পঞ্চম-গুলজার যুগলবন্দী ১

মনি শামিম এর ছবি
লিখেছেন মনি শামিম [অতিথি] (তারিখ: বিষ্যুদ, ০১/০৫/২০১৪ - ১:৫৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

যখন কোন এক স্বপ্ন মাখা শুভক্ষণে সম্পুরন সিং কালরা এবং পঞ্চমের দেখা হয়েছিল তখন তারা গুলজার কিংবা রাহুল দেববর্মণ হয়ে ওঠেন নি নিশ্চয়ই। কেমন ছিল সেই দিন কিংবা সেই রাত কিংবা অন্য কোন ক্ষণ? ভারি বর্ষণ ছিল কি সেই দিনের শুরুতে? ছিল কি উজ্জ্বল মধ্যাহ্ন, মলিন আলোর বিকেল কিংবা জ্যোৎস্না ভরা রাত? কোথায় দেখা হয়েছিল তাঁদের? রেল লাইনের ধারে, ঝরা পাতা মাখা রেলের স্লিপার, যে দিনটির কথা স্বপ্নমাখা বয়ানে গুলজার স্বয়ং জানিয়েছেন আমাদের অথবা কোন এক নদীর ধারে মেঘ মল্লার দিনে নৌকোর গলুইয়ে বসে অথবা কোন এক টমটমে চড়ে দুই মুসাফির গল্প করতে করতে। তবে এইসবই হল ভক্তের কল্পনা মাখা চোখে দুই অসাধারণ প্রতিভাধর মানুষের এক হবার কল্পকাহিনী। আদতে এইসবের কিছুই হয়নি হয়ত। তাঁদের দুজনের দেখা হয়েছিল নিশ্চয়ই কোন গানের স্টুডিওতে কিংবা সচিন কত্তার বিখ্যাত বাড়িতে অথবা কোন এক বন্ধুর সুত্রে কোন ঘরোয়া আসরে! কেমন ছিল সেই মুহূর্ত? তারা কি সেই মুহুর্তে বুঝতে পেরেছিলেন যে অনাগত দিনগুলিতে তারা এমন সঙ্গীতের যাদু উপহার দেবেন শ্রোতাদের যা হিন্দি সঙ্গীতের সেরা সম্ভার হিসেবে বিবেচ্য হবে? না, নিশ্চয়ই নয়, সেদিন ছিল হয়ত আর দশটা সাধারণ সাদামাটা দিন। সেদিন, সেই সময় তাঁরা দুইজনই ছিলেন স্বল্পখ্যাত কিন্তু উদীয়মান। স্বপ্নের ঘোড়দৌড়ে লাগাম লাগিয়েছিলেন দুইজনই, মাটির দিকেই নজর ছিল তাদের। নিজেদের প্রতিভা এবং কর্মক্ষমতাকে দুইজনই শান দিচ্ছিলেন পরম যত্নে, নিজেদের মতন করে।

ষাটের দশকে পঞ্চম বাবার সঙ্গীত সহকারী, বাবার আড়ালে থাকা এক উঠতি জিনিয়াস যে কিনা নিজের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করার জন্য উন্মুখ, বাবার কঠোর সাংগীতিক অনুশাসনে থাকা এক যুবরাজ। আর গুলজার এক উঠতি গল্প লেখক, গীতিকার, বলিউডের গ্ল্যামার জগতের কিছুই যাকে আকর্ষণ করেনা, ঘটনাচক্রে এসে পরেছেন বিমল রায়ের হাতে আর শিখছেন চলচ্চিত্র নির্মাণের নানান কৌশল। তবে খুব সহজ নয় তাঁদের যাত্রাপথ। ভারতের হিন্দি চলচ্চিত্রের এই দুনিয়া বানিজ্যিক সাফল্য নির্ভর। এখানে যত উঁচু মানের গল্প কিংবা লিরিক আপনি লিখুন না কেন কিংবা যত ভাল সঙ্গীত সংযোজন আপনি করুন না কেন আপনার জাত বিচার হবে আপনার শেষ চলচ্চিত্রের ব্যাবসায়িক সাফল্যের ওপর। কিন্তু এতসব আধা বিপত্তির মাঝেও মাথা উঁচু করে রয়েছেন সচিন কত্তা, সলিল চৌধুরী, মদন মোহন যাঁরা আর যাই হোক সুর এবং লিরিকের সাথে আপোষ করতে চাননি কখনো। আর তাদের ভিশন কে চলচ্চিত্রায়িত করার জন্য ছিলেন গুরু দত্ত, বিমল রায় আর হৃষীকেশের মাপের পরিচালক। কিন্তু তাঁরা কাজ করতেন ভালো প্রোডাকশন হাউজ এবং সফল প্রযোজকদের সাথে। অফ বিট চলচ্চিত্রের ধারণা মধ্য সত্তরের আগে একেবারেই পোক্ত হয়নি।

বাবার মতন পঞ্চমের এত ছুৎমার্গ নেই। যা পেয়েছেন, দুহাতে নিয়েছেন।সত্তর দশকের গোড়ার দিকে 'হারে রামা হারে কৃষ্ণা' মুক্তি পাবার পর পঞ্চমের জনপ্রিয়তা তখন তুঙ্গে। আর গুলজারের সাথে তার প্রাথমিক পরিচয় একটু একটু করে বন্ধুতায় কেবল রূপ নিতে শুরু করেছে। দুইজন দুই বিপরীত মেরুর মানুষ। গুলজার মৃদুভাষী, চোস্ত উর্দুতে অনুকরণীয় ভঙ্গিতে কথা বলেন আর পঞ্চম অস্থির চঞ্চলমনা, দুহাতে টাকা পয়সা ওড়ান। গুলজারের দিন আনতে পান্তা ফুরায়, মোটর মেকানিকের কাজ ছেড়ে দিয়ে হালে ফুল টাইম গল্প এবং লিরিক লেখক এবং নির্দেশক হবার স্বপ্নে বিভোর আর পঞ্চম নিজের জগতে ডুব মেরে থাকা এক মানুষ যার উঠতে বসতে চলতে ফিরতে শুধু ছন্দ আর তাল, কিছুতেই যেন তার মন নেই।

বন্ধুত্ব হয়েই গেল এই দুই বিপরীত মেরুর মানুষের। আর সে কি বন্ধুত্ব। একেবারে মানিকজোড়। গালিগালাজ ছাড়া নাকি তাঁদের চলতোনা! গুলজার তাঁর নিজের বাসায় গভীর মনোযোগ সহকারে কিছু একটা লিখছেন, বলা নেই কওয়া নেই, গাড়ি সহকারে নিচে পঞ্চমের হাঁকডাক, এক্ষুনি বেরুতে হবে। গাড়িতে উঠে গুলজার খিস্তি খেউর করছেন আর পঞ্চমের যেন সেদিকে মন নেই। ড্রাইভিং সিটের এক পা হাঁটু গেঁড়ে রেখেছেন সিটের ওপর আর আরেক পা দিয়ে সবেগে চালাচ্ছেন তাঁর দামী গাড়ি, এক হাত দিয়ে টোকা মারছেন গাড়ির ছাদে, তালে তাল ঠুকছেন। গুলজারেরও বলিহারি যাই। লিরিকজনিত যত রকম পরীক্ষা নিরীক্ষা সব চাপিয়ে দিতেন বেচারা পঞ্চমের ওপর। একবার ‘ইজাজত’ চলচ্চিত্রের মেরা কুচ সামান গানটি লিখে কাগজ ধরিয়ে দিলেন পঞ্চমের কাছে। পঞ্চম তো রেগেই আগুন। এই কি লিরিক না সংবাদ পত্রের কোন প্রতিবেদন! কোন ছন্দ নেই, কোন শুরু নেই শেষ নেই, এইসব কি ছাইপাঁশ! আশাকে অনুযোগের সুরে বলেন, এই লোক তাঁর বারোটা বাজিয়ে ছাড়বে। আজ এই লিরিক দিচ্ছে, কাল টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদন নিয়ে এসে বলবেন, সুর করো! এ কি সহ্য করার মতন?আশা মনে মনে হাসেন এই দুই বন্ধুর কাণ্ড দেখে। হাসি ঠাট্টা, ঝগড়া, মান অভিমান নাকি লেগেই থাকত এই দুই বন্ধুর মধ্যে। আর আশা হলেন তাদের বন্ধুতার সূত্রধর। দুজনাই নাকি ভাল খাবারের পাগল। আর আশার রান্নার হাতও দুর্দান্ত। ঝগড়া, গালি গালাজের তুবড়ি ছোটানোর পর আশার খাবারের কাছেই নাকি নতজানু হয়ে পরে রইতেন দুই বন্ধু।

গুলজার নিজে বলেছেন যে পঞ্চমের সাথে তিনি যে সময় কাটিয়েছেন এই সময়গুলো ভীষণ হৃদয়গ্রাহী, পাগলপারা, কালের পরিক্রমায় যা কখনো মলিন হবার নয়, বড় উচ্ছল, প্রানবন্ত সেই সব সময়গুলি। বলতে বলতে তাঁর চোখের কোনে জলের ঢল নেমে এসেছে। গুলজার তাঁর অনুকরণীয় ভঙ্গীতে যে টুকরো টুকরো স্মৃতিচারণ করেছেন পঞ্চম সম্পর্কে এখানে ওখানে, তাই দিয়েই মনে হয় মহৎ সাহিত্য রচনা সম্ভব।

আর তা হবে নাই বা কেন। আমরা গুলজার এবং পঞ্চম জুটির প্রথম সাক্ষাৎ দেখি ‘পরিচয়’ চলচ্চিত্রে। আর প্রথমেই বাজিমাৎ করে দিলেন যেন এই মানিকজোড়। তাঁরা মুসাফির হুঁ ইয়ারোঁ নামক একটি অবিস্মরণীয় গান সৃষ্টি করলেন যা কিশোর কুমারের কণ্ঠে তাঁর অন্যতম সেরা গান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আছে আজও। এই গানটিই তাঁদের একসাথে রেকর্ডকৃত প্রথম গান। এই গানের কথায় সুরে যেন একজন পথিকের আনন্দ, হাহাকার উচ্চাঙ্গরুপে প্রস্ফুটিত, তেমনটি আর কোথাও কখনও শোনা হয়েছে কিনা সন্দেহ! পরিচয় মুক্তি পায় ১৯৭২ সালে। ১৯৭২ সালেই গুলজার আরেকটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন, কোশিষ। কোশিষ, পরিচয়, মেরে আপনে- এইসব চলচচ্চিত্র গুলজারকে অফ বিট চলচ্চিত্রের একজন মহান নির্দেশক হিসেবে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে আসে। আর পঞ্চম তো হিন্দি মূলধারার বানিজ্যিক চলচ্চিত্রের রাজাধিরাজ। যে কোন সিচুয়েশনাল গানে পঞ্চমকে পরাজিত করা কঠিন। কিন্তু পরিচয় চলচ্চিত্রের বিতি না বিতাই র‌্যায়না, সারে কে সারেএবং মুসাফির হু ইয়ারোঁ গান তিনটিতে আমরা একটু ভিন্ন আঙ্গিকে পঞ্চমকে আবিষ্কার করি। মূলধারার বানিজ্যিক চলচ্চিত্রের বাইরে একটু শ্বাস ফেলার মতন সুরের ক্ষেত্র পঞ্চমের জন্য যেন তৈরি করে রেখেছিলেন গুলজার। আর তারা যৌথভাবে সেই উর্বর ভূমিতে যেন সোনা ফলিয়েছেন। যে কাজটি এমনকি সচিন কত্তা পর্যন্ত করার সাহস পাননি, পঞ্চম গুলজারের সহযোগে তা করে দেখিয়েছেন। তারা প্রমান করে দিয়েছেন যে অফবিট চলচ্চিত্রেও অসাধারণ সুর সংযোজন করা সম্ভব।

পরিচয় চলচ্চিত্রের পর এল গুলজার নির্দেশিত 'খুশবু,' ১৯৭৫ সালে। খুশবু চলচ্চিত্রটি শরৎচন্দ্রের ‘পণ্ডিত মশাই’ গল্প অবলম্বনে নির্মাণ করেছিলেন গুলজার। এই চলচ্চিত্রে কিশোরের কণ্ঠে ও মাঝিরে গানটি এখনও আমাদের কাঁদায়, ভাসায়, কিছু কিছু জায়গায় কিশোরের কণ্ঠের রেঞ্জ গায়ের লোম পর্যন্ত খাড়া করে দেয়।এই গানের যে সঙ্গীত, যে মিনিমাল সঙ্গিতায়োজন, যে বাদ্য যন্ত্রের ব্যাবহার পঞ্চম করেছেন, তা এতই আধুনিক মনে হয় যে, এই গানে সময়ের আঁচড় যেন লাগেইনা! ভাটিয়ালি সুরে গীত গান, সুর দিয়ে পঞ্চম যেন অমর হয়ে রইলেন। এই গানটিও কিশোরের কণ্ঠে গীত এই পর্যন্ত সেরা গানগুলির একটি। এই চলচ্চিত্রের আর একটি গান, ঘার যায়েগি তার যায়েগি গানটিও বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল সেই সময়। এছাড়া লতার কণ্ঠে দো ন্যায়নো মে আঁসু ভার আয়ে, আশার কন্ঠে বেচারা দিল কিয়া কারে গানগুলিও ব্যাপকভাবে প্রশংশিত হয়। খুশবুর গান যেন এখনও শ্রোতার মনে সুগন্ধ ছড়ায়।

১৯৭৫ সাল আরও যে কারণে বিশিষ্ট এই দুই মহারথীর জন্য তা হল ‘আন্ধি’ চলচ্চিত্রটি। রাজনৈতিক কারণে যদিও এই চলচ্চিত্রটি তখন নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছিলো এবং আরও দুই বছর পর ১৯৭৭ সালে মুক্তি পেয়েছিল তবে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তির আগেই আন্ধি অবিস্মরণীয় হয়ে রইল তার গানের জন্য। এত সুক্ষ মানব অনুভূতির একটি সিনেমা যা কিনা উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে সঞ্জীব কুমার এবং সুচিত্রা সেনের অনবদ্য অভিনয় নৈপুণ্যে, সেখানে তিনটি গান দিয়ে গুলজার এবং পঞ্চম আমাদের মনের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছিলেন। তেরে বিনা জিন্দেগি সে, তুম আ গ্যায়ে হো এবং ইস মোড় সে যাতি হ্যায়- গান তিনটি ঠিক কিভাবে পঞ্চমের দ্বারা সুরারোপিত হয়েছিল কিংবা গুলজার দ্বারা লিখিত হয়েছিল আমার জানা নেই, তবে এই গান তিনটিতে মানবমনের বেদনা, হাহাকার, উল্লাস এমন বিচিত্র ভাবে ফুটে উঠেছে যা ভাষায় প্রকাশ করা যায়না। তেরে বিনা গানটি সম্ভবত হিন্দি গানের জগতে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ডুয়েট গান। ঠিক আর দশটা ডুয়েটের মতন নয় এই গান। এখানে পুরো গানের দুইটি অন্তরা লতার কণ্ঠে গাওয়া, শুধু শেষ অন্তরাটি কিশোর গেয়েছিলেন।এই গানে বেদনা এবং হাহাকার নামক এই দুই অনুভুতিকে মিলিয়ে মিশিয়ে আমাদের মনের মধ্যে যেন ঢুকিয়ে দিয়েছেন গুলজার এবং পঞ্চম। এই বেদনা বিধুর গানের আবেদন এই এত বছর পরেও এতটুকু মলিন হয়না। চিরচেনা মানুষকে দীর্ঘদিন পর কাছে পাবার পর যে অনাকাঙ্ক্ষিত অনুভূতির জন্ম হয়, এতদিন কাছে না থাকবার কষ্ট যেভাবে তীরের মতন আঘাত হানে, তাঁকে গুলজার এবং পঞ্চম যে ভাষায় যে শব্দে যে সঙ্গীতের মাধ্যমে জীবন্ত করে রেখেছেন তার আবেদন যেন চিরন্তন। মাঝে মাঝে এমনও মনে হয়, গুলজার এবং পঞ্চম যদি শুধু এই একটি গান শব্দে সুরে রচনা করে যেতেন তাহলেও তাঁরা অমর হয়ে রইতেন! এই গানে সমর্পণ এবং নিবেদনকে এমন উঁচু মাত্রায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে যার তুল্য খুব কমই মেলে। আর কি গেয়েছেন লতা এবং কিশোর। এখনও এই গান শুনলে চোখ দিয়ে পানি বের হয়ে আসে!


মন্তব্য

অতিথি লেখক এর ছবি

লাগে রাখো শামিম ভাই! কিয়া বাত! বড় ভাল লাগল গো‍ চলুক

- আনন্দময়ী মজুমদার

মনি শামিম এর ছবি

লেগে আছি। অনেকদিন পর লিখলাম। পঞ্চম অভিধান লিখতে গিয়ে মনে হল, গুলজারকে নিয়ে না লিখলে এই অভিধান অচল। এই পর্বখানা আগামি সংখ্যায় সমাপ্য। আনন্দ আপা, সচলে সবাই আমাকে মনি নামেই চেনে কিন্তু।

নির্ঝর অলয় এর ছবি

কী অসাধারণ সব গান মনে করিয়ে দিলেন ভাই! ধন্যবাদ এবং পাঁচ তারা। গানগুলো শুনলে ভেতরটা হুহু করে ওঠে।

"পাত্থর কি হাবেলি কো শিশে কি ঘরন্দোঁ মেঁ,
তিনকো নশে মন তক, ইস মোড় সে যাতে হ্যায়।"

গুলজারের একটা অবিস্মরণীয় ছবি "লেকিন"- একটা তথাকথিত "ভূতের ছবি"কে যে অবিস্মরণীয় শৈল্পিক ব্যঞ্জনায় তিনি মূর্ত করেছেন- সেটা দেখার এবং ভাবার বিষয়।

আর কী?
"বিতি না বিতায়ি রৈন, বিরহা কি জায়ি রৈন,
ভিগি হুয়ি আঁখিওঁ নে লাখ বুঝায়ি রৈন"- গুলজার

মনি শামিম এর ছবি

লেকিন। ইয়ারা সিলি সিলি, বিরহা কি রাত কা জ্বালনা। এই গান এমন এক গান, আর এই গানে লতা এমন দরদ ঢেলে দিয়েছিলেন যা শুনলে এখনও বিস্মিত হতে হয়। লেকিন চলচিত্রের সুর দিয়েছিলেন লতার ভাই পন্ডিত হৃদয়নাথ মুঙ্গেশকর। আশির দশকের শেষের দিকে সম্ভবত এই চলচ্চিত্র মুক্তি পায়। দুর্দান্ত অভিনয় করেছিলেন ডিম্পল। ইয়ারা সিলি সিলি গানটি ভারতের সম্ভাব্য সব চলচ্চিত্র পুরষ্কারই পেয়েছিল।

ধন্যবাদ নির্ঝর। পঞ্চম অভিধান চলছে, চলবে।

নির্ঝর অলয় এর ছবি

ভাই জ্বালনা না লিখে জ্বলনা লিখলে ভালো হয়। হিন্দীতে অ কার টা অ আর আ এর মাঝামাঝি উচ্চারিত হয় কিন্তু বানানে আ-কার লেখাটা ঠিক নয়। হাসি

মনি শামিম এর ছবি

আমি না নির্ঝর হিন্দি থেকে বাংলা লেখার সময় অনেক ভুল করছি মনে হয়। তোমাকে ধন্যবাদ, মাঝে মাঝে তা ঠিক করে দেয়ার জন্য। শুধু ধন্যবাদ নয় কৃতজ্ঞতা।

নির্ঝর অলয় এর ছবি

একটা ভুল করেছি- "তিনকো কি নশে" হবে! হাসি

মনি শামিম এর ছবি

আচ্ছা নির্ঝর, এই 'তিনকো কি নশে' মানে কি?

নির্ঝর অলয় এর ছবি

ছোট ছোট বস্তুর নেশা! হাসি

মনি শামিম এর ছবি

ধন্যবাদ।

আয়নামতি এর ছবি

গানের কথা দারুণ লাগলো। এখানে বলা বেশির ভাগ গান কমন পেয়ে আনন্দ যেন বেড়ে গেলো হাসি
তবে এতসব কিছুই জানা ছিল না। অনেক ধন্যবাদ এভাবে জানাবার জন্য।
নামের বানানে অবশ্য ভুল নেই, কিন্তু শচিন বর্মণের নামের বানানটা এমনই পড়েছি, আপনি 'স' দিয়ে লিখছেন কেনু(বাড়ি উত্তরবঙ্গে নাকি দেঁতো হাসি )
আপনি নিজেও নিশ্চয়ই গান করেন? দু' একটা গান শোনার সুযোগ দিন আমাদের। বায়নাটা হেলা করবেন না।
ভালো থাকবেন।

মনি শামিম এর ছবি

ধন্যবাদ আয়নামতি। শচিন কিভাবে সচিন হল, তাইতো? ঠিক করে দিতে হয় যে। আর আয়নামতি, উত্তরবঙ্গ তো অনেক বড়। সেখানে সব জায়গাতে শ স এর সমস্যা নেই, এইটা একান্তই চাঁপাই নবাবগঞ্জের উচ্চারন জনিত ব্যাপার। তাইনা? লেখকের বাড়ি অবশ্য চাঁপাই নবাবগঞ্জ থেকে খুব দূরে নয়!

আমি কোরাস শিল্পী। গলাতা একটু হেঁড়ে। একে পরিশিলিত করার জন্য যে সময়টুকু দরকার, তার অভাব রয়েছে অনেক। তবে দেখি, আপনার বায়না বাস্তবায়ন করা যায় কিনা কোন এক দিন!

আয়নামতি এর ছবি

ঠিক ঠিক আয়নার বায়না ফেলতে নেই। জলদি গান হয়ে যাক ভাইয়া।
আমাদের কিছু আত্মীয়কে শ এর জায়গাতে স বলতে শুনেছি। ওঁরা কেউ চাঁপাই নবাবগঞ্জের নন।
এক কাজিনের বিবাহ হয় যদিও চাঁপাই নবাবগঞ্জে। যাক সে গল্প। জলদি আপনার গান শুনতে পাবো আশায় থাকলাম।

সুবোধ অবোধ এর ছবি

বায়নামতি দিদির বায়না ফেলতে নেই মনি দা। ঝেড়ে কাশুন, মানে এই গান গেয়ে ফেলুন আর কি...
লেখা খুবই ভাল হয়েছে। একসাথে এতগুলো অসাধারণ গান মনে করিয়ে দেবার জন্য একটা স্পেশাল ধন্যবাদ আপনার পাওনা। হাসি

মনি শামিম এর ছবি

ধন্যবাদ সুবোধ অবোধ। গান গাওয়া পরে হবে, আগে গানের গল্প শুনে নাও। এখনও অনেক গল্প শোনানো বাকি যে!

দীনহিন এর ছবি

চলুক

.............................
তুমি কষে ধর হাল
আমি তুলে বাঁধি পাল

মনি শামিম এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

এক লহমা এর ছবি

অনেকদিন বাদে তোমার লেখা পেলাম মণি-দাদা। বরাবরের মতই খুব ভাল লাগল।

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

মনি শামিম এর ছবি

ধন্যবাদ এক লহমা। বরাবরের মতন আপনার মন্তব্য পড়েও আপ্লুত হলাম ভীষণ।

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

অনেকদিন ধরে জমিয়ে জমিয়ে বেশ জমিয়ে লিখেছেন। চলুক

মনি শামিম এর ছবি

ধন্যবাদ আব্দুল্লাহ ভাই। অল্প অল্প করে লিখে দেখি লেখা কতদুর যায়!

অতিথি লেখক এর ছবি

যে সময়ের গল্প বলছেন সেই সময়ে জন্মও হয়নি তাই সেই গানগুলো শুনা হয়নি, এমনিতে আমি হিন্দি গান শুনিনা। তবে ইতিহাস জেনে ভালোলাগলো, দুজন মহৎ মানুষের গল্প আর তাদের কর্মের সাথে পরিচিত হলাম এটাই পাওনা। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ পুরোনো কে নতুনদের কাছে উপস্থাপনের জনে। বাংলাদেশের শিল্পীদের নিয়ে কি এমন পেছনের গল্পগুলো লেখা যায় না? আপনার যদি এখানেও জানাশোনা থাকে দাবি রাখবো সেগুলো নিয়ে লেখার। ভালোথাকুন, আরেকটু সচল থাকুন হাসি

মাসুদ সজীব

মনি শামিম এর ছবি

ধন্যবাদ সজীব। বাংলাদেশের শিল্পীদের নিয়েও নিশ্চই লেখা যায়। তবে পঞ্চম অভিধান লিখতে বসেছি কিনা। সেটা তো আর হঠাৎ ছেড়ে দেয়া যায়না, তাইনা? আপাতত এটাই চলুক। অবসর পেলে অন্য কিছুও লেখা যাবে।

স্পর্শ এর ছবি

চমৎকার লেখা। উত্তম জাঝা!
আপনার থেকে বাংলা গান, বাংলাদেশী গান নিয়েও এমন লেখা চাই হাসি


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

পঞ্চম অভিধান দৌড়ে চলুক। পঞ্চমকে নিয়ে এতো ভালো লেখা আর নেই...
(আমি তো চিপা দিয়ে আপনের গান শুনে ফেলেছি, জুলাই মাসে গিয়ে জম্পেশ করে শুনতে হবে)

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।