ইতিহাস সংরক্ষণ প্রকল্প প্রস্তাব

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি
লিখেছেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর (তারিখ: শনি, ১৯/১২/২০০৯ - ২:৩০অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

১.
আমরা ব্লগ এবং নানান জায়গায় বছরের পর বছর ধরে চিৎকার করেই যাচ্ছি যে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস আমাদের নেই। প্রতিবার সরকার চোখ পাল্টি দেন।

একটা কথা মেঘমুক্ত দিবাকাশে সূর্যের মতোই স্পষ্ট যে সরকারের আশায় বসে থাকলে আমরা জীবনেও আমাদের জাতীয় ইতিহাস পাবো না। সবই হবে দলীয় ইতিহাস।
(শুধু যদি এই দলগুলোর জীবদ্দশা নিয়ে তামাশা চলতো, তাহলেও নাহয় কথা ছিলো, কিন্তু আমরা বিগত জোট সরকারের আমলে দেখেছি বাঙ্গালী সংস্কৃতির ঐতিহ্য ভিন্নধারা দেখাতে আমাদের এই ভূখণ্ডের ইতিহাস নিয়েও তারা নাড়াচাড়া করেছে। মুক্তিযুদ্ধকে দূর্বল প্রমাণ করতে পলাশী যুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে লাফাইতে দেখছি)

তো যাহোক, বিষয়টা এখন একেবারেই স্পষ্ট যে, কোনো সরকার যদি ইতিহাস রচনা করেও দেয়, তাতে নিজেদের কথাই তারা বলবে, দলের কথা বলবে। দেশ আর আমজনতা সেখানে হাকুল্লা।

বেসরকারীভাবে উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব। কিন্তু তার ভবিষ্যত কোনো অংশে কম ভয়াবহ হবে বলে মনে হয় না। দেখা যাবে ১২ খণ্ডের ইতিহাস পুস্তকের নাম 'গ্রামীণ ফোন বাংলাদেশের ইতিহাস' কিংবা 'প্রথম আলো বদলে ফেলো বদলে দাও বাংলাদেশের ইতিহাস'।

ক্ষমা করে দেন ভাই। মাফ চাই।

তাহলে কী হবে? এভাবেই চলবে?

না। আমার মতে, যদি কিছু করতে হয় আমাদেরকেই করতে হবে। আমাদের অনেক শক্তি আছে, অনেক দেশপ্রেম আছে। এই দেশের জন্য আমরা রাত দিন পরিশ্রম করি, কাঁদি, দেশের সামান্য অর্জনে আমরা হাসতে হাসতে ভেউ ভেউ করে কাঁদি।
তাহলে আমরা কেন পারবো না?
আমি নিশ্চিত বলতে চাই, আমাদের দ্বারাই সম্ভব। প্রয়োজন শুধু শক্তিগুলো এক মালায় গাঁথা আর সুন্দর একটা পরিকল্পনা।

২.
একটা দল হয়ে উঠতে পারি আমরা যারা আগ্রহী। ইতিহাস রচনার কাঠামোগত দিকগুলো নিয়ে পড়াশোনা করা সমমনা একজন কাউকে আমরা খুঁজে নিতে পারি আমাদের নির্দেশক হিসেবে। তারপর ধৈর্য্য ধরে, সময় নিয়ে আমরা কাজটা করতে পারি। কাজটা শুরু হবে একেবারে প্রাচীণ আমল থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত। একেকজন একেকটা সেক্টর নিয়ে কাজ করবেন। বা একেকজন একেকটা সময়কাল নিয়ে কাজ করবেন। দায়িত্ব ভাগ করা থাকবে। প্রত্যেকে নিজস্ব ব্যস্ততা আর কাজের অবসরে প্রতিদিন এই কাজটা একটু একটু করে এগিয়ে নেবেন। এভাবেই রচনা করা যাবে একটি পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস।

৩.
ইতিহাস রচনা করবো এটা শুনলেই চোখ কপালে উঠে যাওয়া স্বভাব আমাদের। কিন্তু এটা খুব কঠিন কাজ বলে মনে হয় না আমার। যদি সবাই মিলে হাত দেই। একশজনের বিন্দু দিয়ে গড়ে উঠবে ইতিহাসের সিন্ধু।
উইকিপিডিয়া আমাদের সামনে উদাহরণ হতে পারে। কী বিশাল একটা তথ্য ভাণ্ডার তৈরি হয়ে গেলো।
তাহলে আমরা সবাই মিলে পারবো না কেন?

৪.
অদূর ভবিষ্যতে রেফারেন্স হিসেবে কাগজী পুস্তকের চেয়ে অন্তর্জালই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হবে বলে আমার ধারণা। আর উইকিপিডিয়া ইতোমধ্যেই বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করে ফেলেছে। ফলে আমাদের এই ইতিহাস প্রকল্প একই সঙ্গে উইকিপিডিয়ায় এবং আলাদা একটি ওয়েব সাইটে থাকতে পারে।

৫.
এটা একটা প্রাথমিক প্রস্তাবনা পোস্ট। সকলের অংশগ্রহণ আর মতামত প্রার্থনীয়।


মন্তব্য

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

লাব্বায়েক

তবে কেমনে কি করমু আমারে কইয়া দিতে হইবো...মানে বুঝায়া দিতে হইব আমারে কি কি করতে হইব...বুঝানোর দ্বায়িত্বে গুরুজনেরা থাকবেন...
____________________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ !

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

ভাল প্রস্তাবনা ।

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

আলমগীর এর ছবি

আমি মানিক ভাইরে এই প্রজেক্টের নেতৃত্ব নিতে অনুরোধ করব।

হিমু এর ছবি
আলমগীর এর ছবি

হাসিটা ধরতে পারলাম না।
আমি ঠাট্টা করিনি। আমার জানামতে মানিক ভাই এখানে যথেষ্ট ভাল ইতিহাস জানেন।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

হাসির কারণটা হয়তো ধরতে পারছি। কিন্তু জবাব প্রয়োজন হলে হিমুই দিবে। আমি আমার কথায় আসি।

আলমগীর ভাই...
এখানে সমন্বয়কারী বলতে যা বোঝাতে চেয়েছি তা একটু একাডেমিক। তার ইতিহাস বা তথ্য না জানলেও চলবে। তিনি জানবেন কীভাবে একটা জনপদের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করা যায়, তা কার্যকর করা যায়। কোন পদ্ধতিতে আগানো যায়।
সেই মোতাবেক আমরা অনেকে মিলে তথ্য সংগ্রহের কাজটা করবো।
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

তাসনীম [অতিথি] এর ছবি

ভালো আইডিয়া, existing platform এ কাজ করলে ফল পাওয়ার সম্ভবনা বেশি। আপনার লেখা পড়তে পড়তে wikipedia এর কথা মনে আসছিল, দেখলাম আপনিও তাই লিখেছেন।

বাংলাদেশের মানুষ দারুন ভাবে ইতিহাসবিমুখ, ইতিহাস না থাকলে বোধহয় ভবিষৎও থাকে না। সমস্যাটা কাজের বিশাল পরিধি নয়, সমস্যাটা হল উৎসাহের অভাব, সামগ্রিকভাবে এটা করা সম্ভব।

আরেকটা জিনিস, corporate sponsorship খারাপ কিছু না, যদি তাদের limit করা যায়। wikipedia চালাতেও টাকা লাগে যেটা মূলত আসে আপনার ও আমার মত মানুষের কাছ থেকে। আপনি যেই level এর project এর কথা ভাবছেন সেটা করতে অনেক টাকা লাগবে...স্বেচ্ছাসেবকদের শ্রম ছাড়াও।

নাশতারান এর ছবি

আমার সাধ্যে যতটুকু কুলায় আমি করতে রাজি। ডাক দিলেই হবে।

আমার আরেকটা প্রস্তাব আছে। তা হলঃ এই অকর্মা রাজা-বাদশা-পেয়াদা গুলোকে বস্তাবন্দী করে বঙ্গোপসাগরে ভাসিয়ে দিয়ে নতুন একটা দল গঠন করা যারা আসলেই নিজের দেশকে নিজের তেল-মাখনে পোষা শরীরের চেয়ে বেশি ভালবাসে। কাজটা শুনলে দুঃসাধ্য মনে হয়। কিন্তু এমন কিছু একটার প্রয়োজন অনুভব করি ভীষণ।

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

গৌতম এর ছবি

ভালো প্রস্তাব। আমরা ঠিক এই কাজটাই উইকিতে শুরু করে দিতে পারি। তাতে এক কাজে দুই কাজ হবে- ইতিহাস লেখার পাশাপাশি সাথে সাথে প্রচারও হয়ে গেল।

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শেখ নজরুল এর ছবি

ইতিহাস আপন থেকে নির্মাণ না হলে বিতর্ক থেকেই যায়। তাই হচ্ছে বারবার। ধন্যবাদ লেখাটির জন্য।

শেখ নজরুল

শেখ নজরুল

মাহবুব লীলেন এর ছবি

কারো যদি কোনো আইডিয়া থাকে তবে প্রস্তবটাকে প্লান আকারে আরেকটু পরিষ্কার করা দরকার

আমি নিজে ঠিক বুঝতে পারছি না কোত্থেকে শুরু করা যায়

কারণ ইতিহাস গ্রন্থনা বলতে আমি বুঝি প্রাথমিক উপাদান/তথ্য সংগ্রহ
তারপর যাচাই বাছাই
তারপর গ্রন্থনা

মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক তথ্য/উপাদান সংগ্রহের জন্য মুক্তিযোদ্ধা/সংগঠক এবং সেই সময়ের জেনারেশন একটা বড়ো সোর্স
আরেকটা সোর্স হলো বিচ্ছিন্নভাবে লেখা/বলা স্মৃতিচারণ
প্রকাশিত বই/পত্রিকা/ইন্টারনেট

ঠিক কোনভাবে শুরু করলে কাজটা এগোবে সে বিষয়ে কেউ কোনো আইডিয়া দিতে পারেন?

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

নজু ভাই,

এ-নিয়ে আমার নিজের জানা কয়েকটা উদ্যোগের কথা বলি--

রাগিব ভাই উইকিতে লিখতে বলে চলেছেন অনেক দিন ধরে, হয়ে উঠছে না কিছু। জালাল ভাই তাঁর সংগৃহিত রেফারেন্সের অনুবাদ চাইছেন, হয়ে উঠছে না। হিমু ভাই একটা "Log of a Nation" খুলেছিলেন, সেটাও আগাচ্ছে না। তাঁর ইচ্ছা ছিলো একটা টাইমলাইন তৈরি করা, যেটাতে জিওলোকেশন অনুযায়ী যুদ্ধের প্রতিদিনকার কথা দেখা যাবে।

অনুরোধ থাকবে এই কাজটাকে এই তিন খাতেও প্রবাহিত করার। তিনটা দিকই খুব জরুরী, ঠিক যেমন এই উদ্যোগটাও দরকার।

গতকাল রাতেই হিমু ভাইয়ের সাথে তাঁর প্রস্তাবটা নিয়ে কথা হচ্ছিল। তখন বলছিলাম যে দেশে একটা সাপ্তাহিক এক ঘন্টার টিভি অনুষ্ঠান থাকলেও অনেক কিছু করা যেত। হিমু ভাই বলছিলেন, বলাই দা' নাকি দেশ থেকে দারুণ একটা ভিডিও এনেছেন। সেখানে দেখেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলতে বললেই মানুষ আড়মোড়া ভেঙে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে সেই ইতিহাস বলে। আমাদের এই মানুষগুলোর কাছে যেতে হবে। ব্লগারদের কাছ থেকে ইনপুট আশা করে লাভ নেই খুব একটা।

টিভিতে এ-রকম কোনো অনুষ্ঠান করতে পারেন কিনা দেখবেন? দশ জন অনুলেখক যোগাড় করুন যারা ইউনিকোডে টাইপ করতে জানে। ফটোগ্রাফার রাখুন তিন জন। "আমার উপলব্ধি ও যাতনায় মুক্তিযুদ্ধ" জাতীয় কিছু একটা থাকুক। দর্শকদের বলুন তাঁদের কথা লিখে জানাতে। এই ইতিহাস সংকলিত হওয়ার পর তা অন্য তিন খাতেও দিয়ে দিন, যাতে সবাই জানতে পারে।

এভাবেই এগোনো প্রয়োজন মনে করছি একটা কারণে। যুদ্ধ শুরুর আগে ও পরে লোকজন ব্যস্ত থাকে গা বাঁচাতে এবং ইজ্জতের ভাগীদার হতে। আসল মুক্তিযুদ্ধের কথা তাই অজানাই থেকে যায়।

সাবিহ ওমর এর ছবি

নাসিরুদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু চ্যানেল আইতে এরকম একটা অনুষ্ঠান করেন। নাম বোধহয় মুক্তিযুদ্ধ প্রতিদিন। প্রতি পর্বে একজন মুক্তিযোদ্ধার সাক্ষাৎকার নেয়া হয় আর একটা গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন নিয়ে আলোচনা করা হয়।

রণদীপম বসু এর ছবি

আমি ঠিক বুঝতে পারছি না এমন বিশাল ব্যাপ্তির কাজটা কিভাবে আগাবে।
আচ্ছা এটা কি উইকিপিডিয়াকে ঘিরে আগানো যায় না ? উইকি তো একটা সিস্টেমে চলে এসেছে। এখন কেবল তথ্য সংযোজন। সেটার জন্যেই রাগিব ভাইকে মাঝে মাঝে ভাঙা থালা নিয়ে ভিক্ষা চাইতে নামতে হয় !

বিষয়টা নিয়ে সবাই চিন্তা করতে পারেন। নজু ভাই'র প্রস্তাবের গুরুত্ব হয়তো আগামী এক দশক পরে আমাদেরকে হাড়ে হাড়ে বুঝতে হবে। কোথাও না কোথাও আমাদেরকে সঠিক তথ্য ও ইতিহাস জমা রাখতেই হবে, যদি জাতি হিসেবে সর্বস্বান্ত না হতে হয় !

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

স্বাধীন এর ছবি

নজু ভাই

দারুন প্রস্তাব শুরু করেছেন। রণ'দার সাথে আমি একমত, আমরা উইকিপিডিয়াকে নিয়ে এগুতে পারি এবং সেটাই হবে সবচেয়ে সহজ পথ। আমার মতে, আমরা নিম্নে বর্ণিত পন্থায় এগুতে পারি।

১। সচলে যারা আগ্রহী এই কাজে তাঁদের নিয়ে একটি টিম গঠন করতে পারি। যারা আগ্রহী আওয়াজ দিবেন। একটি আলাদা ব্লগ খোলা হোক শুধু কাজের সমন্বয়ের জন্য। এবং সেটিকে নীড়পাতার খালি কোন জায়গায় ঝুলানো হোক। নাম দেওয়া হোক, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রকল্প বা এই জাতীয় কিছু।

২। ইতিহাস লিপিবদ্ধ আছে এমন বই থেকে আমরা তথ্য সংগ্রহ করে উইকিতে সংযুক্ত করতে পারি। তথ্য যাচাই এর জন্য উইকিতে যুক্ত করার আগে প্রয়োজন মনে করলে সেটি সচলে প্রকাশ করে সেটার উপর মতামত জানতে পারি সকলের।

৩। বইয়ের জন্য এই ই-লাইব্রেরীটি ব্যবহার করতে পারি। এখানে মুক্তি যুদ্ধের উপরে বই আছে। যদি কারো কাছে আরো ভাল রেফারেন্স থেকে থাকে তিনি স্ক্যান করে উক্ত লাইব্রেরীতে দিতে পারেন বা সচলে দিতে পারেন। উক্ত লাইব্রেরীটি উম্মুক্ত সকলের ব্যাবহারের জন্য। শুধু একটি একাউন্ট খুলতে হয়।

৪। আমাদের টিম লীডার হিসেবে একজন দরকার। কেউ এগিয়ে আসলে ভাল হয়। অন্যথায় সকলে মিলে যার নাম প্রস্তাব করবে তিনি হবেন সমন্বয়কারী।

রাগিবের সাথে এ নিয়ে কথা হচ্ছিল। এটা খুবই দুঃখ জনক যে রাগিব এই চার বছরে বার বার বলার সত্বেও কাজ করার মত তেমন সাড়া পায়নি। আমরা সবাই দেশ গড়ার কথা বলি, রাজনীতিবিদদের গালি দিই, কিন্ত যখনি কাজের প্রশ্ন আসে তখন সরে পড়ি। আসুন আর দেরী নয়, এবার সত্যিকার অর্থে কাজে নেমে পড়ি। আমাদের অবহেলার সুযোগে স্বাধীনতা বিরোধীরা তাঁদের মত করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লিখছে এবং যা নুতন প্রজন্ম পড়ে সেটাকেই সত্যি ভাববে।

যারা যারা এই প্রকল্পে কাজ করতে চান আওয়াজ দিন। আগ্রহীদের নিয়ে আলাদা একটি মেইলিং লিস্ট খোলা হোক। অথবা আলাদা একটি ব্লগ খোলা হোক। সেটি নীড়পাতার পাশে ঝোলানো হোক। সেখানে আমরা আমাদের কাজের সমন্বয় করবো।

নজু ভাইকে ধন্যবাদ আবারো এটি শুরু করার জন্য।

শুধু ছাগুদের গালি দিয়ে কাজ শেষ মনে করলে একদিন সেই গালি আপনাকে পরবর্তী প্রজন্মই দিবে তাঁদের কাছে সত্যিকার ইতিহাস না দেওয়ার ব্যার্থতার জন্য।

হিমু এর ছবি

স্বাধীন ভাই, এখানে দেখতে পারেন। সচলেই একবার এ নিয়ে আলাপের প্রেক্ষিতে রাগিব ভাই, বেলায়েত ভাই আর শিক্ষানবিসের সহায়তায় শুরু হয়েছিলো এটি। দেশ ছেড়ে আসার পর আমি কোনো বই সাথে আনিনি, ফলে প্রামাণ্য কোনো কিছু যোগ করতে পারিনি।

আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলি,

১. টিমের প্রয়োজন নেই। অন দ্য স্পার অব দ্য মোমেন্ট লিখতে বসে পড়ুন। লিখে ফেলুন। বানানের ব্যাপারে যত্নবান হোন। প্রয়োজনে কয়েকজন শুধু বানানের কাজ করুন।

২. ঠিকাছে।

৩. ঠিকাছে।

৪. উইকিতে কাজ করলে সমন্বয়ের জন্যে একজনকে বলির পাঁঠা হতে হয় না। যে যখন পরিবর্তন করতে পারবেন, করে দিতে পারেন।

আমার পর্যবেক্ষণঃ

১. ইংরেজি উইকিতে ভুক্তিসংযোগ জরুরি। বড় বড় যুদ্ধাপরাধীদের ওপর ভুক্তিযোগ শুরু করি আসুন।

২. ছবি প্রয়োজন। ফোটোগ্রাফাররা এগিয়ে আসুন।

উইকিতে কাজ করার ব্যাপারে আমার আগ্রহের অভাব ছিলো না কখনোই। মাঝে একটু মনোকষ্টে ভুগেছি যখন দেখেছি সচলায়তনের ওপর করা ভুক্তি ঘ্যাচাং করা হয়েছে, কিন্তু পিজা হাটের ওপর একটি শূন্য ভুক্তি রয়ে গেছে। হায়রে সচল, কবে যে তুই পিজা হাট হবি!

আমি বানান সংশোধনের কাজটা প্রায়ই করি। এছাড়া যখন ইংরেজি বা জার্মান উইকিতে কোনো নতুন জিনিস পাই তখন বাংলায় যোগ করে দিতে চেষ্টা করি। জার্মান উইকিতে কোনো কিছুর তালিকায় বাংলা বা বাংলাদেশ বাদ পড়ে গেলে ঢুকিয়ে দিয়ে আসি।



হাঁটুপানির জলদস্যু আলো দিয়ে লিখি

রাগিব এর ছবি

মুক্তিযুদ্ধের উপরে বিষয়ভিত্তিক উইকিয়া (উইকিপিডিয়া নয়, এটা আলাদা) শুরু করলেও আমি এখন বলবো সবকিছু বাংলা ও ইংরেজি উইকিপিডিয়াতে সরাসরি যোগ করতে। কারণ উইকিয়ার চাইতে উইকিপিডিয়ার গ্রহনযোগ্যতা ও গুরুত্ব অনেক বেশি।

ব্যক্তিগতভাবে নিজেদের উদ্যোগে সাইট করতে গেলে যে পরিমাণ সাংগঠনিক কাজের দরকার হয়, তা অল্প কদিন ধরে রাখা গেলেও পরে আর রাখা সম্ভব হবে না। সেখানে উইকিপিডিয়া বিনামূল্যে একটা সাইট, ভিজিবিলিটি, সব কিছুই দিচ্ছে। আর ছাগু-টেকি কিংবা সরকারীভাবে অন্য সাইট ব্যান করলেও উইকিপিডিয়াকে ব্যান করাটা অনেক কঠিন হবে (যে কয়টি দেশে উইকি ব্যান করা হয়েছিলো, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হইচই পড়ে গেছিলো)।

কাজেই উইকিতেই কাজ করুন। বিশেষ করে ইংরেজি উইকিতে।

আমি চেষ্টা করবো, একটি নিবন্ধ ও কর্মতালিকা এখানে দেয়ার। আসল কথা হলো কাজ করার জন্য প্রস্তুতির চিন্তা না করে কাজ শুরু করে দেয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ। নইলে কাজ অনেক ভেবে আলসেমিতে অনেকেই পিছিয়ে যায় -- দিনে এক ঘণ্টা সময় দেয়ার দরকার নাই, ৫টা মিনিট দিলেই হবে, কাজেই নেমে যাওয়াটাই দরকার বেশি।

--

(বাংলা উইকিতে সচলের ভুক্তিটি মোছার কাজটি আমিই করেছি, সেটা নিয়ে আলোচনাটা এইখানে করতে চাই না। আসলে উল্লেখযোগ্যতার নীতিমালাটি নিরপেক্ষতার খাতিরে উইকিতে ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দ ভুলে গিয়ে আরোপ করতে হয়। এটা নিয়ে আলাপ করতে চাইলে বরং অন্যত্র করা যাক।)
----------------
গণক মিস্তিরি
মায়ানগর, আম্রিকা
ওয়েবসাইট | কুহুকুহু

----------------
গণক মিস্তিরি
জাদুনগর, আম্রিকা
ওয়েবসাইট | শিক্ষক.কম | যন্ত্রগণক.কম

হিমু এর ছবি

ঐ কাজটির যাথার্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলিনি রাগিব ভাই। নিশ্চয়ই কারণ ছিলো বলেই মুছে দিয়েছেন। আশা করি এমন দিন আসবে যেদিন তৃতীয় ব্যক্তি সচলের ওপর ভুক্তি যোগ করবেন, এবং সেটা মোছার আর প্রয়োজন পড়বে না।



হাঁটুপানির জলদস্যু আলো দিয়ে লিখি

স্বাধীন এর ছবি

হিমু

একা কাজ করাই যায়, তবে অনেকে মিলে করলে কম সময়ে বেশি ফল পাওয়া যায়। আর সচলে আশা করি কাজ করার মত লোক অনেক আছে। সেখান হতে দশ ভাগ লোক হলেও বেশ ভাল একটি টিম হতে পারে। আর টিম হলে তাঁর জন্য বলির পাঠা লাগে না, তবে একজন সমন্বয়কারি হলে ভাল হয়। আশা করছি নজরুল ভাই সেই দায়িত্বটি নিবেন।

আর উইকিয়ার থেকে উইকিপিডিয়াই ভাল হবে। আমি চাইবো সরাসরি উইকিপিডিয়াতে ভুক্তি করতে। তাহলে সচলের বানানবিদ গন তুমি, ইশতি, পাঠক'দা দায়িত্ব নাও বানানের। নজরুল ভাই যেমন বলেছেন, একেকটি ভুক্তি তৈরী করে আগে সচলে দেওয়া হোক। সবাই তথ্য যাচাই করে, বানান সংশোধন করে সাহায্য করবে। তারপর সেটা উইকিতে কেউ ভুক্তি করে দিবে। আমি আশা করি সচলগণ এই কাজে সাহায্যে এগিয়ে আসবে।

হিমু এর ছবি

আমি আসলে উইকিয়ায় যোগ করার কথা বলছি না, বলছি এখানে কিছু তথ্য সাজানো আছে, উৎকলন করা যেতে পারে।



হাঁটুপানির জলদস্যু আলো দিয়ে লিখি

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

১.
এই কাজটা নিয়ে যখন ভাবি, তখন কেবল উইকির কথাই ভেবেছি। ফাইনালি এটা উইকিতেই থাকবে। এখানে আলাপ করতে চাচ্ছিলাম প্ল্যানটা নিয়ে, কেউ ভালো কোনো পরামর্শ দিতে পারেন কী না।

আর ভূক্তিগুলো উইকিতে তোলার আগে এখানে আলোচনার জন্য রাখা যায় কী না।
ধরা যাক আমি একটা লেখা তৈরি করলাম মেজর জলিলকে নিয়ে। সেটা এখানে তুলে দিলে সবাই দেখলো। প্রয়োজনীয় সংযোজন বিয়োজন হলো মন্তব্যের কোঠায়, হলো বানানশুদ্ধি। তারপর সেটা উইকিতে তুলে দেওয়া হলো। এবং একই সঙ্গে আলাদা একটা ওয়েব সাইট বানিয়ে সেখানে পূর্ণাঙ্গ ইতিহাসটা লটকে দেওয়া হলো।

২.
আমি আসলে শুধু মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের কথা ভাবিনি। ভেবেছি এই জনপদের ইতিহাসের কথা। এই জাতির ইতিহাসের কথা। শুরু করতে হবে একেবারে প্রাচীণ আমল থেকে। মূলত বই রেফারেন্স ইত্যাদি ঘেঁটে এই কাজটা করা হবে।

৩.
একজন সমন্বয়কারীর প্রয়োজনের কথা বলেছিলাম পদ্ধতিগত দিকগুলোর কথা ভেবে। ইতিহাস চর্চার নতুন কিছু টার্ম এখন বেশি জনপ্রিয় এবং কার্যকর। সাব অলটার্ন স্টাডির কথা জানি। এসব বিষয়ে ভালো ধারণা রাখেন এমন কাউকে খুঁজছিলাম।

৪.
প্ল্যান বলতে ভাবছিলাম সবাই মিলে একটা তালিকা তৈরি করা। কোন কোন বিষয়ে আমরা কাজ করবো?
ইতিহাস শুধু ব্যক্তি জীবনী দিয়ে হবে না। একটা জনপদের ভৌগলিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক নানান দিক মিলিয়ে ইতিহাস তৈরি হয়। আমি চাচ্ছিলাম এই জায়গাগুলো আমরা প্রথমে ঠিক করে নেই। সেক্টরগুলো ভাগ হয়ে গেলে একেকজন একেকটা সেক্টর নিয়ে কাজ শুরু করলো। সেগুলোর থাকবে সাব সেক্টর।
যদি ধরি মুক্তিযুদ্ধ- এর অনেকগুলো পার্ট আছে। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা, সাধারণ মানুষ, গণহত্যা, শরণার্থী শিবির, বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড, রাজাকার আল-বদর, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অসহযোগিতা এসব হাজারটা বিষয় আছে। সবাই মিলে একদিকে ধাবিত না হয়ে, কর্মতালিকা করে একেকটা গ্রুপ একেকটা বিষয় নিয়ে কাজ করতো।

৫.
কাজটা শুরু থেকে শেষ সবই উইকিতেই করা সম্ভব। কিন্তু তাহলে এখানে কেন এই প্রস্তাবনা?
মূল কারণ একটা পরিকল্পনা করে এগুনো।
ধরা যাক ব্যক্তি আমি আজকে আধাঘন্টা সময় পেলাম, উইকিতে গিয়ে একটা যে কোনো ভূক্তি সংশোধন করে দিয়ে আসলাম। এসব ক্ষেত্রে দেখা যায় বেশিরভাগ সময় জনপ্রিয় আর সহজলভ্য তথ্য আছে এমন বিষয়গুলো নিয়েই কাজ হয় বেশি। অনেক বিষয় তাই আড়ালেই থেকে যায়। আর এই যে অনেক কিছু আড়ালে থেকে গেলো, সেটাও টের পাওয়া যায় না। সেজন্যই এই প্রস্তাব ছিলো। যে পরিকল্পনা করে গোটা ব্যাপারটা নিয়ে আগানো। যাতে কোনো কিছু বাদ না থাকে।

৬.
একটা উদাহরণ দেই এই সচল থেকেই। বাংলাদেশের ফুল নিয়ে একটা কাজ শুরু করেছিলেন পাণ্ডবদা। ফুল নিয়ে সবাইকে নিজের মতো কাজ করতে যদি বলেন, তাহলে দেখা যাবে সবাই গোলাপ রজনীগন্ধা বেলী শাপলা এবং এরকম প্রচলিত কিছু ফুল নিয়েই কাজ করছেন কেবল। কারণ এগুলো হাতের কাছে আছে। অন্য আরো ফুল যে আছে এই বাংলায় তা কেউ জানতোই না।
পাণ্ডবদা জ্ঞানী মানুষ, প্রথমেই এখানে সেখানে ঘেঁটে বিশাল একটা তালিকা ঝুলিয়ে দিলেন সচলে। এমন এমন সব ফুলের নাম, যেগুলো জীবনেও শুনিনি।
কাজটা হয়নি। কিন্তু পদ্ধতিটা ভালো ছিলো। যদি একটা দল করে একেকজন একেকটা ফুল নিয়ে লেখা আর ছবি তোলার দায়িত্ব নিতেন। তাহলে কাজটা হতো।

৭.
এখানে আসলে সেরকম দুটো তালিকাই করতে চেয়েছিলাম। একটা তালিকা কাজের, আরেকটা তালিকা কর্মীর। তারপর কাজ ভাগ বাটোয়ারা করে দেওয়া। গুঁতিয়ে কাজ আদায় করার কাজটা আমি খুব ভালো পারি। তাই কেউ কোনো কাজের দায়িত্ব একবার নিয়ে নিলে তার কাছ থেকে কাজটা আদায়ের দায়িত্ব আমি নিতাম।

৮.
মূলত এই ছিলো আমার ভাবনা।
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

গৌতম এর ছবি

একমত। সাথে আছি। পুরো বিষয়টা আপনিই কোঅর্ডিনেট করেন। আমরা লাঠিয়ালবাহিনী আছি আপনার পেছনে।

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

চিন্তা করে দেখলাম ইন্টারনেটে প্রচুর সময় আমি ব্যয় করি। যার অধিকাংশই আসলে অকাজে। সচলে আমার শতাধিক পোস্ট। সেখানে কাজের কিছু নাই। খালি আজাইরা।
তাই ভাবছি এসব আগডুম বাগডুম বাদ দিয়ে কাজ করবো এই বিষয়টা নিয়েই। এই কাজটা আসলে অনেক আগেই আমি শুরু করতে চাইছিলাম। আপনার সাবেক কলিগ দেবাশীষ কাকনরে সাথে নিয়া। কিন্তু সে ব্যস্ততায় কর্পূরের মতো উবে গেলো। তাই এখন সচলদের কান্ধে চাপছি।

এটা হলো প্রাথমিক পোস্ট। এবিষয়ে আমি নিজে একটু পড়াশোনা করছি। চলছে। অনধিক ১৫ দিনের মধ্যে একটা আপডেট পোস্ট দিতে পারবো আশাকরি...

ধন্যবাদ আপনাকে
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

গৌতম এর ছবি

সমন্বয়করণের জন্য তেমন পড়ালেখার আসলে দরকার নাই। কাজ শুরু করার আগে যারা যারা করতে আগ্রহী, তারা মিলে একবার বসে কিছু প্রাথমিক আলোচনা সেরে নেয়া যেতে পারে। আমাদের অনেকেরই এসব বিষয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। সুতরাং এটার জন্য আলাদা সময়ক্ষেপণের দরকার নেই। যারা জানি না, তারাও কাজ করতে করতে জেনে নিবো।

২৫ তারিখে সচলাড্ডা হবে। সেখানে একটা কাজ করা যেতে পারে- কীভাবে কী করা যায় বা কী করতে চাই, সে বিষয়ে একটা ধারণা সবার কাছে তুলে ধরা যেতে পারে। উপস্থিত সবার মতামত এক্ষেত্রে বেশ কাজে দিবে।

××× নায়িকাদের বক্ষলগ্ন (পড়ুন বাহুলগ্ন) থেকে সরিয়ে এ কাজে সম্পৃক্ত করার দায়িত্ব আমার। কিন্তু তার জন্য কাজ নির্দিষ্ট করে দিতে হবে।

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

রাগিব এর ছবি

২৫ তারিখের আড্ডার আগেই উইকিযুদ্ধের কর্মতালিকার ১ম কিস্তি টাঙিয়ে দিবো এখানে। খসড়া লিখেছি, কিন্তু ভূমিকার প্যাচাল বেশি লেখাতে কাল আরেকটু সম্পাদনা করে আর কাজের কিছু তালিকা দিয়ে এখানে পোস্ট দিবো।

----------------
গণক মিস্তিরি
মায়ানগর, আম্রিকা
ওয়েবসাইট | কুহুকুহু

----------------
গণক মিস্তিরি
জাদুনগর, আম্রিকা
ওয়েবসাইট | শিক্ষক.কম | যন্ত্রগণক.কম

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

কাজ অনেকটাই এগিয়ে গেলো। অনেক ধন্যবাদ রাগিব ভাই। ১ম কিস্তির অপেক্ষায় রইলাম
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

স্বাধীন এর ছবি

সাথে আছি।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

ব্যাপারটা অনেকটা এরকম যে একটা বই প্রকাশ হবে, আগে সূচীপত্রটা ঠিক করে নেওয়া। তারপর লেখকের কান্ধে চাপা, কে কোনটা লিখবে। সূচিপত্রটা ঠিক হয়ে গেলেই অনেক কাজ হয়ে যেতো। শুধু সচলদেরই লিখতে হবে এমন না। অন্য যোগ্য লোকদের দিয়েও কিছু কিছু লেখানো যেতো।
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

মৃদুল আহমেদ এর ছবি

হুমম। আমি কিছু লেখার কাজে সহযোগিতা দিতে রাজি আছি। সময় নিয়ে আমাকে ঝাড়ি দেয়া যাবে না এই শর্তে। কারণ আমি মাটি থেকে আচমকাই নিজের অলক্ষ্যে শূন্যে ভাসতে শুরু করি।
এই ভালো এবং জরুরি কাজটার সাথে থাকতে চাই।
--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

মাহবুব লীলেন এর ছবি

একটা আইডিয়া মাথায় এলো
আমরা শুরু করতে পারি সচল থেকেই
সচলে যদি এরকম একটা থ্রেড বা বিশেষ ক্যাটাগরি খোলা হয় যেখানে আমরা প্রত্যেকের জানা/ সংগ্রহ করা প্রাথমিক তথ্যগুলো রাখবো
(সম্পূর্ণ না হলেও আংশিক এমনকি সূচি আকারে)

তারপর কয়েকটা জমে গেলে সেগুলো সেগুলো একটা দুটা করে বাছাই করে উইকিতে দেবো বাংলা কিংবা ইংরেজিতে

একটা তথ্য যাচাই বাছাই হয়ে গেলে; সচলে অনেকেই আছেন যারা এগুলো অনুবাদ এবং ছবি সংযোজনের কাজ করতে পারেন

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়; গত কযেকদিন আগে দেয়া মুস্তাফিজ ভাইয়ের (প্রথম দেখা মুক্তিযোদ্ধা) এটা হতে পারে একটা প্রাথমিক তথ্য

এটাকে যাচাই বাছাই করলে। এবং ল্যাঙুয়েজ ঠিকঠাক করে সাজালে মুক্তিযুদ্ধ ইতিহাসের একটা উপাদান দাঁড়াবে
এটাকে ধরেই হয়ত মুক্তিযুদ্ধে ময়মনসিংহ; এরকম আরো বিস্তৃত জায়গায় চরে যাওয়া যাবে

হিমু এর ছবি

উইকিতে রেফারেন্সের কানুন বেশ কঠোর। লোকমুখে শোনা কথা সেখানে যোগ করলে আজমছানারা এসে চ্যালেঞ্জ করবে। পত্রিকা আর বইতে প্রকাশিত তথ্য লাগবে রেফারেন্স হিসেবে।



হাঁটুপানির জলদস্যু আলো দিয়ে লিখি

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

একটা বিষয় জানতে চাই, বই আর পত্রিকা সবসময় রেফারেন্স হিসেবে ঠিক? অনেক আজেবাজে ভুল কথা নিয়া বই আছে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে। ভুল তথ্য ছাপা হইছে বহুবার পত্রিকায়। সেগুলো রেফারেন্স?
আমরা ৭১ সালের দৈনিক সংগ্রামের লেখারে রেফারেন্স ভাবতেছি। আবার এই একই পত্রিকার এখনকার লেখারেও কি রেফারেন্স ভাববো? তাইলে তো বিপদ!
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

গৌতম এর ছবি

মুক্তিযুদ্ধে দৈনিক সংগ্রামের ভূমিকা নিয়ে আলী আকবর টাবীর একটা বই আছে। সংগ্রহের চেষ্টা করছি। বইটা সংগ্রহ করা গেলে ওই সময়ে দৈনিক সংগ্রামের ভূমিকা-সম্পর্কিত রেফারেন্স নিয়ে ভাবতে হবে না।

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

আহমেদুর রশীদ এর ছবি

সম্মিলিত রচনাগুলো/তথ্যগুলোকে যদি বইয়ের মতো করে সাজানো যায়, তাহলে এই বইটি আমি নিজ দাযিত্বে প্রকাশ করতে আগ্রহী।

---------------------------------------------------------

ঘাস তুমি ঘাসের মতো থাকো মাটি ছুঁয়ে
যে দেখার সে নতজানু হয়ে ছুঁবে তোমার আঙুল
অবরুদ্ধ মাঠ থেকে তুমি লাফিয়ে নেমোনা প্লিজ পাথরের পথে
________________________________________
http://ahmedurrashid.

---------------------------------------------------------

ঘাস তুমি ঘাসের মতো থাকো মাটি ছুঁয়ে
যে দেখার সে নতজানু হয়ে ছুঁবে তোমার আঙুল
অবরুদ্ধ মাঠ থেকে তুমি লাফিয়ে নেমোনা প্লিজ পাথরের পথে
________________________________________
http://ahmedurrashid.

সচল জাহিদ এর ছবি

সাথে আছি, শুধু বলে দিলেই হবে কি করতে হবে।

----------------------------------------------------------------------------
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

সাবিহ ওমর এর ছবি

আমি উইকিপ্রজেক্ট সম্পর্কে ভাল জানিনা, তবে মনে হয় এবিষয়ক একটা উইকিপ্রজেক্ট থাকলে মন্দ হয় না। নিদেনপক্ষে উইকিপ্রজেক্ট বাংলাদেশের নোটিসবোর্ড জাতীয় জিনিসগুলা ব্যবহার করা যায়। আমি অলস এবং চঞ্চলমতি মানুষ, সবকিছু এক জায়গায় থাকলে স্বস্তি পাই।

একমাত্র সমস্যা হচ্ছে, আমরা উইকিতে যাই করি না কেন, নাতিছাগু প্রথমদিন থেকেই সেখানে জুটে যাবে, আমরা যোগ দেবার আগেই। তবে আমরা নানাছাগু ঠ্যাংগানো মানুষজনের ছেলেমেয়ে, নাতিকে ভয় করলে চলবে কেন?

রানা মেহের এর ছবি

এই লেখাগুলোয় মন্তব্য করতে লজ্জ্বা লাগে
কিছুই করতে পারিনা ব্যস্ততার জন্য।
তারপরো কোন কাজে লাগলে বলবেন
-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

রণদীপম বসু এর ছবি

এবার মনে হচ্ছে কাজটা আগানোর একটা উপায় বেরিয়ে যাচ্ছে ! আমি অত্যন্ত আশাবাদী মানুষ। নৈরাশ্যবাদিতাকে পছন্দ করি না, যদিও মাঝে মাঝে ঘটনাচক্রে নৈরাশ্য কাঁধে ভর করতে চায়। কিন্তু এরকম সতেজ সপ্রাণ বন্ধুরা থাকলে এই বাংলায় অসম্ভব কিছু থাকতেই পারে না।

আমড়া কাঠের ঢেকি আমার দ্বারা হয়তো কোন সাধন হবে না। তবে এসব কাজে সবসময় সাথে আছি। কারণ বুকের খুব গোপনে একটা চিতা এখনো দাউ দাউ করে জ্বলে !

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

হবে, আপনারে দিয়া অনেক কাজ হবে। একটু সবুর করেন, রাগিব ভাই শুধু তালিকাটা লটকাক। তারপর আপনে লেখা শুরু করে দেন।
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

সাবিহ ওমর এর ছবি

আমড়া কাঠের চিতা মনে হৈতেসে কঠিন জিনিস দেঁতো হাসি

তানবীরা এর ছবি

এরচেয়ে ভালো প্রস্তাব কিছু হতে পারে না। যদি কিছু করতে পারি জানাবেন।
*******************************************
পদে পদে ভুলভ্রান্তি অথচ জীবন তারচেয়ে বড় ঢের ঢের বড়

*******************************************
পদে পদে ভুলভ্রান্তি অথচ জীবন তারচেয়ে বড় ঢের ঢের বড়

অতিথি লেখক এর ছবি

যাদের সময় নাই, কিন্তু তথ্য আছে তারা আমাকে দিতে পারেন, আমি সেগুলোকে আপনাদের পক্ষ থেকে লিপিবদ্ধ করে দেয়ার দায়িত্ব নিতে পারি। আমার সত্যিকার অর্থেই কোন কাজ নাই।।

--- নীল ভূত।

গৌতম এর ছবি

নেই নেই করেও মুক্তিযুদ্ধের ওপর কিন্তু প্রচুর বই প্রকাশিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে গেলেই এসব বইয়ের সন্ধান মিলবে- যদিও সেগুলো রাখা হয়েছে বিক্রির জন্য। সেগুলোকে কেন্দ্র করে যদি কাজ শুরু করা যায়, তাহলেও অনেক কাজের সুযোগ রয়েছে। সেক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরকে অ্যাপ্রোচ করলে তারা হয়তো স্ক্যান বা টাইপ করার জন্য বই ধার দিতে পারে।

এই বইগুলো প্রকাশিত হয়েছে নানা জায়গা থেকে। বিশেষ করে জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের লেখক-মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকেই তাদের নিজস্ব ভাষা ও বয়ানে মুক্তিযুদ্ধের কথা, তাঁদের যুদ্ধের কথা লিখেছেন। এই যেমন- এই মুহূর্তে আমার হাতে আছে 'রাজবাড়ীর মুক্তিযুদ্ধ' বইটি। বেশ মোটা বই। সূত্র হিসেবে এগুলো বেশ কাজে আসতে পারে।

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

হিমু এর ছবি

দু'জন সচলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

ধূসর গোধূলি, তুই আবদুল্লাহ আল ফারুকের ভুক্তিটার দায়িত্ব নে।

ষষ্ঠ পাণ্ডবদা, আপনি কাজী হাবিব উদ্দিন আহম্মেদের ভুক্তিটার দায়িত্ব নিন।

আপনারা দুজন এঁদের ব্যক্তিগতভাবে চেনেন বলে অনুরোধ করা।



হাঁটুপানির জলদস্যু আলো দিয়ে লিখি

রাগিব এর ছবি

উইকিযুদ্ধ - মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লেখার সমবেত প্রয়াস (১ম পর্ব)

তালিকা শুরু করলাম, আস্তে আস্তে আপডেট করা হবে। আপাতত এই কয়টি ভুক্তির কাজ শুরু করে দিন।

----------------
গণক মিস্তিরি
মায়ানগর, আম্রিকা
ওয়েবসাইট | কুহুকুহু

----------------
গণক মিস্তিরি
জাদুনগর, আম্রিকা
ওয়েবসাইট | শিক্ষক.কম | যন্ত্রগণক.কম

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।