এন্টিগল্প > ভ্রমর >

মনজুরাউল এর ছবি
লিখেছেন মনজুরাউল (তারিখ: সোম, ০৪/০৮/২০০৮ - ৪:৪৬পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

এই শহরের ফ্রস্টেড রঙের আকাশকে কখোনোই নীল দেখায় না। আজো দেখেচ্ছে না। বিকেল চারটে। তার পরও মনে হচ্ছে দুপুর বারটা। পিচ গলতে শুরু করেছে। গাড়ির চাকায় চচড়ে আওয়াজ। মানুষগুলোকে মনে হচ্ছে পিপাসাকাতর মুরগীর মত। কোত্ কোত্ করছে, কিন্তু গলা ভিজছে না। একটা কুকুর শশা বেচা দোকানের কাছে এসে পানি খাওয়ার চেষ্টা করতেই পাঁজড় বরাবর লাথি খেয়ে কোঁ কোঁ করতে করতে চলে গেল। দুটো রিক্সা স্পোক বাঁধিয়ে খিস্তি। তিননম্বরটা এসে ডবল খিস্তি। বয়ষ্ক এক মহিলা চলন্ত বাসে ওঠার চেষ্টায় পড়ে গেল ছেঁচড়ে। একটা খোঁচরের গাড়ি খামোখা সাইরেণ বাঁজিয়ে ছুটে গেল । হাঁটার গতিতেই যাওয়াকে ছুঁটে যাওয়া বলতে হবে। দূরে একজন হলুদ সার্জেন্ট বাইকঅলার সাথে দেন-দরবার করছে। আবারো চার-পাঁচটা রিক্সা জট পাকিয়ে গেল। জামসেদের আর সহ্য হলো না। বুটের এ্যাঙ্কেল থেকে ভ্রমরটা বের করে ঠান্ডা মাথায় এগিয়ে প্রথম রিক্সাটার চাকায় সেঁধিয়ে দিল ভ্রমরটা।

প্রথম প্রথম জামসেদ নিচু হয়ে হাওয়া ছেড়ে দিত, অথবা নজেল খুলে নিত। ওর ধারণা বাঞ্চোত্ গুলো খানিক দূরে গিয়েই নজেল কিনে লাগিয়ে নেয়। এখন ভ্রমর থেরাপি! নো চুদুরবুদুর। মিনিমাম ঘন্টাদুয়েকের কামাইয়ের পোঁদ মেরে দিলাম! মনে মনে তৃপ্তিও পেল জামসেদ। খানিক বাদে এক ধুড়মার্কা মালকে দেখল বাইকের পেছনে মাল নিয়ে ক্যালাতে ক্যালাতে যাচ্ছে। জামসেদ সামনে গিয়েই ঘাপ।
-হেলমেট কই? দেখি কাগজ?
ধুড়মার্কা মালটা কান পর্যন্ত কেলিয়ে-ভাই কাগজ ভুল করে.......
-লাইসেন্স? -
-আছে, মানে ঠিক এখন কাছে...
-কেস হবে। তিনটা ফল্ট। মিনিমাম নয়শ' যাবে...
ধুড় কেবল পেছনে হাত দিয়েছে,অমনি রাস্তার ওপার থেকে সার্জেন্ট এসে হাজির।
-যা: বাল ! সারাদিন পর যাও একটা মক্কেল জোটালাম তাও মারানির পুতের সহ্য হলো না ?

জামসেদের এই বায়োস্কোপ নিত্যদিনের। মে মাসের প্রথম দ্বিতীয়,তৃতীয় এবং চতুর্থ সপ্তাহ জুড়েই। চলছে। শুধু সময় আর লোকজন বদলে যাচ্ছে। বদলে যাচ্ছে খিস্তি দেওয়ার ধরণ আর খিস্তির রকম। যেমন আজ সকালে যখন মেজাজ তেতে ওঠে নি ঠিক সেই সময়ে একটা প্রাইভেট একটা হোন্ডাকে(বাইকের ব্র্যান্ড যা-ই হোক) ল্যাটকা মেরে ফেলে দিল। খুশীতে চনমন করে উঠল জামসেদের মুখ-ঘাড়-মাথা সব। লাফ দিয়ে একটানে প্রাইভেটের দরজা খুলে জেল দেওয়া মাথা টেনে বের করে আনল...
-কাগজ?
-লাইসেন্স?
-ইনস্যুরেন্স?
জেলমাথা ধীরে সুস্থে একটা কার্ড বের করল। সাথে সাথে
জামসেদের ঐটা ছোট্ট হয়ে ভেতরে ঢুকে গেল।
জামসেদের দশ-পনের মিনিট আগেই মুতা থাকলেও আবার মুত পেল। দুএক ফোঁটা বেরিয়েও গেল। এই এক জ্বালা ! শালার ভয় পেলেই মুত আসে! কেন অন্য কিছু আসতে পারে না?
জামসেদের পুরো প্যান্ট ভেজার আগেই জেলমাথা গাড়ির ভেতর অদৃশ্য হলো। পরক্ষণে গাড়ি অদৃশ্য হলো। হাফ ছেড়ে রুমাল বের করবে, এমন সময় দেখল এক বুড়ো রিক্সাঅলা স্পিন্ডেলে বাঁধিয়ে আর এক প্রাইভেটের এমাথা ওমাথা ফর্দিফাই করে দিয়েছে। ক্ষাণিক আগের মুতে দেওয়া জামসেদ এ্যাকশনে...।
লাফ। পেছনের চাকা। দুটো ফুঁটো। তিনবার চুত্মারানি। চারবার শালারপো। পাঁচবার পোঁদের মধ্যে এটা ওটা দিয়ে দেবার ইচ্ছা,কিন্তু না দিয়ে উদারতা প্রকাশ।

জামসেদের বউটার বাচ্চা হবে। নয় মাস। জামসেদ রোজই এটা ওটা আনে। প্রথম বাচ্চা। ও চায় বউটা যেন ভালমন্দ খেয়েদেয়ে একটা বড়সড় বাচ্চা দিক। ওর মত তালপাতার সেপাই যেন না হয়। গা গতরে একটু মাংশ থাকলে আর একটু লেখাপড়া জানা থাকলে কি ট্রাফিক হতো? হতো হলুদ জ্যাকেটের সার্জেন্ট। আজ জামসেদ বউয়ের জন্য ডাব এনেছে।

-ডাব খা,ঐসব বালছাল কোকফোক না খেয়ে ডাব খা। মুখকাটা ডাব ফুটো করার কিছু না পেয়ে সেই ভ্রমরটা দিয়েই ডাব ফুটো করে বউকে দেয়। ভ্রমর দেখে আবার বউ বলে-
-রিক্সার চাকা ফুটা না কইরা .......
-আবার সেই বালের কথা ?তরে না কইছি মরদ মাইনষের চাকরি নিয়া কথা কবি না?
বউটা কথা বাড়ায় না।

মাসখানেক পর। এক গুমোট রাত। গাছের পাতা নড়ে না। দর দর করে ঘামছে মানুষ।সন্ধ্যের দিকেই যে যার ঘরে ফিরছে। কানাঘুষো হচ্ছে আজ রাতে কারফিউ দেবে। ভার্সিটির লাফাঙ্গার গুলা নাকি খেলা দেহার সময় কাগো লগে ঝামেলা পাকাইছে। হেই নিয়া প্যাঁচাল,তারপর বাল। এ দেশের কিচ্ছু হবে না সেই কথাটা আবারো ডজনখানেক গালি সহ ডেলিভারি দেয় । দেশের কিছু হোক না হোক ওর বউয়ের যে কিছু হবে সেটা ও বোঝেনি। রাত বারটার দিকে ওর বউয়ের ব্যাথা ওঠে। মনে মনে বিরক্ত হয় ও,
ব্যাথা ওঠার আর দিন পেল না?রাত একটা-দেড়টার দিকে ব্যাথা প্রবল হতে থাকে। শশব্যস্ত জামসেদ পাড়ার শেষ মাথার বস্তি থেকে সলেমান রিক্সাওলা কে ডেকে আনে। কাফিউয়ের মধ্যেই বেরিয়ে পড়ে বউকে নিয়ে।
শুনশান ফাঁকা রাস্তা। মাঝে মাঝে একটাদুটো পেট্রোলগাড়ি হুশ্ করে চলে যাচ্ছে। সলেমান সাধ্যমত জোরে টানছে। হঠাত্ একটা পেট্রোলগাড়ি থামল। দুজন পুলিশ নামল। একজন ঠাস করে সলেমানের মুখে থাবড়া লাগাল,অন্যজন বুটের এ্যংকেল থেকে একটা ভ্রমর বের করে পেছনের চাকা ফুটো করে দিল। পুরো ঘটনাটা ঘটল মাত্র কয়েক মুহূর্তে! আর্তচিত্কার করে উঠল জামসেদ-কী করেন !আমি একজন ট্রাফিক ! আমার বউয়ের ডেলিভারি কেস! তৃতীয় এজন নেমে জামসেদের মুখে কষে চড় লাগিয়ে বলল- আই ডি কার্ড? ওরা তিন জন নির্বাক। গাড়িটা হুশ্ করে ছুটে গেল। সলেমান তবুও ফুটো চাকা নিয়ে ঘটাং ঘটাং করে এগুতে থাকল.....পুলিশ হাসপাতাল তখনো বহুদূর...জামসেদ বউকে জড়িয়ে ধরে বিড় বিড় করে সলেমান কে তাড়া দেয়.....ঘেমে নেয়ে ওঠে সলেমান..টানছে তো টানছেই ......জামসেদ বউকে আরো জোরে জড়িয়ে ধরে...বউটা নড়ছে....আসলে নড়ছিল না। অনেকক্ষণ ধরেই নড়ছিল না। হাওয়াহীন চাকা ঘটাং ঘটাং করে বাড়ি খাচ্ছিল শুধু...তাতেই মনে হচ্ছিল নড়ছে।

এর পর জামসেদ আর কারো রিক্সার চাকা ফুটো করেছিল কি না আমাদের জানা নেই।


মন্তব্য

আলমগীর এর ছবি

এটা একটা খুবই ভাল গল্প।

মনজুরাউল এর ছবি

ধন্যবাদ

.......................................................................................
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয় যারা মানুষ......

.......................................................................................
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয় যারা মানুষ......

রায়হান আবীর এর ছবি

আপনার গল্পগুলো পড়তে ভালো লাগে খুব। কিন্তু প্রত্যেকবার পাঠককে আপনি দুঃখ দেন। অথবা দুঃখ ঠিক দেননা, বিবেগকে নাড়া দেন।

---------------------------------
জানিনা জানবোনা... কোন স্কেলে গাইছে কোকিল
গুনিনা আমি গুনিনা...কার গালে কটা আছে তিল

মনজুরাউল এর ছবি

কেননা দু:খটাই আমাদের আবহমান।
সুখ এত ক্ষণস্থায়ি যে
অনুভবে আসার আগেই ফুরিয়ে যায়।

.......................................................................................
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয় যারা মানুষ......

.......................................................................................
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয় যারা মানুষ......

কীর্তিনাশা এর ছবি

মনজুরাউল ভাই সালাম লন সালাম। এই গল্প নামের বোমাটা কি অনায়াসেই না ফুটালেন। ধুগো ভাই'র পেটেন্ট করা কথাটা না কইয়া পারলাম না - ইয়া হাবিবি!!
-------------------------------
আকালের স্রোতে ভেসে চলি নিশাচর।

-------------------------------
আকালের স্রোতে ভেসে চলি নিশাচর।

মনজুরাউল এর ছবি

মাহেরবা.......ইয়া রব

.......................................................................................
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয় যারা মানুষ......

.......................................................................................
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয় যারা মানুষ......

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি

তব্ধা খেলাম ভাই!

আচ্ছা, শেষ লাইনটা না হলেও মনে হয় চলে। ওই লাইনটা যেন পর্বত শিখরে উঠে আবার পিছিয়ে আসার মতো। দেখবেন?

হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

মনজুরাউল এর ছবি

ঠিক। শেষ লাইনটা অপ্রয়োজনীয় মনে হচ্ছে। কেন শেষ লাইনটা দিলাম সেকথা শো.মো.চৌধুরীর মন্তব্যের নিচে দিলাম। একটু কষ্ট করে পড়বেন।

.......................................................................................
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয় যারা মানুষ......

.......................................................................................
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয় যারা মানুষ......

দেবোত্তম দাশ এর ছবি

এর পর জামসেদ আর কারো রিক্সার চাকা ফুটো করেছিল কি না আমাদের জানা নেই।

আর প্রয়োজন আছে কি ? পাঠকদের বরং নিজেদের বিবেককে প্রশ্ন করতে দেওয়া উচিত

------------------------------------------------------
স্বপ্নকে জিইয়ে রেখেছি বলেই আজো বেঁচে আছি

------------------------------------------------------
হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন’রা কি কখনো ফিরে আসে !

মনজুরাউল এর ছবি

একমত।
ধন্যবাদ।

.......................................................................................
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয় যারা মানুষ......

.......................................................................................
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয় যারা মানুষ......

শোহেইল মতাহির চৌধুরী এর ছবি

গল্পটা প্রায় ঘন্টা দশেক আগে যখন পড়েছিলাম তখনই ভেবেছি এই কথাটা লিখবো।
এখন দেখছি ফারুক ওয়াসিফ লিখেছেন। তিনি কী বিবেচনায় শেষ লাইনটা বদলানোর কথা বলেছেন জানি না। তবে আমারও মনে হয়েছে শেষ লাইনটা এই গল্পের লাইন না।
কেন?
লাইনটা পড়লে মনে হয় এমন লাইন আগে অনেক আমরা পড়েছি। এমন সমাপ্তি। সে হিসেবে এটা একটু বেশি ব্যবহৃত।
দ্বিতীয়ত: পুরো গল্পটার যে অসাধারণ বর্ণনাভঙ্গি তার ছন্দপতন ঘটে এই বাক্যে। গল্পটা সাধারণ হয়ে যায়।

গল্পটা নিয়ে আরেক দফা বসলে মনজুরাউল নিশ্চই বিকল্প একটা সমাধান পেয়ে যাবেন। যা পুরো গল্পের মত ক্ষুরধার ও শিরদাঁড়া শক্ত করে দেয়ার মত শক দেবে আমাদের।

নিজের অস্ত্র নিজের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হওয়ার যে মানসিক ধাক্কা তা থেকে জামসেদ শুধরে যেতে পারে বা হয়ে উঠতে পারে আরো ভয়ানক, প্রতিশোধপরায়ণ, নির্মম, জীবনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ, ক্রুদ্ধ।
গল্পের আবহে আমার কেন জানি জামসেদের আরো ক্রুর হয়ে যাওয়া পরিণতিটাকেই স্বাভাবিক মনে হচ্ছে। হয়তো সে হাফ ডজন ভ্রমর নিয়ে ট্রাফিক জ্যামে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বা দোকানে গিয়ে গোটা চারেক ভ্রমর কিনে নিয়ে আসছে। অথবা পুলিশ লাইনে পার্ক করে রাখা জিপগুলো ভোর হতেই দেখা যায় পাংচারড। অথবা পুলিশের বড় কর্মকর্তার পায়ের নীচে সেঁধিয়ে গেছে আস্ত এক ভ্রমর।

তবে শেষ সিদ্ধান্ত লেখকের।
আরো একটা চমৎকার শর্টফিল্ম।
জয়তু মনজুরাউল।
-----------------------------------------------
সচল থাকুন... ...সচল রাখুন

-----------------------------------------------
মানুষ যদি উভলিঙ্গ প্রাণী হতো, তবে তার কবিতা লেখবার দরকার হতো না

মনজুরাউল এর ছবি

নিজের অস্ত্র নিজের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হওয়ার যে মানসিক ধাক্কা তা থেকে জামসেদ শুধরে যেতে পারে বা হয়ে উঠতে পারে আরো ভয়ানক, প্রতিশোধপরায়ণ, নির্মম, জীবনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ, ক্রুদ্ধ।
গল্পের আবহে আমার কেন জানি জামসেদের আরো ক্রুর হয়ে যাওয়া পরিণতিটাকেই স্বাভাবিক মনে হচ্ছে। হয়তো সে হাফ ডজন ভ্রমর নিয়ে ট্রাফিক জ্যামে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বা দোকানে গিয়ে গোটা চারেক ভ্রমর কিনে নিয়ে আসছে। অথবা পুলিশ লাইনে পার্ক করে রাখা জিপগুলো ভোর হতেই দেখা যায় পাংচারড। অথবা পুলিশের বড় কর্মকর্তার পায়ের নীচে সেঁধিয়ে গেছে আস্ত এক ভ্রমর।

শেষটা এরকম হলে যে ভাল হতো সেটা বুঝে নিজের ওপর রাগ হচ্ছে।
আমি শেষ লাইনটা না দিলে পাঠক এভাবেই হয়ত ভেবে নিতেন। হয়ত আরো অন্য ভাবেও ভাবনা আসত। আমিও দিতে চাইনি। কেন দিলাম তার একটা 'আপনাপছন্দ' ব্যাখ্যা আছে। সেটা এরকম।

গল্পটার প্রথম আর শেষের প্যারা ট্রাডিশনাল ধারার।মাঝের টুকু আমার বানানো,অর্থাত্ এন্টি ফর্মের ছক থেকে। এই ছকে গল্পের সমগ্র চরিত্রগুলো এক পক্ষ, আর ন্যারেটর আর এক পক্ষ। সেমতে গল্পটা শেষ হওয়ার পর যেন শ্রোতারা শুধোলেন- তারপর ? ট্রাডিশনাল ছকে হলে 'উহ্য' এই বাক্যটা থাকত.........তার আর পর নেই। শেষ হইয়াও হইল না শেষ ,ইহাই ছোট গল্পের আকর্ষণ....

কিন্তু যেহেতু আমি একটা ভিন্নধরণের ফর্ম নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করছি তাই ওই শেষের লাইনটা। একটা উপমা দেই............................

....সাত-আট মাস বয়সী বাঠোই (একধরণের ঘাস )মাটিতে লেপ্টে আবার মাথা উঁচু করে দাঁড়াল। এটা ওর নিত্য দিনের প্রাকটিস! জন্মই এমন যে লেপ্টে-পিষে,থেতলে-থুতলে আবার দাঁড়াতে হবে !কিন্তু আজ সে চমকে উঠল ! এ তল্লাটে এমন পা তো আগে দেখেনি ? মোটামুটি এ তল্লাটের সবার পায়ের ওজন ওর জানা... ওর চে' একটু বড় এমন দুজন মুচকে হেসে বলল...এটা পাছামোটা দারোগা ইন্তাজের পা। অ্যাংরিরা টেংরি ভেঙ্গে দিয়েছিল,খুঁড়িয়ে হাঁটে। পুরো পাছার ভার একপায়ে আসে বলে মনে হয় আড়াই মণ.....

এভাবেই চলতে থাকে। এখানে সকল পাত্র-পাত্রি ঘাস,টুথপেষ্ট,কলম,ব্রাশ,ঘটি,বদনা,সাইকেলের স্পোক..........এখানে জড়বস্তুরা কথা বলছে, আসলে বলছে না। তাদের কথা ন্যারেটর শোনাচ্ছে।

ধ্যাত্তোরি! ম্যালা ফাও প্যাঁচাল হয়ে গেল।
এডিট করা গেলে এখনই করে দিচ্ছি।
তিন ফার্লং শুভেচ্ছা আর অভিনন্দন।

.......................................................................................
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয় যারা মানুষ......

.......................................................................................
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয় যারা মানুষ......

ঝরাপাতা এর ছবি

বুমেরাং . . . . .

ভালো লাগলো খুব।


যে রাতে গুঁজেছো চুলে বেগুনি রিবন বাঁধা ভাট,
সে রাতে নরকও ছিলো প্রেমের তল্লাট।
. . . . . . . . . . . . . . . . . . (আবু হাসান শাহরিয়ার)


বিকিয়ে যাওয়া মানুষ তুমি, আসল মানুষ চিনে নাও
আসল মানুষ ধরবে সে হাত, যদি হাত বাড়িয়ে দাও।

মনজুরাউল এর ছবি

বুমেরাং.........

ধন্যবাদ

.......................................................................................
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয় যারা মানুষ......

.......................................................................................
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয় যারা মানুষ......

কনফুসিয়াস এর ছবি

ঠিক, শেষ লাইনটা একেবারে বাদ দিয়ে দিলেও চলে।
ভাল লাগলো গল্পটা।
-----------------------------------
... করি বাংলায় চিৎকার ...

-----------------------------------
বই,আর্ট, নানা কিছু এবং বইদ্বীপ

মনজুরাউল এর ছবি

একমত।
ধন্যবাদ

.......................................................................................
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয় যারা মানুষ......

.......................................................................................
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয় যারা মানুষ......

রাফি এর ছবি

আমারো মত
"শেষ লাইনের দরকার নেই".
---------------------------------------
আমি সব দেবতারে ছেড়ে
আমার প্রাণের কাছে চলে আসি,
বলি আমি এই হৃদয়েরে;
সে কেন জলের মতন ঘুরে ঘুরে একা কথা কয়!

---------------------------------------
আমি সব দেবতারে ছেড়ে
আমার প্রাণের কাছে চলে আসি,
বলি আমি এই হৃদয়েরে;
সে কেন জলের মতন ঘুরে ঘুরে একা কথা কয়!

মনজুরাউল এর ছবি

আমারো সেই মত।
ধন্যবাদ।

.......................................................................................
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয় যারা মানুষ......

.......................................................................................
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয় যারা মানুষ......

Dev এর ছবি

It's a nice story....very nice.....

মনজুরাউল এর ছবি

Thanks

.......................................................................................
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয় যারা মানুষ......

.......................................................................................
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয় যারা মানুষ......

সুলতানা পারভীন শিমুল এর ছবি

ভ্রমর কি?
এর একটা ছবি দেয়া যায়?

...........................

সংশোধনহীন স্বপ্ন দেখার স্বপ্ন দেখি একদিন

...........................

একটি নিমেষ ধরতে চেয়ে আমার এমন কাঙালপনা

মনজুরাউল এর ছবি

ইহা এক প্রকার অগ্রভাগ সুঁচালো লৌহদন্ড বিশেষ। পেছনের অংশটি কাষ্ঠখন্ডে প্রোথিত থাকে। ইহার হাউসহোল্ড সাইজ দ্বারা বই-খাতা সেলাই করা হয়। ফ্যামিলি সাইজ দ্বারা যাহা ইচ্ছা ফুটা করা যায়। ইহা অতীব কার্যসম্পাদনসম্পন্ন হেকমতি বস্তু। ঢাকার হাজারদেড়েক ট্রাফিক পুলিশ 'অত্যাবশক'রূপে ইহা বহন করে।

না ভাই, আমার কাছে ছবি নেই। তবে গুগলে steel nail লিখে সার্স দিলে পেয়ে যাবেন।

অশেষ ধন্যবাদ আপনাকে।
.......................................................................................
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয় যারা মানুষ......

.......................................................................................
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয় যারা মানুষ......

তানবীরা এর ছবি

হুমম, ভ্রমর জিনিসটা কি?চমৎকার গল্প।

তানবীরা
---------------------------------------------------------
চাই না কিছুই কিন্তু পেলে ভালো লাগে

*******************************************
পদে পদে ভুলভ্রান্তি অথচ জীবন তারচেয়ে বড় ঢের ঢের বড়

মনজুরাউল এর ছবি

হুমম, ভ্রমর নিয়ে আচ্ছা ফ্যাসাদে পড়া গেল !
দাঁড়ান, কাল মতিঝিল শাপলাচত্তরে জামসেদ ট্রাফিক কে জিজ্ঞেস করে দেখি......

.......................................................................................
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয় যারা মানুষ......

.......................................................................................
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয় যারা মানুষ......

ক্যামেলিয়া আলম এর ছবি

অসাধারন আইডিয়া তো------ খুব ভাল লেগেছে
.....................................................................................
সময়ের কাছে এসে সাক্ষ্য দিয়ে চ'লে যেতে হয়
কী কাজ করেছি আর কী কথা ভেবেছি..........

.....................................................................................
সময়ের কাছে এসে সাক্ষ্য দিয়ে চ'লে যেতে হয়
কী কাজ করেছি আর কী কথা ভেবেছি..........

মনজুরাউল এর ছবি

ধন্যবাদ আপনাকে।
এটা তেমন অসাধারণ আইডিয়া নয়। আমাদের চোখের সামনে হাজারো সাধারণ সব ঘটনা ঘটে এটা তারই একটি মাত্র।

.......................................................................................
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয় যারা মানুষ......

.......................................................................................
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয় যারা মানুষ......

মুজিব মেহদী এর ছবি

অনেক গল্প পড়েই ক্লান্তি লাগে।
এটায় একদম ক্লান্ত হইনি।
ভালো গল্প।
................................................................
জেতা মৎস্য গিলে বকে মনুষ্য খায় বাঘ-ভালুকে
রহস্য বোঝে না লোকে কেবল বলে জয়।
(দীন দ্বিজদাস)

... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ...
কচুরিপানার নিচে জেগে থাকে ক্রন্দনশীলা সব নদী

মনজুরাউল এর ছবি

আপনাকে টান টান রাখতে পারার কৃতিত্ব আমার না, গল্পকে স্পর্শ করার আপনার ক্ষমতার ।

ধন্যবাদ।

.......................................................................................
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয় যারা মানুষ......

.......................................................................................
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয় যারা মানুষ......

খেকশিয়াল এর ছবি

মনজুরাউল অসাধারন লিখসেন, অসাধারন ! নমস্কার আপনারে ।

রিউনোসুকে আকাতাগুয়ার বইটা এক ফ্রেন্ড নিসেরে ভাই, হালারে ফোনেও পাইতেসি না, তবে যদ্দুর মনে পড়ে ঘাস ফুল নদী থেকে কিন্সিলাম মনে হয় বইটা ।

------------------------------
'এই ঘুম চেয়েছিলে বুঝি ?'

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

মনজুরাউল এর ছবি

ঠিকাসে । কালই বিজু হালার মোকামে হানা দেব ।
আপনার নমস্কার ডীপ ফ্রীজে রাইখা দিলাম , এমতে-উমতে ব্যবহার করা যাইব ।

.......................................................................................
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয় যারা মানুষ......

.......................................................................................
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয় যারা মানুষ......

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

ভালো লাগলো...
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

মনজুরাউল এর ছবি

ভাল লাগল আপনাকে ধন্যবাদ দিতেও।
ভাল থাকুন।

.......................................................................................
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয় যারা মানুষ......

.......................................................................................
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয় যারা মানুষ......

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।