আজও ডানাভাঙা একটি শালিক

আনন্দী কল্যাণ এর ছবি
লিখেছেন আনন্দী কল্যাণ (তারিখ: রবি, ০৯/০১/২০১১ - ৩:৩১পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

নারীবাদ বা ফেমিনিজম নিয়ে বরাবরই আগ্রহ ছিল। আগ্রহটা স্বাভাবিক, আর ঠিক বই পড়েও ফেমিনিস্ট হবার প্রয়োজন পড়ে না, প্রতিদিনই নিজের জীবনে বা অন্যের জীবনে কিছু না কিছু পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়, যা একজন ছেলেকে করতে হয় না। আমরা মেয়েরা সচেতনভাবে বা অচেতনভাবে তা মেনে নিয়েছি বা নিচ্ছি। এখনো পর্যন্ত পৃথিবীতে একজন মেয়ে হিসেবে বড় হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতাটা আলাদা। সম্প্রতি মুর্শেদ ভাইয়ের এই পোস্টটি পড়ে বহুবার ভাবা বিষয়গুলি নিয়ে আবার ভাবলাম। সত্যি কথা নাকি বারবার বলতে হয়। কাছাকাছি সময়ে দেখলাম চিত্রশিল্পী নাজিয়া আন্দালিব প্রিমার ভিডিও ইন্সটলেশন “ম্যারি মাই এগ”। আর সুরঞ্জনার “ঈর্ষা” গল্প। সবমিলিয়ে এই পোস্ট। কিছুটা ক্ষোভে, কিছুটা প্রশ্নে, কিছুটা উত্তরে।

অনেক ক্ষেত্রেই ভ্রূণ দেখে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় গর্ভপাতের, ভ্রূণটি মেয়েশিশু হলে গর্ভপাত করা হয়। একটি মেয়ে জন্মাবার আগেই তার জন্ম নেবার অধিকার নির্ধারণ হয়ে যায়, আর জন্মাবার পর তার অন্যান্য অধিকারের কথা বাদই দিলাম। এখনো আমাদের সমাজে মেয়েরা বিয়ে করবে কি করবে না বা কাকে করবে, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবার পূর্ণ স্বাধীনতা অর্জন করে নি। বিয়ের পরেও কখন সে মা হতে চায় বা মা হতে চায় না এসব সিদ্ধান্তও অনেক সময় চাপিয়ে দেয়া হয়। বলা হয়, মেয়েরা সংসার, বিয়ে, সন্তান এসব ভালবাসে, অথচ এসব ব্যাপারের সিদ্ধান্ত মেয়েদের হাতে নেই। এরপর আসে নিজেদের পড়াশোনা, চাকরি এসব বিষয়ের সিদ্ধান্ত। আগের চেয়ে যদিও অবস্থা অনেক ভাল, তারপরও এখনো মেয়েরা বিয়ে, শ্বশুরবাড়ি, পাত্র এসবের সাথে সাথে নিজেদের গ্র্যাজুয়েশন, কেরিয়ার, দেশের বাইরে পড়তে যাওয়া এইসবের সমঝোতা করে। সমঝোতাটা কেন দুই পক্ষেই সমানভাবে হয়না? অনেক মেয়েকে দেখেছি বিয়ের পরে হিজাব পরা শুরু করতে, গান-বাজনা, আঁকাআকি, লেখালেখি, নাচ সবই থেমে যায় আস্তে আস্তে বিয়ের পর, সেটা গিয়ে ঠেকে মেয়েকে গান-নাচের স্কুলে নিয়ে যাওয়ায়, বা ছেলের ড্রয়িং ক্লাসের হোমওয়ার্ক করানোয়। কোন মেয়ে সিদ্ধান্ত নিতেই পারেন যে চাকরি করবেন না, কিন্তু সেটা যেন নিজের ইচ্ছাতেই নেয়া হয়, পরিস্থিতির চাপে পড়ে নয়। আর বুঝিনা, সবসময়ই শুনি মেয়েরা খালি “পরিস্থিতির চাপে” পড়েন, বড় বেশি।

অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জন করতে হবে আর নিজের জীবনের সিদ্ধান্তগুলো নিজেকে নিতে হবে, আর এটা একদিনে হয়না। নিজের মত প্রকাশ, নিজের ইচ্ছা এবং অনিচ্ছা সুস্পষ্টভাবে আগে নিজেদের চিনতে হবে আর তা প্রকাশ করতে হবে। সমাজ বৈরী, অনেক ছেলেদের মানসিকতায় অনেক সমস্যা আছে, মানছি। কিন্তু মেয়েদের নিজেদের অনেক সমস্যা আছে সেটাও ঠিক। মেয়েরা সহজে হাল ছেড়ে দেয়, অনিশ্চয়তা পছন্দ করে না, ইমোশনালি অনেক সিদ্ধান্ত নেয়, মানুষ কি বলবে এসব নিয়ে অনেক মাথা ঘামায় ইত্যাদি দেখেছি। প্রায় একশ বছর আগে ভার্জিনিয়া উলফ বলেছিলেন “A woman must have money and a room of her own if she is to write fiction.” ভাবছি, নিজের ঘর তো অনেক দূরের কথা, মেয়েরা এখনো নিজেদের শরীরের মালিকানাও নিজেরা বুঝে নিতে পারেনি, নিজের মনেরও না।

যেকোন যুদ্ধে মৃতের সংখ্যার সাথে সাথে আরেকটা সংখ্যা আমাদের জানতে হয়, তা হল ধর্ষণের সংখ্যা। একটা মেয়েকে শুধু শুধু গুলি খরচ করে মারা হয় না, মেয়েদের মেরে ফেলার তরিকাও আলাদা। সেটাও সয়ে গেছিল। কিন্তু স্তম্ভিত হয়েছিলাম, আমেরিকান সেনাবাহিনীর মেয়ে সদস্যরা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন তাদের পুরুষ সহকর্মীদের দ্বারা ইরাক, আফগানিস্থানে-এই খবরটি পড়ে।

পশ্চিমে ফেমিনিজম দুই ভাগ হয়ে গেছে অ্যান্টি-পর্নোগ্রাফি ফেমিনিজম আর সেক্স-পজিটিভ ফেমিনিজম এই দুই ধারায়। প্রথম দল বলেন যে, পর্নোগ্রাফিতে মেয়েদের হেয় করা হয়, মেয়েরা নির্যাতিত হন অনেকক্ষেত্রে। আর দ্বিতীয় দল মনে করেন, কেউ পর্নোগ্রাফিতে অভিনয় করবেন কি করবেন না, সেটা যার যার ব্যক্তিগত পছন্দ, আর পর্নোগ্রাফির ভোক্তাদের মাঝে মেয়েরাও আছেন। কিন্তু, যাকে আমরা ব্যক্তিগত পছন্দ বলছি, সেটাও কি সমাজ তৈরি করে দেয় না? ব্যক্তি আর সমাজ কতটুকু আলাদা? তবে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এখনো আমরা এই বিতর্ক করার জায়গায় পৌঁছাতে পারিনি। খুব বেসিক বা প্রিমিটিভ কিছু অধিকার এখনো অর্জিত হয়নি। বাংলাদেশের হিন্দু ও বৌদ্ধ পারিবারিক আইনে মেয়েদের পিতার সম্পত্তিতে কোন অধিকার নেই, বিবাহ-বিচ্ছেদ নেই, আর পুরুষরা বহু-বিবাহ করতে পারেন। বাংলাদেশের মুসলিম পারিবারিক আইনে মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় অর্ধেক ভাগ পান পিতার সম্পত্তিতে। তবে খৃস্টান পারিবারিক আইনে মেয়েদের সম-অধিকার রয়েছে। এদেশের ছাত্রী-হলে রাতের অন্ধকারে পুলিশ ঝাঁপিয়ে পড়ে। ছাত্রী-হলের এক ঘরে একাধিক কম্পিউটার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। ইভ-টিজিংয়ের ঘটনায় গতবছর মারা গেছেন পিংকি, রুমা, সিনথিয়া, রুপালী। গাউসিয়া, নিউমার্কেট, ভিড়ের বাসে নোংরা হাত আর কনুই। কর্মক্ষেত্রে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেয়েদের টয়লেটের অপ্রতুলতা। বাল্যবিবাহ, যৌতুক বা উচ্চবিত্তের গিফট সংস্কৃতি। আর কত, হাঁফিয়ে গেছি।

ভেবেছিলাম, ফেমিনিজমের থিওরিগুলো নিয়ে লিখবো, কিন্তু লেখা শুরু করার পর মনে হল, খুব প্রিমিটিভ কিছু অধিকারের জায়গাগুলোই আমরা এখনো পরিষ্কার করতে পারিনি, থিওরি আলোচনা করে লাভ নেই। মানছি, সমাজব্যবস্থা, শ্রেণী, জাতি, ধর্ম, বর্ণ এসবের কারণে পুরুষরাও নানা বৈষম্যর শিকার হচ্ছেন। এই গলদগুলি দূর করতে পারলে নারীমুক্তি সম্ভব অনেকক্ষেত্রেই, তারপরও কিছু কিন্তু থেকে যায়। মার্ক্স যেমন বলেছিলেন যে, পুঁজিবাদ ঘুচলে নারীমুক্তিও মিলবে, এই কথাটায় আমার পূর্ণ আস্থা নেই। সমাজবদ্ধ জীব হিসেবে আমাদের নানান সীমাবদ্ধতা, নিজের স্বাধীন ইচ্ছায় সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা পুরুষদেরও নেই অনেকসময়, মুক্ত মানুষ কথাটাই একটা ইউটোপিয়া। কিন্তু, মানুষ হিসেবে আমরা যেই বৈষম্যর শিকার হই, তার রোলকল শেষ হলে "নারী" হিসেবে বৈষম্যর শেষদফা সংঘটিত হয়। আপনি যদি একজন মেয়েশিশুর বাবা হন, বুঝে বা না বুঝে যে অন্যায়গুলি মেয়েদের সাথে করেছেন বা হতে দিয়েছেন, সেই একই অন্যায়গুলি পৃথিবী এবার আপনার সন্তানটির সাথেও করবে। তাই পরিস্থিতি পাল্টাতে মেয়েদের দায়িত্ব নিতে হবেই, সাথে পুরুষদেরও।

ফিরেঃ শিরোনাম সঞ্জীব চৌধুরীর একটি গানের লাইন থেকে


মন্তব্য

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

চমৎকার লেখা! আরো আরো সমস্যা আমাদের সমাজে। আপনি যে সমস্যাটি একটি জেনারেলাইজড অ্যঙ্গেল থেকে দেখলেন তা না করে একেকটা সমস্যা একেবারে পিন পয়েন্ট করতে হবে এবং আলোচনা করতে হবে। কেন সমস্যা হচ্ছে, মূলটা কোথায়, কিভাবে গোঁড়াটা তুলে ফেলা যাবে এভাবে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। সেই সঙ্গে হালকা করে থিয়োরী গুলো আলোচনা করা দরকার। কেননা থিয়োরী গুলো সমস্যা সমাধানে সাহায্য করবে বলেই আমার ধারণা।

আনন্দী কল্যাণ এর ছবি

আপনার ফিডব্যাক পেয়ে খুব উপকৃত হলাম। এ লেখাটা অনেকটাই জ়েনারাইলজ়ড। পরে আলাদা করে প্রতিটা সমস্যা নিয়ে লেখার ইচ্ছা আছে। ফেমিনিজম থিয়োরির অনেক ইন্টারেস্টিং ডাইমেনশন আছে, মজা লাগে পড়তে।
পোস্ট-ফেমিনিজম নিয়েও অনেকে অনেক কাজ করছেন, পক্ষে-বিপক্ষে নানা মত।

সুরঞ্জনা এর ছবি

বেঙ্গলে সেদিন এই ভিডিও ইন্সটলেশনটা দেখেছি।
প্রথমে বুঝতে পারছিলাম না, বিয়ের সাজ পরে একটা মেয়ে চামচ-কাটা দিয়ে ডিম খেয়ে চলেছে এটা কেন দেখবার বিষয়।
তাই কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে দেখে টের পেলাম।
ম্যারিইং এগস ই বটে।

............................................................................................
এক পথে যারা চলিবে তাহারা
সকলেরে নিক্‌ চিনে।

আনন্দী কল্যাণ এর ছবি

"ম্যারি মাই এগ" এর লিঙ্কটা যোগ করে দিয়েছি লেখায় হাসি

পান্থ রহমান রেজা এর ছবি

বিষয়গুলো নিয়ে আরো ডিটেইলে লেখেন! ভালো লাগলো!

আনন্দী কল্যাণ এর ছবি

ঠিক আছে, লিখবো হাসি

ধন্যবাদ, পড়বার জন্য।

জোহরা ফেরদৌসী এর ছবি

যাকে আমরা ব্যক্তিগত পছন্দ বলছি, সেটাও কি সমাজ তৈরি করে দেয় না? ব্যক্তি আর সমাজ কতটুকু আলাদা?

চমৎকার লাগল আপনার লেখাটি । আরো বিস্তারিত লিখবেন এই আশাবাদ জানাই । আমি কিছুটা আমার অভিমত দিয়ে যাই এই সুযোগে।

সমাজ একদিনে বদলায় না , খুব সত্যি কথা । কিন্তু সমাজের সামন্ততান্ত্রিক নিয়মগুলো যতক্ষন আমার স্বার্থকে সংরক্ষন করে, ততক্ষন পর্যন্ত্য আমি তার সুযোগ নিয়ে যাব...এই যদি হয় "শিক্ষিত", "আধুনিক" মানুষের মানসিকতা, তাহলে সমাজের এগিয়ে যাওয়া দূর অস্ত । আর সমাজ কোন অলীক কিছু নয় । ব্যক্তির সমষ্টিই সমাজ । কাজেই সমাজের অন্যায্য নিয়মগুলো ভাঙ্গার দ্বায়িত্ব সকলের । যার যার অবস্থান থেকে যেটুকু সম্ভব পরিবর্তনের নামই নৈতিকতা । এভারেস্ট হয়তো একদিনে জয় করা যায় না, কিন্তু প্রতিদিনকার পদক্ষেপটুকু না নিলে অগ্রযাত্রা সম্ভব নয় ।

আমার পর্যবেক্ষনে কিছু প্রচলিত ধারনা আছে । এক. মেয়েদের অধিকারের কথা বলা মানেই "ফেমিনিস্ট" (প্রায়শঃই যা ঋনাত্বক ভাবে পোর্ট্রে করা হয় ) । দ্বিতীয়তঃ মেয়েদের অধিকার মেয়েদেরই আদায় করতে হবে । তৃতীয়তঃ পুরুষতন্ত্র পুরুষদের মানসিকতা ।

আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে, মেয়েদের অধিকার কোন বিশেষ অধিকার নয় । মেয়েদের অধিকার অধিকার, কোন "প্রভিলেজ" নয় । কাজেই, সেই অধিকারগুলো মানবাধিকার । শারীরবৃত্তিক, মানসিক, ইত্যকার নানাবিধ কারনে মেয়েদের অধিকারগুলোকে ভিন্ন দেখা গেলেও তা যে বৈজ্ঞানিক কারনেই মানবাধিকার তা যে কোন যুক্তিগ্রাহ্য মানুষই বুঝতে পারবে (যদি না "বিচার মানি, তালগাছ আমার" জাতীয় কেউ না হয়) ।

আর পুরুষতন্ত্র শুধু পুরুষের মনস্তত্ব নয় । অনেক ক্ষেত্রেই একজন নারী আরেক নারীর চরম শত্রু । হতে পারে দীর্ঘদিনের পুরুষতান্ত্রিকতার কারনে নারীও অভ্যস্থ ক্ষমতাশীল পুরুষের ইচ্ছাপুরন করে করে নিজের আখের গোছাতে ।

নারীর অধিকার নারীকেই আদায় করতে হবে কোন দ্বিমত নেই । তবে, সত্যিকারের শিক্ষিত, আধুনিক, আলোকপ্রাপ্ত পুরুষেরও ভুমিকা আছে সেই অধিকার প্রতিষ্ঠায় । কারন, সমাজে নারী ও পুরুষ শেষ বিচারে এক গাড়ির দু'টি চাকা । একটি চাকাকে অকেজো রেখে গাড়ি খুব বেশী দূর আগাতে পারবে না ।

__________________________________________
জয় হোক মানবতার ।। জয় হোক জাগ্রত জনতার

আনন্দী কল্যাণ এর ছবি

আপনার অভিমত শেয়ার করবার জন্য অনেক, অনেক ধন্যবাদ হাসি

ফেমিনিজম শব্দটায় অনেকের নেগেটিভ অ্যাটিটুড আমিও দেখেছি। সবচেয়ে ভাল হত, যদি এই শব্দটার কোন প্রয়োজন না পড়ত। কিন্তু, কিছু করার নেই। ছোটবেলায় বিশ্বাস করতাম, শুধুমাত্র বায়োলজিকালি নারী, পুরুষ আলাদা, আর বাকি সব এক। কিন্তু, বড় হবার সাথে সাথে বিশ্বাসটা বদলেছে। সমাজের দেখার চোখ নারী আর পুরুষের মাঝে যে পার্থক্যটা করে দিয়েছে, তাকে অস্বীকার করার উপায় নেই। সামাজিক অভিজ্ঞতায় নারী-পুরুষ আলাদা। এমন কিছু সমস্যায় পড়েছি, যেটা শুধুমাত্র নারী বলেই হয়েছে আমার সাথে, পুরুষ হলে হত না। ঠিক একইভাবে পুরুষরাও কিছু সমস্যা মোকাবেলা করেন, যেটা শুধুমাত্র পুরুষ বলেই তার সাথে হচ্ছে, নারী হলে হত না। উদাহরণস্বরূপ, কোন পুরুষ যদি বেছে নেন যে তিনি হোমমেকিং করবেন, উপার্জন করবেন তার স্ত্রী, সমাজ তাকে নিয়ে হাসাহাসি করবে। বা, দুজন সমকামী পুরুষ সন্তান দত্তক নেবার বা প্রতিপালণ করবার অনুমতি পান না অনেক দেশে বা সমাজে। ফাদার'স রাইট, চাইল্ড সাপোর্ট, পুরুষদের এসব সমস্যা নিয়ে আলোচনা হতে পারে ম্যাসকুলিজমে। http://en.wikipedia.org/wiki/Masculism

ফেমিনিজম, ম্যাসকুলিজম এগুলি সবই শেষপর্যন্ত হিউম্যানিটিকেই সার্ভ করে, এবং সেটাই আসল লক্ষ্য।

প্রচুর নারীদের মাঝে পুরুষতান্ত্রিকতা আছে। একটা ইন্টারেস্টিং বই পড়ছিলাম, Female Chauvinist Pigs: Women and the Rise of Raunch Culture By Ariel Levy। পরে এটা নিয়ে লেখার ইচ্ছা আছে।

আর ব্যক্তি আর সমাজ কতটা আলাদা আর কতটা এক, এসব নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে, উত্তর খুঁজছি।

অপছন্দনীয় এর ছবি

আপনার এই মন্তব্যের প্রতিটি বাক্যের সাথে একমত (চারবার পুরোটা পড়ার পরে বলছি)।

মুস্তাফিজ এর ছবি

বৈষম্য আর পক্ষপাতিত্ব সব ক্ষেত্রেই, নারীর প্রতি বৈষম্য তারই একটা রূপ। দুনিয়াতে থেকে কোনদিন তা উঠে যাবে বলে মনে হয়না। তবে একটা সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য প্রাথমিক ভাবে নিজ পরিবারেই তার চর্চা করতে হবে, বিচ্ছিন্ন কিছু পরিবারের ঘটনা বাদ দিলে আমরা এখনও সেই চর্চাই শুরু করতে পারিনি।

...........................
Every Picture Tells a Story

আনন্দী কল্যাণ এর ছবি

খুব সত্যি কথা মুস্তাফিজ ভাই, নিজ পরিবার থেকে চর্চা করতে হবে। প্রতিটি পরিবারের বাবা-মা তাদের আচরণ, কাজ, কথাবার্তা দিয়ে সন্তানদের মানসিক গঠন তৈরি করেন, এই প্রভাবটাকে পজিটিভভাবে বৈষম্য দূর করার কাজে লাগাতে হবে। অনেক ধন্যবাদ।

তাসনীম এর ছবি

চমৎকার লাগলো আনন্দী। এই বিষয়ে আরও লেখা আসুক, এর পর আরও স্পেসিফিক বিষয় নিয়ে।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

আনন্দী কল্যাণ এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ, তাসনীম ভাই। লেখার ইচ্ছা আছে, দেখি হাসি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।