পারস্পরিক

নৈষাদ এর ছবি
লিখেছেন নৈষাদ (তারিখ: বুধ, ১১/০৮/২০১০ - ৬:৩৬অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

-‘স্যারের কি ডর লাগতাছে’? চাপা গলায় জানতে চায় ইদ্রিস।

অগ্রহায়ণের ঠান্ডা রাত্রি, জ্যোৎস্না এবং কুয়াশা মিলেমিশে নস্টালজিক একধরনের চমৎকার আবহের সৃষ্টি করেছে। দূর থেকে ভেসে আসা অস্পষ্ট ওয়াজ মহফিলের একঘেয়ে সুর মনের উপর কিছুটা চাপ সৃষ্টি করছে কি? ধান ক্ষেতের আল ধরে হাঁটছি আমি আর ইদ্রিস বেশ কিছুক্ষণ হল। মাঝে মাঝে শরীর কেঁপে উঠছে টের পাচ্ছি – হয়ত শীত, কিংবা হয়ত আসন্ন ঘটনার প্রত্যাশায় শারীরিক উত্তেজনার সাথে কিছুটা ভয় ভয় ভাব মিলেমিশে এমনটা হচ্ছে। এই ধরনের পরিবেশে শুরু হবে এমন একটা উপন্যাস, যার কেন্দ্রিয় চরিত্রে থাকবে একজন আদিবাসী তরুণী এমন একটা প্লট মাঝে মাঝে মাথায় আসছে।

ইদ্রিসের দিকে তাকালাম। মেহেদী লাগানো দাড়ি, সাদা পাঞ্জাবি, অন্ধকারে কালচে রং ধারণ করা লুঙ্গি এবং চোখের ধূর্ত ভাব মিলেমিশে ভাল কোন অনুভূতির জন্ম দেয় না। বার বার মনে হচ্ছে বিশাল ভুল হয়ে গেছে এভাবে চলে আসাটা। কিন্তু ব্যাপারটা ... টু টেম্পটিং। আদিবাসী বলে কথা। আমি এসব ব্যাপারে আবার বেশ সাবধানী। পকেটে তিন যায়গায় ভাগ করা টাকা এবং ১০০ টাকা দামের একটা চাইনিজ টর্চ লাইট ছাড়া সঙ্গে আর কিছু নেই।

সামনেই অস্পষ্ট গ্রামের রেখা চোখে পড়ল। ছোট একটা শুকনো খাল পার হয়ে বাঁশঝাড়ের মধ্যে ঢুকে গেলাম। পা টিপে টিপে কিছুদূর যাওয়ার পর ইদ্রিসের উঠানো আঙ্গুলের গতিপথ অনুসরণ করে আবছা ভাবে একটা মেয়ের অবয়ব চোখে পরল। ফিসফিস করে ইদ্রিস বলল ‘স্যার, যান। লাইট জ্বালাইয়েন না। আমি এখানে পাহারা দিতাছি’। আমি তখন উত্তেজনায় রীতিমত কাঁপছি।

বেশ ঠান্ডা। চাদর পরে তবুও বারান্দায় বসে আছি। তৃপ্তির নিঃশ্বাস ফেললাম – উত্তেজনা এখনো কমেনি। যেন কৈশোরের সেই দিনগুলিতে যেন ফিরে গেছি। কনফিডেন্সে ভরপুর লাগছে নিজেকে।

ভাবতে চেষ্টা করছি ফারইষ্টার্ন মঙ্গোলয়েড রেসের প্রতি আমার এই ফেটিসিজম কখন থেকে শুরু হল এবং কারণটাই বা কী? আচ্ছা, শুরুর দিকে আমার পিকিংপন্থী বাম রাজনীতির সম্পৃক্ততার সাথে এই ফেটিসিজম কোন সম্পর্ক ছিল কি? আমার এই বিচিত্র চিন্তা ভাবনায় আমি নিজেই হাসলাম। কী কোইন্সিডেন্স, আজ অভিসারের মাঝে মাঝে যে টর্চ লাইটের আলো ব্যবহৃত হচ্ছিল সেটা আবার চীনের তৈরী।

রাতে ল্যাপটপে বসে ফেসবুকে ছদ্মনামের একাউন্টে গেলাম। নাহ্‌, সোনিয়া কিংবা আসমিতা কেউই অনলাইনে নেই। ধু্রো। স্ট্যাটাসে রবী বাবুর একটা লাইন দিলাম, ‘তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ’। রাত্রে ব্যাক্তিগত মেইলে ন্যাকা ন্যাকা বার্তা চলে আসবে, ভালই লাগে।

আরও কয়েকটা চীন-জাপানের সাইটের পর দু’তিনটা বাংলা ব্লগে গেলাম। শুধু শুধু মেজাজটা খারাপ করলাম। কিছু বিচ্ছু টাইপ সবজান্তা জুটেছে এইসব তথাকথিত বাংলা ব্লগ গুলোতে – নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো আরকি। যত্তসব ফালতু ব্যাপার-স্যাপার। আর কত বড় বড় কথা - অল্টারনেটিভ মিডিয়া, বিনির্মাণের কাল। ধাম করে হাই সাহেবর উপহার দেয়া HP ProBook 4420s টা বন্ধ করলাম। মনের মধ্যে একটা অস্বস্তি রয়েই গেল। নাহ্, ব্যাপারটা এখনই ঠিকমত ডিল করতে না পারলে ভবিষ্যতে অনেক কম্পলিকেশন সৃষ্টি করবে এই ব্লগফ্লগ গুলি। ঢাকায় ফিরে গিয়ে সরকারের জায়গামত কানমন্ত্র দিতে হবে। এসব ব্লগফ্লগ গুলি রেগুলেশনের মধ্যে আনা দরকার। চীন এবং সিংগাপুরের উদাহরণও দিতে হবে। ডেভলাপমেন্ট এবং আনকন্ট্রোল্ড মিডিয়া কখনই একসাথে যায় না। পত্রিকাতে সূক্ষ প্রপাগ্যান্ডাও চালাতে হবে। আরেকটা অপশন হল এইসব ব্লগফ্লগ গুলিকে করপোরেট স্পন্সারের অধীনে নিয়ে আসা, একটা একাউন্টেবিলিটি আসবে। পাবলিক মিডিয়ার একাউন্টেবিলিটি থাকতে হবে তো।

নাহ্, এসব ফালতু কথা ভেবে সুন্দর স্বপ্নচারণের রাতটাকে নষ্ট করার কোন মানে হয়না। সন্ধ্যার ঘটনার স্মৃতিচারণ করতে করতে পরিতৃপ্ত একটা লম্বা ঘুম দিলাম।

ঝকঝকে শীতের সকাল। রোদ ঝলমল রেস্টহাউজের বারান্দায় বসে চা খেতে খেতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অভিভূত হলাম। কত সুন্দর আমাদেরে এই দেশটা। তৃপ্তির হাসি হাসলাম। আর কত সহজ এদেশে টাকা উপার্জন।

ঠিক কাটায় কাটায় ন’টায় আব্দুল হাই সাহেবের ফোন আসল।

- ‘কেমন চলছে Indigenous People এর উপর আপনার রিসার্চ’।

- ‘চলছে ঠিকমতই। আপনাদের কোম্পানির সিএসআরের পাঁচ নম্বর পলিসি সেফগার্ড তো Indigenous People, তাই না? – হালকা খোঁচা দেই আমি।

- ‘জ়ী। জ়ী। আচ্ছা এরা কি Indigenous People, আদিবাসী নাকি উপজাতি। একদিন আপনার কাছ থেকে টার্মিনোলজিগুলির ব্যাখ্যা জেনে নিতে হবে’। - খোঁচাটা কি ফিরিয়ে দিল হাই?

তারপরই আসল কথায় আসে হাই।

- ‘আপনাকে শনিবারের মধ্যে দুই-কিস্তির লেখাটা তৈরী করতে হবে। উই উইল ভেট দ্য ফাইন্যাল রাইটআপ। রবিবারে এবং সোমবারে পেপারে যাবে। স্পেস অলরেডি কনফার্ম করে ফেলেছি। আপনি শব্দের যাদুকর, আপনার মত করে লিখবেন আপনি। কিন্তু লেখার ফ্রেমওয়ার্কের ব্যাপারে আমি আমাদের প্রত্যাশাটা আবার পরিষ্কার করে বলি’।

এখন আর হাইয়ের গলায় তারল্য নেই। স্পষ্ট উচ্চারণে বললেন, ‘আদিবাসী কিংবা উপজাতি ওর হোয়াটেভার, এদের মানবেতর জীবন নিয়ে কিছু বিশ্লেষণ থাকতে হবে। এস্টাবলিশ করতে চেষ্টা করুন এরা ইন্টারন্যালি ডিসপ্লেইসড। তারপর বলতে হবে এদেরকে অন্য কোথাও রিস্যাটেল করলে কীভাবে এইদের উন্নতি এবং জীবিকার ব্যাপারটা সহজ হবে। প্রপার ইকো-সিস্টেম, পারস্পরিক সহযোগিতা। তারপর আমাদের কোম্পানির প্ল্যানটা ভেইগলি বলতে হবে’।

-‘কিছু ফাইনাশিয়্যাল ফিগারও দিতে হবে’ বলে চলেন হাই সাহেব। ‘যে এক্সেল শিটটা পাঠিয়ে ছিলাম তাতে কিছু ফিগার দেয়া আছে। মনে রাখবেন টাকার অংক কখনোই এক ডিজিটের বেশি বলবেন না। চেষ্টা করবেন ৩ থেকে ৬ মিলিওন জাতীয় ভেইগ অংক দিতে’।

-‘দেশের বেনিফিটের ব্যাপারটাও বলবেন। বিলিওনের ফিগারে। ফাইন্যালি, যে দুটো কন্সপিরেসি থিওরির লিড দেয়া হয়েছিল আপনাকে আমারা চাচ্ছি প্রথমটার কিছুটা অস্পষ্ট অভাস আপনি লেখাটাতে দিবেন। ইফ এনিথিং গোজ রং, উই উইল বিল্ড অন দ্যাট কন্সপিরেসি থিওরি। ডিড আই মেক ইট ক্লিয়ার টু ইউ’।

হাইয়ের গলার কর্তৃত্বে কিছুটা অপমানিত হই যেন। গত কয়দিন যেভাবে চিন্তা করেছি, আমিও হাই সাহেবকে নিয়ে কিছুটা খেলব ঠিক করলাম। বেশি কনফিডেন্ট, কিছুটা চাপে রাখা দরকার।

-‘হাই সাহেব। আমার ফাইন্ডিংস তো বলে এই তথাকথিত রিসেটেলমেন্ট প্ল্যান এদের জন্য কোনভাবেই ভাল ফল বয়ে আনবে না। সেই ক্ষেত্রে আমি আপনাদের ফ্রেমওয়ার্কের বাইরে গিয়ে আমার কথা বলতে পারি। অথবা কিছুই না বলতে পারি আমাদের পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে’।

হাসেন হাই সাহেব। ‘ব্যাপারটা বুঝতে চেষ্টা করুন। ভাল-খারাপের ব্যাপারটা কিন্তু সাব্জেক্টিভ। তারপর ধরুণ কখনও কখনও বৃহত্তর উন্নয়নের স্বার্থে ক্ষুদ্র স্বার্থকে বলি দিতে হয়’।

সরাসরি কিছুটা নেগোসিয়াশন করে নেইয়া বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে হল -‘বুঝলাম। কিন্তু চিন্তা করে দেখুন আমি যদি আমার বিশ্বাসে বিরুদ্ধে আপনাদের জন্য ফরমাইসি লেখা লিখি তবে তো আমার আমাকে তেমন ভাবে কম্পেনসেট করতে হবে, ইন লাইন উইথ মাই ক্র্যাডেন্সিয়্যাল’।

আবার হাসেন হাই সাহেব। অসম্ভব ধৈর্য এই লোকটার। ‘ব্যাপারটা পরিস্কার করি। আমাদের ইম্পলিমেন্টেশন প্ল্যানের শুধু একটা অংশ হল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট স্ট্র্যাটেজি। আমরা আপনার মত সাতজনকে সিলেক্ট করেছি আমাদের হয়ে যার লিখবেন। এই মুহূর্তে মাত্র তিনজনকে দিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে লেখাচ্ছি। আপনার যদি অসুবিধা থাকে তবে বলেন। উই উইল গো ফর দ্য অল্টারনেটিভ। শুনুন, মানি টকস, কথাটা মনে রাখবেন’।

সাবধান হই। ‘ভাইরে মানি ক্যান্ট বাই এভরিথিং’।

-‘আরে রাখুন আপনার ক্লিশে। গন আর দোজ ডেইজ’।

আবার বলে হাই, ‘বাদ দেন এসব। কাল কেমন হল আপনার অভিসার’। ধ্বক্‌ করে উঠল বুকটা।‘ডোন্ট ওরি, এটা কোন চাপ প্রয়োগের স্টাইল না। আমরা আপনার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে লেস বদার্ড। আমারা কাজ করব পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে’।

আমি আর কথা বাড়াই না। মিন মিন করে অবশ্য জানতে চাইলাম এমপি সাহেবের সাথে দেখা করব কিনা। হাই ছোট্ট একটা কথা বলল, ‘নো ওরিস, হি ইজ অ্যালাইন্ড’।

ঢাকায় গিয়ে পীর সাহেবের কাছে যেতে হবে একবার। হুজুর সাহেব কামেল আদমি। একবার বলল – ‘তোর জন্য তো সাপ মুখে করে টাকা দিয়ে যাবেরে’। আসলেই আমার চারিদিকে এখন টাকা উড়ে। এই যেমন অধ্যাপক সাহেব মাসিক একটা মাসোহারার কথা বললেন। আশ্চর্য রকমের বড় ফিগার। শুধু মাসে একটা কিংবা দুটা আর্টিক্যাল অথবা টক-শো। কত সহজ টাকা উপার্জন। অধ্যাপক সাহেব নিজে লেখা এবং বলার মাল-মশলা যোগাড় করে দেবেন।

একবার বললাম আপনি নিজেই লেখেন না কেন? ব্যাঙ্গ ঝরে পরে অধ্যাপকের মুখে, ‘ভাইরে আমরা তো আবার আপনাদের সেই তথাকথিত যুদ্ধাপরাধীর সাপোর্টার। আপনারাতো আবার বুদ্ধিজীবী, বু-দ্ধি-জী-বী। আপনাদের তো আবার পাবলিকের কাছে এক্সেপ্টেবিলিটি আছে’।

বিকাল হতেই হার্ট-বিট বাড়া শুরু হয়। কৈশোরের সেই উত্তেজনা টের পাই ভিতরে ভিতরে। আজ রাতেও আবার অভিসারে যেতে হবে। জীবনটা বড়ই ছোট।

হাই ফোন করে। ‘ঢাকায় চলে আসেন কাল’। আমি বলি, ‘থাকিনা কয়দিন। ঢাকার পলিউশনে যেতে ইচ্ছে হয়না। শালার এই মূর্খ পাবলিক আর এই পলিটিশিয়ানরা দেশটাকে ডুবালো’।

হাই বলে, ‘আগামী ২০ থেকে ২২ তারিখ পর্যন্ত সাংহাইতে একটা সেমিনার হচ্ছে। আপনাকে পাঠাবো ঠিক করেছি আমরা। ম্যান, সাংহাই চেঞ্জ হয়ে গেছে। কোন ক্লাশের জিনিস দরকার আপনার – মডেল থেকে এয়ারহোস্টেস’। আবার মজা করেন, ‘ওহো, আবার শ্রেণী-ফেণীর থিওরী নিয়ে এসেন না বস। এখন শুধুই হাই ক্লাশ জিনিস’।

হাই আমাকে জ্ঞান দেয়, ‘দেশের উন্নয়নের জন্য আমরা, আপনারা এবং মিডিয়ার এই ইকো-সিস্টেমটা জরুরী। বুঝলেন না। পারস্পরিক সহযোগিতা। আফটারওল দেশের উন্নয়নটাও তো আমাদের ভাবতে হবে’।


মন্তব্য

দ্রোহী এর ছবি
নৈষাদ এর ছবি

ধন্যবাদ।

বইখাতা এর ছবি

চলুক চলুক

নৈষাদ এর ছবি

দেঁতো হাসি

দুর্দান্ত এর ছবি

তাবত দুনিয়াটাই ডুবে আছে
এই এঁদো ডোবার থিকথিকে ইকোসিস্টেমে
অন্যের কাঁধে পা ঠেকিয়ে লাথি মারা সামনে এগুনোর একমাত্র উপায়
দিনশেষে সবার গায়ে একই আঁশ
মুখে একই রকম অসমান ধারাল দাঁত
খাবারেই যা হেরফের
কেউ মঙ্গোলয়েড আদীবাসি খায়, তো কেউ ২০ মিটারের ইয়ট
কেউ সাংহাই যায় তো অন্যেরা আসে আমস্টারডামে।

নৈষাদ এর ছবি

তাহলে তো একবার আমস্টারডামে আসতে হয়...। চোখ টিপি

ফাহিম এর ছবি

ভাল্লাগসে জানানোর জন্য লগাইতে বাধ্য হইলাম... বুড়া আঙ্গুল উপ্রে... চলুক

=======================
কোথাও হরিণ আজ হতেছে শিকার;

=======================
কোথাও হরিণ আজ হতেছে শিকার;

নৈষাদ এর ছবি

ধন্যবাদ।

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

অনেক দিন পরপর লিখুন, সেও ভালো। কিন্তু সেটা এরকম ভালো হওয়াই চাই।
...

_________________________________________

সেরিওজা

নৈষাদ এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ সুহান।

তিথীডোর এর ছবি

'পারস্পরিক'

লেখায় উত্তম জাঝা!

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

নৈষাদ এর ছবি

আরে, এতক্ষণ ভুল একটা নাম ছিল। অনেক ধন্যবাদ বলে দেবার জন্য। ঠিক করা হল।

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

আমার পিকিংপন্থী বাম রাজনীতির সম্পৃক্ততার সাথে সাথে এই ফেটিসিজম কোন সম্পর্ক ছিল কি?

এবং আরো কয়েকটা সেনটেন্স জ্বলে জ্বলে উঠল।

---

আর ফুড চেইনের বাইরে ইকোসিস্টেমে আর কী থাকে?

তবে আজকার খাদ্যাভ্যাস প্রতিদিন বদলানো যায়। অনেক অনেক অপশন, তাই।

---

কথিত মেইনস্ট্রিমের সেবক কিংবা স্বেচ্ছাসেবকদের ব্লগে আনাগোনা দেখেও প্রাসঙ্গিকতা পাই।

---

লেখা দেন। লেখা শিখি।

___________________________
Any day now, any day now,
I shall be released.


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

নৈষাদ এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ অনিন্দ্য।

বিজনেস ওয়ার্ল্ডে 'ইকোসিস্টেম' কথাটা বেশ ট্রেন্ডি মনে হয় আজকাল এবং মূল অর্থের বাইরে অনেক ব্যাপক অর্থে ব্যবহার করা হয়। সেই ট্রেন্ড অনুযায়ী আমি ব্যবহার করেছি মাত্র।

ব্লগে সম্পর্কিত আপনার পর্যবেক্ষণ হয়ত ঠিক আছে। সচলের বাইরে পড়া হয়না বলে হয়ত বুঝতে পারিনি।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- গল্পে 'আমি'টা তাইলে একটা ফাঁপা মনুষত্ব সম্বল নাচনে পুতুল কেবল! আসল নাটের গুরু হচ্ছে হাই কিংবা অধ্যাপকেরা! আফসোসের ব্যাপার, পুতুল নিজেই জানে না (নাকি জেনে শুনেই?) সে যে অন্যের আঙুলের সাথে নেচে যাচ্ছে বায়বীয় আদর্শের বুলি আউড়ে।

চরম নৈষাদ'দা। চলুক
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

নৈষাদ এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ ধুগো।

হাই এবং অধ্যাপকেরা হয়ত মাঝামাঝি কোন ইন্টারফেস, নাটাই তো আরও উপরে।

মনামী এর ছবি

বক্তব্য অসাধারণ, বলার ভঙ্গি চমৎকার। গল্প হিসেবে ট্যাগ করুন।

নৈষাদ এর ছবি

ধন্যবাদ। গল্প হিসেবে ট্যাগ করা হল।

গৌতম এর ছবি

অসাধারণ! অসম্ভব অসাধারণ!!
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

নৈষাদ এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

আপ্নে একটা মাল।

---------------------------------------------------------------
অভ্র আমার ওংকার

নৈষাদ এর ছবি

এইটা কী বললেন দেঁতো হাসি ।অনেক ধন্যবাদ।

কৌস্তুভ এর ছবি

উঃ!

নিয়মিত লেখেন না কেন আজকাল?

নৈষাদ এর ছবি

এইতো।

অতিথি লেখক এর ছবি

সময়োপযোগী এবং অবশ্যই দুর্দান্ত। চলুক

অনন্ত

নৈষাদ এর ছবি

ধন্যবাদ।

নৈষাদ এর ছবি

এই আরকি।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

দাদা, ক্যাটেগরি থেকে "ব্লগরব্লগর" সরিয়ে "গল্প" করুন। একটা অবিশেষণসম্ভব লেখা! একটু নিয়মিত যদি লিখতেন।



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

নৈষাদ এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ। গল্পকরণ করা হয়েছে।

বাউলিয়ানা এর ছবি

প্রথমটা অত ভাল বুঝতে পারি নাই। তারপর যতই গল্প এগিয়েছে চমকে গেছি একদম। দারুন লিখেছেন। চলুক

এরকম আরও চাই।

নৈষাদ এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ।

পুরুষ এর ছবি

মঙ্গোলিয়ান রেসের প্রতি ফেটিসিজম আমারও কাজ করে। 'ইয়েলো ফিভার'। সেই কারনেই রেজিষ্ট্রেশান না থাকা স্বত্তেও বেনামে কমেন্ট না করে পারলাম না। অসম্ভব পরিনত লেখা। নিয়মিত এরকম লেখা দেখলে ভাল লাগবে।

আর হ্যাঁ, আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার কারনে আমাকে ধড়ফড়ানি বুকে রাত-বিরাতে আইলে হাটতে হয় না। ঝুলিতে আপাতত মঙ্গোলিয়া, চীন এবং ভিয়েতনাম। এবং চলছে, চলবে। ট্রু কনফেশন!

অতিথি লেখক এর ছবি

মুগ্ধতা প্রকাশের জন্য শুধু এটুকুই বলি, শাণিত লেখা বোধহয় একেই বলে।

অদ্রোহ।

ফারুক হাসান এর ছবি

অসাধারণ গল্প! চলুক

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

গুরু গুরু (গুরু) গুরু গুরু (গুরু) গুরু গুরু
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

হাসান মোরশেদ এর ছবি

প্রবল!
-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

অতিথি লেখক এর ছবি

তাহলে তো একবার আমস্টারডামে আসতে হয়...। চোখ টিপি

কি আর বলবো নৈষাদ ভাই ................ আমস্টারডাম আসলেই জোশ জায়গা। গাঁজা/ভাঙের দোকানও যে এতো সুন্দর, ডেকোরেটেড ............. বাকিগুলোর কথা আর নাইবা বললাম।

আপনার লেখাটা খুবই ভালো লাগলো। অতিথি তাই ভোটাধিকার নেই। থাকলে আসল ভোট, জাল ভোট, সব ভোট দিতাম। খুবই ভালো লাগলো নৈষাদ ভাই। অসাধারন লেখা, অসাধারন লেখনি।

রাতঃস্মরণীয়

আনোয়ার সাদাত শিমুল এর ছবি

দূর্দান্ত!!! চলুক

শাহেনশাহ সিমন এর ছবি

অসাধারন!!!!!
_________________
ঝাউবনে লুকোনো যায় না

_________________
ঝাউবনে লুকোনো যায় না

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।