পথে পথে ... দিনান্তে - ১

রেশনুভা এর ছবি
লিখেছেন রেশনুভা (তারিখ: শুক্র, ২৫/০৯/২০০৯ - ৫:৫৮পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:


জোয়োলো থেকে উট্রেখটের লোকালট্রেনে বসে লিখছি। এমনটা কিন্তু একেবারেই হওয়ার কথা ছিল না। গত কিছুদিন ধরেই যা হওয়ার কথা নয় এমন সবকিছু হচ্ছে। আমার এখন আর মন্দ লাগে না।


অনেক ভোরে উঠলাম আজ বাধ্য হয়েই। মুঠোফোনের অ্যালার্মে প্রিজন ব্রেকের থিম সং দেয়া। বাজলে পরে যাতে আমি স্লিপ ব্রেক করতে পারি তাই। এনস্কেডে স্টেশন থেকে ইংরেজী থ্রিলার ছবিগুলোর মতন ট্রেনে উঠলাম; শেষ যাত্রী হিসেবে।


আশেপাশে সৌন্দর্য নাই। মনের খোরাকী যোগায় যে সৌন্দর্য তার খোঁজ করছিলাম। ঘুম দিলাম। হঠাৎ কেউ ঘুম ভাঙ্গিয়ে দিল। দেখি এক জোড়া কপোত-কপোতী, তাঁরা ছাড়া আর কেউ ট্রেনে নেই।


দুর্ঘটনা। সামনে কোথাও হয়েছে। এই লাইনে ট্রেন বন্ধ। দু’তিন ঘন্টা পর আবার চলবে। এটুকু শুনে বোঁচকাপাতি নিয়ে ঐ জোড়ার পিছু পিছু নামলাম। যে স্টেশনে আটকা পড়লাম নাম তার ডেভেন্টার। উল্টা-পাল্টা ঘটনাগুলো এখানেই ঘটে কেন? হাসি [সর্ষেফুল দ্রষ্টব্য]


ঐ লাইনের ট্রেনগুলো এসে এসে গাট্টি গাট্টি লোক নামিয়ে দিয়ে যাচ্ছে। বিড়ি টানা শেষ হলে খুঁজে পেলাম এক খালাম্মা বয়সী টিকিট চেকারকে। উনি বললেন, আমি শুনলাম। বুঝলাম শুধু জোয়োলো যেতে হবে আগে। তারপর অন্য ট্রেন।


জোয়োলো তে নেমেই এই লোকালট্রেনটা পেয়েছি। একটু বিরতির পর আবার লিখছি। টিকিট চেকার এসেছিল। এই টিকিট নিয়ে সকালবেলা একবার কাহিনী হয়েছে। এখানে ট্রেনের বাৎসরিক ডিসকাউন্ট কার্ড পাওয়া যায়। আমারও আছে একটা। ভুলে গিয়েছিলাম যে সাশ্রয়টা শুধু সকাল ৯ টার পরে ভ্রমণ করলেই প্রযোজ্য। এ যাত্রা অবশ্য আগের ট্রেনের টিকিট চেকারের দয়ায় বেঁচে গিয়েছি। এই কাহিনীই বললাম এই চেকারের কাছে। আর জেনে নিলাম কখন পৌঁছব।


যাচ্ছি ২ দিনের এক কর্মশালায়। শুরু সাড়ে দশটায়। আমার ট্রেন পৌঁছবে ১০টা ৩৬ মিনিটে। জায়গামতন যেতে যেতে নির্ঘাত আধা ঘন্টা দেরি তো হবেই। কর্মশালার বিষয়বস্তু খটমট লাগবে অনেকের কাছেই। হালকার উপর ঝাপসা বলে যাই। ‘সিমেনটিক ওয়েব’; বাংলায় কী হবে? অর্থবহ অন্তর্জাল? আপনারাই একটা নাম দেন। মোটা দাগে বললে বলা যায়, অন্তর্জালের পাতাগুলো শুধু আমরা না এই গাধা কম্পিউটারও বুঝে নিতে পারবে নির্দিষ্ট কিছু ‘শব্দগুচ্ছ’ (Vocabulary) পাতাগুলোয় পূর্বনির্ধারিতভাবে ব্যবহার এর মাধ্যমে। বাংলায় এর চেয়ে ভালো আর বুঝাতে পারবো না। লাভ? কিছু খোঁজার সময়; অন্তর্জালের পাতাগুলোকে আরো বেশি কাঠামোগত রূপ দিতে। আঙ্গুল খসে পড়ে যাওয়ার মতন অবস্থা আমার। দেঁতো হাসি


এই আবজাব পড়ে মাথা তো আউলা হয়ে গেছে মনে হয় এতক্ষণে। প্রায় চলে এসেছি। বাজে ১০টা ২১।


বারোটা ছুই ছুই। সারাদিনের কান ঝালাপালা করা আলোচনা শেষে সন্ধ্যা আর রাতটা বেশ ভালো কাটালাম। পৌঁছেছিলাম ১১ টার পরে। কর্মশালার প্রথম পর্ব তখন প্রায় শেষের পথে। একবারে কফি পান করে বসলাম। এইবার শিঁকে ছিড়েছে। বসেছি এক ব্যাপক সুন্দরী বালিকার পাশে আর অপর পাশে আর এক বালিকা; পাশেরজনার চেয়েও আকর্ষণীয়া। এবার কিন্তু প্রথম দেখায় বেড়াল মারতে না পারলেও হাত মিলিয়ে নিয়েছি। বাকী সময়টুকুতে তেমন কিছু আর ছিল না বলার মত। চোখের ভাষা তো বুঝেই নিতে হয়, তাই না? চোখ টিপি

১০
ডিনারে অনেকের সাথে পরিচিত হলাম। ব্রাজিলীয় শামুখ, চৈনিক চি [না কী ঝি … খাইছে ], দক্ষিণ ভারতীয় জেসি [মাইয়া না, পোলা … মন খারাপ ], উগান্ডার একটা ছেলে, নিজ জাতের রফিক ভাই আর ইলোরা …। খাওয়া-দাওয়া, আড্ডা দু’টোই চলল। রাতের উট্রেখট দেখতে বের হলাম। নাহ, কেউ সাথে ছিল না। অল্প ক’টা ছবি দিয়ে দিলাম। হোটেলে ঢোকার মুখেই ইলোরার সাথে দেখা। পুরুষবেষ্টিত অবস্থায় বারের সামনে। একবুক দীর্ঘশ্বাস আর তাঁর দেয়া হাই। এই নিয়েই রাত জাগা।

ছবি-১: আজকের রাত এখানে আছি
হোটেল মিটল্যান্ড, উট্রেখট

ছবি-২: চলতে চলতে
রাতের রাস্তা, উট্রেখট

১১
রুমের সামনে ছোট্ট একটা সুন্দর বসার জায়গা। পাশেই লেক। সেখানে বসেই লিখছি। কাল আবার বকর-বকর। তুলা খুঁজছি। শেষ করেই দৌড়াব আমস্টার্ডাম স্টেশন। প্যারিসের ট্রেন ধরতে হবে যে।

...
রাত ১২টা ৩০
২৫।০৯।০৯


মন্তব্য

সমুদ্র এর ছবি

আপনার হোটেল তো সেইরকম কালারফুল। আপনার মতই! হাসি

"Life happens while we are busy planning it"

শাহান এর ছবি

প্যারিসে গিয়া কিন্তু ছবি আর লেখাতে কোন কিপটামি কইরেন না হাসি

হাসিব এর ছবি

স্লিপ ব্রেক মানে কি ? ঘুম থিকা উঠা ?

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

আপনে দেখি ব্যাপক দৌড়ের উপরে আছেন
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

শেষ ছবিটা দেখে মনে হচ্ছে কোনো সিনেমার স্টিল ফটো। দারুণ!

শোনেন, প্যারিসের মেয়েরা কিন্তু খুব সুন্দর আর উদারমনা হয়। ফোটু বেশি করে তুইলেন চোখ টিপি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।