মনুষ্যজাতির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস- অধ্যায়ঃ ১ (২/২)

নিটোল এর ছবি
লিখেছেন নিটোল [অতিথি] (তারিখ: রবি, ২৬/০৪/২০১৫ - ৯:০৯অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

(আগের পর্ব- লিংক)

রাঁধুনে প্রজাতি

শীর্ষে উঠার পথে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ধাপ ছিল আগুনের নিয়ন্ত্রণ। অল্প কিছু মানব প্রজাতি ৮ লক্ষ বছর পূর্বে মাঝে মধ্যে আগুন ব্যবহার করতো। তবে ৩ লক্ষ বছর আগে থেকে, হোমো ইরেক্টাস, নিয়ান্ডারথাল এবং হোমো সেপিয়েন্সের পূর্বপুরুষেরা নিয়মিতভাবে আগুন ব্যবহার করা শুরু করে। ফলে মানুষ পেল আলো ও উষ্ণতার একটি নির্ভরযোগ্য উৎস, এবং শিকারের সন্ধানে ঘুরে বেড়ানো সিংহ থেকে বাঁচার জন্য পেল মারাত্মক একটি অস্ত্র। নাতি-দীর্ঘকাল পরেই, মানুষেরা ইচ্ছে করেই প্রতিবেশের বন-জঙ্গল জ্বালিয়ে দেওয়া শুরু করে। খুব সতর্কভাবে পরিচালিত অগ্নিকাণ্ড দিয়ে একটি অনুর্বর জঙ্গলকে তৃণভূমিতে রূপান্তরিত করা সম্ভব ছিল যেটি থাকবে শিকারে পরিপূর্ণ। তদুপরি, আগুন নিভে আসলে, উদ্যোগী মানুষেরা পোড়া বনভূমি ঘুরে দগ্ধ পশুপাখি, বাদাম আর কন্দ-মূল তুলে আনতে পারত।

কিন্তু আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার ফলে সবচেয়ে অসাধারন যে বিষয়টি ঘটেছিল সেটি হলো- রান্নার উদ্ভাবন।

যেসব খাদ্য তাদের প্রাকৃতিক অবস্থায় মানুষ খেতে পারত না- যেমন: গম, চাল, আলু- সেগুলো একেবারে প্রধান খাদ্য পরিণত হলো, রান্নার বদৌলতে। আগুন শুধু খাদ্যের রসায়নই পরিবর্তিত করে নি, এটি খাদ্যের জীববিজ্ঞানেও পরিবর্তন এনেছিল। রান্নার ফলে সেইসব জীবাণু ও পরজীবী ধ্বংস হলো যা খাদ্যে উপদ্রব সৃষ্টি করতো। ফলমূল, বাদাম, পোকামাকড় আর মাংস সেদ্ধ করে খেতে শুরু করায় মানুষকে খাবার চিবানো ও হজম করার পেছনে আগের তুলনায় অনেক কম সময় ব্যয় করলেই চলতো। যেখানে শিম্পাঞ্জীরা দিনে অন্তত পাঁচ ঘণ্টা শুধু কাঁচা খাদ্য চিবোয়, সেখানে রন্ধিত খাবার গ্রহণ করায় মানুষের শুধু এক ঘণ্টা খরচ করলেই চলে।

রান্নাবান্নার আবির্ভাব মানুষকে অল্প সময়ে বিভিন্ন প্রকার খাবার খাওয়ার সুযোগ করে দিল, এবং দাঁত ও অন্ত্র-নালীর সংক্ষেপণে সাহায্য করল। কিছু বিজ্ঞানী মনে করেন যে, রান্নার আবির্ভাবের সাথে মানুষের অন্ত্রনালী ছোট হয়ে আসা এবং মস্তিষ্কের আয়তন বৃদ্ধির সরাসরি সম্পর্ক আছে। যেহেতু বিশাল মস্তিষ্ক ও দীর্ঘ অন্ত্রনালী দু’টোই প্রচুর শক্তি ব্যয় করে, তাই একসঙ্গে দু’টোরই দেখভাল করা কঠিন। অন্ত্রনালী ছোট হয়ে আসায় ও শক্তিব্যয় কমিয়ে দেয়ায়, রান্নাবান্নার আবির্ভাব মূলত কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই নিয়ান্ডারথাল ও সেপিয়েন্সের বিশাল মস্তিষ্ক অর্জনের পথ সুগম করে দিয়েছিল।

মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীদের মাঝে সর্বপ্রথম তাৎপর্যপূর্ণ বিভাজন-রেখা তৈরি করেছিল আগুন। প্রায় সব পশুপাখির ক্ষমতা বা শক্তি তাদের শরীরের ওপর নির্ভর করে, যেমন: তাদের পেশীর শক্তি, দাঁতের আকার, পাখার বিস্তার। যদিও কেউ কেউ বাতাস ও স্রোতকে কাজে লাগাতে জানে, কিন্তু কেউই এসব প্রাকৃতিক শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, এবং সর্বদাই তাদের শারীরিক সামর্থ্যের প্রাচীরে আবদ্ধ থাকে। উদাহরণস্বরূপ, ঈগল ভূমি থেকে উর্ধমুখী বায়ু-স্তম্ভ সনাক্ত করতে পারে, এরপর বিশাল পাখা ছড়িয়ে দিয়ে উষ্ণ বায়ুর সাহায্যে আরো উপরে উঠে যায়। কিন্তু ঈগল কোনোভাবেই এই বায়ু-স্তম্ভের অবস্থান নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, এবং তাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য সুস্পষ্টভাবে নির্ভর করে তাদের পাখার ব্যাপ্তির ওপর।

যখন মানুষ আগুন বশে আনল, তারা মূলত একটি অনুগত ও অসীম ক্ষমতাধর শক্তি লাভ করল। ঈগল না পারলেও, মানুষ লভ্য এই শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারতো। মানুষ ইচ্ছেমত যখন খুশি এবং যেখানে খুশি আগুন জ্বালাতে পারতো, এবং আগুনকে দিয়ে যেকোনো ধরনের কাজ করিয়ে নিতে পারতো। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটি হলো, আগুনের ক্ষমতা কিন্তু মানুষের আকার, আকৃতি কিংবা শক্তির ওপর নির্ভর করে না। একজন নারী সামান্য কিছু পাথর কিংবা জ্বলন্ত কাঠ ব্যবহার করে একাই পুরো একটি বন জ্বালিয়ে দিতে পারত, মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। আগুনের এই বশীকরণ ইঙ্গিত দিচ্ছিল যে অনাগত যুগে অনেক কিছুই ঘটতে চলেছে।

সহোদরের রক্ষক

আগুনের সুবিধাবলী পাওয়া সত্ত্বেও, ১৫০,০০০ বছর আগেও মানুষেরা ছিল প্রান্তীয় প্রজাতিগুলোর একটি। ওরা ভয় দেখিয়ে সিংহের পাল তাড়াতে পারতো, শীতের রাতে নিজেদের উষ্ণ রাখতে পারতো, এবং মাঝে মধ্যেই বন-জঙ্গল পুড়িয়ে দিত। তারপরও সবগুলো প্রজাতি মিলে, সেই ইন্দোনেশিয়ান দ্বীপপুঞ্জ থেকে আইবেরিয়ান উপদ্বীপ পর্যন্ত সম্ভবত ১ মিলিয়নের বেশি মানুষ এই ধরণীতে বাস করতো না, যা বাস্তুতন্ত্রের রাডারে সামান্য কণিকার বেশি কিছু নয়।

ততোদিনে আমাদের প্রজাতি মানে ‘হোমো সেপিয়েন্স’ পৃথিবীর রঙ্গমঞ্চে উপস্থিত হয়েছে, কিন্তু ওরা কেবলই আফ্রিকার একটি কোণে বসবাস করে নিজেদের চরকায় তেল দিচ্ছিল। আমরা একেবারে নির্ভুলভাবে বলতে পারি না, ঠিক কবে আর কখন সেইসব প্রাণী, যাদেরকে ‘হোমো সেপিয়েন্স’ নামে নির্দেশ করা যায়, পূর্ববর্তী মানব প্রজাতি থেকে বিবর্তিত হয়েছে; তবে সব বিজ্ঞানীই একমত যে, ১৫০,০০০ বছর আগে পূর্ব আফ্রিকা সেপিয়েন্স-এ পরিপূর্ণ ছিল- যারা দেখতে ঠিক আমাদের মতোই। যদি তাদের কাউকে আজকের দিনের আধুনিক মর্গে পাওয়া যায়, সাধারণ চিকিৎসকেরা তেমন অদ্ভুত কিছুই লক্ষ করবেন না। আগুনের বদৌলতে, ততোদিনে তাদের দাঁত ও চোয়াল পূর্বসুরিদের তুলনায় ছোট হয়ে এসেছে, এবং মস্তিষ্কের আকার বেড়ে হয়েছে আমাদের সমান।

বিজ্ঞানীরা আরো একমত যে, প্রায় ৭০ হাজার বছর আগে, কিছু সেপিয়েন্স পূর্ব আফ্রিকা ছেড়ে আরব উপদ্বীপে ছড়িয়ে পড়ে, এবং সেখান থেকে তারা খুব দ্রুত পুরো ইউরেশিয়ান ভূখণ্ডে বিস্তার লাভ করে।

যখন হোমো সেপিয়েন্স আরবে উপস্থিত হয়, সেসময় ইউরেশিয়ার প্রায় সব অঞ্চলে অন্যান্য মানব প্রজাতির আবাস ছিল। তাদের কী হলো? এক্ষেত্রে দু’টো পরস্পরবিরোধী মতবাদ আছে। এদের একটি- ‘আন্তঃপ্রজাতি প্রজনন মতবাদ’ বলছে আকর্ষণ, প্রজনন ও মিলনের গল্প। এ মতবাদ অনুসারে- আফ্রিকান অধিবাসীরা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পরে, অন্যান্য প্রজাতির মানব-সদস্যদের সঙ্গে প্রজননে লিপ্ত হয়, এবং আজকের পৃথিবীর মানুষেরা হলো এই আন্তঃপ্রজাতি জননের ফলাফল।

যেমন ধরুন, সেপিয়েন্স যখন মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে পৌঁছে, তখন তারা নিয়ান্ডারথালদের মুখোমুখি হয়। এই প্রজাতির মানবেরা সেপিয়েন্সের তুলনায় ছিল পেশীবহুল, তাদের মস্তিষ্ক ছিল বড়ো, এবং ঠাণ্ডা জলবায়ুতে খুব ভালোভাবে নিজেদেরকে খাপ খাইয়ে নিয়েছিল। তারা পাথুরে হাতিয়ার ও আগুন ব্যবহার করতো, ছিল খুব ভালো শিকারি, এবং খুব সম্ভবত অসুস্থ ও রুগ্ন মানুষদের খেয়ালও রাখতো। ( প্রত্নতত্ত্ববিদেরা এমন সব নিয়ান্ডারথালদের দেহাবশেষ আবিষ্কার করেছেন যারা বহুকাল শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বেঁচে ছিল, যা প্রমাণ করে যে- নিয়ান্ডারথালরা তাদের স্বজনের দেখভাল করত।) নানা ব্যঙ্গচিত্রে নিয়ান্ডারথালদেরকে প্রায়ই চিত্রিত করা হয় পশুতুল্য ও নির্বোধ গুহামানব হিশেবে; কিন্তু সাম্প্রতিক সাক্ষ্যপ্রমাণ এই চিত্র পাল্টে দিয়েছে।

আন্তঃপ্রজাতি প্রজনন মতবাদ অনুসারে, যখন সেপিয়েন্সরা নিয়ান্ডারথালদের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, তখন সেপিয়েন্স ও নিয়ান্ডারথাল মিলিত হয়ে একটি প্রজাতিতে পরিণত হয়। এটি যদি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে ইউরোপ-এশিয়ার অধিবাসীরা খাঁটি সেপিয়েন্স নয়; তারা সেপিয়েন্স ও নিয়ান্ডারথালের সংমিশ্রণ। একইভাবে, সেপিয়েন্সরা যখন পূর্ব এশিয়ায় পৌঁছুল তখন তারা মিলিত হলো স্থানীয় ইরেক্টাসদের সঙ্গে; সুতরাং চীনা আর কোরিয়ানরা হলো সেপিয়েন্স আর ইরেক্টাসের মিশাল।

তবে বিপরীত তত্ত্ব, “প্রতিস্থাপন মতবাদ”, কিন্তু খুবই ভিন্ন একটি গল্পই শোনাচ্ছে- যে গল্প অসম্পৃক্ততার, বিরূপ প্রতিক্রিয়ার এবং সম্ভবত গণহত্যার। এই মতবাদ অনুসারে, সেপিয়েন্স এবং অন্যান্য মানব প্রজাতির দৈহিক গঠনতন্ত্র ছিল ভিন্ন ধরনের, এবং খুব সম্ভবত তাদের প্রজনন প্রবণতা এবং এমনকি গায়ের গন্ধও ছিল বিসদৃশ। একে অপরের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের ইচ্ছা তাদের খুব একটা থাকার কথা নয়। এবং এমনকি যদি কোনো নিয়ান্ডারথাল রোমিও আর সেপিয়েন্স জুলিয়েট প্রেমে পড়ে যেত, তারা উর্বর সন্তানসন্ততি জন্ম দিতে পারত না, কারণ দু’টো জনগোষ্ঠীর মাঝে ইতোমধ্যেই যে জিনগত প্রাচীর বা বাধা গড়ে ওঠে তা ছিল দুরতিক্রম্য। দু’টো জনগোষ্ঠীই ছিল পরস্পর হতে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন, এবং যখন নিয়ান্ডারথালরা একে একে মারা পড়ে বা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়, তখন তাদের সাথে সাথে তাদের জিনও হারিয়ে যায়। এই মতবাদ অনুসারে, সেপিয়েন্সরা পূর্ববর্তী সকল প্রজাতির জনগোষ্ঠীকে প্রতিস্থাপিত করেছে তাদের সাথে মিলিত না হয়েই। যদি এটি সত্যি হয়, তাহলে আধুনিক মানুষদের বংশলতিকা ধরে পেছনের দিকে গেলে সবার পূর্বপুরুষকে খুঁজে পাওয়া যাবে ৭০,০০০ বছর আগের পূর্ব আফ্রিকায়। আমরা সবাই হবো ‘খাঁটি সেপিয়েন্স’।

এই বিতর্কের ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করছে। বিবর্তনীয় প্রেক্ষাপট থেকে তাকালে, ৭০ হাজার বছর অপেক্ষাকৃত ছোট সময়কাল। ‘প্রতিস্থাপন মতবাদ’ নির্ভুল হলে, সব জীবিত মানুষই মোটামুটি অনুরূপ জেনেটিক লটবহর বহন করছে, এবং তাদের মধ্যকার জাতিগত প্রভেদকে উপেক্ষা করা চলে। কিন্তু যদি ‘আন্তঃপ্রজাতি প্রজনন মতবাদ’ সঠিক হয়, তাহলে আফ্রিকান, ইউরোপিয়ান ও এশিয়ানদের ডিএনএতে আছে জিনগত ভিন্নতা। এটি একটি রাজনৈতিক বোমা, যা বর্ণবাদী আদর্শগুলোর বিস্ফোরণে ইন্ধন জোগাতে পারে।

বিগত দশকগুলোয় প্রতিস্থাপন মতবাদ সাধারণ সত্য হিশেবে গণ্য করা হতো। প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণগুলো এই মতবাদকে সমর্থন করেছে, এবং এটি ছিল অধিক ‘পলিটিক্যালি কারেক্ট’ ( বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ভেতরে জেনেটিক ভিন্নতা থাকার কথা দাবি করে বিজ্ঞানীরা বর্ণবাদের প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দিতে চান নি)। কিন্তু এই চিত্র পাল্টে যায় ২০১০ সালে, যখন নিয়ান্ডারথাল জিনোমের মানচিত্র তৈরির চার বছরব্যাপী একটি প্রচেষ্টার ফলাফল প্রকাশিত হয়। বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন ফসিল থেকে যথেষ্ট পরিমাণ নিয়ান্ডারথাল ডিএনএ উদ্ধার করতে পেরেছেন যা দিয়ে তারা নিয়ান্ডারথাল ও আধুনিক মানুষের ডিএনএ’র বিস্তৃত তুলনা করেছেন। এর ফলাফল পুরো বিজ্ঞানী সমাজকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

দেখা গেল যে, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে বসবাসকারী আধুনিক জনগোষ্ঠীর ডিএনএ’তে থাকা অনন্য মনুষ্য-ডিএনএ’র প্রায় ১-৪ শতাংশ মূলত নিয়ান্ডারথাল ডিএনএ। এই পরিমাণটি হয়ত খুব বেশি নয়, কিন্তু খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। কয়েক মাস পর এলো দ্বিতীয় ধাক্কা, যখন প্রস্তরীভূত আঙুল থেকে পাওয়া ডিএনএ’এর সাহায্যে ডেনিসোভা মানবদের জিনোম-মানচিত্র তৈরি হলো। ফলাফলে থেকে দেখা গেল, আধুনিক মেলানেশিয়ান ও আদিবাসী অস্ট্রেলিয়ানদের অনন্য মনুষ্য-ডিএনএ’র সাথে ডেনিসোভান ডিএনএ’র প্রায় ৬ শতাংশ পর্যন্ত মিল আছে।

যদি এই ফলাফলগুলো নির্ভুল হয়ে থাকে- (এবং মনে রাখা ভালো যে এই বিষয়ে আরো গবেষণা এই মুহূর্তে চলছে এবং সেগুলোর ফলাফল উপরোক্ত সিদ্ধান্তগুলোকে পরিবর্তন কিংবা আরো শক্তিশালী করতে পারে)- তাহলে আন্তঃপ্রজাতি প্রজনন মতবাদে কিছুটা হলেও সত্যতা আছে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, প্রতিস্থাপন মতবাদ পুরোপুরি ভুল। যেহেতু নিয়ান্ডারথাল ও ডেনিসোভানরা আমাদের আধুনিক-কালের ডিএনএ’তে খুবই সামান্য অবদান রেখেছে, সেহেতু সেপিয়েন্স ও অন্যান্য মানব প্রজাতির মধ্যে পরিপূর্ণ সম্মেলন ঘটেছে- এমনটা বলা দুরূহ। যদিও তাদের ভেতরকার যে পার্থক্যগুলো ছিল তা যথেষ্ট বড়ো ছিল না- যেন তাদের মধ্যকার যৌনমিলন সম্পূর্ণ রোধ করা যায়, তবে তা পর্যাপ্ত ছিল যেন ওই মিলনগুলোকে খুবই বিরল ঘটনায় পরিণত করা যায়।

তাহলে আমরা কীভাবে সেপিয়েন্স, নিয়ান্ডারথাল আর ডেনিসোভানদের জৈবিক সম্পর্ককে ব্যাখ্যা করব? স্পষ্টতই, তারা ঘোড়া ও গাধার মতো সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনো প্রজাতি নয়। আবার অন্যদিকে, ওরা বুলডগ আর স্প্যানিয়েলের মতো একই প্রজাতির ভিন্ন ভিন্ন গোষ্ঠীর সদস্য নয়। জীববিজ্ঞানের বাস্তবতা শুধু সাদা আর কালোয় তৈরি নয়, এখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধূসর এলাকাও রয়েছে। ঘোড়া ও গাধার মতো দু’টি প্রজাতি, যারা একটি সাধারণ পূর্বসুরি থেকে বিবর্তিত হয়েছে, তারা অতীতের কোনো একসময় একই প্রজাতির ভিন্ন দু’টি জনগোষ্ঠী হিশেবে টিকে ছিল, অনেকটা বুলডগ আর স্প্যানিয়েলের মতোই। তাদের বিবর্তনীয় রেখায় নিশ্চয়ই এমন কোনো বিন্দু ছিল, যেখানে ইতোমধ্যেই তারা পরস্পর থেকে যথেষ্ট ভিন্নতা অর্জন করেছে কিন্তু খুবই বিরল উপলক্ষে তারা যৌনমিলন ও উর্বর সন্তান জন্মদানে সক্ষম ছিল। এরপর হয়ত অন্য কোনো মিউটেশন তাদের মধ্যকার সম্পর্কের সুতো ছিঁড়ে দেয়, এবং তারা বিবর্তনের পথ ধরে পরস্পর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে যায়।

মনে করা হয়, ৫০ হাজার বছর আগে, সেপিয়েন্স, নিয়ান্ডারথাল এবং ডেনিসোভানরা সেই সীমারেখায় দাঁড়িয়ে ছিল। তারা ছিল প্রায় সম্পূর্ণ পৃথক প্রজাতি, তবে পুরোপুরি নয়। পরবর্তী অধ্যায়ে আমরা দেখতে পাব যে, সেপিয়েন্সরা ইতোমধ্যেই নিয়ান্ডারথাল ও ডেনিসোভানদের চেয়ে কেবলমাত্র জিনগত ও দৈহিক বৈশিষ্ট্যের দিক থেকেই নয়, বরং চৈতন্য ও সামাজিক দক্ষতার দিক থেকেও স্বতন্ত্রতা অর্জন করেছিল; এরপরও এমনটাই প্রতীয়মান হয় যে খুবই বিরল উপলক্ষে একটি সেপিয়েন্স ও একটি নিয়ান্ডারথালের মিলনে উর্বর সন্তান জন্ম নেয়া সম্ভব ছিল। সুতরাং দু’টো জনগোষ্ঠী একীভূত হয় নি, তবে অল্প কিছু সৌভাগ্যবান নিয়ান্ডারথাল জিন ‘সেপিয়েন্স এক্সপ্রেসে’ চড়ে বসতে পেরেছিল। এটা ভাবাই খুব রোমাঞ্চকর যে, আমরা, সেপিয়েন্সরা অতীতের কোনো একসময় অন্য এক প্রজাতির প্রাণীর সাথে যৌনমিলন এবং সন্তানসন্ততি জন্মদানে সক্ষম ছিলাম।

কিন্তু যদি নিয়ান্ডারথাল, ডেনিসোভান এবং অন্যান্য প্রজাতির মানুষেরা সেপিয়েন্সের সাথে একীভূত না হয়, তাহলে এরা সবাই বিলুপ্ত হয়ে গেল কেন? একটি সম্ভাবনা হলো- হোমো সেপিয়েন্স তাদেরকে বিলুপ্তির পথে চালিত করেছে। কল্পনা করুন, একটি সেপিয়েন্সের একটি দল বলকান উপত্যকায় পৌঁছুল যেখানে নিয়ান্ডারথালরা হাজার বছর ধরে বাস করে আসছে। আগন্তুক মানবেরা হরিণ শিকার করতে শুরু করল এবং বাদাম ও ফলমূল সংগ্রহ করা আরম্ভ করল- যা এতদিন ছিল নিয়ান্ডারথালদের খাদ্যের প্রধান উৎস। নতুন প্রযুক্তি এবং উচ্চতর সামাজিক নৈপুণ্যের কারণে সেপিয়েন্সরা ছিল অধিক দক্ষ শিকারি ও সংগ্রাহক, ফলে ওরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে লাগল এবং আরো ছড়িয়ে পড়ল। এতে অপেক্ষাকৃত কম করিৎকর্মা নিয়ান্ডারথালদের পক্ষে নিজেদের জন্য যথেষ্ট খাদ্য জোগানো ধীরে ধীরে কঠিন হয়ে পড়ল। ক্রমশ তাদের সংখ্যা হ্রাস পেল এবং ধীরে ধীরে তাদের সবাই মারা পড়ল, সম্ভবত দু'য়েক জন ছাড়া- যারা প্রতিবেশী সেপিয়েন্সের দলে যোগদান করে বেঁচে যায়।

আরেকটি সম্ভাবনা হলো- সম্পদের জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা- সহিংসতা ও গণহত্যায় ইন্ধন যুগিয়েছিল। সহনশীলতা সেপিয়েন্সের স্বাভাবিক কিংবা স্বতন্ত্র কোনো বৈশিষ্ট্য নয়। আজকের আধুনিক যুগেও, এক দল সেপিয়েন্সকে উত্তেজিত করে তুলে অপর এক দলকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার প্রণোদনা যোগাতে কেবলমাত্র গায়ের বর্ণ, ভাষা কিংবা ধর্মের সামান্য পার্থক্যই যথেষ্ট। তাহলে প্রাচীন সেপিয়েন্সরা কি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক মানব প্রজাতির প্রতি সহনশীল ছিল? এটা হতে পারে যে, সেপিয়েন্সরা যখন নিয়ান্ডারথালদের মুখোমুখি হয় তখন পৃথিবীর ইতিহাসের সর্বপ্রথম ও সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ জাতিগত গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল।

যা-ই হয়ে থাকুক না কেন, নিয়ান্ডারথালদের ( এবং অন্যান্য মানব প্রজাতি) বিলুপ্তি মানব-ইতিহাসের সবচেয়ে বড়ো ‘কেমন হতো যদি’-প্রশ্নগুলো করছে। ভেবে দেখুন, কেমন হতো যদি হোমো সেপিয়েন্সের পাশাপাশি নিয়ান্ডারথাল কিংবা ডেনিসোভানরা শেষ পর্যন্ত বেঁচে যেত। কী ধরনের সংস্কৃতি, সভ্যতা এবং রাজনৈতিক কাঠামোর আবির্ভাব পৃথিবীতে ঘটতো যদি বিভিন্ন ধরনের মানব প্রজাতি একই সঙ্গে বসবাস করতো? উদাহরণস্বরূপ, কেমন করে ধর্মীয় বিশ্বাসগুলো বিকশিত হতো? বাইবেলের আদি-পুস্তকে কি ঘোষণা করা হতো যে নিয়ান্ডারথালরা আদম ও ইভের উত্তরসুরি, যিশু কি ডেনিসোভানদের পাপের জন্যও নিজেকে উৎসর্গ করতেন, এবং কোরানে কি সব ধার্মিক মানুষদের জন্য স্বর্গের সিট বরাদ্দ করা হতো-সে যে প্রজাতিরই হোক না কেন? নিয়ান্ডারথালরা কি রোমান সেনাবাহিনী কিংবা চীনা সাম্রাজ্যের সুবিস্তৃত আমলাতন্ত্রে চাকুরী করার সুযোগ পেত? আমেরিকার স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে কি এটা স্বতঃসিদ্ধ বলে ধরে নেয়া হতো যে ‘হোমো’ গণের সকল সদস্যকে সমকক্ষ হিশেবে সৃষ্টি করা হয়েছে? কার্ল মার্ক্স কি সব প্রজাতির শ্রমিককে ঐক্যবদ্ধ হবার ডাক দিতেন?

বিগত ১০ হাজার বছর ধরে, হোমো সেপিয়েন্স পৃথিবীর একমাত্র মনুষ্য প্রজাতি হিশেবে নিজদেরকে দেখে এতোটাই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে যে অন্য কোনো ধরনের সম্ভাবনার চিত্র কল্পনা করাই তাদের পক্ষে বেশ কঠিন কাজ। আমাদের সহোদরের অনুপস্থিতি আমাদের জন্য এটা ভাবা সহজতর করে তুলেছে যে আমরাই হলাম সৃষ্টি-জগতের প্রতীক, এবং বাকি প্রাণীজগতের সাথে আমাদের রয়েছে দুস্তর ব্যবধান। চার্লস ডারউইন যখন ইঙ্গিত দিলেন যে হোমো সেপিয়েন্স কেবলই অন্য এক ধরনের প্রাণী মাত্র, লোকজন ক্ষোভে ফেটে পড়ে। এমনকি আজও অনেকেই এই সত্যটি গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। যদি কোনোভাবে নিয়ান্ডারথালরা টিকে থাকত, তখনও কি আমরা নিজেদেরকে এই জগৎ হতে বিচ্ছিন্ন কোনো সৃষ্টি হিসেবে কল্পনা করতাম? হয়ত ঠিক এই কারণেই আমাদের পূর্বসুরিরা নিশ্চিহ্ন করেছিল নিয়ান্ডারথালদেরকে। তাদের সাথে এতোটা নৈকট্য ছিল যে উপেক্ষা করা যেত না, কিন্তু এতোটাই বৈপরীত্য ছিল যে মেনে নেওয়াও অসম্ভব।

সেপিয়েন্স দোষী হোক বা না-ই হোক, এটা ঠিক যে- যখনই তারা নতুন নতুন অঞ্চলে উপস্থিত হয়েছে তখনই সে অঞ্চলের আদি মানবগোষ্ঠী বিলুপ্ত হয়েছে গেছে। হোমো সোলোয়েন্সিস'এর সর্বশেষ অস্তিত্বের যে প্রমাণ পাওয়া যায় তা ৫০ হাজার বছর আগের। হোমো ডেনিসোভা এর কিছুকাল পরেই বিলুপ্ত হয়। নিয়ান্ডারথালরা মোটামুটি ৩০ হাজার বছর পূর্বে প্রস্থান করে। ফ্লোরেস দ্বীপ থেকে সর্বশেষ বামন-সদৃশ মানবেরা উধাও হয় প্রায় ১২ হাজার বছর আগে। বিলুপ্ত মানব-প্রজাতিগুলো ফেলে গেছে কিছু হাড়গোড়, কিছু পাথরের হাতিয়ার, আমাদের ডিএনএ’তে অল্প কিছু জিন এবং রেখে গেছে অসংখ্য প্রশ্ন যার জবাব এখনো মেলে নি। ওরা এই পৃথিবীতে রেখে গেছে সর্বশেষ মানব প্রজাতি- হোমো সেপিয়েন্স

সেপিয়েন্সের এমন সাফল্যের রহস্য কী ছিল? কীভাবে এতো দূরবর্তী ও ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে আমরা এতো দ্রুত আবাস গড়ে তুলেছিলাম? কেমন করে আমরা অন্য সব মানব প্রজাতিকে বিস্মৃতির দিকে ঠেলে দিয়েছিলাম? কেন শক্তিশালী, বুদ্ধিমান, শৈত্য-জয়ী নিয়ান্ডারথালরা আমাদের আক্রমণ ঠেকিয়ে টিকে পারে নি? এসব নিয়ে বিতর্ক চলছেই। এর সম্ভাব্য উত্তর হলো ঠিক সেই জিনিশটিই যা আমাদের এই বিতর্ককে সম্ভব করে তুলেছে: হোমো সেপিয়েন্স পুরো পৃথিবী জয় করেছে তাদের অনন্যসাধারণ ভাষার বদৌলতে।

(১ম অধ্যায় সমাপ্ত)

২য় অধ্যায়- [১ম পর্ব]


মন্তব্য

অতিথি লেখক এর ছবি

বাহ, পড়ছি। ভালো একটা সিরিজ। যদি একসাথে বেশ কয়েকটি প্রজাতি টিকে যেত তাহলে কী হতো? প্রশ্নটা চমৎকার। ধর্মের বারোটা বাজতো। ধর্মগুরুতো গুরু, প্রচারকরাই বলতো ছাইড়া দে মা কাইন্দা বাচি।

দারুণ লেখা। পর্বগুলো জলদি দেন।

স্বয়ম

নিটোল এর ছবি

ধন্যবাদ। নিয়মিত লেখার চেষ্টা করছি। হাসি

_________________
[খোমাখাতা]

এক লহমা এর ছবি

প্রবল উৎসাহ আর উদ্দীপনার সাথে পড়ে চলেছি। পরের পর্বের জন্য সাগ্রহ অপেক্ষায় রইলাম।

আর হ্যাঁ, চমৎকার অনুবাদ!

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

নিটোল এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ। আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

_________________
[খোমাখাতা]

অতিথি লেখক এর ছবি

প্রচণ্ড আগ্রহ নিয়ে পড়লাম... হাসি

- ভোরের বৃশ্চিক।
--- --- --- --- ---
তোমাদের চিৎকারে
কানপাতা বড় দায়।
তোমাদের ঠোক্করে,
লাল বাড়ে পতাকায়!

নিটোল এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

_________________
[খোমাখাতা]

নাজমুস বাপ্পি এর ছবি

এইতো কদিন আগে সুইডিশ রুমমেটকে স্যাপিয়েন্স এর সুইডিশ অনুবাদ পড়তে দেখে আক্ষেপ করে বললাম আমাদের ভাষায় এমন বই খুব কমই অনুবাদ হয়। আর আজ এই লেখা পেয়ে চমকিতই হলাম।

অসাধারন প্রচেষ্টা। সাধু সাধু।

নিটোল এর ছবি

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। হাসি

হ্যাঁ, আমাদের দেশে সাধারণত এই ধরনের বইয়ের অনুবাদ হয় খুব কম। আশার কথা হলো- কয়েক বছর ধরে কেউ কেউ এই ধরনের বই অনুবাদের কাজে এগিয়ে আসছেন। আশা করি, অনুবাদে আরো গতি আসবে।

_________________
[খোমাখাতা]

মরুদ্যান এর ছবি

ফাটা ফাটি ভাই। আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------
যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চল রে

নিটোল এর ছবি

থ্যাংক্যু ভাই। হাসি

_________________
[খোমাখাতা]

সত্যপীর এর ছবি

চমৎকার। কোপায় অনুবাদ করতে থাকেন।

..................................................................
#Banshibir.

নিটোল এর ছবি

কোপাকুপি চলবে! দেঁতো হাসি

_________________
[খোমাখাতা]

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

দারুণ সিরিজ হচ্ছে। ঝড়ঝড়ে অনুবাদ। পরের পর্ব আসুক তাড়াতাড়ি। আর পুরোটা শেষ হলে দুই মলাটে আনার কথা ভাবতেই পারেন।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

নিটোল এর ছবি

দেঁতো হাসি আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

আগে অর্ধেকের বেশি ভালোমতো শেষ করি। তারপর মলাটবন্দী করার কথা ভাবব।

_________________
[খোমাখাতা]

তারেক অণু এর ছবি

চমৎকার লেখা, ৫ তারা। আরাম পেলাম পড়ে। পরের পর্বের অপেক্ষায় আছি।

ডেনিসোভানদের নিয়ে প্রথম পড়েছিলাম ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকে। কী দারুণ আবিষ্কার।

অতিথি লেখক এর ছবি

সিরিজটা পড়ে খুব ভালো লাগছে, অবশ্যই চালিয়ে যাবেন। পুরো বইয়ের অনুবাদ পড়তে পারবো আশা করছি। এই চমৎকার উদ্যোগের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

সজীব

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

চলুক

রানা মেহের এর ছবি

কী মচমচে লেখা!
খুব ভাল লাগলো পড়ে। অনুবাদ জারি থাকুক।
বই করার চিন্তা অবশ্যই রাখবেন মাথায়।

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

নিটোল এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ আপা। হাসি
এখন মূলত অনুবাদটা চালিয়ে নেয়ার চিন্তাই বেশি কাজ করছে মাথায়। যদি শেষ করতে পারি তাহলে বইয়ের কথা ভাবতেই পারি।

_________________
[খোমাখাতা]

বন্দনা এর ছবি

দারুণ একটা লেখা। বহু আগে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে একটা বই পড়েছিলাম, এত খটোমটো অনুবাদ ছিল, ঠিক আরাপ পাইনি পড়ে, আপনার লিখা পুরাই ঝরঝরে। ঝটপট পরের পর্ব আসুক। আর অনুবাদ শেষ হলে এটা ই-বই হিসেবে আসলে আরো ভালো হয়।

নিটোল এর ছবি

থ্যাংক্যু আপু। হাসি আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

_________________
[খোমাখাতা]

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

বাহ্!দারুণ হচ্ছে লেখাটি। অপেক্ষায় রইলাম। পাঁচ তারা অবশ্যই।

তাপস শর্মা এর ছবি

পড়ছি নিয়মিত। টুকরো বিরতিতে টানা চলুক অনুবাদ...

তাহসিন রেজা এর ছবি

চমত্‍কার অনুবাদ। বইটা কিনে অর্ধেকের বেশি পড়ে ফেলেছি। 0:-D

------------------------------------------------------------------------------------------------------------
“We sit in the mud, my friend, and reach for the stars.”

অলীক জানালা _________

নজমুল আলবাব এর ছবি

কি চমৎকার ঝরঝরে অনুবাদ।

নিটোল এর ছবি

ধন্যবাদ ভাইয়া। হাসি

_________________
[খোমাখাতা]

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA