ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কের ইতি

দিগন্ত এর ছবি
লিখেছেন দিগন্ত (তারিখ: শুক্র, ১৯/০৯/২০০৮ - ১২:২১অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

যারা ব্যবসা সংক্রান্ত খবরাখবর রাখেন, তারা নিশ্চয় এতক্ষণে জেনে ফেলেছেন আমেরিকার ইতিহাসে দেউলিয়া ঘোষণা হওয়া সবথেকে বড় ব্যাঙ্কের কথা। সোমবারেই আমেরিকার বড় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্ক, যার স্থাবর-অস্থাবর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ৬৩৯ বিলিয়ন ডলার, সেই লেম্যান ব্রাদার্স দেউলিয়া হয়ে গেল। তার আরেক বড় ভাই মেরিল লিঞ্চ এ যাত্রা বেঁচে গেল তার স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১ ট্রিলিয়ণ ডলারেরও বেশী বলে। তারা বিক্রি হয়ে গেল ব্যাঙ্ক অব আমেরিকার কাছে নামমাত্র মূল্যে। স্বাভাবিকভাবেই এই ধ্বসের প্রভাব সর্বত্র পড়েছে, পড়ে চলেছে। দেশে বিদেশে শেয়ারের সূচক নিম্নগামী। আর হবেই না কেন, আমেরিকা হাঁচলে তো সারা বিশ্বের জ্বর এসে যায়।

যারা ব্যবসার খবর রাখেন না, শুধু খেলা দেখেন, তাদের জন্যও দুঃসংবাদ। ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের জার্সিতে যে এ-আই-জির নাম খোদাই করা থাকে তারাও দেউলিয়া হবার মুখ থেকে কোনোরকমে ফিরে এসেছে। ফিরে এসেছে বলার থেকে বলা ভাল, সরকার ধ্বসের প্রভাব আটকাতে অভূতপূর্ব এক সিদ্ধান্ত নিয়ে একরকম ট্যাক্সের টাকা থেকে ৮৫ বিলিয়ণ ডলার খরচা করে কোম্পানীটাকে কিনেই নিয়ে ধ্বস আটকেছে।

ভিডিও - লেম্যানের পতন

ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্ক বস্তুটা কি
সোজা কথায় কোনো কোম্পানীর দরকার পড়লেই যারা টাকা এনে দেয় তারাই ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্ক। কিন্তু জনসাধারণের কাছ থেকে সরাসরি টাকা জমা রাখতে পারে না তারা। তাদের টাকা আসে হয় শেয়ার বাজার থেকে, নাহয় আসে বন্ড ইস্যু থেকে। সাধারণ ব্যাঙ্ক থেকে টাকা পাবার ঝক্কি-ঝামেলা অনেক বেশী বলে আশির দশকের শেষ দিক থেকে ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কের থেকে টাকা নিয়ে ব্যবসা করার প্রচলন হয়, এতে ঝুঁকি বেশী কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি টাকা পাওয়া যায় বলে ব্যবসায় সুবিধা। আমেরিকার চার বড় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্ক হল গোল্ডম্যান স্যাক্স, মরগ্যান স্ট্যানলি, মেরিল লিঞ্চ আর লেম্যান ব্রাদার্স। ১৯৯৯ সালের পরে অবশ্য আমেরিকা সাধারণ ব্যাঙ্কগুলোকেও ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কের কাজ করতে দেয়, যা এর আগে সম্ভব ছিল না।

যেখান থেকে শুরু
সব নষ্টের গোড়া কিন্তু সেই আমেরিকার নিনজা লোন, হাউসিং বাবল আর বিশ্ববাজারে তেলের দাম থেকেই। প্রায় সব মার্কিন ব্যাঙ্কসহ অনেক ইউরোপিয়ান, চিনা, জাপানী বা ভারতীয় ব্যাঙ্কেরও হাত পুড়েছে এই আগুনে। সবাই হাত পুড়তে দেখে যখন হাত সরিয়ে নিয়েছে, তখন লেম্যান সেখান থেকে হাত সরায় নি। হয়ত লেম্যান কর্তারা ভেবেছিলেন যে অচিরেই ঘরবাড়ির দাম আবার আগের মত জায়গায় চলে আসবে। তাছাড়া এই ব্যাঙ্কের তুলনামূলকভাবে অনেক বেশী টাকা মর্টগেজ বাজারে জমা ছিল। হয়ত হাত গুটিয়ে নেওয়া সম্ভবও ছিল না তাদের পক্ষে। অন্যদিকে মেরিল লিঞ্চের পক্ষে সাবপ্রাইম থেকে ঘুরে দাঁড়ানোরই সম্ভব হয় নি। সাবপ্রাইম লোন মকুবের সময় দিনে গড়ে ৫২ মিলিয়ন ডলার লোকসান খেয়ে এই ব্যাঙ্কের আগে থেকে ধুঁকছিল। শুধু সাবপ্রাইম থেকেই সবমিলে মেরিল লিঞ্চের লোকসানের পরিমাণ ৫২ বিলিয়ন ডলার।

লেম্যান, মেরিল থেকে এ-আই-জি
মজার ব্যাপার হল, ওয়াল স্ট্রিটের এই কোম্পানীগুলো এক অদৃশ্য সুতোয় বাঁধা ছিল বীমা কোম্পানীর সাথে। এই সুতোর নামে ক্রেডিট ডিফল্ট সোয়াপ বা সিডিএস (এখানে পড়ুন)। সেটা কিরকম? একটু ব্যাখ্যা দেওয়া যাক। ধরা যাক লেম্যান ব্রাদার্সের বন্ড কিনছে কোনো এক ব্যাঙ্ক। বন্ড অনুসারে, নির্দিষ্ট সময়ান্তরে লেম্যান ব্যাঙ্ককে আয়ের কিছু ভাগ দিতে বাধ্য - যদি লেম্যান উঠে না যায়। খুব সামান্য সম্ভাবনা আছে লেম্যানের উঠে যাবার, তাই ব্যাঙ্ক তার বন্ডের বীমা করিয়ে রাখে, এই ধরণের বীমাকেই বলা হয় সিডিএস। মানে, ব্যাঙ্ক যদি দশ বিলিয়ন ডলারের বন্ড কিনে থাকে লেম্যানের কাছ থেকে, তাহলে সেই দশ বিলিয়ন সে বীমা কোম্পানীর কাছ থেকে আদায় করতে পারবে যদি কোনোভাবে লেম্যান উঠে যায়। এই ঘটনার সম্ভাবনা খুব কম বলে বীমার প্রিমিয়ামও কম। কিন্তু সত্যিই যেদিন লেম্যান পড়ে গেল সেদিনই বীমা কোম্পানীগুলো পাওনাদারদের সামনে পড়ল। সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত হল এ-আই-জি, যারা আমেরিকার সবথেকে বড় বীমা কোম্পানী, আমেরিকার কোটি কোটি আমজনতা যাদের কাছে বীমা করায়। এমনিতেই বেচারারা লাভের মুখ দেখেনি অনেককাল, তার ওপর রাতারাতি সিডিএস-এর ধাক্কা এসে পড়ল। স্বভাবিকভাবেই, সামলাতে না পেরে তারাও দেউলিয়া হবার পথে দাঁড়াল। রাতারাতি আমেরিকার আম-জনতার টাকা ওয়াল স্ট্রিটের লোভের ফাঁদে পড়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে পা বাড়াল। কিন্তু ভোটের মুখে মনে হয় সরকারের পক্ষে জনগণকে এতটা বড় ধাক্কা দেওয়া সম্ভব ছিল না। তাই বাধ্য হয়েই এ-আই-জির ধাক্কাটা নিয়ে নিল সরকার, করদাতাদের পয়সা থেকে ৮৫ বিলিয়ন ডলার বের করে দিয়ে।

ভিডিও - এ-আই-জি পতনের সাথে করদাতাদের টাকার সম্পর্ক

পরের জন কে?
পরের জন কে হতে চলেছে, তা নিয়ে জল্পনা চলছে। আর দুই ভাই গোল্ডম্যান সাশ, মরগ্যান স্ট্যানলি উভয়েরই শেয়ারের দাম হু-হু করে পড়ছে। এরাও দেউলিয়া হয়ে গেলে সরকার আবার কি ভাবে বাঁচায় সেটাই এখন দেখার।

গোড়ায় গলদ
এই ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কিং-এ বেশ কয়েকটা সমস্যা ছিল। তার মধ্যে মূল হল সিস্টেমটা নিজেই। এখানে ব্যাঙ্ক তো নিজের পয়সা বিনিয়োগ করে না, করে অন্যের পয়সা। এবার তা থেকে লাভ ভাল এলে ভাল, লাভের গুড় কোম্পানীও পায় আর বিনিয়োগকারীও। রাতারাতী টাকা কামিয়ে নেয় ব্যাঙ্ক ও তার হর্তাকর্তারা। কিন্তু যদি লোকসান হয় তবে বিনিয়োগকারীর সমস্যা, কিন্তু ব্যাঙ্কের হর্তাকর্তারা অন্য কোম্পানীতে গিয়ে আবার নতুন উদ্যোগে ব্যবসা শুরু করে দেন। তাদের নিজেদের পয়সা মারা পড়ে না। সিস্টেমের এই সমস্যার কারণে অনেক সময়েই লাভের অঙ্ক বাড়ানোর খেলায় বেপরোয়া বিনিয়োগে মেতে ওঠে ব্যাঙ্কগুলো। তার ফল বুদবুদ, আর বুদবুদেরর নিয়তি একটাই - যা ব্যাঙ্কের ভাগ্যেও জোটে।

ওবামা বনাম ম্যাকেইন
ওয়াল স্ট্রিটের সমস্যা থেকে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে স্বভাবতই ওবামা আর ম্যাকেইন উভয়েই তৎপর। ওবামা পরিবর্তনের কথা বল্লেও এখনও অবধি কোনো পরিবর্তন কোনো নিশ্চিত কোনো সূচী দিতে পারেননি। আর ম্যাকেইন এ বিষয়ে খুব একটা জানেন বলেই মনে হচ্ছে না। দুয়ে মিলে, আমেরিকার এই সমস্যা নিকট ভবিষ্যতে দূর হবার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। ওবামার বক্তব্য শুনে মনে হয় উনি "রেগুলেটেড" অর্থনীতির পক্ষে। তাতে হয়ত আর এরকম ধ্বস নামার সম্ভাবনা কমবে, কিন্তু রিকভারি হবার কোনো আশা নেই।

প্রভাব
আপাতত আমার ধারণামতে ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কিং এর এখানেই ইতি। মানুষ টাকা বিনিয়োগ করে একটা বিশ্বাস নিয়ে যে জমানো টাকার থেকে বেশী টাকা পাবে। যদি সেই বিশ্বাসটাই ধাক্কা খেতে শুরু করে একের পর এক জায়গায়, তাহলে কি অর্থনীতির আর ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো পথ থাকে?

ভিডিও - ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কের ইতি

বাড়তি লিঙ্ক

টাইম ম্যাগাজিনের লেখা

এ নিয়ে আরো কিছু সচলের কাছ থেকে লেখা আশা করছি।


মন্তব্য

সৌরভ এর ছবি

সুবিনয় দা নিজের ইংরেজি ব্লগে হালকা কিছু লিখছিলেন। বাজারে হালকা স্থিতি ফিরে আসলে (আমি পেসিমিস্টিক মানুষ, তবুও অপটিমিস্টিক হচ্ছি) আশাকরি আমাদের অর্থনীতির পাঠশালা আবার খুলবে।


আবার লিখবো হয়তো কোন দিন

দিগন্ত এর ছবি

ওনার লেখার জন্য গত তিন চার দিন অপেক্ষা করেই লিখেই ফেললাম। অন্তত ঘটনাটায় কিছু তো আলোকপাত দরকার। পাঠশালা খোলা খুবই দরকার ...


হাতি ঘোড়া গেল তল, মশা বলে কত জল।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

s-s এর ছবি

ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্ক তো ডুবলোই, এখন কনজুমার ফাইন্যানসিয়ারা টিঁকলে হয়! মেরিল লিঞ্চের পঞ্চাশ ভাগের এক ভাগ দামে কিনে নেওয়া হলো, আমার কত বন্ধু যে চাকরি হারালো, আর আমি জপি জপের মালা , ভাগ্যিস্ গত গ্রীষ্মে ওদের চাকরি টা নিলাম না, তবে তাতেও রক্ষা নেই - পিওর ফাইন্যান্সের লোকজনের আগা গোড়া দু'টোতেই বিষম লাঠির বাড়ি পড়েছে, এখন শুধু মাহ্ জংয়ের মতো ডমিনো টা কল্যাপস হতে দেখার অপেক্ষা। ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের উপর ভিত্তি করে টিঁকে থাকা allied industry গুলোতে রাতদিন এখন এই গুজব নিয়েই দিন গুজরান। আসলেই, এই মুহূর্তে , "দুনিয়াজুড়া পচুর গিয়ানজাম। "

সৌরভ এর ছবি

ঠিক। দুনিয়াজুড়া পচুর গিয়ানজাম।


আবার লিখবো হয়তো কোন দিন

Selim এর ছবি

Thank u bro,

This is indeed a good picture. Is there any available "Bangla" news regarding "this recession"
(sorry for writing in english, as i m from mobile)

রাগিব এর ছবি

এতেও যদি ইরাক/আফগানিস্তানে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার প্রতিমাসে ফালতু খরচা করার ইচ্ছাটা ব্যাটাদের কমে। আম-জনতা এমনিতে যুদ্ধংদেহী, কিন্তু যখন পকেটে টান পড়বে, তখন ঘরের ছেলেরা ঘরে ফেরত আসতে বাধ্য। অভাব যখন দুয়ারে এসে দাঁড়ায়, নিজের খরচায় পরের বাড়িতে গিয়ে মারামারি করার ইচ্ছাটা তখন জানালা দিয়ে পালায়। অন্তত এটাই আশা।

----------------
গণক মিস্তিরি
জাদুনগর, আম্রিকা
ওয়েবসাইট | শিক্ষক.কম | যন্ত্রগণক.কম

তানবীরা এর ছবি

ইরাক থেকে যা লুট করেছে ফকিরাগুলো, সেগুলো ভেঙ্গে আরো দশ বছর খেতে পারবে।

তানবীরা
---------------------------------------------------------
চাই না কিছুই কিন্তু পেলে ভালো লাগে

*******************************************
পদে পদে ভুলভ্রান্তি অথচ জীবন তারচেয়ে বড় ঢের ঢের বড়

শিক্ষানবিস এর ছবি

অনেক কিছু জানলাম। পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।

দেবোত্তম দাশ এর ছবি

আজ আবার অফিসে আসতে আসতে পেপারে পড়লাম সারা পৃথিবীর তাবড় তাবড় ব্যাংক নাকি বাজার বাঁচানোর জন্য ১০০ বিলিয়ন পাউণ্ড বাজারে ছাড়ার রিস্ক নিচ্ছে। লাভ হবে কি আদৌ ?
------------------------------------------------------
স্বপ্নকে জিইয়ে রেখেছি বলেই আজো বেঁচে আছি

------------------------------------------------------
হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন’রা কি কখনো ফিরে আসে !

জিফরান খালেদ এর ছবি

ইংল্যন্ডে এর প্রভাবে লয়ডস আর হ্যলিফ্যক্সের মার্জ করার কথা... হ্যলিফ্যাক্সের স্বার্থেই... ঐটার খবর কি হইলো জানলাম না...

রানা মেহের এর ছবি

আমার বেশী খারাপ লাগছিল
লেম্যান এর একজন কর্মীকে দেখে।
বিবিসি থেকে প্রশ্ন, অফিসে কী বললো?
তিনি একটু হেসে বললেন 'লুক ফর এ নিউ জব'।
এই লোক গুলো কোথায় নিউ জব লুক করবে?

জিফরান - লয়েডস আর এইচবস মার্জ চুড়ান্ত। ঘটছে শীগগিরই
-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

হাসিব এর ছবি

সোজা কথায় কোনো কোম্পানীর দরকার পড়লেই যারা টাকা এনে দেয় তারাই ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্ক।

কথাটা ভুল ।

সৌরভ এর ছবি

এই পোস্টে আরও কিছু তথ্য টুকরো বিভ্রান্তি তৈরি করবে বলেই আমার ধারণা।

ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং এর ইতি ঘটবার কোন কারণ নেই সম্ভবত। লিম্যানের পতনের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ইনডিপেন্ডেন্ট ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক হিসেবে টিকে থাকা সম্ভব কি না সেই আশংকা করা হচ্ছে - ঘটনা সেটা।


আবার লিখবো হয়তো কোন দিন

দিগন্ত এর ছবি

হ্যাঁ, ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কিং এর ইতি ঘটবে না কিন্তু "একলা চলো" ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্ক কি আর থাকবে? আমার সেটাই সংশয়। এমনি তে HSBC বা Barclays এর তো কোনো সমস্যা দেখি না। তারা কমার্সিয়াল ব্যাঙ্কিং এর পাশাপাশি ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং চালিয়ে যাবে।


হাতি ঘোড়া গেল তল, মশা বলে কত জল।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

দিগন্ত এর ছবি

হ্যা ভাল হল আপনার কমেন্ট থেকে, আপনি লেখেন না এটা নিয়ে একটু। আমি এই ব্যাপারটাই ঠিকঠাক বুঝি নি, সত্যিকারের কমার্সিয়াল ব্যাঙ্কের সাথে এদের তফাতটা কোথায়। রেগুলেশনের তফাত তো আছেই কিন্তু আর কি ?


হাতি ঘোড়া গেল তল, মশা বলে কত জল।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

দিগন্ত এর ছবি

ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কিং সম্পর্কে যেটা জানলাম সেটা এখান থেকে। বেশ ভাল ভিডিও যদিও পুরোটা বসে দেখা অনেক সময়ের ব্যাপার (৩২ মিনিট)।


হাতি ঘোড়া গেল তল, মশা বলে কত জল।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

আনোয়ার সাদাত শিমুল এর ছবি

ঘটনা বুঝার চেষ্টা করতেছি।

হযবরল এর ছবি

মার্কিন সমাজে এটার নার্ভ ব্রেকিং ইফেক্ট নিয়ে লিখব সময় পেলে। বেয়ার স্টার্ন্স, লেম্যান ব্রাদার্স, এইজি, ফ্রেডি ম্যাক, ফেনি মে আমেরিকানদের একটু দূরদৃষ্টি সম্পন্ন করলেই হয়। আশা করছি তারা হবে। ওদের একটা বিশ্বাসে বিপুল আঘাত লেগেছে এই ঘটনায়, সেটা হচ্ছে মার্কিন দূর্গের ও পতন হয়। তীব্র রকম প্লাস্টিক মানি নির্ভরতা এদের কোথায় নিয়ে গিয়েছে সেটা ওদের জ়ীবনাচরণ না দেখলে বিশ্বাস হয় না। প্রতিটা মানুষ এক একটা লিভিং ডেফিসিট। আমেরিকান অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি এবং তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর চালিকাশক্তি ও ছিলো, আমেরিকান কনজিউমার বিহেভিয়ার। তেলের দাম এক লহমায় কনজিঊমার বেহেভিয়ারের মূলে ধাক্কা দিয়েছে। এখন চাকরীর বাজার তীব্ররকম নিম্নগামী। সামনের প্রেসিডেন্ট কিভাবে এতগুলো সামলাবে সেটা দেখবার বিষয়। সেদিন একটা লেখা দেখলাম অফশোর ড্রিলিং নিয়ে। এনালিস্ট বলছেন এটা একটা ভাঁওতা ম্যাককেইনের ভোট বাড়ানোর। অফশোর ড্রিল করলে তেলের উৎপাদন যা বাড়বে সেটা দিয়ে কিছুই হবেনা।

সুতরাং এখন আমাদের দেখতে হবে ওয়াল স্ট্রীটের জায়গা অন্য কেউ কিম্বা কোন জয়েন্ট স্টক এক্সচেনজ় দখল করতে পারে কিনা। অন্তত চ্যলেঞ্জ করতে পারে কি না ?

এক্জন এর ছবি

এই বিষয় গুলো আর তাদের প্রভাব নিয়ে আরো জানতে পারলে ভাল লাগবে ।

অভিজিৎ এর ছবি

ওবামা পরিবর্তনের কথা বল্লেও এখনও অবধি কোনো পরিবর্তন কোনো নিশ্চিত কোনো সূচী দিতে পারেননি। আর ম্যাকেইন এ বিষয়ে খুব একটা জানেন বলেই মনে হচ্ছে না। দুয়ে মিলে, আমেরিকার এই সমস্যা নিকট ভবিষ্যতে দূর হবার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

ম্যাকেইন আজকে কিছু প্ল্যান-প্রোগ্রামের কথা বলেছে। আমার কাছে মনে হয়েছে 'ডেসপারেট এটেম্পট'। কারণ, লেম্যান ব্রাদার্স আর মেরিল লিঞ্চ-এর দুর্ভোগের পর ম্যাকেইন প্রথম বক্তৃতা শুরু করেছিলেন - 'দ্য ফান্ডামেন্টাল ওব ইকনোমি ইস স্ট্রং'। এটা নিয়ে পরে মহা হৈ চৈ হয়। ওবামা এড ও করে একটা এ নিয়ে। ফলে ম্যাকেইন অনেকটাই ডেসপারেট পজিশনে চলে গিয়েছিলো - নতুন কিছু ডিরেকশন দেওয়া আক্ষরিক অর্থেই দরকার হয়ে পড়েছিল তার জন্য।

তবে ওবামার পজিশনটা ভিন্ন। এই ব্যাংকিক ধ্বস ওবামার জন্য শাপে বর! পোলিং এ তিনি গত সপ্তাহেও ম্যাকেইনের পিছনে চলে গিয়েছিলেন, এখন ইকোনমির পড়ন্ত অবস্থার কারণে জনগন রিপাবলিকান পার্টি ছেড়ে আবার ওবামার দিকে ঝুকেছে। এখন ওবামা ম্যাকেইনের চেয়ে ৪ পয়েন্ট এগিয়ে। তাই ওবামা সম্ভবত কোন ডেফিনিট প্ল্যান না দিয়ে 'খেলা দেখায়' অত্মনিয়োগ করেছে - দেখি না পরিস্থিতি কই যায় - এইরকম একটা ভাব আর কি। কিন্তু ম্যাকেইন যখন কিছু প্রস্তাব নিয়ে হাজির হয়েছে - বল এখন ওবামার কোর্টে চলে গেছে - ওবমা নিঃসন্দেহে এখন নতুন কিছু নিয়ে আসতে বাধ্য। আমার মনে হয় কাল পরশুই ডিটেল কিছু শুনতে পাব। দেখি কি হয়!



পান্ডুলিপি পোড়ে না। -- বুলগাকভ (মাস্টার এন্ড মার্গেরিটা)


পান্ডুলিপি পোড়ে না। -- বুলগাকভ (মাস্টার এন্ড মার্গেরিটা)

দিগন্ত এর ছবি

দুজনেই কিন্তু একই কথা বলছেন এখন - মানে রেগুলেটেড অর্থীতির কথা। এটা সব গণতান্ত্রিক দেশেরই স্বাভাবিক পন্থা, ঘা খেলেই সতর্ক হয়ে যায়। ওয়াল স্ট্ীটের লোভই যে এর মূলে এ নিয়ে কারো কোনো সংশয় নেই। তাই ওয়াল স্ট্ীটের ডানা ছাঁটাই এদের উদ্দেশ্য।


হাতি ঘোড়া গেল তল, মশা বলে কত জল।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

সৌরভ এর ছবি

আপনার এই পোস্টটা আজকে আংশিক সত্যি হলো।
"স্বাধীন ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক" - জিনিষটার আজ পরিসমাপ্তি ঘটলো। ওয়াল স্ট্রিটে টিকে থাকা শেষ দুটি ইন্ডেপেন্ডেন্ট ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাক্স আর মরগ্যান স্ট্যানলে কে ব্যাংক হোল্ডিং এ রুপান্তরের অনুমতি দিয়েছে ফেড।
রেগুলেশনের নিয়মকানুন পাল্টাবে তাতে, ফেড এর নজরদারি বাড়বে।

ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং এর ইতি ঘটবে না অবশ্য। সিটি, জেপিএম যেমনটা আছে, কমার্শিয়াল ব্যাংকের একটা অংশ হিসেবে টিকে থাকবে ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং।


আবার লিখবো হয়তো কোন দিন

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

পরিস্থিতির যা অবস্থা, তাতে মনে হয় ম্যাকেইন আর ওবামার মধ্যে যার বুদ্ধি বেশী যে ভোটে ইচ্ছে করে হারবে চোখ টিপি

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।