মন পবনের নাও- ০৬

নিবিড় এর ছবি
লিখেছেন নিবিড় (তারিখ: শুক্র, ২৪/০৭/২০০৯ - ৯:১৬অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

০।
পরীক্ষা মানেই আমার জন্য যন্ত্রণা, পরীক্ষা মানেই গঞ্জনা। তাই সুন্দর এই ছুটির সকালেও বসতে হল পরীক্ষার হলে। বসেই বুঝে গেলাম, যা বুঝার তা ঠিকি বুঝে গেলাম। তবে ব্যাপারটা যে এইভাবে বুঝতে হবে তা ঠিক বুঝে উঠতে পারি নাই। বুঝা না বুঝার ঘোর কাটতে কাটতেই একটা বাঁশ নিশ্চিত বরাদ্দ হয়ে গেল আমার নামে। কিন্তু সমস্যাটা আসলে সেইখানে না, সমস্যা আসলে অন্যখানে।

আমি আসলে এমন একটা ছাত্র যাকে কিনা আপনি ক্লাসে দাড় করিয়ে কোন প্রশ্ন করার পর উত্তর শুনলে নিশ্চিত ভাববেন- এই ছেলে কি আমার সাথে ফাইজলামী করে নাকি অথবা এই গাধা এই ক্লাসে আসল কোথা থেকে? তবে প্রতি বছর কিভাবে কিভাবে যেন আমার একটা করে সাবজেক্ট খুব পছন্দ হয়ে যায়। আর অন্য যে সাবজেক্টে যেমন করি না কেন এই পছন্দের সাবজেক্ট গুলাতে কেমনে কেমনে জানি খুব একটা খারাপ নাম্বার আসে না। তো এইবারের এই রকম ভালবাসার সাবজেক্টের নাম বাংলায় বললে দাঁড়ায়- সামাজিক পরিবর্তন এবং উন্নয়ন, প্রেক্ষিত বাংলাদেশ। তো এই সাবজেক্টের স্যার পড়াতে পড়াতে বার বার বাংলাদেশের মানুষের মনমানসিকতার যে কি নিদারুন উন্নয়ন দরকার তা বুঝাতে দারুন সচেষ্ট থাকেন। উদাহারণ হিসেবে নিজেকে টেনে এনে তিনি বারবার বলেন- আমি একজন আধুনিক মানুষ তাই ট্রেডিশনাল প্রশ্নের ধার ধারি না। মনের খুশিতে তাই আমরাও বাকবাকুম করি- সাবাস, এইবার আর নোটফোট ফটোকপি করতে করতে টাকা গচ্চা যাবে না। পরীক্ষার আগে যারা ট্রেডিশনাল নোট পড়ে তাদের দিকে তাকিয়ে মিচকা হাসি দিই কিন্তু শেষ হাসি আর আমাদের থাকে না। তাই পরীক্ষার হলে ঢুকেই বলি ধূর্বাল, কিসের কি। শালা পুরা দুনিয়া টা ট্রেডিশনাল, পুরা ট্রেডিশনাল।

০১।
বিপ্লব ভাই দেখি ঐদিন একব্লগে লিখে রেখেছেন “ক্ষুদে” সচল নিবিড়, বুঝেন অবস্থা! অবশ্য বিপ্লব ভাইকে দোষ দিয়ে লাভ নাই কারণ নিজেকে নিয়ে নিজেই মাঝে মাঝে সন্দেহে পড়ে যাই। আসেন তাইলে অনেকগুলা ঘটনার ভিতর থেকে একটা ঘটনা শুনি। এই ধরেন মাস দেড়েক কি দুয়েক আগের কথা। ডিপার্টমেন্টের সেমিনারে বসে আছি। আমি আর লাইব্রেরিয়ান আবুল ভাই ছাড়া ভিতরে আর কেও নেই। ফার্স্ট ইয়ারের একটা পুরান বই কোন কারণ ছাড়াই এমনি এমনি নাড়াচাড়া করছি। এই সময় দেখি ভিতরে একদল বালিকার প্রবেশ। বালিকা দল দেখি সেমিনারে ভিতরে বইপত্র নাড়াচাড়া করতে করতে একদম আমার পাশের কয়েকটা সিট দখল করে বসল। বালিকারা আমাকে ভালা পায় না। তাই পুরা সেমিনার খালি থাকলেও আমার পাশের সিট গুলা দখল করার মাজেজা উদ্ধারে ব্যস্ত আমি তখন গভীর মনযোগে বইয়ের দিকে তাকিয়ে আছি।

বইয়ের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে বালিকাদের কথোপকথনে বুঝতে পারি এরা একদম নতুন, ফার্স্ট ইয়ার। নানা কথা বলতে বলতে হঠাত বালিকাদের মাঝ থেকে একজন আমাকে উদ্দেশ্য করে বলে- তুমি তো ভালই পড়াশুনা কর, ক্লাস শেষে সেমিনারে এসেই রেফারেন্স বই খুজে বের করে ফেলেছ। আচ্ছা তুমি স্যারের ক্লাস বুঝতে পারছ? প্রশ্ন থেকেও বেশী অবাক হলাম একটা অপরিচিত পুচকে মেয়ে আমাকে তুমি করে বলায়। তাই অবাক হয়েই প্রশ্ন করলাম- কোন স্যারের কথা বলছ? উত্তর শুনেই বুঝলাম কোন একটা ঘাপলা হয়েছে। কারণ এই স্যার তো আমাদের ক্লাস নেয় না। তাই এইবার উত্তর দিলাম- আমি মনে হয় তোমাদের সিনিয়র। অনেক আগেই ফার্স্ট ইয়ার পেরিয়ে এসেছি। এইবার বালিকাদের সম্মলিত লজ্জিত উত্তর- স্যরি ভাইয়া, আমরা আপনাকে দেখে বুঝতে পারি নাই তার উপর হাতের বইটা। এক মহান মনীষী বলে গেছেন বালিকাদের সাথে সবসময় হাসি মুখে কথা বলতে। তাই মুখে একটা হাসি ঝুলিয়ে বলি- না ঠিক আছে। পড়াশুনায় কোন সমস্যা হলে আমাকে বলবা। আর মনে মনে বলি- হায় বালিকারা যদি জানত বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদিত বয়সে বিয়ে করলে আমার এখন মাস তিনেক বয়সী একটা সুসন্তান থাকত।

০২।
গত দিন আট-দশেক আগে রাত প্রায় নয়টার দিকে একটা ফোন আসল আমার মোবাইলে। ফোন ধরে হ্যালো বলতেই ওপাশ থেকে একটা ভরাট গম্ভীর গলা বলল- হ্যালো কে? নিবিড় নাকি? একটু চমকে পালটা প্রশ্ন করলাম- জ্বী, কে আপনি? উত্তর এল- সেলিম স্যার। আহা সেই পুরান দিন। কত কথা, কত গল্প, কত্ত ফাঁকিবাজি, সেই খয়েরী মলাটের পুরান বাংলা বই আর সেই সেলিম স্যার।

আগেই বলেছি ছাত্র হিসেবে আমি কতটা দারুণ! তাই টেস্টের পর বা প্রি টেস্টের পর একমাস বন্ধের সময় সেলিম স্যার পড়াতে এসে যখন খয়েরী মলাটের বইটা বার দুয়েক উলটে দেখলেন তখন অবাক স্বরে প্রশ্ন না করে পাড়েন নি। আচ্ছা সত্যি করে বলত এই বইটা তুমি কয়বার পড়েছ। সত্য সত্য উত্তর দিলাম পুরা বইটা একবারো পড়ি নাই। সেই থেকে শুরু আমাদের ইদুর বিড়াল খেলা। স্যার প্রতিদিন কত কত পড়া দেন আর আমি প্রতিদিন খুজে খুজে না পড়ার একটা উছিলা আবিষ্কার করি। স্যার বিরক্ত হন কিন্তু কিছুই বলেন না বরং শাস্তি হিসেবে আর বেশী পড়া দিয়ে যান। কারণ খুজতে খুজতে বিরক্ত আমিও তাই একসময় পড়াগুলা শিখতে থাকি। স্যার এইবারো ভালমন্দ কিছু বলেন না, কারণ স্যার মানুষটা আসলে অন্যরকম। পড়াশুনার ব্যাপারে দারুন সিরিয়াস স্যার তাই আমাকে ফোনে খুটিয়ে খুটিয়ে প্রশ্ন করেন- লাইব্রেরীতে নিয়মিত যাই কিনা, ইউনীর রেজাল্টের কি অবস্থা?? লজ্জায় সব না বোধক উত্তর দিয়ে যাই।

মাঝে আমরা সবাই বোধহয় একা বোধ করি। আমিও করি মাঝে মাঝে। তখন চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে আমাকে কেও ভালবাসে না, কেও ভালবাসে না আমাকে। নাগরিক বিষণ্ণতায় আক্রান্ত সেই সময়টায় সবকিছু দারুন অসহ্য লাগে। কিন্তু চারপাশের এই ছোট্ট ছোট্ট ভালবাসা গুলো কিভাবে যেন ভুলে যাই। ভুলে যাই আমি বারবার স্যারের নাম্বার হারিয়ে ফেলার পরও স্যার ঠিকি আমার ফোন নাম্বার জোগাড় করে ফেলেন। হঠাৎ হঠাৎ আচমকা ফোন দিয়ে গম্ভীর স্বরে বলেন- কি নিবিড়, খবর কী? আসলে হয়ত স্যার বুঝতে পারেন না এই ভালবাসার যোগ্য আমি নই।

০৩।
পাঠক দা সচল নিয়ে একটা লেখা দিয়েছেন দেখলাম। সেইখানে নতুন অতিথি লেখকদের লেখায় কম হিট হওয়া নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে দেখলাম। এই ব্যাপারে অনেক আগের একটা লেখা ছিল কার জানি, সেইখানে বিগ সি অতিথি সচলদের জন্য দারুন কিছু উপদেশ দিয়েছিলেন। তবে আমার অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি এইখানে অবশ্য নানা রকম ব্যাপার আছে। একটা কবিতা বা প্রবদ্ধের পাঠক স্বভাবতই কম হবে আবার গল্পের তুলনায় দিনলিপি টাইপ লেখা গুলায় হিট হয় বেশী। আর একজন লেখক যখন নতুন লেখা শুরু করেন তখন তিনি প্রায় সবার চোখে অজানা থাকেন। তার লেখার মান বা বিষয় নির্বাচনের ব্যাপারে অন্যরা থাকেন অজ্ঞাত। মানুষ সাধারণত পরিচিত পথে হাঠতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে তাই অতিথি লেখকদের লেখায় হিটের সংখ্যা একটু কম থাকবেই। আর সেইজন্য নতুন লেখকদের মনে রাখা উচিত তার জন্য প্রত্যেক লেখাই একটা নতুন সুযোগ, নতুন কিছু পাঠক তৈরি করার সুযোগ। আমি আসলে প্রত্যেকবার লেখার সময় চাইতাম এমন একটা লেখা দিতে যাতে অন্তত পাঁচ জন পাঠক তৈরি হয় যারা কিনা পরেরবার আমার লেখা দেখলে অন্তত একবার ঢুঁ মারবেই। অন্তত এইটুকু মান বজায় রাখা গেলে আস্তে আস্তে একটা পাঠক বলয় তৈরি হবেই। যাই হোক অনেক কথা বললাম এই ব্যাপারে। আসলে সচলের বাইরের একজন সচলের এই ব্যাপার টা নিয়ে একটা মন্তব্য করেছিলেন তাকে উত্তরটা লেখায় মাঝেই দিয়ে দিলাম।

০৪।
কত লেখায় তো আমরা পড়ি। সব কি আমাদের মাঝে দাগ কেটে যায়? দাগ কেটে যাওয়া সব লেখাই কি বড় বড় লেখকদের লেখা? নাকি দাগ কেটে যাওয়া সব লেখা দারুন শিল্প গুণ সমৃদ্ধ? তবে আমার মনে হয় কখন কি পরিস্থিতিতে লেখাটা পড়ছি সেই ব্যাপারটাও মনে দাগ কাটার জন্য অত্যন্ত গূরত্বপূর্ণ। তাই অনেক সময় অনেক খেলো লেখাও মনের ভিতর টোকা দিয়ে যায় অনেকদিন। যেমন দিয়েছিল জন গ্রিশামের প্লেয়িং ফর দ্যা পিজা।

একবার বেশ কিছুদিন আগে দারুন মন খারাপ। নাগরিক বিষণ্ণতা না, আসল মন খারাপ। অবসর সময়ে নানা রকম কাজ করার চেষ্টা করি। এইরকম একটা ব্যাপারে অংশ নিতে গিয়ে দেখি সেইখানে কাজের থেকে পলিটিক্স বেশী। সব কাজকারবার দেখে আমি দারুন হতাশ হয়ে গেলাম। ভাবলাম আর মানব সেবার দরকার নাই। কি লাভ এইসব করে? তখন এইরকম সব কাজকারবার ছেড়ে-ছুড়ে বাসায় বসে থাকি। ভাল ছাত্রের মত ক্লাস থেকে বাসায় আসি আর বাসা থেকে ক্লাসে যাই। সেই সময় হাতে পড়ল প্লেয়িং ফর দ্যা পিজা। গল্পের নায়ক অ্যামিরিকান ফুটবল লীগের এক প্লেয়ার। গূরত্বপূর্ণ এক খেলায় হাস্যকর এক ভুল করে জাতীয় ভিলেনে পরিণত হয় বেচারা, হারায় টীমে খেলার কন্ট্রাক্ট। এইসময় বেচার ধাতস্থ হতে হাজির হয় ইতালীতে, পারামায়। সেইখানের অপেশাদার লীগে হাজির হয় পারমা প্যান্থারস এর হয়ে। আর এইখানেই শুরু হয় মূল গল্প। যাবতীয় গ্রিশামীয় থ্রিলারের মাঝে বই এগিয়ে যায় সামনে। আর এর মাঝে নায়ক বুঝতে পারে কোন কাজ করার সময় আসল ব্যাপার হল সেই ব্যাপারটা উপভোগ করা, সেইখানে অর্থ পরের ব্যাপার। আর এই কথাটাই কিভাবে যেন আমার মাথার ভিতর গেথে যায়। তাই ঠিক করি কে কি করল সেইটা চিন্তা করে লাভ নাই আসল ব্যাপার হল আমি কাজটা করতে ভালবাসি। আর এইটাই একমাত্র সত্য। তাই গ্রিশামের এই উপন্যাসটা মাথার ভিতর এখনো কিভাবে যেন টোকা দেয়, যখন কিছু করতে ইচ্ছে করে না তখন।

০০।
গত কয়েকদিন ধরে কম্পুতে একটা গান বেজেই চলছে। সঞ্জীব চৌধুরীর একটা গান ছিল- হাতের উপর হাতের পরশ রবে না। সেই গানটা কামরুজ্জামান কামু তার ডিরেক্টর সিনেমার জন্য আবার নিজ গলায় গেয়েছেন। কামরুল ভাইয়ের থেকে গানটার খোঁজ পাওয়ার পর জিহাদ মিয়া থেকে গানটা নিলাম। এর পর থেকে কম্পুতে দিন রাত খালি এই গানটাই বাজছে। মাথার ভিতর খালি ঘুরছে- হাতের উপর হাতের পরশ রবে না......... আমার বন্ধু আমার তুমি রবে না..................... আমায় তুমি বাসবে ভালো কিন্তু আমার তুমি রবে না। আচ্ছা, বাস্তব থেকে কি গান হয়? নাকি মাঝে মাঝে গানের কথাগুলো বাস্তব হয়ে যায়?


মন্তব্য

মূলত পাঠক এর ছবি

বাঃ, ভালো লাগলো! গানটার লিঙ্ক পাওয়া যায়?

নিবিড় এর ছবি

সঞ্জীব চৌধুরীর গাওয়া গানটার লিংক সম্ভবত আছে তবে মনে হয় না কামরুজ্জামান কামুর গাওয়া ভার্সনটার কোন লিংক পাওয়া যাবে। তবে চাইলে বলতে পারেন মেইলে পাঠিয়ে দিব।


মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় ।

আহমেদুর রশীদ [অতিথি] এর ছবি

হিট লেখা।
গানের লিংকটা একটু দাও না ভাই।

নিবিড় এর ছবি

হে হে, হিট লেখা বলছেন তাইলে হাসি
লিংক নাইরে ভাই মন খারাপ


মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় ।

তানবীরা এর ছবি

আর মনে মনে বলি- হায় বালিকারা যদি জানত বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদিত বয়সে বিয়ে করলে আমার এখন মাস তিনেক বয়সী একটা সুসন্তান থাকত।

হাহাহাহা, সন্তান থাকলেই কি লোকে বড় হয় নিবিড়?

মনে হচ্ছে মন এখনো একটু একটু খারাপ।
---------------------------------------------------------
রাত্রে যদি সূর্যশোকে ঝরে অশ্রুধারা
সূর্য নাহি ফেরে শুধু ব্যর্থ হয় তারা

*******************************************
পদে পদে ভুলভ্রান্তি অথচ জীবন তারচেয়ে বড় ঢের ঢের বড়

নিবিড় এর ছবি

তাও অবশ্য ঠিক। খালি সন্তান হলে কি আর বয়স বাড়ে? বয়স বাড়ে মনে। অবশ্য সন্তান হইলে লোকজন বুঝতে পারত ক্ষুদে আর ক্ষুদে নাই তারো আজকাল ক্ষুদে আছে দেঁতো হাসি

মন খারাপ কইরা লাভ নাই অহেতুক টাইম লস


মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় ।

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

esnips-এ গান তুলে দাও, মিয়া!

মনের সব রকম অনুভূতিরই একটা আর্থিক মূল্য আছে। সময়ের সাথে সাথে এই উপলব্ধি জাগছে আমার। এই দেশে তো ডিভোর্স হলে ক্রেডিট স্কোর খারাপ হয়ে যায় বলে অনেকে কষ্ট করে বিয়ে টিকিয়ে রাখছে এই দুর্দিনে। আনন্দদায়ক কিছু নিয়ে কাজ করার ব্যাপারটাও তেমনই। আমি আজ পর্যন্ত একজন ধনী ব্যাক্তি দেখিনি যিনি তাঁর কাজ উপভোগ করেন না।

অতিথিদের মন খারাপ করার কিছু নেই। হিট-মিস হবেই। অতিথিদের উচিত নিজের মতো করে নিজের জন্য লিখে যাওয়া। লেখায় স্বত্বার একটা ছায়া থাকলে সেই লেখা চোখে পড়বেই। এমন অনেক হয়েছে যে, কিছুকাল দেরিতে অতিথি ব্লগারের লেখা চোখে পড়েছে এবং এরপর গিয়ে তাঁর পুরনো লেখা পড়ে এসেছি। ভালো কিছুই অনাবিষ্কৃত থাকে না।

নিবিড় এর ছবি

হুম...... ইশতি ভাই জীবনটা আসলে উপভোগের বস্তু। আর আপনার শেষ কথার সাথে একমত।
গানের লিংকটা নিচে দিয়ে দিলাম হাসি


মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় ।

অতিথি লেখক এর ছবি

আপনি অন্তত পাঁচজন পাঠক চেয়েছিলেন, একজন পেলেন।

ঝাড়া পরে গেলাম, কোথাও আটকালাম না, এই না হলে লেখা।

গানটা দিয়ে দিন।

ইশতিয়াক ভাই একটা দুর্দান্ত কথা বলেছেন

ভালো কিছুই অনাবিষ্কৃত থাকে না।

#ওসিরিস

শব্দশিল্পী (লগামু না) এর ছবি

হের ওসিরিস, দীর্ঘদিন পর আপনার মত সচল পাঠক দেখে খুশি হলুম...

হের নিবিড় ভাই, লেখা যথারীতি দারুণ।

নিবিড় এর ছবি

@শব্দশিল্পী
যে বা যাহারা পরীক্ষার ভয়ে সচলে লগাইতে ভয় পায় তাদের আমি উত্তর দিই না দেঁতো হাসি


মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় ।

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

বটে, পরীক্ষার ভয়ে সচলে লগাইনা এমন দুর্নাম ?? রে রে ব্লগার , এই লগালুম...
---------------------------------------------------------------------------
- আমি ভালোবাসি মেঘ। যে মেঘেরা উড়ে যায় এই ওখানে- ওই সেখানে।সত্যি, কী বিস্ময়কর ওই মেঘদল !!!

নিবিড় এর ছবি

@ওসিরিস
তাইলে পরের লেখায় দেখা হবে


মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় ।

রায়হান আবীর এর ছবি
কিংকর্তব্যবিমূঢ় এর ছবি

লিংক ঠিকাছে? পাই না তো কিছু ইয়ে, মানে...
................................................................................................
খাদে নামতে আজ ভয় করে, নেই যে কেউ আর হাতটাকে ধরা ...

রেনেট এর ছবি

লিঙ্ক কাম করে না
---------------------------------------------------------------------------
No one can save me
The damage is done

---------------------------------------------------------------------------
একা একা লাগে

নিবিড় এর ছবি

রায়হান পোলাটা খালি মানুষ জনরে ডজ দেয় মন খারাপ
গানের লিংক পাইলাম না তাই আমিও কোন ভাবে সাহায্য করতে পারলাম না মন খারাপ


মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় ।

নিবিড় এর ছবি

আমি একটা লিংক দিচ্ছি, দেখেন তো এইটা কাজ করে কিনা- হাতের উপর হাতের পরশ রবে না


মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় ।

রায়হান আবীর এর ছবি

আমার আর তোর লিংকের মধ্যে কোন পার্থক্য আছে? >খাইছে

যাই হোক, ফাহিম ভাই, রনি ভাই, ইশতি ভাই, রেন্টু ভাই, গোধূ ভাই সবাই নিজ নিজ ইমেইল চেক করেন। এবং এই গান বাকিদের বন্টনের ব্যবস্থা করেন।

সবাই ভালু থাকেন।


পুচ্ছে বেঁধেছি গুচ্ছ রজনীগন্ধা

নিবিড় এর ছবি

আছে একটু পার্থক্য আছে হাসি তোর লিংকে গেলে কেন জানি গান ডাউনলোড করা যাচ্ছে না। চেক করে দেখ।
অফটপিকঃ আজকাল তোকে এত কম দেখা যায় কেন? ভাল ভাবে বাইচা আছস তো?


মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় ।

রায়হান আবীর এর ছবি

কষ্টে আছি- আইজুদ্দিন দেঁতো হাসি


পুচ্ছে বেঁধেছি গুচ্ছ রজনীগন্ধা

নিবিড় এর ছবি

আইজুদ্দী আজ কেন কষ্টে আছে? বোর্ডবাজার থেকে কি কোন বাস আজকাল আর নীলক্ষেত আসে না? সেইখান থেকে কি আর কোন রিক্সা পলাশীর মোড়ে আসে না চিন্তিত


মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় ।

রেনেট এর ছবি

আহারে বালিকা মন খারাপ
---------------------------------------------------------------------------
No one can save me
The damage is done

---------------------------------------------------------------------------
একা একা লাগে

নিবিড় এর ছবি

বালিকা মন খারাপ


মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় ।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- ঠিক এই লেখাটা পড়ার আগেই ভাবছিলাম "আমি আসলে সচলে কোন ধরণের লেখা বেশি পছন্দ করি!" উত্তরও দেখলাম জানা, দিনলিপি গোছের। এর কারণ হতে পারে, আমিও নিজেও ঐ গোছের বালছালই লিখি। তবে গল্প, প্রইন্ধ, উপন্যাস বা কোবতে যে পড়িনা তা-না। আসলে কথা ঐটাই, যেমনটা ইশতিয়াক রউফ বললেন, "ভালো কিছুই অনাবিষ্কৃত থাকে না।"

চেহারায় ছাপ্পা নিয়ে টেনশনের কিছু নাই। ইশকুলে থাকতে এক গোলগাল মুখের, হলদেটে বরণের বালিকারে দোলালাগা, পাখিজাগা বলার চেষ্টা করেছিলাম বলে বালিকা মুখের উপর বলে দিয়েছিলো, "এত্তো ছোট্ট পুলার আমার মতো বালিকার লগে তাফালিং!" আমি মনের দুঃখে কষ্ট নিয়া বেশি না মোটে কয়েকটা বছর ওয়েইট করছিলাম। বছর খানেক পরে, ইশকুলের গণ্ডি ছাড়ানোর পর ঐ বালিকাই দোলালাগা পাখিজাগা উদ্বৃত করতে চাইছিলো, তখন কইছি, "স্যরি খালাম্মা, টাইম নাই!"

আর হ্যাঁ, মন খারাপ করা একটা ব্যাধি। এইটা অমার্জনীয় অপরাধও বটে! উৎকৃষ্ট পথ্য হইলো খাড়ার উপর মাইর। ঘেটি বরাবর দুই চাইরটা ঠুয়াঠায়ি খাইলে সব ঠিক হয়া যায়। আশাকরি আপনের সেই থেরাপীর দরকার হবে না। চোখ টিপি

গানের ব্যাপারে কী আর কমু? রায়হানাবীর পুলাটা যে কয়জনরে বেকুব বানাইলো সেই হিসাব করতাছি এখন। অরে পাইয়া লই খালি...
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

নিবিড় এর ছবি

মনখারাপ একটা ভ্রান্ত ধারনা তাই উহাকে আমি ভালবাসি না হাসি


মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় ।

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

(০) ফেসবুকের স্ট্যাটাসের মানে বুঝলাম এখন। ব্যাপার না। যা হওয়ার তা তো হইছেই। এখন আর চিন্তা করে লাভ নাই। পড়াশুনা করে কেউ কোনোদিন বড়লোক হয়নাই। চোখ টিপি

(১) আমি আগেই বলছি তোমার চারপাশে কচিকাঁচারা ভনভন করে, যেমনটা ময়রার দোকানে মাছি দেঁতো হাসি
বড় হওয়া সংক্রান্ত ব্যাপারে মনীষী তানবীরা সঠিক উক্তি প্রদান করেছেন। হা হা।

(২) আমারও প্রায়ই এরকম অনুভূতি হয়। তারপরেও হয়ত কেউ না কেউ তো অবশ্যই ভালোবাসে। পুরোপুরি ভালোবাসাহীন এই পৃথিবীতে কেউই মনে হয় নাই।

(৩) হুমম, একমত। উপরে অভির কথার সাথেও পুরোপুরি একমত।

(৪) বইটা পড়তে হবে তো! ভালোই তো মনে হচ্ছে।

(০০) গানটা তো মনে হয় আমার কাছেও ছিল। খুঁজে দেখতে হবে।

লেখাটা খুব ভাল্লাগল। আমি ওই পাঁচজনের একজন। পরের লেখাটাও পড়ব চোখ টিপি

নিবিড় এর ছবি

(১) কচিকাচার দরকার নাই আপনার শালী আমার দিকে একটু মুখ তুলে চাইলেই হবে চোখ টিপি

আপনার শেষ কথায় মন পুরা ভাল হয়ে গেল হাসি


মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় ।

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

ধন্য আশা কুহকিনী দেঁতো হাসি

নিবিড় এর ছবি

স্বপ্নচারিনী মন খারাপ


মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় ।

স্বপ্নহারা এর ছবি

লেখাটা খুব ভাল লাগল!
--------------
হতাশাবাদীর হতাশাব্যঞ্জক হতশ্বাস!

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

নিবিড় এর ছবি

ধন্যবাদ আপনাকে

অফটপিকঃ আপনার আর আমার ট্যাগ লাইন পুরা উলটা দেখি হাসি


মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় ।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

নিবিড়, মন খারাপ হলে আড্ডা দিয়ে দেখতে পার। আমাদের মহল্লায় বেশ কয়েকজন সচলকে পাওয়া যায় বলেই তো জানি। আমার সাথেও কথা বলতে পার, অবশ্য বৃদ্ধদের সাথে আড্ডা দেবার ইচ্ছে যদি তোমার হয়।



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

নিবিড় এর ছবি

আরে আপনার সাথে তো আমি হেটে পাড়ি না আর আপ্নে নিজেকে বুড়া দাবি করেন অ্যাঁ আর আমাদের মহল্লায় এত সচল পাইলেন কই? খালি আমি, আপনি আর হের নজু ভাই হাসি


মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় ।

কনফুসিয়াস এর ছবি

গানটা দারুণ।
*
তুমি বড় হৈছো, এটা চিন্তা করলেই ডায়েরি হাতে ক্লাস সেভেনের একটা পুচকার কথা মনে পড়ে আমার! হো হো হো

-----------------------------------
আমার ইচ্ছে হলো বাজাতে গীটার, মন আমার, মন আমার, মন আমার-

-----------------------------------
বই,আর্ট, নানা কিছু এবং বইদ্বীপ

নিবিড় এর ছবি

পড়ার জন্য ধন্যবাদ কনফু ভাই।

ঐটা তো বছর প্রায় দশেক আগের কথা ভাইয়া। এরপর গোমতী, মেঘনা আর তিতাসে কত জল বয়ে গেল এর কি আর কোন হিসাব আছে ভাইয়া হাসি


মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় ।

সুলতানা পারভীন শিমুল এর ছবি

হুম।
বালিকারা আসল জায়গা ঠিকই চিনে নেয় দেখি। চোখ টিপি

...........................

সংশোধনহীন স্বপ্ন দেখার স্বপ্ন দেখি একদিন

...........................

একটি নিমেষ ধরতে চেয়ে আমার এমন কাঙালপনা

নিবিড় এর ছবি

দেঁতো হাসি


মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় ।

বইখাতা এর ছবি

নিজের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পরীক্ষাগুলির কথা মনে পড়ে গেল, ভূমিকাটা পড়ে। কী সব দিন যে গেছেরে ভাই !

নিবিড় এর ছবি

বিশ্ববিদ্যালয় যখন এক তখন অভিজ্ঞতা এক না হয়ে পারে হাসি


মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় ।

পান্থ রহমান রেজা এর ছবি

সবার বয়স বাড়লেও দেখছি, আমাদের নিবিড় মিয়ার বালকবয়স বাড়ে না!

নিবিড় এর ছবি

এই গরীবের দুঃখ আপনি ছাড়া আর কেও বুঝল না মন খারাপ


মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় ।

শাহেনশাহ সিমন [অতিথি] এর ছবি

অফিসে বইসা মন্টা খারাপ করায় দিলা মিঞা! লেখাটা উত্তম। তোমার লেখার পাঠক হিসাবে তো আমি আগে থেকেই আছি দেঁতো হাসি

ঐ বালিকাকে পড়া বোঝানোর কী অগ্রগতি জান্তে মঞ্চায়।

নিবিড় এর ছবি

ঐ বালিকার খবরের আগে বলেন প্রহরী ভাই যে আপনার নামে বলতাছে ঐটা কি সত্য চিন্তিত


মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় ।

স্বপ্নাহত এর ছবি

তোর এই অবস্থা হবে জানলে তোরে গান্টা দিতাম না! দেঁতো হাসি
তোর মত অলওয়েজ সুখী মানুষের মনেও বিষন্নতাবোধ নাড়া দিয়া যায়, কাহিনী তো সুবিধার মনে হইতেসেনা। খাইছে

---------------------------------

তবে যে ভারি ল্যাজ উঁচিয়ে পুটুস্‌ পাটুস্‌ চাও?!

---------------------------------

বাঁইচ্যা আছি

নিবিড় এর ছবি

খাইছে


মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় ।

রানা মেহের এর ছবি

নিবিড়ের লেখা!

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।