পর্যবেক্ষণ শেষে আমার মনে হয়না এ বিষয়টির মিমাংসা বাকি আছে।

বিষয়টি অমিমাংসীত বলছি এইজন্য, গর্ভপাত প্রশ্নে আপনি আদালতে যান, বিচার পাবেন না, কারন গর্ভপাত সম্পর্কিত আমাদের কোন আইনী সমাধান নেই। বা নেই এথিকাল কোড অফ কন্ডাক্ট। বিষয়টি মিমাংসীত হচ্ছে সমাজ, ধর্ম, পিতামাতা এবং চিকিৎসকের সিদ্ধান্তে। বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য ও আমরা আইনী সমাধান পাই, কিন্তু একটি শিশুর পৃথিবীতে আসার অধিকারের বেলায় তা পায় না।

মায়ের অধিকার অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। যে সমাজে নারীর মনকেও ঘরের মধ্যে বন্দী করে রাখা হয়, সেখানে তাকে আইনী সহায়তা ছাড়া আসলে কতটুকু অধিকার দিতে পারছি আমরা? গর্ভপাতের বেলায় নারীর সিদ্ধান্ত বলে যা বলা হয়, তা কতখানি তার সিদ্ধান্ত? আমাদের সমাজে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই লোকলজ্জার ভয়েই নারী স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নেয়, বাকি গুলো চাপিয়ে দেয়া হয়।

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আপনার লেখায় নেই বা তা সমাধানের প্রসঙ্গও আসেনি। শুধু মোল্লা পুরুতের বিরুদ্ধে বা সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে কথা বলে খুব বেশী কিছু বদলায় না। তাই আরো বেশী নিরপেক্ষতা ও যৌক্তিকতার কথা বলেছি। লেখা যে সুলিখিত, তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই আমার।

একটা সমাজের অচলায়তনের বিরুধে যেমনি সচেতনতা দরকার, তেমনি কাঠামোগত পরিবর্তন ও দরকার। আমি আবারো বলছি, আমি কথা বলছি মানবাধিকার নিয়ে, মানব ভ্রূনের মানব সত্তা বিকাশের শুরুর পর্যায় থেকে বাঁচার অধিকার নিয়ে এবং বাংলাদেশের চিকিৎসার ক্ষেত্রে আইনগত কাঠামোর নাই নাই অবস্থা নিয়ে। হাসি .
--------------------------------------------------------
দেখা হবে সত্য, সুন্দর আর মুক্তচিন্তার আলোকে;
যদি লক্ষ্য থাকে অটুট, দেখা হবে বিজয়ে।

-----------------------------------------------------------------------------
বুকের ভেতর কিছু পাথর থাকা ভালো- ধ্বনি দিলে প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

আমি আপনাকে C. M Francis এর লেখা Medical Ethics বইটির Beginning of Life. চ্যাপ্টারটা পড়ার জন্য অনুরোধ করছি। কোন সামাজিক বা ধর্মীয় প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে গর্ভপাতের সিদ্ধান্তের পুনঃ বিবেচনা চাইনি, চেয়েছি নৈতিক প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে।

এই বইটা অনলাইনে নেই। একই ধরণের অন্যান্য লেখা আছে অবশ্য। [, ] আমার খুব আগ্রহ হচ্ছে এ বিষয়ে। আপনার কাছে বইটার ডিস্ট্রিবিউটেবল কপি থাকলে আমি সংগ্রহে আগ্রহী। অথবা আপনি যদি অধ্যায়টির চুম্বাকাংশ আলোচনা করেন তাহলেও কৃতজ্ঞ থাকব।

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আপনার লেখায় নেই বা তা সমাধানের প্রসঙ্গও আসেনি। শুধু মোল্লা পুরুতের বিরুদ্ধে বা সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে কথা বলে খুব বেশী কিছু বদলায় না। তাই আরো বেশী নিরপেক্ষতা ও যৌক্তিকতার কথা বলেছি।

আমার মনে হয় এই প্রসঙ্গগুলো এসেছে। কিন্তু আমি একমত যে আরো বিষদ আলোচনার দাবী রাখে ইস্যু গুলো। কিন্তু আমার তো এই বিষয়ে বাংলায় আর কোনো লেখাও চোখে পড়েনি। এটা তো একটা শুরু মাত্র। লেটস টক অ্যাবাউট দিস এন্ড সলভ দ্যা প্রবলেম। আমরা যদি "মোল্লা পুরুতের বিরুদ্ধে বা সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে" কথা নাও বলি তাহলেও তো কিছু বদলাচ্ছে না। সুতরাং কথা বলে দেখা যাক কতদূর যাওয়া যায়!

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি


কিন্তু আমার তো এই বিষয়ে বাংলায় আর কোনো লেখাও চোখে পড়েনি। এটা তো একটা শুরু মাত্র।

চলুক

~~সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা মানুষের মুক্তির জন্যে সংগ্রামের সময় অপরাধীর অধিকারের কথাটাও ভুলে যায় না

নীল রোদ্দুর এর ছবি

আপনার কাছে বইটার ডিস্ট্রিবিউটেবল কপি থাকলে আমি সংগ্রহে আগ্রহী। অথবা আপনি যদি অধ্যায়টির চুম্বাকাংশ আলোচনা করেন তাহলেও কৃতজ্ঞ থাকব।

আমার কাছে বইটির হার্ড কপি আছে, Jaypee Publication থেকে প্রকাশিত। অনলাইনে নেই সম্ভবত। আমি আশা করছি, এই বিষয়ে সামনেই আলোচনা করব। আমি আমাদের দেশের সামাজিক অবস্থার সাথে ভারতের সামাজিক অবস্থা অনেকখানিই মিলে যায় বলেই ভারতের মেডিকাল এথিক্স (এথিকাল কোড অফ কন্ডাক্ট) কে মাইক্রোস্কোপের নিচে ফেলতে আগ্রহী। মূল লক্ষ্য, বাংলাদেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে কাঠামোগত নৈতিক চর্চার সূচনা করা যায় কিনা, সেই পর্যন্ত। অন্তত সচেতনতা আনার চেষ্টা করা।

কিন্তু আমার তো এই বিষয়ে বাংলায় আর কোনো লেখাও চোখে পড়েনি। এটা তো একটা শুরু মাত্র। লেটস টক অ্যাবাউট দিস এন্ড সলভ দ্যা প্রবলেম। আমরা যদি "মোল্লা পুরুতের বিরুদ্ধে বা সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে" কথা নাও বলি তাহলেও তো কিছু বদলাচ্ছে না। সুতরাং কথা বলে দেখা যাক কতদূর যাওয়া যায়!

আসলেই দেখা যাক। শুরু করার সময় হয়েছে। শুরু যে করব, সে বিষয়ে মন স্থির করা আছে, সময় নিচ্ছিলাম। অ্যামেরিকান নার্সিং অ্যাসেসিয়েশনের কোড অফ কন্ডাক্ট ফর নার্সেস এর অনুকরণে বাংলাদেশের জন্য খসড়া প্রস্তাবনার কাজ শুরু করেছি (ইংরেজীতে)। সেটাকে এখনো জনসমক্ষে আনতে পারিনি, কারণ আমি এই ফিল্ডের কেউ না এবং লিখতে গিয়েও দেখেছি, প্রস্তাবনার একেকটা শব্দেরই অনেক রকম বিকল্প হতে পারে এবং সেকারণে অর্থের রূপও বদলে যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, সেটা বাস্তবায়ন করতে গেলে সিস্টেমের আপ সাইড ডাউন করতে হবে! মেডিক্যাল এথিক্সের একেকটা ইস্যুই আরো বিস্তৃত! একটা না, কয়েকটা জীবনকাল লেগে যাবে।

তবে, ঠিক করলাম, অচিরেই শুরু করব।
--------------------------------------------------------
দেখা হবে সত্য, সুন্দর আর মুক্তচিন্তার আলোকে;
যদি লক্ষ্য থাকে অটুট, দেখা হবে বিজয়ে।

-----------------------------------------------------------------------------
বুকের ভেতর কিছু পাথর থাকা ভালো- ধ্বনি দিলে প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

পড়লাম। এক্ষেত্রে শক্ত উপসংহার টানা খুব কঠিন। আমার মতে 'পরের তিতার চেয়ে আগের তিতা ভালো' নীতিই সবচেয়ে ভালো সমাধান। আইনে কিছুটা শিথিলতা থাকা দরকার, যাতে কেস বাই কেস সিদ্ধান্ত নেয়া যায়।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

উপসংহার টানা কঠিন হবে কেন? যুক্তি এবং তথ্যের ভিত্তিতে খুব সহজেই উপসংহার টানা যায়।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

পদ্মজা এর ছবি

লেখকের উপসংহারের সঙ্গে একমত।
নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া এই আইন প্রণয়ন অথবা আইন সংস্কার করে ফল পাওয়া যাবেনা। নূন্যতম নারীর মতামতের মূল্য দিতে হবে।

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

সেটাই। যে মা প্রাণের সন্তান গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি আর সবার থেকে বেশী অধীকার রাখেন এ বিষয়ে।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

মানিক চন্দ্র দাস এর ছবি

মুর্শেদ ভাই,
চমৎকার একটি লেখার জন্যে ধন্যবাদ। শেষের প্যারাটি ভালো হয়েছে। হেঃ হেঃ নার্ভাস সিষ্টেম ডেভেলপ করার বিষয়টি একটু পরিস্কার করে বললে বোধহয় ভালো হতো।

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

লেখার মূল বক্তব্যের প্রয়োজনে ভ্রূণ ডেভলপমেন্টের একটা সারসংক্ষেপ দিতে চেয়েছি শুধু। মূল প্রসঙ্গ থেকে বেশী ডেভিয়েট করতে চাইনি। আপনি ডাক্তারবাবু। আপনিই একটা লেখা দিন না!

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

মানিক চন্দ্র দাস এর ছবি

শরীরের কোন নির্দিষ্ট অংশের ডেভেলপমেন্ট দিয়ে শুরু করবো, নাকি সব অংশের ডেভেলপমেন্ট নিয়ে আলাদা আলাদা কিস্তিতে লেখা দেবো, আপনিই বলে দেন ভাইয়া। আপনার উত্তরের অপেক্ষায় থাকলাম।
manikchandradas10[@]gmail.com এখানে মেইল করতে পারেন। আপনার একাউন্ট জানা থাকলে লেখা আগে আপনার কাছে পাঠাবো। তখন যদি বলেন সচলে দিতে, তখনই দেবো। ভালো থাকবেন ভাইয়া।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

পড়লাম।

--

সতর্কতাও পড়লাম। হাসি

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

হাসি ধন্যবাদ।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

সুমন চৌধুরী এর ছবি

অচ্ছুৎ বলাই আমার কথাটা বলে দিয়েছে।

শেষের সতর্কবার্তাটা ডিফল্ট করার মতো। যেই দিনকাল পড়েছে !



অজ্ঞাতবাস

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

হ সেরকমটাই করা দরকার মনে হয়।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

আসরাফ [অতিথি] এর ছবি

আজ সারাদিন সবগুলো ব্লগ ঘুরে কেবল একটি মাত্র ভাল লেখা পেলাম।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। এই ব্লগে আমার এখনো অনোমোদন হয়নি।

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

ধন্যবাদ। আপনার কোনো লেখা এই ব্লগে পড়েছি বলে মনে হলনা। লিখতে থাকুন হাত খুলে। একদিন সচল হয়ে যাবেন।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

মনমাঝি [অতিথি] এর ছবি

কে মানুষ আর কে মানুষ না, আমার মনে হয় না এই প্রশ্নের নির্ধারক বিজ্ঞান হতে পারে।

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

তাহলে কে হতে পারে এর নির্ধারক? ধর্ম?

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

মনমাঝি [অতিথি] এর ছবি

আমার মনে হয়, 'মানুষ' শব্দটা একটা বহুমাত্রিক দার্শনিক এবং মূল্যবোধগত প্রত্যয় যা নিছক বস্তুনিষ্ঠ সঙ্কীর্ন রিডাকশনিস্ট বৈজ্ঞানিক বিবরণের এক্তিয়ার-বহির্ভূত। এবং সে চেষ্টা ভয়ঙ্করও বটে। তা সে চেষ্টা হিটলারই করুক আর ডকিন্সই করুন।

কে মানুষ আর কে মানুষ না এই সংজ্ঞা নির্ধারণের একতরফা ও জবরদস্তি-মূলক চেষ্টা যুগে যুগে বিভিন্ন নামে, বিভিন্ন চেহারায়, বিভিন্ন ভাবে কোটি-কোটি মানুষের জীবনে অকল্পনীয় ও অপূরনীয় দুঃখ-দুর্দশা, অন্যায় আর সীমাহীন অবিচারের খড়গ নামিয়ে এনেছে। একসময় সেটা ধর্মের নামে হয়েছে, বিজ্ঞানের নামেও হয়েছে। বিজ্ঞান এই ক্ষেত্রে নেহাৎ কম ব্যবহৃত হয়নি - শুধু ধর্মকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। এখন আবার আরেকটা নতুন ফ্যাশানের নামে, 'প্রগতিশীলতার' নামে, 'বিজ্ঞানবাদের' নামে, বিশেষ কোন 'সুবিধার' প্রয়োজনে, বা অন্য আরেকটা 'মানবাধিকারে' 'নামে' - মনুষ্যত্বের সংজ্ঞা-নির্ধারনের এই ভয়ঙ্কর একচেটিয়া মনোপলি কোন একটা বিশেষ গোষ্ঠি বা 'মতবাদের' হাতে বন্ধক দিয়ে দেওয়া বা তাকে অথরিটি মানা, আমার মতে চরম আত্নঘাতী হবে সার্বিক মনুষ্যত্বের জন্য। এ প্রসঙ্গে অনেক ডাইলেমা আছে বটে, কিন্তু সে ব্যাপারে বিজ্ঞানীরা কোনভাবেই অথরিটি নন এবং বিজ্ঞানী-হিসেবে এ প্রসঙ্গে সুনির্দিষ্ট বস্তুনিবদ্ধ বিবরণ-মূলক বক্তব্য দেয়া ছাড়া কোনরকম ভ্যালু-জাজমেন্ট দেয়া সম্পূর্নরূপে তাদের এক্তিয়ার-বহির্ভূত বলেই আমার মনে হয়। তাহলে কে বিতর্কিত বিষয়গুলি বা ডাইলেমাগুলি মীমাংসা করবে, বা কি প্রকৃয়ায় সম্পন্ন হবে পুরো ব্যাপারটা ? আমি জানি না। তবে আমার ব্যক্তিগত ধারণা শেষমেশ এসব প্রশ্ন বহুলাংশেই মানুষের আবেগের স্তরে নির্ধারিত হবে, বিজ্ঞানের স্তরে নয়। এগুলি বিজ্ঞানের বিষয় নয় (যদিও তার একটা সহায়তাকারী ভূমিকা থাকতে পারে)। যেমন কিনা, 'নারীর অধিকার', 'মানবাধিকার', 'সমানাধিকার', 'স্বাধীণতা', 'মুক্তি' - এসবের কোনকিছুই বিজ্ঞানের সম্পত্তি বা এক্তিয়ারভুক্ত বিষয় নয়। এর সবই শেষ পর্যন্ত বিষয়ীগত প্রত্যয় যার অনেকখানিই মানুষের নীতিবোধ, ঔচিত্যবোধ আর আবেগের উপর নির্ভরশীল বলে মনে হয়। বিজ্ঞান কখনো-কখনো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা-পালন করলেও, চুড়ান্ত বিচারে সামগ্রিক ভাবে পুরো সমাজই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবে। আর এক্ষেত্রে অনেক রকম ইনপুট থাকবে নিশ্চয়ই, কিন্তু তার সবই লেজিটিমেট। এই বিতর্কে কার ইনপুটের কোয়ালিটি কিরকম সেই ধরণের ইনসিনুয়েশন কাঙ্ক্ষিত নয়। কেননা সবাইই, অন্তত এই প্রশ্নে, আমার মনে হয় সমান স্টেকহোল্ডার, সমান অধিকারী। একবার মনে করে দেখুন এইতো মাত্র ১-দেড়শ'বছর আগের কথা, যখন আফ্রিকা থেকে বিশেষ গড়নের কালো মানুষদের ধরে এনে বিজ্ঞানের নামে, জিববিজ্ঞান চর্চার নামে, 'সভ্য' 'মানুষ'কে 'বিবর্তনবাদের নমুনা' দেখানোর বা 'শিখানোর' নামে বা বিবর্তনের কন্টিনিয়ামে এইপ ও মানুষের (পশ্চিমা অবশ্যই) মধ্যবর্তী প্রজাতির প্রাণীর নমুনা হিসাবে তাদের উলঙ্গভাবে খাঁচাবন্দী করে ইউরোপ-আমেরিকাময় ফ্রিক-শোর মত ভ্রাম্যমাণ প্রদর্শণী করে দেখানো হতো বা চিড়িয়াখানায় বান্দরের সাথে আটকে রাখা হতো - তাদের কি কখনো অনেস্টলি জিজ্ঞেস করা হয়েছে যে তারা মানুষ কিনা বা 'মানুষের' মর্যাদা চায় কিনা ? 'বিজ্ঞান'কে তারা কতটুকু সঠিক মনে করে? বা বিজ্ঞানের সিদ্ধান্তে তাদের ইনপুটের রেলিভ্যান্স, কোয়ালিটি বা লেজিটিমেসি/ভ্যালিডিটি কতটুকু বলে তারা মনে করে? ? তাদের মুক্তস্বাধীণ উত্তর কি হতো বলে আপনার মনে হয়? এই ডকিন্সের পূর্বপুরুষরাই, তাও আবার অনেকসময় বিজ্ঞানীরাই, এসব করেছে - বিজ্ঞানের নামেই। সেই বেচারি হটেনটট নারীর কথা মনে করে দেখুন, যাকে ফরাসি নৃতত্ত্ববিদরা মানবপূর্ব-প্রজাতির নমুনা হিসাবে এমনকি মৃত্যুর পরেও তার দেহাবশেষ প্রদর্শনী করেছেন। তথাকথিত সভ্য-সাম্প্রতিক ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত তার কঙ্কাল, সংরক্ষিত লিঙ্গ আর মগজ প্রদর্শনীর জন্য উম্মুক্ত ছিল প্যারিসের Musée de l'Homme যাদুঘরের শোকেসে। সেই নারীকে বিজ্ঞান কি জিজ্ঞেস করেছিল, তুমি এরকম নির্লজ্জ ভাবে - উলঙ্গ ভাবে, পশুরও অধমের মতো, মৃত্যুর পরেও সর্বসমক্ষে প্রদর্শিত হতে চাও কিনা - বা এতে তোমার 'নারীত্বের' বা 'মনুষ্যত্বের' হানি হয় কিনা ? তা যদি না করে থাকে তাহলে বিজ্ঞানের কি অধিকার বা যোগ্যতা আছে 'মনুষ্যত্বের' সংজ্ঞা নির্ধারন করার ? এই ভাগ্যহত লুন্ঠিত নারী তথা মানুষটিকে মাতৃভূমিতে ফিরতে - স্বভূমিতে শায়িত হতে - শতবর্ষ পরে নেলসন ম্যান্ডেলার কারিশমা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। কোন বিজ্ঞানের বাপের সাধ্যি হয়নি তার 'মনুষ্যত্ব' তাকে ফিরিয়ে দেয়। বরং 'বিজ্ঞান' তারপরও বাধা দেয়ার চেষ্টা করেছিল। তার প্রত্যাবর্তন ও 'মানবিকীকরন' তথা প্রকৃত 'সংজ্ঞা-নির্ধারন' সম্ভব করেছে তার স্বদেশবাসী মানুষের 'আবেগ'। কিম্বা পড়ে দেখুন ওটা বেঙার করুন বৈজ্ঞানিক এ্যাডভেঞ্চারের কাহিনি এখানে। যার স্বর্ণপদকজয়ী 'নোটেড' নৃতত্ববিদ W. J. McGee-র মনুষ্যত্ব-নির্ধারণকারী গবেষনার ফলস্রুতিতে স্থান হয়েছিল চিড়িয়াখানায়। পরিণতি আত্নহত্যায়। ও হ্যাঁ, ওটা বেঙার প্রতি এই আচরনের কারা প্রতিবাদ করেছিল জানেন ? কিছু 'ধর্মবাদী'ই! মার্কিন দাসপ্রথার বিরুদ্ধে ১৮শ-১৯শ শতকেও জীবনবাজি আন্দোলনের অনেক পুরোধা ছিলে এক বড়সঙ্খ্যক ধর্মবাদী। এসব বলার উদ্দেশ্য ধর্ম বা ধর্মবাদীদের ডিফেন্ড করা নয়, বরং দুনিয়া বা মানবজাতি যে কেবল বর্বর, মূর্খ ধর্ম আর স্মার্ট, স্যাসি বা স্লিক বিজ্ঞান - এই দুই প্রতিপক্ষ শিবিরে মাত্র বিভক্ত নয় এটুকু বলা। এর মধ্যে এবং বাইরেও আরো অনেক কিছু আছে। আমি আর কালো আফ্রিকানদের নিয়ে সাদাদের দাসপ্রথা ও বর্ণবাদ, রেড ইন্ডিয়ান বা অস্ট্রেলিয়ান এ্যাবরিজিনি, নাৎসীবাদ বা মাস্টাররেইস, এসবের সমর্থনে বিজ্ঞানের মহামূল্যবান অবদান সমূহের কথা বরং বাদই দিলাম। আবার এইসব ভ্রান্তির দূরীকরনেও বিজ্ঞানের ভূমিকা ছিল। কিন্তু আরো অনেক বেশি ছিল বোধহয় মানুষের সদবুদ্ধি, বিবেক, নীতিবোধ, আবেগ - এইসবের।

তো মোদ্দা কথাটা হলো এই যে, আমার ধারনা বহুমাত্রিক মানুষের একটা দিক হলো তার নিরেট বস্তুগত শরীরতাত্ত্বিক দিক যার বিভিন্ন প্রকৃয়ার বস্তুনিবদ্ধ বিবরনের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরাই অথরিটি। কিন্তু যখনই তার 'পরিচয়', 'মর্যাদা', 'অধিকার' এমনকি ঐ শরীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার মূল্যাবধারণ- এই জাতীয় মূল্যায়ন বা মূল্যবিচারমূলক প্রশ্ন এসে যায়, তখন সেটা বিজ্ঞানীদের হাতের বাইরে চলে যায় এবং বৃহত্তর সমাজের এক্তিয়ারভুক্ত হয়ে পড়ে। এই মূল্যাবধারন বা মূল্য-বিচারের চূড়ান্ত মালিক ও ভুক্তভোগী যারা, তাদেরই হওয়া উচিৎ নির্ধারক। তারাই, সবাই মিলে, নির্মান করবে কিসের কি ও কতটুকু 'মূল্য', অধিকার, মর্যাদা বা পরিচিতি। ভুলত্রুটি, সঙ্ঘাত নিয়ে দোষেগুনে মানুষ এভাবেই এগুবে। কিম্বা পিছুবে। কিন্তু কোন একপক্ষের বা মতবাদের হাতে এই বিষয়টা কুক্ষিগত হয়ে যাওয়াটা আমার কাছে এক ভয়ঙ্করতর ভবিষ্যতের অশনি সংকেতবাহী মনে হয়। যেমন কিনা, উপরে দেখেছি, মনুষ্যত্বের সংজ্ঞাটা একসময় কেবল মাত্র সাদা চামড়ার মানুষদের হাতে একরকম কুক্ষিগত হয়ে পড়ায় কি হয়েছিল। যার ভয়ঙ্কর চেহারা আমরা জানি এবং যার পুনরাবৃত্তি চাই না, সে পথ যতই স্মার্ট, স্লিক, আধুনিক, বুদ্ধিমান, 'প্রগতিশীল', লোভনীয় হোক না কেন আপাতদৃষ্টিতে।
............................................

সীমিত বুদ্ধিতে ও ছোট মুখে অনেক বড় বিষয়ে বড় বড় কথা বলে ফেললাম। ভুলভাল হয়ে গেলে আশা করি ক্ষমাঘেন্না করে দেবেন এবং ভুলটা ধরিয়ে দেবেন । দেঁতো হাসি

পুতুল এর ছবি

গর্ভপাতের পক্ষে কোন যুক্তি নেই থাকতে পারে না। এমনি ধর্ষণের কারণেও না। ধর্ষণের দায় ধর্ষকের। শিশু সব সময় নিস্পাপ। তার কোন অপরাধ নেই।
**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

ধর্ষণের দায় ধর্ষকের।

অবশ্যই। কিন্তু তার কষ্ট এবং দায়ভার নারীকে বইতে হবে কেন?

শিশু সব সময় নিস্পাপ। তার কোন অপরাধ নেই।

অবশ্যই। কিন্তু ভ্রূণ তো আর শিশু নয়। সে কেবল একটি ভ্রূণ। নির্দিষ্ট সময়ের আগে ভ্রূণ কয়েকটি বিভাজিত কোষ সমষ্টি। নির্দিষ্ট সময়ের আগে ভ্রূণ জ্ঞান হীন, বুদ্ধিহীন জৈবিক ভ্রূণ।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

পুতুল এর ছবি

কিন্তু তার কষ্ট এবং দায়ভার নারীকে বইতে হবে কেন?

বস, তার দায় নারীকে বইতে একথা আমি বলিনি।

গর্ভের সন্তানকে নষ্ট করে ধর্ষেণর দায় কী তার (ধর্ষণের কারণে জন্ম নেয়া শিশুর) উপর চাপানো হয় না‌। অথচ এই জন্মের উপর তার কোন হাত নেই।

কিন্তু ভ্রূণ তো আর শিশু নয়।

কাজেই ভ্রূন নষ্ট করা হত্যা নয়। যুক্তিটা খুব কঠিন।

ভ্রূণ কয়েকটি বিভাজিত কোষ সমষ্টি।

একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষও কেবল কয়েকটি বিভাজিত কোষ সমষ্টি ছাড়া আর কিছু নয়।

এবার একটা অপ্রমানযোগ্য কথা বলি‌‍,
কিছুদিন একটা কারিওগ্রাম তৈরীর কাজ করেছি। কারিওগ্রামের ইংরেজী জানিনা বলে কাজটার একটা বর্ণনা দিচ্ছি,
জার্মানীতে আইনতঃ বার সপ্তাহ পর্যন্ত গর্ভপাত বৈধ। সতর্ক এবং আর্থিক ভাবে সচ্ছল বাবা মা এই সময়ের মধ্যে শিশুর সবগুলো ক্রমজোম ল্যাব থেকে পরীক্ষা করিয়ে নেন।
কাজটা বৈধ কিন্তু নিজের খরচে করাতে হয়। এতে অনেক ত্রিজমি এবং এধরণের জেনেটিক অসাম্য ধরা পরে। ফলে গর্ভপাত। বিকলাঙ্গ অনেক শিশু পৃথিবীর আলোবাতাস দেখার আগেই বিদায় হয়।
কাজটা আপাত দৃষ্টিতে তেমন খারাপ কি্ছু না। বিকলাঙ্গ মানুষ জন্ম দিয়ে লাভ কী!
কথা হলো বিকলাঙ্গ মানুষের বেঁচে থাকার কোন অধিকার কী নেই! একমাসে এমন তিনটা গর্ভপাতের পর খুব মানষিক সমস্যায় ভোগলাম কিছুদিন। তারপর অন্য কাজ খুজে নিলাম। অন্যের জীবন নষ্টকরায় আমি সহায়ক কোন ভূমিকা রাখতে চাইনা।

নার্ভ সিষ্টেম বিল্ডাপ না করলে শিশু কষ্ট পাবে না। কাজেই তাকে হত্য করা অনৈক না। নার্ভ সিষ্টেম কাজ করে না সেটা যেনেও অনেক কমা রোগী কৃত্রিম উপায়ে বাঁচিয়ে রাখা হয় বছরের পর বছর। অথচ বর্তমান চিকিৎসা শাস্ত্রে তার আরোগ্যের আশা বৃথা।
**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি

আপনার মানসিক কষ্টটার কথা ভেবে খুব খারাপ লাগল। অনেক কমা রোগীকে কিন্তু টারমিনেটও করে দেয়া হয় তার সিদ্ধান্ত ব্যতিরেকে।

যারা নিজে মৌখিক সিদ্ধান্ত জানাতে পারে না - হাঁস, মুরগি, কুকুর থেকে শুরু করে শিশু, অনেক মানসিক রোগী, অনেক অসুস্থ ও বৃদ্ধ মানুষ, তাদের প্রত্যেকের ব্যাপারে আলাদা আলাদা করে চিন্তা করে দেখুন, তাদের কাউকে কিন্তু আমরা আমাদের সমান অধিকার দেওয়া থেকে কোনো না কোনভাবে বঞ্চিত করিই! তাদের ব্যাপারে সাধারণত অন্যরা সিদ্ধান্ত নেয়, যারা নিজেদের মৌখিক সিদ্ধান্ত জানাতে পারে। বিষয়গুলো খুবই গ্রে। অনেকের গর্ভপাত হয়ে যায় অজান্তেই। অনেকে সেই একই বয়েসের ভ্রুনটাকে নিজের সিদ্ধান্তে গর্ভপাত করান। এখন কেউ ভাববেন, নিজে না বুঝে করলে সেটা অন্যের জীবন নষ্ট করা নয়। আবার অনেকে ওই বয়েসের ভ্রুণের সাথে তাদের কনডমে জমে থাকা স্পার্মগুলোর জীবনের বিচারে কোনো পার্থক্য স্বীকার করবেন না। আবার কেউ কেউ কিন্তু কনডমের ওই জমে থাকা স্পার্মগুলোর মধ্যেও একটি জীবন নষ্ট হতে দেখেন। ভ্যালুজের এই যে ভ্যাস্ট স্পেকট্রাম, এর একটা না একটা জায়গায় আমরা সবাই আছি। এবং আমরা প্রত্যেকেই কিন্তু কারো না কারো বিচারে অনৈতিক। যেমন সকল কনডম ব্যবহার করা পুরুষ পোপের বিচারে জীবন নষ্টকারী।

~~সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা মানুষের মুক্তির জন্যে সংগ্রামের সময় অপরাধীর অধিকারের কথাটাও ভুলে যায় না

পুতুল এর ছবি

ভ্যালুজের এই যে ভ্যাস্ট স্পেকট্রাম, এর একটা না একটা জায়গায় আমরা সবাই আছি। এবং আমরা প্রত্যেকেই কিন্তু কারো না কারো বিচারে অনৈতিক।

এই পোষ্টের আলোচনাটা কিছুটা বিজ্ঞানের পক্ষে বিপক্ষের বির্তকে চলে গেছে, হয়তো বিষয়টার ব্যাপ্তির কারণে। এই আলোচনায় বিজ্ঞান দেখাচ্ছে একটা নির্দৃষ্ট সময় পর্যন্ত গর্ভপাতে ভ্রূণের কষ্ট হয় না। বিজ্ঞান কিন্তু আমাকে বলছে না যে, তুমি গর্ভপাত কর অথবা তা থেকে বিরত থাক। সেটা তার কাজ নয়।

সিদ্ধান্ত আমাকেই নিতে হবে। এবং আমরা সিদ্ধান্ত নেই একটা পরিস্থিতির মধ্যে সব চেয়ে সহজে এবং আমার জন্য বস চেয়ে বেশী সুবিধা নিশ্চিৎ করবে এমন একটা গন্তব্যের দিকে।

নীতি বা অনৈতিকতা তখন একটু হলেও গৌন হয়ে যায়। আলোচিত বিষয়টা আমাদের সুবিধা অসুবিধা কোন ভাবেই প্রভাবিত করে না। আমরা কিছুটা হলেও নিরপেক্ষ। আমাদের অর্জিত পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতায় আমরা এর পক্ষে বা বিপক্ষে।

আমার দৈনন্দিন জীবনেই জ্ঞাতে কিংবা অজ্ঞাতে এমন সিদ্ধান্ত প্রতিনিয়ত দেই। অনেক সময় অকারণে। নৈতিক এবং অনৈতিক বিষয়টা একটু প্যাচানো। আমি এর সঠিক কোন সঙ্গা ঠিক জানি না। গর্ভপাত নৈতিক কী অনৈতিক সেটা এই বিষয়ে জ্ঞানী ব্যাক্তিরা ঠিক করুন। অনিষিক্ত ডিম্ব বা ডিমে ঢুকতে না পারা স্পার্ম পরিক্ষা ফেল ছাত্রের মতো নী্চের ক্লাশে থাক।

আমাকে অদেশ অনুরোধ কেরলে আমি ভ্রূণের পক্ষে ক্ষতিকর কোন অনুঘটকের কাজ করবো না।

ধ্রুব বর্ণন বস, কিছু মনে না করলে আপনার গবেষণার বিষয়টা একটু বলবেন। এখানে বলতে না চাইলে আমাকে ছোট করে একটা ব্যক্তিগত ম্যাসেজ দিতে পারেন। না দিলে কোন অভিযোগ নেই। আপনার আলোচনা খুব গভীর। তাই এই কৌতুহল।

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি

"এই আলোচনায় বিজ্ঞান দেখাচ্ছে একটা নির্দৃষ্ট সময় পর্যন্ত গর্ভপাতে ভ্রূণের কষ্ট হয় না। বিজ্ঞান কিন্তু আমাকে বলছে না যে, তুমি গর্ভপাত কর অথবা তা থেকে বিরত থাক। সেটা তার কাজ নয়।"

চলুক

"এই পোষ্টের আলোচনাটা কিছুটা বিজ্ঞানের পক্ষে বিপক্ষের বির্তকে চলে গেছে, হয়তো বিষয়টার ব্যাপ্তির কারণে।"

বিজ্ঞানকে কর্তা ভাবলে এই সমস্যাটা হয়। বিজ্ঞান যে কর্তা নয়, সেটা মনে রাখা কঠিন। বিজ্ঞান টুল, কর্তা আমরা। বিজ্ঞান চেষ্টা করে পর্যবেক্ষণ নিরপেক্ষ উত্তর বের করার। সেখানে উচিত অনুচিতের প্রশ্ন অনেক কঠিন, কারণ জিনিসটার অস্তিত্ব পর্যবেক্ষকের মনে ছাড়া এই ভৌত জগতের কোথাও বিরাজ করে না। ফলে এটার দুইটা সমস্যা, একটা হলো এসব প্রশ্নের সাথে পর্যবেক্ষক নিজেই জড়িয়ে যায়, আর দ্বিতীয় - এটার পর্যবেক্ষণ দুষ্প্রাপ্যতা। যেটা দেখা যায় না, সেটার উপর জ্ঞান তৈরী কঠিন, বিজ্ঞানের দর্শনের ভাষায় - অর্থহীন, অবান্তর।

মানুষ সিদ্ধান্ত নিলেও, আমি যথাসম্ভব ইনফর্মড সমাজের পক্ষে। এই যে বিজ্ঞান বের করলো যে অমুক মাসের আগে একটা ভ্রুণ কষ্ট পায় না বা অমুক মাসের আগে একটা ভ্রুনকে মায়ের পেটের বাইরে মেডিকালি বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব নয়, সেটা মানুষ জানুক। আর সবার নিজস্ব চয়েজের স্বাধীনতা থাক। কেউ আরেকজনের নিজের সিদ্ধান্তে জোর করবে না। মানে আপনার অধিকার থাকা উচিত এই তথ্য জানার, এবং এরপরও এই ভ্রুণ গবেষণা থেকে দূরে থাকার। এই অধিকার আপনার অবশ্যই থাকা উচিত। এবং এই অধিকার চর্চা করে আপনার নি:সংকোচ থাকা উচিত।

কিন্তু মায়ের, বাবার, সমাজের, রাষ্ট্রের বা ডাক্তারের সিদ্ধান্ত যখন একটি ভ্রুণ পরবর্তীতে জীবন ধারণ করতে পারবে কি পারবে না এমনটা ঠিক করে দেয়, তখন এই অধিকারবাদ, ইনফর্মড সমাজ, কোনকিছুই এনাফ মনে হয় না। একদিকে সমস্যা জীবনর সংজ্ঞায়। আপনি কি জীবন হত্যা করলেন কি করেন না? জীববিজ্ঞানে জীবনকে জড় থেকে আলাদা করে ক্লাসিফাই করা হলেও, জীবনের সংজ্ঞা সেখানে সুনির্দিষ্ট নয় যে সেটা দিয়ে ভ্রুণের জীবনকে সংজ্ঞায়িত করতে পারবেন। অবাক হবেন জেনে যে বিজ্ঞানে এখন পর্যন্ত জীবনের সুনির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা নেই! আর জীবনের সংজ্ঞা বের করতে পারলেও তখন প্রশ্ন থেকে যায়, ভ্রুনটা কি ওই পর্যায়ে একটা মানুষের পর্যায়ের জীবন, নাকি আরো নিচু লেভেলের, কারণ আমরা তো হাঁস মুরগি আরামসে খাই (এই যুক্তিটা আমার দিকে ছুঁড়েছিল একজন লিবারেল একটিভিস্ট)।

উল্টো দিকের বিপদও আছে। যেমন ধরুন ভ্রুনটা টেস্ট করে ধরা পড়ল যে জন্মালে তার সিস্টিক ফিব্রসিস হবে। এখন আপনি কি সেই শিশু জন্ম দিবেন, যে জন্মের পর ক্রমাগত কষ্ট পেতেই থাকবে, এবং সম্ভবত বেশ তাড়াতাড়ি মৃত্যুবরণই করবে?

পুতুল বস, আমি একজন শিক্ষার্থী। আমার গবেষণার বিষয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এখানে গবেষণা করতে গিয়ে আর আমার গবেষণা গুরুর প্রভাবে আমাকে বিজ্ঞানের দর্শন থেকে শুরু করে নৈতিকতা, জীবন, অনেক কিছু নিয়েই পড়তে হয়। মেশিনকে যখন জীবনের মত চলাফেরা করানোর কথা চিন্তা করবেন, তখন পৃথিবীর সব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন মাথায় এসে একবারে বাড়ি খায়। তবে এখনো শিখছি। শিখতেই আছি। হাসি

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি

বাহ! অসাধারণ!

বিজ্ঞানকে ব্যবহার করা যায়, কিন্তু বিজ্ঞান অথরিটি হতে পারে কিনা, সে নিয়া অনেক অনেক বিতর্ক আছে। আমি এ ব্যাপারে পুরোপুরি স্কেপটিক। আমার অবস্থান প্রায় অনেকটাই আপনার মতই।

মুক্তমনায় এ বিষয়টা নিয়েই গত কয়দিন খুব আলাপ চলছে (মন্তব্যগুলোও দেখুন, যেমন: এটা)। সূত্রপাত হচ্ছে হকিং নাকি বলেছেন বিজ্ঞানের দ্বারা দর্শন এখন মৃত, সেই থেকে। সেখান থেকে গড়িয়ে এখন আলোচনা চলছে মানুষের, সমাজের উচিত অনুচিতে বিজ্ঞান কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, কিংবা শেষ পর্যন্ত একটা কম্পোনেন্ট থেকেই যাবে কিনা যেটা মানবিক সিদ্ধান্ত, বিজ্ঞানের ফলাফল ব্যতিরেকে। অনেকে এ ব্যাপারে স্যাম হ্যারিসকে রেফার করেন, কারণ এসব ব্যাপারে বিজ্ঞানের অথরিটির সম্ভাবনা নিয়ে তিনি উচ্চকিত। (আমি নিজে এই বছর তিনবার স্যাম হ্যারিস দর্শিত হয়েছি হাসি, এইসব বিষয়ে তর্ক করতে গিয়ে, তাই উনাকে আমিও রেফার করছি। তবে এই টেডটকটাতে উনি বিজ্ঞানের চেয়ে ইমোশনই বেশি ব্যবহার করেছেন খাইছে)

আমি বিজ্ঞানের দৌড় নিয়ে স্কেপটিক, এবং সঙ্গত কারণে স্কেপটিক। বিজ্ঞানের দর্শন বিজ্ঞানকে নির্ধারিত করে, সংজ্ঞায়িত করে (আপনাকে সচলায়তনে আমার স্বাধীন-ইচ্ছা সংক্রান্ত লেখায় আপনার মন্তব্যের বিপরীতে যেমনটা উত্তর করেছি)। সেখানে দেখা যায়, এমন অনেক বিষয় রয়ে যায়, যেটা বিজ্ঞানের চর্চার অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ ওগুলো যাচাই করা যায় না, ফলে ওগুলোর উপর যেকোনো অনুকল্প বিজ্ঞানের দর্শনে অর্থহীন।

এখন এই ঔচিত্য, নৈতিকতাবোধ, অধিকার, এ সংক্রান্ত বিষয় কতটা ব্যক্তি নিরপেক্ষ আর যাচাইযোগ্যভাবে বিজ্ঞানে আলোচনা করা সম্ভব, সে নিয়ে যথেষ্ট ধারণা আমাদের এখনো নেই। এবং সম্ভব নাও হতে পারে। তখন সেগুলো আত্মা, জিন, ভুত, ইত্যাদি যাচাই-অযোগ্য অর্থহীন অনুকল্পের সারিতে চলে যাবে, যেগুলো নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা বা আলোচনা চলে না।

তার সাথে আরো একটি বিষয় জড়িত, আর সেটা হলো এই যে - বিজ্ঞান প্রতি নিয়ত পরিবর্তনশীল। আজকের পর্যবেক্ষণ দ্বারা সিদ্ধ তত্ত্বটাই যে কোনো বিষয়ে শেষ তত্ত্ব এমনটা বিজ্ঞান দাবী করতে পারে না, করেও না। ফলে আজকের যেটা বিজ্ঞান, কালকের সেটা ভুল তত্ত্ব। এখন যেসব তত্ত্বে মানুষ সরাসরি জড়িত, সেগুলো সুপ্রতিষ্ঠিত হবার আগেই মানুষের উপরে প্রয়োগ হলে হিটলার, স্তালিনের মত বিপদ ঘটবার সুযোগ অনেক বেশি। লক্ষ্য করুন, তারা কিন্তু বিজ্ঞানভিত্তিকভাবেই এগুচ্ছিল বলে দাবী করেছিল। কিন্তু উপরে যেমনটা বললাম, শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞানের তত্ত্ব পরিবর্তনশীল, এবং বিজ্ঞান অথরিটি হয় না, অথরিটি হয় যে ব্যবহার করে সে।

ফলে বিজ্ঞান মানুষের অধিকার বা স্বাধীনতা নিয়ে কি মনে করে সেই উত্তরের অপেক্ষা ব্যতিরেকেই বলা চলে, সকল মানুষের স্বাধীনতা প্রয়োজন। বিজ্ঞান যদি খুঁজে পায়, একজন বিশেষ নিরপরাধ মানুষকে মেরে ফেললে বাকি জগতে শান্তি ফিরে আসবে, বিজ্ঞানের সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় না। বিজ্ঞান যাই আবিষ্কার করুক, মানুষই সেটা প্রয়োগ করে। মানুষকে ফ্যাসিবাদী, কর্তৃত্ব-পরায়ণ হতে না দেয়া টা হওয়া উচিত বিজ্ঞান-অবিজ্ঞান নিরপেক্ষভাবে প্রথম শর্ত।

~~সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা মানুষের মুক্তির জন্যে সংগ্রামের সময় অপরাধীর অধিকারের কথাটাও ভুলে যায় না

বইখাতা এর ছবি

এই ব্যাপার নিয়ে পড়াশোনা নাই বললেই চলে, বুঝিও খুব কম, চিন্তা করতে গেলে ধোঁয়াশা টের পাই, তবে এই মন্তব্যটা ভাল লাগলো। লিংকের জন্য ধন্যবাদ।

পাঠক [অতিথি] এর ছবি

আপনি বলছেন
"তার সাথে আরো একটি বিষয় জড়িত, আর সেটা হলো এই যে - বিজ্ঞান প্রতি নিয়ত পরিবর্তনশীল। আজকের পর্যবেক্ষণ দ্বারা সিদ্ধ তত্ত্বটাই যে কোনো বিষয়ে শেষ তত্ত্ব এমনটা বিজ্ঞান দাবী করতে পারে না, করেও না। ফলে আজকের যেটা বিজ্ঞান, কালকের সেটা ভুল তত্ত্ব। এখন যেসব তত্ত্বে মানুষ সরাসরি জড়িত, সেগুলো সুপ্রতিষ্ঠিত হবার আগেই মানুষের উপরে প্রয়োগ হলে হিটলার, স্তালিনের মত বিপদ ঘটবার সুযোগ অনেক বেশি। লক্ষ্য করুন, তারা কিন্তু বিজ্ঞানভিত্তিকভাবেই এগুচ্ছিল বলে দাবী করেছিল।"

এরকম ক্লিশে আমরা সব সময় শুনে অভ্যস্ত। আর বিজ্ঞানকে ভুল প্রমাণ করতে বিজ্ঞানকেই প্রয়োজন। হিটলার এবং স্টালিনদের মতবাদের পক্ষে মূলধারার কত জন বিজ্ঞানী ছিলেন?

আগের কমেন্টে ইুটিউবের একটা লিন্ক এমবেড করেছিলাম, কোন মডু হয়তো ঘ্যাচাং করেছেন। ভিডিওতে কিছুটা স্হুল মনে হতেও পারে তবে উদাহরণ কিন্তু ফেলে দেবার মত নয়।

http://www.youtube.com/watch?v=KRLR9jhP_DM

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

মডুরা মন্তব্য "সম্পাদনা" করেন না বলে জানি।
====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি

এরকম ক্লিশে আমরা সব সময় শুনে অভ্যস্ত।

এটা আপনার কাছে ক্লিশে শোনালেও, বিজ্ঞানের দর্শনের পুরোধা কার্ল পপার কিন্তু প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক তত্ত্বগুলো সম্পর্কেও সর্বদা স্কেপটিক থাকার পক্ষে ছিলেন (এর মানে কিন্তু বিজ্ঞানের অবদানকে খাটো করা নয়!)। লজিক্যাল পজিভিস্টরা মনে করতেন, একটা বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব ভেরিফাই করা সম্ভব। কার্ল পপার সে জায়গায় আর্গু করলেন যে, তত্ত্ব কখনো ভেরিফাইড ফর গুড হতে পারে না, কারণ আমরা অনাগত সকল পর্যবেক্ষণ আজকেই দেখে ফেলি নি। তাই তিনি আনলেন ফলসিফায়েবিলিটির কথা। মানে বৈজ্ঞানিক অনুকল্প হতে হলে ফলসিফায়েবল হতে হবে, মানে মিথ্যা প্রমাণের সুযোগ থাকতে হবে। মিথ্যা প্রমানের সুযোগ আছে এমন তত্ত্বকে মিথ্যা প্রমাণ করা না গেলে ধীরে ধীরে সেটা গ্রহণযোগ্য তত্ত্ব হয়ে উঠবে। কিন্তু ভেরিফাইড ফর গুড কখনই নয়। মানে আজকের প্রতিষ্ঠিত তত্ত্ব আগামীকাল সে আর না থাকার সুযোগ সর্বদাই রয়ে যায়। সে কারণে হকিং থেকে শুরু করে সকল বিজ্ঞানী দেখবেন তত্ত্বের ফলসিফায়েবিলিটির কথা বলেন, ভেরিফিক্যাশানের কথা আর বলেন না। ফলে ক্লিশে শোনালেও, এটা বৈজ্ঞানিক কমিউনিটিতে প্রতিষ্ঠিত ধারণা। এবং এটা একটা সমস্যা সে কথা বলছি না। বিজ্ঞান এভাবেই এগুবে, আপনি যেমন বললেন "আর বিজ্ঞানকে ভুল প্রমাণ করতে বিজ্ঞানকেই প্রয়োজন।" আমার পয়েন্টটা হলো, এর প্রয়োগ যখন সরাসরি মানুষের উপর করা হবে, তখন অনেক সতর্কতার দরকার আছে।

হিটলার এবং স্টালিনদের মতবাদের পক্ষে মূলধারার কত জন বিজ্ঞানী ছিলেন?

আপনি মূলধারার কথা চিন্তা করছেন? অথচ বিজ্ঞানের গবেষণায় মেডিকেল সাইন্সে কত কত অজস্র মানুষের উপর তাদের অজান্তে বা জোরপূর্বক পাশবিক পরীক্ষা করা হয়েছে, সেটা নিশ্চয়ই জানেন? ইউজেনিক্স কেবল জার্মানির গবেষণার অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

বিজ্ঞানের পরিবর্তনশীলতা খারাপ কিছু তো না, বরং কাম্য। মূলধারা কি মূলধারা নয়, সেটা আমার পয়েন্টে গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। বরং পয়েন্ট হলো, বিজ্ঞানের ফল মানুষের উপরে প্রয়োগের ক্ষেত্রে মূল-অমূলধারা নির্বিশেষে সর্বত্র সতর্কতার প্রয়োজন। বিজ্ঞান দিয়ে আমাদের নৈতিকতার গ্রে এরিয়াগুলোর সমাধান আজকেই দেয়া হয়ে গেছে এমনটা মনে করার ফলেই কিন্তু একটা মূল বা অমূলধারার বিজ্ঞানীর পক্ষে বা একটা পলিসি মেকারের পক্ষে সম্ভব হয় সেটাকে মানুষের উপর জলদি প্রয়োগের জন্যে প্রমোট করা।

আপনার লিংকের জন্যে ধন্যবাদ। কিন্তু বিজ্ঞান আর ধর্মের তুলনামূলক ভিডিও টা এখানে কেন রিলেভেন্ট, সেটা বুঝলাম না। বৈজ্ঞানিক যেকোন গবেষণা বা ফলের প্রতি স্কেপটিক থাকা মানে ধর্মের পক্ষে যাওয়া না, বরং এটা গবেষকদের কমন প্র্যাকটিস। অন্তত আমার গবেষণা কমিউনিটিতে তেমনটার চর্চাই দেখেছি।

এবং এই গোটা ইস্যু নিয়ে যথেষ্ট লেখালেখি হয়েছে। আমাকে গবেষণার জন্যে সেগুলোর কিছু পড়তেও হয়েছে। যেমন এই বই পড়তে পারেন। যেখানে মরালিটির ব্যাপারটি অঢেল এসেছে এবং বিজ্ঞান দিয়ে সেটার সমাধান করার চ্যালেঞ্জগুলোও আলোচিত হয়েছে। অধিকাংশই কিন্তু ধরেই নেন নি যে বিজ্ঞানের দ্বারা আদৌ এই সমস্যার সমাধান সম্ভব হবেই।

স্যাম হ্যারিস ব্যতিক্রম। আমার আগের স্যাম হ্যারিসের লিংকটাও দেখবেন। আশা করি আপনার ভালো লাগবে। উনি সেখানে আর্গু করেছেন যে আমাদের নৈতিকতার অনেক বিষয়গুলো হয়ত বিজ্ঞান দিয়ে উত্তর করা সম্ভব। কোনো রেজাল্ট দেখান নি। কিন্তু লজিক্যাল আর্গুমেন্টে গেছেন। তার আগে কিন্তু বিনীতভাবে স্বীকার করে নিয়েছেন যে "মূল ধারার" বিজ্ঞানীদের মাঝে এটা কমন ধারণা না। বলেছেন যে বরং অনেকেই মনে করেন, সত্যিকার অর্থে ভালো খারাপ বলতে আসলে কিছুই নেই, তাই সেখানে বিজ্ঞানের আনয়নও অবান্তর। অর্থাৎ, নৈতিকতার ব্যাপারে বিজ্ঞান আদৌ ফলপ্রসূ হতে পারে কিনা, সে ব্যাপারে যে বিজ্ঞানী মহলে সন্দেহ বিদ্যমান, সেটা আগেই স্বীকার করে নিয়েছেন। মূল ধারার বিজ্ঞানীরা কি মনে করেন, সেটা অনেকটা appeal to authority এর পর্যায়ে পড়ে। তবু আপনার আগ্রহ হতে পারে দেখে জানালাম যে এই স্কেপটিক মনোভাবটা প্রচলিত। এবং এই দৃষ্টিভঙ্গিটা এটা পোষণ করে না যে নৈতিকতা একটা আলাদা ঐশ্বরিক বা আধিভৌতিক ব্যাপার যেখানে বিজ্ঞানের হস্তক্ষেপ অকাম্য বা ধর্মই সেখানে একমাত্র অথরিটি। না। এখানে ধর্ম কোনো ইস্যুই না। বরং এটা পোষণ করা হয় যে নৈতিকতা সংক্রান্ত প্রশ্নগুলো আত্মা, ভুত বা গোলাপী ইউনিকর্নের মতই অবৈজ্ঞানিক অনুকল্প কিনা, যেগুলো নিয়ে বিজ্ঞানের উত্তর করার কিছুই নেই, কারণ এগুলো ফলসিফায়াবল না। একটা অনুকল্প ফলসিফায়াবল কিনা সেটা অনুকল্পটি বৈজ্ঞানিক কিনা বিবেচনা করার জন্যে প্রথম প্রশ্ন।

যাহোক, কেবল ক্লিশে না বলে বা এনোটেশন ছাড়া একটা ভিডিও রেফার না করে টু দ্য পয়েন্ট প্রশ্ন বা বিশেষ কথার ব্যাপারে আপত্তি বা আর্গুমেন্ট দিলে সুবিধা হয়।

~~সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা মানুষের মুক্তির জন্যে সংগ্রামের সময় অপরাধীর অধিকারের কথাটাও ভুলে যায় না

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

'মানুষ' শব্দটা একটা বহুমাত্রিক দার্শনিক এবং মূল্যবোধগত প্রত্যয় যা নিছক বস্তুনিষ্ঠ সঙ্কীর্ন রিডাকশনিস্ট বৈজ্ঞানিক বিবরণের এক্তিয়ার-বহির্ভূত

আপনি অনেক বড় বড় গালভরা শব্দ ব্যবহার করেছেন। আমি রিডাকশনিস্ট। হয়ত আপনার হিসেবে সঙ্কীর্ন রিডাকশনিস্ট। কি আর করা। এইবারে আপনার মন্তব্যে লজিকাল রিকাডকশনটুকু ব্যবহার করি। আশা রাখি কষ্ট নেবেন না। হাসি

আপনার কাছ থেকে 'মানুষ' শব্দটার বহুমাত্রিক দার্শনিক এবং মূল্যবোধগত প্রত্যয় কেন্দ্রিক বিশ্লেষণ মূলক পোস্টের অপেক্ষায় থাকলাম। বহুমাত্রিক মানে নিশ্চয়ই অগণিত নয়। লম্বা হলেও সেই তালিকাটা পেলে একটু জ্ঞান বৃদ্ধি হত।

কে মানুষ আর কে মানুষ না এই সংজ্ঞা নির্ধারণের একতরফা ও জবরদস্তি-মূলক চেষ্টা যুগে যুগে বিভিন্ন নামে, বিভিন্ন চেহারায়, বিভিন্ন ভাবে কোটি-কোটি মানুষের জীবনে অকল্পনীয় ও অপূরনীয় দুঃখ-দুর্দশা, অন্যায় আর সীমাহীন অবিচারের খড়গ নামিয়ে এনেছে। একসময় সেটা ধর্মের নামে হয়েছে, বিজ্ঞানের নামেও হয়েছে

একটা উদাহরণ দিতে পারবেন এধরণের কর্মকাণ্ডে বিজ্ঞান কিভাবে সর্ম্পৃক্ত ছিল? ঢালাও ভাবে একটা সামাজিক অ্যবিউজের বর্ণনা দিয়ে, ফট করে বিজ্ঞানকে তার সাথে জুড়ে দেয়া খুবই খুবই খোঁড়া একটা পদ্ধতি। স্পেসিফিক উদাহরণ দিন। অনুগ্রহ করে এমন কোন উদাহরণ দিবেন না যেখানে বিজ্ঞানকে অবৈজ্ঞানিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে।

এখন আবার আরেকটা নতুন ফ্যাশানের নামে, 'প্রগতিশীলতার' নামে, 'বিজ্ঞানবাদের' নামে, বিশেষ কোন 'সুবিধার' প্রয়োজনে, বা অন্য আরেকটা 'মানবাধিকারে' 'নামে' - মনুষ্যত্বের সংজ্ঞা-নির্ধারনের এই ভয়ঙ্কর একচেটিয়া মনোপলি কোন একটা বিশেষ গোষ্ঠি বা 'মতবাদের' হাতে বন্ধক দিয়ে দেওয়া বা তাকে অথরিটি মানা, আমার মতে চরম আত্নঘাতী হবে সার্বিক মনুষ্যত্বের জন্য। এ প্রসঙ্গে অনেক ডাইলেমা আছে বটে, কিন্তু সে ব্যাপারে বিজ্ঞানীরা কোনভাবেই অথরিটি নন এবং বিজ্ঞানী-হিসেবে এ প্রসঙ্গে সুনির্দিষ্ট বস্তুনিবদ্ধ বিবরণ-মূলক বক্তব্য দেয়া ছাড়া কোনরকম ভ্যালু-জাজমেন্ট দেয়া সম্পূর্নরূপে তাদের এক্তিয়ার-বহির্ভূত বলেই আমার মনে হয়।

হাঃ হাঃ হাঃ আর কিছু বলতে হবে না। বুঝেছি আপনার মনোভাব কি এ বিষয়ে।

তাহলে কে বিতর্কিত বিষয়গুলি বা ডাইলেমাগুলি মীমাংসা করবে, বা কি প্রকৃয়ায় সম্পন্ন হবে পুরো ব্যাপারটা ? আমি জানি না।

কেনো আপনার ধর্মীয় নেতারা মীমাংসা করবে না?

তবে আমার ব্যক্তিগত ধারণা শেষমেশ এসব প্রশ্ন বহুলাংশেই মানুষের আবেগের স্তরে নির্ধারিত হবে, বিজ্ঞানের স্তরে নয়। এগুলি বিজ্ঞানের বিষয় নয় (যদিও তার একটা সহায়তাকারী ভূমিকা থাকতে পারে)। যেমন কিনা, 'নারীর অধিকার', 'মানবাধিকার', 'সমানাধিকার', 'স্বাধীণতা', 'মুক্তি' - এসবের কোনকিছুই বিজ্ঞানের সম্পত্তি বা এক্তিয়ারভুক্ত বিষয় নয়।

যে কোনো বিষয়ই বিজ্ঞানের বিষয় হতে পারে। যে বিষয়ে পরীক্ষামূলক ব্যাখ্যা এবং অনুমিতির মাধ্যমে জ্ঞানকে একত্রিত করতে এবং জমা করার প্রয়োজন রয়েছে সে বিষয়ই বিজ্ঞানের বিষয়। উইকি থেকে বিজ্ঞানের সংজ্ঞা দেখুন:
Science is an enterprise that builds and organizes knowledge in the form of testable explanations and predictions about the natural world.

একবার মনে করে দেখুন এইতো মাত্র ১-দেড়শ'বছর আগের কথা, যখন আফ্রিকা থেকে বিশেষ গড়নের কালো মানুষদের ধরে এনে বিজ্ঞানের নামে, জিববিজ্ঞান চর্চার নামে, 'সভ্য' 'মানুষ'কে 'বিবর্তনবাদের নমুনা' দেখানোর বা 'শিখানোর' নামে বা বিবর্তনের কন্টিনিয়ামে এইপ ও মানুষের (পশ্চিমা অবশ্যই) মধ্যবর্তী প্রজাতির প্রাণীর নমুনা হিসাবে তাদের উলঙ্গভাবে খাঁচাবন্দী করে ইউরোপ-আমেরিকাময় ফ্রিক-শোর মত ভ্রাম্যমাণ প্রদর্শণী করে দেখানো হতো বা চিড়িয়াখানায় বান্দরের সাথে আটকে রাখা হতো - তাদের কি কখনো অনেস্টলি জিজ্ঞেস করা হয়েছে যে তারা মানুষ কিনা বা 'মানুষের' মর্যাদা চায় কিনা ?

আপনার কাছেই প্রথম শুনলাম "বিজ্ঞানী"রা এধরণের প্রদর্শণীর অংশ ছিলেন। আমার মনে হয় এখানে বিজ্ঞানী নামে অবিজ্ঞানীদের কথাই বলছেন আপনি। এধরণের অনুমিতি পরীক্ষণের আগেই কোনো সত্যিকারের বিজ্ঞানী এরকমটি করবেন বলে আমার মনে হয় না। আর এই অনুমিতিও অনেক আগেই ভুল প্রমানিত হয়েছে এই বিজ্ঞানের প্রসারের ফলেই। ধর্মীয় আদেশে নয়।

বাকি অংশের উত্তর দিচ্ছি।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

মনমাঝি [অতিথি] এর ছবি

হাঃ হাঃ হাঃ আর কিছু বলতে হবে না। বুঝেছি আপনার মনোভাব কি এ বিষয়ে।

সত্যিই, এবিষয়ে আর কিছু বলার নেই ! একটা পিচ্ছিল, ছদ্মবেশী ধর্মবাদী ছাগুকে তার ছদ্মবেশী কুতর্ক ভেদ করে 'ক্যাঁক' করে ধরে ফেলার জন্য আপনাকে সীমাহীন অভিনন্দন। আপনার এই সাফল্যের উল্লাসে আমিও শরিক হতে চাই।

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

আপনাকে এমন কোনো বিশেষণ আমি দেইনি। বরং 'বিজ্ঞানবাদ' আর 'প্রগতিশীলতা' কে 'নতুন ফ্যাশান' বিশেষণ দিয়ে প্রকারান্তরে আপনি আমাকেই হেয় করেছেন বলে মনে হয়েছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে 'আপনার মনোভাব বুঝেছি' বলেছি শুধু। অথচ এখন নিজ থেকে কতগুলো বিশেষণ চাপিয়ে নিয়ে আমাকে খামাখা দোষী করলেন। দুঃখে পেলাম।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি

আলোচনা করতে করতে এরকম খেপে যাবার কোনো প্রয়োজন ছিল না ভাই। খুল ডাউন ম্যান।

~~সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা মানুষের মুক্তির জন্যে সংগ্রামের সময় অপরাধীর অধিকারের কথাটাও ভুলে যায় না

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

সেই বেচারি হটেনটট নারীর কথা মনে করে দেখুন, যাকে ফরাসি নৃতত্ত্ববিদরা মানবপূর্ব-প্রজাতির নমুনা হিসাবে এমনকি মৃত্যুর পরেও তার দেহাবশেষ প্রদর্শনী করেছেন। তথাকথিত সভ্য-সাম্প্রতিক ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত তার কঙ্কাল, সংরক্ষিত লিঙ্গ আর মগজ প্রদর্শনীর জন্য উম্মুক্ত ছিল প্যারিসের Musée de l'Homme যাদুঘরের শোকেসে। সেই নারীকে বিজ্ঞান কি জিজ্ঞেস করেছিল, তুমি এরকম নির্লজ্জ ভাবে - উলঙ্গ ভাবে, পশুরও অধমের মতো, মৃত্যুর পরেও সর্বসমক্ষে প্রদর্শিত হতে চাও কিনা - বা এতে তোমার 'নারীত্বের' বা 'মনুষ্যত্বের' হানি হয় কিনা ?

আর ইউ নাটস! একই কঙ্কাল যখন বছরের পর বছর খোলা আকাশের নীচে "উলঙ্গ ভাবে, পশুরও অধমের মতো, মৃত্যুর পরেও সর্বসমক্ষে প্রদর্শিত" হয়ে পড়ে ছিল তখন কি আপনি গিয়ে তাকে কম্বল চাপা দিয়েছিলেন? আর এখন এই কঙ্কালকে আপনি মনুষ্যত্বের মর্যাদা দিচ্ছেন!!!

ও হ্যাঁ, ওটা বেঙার প্রতি এই আচরনের কারা প্রতিবাদ করেছিল জানেন ? কিছু 'ধর্মবাদী'ই! মার্কিন দাসপ্রথার বিরুদ্ধে ১৮শ-১৯শ শতকেও জীবনবাজি আন্দোলনের অনেক পুরোধা ছিলে এক বড়সঙ্খ্যক ধর্মবাদী। এসব বলার উদ্দেশ্য ধর্ম বা ধর্মবাদীদের ডিফেন্ড করা নয়, বরং দুনিয়া বা মানবজাতি যে কেবল বর্বর, মূর্খ ধর্ম আর স্মার্ট, স্যাসি বা স্লিক বিজ্ঞান - এই দুই প্রতিপক্ষ শিবিরে মাত্র বিভক্ত নয় এটুকু বলা।

ধর্ম বা ধর্মবাদীদের ডিফেন্ড করা নয়? ধর্ম বা ধর্মবাদীদের ডিফেন্ড করা নয়?? হাহা হাসালেন মোরে।

আমি আর কালো আফ্রিকানদের নিয়ে সাদাদের দাসপ্রথা ও বর্ণবাদ, রেড ইন্ডিয়ান বা অস্ট্রেলিয়ান এ্যাবরিজিনি, নাৎসীবাদ বা মাস্টাররেইস, এসবের সমর্থনে বিজ্ঞানের মহামূল্যবান অবদান সমূহের কথা বরং বাদই দিলাম।

বাদ দিলেন কেন? আলোচনা করুন।

কিন্তু যখনই তার 'পরিচয়', 'মর্যাদা', 'অধিকার' এমনকি ঐ শরীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার মূল্যাবধারণ- এই জাতীয় মূল্যায়ন বা মূল্যবিচারমূলক প্রশ্ন এসে যায়, তখন সেটা বিজ্ঞানীদের হাতের বাইরে চলে যায় এবং বৃহত্তর সমাজের এক্তিয়ারভুক্ত হয়ে পড়ে।

খানিকটা একমত। বিষয়টি বৃহত্তর সমাজের এক্তিয়ারভুক্ত বৈকি! কিন্তু বিজ্ঞানকে পাশ কাটিয়ে নয়। আলোচনার টেবিলে বিজ্ঞানকে সাথে নিয়ে এই সিদ্ধান্তটুকু নিতে হবে।

ভুলত্রুটি, সঙ্ঘাত নিয়ে দোষেগুনে মানুষ এভাবেই এগুবে। কিম্বা পিছুবে।

এখানেই আপত্তি। আপনি মানুষের পিছিয়ে যাওয়া গ্রহণ করতে ইচ্ছুক। আমি নই। আমি চাইনা আমার সন্তান আপনার এনভিশন করা পিছিয়ে যাওয়া সমাজে বড় হোক।

কিন্তু কোন একপক্ষের বা মতবাদের হাতে এই বিষয়টা কুক্ষিগত হয়ে যাওয়াটা আমার কাছে এক ভয়ঙ্করতর ভবিষ্যতের অশনি সংকেতবাহী মনে হয়।

এক পক্ষের কাছে কুক্ষিগত থাকার কথা এই আলোচনায় কিভাবে আসল জানিনা। মূল আলোচনা ছিল যুক্তির আলোক গর্ভপাত যাচাই করা এবং নারীর অধিকার হিসেবে এই ক্ষমতাটিকে যাচাই করা নিয়ে। কিন্তু আপনার মন্তব্যের প্যাঁচে কোথায় এসে দাঁড়ালাম বুঝতে কষ্টই হচ্ছে আমার।

আপনি বরং এক কাজ করুন। একটা পোস্ট দিন। পোস্টটায় স্পেসিফিক উদাহরণ দিয়ে দেখান যে অমূক বিজ্ঞানী অমূক তারিখে অমূক কাজটা ভুল করেছেন। তারপর ব্যাখ্যা করে বোঝান কিভাবে সেই কাজটা অবৈজ্ঞানিক এবং একজন বিজ্ঞানীর কারনে পুরো বিজ্ঞানকে কিভাবে দোষী সাব্যস্ত করা যায়। উপরন্তু পরবর্তিতে বিজ্ঞানই সেই ভুল শুধরে নিয়েছে কিনা।

ঠিক একই ফ্রেইমওর্য়াকে ধর্মকে নিয়ে আসুন। প্রথমে ধর্মীয় ভুলের একটি উদাহরণ দিন এবং ব্যাখ্যা করে বোঝান কেন সেটার জন্য সম্পূর্ণ ধর্ম দায়ী। তারপর দেখান ধর্ম সেই ভুল শুধরেছে কিনা।

আপনার পোস্টের অপেক্ষায় থাকলাম। বাকি আলোচনা সেখানেই হবে।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

মনমাঝি [অতিথি] এর ছবি

ধর্ম বা ধর্মবাদীদের ডিফেন্ড করা নয়? ধর্ম বা ধর্মবাদীদের ডিফেন্ড করা নয়?? হাহা হাসালেন মোরে।

আরো হাসুন। প্রাণ খুলে হাসুন। হাসি স্বাস্থ্যের লক্ষন। আমার কোন বক্তব্য যে আপনাকে হাসানোর মাধ্যমে আপনার স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ভূমিকা রেখেছে, তা জেনে অত্যন্ত আনন্দিত এবং নিজেকে ধন্য বোধ করছি। আপনার উত্তোরত্তর সদাহাস্যময় স্বাস্থ্য কামনা করছি।

বাদ দিলেন কেন? আলোচনা করুন।

ওরেব্বাবা! ডরাইসি। 'পাইসি তোরে', তাই না ? এই অর্ধশিক্ষিত মাডল্‌-ব্রেইন ছদ্মবেশী ধর্মওয়ালা ছাগুটারে তুলাধুনা করার এমন মোক্ষম সুযোগ ও আনন্দ থেকে আপনাকে বঞ্চিত করার জন্য সত্যি অনুতপ্ত বোধ করছি।

খানিকটা একমত। বিষয়টি বৃহত্তর সমাজের এক্তিয়ারভুক্ত বৈকি! কিন্তু বিজ্ঞানকে পাশ কাটিয়ে নয়। আলোচনার টেবিলে বিজ্ঞানকে সাথে নিয়ে এই সিদ্ধান্তটুকু নিতে হবে।

এই লাইনে, আমি কিন্তু আপনার সাথে 'খানিকটা' নয়, পুরোটাই একমত। খাইছে
এটুকুই আসলে বলতে চেয়েছিলাম। তবে আমার মত ছদ্মবেশী বর্ণচোরা ধর্মবাদী ছাগুদের পক্ষে বোধহয়, একমত/দ্বিমত/ত্রিমত সবকিছুই বিপজ্জনক ! ওয়ান্স আ দ্বিমত-প্রকাশকারী বা ধার্মিকদের প্রতি ন্যূনতম আপাতদৃষ্টিতে সহানুভূতি-প্রকাশকারী ছাগু ইজ অলওয়েজ আ ছাগু। নো ম্যাটার হোয়াট।

তাহলে কে ... ডাইলেমাগুলি মীমাংসা করবে ... আমি জানি না।

কেনো আপনার ধর্মীয় নেতারা মীমাংসা করবে না?

কি আশ্চর্য! আমি নিজেই আজ পর্যন্ত এত খুঁজেও কোন ধর্মীয়-অধর্মীয় কোন রকম নেতাই খুঁজে পেলাম না নিজের জন্য, আর আপনি পেয়ে গেলেন আমার নেতাকে এক মন্তব্যে ?!! দয়া করে তাড়াতাড়ি বলুন কে বা কাহারা তারা ? জানতে আমার আর তর সইছে না কিছুতেই! আমার 'ধর্মীয়' নেতা কারা বলে মনে হয় আপনার ? গোলাম আযম ? মতিউর রহমান নিজামী ? সাকাচৌ ? আবুল আলা মওদুদী ? তাড়াতাড়ি জানান প্লিজ !

এখানেই আপত্তি। আপনি মানুষের পিছিয়ে যাওয়া গ্রহণ করতে ইচ্ছুক। আমি নই। আমি চাইনা আমার সন্তান আপনার এনভিশন করা পিছিয়ে যাওয়া সমাজে বড় হোক।

আমিও "পিছিয়ে যাওয়া গ্রহণ করতে ইচ্ছুক" নই বা এটা আমার "ভিশন"ও নয়। আমি আসলে নামগুলি উচ্চারণ না করেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বনাম স্বৈরতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার তুলনা করতে চাইছিলাম। অনেক মনিষীর মতে 'গণতন্ত্র' ও 'গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া' এখনো-পর্যন্ত মানুষের আবিষ্কৃত সেরা সামাজিক-সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক ব্যবস্থা বা প্রক্রিয়া। তাঁদের মতে এটা 'পারফেক্ট' নয়, এতে অনেক ঘাটতি থাকতে পারে, কিন্তু তারপরও এটা এখনো-পর্যন্ত আবিষ্কৃত অন্য সব ব্যবস্থার (স্বৈরতন্ত্রসহ) চেয়ে শ্রেয়তর এবং শ্রেষ্ঠতর। কখনো-সখনো স্বৈরতন্ত্রকে আপাতঃদৃষ্টিতে অপেক্ষাকৃত বেশী সফল, অর্গানাইজড, ইফেক্টিভ, সুসংহত, ডেসাইসিভ ও লোভনীয়রকম স্মার্ট ও স্যাসি মনে হতে পারে, গণতন্ত্রকে মনে হতে পারে 'পিছিয়ে পড়া' ক্যাওটিক ও ইনডেসাইসিভ -- তারপরও। এমনকি যদি সেটা ত্রুটিযুক্ত বা অপূর্ণ গণতন্ত্র হয় বাংলাদেশের মতো, তারপরও সেটাই শ্রেয়তর স্বৈরতন্ত্রের চেয়ে। আরেকটা উদাহরণ দেই। চীনের তুলনায় ভারতের অর্থনৈতিক ও অন্যান্য কিছু ক্ষেত্রে 'পিছিয়ে' পড়া নিয়ে একটা বিতর্ক/অভিযোগ আছে অনেকের। এবিষয়ে অনেক ভারতীয় বুদ্ধিজীবীর উত্তর হচ্ছে, চূড়ান্ত বিচারে বা দীর্ঘমেয়াদে চীনের স্মার্ট, সুসংহত ও জৌলুসপূর্ণ দ্রুততালের স্বৈরতান্ত্রিক অগ্রগতির চেয়ে ভারতীয়দের কিছুটা ক্যাওটিক, কম জৌলুসপূর্ণ ও আপাতদৃষ্টিতে দৌড়ে পিছিয়ে পড়া গণতন্ত্র সব সত্ত্বেও শ্রেয়তর। ভারতীয়রা অনেকসময় পাঁচ পা এগুলে, হয়তো আবার ১ বা ২ পা পিছিয়ে যায় নানা কারনে। কিন্তু চীনারা নাকি ২ পা এগুলে, বিশুদ্ধ ২ পা-ই এগোয় - এক কদমও পেছায় না স্বৈরতান্ত্রিক সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ার কারনে এবং ভারতীয়দের মতো ওদের এত পিছুটান নেই বলে। আমি এক্ষেত্রে ভারতীয় আর্গুমেন্টের পক্ষেই। আমি এই 'পিছিয়ে' পড়ার কথাই বলতে চেয়েছিলাম।

আমি চাইনা আমার সন্তান আপনার এনভিশন করা পিছিয়ে যাওয়া সমাজে বড় হোক।

আপনার সন্তান কেমন সমাজে বড় হবে সেটা সম্পূর্ণ আপনার চয়েস। আমি আপনার চয়েসের স্বাধীনতা বা আকাঙ্খায় পুরোপুরি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু একইভাবে এবং ইক্যুয়ালি, আমার সন্তান কেমন সমাজে বড় হবে সেই ব্যাপারে আমারও একটা চয়েস থাকা উচিত। আমি তো আর বানের জলে ভেসে আসিনি ! তার চেয়েও বড় কথা, আমার অনাগত সন্তানকে সমাজের একটা ক্ষুদ্র অংশের স্বৈরতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত ও সেলফ-রাইটিয়াসনেসের কারনে জন্মানোর আগেই 'মানুষ নয়' বলে গলা টিপে মেরে ফেলা হবে কিনা, সে ব্যাপারে আমার এবং সমাজের অন্যদেরও একটা 'সে' থাকা উচিত। আপনার সন্তানের বেলায় আপনার 'সে' থাকবে, আর আমার বেলায় আমার থাকবে না - এটা একটা কথা হলো ?

আপনি বরং এক কাজ করুন। একটা পোস্ট দিন।

প্রথমতঃ আমি বিজ্ঞানের শত্রু বা ধর্মের এ্যাপোলজিস্ট নই। সুতরাং সেই মর্মে কোন পোস্ট দেয়ার কিছুমাত্র প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি না আমি। আপনি আমাকে এবং আমার বক্তব্য সম্পূর্ণ ভুল বুঝেছেন। কিম্বা আমার বক্তব্য বা চিন্তাতেই হয়তো ভুল আছে। আমি তো আর "নির্ভুলতা"র দাবী করিনি। বিজ্ঞজনদের বোঝাতে না পারলে বা আমার ভুল থাকলে সেসব আমারই ব্যর্থতা। যদি তাই হয়, তাহলে আর ব্যর্থতার পাল্লা ভারী করতে চাই না। আমার ক্ষুদ্রবুদ্ধির দৌড় এইটুকুই, যেমন মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত।

দ্বিতীয়তঃ -- নাঃ, আমি আর এবিষয়ে তর্ক বাড়াতে বিন্দুমাত্র আগ্রহী না। এটাই আমার এপ্রসঙ্গে শেষ মন্তব্য। আমার মনে হচ্ছে আমার ভাষা প্রয়োগে দুর্বলতার কারনে, বা আমার বুদ্ধিসুদ্ধি-জ্ঞানগম্যির তীব্র অভাবের কারনে, বা আপনার বা আমার পারস্পরিক বক্তব্য বোঝার মধ্যে কোন একটা ডিসকানেক্টের কারনে একটা অনাকাংখিত ব্যবধান ও ইল-উইল তৈরি হচ্ছে। বিষয়টা ব্যক্তিগত খোঁচাখুচির পর্যায়ে নেমে যাচ্ছে, যা গোড়াতে আমি চাইনি। আমার বক্তব্য যদি এখনো পরিষ্কার না হয়ে থাকে বা আপনার কাছে গ্রহণযোগ্য বলে মনে না হয়ে থাকে, তাহলে "একটা" কেন, হাজারটা পোস্ট দিয়েও সেটা পরিষ্কার করতে বা গ্রহণযোগ্য করতে আমি আপারঙ্গম। এটা আমারই অযোগ্যতা। সেজন্যে আমি দুঃখিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী।

সবশেষে বলতে চাই যে, এরপরও যদি আমার বক্তব্যের পরিষ্করন চান তাহলে আমার প্রথম মন্তব্যের প্রতি-মন্তব্যে করা ধ্রুব বর্ণনের উপরের মন্তব্যটা পড়ে দেখতে পারেন। আমার থেকে অনেক চিন্তাশীল, জ্ঞানবান ও সুলেখক হওয়ার কারনে উনি আমি মূলতঃ যা বলতে চেয়েছি সেটাই মনে হচ্ছে অনেক সংক্ষেপে, সুসংহতরূপে, টু দি পয়েন্ট লিখে দিয়েছেন। এপর্যায়ে এর থেকে বেশি বা ভালোভাবে আমার আর কিছুই বলার নেই।

ও হ্যাঁ, আমার 'নাটি' মন্তব্য দিয়ে আপনাকে বিনোদিত করতে পেরে আমিও আনন্দিত।

ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।

পুতুল এর ছবি

খুব তথ্য এবং যুক্তিপূর্ণ আলোচনায় এই তিক্ততাটা দুঃখজনক।
**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

মন মাঝি এর ছবি

বাহ্‌, ছয় বছর আগে আমি দেখি ভীষণ বিনয়ী ছিলাম! এটা আসলেই আমি তো?! অ্যাঁ হো হো হো

****************************************

কৌস্তুভ এর ছবি

চমৎকার আলোচনা করেছেন। আপনার বক্তব্যের সঙ্গে সহমত, যে ধর্ম আর সমাজের চাপ না থাকলে অনেক বেশি মহিলারা গর্ভপাতের পক্ষে এগিয়ে আসতে পারতেন, পরিস্থিতি এখনও তাঁদের সিদ্ধান্ত নেবার সুযোগ দিচ্ছে না।

সতর্কবার্তায় উত্তম জাঝা!

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

কষ্ট করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ! হাসি

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

কৌস্তুভ এর ছবি

কষ্টর কথা আসছে কেন, আপনার লেখা পড়তে তো উৎসুক হয়ে থাকি। এটা দেখতে একটু দেরি হয়ে গেল।

সচল জাহিদ এর ছবি

যে সময় পর্যন্ত গর্ভপাত করা মায়ের জন্য নিরাপদ ( অবশ্যই চিকিৎসাবিজ্ঞান মতে) সে সময় পর্যন্ত গর্ভপাত করার অধিকার একজন মায়ের থাকা উচিৎ, এবং এই আলোকেই আইন হওয়া উচিৎ।

----------------------------------------------------------------------------
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
সচল জাহিদ ব্লগস্পট


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

অতিথি লেখক এর ছবি

যদি বিজ্ঞানের আলোকে বলা হয়, তাহলে ভ্রূণের কষ্টের ব্যাপারটা দেখতে হয়। তবে সেক্ষেত্রে যিনি দেখবেন তাঁকে সম্পূর্ণ নিরামিষভোজী হতে হবে।

আর যদি ধর্মের দিক দিয়ে দেখতে হয়, তবে একজন সনাতন ধর্মের অনুসারী হিসেবে বলব, "জাত জীবের মৃত্যু নিশ্চিত, এবং মৃত জীবের জন্ম নিশ্চিত, যদি না তার মোক্ষ লাভ হয়।" সুতরাং এটা নিয়ে আমার মতে নির্বিকার থাকাই ভাল। কেউ একশত বছর পরে মারা যায়, কেউবা জন্মিয়েই। ভ্রূণহত্যার বিপক্ষে যারা মত নিলেন, তাঁরা কি ভ্রূণটিকে অমর করতে পারবেন?

একজন মানুষ মারা গেলে সেটা কষ্টের হয় কারণ তিনি পৃথিবীর আলোবাতাস উপভোগ করেছেন, তিনি পৃথিবীর সাথে মায়ায় জড়িয়ে পড়েছেন। কিন্তু একটা ভ্রূণ পৃথিবীর আলোবাতাস দেখে নি, সে কোন মায়ায় জড়ায় নি; যা হয় নি তো হয় নি-ই। তার মৃত্যু তুলনামূলকভাবে কম কষ্টের, এটা যেন একজন ব্যাক্তি ঘুমন্ত অবস্থায় মারা গেলেন।

তবে আমি পরোক্ষভাবে ভ্রূণহত্যার বিপক্ষে। ভ্রূণহত্যা করতে হয় সাধারণত অপ্রাপ্তবয়স্কা মাদের, এবং ধর্ষিতা নারীদের।
প্রথম বিষয়টা পাপ। কেননা কাম সৃষ্টি করা হয়েছে বংশবিস্তারের জন্য, আনন্দ লাভের জন্য নয়।
লোভী মানুষ মাত্রই নিজেকে সংবরণ করতে পারে না। এবং এক্ষেত্রে লোভটা হল কামজাতয়ানন্দের লোভ। এবং লোভ মাত্রই পাপ। (এ পাপে পুরুষ/ছেলেটাও পাপী; ক্ষেত্রবিশেষে তার পাপ মেয়েটার চেয়েও বেশি। যদি তাদের উভয়ের/যে কোন একজনের পিতামাতা তাঁদের সন্তানকে/সন্তানদেরকে এ বিষয়ে সাবধান না করেন, তবে পাপের সম্পূর্ণ/সিংহভাগ অংশ তাঁদের।)
আমি একটা কাজ করব, কিন্তু ফল খারাপ হলে লুকিয়ে ফেলব ধ্বংস করে ফেলব, এটা আমি সমর্থন করি না।

তবে ধর্ষণের ক্ষেত্রে ভ্রূণ সৃষ্টি হলে তা ধ্বংস করে ফেলা উচিৎ। যেহেতু খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই ঘটে সরকারের ব্যার্থতার জন্য, সেজন্য আপাত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে হত্যা না করে সেই সন্তানের ভরণপোষণ সরকারেরই নেয়া উচিৎ। কিন্তু এটা ভেবে দেখা প্রয়োজন যে সে যখন বড় হবে, তখন মনে এক সমুদ্র কষ্ট পুষে রাখবে। সে বড় হয়ে জানবে তার বাবা-মা নাই। বা জানলেও মার দুর্ভাগ্যের কারণে তার জন্ম- এটা ভেবে কষ্ট পাবে। এক্ষেত্রে একটাই শান্তিপূর্ণ উপায়, তাকে কিছুতেই জানতে না দেয়া; তবে সেক্ষেত্রে সে নারীর (ভ্রূণের মা) স্বামী/ হবু স্বামীর মানসিকতা যথেষ্ট উদার হতে হবে যাতে তিনি সেই সন্তানকে মন থেকে তাঁর নিজের সন্তান হিসেবে গ্রহণ করেন।

কর্ণ

auto

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

তবে সেক্ষেত্রে যিনি দেখবেন তাঁকে সম্পূর্ণ নিরামিষভোজী হতে হবে।

কেনো? বুঝিনি কি বলতে চাইছেন।

প্রথম বিষয়টা পাপ। কেননা কাম সৃষ্টি করা হয়েছে বংশবিস্তারের জন্য, আনন্দ লাভের জন্য নয়।

ইন্টারেস্টিং! আপনি তাই বিশ্বাস করেন বুঝি!?

এক্ষেত্রে একটাই শান্তিপূর্ণ উপায়, তাকে কিছুতেই জানতে না দেয়া; তবে সেক্ষেত্রে সে নারীর (ভ্রূণের মা) স্বামী/ হবু স্বামীর মানসিকতা যথেষ্ট উদার হতে হবে যাতে তিনি সেই সন্তানকে মন থেকে তাঁর নিজের সন্তান হিসেবে গ্রহণ করেন।

একজন ধর্ষকের কাছ থেকে এতটা আশা করা যায়?

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

অতিথি লেখক এর ছবি

১।
ভ্রূণহত্যা করলে ভ্রূণের কষ্ট হয়, গরু-খাসী-মুরগী মারলে তাদের কষ্ট হয় না, এটা কোন যুক্তি হতে পারে না। সে জন্যেই আমি কথাটা বললাম। কেননা যে নিরামিষভোজী তার কাছে যেকোন প্রাণীর মৃত্যুই কষ্টের। হয়ত ঠিক মত বোঝাতে পারলাম না...
২।
হ্যাঁ। কারণ আনন্দলাভের জন্য যৌনমিলনে কামের অপব্যাবহার হয়।
একই রীতিতে কেবল চোখের ক্ষুধায় খাওয়াটা পাপ। (তবে কারও পেটের ক্ষুধা বেশি থাকলে সেটা অস্বাভাবিক কিছু না।)
৩।
বুঝাতে পারি নাই। ধর্ষকের কথা বলি নাই তো। ধরুন 'ক' 'খ' কে ধর্ষণ করল। 'গ' হল 'খ' এর স্বামী বা হবু স্বামী। আমি 'গ' এর মানসিকতার কথা বলেছি।

কর্ণ

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

কারণ আনন্দলাভের জন্য যৌনমিলনে কামের অপব্যাবহার হয়।

অথচ আধুনিক গবেষণা কিন্তু বলে শুধু যৌন মিলন নয়, মানুষের ক্ষেত্রে প্রোক্রিয়েটিভ সেক্সের উৎপত্তি হয়েছে সামাজিক কারনে, মানব শিশুকে গড়ে ওঠার জন্য একটা পরিবার তৈরী করে দিতে। বিস্তারিত পাবেন এই বইয়ে। সচলায়তনে সিরাত এ নিয়ে লিখেছে আগে [, , , ]।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

তৌফিক হাসান [অতিথি] এর ছবি

অনেক ভাল্লাগল।
স্পর্শকাতর বিষয়ে চমৎকার আলোচনা। উপসংহারের সাথে একমত।

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

কষ্ট করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

অতিথি লেখক এর ছবি

আমার একটা সমস্যা যে খুব বড় লেখা পড়ার ধৈর্য থাকেনা। কিন্তু কেন জানি এটা পুরোটাই পড়লাম। অনেক সময় দিয়েছেন। আর তাই অনেক কিছু জানতেও পারলাম। বলা যায়, কিছু নতুন দৃষ্টিভংগি পেলাম চিন্তা করার।

সদস্যনাম: শিবলী মেহেদী

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

কষ্ট করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

পাঠক [অতিথি] এর ছবি

এধরনের এথিকাল ডিবেটে আমি সব সময় বিবিসি -এর এথিকস সেকশনে ঢু মারি।
সেখানে পক্ষ/বিপক্ষের যুক্তি ভালোভাবে তুলে ধরা হয়।

http://www.bbc.co.uk/ethics/abortion/

আর লেখকের প্রগতিশীল মনোভাবের সাথে বিতর্ক করার মত কোন শক্ত পাল্টা যুক্তিও কাউকে দিতে দেখলাম না। মনমাঝি/কর্নের যুক্তিগুলোকে পুরানো-পঁচে-যাওয়া বাসি লেকচার মনে হচ্ছে।

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

ধন্যবাদ। আপনার লিংকটা সময় করে দেখবো।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

অতিথি লেখক এর ছবি

@পাঠক,
মন খারাপ
তবে একটা বিষয় জানেন কিনা জানি না, ভ্রূণহত্যা নিয়ে এটাই আমার প্রথম প্রবন্ধপাঠ, প্রথম আলোচনা। কোনটা তাজা আর কোনটা বাসি সেটা আমি তাই জানি না।

@মডারেটর,
আমার মনে হয় সচলায়তনের নীতিমালায় একটা পরিবর্তন আনা উচিৎ। যাতে লেখা থাকবে- পঁচে যাওয়া মন্তব্য হলে মন্তব্য প্রকাশিত হবে না।

অতিথি লেখক এর ছবি

@পাঠক,
মন খারাপ
তবে একটা বিষয় জানেন কিনা জানি না, ভ্রূণহত্যা নিয়ে এটাই আমার প্রথম প্রবন্ধপাঠ, প্রথম আলোচনা। কোনটা তাজা আর কোনটা বাসি সেটা আমি তাই জানি না।

@মডারেটর,
আমার মনে হয় সচলায়তনের নীতিমালায় একটা পরিবর্তন আনা উচিৎ। যাতে লেখা থাকবে- পঁচে যাওয়া মন্তব্য হলে মন্তব্য প্রকাশিত হবে না।

কর্ণ

সৈকত চৌধুরী [অতিথি] এর ছবি

একদম অ-সা-ধা-র-ণ!!!

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

ধন্যবাদ!

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

বইখাতা এর ছবি

একজন মা গর্ভপাত করাবেন কিনা সে সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার বেশিরভাগ অংশেই অবশ্যই সেই মা'র - আমি তাই মনে করি॥ তার মতামত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এরপরও আসলে কথা থাকে। অন্তত আমাদের দেশে সেই সিদ্ধান্ত (ধরে নিলাম) আপাতদৃষ্টিতে স্বাধীনভাবে মা নিতে পারলেও সেটা পুরোপুরি মা'রই হবে কিনা সেই প্রশ্ন থাকে, কারণ মা'র ওপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ, প্রচ্ছন্ন সামাজিক, পারিবারিক, ধর্মীয় চাপ থাকে। থাকে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইলিং। আবার সিদ্ধান্ত মা'র হলেও তার স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার ব্যাপারটাও আমলে নেয়া উচিত, মা না চাইলেও। পরিশেষে কোনো সরল, সবক্ষেত্রে প্রযোজ্য উপসংহার টানা কঠিন মনে হয়। এক্ষেত্রে ঘটনা ও পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কেইস বাই কেইস সবকিছু বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারলে সেটাই সবচেয়ে ভাল হয় - আমার মতে।

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি


এক্ষেত্রে ঘটনা ও পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কেইস বাই কেইস সবকিছু বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারলে সেটাই সবচেয়ে ভাল হয় - আমার মতে।

চলুক

আইন সবশেষে গিয়ে প্রয়োগ করে মানুষ। মোটা দাগের বা সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন হলে অবিচার হবার সুযোগ বেড়ে যায়। ফলে কেইস বাই কেইস সিদ্ধান্ত নেয়াটাই যুক্তিসঙ্গত। কিন্তু এই কেইস বাই কেইস সিদ্ধান্তকে সর্বোত্তম উপায়ে বিজ্ঞান আয়্সিস্ট করবে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে - ভ্রুণের কোন বয়সে কি অবস্থা থাকে, বর্তমানে আলোচ্য ভ্রুনটার বয়স, আকার কিরূপ, মায়ের স্বাস্থ্যের অবস্থা ও ঝুঁকিগুলো কি, ইত্যাদি।

~~সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা মানুষের মুক্তির জন্যে সংগ্রামের সময় অপরাধীর অধিকারের কথাটাও ভুলে যায় না

নৈষাদ এর ছবি

আপনার এই চমৎকার বিশ্লেষণ সেদিন পড়ার পরে এই সংশ্লিষ্ট আরও কিছু লেখা পড়তে চেষ্টা করলাম। আপনার উপসংহারের সাথে দ্বিমত করতে পারছি না।

গতকালই এক ভদ্রলোকের [!!] কাছে আরেকটা ব্যাপার শুনলাম...। তিনি ২০০৩ সালে তার ‘নিজের’ অভিজ্ঞতার কথা বললেন। কোলকাতার কোথাও একটা ক্লিনিকে মাত্র ১৫ দিনের ভ্রুনের লিঙ্গ নির্ণয় করা হয় নাকি। আল্ট্রাসনোগ্রাফি না, কোথাও থেকে একধরণের সোয়াপ নিয়ে ভ্রুনের লিঙ্গ বলে দেয়া হয়। শুধু + বা – চিহ্ন ব্যবহার করা হয় এবং এর জন্য ২০০৩ সালে দিতে হত ১২,০০০ রুপি। লোকজনের ভীষণ রাশ নাকি। – হলে বাকি পদক্ষেপ!! + হলে লোকজন খুশি্‌...। দুই মেয়ের পর এক পূত্রের 'সুখি' পিতা তিনি এখন। মন খারাপ

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

খুবই দুঃখজনক ঘটনা শোনালেন। এই ধরণের লোকদের জেলে দেয়া উচিৎ।

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

কোলকাতার বড়ো বড়ো কয়েকটা হাসপাতালে নোটিস টানানো দেখেছি এখানে ভ্রুণের লিঙ্গনির্নয় নিষিদ্ধ। ওখানে নাকি এর কঠিন শাস্তির আইন আছে।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

দুর্দান্ত এর ছবি

গর্ভপাতের স্বাধীনতা: নারীর অধিকার।

একজন নারী যখন স্বেচ্ছায় জেনেবুঝে গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নেবেন, তখন তিনি যাতে সেটা নিরাপদ, স্বাস্থকর ও সম্মনজনক পরিবেশে করাতে পারেন সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। আবার সেই নারীই যদি গর্ভপাত করাতে না চান, সেটা যেনো তাকে দিয়ে কেউ করিয়ে নিতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের।
মোট কথা একজন মানুষের শরীরের কর্তৃ্ত্ব তার নিজের। নিজের শরীরের ভেতরে একজন মানুষ কি রাখবে আর কি রাখবে না (যদি সেটা মানুষ হত্যার শামিল না হয়) সেটা পুরোপুরি তার স্বাধীনতা। মা নিজেই যখন অনাগত সন্তানের প্রতি মাতৃ্ত্বের টান অনুভব না করে সেই মাতৃ্ত্ব থেকে মুক্তি চাইছেন, তখন তাকে ডিিঙ্গয়ে বাকী সব মাসির দরদ দেখানোই বরং অস্বাভাবিক, অমানবিক।

একজন মানুষ কখন মানুষ, আর কখন ভ্রন - এটা এক একটি সমাজের সামষ্টিক সিদ্ধান্ত। আবার একটি সমাজে কে নারী আর কে একটি মেয়ে শিশু, সেটাও স্থানীয় লিখিত আইন বলে দেবে। গর্ভবতি মেয়ে শিশুর ক্ষেত্রে আমি শিশুটির মতামত যাই হোক, সরকারি উদ্যোগে নিরাপদ গর্ভপাত করানোর ও দরকারি মানসিক থেরাপি/চিকিতসা প্রদানের পক্ষপাতি।

একজন মানুষকে মেরে ফেলার অধিকার কারো নেই। কিন্ত বেটোভেনের মা তাকে চেয়েছিল ও ভালবেসে জন্ম দিয়েছিল বলেই সে বেটোভেন হয়েছিল।

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

একজাক্টলি। হাসি

মাহিন এর ছবি

আমার কথাই আপনি লিখেছেন। ধন্যবাদ।

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

চমৎকার লেখা। পড়ে খুবই ভালো লাগলো।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

অতিথি লেখক এর ছবি

"মনের মুকুরে" একটা দারুণ ফিচার! আগ্রহ-জাগানিয়া লেখা, আগেও পড়েছি, (মন্তব্য ছাড়া) তবে আজ হঠাৎ ২ টা জিনিস মনে হলো,

১) "ভ্রূণ ব্যাথা পায় না" এই যুক্তিটা এখন একেবারেই বাজে যুক্তি মনে হচ্ছে। এখানে মৃত্যু-যন্ত্রণা ব্যাপারটা রেড হেরিং। একটা পূর্ণাঙ্গ মানুষকেও বিনা যন্ত্রণায় মেরে ফেলা সম্ভব, তাতে কিন্তু সেই মেরে ফেলা বেশী বা কম জায়েজ হয়ে যায় না। "মৃতু যন্ত্রণা দেয়া ঠিক কিনা" আর "মেরে ফেলা ঠিক কিনা" এই ২টা সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রশ্ন। গর্ভপাতের প্রশ্নটা শেষ পর্যন্ত গিয়ে ঠেকে মানুষ বলতে আমরা কাকে বোঝাচ্ছি, সেটাতে গিয়েই।

২) একজন নারীর যদি নিজের গর্ভপাত ঘটানোর অধিকার থাকে, এবং সেই অধিকার যেকোন অবস্থাতেই অটুট থাকে, তাহলে ভ্রুণের লিঙ্গ নির্ধারণের পর, তিনি যদি দেখেন যে সেটা মেয়ে, এবং সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি মেয়ে চান না, তাহলে সেই অধিকারও তার থাকা উচিৎ। তাই কি?

---কৌতুহলী

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।