থা-মো-পা।

জাহিদ হোসেন এর ছবি
লিখেছেন জাহিদ হোসেন (তারিখ: শনি, ১৮/০৭/২০০৯ - ১০:৩১অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

‘কাকা’।
একদম দোকান ঘেঁষে এসে দাঁড়ায় ছেলেটি। নাকে লাগানো চশমার ওপর দিয়ে তিনি তাকান।
‘কাকা-আইজ রাইতের টেরেনে শ্বশুরবাড়ী যাবো মনে করিছি। আমার জন্যে দুই প্যাকেট ইসপিশাল বানায়ে রাইখেন। আমি সইন্ধেবেলা অফিসির পরে আইসে নিয়ে যাবানি।’

সাইকেলে প্যাডেল মেরে ছেলেটি উধাও হয়। তিনি আবার চোখ নামিয়ে কাজে মন দেন।

খুলনা শহরের কোতোয়ালী থানার ঠিক সামনেই একটি ছোট্ট পানের দোকান। দোকানটির কোন নাম নেই, কিন্তু সুনাম আছে প্রচুর। এই দোকানটির পান কিনতে বহুদূর থেকে লোকে আসে। ‘থানার মোড়ের পান’ এর সুখ্যাতি শহরজোড়া। আলসে লোকেরা অত লম্বা নাম বলতে চায়না। তারা এর নাম সংক্ষেপে দিয়েছে ‘থা-মো-পা’।

দোকানটি যিনি চালান, তার আসল নাম কেউ জানেনা। কেউ ডাকে কাকা, কেউ ডাকে দাদা, আবার কেউ বলে পানওয়ালা ভাই। কোন সম্বোধনেই তিনি আপত্তি করেন না। মানুষটিকে স্বল্পভাষী বললেও বেশী বলা হবে। সারাদিনে দু তিন বার হয়তো তিনি মুখ খোলেন।

দোকান এবং দোকানীর বয়েস হয়েছে অনেক। শহরের বেশীর ভাগ মানুষেরাই জন্মের পর থেকে দেখে আসছে দোকানটিকে। পুরনো লোকেরা তো সব মরে-হেঁজে গেছে এতদিনে, একমাত্র বুড়ো শফি ডাক্তারের কাছে গেলে জানা যাবে যে দোকানীর নামটি হছে নিরঞ্জন। তার পদবী মনে নেই ডাক্তারের। তিনি শুধু ভাসাভাসা চোখে তাকিয়ে বলেন,‘বড্ড মিঠে হাত ওর। ওর বানানো পান খেয়ে রফিকুলের মা সব সময় খুব তারিফ করতো।’

দোকানটি খুবই ছোট্ট। একপাশে একটি বাক্সে ভেজা লাল রঙ্গের কাপড় দিয়ে ঢাকা আছে নানান রকমের পান পাতা। মিষ্টি পান, ঝাল পান, ছাঁচি পান, ঠোঁট লাল করা পান। পিতলের দুটো বাটিতে আছে চুন আর খয়ের। পাশের দেয়ালের তাকে রাখা আছে নানান রকমের পানের মশলা আর জর্দার কৌটো। ভিজে পাতি, সুরভী জর্দা, বাবা জর্দা, হাকিমপুরী জর্দা। সব কিছুই হাতের নাগালে। দু পা ভাঁজ করে বসে একমনে পান বানিয়ে যান নিরঞ্জন।

দশ পনেরো বছর আগে চশমা লেগেছে চোখে। সস্তা লাল প্লাস্টিকের ফ্রেমের চশমা। তাতেই কাজ চলে যায়। কার পানে কোন রকমের জর্দা দিতে হবে সেটা বোঝা নিয়ে কথা। জর্দার কৌটোর গায়ের লেবেলটি বুঝতে পারলেই হোল।

দোকানটিতে শুধু পানই বিক্রি হয়। সাধারণতঃ এই জাতীয় দোকানে পানের সাথে সিগারেটও পাওয়া যাওয়ার কথা, কিন্তু থানার মোড়ের পানের দোকানে শুধু খিলি পানই বিক্রি হয়। পানের বাক্সের ওপরে একটি কাগজে লেখা আছে পানের মূল্যতালিকা। সাধারণ পানের দাম খিলি প্রতি পঞ্চাশ পয়সা, আর মিষ্টি মশলা পানের দাম এক টাকা।

এর বাইরে আরো এক ধরণের পান পাওয়া যায় এখানে, যার কথা লেখা নেই কাগজে। সেটির কথা বেশীর ভাগ লোকেই জানে না, যারা জানে তারা এর নাম দিয়েছে ‘ইসপিশাল পান’। এই পানটির কথা আগে এসে বলে যেতে হয়। সন্ধ্যের পর এসে ডেলিভারী নিয়ে যেতে হয়।

যারা খেয়েছে তারা বলে যে ইসপিশাল পান খেলে নাকি মনটা কেমন অন্যরকম হয়ে যায়। সবকিছু ভালো লাগে। কাছের মানুষকে আরো কাছে পেতে ইছে হয়।

এই পানের রঙ্গে যখন বৌদের ঠোঁট লাল হয়ে ওঠে, তখন তাই দেখে স্বামীদের বিয়ের রাত্তিরের কথা মনে পড়ে যায়। বৌটির হাত ধরে গাঢ় গলায় তারা বলে,‘তোকে কেন এত ভালো লাগে বলতে পারিস?’

স্বামীর আবেগমাখা কথা শুনে বৌটির চোখে জল আসে। আহা-মানুষটি কেন এমন করে রোজ কথা বলেনা? সে কি জানে না যে এইটুকু কথা শোনার জন্যে প্রতিটি মেয়ে সহস্র বছর অপেক্ষা করে থাকে।

ইসপিশাল পানের খোঁজ একজনের কাছ থেকে অন্যজনে পেয়ে যায়। পরদিনই নতুন আরো একজন মানুষ এসে দাঁড়ায় দোকানের সামনে।
‘কাকা-আমার জন্যে দুই প্যাকেট ইসপিশাল পান লাগবে। সন্ধ্যের পর এসে নিয়ে যাবো।’

লাল ফ্রেমের চশমার ওপর দিয়ে নিরঞ্জন একবার দেখেন মানুষটিকে। তারপর নিঃশব্দে মাথা নাড়েন। ‘ঠিক আছে।’

কি আছে এই পানের ভিতর? কেউ বলে, নিশ্চয়ই শালা আফিম-টাফিম দেয়, নাহলে একবার খেলে আবার খেতে ইছে করে কেন? কেউ বলে সব হছে বুজরুকী, সাধারণ পানের মশলা একটু বেশী করে দিয়ে তার নাম দিয়েছে ইসপিশাল পান।

সমালোচনাকারীদের বেশীর ভাগই আবার পরদিন দোকানের কাছটিতে এসে দাঁড়ায়। মুখ কাঁচুমাচু করে বলে,‘আমার আজকে আবার দুপ্যাকেট লাগবে কাকা।’

দু একজনে সাহস করে জিজ্ঞেস করেছে তাকে।
‘ও পানওয়ালা ভাই-এই পানের মধ্যে কি দেন বলেন না? খেলে এত ভালো লাগে কেন?’
এই প্রশ্নের কোন জবাব হয়?
নিরঞ্জন মাথা নীচু করে নীরবে পানের খিলি বাঁধেন। প্রশ্নকারী কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে থাকে বোকার মতো, তারপর চলে যায়।

ইসপিশাল পানের কোন বাঁধা দাম নেই। যে যা দেয়, নিরঞ্জন তাইই নীরবে নিয়ে নেন। একটাকা দিলেও সই, পাঁচটাকা দিলেও সই। মানুষেরা খুশী হয়ে যা দেয়, তাইই এই পানের দাম।

প্রতিদিন দুপুর বেলাটিতে চারদিক শুনশান হয়ে আসে। গোটা শহরই যেন ভাতঘুমে আছন্ন। কোতয়ালী থানার সামনে বসে থাকা পুলিশটিও যেন ঝিমোয়। মোড়ের পানের দোকানেও লোকজন তেমন আসেনা এই সময়ে।

এই সময়টিতেই নিরঞ্জন এদিক ওদিক তাকিয়ে তারপর ইসপিশাল পান বানাতে বসেন। আজকে এই পানের অর্ডার একটু বেশীই এসেছে। সাধারণতঃ আট-দশজনের অর্ডার থাকে। আজকে এসেছে চৌদ্দটা অর্ডার।

লাল সালুতে ঢাকা মিষ্টি ছাঁচি পানের পাতাগুলো বের করে সারিসারি করে রাখেন। তারপর হাল্কা হাতের টানে মাখিয়ে দেন চুন আর খয়ের। এরপর দিতে হবে মিহি করে কাটা মিষ্টি সুপারী। তাক থেকে তুলে নেন একরাশ ছোট কৌটো। তাতে কত রকমের পানের মশলা। মৌরী, চিনি মেশানো নারকেল কুচি, মিষ্টি পানের আচার, সুগন্ধী গোলাপজল, রূপোলী কিমাম, ছোট্ট এক দানা কর্পূর, একটু লবংগ আর এলাচের গুঁড়ো। অভিজ্ঞ হাতে একটার পর একটা উপকরণ দিয়ে যান তিনি। এই সময়টিতে যেন আর কোন কিছু খেয়াল থাকেনা তার।

সবকিছু দেওয়া হয়ে গেল। নিরঞ্জন এবারে একটি বড় নিঃশ্বাস ফেলেন। বাবারে বাবা- এই বয়েসে এত তাড়াতাড়ি কাজ করা যায় নাকি? রোজই তিনি ভাবেন যে এর পর থেকে আর এতগুলো অর্ডার নেবেন না তিনি। অনেক হয়েছে, এবার থামলে হয়। পরক্ষণেই তিনি মুচকি হাসেন আপনমনে। থামার কি আর উপায় আছে?

এবারে আবার ভাল করে চারিদিকে তাকান নিরঞ্জন। দোকানের কাছে ধারে কেউ নেইতো? কেউ যেন না দেখে ফেলে ইসপিশাল পানের মূল রহস্যটা।

দেয়ালের তাকের উপরে রাখা আরো নানান রকমের জিনিসের পেছন থেকে তিনি বার করেন একটি ছোট্ট কৌটো। এককালে সেটি হয়তো কোন জর্দার কৌটো ছিল। তার গায়ের লেবেল-টেবেল উঠে গেছে কত বছর আগে। টিনের কৌটোতে হালকা জংও ধরেছে জায়গায় জায়গায়। কৌটোটির ঢাকনিতে ছোট্ট একটি ফুটো।

কৌটোটি হাতে নিয়ে একটু হাসেন নিরঞ্জন। ইসপিশাল পানের গোপন মশলা। যার খোঁজ কেউ জানেনা।

নিরঞ্জন দ্রুত হাতে কৌটো ঝাঁকিয়ে গোপন মশলা দিতে থাকেন সবগুলো পানের উপর। কৌটো থেকে কি বেরোলো তা ভালমতো দেখা যায় না। নিশ্চয়ই খুব দামী মশলা হবে যার অল্প একটুতেই কাজ হয়।

দিনের এই সময়টিতে নিরঞ্জনের মুখে খেলা করে এক ধরনের আনন্দ আর বিষাদ। তিনি তখন ভাবছেন অনেক আগেকার একটি দিনের কথা। আর একজনের কথা।

------XXXXXXX-------

নতুন ধুতি-পাঞ্জাবী গায়ে কুটকুট করছে। একেতো সারাদিন উপোস, এবং তার উপরে মাথায় চাপানো হয়েছে শোলার টোপর। শালার বিয়ে করার কুবুদ্ধি যে কেন মাথায় এসেছিল। কত ধানে কত চাল এখন বোঝ শালা!

এবারের আষাঢ় মাসে শুভদিন ছিল একটাই। সেদিনেও বিয়ের লগ্ন পড়েছে ঠিক রাত আটটার সময়। না খাওয়া পেটে পাঁচ মাইল নৌকো বাইতে হয়েছে নিজেকেই। তিন কুলে কেউ না থাকলে যা হয় আরকি। সব কাজ নিজেকেই করতে হয়। তাওতো ভাগ্য ভালো যে সুবলের মতো বন্ধু ছিল। সে আরও তিন জনকে জুটিয়ে এনেছে বলে কিছুটা বিশ্রাম নেওয়া গেছে পথে।

এ বিয়ের সম্বন্ধ এনেছিল সুবলের কাকা। ‘বাবা নিরঞ্জন-এই মেয়েটিরও তোমার মতো তিনকুলে কেউ নেই। মামার সংসারে মানুষ। মামীর লাথি-ঝাঁটা ছাড়া কপালে আর কিছু জোটেনি মেয়েটার। এখন তুমি যদি উদ্ধার করো তাহলে বেঁচে যায় মেয়েটা। গরীবের মেয়ে, সাতচড়েও রা করবে না।’

নিরঞ্জনের মুখ হাঁ হয়ে গিয়েছিল। ‘বলেন কি কাকা, আমি করবো বিয়ে? আমার নেই কোন চালচুলোর ঠিক, আপনাদের আশ্রয় পেয়েছি বলে কোনমতে বারান্দায় মাথা গোঁজার একটা ঠাঁই পেয়েছি। এর মধ্যে আর এক জন মানুষের দায়িত্ব আমি কিভাবে নেবো কাকা?’

কাকা এবারে কাছে ঘেঁষে বসেন। ‘শোন নিরঞ্জন- কয়েকটা কাজের কথা সেরে নেই আগে। কাউকে বোলনা যেন।’
‘কি কথা কাকা?’
‘আমরা ঠিক করেছি যে এদেশে আর থাকা যাবে না। মাস কয়েকের মধ্যেই এদেশের পাট চুকিয়ে আমরা ইন্ডিয়া চলে যাছি।’
নিরঞ্জনের মাথায় বাজ পড়েছিল যেন। তাহলে তার কি হবে?
‘তুমি আমাদের সুবলের ছেলেবেলার বন্ধু, আমাদের কাছে তুমি বহুদিন ধরে থাকো। তোমার প্রতি আমাদের একটা দায়িত্ব আছে। সে কারণেই আমরা যাবার আগে তোমার একটা বন্দোবস্ত করে দিয়ে যেতে চাই।’
‘কাকা-এই বন্দোবস্তের আমার কোন দরকার নাই। আপনারা ইন্ডিয়া যাবেন, যান। আমি একা মানুষ, কোন একটা কাজ-টাজ ঠিকই জুটিয়ে নেবো। বিয়ে করার কথা আমাকে বলবেন না, কাকা।’
‘তুমি আমার সব কথা শোনই না আগে। আমি শুধু বিয়ের কথা বলছিনা, আরো কথা আছে।’
‘আছা বলেন।’
‘এই শহরে আমাদের যা সহায় সম্পত্তি আছে তার অনেকটাই বিক্রি করা হয়ে গেছে। শুধু বাকী আছে থানার মোড়ের ছোট্ট পানের দোকানটা, আর নদীর ধারের একফালি জমি। দুটোই আমরা তোমাকে দিয়ে যেতে চাছি। আর ওই মেয়েটা আমাদের গ্রামের মেয়ে, ওর বাবা ছিল আমার ছেলেবেলার বন্ধু। তুমি যদি ওকে বিয়ে করো, তাহলে আমরা নিশ্চিন্তে বর্ডার ক্রস করতে পারি। তুমি আর না করো না। হাতে সময় বেশী নেই। এই আষাঢ় মাসে মাত্র একটা মোটে শুভদিন, তুমি রাজী থাকলে মালতী আর তোমার বিয়েটা আমি সেরে ফেলতে চাই।’

আশপাশে একটু গুঞ্জন শুরু হোল। ‘আসছে আসছে।’ নিরঞ্জন মাথা তোলে। একদিক দিয়ে ঘোমটায় মুখ ঢাকা মেয়েটিকে নিয়ে আসছে ক’জন।

পাশে বসে থাকা সুবল কনুই দিয়ে নিরঞ্জনকে হাল্কা গুঁতো মারে। আসবার পথে তারা কজন মিলে নিরঞ্জনকে শিখিয়ে এনেছে যে বিয়ে অনুষ্ঠানের কখন কি করতে হয়।

নিরঞ্জন উঠে দাঁড়ায়। ঘোমটা পরা মেয়েটিকে দু’পাশ থেকে দুজন ধরে আছে। মেয়েটির মাথা নেমে এসেছে অনেকখানি। হাল্কা পায়ে তারা আস্তে আস্তে নিরঞ্জনের চারপাশ দিয়ে ঘোরা শুরু করলো।

ছ’বার ঘোরার পর শুভ দৃষ্টি। মেয়েটিকে এবারে তার সামনে এনে দাঁড় করানো হোল। ঘোমটার ভিতরে হাত ঢুকিয়ে একজন মেয়েটির চিবুক ধরে তার মুখখানি উঁচু করে ধরলো।

নিরঞ্জনের এই ব্যাপারে রাখ-ঢাক তেমন নেই। সে সরাসরি তাকালো মালতীর দিকে।

মালতী চোখ বন্ধ করে আছে। সস্তা শাড়ীতে ঢাকা পড়ে গরমে ঘেমে গেছে মেয়েটি। কপাল জুড়ে আঁকা লবঙ্গ-তিলক গুলো মুছে গেছে কোন কালে। এক চোখের কাজল ধেবড়ে গেছে খানিক। কে যেন মালতীকে চোখ খুলতে বলছে। ‘ও মেয়ে চোখ খোল্‌-একবার দ্যাখ তোর কালাচাঁদকে।’

একসময়ে লজ্জা-রাঙা মালতী চোখ খোলে। একবার নিরঞ্জনের দিকে তাকিয়েই সে চোখ নামিয়ে নেয় দ্রুত। নিরঞ্জন সে চোখে কি দেখেছিল? নিরঞ্জন সে চোখে দেখেছিল আনন্দ, নিরঞ্জন সে চোখে দেখেছিল একটি আশ্রয়হারা ডুবে যাওয়া মানুষের কুলে ওঠার আশা।

পাশ থেকে আর একজন বললো,‘মালতীদি-এবার নিরঞ্জনদা’র গলায় মালা পরাও।’

পাশেই জ্বলছে হোমের আগুন। গ্রামের বুড়ো পুরোহিত বিজবিজ করে কি মন্ত্র পড়ছিল, মনে নেই আজ। শুধু মনে আছে যে নিরঞ্জন আগুনের লালচে আভার দিকে তাকিয়ে মনেমনে প্রতিজ্ঞা করেছিল সে কোনদিন মালতীর মনে কষ্ট দেবেনা, কোনদিন মালতীর দু চোখে জ্বলে ওঠা আশাকে নিভিয়ে দেবেনা।

বাসর রাতে মালতী তাকে জিজ্ঞেস করেছিল,‘মামা বলেছে খুলনা শহরে নাকি তোমার নিজের দোকান আছে? তা কিসের দোকান গো? শাড়ী-চুড়ির? না গয়নাগাঁটির?’
নিরঞ্জন বলেছিল,‘ছোট্ট একটা পানের দোকান আছে আমার। খিলি পান বিক্রি করি আমি।’
মালতী কেমন যেন অবাক হয়ে গিয়েছিল। ‘খিলি পানের দোকান? শহরের মানুষেরা খিলি পান কিনে খায়? কেন- তারা নিজের বাড়ীতে বসে খিলি বানাতে পারেনা?’
নিরঞ্জন হাসে। ‘শহরে আরো কত কিছুর দোকান যে আছে তা দেখলে তোমার মাথা খারাপ হয়ে যাবে। চলো একবার যাইই না সেখানে, তারপর সবকিছুই দেখতে পাবে।’
‘তা তোমার দোকানে পান বানায় কে?’
‘কেন আমি।’
মালতী আবার অবাক হয়। ‘পুরুষ মানুষে আবার পান বানাতে পারে নাকি? আমাদের বাড়ীতে মামাকে তো আমিই পান বানিয়ে দেই। মামা খিলি বানাতে গেলে তো পানের অবস্থা খারাপ।’
‘দাঁড়াও না, একবার শহরে যাই, তারপর তোমাকে দেখাবো আমার হাতের পানের কত স্বাদ।’
মালতী বলেছিল,‘তুমি তাহলে পানের কারিগর।’
'হুঁ।'

নদীর ধারে একফালি জমিটি আসলেই একফালি। তার উপর সেটি শহর থেকে বেশ কিছুটা পথ দূরে। ঐ এক চিলতে জমির উপরে ছোট্ট একটি দোচালা ঘর। সেখানে মালতীকে নিয়ে নিরঞ্জন উঠতে চায়নি। আশে পাশে লোকজন তেমন নেই, সন্ধ্যের পর শেয়াল ডাকে।

কিন্তু মালতীর জোরেই সেখানে উঠতে হোল।

‘এখানে একা একা সারাদিন তুমি থাকতে পারবে? ভয় লাগবে না?’
মালতী সে কথায় হাসে। ‘এখানেই তো ভালো। চারদিকে কত গাছ-গাছালি, আমার মনে হয় যেন গ্রামেই আছি। তোমাদের ওই খুলনা শহরে বড় বড় দালান-কোঠা ভালো লাগে না গো।’
‘চারদিকে তো জংগল। কোনদিন সাপে-টাপে না কাটে তোমাকে?’
জানালার পাশে দাঁড়িয়ে মালতী কপালে সিঁদূর দিছিলো। একটু আগেই সে স্নান করে এসেছে। সকাল বেলার বরফিকাটা রোদ এসে পড়েছে তার মুখে। নিরঞ্জনের কথায় সে একটুক্ষণ চুপ করে থাকে।
‘মা মনসার আশীর্বাদ আছে আমার উপর। সাপ আমাকে ছোঁবে না।’
‘আছা- সাপ না হয় না ছুঁলো, আজেবাজে মানুষ যদি তোমাকে একলা পেয়ে--।’

মালতী হাতের আয়নাটি নামিয়ে রাখে। ‘কারিগর-তোমার আজকে কি হয়েছে বলোতো? সেই ঘুম থেকে উঠেই শুধু একটার পর একটা অলক্ষুণে কথা বলে যাছো। আমার এখানে কিছু হবে না। তুমি যাওতো, দোকান খোলগে যাও। আর ভালো কথা-আজকে ফেরার সময় আমার জন্য ভাল করে দু খিলি পান বানিয়ে আনবে। দেখবো তো তোমার বানানো পানের স্বাদ কি রকম।’

রাতের বেলা সংসারের পাট চুকিয়ে মালতী আয়েশ করে খাটের উপর বসে পানের প্যাকেট খোলে। নিরঞ্জন বালিশে হেলান দিয়ে বলে, ‘একটা হলো মিষ্টি পান, আর একটা হলো ঠোঁট লাল-করা পান। এখন খেয়ে বলো আমার পানের স্বাদ কি রকম। তারপর আমি আমি দেখবো পান খেয়ে তোমার ঠোঁট কি রকম লাল হয়। শুনেছি পান খেলে ঝগড়াটে মেয়েদের নাকি ঠোঁট লাল হয় না।’

মালতী আয়েশ করে পান চিবোয়, কথা বলে না। হ্যারিকেনের স্বল্প আলোয় তার মুখের একটি পাশে আলোকিত।

‘এ পান কিন্তু যেমন তেমন পান নয় গো। ওই যে তুমি মিষ্টি পানটা খাছো, ওই মিষ্টি পানের পাতা আসে সেই সুন্দরবনের কাছের একটা বরজ থেকে, খালেক মিয়ার বরজ। খালেক মিয়া যাকে তাকে তার বরজের পান বেচে না। এই পানের স্বাদই আলাদা। যেন চিনির জলে ধোওয়া।’

মালতী এবার দ্বিতীয় পানটি মুখে দেয়।

‘পান খেয়ে যদি তোমার ঠোঁট লাল না হয়, তাহলে কিন্তু আমার দোষ না। নিরঞ্জন কারিগরের পান খেলে ঠোঁট লাল হতে বাধ্য।’

একসময়ে মালতীর পান খাওয়া শেষ হয়। অধীর আগ্রহে নিরঞ্জন অপেক্ষা করে।
‘কি হলো, একটা কিছু বলো।’
‘কারিগর, তোমার পান বানানো ভালো হয়েছে। তবে--।’
‘তবে কি?’
‘ভয়ে বলবো, নাকি নির্ভয়ে বলবো?’
‘কি সর্বনাশ! সামান্য একটা পান, তার আবার ভয়-নির্ভয় কি? বলো-পানের কি সমস্যা আছে বলো।’
‘কারিগর, তোমার পানে সব কিছু ঠিক আছে। চুন, খয়ের, মিষ্টি মশলা, সব ঠিক। খালি একটা মশলা তুমি দাওনি। তাতে অসুবিধা নাই। ওই জিনিসটা আমার কাছে আছে। আমি গ্রাম ছেড়ে আসবার সময় সাথে করে নিয়ে এসেছিলাম। দাঁড়াও- আমি নিয়ে আসি।’

একটু পর একটি ছোট্ট কৌটো এনে নিরঞ্জনের হাতে দেয় মালতী। ‘এর ভিতরে আছে। পানে অল্প একটু দিয়ে দেখো তোমার পানের বিক্রি হু হু করে বেড়ে যাবে।’

কৌটোর গায়ে কিছু লেখা নেই, শুধু উপরের ঢাকনায় ছোট্ট একটা ফুটো। নিরঞ্জন সন্দেহের চোখে তাকায় মালতীর দিকে।

‘কি আছে এর ভিতরে? নেশা-টেশার জিনিস নাকি?’
মালতী সে কথায় হেসে গড়িয়ে পড়ে। ‘ কি যে তুমি বলোনা কারিগর। এর মধ্যে আছে পিরীত ভালবাসার গুঁড়ো। যা চোখে দেখা যায়না।’

নিরঞ্জনের মাথায় সে কথা ঢোকেনা। পিরীত ভালবাসার গুঁড়ো আবার কি জিনিস?

মালতী বলে,‘গ্রামে থাকতে যখন মামার জন্যে পান বানাতাম তখন এর অল্প একটু দিতাম। মামা সব সময়ে বলতো আমার পান খেলে নাকি তার সারা দিন মন ভালো থাকে।’
‘এইসব গাঁজাখুরি গল্প তুমি যে কোথথেকে পাও তা ভগবান জানেন।’

এ কথায় মালতীর মুখ অন্ধকার হয়ে আসে। হ্যারিকেনের আলো দিয়েও যেন তা ঢাকা যায় না। ওই মুখের দিকে তাকিয়ে নিরঞ্জনের বুকের একদিকে ঝন ঝন করে ভেঙে যায় কি যেন। মনে পড়ে অগ্নিসাক্ষী রেখে তার প্রতিজ্ঞার কথা। সে দু হাতে মালতীর হাতটিকে ধরে।

‘আছা আছা-ঠিক আছে, আমি কাল থেকে তোমার এই পিরীত ভালবাসার গুঁড়ো দিয়েই পান বানাবো। কিন্তু যখন এই কৌটো খালি হয়ে যাবে তখন আবার আমি তা ভরাবো কি দিয়ে?’
মালতী বলে,‘এ কৌটোর জিনিস কোনদিনও ফুরোবে না। আমার সব ভালবাসা এর মধ্যে দিয়ে দিয়েছি।’
‘ওমা- তাহলে এখন কি হবে? তুমি তোমার সবটুকু ভালবাসা দিয়ে দিলে এই কৌটোয়? এখন তুমি থাকবে কি নিয়ে? ভালবাসা ছাড়া কি মানুষ বাঁচে?’
‘কেন-তুমি আছোনা। তুমি আমায় ভালবাসা দেবে।’

মালতীর হাসি হাসি মুখখানি দেখতে দেখতে নিরঞ্জনের চোখে জল আসে।

পরদিন দোকানে যাবার আগে মালতী বললো,‘তাই বলে সব পানেই আবার ভালবাসা দিয়ে বসোনা যেন। তাহলে তোমার খুলনা শহরে সব মানুষগুলো সারা দিন বৌয়ের আঁচল ধরে বাড়ী বসে থাকবে। কাজকর্ম সব লাটে উঠবে।’
‘ঠিক আছে। এখন এই গুঁড়ো শুধু ইসপিশাল পানেই দেওয়া হবে। তার জন্যে দামও রাখবো---।’
মালতী তাকে থামিয়ে দেয়। ‘ভালবাসার দাম কি পয়সায় হয়? হায়রে আমার কারিগর-তুমি তো এই সংসারের আসল জিনিসটাই জানলেনা।’

------XXXXXXXXX------

নিরঞ্জন একটি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলেন। কত আগের কথা, অথচ এখনো সব কিছু মনে আছে।

মনে আছে সে রাতে যখন তিনি বাড়ী ফিরেছিলেন, বাড়ী ছিল অন্ধকার। ঘরের ভিতরে পড়ে ছিল মালতীর নিস্প্রাণ দেহখানি। আগের রাতে সে ঠোঁটজোড়া পানের রঙ্গে টুকটুকে লাল হয়েছিল, সে ঠোঁট তখন বিষে নীল বর্ণ ধারণ করেছে। জাত কেউটের কামড়ে মারা গেছে মালতী। মা মনসার আশীর্বাদ তার কোন কাজেই আসেনি।

বুকভরা ভালবাসা নিয়ে সারাটি রাত সেদিন মালতীর হাতটি ধরে নিরঞ্জন কেঁদেছিলেন। এক জীবনে একজন মানুষ যতটা কাঁদতে পারে তার চেয়েও বেশী কান্না। তার বোঝা উচিৎ ছিল যে ভালবাসা ছাড়া একজন মানুষ প্রকৃতই বাঁচতে পারেনা।

‘কাকা-ও কাকা।’
জলভরা চোখে নিরঞ্জন তাকান। সাইকেলে করে সকালের সেই ছেলেটি এসে দাঁড়িয়েছে দোকানের পাশে।

একটু লাজুক গলায় সে বললো,‘আইজকে একটু আগে আগে অফিস থেকে বাইর হয়ে গেলাম। ভাবলাম বিকেলের টেরেনটাই ধরার চেষ্টা করি। তা কাকা- আমার ইসপিশাল পানগুলো কি তৈরী হইছে? গেল বার বৌটা খুব পছন্দ করিছিল আপনার ইসপিশাল পান। এইবার তাই পান না নিয়ে গেলি খুব মন খারাপ করবেনে।’

নিরঞ্জন হাতের পিছনে চোখ মোছেন। তারপর নীরবে ইসপিশাল পানের প্যাকেটটি ছেলেটির হাতে তুলে দেন। সে সাইকেলে প্যাডেল মেরে দ্রুত উধাও হয়।

জলভরা চোখে নিরঞ্জন সেদিকে তাকিয়ে অল্প একটু হাসেন।

সূর্য্য এবার পশ্চিমে ঢলে পড়েছে। একটু পরেই আরো লোকেরা আসবে তাদের অর্ডারের পান নিতে। খুলনার বিখ্যাত থানার মোড়ের পান। যাকে আলসে লোকেরা সংক্ষেপে বলে "থা-মো-পা"।


মন্তব্য

রেনেট এর ছবি

আশ্চর্য বিষাদমাখা ভালো লাগা এক গল্প।
আপনাকে নিয়মিত হতে দেখে ভালো লাগছে। আরো লিখুন।
---------------------------------------------------------------------------
No one can save me
The damage is done

---------------------------------------------------------------------------
একা একা লাগে

জাহিদ হোসেন এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ আপনার সহৃদয় মন্তব্যের জন্য। সব সময় লিখবার বা পড়বার সময় পাইনে বলেই নিয়মিত হয়ে ওঠা হয়না। তবুও চেষ্টা করি মাঝেসাজে লিখবার জন্য।
_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

প্রজাপতি [অতিথি] এর ছবি

আপনার লেখা পড়ে যতবারই মুগ্ধ হই। এত মায়া ভরে কিভাবে লেখেন আপনি ?

রণদীপম বসু এর ছবি

ভাই, আপনার কলমটাতে নিশ্চয়ই কোনো ইস্পিশাল কালি আছে ! একেবারে মুগ্ধ হয়ে পড়লাম !
এবং এই মুগ্ধতা তুলে রাখলাম পরের লেখাটির জন্য।

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

জাহিদ হোসেন এর ছবি

ভাই রণদীপম, আজকাল কি আর কালি-কলমের সে যুগ আছে? সবই তো কি-বোর্ডের ঠোকাঠুকি। লেখাটি ভাল লেগেছে আমারও ভাল লাগলো।
_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

শাহেনশাহ সিমন [অতিথি] এর ছবি

একদম ইসপিশাল গল্প! চলুক

জাহিদ হোসেন এর ছবি

আপনার "মৃত্যুদূত" লেখাটিও আমার কাছে জম্পেশ লেগেছিল। লিখুন, আরো লিখুন।
_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

অনিকেত এর ছবি

অসাধারণ লেখা, স্রেফ অসাধারণ!!!

জাহিদ হোসেন এর ছবি

আপনার ভালো লেগেছে জেনে আমারও ভালো লাগছে। ধন্যবাদ অনেক।
_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

জাহিদ হোসেন এর ছবি

ধন্যবাদ। আমার গাঁজার দামটা উসুল হয়েছে মনে হচ্ছে তাহলে।

_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

ভুতুম এর ছবি

উরি বাবা, চরম জম্পেশ একটা গল্প দেখি! অতীব ভালো লাগলো।

-----------------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

-----------------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

জাহিদ হোসেন এর ছবি

থ্যাংক ইউ ভুতুম!
_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

অতিথি লেখক এর ছবি

ভাল লাগলো ।

নৈশী

জাহিদ হোসেন এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ।
_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

আপনার গল্প বলার ধরণ চমৎকার। চালিয়ে যান।

গল্পটা পড়ে একটা কথা মনে হল। পান কীভাবে "ইসপিশাল" হয় তা কি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করার দরকার আছে? বরং জিনিষটা একটু ম্যাজিক বা মিস্ট্রি রাখলে কেমন হত?



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

জাহিদ হোসেন এর ছবি

একটা সাদামাটা পান কিভাবে ইসপিশাল হলো সেটা নিয়েই তো কাহিনী। ওটাকে আড়াল করলে গল্পটা কেমন হতো তাই ভাবছি।

_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

জাহিদ হোসেন এর ছবি

একটা কথা এখানে বলে রাখা ভালো। খুলনা শহরে কোতোয়ালী থানার সামনে সত্যিই কিন্তু একটা খুব ছোট্ট পানের দোকান আছে যার খ্যাতি আছে শহরে।
_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

অতিথি লেখক এর ছবি

চমৎকার একটি লেখা। অসাধারণ দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটল। ধন্যবাদ আপনাকে।

মেঘলা জীবন

তুলিরেখা এর ছবি

এই লেখাটা এত স্নিগ্ধ এত মায়াময় যে আলাদা করে তুলে রাখলাম জীবনের কঠোর গ্রীষ্মদুপুরে পড়ে মন ঠান্ডা করবো বলে।
ধন্যবাদ লেখক, অভিনন্দন আপনার সুবর্ণ লেখনীকে। দিনে দিনে আরো উজল হোক।
-----------------------------------------------
কোন দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

সুলতানা পারভীন শিমুল এর ছবি

কি অদ্ভুত, কোমল একটা লেখা।
ভীষণ ভীষণ ভালো লাগলো, জাহিদ ভাই।

...........................

সংশোধনহীন স্বপ্ন দেখার স্বপ্ন দেখি একদিন

...........................

একটি নিমেষ ধরতে চেয়ে আমার এমন কাঙালপনা

জাহিদ হোসেন এর ছবি

উপরের তিনজনকে অনেক অনেক ধন্যবাদ এই লেখাটি পড়বার জন্যে।
_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

জাহিদ ভাই, এই নিয়ে চারবার বসলাম আপনার লেখায় মন্তব্য করতে, কোনবারই গুছিয়ে কিছু লিখতে পারছি না, লেখাটা এমন ছুয়ে গেছে, প্রতিবার পরার সময় মনটা হু হু করে উঠে, আহারে থানার মোড়ের পানের মাঝে আপনে ভালবাসার যে টান দিলেন, মনটা খুব উদাস হল। আর পানের দোকানের যে বর্ননা দিয়েছেন, যেন মনে হল আমি ঐ ভেজা লাল কাপড়টা, জর্দার গন্ধ পাচ্ছি, আর সুপারি কাটার শব্দও যেন পেলাম, খুবই প্রাণবন্ত একটি লেখা। আশা করি আপনি এমন একটার পর একটা লেখা দিয়ে যাবেন।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

জাহিদ হোসেন এর ছবি

তার গায়ের রং কালো, গড়ন হালকা-পাতলা। লোকটিকে সেই ছেলেবেলা থেকে দেখে আসছি। একই রকম ভাবে চুপচাপ বসে পানের দোকানটি চালাচ্ছে। ভাবতাম লোকটির জীবনে কি কোন গল্প আছে? কি সেই গল্প? এক রাতে হাতে তেমন কাজ ছিলনা। ভার্চুয়াল গাঁজায় দম দিয়ে চিন্তা করতে বসলাম। ফল হিসেবে দাঁড়ালো এই গল্পটি। কেমন হোল তা বিচারের ভার সব সময়েই পাঠকের উপর। আপনাদের কাছে ভালো লাগলেই আমি খুশী। আমি নিজেও এটি লিখবার সময়ে যথেষ্ট আনন্দ পেয়েছি।
আপনার মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ।
_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

জাহিদ ভাই, আপনার ভার্চুয়াল গান্জায় দম দিতে মঞ্চায় হাসি

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

জাহিদ হোসেন এর ছবি

তাই নাকি? দেখি পুরিয়াগুলো খুঁজে-টুজে পাই কিনা।
_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA