আত্মজা ও আমার দিন-রাত্রি

শামীম রুনা এর ছবি
লিখেছেন শামীম রুনা [অতিথি] (তারিখ: সোম, ২৭/০৭/২০০৯ - ১০:৩৯অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:


সাবধান! গোলাপ ফুলে কাঁটা আছে, হাতে লাগলে ব্যাথা পাবে। একটি টকটকে লাল গোলাপ আমি আর আমার দুই মেয়ে ভীষণ রকম মনোযোগ দিয়ে দেখছিলাম। আড় চোখে আমি মেয়েদের মুখ দেখে বুঝতে চাচ্ছিলাম ওরা ফুলটির সৌন্দর্য্যে কতটুকু মুগ্ধ। ফুল পর্যবেক্ষণের শেষের দিকে আমার ছোট মেয়ে বুড্ডি ( সুপ্রীতি) বলল, আমরা কি ফুলটি নিয়ে যাব?
কৌতুহলী হয়ে জানতে চাইলাম, কেনো মা?
বাসায় নিয়ে যেয়ে আমরা এটা খাবো, বুসলে(বুঝলে) ।
মেয়ের কথায় আমি রীতিমত ধাক্কা খেলাম। বাচ্চাদের অনেক রকম নির্মমতার কথা জানি, ছোটবেলায় আমি নিজেও নির্মম ভাবে ফড়িংয়ের লেজ ছিঁড়ে সেখানে চোরকাঁটা গুঁজে দিয়ে ফড়িংকে হেলিকপ্টার বানিয়ে আকাশে উড়িয়ে দিতাম যা এখন আমার কাছে খুবই অনৈতিক কাজ মনে হয়,কিন্তু কখনো কোনো বাচ্চার গোলাপ ফুল খাবার ইচ্ছের কথা আমি শুনিনি। তাছাড়া আমার মেয়ে দু’টি খাদ্য রসিকও নয় যে যা দেখবে তাই খেতে চাইবে, তাই আমি আহত দৃষ্টিতে বুড্ডির দিকে তাকিয়ে জানতে চাইলাম, কেনো সে এতো সুন্দর গোলাপ ফুল খেতে চাইছে।
তুমি না বললে গোলাপ ফুলে কাঁটা আছে। মেয়ের উদাস কন্ঠের লেজ-মাথা বিহীন উত্তর।
কাঁটা থাকলে বুঝি গোলাপ ফুল খেতে হয়?
মাছের কাঁটা আছে আমরা মাছ খাই, গোলাপ ফুলেরও কাঁটা আছে তাহলে আমরা এই গোলাপ ফুলও খেতে পারবো, বুসলে।
আমি অবাক বিস্ময়ে বুড্ডির দিকে তাকাই, মেয়ের কথায় যুক্তি আছে।


আমার বড় মেয়ের নাম সম্প্রীতি, আদর করে ডাকি টুসকি, কখনো কখনো বা দু’জনকে ময়না আর টিয়া নামে ডাকি। বিচিত্র সব নামে আমাদের মধ্যে ডাকাডাকি চলে,ওরা দু’জনও নানা নামে ডাকে আমাদের। যখন ওরা কথা বলা শিখছিলো তখন মাঝে মাঝে আমাদের রুনা-টুটুল নামে ডাকতো। সে ডাক শুনে আমরা কতটা যে আন্দোলিত হতাম, তা নতুন বোল ফোটা সন্তানের ডাক যে মা-বাবা শুনেছে তারা জানে।
একদিন মেয়েদের নিয়ে টিভিতে একটি ইংলিশ মুভি দেখছিলাম, পাশে বসে দেখছিলো বাসার কাজে সাহায্যকারি মেয়েটিও। মুভির এক পর্যায়ে রোমান্টিক সিন এলে আমি অন্য চ্যানেলে কি হচ্ছে দেখার ছুঁতোয় চ্যানেল বদলে ফেলি। এর মধ্যে কাজের সাহায্যকারি মেয়েটি নিজের কাজে অন্যদিকে চলে যায়, ততক্ষনে আমি ফিরে এসেছি মুভি চ্যানেলে, তখন টুসকি বলল, শাহেদাপু ছিলো বলে তুমি চ্যানেল বদলিয়েছো তাই না মাম্মু? এই সব তো আর সবাইকে নিয়ে দেখা ঠিক না।
তোকে কে বলেছে সবাইকে নিয়ে দেখা ঠিক না? আমি জানতে চাই।
কেউ না, আমি জানি।


টুসকির আর একদিনের প্রশ্ন, মাম্মু, তোমার বয়স কতো?
মেয়েদের বয়স জানতে চাইতে হয় না।
তোমার বয়স কি চল্লিশ হয়েছে?
কেনো?
তোমার বয়স যদি চল্লিশ হয় তবে তোমার পেটে আর কোনো বেবী নেই।
তাই! তাজ্জব আমি চোখ বিস্ফোরিত করি,তুই কি করে জনিস রে?
টুসকি কিছুটা সন্দিহান, ওর এই জানাকে আমি কতটা ভালো ভাবে নিচ্ছি ও বুঝতে পারছিলো না। আমি নরম কন্ঠে ওকে আবার প্রশ্নটা করি, এবার মৃদু কন্ঠে মেয়ে জানালো, বারহা দিদি বলেছে। বুঝলাম কাজিন গুরুর কাছ থেকে ভালোই জ্ঞান অর্জন করছে।


বেবী নিয়ে বুড্ডির একটি ঘটনা মনে পড়লো। গত কোরবানী ঈদের একদিন আগের কথা, তখন মোটামুটি সবারই ঈদের পশু কেনা শেষ। আমাদের বাসায় কেনা হয়েছে বেঙ্গল গোট জাতের কালো নিরীহ গোছের ছাগল একটা আর আমার বড় বোনের বাসায় কেনা হয়েছে বিশাল সাইজের এক গরু। তা দেখে বুড্ডিরও ইচ্ছে হলো, আমাদের বাসায়ও তেমন একটি গরু কেনা হোক। আমি ওকে বুঝালাম, ওদের বাসায় অনেক মানুষ তাই ওদের অনেক মাংসের দরকার সেজন্য ওরা গরু কিনেছে। আমাদের বাসায় তো আর অনেক মানুষ নেই যে বেশি মাংস লাগবে। আমাদের জন্য ছাগলই ঠিক আছে।
বুড্ডি আমার কথা বুঝলো। বিপত্তি বাঁধালো তখন যখন আমি দুই মেয়েকে নিয়ে রিক্সা করে কোথাও যাচ্ছিলাম আর ও আমাকে বললো, মাম্মু, তোমার পেটটা একটু ভালো করে টিপে দেখতো ওখানে আর কোনো বেবীর ডিম আছে নাকি?
কেনো মা? ডিম দিয়ে কী হবে?
ওই ডিমগুলো থেকে যদি আরো বেবী বেরিয়ে আসে তখন তো আমরা অনেক ভাই-বোন হয়ে যাব। তখন তো বেশি মাংসের জন্য আমাদের বড় গরু কিনতে হবে, বুসলে?


ছোট মেয়ে বুড্ডির সাথে টুটুলের বেশ আহ্লাদিপনা চলছিলো গলা জড়াজড়ি করে। বাপের গলা জড়িয়ে মেয়ের বায়না, পাপা তুমি কখনো বুড়া হবা না, বুসলে।
আমি বুড়া হবো না যদি তুমি আমাকে অনেক বেশি করে ভালোবাস।
আমি তোমাকে অনেক অ-নে-ক--- ভালোবাসবো। বুসলে, তুমি কিন্তু বুড়া হবো না।
টুটুল খুশিতে গদগদ হয়ে মেয়েকে জড়িয়ে ধরে।
বুড্ডি কিছুটা চিন্তিত, পাপা, তুমি কি তোমার পাপাকে অনেক ভালোবাসতে না?
খুব ভালোবাসতাম।
তাহলে দাদাভাই বুড়া হয়ে মরে গেলো কেনো?
মেয়ের কথায় টুটুলের চোখে সন্ধ্যা নেমে আসে, সারা বিকাল বিষণ্নতায় কাটে ওর, হয়তো মনে মনে বাবাকে ও কতোটা ভালোবাসতো সে হিসাব মেলায়।


দুই বোনের মধ্যে প্রায়ই লেগে যায়। এক্ষেত্রে ছোট বোনের কাছে বড় বোন মার খায়, আবার ছোটজনই বড়জনের নামে নালিশ নিয়ে আমার কাছে ছুটে আসে। আমি হয়তো কখনো কপট রাগে বললাম, দাড়াও, দি’কে (বুড্ডি টুসকিকে দি বলে ডাকে) বকা দিচ্ছি এক্ষুনি। বুড্ডি তখন আমার পিছু পিছু ঘুরতে থাকে এবং এক সময় ওর আদুরে গলা আরো আদুরে করে বলবে,দি তো এখনো অনেক বড় হয় নাই। আমার থেকে একটু বড় হয়েছে শুধু, বুসলে। দি'কে তুমি বকা দিও না মাম্মু। দি তাহলে অনেক কান্না করবে বুসলে। আমি মুখ টিপে হাসি ওদের একতা দেখে। কখনো বা নিজের অজান্তে চোখের কোনায় জমে উঠা পানি টুকু মুছে নেই।


টুসকি ডাল খেতে চায় না ইদানিং। বাচ্চাদের বেড়ে উঠার জন্য ডাল জরুরী তাই আমি কিছুটা জোর করে ওকে ডাল খাওয়াতে চাই।
ডাল আমার ভালো লাগে না। মেয়ের পরিস্কার কথা।
খাও, খেলে ভালো লাগবে।
ডাল দিয়ে ভাত খাবার জন্য বিডিআররা আর্মিদের মেরে ফেলেছে। তার জন্য ডাল খেতে আমার ভালো লাগে না।
মেয়ের কথা শুনে মুখে খাবার তুলতে যেয়ে আমার হাত থেমে যায়। ২৫শে ফেব্র“য়ারীর ট্রাজেডী নিয়ে অনেক তর্ক-বিতর্ক হয়েছে কিন্তু কেউ কি আমার সাড়ে ছয় বছরের মেয়ের মতো ভেবে ডাল খাওয়া বয়কট করেছে!
আমাদের বাসা পিলখানার কাছে হওয়ায় গুলির শব্দ এবং পরের দিন বাসা ছাড়তে হওয়ায় রাস্তায় ট্যাংক-রাইফেল-মেশিনগান অস্ত্রসজ্জিত আর্মি দেখে টুসকি ভয় পেয়েছিল। অনেক দিন পর্যন্ত ওর ভেতরে সে আতংক ছিলো, কোনো সামান্য শব্দেও সে তখন ভয় পেয়ে যেতো। ধীরে ধীরে ও স্বাভাবিক হয়ে আসে কিন্তু ওর ভেতর ডাল-ভাত শব্দ যে এতো শক্ত হয়ে বসে আছে সে খবর আমি মা হয়েও জানতে পারিনি।


দুই মেয়ের সাথে আমার সারা দিন কেটে যায় ভালোবাসা-রাগে-অনুরাগে-খুনসুটিতে-ঝগড়ায়। আমাদের সব চেয়ে বেশি ঝগড়া হয় টিভি রিমোটের দখল নিয়ে। টুসকি আর বুড্ডি দেখতে চায় নিক্ চ্যানেল আর আমি আমার পছন্দের অনুষ্ঠান। নিক চ্যানেলের কল্যানে ওরা বেশ চমৎকার হিন্দি বলতে শিখেছে। দৈনিক কথাবার্তার ভেতর নিপুণ দক্ষতায় কয়েকটি হিন্দী শব্দ ওরা নিজেদের অজান্তেই বলে যা আমাদেরকে চিন্তিত করে তুলেছে। টুটুল অফিস থেকে সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে আসে, পাপার বাসায় ফেরা নিয়ে দু'বোনের মাঝে-বেশ উচ্ছ্বাস বয়ে যায়, বিভিন্ন বায়নার প্ল্যানিং শুরু হয় সেই সাথে টিভি রিমোট লুকানোর ছুটাছুটিও পড়ে যায়। রিমোট নিয়ে ঝগড়া প্রায়ই ত্রিমুখী হয়ে উঠে তখন, যখন টুটুল এসে নিউজ দেখবার জন্য রিমোট চেয়ে বসে। দুই বোন তখন স্বমস্বরে গণতান্ত্রিকভাবে হাত উঠিয়ে নিক দেখবার বায়না করে, বলে ভোট বেশি, ভোট বেশি। কখনো কখনো আমি গণতন্ত্রকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে স্বৈরশাসক হয়ে রিমোট নিজের কব্জায় নিয়ে আসি।

এভাবেই আমরা এক সুতায় গাঁথা মালার পুঁতি হয়ে থাকি,বাঁচি,খাই,কাটাই দিন ও রাত্রি।


মন্তব্য

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

চমৎকার লাগলো। বিশেষ করে শিশুমনে সামাজিক দূর্ঘটনাগুলো যেভাবে প্রভাব ফেলে সেটা আপনি সুন্দর করে তুলে এনেছেন।

শামীম রুনা এর ছবি

ধন্যবাদ।

___________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি।

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি। ( জয় গোস্মামী)

শাহেনশাহ সিমন [অতিথি] এর ছবি

আপনার সুপ্রীতি'র অ্যানালজি পড়ে অনেক্ষণ খ্যাক খ্যাক করে হাসলাম। হো হো হো

৫ আর ৬ নং-এ এসে থতমত, কিন্তু ৭ নংটা পুরোপুরি-ই বিষন্ন করে দিল। দুঃস্বপ্ন দ্রুত ভুলে যাক, এ কামনাই রইলো।

শামীম রুনা এর ছবি

ধন্যবাদ।
বুড্ডি প্রতিদিনই খ্যাক খ্যাক করে হাসার মতো ঘটনা ঘটিয়ে চলছে।

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি।

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি। ( জয় গোস্মামী)

দুষ্ট বালিকা এর ছবি

দারুন লাগল। মেয়ে দুটোকে অনেক আদর। দেঁতো হাসি

--------------------------------
কাঠবেড়ালি! তুমি মর! তুমি কচু খাও!!

**************************************************
“মসজিদ ভাঙলে আল্লার কিছু যায় আসে না, মন্দির ভাঙলে ভগবানের কিছু যায়-আসে না; যায়-আসে শুধু ধর্মান্ধদের। ওরাই মসজিদ ভাঙে, মন্দির ভাঙে।

মসজিদ তোলা আর ভাঙার নাম রাজনীতি, মন্দির ভাঙা আর তোলার নাম রাজনীতি।

শামীম রুনা এর ছবি

চকলেট ছাড়া ওরা কোন আদর নিতে চায় না যে।

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি।

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি। ( জয় গোস্মামী)

খেকশিয়াল এর ছবি

দারুণ লাগল, মা বাপ পিচ্চি সবাই মিলে ভাল থাকুন, বুসলেন? হাসি

------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

শামীম রুনা এর ছবি

মা বাপ সবাই মিলে ভালো আছি। সব সময় যেন এরকম ভালো থাকতে পারি...বুসলেন।

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি।

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি। ( জয় গোস্মামী)

সাইফ তাহসিন এর ছবি

শাহেদাপু ছিলো বলে তুমি চ্যানেল বদলিয়েছো তাই না মাম্মু? এই সব তো আর সবাইকে নিয়ে দেখা ঠিক না।

তোমার বয়স যদি চল্লিশ হয় তবে তোমার পেটে আর কোনো বেবী নেই।

মাম্মু, তোমার পেটটা একটু ভালো করে টিপে দেখতো ওখানে আর কোনো বেবীর ডিম আছে নাকি?

দি তো এখনো অনেক বড় হয় নাই। আমার থেকে একটু বড় হয়েছে শুধু, বুসলে। দি'কে তুমি বকা দিও না মাম্মু। দি তাহলে অনেক কান্না করবে বুসলে।

আসলে পুরা লেখাই কোট করার মত, জব্বর হয়েছে, দুই পাকনি বুড়ির জন্যে অনেক আদর

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

শামীম রুনা এর ছবি

আদরের জন্য পাকনি বুড়িদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ।

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি।

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি। ( জয় গোস্মামী)

সুমন সুপান্থ এর ছবি

কন্যাযুগল আর তাদের বাবা-মা'রা ভালো থাকুন...আনন্দে থাকুন।
লেখাটা ভালো লেগেছে খুব ।

---------------------------------------------------------
তুমি এসো অন্যদিন,অন্য লোক লিখবে সব
আমি তো সংসারবদ্ধ, আমি তো জীবিকাবদ্ধ শব !

---------------------------------------------------------
তুমি এসো অন্যদিন,অন্য লোক লিখবে সব
আমি তো সংসারবদ্ধ, আমি তো জীবিকাবদ্ধ শব !

শামীম রুনা এর ছবি

ধন্যবাদ। আপনিও ভালো থাকবেন।

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি।

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি। ( জয় গোস্মামী)

মূলত পাঠক এর ছবি

খুব ভালো লাগলো, মন খারাপ করা লেখা।

শামীম রুনা এর ছবি

বাচ্চাদের অকাট্য যুক্তির কথায় আমরা কখনো বিস্মিত হই আবার কখনো কখনো মন খারাপ করি।

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি।

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি। ( জয় গোস্মামী)

তানবীরা এর ছবি

বাচ্চাদের যুক্তি অকাট্য। আমাদের মতো সুবিধাবাদী দুমুখো নীতিতেতো তারা চলে না।

সম্প্রীতি আর সুপ্রীতিকে অনেক অনেক অনেক ভালোবাসা
---------------------------------------------------------
রাত্রে যদি সূর্যশোকে ঝরে অশ্রুধারা
সূর্য নাহি ফেরে শুধু ব্যর্থ হয় তারা

*******************************************
পদে পদে ভুলভ্রান্তি অথচ জীবন তারচেয়ে বড় ঢের ঢের বড়

শামীম রুনা এর ছবি

বাচ্চারা কেমন আপনি তো জানেন। আপনি নিজেও তো এক ময়না পাখীকে নিয়ে অনেক লিখেছেন। আমার দুইটা হলো ময়না আর টিয়া। সারা দিন বাসা জুড়ে শুধু কিচিরমিচির...।

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি।

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি। ( জয় গোস্মামী)

প্রজাপতি [অতিথি] এর ছবি

খুব মজা লাগলো দুই পাকনি বুড়ির কথা শুনে, অনেক আদর রইলো ওদের জন্য।

শামীম রুনা এর ছবি

আমার মেয়ে দু'টির জন্য সবার এতো আদর-ভালোবাসা দেখে আমি আপ্লুত।
আপনাদের ময়না কেমন আছে? ওকে আমাদের পক্ষ থেকে আদর জানাবেন।

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি।

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি। ( জয় গোস্মামী)

স্নিগ্ধা এর ছবি

লেখা পড়ে ভালো লাগলো! আপনাদের মেয়েরা 'নালন্দা'য় পড়ে শুনে সত্যি খুব চমৎকৃত হয়েছিলাম হাসি

শামীম রুনা এর ছবি

সত্যি "নালন্দা" একটি চমৎকার স্কুল। আমার মনে হয় সারা দেশে "নালন্দা"র মত অনেক স্কুল প্রয়োজন।

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি।

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি। ( জয় গোস্মামী)

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

খুব ভালো লাগলো আপনার মেয়েদের গল্প। এই পোস্টের কথা অনেক দিন মনে থাকবে। শিশুমনে সত্যের অকপট প্রতিফলন খুব অপরাধী করে দেয়।

মেয়েদের নাম খুব পছন্দ হলো। কোনোদিন নাম টুকলিফাই করে বসলে মাইন্ড খেতে পারবেন না। দেঁতো হাসি

শামীম রুনা এর ছবি

অনেকে আমার মেয়েদের নাম টুকলিফাই করতে চাচ্ছে। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনি নামগুলো টুকলিফাই করে নিন। মাইন্ড খাবো না.....

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি।

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি। ( জয় গোস্মামী)

আহমেদুর রশীদ এর ছবি

বুসলাম..

---------------------------------------------------------

ঘাস তুমি ঘাসের মতো থাকো মাটি ছুঁয়ে
যে দেখার সে নতজানু হয়ে ছুঁবে তোমার আঙুল
অবরুদ্ধ মাঠ থেকে তুমি লাফিয়ে নেমোনা প্লিজ পাথরের পথে

---------------------------------------------------------

ঘাস তুমি ঘাসের মতো থাকো মাটি ছুঁয়ে
যে দেখার সে নতজানু হয়ে ছুঁবে তোমার আঙুল
অবরুদ্ধ মাঠ থেকে তুমি লাফিয়ে নেমোনা প্লিজ পাথরের পথে
________________________________________
http://ahmedurrashid.

শামীম রুনা এর ছবি

কি বুসলা?

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি।

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি। ( জয় গোস্মামী)

পান্থ রহমান রেজা এর ছবি

ওরা যে এতো পাকনা, সামনাসামনি দেখে তো কখনো মনে হয়নি! মা-মেয়েদের মিথস্ক্রিয়া ভালো লাগলো!

শামীম রুনা এর ছবি

আমার মেয়ে দুইটা পাকনা আর কিছুটা লাজুক কিন্তু দুষ্ট না, তাই দেখে বুঝতে পারেননি ।

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি।

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি। ( জয় গোস্মামী)

সবজান্তা এর ছবি

পিচ্চি দুইটাই অসাধারণ। বিশেষত ছোটটার দিকে তাকালে মনে হয় ওর মাথায় কোন দুষ্টু বুদ্ধি ঘুর ঘুর করছে !

লেখাটা আগের লেখাগুলির মতোই ভালো লাগলো। হাসি


অলমিতি বিস্তারেণ

শামীম রুনা এর ছবি

আপনি ঠিক ঠিক পিচ্চি দুইটারে চিনতে পারছেন।
লেখার প্রশংসার জন্য ধন্যবাদ।
_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি।

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি। ( জয় গোস্মামী)

নজমুল আলবাব এর ছবি

সব পিচ্চিই মহা মহা মহা পাকনা থাকে।
এইগুলা হইলো আখেরী জামানার শিশু। এদের হাব ভাবতো অন্য রকম হইবোই।

------------------------
ভুল সময়ের মর্মাহত বাউল

শামীম রুনা এর ছবি

হুম....

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি।

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি। ( জয় গোস্মামী)

অতিথি লেখক এর ছবি

খুব মজা পেলাম। আমারও সময় এমনই কাটে ছেলের সাথে।
আপনার মেয়েদের জন্য অনেক আদর।

নৈশী

শামীম রুনা এর ছবি

বাচ্চারা কাছে থাকলে কি করে যে সময় কেটে যায়! ধন্যবাদ আপনাকে।

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি।

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি। ( জয় গোস্মামী)

জুয়েইরিযাহ মউ এর ছবি

ভাল লাগলো লেখাটি।
ভাল থাকুন সব্বাই.... প্রতিদিন....প্রতিক্ষণ.....হাসি

শামীম রুনা এর ছবি

ধন্যবাদ আপনাকে। আপনার আশীর্বাদ ছুঁয়ে থাক আমাদের জীবন।

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি। ( জয় গোস্মামী)

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি। ( জয় গোস্মামী)

দময়ন্তী এর ছবি

আপনার রাজকন্যাদুটি ভারী কিউট| সারাদিনের পর লেখাটি যেন সমস্ত টেনশান শুষে নিল|
---------------------------------------------------------
"নিভন্ত এই চুল্লিতে মা
একটু আগুন দে
আরেকটু কাল বেঁচেই থাকি
বাঁচার আনন্দে৷'

-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

শামীম রুনা এর ছবি

রাজকন্যাদের প্রশংসায় আমি আবেগে আপ্লুত হয়ে আছি সারা দিন।
আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি। ( জয় গোস্মামী)

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি। ( জয় গোস্মামী)

রেজওয়ান এর ছবি

খুবই মিষ্টি এবং বুদ্ধিমান মেয়ে দুটি আপনার।

আমার ছোটর গল্প বলি। তাকে অনেকদিন আমরা কোক খেতে দেইনি। বলতাম এটা অষুধ। একদিন বেড়াতে গিয়ে সে কোকের স্বাদ পেয়ে গেল। তারপর একদিন মাকে বলছে: আম্মু, আমার না শরীর খারাপ লাগছে, ওই অষুধটা দাও।

পৃথিবী কথা বলছে আপনি কি শুনছেন?

শামীম রুনা এর ছবি

_
না খাওয়ানোর কোনো তালিকা আমি কখনো করিনি।

________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি। ( জয় গোস্মামী)

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি। ( জয় গোস্মামী)

বইখাতা এর ছবি

আপনার ময়না আর টিয়াকে আমার অনেক অনেক আদর।

শামীম রুনা এর ছবি

ধন্যবাদ আপনাকে।

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি। ( জয় গোস্মামী)

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি। ( জয় গোস্মামী)

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

১। সামনের ঘোষিত আড্ডার দিনে আপনাদের ময়না-টিয়াকে নিয়ে আসুন। এতদিনেও এদের দেখতে পাইনি, মহা মিস হয়ে গেছে। চকলেটের আদর তো থাকবেই।

২। কিঞ্চিত ঈর্ষান্বিত হলাম, আমার মেয়ে নেই বলে।

৩। বিডিআর বিদ্রোহের ব্যাখ্যাটি শিশুমনে সরলভাবে আসলেও ব্যাখ্যাটিকে খুব ভুল বলতে পারছিনা। এমন সরল ব্যাখ্যা শুনে নিজেকে কেমন বোকা বোকা লাগছে।



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

শামীম রুনা এর ছবি

শাহবাগের অঘোষিত আড্ডাগুলোতে ওরা প্রায়ই থাকে।
আমরা কিন্তু ওদেরকে আলাদা করে মেয়ে বলে ভাবিনা। যে কারণে ছেলের জন্য এখনো কোনো আফসোস নাই।
সেটাই। বোকা হয়ে থাকি ওদের বোধের গভীরতায়।

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি। ( জয় গোস্মামী)

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি। ( জয় গোস্মামী)

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

পোলাপান একটু পাকনা না হইলে আরাম নাই। দারুণ মজা পাইলাম আপনার লেখা পড়ে...
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

শামীম রুনা এর ছবি

মজার মানুষ মজা পাইলেন দেখে আমারো মজা লাগলো।

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি। ( জয় গোস্মামী)

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি। ( জয় গোস্মামী)

আরিফ জেবতিক এর ছবি

বুসসি। বুড়ি দুইটা তো জোশ।

শামীম রুনা এর ছবি

আপনাদেরো জোশের দিন সামনে।
মেডিটেশনটা কিন্তু অনেক কাজের। বুসলেন।

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি। ( জয় গোস্মামী)

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি। ( জয় গোস্মামী)

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

অসাধারণ, মায়াভরা একটা লেখা।

শামীম রুনা এর ছবি

ধন্যবাদ আপনাকে।
_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি। ( জয় গোস্মামী)

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি। ( জয় গোস্মামী)

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।