অপুর খোঁজে, নিজের খোঁজে

তারেক অণু এর ছবি
লিখেছেন তারেক অণু (তারিখ: সোম, ০৮/০৬/২০২০ - ৫:৪০অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

গত কদিন ধরেই বন্ধু বিচ্ছেদের আসন্ন বেদনায় বেশ নির্জীব ছিলাম, এবং সেই সাথে বন্ধুত্ব শেষ হয়ে যাবে ভেবে দিনগুলো, রাতগুলো যাতে আরেকটু দীর্ঘ হয়, যাতে বন্ধুত্ব আরেকটু লম্বা হয় সেই জন্য চেষ্টাও করে গেছি আস্তে আস্তে ঢোঁক গিলে, সময়ে অসময়ে থেমে থেমে, ছাড়া ছাড়া ভাবে সাহিত্য রস আস্বাদন করে বইটি পড়বার, যাতে পড়ার সময় যে অসাধারণ প্রেম, বুকের ভিতরের রিনরিনে প্রজাপতি উড়বার অনুভূতি ঘিরে ছিল, তা যেন থাকে আরও কটা দিন বেশী।

‘অবভাস’ থেকে ছাপানো বাঙালির আত্মজীবনী ‘অপুর দেশ’ কলকাতা থেকে সংগ্রহ করেছিলাম প্রায় বছর খানেক আগে, পড়তে শুরু করে করে দেখি জাদুকরী ভাষার ঠাসবুনটে চমৎকৃত হবার গোলকধাঁধায় হারিয়ে যাবার জোগাড়, এই বই যখন ইচ্ছে, যেভাবে ইচ্ছে পড়া যাবে না, ঠিক যেমন ইচ্ছে হলেই এমন বই লেখা যায় না, এর জন্য অপেক্ষা করতে হয়, উপযুক্ত স্থান কাল পাত্রের, মনের ভিতর থেকে সাড়া আসতে হয়-

“অক্ষরের অপু, ছায়াছবির অপু, দুই চিত্রণের মাঝে ফাটল দিয়ে পিছলে আসা ভিন্ন এক অপু। কিংবা শৈশবের আলোআঁধারি জমিয়ে কাঠখোদাই অপু। এইসব অপুগুলো জুড়ে জুড়ে একটাই অপু ভর করেছে আমার ওপর, তাকে বয়ে নিয়ে চলেছি বেতাল কাঁধে বিক্রমের মতো। তারপর কবে যেন সেই আলিঙ্গনের ফাঁস ছাড়িয়ে বেরিয়েও এসেছি, যেভাবে খোলস ছাড়ে সাপ। বেরিয়ে এসেছি, পথ চলেছি। তোমার সঙ্গে আমার দূরত্ব যত বেড়েছে, ততই বিচিত্র স্পষ্টতায় তুমি ফুটে উঠেছ অপু।”

এক অসামান্য অন্বেষণ । এক আশ্চর্য উপন্যাস! একটি ছেলে, গ্রামের ছেলে- দরিদ্র কিন্তু সেনসিটিভ, বাপ পুরুত, মারা গেল, ছেলেটি শহরে এল, - সে পুরুতগিরি করবে না, পড়বে অ্যামবিশাস- অভিভাবকের মৃত্যুর চেয়ে তার কাছে পরীক্ষা জরুরী, মায়ের মৃত্যুতে সে কী মুক্তির আলোয় খুঁজে পায় কোন না কোন ভাবে?

বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় চরিত্র অপু, শ্রীকান্ত নয়, দেবদাস নয়, অপু! কিন্তু কেউই অপু হতে চায় না, তার মত জীবন সংগ্রাম ঠেলতে আগ্রহী নয় কেউই, কিন্তু অপুর আত্মজীবনী একসময় সকল বাঙালির আত্মজীবনী হয়ে যায়, কী আমার, কী আপনার! আর এর সাথে মিশে যায় সুলেখক পরিমল ভট্টাচার্যের নিজের অন্বেষণের চেষ্টা, অমৃতের কুম্ভের প্রতি তাঁর যাত্রা অতীত খুঁড়ে খুঁড়ে, অপুকে ব্যবচ্ছেদ করে করে, আমাদের জীবনপ্রবাহকে ধরে রেখে বিচিত্র মুন্সিয়ানায় জাদুর শব্দজাল বুনে তিনি আমাদের দেন এক নিজস্ব দর্পণ, সারা জীবন ধরে পাশে রাখবার এক হরিহর বন্ধু।

অনেকটা লিও তলস্তয় আর ওরহান পামুকের যুগল সম্মিলন ঘটিয়ে তিনি আমাদের নিয়ে চলেন এক রূপকথার প্রসাদে, ঠিক তলস্তয়ের মতো দূরের প্রাসাদের অপরূপ বর্ণনা দেবার পাশাপাশি সিংহ দরজা দিয়ে অবলীলায় ঢুকিয়ে ভাষার মারপ্যাঁচে কোন দরজায় কোন পর্দা ঝুলছে তা স্পর্শ করে, কোন দেরাজের কোন কোণে কার কোন স্মৃতিমাখা ধূসর অতীত আছে তা মায়া ও যন্ত্রণা দিয়ে উপলব্ধি করিয়ে অনায়াসে প্রাসাদের সকল গুপ্ত কক্ষ ও ভুল্ভুলাইয়াকে ধূসর মস্তিষ্কের কোষে কোষে গেঁথে নিয়ে সুন্দর করে আলগোছে খিড়কি দরজা দিয়ে বের করে দেন পাঠককে, ততক্ষনে সৃষ্টিশীলতার অমৃতনীল বিষের আনন্দে সব কিছুই পাঠকের নিজের জীবনের অংশ হয়ে গেছে, দিব্য চোখে সে চোখ মুদেও দেখতে পারে যেভাবে শব্দ ছবি এঁকেছেন লেখক,

“ গলিটা এত সরু আর দুপাশে বাড়িগুলো এত উঁচু যে সিগন্যাল তো দূর, দিনের আলোয় ঢোকে না ঠিকমতো। একটা ভ্যাপসা বাতাস ঝুলে আছে মলিন মশারির মতো। গলির বাঁকে নর্দমার ঝাঁঝরির ওপর স্তূপাকার বাসি ভাত, তরকারির খোসা, আমের আঁটি, পলিপ্যাকে মোড়া চিংড়ির খোলস ঠোঁটে ছিঁড়ে ছিটিয়েছে কাক। সেখানে এসে জুটেছে দুটো ঘেয়ো কুকুর। ডানদিকে মোটা থামওয়ালা বাড়ীর দোতালার বারান্দায় মেলা শাড়ি একতলার জানালায় ঝুলে পড়ছে পর্দার মতো। কয়েক ঘর ভাড়াটের বাস। খোলা দরজা দিয়ে দেখা যায় ছ্যাতলাধরা উঠোন, কলতলা, এক পৃথুলা নারী উবু হয়ে বসে বাসন মাজতে মাজতে কোনো পড়শি কিংবা সিরিয়ালের গল্প শোনাচ্ছে কাউকে। ইজের-পরা কচিকাঁচার দল ছুটোছুটি করছে উঠোনময়। গলির ধারে নীচু ঘরের ছিটের পর্দার ফাঁক দিয়ে ভেতরটা যতটুকু দেখা যায় পরিপাটি সাজানো, এক কোণে টুলের ওপর পরপর রাখা টিনের বাক্স স্যুটকেস কুরুশের কাজ করা, ঢাকা দেওয়া, পেস্তাসবুজ দেওয়ালে জাপানি নিসর্গের ছবিওয়ালা ক্যালেন্ডার, কুলুঙ্গিতে খানকতক বই। ঘরে সূর্যের আলো ঢোকে না, টিউবলাইট জ্বলে রাতদিন। সেই আলোয় খাটে উপুড় হয়ে খবরের কাগজ পড়ছে এক শ্যান্ডো গেঞ্জি-পরা যুবক। লাগো সরু বারান্দায় রান্না করছে এক সদ্য তরুণী। ঘন তারের জাল দিয়ে তার মুখটা শুধু দেখা যায়। চাটুতে খুন্তির শব্দ, পরোটা ভাজার গন্ধ। শেষবিকেলের আলো জড়ানো বাষ্পের পর্দার ওপাশে চিকচিক করে পানপাতার মতো মুখ, নাকের দুপাশে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে।“

আটকে গেলেন তো সেই জগতে? দেখেছেন যে এই বইতে কোন তাড়া নেই, আসলেই জীবন তাড়াহুড়ো করে এখনের সোশ্যাল মিডিয়ার মতো চটজলদি করা তো জীবনের কাজ নয়, তাই অপুর সন্ধানে, আপনার নিজের আত্ম অনুসন্ধানে যেয়ে লেখক সময়ের কোন কার্পণ্য করেন নি, কার্পণ্য করেন নি শব্দের, রাশি রাশি শব্দে গেঁথে তুলেছেন সেই রূপকথার দুর্গ।

“জীর্ণ বাড়িগুলো সেকালের মুৎসুদ্দি সমৃদ্ধির চুইয়ে আসা বিত্তের ছাপ গায়ে নিয়ে, সুচারু রেলিঙের নকশা, রঙিন শার্সি, বার্মাসেগুন আর কার্নিশের কারুকাজ নিয়ে, দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের শুকনো খোলার মতো। ভেতরে শিলীভূত অসূর্যস্পশ্যা জীবন। দুপাল্লা সদর দরজা পেরিয়ে সুড়ঙ্গের মতো পথ গিয়েছে সেখানে, দেয়ালে ঝুলছে অসংখ্য মিটারবক্স, ভাঙা চিঠির বাক্সে নাম-ঠিকানা ঝাপসা হয়েছে। সূর্য ডুবে যাবার সময় মরুভূমির সরীসৃপ যেমন গর্তের মুখে উঠে আসে, তেমনই এইসব বাড়ীর বাসিন্দারা দরজার মুখে বেরিয়ে আসে ঠিক এই প্রহরে, ওপর দিকে মুখ তুলে এক চিলতে আকাশের গায়ে দিনের আলো মরে আসা দেখে। তেমন এক বৃদ্ধ, পরনে মলিন গেঞ্জি আর গেরুয়া লুঙ্গি, চোখে পুরু কাঁচের চশমা, লোহার শিক-আঁটা হাফ দরজার কনুইয়ে ভর দিয়ে ঝুঁকে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর হাতে ইঁদুরকল, ভেতরে একটি নেংটি ইঁদুর, জ্যান্ত, আধখানা মারী বিস্কুট। গলির ভেতর আমাকে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে জিজ্ঞেস করেন-

আপনি কি কাউকে খুঁজছেন? “

লেখক পরিমল ভট্টাচার্য এর পরেই বিদ্রোহী অপুর সাথে আমাদের শৈশব মিলিয়ে নেনে, মোহভরা যন্ত্রণায় বলেন,

“তোমার মতো শৈশবে স্বপ্নলোক আমার নেই, যেখানে তেঁতুলতলায় ঘাটে গিয়ে বড়ো বড়ো ঝিনুকতোলা নৌকার গায়ে আলকাতরা আর গাবের রসের গন্ধে জড়িয়ে থাকে কতকাল আগের ফুরিয়ে যাওয়া বিকালবেলা, জাওয়া বাঁশের বন সন্ধ্যার রক্তাকাশে লায়ার পাখির লেজের মতো খাড়া হয়ে থাকে, কাঁচা কলাইয়ের ডালের মতো অচেনা লতার গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে ঝিঁঝিঁপোকাদের পাড়ায়, নারকেল গাছের পাতায় চুরচুর হয় বৈশাখ রাতের জ্যোৎস্না। এসব কিছুই নেই আমার।“

লেখক আমাদের নিয়ে চলেন আশ্চর্য সব প্রান্তিক জনপদে অলীক সব মানুষের ভিড়ে, ভয়াল কিন্তু একাকী আরামের সুন্দরবনে, কোন বিখ্যাত নদীর নামহীন চরে, আমরা মুগ্ধতায় অতলে ডুবে যেতে থাকি, নিজেকে অন্বেষণের চেয়ে মাতাল করা আনন্দ আর কিই বা আছে জীবনে?
আমাদের সবার পক্ষ থেকে একজন পরিমল ভট্টাচার্য লিখেন বুকে পাথর বেঁধে

“ এভাবে আমিও তোমায় খুঁজে চলেছি অপু,- বাংলার মাঠেঘাটে গ্রামে নদীপাড়ে পাঠশালায়, যেখানে সমবেত নামতা পাঠের ধ্বনি দূর থেকে শোনা যায় মৌচাকের মতো, কুয়োর লাটাখাম্বায় দড়ির গোঙানি মিশে যায় অলস ছাগলের ডাকে, ইস্কুল ছুটির ঘণ্টা ছড়িয়ে যায় নদীর ওপারে। তোমায় খুঁজছি আমি কতকাল। তোমার সবুজ মন, তোমার পিপাসা, আর আমাদের এই জীর্ণ বন্ধ্যা সময়। ছায়া ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে, ভালো করে দেখা যায় না কিছু। গভীর অবসাদের ভেতর আমাদের মুখগুলো কেমন শুকিয়ে কুঁকড়ে আসে, ক্রিমি বাসা বাঁধে চোখের মণিতে, নষ্ট ফলের মতো ত্বক, ঝুঁকে-পড়া পিঠে কুজ গলগণ্ড ...
আর তুমি কেবলই পালিয়ে চলো আমাদের এই সময় থেকে, আমাদের জ্বরো ছোঁয়াচ থেকে।“

২০১৬ সালে প্রকাশিত ২৩২ পাতার বইখানা কেবল প্রথমবারে মতো পড়া হল শুরু থেকে শেষ অবধি, কিন্তু এ কেবল শুরু, আমি জানি এই বই বারবার পড়া হবে, যে কোন জায়গায় পাতা উল্টিয়ে পড়া হবে জীবনে নানা সন্ধিক্ষণে, নিজের সাথে মুখোমুখি হবার বেলায়।

অপুর সাথে দীর্ঘ আমরণ গাটছড়ায় এক ভিন্ন নতুনত্ব আনলো প্রিয় লেখক পরিমল ভট্টাচার্যের ‘অপুর দেশ একটি আত্মকাহিনী’। তাঁর জন্য ভালোবাসা।

ছবি: 
07/07/2011 - 11:39অপরাহ্ন

মন্তব্য

ওডিন এর ছবি

অনেক দিন পর দুর্দান্ত একটা বুক রিভিউ পড়লাম।

সেই কবে ওনার লেখা 'শাংগ্রিলার খোঁজে: হিমালয়ে গুপ্তচারনার তিন শতক' পড়ে মুগ্ধ হয়েছিলাম । সেই মুগ্ধতা এখনও কাটেনি। এই বইটাও পড়ে ফেলতে হবে।

তারেক অণু এর ছবি

উনার 'ডোডোপাখির গান' আর 'সত্যি রূপকথা' বেশী অপূর্ব! এমন অসাধারণ নিসর্গ ও সচেতনতা নিয়ে বই বাংলায় পড়ি নাই আর।

সুমন চৌধুরী এর ছবি

পড়ি নাই এখনো। পড়তে চাই প্রবলভাবে। এই রকম পরিক্রমা পড়ার জন্য উস্কায় হাসি

তারেক অণু এর ছবি

হ, পড়ে ফেললেন বদ্দা

6666 এর ছবি

সব কথা অতি সহজ সরল ও নন্দিত  ভাবে  উপস্থাপন ।

তারেক অণু এর ছবি

শুভেচ্ছা

মাহবুব লীলেন এর ছবি

দুর্দান্ত রিভিউ। বইটা পড়ি নাই। কিন্তু উদ্ধৃতিতে বর্ণনার ডিটেইল দেখে মুগ্ধ। একেবারে ছবির মতো বর্ণনা। তবে অপু আমার মোটেও পছন্দের চরিত্র না (দুঃখিত)

তারেক অণু এর ছবি

তারপরেও আপনার ভালো লাগবে, বলা চলে অপু আসলে লেখক নিজেই, বা আমরা সকলেই হে দাদা

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

কিন্তু কেউই অপু হতে চায় না, তার মত জীবন সংগ্রাম ঠেলতে আগ্রহী নয় কেউই

মন খারাপ

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

তারেক অণু এর ছবি

জীবন তো এত্ত সহজ নহে! হতে না চাইলে অনেক কিছুই মিস

তাহসিন রেজা এর ছবি

এই বইটা পড়া হয়নি। ওনার ড্যাঞ্চিনামা, দার্জিলিং, শাংগ্রিলার খোঁজে, ডোডো পাখিদের গান অসম্ভব প্রিয় বই। এই লেখকের লেখায় জাদু আছে।

------------------------------------------------------------------------------------------------------------
“We sit in the mud, my friend, and reach for the stars.”

অলীক জানালা _________

তারেক অণু এর ছবি

ড্যাঞ্চিনামা, দার্জিলিং, শাংগ্রিলার খোঁজে, ডোডো পাখিদের গান দারুণ, সাথে 'সত্যি রূপকথা' বইটাও, অপূর্ব লিখেন পরিমল ভট্টাচার্য

সোহেল ইমাম এর ছবি

একটা ঝামেলা করে দিলেন। এমনিতেই হাবুডুবু খাচ্ছিলাম এবার আরেকটা বইয়ের নেশায় পাগল করে দিলেন। দেখি কোথায় পাওয়া যায়।

---------------------------------------------------
মিথ্যা ধুয়ে যাক মুখে, গান হোক বৃষ্টি হোক খুব।

তারেক অণু এর ছবি

পেয়ে যাবেন আশা করি ভাই

কর্ণজয় এর ছবি

অপু, সেই ছোটবেলা থেকে আমাদের সাথে সাথে বড় হচ্ছে। চলতি বাসে সামনের সিটে বসা অচেনা কেউ যখন পাশের জনের সাথে বা ফোনে কোন অপুর গল্প করে, মনে হয় সেই অপুকেও চিনি।
ভাল লাগলো খুব। বইটা। আর বইটার কথা বলাটাও।

তারেক অণু এর ছবি

সেই, একইসাথে বড় হওয়া, পথ চলা, আজন্ম আমরণ সাথী

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।