বউ বাটা বলসাবান: বিস্মৃত বয়ান

নজমুল আলবাব এর ছবি
লিখেছেন নজমুল আলবাব (তারিখ: রবি, ১০/০২/২০০৮ - ১০:৫১অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

..

বেশি বেশি ভাব বলে একটা কথা আছে। আমরা প্রায়ই এই কথাটা বলি, পাব্লিকের বেহুদা আচরনকে বুঝাতে। এই মূহুর্তে আমি সেরকম একটা বেহুদা আচরণ অর্থাত্ বেশি বেশি ভাবের কাজ করব।

কাজটা আসলে করার কোন কু-ইচ্ছা কখনই আমার ছিলনা। কিন্তু শিমুলিয় অনুরোধে এটা করতে বসলাম। তাছাড়া বেকার দ্যা গ্রেট হিসাবে একটা কাজ অন্তত পাওয়া গেল।

বিষয় হল বউ বাটা বলসাবান নামের অতি ক্ষুদ্র গল্পের জন্ম কাহিনী।

সবকিছুর একটা সময় আছে। যার জীবনই পাকাপোক্ত হলনা তার আবার জীবনী কি? বউ বাটা বলসাবান কতটুকু গল্প হয়ে উঠতে পেরেছে এই প্রশ্নটারই কোন উত্তর আমার জানা হয়নি আর তার কীনা জন্ম কাহিনী! তবু লিখি। এইসব অবাধ লেখার স্বাধীনতা আছে বলেইতো ব্লগ।

হিসাব করলে দশ বছর হয়ে গেছে। এই মূহুর্তে ছাপানো কপিটা হাতের কাছে নেই। থাকলে সেই তারিখটা দেখে নিশ্চিত সময় বলতে পারতাম। সেইসময় সবে আমরা লেখা গুলে খাবার বয়েসে পৌছেছি। নিজেরাই লিখি, নিজেরাই খাই টাইপ অবস্থা। সিলেটে বেশ বড় একটা গ্রুপ আমাদের। আকাম কুকাম অনেক কিছুই করি আমরা। এর ফাঁকে কেউ নাটক করে, কেউ আবৃত্তি করে। আর সব বাঙালির কমন বদদোষ হিসাবে আমরা সাহিত্য চর্চ্চাও করি।

গৌরীশ দারুন প্রবন্ধ লিখত। তার পড়ার বিষয় ছিল, রাজা রামমোহন, বিদ্যাসাগর, বিবেকানন্দ এবং রবীন্দ্রনাথ। অর্নার কাজকারবার ছিল বৈদেশী সাহিত্যে। রাজু লিখত স্যাটায়ার। রানা সিরিয়াস গল্প। আমি লিখার চেস্টা করতাম কবিতা। আমাদের গ্রুপের সিনিয়ার ছিলেন আরিফ জেবতিক, হাসান মোরশেদ, রিপন চৌধুরী, উজ্জল রায় এরা। এদের উপরে লীলেন ভাই, জফির সেতু, মোশতাক আহমাদ দীন, শামীম শাহান।

আমি যে কারো অনুবাদ করা কিছু পড়ে একদম আরাম পাইনা। কারণ অর্নার মত এত চমৎকার অনুবাদ আর কেউ করেনা। রানা মেহের যেদিন তার গল্প এই ব্লগে পোস্ট করবে সেদিন বুঝবেন আলবাব কোন শ্রেণীভুক্ত কলমচি। জেবতিক রাজীবের স্যাটায়ার হত অসাধারণ। মান্নাদা কবিতা। হাসান মোরশেদ, আরিফ জেবতিক কিংবা মাহবুব লীলেন ভাইদের ব্যাপারে কিছুকি আমারে বলতে হবে? মনে হয়না। এই এদের মাঝে সবচে অনুজ্জল কেউ থাকলে সে আমি। মূলত ফিলার রাইটার হিসাবে আমার উৎপত্তি। ম্যাগাজিনের শেষ পৃষ্ঠাটা যখন দেখা যায় খালি থেকে যাচ্ছে সেখানেই অপুর যায়গা হয়। তবে একটা গোয়াড় টাইপের কথা বলে এই অধ্যায় শেষ করা যায়, আমার বন্ধুরা সবাই লেখা শুরু করলে, অন্য কারো কিছু না পড়লেও চলবে আমার। আসলে অন্য লেখা পড়ার সমই পাবনা আমি।

আহারে বউ বাটার কথা বলতে এসে এসব কি বলছি?

সহবাস বের হল। খুব বড় সাহিত্য আন্দোলন হবে, বিপ্লব হবে এমন কোন উচ্চাশা থেকে কাজটা করা হয়নি। আসলে নিজেদের লেখার একটা উদার জমি তৈরির জন্যই সহবাস এর জন্ম। দ্বিতীয় সংখ্যা থেকে আমি কাজ শুরু করি। সেসময় বেশ কটা গল্প লিখে ফেলি। সবগুলোই এমন মাইক্রোস্কোপিক আকারের। যেগুলো ছাপা হয়েছে সেগুলো আছে এখনও। বাকিগুলো হারিয়ে গেছে।

গল্প লিখার ক্ষেত্রে কোন বিশেষ পরিকল্পনা করে কখনই এগুইনি। লিখতে বসেছি, লেখা হয়ে গেছে এই টাইপ। সিরিয়াস হয়ে, নাক মুখ খিচিয়ে মাথার চুল ছিড়ে চিন্তা করতে করতে কোনকিছুই কোনদিন আমি লিখিনি। যে শব্দটা আমি চিনি, নিত্যদিন ব্যবহার করি সেই শব্দটা বসিয়ে নিজের কথাই মূলত বলি আমি।

বিভিন্ন মিতভাষণ আর বউ বাটা বলসাবান দু দিনের ব্যধানে লিখা। লিখেছিলাম তিনটা। বিভিন্ন মিতভাষণ আর অন্য আরেকটা নিয়ে আমি হাসান মোরশেদ আর আসিফ মনি বসেছিলাম ইউনাইটেড ক্লিনিকের বারান্দায়। মোরশেদের বাবা অসুস্থ ছিলেন তখন। আমাদের আরেক বন্ধুজন আসিফ মনি আর মোরশেদ মিতভাষণটা মেনে নিলেও অন্যটায় একটু কাজ করতে বল্লেন। ঠিক হল দুটোই সহবাস এ দেয়া হবে। কিন্তু বাসায় ফেরার সময় সেই গল্পটা হারিয়ে যায়। মোটর সাইকেল চালাতে চালাতে ঠিক করা নবম পাঠের বছর নামটা ছাড়া আর কিছুই মনে নাই এখন। বিভিন্ন মিতভাষন ছাপা হয় সহবাস এ।

গিয়াস ভাই এর সাথে কথা হয় একদিন। লেখালেখির খবর নিয়ে হালকা একটা ঝাড়ি দেন তিনি। একি সময়ে লিখা বউ বাটা জেট পাঠালাম তার কাছে। এরপর ভুলে গেলাম। বন্ধুসভা তখন নিয়মিত পড়া হত। আড্ডার নিয়মিত সদস্য। একদিন গল্পটার কথা মনে হল। বন্ধুসভার গোষ্টি উদ্ধার করলাম। আল্লাই জানে সেই গরম খবর পেলেন কীনা গিয়াস ভাই! পরের বুধবার বন্ধুসভায় ছাপা হল গল্পটা। তবে একটা শব্দ বদলে। আমি লিখেছিলাম জেট পাউডার, গিয়াসভাই সেটারে বলসাবান করে দিয়েছেন। পরে বল্লেন অনুপ্রাস প্রিয়তায় এই নাম বদল। খারাপ লাগেনি আমার। ভালই লাগলো।

এরপর নিরবতা। অনেকদিন পর। কয়েকমাস হবে হয়ত। ঢাকায় গেছি নির্বাসনে। গিয়াস ভাইয়ের সাথে দেখা করতে গেলাম। সুমন্ত আসলাম আমারে বলে 'কনগ্রাচুলেশন'। বুঝলামনা কেন বলে। গিয়াস ভাই জিজ্ঞেস করেন কিরে তুই পত্রিকা দেখিসনি? না বলতেই হাতে থাকা কাঠ ফাইলটা এগিয়ে দেন। আমি ভ্যাবলা হয়ে যাই...

এবং পুস্তক

এরপর কত বছর গেল। সব ভুলে গেছি। গৃহপালিত টাইপ একটা ভাব এসে গেছে। অন্য আরও অনেক চিন্তা মাথায়। সন্তান এবং সন্তানবতীদের নিয়ে নিত্য সংসার।

গতবার আরিফ ভাই একটা ইউ আর এল দিলেন। বল্লেন, সারাদিনতো নেটেই থাকিস। একবার ঢুকে দেখিস। বেশ ভালই লাগল। একটা বদ অভ্যাস আছে আমার। নেটে নিজের নাম সার্চ দেয়া!!! এখানেও দিলাম। আর অবাক হয়ে দেখলাম হাসান মোরশেদ তার একটা লেখায় বউ বাটা বলসাবান এর কথা লিখেছেন। হৃদয় খোঁড়ে যে সবসময় বেদনা জাগে তা নয়। মাঝে মাঝে দীর্ঘশ্বাসের মত আরামদায়ক কিছুও মিলে যায়...

আবারও পাগলামিতে পায়। আবারও উচাটন। কিবোর্ডে বসলে রাগ করে পালিয়ে যাওয়া শব্দগুলো হঠাৎ হঠাৎ ধরা দেয় ইদানিং। তাই একুশের বই মেলায় জন্ম নেয় বউ বাটা বলসাবান নামের ক্ষুদ্র এক গ্রন্থ।


মন্তব্য

পরিবর্তনশীল এর ছবি

কিবোর্ডে বসলে রাগ করে পালিয়ে যাওয়া শব্দগুলো হঠাৎ হঠাৎ ধরা দেয় ইদানিং।

ভালো লাগল...
----------------------------------
মহিব
ভাবসাব দেখে মনে হইল "উনি একজন মানুষ"

---------------------------------
ছেঁড়া স্যান্ডেল

নজমুল আলবাব এর ছবি
ধুসর গোধূলি এর ছবি

- বস, একেবারে বস টাইপের বিহাইন্ড দ্যা সীন।
ম্যান আই লাইক ইউ টু মাচ, আই ডোন্ট নো হোয়াই।
থ্রী চিয়ার্স ফর ইউ এন্ড দ্য 'লিটল' বুক!
_________________________________
<সযতনে বেখেয়াল>

নজমুল আলবাব এর ছবি

এই ভার্চুয়াল জগতে আমার স্থিতিটা শুধুই তোমাদের জন্য ধুসর। নয়ত এইসব টেকি কর্মে ননটেকি আলবাব কখনই আরাম পেতনা। মিসফিট হয়ে বেরিয়ে যেত বন্ধু।

ভুল সময়ের মর্মাহত বাউল

মাশীদ এর ছবি

গোধুর থ্রি চিয়ার্সে আমিও গলা মেলালাম হাসি !


ভাল আছি, ভাল থেকো।


ভাল আছি, ভাল থেকো।

নজমুল আলবাব এর ছবি

গোধুরে যা বলছি সেই কথা কিন্তু তোমারেও বলি মাশু। ভার্চুয়ালিটি গোল্লায় গেছে আমাদের সম্পর্কের ধাতানিতে এইটা কি খেয়াল করছ?

ভুল সময়ের মর্মাহত বাউল

মাশীদ এর ছবি

আলবাত আলবাব ভাইজান! তা আর বলতে! আমারো তো ব্লগে মাঝে-মধ্যে ঢু মারা আপনাদের টানেই। আপনার বইটা হাতে পাওয়ার জন্য হাত নিশপিশ করছে। দেশ থেকে কেউ আসলে বলতে হবে। আপনি কি এর মধ্যে বইমেলায় থাকবেন কোনদিন? তাহলে বড়বোনকে বলে দেখতাম যদি পারে একটা ঢ়ু মারতে। আপনার লেখার (এবং আপনার) কত বড় ফ্যান আমি সেটা বলা বাহুল্য। প্রতিটা লেখাই খুব সহজেই মনকে কই যেন নিয়ে যায়। অন্যরকম একটা ঘোর লাগা অনুভূতি থেকে যায় বেশ অনেকটা সময়। আমি মন থেকে আপনার বইয়ের (এবং আপনার) সাফল্য কামনা করছি। আরো আরো অনেক বেশি লিখুন, ভাইজান।


ভাল আছি, ভাল থেকো।


ভাল আছি, ভাল থেকো।

আনোয়ার সাদাত শিমুল এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ, আলবাব ভাই।
এ পরিক্রমাগুলো শুনতে খুব ইচ্ছে করছিলো।
হয়তো স্মৃতি খুঁড়ে কিছুটা বেদনাও জাগালাম, হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের কথা মনে করিয়ে। তবুও এ লেখাটার দরকার ছিলো। একটি গল্প সৃষ্টি, সময়, ভাবনা এবং দশক পরে বই হয়ে ওঠার ইতিহাস পাঠকের পাওনাই থাকে। কি বলেন?

নিয়মিত লিখুন, আমরা পড়ি।

শুভকামনা।

নজমুল আলবাব এর ছবি

আমি এমনিতেই স্মৃতিকাতর মানুষ। সারাদিন বসে বসে তর্পন করি পুরানা স্মৃতি। তোমার দোষ নাই। বরং তুমি বলছ বলেই কিন্তু অনেক মন ভাল করা কথাও মনে পড়লো।

ভুল সময়ের মর্মাহত বাউল

অয়ন এর ছবি

মোরশেদ ভাইয়ের ওই পোস্টেই প্রথম পড়ি গল্পটা। যতোবার পড়ি ততোবার ভালো লাগে।

লুৎফুল আরেফীন এর ছবি

আপনার লেখা পড়া কেবল শুরু দিছি মিয়া ভাই। মনে হচ্ছে স-ব খেয়ে ফেলি একরাতেই....

বিভিন্ন মিতভাষণটা পড়েছি কেবল। মন্তব্য সেখানেই করেছি।

___________________________
বুড়োরা সবাই সমস্বরে বললো, "নবজন্ম", আমি চাইলাম "একটা রিওয়াইন্ড বাটন"

নজমুল আলবাব এর ছবি

ধন্যবাদ আরেফীন। আপনার মত পাঠক পাওয়াটা ভাগ্যের বিষয়।

ভুল সময়ের মর্মাহত বাউল

Yahya Fazal এর ছবি

`বেকার দ্যা গ্রেট 'এই কথার সাথে একমত হওয়া গেলো না। দু:খিত।

নজমুল আলবাব এর ছবি

ফজল নাকি? বেকার নাতো কিরে ভাই? চাকরি বাকরি নাই। ঘুরি আর খাই...

ভুল সময়ের মর্মাহত বাউল

কিংকর্তব্যবিমূঢ় এর ছবি

খুব ভাল্লাগছে বস ... এই টাইপ বিহাইন্ড দ্য সীন মাঝে মাঝে দিয়েন ...
................................................................................

নজমুল আলবাব এর ছবি
অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

গল্পের পেছনের গল্পটা ....

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

নজমুল আলবাব এর ছবি
সংসারে এক সন্ন্যাসী এর ছবি

সুখের কথা, ইদানীং সচলায়তনে বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছেন আপনি। দারুণ লাগলো লেখাটা। আরও চাই...

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
টাকা দিয়ে যা কেনা যায় না, তার পেছনেই সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয় কেনু, কেনু, কেনু? চিন্তিত

নজমুল আলবাব এর ছবি

আসলে নিস্ক্রিয় থাকাটাই আরামদায়ক। হঠাৎ করে মরার সিরিজটা শুরু করে বিপদে পড়ে গেলাম। বাধ্য হয়ে সক্রিয় হতে হল। প্রশংসাটা আরামদায়ক হইছে।

ভুল সময়ের মর্মাহত বাউল

রানা মেহের এর ছবি

অপু
বৌ বাটা বলসাবান নিয়ে আর সবার মতো
আমারো একধরনের মুগ্ধতা আছে।
এই গল্পটা একটান দিয়ে
আমাদের অনেক ভালোবাসার
সকাল বিকেল দুপুর সামনে এনে দেয়।
(তখন তো আর উপায় ছিল না সন্ধা কিংবা রাত হবার !)

কিন্তু অপু
এবার বোধহয় এর থেকে বাইরে আসার সময়।
সেই সময় থেকে না।
এই গল্প থেকে।
তুই যে কত ভালো লিখিস
তা বোঝার মতো মেধা তোর কোনদিন ছিল না হবেও না।

সুতরাং প্লিজ।
এই গল্পের গন্ডি থেকে বের হয়ে আয়।
বেশী বেশী লেখ।
নতুন। অন্যরকম।

তোকে অনেক দুরে দেখতে ইচ্ছে করে রে অপু।
থেমে থাকিস না।

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

নজমুল আলবাব এর ছবি

এই কমেন্টের উত্তর নাই আমার কাছে। বরং আমারও একটা প্রশ্ন আছে। প্রিয় সুকান্ত আর লেখা হয়না কেন?

ভুল সময়ের মর্মাহত বাউল

উত্তীও এর ছবি

বহু পুরাতন ভাব , নব আবিঃষ্কার ।

ফকির ইলিয়াস এর ছবি

জন্মি এবং জন্ম দিই
সূর্য ও চাঁদের আলো হাতের তালুতে তুলে নিই

নজমুল আলবাব এর ছবি

ধন্যবাদ ফকির ইলিয়াস ভাই

ভুল সময়ের মর্মাহত বাউল

মাহবুব লীলেন এর ছবি

আমি সম্ভবত পুরো বইয়ের প্রথম পাঠক
আর তখনই মন্তব্যটা তৈরি হয় মাথার ভেতর

আটপৌরে দিনেও কিছু রং থাকে
কিছু দাগ থাকে
সেই রং সেই দাগ সবার জীবনেই
উঁকি মেরে চলে যায়
কিন্তু টোকা দেয় ক’জনের মনে?

দৈনন্দিন দিনের এই রং আর দাগগুলোকে নোট খাতায় টুকে রেখে
গল্প কিংবা ঘটনার আদলে আমাদের সামনে নিয়ে আসেন নজমুল আলবাব

বাংলা গদ্য আর গল্পবলার স্টাইল অদ্ভুতভাবে বদলাচ্ছে। এবং লেখালেখি বিষয়টা ভড়ং এর বাইরে বের হয়ে আসছে (কবিতা বাদে)
এবং সম্ভবত বর্তমানে বাংলাদেশে গল্পই কবিতার চেয়ে এগিয়ে আছে

নজমুল আলবাবের লেখাগুলো পড়ে আমার সেই ধারণাটাই আবার মনে হয়েছে

নজমুল আলবাব এর ছবি

লীলেন ভাই আপনার এই কয়টা লাইন আমারে কিযে আচ্ছন্ন করেছিল। এভাবে এত সহজে আর অনায়াসে আর কেউ আমার পোস্টমর্টেম করতে পারেনি।

ভুল সময়ের মর্মাহত বাউল

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

অবশেষে জট খুললো আমার। কত রকম ভাবে যে "বউ বাটা বলসাবান" উচ্চারণ করেছি এর মধ্যে, তার হিসাব নাই। কোন ভাবেই পুরো নামটার কোন অর্থ বুঝি না। বউ'কে লোকে বাটবে কেন? বলসা জিনিসটাই বা কী?

বিচিত্র সব ঝামেলা মাথার মধ্যে। লজ্জায় কাউকে জিজ্ঞেসও করতে পারি না। ভরা মজলিসে এটার মানে জিজ্ঞেস করে প্যাঁচালি মদন হওয়ার ইচ্ছাও নেই। সচলায়তনে আসি দিনে প্রায় ২০-৩০ বার। আপনার লেখা খুবই মনোযোগের সাথে পড়ি। ইদানিং বিশেষ রকম গর্বিত বোধ করছি "আরে ওমুক লেখক আর আমি তো একই ব্লগে লিখি" বলতে পারার খুশিতে। সবারই লেখাগুলো চেখে দেখেছি, তবু এই "বউ বাটা বলসাবান"-এর মাজেজা মাথায় আসছিলো না।

এই পোস্টের লিংক ধরে গিয়ে দেখলাম, লেখাটা ২০০৭-এর শুরুতে পোস্টানো এবং সামহোয়্যার থেকে নীরবে আমদানি করা। নাহলে এই লেখা চোখে না পড়া, বা মনে না থাকার কোনই কারণ নেই।

যাক, শান্তিতে ঘুমাতে পারবো আজকে। "বউ, বাটা, বলসাবান"! এত্ত সহজ! নিজেকে শুধু বলছি, "এলিমেন্টারি, মাই ডিয়ার কুদ্দুস!"

নজমুল আলবাব এর ছবি

কি বলবো... কিছুই খুঁজে পাচ্ছিনা।

ভুল সময়ের মর্মাহত বাউল

অনুভূতিশূন্য কেউ একজন এর ছবি

অভিনন্দন, আলবাব ভাই।
আর কিছু বলতে ইচ্ছা করছে না।
সব্বাই সব বলে দিয়েছে।

নজমুল আলবাব এর ছবি
নিঘাত তিথি এর ছবি

"বউ, বাটা, বল সাবান" গল্পটা নিয়ে আমার মুগ্ধতা সীমাহীন। প্রথম পড়েছিলাম "বন্ধুসভা"য়। তারপরে অনেক দিন পরে হাসান মোরশেদ ভাইয়ের পোস্টে। ওখানে কমেন্ট করেছিলাম, তবু আপনাকে সরাসরি ভালোলাগার কথা জানানোর সুযোগ পাওয়া যাচ্ছিলো না। অতঃপর তারও অনেক পরে আপনাকেই পাওয়া গেলো ব্লগার হিসেবে। আরিফ জেবতিক ভাইকে একটা ধন্যবাদ দিতেই হয় এই কারনে। অনেক মানুষের ভীড়ে প্রায় হারিয়ে যাবার মত করে ছোট্ট কমেন্টে জানানো গেলো ভালোলাগার অংশবিশেষ।

এই বইমেলায় এই গল্পটিসহ আপনার ছোটগল্প সংকলন বের হচ্ছে। কথাটা প্রথম শুনেই এত এত এত ভালো লেগেছে! প্রকাশ করাটা কঠিন। কেবলই ছোট্ট শুভকামণাটা জানিয়ে যাই। অনেক দূর এগিয়ে যান আরও, অনেক অনেক দূর।
----------------------------------------------------
আমার এই পথ চাওয়াতেই আনন্দ

----------------------------------------------------
আমার এই পথ চাওয়াতেই আনন্দ

নজমুল আলবাব এর ছবি

তিথি এটাকে আপনি ছোট্ট কমেন্ট বলছেন!

ব্লগে আমি টিকতামনা এটা নিশ্চিত ছিল। তবু কেন টিকে গেলাম জানেন? আপনাদের জন্য। যখন দেখলাম ব্লগের বেশ বড় একটা অংশ আমাদেরই পুরনো বন্ধু বান্ধবদের তখন বেশ একটা আরামবোধ হল। এবং টিকে গেলাম।

ব্লগের প্রতি আমার অনেক ঋণ। ব্লগ ছিল বলেই বউ বাটা বলসাবান বই হতে পেরেছে। নয়ত কোনদিনই হয়ত আর ফিরে আসা হতনা।

ভুল সময়ের মর্মাহত বাউল

বিপ্লব রহমান এর ছবি

শুভ সংবাদ। অভিনন্দন! হাসি

এবার বই মেলায় কোন কোন সহব্লগারের বই কোন কোন প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে, তার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া যায়?

খুব ভালো হয়, ব্লগার+এবার বই মেলার লেখকদের কেউ যদি এ নিয়ে একটি আলাদা পোস্ট দেন। ধন্যবাদ।


আমাদের চিন্তাই আমাদের আগামী: গৌতম বুদ্ধ


একটা ঘাড় ভাঙা ঘোড়া, উঠে দাঁড়ালো
একটা পাখ ভাঙা পাখি, উড়াল দিলো...

নজমুল আলবাব এর ছবি

ধন্যবাদ বিপ্লব ভাই।

থার্ড আই ইতিমধ্যেই কাজটা করে ফেলেছেন।

ভুল সময়ের মর্মাহত বাউল

ঝরাপাতা এর ছবি

হুম কিনেছি সেই ১০ তারিখে। এখনো বন্ধুদের হাতে হাতে ঘুরছে। সামনের বুধবারে ঢাকায় গেলে হাতে পাবো আশা করছি।


রোদ্দুরেই শুধু জন্মাবে বিদ্রোহ, যুক্তিতে নির্মিত হবে সমকাল।


বিকিয়ে যাওয়া মানুষ তুমি, আসল মানুষ চিনে নাও
আসল মানুষ ধরবে সে হাত, যদি হাত বাড়িয়ে দাও।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA