প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি: লটারিই কি সর্বশেষ সমাধান?

গৌতম এর ছবি
লিখেছেন গৌতম (তারিখ: সোম, ১৮/১০/২০১০ - ১১:২৩অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

রাজধানীর বিদ্যালয়গুলোতে প্রথম শ্রেণীতে শিশুদের ভর্তির ক্ষেত্রে যে অন্যায় প্রথা প্রচলিত রয়েছে বছরের পর বছর ধরে, সেটি অবসানের কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি ভিকারুননিসা নূন স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রথম শ্রেণীতে পরীক্ষার বদলে লটারির মাধ্যমে ভর্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্ত প্রশংসার দাবিদার। এর আগে এসওএস হারমান মেইনার, হলিক্রস ও ওয়াইডব্লিউসিএ বিদ্যালয়গুলো এ পদ্ধতি চালু করেছিল। বিদ্যালয়গুলোর এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। পাশাপাশি যে সমস্ত বিদ্যালয় এখনো প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি পরীক্ষা নিচ্ছে, তাদেরকেও অমানবিক এ পদ্ধতিটি বাদ দেওয়ার আহ্বান জানাই।

প্রথম শ্রেণীতে শিশুদের ভর্তি পরীক্ষা শুধু অমানবিক নয়, অন্যায়ও বটে। শিশুকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করানো হয় নানা ধরনের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে অনেক কিছু শেখানোর জন্য যেগুলোকে ভিত্তি করে সে পরবর্তী জীবনে সফলকাম হতে পারবে। কিন্তু যে শিশু সেই কর্মকাণ্ডের জগতে প্রবেশই করে নি, তার পরীক্ষা নিয়ে মেধা যাচাইয়ের প্রচলিত পদ্ধতিটি যে পুরোপুরি অন্যায় কাজ, সেটা উপলব্ধি করতে আমরা অনেক সময় পার করে ফেলেছি। সন্দেহ নেই, আসন সংখ্যার চেয়ে বেশি শিশুর ভর্তিচাহিদাই এই ব্যবস্থা তৈরি করেছিল। পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোও চেয়েছে তুলনামূলক মেধাবী শিক্ষার্থী ভর্তি করতে যাতে তারা পরবর্তীতে জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে বিদ্যালয়ের মুখ উজ্জ্বল করে। পদ্ধতিটি যে আদতে শিশুর জন্য ক্ষতিকর, তা হয়তো তখন গুরুত্ব দিয়ে ভাবা হয় নি। তাছাড়া এ পদ্ধতি শিশুদের জন্য অমানবিকও বটে। নিয়মানুযায়ী ছয় বছর বয়সে শিশুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার কথা। বয়স বিবেচনা করলে ভর্তির সময় শিশুকে কোনো ধরনের পরীক্ষায়ই অংশগ্রহণ করার কথা না; কারণ এটা কোনোভাবেই শিশুদের জন্য আনুষ্ঠানিক পরীক্ষার বয়স হতে পারে না। তাছাড়া কোনো কিছু না শিখেই যার বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার কথা, তাকে কেন কিছু নির্দিষ্ট বিষয়বস্তুর ওপর পরীক্ষা দিতে হবে? যে সমস্ত বিষয়ের ওপর প্রথম শ্রেণীতে ভর্তিচ্ছু শিশুদের পরীক্ষা নেওয়া হয়, সেগুলো তো তার বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরই শেখার কথা! ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুদের ও তাদের অভিভাবকদের এক ধরনের চাপে ফেলা হয় যাতে তারা বিদ্যালয়ে ভর্তির আগেই অনেক কিছু শিখে আসে। এতে বিদ্যালয়ের লাভ কিছুটা- তাদেরকে নতুন করে কিছু শুরু করতে হয় না বরং তারা বাড়তি কিছু পড়াতে পারে। এতে মূল ক্ষতি হয় শিশুদের। প্রতিটি শিশুরই বয়স অনুসারে ধারণক্ষমতা আছে এবং একটি শিশুকে যখন ধারণক্ষমতার বেশি শেখার জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে চাপ দেওয়া হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই তার মানসিক বিকাশ ব্যহত হয়। শিক্ষামনোবিজ্ঞানীরা শিশুদের এ শিক্ষাকে পরবর্তী জীবনের জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করেন।

প্রথম শ্রেণীতে এই ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে পূর্ববর্তী বছরগুলোতেও নানা কথাবার্তা হয়েছে; প্রতি বছরই অনেকে এ নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেন। পরীক্ষার হলে শিশুর ঢুকতে না চাওয়া ও তাকে জোর করে ঢুকানো; পরীক্ষার হলে কান্না বা পরীক্ষা শেষ হওয়ামাত্রই শিশুর মায়ের কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ার ছবি আমরা প্রতি বছরই পত্রিকার পাতায় দেখতে পাই। ভয়কাতুরে শিশুর মায়ের কোলে আসার এই ছবি খাঁচা থেকে মুক্তি পাওয়া পাখির ছটফটানির সমতূল্য। ভর্তি পরীক্ষা শিশুর মনে প্রথম দিনই পরাধীনতা ও খাঁচায় আবদ্ধতার যে অনুভূতি সৃষ্টি করে, তা সব শিশু কাটিয়ে উঠতে পারে কিনা জানি না; কিন্তু এটি কোনো অর্থেই শিশুর মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না।

অবাক হলেও সত্য, এই ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রচুর কোচিং সেন্টারও গড়ে উঠেছে এবং শিশুকে বছর ধরে সেখানে কিংবা প্রাইভেট শিক্ষকের কাছে প্রস্তুতি নিতে হয়। ভর্তি পরীক্ষায় যেসব ভয়াবহ প্রশ্ন আসে, সেগুলো না বুঝেই তাকে মুখস্ত করানো হয়। অভিভাবকদের টাকার হিসাব না হয় বাদই দিলাম। বিদ্যালয়ে নানা খেলাধুলা ও আনন্দদায়ক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যার বর্ণপরিচয় ঘটার কথা, তাকে ভর্তি পরীক্ষায় লিখতে হয় কঠিন সব প্রশ্নের উত্তর। যারা ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি করেন, তারা শিশুদের মনস্তত্ব যে একেবারেই বুঝেন না, তা ওই প্রশ্নপত্র দেখলেই টের পাওয়া যায়। আনুষ্ঠানিক শিক্ষায় প্রবেশের আগেই এই পরীক্ষা শিশুকে বুঝিয়ে দেয় যে, সারাজীবন তাকে এরকম নিরানন্দ মুখস্তবিদ্যার মধ্য দিয়ে যেতে হবে এবং ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি চাপই হবে তার পড়ালেখা জীবনের একমাত্র সঙ্গী। শিশুর মধ্যে এমন ভয়াবহ ধারণা প্রবেশ করিয়ে তার সুস্থ-স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠার অযৌক্তিক আকাঙ্ক্ষা অভিভাবকদের মধ্যে থাকলেও শিক্ষার নীতিনির্ধারকরা এই পদ্ধতিটিকে কীভাবে প্রশ্রয় দিলেন, তা বোধগম্য নয়। তারপরও আমাদের শিশুরা জীবনযুদ্ধে সাফল্যলাভ করেছে বা করছে; কিন্তু ব্যতিক্রম ছাড়া সম্ভবত প্রতিটি মানুষকেই পড়ালেখার ভূত তাড়িয়ে বেড়াতে হয় সারাজীবন।

প্রথম শ্রেণীতে শিক্ষার্থীর ভর্তির বয়স যদিও ছয় কিন্তু পরীক্ষায় সম্ভবত এর চেয়েও অধিক বয়সের শিক্ষার্থীই অংশ নেয় বেশি। অনেক অভিভাবকই তার শিশুকে পছন্দনীয় নির্দিষ্ট বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর জন্য দু-তিন বছর লস দেন বা তাকে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে একাধিক বছর ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করান। জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষায় কিছু বিদ্যালয়ের সুনাম দেখে বা এসব বিদ্যালয়ের পড়ালেখা ভালো হয় মনে করে অভিভাবকরা এ কাজগুলো করেন। এতে দুধরনের ক্ষতি হয়। যেসব শিক্ষার্থী যথাযথ বয়সে ভর্তি হয়, তারা ‘সিনিয়র সহপাঠী’দের সাথে পড়ালেখা বা অন্যান্য কর্মকাণ্ডে পেরে উঠে না যা তাদের মধ্যে মানসিক দূরত্বের সৃষ্টি করে। অপরদিকে যারা বেশি বয়সে ভর্তি হয়, তাদের একাধিক শিক্ষাবছর নষ্ট হয়, যার প্রভাব পড়ে পরবর্তীতে- জীবনযুদ্ধে। প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি পরীক্ষার এ ভয়াবহ চিত্রগুলো প্রতিবছরই উঠে আসে নানা আলোচনা ও লেখায়। কিন্তু কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া কোনো বিদ্যালয়ই বোধহয় এ নিয়ে মাথা ঘামাতে রাজি নয়।

প্রশ্ন হলো, এই লটারি পদ্ধতিই কি প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির শেষ সমাধান? কিংবা আদৌ কি এটি সমাধান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে? রাজধানীর বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির ক্ষেত্রে যে অবস্থা বিরাজ করছে, তাতে একে আপাতত সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে; কিন্তু কোনোমতেই এটিকে একমাত্র বা শেষ সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা উচিত হবে না। যেহেতু কিছু কিছু বিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার বিকল্প নিয়ে ভাবছে এবং এদের অনেকে এ পদ্ধতিকে আপাতসমাধান হিসেবে বিবেচনা করছে, এখন নীতিনির্ধারকদের উচিত হবে এর একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করা। লটারি পদ্ধতি বিদ্যালয়ে ভর্তির কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।

ভিকারুননিসা ও অন্যান্য বিদ্যালয় লটারি পদ্ধতিতে ভর্তির ব্যবস্থা চালু করলেও তাদেরকে বেশ কিছু সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে। প্রথমেই আসবে স্বচ্ছতার প্রশ্নটি। বিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রতিবছরই নানা দুর্নীতির কথা শোনা যায়। প্রভাবশালীদের সন্তানরা ভর্তি পরীক্ষা না দিয়েই ভর্তি হয়ে যায়, কিংবা ভর্তি পরীক্ষার আড়ালে টাকাপয়সা নিয়ে ভর্তিবাণিজ্য চলে- এমন কথাও শোনা যায়। লটারি পদ্ধতি সঠিকভাবে মানা হলে হয়তো এ প্রশ্নগুলো উঠবে না; কিন্তু সেজন্য দরকার স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত লটারি। স্বচ্ছতা না থাকলে এই পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। যেহেতু ভর্তির ক্ষেত্রে অস্বচ্ছতার অভিযোগ রয়েছে, তাই বিদ্যালয়গুলোর উচিত হবে লটারির পুরো কাজটি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে করান। এতে পদ্ধতিটির উপর অভিভাবকদের আস্থা থাকবে এবং শিক্ষার্থী ভর্তির সাথে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জড়িত বা পক্ষপাতিত্ব থাকার অভিযোগও দূর করা যাবে। এ সম্পর্কিত দুর্নীতির অভিযোগও এড়ানো যাবে। আর লটারির উপযুক্ত কারা হবে সে সম্পর্কিত কিছু সিদ্ধান্তও আগেই নিতে হবে। যেমন, নির্দিষ্ট বয়সের শিশু ছাড়া বেশি বা কম বয়সের শিশুর জন্য ভর্তি ফরম কেনা যাবে না। বয়স নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনে জন্মনিবন্ধন সনদ দেখে বা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য উপায় মেনে এ কাজটি করতে হবে। ফরম কেনার সহজ ব্যবস্থা চালু করতে হবে যাতে যুদ্ধ করে ফরম কিনতে না হয়। মোবাইল ফোন বা ইন্টারনেটে ফরম বিক্রির সুলভ ব্যবস্থা চালু করতে হবে। ভর্তি পরীক্ষার খরচ না থাকায় শুধু লটারি সম্পর্কিত খরচ হিসেব করে ফরমের দাম ঠিক করা ইত্যাদি বিষয়ে সিদ্ধান্ত আগেই নিতে হবে যেন লটারির কাজটি সুচারূভাবে সম্পন্ন করা যায়। ভর্তি পরীক্ষার চেয়ে লটারি প্রথায় অনেক বেশি অভিভাবক অংশগ্রহণ করবে বলে আশা করা যায়। সুতরাং এটা যেন আবার বিদ্যালয়ের জন্য বাণিজ্যে পরিণত না হয়, সে দিকটিও খেয়াল রাখতে হবে।

আগেই বলা হয়েছে, প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে লটারি কোনো স্থায়ী সমাধান হওয়া উচিত নয়। এটি কোনো সফিসটিকেটেড পদ্ধতি নয়; সুতরাং এর বিকল্পের কথা এখন থেকেই চিন্তা করা দরকার। এই চিন্তা করতে হবে নীতিনির্ধারকদের এবং তা সামগ্রিক চিন্তার অংশ হিসেবে। নীতিনির্ধারকদের প্রথম চিন্তাই হওয়া উচিত, প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি কেন, কোনো ধরনের সিলেকশনই যাতে না হয় সে উপায় বের করা। শিক্ষা কর্তৃপক্ষ যদি এখন থেকেই কাজ শুরু করে তাহলে সেটা করতে খুব বেশি সময় লাগার কথা না। সরকার কিছুদিন আগে একটি শিশু জরিপ করেছে এবং কোন এলাকায় কতো শিশু আছে সে তালিকা রয়েছে রয়েছে সরকারের কাছে। তালিকা ধরে কোন এলাকায় কী পরিমাণ বিদ্যালয় দরকার তা সহজেই বের করা সম্ভব। যদি কোনো এলাকায় চাহিদার চেয়ে কম বিদ্যালয় থাকে, তাহলে অবিলম্বে সেখানে বিদ্যালয় স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত কিংবা বর্তমান বিদ্যালয়সমূহ বর্ধিত করার সুযোগ থাকলে (শিফট বাড়ানোসহ) সেখানে অবকাঠামোগত ও অন্যান্য সুবিধা বাড়ানো উচিত। পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় যে সমস্ত মানসম্মত (এখানে নামকরা পড়াই সঙ্গত) বিদ্যালয় রয়েছে, অন্য বিদ্যালয়গুলো যেন সেগুলোর কাছাকাছি অবস্থানে যেতে পারে, সেরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। থাইল্যান্ডে অপেক্ষাকৃত দুর্বল বিদ্যালয় চিহ্নিত করে সেগুলোকে ‘আইসিইউ’ ক্যাটাগরিতে ফেলে বিদ্যালয়গুলোর দ্রুত উন্নয়নে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় সরকারের পক্ষ থেকে। সরকার চাইলে এ ধরনের কিছু কাজও করতে পারে। নতুন বিদ্যালয় স্থাপনের কাজটিও আগামী এক বছরের মধ্যেই করা সম্ভব। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যালয় ও আসন সংখ্যা দ্রুত নিশ্চিত করার পর যিনি যে এলাকায় বাস করেন, তার সন্তানকে সেই এলাকায় ভর্তি করাতে হবে এরকম বিধান করতে হবে। তখন যেহেতু প্রতিটি এলাকাতেই পর্যাপ্ত বিদ্যালয় থাকবে, সেহেতু কোনো অজুহাতেই অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিজ এলাকার বাইরে ভর্তি না করাতে পারে, সে ব্যবস্থা জোরালোভাবেই গ্রহণ করা উচিত। এতে সন্তান ও অভিভাবকদের যাতায়াতে যেমন সময় কম লাগবে, তেমনি এ ব্যবস্থা যানজট সমস্যা কিছুটা হলেও কমাতে পারবে। তারপরও যদি কোনো এলাকায় সব বিদ্যালয়ের আসন পূরণ হয়ে যায় একমাত্র তখনই অভিভাবক পাশের এলাকার বিদ্যালয়ে সন্তানকে ভর্তি করাতে পারবে। পুরো কাজটি কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটর করবে সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইনস্ট্রাক্টর।

মনে রাখা দরকার, কোনো বিদ্যালয় রাতারাতি ভালো হয়ে যায় না। রাজধানী ঢাকার যে বিদ্যালয়গুলো ভালো বলে খ্যাত, খোঁজ নিলে দেখা যাবে সে সব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের বাইরে প্রাইভেট শিক্ষক ও কোচিঙে সময় ব্যয় করে বেশি। বিদ্যালয়ে ভালো ফলাফল করার ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের অবদান বেশি নাকি এসব বাইরের পড়ালেখার অবদান বেশি, তা নিয়ে নানা মত রয়েছে। এ নিয়ে গবেষণাও হতে পারে। সুতরাং ভালো ফলাফলের জন্য বিদ্যালয়ই একমাত্র ফ্যাক্টর নয়। এই শিক্ষার্থীরা যখন নানা ধরনের বিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়বে, তখন সব বিদ্যালয়ই নিজেদের মধ্যে ভালো ফলাফলের প্রতিযোগিতা করতে পারবে। নামী আর অনামী বিদ্যালয়ের প্রচলিত দেয়াল ভেঙে ফেলা দরকার। সব বিদ্যালয়ই যেন একটি নির্দিষ্ট লেভেল পর্যন্ত মান অর্জন করতে পারে, কর্তৃপক্ষকে সেদিকে সচেতন হতে হবে। যদি কোনো নির্দিষ্ট বিদ্যালয় ও তাদের শিক্ষকবৃন্দ সত্যিকার অর্থেই মানসম্মত হন, তাহলে প্রয়োজনে সেই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ‘লিয়েনে’ অন্য বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার ব্যবস্থা করতে হবে। এতে অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেমন তুলনামূলকভাবে ভালো শিক্ষকের সংস্পর্শে আসবে, তেমনি অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও কীভাবে ভালোভাবে পড়াতে হয়, সেটি বুঝতে পারবেন। ভালোকে এক জায়গায় আবদ্ধ রাখলেই চলবে না, তা ছড়িয়ে দিতে হবে সব জায়গাতেই।

এ আলোচনার প্রাসঙ্গিকতা মূলত রাজধানী ঢাকা বা চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে, কারণ ভর্তি সংক্রান্ত সমস্যা এ দুটো শহরেই বেশি দেখা যায়। অন্যান্য শহরেও আস্তে আস্তে এটি সমস্যা হিসেবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। ঢাকা বা চট্টগ্রামের সমস্যাটি প্রকট বলে তার সমাধান এখনই করতে হবে। পাশাপাশি অন্যান্য শহর বা গ্রামে এটি যেন সমস্যা হয়ে উঠতে না পারে সে জন্য এখনই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। সারাদেশ যেন কেন্দ্রের মতো একই আলোতে এবং একই মাত্রায় আলোকিত হয়, সেই ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে শিক্ষা কখনোই উন্নয়নের হাতিয়ার হবে না।


মন্তব্য

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

ভালো লাগলো পোস্টটা।

গৌতম এর ছবি

ধন্যবাদ, প্রহরী। হাসি
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

অতিথি লেখক এর ছবি

পোস্টটা ভালো লাগলো
একটা ড্রব্যাক তুলে ধরতে চাচ্ছি। আমার ধারণা লটারী ম্যানিপুলেট করা অনেক সহজ। সো, টাকাওয়ালা অভিভাবকেরা এই সুযোগটা ভালোই কাজে লাগাবেন

গৌতম এর ছবি

ধন্যবাদ। হাসি

এবং সে কারণেই লটারির কাজটা যাতে অন্য কেউ করে, সেই সাজেশন থাকবে।
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

অতিথি লেখক এর ছবি

ঠিক কথা।
কোচিং এ পড়েই যদি ইসকুলে ভর্তি হতে হয়, তাহলে কোচিং-এই সারাজীবন পড়ব না কেন?
টিচার রোটেশান এর কনসেপ্টটা খুব ভাল। এতে করে "অমুক স্কুলেই আমার ময়নাকে ভর্তি করতে হবে" জাতীয় ক্লিশে মাইন্ডসেট এ পরিবর্তন আসবে।

সাত্যকি

গৌতম এর ছবি

মতামতের জন্য ধন্যবাদ।

আমাদের মাইন্ডসেটে পরিবর্তন আসুক- এটাই চাওয়া।
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

সচল জাহিদ এর ছবি

প্রয়োজনীয় পোষ্ট। বিভিন্ন দেশে কি ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয় এক্ষেত্রে তার আলোকে একটি সম্ভাব্য সমাধান বের করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে উন্নত দেশ যেমন ইউ এস, কানাডা, ইংল্যান্ড এর পাশাপাশি ভারত, দক্ষিন আফ্রিকা, চীন এই দেশগুলো কি পদ্ধতি গ্রহণ করছে তার একটু তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপন করা যেতে পারে। আর এই কাজটি করার জন্য আমাদের গৌতম দা কেই এগিয়ে আসতে হবে।

----------------------------------------------------------------------------
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
সচল জাহিদ ব্লগস্পট


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

গৌতম এর ছবি

এরকম একটা প্ল্যান ছিল। কিন্তু নেটের যা স্পিড, তথ্য খুঁজতে প্রচুর সময় নেয়। নতুন চাকরিতে ঢোকার পর প্রেসার অনেক বেড়ে গিয়েছে যে এই সময়টা পাই না। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কাজ করার একটা প্ল্যান আছে।

তবে যতোটুকু জানি, অনেক দেশে নিজ এলাকার বিদ্যালয়ে শিশুদের ভর্তি করানো হয়। ভালো স্কুল-খারাপ স্কুল ইত্যাদি কনসেপ্টই অনুপস্থিত অনেক জায়গায়। ভারতের কিছু কিছু জায়গায় এই লটারি সিস্টেম চালু আছে। অনেক দেশে বাধ্যতামূলকভাবে বাসিন্দাদের নিজ এলাকায় তাদের শিশুদের ভর্তি করাতে হয়।

আপনার প্রস্তাবটা আবারো টুকে রাখলাম। মালমশলা যোগাড় করতে পারলে আরেকটি পোস্ট দিব। হাসি অনেক ধন্যবাদ।
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

অতিথি লেখক এর ছবি

আপনার লেখাটা বেশ ভালো হয়েছে।
আমার ছোটভাইয়ের ভর্তির জন্যও সমস্যায় পরতে হয়েছিল, স্কুলের টীচারের কাছে কোচিং করিয়ে তারপর তাকে ভর্তি করাতে পেরেছিলাম।
আপনার সাজেশনগুলো বাইরের এডুকেশন সিস্টেমকে মনে করিয়ে দেয়। এখানে কি সুন্দর, কোন ভর্তি পরীক্ষা নেই। যে যার এলাকার স্কুলে ভর্তি হয়ে যায় নির্দিষ্ট বয়স হলেই। আর পড়াশুনাও হয় খুবই আনন্দময় পরিবেশে, একারণে এখানকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়ালেখা নিয়ে কোন ভীতি কাজ করেনা যেটা আমাদের মধ্যে প্রবল।

পাগল মন

গৌতম এর ছবি

আপনাকে ধন্যবাদ। আপনি কোথায় মানে কোন দেশে আছেন জানি না। সম্ভব হলে সেখানকার এডুকেশন সিস্টেম নিয়ে বিস্তারিত লেখা দিন।
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

স্বাধীন এর ছবি

প্রয়োজনীয় লেখা। তোমার সাথে সহমত। লটারী কোন স্থায়ী সমাধান নয়, তবে ছোট্ট শিশুগুলোকে পরীক্ষা নামক অমানবিক পদ্ধতি হতে মুক্ত করার জন্য একটি ভালো উদ্যোগ, তাই এই লটারীকে স্বাগত জানাই। লটারীগুলো বুয়েটে করা যেতে পারে। লটারী অবশ্যই তৃতীয় পক্ষ দিয়ে করানো উচিত কোন প্রকার অনিয়ম এড়ানোর জন্য।

স্থায়ী সমাধান হিসেবে কি হতে পারে সেগুলোও তোমার লেখায় চলে এসেছে। প্রথমত চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত স্কুল এবং সকল স্কুলে একটি সর্বনিম্ন মান বজায় রাখা। তাহলে অন্তত প্রাথমিক শিক্ষার জন্য সুদূর চীন গমনের প্রয়োজন পড়বে না। উপরে জাহিদের মন্তব্যটা ভেবে দেখতে পারো। লেখাটির জন্য ধন্যবাদ।

গৌতম এর ছবি

জাহিদ ভাইয়ের পরামর্শটা এমনিতেও মাথায় ছিল, তিনি বলার পর বিষয়টা নিয়ে আরো সিরিয়াসলি ভাবছি। আসলে অনেক উৎসাহ চলে যায় এই নেটে বসলেই। যা স্পিড! একেকটা পেজ ওপেন হতেই কয়েক মিনিট চলে যায় মাঝে মাঝে। মন খারাপ

শুধু প্রাথমিক শ্রেণীতে ভর্তি নয়, শিক্ষার নানা বিষয় নিয়ে এরকম অনেক সমাধান অনেকে দেন। কিন্তু কোনো কিছুই আসলে আমাদের নীতিনির্ধারকরা আমলে নেন না। আমার একটি লেখা ছিল নির্বাহী আদেশে চললে এমনই হওয়ার কথা শিরোনামে। সেখানে আমি বলেছিলাম, আমাদের দেশে শিক্ষা যতোদিন নির্বাহী আদেশে চলবে, ততোদিন এমন অনেক সমস্যা দেখা দিবে, সেগুলোর সমাধানের কথা অনেকে বলবে কিন্তু আপাতস্থায়ী কোনো সমাধান হবে না। এক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হবে বলে মনে করি না।
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

নাশতারান এর ছবি


সাড়ে ছয় বছর বয়সে যখন দেশে আসি, স্কুলের পরিবেশের সাথে একদমই অপরিচিত আমি। প্রথমে একটা কোচিং-এ ভর্তি করা হলো। সেখানে কী একটা ছড়া লিখতে দিলো ছাতামাথা পারি না কিছু না। নিজে বানিয়ে বানিয়ে ছড়া লিখে দিয়ে আসলাম। ভিকারুন্নিসা, অগ্রণী, আইডিয়ালে পরীক্ষা দিয়েছিলাম। ভিকারুন্নিসায় ডোনেশান চেয়েছিলো। আইডিয়ালে লিখিত পরীক্ষায় টিকেছিলাম, অগ্রণীতে ভর্তিও হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু হলিক্রসে সুযোগ পাওয়ার আর ওসব স্কুলে যাই নি। পরীক্ষা নিয়ে ভীতি ছিলো না কোনো, তবে আব্বু-আম্মুকে ছেড়ে একা একা পরীক্ষা দিতে গিয়ে ভয় পেয়েছিলাম প্রথম দিন। অগ্রণীতে আবার দেখেছিলাম আমার কাছে বসা এক মেয়েকে এক শিক্ষিকা(ওই বাচ্চার আত্মীয়া) ফিসফিস করে উত্তর বলে দিচ্ছেন। আইডিয়ালে আমার পাশে বসা ছেলেটার নাম ছিলো আপেল। কোনো মানুষের নাম যে আপেল হতে পারে সেদিনই জানলাম। পরীক্ষার হল থেকে বের হয়ে আম্মু-আব্বুকে ছুটে সেই খবরটাই দিয়েছিলাম সবার আগে।

হলিক্রসে লটারি ছাড়াও ইন্টারভিউ হয়। সেখানে তারা বাচ্চার দাঁত গুণে, ডান হাত দিয়ে বাম কান ধরিয়ে বয়স যাচাই করেন। তাঁরা আনকোরা অশিক্ষিত বাচ্চা চান যাতে নিজেরা গড়েপিটে নিতে পারেন। আগে থেকে পড়ালেখা জানা সেখানে অযোগ্যতা।


ঢাকার জ্যামের যে অবস্থা, প্রত্যেক এলাকায় পর্যাপ্ত ভালো স্কুল, হাসপাতাল না থাকলে কপালে দুঃখ আছে।

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

গৌতম এর ছবি

আপেল ভাই এখন কেমন আছেন? চোখ টিপি

প্রথম শ্রেনীতে ভর্তির ক্ষেত্রে আগে থেকে পড়ালেখা জানা অযোগ্যতাই হওয়া উচিত। আর ডান হাত দিয়ে বাম কানে ধরানোটা বয়স যাচাই করার এটা অন্যতম নির্ভরযোগ্য উপায়।

আপনারে কোন কানে ধরে দাড় করিয়ে রাখতো? চোখ টিপি
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

নাশতারান এর ছবি

হায়! কে জানে কোথায় সেই আপেলকুমার? আইডিয়ালে তো ভাইভা-ই দিলাম না আর! Smiley

আর হ্যাঁ, দুই কানে ধরেই দাঁড়াতাম। Smiley

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

গৌতম এর ছবি

বেচারা আপেলকুমার আজো আপনাকে মনে করে। চোখ টিপি

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

অতিথি লেখক এর ছবি

খুবই ভালো লেখা।
আমাদের সব সমস্যার শেষ সমাধান সঠিক পরিকল্পনা। পরিকল্পনাহীনতা আর অসৎ মানসিকতা পরিহার করতে পারলে আর কিছুই লাগতো না। ১৫-২০ লাখ লোকের জন্য পরিকল্পিত একটি শহরে যদি এককোটি লোককে বাস করতে হয়, তাহলে সবকিছুতেই সমস্যা হবার কথা এবং সেটিই হচ্ছে।
আর আমাদের নীতিনির্ধারকদের মানসিকতা না বদলালে এই দেশে পরিকল্পনা বাস্তবায়নও অসম্ভব। ড্যাপ নিয়ে কি হলো/হচ্ছে সেটা আমরা দেখছি, এখন যদি নতুন করে স্কুল স্হাপন শুরু হয়, তাহলে আমাদের এমপি/মন্ত্রি/নেতারা সেটার কি অবস্হা করবেন সেটা ভাববার বিষয়।

এলাকা ভিত্তিক ভর্তির ব্যাপারটা খুবই যৌক্তিক। মেলবোর্নে সরকারি প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি এলাকাভিত্তিক তবে সিট খালি থাকলে অন্য এলাকা থেকেও ভর্তি হতে পারে, অবশ্য বেসরকারি স্কুলের ক্ষেত্রে এরকম কোন নিয়ম নেই।

চিন্তার খোরাক যোগাচ্ছে, লেখার জন্যে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

সাফায়েত
-----------------------------------------------------------------------------
তোমায় দেখলে ইচ্ছে করে শুরু থেকে শুরু করি আবার জীবন...........

গৌতম এর ছবি

আপনার মেলবোর্নের অভিজ্ঞতাটা শুনে ভালো লাগলো। ওখানকার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কিছু লেখা কি দিতে পারেন? অন্তত বাংলাদেশে যে যে জায়গাগুলোতে আমরা সমস্যা অনুভব করি, সেই ক্ষেত্রগুলোতে তাদের অবস্থান কীরকম সেটা জানা গেলে উপকৃত হতে পারি।
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

অতিথি লেখক এর ছবি

প্রথম আলোতে একবার প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি পরিক্ষার মডেল প্রশ্নপত্র ছাপা হয়েছিলো !!!

http://www.prothom-alo.com/detail/date/2010-10-19/news/28330

কিছু কিছু প্রশ্ন তো আমি নিজেই পারছি না, খাইছে

এ মুহুর্তে লটারি ছাড়া আর কীইবা করার আছে? আস্তে আস্তে শিশু যে এলাকায় বাস করছে, সে এলাকার স্কুলে ভর্তি করার নিয়ম চালু করতে হবে। এ নিয়ম হলে স্থানীয় শিক্ষিত মানুষজনের মধ্যে ভালো স্কুল তৈরি করার প্রবণতা তৈরি হবে। সবাই এর জন্য ভালোভাবে চেষ্টাও করবে। তাদের নিজেদের স্বার্থেই এটা করতে হবে।

গৌতম এর ছবি

লটারি অবশ্যই এই মুহূর্তের সমাধান; কিন্তু স্থায়ী সমাধান না। স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা চালানো উচিত আমাদের।

ধন্যবাদ।
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

নৈষাদ এর ছবি

চমৎকার ভাবে বিষয়টা তুলে এনেছেন। প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির কোচিং এর নামে শিশুদের একরকমের অমানবিক ব্যাপারের মধ্য দিয়ে যেতে হয় বলে মনে হয়েছে আমার।

গৌতম এর ছবি

পুরো বিষয়টা যে অমানবিক সেটাই আমাদের শিক্ষক, অভিভাবক আর নীতিনির্ধারকরা বুঝে না। অমানবিকতার এই অনুভূতিটা টের পায় শুধু শিশুরা।
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

স্বপ্নাহত এর ছবি

উপরের মডেল টেস্টের লিংকটা গিয়ে দেখলাম। সত্যিকার অর্থেই ডরাইসি। আমার মাথায় ঢোকেনা বড় বড় বয়সের এইসব বড় বড় মানুষেরা কিভাবে এত ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের উপর এমন অন্যায় করতে পারেন। যে বয়সটা হেসে খেলে কাটাবার কথা, সে বয়সেই তাদের মাথায় ঢুকিয়ে দেয়া হয় - দেখো , জীবনটা কত বিশ্রী, আর পঁচা। এখানে টিকে থাকতে হলে তোমাকে এখন থেকেই পরীক্ষার পর পরীক্ষা দিতে হবে। এটা স্রেফ অন্যায়, অমানবিক এবং আমার মতে- শাস্তিযোগ্য অপরাধ। রাষ্ট্রের এসব ব্যাপারে চোখ বন্ধ করে থাকার নীতি একদম ভালো লাগেনা।

সেই অর্থে নিজেকে খুব ভাগ্যবান লাগে যে আমার বেড়ে ওঠা, আর পড়াশোনা ঢাকা শহরে হয়নি। কিংবা এই সময়টাতে জন্মগ্রহণ করতে হয়নি।

---------------------------------

বাঁইচ্যা আছি

---------------------------------

বাঁইচ্যা আছি

গৌতম এর ছবি

আগে এসব ব্যাপারে আমি ব্যক্তিগতভাবে বিদ্যালয়কে দোষারোপ করতাম; এখন আর করি না। এগুলো দেখার দায়িত্ব আসলে রাষ্ট্রের। বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে আমি অন্তত এটুকু আশাবাদী যে, এগুলো যে সমস্যা, তিনি সেগুলো বেশ ভালোভাবেই বুঝতে পারেন।
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

১. প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি পরীক্ষা সমর্থণ করিনা, লটারীও সমর্থণ করিনা। প্রথমটা অন্যায় আর দ্বিতীয়টাতে দুর্নীতির সুযোগ প্রচুর - তা সে যে-ই নিক না কেন।

২. কিছু স্কুলে বাবা-মায়ের ইন্টারভিউ নেয়া হয় (আমি নিজেই অমন ইন্টারভিউ দিয়েছি), কিছু স্কুলে পরিবারের আর্থ-সামাজিক অবস্থান হিসাব করা হয়। এগুলোও সমর্থণ করিনা, এগুলো অবমাননাকর।

৩. প্রাথমিক পর্যায়ে একমুখী, অবৈতনিক, বাধ্যতামূলক শিক্ষা চালু করা দরকার। স্কুলের কোনো নাম থাকবে না, নম্বর থাকবে (যেমন, ৩৪ নং প্রাথমিক বিদ্যালয়)। কোনো স্কুলে শুধুমাত্র ঐ কমান্ড এরিয়ার শিশুরা ভর্তি হতে পারবে। কোনো এলাকায় শিশুর সংখ্যা বেশি হলে অনুমতিসাপেক্ষে তার নিকটস্থ কমান্ড এরিয়ার স্কুলে ভর্তি হতে পারবে। শিক্ষকদের অঞ্চলভিত্তিক পুল থাকতে হবে। দশ-বারোটি কমান্ড এরিয়া মিলিয়ে একটি অঞ্চল গঠন করে পুলভূক্ত শিক্ষকদের দুই বছর পর পর ঐ অঞ্চলের মধ্যেই স্কুল বদলাতে হবে।

৪. সব স্কুলে পাঠক্রম, পাঠ্যসূচী, পাঠ্যপুস্তক, পাঠপদ্ধতি, মূল্যায়ন পদ্ধতি, নির্দেশনা পদ্ধতি, শিক্ষার্থীর ব্যয়ভার একই হতে হবে (ইউনিফর্ম কোড)। বিনা প্রশিক্ষণে কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেয়া যাবেনা। প্রশিক্ষণের বা ইউনিফর্ম কোডের পরিপন্থী আচরণ করলে শিক্ষক বা প্রশাসকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

আরো চিন্তা-ভাবনা আছে, মনে পড়লে লিখবো।



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

গৌতম এর ছবি

১. ঠিক। লটারি হলো মন্দের ভালো। একে কোনোভাবেই স্থায়ী করা যাবে না।

২. এসব বিদ্যালয়ে পিতামাতার ইন্টারভিউ নেওয়া হয় সন্তানের পড়ালেখার খরচ চালাতে পারবে কিনা শুধু সেটা জানার জন্য। অভিভাবকের পকেটের ব্যাপারে নিঃসন্দেহ হয়েই তারা বাচ্চা ভর্তি করায়।

৩. স্কুলের নাম থাকতে পারে, সেটা বড় কোনো সমস্যা না। আর এরকম স্কুলভিত্তিক এরিয়া সারা দেশেই আছে যেটাকে ক্যাচমেন্ট এরিয়া বলা হয়।

৪. এই স্বপ্ন আমরা সবাই দেখি। স্বপ্ন দেখতে তো আর পয়সা লাগে না!

আরো চিন্তাভাবনাগুলো লিখেন না কেন? আপনাদের আলসেমির কারণেই আজকে দেশের এই অবস্থা!
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

২. উঁহু, এখানে শুধু বাবা-মায়ের পকেটের অবস্থা দেখা হয়না। অনেক স্কুল আছে যেখানে খুব ধনী ঘরের বাচ্চা ভর্তি করেনা, উল্টা-পাল্টা কারণ দেখিয়ে বা কোন কারণ না দেখিয়ে বাদ দেয়। পার্টিকুলার কিছু প্রফেশনের মানুষের বাচ্চাদেরও কিছু স্কুলে বাদ দেয়া হয়। কিছু স্কুল চেষ্টা করে একটা বিশেষ হোমোজেনিয়াস সোশ্যাল স্ট্যাটাসের পরিবারের বাচ্চাদের নিতে। আরো অনেক ফ্যাঁকড়া আছে। একটু খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন।

৩. বাংলাদেশে স্কুলের নাম থাকা একটা বিরাট সমস্যা। এটা বন্ধ হওয়া দরকার।

৪. পরিকল্পনা আর স্বপ্নের মধ্যে বিরাট পার্থক্য আছে। পরিকল্পনা নিয়ে নানা ভাবে নানা ফোরামে কথা বলে (যেহেতু আমাদের হাতে শাসন ক্ষমতা নেই) সেটার ত্রুটি সংশোধন ও সেটার গ্রহনযোগ্যতা তৈরি করতে হয়। তাহলে কোন না কোন সময় সেই পরিকল্পনার কোনো না কোনো অংশ সরকারের কানে পৌঁছাবে এবং কখনো তা বাস্তবায়নের কথা সরকার ভাববে। এসব নিয়ে সামাজিক আন্দোলন তৈরি করার মতো সুশীল চিন্তা আমি করিনা, তার দরকারও নেই। আর ম্যাক্রো লেভেলে স্বপ্নের ব্যাপারটা একচেটিয়া সরকারী দলের হাতে থাকে। ওখানে আমাদের ভাগ নেই।

শিক্ষা বিষয়ক চিন্তা-ভাবনা লেখার সাহস নেই। কারণ, এই বিষয়টাতে আমার কোনো পড়া-শোনা নেই। বিশেষজ্ঞ কেউ লিখলে সেখানে কোথাও যদি নিজের ভিন্ন ভাবনার কথা বলার সুযোগ থাকে তাহলে বলার চেষ্টা করি, এই টুকুই।



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

স্পর্শ এর ছবি

আমার মনে হয় নামের বদলে নাম্বারদিলেও কিছু কিছু নাম্বার শেষমেষ ঠিকই 'হটকেক'এ পরিণত হবে। (Disco 82 এর মতো কোনো একটা স্কুল ৩৭ নিয়ে সবাই মাতবে তখন)

আর আপনি যে পয়েন্টগুলো বললেন সেগুলো সবই ঠিক। তবে মজার ব্যাপার হলো এক সঙ্গে সবগুলো ইম্পলিমেন্ট করা ফিজিবল না। সে ক্ষেত্রে আমাদের স্টেপ নিতে হবে অনেকটা 'ইভোলিউশন' স্টাইলে। মানে একটু একটু করে ব্যবস্থাটার বিবর্তন।

এবং সেটাই যদি হয় তাহলে আপনি আপনার বলা পয়েন্টগুলোর গুরুত্ব বা ফিজিবিলিটির ক্রম অনুসারে সাজালে ভালো হতো। বা কোন পরিবর্তনটা সবার আগে করলে সিস্টেম স্টেবল থাকে। তারপর কোনটা, তারপর কোনটা... সেভাবে।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

গৌতম এর ছবি

২. সেটা ঠিক আছে। বিশেষ করে দূতাবাসপাড়ার বিদ্যালয়গুলোর এই বদনাম আছে। তবে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে টাকাটাই প্রধান।

৩. শিশুদের কাছে নম্বরের চেয়ে নামের আবেদন বেশি। বিদ্যালয়ের সুন্দর নাম রাখতে হয় শিশুদের জন্যই। অনানুষ্ঠানিকভাবে এসব নাম দিয়েই শিশুদের অনেক কিছু শেখানোর কথা (যদিও সেটার চর্চা হয় খুবই কম)। যে কারণে আজকাল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষের পর্যন্ত নাম দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন মনীষীর, স্থান বা আকর্ষণীয় কিছু নামে। উদ্দেশ্যে এভাবে তাদেরকে এই মানুষগুলো বা বিষয়বস্তুর সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। অনেক বিদ্যালয়ে এই বিষয়টা নিয়ে পাইলটিং করে খুবই ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে- কম কষ্টে, কম আয়াসে, উৎসাহমূলকভাবে শিশুরা এগুলো জানতে পারছে। সুতরাং নামের ব্যাপারে এই অবস্থানটা সমর্থন করতে পারছি না।

৪. অধিকাংশ কথাই সত্যি।

সব বিষয় যদি বিশেষজ্ঞরা লিখে, তাহলে অ-বিশেষজ্ঞদের ভাবনা জানাটা সীমিত হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা না হয় এগুলো নিয়ে বড় বড় রিসার্চ পেপার লিখুক, আমরা না হয় ব্লগেই লিখি। বিশেষজ্ঞ না হয়েও তো আমরা আমাদের মতামত অন্যদের সামনে তুলে ধরতে পারি, সেগুলো নিয়ে কিছু কথাবার্তা বলতে পারি। সেটা কি কম কিছু?
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

সাইফ তাহসিন এর ছবি

২ নাম্বারের সাথে ব্যাপকভাবে সহমত। আমার ভাতিজাদের ভর্তি করা হয়েছে ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলে (ব্যক্তিগতভাবে আমি সমর্থন করি না, কারণ আমি গভ: ল্যাব এবং পরে রেসি: মডেল এর ছাত্র)। তার ভর্তির জন্যে ফর্ম পূরণ করা হয়েছিল সানবিম, সাউথব্রিজ সহ আরো কিছু স্কুলে। বিশেষকরে সানবিম নিয়ে আমার এমন অ্যালার্জী হয়েছে তারপর থেকে, বাবা-মা কি করে, তাদের বাবা-মারা কি করেন, চাচা, মামা, খালারা কি করেন, ইত্যাদি, তারপর লম্বা ইন্টারভিউ। এই স্কুলের প্রিন্সিপাল এক মহিলা, আমি কখনও ইনার সামনাসামনি হলে অনেক কথা বলার আছে। এই লম্বা চওড়া স্ক্রিন তারা ২০১০ সালে এসে কি মুখে করেন, এবং এই স্ক্রিন দিয়ে ডিস্ক্রিমিনেশন এর যে নিদর্শন তারা স্থাপন করছেন, তা থেকে তাদের কি মানসিকতার প্রকাশ পায়? আর এই মানসিকতার পর সেখানে বাচ্চাদের পাঠানো কতটা যুক্তিযুক্ত? আমি যখন রাজশাহী গভ: ল্যাবে পড়তাম, তখন আমার সহপাঠীর মধ্যে কৃষকের সন্তান থেকে শুরু করে ডাক্তার, ইন্জিনিয়ার, সাংসদ সব রকম পেশার এবং সামাজিক অবস্থানের মানুষ ছিল। এই কারণে আমি আজও গর্বিত, এই ভিন্ন সামাজিক অবস্থান আমাকে অনেক রকমের জিনিস শিখিয়েছে যা এই কন্ট্রোলড্ স্কুল গুলোতে চিন্তাও করা যায়না।

লটারি ব্যবস্থা আরো দূর্নীতি ছাড়া আর কিছু বয়ে আনবে বলে মনে হয় না। দেখা যাক, কি হয়। একমাত্র সমাধান, পাড়ার ছেলে পাড়ার স্কুলে পড়বে, ইংরেজি বাংলা জগাখিচুড়ি মিডিয়াম বিদায় হবে, একই সিলেবাসে একই বইয়ে পড়াশোনা হবে। আর তারজন্যে শিফটে শিফটে স্কুল হবে, এবং নতুন স্কুল করতে হবে।
=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

গৌতম এর ছবি

শেষ প্যারার শেষ তিনটা লাইন কয়েকবার পড়লাম। বস কি স্বপ্ন দেখতেছেন?
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

রাগিব এর ছবি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কথা যতটুকু জানি, এখানে সরকারী স্কুল প্রচুর, বেসরকারী কম। আর সরকারী স্কুলের নিয়ম হলো, যারা যে এলাকায় থাকে তারা সে এলাকার স্কুলে যাবে, ভর্তি পরীক্ষার বালাই নেই। সন্তানকে কোনো ভালো স্কুলে পড়াতে হলে বাবা মায়েরা সেই এলাকায় বাড়ি কিনেন বা বাসা ভাড়া নেন। তবে বেসরকারী স্কুলের ক্ষেত্রে এরকম বাধানিষেধ নেই। তবে তার ফি আকাশ ছোয়া।

----

স্কুলের ১ম শ্রেণীতে ভর্তি পরীক্ষা নেয়াটা চরম অমানবিক একটা ব্যাপার। লটারি করাটাও দুর্নীতিকে বাড়াবে, কিন্তু ভর্তি পরীক্ষার চেয়ে সেটা ভালো।

----------------
গণক মিস্তিরি
মায়ানগর, আম্রিকা
ওয়েবসাইট | টুইটার

----------------
গণক মিস্তিরি
জাদুনগর, আম্রিকা
ওয়েবসাইট | শিক্ষক.কম | যন্ত্রগণক.কম

গৌতম এর ছবি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিস্টেমটা জেনে ভালো লাগলো।

আমরা অনেকেই ঢালাওভাবে বেসরকারিকরণের পক্ষে কথা বলি। কিন্তু শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদির মতো মৌলিক রাষ্ট্রীয় সেবাখাতসমূহ বেসরকারি হলে কতোটুকু দুর্ভোগ পোহাতে হয়, সেটা এসব ঘটনা থেকে পরিষ্কার।
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

Murshed এর ছবি

Catchment area concept is good but it got its own problem. I live in UK (temporarily) and I found that schools that are situated at comparatively better area (where educated and posh families reside) performs better. So it is the family environment that makes the difference here in UK which reflects in school's performance. So everybody try to get a house in that school's catchment area. However, private schools dont follow that rule and they do better.

গৌতম এর ছবি

ওই ক্যাচমেন্ট এরিয়া আর বাংলাদেশের ক্যাচমেন্ট এরিয়া একরকম না। বাংলাদেশে মূলত একেকটি এলাকায় কতো শিশু আছে, সেখানে কয়টি বিদ্যালয় আছে এবং এলাকায় কয়টি গ্রাম ও গ্রামের আয়তন কতো, ইত্যাদি নানা বিষয় দেখে ক্যাচমেন্ট এরিয়া ঠিক করা হয়েছে। উদ্দেশ্য হচ্ছে, শিশু যে ক্যাচমেন্ট এরিয়ায় বসবাস করে, সেই এলাকায় অন্তত একটি বিদ্যালয় থাকা যাতে ওই ক্যাচমেন্ট এরিয়ার সব শিশু বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পায়।
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

সুলতানা পারভীন শিমুল এর ছবি

চলুক
লটারীর সিস্টেম আমার বেশ ভাল্লাগসে। অতো ছোট বাচ্চাদের মেধা যাচাইয়ের তেমন কিছু নাইও।

...........................

একটি নিমেষ ধরতে চেয়ে আমার এমন কাঙালপনা

...........................

একটি নিমেষ ধরতে চেয়ে আমার এমন কাঙালপনা

গৌতম এর ছবি

'তেমন' মানে কী শিমুলাপা?
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

বাউলিয়ানা এর ছবি

দারুন পোষ্ট গৌতমদা চলুক

ভাবতেই খারাপ লাগে, আর কয়দিন পরেই ছোট ছোট বাচ্চাগুলারে নিয়া মা-বাবার দৌড়ানি শুরু হবে ভর্তি পরীক্ষার জন্য। যত দ্রুত সম্ভব এর সমাধান করা দরকার।

গৌতম এর ছবি

ধন্যবাদ বাউলিয়ানা। এই দৌড়ানি দ্রুত বন্ধ হওয়া দরকার।
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

অতিথি লেখক এর ছবি

না হলো না।
যাঁরা লটারীকে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার চেয়ে শ্রেয়তর বলছেন, তাঁদেরকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, উচ্চশিক্ষার এলিট প্রতিষ্ঠানগুলোতেও এরকম লটারীর মাধ্যমে শিক্ষার্থী নেয়া হোক, তাঁরা কি মেনে নেবেন? না। তাহলে এই দ্বৈততা কেন?
আমার কাছে ব্যাপারটাকে দ্বৈততা কেন মনে হচ্ছে বুঝিয়ে বলি। আমাদের দেশের মুল সমস্যাটা হলো, ভালো শিক্ষার অভাব। ধরুন, যেসব শিক্ষার্থী ভালো স্কুলগুলোতে ঢুকতে পারবেন, অনেকটা ধরে নেয়া যায় তাদের জীবনের ভবিষ্যত নিয়ে তেমন চিন্তা নাই। উপরের মন্তব্যে একজন বলেছেন, হলিক্রসে শিক্ষার্থীদেরকে তাদের স্কুলের শিক্ষকরাই গড়ে নেন। এখন প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের কয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবস্থা এরকম? আঙ্গুলে গোনা যাবে। এজন্যই অভিভাবকেরা মরিয়া হয়ে ওঠেন ভালো স্কুল বলে পরিচিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে তাঁদের সন্তানদেরকে ভর্তি করাতে। ঠিক যেমন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের একজন শিক্ষার্থী চাইবে, ভালো একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢকুতে, যেখানে তার ভবিষ্যত বিনির্মান হবে।
এখানেই হলো, মুল সমস্যা। লটারির মধ্যমে ভর্তির ব্যাপারটা এরকম দাঁড়াচ্ছে যে যাদের কপাল ভালো, তাদেরকেই এই দেশ গড়ে তুলবে। ব্যাপারটা কতুটুকু নৈতিক হলো?
আসল এদেশের লক্ষ সমস্যার উৎসমুল 'জনসংখ্যার আধিক্য'। সরকারের BSC এর প্রথম হওয়া, PhD ডিগ্রী ধারী যেসব মহাপন্ডিতেরা একসময় জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের শ্লোগান বানিয়েছিলেন, 'ছেলে হোক, মেয়ে হকো দুটি সন্তানই যথেষ্ট' তাঁরা '২' মর্তবা ঠাহর করেন নাই। এক্সপোনেনশিয়াল গ্রোথ সম্পর্কেও তাঁদের ধারনা নাই।
এই মুহুর্তে যদি সমাধানের কথা বলি, তাহলে আমাদের সামনে নীতিগতভাবে দুটি পথ খোলা আছে। ১. আমরা এলিটিস্ট সমাজ ব্যবস্থার দিকে যেতে পারি ২. আমরা সোসিয়ালিস্ট ব্যবস্থার দিকে যেতে।
এটা পরিষ্কার যে এলিটিস্ট সমাজ বিনির্মাণের দৃষ্টিভঙ্গী এবং পন্থা সমাজবাদী পন্থা থেকে ভিন্ন। এলিটিস্ট সমাজ চমক দিতে পারে। People would stand in awe and wonder before your creation. মানুষ তাব্দা খেয়ে যাবে। তার জন্য আপনার প্রয়োজন একঝাঁক মেধাবী কর্মবীর। তারা দেশের কোথা থেকে কিভাবে আসবে, কিভাবে নিজেদের প্রস্তুত করবে, সেগুলা নিয়ে ভাবলে চলবেনা। তারা যেখানেই থাকুক তাদেরকে একত্র করতে হবে। যেমন, বর্তমানের কথিত ভালো স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো করছে। তখন সমাজের পাল্লাটা স্বাভাবিকভাবেই অসমান হয়ে যাবে।
কিন্তু, আপনি যদি সমজাবাদী ব্যবস্থার দিকে যেতে চান, তাহলে আপনাকে প্রতিটি এলিটিস্ট পন্থা এবং পদ্ধতিকে ধ্বংস করে দিতে হবে। আপনার প্রথম এবং প্রধান কাজ হবে, মেধাকে সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়া। যখনই দেখবেন কোন স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুইজন নামী শিক্ষক আছেন অন্যদিকে অন্য একটি স্কুলে একজনও নাই, আপনার উচিত হবে ঐ দুই শিক্ষকের একজনকে সেখানে পাঠিয়ে দেয়া। ঠিক তেমনি, মেধাবী শিক্ষার্থীরাও যেনো কেন্দ্রীভুত না হয়ে ছড়িয়ে থাকে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

এখন যদি এলিটিস্ট পন্থায় যেতে হয়, তাহলে আগা-গোড়াই এক নীতিতে অটল থাকতে হবে। অর্থাৎ, একটা প্রতিষ্ঠান সব ভালো শিক্ষার্থী জোগাড় করতে চাইলে, সেই স্বাধীনতা তাকে দিতে হবে। ভর্তি পরীক্ষা যতো কঠিন এবং অমানবিকই হোক।

অন্যদিকে, আপনি যদি সোসিয়ালিস্ট পন্থায় যান, তবে শুধু স্কুল না, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় সবখানেই তা করতে হবে। ভালো শিক্ষকদের ছড়িয়ে দিতে হবে। ভালো শিক্ষার্থীদেরও ছড়িয়ে দিতে হবে।

খিচুড়ীর মতো উপাদেয় খাদ্য পরিত্যাগে আমাদের অনীহা এই আমাদের সমস্যা।

সাজ্জাদ বিন কামাল

স্বাধীন এর ছবি

খিঁচুড়ীর মত উপাদেয় খাদ্যকে কেন পরিত্যাগ করতে হবে সেই যুক্তি কিন্তু আপনার মন্তব্যে পেলাম না। কেন হয় পুঁজিবাদ নয়তো সমাজবাদই মেনে নিতে হবে সেটা বুঝলাম না। মিশ্রবাদ হলে ক্ষতি কি, সেই যুক্তিটি আগে উপস্থাপন করুন। আমি তো মনে করি খিঁচুড়ী উপাদেয় হলে সারাজীবন খিঁচুড়ী খাওয়াই বুদ্ধিমান, শুধু চাল অথবা শুধু ডাল খাওয়ার চেয়ে। কি বলেন?

অতিথি লেখক এর ছবি

খিঁচুড়ীর মত উপাদেয় খাদ্যকে কেন পরিত্যাগ করতে হবে সেই যুক্তি কিন্তু আপনার মন্তব্যে পেলাম না।

Well, খিঁচুড়ী বলতে বোঝাতে চেয়েছি আমাদের মিশ্র এবং ইনকনসিস্টেন্ট নীতিবোধকে। নীতিবোধটা এমন, যেটা আমার ভালো হবে, সেটা চাইই। যেখানে আমার ক্ষতি হবে সেটা অবশ্যই চাইনা। যেখানে আমার লাভ-ক্ষতি নাই, সেখানে একটা করলেই হয় (পাবের খেয়াল যেদিকে, আমিও সেদিকে)।
আপাত: দৃষ্টিতে এই চাওয়াগুলো নিরপরাধ মনে হলেও বৃহত্তর পরিসরে এগুলো সাংঘর্ষিক হতে বাধ্য। আমার যেটায় লাভ হবে, আপনার সেটায় ক্ষতি হলে, কোনটা বেছে নেওয়া হবে? সেটা নির্ভর করবে, আমার বা আপনার, স্টেইটাস (সায়েবি টোনের ইংরেজী লেখলাম) এর উপর। সেই জিনিস নির্ভর করে, একজনের অর্থনৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ইত্যাদি ক্ষমতার উপর।
কেন হয় পুঁজিবাদ নয়তো সমাজবাদই মেনে নিতে হবে সেটা বুঝলাম না। মিশ্রবাদ হলে ক্ষতি কি, সেই যুক্তিটি আগে উপস্থাপন করুন।

ব্যাপারটা ঠিক পুঁজিবাদ বা সমাজবাদের তর্ক না। এলিটিস্ট আর পুঁজিবাদ এক হলো কবে? কমিউনিস্ট দেশগুলোতে কি এলিটিস্ট শ্রেনী ছিলো না??
মিশ্রবাদের সমস্যাটা হলো, এটা সাংঘর্ষিক নীতি। যার, ইম্প্লিকেশনস হলো, এদেশের নীতি, 'জোর যার, মুলুক তার'। এই জোর, ক্ষমতার জোরও হতে পারে, সামাজিক প্রভাব বা বুদ্ধিবৃত্তিরও জোর হতে পারে।
যেসব শিশুর অভিভাবকরা ভালো স্কুলগুলতো তাঁদের সন্তানদের ঢোকাতে পাগলপারা, তারা সেই কারনেই পাগলপারা, যে কারনে, বিশ্ববিদ্যালয়মুখী একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক তার সন্তানকে ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে পাগলপারা।
যদি তাই হয় তাহলে, দুটো ক্ষেত্রে দুটো ভিন্ন নিয়ম হবে কেন??

ধন্যবাদ
সাজ্জাদ বিন কামাল

গৌতম এর ছবি

আপনার এই প্রশ্নের উত্তর নিচে দিয়েছি কেন দুটো ক্ষেত্রে ভিন্ন নিয়ম হবে।

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

গৌতম এর ছবি

আপনি উচ্চশিক্ষার সাথে প্রাথমিক শিক্ষাকে গুলিয়ে ফেলেছেন। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে স্বভাবতই লটারি কোনো সফিসটিকেটেড পদ্ধতি হবে না- প্রাথমিকের ক্ষেত্রে হবে। কারণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির আগে শিশুর কোনো কিছু শিখে আসার কথা না। উচ্চশিক্ষায় অনেককিছু শিখে আসার কথা। পার্থক্যটা কি পরিষ্কার হলো?

আর আপনি যেভাবে একপাক্ষিক হতে চাচ্ছেন, সেই বাস্তবতা এখানে নেই। এখানে কেন, কোথাও নেই। সোশ্যালিস্ট পদ্ধতিতে যা করতে হবে বলে মনে করছেন, সেটা ভিন্ন আলোচনার বিষয়। এই আলোচনার মূল বিষয়বস্তুই হচ্ছে প্রচলিত সমাজব্যবস্থায় কতোটুকু কী করা সম্ভব সেটা নিয়ে। সেখানে ভালো শিক্ষকদের ছড়িয়ে দেয়া কিংবা সারা দেশে ভালো বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার সাথে স্যোশালিস্ট হওয়ার সম্পর্কটা ক্ষীণ। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায়ও এই ছড়িয়ে দেওয়াটাকে অস্বীকার করা হয় না।

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

চমৎকৃত হবার মতো লেখা, লেখা না বলে বরং বলি কল্পপত্র। এই কল্পপত্র ও গ্রথিত মন্তব্য-প্রতিমন্তব্যগুলোকে অনুসরণ করে পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ হতে পারে যা নীতি-নির্ধারণী মহলের জন্য কর্মপত্র প্রণয়নে সহায়ক হবে। সে বিশ্লেষণটি যে গৌতমকেই করতে হবে এমন বাধ্যবাধকতা বোধকরি নেই। অবশ্য এ আমার একান্ত ব্যক্তিগত অভিমত, যার অনেকটাই কল্পনাপ্রসূত। আমার মতো আজেবাজে পদ্যকার তো শুধু কল্পনার জগতেই বিচরণ করে আর কাজের মানুষদের বেহুদা জ্বালায়!
-----------------------------------
যে মাঠে ফসল নাই তাহার শিয়রে
চুপে দাঁড়ায়েছে চাঁদ — কোনো সাধ নাই তার ফসলের তরে;

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

গৌতম এর ছবি

কাজটা আপনি-ই করে ফেলুন না!

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

অতিথি লেখক এর ছবি

চমৎকার একটা পোস্ট---হ্যাটস অফ টু গৌতম ভাই;

আসলেই এখন স্কুলের আর কোচিং এর অবস্থা দেখলে মনে হয় বাচ্চারা কোচিং এ শিখতে আর স্কুলে শিখে যায় এবং পুরা ব্যাপারটা শিশুদের জন্যে নিতান্তই পাশবিক......

পুনশ্চঃ পড়ে হঠাৎ মনে পড়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম যে অন্তত আমাকে কলেজের আগে কোনো লিখিত ভর্তি পরীক্ষা দিতে হয় নাই; মফস্বলের স্কুলে আমাকে হেড স্যার শুধু ইন্টারভিউ নিয়েছিলেন একটি প্রশ্নে-FAN কি?(যতদূর মনে পড়ে) উত্তর বলতে পেরেছিলাম কিনা সেটা মনে না থাকলেও যে ভর্তি হয়েছিলাম সেটা মনে আছে; বড় বাঁচা বেঁচে গেছি

-অতীত

গৌতম এর ছবি

আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ অতীত।
কলেজে ভর্তি পরীক্ষাটা আমাদের সময় থেকে রদ করা হয়। মনে আছে, কলেজে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য বেশ কিছু গাইড কিনতে হয়েছিল, কোচিংও করেছি। শেষ পর্যন্ত বাতিল করায় বেশ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলাম।

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।