দেশান্তরীঃ একই ইতিহাস কেন বার বার ফিরে আসে?

সচল জাহিদ এর ছবি
লিখেছেন সচল জাহিদ (তারিখ: বিষ্যুদ, ২৭/০৮/২০০৯ - ১:০৪পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

২০০৭ এ শুরুর দিকে মৃদুল চৌধুরীর দেশান্তরী ছবিটি যখন দেখতে বসি তখন ঘুণাক্ষরেও মনে হয়নি কি এক হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতার কথা আমি জানতে যাচ্ছি। ভাল কাজের লোভে, সুন্দর জীবনের লোভে আট লক্ষ টাকা দিয়ে যারা মৃত্যুকে কিনে নিয়েছিল সেই ২৬ জন যুবকের স্পেন যাত্রার কাহিনী নিয়ে তৈরী এই ডকুমেন্টারি ছবিটি দেখে আমি চোখের জল ধরে রাখতে পারিনি। ছবিটির প্রথম ২৫ মিনিট আসলে সাক্ষাৎকার ঘরানার, মূল অংশ শুরু হবে এর পর থেকে। গুগুল ভিডিওর সুবাদে এটি আন্তর্জালে পাওয়া যায়। নিচে এমবেডেড করে দিলামঃ



এই ছবিটির কথা মনে পড়ল একটি সাম্প্রতিক খবর দেখে , "মৃত্যুর দুয়ার থেকে দেশে ফেরা"। সেই একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, সুন্দর জীবনের জন্য লক্ষ লক্ষ টাকায় মৃত্যুকে কিনে নেয়া। স্বাধীনতার ৩৮ বছর পার হয়ে গেছে, দেশে আজ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রনালয় হয়েছে কিন্তু আজো এই দেশের সাধারণ মানুষ দালাললের দ্বারা প্রতারিত হচ্ছে আর তার মূল্য দিতে হচ্ছে এই মানুষগুলিকে ঘিরে পরিবারগুলিকে। কেউ তার সবকিছু বিক্রি করে তুলে দিচ্ছে দালালদের হাতে তার বিনিময়ে বাজি ধরছে নিজের জীবনকে নিয়ে।

কিন্তু কেন একই ইতিহাস বার বার ফিরে আসছে? আমার মতে দেশে আদম ব্যবসার জন্য এখনো কোন সুনির্দীষ্ট ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি ফলে মানুষ যার তার কাছ থেকে প্রতারিত হচ্ছে। লাইসেন্স বিহীন এজেন্ট (দালাল) রা ছড়িয়ে আছে সারা দেশে সাধারণ মানুষ জানেওনা কারা বৈধ দালাল আরা কারা অবৈধ। ফলে তারা নিজেদের গচ্ছিত টাকা তুলে দিচ্ছে দালালদের হাতে। সেই সাথে এই সব কাহিনী সাধারণ মানুষদের কাছে পৌছাচ্ছেনা ফলে তারা কখনই জানতে পারছেনা যে এই সব দালালদের দ্বারা তারা প্রতারিত হলে তার ফলাফল কতটা ভয়াবহ হতে পারে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকেও তেমন কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি এই সাধারণ মানুষগুলিকে সচেতন করার জন্য। অথচ বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার একটি ভাল অংশ আসছে প্রবাসী শ্রমিকদের আয় থেকে। আমার গ্রামে আমি নিযে দেখেছি আগে যেখানে ছনের ঘর ছিল সেখানে আজ চকচকে টিনের চাল শোভা পাচ্ছে, গ্রামের যে ছেলেটি আগে সারাটাক্ষণ কাটাত আড্ডা মেরে সেই আজ কাড়ি কাড়ি টাকা পাঠাচ্ছে বিদেশ থেকে যা কিনা প্রকারান্তরে দেশের উন্নয়নে ব্যবহৃত হচ্ছে অথচ এই বিপুল শ্রমশক্তিকে আমরা একটা সুন্দর প্রক্রিয়া উপহার দিতে পারছিনা আর এর যাতাকলে পড়ে ঝড়ে যাচ্ছে সুন্দর ভবিষ্যতকামী কিছু যুবক।

ওদের স্বপ্ন নিয়ে খেলা করছে কিছু মানুষ আর আমরা বসে বসে তা দেখছি। হয়ত মৃদুল চৌধুরীর মত আরো একজন এবারের ঘটনা নিয়েও ডকুমেন্টারি বানাবে, বলা যায়না হয়ত সেটা পুরষ্কারও পেয়ে যেতে পারে কিন্তু এই ছাপোছা মানুষগুলোর ভাগ্য কিন্তু আসলে আমাদের নেতা নেত্রীদের হাতেই। তাদের যোগ্য নেতৃত্ত্বই দিতে পারে একটি সুন্দর ব্যবস্থার যার মধ্যমে এই শ্রমিকগুলো কাজ করা সুযোগ পাবে বিদেশের মাটিতে, তাদের আর লাশ হয়ে দেশের মাটিতে ফিরে আসতে হবেনা।


মন্তব্য

বর্ষা [অতিথি] এর ছবি

ধন্যব্দ ভাইয়া, পোষ্ট টার জন্য। আমি আজ সকালে খবরটা পড়েই মনটা খারাপ করে বসে ছিলাম অনেকক্ষন। আমরা কত তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তর্ক করে দিন পার করি...। অথচ এইসব লোকদের কথা ভাবি না।

সচল জাহিদ এর ছবি

বর্ষা আপনাকেও ধন্যবাদ। খবরটা পড়ে মনটা আসলেই খারাপ হয়েছিল আর বার বার এই ভিডিওটার কথা মনে পড়ছিল সেইজন্যই সবার সাথে শেয়ার করলাম।

-----------------------------------------------------------------------------
আমি বৃষ্টি চাই অবিরত মেঘ, তবুও সমূদ্র ছোবনা
মরুর আকাশে রোদ হব শুধু ছায়া হবনা ।।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

স্বাধীন এর ছবি

কিন্তু কেন একই ইতিহাস বার বার ফিরে আসছে?

এই সব কাহিনী সাধারণ মানুষদের কাছে পৌছাচ্ছেনা ফলে তারা কখনই জানতে পারছেনা যে এই সব দালালদের দ্বারা তারা প্রতারিত হলে তার ফলাফল কতটা ভয়াবহ হতে পারে।

সাধারণ মানুষ একদম জানে না যে তা নয়। তাঁরা জানে কিন্তু তারাঁ নিরুপায়। অনেকে বাধ্য হয়ে বিপদ আছে জেনেও এই অথৈ সাগর পাঁড়ি দিতে চায়। একটি দ্বীপের অবস্থা যদি এমন হয় যে দ্বীপবাসী নিশ্চিত আজ হোক কাল হোক দ্বীপটি একদিন সগরে ডুবে যাবে, তখন দ্বীপের মানুষ সহ সকল প্রানী, এমনকি পিঁপিলিকাও, সেই সাগর পাঁড়ি দিয়ে বাচঁতে চাইবে। যদিও পিঁপিলিকাটি জানে না সাগরের ওই পাঁড়ে কি আছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে মানুষ এখন শুধুই বায়োলজিকাল প্রানী। তাই ইতিহাস বারে বারে ফিরে আসবেই।

বাংলাদেশের জনসংখ্যার সংখ্যা এবং ঘনত্ব এখনই অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে, ভবিষ্যতের কথা বাদই দিচ্ছি। জনসংখ্যার ঘনত্বে বাংলাদেশ ১০ম (wiki) হলেও লিস্টটি দেখলে দেখা যায় যে এত বেশি ঘনত্বের এবং এত বিশাল আয়তনের আর কোন দেশ নেই। সেইদিক দিয়ে বাংলাদেশ শুধু প্রথমই নয় আমার মতে বাংলাদেশের ধারে কাছে কেউ নেই। তাই আমাদের দেশের যেকোন সমস্যার সমাধাণ এত সহজে হয়না। জনসংখ্যা এখন আর মোটেই সম্পদের পর্যায়ে নেই, তা বোঁঝা হয়ে গিয়েছে। চাহিদা যেখানে অত্যাধিক বেশি সেখানে অর্থনীতি, গণতন্ত্র, মানবিকতা, নীতিকথা, ডিজিটাল সব তত্বই বৃথা যেতে বাধ্য। এক মাত্র কর্তব্য এখন জনসংখ্যার লাগাম টেনে ধরা।

সমুদ্র এর ছবি

একমত, বাংলাদেশের ধারেকাছে কেউ নেই জনসংখ্যার ঘনত্বের ক্ষেত্রে। তবে জনসংখ্যার লাগাম টেনে ধরবার (যা বেশ দীর্ঘমেয়াদি একটি ব্যাপার) পাশাপাশি দরকার জনসংখ্যা রপ্তানির জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ে। চীন বা ভারতকে দেখুন, পুরো বিশ্বের সব জায়গায় ছড়িয়ে আছে ওরা। কোন দেশে কি রকম শ্রমিক/জনশক্তি দরকার তা বুঝে ট্রেনিং দেবার জন্যে স্পেশালাইজড ট্রেনিং সেন্টার কি আছে সরকারের?
সদিচ্ছার অভাব থাকলে যা হয় আর কি।

ধন্যবাদ জাহিদ ভাই লেখাটার জন্যে।

"Life happens while we are busy planning it"

সচল জাহিদ এর ছবি

মন্তব্যে সহমত।

-----------------------------------------------------------------------------
আমি বৃষ্টি চাই অবিরত মেঘ, তবুও সমূদ্র ছোবনা
মরুর আকাশে রোদ হব শুধু ছায়া হবনা ।।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

পুতুল এর ছবি

নিজের জীবনটা আবার দেখলাম। জীবন বাজি রেখে জীবনের যুদ্ধে আমি সফল হয়েছিলাম। না হলে এই ছবিটা দেখতে পারতাম না। আবেগে হাত, পা শরীর কাঁপছে।
পশ্চিমে স্বচ্ছল জীবনের মূল্য অনেকে জীবন দিয়ে সোধ করেছে। সে ভাবে দেখলে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে হয়।

পড়া লেখা থেকে শুরু করে সব কিছু তখন (এখনো) দেশের সিমীত মানুষের জন্য বরাদ্ধ ছিল। এরশাদকে হটাতে পারলে সব ঠিক হয়ে যাবে। রাজ পথে শিক্ষা জীবনের সময়টা গেল। এরশাদ গেল, কিন্তু কোন পরিবর্তণ এলো না। নূর হোসেনের মত শহীদ তো হইনি। কাজেই এই সোনার বাংলায় আমি কি করব?

পারের আশায় তারাতারি সময় থাকতে দিলাম পারি। এখন বিশ বছর কেটে গেছে। দেশে কোটি টাকার মত পাঠিয়েও তলা হীন ঝুড়ি ভরতে পারিনি। কাগজ থেকে রিফুজী কথাটা গেলেও মন থেকে যায়নি। আমরা রিফিউজ ফ্রম এভরি হয়য়ার।

না কাউকে সুখ দিতে পারলাম, না নিজে সুখী হলাম।
এমন একটা দেশের জন্য তিরিশ লাখ মানুষ শহীদ হল, দুই লাখ মা, বোন ইজ্জত হারাল! আফসোস হয়, মাঝে মাঝে।

এখানে (মিউনিখে) একটি একাডেমিক বাংলাদেশী সংস্থা আছে। তারা আমাদের মত মানুষদের সাথে মেশে না। ঠিকইতো, আমরা এভাবে এদেশে অনুপ্রবেশ করে নিজের দেশের দারিদ্রতা প্রকট করে তুলছি। ভাল থাকুন সেই সব সোনার ছেলেরা।

ধন্যবাদ জাহিদ ভাই। ভাল লেগেছে আপনার লেখাটা।
**********************
ছায়া বাজে পুতুল রুপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কি দোষ!
!কাঁশ বনের বাঘ!

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

সহমত...

তলাবিহীন ঝুড়ির আরো এক ফুঁটো...
---------------------------------------------------------------------------
- আমি ভালোবাসি মেঘ। যে মেঘেরা উড়ে যায় এই ওখানে- ওই সেখানে।সত্যি, কী বিস্ময়কর ওই মেঘদল !!!

সচল জাহিদ এর ছবি

জীবন বাজি রেখে জীবনের যুদ্ধে আমি সফল হয়েছিলাম। না হলে এই ছবিটা দেখতে পারতাম না। আবেগে হাত, পা শরীর কাঁপছে।

আপনাকে স্যালুট পুতুল আপা। এই ছবিটা প্রথম যখন দেখি আমিও আমার আবেগ ধরে রাখতে পারিনি।

কাগজ থেকে রিফুজী কথাটা গেলেও মন থেকে যায়নি। আমরা রিফিউজ ফ্রম এভরি হয়য়ার।

কখনই যাবেনা পুতুল আপা। এদেশে প্রথমে অভিবাসী হয়ে পরে হয়তবা অধিবাসী হব একদিন কিন্তু সারাজীবন কিন্তু ঐ এশিয়ান কানাডিয়ান হয়েই থাকতে হবে যেমনটা ওবামার ক্ষেত্রে ( এখনো আফ্রিকান আমেরিকান বলা হয়ে থাকে)

এখানে (মিউনিখে) একটি একাডেমিক বাংলাদেশী সংস্থা আছে। তারা আমাদের মত মানুষদের সাথে মেশে না। ঠিকইতো, আমরা এভাবে এদেশে অনুপ্রবেশ করে নিজের দেশের দারিদ্রতা প্রকট করে তুলছি। ভাল থাকুন সেই সব সোনার ছেলেরা।

পুতুল আপা এটা অভিমানের কথা। আমি কাজের সুবাদে মাস দেড়েক নেদারল্যান্ডসে ছিলাম দেখেছি সেখানে কিভাবে বাঙ্গালীদের মধ্যে একটা শ্রেনী বিভেদ গড়ে উঠেছে। একই জিনিস লক্ষ্য করছি কানাডাতে। আসলে যারা শ্রেনী বিভেদ তৈরী করে তার স্বর্গে গেলেও তা করবে সুতরাং এটা নিয়ে মন খারাপ না করে বরং এর সমুচিত জবাব দেয়া উচিৎ।


-----------------------------------------------------------------------------
আমি বৃষ্টি চাই অবিরত মেঘ, তবুও সমূদ্র ছোবনা
মরুর আকাশে রোদ হব শুধু ছায়া হবনা ।।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

নিবিড় এর ছবি

জাহিদ ভাই এইখানে পুতুল আপা হবে না ভাই হবে হাসি এই ভুল অবশ্য আমিও প্রথম প্রথম করতাম হাসি


মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় ।

সচল জাহিদ এর ছবি

আমি বোকার মত এই ভুলটা কেন করলাম বুঝলামনা , ভাইয়ার প্রোফাইলে তার পুরো নাম লেখা আছে সেটা দেখে ঠিক করে নেয়া উচিৎ ছিল। আমি লজ্জিত ও দুঃখিত। প্রতিমন্তব্য চলে আসাতে আমি সম্পাদনাও করতে পারছিনা।

-----------------------------------------------------------------------------
আমি বৃষ্টি চাই অবিরত মেঘ, তবুও সমূদ্র ছোবনা
মরুর আকাশে রোদ হব শুধু ছায়া হবনা ।।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

সচল জাহিদ এর ছবি

পুতুল ভাই আমি খুবই দুঃখিত মন্তব্যে আপা লেখার জন্য। ভুলটা আমারই আপনার প্রোফাইলে নাম লেখা আছে সেটা দেখে নেয়া উচিৎ ছিল। আশা করি কিছু মনে করবেননা। আমি সত্যিই লজ্জিত।

-----------------------------------------------------------------------------
আমি বৃষ্টি চাই অবিরত মেঘ, তবুও সমূদ্র ছোবনা
মরুর আকাশে রোদ হব শুধু ছায়া হবনা ।।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

সবচেয়ে আশ্চর্যের যে অন্য মন্ত্রণালয় নিয়ে কথা ওঠে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ হলে আর কিছু না হোক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে গালি দেওয়া যায়। বা দ্রব্যমূল্য বাড়লে...
কিন্তু দূর দূর সাগরে বা দ্বীপের এই ঘটনাগুলো আমরা এদেশে বসে কেন যেন খুব একটা পাত্তা দেই না। তাই প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রনালয় বেশ নিরাপদেই থাকে...

**
পুতুল ভাই হবে... আপা না...
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

সচল জাহিদ এর ছবি

আসলে আমাদের দেশে এত বেশী সমস্যা যে কিছু ছাপোছা মানুষের মৃত্যুকে সরকার যেমন পাত্তা দেয়না তেমনি সাধারণ মানুষও মনে রাখেনা।এই সব ঘটনা কুঁড়ে কুঁড়ে খায় শুধু এই ভুক্তভুগী পরিবারগুলোকে।

*** পুতুল ভাইয়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি ভুলের জন্য।

-----------------------------------------------------------------------------
আমি বৃষ্টি চাই অবিরত মেঘ, তবুও সমূদ্র ছোবনা
মরুর আকাশে রোদ হব শুধু ছায়া হবনা ।।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

পুতুল এর ছবি

জাহিদ ভাই, অসুবিধা নাই। আমার নিক দেখে তো আর লিংগ বোঝা যায় না।
**********************
ছায়া বাজে পুতুল রুপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কি দোষ!
!কাঁশ বনের বাঘ!

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

রাফি এর ছবি

নেটের স্পিডের কল্যাণে ভিডিও টা দেখার সাহস করতে পারলাম না। খবরটা পড়েছি, সত্যি বলতে এই ব্যাপারগুলোকে খুব একটা গুরুত্ব দিতাম না আগে, প্রতিদিন অসংখ্য মৃত্যুর খবর দেখতে দেখতে বোধের শিকড় একটু আলগা হয়ে গেছে বৈকি; মৃত্যুকে এখন সংখ্যার হিসেবে বিচার করি।

এরকম একটা সত্যি ঘটনা নিয়ে আনিসুল হক এর একটা বই পড়েছিলাম, নামটা ঠিকঠাক মনে নেই এখন। এরপর থেকে দুঃসংবাদ এর তালিকায় যোগ হয়েছে বিদেশে চাকুরিপ্রত্যাশী'দের খবর। প্রতিদিন হৃদয়ের রক্তক্ষরণের কারণ বেড়েছে আরেকটি।

কোন ভি আই পি' র আত্মীয় স্বজন মারা গেলে বা প্রতারিত হলে এ নিয়ে হুলস্থুল হত; কিন্তু এ দুরবস্থার শিকার সাধারণ জনগণ, যারা ভিটেমাটি বিক্রি করে পাড়ি জমায় বিদেশে একটু স্বাছন্দ্যের খোঁজে। তাই এ ব্যাপারে উদাসীনতা প্রচলিত সিস্টেমে একদম স্বাভাবিক।

---------------------------------------
আমি সব দেবতারে ছেড়ে
আমার প্রাণের কাছে চলে আসি,
বলি আমি এই হৃদয়েরে;
সে কেন জলের মতন ঘুরে ঘুরে একা কথা কয়!

---------------------------------------
আমি সব দেবতারে ছেড়ে
আমার প্রাণের কাছে চলে আসি,
বলি আমি এই হৃদয়েরে;
সে কেন জলের মতন ঘুরে ঘুরে একা কথা কয়!

সচল জাহিদ এর ছবি

রাফি দেশে এটা পাওয়া যাবার কথা, পারলে সংগ্রহ করে একসময় দেখে নিও। এই ছবিটা দেখা উচিৎ ।


এরকম একটা সত্যি ঘটনা নিয়ে আনিসুল হক এর একটা বই পড়েছিলাম, নামটা ঠিকঠাক মনে নেই এখন

বইটার নাম দুঃস্বপ্নের যাত্রী। এই বইটিকে অবলম্বন করেই এই ডকুমেন্টারি ছবিটি বানানো।

কোন ভি আই পি' র আত্মীয় স্বজন মারা গেলে বা প্রতারিত হলে এ নিয়ে হুলস্থুল হত;

এটা সম্ভব নয় রাফি, ভি আই পি এর আত্মীয় স্বজনরা চাচা মামার জোরেই বিদেশে যায় তাই ওদের ভাগ্যে খারাপ কিছু আসবেনা।

-----------------------------------------------------------------------------
আমি বৃষ্টি চাই অবিরত মেঘ, তবুও সমূদ্র ছোবনা
মরুর আকাশে রোদ হব শুধু ছায়া হবনা ।।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় কি কি কাজ করে? প্রবাসীদের দেয়া সরকারী সুবিধার একটা রূপরেখা দিয়েছিলো, যাতে মূল বিচারে প্রবাসীদের ১-২% সুবিধাভোগী শ্রেণীই আরো সুবিধাপ্রাপ্ত হওয়ার বাইরে অন্যদের জন্য কোনো সুফল বয়ে আনবে না। প্রবাসী বাংলাদেশীদের সিংহভাগই নিম্ন আয়ের। বিন্দু বিন্দু জল থেকে রেমিট্যান্সের সিন্ধুটা মূলত এরাই গড়ে তোলে। কিন্তু বিমান বন্দরে হয়রানিও এরাই বেশি হয়। ভিক্ষা দিক আর না দিক, কুত্তা সামলাইলেই বেশিরভাগ প্রবাসী খুশি।

বাংলাদেশে মানুষ বেশি; কিন্তু তারপরেও জনসংখ্যাকে জনসম্পদ হিসেবে ব্যবহার করা ভালোমতোই সম্ভব। বিভিন্ন দেশে যেসব খাতে জনসম্পদের চাহিদা আছে, ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে সেসব বিষয়ে দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি করে রপ্তানী করার কাজটা অতি কঠিন না। শ্রম বাজারে এত সস্তায় কাজ করবে, এরকম শ্রমিকের অভাব সবখানেই আছে।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

পুতুল এর ছবি

প্রবাসীদের ১-২% সুবিধাভোগী শ্রেণীই আরো সুবিধাপ্রাপ্ত হওয়ার বাইরে অন্যদের জন্য কোনো সুফল বয়ে আনবে না

বলাইদা, আমাদের দেশের সব সরকার সব সময় ঐ ১-২% মানুষের জন্যই সব সময় সব কিছু করে। এতে সরকারের নিরাপত্তা বারে। আপনার লিংকটা পড়ে মেজাজটা চরম খারাপ হইছে। নীতি নির্ধারক াকীর পুতেগ মুখে ুইত্যাদিতে মন কয়।
**********************
ছায়া বাজে পুতুল রুপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কি দোষ!
!কাঁশ বনের বাঘ!

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

তানবীরা এর ছবি

আর কতোকাল ?
---------------------------------------------------------
রাত্রে যদি সূর্যশোকে ঝরে অশ্রুধারা
সূর্য নাহি ফেরে শুধু ব্যর্থ হয় তারা

*******************************************
পদে পদে ভুলভ্রান্তি অথচ জীবন তারচেয়ে বড় ঢের ঢের বড়

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।