অগত্যা অকৃতজ্ঞতা

সাঈদ আহমেদ এর ছবি
লিখেছেন সাঈদ আহমেদ (তারিখ: শনি, ২৩/০১/২০১০ - ৯:৫২অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

: এই রিকশাওয়ালা, যাবেন?
: কই যাইবেন?
: গ্রীন রোড
: যামু, উঠেন।

আমাদের তিনজনকে নিয়ে রিকশা চললো গ্রীন রোড। তখন কী জানতাম একটি ভয়াবহ ঘটনার মুখোমুখি হতে যাচ্ছি কয়েক মিনিটের মধ্যেই!

২০০৬ এর নভেম্বর। কিছু দিন আগে ঈদ ছিল, তাই ঢাকার রাস্তাঘাট এখোনও খালি। রিকশাওয়ালা মনের আনন্দে গুনগুন করছে। প্রজ্ঞা আমার কোলে বসে তার নতুন টুইটিবার্ড স্কুলব্যাগ নিয়ে খেলছে। রিকশা ইন্দিরা রোড থেকে সোবহানবাগ হয়ে শুক্রাবাদ বাজার ডানে রেখে রাজাবাজারের দিকে যাওয়া শুরু করলো।

: এই ভাই, আপনি তো রাজাবাজার দিয়ে যাবেন, হঠাৎ ডানে ঘুরলেন কেন?
: স্যার, অসুবিধা নাই, আমি খালি পান্থপথ ক্রসকরুম এই জায়গায়।
: বলেন কী? পান্থপথে না রিকশা বন্ধ?
: আটটা বাজে নাই… এখোনও ক্রস করা যাবে…
: আপনি শিওর?
: জে স্যার… ডেইলি যাই।

প্রজ্ঞার আজ প্রথম স্কুল। ঠিক স্কুলও হয়তো বলা যাবেনা, ডে-কেয়ার আর নার্সারীর মাঝামাঝি কিছু একটা হবে। গত মাসেই মাত্র তার দুই বছর হলো। আর দুমাস পরেই বেশ কয়েক বছরের জন্য আমরা দেশের বাইরে যাচ্ছি। তাই এই দুমাস একটু ডে-কেয়ার অভ্যেস করিয়ে নেয়া। দেখতে দেখতে রিকশা পান্থপথে চলে এলো… রাস্তা পুরোই ফাকা, একটা বাস চলে গেল দ্রুত… আর শুধু একটি সাদা গাড়ী দেখা যাচ্ছে…

: ভাই আস্তে চালান… দেখে রাস্তা পার হয়েন… গাড়ীটা যেতে দিন আগে…
: চিন্তা কইরেন না
: এই থামেন থামেন… আগে গাড়ীটা যেতে দিন… এই থামেন…

কার কথা কে শোনে? বা হাতটা দিয়ে গাড়ীটাকে থামতে ইশারা করে আমাদের বীর রিকশাওয়ালা দিল প্যাডেলে চাপ… যেন একহাতে থামিয়ে দিবেন শতমাইল বেগে ধেয়ে আসা গাড়ীটাকে…

শুধু মন হলো প্রজ্ঞাকে কোলে নিয়ে আমি শুন্যে ভেসে উঠলাম, তার পর আর কিছু মনে নেই। কতক্ষন কেটেছে এভাবে তাও জানি না, কিন্তু আস্তে আস্তে আবার নিজের অস্তিত্ব টের পেলাম। নি:শ্বাস নিতে পারছি না কেন? আমার মেয়ে প্রজ্ঞা কোথায়? আর রূপা? মনে হলো কেউ একজন ধরে আছে আমাকে। আস্তে আস্তে শ্বাস নিয়ে চোখ মেললাম। কার কোল বসে যেন প্রজ্ঞা কাঁদছে, কারা যেন রূপাকে ধরে ওঠাচ্ছে রাস্তা থেকে… দ্রুতই সম্বিত ফিরে এলো আমার। রূপার মনে হচ্ছে এখোনও চেতনা ফিরেনি। কাছেই হাসপাতাল দেখা যাচ্ছে। কোন রকম চিন্তা না করে আশেপাশের দু’একজনের সাহায্য নিয়ে সোজা হাসপালের দিকে রওয়া হলাম।

***
হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে মাকে ফোন দিলাম। ফোন ধরেই মা আমাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা দিল! সকালে বাসা থেকে বের হবার সময় শুভেচ্ছা জানাতে ভুলে গিয়েছিল। আমি আর ঘটনার ভয়াবহতা নিয়ে কিছু বললাম না, শুধু চলে আসতে বললাম। আরো কিছু ফোন করতে হবে, হাসপাতাল বদল করতে হবে… অনেক কাজ।

পাশের বেডে রিকশাওয়ালা। ডাক্তার জানালো তার তেমন কিছু হয়নি, গাড়ী সম্ভবত রিকশার পেছনের দিকে আঘাত করেছে। আমার একবার মনে হচ্ছিল দেই কষে একটা, কিন্তু কী লাভ? একমুহূর্তে সে আমার যে পরিমান ক্ষতি করে দিল, তা বোঝার মতন ঘিলুও তো মনে হয় গর্দভ রিকশাওয়ালাটার নেই। ডাক্তারকে বললাম তারচেয়ে এটাকে দ্রুত সুস্থ করে আমার চোখের সামনে থেকে বিদায় করে দিন।

দেশের পুলিশ এতো করিৎকর্মা জানা ছিল না। এরই মধ্যে গাড়ীটাকে আটক করে, আমার মোবাইল নম্বর বের করে আমাকে ফোনও করে ফেললো! অফিসারকে সবিনয়ে বললাম গাড়িটা ছেড়ে দিতে। গাড়িটার কোন দোষ নেই। যদিও সে মাত্রাতিরিক্ত গতিতে চালাচ্ছিল, কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে এই গতিই আমাদের বাঁচিয়ে দিয়েছে। গাড়ীর নিচে চাপা না পড়ে আমরা তিনজনই নাকি উড়ে গাড়ীর পেছনে গিয়ে পড়েছি!

***

আমার অকৃতজ্ঞ হওয়ার কাহিনীর শুরু এখানেই। তবে বলে রাখি, দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা অপরিসীম। এটা ঠিক যে প্রজ্ঞার একটা ঊর্বাস্থি (উরুর হাড়) পুরো দুই ভাগ হয়ে গিয়েছিল, অথচ দুইটি হাসপাতালের ডাক্তাররা বার বার পরীক্ষা করে বারো ঘন্টায়ও তা ধরতে পারেননি। ভাগ্যিস আমার চোখে পড়েছিল! আর দেরী হলে স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যেতে পারতো। কিন্তু এর পরের চিকিৎসা ছিল অসাধারন। রূপার কাধের এমনই একটি সংযোগ ভেঙে গিয়েছিল, অনেক ডাক্তারই বলেছেন তা নাকি কখোনও ঘটে না, আর ঘটলেও এটার অস্ত্রোপচার প্রায় অসম্ভব। এই প্রায় অসম্ভব কাজটিও সম্ভব করে দিয়েছিলেন যেই ডাক্তার, তার কাছে আমাদের কৃতজ্ঞতা অপরিসীম (এই ডাক্তারই বর্তমানে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী)।

মাত্রই দৌড়াতে শিখেছে এমন একটি শিশুর জন্য আড়াই মাস শয্যাশায়ী থাকা নিশ্চই কষ্টের, কিন্তু কোনদিন এটা নিয়ে বিরক্তও করেনি প্রজ্ঞা। আমাদের বরং বেশি ভয় পেতে হয়েছে তার মানষিক স্বাস্থ্য নিয়ে। দূর্ঘটনায় প্রজ্ঞা একবারের জন্যও সম্ভবত জ্ঞান হারায়নি। একাকী থাকলে ভাঙা ভাঙা বাক্যে সেই ভবাবহ ঘটনার পূঙ্খানুপুঙ্খ বণর্না দিত সে তার পুতুলগুলোকে! মাঝরাতে জেগে উঠে ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকতো প্রায়ই!

যাই হোক… এগুলি নিয়ে আর না বলি... ভাবতে ভালো লাগে না। মূলত: আমার অগত্যা অকৃতজ্ঞতার পটভুমি বলার জন্যই এই ঘটনার অবতারনা।

***

দুর্ঘটনার মুহূর্তে এক ভদ্রলোক ফজরের নামাজ পড়ে ফিরছিলেন ওই রাস্তা দিয়ে। কেউ কেউ যখন দূর্ঘটনা পরবর্তী সময়ে মোবাইল আর ব্যাগ হস্তগতকর্মে ব্যস্ত ছিল, তখন এই ভদ্রলোক এগিয়ে এসেছিলেন একান্তই মানবিকতার তাগিদে। সম্বিত ফেরার পর আমি তার কোলেই প্রজ্ঞাকে দেখেছিলাম, তার সহায়তাতেই রূপাকে আর রিকশাওয়ালাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। ভদ্রলোক স্থানীয় একটি রেস্তোরায় বেয়ারার কাজ করতেন। আগে নাকি স্টার কাবাবেও কাজ করতেন, কিন্তু কোন কারনে হয়তো আগে দেখিনি তাকে। এরপর নিয়মিতই আসতেন তিনি আমাদের বাসায়। আস্তে আস্তে তার সাথে আমাদের পারিবারিক সম্পর্কও বাড়তে থাকে।

কোনদিন তার সেই উপকারের প্রতিদান দিতে চাইনি। যা কিছু করতে পারতাম, তাকে আমরা কৃতজ্ঞতা হিসেবেই দেখতাম, প্রতিদান হিসেবে নয়। চলছিল ভালোই, কিন্তু এরপর একটা বিশেষ ঘটনা আমাকে অগত্যা অকৃতজ্ঞ করে দিল।

ভদ্রলোকের একটি ছেলে আছে যার স্কুলের খরচ বহনের ব্যপারে আমার আগ্রহ ছিল। কিন্তু ভদ্রলোক ছেলেকে মাদ্রাসায় দিবেন। আমি তাতেও কোন আপত্তি করিনি। কিন্তু তিনি কওমী মাদ্রাসার যে লাইনে ছেলেকে দিতে চাইলেন, তাতে আমার প্রবল আপত্তি (আমি আগে জানতামই না যে, একদমই অর্থ না জেনে কোরাআন শুধু মুখস্ত করাও নাকি কওমী মাদ্রাসার একটি শাখা!)-

: দেখুন, আপনার সন্তান আপনি কোথায় পড়াবেন, তা একান্তই আপনার বিষয়। কিন্তু ছেলে ভাবার্থ বা মানে না বুঝে কোরআন মুখস্ত করলে কী লাভ?

: বলেন কী? আল্লাহর কালাম মুখস্ত করলে লাভ নেই?

: আমি তা বলছি না, আমি বলছি অর্থ না বুঝে মুখস্ত করার বিষয়ে। অর্থই যদি ও না জানে, তাহলে তো ও বুঝবেই না যে ও কী বলছে!

: বোঝার দরকার কী? আল্লাহর কালাম পড়লেই তো আল্লাহ খুশি হবে।

: কিন্তু অর্থ না বুঝে বললে তো সর্বনাশ, মানেই বদলে যেতে পারে। তাছাড়া কোরআনকে যদি আপনি পূর্ণাঙ্গ জীবন-বিধান মানেন, তাহলে না বুঝে মুখস্ত করলে আপনি কোরানের নির্দেশ বুঝবেন কীভাবে?

তাকে আমি তার লাইনেই বোঝাতে চেষ্টা করলাম। বোঝালাম কীভাবে অনেক আরবী শব্দের আমরা বিকৃত উচ্চারন করি এবং এসব ক্ষেত্রে অর্থ জেনে উচ্চারন করলে অন্তত নিয়ত ঠিক রাখা সম্ভব; কীভাবে বাংলায় যেমন “বর দাও” দু’রকম অর্থ প্রকাশ করে, তেমনি আরবীতেও একই শব্দের ভিন্ন ভিন্ন অর্থ হয় এবং মানে না জেনে বললে তা সঠিক হয় না।

কিন্তু কোন লাভ হয় না। নিবোর্ধ একগুয়েমী পেয়ে বসে তাকে। গ্রামের হুজুর তাকে বলেছে এই লাইনে দিলে বেহেসত্ নসীব হবে! তাছাড়া মুখস্ত থাকলে আয়-রোজগার বেশি। বাড়িতে বাড়িতে কোরআন খতমের জন্য এদের অনেক চাহিদা।

জেনে শুনে এমন একটি বিষয়ের অংশ হতে ইচ্ছে করলো না। সবিনয়ে বললাম, আপনি ছেলেকে স্কুলে দিন, আমি আছি; একান্ত দরকার হলে বোর্ডের মাদ্রাসায় দিন যেখানে সে কোরানের অর্থ জানবে এবং তার সাথে অন্যান্য বিষয়ও পড়বে, তাতেও আমি তাতেও আমি আগ্রহী। কিন্তু অর্থ না বুঝে কোরআন মুখস্ত করার মধ্যে আমি নেই। আপনি যেটা ভালো মনে করেন, তাই করেন।

এর ক’দিন পরেই আমি দেশের বাইরে চলে আসি। এরপরও কিছুদিন যোগাযোগ ছিল। তার বাবার অসুস্থতার সময়ও পারস্পারিক সহযোগিতা বজায় ছিল।

কিন্তু তার সন্তানের এই পরিকল্পনায় আমার শরীক হবার অনাগ্রহ বা “অগত্যা অকৃতজ্ঞতা” সে মেনে নিতে পারেনি। একসময় নিজেই যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় এই পরোপকারী লোকটি। আর কোন দিনই খোঁজ পাইনি!

[সর্বশেষ: তিনি পুনোরায় যোগাযোগ করেছেন... মাঝখানে তার বাবা আবারো অসুস্থ ছিলেন, সম্ভবত এটাই নিরুদ্দেশের (অথবা দেশে যাবার) কারন... বন্ধু থাকায় এই পরোপকারীর নিকট আবারো কৃতজ্ঞতা]


মন্তব্য

আলমগীর এর ছবি

আপনাদের আয়ু আরো বাড়ুক।
তবে লেখায় লেজটা না হলেই মনে হয় ভাল ছিল।

সাঈদ আহমেদ এর ছবি

ধন্যবাদ।
আসলে দুর্ঘটনার কথা বলাটা উদ্দেশ্য ছিল না... লেজটারই হবার কথা ছিল দেহ (গতকালই কথা হচ্ছিল ওই ভদ্রলোককে নিয়ে, সে কারনেই লেজের অবতারনা)।

পরে মনে হলো দুটো কাহিনী দুই দিকে চলে যাচ্ছে... কিন্তু ততক্ষণে পোস্ট হয়ে গিয়েছে... দুটো খসড়া ভবিষ্যতের জন্য আলাদা করে রাখবো।

আপনিও ভালো থাকুন।
-----------
"সে এক পাথর আছে কেবলি লাবণ্য ধরে"

-----------
চর্যাপদ

দ্রোহী এর ছবি

পড়লাম.......

সাঈদ আহমেদ এর ছবি
ধুসর গোধূলি এর ছবি

- প্রজ্ঞা এখন কতো বড়, কেমন আছে সে? সেই ঘটনার ভয়াবহ স্মৃতি কি এখনও তাকে তাড়া করে?
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

সাঈদ আহমেদ এর ছবি

ধন্যবাদ। এই তো, পাঁচ পার হলো।
শুরুতে দু:স্বপ্ন দেখতো... তবে এখন একদম সুস্থ... খুব একটা বলে না... হয়তো কালে-ভদ্রে বছরে একবার দুবার মনে করে। তবে যেহেতু সে খুবই চাপা ও ভাবুক স্বভাবের তাই সবসময় লক্ষ্য রাখতে হয়।

কাজের মধ্যে একটাই হয়েছে... আমি রিকশায় উঠলে এখন মোটামুটি মিনিটে পনের বার গাড়ী আসছে কিনা চেক করি ... মাথায় ঢুকে গিয়েছে.. আমার সাথে যে রিকশায় উঠে সে বিরক্ত হয় হাসি

-----------
"সে এক পাথর আছে কেবলি লাবণ্য ধরে"

-----------
চর্যাপদ

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

লেজ-মাথা দুটোই ভালো।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

সাঈদ আহমেদ এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ। ভালো থাকুন।
-----------
"সে এক পাথর আছে কেবলি লাবণ্য ধরে"

-----------
চর্যাপদ

ওয়াইল্ড-স্কোপ এর ছবি

অন্য কাউকে জাজ করা ব্যক্তিগত গল্প পড়তে কেন যেন ভালো লাগে না, মনে হয় এক তরফা ভাবে শুনে গেলাম। ঘটনাটা যদি এমন হয় যে আপনি তাকে আপনার উপলব্ধি বোঝাতে ব্যর্থ হয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তার সাথে সম্পর্ক নষ্ট করেছেন - তাতে ঘটনার পাঞ্চ-লাইন কি দাঁড়ালো? কে কার বাচ্চাকে কিভাবে মানুষ করবে তা উপদেশ দেয়া যেতে পারে - কিন্তু জোর করা বা শর্ত আরোপ করাটা কেমন হলো? হয়ত ঘটনার মোরাল বুঝতে পারি নাই - কিছু ভুল বুঝে থাকলে শুধরে দিয়েন হাসি

সাঈদ আহমেদ এর ছবি

আমার হয়তো তাকে বোঝানোর কমতি থাকতে পারে, কিন্তু "ক্ষুব্ধ হয়ে তার সাথে সম্পর্ক নষ্ট করেছি", এটা আসলে ঠিক নয়। তার বাবা ওই ঘটনার পরে অসুস্থ হয়েছিলেন যেখানে আমার সাধ্যাতিত অংশগ্রহন ছিল শর্তহীন (তার প্রতি কৃতজ্ঞতাগুলোকে যথাসম্ভব উহ্য রাখতে চেয়েছি এবং তাতে পাঠকের কিছু সন্দেহ তৈরী হলে ক্ষতি নেই)।

তবে তার সন্তান লালন নিয়েও তো আমার কোন শর্ত ছিল না... শর্ত ছিল অন্ধ-শিক্ষায় আমার ব্যক্তিগত অংশগ্রহন নিয়ে।

যাই হোক, আপনাকে ধন্যবাদ। আসলে কোন মোরালই দিতে চাইনি এখানে।

দেখুন, গল্পটার অনেকগুলো সমাপ্তি হতে পারতো... যদি আমি দুর্ঘটনায় শেষ করতাম, তাহলে তা এক ধরনের কাহিনী হতো... যদি তার পরোপোকারেই শেষ করতাম, তাহলে আরেক ধরনের কাহিনী হতো... কিন্তু জীবন আসলে গল্পের চেয়ে জটিল। তাই যা হয়েছে, পুরোটাই বললাম। এখানে পাঞ্চ-লাইন হলো- জীবনের জটিলতা, কাউকে জাজ করা নয়। প্রতিটি পাঠক যেন নিজের মতন সীদ্ধান্তে উপনীত হতে পারে, সেজন্যই এই আন-কাট ভার্সান হাসি
-----------
"সে এক পাথর আছে কেবলি লাবণ্য ধরে"

-----------
চর্যাপদ

তাসনীম এর ছবি

আতঙ্ক নিয়ে পড়ছিলাম, শেষ পর্যন্ত অন্য দিকে টার্ন নেওয়ায় ভালো লাগলো। আপনার মত আমিও কাউকে কাওমি মাদ্রাসায় পড়ানোর জন্য সাহায্য করতাম না, কিন্তু আপনার মানসিক টানাপোড়েনটা বোঝা যায়
লেখা পড়ে। ভাল লেগেছে।

রিকশা আমার খুব প্রিয় বাহন কিন্তু এ রকম দুর্ঘটনা বিরল নয়, অধিকাংশ রিকশাচালকদের রাস্তার নিরাপত্তা নিয়ে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই, অপর গাড়ির ব্রেক আছে সেটাই যথেষ্ট।

আপনার মেয়ে এবং আপনারা ভালো থাকুন, জেনে শান্তি পেলাম যে কোন মানসিক ট্রমা আর নেই এখন, শিশুদের জন্য এটা ভয়াবহ হতে পারে।

শুভেচ্ছা রইল।

--------------------------------------
যে কথা এ জীবনে রহিয়া গেল মনে
সে কথা আজি যেন বলা যায়।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

সাঈদ আহমেদ এর ছবি

ধন্যবাদ ভাই। রিকশা আমারো প্রিয়... এই জন্যই তো এখনো রিকশার ছবি তুলি হাসি
auto
-----------
"সে এক পাথর আছে কেবলি লাবণ্য ধরে"

-----------
চর্যাপদ

জুলিয়ান সিদ্দিকী এর ছবি

চালকের আহাম্মকির খেসারত আজ অবধি দিয়ে চলেছি আমি। মেজ ভাই হাসপাতালে। পিত্ত-পাথর অপসারণের রোগি। ভাবি সহ মিশুকে যাচ্ছিলাম হলিফ্যামিলি হাসপাতালে। কারওয়ান বাজারে (এখন প্রথম আলো) বিল্ডিংটার দক্ষিণের একটি রাস্তা দিয়ে পুব দিকে যাওয়ার সময় নালা দেখে চালককে বলেছিলাম-আমরা নেমে নেই। সে শুনলো না। নালা পেরোতে যেতেই বাম দিকের চাকা কাদায় বসে গিয়ে মিশুক কাৎ হয়ে গেল। ভাবি পড়লেন আমার উপর। নোংরা কাদায় আমি মাখামাখি। ভাবির শাড়িও।

সেই তখন থেকেই তিনি বলছিলেন, ব্যথা পাইছস?

আমি না বলি।

আসলে ভাবির হাঁটু কনুই কিংবা স্যান্ডেলের আঘাতে পিঠের মাঝামাঝি জায়গাটি ব্যথা করছিলো। প্রায় মাসখানেক কষ্ট পেলেও প্রকাশ করিনি। গোপনে চিকিৎসা নিয়েছি। কিন্তু সত্যি কথাটি ভাবিকে বলতে পারিনি। যদিও ভাবি ইহ জগতে আজ নেই। তাঁর কাছে আমার ব্যথাটি গোপন থাকলেও এখনও প্রায় বুড়ো এ বয়সে মাঝে মাঝে তা টের পাই।

যে কোনো সড়ক আমাদের জন্য নিরাপদ থাকুক। আপনাদের সবার জন্য শুভ কামনা।

.
____________________________________
ব্যাকুল প্রত্যাশা উর্ধমুখী; হয়তো বা কেটে যাবে মেঘ।
দূর হবে শকুনের ছাঁয়া। কাটাবে আঁধার আমাদের ঘোলা চোখ
আলোকের উদ্ভাসনে; হবে পুন: পল্লবীত বিশুষ্ক বৃক্ষের ডাল।

___________________________
লাইগ্যা থাকিস, ছাড়িস না!

সাঈদ আহমেদ এর ছবি

ধন্যবাদ। আপনার কাহিনী শুনে খারাপ লাগলো। সুস্থ্য থাকুন।
-----------
"সে এক পাথর আছে কেবলি লাবণ্য ধরে"

-----------
চর্যাপদ

সচল জাহিদ এর ছবি

সাঈদ ভাই, শুরুটা পড়ার পর মনটা ঐদিকেই ছিল সুতরাং শেষটা ভাল লাগেনি বা ঠিক মনযোগ দেইনি। প্রজ্ঞার জন্য শুভকামনা রইল, সেই সাথে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার ভাল দিকটা জেনেও খুশি হলাম।

----------------------------------------------------------------------------
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

সাঈদ আহমেদ এর ছবি

শুভকামনার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
শেষটা মনযোগ দিলেও ভালো লাগতো না ... আমারই ভালো লাগে না, আপনার লাগবে কী করে?

ভালো থাকুন হাসি
-----------
"সে এক পাথর আছে কেবলি লাবণ্য ধরে"

-----------
চর্যাপদ

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

আপনাকে সচলে কম দেখি। সময় করে লেখা আপান। হাসি

-------------------------------------------------------------------------
অভ্র আমার ওংকার

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।