এনস্কেডের দিনপঞ্জি - ৫

রেশনুভা এর ছবি
লিখেছেন রেশনুভা (তারিখ: রবি, ০৮/০৫/২০১১ - ৭:০৪পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

পাসওয়ার্ড ভুলে গিয়েছিলাম। আমার এই অ্যাকাউন্টের। তৃতীয়বারের প্রচেষ্টায় তবে প্রবেশ এইখানে অনেকদিন বাদে। লিখছিও আজ। অনভ্যাসের কারণে বানান ভুল হতে পারে; দুঃখিত সেজন্যে। আর এ লেখা একবারেই সাদামাটা। অসাধারণ কিছু লেখার ক্ষমতা আমার নাই।

প্রকৃতি রঙ বদলে ফেলেছে। আমার জীবনটা আপাতত একরঙাই। চেষ্টার কমতি নেই রঙের ছোপ একটু এদিক ওদিক করে দেওয়ার। যদি-তবে-কিন্তু'র ফাঁদে তা সহসাই হয়ে উঠছে না। ঘড়ির কাঁটা শুধু মনে করিয়ে দেয় সময় ফুরিয়ে আসছে।

ঘড়ির কাঁটার বৃত্তাকার পথে ঘুরতে ঘুরতেই পেয়ে গেলাম আগামীকালের দু'টো বিশেষ দিন। এইতো একটু আগেই বাংলাদেশী টিভি চ্যানেলগুলো উল্টেপাল্টে দেখছিলাম। তখনই মনে পড়লো রাত পোহালেই ২৫ বৈশাখ। কবিগুরুর সার্ধশততম জন্মবার্ষিকী। শব্দটা জানতাম না। অনেক কষ্টে আত্মস্থ করেছি ব্লগে লিখবো বলেই।

রবীন্দ্রনাথ কে নিয়ে বলার মতন বিদ্যার দৌড় আমার নাই। তবে যে মানুষটার ১৫০তম জন্মবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হয়, বলার অপেক্ষা রাখে না এত দিন পরেও তাঁর চিন্তাবোধ, জীবনদর্শন আজও একদমই পুরোনো হয়ে যায়নি। নৌকাডুবি আমার পড়া ওনার প্রথম ছোটগল্প। মুগ্ধ হয়েছিলাম। শেষের কবিতা বুঝিনি, প্রথমবারে। পরে মনে হয়েছিল, কেন লাবণ্য অমিতকে, নিজেকে এতটা কষ্ট দিল। হয়ত পুরোটা বুঝিনি, তবে প্রথম যৌবনে পড়া - 'হে বন্ধু, বিদায়', তীব্রভাবে ছুঁয়ে গিয়েছিল আমাকে। আমি অবশ্য রবীন্দ্রনাথের লেখা পড়ার থেকে গানই শুনেছি বেশি। বেশ সময় ধরে আজ বৃত্তাকারে শুনেই চলেছি - 'আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ, সত্য সুন্দর'।

মা গান শিখতেন, গাইতেন। মার গলাতেই প্রথম শোনা অনেক গান। রবীন্দ্র, নজরুল দুটোই। নব্বইয়ের দশকে আমরা যখন ঢাকায়, মা গান শিখতেন আলতাফ মাহমুদ সঙ্গীত বিদ্যা নিকেতনে। সুধীন দাশ, সোহরাব হোসেনের মত গুণীজনেরা মার শিক্ষক ছিলেন। আমিও যেতাম মাঝেমাঝে মা'র সাথে। মা যখন শেষ বর্ষের ছাত্রী, বাবা নতুন চাকরি নিয়ে খুলনা চলে এলেন। এরও অনেকদিন পরে পুরোনো ফাইল ঘাঁটতে যেয়ে দেখেছিলাম, কোন এক দৈনিকে মা আর তার সহশিক্ষার্থীদের ছবি। কোন এক উৎসবেই তোলা হয়ে থাকবে। মা'র পাশে আমিও ছিলাম। আমার মা তার শখ আর সাধটাকে ঐ পুরোনো পত্রিকার মতই আলমারিতে তালা দিয়ে রেখেছেন। বোধকরি কয়েক যুগ ধরেই।

এখন বিছানায় শোয়া মাত্রই ঘুমিয়ে যাই। ছেলেবেলায় ঘুমানোর আগে থাকতো অনেক আবদার। মা, তোমার মনে পড়ে তুমি অনেক গল্প বলার পরে শেষে একটা গান গেয়ে আমাকে ঘুম পাড়াতে। এই গানটা না শুনে আমি ঘুমাতাম না। একদমই না। মা, জানো আজ অনেকদিন পরে সেই গানটা শুনেছি। তোমার গায়ের ঘ্রাণ মিশে গেছে মা গানটার সাথে। এত্ত হাজার মাইল দূর থেকেও আমি তোমাকে ছুঁতে পেরেছি মা।

মা আমার শোনাতো এই গানটা প্রতিরাতে ছেলেবেলায় - "দূরদেশী সেই রাখাল ছেলে, আমার বাঁটে বটের ছায়ায় সারা বেলা গেলো খেলে"। তোমার ছেলেটা মা তোমার ছায়ায় বেড়ে উঠে তোমাকেই অনেক কষ্ট দিয়েছে, দিচ্ছে।
আমি এতটাই অকৃতজ্ঞ হয়ে গেছি মা, কাল মা দিবস বলেই হয়ত তোমার কথা উঠে আসছে। আমি জানি মা, তারপরও তুমি কিছু মনে কর না। ওটাই যে তোমার ধর্ম। শুধু দিয়েই গেলে মা, একটু কণাখানিক প্রত্যাশাও না রেখে। ক্ষমা করো মা।

মা আমার এই লেখাটা পড়বে না হয়ত কখনই। তবু জানি, যেদিন মা আমাকে গর্ভধারণ করেছিলেন সেদিনই আমার যতসব ভুলচুকগুলো মা পাশ কাটিয়ে শুধুই আমার স্নেহের ভান্ডার পূর্ণ করে গেছেন।

আজ রাতে তোমার পাশে শুয়ে গান শুনতে শুনতে ঘুমোতে ইচ্ছে করছে, মা।


মন্তব্য

অপছন্দনীয় এর ছবি

জীবনের গল্পগুলো এক না হলেও কিছু অনুভূতি সবার জন্য একই

ভালো থাকবেন হাসি

রেশনুভা এর ছবি

আপনিও ভালো থাকবেন।

তিথীডোর এর ছবি

ব্লুরু (ব্লগিং এর গুরু) ভাইডি--
ম্যালা দিন পর... হাসি

'তুই কি ভাবিস দিন-রাত্তির খেলতে আমার মন?
কক্ষনো তা সত্যি না মা, আমার কথা শোন..
এক-এক দিন যে দেখেছি তুই বাবার চিঠি হাতে, চুপ করে কী ভাবিস বসে, ঠেস দিয়ে জানলাতে...
কাছে গিয়ে হাতখানি ছুঁই, হারিয়ে ফেলা মা যেন তুই......
যেন আমার অনেক কালের, অনেক দূরের মা।'

'রবিবুড়ো আর মা', দুজনেই বড় প্রিয়! হাসি

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

রেশনুভা এর ছবি
প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

অসাধারণ এই অনুভূতিগুলো। অনেকদিন পর লিখলেন।

রেশনুভা এর ছবি

ধন্যবাদ পিপি'দা পড়ার জন্য।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

১. সচলে ঢুকে প্রথম পোস্টটার হেডিং দেখে ভাবলাম ভুল দেখলাম নাকি! পরে দেখি না, ঠিকই দেখছি - রেশ্নু ইস ব্যাক!
২. নৌকাডুবি রবিবুড়ার উপন্যাস, ছোটগল্প নয়। লাবণ্য অমিতকে কষ্ট দিলো কই! যা কিছু অপরাধ সেটা বাটপার অমিত রায়ের।
৩. আপনার মা সহ পৃথিবীর সব মাকে আভূমি প্রণাম।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

রেশনুভা এর ছবি

ইশ, উপন্যাসকে ছোটগল্প বানিয়ে দিলাম। দুঃখিত পাণ্ডব'দা।

নিবিড় এর ছবি
রেশনুভা এর ছবি
আশরাফ মাহমুদ এর ছবি
আসমা খান, অটোয়া। এর ছবি

চমৎকার লেখা। ভালো থাকুন। মায়ের জন্য অনুভুতি মন্টাকে ছুয়ে গেছে!!!

কৌস্তুভ এর ছবি

চলুক

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।