ধূমপান ত্যাগের পূর্বাপর

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি
লিখেছেন আব্দুল্লাহ এ.এম. [অতিথি] (তারিখ: বিষ্যুদ, ১৮/০৪/২০১৯ - ৮:৩৮অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আমি একজন ধূমপান ত্যাগী মানুষ। জানি ধূমপান ত্যাগ করা খুব সহজ, আমি ছাড়াও আরও অনেক মানুষ প্রতিনিয়তই ধূমপান ত্যাগ করছেন, অনেকে জীবনে বহুবার ধূমপান ত্যাগ করেছেন। সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দেওয়াটা কোন ব্যাপার নয়, বহু মানুষ হরদম এই কাজ করছেন এবং খুব তাড়াতাড়ি আবার ধূমপানে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছেন। কিন্তু স্থায়ীভাবে ধূমপান ত্যাগ করতে পারাটা একটা ব্যাপার, আমি সেই বিশেষ কাজটা করতে পেরেছি বিধায় বিষয়টা আপনাদের সাথে কিঞ্চিৎ শেয়ার করতে চাই। জীবনে প্রথম যখন সিগারেটে টান দেই, তখন ক্লাস থ্রি কিংবা ফোরে পড়ি। বাবা তখন আমার কাছে গ্রেট হিরো, তিনি যখন আয়েশ করে সিগারেটে টান দেন, আমার দেখতে খুব ভাল লাগে। একদিন তার প্যাকেট থেকে একটা সিগারেট সরিয়ে ফেললাম, তারপর মা যখন দিবানিদ্রায়, তখন রান্নাঘরে গিয়ে ম্যাচ জ্বেলে সিগারেট ধরিয়ে দিলাম এক টান। বুকের মধ্যে যেন হাতুড়ির ঘা পড়লো, প্রায় ভূপাতিত হওয়ার উপক্রম। খুবই অবাক হলাম এটা বুঝে যে, সিগারেট কোন মধুর দ্রব্য নয়। বেশ হতাশও হলাম, কারন আমার আর হিরো হওয়া হল না। অনেক পরে কলেজের ডেপো বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে সত্যিকারের হাতে খড়ি, তারপর ধীরে ধীরে অভ্যস্ততা। প্রথম প্রথম সিগারেট খেতে পয়সা খরচ হত না, বন্ধুরাই আগ্রহ করে খাওয়াতো। অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ার পর নিজের পয়সায় খেতে হত এবং পয়সা জোগার করতে হিমশিম খেতে হত। ধূমপানে যে বিষপান তা তখন জানতাম না, আমার সার্কেলের কেউই বোধ হয় সেভাবে জানতো না। অনেক পরে যখন জানলাম, তখন আর আমি সিগারেট খাই না, সিগারেটই আমাকে খায়। মাঝে মাঝেই কায়দা কানুন খুঁজি, কীভাবে এই সিন্দাবাদের বুড়োকে ঘাড় থেকে নামানো যায়।

ওয়েবের কল্যাণে এখন কি না পড়া যায়, কি না জানা যায়। একদিন একজন বুজর্গের লেখা একটি দীর্ঘ নিবন্ধ ওয়েবে পড়ে আমি তো হতভম্ভ! সিগারেট খাওয়া হারাম, সুতরাং যারা খায় তারা সবাই জাহান্নামী। সেই সাথে যেই ব্যাটা সিগারেট কোম্পানির মালিক, সেও জাহান্নামী, সেই কোম্পানিতে যারা চাকুরী করে, তারাও। ধূমপান করুন বা না করুন, কেউ সিগারেট বেচাকেনা করলে সেও জাহান্নামী হবে। পতিতা বৃত্তি যেমন হারাম এবং তার দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করা নাজায়েজ, তেমনি বিড়ি/সিগারেটের দোকানদারও জাহান্নামের খড়ি। সুতরাং আমরা যারা সিগারেট খোর, তারা ছাড়াও যে আরও অনেকে, বিশেষ করে আমাদের পাড়ার খাইস্টা টাইপের এক কাঠমোল্লা দোকানদার, সিগারেট বিক্রির দায়ে সেও জাহান্নামী জেনে বিশেষ শান্তি অনুভব করি। সেই সাথে জাহান্নামের কঠিণ আজাবের ব্যাপারেও কিছুটা দুশ্চিন্তা ভর করে বৈকি।

যারা ধূমপান ত্যাগে আগ্রহী, ধূমপানে তাদের কি কি ক্ষতি হয় এবং এটা ত্যাগ করলে তাদের কি কি উপকার হতে পারে, সে ব্যাপারে এখন আর কেউই অজ্ঞ নন, সুতরাং সে বিষয়ে আর কিছু না বলি। আমার অবশ্য উল্টো ভাবনাও মাথায় আসে- আচ্ছা, সিগারেটে কোন উপকার নেই? সেই নাবালক কাল, যখন থেকে ধীরে সুস্থে সিগারেটে পোক্ত হয়ে উঠেছি, তার একটা স্ক্যান করে অনেক ইতিবাচক দৃশ্যই ভেসে ওঠে মানসপটে। গুরুজনের কাছে ধরা পরা সহ খুবই বিব্রতকর কিছু মুহুর্তের কথাও মনে পড়ে, যেমন-
তখন কলেজে পড়ি, রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পর সিগারেটটা নিয়ে রান্নাঘরে যাই ম্যাচের সন্ধানে। কিন্তু রান্নাঘরের ম্যাচে কাঠি নেই, এরপর সারা রাত ধরে আগুন যোগাড়ের জন্য কত কি যে করলাম, আগুন আর যোগার করতে পারলাম না। ভোরের আলো যখন ফুটে উঠলো, তখন খুবই হতাশ হয়ে প্রচেষ্টায় ক্ষান্ত দিয়ে রাস্তায় হাটতে বের হয়ে দেখি এক লোক সিগারেট টানতে টানতে যাচ্ছে। তার কাছ থেকে আগুন নিয়ে সিগারেট ধরালাম, আহ কি যে শান্তি! তরুন বয়সে একবার বাসে করে কোথাও যাচ্ছি, তখন বাসে ধূমপান প্রচলিত ছিল। সামনের সিটে দুজন তরুণী যাত্রী, সুতরাং ভাব নেয়ার জন্য ফস করে একটা সিগারেট ধরানো হল। তরুণীদের একজন পিছন ফিরে কড়া চাহনি দিয়ে ধূমপানে বিরত হতে নির্দেশ জানালো। সুতরাং ধূমপানের আনন্দ আমাদের বেশ খানিকটা বৃদ্ধি পেল বলা যায়। পুনর্বার পিছন ফিরে বলল- সিগারেট ফেলে দেন তো, গন্ধে মাথা ঘুরায়, বমি বমি লাগে। এই অনুরোধেও খুব একটা গা করলাম না, ফুক ফুক করে টেনেই যেতে লাগলাম। তারপরই সর্বনাশটা হল- সেই অশক্ত তরুণী গলগল করে তার প্রাতরাশের সমস্তটাই উগড়ে দিল, আর সে সবের সিংহভাগ ঝপাত করে এসে পড়লো আমাদের নাকে মুখে আর জামা কাপড়ে। আর একবার নাইট কোচে ঢাকা যাচ্ছি, তখন অবশ্য কোচের ভিতরে ধূমপান নিষেধ। প্রায় সব যাত্রী নিদ্রামগ্ন অথবা তন্দ্রাচ্ছন্ন, পিছনের সিটে যেয়ে আস্তে করে একটা সিগারেট ধরালাম। টান দিয়ে আস্তে আস্তে জানালা দিয়ে ধোঁয়া বাইরে ছেড়ে দিচ্ছি, হঠাৎ একটা বিপর্যয় ঘটলো। হাত ফসকে সিগারেটটা বাসের মেঝেতে পড়ে গেল, তারপর বাতাসের ঝাপটায় সারা বাসের মেঝেতে সেটা ঘুরে বেড়াতে লাগলো। বাসের ভেতরের লাইট নিভানো ছিল, এমতাবস্থায় দৃশ্যটা খুবই আতঙ্ককর হয়ে উঠলো। কী করা যায় ভাবতে ভাবতেই একজন নারী যাত্রীর চোখে সেই দৃশ্যটা ধরা পড়লো, অতঃপর তার ভয়ার্ত চিৎকারে বাসের সবাই হুড়মুড় করে জেগে উঠলো, আর আমি ঘুমের ভান করে মটকা মেরে পড়ে রইলাম। কে এই দুস্কর্ম করেছে সে রহস্য কেউ উদ্ধার করতে পারলো না বটে, তবে নিশ্চুপ সেই নরাধমের প্রতি যথেষ্ট কটুবাক্য বর্ষন হতে লাগলো।

সে যাই হোক, অনেকদিন থেকেই নানা কারনে ভাবছিলাম সিগারেটটা এবার ছেড়েই দিতে হবে। সে অপ্রিয় ভাবনাকে খানিকটা সহনীয় করার জন্য বেশ কয়েকমাস পরের এক শুভ নববর্ষকে এ উদ্যোগ শুরুর জন্য ডেডলাইন হিসেবে নির্বাচন করে ইত্যবসরে বেশি বেশি করে ফুকে চললাম। মাঝে মাঝে অবশ্য কী উপায়ে ধূমপান ত্যাগের এই প্রচেষ্টা সফলতার মুখ দেখতে পারে সে বিষয়ে তত্ব তালাশ বজায় রাখলাম।

ধূমপান কিভাবে ত্যাগ করতে পারি, ওয়েবে সে বিষয়ে বহু রকম উপায় দেখলাম,তার কয়েকটি নিম্নরূপ-

* রোজা রাখা
* পান খাওয়া
* হারবাল মশলা
* ধূমপায়ী বন্ধু বান্ধবদের এড়িয়ে চলা
* সামাজিক প্রতিক্রিয়া হয়, এমন স্থানে ধূমপান করা
* ট্রান্সক্রেনিয়াল ম্যাগনেটিক স্টিমুলেশন
* এবং আরও নানা রকম পদ্ধতি

বলাবাহুল্য, এসবের কিছু কিছু পদ্ধতি আগে একাধিকবার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু কাজ হয় নাই, এ বারও যে হবে সে নিশ্চয়তা নাই, তাই নতুন কী করা যায় তাই ভাবতে লাগলাম। পরচিত জনদের মধ্যে যে দু-একজন এ ব্যাপারে সফলতা লাভ করেছে, তাদের সাথে আলাপ করেও সুনির্দিষ্ট কোন উপায় বের করতে পারলাম না। এ ভাবেই কোন রকম একটা উপায় বের করতে পারার আগেই দেখতে দেখতে যেন একেবারে হুড়মুড় করে ঘাড়ের উপর এসে পড়লো পয়লা বৈশাখ। কোন উপায় বের করতে না পারার অজুহাতে সকাল থেকেই ধূমপান অব্যাহত রইল, কিন্তু মনটা বেশ খচখচ করতে লাগলো, বলতে গেলে মনমরা হয়েই কাটালাম দিনটা। সন্ধ্যার পরে বউ বললো- একবারে ছাড়তে না পারলে ধীরে ধীরে ছাড়ো। এর ফলে একটা আইডিয়া এল মাথায়, সিদ্ধান্ত নিলাম, সেদিন থেকে বাসায় আর কোন সিগারেট খাব না। সেদিন রাতের খাবারের পর সিগারেট খাওয়ার জন্য বাইরে মোড়ের দোকানে চলে গেলাম। দু-একদিনের মধ্যেই বুঝলাম, ব্যাপারটা মোটেই সুখকর হচ্ছে না। এতদিন ধরে আরামে বসে সিগারেট খাওয়ার যে অভ্যাসটা গড়ে উঠেছিল, রাস্তার কোলাহল আর অশান্ত পরিবেশ তাতে ব্যাপক ছন্দপতন ঘটালো। একদিন আাচমকা বৃষ্টিতে ভিজে একশা হতে হল। ছুটির দিনগুলোতে দিনের বেলায় কড়া রোদে ধূমপান বেশ অসহ্য মনে হতে থাকলো। শেষে সিদ্ধান্ত নিলাম বাসায় আর নয়, যা খাওয়ার অফিস কিংবা অন্য কোথাও। তখন থেকে এভাবেই চললো আরও কয়েক বছর। বউ মাঝে মাঝে তাগাদা দেয়, আমিও ভাবি আরও একটা জোর ধাক্কা দিয়ে বিদায় করে দেয়া দরকার এই হতচ্ছাড়া সিগারেটকে, কিন্তু সেটা আর হয়ে উঠলো না। শেষে একবার জ্বরে পরে কয়েকদিন বাসার বাইরে যাওয়া হল না, ফলে সে কয়দিন সিগারেটও আর খাওয়া হল না। তখন ভাবলাম, এই সুযোগ! কয়েকদিন তো সিগারেট ছাড়াই কাটলো, আরও কয়েকটা দিন এভাবে কাটিয়ে দিতে পারলেই কাজটা বেশ সহজ হয়ে যাবে। তারপর কষ্টে সিষ্টে আরও কয়েকটা দিন পার করতে পারলে তখন সেটা অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাবে।

দিলাম ছেড়ে! কিন্তু যতটা সহজ ভেবেছিলাম, ব্যাপারটা তত সহজ হল না। শরীরের কোন অংশ পুরে গেলে যেমন সার্বক্ষনিক যন্ত্রনার অনুভুতি হতে থাকে, তেমনই প্রতিটি ক্ষণে মনে হতে থাকলো সিগারেটের কথা। কিংবা তরুন বয়সে হঠাৎ করে প্রেমিকার সাথে চিরবিচ্ছেদ হয়ে গেলে যেমন সার্বক্ষনিকভাবে তুষের আগুনে জ্বলতে হয়, তেমনি সার্বক্ষনিকভাবে বজায় রইল সিগারেটের তীব্র নেশা। দুপুর নাগাদ ভাবলাম, নাহ! পারা যাবে না! বিকেলের দিকে নিচে গিয়ে একটা সিগারেট খেয়ে আসতে হবে। ভাগ্যিস কাছে সিগারেট ছিল না, সেদিন ছিল বৃষ্টি বাদলার দিন, নিচে যেতে যেতে রাত হয়ে গেল। ভাবলাম দিনটা তো কেটেই গেল, আজ না হয় থাক। পরদিন সকালে মনটা শক্ত করলাম, ভাবলাম কয়েকটা দিন না খেয়ে থাকতে পারলে আরও কয়েকদিন এভাবেই পার করে দেয়া যাবে। সত্যি সত্যি এভাবে মাসখানেক পার করে দিলাম, এখন আর সর্বক্ষন সিগারেটের কথা মনে পড়ে না। দিনে দু-চারবার মনে পড়ে, কিন্তু অপেক্ষাকৃত সহজে সে ভাবনা ভুলে যাওয়া যায়। বন্ধুবান্ধব সিগারেট অফার করলে বলি- ভাল লাগছে না, এখন খাব না। এভাবে কয়েক মাস কেটে যাওয়ার পর কিছুটা আশ্বস্ত হয়ে ভাবলাম এবার বুঝি ধূমপান ত্যাগে সফলতা ধরা দিল। সত্যি তাই, ধূমপান ছাড়া তিন বছর পার করে দেয়ার পর এখন অনেকটাই কনফিডেন্ট যে ধূমপান ত্যাগ করতে পেরেছি।

ধূমপান ত্যাগ করিয়া আমি কী পাইলাম?
সত্যি বলতে বড় মাপের কোন ইতিবাচক ব্যাপার আমি অনুধাবন করতে পারি না। সেটা হয়ত এই কারনে যে, ইতিবাচক ব্যাপারগুলো ঘটেছে ধীরে ধীরে এবং আমার অজান্তে। তাই আমার অবস্থা অনেকটা যে কখনো ধূমপান করে নি, তার মত। হিসেব করে দেখেছি, এই তিন বছরে প্রতিদিন গড়ে দু'শো টাকার সিগারেট খাওয়া বাবদ প্রায় দু লাখ বিশ হাজার টাকার সাশ্রয় হয়েছে। টাকাটা এক সঙ্গে হাতে পাওয়া যাচ্ছে না বলে সেটা অনুভব করতে পারছি না। শরীরের হৃৎপিণ্ড, ফুস্ফুস, যকৃৎ, বৃক্ক, পাকস্থলী এবং অন্যান্য অঙ্গের এই তিন বছরে কতটুকু ক্ষয়পূরন হয়েছে বা আদৌ হয়েছে কি না তা পরিমাপ করার কোন উপায় নেই। তবে সামগ্রিক ভাবে শারীরিক ফিটনেসের কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলেই মনে হয়, সাদা চোখে ধূমপান ত্যাগ ছাড়া তার অন্য কোন কারন আপাতদৃষ্টিতে চোখে পড়ে না। গৃহবিবাদ অনেকটাই দূর হয়েছে। যত যাই বলি, সিগারেট খাওয়ার কারনে এক ধরনের হীনমন্যতায় যে ভুগতে হয়, সেটা থেকে মুক্তি পাওয়া গিয়েছে, মোটামুটি ভাবে এই। নিশ্চয়ই ভাবছেন যে ধূমপান ত্যাগের স্বপক্ষে এসব তো খুব একটা আকর্ষনীয় উদাহরণ নয়। আমিও মাঝে মাঝে সেরকম ভাবার অবকাশ পেয়ে বসি বৈকি, কিন্তু তখন এই সচলেই সহ ব্লগার অনার্য সঙ্গীতের পোষ্ট করা এই ব্লগটার কথা মনে পড়ে। এত কষ্ট করে ধূমপান ত্যাগের সার্থকতাটা তখন কিছুটা হলেও বুঝতে পারি।


মন্তব্য

মেঘলা মানুষ এর ছবি

তিন বছরে আপনি হয়তো সেরকম কোন উন্নতি হাতেনাতে দেখতে পাচ্ছেন না, কিন্তু এটাও ভেবে দেখুন: তিন বছর ! এই সময়টায় আপনার বয়স বেড়েছে। আপনার বয়স পঁচিশের বেশি (ধরণা করলাম), কাজেই আপনার শরীর দিনে দিনে, প্রকৃতির নিয়মে, দুর্বল হবে। (আপনি কিশোর হলে সেটা অবশ্য অন্য ব্যাপার হতো, তখন বসয়সের সাথ সাথে তিড়িংবিড়িং করে লাফানোর ক্ষমতাও বাড়তো খাইছে )

ধূমপান করলে, আপনার এই তিন বছর পর শক্তি-উদ্যমের যে নিম্মমূখী রেখাচিত্র -সেটা আরও নিম্নমুখী হতো। ২০১৬ সালের আপনার সাথে তুলনা না করে বরং ২০১৯ ধূমপায়ী (কাল্পনিক) এবং ২০১৯ সালের অধূমপায়ী অপানার মআঝে তুলনা করুন।

শুভেচ্ছা হাসি

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

হ্যাঁ, বিষয়টা মোটামুটি বুঝতে পারি। আমার লেখার একেবারে শেষের দিকে তার প্রতিফলন আছে। ধন্যবাদ!

এক লহমা এর ছবি

ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার মত কঠিন কাজটা করতে পারার জন্য আপনাকে বিপুল অভিনন্দন।

যাঁরা বলেন যেইদিন ইচ্ছে করেছি সেই দিন-ই ছেড়ে দিয়েছি এবং আর কখনো ধূমপানের ইচ্ছে হয়নি, আমি সেই রকম শক্ত মনের মানুষ না। ৩৫ বছরের উপর হয়ে গেছে ছেড়ে দিয়েছি, কয়েক বছর আগেও স্বপ্নে ধূমপান করতাম, ঠোঁটের ফাঁকে মাঝে মাঝে কি যেন নেই, কি যেন নেই অনুভূতি হত। কিন্তু সেই আমিও পেরেছি। এখন আর কোন টানের টান অনুভব করিনা।

ছেড়ে দেওয়ার পর নিজের কাছেই যেদিন থেকে তামাকের ধোঁয়ার গন্ধ কটু, অসহ্য লাগতে শুরু করেছি সেদিন থেকে বুঝেছি চারপাশের প্রিয়জনদের উপর কি অত্যাচার করেছি।

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

অতিথি লেখক এর ছবি

হে হে হে কোথায় যেন একটা হাহাকার টের পেলুম! সুরবালা সুরবালা সুরবালা......

এক লহমা এর ছবি

সত্যজিৎ রায়ের চিড়িয়াখানা চলচ্চিত্রের গানের ধুয়ো ধরে বলি - হাহাকারের তুমি কি জান ... ... হাসি

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

রাস্তা ঘাটে কোন কোন স্টুপিড যখন ভক ভক করে ধোঁয়া ছাড়ে এবং তার গন্ধ নাকে এসে লাগে, তখন ইচ্ছা করে কষে এক চড় লাগাই। কিন্তু অতীতের কথা ভেবে ক্ষান্ত হই, বলা চলে প্রায়শ্চিত্ত করি। বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে যারা সিগারেটের ধোঁয়া সহ্য করতে পারতো না কিংবা ধোঁয়ায় অস্বস্তি প্রকাশ করতো, আমাদের কাছে তাদের যে কী পরিমান নাকাল হতে হত।

হিমু এর ছবি
আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

এহ হে! এক্কেবারে ইয়ে করে দিয়েছে রে!

মাহবুব লীলেন এর ছবি

দেড় মাস ধইরা খাই না। শেষ বিড়ি ফালানোর পর আর ধরাইনি। ফারাক বুঝি না। খাওন বাইড়া গেছে। ওজনও বাড়তেছে। সামনের বছর আশা করি আবার ধরব

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

সামনের বছর আসতে তো এখনও অনেক দেরি, এতদিন থাকবেন কী ভাবে?

রণদীপম বসু এর ছবি

একই সমস্যা আমারও গো লীলেন ভাই ! পহেলা বৈশাখে আমার বিড়ি না-ফুঁকা বছরপূর্তি হইল ! কিন্তু এখন ওজন তো বাড়ছেই ! আবারও ধরা লাগবে কি না বুঝতে পারছি না ! হা হা হা !

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

বিড়ি সঙ্গে ওজনের সম্পর্ক আছে বলে জানা নাই রণদা। দুটাকে হয়তো আপনার মাথা মিলায় ফেলতেছে আর গোপনে বিড়ি ধরার একটা অজুহাত বানানোর চেষ্টা করতেছে!

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

বিড়ি ছাড়ার সঙ্গে খাওয়া বেড়ে যাওয়ার কোন সম্পর্ক নেই।
ছাড়তে পারলে ছেড়ে থাকাই ভালো। যে পরিমাণ বিড়ি জীবনে খাইছেন তার খেসারত না দিয়ে তো পারবেন না, খানিকটা নাহয় কম দিলেন!

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

মন মাঝি এর ছবি

১। ছুটির দিনে বারান্দায় আয়েশ করে বসে এক হাতে চা খেতে খেতে আরেক হাতে সিগারেট ফুঁকতে যে কি স্বর্গীয় আনন্দ পাওয়া যায় তা দুনিয়ার কোনো অধূমপায়ী বুঝবে না! এমনকি সেইসব ধূমপায়ীও বুঝবে না যারা একইসাথে খাওয়ার বদলে চা শেষ করে তারপর সিগারেট ধরায়!!!

২। সিগারেট আমিও ছেড়েছি। কিন্তু এই বুড়া বয়সে সিগারেট ছেড়ে আমি এখন পোলাপাইনদের মত ভেপিং-এর (ই-সিগারেট) পাল্লায় পড়েছি। ধূমপান ছেড়ে বাষ্পপান! জ্বলন্ত উনুন থেকে ফুটন্ত কড়াইতে পড়লাম কিনা কে জানে....

****************************************

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

এ পর্যন্ত যতজনকে সিগারেট ছেড়ে দিতে দেখেছি, সংখ্যায় খুব অল্প হলেও তাদের কেউ কেউ স্থায়ীভাবে ছেড়ে দিতে পেরেছে। কিন্তু যতজন ই-সিগারেট সেবী দেখেছি, তাদের সবাই আবার মূল সিগারেটে ফেরত গিয়েছে। আপনি বিরল ব্যাতিক্রমী হন কি না, তা দেখার অপেক্ষায় রইলাম। ইয়ে, মানে...

মন মাঝি এর ছবি

আমার ৪ বছর চলছে....

****************************************

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

চালিয়ে যান। হাততালি

এক লহমা এর ছবি

তিরিশ বছরের উপর হয়ে গেল শেষ সিগারেট/বিড়ি খেয়েছি। অন্ততঃ বিশ বছর হয়ে গেল কোন আকাঙ্ক্ষা অনুভব করি না। এমন হতে পারে অ্যাজমা-জনিত কারণে যা কষ্ট পাই তাতে ধোঁয়া টানার কথা ভাবলেই যথেষ্ট আতঙ্ক সৃষ্টি হয়ে যায়! শাপে বর হয়েছে হাসি

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

নীড় সন্ধানী এর ছবি

অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। ধূমপান কারো সদুপদেশ কিংবা স্বাস্থ্য কথা শুনে ছাড়া কঠিন কাজ। কিন্তু শরীর ছাড়তে বললে তখনি ছেড়ে দেয়। একটা বয়সে গিয়ে মানুষ যেমন ধর্মে মতি আনে, ধূমপানটাও একটা বয়সে গিয়ে ছেড়ে দেয় অধিকাংশ মানুষ। একসময়ের কঠিন ধূমপায়ী তখন ধূমপান বিরোধী হাজিসাব।

ধূমপায়ী নানান জাতের। কেউ কেউ আছে, একটা বয়সে অনেক ধূমপান করে। তারপর আবার ছেড়ে দেয়। কেউ কেউ ছাড়তে পারে না আজীবন চালিয়ে যায়। কেউ কেউ আছে অস্থায়ী ধূমপায়ী- এমনিতে খায় না, বন্ধুবান্ধবের আড্ডায় পড়লে খায়। সবচেয়ে বেশী ধূমপান করে এমন শ্রেণীর বয়স মনে হয় ২০-৩০ বছর। অনেককেই দেখেছি ৩০ পার হবার পর ছেড়ে দিতে। অনেকে ছাড়ে ৪০ পার করে। কোন পরিসংখ্যান নয়, নিজের চোখের আন্দাজে বলা। আত্মীয় বন্ধুদের মধ্যে যারা একসময় ধূমপান করতো, এখন করে না, তাদের দেখে বলা।

কিছুদিন আগে ইউটিউবে হুমায়ূন আহমেদের এইসব দিনরাত্রি দেখছিলাম। নতুন করে একটা জিনিস চোখে পড়লো যেটা আগে লাগেনি। নাটকের চরিত্রেরা দেদারসে ধুমপান করছে। তখন হরদম সিগারেট চলতো নাটকে। হুমায়ূনের নাটকে সিগারেট ব্যাপারটা বিশেষভাবে উপস্থাপিত হতো। নাটকটা যখন টিভিতে দেখাতো তখন ব্যাপারটা অস্বাভাবিক লাগেনি। তখন ধূমপান সবখানে চালু ছিল। এখন সেটা অস্বাভাবিক। এমনকি এখন ভাবতে অবাক লাগে ত্রিশ বছর আগে ঢাকা চট্টগ্রাম ট্রেনে সিগারেট উড়িয়েছি আমি নিজেও। বাস ট্রেনেও ধূমপান ছিল স্বাভাবিক ঘটনা। বিমানেও ধূমপান চালু ছিল একটা সময়। একসময় ধূমপনটা ফ্যাশানের মতো ছিল, এখন সেটা কেটে গেছে। এখনকার তরুণরা অনেক কম ধূমপায়ী বলে আমার ধারণা।

সিগারেট একসময় আমারও প্রিয় জিনিস ছিল। বিশেষ করে বৃষ্টিমূখর অলস দুপুরে একটা সিগারেট না হলে চলতো না। প্রায় তিন দশক সঙ্গী ছিল দৈনিক দু চারটা সিগারেট। কিন্তু কখনো মনে হয়নি সিগারেট আমাকে গ্রাস করেছে কিংবা ওটা না হলেই চলবে না। কখনো দেখা গেছে সপ্তাহে একটাও খাইনি। কিন্তু এক ফোঁটা খারাপ বা অভাববোধ করি না। নিকোটিনের নেশা বোধহয় আমার রক্তে হুল ফোটাতে পারেনি। আমি সিগারেট ছেড়েছি কিনা জানি না। কিন্তু এমন দেখা গেছে মাসে একটা সিগারেটও খাইনি। আবার বন্ধুদের আড্ডায় বসলে একটা নিয়ে টানি। একটা বয়স হবার পর থেকে খেয়াল করছি সিগারেট আগের মতো ভালো লাগছে না। ক্যান্সারের ভয়টয় বলে না। এমনিতে আজকাল শরীর সিগারেটের প্রতি বিরূপ হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে আমিও হাজীসাব হয়ে যাবো যে কোনদিন।

আমি একটা বিষয় সবসময়ই দেখেছি। যখন নিয়মিত ধূমপান করতাম তখনো। অন্যের ধোয়ার গন্ধ আমার কখনোই ভালো লাগতো না। আমি ধূমাপায়ী হলেও পাশে কেউ সিগারেট টানছে এটা সহ্য করতে পারতাম না। ধূমপানের স্থানটি জনবিরল হওয়াই পছন্দের ছিল। বাসায় কখনো সিগারেট খাইনি। নারী ও শিশুদের সামনে কখনো ধূমপান করিনি।

ধূমপান ছেড়ে দেয়া খুব সহজ। যখন শরীরই আপনাকে বলবে, আর চলছে না বস, এবার ক্ষ্যামা দেন!

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

ভাল অব্জারভেশন, অধিকাংশ মানুষই সিগারেট ছাড়ে বয়স বাড়লে, প্রান সংশয়ের আশংকা থেকে। আর আপনি মনে হয় ব্যাতিক্রমী ধরনের ধূমপায়ী, শখের ধূমপায়ী। আপনার পক্ষে ধূমপান ত্যাগ করা তো মনে হচ্ছে ওয়ান টু,র ব্যাপার।

তারেক অণু এর ছবি

দুই বন্ধুর সিগারেট ছাড়াইছি পাহাড়ে নিয়ে যেয়ে, পাহাড়ে যেয়ে তখন হার্ট বিট্রে করে, ফুস্ফুস আর পারে না, বিড়িখোরেরা দম পায় না, তখন তাড়া কিছুটা এর কুফল বুঝতে পারে। লজ্জাও পায় নিজের কাছে।

আমি যদি নিয়মিত দৌড় - ঝাপ করেন, বা হাইকিং, অবশ্যই সিগারেট ছাড়ার সুফল বুঝতে পারবেন সহজেই।

অবনীল এর ছবি

এটা একটা মোক্ষম স্ট্র্যাটেজি।

___________________________________
অন্তর্জালিক ঠিকানা

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

সিগারেট ছাড়াইছি পাহাড়ে নিয়ে যেয়ে

স্বামীর সিগারেট ছাড়ানোর ব্যাপারে যে সকল স্ত্রীগণ খুবই উদগ্রীব, তাদের জন্য গ্রেট টিপস।

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

এখন হিসেব করলাম আমার সিগারেট ছাড়ার প্রায় ১০ বছর হতে যাচ্ছে!
এর মাঝে পুরোপুরি খাইনি তা নয়। দেশে গেলে আড্ডায় বসলে খেয়ে ফেলি! তারপর কষ্ট হয়!‍ মন খারাপ

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

বলেন কী? এখনও খান?

মইনুল এর ছবি

আমি খাওয়া বন্ধ করেছি ২০১৫ এর শেষ দিকে। তার আগে যে কয়বার ছাড়া বা কমানোর চেষ্টা করেছি, কোনো বার লাভ হয়নি। তাই বন্ধ রেখেছি বলে মনকে সান্তনা দেই। যখন খুব মিস করি, ভাবি যে, পরে নিরাপদ সিগারেট আবিষ্কার হলে আবার হয়তো ...

স্পর্শ এর ছবি

অনার্যর লেখাটাতে নিকোটীনের যেসব প্রভাব দেখলাম, খুবই আকর্ষণীয় মনে হলো। জীবনের এমন এক পর্যায়ে পৌছেছি, যে নানা কিছু ম্যাড়মেড়ে মনে হচ্ছে। নিকোটীনের কিকে যদি সত্যজিতের মত মাথা খুলে যায় বা আইনবুড়োর মত তাতে ক্ষতি কি।

আর মূল ক্ষতির কারণ গুলো বলা হচ্ছে, তামাকপুড়িয়ে পাওয়া জানা অজানা ৭ হাজার কেমিক্যালের কারসিনোজেনিক প্রভাবে। তাহলে বিড়ি না পুড়িয়ে ভেপিং করলেই হয়! নিকোটিন ছাড়া অন্য কোনো অজানা কেমিক্যাল নিতে হলো না শরীরে। আবার নিকোটিনের মজাও/সুফলও পাওয়া গেল।

আমি তো আরও ইন্সপায়ার্ড হয়ে গেলাম!! খাইছে


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।