বিদেশে বাঙ্গালী সজ্জন!

তীরন্দাজ এর ছবি
লিখেছেন তীরন্দাজ (তারিখ: বুধ, ০৪/০৭/২০০৭ - ৭:২৪অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

প্রবাসে আমার এক ভারতীয় বাঙ্গালী বন্ধু। নাম শ্যামল কুমার মিত্র। নাম শুনলেই মনে হতে পারে, গায়ক গোছের কেউ এক হবে নিশ্চয়ই। না, শ্যামলের কন্ঠে গানের কোন সুরই বসে না। গানের প্রতি অটুটু ভালোবাসার কারনে আর নিজের নামের প্রতি কিছুটা সুবিচারের আশায় একবার দু'বার গাওয়ার চেষ্টা করেছিল সে। ব্যস! এইটুকুই! তারপরই সে গানের প্রতি সুবিচার আর ভালবাসায় সে প্রচেষ্টা সেখানেই ক্ষ্যান্ত দিতে হয়েছে তাকে।

গান নিয়ে কথা শুরু করলেও প্রাসঙ্গিক কারনেই এবার কাহিনীর মোড় অন্যদিকে ঘোরাতে হচ্ছে। সময়কেও পিছিয়ে দিতে হচ্ছে বছর পাঁচেকের মতো।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল আই সি সি চ্যাম্পিয়াশীপের খেলার ফাইনালে কেনিয়াকে পরাজিত করে আন্তর্জাতিক একদিনের ক্রিকেট খেলার যোগ্যতা আদায় করেছে। বিদেশ বিভুইয়ে বসে ক্রিকেট দেখার সুযোগ পাইনা, কিন্তু খবরটা শোনার পর এ খেলাটি ভিডিওতে দেখার ইচ্ছে ছিল প্রবল। অনেকেকই বলে রেখেছিলাম। তার সুবাদেই বেশ কয়েক বছর পরে হলেও একদিন ভিডিওটি জোগাড় করেই ফোন দিল শ্যামল।

- গুরু, চলে এস! বরাবরের মতোই ব্যাস্ত শ্যামল।
- কেন কি হয়েছে? খানাপিনা হচ্ছে নাকি?
- সবই হচ্ছে! আগে এস! 'বাঙ্গালী, পাকাও আর খাও!'

'বাঙ্গালী, পাকাও আর খাও!' শ্যামলের প্রিয় ডায়ালগ। ওর সাথে এক ঘন্টা কাটালে কমপক্ষে পাঁচবার শুনতে হবে এই বচন। আর সেই সাথে ক'মিনিট পরপরই 'ইয়েসর্টারডে, হয়েন মাই ড্রিমস.....'। তার গানের কথা তো আগেই বলেছি।

তথাস্তু বলে ছুটলাম। খানাপিনা বেশ ভালই হলো। শ্যামল কখনো হাতে খায়না, আমার কনুই ডুবিয়ে খাওয়া দেখে বেশ কিছু রসালো মন্তব্য ঝাড়লো।

তারপর চালু করলো ভিডিও।

এতদিন পর বিদেশে বসে ক্রিকেট খেলা দেখছি! হোক না পুরোনো, তারপরও বাংলাদেশের খেলা ফাইনালে! উত্তেজনা আর আবেগের বন্যায় যেন ভেসে গেলাম আমি। মনে হলো নতুন কোন এক অধ্যায় খুললো আমার চোখের সামনে। চোখ জলে ভিজে উঠছিল বারবার। কিন্তু শ্যামলের সামনে তা প্রকাশ করে নিজের পৌরুষকে বিব্রত দেখতে চাইছিলাম না।

শেষ বলে উত্তেজনা তখন তুঙ্গে। এক বলে এক রান করতে হবে বাংলাদেশকে। তাহলেই সপ্নপূরণ। এটা যে একটি ভিডিও আর খেলার খবর যে আগে থেকেই জানি, তা ভুলে গেলাম পুরোপুরি।

বাংলাদেশ শেষ রানটি করলো। সম্ভবতো খালেদ মাহমুদ সে রান করলেন।

আমি তখনও চোখের জল লুকোতে ব্যাস্ত।

শ্যমল তার চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো। পাশের টেবিল থেকে টিস্যু পেপার তুলে নিল হাতে। একটি ছুড়ে দিল আমার দিকে।

আরেকটি দিয়ে নিজের চোখ মুছতে মুছতে বললো,

- শালা! আনন্দে চোখে জল এসে গিয়েছে!


মন্তব্য

হাসান মোরশেদ এর ছবি

ঐতো জল আর পানি । সব এক একই!
শেষ রানটা মনে হয় শান্ত করেছিলো । তারপরই জেগে উঠেছিলো বাংলাদেশ- জাফলং থেকে সুন্দরবন
-----------------------------------
'পড়ে রইলাম বিধির বামে,ভুল হলো মোর মুল সাধনে'

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

আরশাদ রহমান এর ছবি

বিদেশে অনে কিছুতেই দেশের কথা মনে হয় অনেক কিছুতেই এতো আনন্দ লাগে যা দেশে থাকলে বোঝা যায়না অনেক সময়।

সুমন চৌধুরী এর ছবি

সেই...জল আর পানি....
.......................................
ঋণম্ কৃত্বাহ ঘৃতম্ পীবেৎ যাবৎ জীবেৎ সুখম্ জীবেৎ

আরশাদ রহমান এর ছবি

হ্যা, যাহা জল তাহাই পানি।

সৌরভ এর ছবি

সেইতো বিশ্বাসঘাতক চোখ এইসময়গুলোতে বিট্রে করে বসে!

------ooo0------
বিবর্ণ আকাশ এবং আমি ...


আবার লিখবো হয়তো কোন দিন

মুহম্মদ জুবায়ের এর ছবি

এইসব সময়ে চোখের পানি/জল বিশ্বাসঘাতকতা করলেও কতো প্রশান্তি। গৌরবও কি কিছু কম?

-----------------------------------------------
ছি ছি এত্তা জঞ্জাল!

হাসিব এর ছবি

বস কি বিএসএ জার্মানীর ইদানিংককালের গ্রুপ মেইলগুলোর ব্যাপারে ওয়াকিবহাল ?


আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে

সুমন চৌধুরী এর ছবি

ভালো কথা মনে করছো হাসিব। তীরন্দাজের লগে দেখা করার মোক্ষম সুযোগ...
.......................................
ঋণম্ কৃত্বাহ ঘৃতম্ পীবেৎ যাবৎ জীবেৎ সুখম্ জীবেৎ

হাসিব এর ছবি

ভালো কথা মনে করছো হাসিব। তীরন্দাজের লগে দেখা করার মোক্ষম সুযোগ...
মেইল দিসি সবাইরে । দেখো ।

আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে

সুমন চৌধুরী এর ছবি

হুম...
.......................................
ঋণম্ কৃত্বাহ ঘৃতম্ পীবেৎ যাবৎ জীবেৎ সুখম্ জীবেৎ

ঝরাপাতা এর ছবি

শান্ত করেছিলো আবার করেনি। কারণ ওটা ছিলো বাই রান। যতদূরে থাকি যেখানেই থাকি হৃদয়ে রাখি বাংলাদেশ।
_______________________________________
রোদ্দুরেই শুধু জন্মাবে বিদ্রোহ, যুক্তিতে নির্মিত হবে সমকাল।


বিকিয়ে যাওয়া মানুষ তুমি, আসল মানুষ চিনে নাও
আসল মানুষ ধরবে সে হাত, যদি হাত বাড়িয়ে দাও।

মাশীদ এর ছবি

বাহ্!
আসলেই এরকম বন্ধুদের জন্যই জীবন কত সুন্দর।


ভাল আছি, ভাল থেকো।


ভাল আছি, ভাল থেকো।

অচেনা এর ছবি

লেগ বাই। দেঁতো হাসি

-------------------------------------------------

যত বড়ো হোক ইন্দ্রধনু সে সুদূর আকাশে আঁকা,
আমি ভালোবাসি মোর ধরণীর প্রজাপতিটির পাখা॥

সাইফ তাহসিন এর ছবি

অনেকদিন গত হয়েছে তারপরেও নস্টালজিন হ'লাম, চোখ কেমন কেমন করে উঠল। সেদিনের কথা মনে হয় প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আর এ পরিমাণ রঙ মনে হয় না আগে কখনো আমাকে খেতে হয়েছে। প্রায় ৩ মাস পর্যন্ত গোসলের পরে আমার ডাম কান থেকে হালকা গোলাপী রঙ বের হত।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।