তোমার ঘরে বসত করে কয়জনা

শ্যাজা এর ছবি
লিখেছেন শ্যাজা (তারিখ: শনি, ২২/০৩/২০০৮ - ১২:৩৩পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

তোমার ঘরে বসত করে কয়জনা
----------------------------

ঘুম ঘুম চোখে চলে অপেক্ষা। কে যেন পাশে শুয়ে আছে লম্বা হয়ে। চমকে উঠে কাউকে দেখতে পাই না। একছুটে ডাইনিং পেরিয়ে সামনের ঘর। দরজা খুলে তাকিয়ে দেখি অন্ধকার সিঁড়ি। কেউ কোথাও নেই। ভয় লাগে ভীষণ। দরজা বন্ধ করে দাঁড়িয়ে থাকি দরজার গা ঘেঁষেই। বুকের ভেতর হৃদপিন্ড যেন ড্রাম বাজায়। দরজা ধরে দাঁড়িয়েই থাকি আমি। নিশুতি রাত। বাইরে বিলাপ করে বসন্ত বাতাস। জানালার পাশ দিয়ে উড়ে যায় এক নিশাচর পাখি, যেতে যেতে অদ্ভুত এক হাড়হিম করা স্বরে ডাক দিয়ে যায়। পর্দা টেনে দিই ভাল করে, এতটুকু ফাঁকও যেন না থাকে। পানি খাই আর নিজেকেই বলি, আমার ঘরে আর কেউ থাকে না আমি ছাড়া!

বসন্ত বাতাসে সই গো
-----------------

দিনের বেলা কাঠাফাটা রোদ্দুর কিন্তু বিকেল হলেই হাওয়া বইতে থাকে। উতল হাওয়া। বসন্ত বাতাস। কুউউউ শব্দে সে জানান দেয়, আবার এসেছে ফিরিয়া বসন্ত। ডালে ডালে রক্তলাল পলাশ। বাতাসে ওড়ে পর্দা। ন্যাড়া জামগাছে কচি সবুজ পাতা, মুকুলে ছেয়ে গেছে গাছ। পশ্চিমের গাছগুলো এই বসন্তে নেই। সেখানে এখন মিস্ত্রিদের যাতায়াত, ইট, কাঠ, লোহা আর সিমেন্ট। আধখানা পুকুর জুড়ে বাঁশের বেড়া, পড়বে মাটি, হবে বসত। পানকৌড়িদের তাই আর দেখা যায় না। কে জানে কোথায় আছে তারা।

দে দোল দে দোল
---------------

ফাগুন লেগেছে বনে বনে/ ওরে ভাই ফাগুন লেগেছে মনে মনে।। এই ফাগুনে নানা রঙের মেলা। গাছে গাছে, ডালে ডালে আর সকলের মনে মনেও। আবির তাই আমার দরজায় এসে টোকা দেয়, রাঙিয়ে দেয় আমাকেও। না। এই উৎসবে লালপাড় হলুদ শাড়ি নেই, গাঁদা ফুলের মালা নেই, নাচ নেই, গান নেই। তাতে কী। ফাগুনের তাতে কীই বা এসে যায়! শান্তিনিকেতনে তুমি যাও বা না যাও ক্ষতি নেই, সে নিজেই এসে যাবে তোমার ঘরে, টেলিভিশনের দৌলতে। সারাদিন বসন্ত উৎসব। চ্যানেলে চ্যানেলে। লাইভ। জীবন্ত!

সকাল বেলায় ঋতু গুহ'র সাক্ষাত্কার একটা আসল পাওনা। তাঁর কথা, তাঁর চোখের জল। আদ্র হয় মন।

আরও কী সব যেন লিখব ভেবেছিলাম, ভুলে গেছি।

আজ থাক...


মন্তব্য

ফারুক হাসান এর ছবি

হুম
----------------------------------------------
আমাকে নিঃশব্দে অনুসরণ করে একটা নদী-
সাথে নিয়ে একটা পাহাড় আর একটা নিঃসঙ্গ মেঘ।

শ্যাজা এর ছবি

... ... ...


---------
অনেক সময় নীরবতা
বলে দেয় অনেক কথা। (সুইস প্রবাদ)

শেখ জলিল এর ছবি

ডায়েরীকথনটা ভালো হইছে। দুটে প্রিয় গানের লাইন- আমার ঘরে বসত করে কয়জনা, বসন্ত বাতাসে সই গো...এর চমৎকার উপস্থাপন।

যতবার তাকে পাই মৃত্যুর শীতল ঢেউ এসে থামে বুকে
আমার জীবন নিয়ে সে থাকে আনন্দ ও স্পর্শের সুখে!

শ্যাজা এর ছবি

ধন্যবাদ জলিল ভাই...


---------
অনেক সময় নীরবতা
বলে দেয় অনেক কথা। (সুইস প্রবাদ)

আনোয়ার সাদাত শিমুল এর ছবি

পড়লাম ।

অমিত আহমেদ এর ছবি

ম্যালাদিন বাদে আপনার পোস্ট পাচ্ছি... ধন্যবাদ!


ওয়েবসাইট | ফেসবুক | ইমেইল

শ্যাজা এর ছবি

হ্যাঁ, ম্যালাদিন বাদেই পোষ্টানো হইল। ব্যস্ত আছি একটু...

আপনারেও ধন্যবাদ।।


---------
অনেক সময় নীরবতা
বলে দেয় অনেক কথা। (সুইস প্রবাদ)

সৌরভ এর ছবি

পড়লাম।

অনেকদিন পর আজ ব্লগিং করতে আসলাম।
কেমন আছো, শ্যাজাদি?


আবার লিখবো হয়তো কোন দিন

শ্যাজা এর ছবি

আমিও বেশ কয়েকদিন পরেই ব্লগে এসেছি। ভাল আছি আরণ্যক সৌরভ...

তুমি ভাল তো?


---------
অনেক সময় নীরবতা
বলে দেয় অনেক কথা। (সুইস প্রবাদ)

বিপ্লব রহমান এর ছবি

শ্যাজাদি,

বরাবরে মতো মন ছুঁয়ে যাওয়া লেখা লিখেছেন। শাবাশ!

আপনার লেখা মনে করিয়ে দিলো আমার কবিতার মাস্টার জাহিদ ভাইয়ের কথা।...

তোমার ঘরে বাস করে কারা,
ও মন জানো না
তোমার ঘরে বসত করে কয়জনা?

একজনা ছবি আঁকে একমনে
আরেকজন মন্দিরাতে তাল তোলে
আবার সেই ছবিটা
মুইছা ফেলে কোনজনা?

ওরে ও মন
তোমার ঘরে বসত করে কয়জনা?...


আমাদের চিন্তাই আমাদের আগামী: গৌতম বুদ্ধ


একটা ঘাড় ভাঙা ঘোড়া, উঠে দাঁড়ালো
একটা পাখ ভাঙা পাখি, উড়াল দিলো...

শ্যাজা এর ছবি

প্রিয় গান বিপ্লব'দা...

লেখাটা আগেও পড়েছিলাম।


---------
অনেক সময় নীরবতা
বলে দেয় অনেক কথা। (সুইস প্রবাদ)

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি

হাজার বছর পর পড়লে এসব কথা অমূল্য মনে হবে তখনকার প্রাণীদের। তারা ভাববে, আহ মনুষ্যজীবন কী সুন্দর, বিষন্ন ও মায়াভরা ভুল। এবং সেই ভুলের মায়ায় তারা তড়পাবে।
.......................................................................................
মনে হয় তবু স্বপ্ন থেকে জেগে
মানুষের মুখচ্ছবি দেখি বাতি জ্বেলে

হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

অতিথি লেখক এর ছবি

ভালো লিখতেছ ! নিয়মিত লেখো.....

-মাছরাঙ্গা

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।