চাকরীর ইন্টারভিউ দেওয়া ও নেওয়ার খুচরো অভিজ্ঞতা (প্রথম পর্ব)

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি
লিখেছেন রাতঃস্মরণীয় [অতিথি] (তারিখ: মঙ্গল, ০১/০৫/২০১২ - ৪:০৪অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

[ডিসক্লেইমারঃ এই ব্লগ পাঠলব্ধ শিক্ষণের প্রয়োগে কাহারও ইন্টারভিউ ব্যার্থতার দায় ব্লগরব্লগরকের উপর বর্তাইবে না]

প্রশ্ন আসতেই পারে যে আমি আমার অভিজ্ঞতাকে কেনো ‘খুচরো’ বলে আখ্যা দিলাম! কথা হচ্ছে খুচরোকে খুচরোই বলতে হবে। যদি খুচরোকে ফলাও করে বিশাল-ব্যাপক আকারে দেখাতে চাই তবে ধরা খাওয়ার সমূহ আশংকা। আর ঝানু মানুষদের সামনে চাপাবাজী অত্যন্ত বিপদজনক, আর তা যদি হয় কোনও চাকরীর ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে। তবে হ্যাঁ, চাপাবাজীও কাজে আসে যদি তা কৌশলের সাথে করা যায়। আমার জীবনে এই চাকরীর ইন্টারভিউর অভিজ্ঞতা বিশাল তা বলা যাচ্ছেনা, বিশেষকরে ইন্টারভিউ দেওয়ারটা। তাই সবিনয়ে এই অভিজ্ঞতাসম্ভারকে ‘খুচরো’র কাতারেই রাখতে চাই।

আমার ফেস-টু-ফেস ইন্টারভিউর অভিজ্ঞতা খুবই কম, আঙুল গুনে বলে দিতে পারি কয়টা। দূরবর্তী ইন্টারভিউ দেওয়া-নেওয়ার অভিজ্ঞটাই আমার তুলনামূলকভাবে বেশি। আমার জীবনের প্রথম সত্যিকারের ইন্টারভিউ দেই ২০০০ সালে একটা আন্তর্জাতিক এনজিওতে। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতাম আন্তর্জাতিক এনজিওতে কাজ করার। সেখানে এ্যাডমিন এ্যাসিস্ট্যান্ট এবং এ্যাসিস্ট্যান্ট এ্যাডমিন অফিসার, দুটো পদের বিজ্ঞাপন দেথে দুটোতেই এ্যাপ্লাই করে দেই। ধারণা করেছিলাম যে বড়জোর এ্যাডমিন এ্যাসিস্ট্যান্ট পদে ডাকলেও ডাকতে পারে। কিন্তু ডাক এলো বড়োটাতে। কয়েকজন সিনিয়র বন্ধুর কাছ থেকে পরামর্শ নিলাম কিভাবে কি বলবো, তার উপরে। কিন্তু সে পর্যন্ত যেতে পারলে তো!

কম্পিউটারে লিখিত পরীক্ষা দিলাম এবং বেশ ভালো পরীক্ষা দিলাম। আশাবাদী হয়ে বাড়ি ফিরতেই মৌখিক পরীক্ষার ডাক এলো। এবার আমি কনফিডেন্ট, ভাইভা ভোস দিতে গেলাম। আত্মবিশ্বাসের সাথে প্রশ্নগুলোর উত্তর দিলাম এবং যেগুলো ভালো মতো জানা ছিলো না সেগুলোতে ক্যাঁ ক্যুঁ না করে বলে দিলাম অজ্ঞতার বা মনে না থাকার কথা। চাকরী পেয়ে গেলাম এবং জয়েনিং হলো আমার নিজের শহর খুলনাতে।

জীবনে প্রথম সত্যিকার অর্থে রোমাঞ্চকর এবং শ্বাসরূদ্ধকর ইন্টারভিউ দিলাম ২০০৩ সালে। আমি যেখানে চাকরী করলাম তাদের আটলান্টাস্থ হেড কোয়ার্টার্সে এ্যাকাউন্টস পেয়েবলস সুপারভাইজার পদে কবে আবেদন করেছিলাম, তা’ও ভুলে গেলেও ইন্টারভিউর ডাক পেলাম- টেলিফোন ইন্টারভিউ, আমার জীবনে প্রথমবারের মতো। ইমেইলে ইন্টারভিউয়ার হিসেবে যাদের নাম দেখলাম, তা দেখে আমার অন্তরাত্মা শুকিয়ে যাওয়ার জোগাড়- সংস্থাটির তিন গ্লোবাল ডিরেক্টর- ফাইনান্স ডিরেক্টর, গ্রান্টস ডিরেক্টর এবং এইচআর ডিরেক্টর! তখন আমার অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় এবং একজন প্রিয় অগ্রজ সহকর্মী ফিল্ড ভিজিটে আমাদের ওখানে ছিলেন। তার নাম জগন্নাথ দত্ত, বাংলাদেশের উন্নয়ন সেক্টরে মনিটরিং ও ইভ্যালুয়েশনের একজন প্রবাদব্যাক্তি, ২০০৮ সালে মারা যান দীর্ঘদিন অনেক ভূগে। সাতক্ষীরার অসম্ভব রকম ধনী পরিবারের সন্তান হয়েও জগন্নাথ’দা মানবতার সেবা ছেড়ে যাননি আমৃত্যু। তিনি আমাকে গল্পের ছলে বেশ কিছু টিপস দিলেন যে এইসব ইন্টারভিউতে কেমন আচরণ করতে হয়। যথাসময়ে ইন্টারভিউ হলো এবং কিভাবে যেনো বেশ ভালো হলো। আমি কৃতকার্য হলেও পরে পদটি শুরু হওয়ার আগেই রিস্ট্রাকচারিঙে পড়ে মারা যায়। তা সত্বেও ওই ইন্টারভিউটা ছিলো আমার জীবনের একটি মাইলফলক। এবং বলবো যে দূরবর্তী ইন্টারভিউতে আমার আত্মবিশ্বাসের শুরু ওই ইন্টারভিউটা থেকেই।

আর ইন্টারভিউ নেওয়াটাও যথেষ্ঠ মনস্তাত্ত্বিক চাপযুক্ত বিশেষকরে যখন একাধিক অপশনের মাঝ থেকে একজনকে বেছে নিতে হয় অথবা একটা রাইট ভার্সাস রাইট সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কিছুদিন আগে একটা ইন্টারন্যাশনাল পদের জন্যে ইন্টারভিউ নিলাম। প্যানেলে পদমর্যাদায় জ্যোষ্ঠতম সদস্য ছিলাম আমি। সেখানে চুড়ান্তভাবে তালিকাভূক্ত প্রার্থীদের মধ্যে দুজনকে পেলাম যারা দুটি বিশাল আন্তর্জাতিক সংস্থার ইন্দোনেশিয়ার এবং কঙ্গোর কান্ট্রি ডিরেক্টর। সত্যিকথা বলতে কি, এই দুজনের ইন্টারভিউ নিতে গিয়ে আমি যে কি পরিমান শিখলাম এবং উপকৃত হলাম, তা বলে শেষ করার মতো নয়। অনেকেই হয়তো একে পেশাদারীত্বের বহির্ভূত বলে মনে করতে পারেন, কিন্তু আমি ইন্টারভিউ করাকালীন সময়ে যদি কোনও পয়েন্টে পরিষ্কার উত্তর না পাই, আমি অনেক সময় ইন্টারভিউদাতাকে চ্যালেঞ্জ করি অথবা ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেই কিছু ক্ল্যূ ধরিয়ে দিয়ে। এটা নির্ভর করে প্রার্থীর উপর।

যাহোক ধান ভানতে শীবের গীত নিয়ে বসলে তো আর হবেনা, তারচেয়ে বরং যে মহতী (!) উদ্দেশ্য নিয়ে এই ব্লগ লিখতে বসা, সেটা নিয়েই এগোই। যদিও ইন্টারভিউ নিয়ে অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে চাই, তবুও লিখিত পরীক্ষা নিয়ে আলাদা কিছু না বললেও সেই ছোটবেলায় মুরব্বী বা শিক্ষকদের বলা সেই কথাগুলো সবাইকে স্মরণ করতে বলবো- প্রথমে প্রশ্নপত্র হাতে নিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় গোটা প্রশ্নপত্রটি পড়বে, তারপর যেগুলো সবথেকে ভালে জানো বা কমন পড়েছে সেগুলোর একটা ক্রমতালিকা তৈরী করবে, তারপর ঠাণ্ডা মাথায় উত্তরপত্রে লিখতে শুরু করবে। সবগুলোর উত্তর লেখা হয়ে গেলে একটা রিভিশন দিবে।

ইন্টারভিউগুলোতে মূলত তিনটি বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়ে থাকে- ইন্ট্রোডাকশন, টেকনিক্যাল এবং ইন্টারপারসোনাল। তবে বেশি সিনিয়র পদগুলোতে ইন্টারপারসোনাল এবং ম্যানেজারিয়াল দিকগুলোতেই বেশি গুরুত্বারোপ করা কয়। আমি এই বিষয়গুলো নিয়েই যতদূর পারি সংক্ষেপে আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করবো। জাস্ট রিমেমবার, এগুলো একান্তই আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং মতামতের শেয়ারিং। গুগলিং করে অজস্র আর্টিক্যাল পাবেন ইন্টারভিউশৈলীর উপর কিন্তু আমি তার ধারকাছ দিয়েও যাচ্ছিনা।

প্লিজ ইন্ট্রোডিউস ইয়োরসেলফ। হাউ ডু ইউ ফিল ইওরসেল্ফ বেস্ট ফর দিস পজিশন?

জীবনে মাত্র ১-২ বার যারা ইন্টারভিউ দিয়েছে, তারা সবাই এই প্রশ্নটার সাথে পরিচিত। বিভিন্নজনকে দেখেছি বিভিন্নভাবে এই প্রশ্নটাকে সামলাতে। কয়েকমাস আগে রিসেপশনিস্ট পদের ইন্টারভিউ নিতে বসেছিলাম ছুটির দিনে প্যানেলে কেউ আসতে চাচ্ছিলো না, তাই। সবথেকে চৌকশ, সবগুলো প্রথম শ্রেণী এবং প্রাণীবিদ্যায় সন্মান এবং স্নাতকোত্তরে মেধাতালিকায় স্থান অর্জনকারী মেয়েটি এই প্রশ্নের উত্তরে কেবলমাত্র তার বর্তমান এবং নিকট অতীতের একটা চাকরীর অভিজ্ঞতা বললো। আমি জানতে চাইলাম আরও কিন্তু সে বললো যে যেহেতু এই পদে তিন বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে তাই সে কেবলমাত্র তার সর্বশেষ তিন বছরের অভিজ্ঞতার কথাই বলেছে যদিও তার অভিজ্ঞতা কমপক্ষে ৫ বছরের। মেয়েটিকে নিতে পারিনি কারন তার বেতনের চাহিদা আমাদের সঙ্গতি থেকে অনক বেশি এবং তার চাহিদা তার বর্তমান চাকরীর তুলনায় যৌক্তিক।

তো এই প্রশ্নের উত্তরে আমি কি করি- আমি ছোটখাট একটা প্যারাগ্রাফ আগে থেকেই তৈরী করে রাখি এবং তা প্রায় সব ইন্টারভিউতে ঝেড়ে দেই। এর সুবিধা হলো আপনি তো আর নিজেকে বদলাতে পারবেন না প্রতিনিয়ত, তাই নিজেকে উপস্থাপিত করতে কি বলবেন সে কথাগুলো একটু গুছিয়ে রাখাই ভালো। অবান্তর, অপ্রাসঙ্গিক এবং ব্যাক্তিগত প্রসঙ্গ এখানে একেবারেই আনবেন না। অনেককে দেখেছি ব্যাক্তিগত অনেক কথা বলে ফেলে ইন্টারভিউয়ারের অনুগ্রহ পাওয়ার লক্ষে। মনে রাখবেন, এটা কোনওভাবেই আপনাকে সাহায্য তো করবেই না বরং আপনার বিরুদ্ধেই এটা কাজ করবে। কিন্তু বিরুদ্ধে কেনা? আমি প্যানেলে থাকলে আমি এটাকে এভাবে দেখি যে, যে ব্যাক্তি ইন্টারভিউ দিতে বসে নিজের ব্যাক্তিগত প্রতিকূল পরিস্থিতি বা বিভিন্ন ইনকনভিনিয়েন্ট প্রসঙ্গের অবতারণা ঘটিয়ে সুবিধা নিতে চায়, তাকে নিয়োগ করা হলে সে কর্মজীবনেও এই একই ঘটনা অহরহ ঘটাতে থাকবে। নাম বলুন, সর্বশেষ নেওয়া ডিগ্রিটা বলুন, প্রাসঙ্গিক ট্রেনিঙের কথা বলুন, কি অ্যাসপিরেশন থেকে এই পদে আবেদন করেছেন, তা সংক্ষেপে বলুন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে আমি কেনো নিজেকে এই পদের জন্যে শ্রেষ্ঠ প্রার্থী বলে মনে করি? এটা একটা সহজ আবার জটিল প্রশ্ন। আপনি নিজেকে এই পদের উপযুক্ত বলে মনে করেছেন, তাই তো আবেদন করেছেন, তাইনা? তাহলে নিজেকে শ্রেষ্ঠ প্রার্থী মনে করতে দোষ কোথায়? কিন্তু আবার কথা আছে, আপনি কি অন্য আবেদনকারীদের চেনেন বা তাদের যোগ্যতা সম্পর্কে জানেন যে আপনি নিজেকে শ্রেষ্ঠ বলে দাবী করছেন? তো, আমি এই প্রশ্নের ক্ষেত্রে কি উত্তর দেই দেখি- আমি এখানে নিজেকে ‘বেস্ট’ দাবী না করে ‘বেস্ট ফিট’ বলে দাবী করি। “আয়্যাম নট শিওর ইফ আয়্যাম দ্য বেস্ট ক্যান্ডিডেট ফর দিস পজিশন বাট গিভেন মাই রিলিভ্যান্ট স্কিল সেটস এ্যান্ড সাবস্ট্যানশিয়াল এক্সপিরিয়েন্স আই স্ট্রংলি বিলিভ মাইসেলফ এ্যাজ ওয়ান অব দ্য মোস্ট সুইটেবল ক্যান্ডিডেট।” অথবা ধরুন এরকম, “আয়্যাম নট শিওর ইফ আয়্যাম দ্য বেস্ট ক্যান্ডিডেট ফর দিস পজিশন বাট আই স্ট্রংলি বিলিভ দ্যাট মাই রিলিভ্যান্ট স্কিল সেটস এ্যান্ড সাবস্ট্যানশিয়াল এক্সপিরিয়েন্সেস ফিট বেস্ট ফর দিস পজিশন।”

একটা কথা সবসময় মনে রাখবেন যে ইন্টারভিউ হচ্ছে আপনার যোগ্যতা বিক্রির একটা বাজার। আপনাকেই দায়িত্ব নিতে হবে চাকরীর বাজারে আপনাকে যোগ্য প্রমানের। আর সেই বাজারে ঢোকার গেইট পাস নিতে হবে ইন্টারভিউতে। অনেক যোগ্য চাকরী প্রার্থীর ভিড়ে বাছাইতে টিকতে হলে একটা ভালো গোছানো সিভি যেমন প্রয়েজন; তেমনই, ইন্টারভিউতে আপনাকে যোগ্য বলে প্রমান করতে হবে। অবান্তর ও অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তা যেমন ইন্টারভিউতে বলা যাবেনা, তেমনই যা বলা প্রয়োজন তা ভুলে যাওয়া যাবেনা। এই ধরুন, আপনি পাবলিক হেলথ প্রোমোটর পদের ইন্টারভিউ দিচ্ছেন। এখানে আপনি এককালে দ্বিতীয় বিভাগ লীগে ক্রিকেট খেলতেন বা একটা ব্যান্ডে বেজ গিটার বাজাতেন এগুলো বলা থেকে বেশি প্রয়োজনীয় হচ্ছে আপনি সিভিল এন্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিঙে এমএস করছেন- এটা বলা; আপনার একটা এসংক্রান্ত লেখা প্রকাশিত হয়েছে- এটা বলা; অথবা আপনি আরবান হেলথ নিয়ে একটা রিসার্চ প্রজেক্টে কাজ করেছেন- এটা বলা। আপনি যদি আপনার যোগ্যতা সঠিকভাবে ইন্টারভিউয়ারের সামনে তুলে ধরতে না পারেন, তবে কিন্তু আপনি পাওয়া সূযোগ হেলায় হারালেন এবং অন্যেরা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আপনার থেকে এগিয়ে গেলো।

পরের পর্বে ইন্টারভিউয়ের বাকী বিষয়গুলো নিয়ে শেয়ারিঙের আশা রাখছি।


মন্তব্য

তারেক অণু এর ছবি
রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- অণু।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

তিথীডোর এর ছবি

চলুক

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- তিথীডোর।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

তানিম এহসান এর ছবি

চলুক।

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- তানিম।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

এবিএম এর ছবি

চলুক। চলুক

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

ধুসর জলছবি এর ছবি

আহারে, আমি যে কবে মানুষের ভাইভা নিতে পারব মন খারাপ ে জীবন টা ভাইভা দিতে দিতেই শেষ হয়ে গেল। ( গভীর দীর্ঘশ্বাসের ইমো হবে )

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

দিন তো সামনে পড়ে আছে ধুসরদি। এমন সময় আসবে যখন ভাইভা নেওয়ার কথা কথা শুনলেই বিরক্তিতে ভ্রুকুঞ্চিত করবেন।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

চরম উদাস এর ছবি

এই না কাজের কাজ হইছে। লোকজন আরও আমার কিভাবে সাক্ষাৎকার দিবেন পড়ে গতকয়েকদিন ধরে আমারে ফেসবুকে জ্বালায়ে মারতেছে। সবাই পরামর্শ চায় নানা বিষয়ে। এতো করে বুঝাইলাম আমার বুদ্ধি শুনলে এই জীবনে আর চাকরী করে খেতে হবে না ইয়ে, মানে... । এখন থেকে যে কেউ টিপ, আই মিন টিপস (অনেকগুলো টিপ) চাইলে আপনার কাছে পাঠায়ে দিবো খাইছে

Amit এর ছবি

আপনিও একটা দিন না।

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

আমাকে ধোলাই খাওয়ায়েন না ভাই! আমি তাইতো ডিসক্লেইমার দিয়ে রেখেছি আগেই।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

আমার জীবনে মোট করা চাকুরীর সংখ্যা খুবই কম, ইন্টারভিউ দেবার অভিজ্ঞতাও কম। কিন্তু আমার ইন্টারভিউ নেবার অভিজ্ঞতা ব্যাপক। টেবিলের ঐপাশে বসে লোকে কী ভাবে আর কী করে সেটা এখানে আমি আর বললাম না।

তবে যারা চাকুরীর আবেদন করছেন তাদের প্রতি কয়েকটা সনির্বন্ধ অনুরোধ করিঃ

১। চাকুরীতে চাওয়া যোগ্যতা যদি আপনার না থাকে তাহলে দয়া করে আবেদন করবেন না।
২। চাকুরীটি করার ক্ষেত্রে কী কী শর্তাবলী প্রযোজ্য সেগুলো উল্লেখ থাকলে আগেই বিবেচনা করে দেখুন আপনি সেগুলো মানতে রাজী আছেন কিনা। যদি মানতে রাজী না থাকেন তাহলে আবেদন করবেন না। আর শর্ত যদি আগে উল্লেখ না থাকে তাহলে ইন্টারভিউর শুরুতে সেগুলো জেনে নিন। পছন্দ না হলে সরাসরি না করে দিন।
৩। চাকুরীটি যদি নির্ধারিত সময়ের জন্য হয়ে থাকে (ধরুন, এক বছর বা দুই বছর) তাহলে বিবেচনা করে দেখুন আপনি সেই সময়ের পুরোটা দিতে পারবেন কিনা। দিতে না পারলে আবেদন করবেন না।
৪। চাকুরীটি যদি অনির্ধারিত সময়ের জন্য হয় তাহলে দেখুন কমপক্ষে ছয় মাসের জন্য আপনি চাকুরীটি করতে পারবেন কিনা। না পারলে আবেদন করবেন না।
৫। প্রথমেই দেখুন চাকুরীদাতা প্রতিষ্ঠানটি আপনার আকাঙ্খার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা। না হলে আবেদন করবেন না।
৬। নিজের জীবনের লক্ষ্য ঠিক করুন। মানে আপনি কোন সেক্টরে কাজ করবেন সেটা ঠিক করুন। বার বার লক্ষ্য পাল্টাবেন না। একবার সেলসে, একবার ফাইন্যান্সে, একবার রিসার্চে, একবার অপারেশনে - এমন কাজ করবেন না। এতে আপনার পক্ষে বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠা সম্ভব হবে না। চাকুরীদাতাও আপনার ব্যাপারে ভাল ধারণা পোষন করবেন না।
৭। নির্বাচিত হলে চাকুরীদাতাকে নিজের প্রয়োজনগুলো পরিষ্কারভাবে জানান এবং সেগুলোর কতটুকু তারা পূরণ করতে পারবে সেটাও জেনে নিন। নিজের চাওয়া জানাতে যেমন কোন অস্পষ্টতা রাখবেন না, তেমন চাকুরীদাতার হাওয়াই আশ্বাসেও আস্থা রাখবেন না।
৮। আবেদন পত্রে ঠিক যা যা চাওয়া হয়েছে, ঠিক সেগুলোই জানান বা দিন। বাড়তি কোন সনদপত্র যোগ করবেন না। বৃত্তান্তে পেশাবহির্ভূত ব্যক্তিগত কথন পরিহার করুন। এক ধরনের পদে আবেদন করে অন্য ধরনে পদে আপনার কী বিশাল যোগ্যতা বা অবদান আছে সেসব বলার দরকার নেই।
৯। আপনি যেসব ভাষা জানেন বলে দাবি করবেন সেসব ভাষার কোনটা বলতে, লিখতে, পড়তে বা শুনে বুঝতে পারেন সেটা পরিষ্কার ভাবে উল্লেখ করুন।
১০। আগের চাকুরীগুলোর বিবরণ দেবার সময় যতদূর সম্ভব অল্প কথায় গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো তুলে ধরুন। আপনার বৃত্তান্তে কেউ মহাভারত পড়তে আগ্রহী নয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

তানিম এহসান এর ছবি

প্রতিটি পয়েন্ট তাৎপর্যপূর্ণ, আপনার এই মন্তব্যটি অনেক কাজে দেবে নতুন প্রজন্মের চাকুরী প্রার্থীদের জন্য। বিশেষ করে ৬ নাম্বার পয়েন্টটির উপর আমি আলাদা গুরুত্ব দেয়ার জন্য প্রতিমন্তব্য করলাম।

বেতন কিংবা অন্যান্য নিশ্চয়তার জন্য অনেকেই খুব দ্রুত তার কাজের সেক্টর পালটিয়ে ফেলে, ধৈর্য ধরে রাখতে পারেনা। নিজ নিজ ক্ষেত্রে সময় নিয়ে একটু অপেক্ষা করতে পারলে ভবিষ্যতে চাকরীর বাজারে নিজেকে একটা দরকষাকষির জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায়, তখন এমনকি চাকুরীর বাজারটা শুধুমাত্র দেশে সীমাবদ্ধ থাকেনা। কেন জানিনা, নতুন প্রজন্মের জন্য এই কথাটা আলাদাভাবে বলে যেতে ইচ্ছে করলো।

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

৬ নম্বর পয়েন্টে যতোটা না চাকরীর বাজারের দুরাবস্থা তার থেকে বেশি সমস্যা প্রার্থীদের দৃষ্টিভঙ্গির যেটা পাণ্ডবের মন্তব্যের জবাবে লিখেছি। তবে আমি আপনার মতের সাথে সম্পূর্ণ একমত।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

তুমি যতগুলো পয়েন্ট তুলে ধরলে তার সবগুলোই খাঁটি এবং কাজের কথা। কিন্তু আমার অভিজ্ঞতা বলে চাকরীপ্রার্থীরা তোমার উল্লিখিত ১০ টা পয়েন্টই সর্বপ্রথমে ইগনোর করে যায়। এটা যেনো কমন একটা ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি উপরোক্ত বিষয়ে কিছু মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি জেনেছি। এর কিছু ফানি আর কিছু বাস্তবতা, তবুও শেয়ার করি-

১। চাকুরীতে চাওয়া যোগ্যতা যদি আপনার না থাকে তাহলে দয়া করে আবেদন করবেন না।

উত্তরঃ যোগ্যতা কি আর একদিনে হয়। চাকরী দেন স্যার, শর্টেস্ট টাইমের মধ্যে কাজ শিখে যাবো।

২। চাকুরীটি করার ক্ষেত্রে কী কী শর্তাবলী প্রযোজ্য সেগুলো উল্লেখ থাকলে আগেই বিবেচনা করে দেখুন আপনি সেগুলো মানতে রাজী আছেন কিনা। যদি মানতে রাজী না থাকেন তাহলে আবেদন করবেন না। আর শর্ত যদি আগে উল্লেখ না থাকে তাহলে ইন্টারভিউর শুরুতে সেগুলো জেনে নিন। পছন্দ না হলে সরাসরি না করে দিন।

উত্তরঃ আগে তো ঢুকে নেই, তারপর দেখা যাবে। বসকে সিস্টেম করে ফেলবো।

৩। চাকুরীটি যদি নির্ধারিত সময়ের জন্য হয়ে থাকে (ধরুন, এক বছর বা দুই বছর) তাহলে বিবেচনা করে দেখুন আপনি সেই সময়ের পুরোটা দিতে পারবেন কিনা। দিতে না পারলে আবেদন করবেন না।

৪। চাকুরীটি যদি অনির্ধারিত সময়ের জন্য হয় তাহলে দেখুন কমপক্ষে ছয় মাসের জন্য আপনি চাকুরীটি করতে পারবেন কিনা। না পারলে আবেদন করবেন না।

উত্তরঃ চাকরীর বাজারের যে অবস্থা, তাতে ঢুকে নেই আগে। পরে এক্সটেনশন হলে হোক, না হলে কথা নাই।

৫। প্রথমেই দেখুন চাকুরীদাতা প্রতিষ্ঠানটি আপনার আকাঙ্খার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা। না হলে আবেদন করবেন না।

উত্তরঃ জব মার্কেটে এতো বাছতে গেলে চলেনা।

৬। নিজের জীবনের লক্ষ্য ঠিক করুন। মানে আপনি কোন সেক্টরে কাজ করবেন সেটা ঠিক করুন। বার বার লক্ষ্য পাল্টাবেন না। একবার সেলসে, একবার ফাইন্যান্সে, একবার রিসার্চে, একবার অপারেশনে - এমন কাজ করবেন না। এতে আপনার পক্ষে বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠা সম্ভব হবে না। চাকুরীদাতাও আপনার ব্যাপারে ভাল ধারণা পোষন করবেন না।

উত্তরঃ আমি মোর অর লেস সব কাজই পারি। যেগুলোতে ঘাটতি আছে, খুব তাড়াতাড়ি ধরে ফেলবো।

৭। নির্বাচিত হলে চাকুরীদাতাকে নিজের প্রয়োজনগুলো পরিষ্কারভাবে জানান এবং সেগুলোর কতটুকু তারা পূরণ করতে পারবে সেটাও জেনে নিন। নিজের চাওয়া জানাতে যেমন কোন অস্পষ্টতা রাখবেন না, তেমন চাকুরীদাতার হাওয়াই আশ্বাসেও আস্থা রাখবেন না।

উত্তরঃ আরে জয়েন তো আগে করে নেই, তারপর দেখা যাবে কোম্পানীকে কিভাবে বাঁটে ফেলে সুবিধা নেওয়া যায়।

৮। আবেদন পত্রে ঠিক যা যা চাওয়া হয়েছে, ঠিক সেগুলোই জানান বা দিন। বাড়তি কোন সনদপত্র যোগ করবেন না। বৃত্তান্তে পেশাবহির্ভূত ব্যক্তিগত কথন পরিহার করুন। এক ধরনের পদে আবেদন করে অন্য ধরনে পদে আপনার কী বিশাল যোগ্যতা বা অবদান আছে সেসব বলার দরকার নেই।

এটা একটা কমন সমস্যা। কাগজপত্র না চাইলেও একগাদা জুড়ে দেয়। তবে আজকাল অনলাইন বা ইমেইলে আবেদনের সিস্টেমের কারনে এটা একটু কমেছে।

৯। আপনি যেসব ভাষা জানেন বলে দাবি করবেন সেসব ভাষার কোনটা বলতে, লিখতে, পড়তে বা শুনে বুঝতে পারেন সেটা পরিষ্কার ভাবে উল্লেখ করুন।

হাসালে পাণ্ডব, একবার এক স্বঘোষিত ফ্লুয়েন্ট ফরাসীভাষীকে ধরে বোঁজো আর কমঁ তালে ভূ ছাড়া আর কিছুই বের করতে পারিনি।

১০। আগের চাকুরীগুলোর বিবরণ দেবার সময় যতদূর সম্ভব অল্প কথায় গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো তুলে ধরুন। আপনার বৃত্তান্তে কেউ মহাভারত পড়তে আগ্রহী নয়।

অনেকেই ধারণা করে থাকে যে আগের চাকরীর ইতিহাস বয়ান করলে তা ইন্টারভিউতে মূল্যসংযোজন করে যেটা সম্পূর্ণ ভুল।

সবথেকে হতাশাজনক যে অনেক উচ্চশিক্ষিত এবং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রার্থী যাচ্ছেতাই মার্কা ১০-২০ পাতার সিভি জমা দেয়। মানুষের যেনো খেয়ে আর কাজ নেই ওনার মহাভারত পড়বে।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

তানিম এহসান এর ছবি

আরেকটা বিষয় যোগ করতে চাই, সিভি আর বায়োডাটা’র মধ্যে একদম কাঠামোগত পার্থক্য আছে, এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি, সিভি’তে ক্যারিয়ার-গোল বিষয়টা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হয়তো নিজস্ব মতামতকে প্রতিফলিত করেনা কিন্তু এটা দেখে কিন্তু অনেক চাকুরীদাতা ইমপ্রেসড হওয়ার চেষ্টা করেন।

আরেকটা বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ, সবাই নিজ পছন্দের কিংবা স্বচ্ছন্দ্যের জায়গাটুকু খুঁজে বের করার চেষ্টা করে কম, ফলে কাজ করতে করতে একটা যান্ত্রিকতা গ্রাস করে ফেলে। প্যাশন আর প্রফেশন এর জায়গাটায় একটা নূন্যতম সংযোগ থাকা খুব দরকার বলে আমি মনে করি, এর সাথে কাজটাকে ভালোবাসার একটা সম্পর্ক তৈরি হয়। (এক্ষেত্রে ‘থ্রি ইডিয়েটস’ এর উদাহরণ দিলে মনে হয় মানানসই হয় খুব)

আমি আরো দুইটা বিষয় দেখে খুব হতাশ হই,

১) কেউ ফিল্ডে যেতে চায়না, সবাই চায় ঢাকায় থাকতে, এর ফলে হাতেকলমে শেখায় যে কত বড় ঘাটতি থাকে তা চিন্তার বাইরে। শেখার আগ্রহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় চাকুরীতে দ্রুত উন্নতির ক্ষেত্রে। এটা ভাইভাতেও মনে হয় গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর, বিশেষ করে উন্নয়ন কর্মে।

২) “নয়টা-পাঁচটা চাকুরী করতে আসছি, আর কি?” --- এই এটিচ্যুড। ফলে কাজ খুঁজে নেয়ার যে মানসিকতা সেটার অভাব থাকে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই কিন্তু এটিচ্যুড এর গুরুত্ব দেয়া হয় খুব বেশি।

আপনার এই পোস্ট যে কতজনকে উপকৃত করবে! খুব ভালো লাগছে আমার হাসি

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

আরেকটা বিষয় যোগ করতে চাই, সিভি আর বায়োডাটা’র মধ্যে একদম কাঠামোগত পার্থক্য আছে, এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ

এটা বোঝার মানুষ খুব কমই দেখলাম। গতকাল আমার এক স্নেহাষ্পদ সহকর্মী বিদেশে একটা চাকরীর জন্যে আবেদন করবে, তাই আমাকে তার সিভি একটু দেখে দিতে বললো। আমি তাকে বললাম যে তার সিভি যদি ১১ পৃষ্ঠার হয় তবে আমার সিভি কতোবড়ো হওয়া উচিত। এরপর তাকে কিছু মৌখিক টিপস দিয়ে শেষে আমার একটা সিভি তাকে দিলাম সহায়ক হিসেবে। সে কেবলমাত্র তার ক্যারিয়ার সামারী লিখেছে পুরো এক পৃষ্ঠা জুড়ে। আমি তাকে বললাম যে যদি এমন লিখি তো কেমন হয়- I have 10 years of experience in overall administration and logistics, in specific, in procurement, property and general administrative management with international NOGs namely XXXX, XXXX, XXXX and XXXX in Asia and Africa. আর প্রতিনিয়ত আরেকটা অনুরোধ পাই যা আমাকে প্রচণ্ডরকম বিরক্ত করে। অনেক বন্ধু ৬ বা প্রায় ৬ ডিজিটের বেতনের চাকরী করে, তারা আমাকে অনুরোধ করে তাদের সিভি বানিয়ে দিতে। আজকাল অবশ্য বলতে শুরু করেছি যে তাদের সিভি বানিয়ে দেওয়ার মতো সময় আমার নেই সুতরাং তারা ইচ্ছে করলে আমার সিভি অনুকরণ করতে পারে। সিভিতে ক্যারিয়ার গোলে নিজস্ব মতামত প্রতিফলিত হওয়ার ব্যাপারটা আমার কাছে মনে হয় একান্তই ব্যাক্তিগত। কেউ যদি তার ক্যারিয়ার অ্যাসপিরেশন ঠিক না করে থাকে, সেটা একটা দুর্বলতা। হয়তো সবকিছু নিজের ইচ্ছেমতো চলেনা তবুও একটা গোল তো থাকতেই হয়। রায়েন্দা থেকে নৌকা ছাড়লে কোথায় যাবেন তা ঠিক করেই ছাড়া উচিত। নইলে শ্রোতের টানে আর বাতাসের ঠ্যালায় নৌকা আপনার সন্যাসী, মোড়েলগঞ্জে, ফুলহাতার ঘাটে ঠ্যালাগুতো খেতে খেতে কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা কেউ জানবে না। আর এটার জন্যে কিন্তু আহামরী কিছু লিখতে হয়না। ধরি, বর্তমানে আপনি একটি বেসরকারী সংস্থার হেলথ প্রোগ্রামের ফিল্ড অফিসার। এই মুহুর্তে আপনার সিভিতে খুব সহজেই লিখতে পারেন, I aspire for senior managerial position in the course of my professional growth and to contribute to health sector at the national and international strategy and policy level. আর কি বিশেষ কিছু প্রয়োজন আছে গোল ব্যাক্ত করতে?

আসলে ওয়ার্কিং ফ্রম হার্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সবাই বেতনের জন্যে চাকরী করি কিন্তু তার সাথে কমিটমেন্ট খুবই প্রয়োজনীয়। প্রথমত কাজকে ভালোবাসতে হবে, আর দ্বিতীয়ত যাদের জন্যে কাজ (বিশেষত উন্নয়ন সেক্টরে), তাদেরকে ভালোবাসতে হবে। কমিটমেন্টের অভাবে কিন্তু ব্যাক্তিগত দক্ষতা ক্ষতিগ্রস্থ হয়, এটা প্রমাণিত সত্যি।

আমি বরাবরই ফিল্ডে থাকতে চেয়েছি কিন্তু এই অবেলায় এসে আমাকে প্রায়শই ঢাকায় থাকতে হচ্ছে। কাজ শিখতে ফিল্ডে যাওয়ার কোনও বিকল্প নেই। কিছুদিন আগে আমার সাবেক সংস্থার এক টিম মেম্বার আমার বর্তমান সংস্থায় ইন্টারভিউ দিতে এসেছিলো। আমি বোর্ডে ছিলাম না। সে লিখিত এবং ইন্টারভিউতে সর্বোচ্চ মার্কস পেয়েও একটা ফাউল কথার জন্যে চাকরীটা পায়নি। তার শিক্ষণে আগ্রহ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছিলো। সে বলে দিয়েছিলো যে এই পজিশনে চাকরী হলেও তার এখান থেকে শেখার কিছু নেই, সে এই পজিশন বিষয়ক সবকিছুই জানে। বিদেশী হায়ারিং ম্যানেজার জানতো এই ছেলে আমার সাবেক সহকর্মী এবং সেই কারনেই সে খুবই অস্বস্থি বোধ করছিলো একে বাদ দিতে পাছে আমি রেগে যাই। শেষে সে আমার কাছে এলো। আমি শুনে একবাক্যে বলে দিলাম একে বাদ দিয়ে সেকেন্ড স্কোরারকে অফার দিতে। পোঁদ পাকামীর খেসারত, আমার কিচ্ছু করার ছিলো না।

করণিকের মানসিকতা নিয়ে পেশাগত উন্নয়ন বেশিদুর করা সম্ভব নয়। ৯টা-৫টা মানসিকতা আপনাকে ইনোভেটিভ করবে না বরঞ্চ টাইপড করে ফেলবে। এর অনিবার্য ফল হচ্ছে আপনি নিজের উন্নয়নের রাস্তা নিজেই বন্ধ করছেন। আমি ব্যাক্তিগতভাবে ক্যারিয়ারের শুরুতে সিনিয়রদের কাছে লেগে থেকেছি কাজ শেখার জন্যে, তাদের কাজ করে দিয়েছি। এগুলো করেছি নিজের স্বার্থেই কারন আমার পরিষ্কার 'গোল' ছিলো। আজকালকার যুগে সেই মান্ধাতার আমলের ম্যানেজমেন্ট আর চলে না। আজকাল ম্যানেজারকেও আউটপুট দেখিয়ে নিজের চাকরী ঠিক রাখতে হয়। ৯টা-৫টার যুগ শেষের পথে, কেবলমাত্র কিছু সরকারী অফিস ছাড়া এটা পাওয়া যাবে না। আজকাল পারফরম্যান্স হচ্ছে আউটপুট ওরিয়েন্টেড। হাজিরা দিয়ে বেতন নেওয়ার দিন শেষ।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

কল্যাণ এর ছবি

চলুক চলুক চলুক

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

তিথীডোর এর ছবি

পাণ্ডবদার মন্তব্যে উত্তম জাঝা!
রাতঃস্মরণীয়দার বিশ্লেষণ পড়ে অবশ্য নার্ভাস লাগছে।

নিজের জীবনের লক্ষ্য ঠিক করুন। মানে আপনি কোন সেক্টরে কাজ করবেন সেটা ঠিক করুন। বার বার লক্ষ্য পাল্টাবেন না।

আমি অতীব চুনোপুঁটি গোছের পাবলিক, তবে এই লক্ষ্যহীনতার কারণে গতবছরের পুরোটা জুড়ে বেশ ছ্যাঁচা খেয়েছি। ইয়ে, মানে...

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

রাতঃস্মরণীয়দার বিশ্লেষণ পড়ে অবশ্য নার্ভাস লাগছে।

আপু, এখানে নার্ভাস লাগার মতো কিছু নেই আর আপনাদের নার্ভাস করার জন্যেও আমি এই লেখাটা লিখছি না। আসলে গন্তব্য হতে হবে এ্যাকাডেমিক এবং অভিজ্ঞতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ধরুন পদার্থবিজ্ঞানে মাস্টার্স করে এবং বিষয়সংশ্লিষ্ঠ চাকরী করে যদি আবার এ্যাকাউন্টিং লাইনে আসতে চান তো অবশ্যই সেটা সম্ভব। কিন্তু আপনাকে শুরু করতে হবে ফ্রন্টলাইন থেকে যেহেতু আপনার সংশ্লিষ্ঠ বিষয়ে পড়াশুনা বা অভিজ্ঞতা নেই। এজন্যেই লক্ষ্য ঠিক করাটা অতীব জরুরী।

আরেকটা কথা বলে যাই, অনর্থক হতাশা মানুষকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। নিজের সক্ষমতাকে কখোনেই আন্ডারমাইন করবেন না। এটা এক ধরনের ক্যাপাবিলির ডেফিসিয়েন্সি সিনড্রোম। হিনমন্যতা থেকে কিন্তু সক্ষমতা লোপ পেতে শুরু করে। এরকম অনেককেই দেখেছি। আপনি যে একজন চুনোপুটি নন, সেটা আপনাকে বুঝতে হবে। নিজের সামর্থ এবং দুর্বলতার বিশ্লেষণ করুন, খুঁজে বের করুন কোথায় আপনার উন্নতির প্রয়োজন এবং সেটা কিভাবে সম্ভব। আরও খুঁজে বের করুন কোন সেক্টরের জন্যে আপনি সবথেকে সক্ষম, এবং সেই সেক্টরে চেষ্টা করতে থাকুন।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

কল্যাণ এর ছবি

পান্ডবদা আপনি যে পয়েন্টগুলো বলেছেন সেগুলো নিঃসন্দেহে খুবি জরুরী। কথা হচ্ছে দেশের চাকরীদাতা বা সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীরা কি এইগুলার মূল্যায়ন করে? অন্তঃত আমি যখন সাক্ষাৎকার দিয়ে বেড়াইতাম এইগুলার কোন দাম ছিলো না হাসি

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

জ্বি, করে। আমি দেশেই আছি, এখানেই কাজ করছি, ইন্টারভিউ যা নিতে হয় সেটা দেশে চাকুরী করার জন্যই। আমরা ইন্টারভিউ বোর্ডে প্রায়ই বাইরের বিশেষজ্ঞ রাখি (পদ বুঝে)। আমার মন্তব্যে উনাদের মতামত/মনোভাবও প্রতিফলিত হয়েছে।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

আমরা ইন্টারভিউ বোর্ডে প্রায়ই বাইরের বিশেষজ্ঞ রাখি (পদ বুঝে)।

একমত। কিছুকাল আগে শ্রীলঙ্কায় স্ট্রাকচারাল রিভিউয়ের জন্যে কন্সাল্টিং ফার্ম নিয়োগে আমি বোর্ডের প্রধান ছিলাম। সেখানে আমরা একজন চার্টার্ড ইঞ্জিনিয়ারকে ইন্টারভিঊতে আমাদের সাথে থাকার জন্যে ডেকেছিলাম যেহেতু ওই ফার্মগুলোকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করার মতো পর্যায়ের দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী আমাদের টিমে ছিলো না।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

তানভীর এর ছবি

পাণ্ডবদার প্রথম পাঁচটা পয়েন্টেই দ্বিমত। আবেদনকারীর যোগ্যতা, আগ্রহ এসব পরিমাপের দায়িত্ব তো ইন্টারভিউ বোর্ডের। আমার মতে এবং চাকরি খোঁজার স্বল্প অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, যদি চাকরির প্রয়োজন হয় তবে পাবার সম্ভাবনা নাই বা কম এমন পদের জন্যও আবেদন করা উচিত। কারণ, আপনি যেটা মনে করছেন ইন্টারভিউ বোর্ড আপনার যোগ্যতা সম্পর্কে তেমন নাও মনে করতে পারে। আমার মনে আছে, যখন বুয়েট থেকে পাশ করে বের হচ্ছিলাম তার একটু আগেই চাকরি খোঁজা শুরু করেছিলাম। কিন্তু প্রথম ব্যাচ হলে যা হয়- খুব হতাশা নিয়ে দেখলাম কোন প্রতিষ্ঠানেই আমাদের জন্য কোন চাকরি নেই। আমি তখন বিএসসি (সিভিল) প্রার্থী চাওয়া পদগুলোতে আবেদন করা শুরু করলাম। আমি তখন আবেদনপত্রে দুটো লাইন বেশি লিখতাম- ১। আমার সিভিল ইঞ্জিঃ ডিগ্রি নাই, কিন্তু জব ডেসক্রিপশনে যা আছে তার সবই আমি পারি ২। আমি এখন শেষ সেমিস্টারে, খুব শিঘ্রী পাশ করে বের হবো। আমাকে অবাক করে দিয়ে 'কিষান গ্রুপ' নামের এক কোম্পানি থেকে খুব তাড়াতাড়ি একটা ইন্টারভিউ কার্ড এলো এবং ইন্টারভিউ দিয়ে 'সিভিল' প্রার্থী চাওয়া পদে আমি চাকরিও পেলাম। যদিও ততদিনে ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হয়ে যাওয়ায় এবং পরীক্ষা শেষে এলজিইডিতে চাকরি পেয়ে যাওয়ায় এই চাকরিটা আমি করি নি, তবু এতে অনেক শিক্ষণীয় ব্যাপার ছিলো। আমি যদি সিভিলের প্রার্থী চাচ্ছে দেখে আবেদন না করতাম, তবে চাকরি তো আমাকে কেউ দিতো না!

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

আপনার কথাও ঠিক আছে। কিন্ত এটা প্রতিষ্ঠান ডিপেন্ডেন্ট। যেসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কঠোরভাবে ক্রাইটেরিয়া, বেঞ্চমার্ক, ইত্যাদি মেইনটেইন করা হয়, তাদের পক্ষে হয়তো ফ্লেক্সিবল হওয়া সহজ হয় না।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

শাব্দিক এর ছবি

চলুক পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

তাপস শর্মা এর ছবি

চলুক
নাহ, আপনাদের পরামর্শ এর জোরে মনে হয় আমার মত ঠনঠন গোপাল ওরফে বেকারচন্দ্র-এরও মনে হয় চাকরি হয়েই যাবে। দেঁতো হাসি

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

পরামর্শ নেওয়া সব সময়েই ভালো তবে পরামর্শ শোনার পর তা নিজের বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করে তার থেকে 'বেস্ট ফিট' অংশটুকু নেওয়া উত্তম। তাছাড়া সবাই যে সৎ পরামর্শ দেবে এর কোনও নিশ্চয়তা নেই। আপনাকে বুঝতে হবে পরামর্শের কোন অংশটুকু এবং কতটুকু আপনার কাজে লাগবে। এই ধরুন, আপনি ব্যাংকের অফিসারের পদে ইন্টারভিউতে যাবেন, আমি আপনাকে পরামর্শ দিলাম যে নিজেকে উপস্থাপনার সময় আপনার ফাইনান্সিয়াল সার্ভিসে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি আপনার যে চারটে কবিতার বই বেরিয়েছে এটা বলতে ভুলবেন না। এখন আপনার ব্যাপার আপনি এই পরামর্শের কতটুকু নেবেন। আপনার জায়গায় আমি হলে কখোনোই কবিতার বই বেরোনোর কথা বলবো না যদি না আমাকে এক্সট্রা কারিকুলা সম্পকে কিছু জিজ্ঞেস করা হয়। আসলে ইন্টারভিউ ফেস করা একটা কৌশল। আত্মবিশ্বাস আর সাথে প্রাসঙ্গিক জ্ঞ্যান ও অভিজ্ঞতা। অনেক মেধাবী এবং অভিজ্ঞ প্রার্থীকে দেখেছি ইন্টারভিউ প্যানেলের সামনে নিজেকে সঠিকভাবে মেলে ধরতে পারেনা। ফলে যোগ্যতা থাকা সত্বেও ব্যার্থ হতে হয়।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

কল্যাণ এর ছবি

চলুক

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

Dohar এর ছবি

ধুর, খালি ডাটা, কোন ইনফরমেশন নাই।

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

আপনি যদি পুরো লেখাটা পড়ে, ডেটা ও ইনফরমেশনের সঠিক পার্থক্য বুঝে এই মন্তব্যটা করে থাকেন, তবে আমাকে গোটা লেখায় ব্যবহৃত একটা 'ডেটা' দেখান দয়াকরে। ধন্যবাদ।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

কুমার এর ছবি

চলুক বুকমার্ক দিয়ে রাখলাম।

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

উচ্ছলা এর ছবি

চমৎকার পোস্ট চলুক চলুক

আমার জীবনের প্রথম ফুল-টাইম চাকরী হয়েছিল বাংলাদেশ হাইকমিশন, অস্ট্রেলিয়াতে। কাজটি পেয়েছিলাম সরাসরি ‘নেটওয়ার্কিং’ করে। ফাইনাল সেমেস্টারের সময় পহেলা বৈশাখ অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার সাহেব প্রধান অতিথী হয়ে এসেছিলেন আমাদের শহরে। নিজে যেচে গিয়ে পরিচিত হয়েছি, 'বিদেশ থেকেই দেশের জন্য কাজ করতে ইচ্ছুক' - বলে হালকা আলাপ জমিয়েছি হাসি এবং অনুরোধ করেছি, তাঁর প্রতিষ্ঠানে শিক্ষানবীশ কোনো পদ খালি হলে আমাকে বিবেচনায় রাখতে। ঠিক এক মাস পর ভদ্রলোক নিজেই ফোন করে ইন্টারভিও দিতে ডাকলেন এবং জব অফার করলেন পরিশেষে।

ব্যক্তিগত ঘটনার অবতারনা করলাম ‘নেটওয়ার্কিং’ বিষটির সুফল সম্পর্কে জানাতে। 'নেটওয়ার্কিং' এখন অনেক বড় একটা ফ্যাক্টর এবং এই ব্যাপারটির পুরোপুরি এ্যাডভ্যান্টেজ নেয়া উচিৎ চাকরিপ্রার্থীদের। ফেইসবুক হলো নেটওয়ার্ক এবং কানেকশান তৈরি করার দারুন মাধ্যম। এই সুফল যে কী অসীম সুদুরপ্রসারী, আমি নিজে তার সাক্ষী। আফসোস, আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা ফেইসবুক অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিচিং করার, ব্যক্তিগত রাগ-ক্রোধ প্রশমনের আর অমুক-তমুকের সেক্সটেপ চাউর করার কাজে ব্যবহার করে।

In most of the cases, ‘qualification’ and ‘experience’ alone aren’t gonna cut it. পাশাপাশি আপনার বিনয়, আত্মবিশ্বাস, ইতিবাচক ব্যক্তিত্ব, এবং হাসিমুখ আপনাকে নির্বাচিত হবার ব্যাপারে বিরাট ভূমিকা রাখে।

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

ধন্যবাদ উচ্ছলা। নেটওয়ার্কিং এর অনেক সুফল আছে। একজন পটেনশিয়াল নিয়োগকর্তার সাথে যদি আপনার ভালো নেটওয়ার্কিং থাকে তবে এর সুফলটা হচ্ছে সেই নিয়োগকর্তা আপনার সক্ষমতা সম্পর্কে ভালো জানেন এবং এ'ও জানেন যে আপনি আদৌ এই পদের জন্যে উপযুক্ত কিনা। এর ফলে নিয়োগকর্তার একটা স্বস্তি অন্তত থাকে যে প্রার্থী এই পদের উপযুক্ত। ভালো ইন্টারভিউর কারনে একজন প্রার্থী চাকরী পেয়ে যেতে পারে সেই পদের জন্যে পরিপূর্ণ উপযুক্ত না হয়েও। সেক্ষেত্রে জানাশোনা থাকলে নিয়োগকর্তার জন্যে একটা জাজমেন্ট করতে সুবিধা হয়। তবে ফেয়ার কম্পিটিটিভ প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে নিয়োগ হলে এই নেটওয়ার্কিং কতটুকু কাজে আসে সেটা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়। ব্যাক্তিগতভাবে আমি যা করি, যতোই পরিচিত থাকুক না কেনো, প্রার্থী যদি কোয়ালিয়াইং বেঞ্চমার্ক ছুঁতে না পারে, আমি কিছুই করিনা তার জন্যে। এটা আমার কাছে অনৈতিক মনে হয়। এতে আমাকে অনেকে ভুল বোঝে কিন্তু আমার এতে কিছুই করার নেই। তবে নেটওয়াকিং থাকলে সবথেকে যে উপকারটা হয় তা হচ্ছে চাকরীর বাজার সম্পর্কে ভালো খোঁজখবর পাওয়া যায়। শুধু চাকরী কেনো, ব্যবসা বা যে কোনও ক্ষেত্রে তথ্যপ্রাপ্তিতে নেটওয়ার্কিং অতুলনীয়।

শেষ প্যারার সাথেও একমত। বিশেষ করে আমরা যাকে বডি ল্যাংগুয়েজ বলি, ইন্টারভিউতে এর অবদান অপরিসীম। আমি পরের পর্বে এগুলো নিয়ে আরও বিস্তারিত লিখবো আশাকরি। এবার তো কেবলমাত্র ইন্ট্রোডাকশন নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করলাম। পরের পর্বে টেকনিক্যাল এবং বিশেষ করে ইন্টারপার্সোনাল অংশ নিয়ে আলোচনা করবো।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

Dohar এর ছবি

হ্যাঁ, তা তো বটেই। দেশে আমরা খুব ‘নেটওয়ার্কিং’ পারি বলেই তো Nepotism অনেকটা ডাল-ভাত হয়ে গেছে। আরও চলুক। মামা-চাচা-খালু আর নেটওয়ার্কিং ছাড়া ভবিষ্যৎতে আর কেউ যেন চাকুরি না পায়।

চরম উদাস এর ছবি

নেটওয়ার্কিং আর Nepotism এর মাঝে অনেক তফাৎ আছে আসলে। আমারও আগে ধারণা ছিল দেশের চাকরী মামা চাচার জোরে আর বিদেশে গেলে যোগ্যতায়। আমেরিকার ক্ষেত্রে এতোটুকু বলতে পারি চাকরী, বিশেষ করে ইন্টার্ভিউ পাবার জন্য এক নম্বর যোগ্যতা হচ্ছে নেটওয়ার্কিং। নেটওয়ার্কিং আর Nepotism এর মধ্যে পার্থক্য বুঝতে হলে LinkedIn টাইপের নেটওয়ার্কগুলোতে নিয়মিত হতে হবে।

উচ্ছলা এর ছবি

একমত। দোহার ঠিকই বলেছেনঃ আমাদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে ‘নেটওয়ার্কিং’ আর 'Nepotism' এর মধ্যে কোনো তফাৎ নেই হাসি

তবে বহির্বিশ্বে সোশাল নেটওয়ার্কিং-এর মাধ্যমে প্রার্থীর চেনা-জানার গন্ডি বাড়ানোর দক্ষতাকে ইতিবাচক ভাবেই ধরা হয়। এটি 'ইন্টার পার্সোনাল স্কীল'। যিনি অলরেডী যোগ্য, তার ইন্টারপার্সোনাল স্কিল অনন্যসাধারন হলে, চাকরীটি তিনিই পাবেন নিঃসন্দেহে হাসি

আর অযোগ্য কাউকে কেবল 'চেনা-জানা' হবার সুবাদে চাকরী দিলে চাকরীদাতাকেই চাকরী হারাবার ফাঁপরে থাকতে হয়। যা কিনা বাংলাদেশে আমার-আপ্নার পূর্বপুরুষেরা জীবনেও দেখেনি।

কল্যাণ এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

কল্যাণ এর ছবি

রাতঃদা দয়া করে হাসবেন না, কিন্তু আমার মনে হয় এখন সাক্ষাৎকার নেওয়র সময় চাকরিপ্রার্থিদের প্রশ্ন করা দরকার সকালে কয়টায় ঘুম থেকে ওঠে? খাইছে

লেখা ও টপিক দারুণ চলুক

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

বন্দনা এর ছবি

“আয়্যাম নট শিওর ইফ আয়্যাম দ্য বেস্ট ক্যান্ডিডেট ফর দিস পজিশন বাট গিভেন মাই রিলিভ্যান্ট স্কিল সেটস এ্যান্ড সাবস্ট্যানশিয়াল এক্সপিরিয়েন্স আই স্ট্রংলি বিলিভ মাইসেলফ এ্যাজ ওয়ান অব দ্য মোস্ট সুইটেবল ক্যান্ডিডেট।”
আপনার এই কথাটা বেশ ভাল লেগেছে, ইনফেক্ট খুবি ভালো লেগেছে।
আমার পিএচডি সুপারভাইজর ইন্টারভিউয়ের আগে আমাকে শুধু একটাই কথাই বলেছিলেন, যাই হোক, সবসময় হাসিমুখে সবকিছুর উত্তর করবে তুমি সেই প্রশ্নের উত্তর জানো আর না জান এবং অপটিমিস্টিক এটিট্যুড দেখানো খুবি দরকারী।
আমি উনার উপদেশ মেনে ছিলা খেয়ে এলাম হাসিমুখে, কিন্তু কাটা ঘায়ে মলমের ছোয়ার মত জবটা আমার হয়ে গিয়েছিল আর কি, তাই রক্ষে।

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

ধন্যবাদ বন্দনা। আপনার সুপারভাইজার ঠিকই বলেছিলেন। কেউই সর্বজ্ঞ নয়, তাই কোথাও কোথাও আটকে যেতেও পারে। কিন্তু পজিটিভ এবং অপটিমিস্টিক এ্যাটিচিউড খুবই প্রয়োজনীয় এবং এটা নিয়োগকর্তারা পছন্দ করে।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

কালো কাক এর ছবি

জীবনের প্রথম ইন্টারভিউ অভিজ্ঞতা ছিলো ভয়াবহ। পরীক্ষার মধ্যে ইন্টারভিউ, কালকে পরীক্ষায় কী করব এই নিয়ে টেনশন। এর মধ্যে ২ঘন্টার লিখিত পরীক্ষায় বসিয়ে দিলো। প্রশ্ন সব কমন কারণ এই কোর্সের পরীক্ষা দিয়ে এসেছি এক সপ্তাহ আগে। কিন্তু চাকরির লিখিত পরীক্ষায় যেয়ে একই প্রশ্নের উত্তর , একই ম্যাথ আর করতে ইচ্ছা করছিলো না। আধাআধি উত্তর করে খাতা দিয়ে দিলাম। এক ঘন্টা পর ডাকলো ভাইভাতে। সেখানে একটা প্রশ্ন ছিলো এমন যে আমার আগের প্রার্থীর নাম জিজ্ঞেস করে বলল "অমুককে তো চেনেন, তার তুলনায় কোন কোন দিকে আপনি নিজেকে যোগ্য মনে করেন?" এই প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর আমি দিতে পারিনি। প্রার্থী সবাই ছিলো আমার সহপাঠি, সেখানে স্পেসিফিক একজনের থেকে নিজেকে এই এই দিকে যোগ্যতর মনে করি বলতে অস্বস্তি হচ্ছিলো।
এই ধরণের প্রশ্ন কিভাবে ফেস করা যায় বলবেন?

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

যেসব প্রতিষ্ঠানে এইসব প্রশ্ন করা হয় তাদের সম্পর্কে কিছু বলা যায় কিনা তা ভাবতে হবে! এইসব ক্ষেত্রে নম্রভাবে বলে দেবেন যে, সেলফ ইভ্যালুয়েশনের ভিত্তিতে আমি আমার কম্পিটিবিলিটি জাস্টিফাই করতে পারবো কিন্তু আমার বন্ধুর থেকে আমি কোন এরিয়াতে বেটার এটা আসলে আমি কখোনো ভেবে দেখিনি। ধন্যবাদ।

আমার মনে হয় এর থেকে বেশি কিছু বলার দরকার নেই।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

কালো কাক এর ছবি

ধন্যবাদ। তারা হয়তো এমন কোন উত্তরই জানতে চাচ্ছিলো। আমি বুঝে উঠতে পারিনি মন খারাপ

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

তারপরও এই ধরণের প্রশ্ন করাটা আমার কাছে পেশাদার এ্যাটিচ্যুড বলে মনে হয়না।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

S এর ছবি

আমার তেমন কোন ভুল না হলে ইন্টারভিউতে সঠিক জায়গায় আটকে যাওয়ার জন্যেই আমার চাকরি হয়েছিলো। যদি ফেয়ার ইন্টারভিউ হয় (মানে কাকে নিবে সেটা আগে থেকেই ঠিক করে রাখা নয়) তাহলে সবকিছু পারতে হবে এমন কোন কথা নেই, বরং নিজের রাডারের মাঝে পড়া উত্তরগুলি ঠিকমত দিলেই হবে।

শুধু বডি ল্যাংগুয়েজটা এমন হতে হবে যে এর আগে আমার সামনে যা যা শেখার ও ইমপ্লিমেন্ট করার সুযোগ এসেছিলো তার প্রায় সব ঠিকমতই করেছি, আমার ক্রিডেনশিয়াল এই চাকুরীর সাথে ম্যাচ করে সুতরাং আমার অভিজ্ঞতা (যেটা প্রমাণিত) থেকে আমি বলতে পারি এখানে আমাকে সুযোগ দিলে আমি পারবোই।

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

একমত আপনার সাথে।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

ব্যাঙের ছাতা এর ছবি

আপনার লেখাটি এবং এ পর্যন্ত আসা মন্তব্যগুলো পড়লাম। খুবই দরকারী একটা লেখা। এই লেখাটি দুই বছর আগে পড়লে বা কেউ যদি আমাকে একটু পরামর্শ দিত ! মন খারাপ । অপ্রাসঙ্গিক হলেও আমি শুধু আমার একটি অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করছি। গত তিনটি ভাইভাতেই যখন আমি আমার বর্তমান কাজের ক্ষেত্র বলেছি, তারা আমাকে সরাসরি মতামত দিয়ে দিয়েছে, আমার বর্তমান কর্মক্ষেত্রই আমার জন্য ভালো। আমাকে ডিফেন্ড করার সুযোগ দেয়নি। আমার তো নিজস্ব মতামত থাকতে পারে, আমি যদি আমার বর্তমান কর্মক্ষেত্র থেকে তাদের চাকরীকে শ্রেয়তর মনে না করতাম, তাহলে তো সেখানে পরীক্ষা দিতেই যেতামনা। হাসি
যাই হোক, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ এই লেখাটির জন্য।

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

ধন্যবাদ। আমার বা আমাদের সেক্টরে এইসব বলার চর্চা নেই। এতে মনোবল হারাবেন না। সুযোগ অনেক আসবে।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

mousumii এর ছবি

পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

কীর্তিনাশা এর ছবি

এরপর কেউ ইন্টারভিউ বিষয়ক পরামর্শ চাইলে এ পোস্টটা রেফার করে দেব।
হাসি

-------------------------------
আকালের স্রোতে ভেসে চলি নিশাচর।

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

ডিসক্লেমার দ্রষ্টব্য। হো হো হো

ধন্যবাদ।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

নীড় সন্ধানী এর ছবি

আমার কিন্তু প্রথম ইন্টারভিউতে যা বলেছিলাম তা আপনার বিপরীত। খাইছে
আমি ইন্টারভিউর এক পর্যায়ে বলেছিলাম, "আই ফিল আই এম আনফিট ফর দ্য পজিশন আই অ্যাপ্লাইড ফর। আই হ্যাভ টু গো নাও।" চাকরীটা আমার হয়েই যায়। বোধকরি তিন ইন্টারভিউ কর্তা ভয় পেয়েছিলেন এহেন সত্য ভাষণে চোখ টিপি

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

আমার মনে হয় তারা ভয় পায়নি। আপনি নিজেকে আনফিট মনে করলেও তারা ঠিকই আপনার মাঝে প্রয়োজনীয় ফিটনেসের আভাস দেখতে পেয়েছিলো। সুতরাং, আমার ধারণা, আপনি এই সত্যভাষন না দিলেও আপনার চাকরী হয়ে যেতো। ধন্যবাদ।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

খুব জরুরী জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে খুব গুছিয়ে লিখেছ রাতঃস্মরণীয়।

“আয়্যাম নট শিওর ইফ আয়্যাম দ্য বেস্ট ক্যান্ডিডেট ফর দিস পজিশন বাট গিভেন মাই রিলিভ্যান্ট স্কিল সেটস এ্যান্ড সাবস্ট্যানশিয়াল এক্সপিরিয়েন্স আই স্ট্রংলি বিলিভ মাইসেলফ এ্যাজ ওয়ান অব দ্য মোস্ট সুইটেবল ক্যান্ডিডেট।”

আমি তো এটা মুখস্তই করে ফেললাম। ভবিষ্যতে তোমার কাছে ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে দেখবে ঠিক ঠিক বলে ফেলতে পারবো।

এবার ইন্টারভিউ নিতে গিয়ে এক চাকুরীদাতা কেমন বিপাকে পড়েছিলেন তাঁর ফিরিস্তি দেই।
চাকুরীদাতা : নাম ?
চাকুরীপ্রার্থী : কস্কী মমিন।
চাকুরীদাতা : বয়স ?
চাকুরীপ্রার্থী : ৪২ বৎসর ৫ মাস ৮ দিন।
চাকুরীদাতা : সেক্স ?
চাকুরীপ্রার্থী : (লজ্জা পেয়ে) টুয়াইজ ইন এ উইক, স্যার।
চাকুরীদাতা : (বোঝাতে না পেরে) ওহ নো, আই মিন মেল অর ফিমেল?
চাকুরীপ্রার্থী : আস্তাগফিরুল্লাহ স্যার, অলওয়েজ ফিমেল, নেভার মেল স্যার।

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

কল্যাণ এর ছবি

হো হো হো

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

কস্কী মমিন, মেল না ফিমেল সেইটা জানা বিশেষ জরুরী।

রাব্বানী এর ছবি

"অলওয়েজ ফিমেল" - চাকুরীপ্রার্থীও কি ফিমেল??

সুলতান এর ছবি

পোস্ট ও মন্তব্য সবই গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু কেউ তো ডাকে না। খালি অ্যাপ্লাই করেই যাচ্ছি।

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

মানিক, আশাকরি কিছু মনে নেবে না, তোমার কেস দিয়েই উদাহরণ দিচ্ছি-

তুমি যখন আমাদের এখানে আবেদন করেছিলে, সেখানে প্রায় ৫০০ আবেদন পড়েছিলো। আমরা ইন্টারভিঊর জন্যে ৫ জনকে রাখতে চেয়েছিলাম। শর্টলিস্টিং ক্রাইটেরিয়ার শিক্ষাগততে তুমি আর রাব্বী পুরো স্কোর করেছিলে কিন্তু তোমরা দুজনেই পিছিয়ে পড়েছিলে অভিজ্ঞতায় এসে। এই পদের জন্যে যে পরিমান অভিজ্ঞতা আমরা চেয়েছিলাম, তোমাদের হয়তো সেই লেভেলে বা সেই পরিমান অভিজ্ঞতা ছিলোনা। তাছাড়া যখন একসাথে অনেক প্রার্থী প্রায় কাছাকাছি চলে আসে, তখন আমাদের আরও বেশি ক্রিটিক্যাল হতে হয়। এই ধরো, কয়েকজনের ৫ বছরের অভিজ্ঞতা আছে কিন্তু রাখতে হবে ১ জনকে, তো কাকে রাখবো? এই ক্ষেত্রে ধরো তোমাদের ন্যাশনাল অর্গে অভিজ্ঞতা আর অন্য একজনের ইন্টারন্যাশনাল অর্গে অভিজ্ঞতা, অবশ্যই তখন পছন্দের পাল্লাটা ইন্টারন্যাশনালের দিকেই যায়। তার মানে এই নয় যে তোমরা অযোগ্য, কিন্তু তোমরা সুক্ষ্ম বাছাইতে বাদ পড়লে।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

সুলতান এর ছবি

আমি আসলে ওইটার কথা বলতে চাই নাই যেটা নিয়ে আপনি কথা বলতেছেন। আমি সামগ্রিক ভাবে বলছি। আর আমি কিছু মনে করি নাই ডাকে নাই দেখে।

এমনও হতে পারে আমি অনেক তাড়াতাড়ি অস্থির হয়ে উঠছি বা আমাকে আরও চেষ্টা করে যেতে হবে।

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

মানিক, আমি কিন্তু ইচ্ছে করেই তোমাদের উদাহরনটা টেনেছি কারন সবযুগে, সবকালে তোমাদের দলের অনেক সংখ্যক প্রার্থী থাকে যারা সদ্য বা অল্প কিছুদিন হলো পাশ করে বেরিয়েছে, কেউবা হয়তো কোথাও ঢুকেছে। তোমাদের মতো বয়সে এই অবস্থা আমাদেরও হয়েছিলো। এ্যাপ্লাই করে যাচ্ছি কিন্তু ইন্টারভিউয়ের ডাক পাচ্ছিনা। তখন আসলেই একরাশ হতাশা এসে ভর করে। কিন্তু দেশের চাকরীর বাজারের অবস্থা তো তোমরা বোঝো্। চাকরীর সুযোগ খুবই সীমিত, আর তাইতো এমপ্লয়ারদেরকে আরও সিলেকটিভ হতে হয়। একজন অভিজ্ঞ প্রার্থী থাকতে তুলনামূলক স্বল্প অভিজ্ঞকে সুযোগ দেওয়াটা একটা ডিসক্রিমেশনও বটে। তবে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে আর সামনে যে সুযোগ আসে তাতেই ঢুকে পড়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে আর নিজের চলার মতো কিছু অর্থসংস্থান করতে হবে। এটা প্রথম জীবনে আমরাও করেছি। তবে একবার তুমি যথাযথ জায়গায় সুযোগ পেলে কিন্ত দেখবে তোমাকে আর কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

পাঠক এর ছবি

বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে বিসিএস পরীক্ষার ভাইভা ভয়াবহ ... রীতিমত বিশ্বকোষ মাথায় নিয়ে যাওয়া লাগে মন খারাপ

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

ওটা তো আসলে প্রফেশনাল ভাইভা না, এ্যাকাডেমিক ভাইভা বলা যায় ওটাকে। আমি নিজে বিসিএস না দিলেও বন্ধুদের প্রস্তুতি দেখে এটা ভালোই বুঝেছি। ধন্যবাদ।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

উচ্ছলা এর ছবি

বিসিএস পরীক্ষায় 'বিশ্বকোষ মাথায় নিয়ে যাওয়া' ব্যাপারটা খারাপ না। সরকারী চাকরীর সিলেকশান পদ্ধতি একটু টাফ হওয়াই সমিচীন। এ্যামেরিকাতেও Department of State-এ কাজ পেতে হলে প্রায় দুই বছর মেয়াদী এক্সটেন্সিভ রিটেন এবং ভাইভা দিতে হয় দফায় দফায় , হেন বিষয় নেই যেখানে আপনার জ্ঞানের আর কমন্সেন্সের পরিধী তারা টেস্ট করে না; বিভিষীকা !

তবে পার্থক্য হচ্ছে, আপনার পছন্দের জবটিতে আপনার প্রাসঙ্গিক 'অভিজ্ঞতা' কতটা সম্বৃদ্ধ, এটাই তারা প্রথমে পরখ করে।

আর বাংলাদেশে সাহিত্যে পাশ দিয়ে বিসিএস-এ উত্তীর্ন হয়ে কোনোরকম পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই আপনি একজন সরকারী ব্যাঙ্ক কর্মকর্তা হিসেবে জয়েন করতে পারেন। (কি মজা! কি মজা!!)

তিথীডোর এর ছবি

বাংলাদেশে সাহিত্যে পাশ দিয়ে বিসিএস-এ উত্তীর্ন হয়ে কোনোরকম পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই আপনি একজন সরকারী ব্যাঙ্ক কর্মকর্তা হিসেবে জয়েন করতে পারেন।

হ। খাইছে

আমি বিসিএস ডরাই। ওঁয়া ওঁয়া

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

সীমানা  এর ছবি

আর বাংলাদেশে সাহিত্যে পাশ দিয়ে বিসিএস-এ উত্তীর্ন হয়ে কোনোরকম পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই আপনি একজন সরকারী ব্যাঙ্ক কর্মকর্তা হিসেবে জয়েন করতে পারেন। (কি মজা! কি মজা!!)

কোন কোন সরকারী ব্যাংকে বিসিএস এ উত্তীর্ণ হয়ে যোগাদান করা যায়, জানতে পারি?

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে ব্যাংকিং-এর কোনও ক্যাডার নেই, সত্যি। বিসিএসে দিয়ে যে হরহামেশা এ্যাকাডেমিক ইরিলিভ্যান্ট চাকরীতে যাওয়া যায়- আমার মনে হয় উচ্ছলা এমনই একটা উদাহরণ হিসেবে সাহিত্যে পড়ে সরকারী ব্যাংকের চাকরীতে যাওয়ার কথাটা উল্লেখ করেছে।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

রাতঃস্মরণীয়, আপনাকে ধন্যবাদ। এই লেখাটির বিষয় এবং মন্তব্য, প্রতিমন্তব্যে মূল্যবান উপদেশাবলীর কারনে লেখাটির যথেষ্ট উৎকর্ষ সাধনের ফলে সত্যিই এটি চাকুরী প্রার্থীদের জন্য একটি নির্দেশিকায় পরিনত হয়েছে। ধারনা করি এটি সচলে একটি নতুন ধারার সংজোযন। শুরুটা করার জন্য 'চরম উদাস' কৃতিত্বটার অবশ্যই দাবিদার। আর সেটাকে পরিপূর্ণ রূপ দেবার জন্য আপনি, ষষ্ঠ পাণ্ডব এবং আর যাঁরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, তাঁদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আশা করছি, বিবিধ আলোচনার আলোকে আপনার পরের পর্বটিতে লেখাটি পরিপূর্ণতা লাভ করবে।

সচলে, আমার মতো আকামের লোকের পাশাপাশি যে অনেক কাজের মানুষও আছে, সেটাই প্রমান হলো। এটা কিন্তু সত্যিই বিশেষায়িত একটি কাজ হয়েছে। নতুন সাক্ষাৎকার দেনেওয়ালারা এই লেখাটি থেকেই তাঁদের প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারেন।

পরিশেষে, সক্রেতিসের মতো করে বলতে হয়, এত সুন্দর মূল্যবান একটি জিনিস কিন্তু হায় এটাতে আমার কোনোই প্রয়োজন নেই। হা হা হা।

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

আপনাকে ধন্যবাদ মুরুব্বী। অবশ্যই শুরুটা করার জন্যে চরম উদাসকে আমার অকুন্ঠ কৃতজ্ঞতা। আমি অনেকদিন ধরে লিখবো লিখবো করেও লেখা হয়ে ওঠেনি। চরমের লেখাটা আমার জন্যে স্টিমুলেশনের কাজ করেছে এটা বলতে কোন দ্বিধা নেই। তবে একটা জায়গায় আমি একটু সংকীর্ণ থাকতে চেয়েছিলাম- আমি চেয়েছিলাম কেবলমাত্র আমার অভিজ্ঞতাগুলোই শেয়ার করতে। তবে আলোচনায় এসে নিজেকে আর সেখানে সীমিত রাখতে পারিনি। উপদেশ বা পরামর্শমূলক কথাগুলো নিজের অজান্তেই বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। আজকাল গুগলিং করে অনেক মূল্যবান তথ্য পাওয়া যায় কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখেছি ভাষাগত বা উপস্থাপনাজনিত কারনে সহজপাচ্য হয়ে ওঠেনা। তাই ভাবলাম নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতার শেয়ারিং হয়তো পাঠকদের কাছে সহজপাচ্য হয়ে উঠবে। তবে আমার উদ্দেশ্য মনে হচ্ছে কিছুটা হলেও সফল হয়েছে। আজকাল সচলে তো আর হিট কাউন্টের ব্যবস্থা নেই, তবে পাঠকদের স্বতস্ফুর্ত মন্তব্যে-প্রতিমন্তব্যে আলোচনাটা একটা বিস্তৃত পর্যায়ে মোড় নিয়েছে।

বাইদ্যওয়ে, আপনার নাতি-নাতনিরা আপনার বিভিন্ন বিষয়ে আপনার ইন্টারভিউ করেনা? আজকালকার ক্ষুদেগুলোতো ইন্টারভিউ মাস্টার!

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

মোখলেছুর রহমান সজল  এর ছবি

মূলপোষ্ট এবং মন্তব্য মিলিয়ে তথ্যবহুল আলোচলা।
চলুক

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

নৈষাদ এর ছবি

ইন্টারেস্টিং লাগল।

Nepotism নিয়ে কিছু মন্তব্য হয়েছে। আমার অভিজ্ঞতায় মনে হয়েছে দেশে Nepotism নিয়ে একটা ভুল ধারণা নিয়ে নতুনরা চাকরির 'যুদ্ধক্ষেত্রে' আসে। ‘মামা-চাচা না থাকলে চাকরি হয়না’ - জাতীয় ধারণা নিয়ে যুদ্ধের আগেই হেরে বসে থাকে। ব্যাপারটা আসলে এমন না।

এখনো করপোরেট স্ট্রাকচার হয়নি/কিংবা প্রফেশন্যালিজম আসেনি এমন ছোট প্রতিষ্ঠানে হয়ত Nepotism চলতে পারে কিন্তু ‘ভাল’ প্রতিষ্ঠানগুলোতে এর শতকরা হার অতি নগন্য। তবে একেবারেই নেই সেটা বলা যাবে না। রেগুলেটরি বডি, গুরুত্বপূর্ন স্টেকহোল্ডার এদের কিছুটা প্রভাব থাকে।

‘রেফারেল’ কিছুটা কাজ করে, তাও ‘ক্রাইটেরিয়া পুরণ করে’ চাকরির সিলেকশন প্রক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করা পর্যন্তই। সেটা পাশ্চাত্যে আরও বেশি আছে এবং এখানে ক্ষতিকর কিছু দেখিনা । (বিদেশে এমনকি এমপ্লয়ি রেফেরেলের পুরস্কার পর্যন্ত থাকে)।

আন্তর্জাতিক এনজিও গুলিতে Nepotism এর সুযোগ সবচেয়ে কম বলে মনে হয়েছে (সিলেকশন প্রক্রিয়ায় জবাবদিহিতা সবচেয়ে বেশি)।

কালো কাক এর ছবি

স্বজনপ্রীতি জিনিসটা এখন দেশেও তৃতীয়/চতুর্থ শ্রেণী ছাড়া আর কোথাও লাগে বলে মনে হয় না।

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

খুবই সত্যি।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

চমৎকার বলেছেন নৈষাদ, একমত! আমার কথা বলতে পারি, কোনওরকম সুপারিশ ছাড়া এনজিও সেক্টরে কাজ করদে ঢুকেছি; ফুড ডিপার্টমেন্টে সাব ইন্সপেক্টর পদে পরীক্ষা দিয়ে মেধার ভিত্তিতে ইন্সপেক্টরের পদে চাকরী পেয়েছি (যদিও অনেককিছু ভেবেচিন্তে সে চাকরীতে যোগদান করিনি), এবং দেশে বিদেশে যতো চাকরী করেছি বা করছি তার কোনওটাতে মামু-খালুর কোনও অবদান ছিলোনা। সুতরাং মরার আগে ভুত হওয়া অযৌক্তিক।

তবে হ্যাঁ, আমাকে দুইবার ডেকে নিয়ে গিয়ে চাকরী দেওয়া হয়েছে একবার ইন্দোনেশিয়ায় এবং আরেকবার বাংলাদেশে। এটাকে আমি যতোটা না নেটওয়ার্কিং বলবো তার থেকে বেশি বলবো আমার কাজের অভিজ্ঞতা এবং নিয়োগকর্তা সংস্থাগুলোর সাথে আমার পূর্ববর্তী সংশ্লিষ্ঠতা। প্রথমবার ইন্দোনেশিয়াতে আমাকে একটা জায়ান্ট এনজিওর গ্লোবাল ইউনাইটেড প্রোগ্রামের সাপ্লাই বিভাগের প্রধান পদে আর পরের বার বাংলাদেশে সেই একই সংস্থায় সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার পদে আফগানিস্থান থেকে ডেকে এনে। উল্লেখ করতে হবে যে এই দুটি পরিস্থিতিই ছিলো লাইফ এন্ড ডেথ যেখানে প্রথা মেনে নিয়োগ প্রক্রিয়া বজায় রাখা সম্ভবপর ছিলোনা। প্রথমটি ২০০৪ সুনামির পরে আর দ্বিতীয়টি ২০০৭ সাইক্লোন সিডরের পরে।

সরকারী নিয়োগ নিয়ে মন্তব্য করার মতো জ্ঞ্যান আমার নেই। তবে ছোটখাট প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানীগুলো ছাড়া তেমনভাবে Nepotism দেখিনা। আমার মতে Nepotism করে আহাম্মক এবং বুদ্ধু টাইপের লোকজন। কেনো, তা একটু ব্যাখ্যা করি। প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ভিশন, গোল, অবজেক্টিভস থাকে, সে হতে পারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা হতে পারে অব্যবসায়ী/উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল লক্ষ থাকে মুনাফা অর্জন (এবং আজকাল অনেকেই আবার সিএসআর কর্মসূচীর মাধ্যমে মুনাফার কিছু অংশ ব্যায় করে দানবীরের খাতায় নাম ওঠায়, উদাহরণ, প্রাণ, বাটা সু, ডেনন, ইত্যাদি)। ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ায় তাদের লক্ষ থাকে এমন প্রার্থীকে বের করে আনা যার দ্বারা তাদের প্রফিট মোটিফ ভালোভাবে বাস্তবায়িত হয়। এখানে এখন যদি Nepotism করে এমন একজন প্রার্থীকে নিয়োগ করা হয় যার আদৌ এই কাজ করার মতো ক্যাপাসিটি নেই, সেক্ষেত্রে ইন্টারভিউয়াররা এই নিয়োগের দায় এড়াতে পারে না। তারচেয়েও বড়ো কথা, প্রফিট কনসার্নে ম্যানেজার লেভেলের লোকজন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকে যারা কি না একাধারে আবার প্রতিষ্ঠানের প্রফিট ম্যাক্সিমাইজ করার দায়িত্বেও থাকে। তো, অযোগ্য কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের প্রফিট গ্রোথ হ্রাস পেলে মালিকপক্ষ কিন্তু কখোনোই কর্মীদের ধরতে আসবেনা, সোজা এসে ম্যানেজারের গলায় গামছা দেবে। সুতরাং, বদ্ধ উন্মাদ বা রাম ভোদাই ছাড়া কোনও ম্যানেজার অযোগ্য কর্মী নিয়োগের ঝুঁকি কখোনেই নেবেনা। তবে বাস্তবতা হচ্ছে উন্মাদ বা ভোদাইরা কখোনো ম্যানেজার হয়না। যদি কোনওদিন কোন উন্মাদ বা ভোদাই ম্যানেজারের দেখা পাওয়া যায়, তবে নিশ্চিত থাকবেন সে একটা মোটিফ নিয়ে উন্মাদ বা ভোদাই সেজে আছে। সম্ভবত সে মোটিফটা হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের প্রফিট ম্যাক্সিমাইজেশনের মোটিফ।

আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোতে প্রফিট মেকিং না থাকলেও সেখানে আছে প্রোগ্রাম পারফরম্যান্স। দাতার কাছে প্রতিশ্রুত সঠিক মানের প্রোগ্রাম ডেলিভারী করতে না পারলে সে সংস্থা অচিরেই যে দাতার ব্যাড বুকে উঠবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এবং কোনও সংস্থা যদি একবার কোনও দাতার ব্যাড বুকে উঠে যায়, তার পক্ষে অন্য দাতার কাছ থেকে পয়সা আনাটাও খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে সংস্থায় রিস্ট্রাকচারিং করে স্টাফ ছাটাই করে ব্যায় সীমিত করতে হয়। এখানে কোনও ম্যানেজার যদি Nepotism করে অযোগ্য কর্মী নিয়োগ করে প্তিরশ্রুত মানের প্রোগ্রাম ডেলিভারী দিতে না পারে, সেজনে কেউই সেই কর্মীকে ধরতে আসবে না। চাকরী গেল সেই ম্যানেজারেরই যাবে। আর এনজিও সেক্টরে কারো এইসব ঝামেলায় চাকরী গেলে সে খবর খুব দ্রুতই অন্য সংস্থাগুলোর কাছে পৌঁছে যায়। কেউ সেধে নিজের ক্রেডিবিলিটি হারাতে চায়না যদি না সে উন্মাদ বা ভোদাই হয়। তবে বাস্তবতা হচ্ছে একই- উন্মাদ বা ভোদাইরা কখোনো ম্যানেজার হয়না। যদি কোনওদিন কোন উন্মাদ বা ভোদাই ম্যানেজারের দেখা পাওয়া যায়, তবে নিশ্চিত থাকবেন সে একটা মোটিফ নিয়ে উন্মাদ বা ভোদাই সেজে আছে।

সুতরাং আমি বলবো Nepotism নিয়ে এতো উদ্বেগের কিছু নেই। একটা পদে ১০ জন ইন্টারভিউ দেয় কিন্তু চাকরী পায় একজনই। সুতরাং ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে ইন্টারভিউর ব্যার্থতাকে Nepotism, দুর্নীতি, ইত্যাদি আখ্যায়িত না করে ইতিবাচকভাবে গ্রহন করা ভালো। অপরের ক্যাপাসিটির উপর শ্রদ্ধাশীল হয়ে মনে করতে হবে যে যার চাকরী হয়েছে সে নিশ্চই আমার থেকে অধিক যোগ্যতাসম্পন্ন।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

উচ্ছলা এর ছবি

সুতরাং ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে ইন্টারভিউর ব্যার্থতাকে Nepotism, দুর্নীতি, ইত্যাদি আখ্যায়িত না করে ইতিবাচকভাবে গ্রহন করা ভালো। অপরের ক্যাপাসিটির উপর শ্রদ্ধাশীল হয়ে মনে করতে হবে যে যার চাকরী হয়েছে সে নিশ্চই আমার থেকে অধিক যোগ্যতাসম্পন্ন।

Exactly হাসি চলুক

যোগ্যতার মাপকাঠিতে টিকতে না পারলেই লোকে এটাকে চরম 'পরাজয়' ভেবে নেয়। অথচ এরা একবারও ভাবেনা যে, প্রতিটি ব্যর্থতা আপনাকে সাফল্যের পথে আরও একধাপ এগিয়ে নেয়। হাসি

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

প্রতিটি ব্যর্থতা আপনাকে সাফল্যের পথে আরও একধাপ এগিয়ে নেয়।

চলুক

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

শান্ত এর ছবি

ইন্টারভিউর ব্যাপারে বা সিলেকশনের ব্যাপারে আপনার কাছ থেকে আরো বেশী কিছু আশা করছি।

__________
সুপ্রিয় দেব শান্ত

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

নৈষাদকে নাকি আমাকে বললেন ঠিক বুঝতে পারলাম না। হাসি আমি এই ব্লগ লিখছি কেবলমাত্র আমার নিজের অভিজ্ঞতাগুলো শেয়ারিং করতে যা থেকে আপনি ইন্টারেস্টিং কিছু পেতে পারেন। তবে আলচনাগুলো থেকে কিন্তু বেশ ভালো পরামর্শ বেরিয়ে আসছে। তাছাড়া আমি এই লেখার সম্ভবত আরেকটা পর্ব দেবো যেটাতে টেকনিক্যাল এবং ইন্টারপারসোনাল ইন্টারভিঊ নিয়ে অভিজ্ঞতা শেয়ার করবো আশাকরি।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

অতৎপর সাইফ এর ছবি

অসাধারণ একটি লেখা। ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে ঘাবড়ে যাওয়া, কথা খুঁজে না পাওয়া অথবা আত্মবিশ্বাস বাড়ানর কি উপায় এটা জানার ইচ্ছা ছিল। ধন্যবাদ।

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

ইন্টারভিঊতে প্রার্থীরা কিন্তু প্রশ্নের কারনে যতোটা না ঘাবড়ায় তার থেকে বেশি ঘাবড়ায় ইন্টারভিঊয়ারের এ্যাটিচ্যুডের কারনে। কয়েকবার ইন্টারভিউ দিলে বা নিজের সাথে নিজে কথা বলে, নিজের মনে একটা প্রতিকূল সিনারিও তৈরী করে নিজে নিজে সেই অবস্থা থেকে ঊত্তরনের জন্য প্রয়োজনীয় উত্তরমালা ঠিক করার প্রাকটিসও করে দেখতে পারেন। এই প্রাকটিস করে আমি নিজে অনেক উপকার পেয়েছি।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

আশালতা এর ছবি

দারুন একটা সিরিজ শুরু করেছেন। খুঁটিনাটি আরও অনেক কিছুর অপেক্ষায় রইলাম।

----------------
স্বপ্ন হোক শক্তি

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

ধন্যবাদ আশালতা। হাসি কিন্তু ডিসক্লেইমার দেখতে ভুলবেন না যেনো!

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

kayes_jnu এর ছবি

অসাধারণ একটি পোস্ট। আমার মত দিক্ভ্রান্ত বেকার পথিকের জন্য অনেক গুরুত্তপূর্ণ। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

আপনাকেও ধন্যবাদ কায়েস।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

পথিক পরাণ এর ছবি

অসাধারণ একটি দরকারি পোস্ট। চলুক

স্নাতকোত্তর পড়েছিলাম মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা (Human Resource Management) নিয়ে। প্রতিষ্ঠানের জন্য কর্মী বাছাই প্রক্রিয়ার অনেকগুলো পন্থা তখন আত্মস্থ করতে হয়েছিল। তার ভেতর বহুল ব্যবহৃত কিন্তু অধিক ত্রুটিপুর্ণ হবার সম্ভাবনাযুক্ত প্রক্রিয়াটি বোধহয় মৌখিক সাক্ষাৎকার। সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর মেধা, ঝোঁক, পছন্দ ইত্যাদি অত্যন্ত প্রকটভাবে ভাইভা বোর্ডকে প্রভাবিত করে। এক্ষেত্রে চাকুরি প্রার্থী কেবল অপেক্ষা করতে পারেন কখন তার অনুকূলে হাওয়া বয়। কারণ, আপনি অনেক কিছু জানেন, কিন্তু সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী হয়ত সেদিকে প্রশ্নই করলেন না (সেই বিষয় হয়তো পদের সাথে সঙ্গতিপূর্ণও নয়, এমনও হতে পারে)। আপনার মনের ভেতর জ্ঞানের সমুদ্র ভাইভা বোর্ডের অজানাই থেকে গেলো।

এর উলটো ঘটনাও আবার হামেশাই ঘটে। আপনি হয়ত একটা বিষয়ে অল্প জানেন। যতটুকু জানেন, কোন কারণে ভাইভা বোর্ড তাই নিয়ে প্রশ্ন শুরু করে দিল। সেইদিনটি কিন্তু সাকিব আল হাসানের সেঞ্চুরি করবার দিনের মতো শুধুই আপনার। কাজেই, ভাইভা বোর্ড অনেকটা জুয়ো খেলার বোর্ডের মতই। খুপ খিয়াল কৈরা!!

আমার চাকুরির জন্য মৌখিক পরীক্ষা দেবার অভিজ্ঞতা মাত্র একটি। তাও আবার সরকারী। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে মৌখিক পরীক্ষাগুলো কেমন হয় আমার তেমন জানা নেই। সরকারী চাকুরির চিন্তা এখন অনেকেই করেননা মনে হয় এর দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ার জন্য। সরকারী চাকুরেদের বেতন কাঠামোটি অনেকের কাছেই ঠিক পছন্দসই নয়। এছাড়া কিছু সরকারী পদে দেশের অনেক দূরবর্তী এলাকায় পদায়ন করা হয়। মামা চাচা বা খুঁটির জোর না থাকলে সরকারী চাকুরি হয়না, এমন একটি ধারণাতো অতি প্রচলিত, যা মামা চাচা বিহীন (মামা চাচা আছে কইলাম, তবে চাকুরি নিয়ে দেবার মতন উপযুক্ত নাই) এই আমাকেও নিয়মিত শুনতে হয় এবং হবে। আমার অনেক মেধাবী পরিচিত মুখ এসব ভেবে সরকারী চাকুরি করার চেষ্টা করেননি কখনো। তবুও দেখা যায় কমবেশি প্রায় দুলাখ আবেদনকারী খুব অল্প কিছু পদের বিপরীতে বি সি এস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দিয়ে থাকেন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের জন্য ভাইভা বোর্ড খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। উল্লেখ্য যে বিসিএস ভাইভা ভোস ভীষণ একাডেমিক পর্যায়ে পড়ে। এর থেকে আর্মড ফোর্সের নিয়োগ পরীক্ষা (আই এস এস বি কর্তৃক পরিচালিত) অনেক বেশি গঠনমূলক এবং উপযুক্ত প্রার্থী বাছাইয়ে কার্যকরীভাবে সহায়ক বলে মনে হয়। পরিচিত দু একজন বিসিএস ভাইভা বোর্ডে যাবার আগে টিপস চাইলে এই অভাজনও কিছু পরামর্শ দিয়ে ফেলেছে ভুল শুদ্ধ মিলিয়ে। আলোচনার অবেলায় এসেও অনাহুতের মতন তেমন কিছু বিষয় উল্লেখ করার লোভ সামলাতে পারছি নাঃ

ক) মৌখিক পরীক্ষার প্রধান হাতিয়ার আত্মবিশ্বাস। একজন মানুষ সবদিক জানবেন না। আপনার সামনে বসে যিনি পরীক্ষা নিচ্ছেন, তিনিও হয়তো অনেককিছু জানেননা। তবে আপনি যতটুকু জানেন, তা ঠিকঠাক জানা এবং উপস্থাপন করতে পারলেই অনেক বড় মাপের অর্জন ঘটে যায়।

খ) প্রথমেই যদি ভাবা যায়, এই পরীক্ষকগণ আমাকে সবথেকে বড় যে শাস্তিটি দিতে পারবেন, সেটি হচ্ছে নম্বর কম দেয়া। এর বাইরে অন্য কোন ক্ষতি এরা করতে পারবেন না। এই কথাটি ভেবে রাখলে ভাইভা দিয়ে ফেলা খুব সহজ হয়ে যায়।

গ) উপরে পাঠক বলেছেন, বিসিএস ভাইভা দেবার জন্য মাথায় বিশ্বকোষ নিয়ে যেতে হয়। কথাটা প্রায়ক্ষেত্রে খেঁটে যায়। তবুও কিছু কমন বিষয় থাকে। যেমন বিসিএস পরীক্ষায় একটা পছন্দের ক্রম আগেই নিজে থেকে ঠিক করে রাখতে হয়। ভাইভা বোর্ডে দেখা যায় নিজের সম্পর্কে, পড়াশোনা সম্পর্কে জানার পর পছন্দের ক্রম বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। সাধারণত 'প্রথম পছন্দ' নিয়ে প্রশ্ন হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। 'এই ক্যাডারটি পছন্দ করার কারণ কি?' থেকে শুরু করে ঐ বিশেষ ক্যাডার বিষয়ে খুঁটিনাটি জানা থাকা লাগে। যেমন ঐ ক্যাডারের ইতিহাস, বর্তমান স্তর বিন্যাস (মাঠ, সচিবালয়সহ অন্য জায়গায় পদায়নের স্তর), কার্য পদ্ধতি, সেবার ধরণ ইত্যাদি খুব গুরুত্বপুর্ণ। ক্যাডারের কাজের সাথে প্রয়োজনীয় প্রায় সকল শব্দ, আইন কানুন জানা থাকলে খুব কাজে দেয়।

ঘ) দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল নিজের স্মাতক বা স্মাতকোত্তর বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান। এক্ষেত্রে ভাইভা বোর্ডের সদস্যগণের ব্যাকগ্রাউন্ডটি অতি প্রাসঙ্গিক হয়ে যায়। আপনার বিষয় বায়োকেমিস্ট্রি, ভাইভা বোর্ডে ঐ বিষয়ের একজন থাকলে আপনার পোয়াবারো, যদি বিষয়টি আপনার আত্মস্থ থাকে। আর ভালো জানা না থাকলে কিন্তু নাকের পানি চোখের পানি এক হয়ে যাবে ‘জানিনা’ বলতে বলতে। তবে ভাইভা বোর্ডে যারা থাকেন, তাদের নিজেদের সাবজেক্ট যাই হোকনা কেন, প্রায় সকল বিষয়ে (স্মাতক বা স্নাতকোত্তর পর্যায়ের প্রায় সকল বিষয়সহ) তাঁরা গুরুত্বপুর্ণ কিছু প্রশ্ন করার মতন যোগ্যতা রাখেন। কাজেই, নিজের বিষয়ের জ্ঞান ভাইভা বোর্ডের তুরুপের তাস হতে পারে। নিজের কথা বলে রাখি। আমাকে আমার সাবজেক্ট নিয়ে কোন প্রশ্ন করা হয়নি!

ঙ) আমাদের দেশে মৌখিক সাক্ষাৎকারে সাধারণত দেখা যায় একাধিক, ক্ষেত্র বিশেষে পাঁচ ছয়জন সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী পরীক্ষার্থীকে মোটামুটি গ্যাংব্যাং পদ্ধতিতে চেপে ধরেন। একজনের প্রশ্নের উত্তর শেষ করার আগেই হয়তো টেবিলের অন্য প্রান্ত থেকে নতুন প্রশ্ন ভেসে আসে। এসব ক্ষেত্রে প্রায়ই পরীক্ষার্থী বেচারা নাস্তানাবুদ হয়ে পড়েন। তবে কোন প্রশ্ন ঠিকঠাক না শুনে বা বুঝে থাকলে প্রশ্নকর্তার দিকে পূর্ণদৃষ্টিতে তাকিয়ে (আমি কইলাম ডরাই নাই ভাব নিয়া) প্রশ্নটি আরেকবার জেনে নেয়াই শ্রেয়। এতে ভুল বা আন্দাজে ঢিল ছোড়ার মতন উত্তর না দেবার সুযোগ তৈরি হয়।

চ) ভাইভা বোর্ডে প্রশ্নকর্তা ইংরেজিতে প্রশ্ন করলে ইংরেজিতে, বাংলায় প্রশ্ন করলে বাংলায় উত্তর করা সমীচীন বোধহয়।

আপাতত এটুকুই থাকুক। আর সিরিজ চলুক---

----------------------
পথেই আমার পথ হারিয়ে
চালচুলোহীন ছন্নছাড়া ঘুরছি ভীষণ--

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

কাজেই, ভাইভা বোর্ড অনেকটা জুয়ো খেলার বোর্ডের মতই। খুপ খিয়াল কৈরা!!

ছোট বেলায় দেখা একটা বাংলা সিনেমার একটা দৃশ্য মনে পড়ে গেলো। জসিম গেছে চাকরীর ভাইভা ভোস দিতে। মালিক হাতে একটা সিগারেট ধরে আগুন খুঁজছে। জসিম পকেট থেকে লাইটার বের করে সেই সিগারেটে আগুন জ্বেলে দিলো আর সাথে সাথে জসিমের চাকরী হয়ে গেলো। এটা জাস্ট এমনিতেই বললাম, আপনার মন্তব্যের প্রেক্ষিতে নয়। আপনি যা বললেন এটা সত্যি হলেও হতে পারে কেবলমাত্র ব্যাক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে। বড়সড় এমএনসিতে, কর্পোরেট হাউসে বা আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোতে এটা হওয়ার সম্ভাবনা শুন্য।

ক থেকে চ পর্যন্ত বেশ কিছু দামী কথা বলেছেন। ইন্টারভিউতে আত্মবিশ্বাসের কোনও বিকল্প নেই। এবং সবসময় মনে রাখতে হবে যে ইন্টারভিউ খারাপ হলে বড়জোর আপনার চাকরীটা হবেনা, এর জন্য জেল জরিমানা কিছুই হবেনা। তবে একটা বাস্তবতাও আছে, চাকরীপ্রার্থীদের অনেকাংশই বা অধিকাংশই আসে নিম্ন মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো থেকে। সেখানে দ্রুত একটা চাকরীতে ঢুকে বুড়ো মা/বাবাকে রেহাই দেওয়ার একটা তাড়না কাজ করে সবার মধ্যে। এর ফলে হয় কি, মনের জোর অনেকাংশে কম থাকে এবং ইচ্ছে থাকলেও রিলাক্সড মুডে ইন্টারভিউ দেওয়া সম্ভব হয়না। মাথার মধ্যে ঘুরতে থাকে অভাব অনটনের চিত্র, দুটো রোজগার করে পরিবারকে সাপোর্ট দেওয়ার চিন্তা, ইত্যাদি। আসলে এই অবস্থায় না পড়লে ঠিক বোঝা বা বোঝানো সম্ভব নয়। তা'ও চারপাশ দেখে কিছুটা অনুমান করতে পারি। এইসব ক্ষেত্রে আসলে নিজের মনের সাথে যুদ্ধ করা ছাড়া তেমন কিছু করার থাকে না। আর একটা জিনিসে কাজ হয়, যদি ভালো একজন বন্ধু বা গাইড আশেপাশে থাকে। এইসব পরিস্থিতিতে মানসিক সাপোর্ট খুবই প্রয়োজনীয়। "আরে এটা হয়নি তো কি হয়েছে, ভালো করে প্রিপারেশন নিয়ে সামনে ইন্টারভিউটা দে, দেখিস ঠিকই হয়ে যাবে।"

সাবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রশ্ন হলে তো সবারই ভালো করা উচিত। কিন্তু ওই যে উপরে বলেছি, প্রার্থী যেনো সেই বিষয়ভিত্তিক উত্তরের মাঝেই নিজের চিন্তাভাবনা এবং সৃজনশীলতার প্রতিফলন ঘটায়, তবেই কেল্লা ফতে! আপনাকে ধন্যবাদ পথিক।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

উদ্ভ্রান্ত পথিক এর ছবি

আমার চাকরীর ইন্টারভিউ অভিজ্ঞতা মাত্র একটা। প্রথমটায় লিখিততেই আউট, পরের টায় লিখিততে টেকার পরে বাসা থেকে দূরে বলে যাই নাই পরে আর পরেরটা বর্তমান চাকরী। বর্তমান চাকরীতে জয়েন করার সময় ৫বছরের বন্ড দিতে হয়েছিল। অবশ্য ১বছর চাকরী করার পরে বুঝলাম সেইটার আসলে কোনোই ভ্যালু নাই। প্রথম চাকরী হওয়ায় বন্ড দিতে খুব ভয় পাচ্ছিলাম। পরে দেখলাম অনেক সহকর্মী বন্ডের তোয়াক্কা না করেই চাকরী ছেড়ে অন্য জায়গায় আছে এখন।
তো ইন্টারভিউ যেটা দিয়েছিলাম সেটা পুরা নামকাওয়াস্তে বলা যায়। লিখিত পরীক্ষায় টিকলে চাকরী নিশ্চিত এইটা জানার পরে আসলে তেমন ভয় লাগে নাই! তবে অনেক হোমড়া চোমড়া ব্যক্তিদের সামনে ইন্টারভিউ দেওয়াটা বেশ ভয়েরই বলা যায়!

---------------------
আমার ফ্লিকার

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

অনেক প্রতিষ্ঠানেই দেখেছি বন্ড চায়, এবং অধিকাংশেই শিক্ষাগত যোগ্যতার অরিজিনাল সনদপত্রগুলো রেখে দেয়। শুরু থেকেই যে প্রতিষ্ঠান কর্মীকে একটা মানসিক চাপের মধ্যে রেখে কাজে নিয়োগ দেয়, আমি জানিনা সেইসব প্রতিষ্ঠানে কর্মী কতটুকু স্বস্তির সাথে কাজ করতে পারে। আমার জানামতে এইসব বন্ডে নেওয়ার কোনও আইনী ভিত্তি নেই এবং বাংলাদেশ লেবার ল'তে এইসবের কিছুই লেখা নেই। ছোট বুদ্ধিতে বলি, যেসব প্রতিষ্ঠানের ভালো কর্মীকে ধরে রাখার মতো যোগ্যতা নেই, যারা কর্মীনিপিড়নকে সফল ম্যানেজমেন্ট কৌশল মনে করে, বা যাদের এইচআর ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম অত্যন্ত দুর্বল, এগুলো তারাই করে থাকে। কর্মীর জন্যে চাকরীকে আকর্ষণীয় করে দেখুন কতোজন কর্মী চাকরী ছেড়ে যায় বা অন্যত্র চলে যাওয়ার সুযোগ খোঁজে?

পরীক্ষার মূল্যায়ন সিস্টেম সংস্থা থেকে সংস্থাতে বিভিন্ন হয়ে থাকে। কোথাও দেখবেন লিখিত পরীক্ষার ভিত্তিতে মূল মূল্যায়ন হয় আবার কোথাওবা লিখিত এবং ভাইভা ভোস সমান ওয়েটেজ দিয়ে মূল্যায়িত হয়। তবে ভাইভা ভোসে আপনার মনস্তাত্ত্বিক দৃঢ়তা, সৃজনশীলতা, স্মার্টনেস, এ্যাটিচ্যুড, এইগুলোকে আরও ভালোভাবে উপস্থাপন করার সুযোগ থাকে। ব্যাক্তিগতভাবে আমি যে সেক্টরে চাকরী করছি, আমরা কিন্তু ভাইভা ভোসকেই বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকি। এখানে লিখিত পরীক্ষায় প্রথম হলেই চাকরী নিশ্চিত নয়। এখানে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয় মূলত প্রার্থীর তালিকাটাকে আরেকদফা ছোট করতে, আবার কোনও কোনও পরিস্থিতিতে (বিশেষকরে অনেক সিনিয়র পদগুলোতে) সবারই লিখিত পরীক্ষা এবং ভাইভা ভোস নেওয়া হয়।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।